Wednesday, January 21, 2015

সেলেনা গোমেজের নতুন প্রেম

জাস্টিন বিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর থেকে বেশ একাকিত্বের সময় পার করছিলেন সেলেনা গোমেজ। সময়টাও ভালো যাচ্ছিল না তার। বিবারকে এতই ভালোবাসতেন যে বিবারের জন্য একবার সবার সম্মুখে কান্নাও করেছিলেন। কিন্তু সেলেনার দু:খের সেই সময় পার হয়ে গেছে এখন। সেলেনার জীবনে এসেছে নতুন প্রেম, এসেছে নতুন মানুষও। সম্প্রতি দুবাই সফরে গিয়েছিলেন জনপ্রিয় এই পপ গায়িকা। আর সেখানে গিয়েই পরিচয় হয় হারিথ বুকাশ নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। বর্তমানে হারিথের প্রেমেই হাবুডুবু খাচ্ছেন তিনি। সেলেনার ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, এ সম্পর্কে বেশ খুশি সেলেনা গোমেজ। হারিথ সেলেনার স্বপ্নের পুরুষ। অন্যদিকে সেলেনাকে পেয়ে আনন্দে হারিথের পা মাটিতে পরছে না। নতুন প্রেমে ভালোই সময় পার করছেন এই জুটি। ভবিষ্যতে দেখা যাক এর পরিনতি কি হয়।

বিস্ফোরণে যুবকের হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন

(লালবাগে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত লোকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওযা হচ্ছে। ছবি: হাসান রাজা) রাজধানীর লালবাগের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে মাহবুবুর রহমান বাপ্পী নামের এক যুবকের ডান হাতের কনুইয়ের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে তাঁর ভাগনি হ্যাপি (১২) ও ভাগনে রিপনের (৬) হাত-মুখ ঝলসে গেছে। আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে লালবাগের ৩১ / ২ নম্বর ঢাকেশ্বরীর পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনজনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে এ ঘটনায় আহত বাপ্পীসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। হাসপাতালে আসা বাপ্পীর বোন ঝুমুর সাংবাদিকদের জানান, রুম হিটারের সঙ্গে চার্জ লাইট বিস্ফোরিত হয়ে বাপ্পীর হাতে এসে পড়ে। এ সময় ওই দুই শিশু সেখানে দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। ঝুমুর ও তাঁর স্বামীর সঙ্গে ওই বাসাতেই থাকতেন বাপ্পী। হ্যাপি ঝুমুরের মেয়ে আর রিপন আরেক বোনের ছেলে। তবে পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মফিজউদ্দিন বলেছেন, বাপ্পী কাঁটাবনে ‘বোমা বাপ্পী’ হিসেবে পরিচিত। তিনি বিএনপির মিছিল-মিটিংয়ে যান। বোমা বানিয়ে বিএনপিকে সরবরাহ করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকারী দল ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। সেখান থেকে বিস্ফোরক, পেন ড্রাইভ ও সিম উদ্ধার করা হয়েছে। আলামত দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে বোমা বানাতে গিয়েই এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। মফিজউদ্দিন আরও বলেন, এ ঘটনার পর ঝুমুরের স্বামী পালিয়ে যান। পুলিশ ঝুমুরের বাড়ির মালিক আবুল কাশেম, হাসপাতালে আসা হ্যাপির বাবা আবদুল হাকিমের দুই বন্ধু মো. শামীম ও গাজী ফারুকসহ ১০ জনকে আটক করেছে। পুলিশের দাবি, বাপ্পী নিউমার্কেট থানা ছাত্রদল কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তবে ছাত্রদল সূত্র জানিয়েছে, বাপ্পী নিউমার্কেটের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন, বাপ্পীর চোখের অবস্থা খারাপ। তাই তাঁকে আগামীকাল জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ছাড়া বিস্ফোরণে হ্যাপির ১৯ ও রিপনের ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

রাজধানীতে ৭ গাড়িতে আগুন

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ৭টি গাড়িতে আগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ২০ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে যাত্রাবড়ীতে ২০ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় ৫টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে হরতাল ও অবরোধের সর্মথনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ২০ দলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি শহীদ ফারুক সড়ক থেকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে পৌঁছলে উপস্থিত আ’লীগ কর্মীরা মিছিলের ওপর হামলা করে। এসময় ২০ দল ও আ’লীগ নেতা কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ২টি বাস ও ছয়টি লেগুনা ভাঙচুর করা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় ৫টি গাড়িতে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবণী শঙ্কর কর জানান, বড় ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা ছিল অবরোধ সমর্থকদের কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, রাত ৮ দিকে মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোহাম্মদপুরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় অন্তত ৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

‘শাসকগোষ্ঠী রক্তের নেশায় মেতে উঠেছে’ -২০ দল

বর্তমান সরকার অবৈধ ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যার তাণ্ডবে মেতে উঠছে বলে অভিযোগ করেছে ২০ দল। একইসঙ্গে  দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ নিয়ে তাদের দলীয় সন্ত্রাসীদের উস্কানি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী জোট। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জনগণের আন্দোলনে ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ভীত স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী রক্তের নেশায় উন্মাদ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত কুৎসিত হুমকি, জুলুম-নির্যাতন, অধিকার হরণ, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, অপহরণ-গুম-খুন, নাশকতা-অন্তর্ঘাত চালিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না দেখে তারা এখন তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নির্মম-নিষ্ঠুর নাটক সাজিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যার তাণ্ডবে মেতে উঠেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি, মতিঝিলে নড়াইলের পৌর কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনা বিচারবহির্ভূত বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ নিকৃষ্ট উদাহরণ। এর আগে এই কর্মসূচি চলাকালে নাটোরে ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন, সিংড়ায় ছাত্রদল কর্মী রায়হান আলী, রাজশাহীতে বিএনপি কর্মী মজিরউদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপি কর্মী মন্তাজ আলী, নোয়াখালীর সেনবাগে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান রুবেল, বেগমগঞ্জে ছাত্রদল কর্মী মহসিনউদ্দীন, সোনাইমুড়িতে ছাত্রদল কর্মী মোরশেদ আলম পারভেজ এবং চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। আমরা এসব বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বিচারবহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করার ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কোন অধিকার দেয়া হয়নি। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমতাসীনদের অবশ্যই দায়ী থাকতে হবে এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আগামীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর রয়েছে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষভাবে আইনসম্মত কর্তব্য পালনের গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য। সুবিধাভোগী, দলবাজ ও পক্ষাপাতদুষ্ট অল্প কিছু কর্মকর্তার অতি উৎসাহ ও বাড়াবাড়ির কারণে সেই সুনাম ক্ষুণœ হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আমরা নিরপেক্ষভাবে আইনসম্মতপন্থায় কর্তব্য পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা আমাদের প্রতিপক্ষ নন। আমরাও তাদের বিরুদ্ধে নই। আমরা আশা করি তারা এদেশের সন্তান হিসেবে জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষা ও অনুভূতির পক্ষে দাঁড়াবেন এবং কোন অন্যায় ও বেআইনি আদেশ-নির্দেশ পালনে বিরত থাকবেন।  আটকাবস্থায় এমন বিচারবহির্ভূত হত্যকাণ্ডের প্রতি আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বিবৃতিতে বলা হয়, আজ ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ পর্যায় থেকে শান্তিরক্ষার নামে দেখামাত্র গুলি, বিচার ছাড়াই হত্যা এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের আইন হাতে তুলে নেয়ার উস্কানি দেয়া হচ্ছে। যৌথ অভিযানের নামে বিভিন্ন জনপদে বিরোধীদল সমর্থকদের ওপর পাইকারী উৎপীড়ন, বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ-লুঠতরাজ এবং পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করার ঘৃণ্য ঘটনা ঘটছে। এসব হানাদারি কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ না করলে এর জন্য পরিস্থিতির যদি আরো নৈরাজ্যকর অবনতি ঘটে তবে তার দায়ভার পুরোপুরি হুকুমদাতা ও পরিকল্পনাকারীদেরকেই বহন করতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভোটের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েমের লক্ষ্যে জনগণের চলমান আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। এ আন্দোলন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন। বর্তমান অবৈধ শাসকেরা অতীতে বিরোধীদলে থাকতে আন্দোলনের নামে নাগরিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অকাতরে হত্যা করেছে। গান পাউডার দিয়ে যাত্রীবাসে আগুন লাগিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে প্রকাশ্য রাজপথে পিটিয়ে হত্যা করে মৃতদেহের উপর উল্লাস করেছে। সমুদ্রবন্দর অচল করেছে। রেলপথে নাশকতা করেছে। রেলস্টেশন জ্বালিয়ে দিয়েছে। পেট্রল বোমায় অসংখ্য মানুষকে দগ্ধ করেছে। এরা ক্ষমতায় আসার পর এই সেদিনও ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি করে মেরে গাড়িসহ পুড়িয়ে অঙ্গার করে দিয়েছে।
সেই সন্ত্রাস-আশ্রিত রাজনীতির ধারকরাই এখন বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে এবং তাদের নির্বাচনী প্রহসনকে বর্জন করার প্রতিশোধ নিতে অন্তর্ঘাত সৃষ্টি করে নারী ও শিশুসহ নিরাপরাধ মানুষকে পেট্রল বোমা মেরে আগুনে পুড়িয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করছে। একই সঙ্গে এসবের দায় বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে হত্যাকাণ্ড ও জুলুম-নির্যাতন জোরদার করেছে। প্রতারক ও সন্ত্রাসীদের এসব হীনকার্যকলাপ, মায়াকান্না ও মেকি অভিনয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করা যাবে না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক সংকটকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের দেশী-বিদেশী আহ্বানকে উপেক্ষা করে দমন-পীড়নের পথে সমাধানের অপচেষ্টা এবং বিরোধী দলের শীর্ষ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কুৎসা ও হুমকির পরিণাম শুভ হবে না। রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে অতীত সন্ত্রাসী তৎপরতার হুকুমদাতাদেরও আগামীতে আইনামলে আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কাজেই সকলকে আমরা সংযত ও পরিণামদর্শী হবার আহ্বান জানাই। হানাহানি ও দমন-পীড়নের পথ ছেড়ে সমঝোতার লক্ষ্যে পরিস্থিতিকে দ্রুত স্বাভাবিক করার আহ্বান জানাই। বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাস ও নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলার প্রতিকার ও বিচার অবশ্যই হতে হবে। এরজন্য সত্যিকার অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় বিচারের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তি দিতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সন্ত্রাসীদেরকে ‘খুনের ছাড়পত্র’ দিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হত্যার চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছি।

‘জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত কমিশন করে নৈরাজ্যকারিদের সনাক্ত করুন’

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগনের বুকে গুলি চালানো বন্ধের আহবান জানিয়ে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ বলেন, বর্তমান সঙ্কট কোন ফৌজদারী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটা রাজনৈতিক সঙ্কট। সুতরাং জনগণের নিরাপত্তা, শান্তি-শৃঙ্খলা ও দেশ থেকে অপরাধ নির্মূল করা আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব। আপনারা আপনাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। জনগণের বুকে গুলি চালানো বন্ধ করুন। তিনি বলেন, কোন দলের স্বার্থ রক্ষা আপনাদের দায়িত্ব নয়। অবৈধ, অনির্বাচিত সরকারের গদি রক্ষার জন্য জনগণের বুকে গুলি চালানোর অসাংবিধানিক ও অমানবিক পথ থেকে আপনারা বিরত হোন। আজ এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন,এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। শতকরা ৫ ভাগ ভোটারও এ সরকারকে ভোট দেয়নি। অতএব চলমান সঙ্কট সরকারের সৃষ্ট রাজনৈতিক । এটা আইন-শৃঙ্খলার কোন সমস্যা নয়। তিনি বলেন, আমাদের সাংবিধানিক অধিকার মিছিল, সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কোথাও মিছিল বের হলেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুলি চালাতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে নিরুপায় হয়ে ২০ দলীয় জোট অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। সরকার এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য পুলিশ প্রহরায় গাড়ি চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে যানবাহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুষ্কৃতকারীরা নারী, শিশু ও নিরীহ যাত্রীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। পুলিশ প্রহরায় যানবাহনে এসব হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে তার দায় বিরোধী দলের উপর চাপানো রহস্যজনক। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার আমাদের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কিংবা বোমা নিক্ষেপকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে জামায়াত-শিবিরের উপর দোষ চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে আওয়ামী লীগ। মানুষের জান-মালের ক্ষতি করার রাজনীতিতে জামায়াত বিশ্বাস করে না। জামায়াত এই ধরনের কর্মকা-কে প্রশ্রয় দেয় না। অতীতে যাত্রীবাহী বাসে গানপাউড়ার দিয়ে আগুন লাগিয়ে মানুষ হত্যা, বোমা নিক্ষেপ ও লগি-বৈঠার তা-ব চালিয়ে মানুষ হত্যা, মৃত লাশের উপর দাঁড়িয়ে উল্লাস করা এবং পুলিশ খুনের অপরাজনীতি আওয়ামী লীগই করেছে। এখনো তারাই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এসব নৃশংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে চলমান সন্ত্রাস, হত্যা ও নৈরাজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করে তাদের ব্যাপারে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। এ ধরনের কমিশনকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

ফাটা পাইপের পানিতে বেহাল সড়ক, ক্ষতিতে উড়ালসড়ক- পরস্পরকে দায়ী করে সিটি করপোরেশন ওয়াসার চিঠি চালাচালি by অরূপ দত্ত

(প্রায় পাঁচ মাস ধরে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের সায়েদাবাদ র‍্যাম্পে ওঠার নিচে ঢাকা ওয়াসার প্রধান পাইপলাইনের কাটা অংশ দিয়ে বের হওয়া পানিতে তলিয়ে আছে সড়ক। গত শনিবার তোলা ছবি l সাজিদ হোসেন পাইপলাইনের ফেটে যাওয়া অংশের ওপর বসানো হয়েছে ড্রাম। সেই ড্রাম থেকে পড়ছে পানি l ছবি: প্রথম আলো) রাজধানীর মেয়র হানিফ (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী) উড়ালসড়কের সায়েদাবাদ র্যাম্পে ওঠার নিচে ঢাকা ওয়াসার প্রধান একটি পাইপ লাইন ফেটে আছে প্রায় পাঁচ মাস। অনবরত পানি বের হয়ে অপচয় হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে থাকায় বেহাল হয়ে পড়েছে গোলাপবাগ-সায়েদাবাদ প্রধান সড়কের ১০০ মিটার অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উড়ালসড়ক। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা ওয়াসা পরস্পরকে দায়ী করে চিঠি চালাচালি করলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ঈদুল আজহার আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সেখানে গিয়েছিলেন। ফাটা পাইপ থেকে অবিরাম পানি বের হয়ে সড়ক খারাপ হচ্ছে দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন। ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান। পরে উড়ালসড়কের কিছু অংশ খনন করে পাইপ মেরামতের চেষ্টা করা হয়। এতে সড়কের ক্ষতি হলেও পাইপের ফাটা অংশ সারানো যায়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়, ফাটা অংশ খুঁজে পেতে উড়ালসড়কের অনেকটা কাটতে হবে। কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ এর খরচ দেবে, তা নিয়ে সমস্যা বাধে।
গত সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারের ওই প্রধান পাইপলাইনের ফাটা অংশের ওপর ড্রাম বসানো হয়েছে। ড্রাম উপচে পানি রাস্তা ও আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। যেন বর্ষার ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে। ওই এলাকার মীম রেস্তোরাঁ ও কয়েকটি দোকানের মালিক বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলছে এই বর্ষাদশা। রাস্তায় সারাক্ষণ পানি জমে থাকে। জমে থাকা পানি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রাতে তো বটেই, দিনের বেলায়ও এখানে যানবাহন উল্টে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএসসিসির আঞ্চলিক কার্যালয় (অঞ্চল-৫) থেকে প্রায় আড়াই মাস আগে রাস্তার ক্ষতির বিবরণ জানিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাবদ ৩৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী এম এ হাশেম প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে ওই টাকা ৬০ থেকে ৭০ লাখে ঠেকেছে। উড়ালসড়কের প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ থেকেও বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়ে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গত বছরের ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে এক সভায় কিছু সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্তের মধ্যে ছিল পানির লাইনের ফুটো (লিকেজ) মেরামতের কাজ ১১ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা শুরু করবে, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। এ ছাড়া মেরামতের জন্য উড়ালসড়কের রিটেইনিং দেয়ালের যে অংশ ভাঙতে হবে, সেটি ওয়াসা পুনর্নির্মাণ করে দেবে। এ বাবদ ওয়াসা ক্ষতিপূরণ দাবি করবে না। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াসাকে দেওয়া প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়ের এক চিঠি থেকে জানা যায়, লাইন সারানোর নামে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের অনুমতি ছাড়াই ১১ সেপ্টেম্বর ভোররাতে উল্লিখিত র্যাম্পের কাঠামো ভাঙা হয়। ওই দিন দুপুরে ওয়াসার সঙ্গে সভায় বসে এর জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ওয়াসা অনুরোধ রাখেনি। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী পরিচালককে ২ অক্টোবর ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের লেখা চিঠিতেও এর সত্যতা জানা যায়। প্রকল্প পরিচালক ও ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সিদ্ধান্ত হলেও ওয়াসা তার মূল্য দেয়নি। চার মাস আগে ওয়াসা ডিএসসিসি ও কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে উড়ালসড়কের কয়েকটি স্থানে খননকাজ করে। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, নাশকতা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। উড়ালসড়কের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ইনফ্রাস্টাকচার লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান আলী পাটোয়ারী ৩০ ডিসেম্বর ওয়াসাকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, ফেটে যাওয়া পাইপ ও উড়ালসড়কের খনন করা অংশ মেরামত না করার কারণে ক্ষতির পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। চিঠিতে এগুলো দ্রুত মেরামতের অনুরোধ করা হয়।
জানতে চাইলে ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে আমরা জানিয়ে দিয়েছি, যারা উড়ালসড়ক নির্মাণ করেছে, তাদেরই সমস্যার সমাধান করতে হবে।’ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি সম্পর্কে ওরিয়ন ইনফ্রাস্টাকচার লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশফাকুল আলম বলেন, ওয়াসার পাইপও গুরুত্বপূর্ণ, উড়ালসড়কটি জাতীয় সম্পদ। বিষয়টির প্রতি ওয়াসা আরও দায়িত্বশীল হোক, এটা সবাই চায়।

‘সরকারের পেছনে জনগণ থাকলে দমন-পীড়ন করতো না’

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন, এখন দেশে যে পরিস্থিতি এটা কোন গণতন্ত্রের লড়াই নয়। এটা হচ্ছে চর দখলের লড়াই। লুটেরা শক্তি, দখলদার শক্তির ক্ষমতার লড়াই। যদি সরকারের পেছনে জনগণ থাকতো তাহলে তারা এভাবে দমন পীড়ন, ক্রসফায়ার, হামলা, অত্যাচার করতো না। একই সঙ্গে বিএনপি যদি জনগণের সমর্থন আশা করতো তাহলে তারা সরকারের বিধি নিষেধ অতিক্রম করতো না। বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই দুই শক্তি বাংলাদেশকে ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে নিপতিত করছে উল্লেখ করে ড. আনু মোহাম্মদ বলেন, বর্তমানকে দখল করতে গিয়ে সরকার ও তথাকথিত বিরোধী দল ভবিষ্যতকে অন্ধকারে নিপতিত করেছে। বাংলাদেশের জনগণকে নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর খুনীদের সঙ্গে হাত মেলাবেন না এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এ কথায় খুশি হতাম যদি তিনি বলতেন ত্বকীর হত্যাকারীদের সাথে হাত মেলাবেন না, রামদা বাহিনী ত্যাগ করবেন, পুলিশ র‌্যাব যারা ক্রসফায়ার করে তাদেরকে বরখাস্ত করবেন, এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় যে লুটেরা দখলদার বাহিনী আছে তাদেরকে ত্যাগ করবেন। কিন্তু সেটা তিনি বলেননি। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান। এছাড়াও সমাবেশে ভারত, নেপাল, আমেরিকার বিপ্লবী নেতারা বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একদিকে শাসকশ্রেণী কঠোর হাতে দমন করছে অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ হরতাল অবরোধ দিচ্ছে। গাড়ীতে আগুন দিচ্ছে। গুলিতে মানুষ মরছে। চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এটা বাংলাদেশের পরিণতি হতে পারে না। তিনি বলেন, ছাত্র সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। হল দখল, সিট বাণিজ্য ছাত্ররাজনীতির মূলমন্ত্র হতে পারে না।

মাঠে নেমেই কিরণকে কেজরিওয়ালের গোল

মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খন্ডে যা করা হয়নি, দিল্লিতে তা কেন করা হলো? কেন সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষিত হলো সদ্য বিজেপিতে ঢোকা কিরণ বেদীর নাম? তাও আবার রাত ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে? দিল্লি নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজধানীর রাজনৈতিক অলিন্দে এখন এই প্রশ্নগুলোই ঘুরেফিরে উঠছে। বিশেষ করে বিজেপিতে। কারণ, কিরণ বেদীকে নিয়ে যা ঘটে গেল দলটিতে, তেমনটা কখনো হয়নি।
সংক্ষেপে বলা যায়, দেশের প্রথম নারী আইপিএসকে নিয়ে বিজেপিতে উৎসাহ যতটা, আশঙ্কাও ততটাই। এক বছর আগেও তিনি ছিলেন নরেন্দ্র মোদির তিক্ত সমালোচক। তা ছাড়া অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে তাঁকে দলে নেওয়ার প্রশ্নেও দ্বিমত তীব্র। তার ওপর কিরণের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কোনোকালেই কোনো সংশ্রব ছিল না। শেষ পর্যন্ত এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়, কিরণকে দলে নেওয়া হোক, কিন্তু জিতলে তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে এই ঘোষণা যেন না করা হয়। নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি তাও মানেননি।
মোদি-শাহ জুটির যুক্তি, আম আদমি পার্টির (এএপি) মোকাবিলা করতে গেলে কিরণের মতো একজন পরিচিত অরাজনৈতিক মুখের প্রয়োজন আছে। দিল্লিতে বিজেপির নেতাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে সামলাতে উপযুক্ত। কিরণ বেদী কতটা উপযুক্ত সে পরের কথা, গতকাল মঙ্গলবারই কিন্তু কেজরিওয়াল তাঁকে এক গোল দিয়ে দিলেন। কিরণ বেদীকে দ্বৈরথে স্বাগত জানিয়ে সাতসকালেই কেজরিওয়াল প্রস্তাব দিলেন, ভোটের আগে ঘণ্টা দুয়েকের টেলিভিশন বিতর্কে কিরণ বেদী তাঁর সঙ্গে বসুন। মানুষ দেখুক, বিচার করুক, সিদ্ধান্ত নিক। কিরণ বেদী প্রথমে রাজি হয়েও এক ঘণ্টার মধ্যেই মত বদলালেন। পিছু হটে বললেন, বিতর্ক হলে তা বিধানসভায় হবে। কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রার্থী অজয় মাকেন অবশ্য বিতর্কে রাজি। কিন্তু কেজরিওয়ালের টার্গেট কিরণ বেদী!
রাজধানীর রাজনীতি গতকাল গমগম করেছে সারাটা দিন ধরেই। আগের রাতেই কেজরিওয়াল জেনে গেছেন, বিজেপি নতুন দিল্লি কেন্দ্রে তাঁর বিরুদ্ধে কিরণ বেদীকে দাঁড় করায়নি। প্রার্থী করেছে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের স্নাতক ৩০ বছরের নূপুর শর্মাকে। ঠিক ছিল, মঙ্গলবারই সকাল ১০টায় ‘রোড শো’ শুরু করবেন কেজরিওয়াল। নরেন্দ্র মোদি যেখান থেকে স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন, সেই বাল্মীকি মন্দির থেকেই শুরু হয় রোড শো। সেখান থেকে জামনগর হাউস মাত্র সাত কিলোমিটার। কিন্তু কেজরিওয়ালকে ঘিরে যে জনপ্লাবন দেখা দিল, যে উন্মাদনা, অনেক দিন তা অদৃশ্য ছিল। ফলে সময়মতো জামনগর হাউসে পৌঁছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াই তাঁর হলো না। আজ বুধবার জমা দেবেন। এই রোড শো থেকেই অবশ্য কেজরিওয়াল বেঁধে দিলেন নির্বাচনের আবহ সংগীতের সুর। উদ্বেলিত জনতাকে বললেন, এটা সাধারণ কোনো ভোট নয়। এটা ধর্মযুদ্ধ। এই লড়াইয়ের একদিকে রয়েছে সত্য, অন্যদিকে অসৎ ও দুর্নীতিবাজেরা। পাশাপাশি কিরণ বেদী বলছেন, লড়াই উন্নয়ন বনাম নৈরাজ্যের।

পুলিশকে ক্লান্ত করার কৌশল বিএনপির

সরকার সংলাপ-সমঝোতায় না আসা পর্যন্ত অবরোধ তুলবে না বিএনপি। তবে অবরোধের শিথিলতা ঠেকাতে ফাঁকে ফাঁকে হরতাল দেওয়া হবে। কর্মসূচি অব্যাহত রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘ক্লান্ত’ করা এবং সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এই কৌশলের অংশ হিসেবেই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চলমান অবরোধ আরও কঠোর করতে হরতালের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের কর্মসূচিও যুক্ত করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ছাত্রদল আজ বুধবার ও কাল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে। সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হত্যা, গুম, গ্রেপ্তার এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও দখলদারির প্রতিবাদে ছাত্রদল এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান চলমান অবরোধে হরতাল ও ছাত্র ধর্মঘটের ডাককে আন্দোলনের ‘নতুন মাত্রা’ বলে মন্তব্য করেন। এর আগে ১২ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদদু আহমদ অবরোধের পাশাপাশি ঢাকায় ভিন্নধর্মী কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন।
বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো জানায়, কোথাও কোথাও ঢিলেঢালা অবরোধ দলের নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে সরকারের নানা তৎপরতায় রাজধানী ঢাকায় অবরোধ অগ্রাহ্য করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকায় বিএনপির শীর্ষ মহল উদ্বিগ্ন। এ অবস্থায় ঢাকাসহ মহাসড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন অঞ্চল ও জেলাভিত্তিক হরতাল ডাকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে হরতাল ডাকা হয়েছে। ঢাকা ও খুলনা বিভাগের সব জেলায় আজ বুধবার সকাল ছয়টা থেকে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে ২০-দলীয় জোট। একই সঙ্গে আজ সকাল ছয়টা থেকে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় ৩৬ ঘণ্টার হরতাল দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ১৫ দিনের টানা অবরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রায় বিরামহীন দায়িত্ব পালন করছেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ সদস্যরা একরকম হাঁপিয়ে উঠছেন। এভাবে আরও কিছুদিন হরতাল-অবরোধ চললে পুলিশ আরও ‘পরিশ্রান্ত’ হয়ে পড়বে। এরপর আন্দোলনের একটি পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের শক্তভাবে মাঠে নামার চিন্তা করা হচ্ছে।
বিএনপির নেতাদের মূল্যায়ন হচ্ছে, জোটের অবরোধ কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার তার দলীয় ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সরকারি দলের নেতা-কর্মীদেরও মাঠে নামানো হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে যতই খুন, গুম, গ্রেপ্তার ও নির্যাতন-নিপীড়ন চালাক, কৌশলগত দিক থেকে তারা এখনো জোট আছে।
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা প্রথম আলোকে জানান, গত ১৫ দিনের অবরোধ কর্মসূচিতে সরকারের তুলনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা সে অর্থে তেমন শক্তি ব্যয় করেননি। অবরোধ ধরে রাখতে তাঁরা এখনো বিকল্প উৎসগুলো ব্যবহার করছেন। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা জানান, ১৯ জানুয়ারি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী সামনে রেখে সরকার খালেদা জিয়াকে তাঁর গুলশানের কার্যালয় থেকে বের করার কৌশল নিয়েছিল। ওই দিন তিনি জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কার্যালয় থেকে বের হলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মতো গুলশানের কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হতো বলে তাঁদের কাছে খবর ছিল। এ কৌশল থেকেই ১৮ জানুয়ারি গভীর রাতে হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ, জলকামান ও প্রিজন ভ্যানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু খালেদা জিয়া সরকারের ‘ফাঁদে’ পা দেননি।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ আন্দোলনে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে এখনো সংশয়ে আছে। তারা মনে করছেন, চলমান কর্মসূচিতে বিশেষ করে ঢাকায় জামায়াতের তৎপরতা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। যদিও কয়েক দিনের মতো গতকালও জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহামন এক বিবৃতিতে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখে ‘ব্যর্থ, অকার্যকর ও সন্ত্রাসী’ সরকারের পতন ঘটাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নতুন নির্বাচনের জন্য সংলাপের দাবিতে টানা অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ চলে গেছে। সরকারও এর সমাধানে কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ না নিয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে নেমেছে। এ অবস্থায় বিএনপির টানা কর্মসূচি কত দিন টেনে নেওয়া যাবে বা দলের এসব কৌশল কতটা টিকবে, তা নিয়ে দলের নেতাদের কারও কারও মধ্যে সন্দেহ আছে। তবে কেউই এ বিষয়ে উদ্ধৃত হয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

লক্ষ্মীপ্যাঁচা- ঘরে তাঁর পাঁচ লক্ষ্মী by আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

(রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলার বাসিন্দা ফিরোজ কবিরের ঘরের ঘুলঘুলিতে লক্ষ্মীপঁ্যাচার পাঁচ ছানা। কয়েক দিন আগে তোলা ছবি l প্রথম আলো) জন্মের পাঁচ দিন পর মা উধাও। বাচ্চারা মায়ের পথ চেয়ে থাকে, মা আর ফেরে না। এই অবস্থা দেখে বাচ্চাদের খাবার দিতে শুরু করেন আরেকজন। কিন্তু মাংস ছাড়া যে ওদের মন ভরে না! পাঁচটি বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে শেষে তিনি সে খাবারই দিতে থাকলেন। ফিরোজ কবির এ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তিন মাস ধরে। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা শাখার কর্মকর্তা। আর যে পাঁচটি বাচ্চা নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলো লক্ষ্মীপ্যাঁচা। পারিলাতে ফিরোজের ঘরের একটি ঘুলঘুলির ছোট্ট জায়গাটুকুতেই ওদের বসবাস। বাংলাদেশে প্রায় ১৭ প্রজাতির প্যাঁচা রয়েছে। লক্ষ্মীপ্যাঁচা তাদেরই একটি। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ব্যবহারিক বাংলা অভিধান বলছে, লক্ষ্মীপ্যাঁচারা সাধারণত ধানের গোলায় থাকত। আর ধানের গোলা হচ্ছে সম্পদের আধার। ধনসম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রতীক লক্ষ্মীর (পৌরাণিক দেবী) নামানুসারে প্রাচীনকালের পণ্ডিতেরা এই পাখির নাম দেন লক্ষ্মীপ্যাঁচা। এখন ধানের গোলার ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক কমেছে। লক্ষ্মীপ্যাঁচারাও আবাস হিসেবে বেছে নিয়েছে গাছের কোটর, পাহাড় বা পাথরের গর্ত ও পুরোনো দালানকোঠার মতো জায়গাকে।
ফিরোজ কবির স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে পারিলার বাসায় থাকেন। গত ১১ অক্টোবর তাঁর ১২ বছর বয়সী ছেলে আনোয়ার হোসেন ঘরের ঘুলঘুলিতে পাঁচটি ডিম দেখতে পায়। ওগুলো সাপের ডিম মনে করে তার ভয় লেগেছিল। ছেলের কথা শুনে ফিরোজও প্রথমে হকচকিয়ে যান। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় তাঁর ভয় দূর করে একটি লক্ষ্মীপ্যাঁচা এসে ওই ডিমে তা দিতে শুরু করে। ঘুলঘুলির অবস্থান এমন জায়গায় যে শুধু দোতলার ছাদ থেকেই তা দেখা যায়। কাছে যাওয়া যায় না। এ জন্যই হয়তো প্যাঁচা পরিবারটি নিরাপদ মনে করে সেখানে ডিম পেড়েছে।
ফিরোজ বলেন, তাঁরা ডিম দেখতে পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পাঁচটি বাচ্চা ফোটে। দেখে প্রথম প্রথম হাঁসের ছানা মনে হচ্ছিল। দেখে তাঁদের মায়া পড়ে যায়। প্রতিদিনই গিয়ে দেখতেন, ওরা ঠিক আছে কি না। দিন পনেরো পর এক সন্ধ্যায় গিয়ে দেখেন, মা প্যাঁচাটি নেই। রাতে তিনি উৎকণ্ঠায় রইলেন,- মা যদি না ফেরে, ছানাগুলো কীভাবে রাত কাটাবে। সকালে তড়িঘড়ি করে উঠে ছাদে গিয়ে দেখেন, ছানাগুলোই শুধু গুটিসুটি মেরে পড়ে রয়েছে। মা আর ফেরেনি। সেদিন থেকেই ফিরোজ প্যাঁচার ছানাগুলোকে খাবার দিতে লাগলেন। এই পাখির খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে তিনি আগে থেকেই জানতেন, তারা ইঁদুর ও মাংসজাতীয় খাবার পছন্দ করে। এর পরও প্রথম প্রথম অন্য খাবার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখলেন, সেগুলো পড়েই থাকে। পরে মুরগির নাড়িভুঁড়িসহ মাংসজাতীয় বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করতে থাকেন। কিন্তু সমস্যা হলো, সরাসরি খাবার পৌঁছানো যায় না, একটি লাঠির মাথায় খাবার বেঁধে ঘুলঘুলিতে দিতে হয়। কাজটা বেশ কঠিন, তার পরেও তিনি প্রতিদিনই এ কাজ করতে লাগলেন।
ফিরোজ বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যসংখ্যা ছিল চার। এখন প্যাঁচার পাঁচ ছানাসহ সদস্যসংখ্যা হয়েছে নয়। তাঁর স্ত্রী প্রতিদিন প্যাঁচার ছানাদের জন্য খাবার তৈরি করেন। এখন পাঁচটি ছানাই উড়তে শিখেছে। খাবারের সন্ধানে তারা মাঝে মাঝে রাতে বাইরে বের হয়, আবার ফিরে আসে। একদিন বাইরে বেরিয়ে একটি ছানা এক ঝাঁক কাকের কবলে পড়ে। কাকের ঠোকর খেয়ে ছানাটি মাটিতে পড়ে যায়। দেখতে পেয়ে ছুটে যায় আনোয়ার। আর তাকে দেখেই কাকের দল উড়ে পালায়। আনোয়ার প্যাঁচার ছানাটিকে হাতে তুলে নিয়ে আবার ভেন্টিলেটরের বাসায় পৌঁছে দেয়।
মাঝে মাঝে ছানাগুলো উড়ে ছাদে এসে বসে। আনোয়ার ও তার ছোট বোন ফারহানা ইয়াসমিন তাদের কাছে গেলেও তারা উড়ে যায় না। ধরতে গেলেও ভয় পায় না। কয়েক দিন আগে এক বিকেলে ছবি তুলতে গিয়ে পাঁচটি ছানাকেই ঘুলঘুলিতে পাওয়া যায়। তারা চোখ মেলে তাকায়, একে অপরের গায়ের ভেতরে লুকোতে চায়। তবে উড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে না। ফিরোজের ধারণা, প্যাঁচাগুলো ঘরে বসে খাবার পাচ্ছে। কেউ ওদের বিরক্ত করছে না। বাড়িটাকে তারা এখন নিরাপদ মনে করছে। হয়তো এখানেই থেকে যাবে।

নেপালের পার্লামেন্টে হাতাহাতি মারামারি

নেপালের পার্লামেন্টে মঙ্গলবার সকালে আইণপ্রণেতারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মাওবাদী আইনপ্রণেতা তার বসার চেয়ার ছুঁড়ে মারেন। এ ঘটনায় চার নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। নতুন জাতীয় সংবিধান প্রণয়নে নির্ধারিত সময়সীমার আগে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটেছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিরোধী মাওবাদীরা দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট শুরু করেছে। কোনো অভিন্ন ঐকমত্য ছাড়াই নতুন জাতীয় সংবিধানে ক্ষমতাসীন জোটের নিজস্ব প্রস্তাব-প্রস্তাবনার অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে মাওবাদীরা এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। নতুন সংবিধান প্রণয়নে নির্ধারিত সময়সীমা বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। মাওবাদীরা জানান, চূড়ান্ত ঐকমত্য না হওয়া পর্যন্ত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও, সংবিধান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। মঙ্গলবার ধর্মঘটের কারণে দেশটিতে কারখানা, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ ও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। ২০০৬ সালে মাওবাদীরা তাদের কয়েক দশক ধরে চালানো বিদ্রোহের অবসান ঘটায়।
সে সময় থেকে নেপালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ভাংচুরের জন্য ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে সাধারণত রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তাঘাটে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে ধর্মঘটের সময় রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে। বহু লোকজন তাদের বাড়িঘরেই অবস্থান করছেন। এদিকে দফায় দফায় আলোচনা সত্ত্বেও নেপালের আইনপ্রণেতারা সংবিধানের ব্যাপারে একমত হতে পারেননি এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি না-ও হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ইউএমএল পার্টির আইনপ্রণেতা রাজন ভট্টরাই বলেন, মাইক্রোফোন ছুড়ে মারলে তা দুই এমপির গায়ে এসে লাগে। তিনি বলেন, সহিংসতার জন্য মাওবাদীরা দায়ী। দলের দুই উচ্চপদস্থ নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল ও বাবুরাম ভট্টরাই শান্তিপূর্ণভাবে ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য বারবার আশ্বস্ত করেছেন। তারপরও এই আচরণের আমরা নিন্দা জানাচ্ছি।’ এএফপি

বিশ্বের ৭০ শতাংশ বাঘ ভারতে

২০১১ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে ভারতীয় বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এক-দুই বা ১০ শতাংশ নয়, বরং তিন বছরে ৩০ শতাংশ বেড়েছে এ সংখ্যা। ২০১১ সালে ভারতে যেখানে বাঘের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০৬টি, সেখানে ২০১৪-এ তা ২ হাজার ২২৬-এ দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকর নতুন বাঘ শুমারি পেশ করেন। যেখানে দেখানো হয়েছে, গত তিন বছরে দেশে বাঘের সংখ্যা ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের মোট বাঘের ৭০ শতাংশ ভারতে বাস করে। তিনি জানান, ‘বিশ্বে যেখানে বাঘের সংখ্যা ক্রমশ কমছে, সেখানে ভারতে সেই সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এটি একটি অত্যন্ত ভালো খবর।’ ২০০৮ সালে ভারতে বাঘের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪১১টি। প্রতি তিন বছর অন্তর ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি বাঘ শুমারি করে থাকে।
রিপোর্টটি প্রকাশ করে মিস্টার জাভাদেকর বলেন, ‘যখন সারা বিশ্বে বাঘ কমছে তখন ভারতে তা বাড়ছে। এটি দারুণ সংবাদ’। সর্বশেষ এ সমীক্ষা অনুযায়ী কর্ণাটক রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বাঘ রয়েছে। সেখানে ৪০৮টি দেড় বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী বাঘের অবস্থান নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে উত্তরখণ্ডে ৩৪০, মধ্যপ্রদেশে ৩০৮, তামিলনাড়ুতে ২২৯, মহারাষ্ট্রে ১৯০, আসামে ১৬৭, কেরালায় ১৩৬ এবং উত্তর প্রদেশে ১১৭টি বাঘ রয়েছে। এদিকে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের জন্য গত এক বছর ধরে চলছে বাঘ শুমারি। গত ডিসেম্বরে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন ক্যামেরা ট্র্যাপিং বা ফাঁদ পেতে ছবি তোলা পদ্ধতির এই গণনা এখন শেষের পথে। এ যন্ত্রের ব্যবহার করে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘ গণনা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আগামী জুন-জুলাই নাগাদ বাংলাদেশের সুন্দরবনে কত বাঘ আছে তার একটা চূড়ান্ত ও যথাযথ সংখ্যা পাওয়া যাবে।

ওবামার চার চাকার দুর্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ব্যক্তিগত গাড়িটি পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত যান। এটি ‘বিস্ট’ নামে পরিচিত। বিধ্বংসী বুলেট-বোমার সাধ্য নেই গাড়ির গায়ে আঁচড় লাগানোর। গাড়ির ড্রাইভার যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যিনি যেকোনো সময় যেকোনো অবস্থানে ১৮০ ডিগ্রিতে টার্ন নিতে পারেন। ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট বা অন্য কোনো হামলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া, অন্ধকার বা আগুনের মধ্যে থাকলে গাড়ির বিশেষ ভিডিও ক্যামেরা ব্যবস্থায় ড্রাইভার গাড়িকে সঠিক লক্ষ্যে নিতে পারবেন।
গাড়িটির স্বয়ংক্রিয় স্যাটেলাইট ফোন সিস্টেম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগনের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখে। ১৮ ফুট লম্বা ও ৮ টন ওজনের গাড়িটির দরজার প্লেট ৮ ইঞ্চি পুরু। এ গাড়ির চাকা কখনও পাংচার হয় না। টায়ার ছাড়াও চলতে পারে। জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ হওয়ার ভয় নেই। যে কোনো আক্রমণে গারিটির কেবিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্ভেদ্য কক্ষে পরিণত হবে যাতে প্রেসিডেন্টের শারীরিক কোনো ক্ষতি না হয়। জরুরি প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টকে রক্ত সরবরাহ করতে পারে।

ব্যাটিংই বাংলাদেশের শক্তির জায়গা

বিশ্বকাপের আগে অনেক দলই খেলার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ অনুশীলন করেই নিজেদের প্রস্তুত করছে। মাহমুদউল্লাহ মনে করেন, বিশ্বকাপের আগে খেলার মধ্যে না থাকলেও সমস্যা হবে না। বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার কৃত্তিম কন্ডিশন তৈরি করে অনুশীলনের চেষ্টা চলছে। মাহমুদউল্লাহ মনে করেন, বৈরী কন্ডিশন কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শক্তির জায়াগা ব্যাটিং বলে তার ধারণা। ব্যাটসম্যানরা সবাই ফর্মে রয়েছেন। রান করতে পারলে বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ। কাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে ব্যাটিং আমাদের ভালো হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা যদি ভালো পারফর্ম করতে পারে, তাহলে বোলারদের সহায়তা করা যাবে। ফিল্ডিং আরও ভালো করতে হবে। সেভাবেই আমরা কাজ করছি। ফিল্ডিং কোচ হ্যালস আমাদের নিবিড় অনুশীলন করাচ্ছেন।’ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হলে গ্র“পপর্বে দু’একটা বড় দলকে হারাতে হবে। আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ড ছাড়াও বাংলাদেশের গ্র“পে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ড। বাংলাদেশের লক্ষ্য সম্পর্কে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই কোয়ার্টার ফাইনাল। আমরা যদি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারি, এটা সম্ভব। ধারাবাহিক ভালো খেলাই আমাদের লক্ষ্য।’
সর্বশেষ তিন ওয়ানডে ম্যাচে মাহমুদউল্লাহর রান ৫১*, ৮২* ও ৩৩*। এর আগে ২০১৪ সালের শুরু থেকে রান খরায় ভুগেছেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের আগে ১১ ম্যাচে তার রান ছিল মাত্র ১১৫। এর আগে ৬, ৭ ও ৮ নম্বরে ব্যাটিং করেছেন মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ব্যাটিং করেছেন চার নম্বরে। এখন তার আÍবিশ্বাস বেড়েছে। যে কোনো পজিশনে ব্যাট করতে প্রস্তুত তিনি। মহমুদউল্লাহ বলেন, ‘সব সময় ভালো কিছু করার চেষ্টা করি। বেশিরভাগ সময়ই নিচের দিকে ব্যাটিং করি। দলের জন্য কিছু না কিছু অবদান রাখার চেষ্টা করি। মাঝে একটা বছর আমার খুব বাজে গেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো খেলায় আÍবিশ্বাস বেড়েছে। এখন দলের জন্য বড় কিছু করাই লক্ষ্য।’ বাংলাদেশ দলে বোলার হিসেবেও অবদান রয়েছে মাহমুদউল্লাহর। বোলিং নিয়ে আলাদা কিছু ভাবছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বোলিং নিয়ে একটা পরিকল্পনা সব সময় থাকে, আমি আঁটোসাটো বোলিং করার চেষ্টা করি। বিশ্বকাপেও ওভাবেই বোলিং করব। বড় দলগুলো নিয়ে আমাদের চিন্তা করার কিছু নেই। আমরা ভাবতে পারি নিজেদের নিয়ে। নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে কাজ করতে পারি। আমরা যদি নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী খেলতে পারি, তাহলে ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’ বিশ্বকাপের আগে অন্য দলগুলো খেলার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ না খেলায় কোনো সমস্যা হবে? মহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমার মনে হয় না, কোনো সমস্যা হবে। আমরা সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেললাম। এরপর প্রিমিয়ার লীগ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এখন দীর্ঘ অনুশীলন করছি। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা আগে যাচ্ছি। ওখানে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলব। এরপর অফিসিয়াল দুটি প্রস্ততি ম্যাচ আছে। প্রস্তুতি ভালোই হবে।’
আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা নিজেদের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা থাকবে। সবাই আÍবিশ্বাসী, ইনশাআল্লাহ ভালো করব। ইতিবাচক ফল দিয়ে শুরু করাটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত।’ নিজের ফিজিক্যাল ফিটনেস বাড়ানোর জন্যও কাজ করছেন তিনি। মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘আমরা কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে অনুশীলন করছি। সকালে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা নক করছে। বিকেলে লোয়ারঅর্ডাররা। অবস্থা অনুযায়ী ব্যাটিং করা হচ্ছে। পাথরের উইকেটে ব্যাটিং করছি, বোলিং মেশিনে, উইকেটে ঘাস দেয়া হচ্ছে। চেষ্টা করছি, এখানে বসেই ওখানকার মতো কন্ডিশন তৈরি করতে। কন্ডিশন কঠিন হতে পারে।’ স্পিন কম্বিনেশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘অফ-স্পিনার হিসেবে আমি ও নাসির আছি। বাঁ-হাতি অফ-স্পিনার সাকিবসহ তিনজন। স্পিন বিভাগে কম্বিনেশন ভালোই। নতুন দুটি বলে পেস বোলারদের দায়িত্ব থাকবে বেশি। পেসাররা যদি ভালো শুরু এনে দিতে পারে, আমরা স্পিনাররা রানের চাকা মন্থর রাখতে পারব।’ ফিল্ডিং পজিশন বদলে যাওয়ায় অনিয়মিত বোলারদের জন্য কঠিন হবে কিনাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এতে ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে।’

মেহজাবিনের বছর শুরু

নতুন বছর শুরু হয়েছে বেশ ক’দিন হল। কিন্তু এর মধ্যে নতুন কোনো কাজে দেখা যায়নি লাক্স তারকা মেহজাবিনকে। সম্প্রতি ‘যে ভুলের সীমানা নেই’ নামের একটি খণ্ডনাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বছরের হিসাবের খাতা খুললেন তিনি। আলী সুজনের রচনা ও পরিচালনায় এরই মধ্যে নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে। নতুন বছরে নতুন একটি সিদ্ধান্তও নিয়েছেন মেহজাবিন। আগের মতো গড়পড়তায় কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন।
নাটক কিংবা বিজ্ঞাপনে একটু বেশি চুজি হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন থেকে ভালো গল্প, ভালো চরিত্রে কাজ করার সুযোগ না পেলে কাজ করব না। যে কারণে বেশ কিছুদিন পর আমি নতুন এ নাটকে কাজ করেছি। নাটকের গল্প সত্যিই অসাধারণ। প্রচলিত ঘরানার বাইরের গল্প এটি। আমার চরিত্রটিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। কাজ করে আমার নিজেরই খুব ভালো লেগেছে।’ এ নাটকে মেহজাবিনের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন ড. ইনামুল হক, সজল, নওশীনসহ আরও অনেকে। নাটকটি আসছে ভালোবাসা দিবসে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানান।

‘আপনারা এসব বন্ধ করুন’ -শিশু সাফিরের মা শারমিন

(আড়াই বছরের শিশু সাফিরের কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন তার বাবা-মা। গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরে বাসে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয় সে। ওই ঘটনায় তার চিকিৎসক মা-বাবাও আহত হন। গতকাল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতালের বার্ন ইউনিট থেকে তোলা ছবি l জাহিদুল করিম) আড়াই বছরের একটা ছোট্টো শিশু কেঁদেই চলেছে। যেন শুধু একটিবারের জন্য বাবা-মায়ের কোলে উঠতে পারলেই পোড়া শরীরের যন্ত্রণা ঘুচবে। অক্ষম বাবা-মা তাকিয়ে আছেন ফ্যালফ্যাল করে। কাঁদছেন কখনো। কখনো শোনাচ্ছেন ছেলেভোলানো ছড়া। শুধু ছুঁয়ে দেখতে পারছেন না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের চিত্র এটি। কোলে ওঠার জন্য কখনো কাকুতি-মিনতি, কখনো রাগ, কখনো অভিমান, কখনো কাঁদতে থাকা শিশুটির নাম সাফির। চিকিৎসক দম্পতি সাইফুল ইসলাম ও শারমিন সিদ্দিকার বড় ছেলে। গত রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয় সে। মাথা, মুখ, গলা, ডান হাত, দুই পা পোড়া ওর। গোটা শরীর ব্যান্ডেজে মোড়া। বাবা সাইফুল ইসলামের দুই হাত পোড়া। মায়ের হাত ভাঙা। তাই সন্তানকে কোলে নিতে পারছেন না। সাফির কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ছে, ঘুম থেকে উঠে আবার কাঁদছে। তার কান্না দেখে কখনো কাঁদছেন বাবা-মা। কখনো রাগে অস্থির হচ্ছেন। কোথায় যাবেন নালিশ জানাতে তাঁরা জানেন না। সে কারণেই হয়তো অজানার উদ্দেশে মা শারমিন সিদ্দিকা একবার বললেন, ‘আপনারা এসব বন্ধ করুন।’ তারপর প্রথম আলোর প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু আমার বাচ্চা না, সব বাচ্চার কষ্টের কথা লেখেন। ওদের কষ্ট সবাই দেখুক।’
বাবা সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক পোড়া পুড়েছি। আর পুড়তে চাই না। যেটাই করেন, এসব বন্ধ করেন। আমরা একটু বাঁচতে চাই।’ সিটি হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান পরামর্শক মো. শহিদুল বারী বলেন, ‘সাফির যে আশঙ্কামুক্ত, তা বলা যাবে না। তবে অবস্থা স্থিতিশীল আছে। ঘটনার পরপরই দ্রুত ঢাকায় চলে আসার ফলে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত লাইফ সাপোর্ট লাগেনি। যে পা আগে পুড়েছিল, সেই পা আবার পুড়েছে। সেই পায়ে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি ১৭: বার্ন ইউনিটে হরতাল-অবরোধে দগ্ধ শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, এনজিও কর্মী, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, হিউম্যান হলার, রিকশাচালক, বাসচালকের সহকারীসহ মোট ১৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অবৈতনিক উপদেষ্টা সামন্ত লাল সেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন সিদ্দিক (৪০), মোরশেদ আলম (৪৫), আবু তাহের (৭০), বিল্লাল (২৬) কারও অবস্থারই কোনো উন্নতি নেই।

অপহরণ করে দুই শিশুছাত্রকে হত্যা

মোস্তফা কামাল,আব্দুর রহিম
(লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা শিশু নিকেতনের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আবদুর রহিমের হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী–অভিভাবক ও শিক্ষকেরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন করা হয় l ছবি: প্রথম আলো) গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অপহরণের পর দুই স্কুলছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। কালিয়াকৈরে অপহরণের পাঁচ দিন পর গত সোমবার মোস্তফা কামালের (৮) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন হাতীবান্ধায় অপহরণের চার ঘণ্টা পর আবদুর রহিম ওরফে উল্লাসের (৭) লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মোস্তফা কামাল কালিয়াকৈরের মাউন্ট এভারেস্ট মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদিন। আর আবদুর রহিম হাতীবান্ধা শিশু নিকেতনের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। র‌্যাব, পুলিশ ও নিহত শিশুদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈরের সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন জয়নাল আবেদিন। তিনি উপজেলার রতনপুর এলাকার করণী িনট কম্পোজিট কারখানার সেম্পলম্যান হিসেবে কাজ করেন। ১৪ জানুয়ারি বিকেলে চাচাতো ভাই রুবেল হোসেন (২৫) চকলেট খাওয়ানের কথা বলে মোস্তফাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। ওই দিন রাতে জয়নাল আবেদিনের কাছে মুঠোফোনে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার জয়নাল বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি র‌্যাবকে জানানো হয়। র্যাবের সদস্যরা মুঠোফোন কলের সূত্র ধরে সোমবার রাতে উপজেলার সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকা থেকে রুবেলকে আটক করেন। রুবেল ওই এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। জিজ্ঞাসাবাদে রুবেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর ঘরের সিলিংয়ের ওপর থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মোস্তাফার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই বাড়ির মনসুর আলী মাতব্বর (৫৫), জাহাঙ্গীর আলম (৪২) ও এক নারীকে (৩৪) আটক করে র‌্যাব। মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় নিহত শিশুর বাবা মামলা করেছেন।
হাতীবান্ধায় স্কুলছাত্র আবদুর রহিম হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলো দক্ষিণ সিংগীমারী গ্রামের জুয়েল (১৭), সজীব (১৬), সোহাগ (১২), আলমগীর (১৪) ও সৌখিন (১৪। তারা জানায়, তারা আবদুর রহিমকে খুঁজতে গিয়েছিল। তার ঝুলন্ত লাশ দেখে তারাই এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানিয়েছে। পুলিশ ও নিহত শিশুর পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রহিম। সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাড়ির মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকার জন্য একটি ব্যাংকের হিসাব নম্বর দিয়ে আরেকটি খুদে বার্তা পাঠানো হয়। টাকা না পেয়ে অপহরণকারীরা রহিমকে হত্যা করে। পরে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পরিত্যক্ত দোতলা ভবনের একটি জানালার রডের সঙ্গে রহিমের ঝুলন্ত লাশ দেখা যায়। খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মতিন সরকার জানান, সোমবার রাত ১০টায় রহিমের বাবা নুরুজ্জামান অজ্ঞাতনামা কয়েক ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় দক্ষিণ সিঙ্গীমারী গ্রামের পাঁচজনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই রাতেই আটক করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা খুলনা ও সিলেটে হরতাল চলছে, শিবিরের অবরোধ বিক্ষোভ

বিএনপির’র ডাকে রাজধানী ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ জেলায় টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে। আজ  ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এই হরতালের  কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এই দুই বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে রাজধানীর খিলগাঁও থানা ছাত্রদল নেতা জনিসহ যৌথ বাহিনীর অভিযানে ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গুম-খুন-হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এই হরতালের ডাক দেয়া হয়। টানা অবরোধের ১৬তম দিনে এই হরতালের শুরুতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর জীবন যাত্রায় বেশ প্রভাব ফেলেছে। রাজধানীর অভ্যন্তরীন রুটের কিছু যানবাহন চলাচল করলেও তা সংখ্যায় বেশ কম। হরতালের সমর্থনে জোরালো কোন পিকেটিং দেখা না গেলেও রাস্তায় মানুষের চলাচল তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। সকালে রাজধানীর ব্যস্ততম যাত্রাবাড়ী,সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, পুরানা পল্টনমোড়, শাহবাগ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকায় সকালে কোন ধরনের ট্রাফিক সিগন্যাল বা সামান্যতম যানজট দেখা যায়নি। দূরপাল্লার পরিবহন বরাবরের মত বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে সকাল থেকে রাজধানীর রাজপথ অন্যদিনের তুলনায় বেশ ফাঁকাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদিকে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের খবর পাওয়া গেছে। যৌথবাহিনীর অভিযানে নেতাকর্মীদের হত্যা এবং সারা দেশে নিপীড়নের প্রতিবাদে আজ কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলায় সকাল ৬টা থেকে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সিলেটে সকাল-সন্ধ্যা এবং সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার ও চার দিনের রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে রাজশাহীর পুঠিয়ায় অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে ২০ দল। টানা অবরোধের সঙ্গে হরতালের ঘোষণা দেয়ায় গতকাল সন্ধ্যা থেকেই রাজধানীতে যান চলাচল কমে যায়। আতঙ্কে রাতে ফাঁকা হয়ে যায় রাজধানীর রাজপথ। ইতিপূর্বে অবরোধে ঢাকার আশপাশে কিছু বাস এবং মিনিবাস চললেও গতকাল সন্ধ্যা থেকেই এসব যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাড্ডা ও ধোলাইখালে শিবিরের অবরোধ বিক্ষোভ
২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের চলমান অবরোধের ১৬তম দিনে রাজধানীর বাড্ডায় রাস্তায় আগুন দিয়ে রাজপথ অবরোধ করেছে ঢাকা মহানগর উত্তরের বাড্ডা অঞ্চলের শিবির নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৮টায় বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সামনে অবরোধের সমর্থনে মিছিল করে শিবির। এসময় আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করে তারা। বাড্ডা দক্ষিণ থানা শিবির সভাপতি জাকির হোসাইন ও বাড্ডা উত্তর থানা সভাপতি আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে অবরোধে উপস্থিত ছিলেন শিবির নেতা ইবরাহীম, মহিউদ্দিন। প্রায় একই সময় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের সমর্থনে পুরান ঢাকায় রাস্তায় আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা পুরান ঢাকার ধোলাইখালে এ বিক্ষোভ করে। এসময় মিছিলে নেতৃত্ব দেন, জবি শিবির সভাপতি আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন, সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম ও অর্থ সম্পাদক জুনায়েদ।

অনিশ্চিত জীবন পরিবহন শ্রমিকদের

অবরোধ-হরতালে অচল সড়ক-মহাসড়ক। চলাচল করছে না বেশির ভাগ যানবাহন। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ পরিবহন শ্রমিক। চরম দুর্দিন যাচ্ছে তাদের। দেশের পরিবহন খাতে যারা কাজ করেন তাদের বেশিরভাগই পারিশ্রমিক পান দৈনিক হাজিরা হিসেবে। কাজ না থাকায় তাদের আয়-রোজগারও বন্ধ। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। ঢাকা-কুমিল্লা রুটের মেঘনা ডিলাক্স পরিবহনের হেলপার ফেরদৌস। প্রতিদিন তিনি দায়িত্ব পালন করে আয় করেন ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এই আয় দিয়েই চলে তার সংসার। স্ত্রী আর এক মেয়েকে নিয়েই তার সংসার। কিন্তু সারা দেশে অবরোধ আর হরতাল থাকায় মালিকরা রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না তিনি। ফলে টাকার অভাবে একমাত্র মেয়ে সুমাইয়াকে এখনও স্কুলে ভর্তি করতে পারেননি ফেরদৌস। চলমান লাগাতার হরতাল-অবরোধে এই দুর্দশা শুধু ফেরদৌসেরই নয়, এ সমস্যা তার মতো লাখো পরিবহন শ্রমিকের। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী সারা দেশে বাস, ট্রাক,  পিকআপ, কার্গো ভ্যান, কাভার্ড ভ্যান, ডেলিভারি ভ্যান, হিউম্যান হলারসহ বিভিন্ন গণপরিবহনের সঙ্গে প্রায় ২০ লাখ পরিবহন শ্রমিক জড়িত। তাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থাও হয় বিশাল এই খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক দিনের হরতাল, অবরোধে এসব শ্রমিকদের জীবনযাপন চলছে চরম অনিশ্চয়তায়।
রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে  চালক, সুপারভাইজার ও লাইনম্যানদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বর্তমান জীবনযাপনের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। সায়েদাবাদ টার্মিনালে কথা হয় যাত্রী সেবা পরিবহনের সুপারভাইজার শহীদ খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে এই পরিবহনে চাকরি করছি। প্রতি মাসের ৫ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে মালিক আমাদের বেতন দিয়ে দেন। কিন্তু এই মাসের অর্ধেকের বেশি চলে গেলেও এখনও বেতন হয়নি। এজন্য চলতি মাসের বাসা ভাড়াও দিতে পারেন নি।  ভাড়া দিতে না পারায় মালিক বাসা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই টার্মিনালের এনপি পরিবহনের কয়েকজন চালক জানান, অবহেলিত একটি সেক্টর হচ্ছে পরিবহন খাত। এ খাত ঘিরে লাখ লাখ মানুষের রুটি-রুজি নির্ভরশীল হলেও এ পেশার শ্রমিকদের জীবনের নেই কোন নিরাপত্তা। মালিক নিজের ক্ষতির কথা চিন্তা করে রাস্তায় গাড়ি নামান না।
মানিকগঞ্জগামী শুভযাত্রা পরিবহনের চালক সুহেল বলেন, রাজনৈতিক দলের যত দাবি-দাওয়া আমাদের গাড়ির ওপর দিয়ে মিটায়। তাদের দাবি আদায়ের আর কোন মাধ্যম না পেয়ে আগুন দেয় গাড়িতে, ভাঙচুরও চালায় গাড়িতে। আর জীবন দিয়ে এর খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। সুহেল জানান, অবরোধ চলাকালে সময়ে কাজ নেই। তাই আয়ের পথও বন্ধ। একই কথা শোনালেন হানিফ পরিবহনের নিজাম উদ্দিন। তিনি জানান, স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা তাকে পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু অবরোধ শুরু হওয়ার পর আয়ের পথ বন্ধ। তাই চলতি মাসের কিস্তি এখনও জমা দিতে পারেননি তিনি। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার মালিকদের পরিবহন ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অথচ যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে গাড়ি চালান, সেই চালক-হেলপারদের জন্য কোন ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা এখনও আসেনি। অথচ আমরা একদিন গাড়ি না চালালে পুরো দেশ অচল হয়ে যায়। রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে অন্তত ৬শ’ যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘিরে দেখা গেছে, টার্মিনালের চিরাচরিত ব্যস্ততা আর নেই। নেই বাসে যাত্রী ওঠানোর জন্য সুপারভাইজার, লাইনম্যানদের কোন হাঁকডাক, টানা-হেঁচড়া। শ্রমিকরা লুড,ু তাস খেলে ও শুয়ে-বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। অল্প কিছু গাড়ি টার্মিনাল ছেড়ে গেলেও তাতে যাত্রীসংখ্যা ছিল একেবারেই নগন্য। গত ৪ই জানুয়ারি অবরোধের দিন থেকেই এ অবস্থা চলছে বলে জানালেন এখানকার বিভিন্ন পরিবহনের কয়েকজন চালক ও তাদের সহকারী। মহাখালী-বগুড়া রুটের একতা পরিবহনের চালক কোহিনূর মিয়া জানান, অবরোধের আগে বগুড়া ও নওগাঁ রুটে আসা-যাওয়ায় প্রতি দিন দুটি করে ট্রিপ পড়ত। প্রতি ট্রিপে তিনি পান প্রায় ৬শ‘ টাকা। এই টাকায় পুরো সংসার চলে। কিন্তু অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৫ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই কদিনে মাত্র ৫দিন গাড়ি চালাতে পেরেছেন। বাকি দিন তার আয় বন্ধ। আর যেদিন বন্ধ থাকে সেদিন মালিকের পক্ষ থেকে শুধু খাওয়া খরচ দেয়া হয়। যা নিতান্তই সামান্য। কোহিনূর মিয়া বলেন, অবরোধে যে কদিন গাড়ি চালিয়েছি সেই কদিন পুলিশ প্রহরা ছিল। কিন্তু বাসের সামনে-পেছনে পুলিশ থাকলেও আতঙ্ক আমাদের পিছু ছাড়ে না। কখন গাড়িতে পেট্রলবোমা, ককটেল ছুড়ে মারে, কখন পাথর ছুড়ে দেয় সেই আতঙ্কে থাকি। স্ত্রী, ছেলে মেয়ে না খেয়ে থাকবে। তাই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও অবরোধের মধ্যে মাঝে মাঝে গাড়ি চালাচ্ছি। একতা পরিবহনের সুপারভাইজার মনির হোসেন বলেন, অবরোধ, হরতালের এই কদিনে মাত্র ৫ দিন তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাকি দিন কাটিয়েছেন শুয়ে-বসে। এই সময়ে তাকে চলতে হয়েছে ধার-দেনা করে। এজন্য গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পরিবারের কাছেও টাকা পাঠাতে পারেননি তিনি। একতা পরিবহনের লাইনম্যান মান্না জানান, গাড়িতে তাদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি হলো, কাজ নেই তো, টাকাও নেই। তাই যেদিন দায়িত্ব পালন করেন না সেদিন হাতে কোন টাকা আসে না।
ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের এনা পরিবহনের লাইনম্যান রানা জানান, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র ৪ দিন গাড়ি চলেছে। এই ৪ দিন তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বাকি দিন কোন আয় ছিল না। ধার-দেনাও পাওয়া যায়নি। ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের সৌখিন পরিবহনের সুপাইরভাইজার পলাশ বলেন, অবরোধে গাড়ি নিয়মিত চলছে না। আজ দুটি ট্রিপ থাকে তো কালকে কোন ট্রিপ নেই। মাঝে মাঝে চালাতে হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। সামনে-পেছনে পুলিশ থাকলেও আমাদের আতঙ্ক এতটুকু কমে না। শুধু আমরাই নই, যেকজন যাত্রী পাওয়া যায় তারাও থাকেন আতঙ্কে। ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটের অনন্যা পরিবহনের সুপারভাইজার মিজান বলেন, মালিক তো তার কোটি টাকার গাড়ি রাস্তায় পুড়তে দিতে চায় না। অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এভাবেই চলছে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। গ্রামের বাড়িতেও নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারছি না। টাকা পাঠাতে পারি না তাই এক রকম পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কাভার্ডভ্যান ও ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার দুই পাশে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান। কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ট্রাক কাভার্ডভ্যান নিয়মিত চলছে না। যে কারণে এখানকার শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। যাদের অল্প কিছু সঞ্চয় আছে শুধু তারাই কোনমতে চলতে পারছেন। তারা জানান, এখানকার এমনও পরিবহন আছে এই কদিনে একটি ট্রিপেও যেতে পারেনি। যারা গিয়েছেন তারাও জীবনকে তুচ্ছ করে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। কিন্তু পরদিন আর যাওয়ার সাহস করেননি। ট্রাকের লাইনম্যান তারেক বলেন, আমরা সাধানত লংরুটে গাড়ি চালিয়ে মালামাল বহন করি। কিন্তু গত ১০ দিন ধরে কোন ট্রিপ নেই। তাই রোজগারও নেই। এই কদিনে ধারকর্জ করে চলছি। গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় পরিবারের কাছেও কোন টাকা পাঠাতে পারিনি। পিকআপ চালক ইব্রাহিম বলেন, একদল বলে অবরোধ নাই, আপনারা গাড়ি চালান। আরেক দল বলে অবরোধ চলছে চলবে। কাভার্ড ভ্যান চালক রাজ্জাক বলেন, সরকার বলছে গাড়ি পুড়লে ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু আমাদের জীবনটাই যদি পুড়ে কয়লা হয়ে যায় তাহলে তো ক্ষতিপূরণও পাব না। এজন্য গাড়ি নিয়ে বের হই না। দিন চলছে কোন রকমে। পিকআপ চালক ইমরান হোসেন বলেন, এই ১৩ দিনে মাত্র ২টি ট্রিপ পেয়েছি। প্রতি ট্রিপে নিজে পেতাম ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। আমার হেলপার জাহিদ পেত ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা। এখন সব বন্ধ। দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকচালক নুরুন্নবী, শফিকুল,  জাফর একই সুরে বললেন, আমাদের সহকর্মীরা চোখের সামনে পেট্রলবোমা ও ককটেলে দগ্ধ হচ্ছে। এ অবস্থা দেখে কে চায় জীবনের ঝুঁকি নিতে। তারা বলেন, আমরা রাজনীতি বুঝি না, রাজনীতি করিওনা। আমরা বুঝি পেটনীতি। কিন্তু বিএনপি, আওয়ামী লীগ কি তা বোঝে। তারা কি আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের কথা চিন্তা করে কোন সমঝোতায় আসতে পারে না? বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম মন্টু বলেন, শ্রমিকদের পরিস্থিতি এক কথায় বলা যায় ভয়াবহ। তাদের অনেকেই এই কদিনে গাড়ি নিয়ে বেরুতে পারেনি। ফলে তাদের আয়ের পথও বন্ধ। শুধু তাদের নয় মালিক পক্ষেরও এতে ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, এমন দুর্দিন সচরাচর আসেনি। গাড়ি না চলায় ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের অনেকেই বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা এ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তান্ডবে দেশবাসী হতভম্ভ’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি দলের বেপরোয়া ক্যাডারদের ভয়াল তান্ডবে দেশবাসী বিমূঢ়, হতভম্ব ও আতঙ্কিত। বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে তাদের হত্যার নেশায় পেয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আবারো কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে আন্দোলনরত বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করছে। এরই মধ্যে দশের অধিক বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যার সংবাদ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। সকালে এক বিবৃতিতে রিজভী এসব কথা বলেন। ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল সফল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রিজভী বলেন, গত বছরের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন পূর্বাপর বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদেরকে বাসা থেকে কিংবা অন্য কোনো জায়গা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে চিরদিনের জন্য গায়েব করেছে। কয়েকদিন পর তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বর্তমান চলমান আন্দোলনে আবার সেটারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি করছে পুলিশ-র‌্যাব, যাকেই পাওয়া যাচ্ছে তাকেই সেখান থেকে তুলে নিয়ে হয়তোবা সেখানেই অথবা অন্য কোনো অজ্ঞাত স্থানে গুলি করে হত্যা করার পর লাশ উদ্ধার দেখাচ্ছে। রিজভী বলেন, গত পরশু রাতে রাজধানীতে সরকারের গোয়েন্দা রাহিনী ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনিকে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে হত্যা করে। এছাড়াও নড়াইল পৌর কমিশনারের লাশ ঢাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুধু বিরোধী দলের আন্দোলনকে দমানোর জন্য সরকারি বাহিনীগুলোকে মানবতাবিরোধী গুম, গুপ্তহত্যার অবাধ লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এই অবৈধ সরকার দেশকে হত্যা ও লাশের মহামারীর দেশে পরিণত করার জন্য পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করছে। তিনি বলেন, এই ভোটারবিহীন সরকার এজেন্টদের দিয়ে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টি করে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপাতে হরদম মিডিয়াতে প্রচার চালাচ্ছে। অধিকাংশ গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে কব্জা করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে কুৎসা আর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ যা বলে এবং প্রচার চালায় ঠিক তার উল্টোটাই জনগণ বিশ্বাস করে দাবি করে রিজভী বলেন, সুতরাং জনগণের দাবি হচ্ছে, সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘোষণা করা। বর্তমান সঙ্কট নিরসন করতে হলে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে গ্রেপ্তার ১০০ by মহিউদ্দীন জুয়েল

প্রতিদিন গড়ে গ্রেপ্তার ১০০ জন। তার বিপরীতে জামিন নেই একজনের বেশি। ১০ দিনে বিভিন্ন ঘটনায় আটক করা হয়েছিল ৪,০০০ জনকে। তাদের মধ্য থেকে ১০০০ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চালান দেয়া হয়েছে আদালতে। রাজনৈতিক ঘটনায় উত্তপ্ত চট্টগ্রামে ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধে আসামি ধরার চিত্র ছিল এমনই।  ভাঙচুর, সহিংসতা, গাড়ি পোড়ানো ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধে সবচেয়ে বেশি আসামি ধরা হয়েছে কোতোয়ালি, চকবাজার ও চান্দগাঁও থানায়। এই ৩ থানায় অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৩০০০ এর বেশি। এসব আসামির অনেকেই নিরীহ বলে দাবি করেছে তাদের অভিভাবক ও আত্মীয়স্বজনরা। গত ৫ই জানুয়ারি কাজীর দেউড়ি  মোড়ে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ৩৪৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। কোতোয়ালি থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।  এতে সব আসামীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, অস্ত্র লুটের চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের আহত করার অভিযোগ আনা হয়। পরে  মামলাটি সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশ ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় চকবাজার থানায়ও দায়ের করা হয় আরেকটি মামলা। চট্টগ্রাম কারাগারের একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন অসংখ্য বন্দিকে দেখতে সেখানে ভিড় করছেন তাদের আত্মীয়স্বজনরা। দলে দলে ছুটে আসছেন ৫০০ এর বেশি লোক। সবারই এক অভিযোগ, পুলিশ অন্যায়ভাবে সন্দেহজনক কারণে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। এই সময় কারা ফটকের সামনে উৎকণ্ঠায় থাকা লোকজন তাদের কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কামাল উদ্দিন নামের এক ঠিকাদারি কোম্পানির সুপারভাইজার বলেন, হরতালে কাজীর দেউড়ি থেকে আলমগীর, শোয়েব ও টিটু নামের কয়েকজন শ্রমিককে পুলিশ বিএনপিকর্মী মনে করে ধরে এনেছে। আমি বহুবার তার জামিন চেয়েছি। কিন্তু পাইনি। এখন তারা কারাগারে। ঘটনার সময় ওরা রাস্তা দিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিল। তবে নগর পুলিশ দাবি করেছে, ঢাকায় খালেদাকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবরে চট্টগ্রামে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে। এই সময় অনেকে সেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাই ক্যামেরা ফুটেজ থেকে সবাইকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। যাদের ধরা হয়েছে তাদের অনেককে আটকের পরপরই ছেড়ে দেয়া  হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। চকবাজার থানার ওসি আতিক আহমেদ চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, আমাদের থানায় যে মামলাটি হয়েছে তা বিস্ফোরক আইনে। তবে সেখানে কারও নাম নেই। সবাই অজ্ঞাত। আমরা জড়িতদের খুঁজে বের করছি। যাদের আটক করা হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান দিয়েছি। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অতিরিক্ত আসামির কারণে বর্তমানে সেখানে ধারণক্ষমতা নেই। বন্দি ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৮৫৩ জন। অথচ ১০ দিনেই সেখানে আনা হয়েছে ১০০০ জন। ফলে একাধিক বন্দি নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, বন্দি এখন অনেক বেশি। এরা সবাই ভাঙচুর ও নাশকতার মামলার আসামি। জামিন খুব একটা পাচ্ছে না বললেই চলে।

অবরোধের ১৬ দিন আজ- লঞ্চে আগুন, বাসে বোমা

(রাজধানীতে কিছু কিছু বাসের জানালায় কাচ নেই। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের অবরোধ চলাকালে এসব বাসে পেট্রলবোমা ও ককটেল হামলার ঝুঁকি বেশি। গতকাল পুরানা পল্টন মোড় থেকে তোলা ছবি l প্রথম আলো) অবরোধের মধ্যে রংপুরের মিঠাপুকুরে চলন্ত বাসে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গতকাল হেরে যান মনোয়ারা বেগম (২২)। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চলন্ত বাসে পেট্রলবোমার ঘটনায় মনোয়ারাকে নিয়ে নিহতের সংখ্যা ছয়জনে দাঁড়াল। আর ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া সহিংসতায় গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ জনে। এদিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বরিশালে দুটি বিলাসবহুল লঞ্চের দুটি কক্ষে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এদিন রাজশাহী, গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশের গাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। ঢাকায় আগুন দেওয়া হয়েছে প্রাইভেট কারে। সাত জেলায় ১৪টি যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সোমবার রাতে ককটেল হামলা চালানো হয়েছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদলের বাড়িতে। এ ছাড়া কয়েকটি স্থানে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই অবরোধ চলছে ৬ জানুয়ারি থেকে। তবে ৪ জানুয়ারি থেকেই শুরু সংঘাতের। এই দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত আগুন দেওয়া হয় ২৬৩টি যানবাহনে, ভাঙচুর করা হয় অন্তত ৩৫৫টি।
সারা দেশে নেতা-কর্মীদের হত্যা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাকা ও খুলনা বিভাগে আজ বুধবার সকাল থেকে দুই দিনের হরতাল ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের খবর:
আরও একজনের মৃত্যু: ঢাকা সিএমএইচ সূত্র জানিয়েছে, মিঠাপুকুরে পেট্রলবোমায় দগ্ধ মনোয়ারা বেগম সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মারা যান। তাঁর স্বামী নূর আলম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য।
মিঠাপুকুরে ১৩ জানুয়ারি দিবাগত রাতে পুলিশ ও বিজিবির পাহারায় রংপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসের বহরে থাকা একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরেকজনের মৃত্যু ঘটে। পেট্রলবোমায় দগ্ধ দুই মেয়েসহ মনোয়ারাকে প্রথমে রংপুর সিএমএইচ ও পরে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
রাজধানীর চিত্র: রাজধানীতে অবরোধ চলাকালে গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে যমুনা টেলিভিশনের একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, একটি ট্রাক পেছন থেকে প্রথমে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় চালক বেরিয়ে এসে প্রতিবাদ করলে দুই দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা নিয়ে গিয়ে গাড়িটিতে ভাঙচুরের পর আগুন দেয়।
সকাল পৌনে নয়টার দিকে শনির আখড়ায় প্রজন্ম লীগের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভায়। সন্ধ্যায় পৃথক ঘটনায় ফুলবাড়িয়া ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ককটেলের বিস্ফোরণে জুতা ব্যবসায়ী হেলালউদ্দিন (২৮) ও রিকশাচালক আবদুল মান্নান (৫৮) আহত হন।
এ ছাড়া বেলা তিনটার পর কুড়িল বিশ্বরোড উড়ালসড়কের কাছে দুর্বৃত্তরা ছয়-সাতটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। গত রাত ১০টার দিকে ধানমন্ডিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারতপতি এ টি এম সাইফুর রহমানের সামনে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের নিচতলায় ইতিহাস বিভাগ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মধ্যবর্তী বারান্দায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ালেও কেউ হতাহত হয়নি। সেখান থেকে অবিস্ফোরিত একটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এম আমজাদ আলী বলেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর বাইরের চিত্র: বরিশাল-ঢাকা নৌপথে বিলাসবহুল লঞ্চ সুন্দরবন-৭ ও পারাবত-১০ লঞ্চের দুই শয্যাবিশিষ্ট দুটি কক্ষে (কেবিনে) আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। অগ্নিনির্বাপক গ্যাস দিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে কর্তৃপক্ষ। দুটি লঞ্চই ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। গতকাল রাত পৌনে নয়টায় বরিশাল নৌবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সুন্দরবন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, সুন্দরবন-৭ লঞ্চ যাত্রী বোঝাই করে বরিশাল নৌবন্দর ত্যাগ করছিল। এ সময় হঠাৎ কেবিনের যাত্রীরা আগুন আগুন বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে দেখা যায়, তৃতীয় তলার ৩১৬ নম্বর কক্ষে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে ওই কক্ষের বিছানাপত্র পুড়ে যায়। পরে লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
রাজশাহী নগরের রেশম ভবনের সামনে গত সোমবার দিবাগত রাতে হরতাল-সমর্থকেরা যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। এতে নারীসহ তিনজন যাত্রী আহত হন। তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আম্বিয়া বেগম (৫০) নামের এক যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। অপর দুই যাত্রী গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে আহত হন।
আম্বিয়ার স্বামী ইসরাফিল জানান, বাসটি পুলিশি পাহারায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী মহানগরে আসে। রাজশাহী বাসস্ট্যান্ডে প্রায় তিন ঘণ্টা থামার পর রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। বাসটি নগরের রেশম ভবনের সামনে এসে পৌঁছালে চার থেকে পাঁচজন হরতাল-সমর্থক বাসটিতে পেট্রলবোমা মারে। এতে আম্বিয়ার মুখ ও গলার বাঁ পাশ ও দুই হাত আগুনে পুড়ে যায়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) ইফতে খায়ের আলম জানান, হামলাকারীরা বাসটিকে লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছুড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।
বরগুনায় গত সোমবার গভীর রাতে শহরের লাকুরতলায় নছিমনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রলবোমায় চালক মো. হান্নান (৩০) সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। একই রাতে সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আগা পদ্মা গ্রামের কেশব মাঝির বাড়ির একটি দুর্গামন্দিরে কে বা কারা আগুন দেয়। এতে মন্দিরের এক পাশের বেড়া পুড়ে যায়।
বগুড়ার শেরপুরে গত সোমবার রাত নয়টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে দুর্বৃত্তদের পেট্রলবোমায় পুড়েছে পণ্যবাহী একটি ট্রাক। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে গতকাল মঙ্গলবার সকালে অবরোধ-সমর্থকেরা সিএনজিচালিত সাতটি অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে সোমবার রাতে বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাসের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা চালক মো. আমির ও সহকারী মো. নেকবর সামান্য আহত হন। বাস থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে চালকের পা কেটে গেছে। আর আগুনে নেকবরের দুই হাত ঝলসে গেছে।
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনের সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদলের বাড়িতে সোমবার রাতে ককটেল হামলা হয়েছে। রাত আড়াইটার দিকে বোয়ালখালীর সারোয়াতলীর বাড়িতে পর পর দুটি ককটেল ছুড়ে মারা হয়। এ সময় সাংসদ বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর ভাই মনির উদ্দিন আহমেদ জানান, ককটেলে জানালার কাচ ভেঙে গেছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবরোধকারীরা গতকাল তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী শাহীন আলমকে (৩৫) পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গত সোমবার রাতে বিএনপি-জামায়াতের ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করে মামলা হয়েছে। বাসে আগুন দেওয়ার ওই ঘটনায় চিকিৎসক দম্পতি, তাঁদের শিশুসন্তানসহ আটজন আহত হন।
চুয়াডাঙ্গায় গতকাল রাতে পুলিশের গাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে চালক জিন্নাত আলীর (৪৫) ডান হাত ও পিঠ ঝলসে গেছে। তাঁকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব, গাজীপুরের শিববাড়ীতে গতকাল রাতে বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে কেউ আহত হয়নি। কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরে জামায়াত-শিবিরের ঝটিকা মিছিল থেকে চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ফেনীর দাগনভূঞায় অবরোধকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও দুই যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল রাতে ফেনী-বসুরহাট সড়কের দুধমুখা বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া রাত আটটার দিকে ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর মোহাম্মদ মানিকের ব্যক্তিগত গাড়িতে ককটেল হামলা হয়েছে।
ঢাকা ও খুলনা বিভাগে দুই দিনের হরতাল: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকে গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা, রাজশাহী, ফরিদপুর ও কালিয়াকৈরে ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হয়েছে। তবে এসব জায়গায় গতকাল হরতালে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া ঢাকা ও খুলনা বিভাগের সব জেলায় আজ ভোর ছয়টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট।
গতকাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ হরতালের কথা বলা হয়। তবে এর মধ্যে খুলনার দুই জেলা কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহে হরতাল হবে ৩৬ ঘণ্টা।
বিজ্ঞপ্তিতে রিজভী বলেন, সারা দেশে যৌথ বাহিনী অভিযানের নামে ছাত্রদলসহ দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে। কয়েক দিনে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে হত্যাও করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে এবং গ্রেপ্তার দলীয় নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ হরতালের ডাক দেওয়া হয়। ২০-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আজ সিলেটে ডাকা হয়েছে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাসায় পুলিশি তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধের দাবি এবং গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ হরতাল ডাকা হয়।
এদিকে ঢাকার খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনিকে ‘হত্যার’ প্রতিবাদে আজ ও কাল ঢাকা মহানগরে এবং ঢাকা বিভাগে হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। এ ছাড়া ছাত্রদলের নেতাদের গুম, হত্যা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল এবং আজ সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে সংগঠনটি।

রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ কর্মীদের ভাঙচুর

(রাজশাহী কলেজ প্রশাসন ভবনে গতকাল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠান চলাকালে সেখানে ভাঙচুর চালান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা l ছবি: প্রথম আলো) রাজশাহী কলেজে ছাত্রশিবিরের নেতাকে মারতে গিয়ে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ। কলেজ অধ্যক্ষের কার্যালয়ও ঘেরাও করে তারা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এসব ঘটনা ঘটে। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুপুর ১২টার দিকে কলেজের ফুলার ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিবিরের কলেজ হোস্টেল শাখার সভাপতি রিপন আলী অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম খানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা ছুটে এসে রিপন আলীকে ধরে মারধর করতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ভবনের নিচে নামিয়ে এনে সেখানেও মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অন্য কয়েকজন এসে রিপন আলীকে সেখান থেকে নিয়ে যান। এতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অধ্যক্ষের ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর তাঁরা সেখান থেকে কলেজের প্রশাসন ভবনে হামলা করতে আসেন। তখন প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় তলায় কলেজের স্টাফ রুমে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম চলছিল। অনুষ্ঠানটি একটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হচ্ছিল। ছাত্রলীগের কর্মীরা ভেতরে ঢুকে প্রজেক্টর, একটি কম্পিউটার ও কক্ষের দুটি জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এরপর তাঁরা নিচে নেমে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ফের প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওঠেন। সেখানে তাঁরা অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও করে তাঁর কাছে জানতে চান, কেন তিনি শিবিরের নেতাকে ছেড়ে দিলেন। পরে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকেরা বুঝিয়ে তাঁদের শান্ত করেন। এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, কলেজের ফুলার ভবন থেকে তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ক্যাম্পাসে মারামারি হচ্ছে। তিনি গিয়ে দেখেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ভবনের কাছে একটি ছেলে মাটিতে পড়ে আছে। তিনি পরিচয় জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ছেলেরা বলেন, ছেলেটা বহিরাগত। এরই মধ্যে তাঁদের কয়েকজন ছেলেটাকে পানি খাওয়ানোর জন্য মসজিদের পাশে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁরাই ছেলেটাকে পার করে দেন। শিবিরের কলেজ শাখার সভাপতি সারোয়ার আলম সিদ্দিকী বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই রিপন আলীকে মারধর করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ছাত্রলীগের মহানগর শাখার সভাপতি রকি ঘোষকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মাহাবুব আলম খানের ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই তাঁরা (ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী) কলেজের প্রশাসন ভবন ভাঙচুর করে নেমে এসেছেন। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই দলকে সমঝোতার আহ্বান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও বলপ্রয়োগের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, একদিকে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সকল প্রকার বলপ্রয়োগ, সহিংস ও অগণতান্ত্রিক আচরণ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমঝোতার পথ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণতন্ত্রের নামে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক পক্ষ শক্তি প্রদর্শন ও বল প্রয়োগের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ায় শিশু, নারী ও তরুণসহ সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিষ্ঠুরভাবে খর্ব হচ্ছে। জনগণের স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে শুরু করে স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। একপক্ষ যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে, অন্যপক্ষ যেকোন প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে জনগণ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। যা দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের সম্ভাবনার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বলা হয়, জনসভা, মিছিল ও মানববন্ধনসহ সকল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সকল নাগরিক ও সংগঠনের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে আন্দোলনের নামে একদিকে সহিংস কর্মসূচি এবং অন্যদিকে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের মতো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক আইনের ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার হুমকি যেমন লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থি তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে উগ্র অগণতান্ত্রিক শক্তির বিকাশের চাবিকাঠি। তিনি বলেন, বর্তমান সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় দুই নেত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। সঙ্কট থেকে উত্তরণের চাবিকাঠি দুই নেত্রীর হাতেই রয়েছে। একইসঙ্গে উভয় পক্ষের নেতৃস্থানীয় অবস্থানে অধিষ্ঠিতজনদের সংহত ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তাদের রাজনীতি যে বাস্তবেই জনগণের স্বার্থে, জনগণের অধিকার খর্ব করার জন্য নয়, জনগণকে জিম্মি করে শক্তি পরীক্ষার জন্য নয়, তার প্রমাণ দেয়ার সময় এখনই।
ড. জামান বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শুধু পেছনে ঠেলে দিচ্ছে তাই নয়, বরং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার অভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে রাজনীতিকে এক বীভৎস রূপে তুলে ধরে রাজনীতি বিমুখতার বীজ বপন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড উগ্র, সহিংস এবং অগণতান্ত্রিক শক্তিকে আরও বিকাশের সুযোগ করে দেবে উল্লেখ করে টিআইবি দেশের স্বার্থে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ করে বড় দুটি দলকে সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

ইটের নিচে চাপা পড়ছে শৈশব- বরগুনার ইটভাটায় আড়াই হাজার শিশু শ্রমিক by এম জসীম উদ্দীন

(বরগুনার আমতলী উপজেলার তালতলা এলাকার একটি ইটভাটায় ইট শুকানোর কাজ করছে শিশুরা। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো) বরগুনার ইটভাটাগুলোতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে শিশুরা। এতে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে তারা। বরগুনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলায় অনুমোদিত ইটভাটা ২৫টি। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ভাটার সংখ্যা ৫৪টি। এর মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র আছে ৩০টির, অনুমোদনহীন ইটভাটা ১৬টি ও ১২০ ফুট উচ্চতার স্থায়ী চিমনি আছে সাতটি। তবে স্থানীয় হিসাবে জেলায় বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে কমপক্ষে ১০০টি ইটভাটা ও পাজা আছে। বরগুনা সদর, আমতলী ও পাথরঘাটার বেশ কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, দুপুর বেলা রোদ মাথায় নিয়ে একদল শিশু কাজ করছে। এরা সবাই ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী। কেউ মা-বাবার সঙ্গে, কেউ শ্রমিক সরদারের সঙ্গে ইটভাটায় কাজে এসেছে। কাঁচা ইট রোদে শুকানো, ইট তৈরি, ট্রলিতে করে ইট টেনে ভাটাস্থলে পৌঁছানো, মাটি বহন করাসহ সব কাজেই নিয়োজিত আছে এই শিশুরা।
এসব শিশু তাদের মা-বাবার সঙ্গে বা কেউ সরদারের সঙ্গে সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এসেছে ছয় মাসের কাজের চুক্তিতে। সদরের কুমাখালী ও ভূতমারা, মাছখালী এলাকার ছয়টি; আমতলী উপজেলার মহিষডাঙ্গা, তালতলা ও কুতুবপুর এলাকার তিনটি ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, এসব ভাটায়ও অনেক শিশু কাজ করছে। সদরের নিশানবাড়িয়ার একটি ইটভাটায় কর্মরত শিশু শিল্পী (৯), অন্তরা (১০), সামাদের (১১) মতো অনেকে ইটভাটায় কাজ করে। শিল্পীর মা ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘অভাবের তাড়নায় ইটভাটার কাজ করি। বাচ্চা স্কুলে দিলি তো কাম করন যাবি না। এ জন্যি ওগোও কামে দিছি, দু পয়সা রোজগার করুক।’
কুমড়াখালী এলাকার এবিএম ব্রিকসে কাজ করে সাতক্ষীরার ৩৯ জন শ্রমিক। এর মধ্যে ৩০ জনের বয়সই ১০ থেকে ১৬ বছর। আলমগীর নামে ১২ বছর বয়সী এক শিশু জানায়, সে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। এরপর ইটভাটার কাজে চলে এসেছে। এখন মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে ইট শুকানোর কাজ করে। শিশুশ্রমিক শুভ্র (১২) ভাটায় ইট তৈরির কাজ করে। সে বলে, ‘ফাইভ পর্যন্ত পড়ছিলাম। ছয়জনের সংসার। বাবা সাগরে মাছ ধরি যে পয়সা আয় করে তা দিয়ে খাবা-দাবা চলে না। পড়তি তো ইচ্ছা করে কিন্তু কাম না করলি খাব কি?’
শ্রম আইন-২০০৬-এর ২৮৪ ধারা অনুযায়ী, ‘কোনো ব্যক্তি কোনো শিশু বা কিশোরকে চাকরিতে নিযুক্ত করলে অথবা আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করে কোনো শিশুকে চাকরি করার অনুমতি দিলে, তিনি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।’ সনি ব্রিকসের মালিক জাফর হোসেন বলেন, ‘সাতক্ষীরার শ্রমিকেরা এই কাজে পারদর্শী হওয়ায় এদের দিয়ে কাজ করানো ছাড়া আমাদের উপায় নেই।’ ঢাকা শিশু হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘ইটভাটায় দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে শিশুদের ত্বক ও নখ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রক্তস্বল্পতা, অ্যাজমা, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভাটায় শিশুশ্রমের বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ বলেন, ‘অল্প কিছু ভাটায় শিশুশ্রমিক থাকতে পারে তবে বেশির ভাগ ভাটায় নেই।’
জেলা প্রশাসক মীর জহুরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ এসব ভাটার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উনি খুন করে যাচ্ছেন, বিচার হবে -সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘উনি একের পর এক খুন করে যাচ্ছেন। একজন খুনির বিচার যেটা হওয়া উচিত, সেই বিচারই ওনার হবে। এতগুলো মানুষকে হত্যা করেছে। কোনো ক্ষমা নেই। যারাই হত্যার সঙ্গে যুক্ত তাদের বিচার হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। এখানে জঙ্গিবাদ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দেব না। এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ চায় না।’ মাগরিবের নামাজের পর অনির্ধারিত আলোচনার সূত্রপাত করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রওশন এরশাদ। তিনি আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা ও নৈরাজ্য দমনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার যে পদক্ষেপ নেবে, জাতীয় পার্টি তার সঙ্গে থাকবে।
বিরোধীদলীয় নেতার এ বক্তব্যের সঙ্গে সুর মেলান সরকারদলীয় ও অন্য কয়েকটি দলের সাংসদেরা। তাঁরা দেশব্যাপী নাশকতা ও নৈরাজ্যের জন্য খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সাংসদেরা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে চান।
রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু আঁতেল শ্রেণি আছে, তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাকে মেলায়। আমাকে একজন খুনির সঙ্গে মেলাবেন না। আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য। তাঁর আন্দোলন ব্যক্তিগত স্বার্থে। ওনার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা, ছেলেকে মামলা থেকে বাঁচানো, নিজেকে এতিমের টাকা মারার মামলা থেকে রক্ষা করা।’
প্রধানমন্ত্রী নাশকতাকারীদের ধরিয়ে দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি করে পুলিশ-র্যাবকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বলেছেন যে নাশকতা নাকি সরকার করছে। অথচ যারা ধরা পড়ছে তারা বলেছে, বিএনপি নেতারা টাকা দিয়েছে আগুন দেওয়ার জন্য। বিএনপির চেয়ারপারসন মিথ্যাচার করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুন করে কোনো কিছু অর্জন করা যাবে না। সময় হলে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন।’ খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অফিসে থাকার জন্যই তিনি আগেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। নিজের মৃত স্বামীর জন্মদিনেও কবরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাননি। বিএনপির নেতারা খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা চেয়েছিলেন। এ জন্য কিছু ব্যবস্থাও নিতে হয়েছে।
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে রওশন এরশাদ বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, দাবি আদায়ের অন্যতম মাধ্যম হরতাল-অবরোধ। কিন্তু বিএনপির হরতাল-অবরোধ কেবল জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, অবরোধের নামে অরাজকতা শুরু করেছে। তিনি বিএনপির হরতাল-অবরোধকে মানুষ মারা, অর্থনীতির ধ্বংসের হাতিয়ার, রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এই হরতালে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে আছে। এমনকি বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা পর্যন্ত এবার ভালোভাবে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালন করতে পারেননি।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়ার আন্দোলন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এ আন্দোলন এমন সময়, যখন বিশ্ব মনে করে বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে।
আবদুল মতিন খসরু বলেন, বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিতে পেট্রলবোমা মেরে ৩০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ জন্য ৩০টি হত্যা মামলা করতে হবে। প্রতিটি মামলার ১ নম্বর আসামি হবেন খালেদা জিয়া।
সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম জাতীয় পার্টির হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লাশ বলে বাক্সে করে কী এনে কবর দিয়েছিলেন। তা আপনাকে বলতে হবে।’ তিনি বিএনপি-জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে এদের জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী, ফজলে হোসেন বাদশা, নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি আলোচনায় অংশ নেন।
অনির্ধারিত আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর সংসদের অধিবেশন আজ বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

পোশাক খাতে নজিরবিহীন বিপর্যয়- অর্ডার কমছে, নিরাপত্তায়ও অর্ধেক পণ্য যাচ্ছে না by এমএম মাসুদ

টানা অবরোধে ক্রেতারা বাংলাদেশে আসতে না পারায় অর্ডার সঙ্কটে পড়তে যাচ্ছে পোশাক শিল্প। ভেঙে পড়েছে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা। সরকারি নিরাপত্তায় কাভার্ড ভ্যান চললেও এ খাতে পণ্য পরিবহনের অর্ধেকও হচ্ছে না। এমন অবস্থা চললে অর্ডারের সঙ্গে কারখানা বন্ধ হওয়া ও বহু শ্রমিকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা। এ ভাবে চলতে থাকলে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে অর্থনীতিতে আশি ভাগ অবদান রাখা পুরো পোশাক খাত অর্ডার সঙ্কটে পড়বে। এর কারণ বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় কোন ক্রেতাই দেশে আসতে চাচ্ছে না। তারা অনলাইনে কোন পণ্য দেখেও অর্ডার দিচ্ছে না। তারা চান বাস্তবে দেখেশুনে অর্ডার দিতে। এছাড়া কমে যাচ্ছে শ্রমিকদের ওভারটাইমের পরিমাণ, যা দিয়ে তারা বাড়তি উপার্জন করতে পারতো। অন্যদিকে স্বাভাবিক অবস্থায় একদিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম পোশাক পণ্য আনা-নেয়া করে ৫০০ থেকে ৬০০ কাভার্ড ভ্যান। সেটা এখন ৬০ থেকে ৭০-এ দাঁড়িয়েছে। বিজিএমইএ ও পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বিজিএমইএ’র সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ম্যাগপাই ও কিউ পয়েন্ট গ্রুপসহ কয়েকটি কারখানার ক্ষতির হিসাব বিজিএমইএ’তে জমা দিয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে, ম্যাগপাই গ্রুপ ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য সময়মতো পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই পণ্য এখন স্টক লট হওয়ার অপেক্ষায়। অন্যদিকে একই প্রতিষ্ঠানের ১৬ লাখ ডলারের পণ্য পাঠাতে দেরি হয়েছে। ফলে এ জন্য ক্রেতাকে ডিসকাউন্ট দিতে হবে। বিজিএমইএ সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ৪৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে শুধু শিপমেন্ট বাতিল হওয়ার কারণে। কিউ পয়েন্ট গ্রুপের কর্ণধার দারাজ সোহেল মানবজমিনকে জানান, তুরস্কের ক্রেতা তেমা কোম্পানির কর্মকর্তার বাংলাদেশে এ সপ্তাহে আসার কথা ছিল। কিন্তু এ অবস্থায় তারা প্রোগ্রাম বাতিল করেছেন। ওয়েবসাইটে দেখে অর্ডার দিতে অনুরোধ করা হলে তারা বাস্তবে না দেখে অর্ডার দিতে চাইছেন না বলে জানান তিনি। তেমা অনেক বড় ক্রেতা বলে জানান তিনি। বিজিএমইএ সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, অবরোধের ক্ষতি উদ্যোক্তারা এ পর্যন্ত টেনে নিচ্ছেন। কিন্তু এ সমস্যার আশু সমাধান না হলে তা উদ্যোক্তাদের জন্য ভয়ানক বিপদের কারণ হবে। কেননা, এখনই উৎপাদন কমেছে ২৫%। এর পাশাপাশি অর্ডারও কমেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী মাসে অর্ডার সঙ্কটে পড়বে দেশ। অন্যদিকে ঋণপত্র না থাকলে উৎপাদকরা ব্যাংকের কাছ থেকে শ্রমিকের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহের জন্য ঋণ পাবেন না। ফলে তখন বেতন দিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর ফলে আগামী মার্চ বা এপ্রিল থেকে শ্রম অসন্তোষেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান বিজিএমইএ’র এ নেতা।
বিজিএমইএ তথ্যে দেখা গেছে, গত ৫ই জানুয়ারির পর থেকে শনিবার পর্যন্ত ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে মোট ৩৪৮০টি কাভার্ড ভ্যান পোশাক পণ্য নিয়ে গেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে ২৮১০টি গাড়ি পণ্য নিয়ে ঢাকায় এসেছে। এর মধ্যে একদিনের হিসাবে শনিবার চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ৭০টি গাড়ি ঢাকা ছেড়ে যায়। অন্যদিকে একই পরিমাণ গাড়ি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। এছাড়া, গত দু’সপ্তাহে কোন কোন দিন ১০০/২০০ গাড়ি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা- যাওয়া করে। যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় একদিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম পোশাক পণ্য আনা-নেয়া করে ৫০০ থেকে ৬০০ কাভার্ড ভ্যান।
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিরোধী জোটের টানা অবরোধের কারণে পোশাক খাতের শ্রমিকরাও গভীর শঙ্কায় পড়েছে। তারা জানান, ক্রেতাদের অর্ডার হ্রাস পাওয়ায় কারখানা মালিকরা ওভারটাইম দিচ্ছে না। ফলে কষ্ট করে যে বাড়তি উপার্জন করা হতো তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
সাভার এলাকার শ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনেই কারখানায় পোশাকের উৎপাদন কমে গেছে। কাজের চাপও কমে গেছে। তবে আগামী মাসে এর চাপ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে বলে জানান সাইফুল।
গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, সে সময় কোন শ্রমিক ওভারটাইম করতে পারেনি। মালিকরা অর্ডার না পেলে কিভাবে কাজ দেবে। তাদের শুধু দোষ দিলেই তো হবে না। এবারও পোশাক কারখানার ভাগ্য সেদিকেই যাচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির আশু সমাধান চান তিনি।
মিরপুর শেওড়াপাড়ার শ্রমিক নেতা সেলিম রেজা জানান, কোন সমাধান না হলে আগামী ২০শে জানুয়ারি খালেদা জিয়ার বাড়ি অভিমুখে পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত নাসা গ্রুপের এক শ্রমিক জানান, কারখানার পোশাক শিপমেন্টের জন্য ৫ দিন হাতে রেখে কাজ করা হচ্ছে। প্রথম দিন না হলে দ্বিতীয় দিন, তা না হলে তৃতীয় দিন। এভাবে পঞ্চম দিনে শিপমেন্ট নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ গ্রুপের এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা তৈরি হয়নি। তবে আগামী মাসে একটা বড় ধকল আসতে পারে বলে জানান তিনি। এ অঞ্চলের আরেক কারখানার মহিলা শ্রমিক অপারেটর বলেন, ‘আগে ওভারটাইম করে মূল বেতনের দ্বিগুণ টাকা কামাইতে পারতাম। কিন্তু এখন আসল কাজ করাই দুষ্কর। ওভারটাইমের তো প্রশ্নই আসে না।’ তার বক্তব্য, ‘এভাবে চলতে থাকলে বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খরচ কিভাবে জোগাবো চিন্তা করে দিশা পাচ্ছি না।’
এদিকে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিতে শুরু করেছে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ লক্ষ্যে সংগঠনটি সব সদস্য কারখানার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। অবরোধের কারণে অর্ডার বাতিল, সময়মতো না পাঠানোর কারণে ক্রেতাকে দেয়া ডিসকাউন্ট, বন্দরে পণ্য পাঠাতে গিয়ে বাড়তি পরিবহন ব্যয় বা ক্ষতি, বিমানে পাঠানোর ক্ষতিসহ অন্যান্য ক্ষতির হিসাব পাঠাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির হিসাবও পাঠাতে বলা হয়েছে। দুই দিন আগে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ চিঠি পাঠিয়েছে। বিজিএমইএ সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে।

১৫ দিনে ৭,০১৫ গ্রেপ্তার, নিহত ২২ by দীন ইসলাম

অবরোধের ১৫ দিনে সাত হাজার ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জে সবচেয়ে বেশি এক হাজার পাঁচ শ’ ৯৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে রাজশাহী রেঞ্জের অবস্থান। এ রেঞ্জে এক হাজার ১২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বরিশাল রেঞ্জে সবচেয়ে কম ১২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১১ জন এবং অন্যান্য ঘটনায় আরও ১১ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও র‌্যাবকে সহায়তার জন্য ১২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গ্রেপ্তার ও নিহতের সংখ্যা, বিজিবি মোতায়েন এবং পেট্রলবোমা ও ককটেল নিক্ষেপের এসব চিত্র আলোচনার জন্য উঠবে। সারা দেশে গত ১৬ দিন ধরে চলা অবরোধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এ জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী ৫ই জানুয়ারি থেকে ১৯শে জানুয়ারি পর্যন্ত পেট্রলবোমায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ২৩টি, ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ৮৪টি, অগ্নিদগ্ধে আহত হয়েছেন ৩৮ জন এবং অন্যান্যভাবে আহত হয়েছেন ১৯২ জন। সব মিলিয়ে আহত হয়েছেন ২৩০ জন। ছয় মেট্রোপলিটন পুলিশ ও আট রেঞ্জের গ্রেপ্তারের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫ই জানুয়ারি সবচেয়ে বেশি ৯২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ৬ই জানুয়ারি ৩২৫ জন, ৭ই জানুয়ারি ২৯৭ জন, ৮ই জানুয়ারি ৩০৩ জন, ৯ই জানুয়ারি ৩৪৩ জন, ১০ই জানুয়ারি ৭০৪ জন, ১১ই জানুয়ারি ৫৬৬ জন, ১২ই জানুয়ারি ৫৩৬ জন, ১৩ই জানুয়ারি ৫৩৩ জন, ১৪ই জানুয়ারি ৫৫৬ জন, ১৫ই জানুয়ারি ৪৫৯ জন, ১৬ই জানুয়ারি ৩৭৯ জন, ১৭ই জানুয়ারি ৩২৫ জন, ১৮ই জানুয়ারি ৩৭৬ জন এবং ১৯শে জানুয়ারি ৩৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ৫২০ জন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ৩২৬ জন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৮১ জন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ৯৫ জন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ১১৯ জন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ১১৬ জন, ঢাকা রেঞ্জ ৯৪৬ জন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ১৫৯৩ জন, রাজশাহী রেঞ্জ ১১২৩ জন, রংপুর রেঞ্জ ৫৯২ জন, খুলনা রেঞ্জ ৭৫৩ জন, বরিশাল রেঞ্জ ১২২ জন, সিলেট রেঞ্জ ৫২৫ জন এবং রেলওয়ে রেঞ্জে চার জনসহ সব মিলিয়ে ৭০১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রী ও রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ই জানুয়ারি ভোর ছয়টা থেকে আট হাজার ৩২৮ জন আনসার ভিডিপি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দেশের দুই হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথে এক হাজার ৪১টি স্পর্শকাতর পয়েন্টে পাহারায় নিয়োজিত আছেন। রেলের অপারেশন শাখা সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ও পশ্চিম রেল অঞ্চলে ৩৩৪টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়মিত চলাচল করছে। এসব ট্রেন চলাচল করছে ৩০-৩৫ কিলোমিটার গতিতে। এর আগে এসব ট্রেনের স্বাভাবিক গতি ছিল ৭০-৮০ কিলোমিটার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যই জরুরি ভিত্তিতে ডাকা হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে মন্ত্রী ও কমিটির সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গতকাল তাদের কাছে কার্যপত্র পাঠানো হয়েছে। তাই অবরোধই আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার মূল আলোচ্য বিষয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।