Thursday, June 16, 2011

ভারতে জাদুঘর থেকে খোয়া গেছে মহাত্মা গান্ধীর চশমা

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীর গোল ফ্রেমের একটি চশমা পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি জাদুঘর থেকে খোয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে সেবাগ্রাম আশ্রম থেকে গান্ধীর ওই চশমা খোয়া গেছে। আশ্রমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় খোয়া যাওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
আশ্রমে একটি তালাবদ্ধ প্রদর্শন-আলমারিতে গান্ধীর ব্যবহূত কলমদানি ও বাথরুমের ব্রাশের সঙ্গে চশমাটিও রাখা ছিল।
আশ্রমের ব্যবস্থাপক আকাশ লোখান্দে পিটিআইকে জানান, চশমাটি কখন খোয়া গেছে, তা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

তিউনিসিয়ায় ২০ জুন বেন আলীর বিচার শুরু

সৌদি আরবে নির্বাসিত তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর বিচার তাঁর অনুপস্থিতিতেই শুরু হচ্ছে। গত সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী বেজি কাইদ এসেবসি সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরাকে জানান, ২০ জুন থেকে এই বিচার শুরু হবে। বেন আলীকে দেশে প্রত্যর্পণে সৌদি আরবের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও সাড়া মেলেনি।
আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী বেজি কাইদ বলেন, প্রথমবারের মতো আমি ঘোষণা করছি, আগামী ২০ জুন থেকে এই বিচার শুরু হবে। বেন আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা থেকে শুরু করে মাদক পাচার পর্যন্ত ৯০টির বেশি অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী লায়লার বিরুদ্ধেও রয়েছে বেশ কয়েকটি অভিযোগ।

সবচেয়ে বেশি বেকার গাজায়

হামাসনিয়ন্ত্রিত গাজায় কর্মক্ষম প্রায় অর্ধেক মানুষই বেকার। বিশ্বে বেকারত্বের হার সেখানেই সবচেয়ে বেশি। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
গাজায় ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধের পঞ্চম বছরে গত বছরের শেষ ছয় মাসে বেকারত্বের এ হার ছিল ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৯ সালে গাজায় একই সময় বেকারত্বের হার ছিল ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমানে গাজার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই শরণার্থী।
ইউএনআরডব্লিউএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রকৃত মজুরি এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে গেছে। গাজার সব ধরনের পণ্য রপ্তানির ওপর অবরোধ থাকায় বেসরকারি বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২০০৬ সালে ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে অপহরণ করার পর গাজার ওপর অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। এর এক বছর পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামাস গাজা থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফাতাহকে হটিয়ে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ইসরায়েল গাজার ওপর অবরোধ আরও জোরদার করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার বেসরকারি উদ্যোগ যখন প্রবল প্রতিবন্ধতার সম্মুখীন, তখন হামাসনিয়ন্ত্রিত সরকারি খাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে। এ সময় সরকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে।
ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র ক্রিস গানেস বলেন, ২০০৭ সাল থেকে হামাস প্রশাসন সরকারি কর্মসংস্থান এক-পঞ্চমাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, হামাস প্রশাসনকে দুর্বল করাটাই যদি অবরোধের লক্ষ্য হয়ে থাকে, তবে সে লক্ষ্য যে ব্যর্থ হয়েছে, তা কর্মসংস্থানের হারই বলে দিচ্ছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, অস্ত্রের চোরাচালান বন্ধসহ হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই গাজায় অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ গাজার মানুষের ওপর শাস্তি প্রয়োগেরই নামান্তর।
গত বছর গাজা অভিমুখী একটি ত্রাণবাহী জাহাজের বহরে অভিযান চালায় ইসরায়েল। এ সময় তুরস্কের নয়জন কর্মীকে হত্যা করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজার ওপর অবরোধ কিছুটা শিথিল করে ইসরায়েল।
চলতি বছর গণঅভ্যুত্থানে মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি গাজার সঙ্গে থাকা সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিল করে। মিসর তার রাফা সীমান্ত খুলে দেয়। এতে গাজার অধিবাসীরা মিসরে যাতায়াত করতে পারছে। তবে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ওপর অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগাল পালমোর বলেন, ‘আমাদের অবস্থান গাজার অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা হামাসের নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে নয়। বরং আমরা চাই, হামাস আমাদের স্বীকৃতি দিক।’ তবে ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হামাস ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

কৃষকদের জমি ফেরত দিতে বিল পাস

সিঙ্গুরের বিতর্কিত প্রায় এক হাজার একর জমির লিজ চুক্তি বাতিল করে গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিল পাস হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলে অসংগতির অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করেন।
আজ বুধবার বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই বিলের মাধ্যমে সরকার ওই ৯৯৭ দশমিক ১৭ একর জমি নিজের হেফাজতে নিয়েছে। বিলে এই জমি থেকে অনিচ্ছুক চাষিদের জমি ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
‘সিঙ্গুরের জমি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন বিল’ নামের বিলটি বিধানসভায় পেশ করেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে ভূমি সংস্কার দপ্তরের পরিবর্তে কেন শিল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে বিলটি পেশ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। বিরোধী বাম দলগুলো এই বিলের বেশ কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করে। কিন্তু এ ব্যাপারে সদুত্তর না পেয়ে তারা ওয়াকআউট করে।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদের একটি ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে গুলি করে ৪২ জনকে হত্যার দায়ে এক পাকিস্তানি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলাকালে গত ১০ বছরের মধ্যে এটা ছিল অন্যতম ভয়াবহ হামলার ঘটনা।
আদালতের প্রধান প্রশাসক আবদুল মালিক কামাবি বলেন, আদালত জার আজম নামের ওই ব্যক্তিকে তাঁর আফগান সহযোগী মাতিউল্লাহসহ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এখন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এ রায় অনুমোদন করবেন। তবে কারজাই এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্য আজমকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত।
হামলার শিকার ওই ব্যাংক থেকে উদ্ধার করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের পোশাক পরে আজম ব্যাংকে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান।
আজম তাঁর অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেননি; বরং বিবিসির সঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সুযোগ পেলে অন্যদেরও হত্যা করতেন তিনি।
একজন কর্মকর্তা জানান, আজমকে আফগানিস্তানে আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে মাতিউল্লাহকেও সমান শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রামদেবের

সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন ভারতের যোগগুরু রামদেব। গতকাল মঙ্গলবার দেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর দেরাদুনের একটি হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি এ ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন। রামদেব জোর দিয়ে বলেন, তাঁর অনশন জাতিকে সজাগ করেছে এবং দেশের মানুষ এখন জেগে উঠেছে।
দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কালো টাকার মালিকদের কঠোর শাস্তির দাবিতে ৪ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন রামদেব। আট দিন পর গত রোববার তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। অনশনরত অবস্থায় স্বাস্থ্যের অবনতি হলে গত শুক্রবার তাঁকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তাঁর অভিযোগ, বিদেশে কালো টাকার মালিকদের তহবিল বিভিন্ন অবৈধ লেনদেনে ব্যবহূত হয়। তিনি ওই তহবিল দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের রামদেব বলেন, ‘কালো টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সারা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাব।’
ভারতে রামদেবের বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। তাঁর সাড়া জাগানো আন্দোলন সরকারের ওপর চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি দেশে একের পর এক কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস হওয়ায় এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে ভারত সরকার।
এর আগে ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী আন্না হাজারে দুর্নীতিবিরোধী একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরির দাবিতে গত এপ্রিলে নয়াদিল্লিতে ৯৮ ঘণ্টা অনশন করেন।

একের পর এক মার্কিন সরকার ভিয়েতনাম নিয়ে জনগণকে মিথ্যা বলে গেছে

সোমবার প্রকাশিত ভিয়েতনাম যুদ্ধবিষয়ক গোপনীয় সরকারি নথি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘ সময় ধরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ব্যাপারে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল। জাতীয় আর্কাইভ (মহাফেজখানা) আনুষ্ঠানিকভাবে সাত হাজার পৃষ্ঠার ওই গোপন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটির অংশবিশেষ ৪০ বছর আগে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সদ্য প্রকাশিত ৪৭ খণ্ডে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি অনলাইনে পাওয়া যাবে।
১৯৬৭ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের গঠিত টাস্কফোর্স ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিষয়ে ওই প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিপক্ষে ছিল।
১৯৭১ সালে প্রতিবেদনটির কিছু অংশ নিউইয়র্ক টাইমস এর কাছে পৌঁছে দেন এক মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক। সেখানে দেখা যায়, জনসন প্রশাসন গোপনে যুদ্ধ তীব্রতর করেছে এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে কংগ্রেসের কাছে মিথ্যা বলেছে। একাধিক সরকার এ মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবেদনটির প্রকাশ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় আদালত একটি যুগান্তকারী রায় দেন। ওই রায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে গণমাধ্যমকে আরও ক্ষমতা দেন।
প্রেসিডেন্ট নিক্সন শেষ পর্যন্ত ‘পেন্টাগন পেপার্স’ নামে পরিচিত ওই প্রতিবেদনের প্রকাশ রুখতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে এর বেশির ভাগ ফাঁস হয়ে গেলেও তা এতদিন গোপনীয় বলে বিবেচিত হতো।
‘পেন্টাগন পেপার্স’ ভিয়েতনামে দৃশ্যত পদে পদে মার্কিননীতির ব্যর্থতা তুলে ধরেছিল। এর একটি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামের পল্লি অঞ্চলের মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক হ্যামলেট প্রোগ্রাম’ নামে এক কর্মসূচি। এর আওতায় সামরিক অভিযানের পাশাপাশি নির্মাণ প্রকল্প, অর্থনৈতিক সহায়তা ও অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। কারণ গ্রামের কৃষকেরা যে তাঁদের জীবনযাত্রার বদল মেনে নেবেন না, তা তারা বিবেচনায় নেয়নি।
রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের উত্তুঙ্গ সময়ে ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলে। যুদ্ধটি হয় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন-সমর্থিত ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট-উত্তর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপুষ্ট দক্ষিণের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধের কৌশল হিসেবে এ যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
১৯৭১ সালে প্রতিবেদনটির অংশবিশেষ নিউইয়র্ক টাইমসসহ অন্য কয়েকটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন এর অন্যতম প্রণেতা সামরিক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল এলসবার্গ। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান গোমর ফাঁকের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।
এলসবার্গ সোমবার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রকাশিত সম্পূর্ণ প্রতিবেদন থেকে নতুন বড় ধরনের কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের তাৎপর্য হলো, পুরো প্রতিবেদনটি একসঙ্গে পাওয়া যাবে। আর প্রতিবেদনটি অনলাইনে রাখায় নতুন প্রজন্ম বিষয়টি সম্পর্কে সহজে জানতে পারবে।

ফিলিপাইনে স্যুপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ ৪১

ফিলিপাইনের তুগুয়েগারাও শহরে স্যুপ খেয়ে দুটি শিশু মারা গেছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৪১ জনকে। নগর পুলিশ গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে। স্যুপে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক মিশে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শহর পুলিশের প্রধান সুপারিন্টেন্ডেন্ট পেদরো মার্টিরেজ জানান, ফিলিপাইনের তুগুয়েগারাও শহরে একজন শিক্ষিকা তাঁর শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের জন্য স্যুপ বানান। কিন্তু তা খাওয়ার পরই বেশ কয়েকজন ঝিমুনি অনুভব করে ও বমি করতে থাকে। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে পাঁচ বছরের দুটি মেয়ে মারা যায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, মার্বেল পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা অক্সালিক এসিড হয়তো দুর্ঘটনাক্রমে ওই স্যুপে মিশে গিয়েছিল। স্যুপ প্রস্তুতকারী শিক্ষিকা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেননি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরও ওই শিক্ষিকাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রধান সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানান।

এক দিন চাঙাভাবের পর ফের দরপতন শেয়ারবাজারে

দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল মঙ্গলবার আবার দরপতন ঘটেছে। আগের দিন সোমবার হরতালের মধ্যেও দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচকের উল্লম্ফন ঘটে। কিন্তু গতকাল আবার তা কমে গেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে দুই দিনই শেয়ারবাজারে দরপতনের ঘটনা ঘটল।
দুই দিনের হরতালের পর গতকাল ছিল স্বাভাবিক কার্যদিবস। এদিন আগের দুই দিনের তুলনায় ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিও ছিল কিছুটা বেশি।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৮৭ পয়েন্ট কমেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ২২০ পয়েন্ট।
ঢাকার বাজারে গতকাল সূচকের ঊর্ধ্বগতি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছিল। লেনদেন শুরুর প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এর পরই শুরু হয় পতন। বেশ কয়েক দফা সূচকের উত্থান-পতন ঘটলেও দিন শেষে তা কমে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮১৭ পয়েন্টে।
দুই বাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা-সংকটের কারণে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত। তাঁদের মতে, বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত বাজার স্থিতিশীল হবে না।
যোগাযোগ করা হলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে আস্থার সংকট বিরাজ করছে। এর ফলে বড় বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। তাই বাজারে অর্থপ্রবাহ কমে গেছে। এ ছাড়া মুদ্রাবাজারে সুদের হার বেশি হওয়ায় অনেকে সেদিকে ঝুঁকছেন।
আবু আহমেদের মতে, ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজার বিষয়ে কিছু নীতি-সহায়তা ঘোষণা করা দরকার ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি। তাই বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বেশ কয়েক দিন ধরে বাজারে গুজব রয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তাদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণসংক্রান্ত একটি নীতিমালা করা হচ্ছে। এ খবরে যেসব কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের শেয়ারের অংশ কম, সেসব কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকছেন।
ডিএসইতে গতকাল ২৫১টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২১৯টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ২৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল আটটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। তবে দিন শেষে স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে ৬০৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৯ কোটি টাকা বেশি।
খাতওয়ারি লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার বাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিমেন্ট ও সিরামিক খাতের সব কটি কোম্পানিরই দাম কমেছে। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের ৩০টির মধ্যে ২৪টির, প্রকৌশল খাতের ২৩টির মধ্যে ২০টির, খাদ্য খাতের ১৫টির মধ্যে ১২টির, জ্বালানি খাতের ১২টির মধ্যে ১১টির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ৪২টির, ওষুধ খাতের ২০টির মধ্যে ১৮টির, বস্ত্র খাতের ২৫টির মধ্যে ২১টির ও টেলিযোগাযোগ খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম কমেছে।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ১৫৫টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে ২৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ছয়টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। চট্টগ্রামের বাজারে দিন শেষে ৮৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ছয় কোটি টাকা কম।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ও শমরিতা হাসপাতালের মধ্যে চুক্তি

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড মেডিকেল সার্ভিসের জন্য শমরিতা হাসপাতাল লিমিটেডের সঙ্গে করপোরেট হেলথ কেয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটির পক্ষে বিপণন, উন্নয়ন ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান আজম খান ও শমরিতা হাসপাতালের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম হারুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আজ সালভো কেমিক্যালের লেনদেন বন্ধ থাকবে

বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) রেকর্ড ডেট থাকায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের কোম্পানি সালভো কেমিক্যালের শেয়ার লেনদেন আজ বুধবার বন্ধ থাকবে।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, সালভো কেমিক্যালের পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া অর্থবছরে শেয়ার হোল্ডারদের জন্য পাঁচ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করে। আগামী ৪ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির এজিএম গাজীপুরের শ্রীপুরে অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে রেকর্ড ডেটের পর আজ থেকে জিকিউ বল পেনের শেয়ার লেনদেন আবার শুরু হবে। গতকাল মঙ্গলবার ছিল প্রতিষ্ঠানটির এজিএমের রেকর্ড ডেট।

বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ২০ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৩ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টায় ঢাকার রূপসী বাংলা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৯ জুন। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৩.৮৯ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য ২৫.৫৫ টাকা এবং নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৮.৪৩ টাকা।

এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ১-এর প্রসপেক্টাস অনুমোদন

এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ১-এর প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ডের আকার পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি অনুমোদন করেছে কমিশন। আজ বুধবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ১০ বছর মেয়াদি এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ১-এর আকার ৩০০ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রি আইপিও প্লেসমেন্ট ১০০ কোটি টাকা, আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে ১৫০ কোটি টাকা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য থাকবে ৫০ কোটি টাকা। এর প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।
ফান্ডটির উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে এবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, গ্রিন-ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানি, আইডিএলসি ফিন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স ও ট্রাস্ট ব্যাংক।
ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স এবং কাস্টডিয়ান স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। এ ছাড়া সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে এলআর গ্লোবাল লিমিটেড।
সাইফুর রহমান আরও জানান, এবি ব্যাংক প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটির আকার ৩৫০ কোটি টাকার স্থলে ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে কমিশন।
এ ক্ষেত্রে প্রি আইপিও প্লেসমেন্ট থাকবে ৪৫ কোটি টাকা, আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে সংগ্রহ করা হবে ৭৫ কোটি টাকা এবং ফান্ডটির উদ্যোক্তাদের জন্য থাকবে ৩০ কোটি টাকা।

মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রধানদের নিয়োগ ও বরখাস্তে এসইসির অনুমোদন লাগবে

মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ, বরখাস্ত ও ক্ষমতার পরিধির ব্যাপারে এখন থেকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমোদন লাগবে। আজ বুধবার এসইসির নিয়মিত সভায় এ-সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) মার্চেন্ট ব্যাংক ও পোর্ট ফোলিও ম্যানেজার বিধিমালা ১৯৯৬-এর সংশোধনী সামান্য কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে আজ চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ, বরখাস্ত ও ক্ষমতার পরিধির ব্যাপারে এখন থেকে এসইসির পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
সাইফুর রহমান আরও বলেন, এর আগে কমিশন এ-সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনীর সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিকভাবে খসড়া তৈরির পর জনমত জরিপের জন্য তা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। জনমত জরিপের বিষয়টি কমিশন সভায় বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনীয় বিষয় গ্রহণ করা হয়। এরপর কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে আজ চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়।

আপস করলেন আফ্রিদি!

লড়াইটা দারুণ জমে উঠেছিল। কিন্তু সাদা পতাকা নিয়ে এগিয়ে এলেন শহীদ আফ্রিদি। ইসলামাবাদে কাল পিসিবি-প্রধান ইজাজ বাটের সঙ্গে দেখা করেছেন সাবেক অধিনায়ক। বৈঠকে নাকি সমঝোতাও হয়েছে দুপক্ষের। আফ্রিদিকে অনাপত্তিপত্র ফিরিয়ে দেওয়া হবে, বিনিময়ে তিনি সিন্ধ হাইকোর্টে করা পিটিশন তুলে নেবেন। এর ফলে বোর্ডের গঠিত শৃঙ্খলাবিষয়ক কমিটির কার্যক্রমে আর কোনো বাধা থাকবে না। কমিটির রায়ও মাথা পেতে নিতে হবে আফ্রিদিকে। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে বৈঠকটি হয়েছে বলে গুঞ্জন। তা আফ্রিদি হঠাৎ নমনীয় কেন? কারণ তো অনুমেয়ই, হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে চুক্তি যায়-যায়। এরপর আবার আসছে শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ।

সরে দাঁড়ালেন রশিদ লতিফ

আফগানিস্তানের কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রশিদ লতিফ। কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, লতিফের চুক্তি নবায়ন করবে না আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। বোর্ডকে সেই সুযোগ না দিয়ে সরে দাঁড়ালেন নিজেই। গত জুলাইতে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক।
লতিফের কোচিংয়েই গত এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে রূপা জিতেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু গত মাসের শেষ দিকে পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজের পর আফগান ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোচের দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়ে যায়। সিরিজের তিন ম্যাচেই হারার পর লতিফ প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেন, দলের কয়েকজন ক্রিকেটার ইচ্ছা করেই সেরাটা দেননি। ঘনিষ্ঠজনদের নাকি লতিফ বলেছিলেন, আগের কোচ কবির খানকে ফিরিয়ে আনতেই ইচ্ছা করে বাজে খেলেছেন কয়েকজন আফগান ক্রিকেটার।
লতিফের দাবি, পদত্যাগ করেছেন তিনি ওই সিরিজের পরপরই, তবে পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে সোমবার। ক্রিকেটারদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের খবর অবশ্য স্বীকার করেননি। পদত্যাগের কারণ বলছেন পাকিস্তান সিরিজের ব্যর্থতাকেই, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হারের দায় আমি নিজের কাঁধে নিচ্ছি এবং এ জন্যই পদত্যাগ করছি। আমি উপলব্ধি করেছি, আমার পূর্ণ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আফগানিস্তান উন্নতিটা করতে পারছে না। কাজেই আমার দায়িত্বে থেকে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।’
আগামী আগস্টে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আফগানিস্তানের আর কোনো ম্যাচ নেই। শোনা যাচ্ছে, লতিফের পূর্বসূরি কবির খানকেই আবার দেওয়া হতে পারে দায়িত্ব। মজার ব্যাপার হলো, এই কবির খানকে সরানো হয়েছিল বোর্ডের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণেই!

সিটির লোভকে রোনালদোর ‘না’

গুঞ্জনের চারাগাছটা ভালোই বেড়ে উঠছিল। তিনি নিজেও সার-পানি দিয়েছেন খানিকটা। এবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই ছেঁটে ফেললেন সেই গাছ। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘আমি সিটিতে যাচ্ছি না। আমি কথা দিচ্ছি, আমি যাব না। টাকাই জীবনের সবকিছু নয়।’
টাকার প্রসঙ্গটা আসার কারণ আছে। খবর বেরিয়েছিল, রোনালদোর জন্য নাকি ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতেও রাজি ম্যানচেস্টার সিটির মালিক আরব ধনকুবের। ট্রান্সফার ফির বর্তমান রেকর্ডটিও রোনালদোর। ৯২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে ম্যানইউ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ কিনেছিল তাঁকে। সেই রেকর্ডই গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল সিটি। রোনালদোকে সপ্তাহে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে খবর। সানডে মিরর-এ ছাপা হয়েছে, রোনালদো নাকি বন্ধুদের বলেছেন, সপ্তাহে চার লাখ পাউন্ড করে দিলে সিটিতে তিনি যেতেও পারেন।
স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের মন্তব্য গুঞ্জনের ডালপালা ছড়ায়। রোনালদো এবার নিজে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন এভাবে, ‘আমি এখন যা পাই, হয়তো তার দ্বিগুণ পেতাম। টাকাই যদি সব হতো, আমি এত দিনে চলেই যেতাম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো (ক্লাবের লোকজনের) আচরণ। এখানে আমাকে খুবই ভালোভাবে রাখা হয়েছে। আমি মাদ্রিদে খুব সুখে আছি।’
এতই সুখে আছেন যে, ‘আমি ১০ বছরের জন্য মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই, ক্যারিয়ারটা শেষ করতে চাই এখানেই’—ঘোষণা পর্যন্ত করে দিলেন। রিয়ালে তাঁর দুই মৌসুমে একটিই শিরোপা জিতেছেন—স্প্যানিশ কাপ। তবে রোনালদোর বিশ্বাস, সাফল্য ধরা দিতে আর বেশি দেরি নেই, ‘গতবার আমাদের আরও বেশি কিছু জেতার সম্ভাবনা ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার জন্য আমি রোমাঞ্চিত অপেক্ষায় আছি। আর ভালো কোচ, খেলোয়াড় যদি থাকে, আজ হোক, কাল হোক সাফল্য ধরা দেবেই।’
রোনালদোকে এই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে হোসে মরিনহোর উপস্থিতি, ‘কীভাবে জেতাতে হয়, সেটি তিনি ভালো করেই জানেন। আমি নিশ্চিত, মাদ্রিদে তাঁর দ্বিতীয় মৌসুমে তিনি আরও ভালো করবেন। মরিনহোই সেরা। যেসব লিগে তিনি কাজ করেছেন, সেখানে তা প্রমাণও করে দিয়েছেন।’

কমিটির সামনে আসেনি রহমতগঞ্জ

কাল সন্ধ্যা ছয়টায় বাফুফের অফিসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাদের। কিন্তু রহমতগঞ্জের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা এলেন না। পাতানো খেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বাফুফের নেওয়া উদ্যোগ তাই শুরুতেই বাধাগ্রস্ত।
রহমতগঞ্জ লিগ কমিটিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, লিগে দুটি খেলা বাকি থাকায় এখন আসা সম্ভব নয়। লিগ শেষ হলে আসবে। কিন্তু রহমতগঞ্জের এই এড়ানোর কৌশলে ক্ষুব্ধ লিগ কমিটি কাল রাতেই কঠোর ভাষায় আরেকটি চিঠি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে কমিটির সামনে না এলে রহমতগঞ্জকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
গত শনিবার শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচ পাতানো ছিল বলে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে পরদিনের সব জাতীয় দৈনিকে। এই ম্যাচ খুলে দিয়েছে প্যান্ডোরার বাক্সও। সামনে আসছে এই লিগেরই আরও কয়েকটি প্রশ্নবিদ্ধ ম্যাচ।
পাতানো খেলা বন্ধ ও এর বিচারের দাবিতে এখন একজোট আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা ও ব্রাদার্স। এই চারটি ক্লাবের সমর্থকেরা পরশু বাফুফের সভাপতিকে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে পাতানো খেলার অভিযোগ ওঠা দলগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলন হোক না হোক, গত দুই দিন পাতানো খেলার অভিযোগ নিয়ে সরগরম ফুটবল ভবন। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে দলের নাম দেখা হবে না।’ সভাপতির সংকেত পেয়ে ফেডারেশনে এখন দফায় দফায় সভা হচ্ছে। কাল রহমতগঞ্জ বাফুফের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা নিজেরাই সভায় বসেছেন। বাংলাদেশ লিগ কমিটির সভাপতি সালাম মুর্শেদীর কক্ষে বড় পর্দায় জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচটি দেখেছেন কর্মকর্তারা। ম্যাচ দেখে কী মনে হলো?
কর্তারা ‘অফ দ্য রেকর্ড’ বললেন, ‘অন রেকর্ড’ কিছু বলতে রাজি হননি। লিগ কমিটির সভাপতি বললেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ এখন প্রকাশ করব না। সময় হলে সব জানতে পারবেন। তবে এবার আমরা বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নিয়েছি। পাতানো প্রমাণিত হলে যে দলই হোক, ছাড় নেই।’
রহমতগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান রাতে বলেছেন, ‘আমরা নানা সমস্যায় আজ কমিটির ডাকে সাড়া দিতে পারিনি। তবে যাওয়া লাগলে অবশ্যই যাব। আমরা এখন মিটিং করব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি মেনে নেব। তবে আমরা পাতানো খেলিনি।’
শুধু শেখ জামাল-রহমতগঞ্জ ম্যাচ নয়, বাফুফের সন্দেহের তালিকায় আছে আরও কয়েকটি ম্যাচ। সংশ্লিষ্ট দলগুলোকেও কমিটির সামনে ডাকা হবে পর্যায়ক্রমে। এবার আবাহনী-মোহামেডানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, যদিও অতীতে ছিল। তাই অতীতের পাতানো খেলারও বিচার হওয়া উচিত বলে দাবি করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেডারেশনের এক সহসভাপতি।
কাল রাতে বাফুফের ভবনেই মোহামেডান কর্মকর্তা মোস্তাকুর রহমান দাবি করলেন, ‘মোহামেডান অতীতে পাতানো ম্যাচ খেলেনি, ভবিষ্যতেও খেলবে না।’ মুক্তিযোদ্ধার ম্যানেজার আবদুস সাত্তারেরও একই দাবি, ‘মুক্তিযোদ্ধা কখনো পাতানো খেলেনি। আমরা এখন পাতানো খেলার অভিযোগের তদন্ত চাই। দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’

বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাই দেবে পাকিস্তান

নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার জন্য ফিফার কাছে অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইপর্বের ফিরতি লেগ ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানেই যেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর স্বাগতিক হিসেবে পাকিস্তানও সফরকারী বাংলাদেশকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেবে।
২০১৪ বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ বাংলাদেশের। প্রথমটি ২৯ জুন ঢাকায়, দ্বিতীয়টি ৩ জুলাই লাহোরে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কারণে বাংলাদেশ পাকিস্তানে যেতে রাজি ছিল না। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান টিমবাসে সন্ত্রাসী হামলার পর কোনো দল পাকিস্তানে যেতেও চায় না। বাংলাদেশও ম্যাচটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছিল। কিন্তু ফিফা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘ফিফা আমাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে। কাজেই ৩ জুলাই ম্যাচটি খেলতে আমাদের জাতীয় দল পাকিস্তানে যাচ্ছে।’
ফিফার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইয়ার খান লোধি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার, ‘বছরের শুরুতেই আমরা ফিলিস্তিন ও মালয়েশিয়াকে আতিথ্য দিয়েছি। দুটি দলই ফিরে গেছে খুশিমনে। কাজেই আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্তই ছিল। আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই ম্যাচটিও হবে। আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ফিফা জানে, ফিলিস্তিন ও মালয়েশিয়া দলের কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, বাংলাদেশও খুশিই হবে।

পুঁজিবাজারে দিনভর সূচকের ওঠানামা

দেশের পুঁজিবাজারে আজ বুধবার সূচকের ওঠানামা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে শেষ পর্যন্ত উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দাম কমায় কমেছে সাধারণ সূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনও।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় সূচক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ২৫ মিনিটে সূচক কমে ১২ পয়েন্ট। এরপর আবার সূচক বেড়ে যায়। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে সূচক ২৪ পয়েন্ট বাড়লেও ১১টা ৫০ মিনিটে তিন পয়েন্ট কমে। এভাবে সারা দিন বেশ কয়েকবার ওঠানামার পর দিন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪.৪৭ পয়েন্ট কমে ৫৮১২.৮২ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ডিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১১১টির, কমেছে ১৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৪৭৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৩২ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সিটিব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইউসিবিএল, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, এবি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ফু-ওয়াং ফুডস, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনবিএল ও আফতাব অটো।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৬৪.৭৭ পয়েন্ট কমে ১৬০৮৯.৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে হাত বদল হওয়া ১৮৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৩৭টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৬ কোটি টাকা কম।

ভারতে জাদুঘর থেকে খোয়া গেছে মহাত্মা গান্ধীর চশমা

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মহান নেতা মহাত্মা গান্ধীর গোল ফ্রেমের একটি চশমা পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি জাদুঘর থেকে খোয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
মহারাষ্ট্রের নাগপুর শহর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দূরে সেবাগ্রাম আশ্রম থেকে গান্ধীর ওই চশমা খোয়া গেছে। আশ্রমের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় খোয়া যাওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
আশ্রমে একটি তালাবদ্ধ প্রদর্শন-আলমারিতে গান্ধীর ব্যবহূত কলমদানি ও বাথরুমের ব্রাশের সঙ্গে চশমাটিও রাখা ছিল।
আশ্রমের ব্যবস্থাপক আকাশ লোখান্দে পিটিআইকে জানান, চশমাটি কখন খোয়া গেছে, তা পরিষ্কার নয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

তিউনিসিয়ায় ২০ জুন বেন আলীর বিচার শুরু

সৌদি আরবে নির্বাসিত তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর বিচার তাঁর অনুপস্থিতিতেই শুরু হচ্ছে। গত সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী বেজি কাইদ এসেবসি সংবাদভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরাকে জানান, ২০ জুন থেকে এই বিচার শুরু হবে। বেন আলীকে দেশে প্রত্যর্পণে সৌদি আরবের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও সাড়া মেলেনি।
আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী বেজি কাইদ বলেন, প্রথমবারের মতো আমি ঘোষণা করছি, আগামী ২০ জুন থেকে এই বিচার শুরু হবে। বেন আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা থেকে শুরু করে মাদক পাচার পর্যন্ত ৯০টির বেশি অভিযোগ রয়েছে। তাঁর স্ত্রী লায়লার বিরুদ্ধেও রয়েছে বেশ কয়েকটি অভিযোগ।

কৃষকদের জমি ফেরত দিতে বিল পাস

সিঙ্গুরের বিতর্কিত প্রায় এক হাজার একর জমির লিজ চুক্তি বাতিল করে গতকাল মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিল পাস হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা বিলে অসংগতির অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করেন।
আজ বুধবার বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই বিলের মাধ্যমে সরকার ওই ৯৯৭ দশমিক ১৭ একর জমি নিজের হেফাজতে নিয়েছে। বিলে এই জমি থেকে অনিচ্ছুক চাষিদের জমি ফেরত দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
‘সিঙ্গুরের জমি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন বিল’ নামের বিলটি বিধানসভায় পেশ করেন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে ভূমি সংস্কার দপ্তরের পরিবর্তে কেন শিল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে বিলটি পেশ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। বিরোধী বাম দলগুলো এই বিলের বেশ কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করে। কিন্তু এ ব্যাপারে সদুত্তর না পেয়ে তারা ওয়াকআউট করে।

সবচেয়ে বেশি বেকার গাজায়

হামাসনিয়ন্ত্রিত গাজায় কর্মক্ষম প্রায় অর্ধেক মানুষই বেকার। বিশ্বে বেকারত্বের হার সেখানেই সবচেয়ে বেশি। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
গাজায় ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধের পঞ্চম বছরে গত বছরের শেষ ছয় মাসে বেকারত্বের এ হার ছিল ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০০৯ সালে গাজায় একই সময় বেকারত্বের হার ছিল ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমানে গাজার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই শরণার্থী।
ইউএনআরডব্লিউএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রকৃত মজুরি এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে গেছে। গাজার সব ধরনের পণ্য রপ্তানির ওপর অবরোধ থাকায় বেসরকারি বাণিজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২০০৬ সালে ইসরায়েলি সেনা গিলাদ শালিতকে অপহরণ করার পর গাজার ওপর অবরোধ আরোপ করে ইসরায়েল। এর এক বছর পর বিদ্রোহী গোষ্ঠী হামাস গাজা থেকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফাতাহকে হটিয়ে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ইসরায়েল গাজার ওপর অবরোধ আরও জোরদার করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার বেসরকারি উদ্যোগ যখন প্রবল প্রতিবন্ধতার সম্মুখীন, তখন হামাসনিয়ন্ত্রিত সরকারি খাতে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়েছে। এ সময় সরকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে।
ইউএনআরডব্লিউএর মুখপাত্র ক্রিস গানেস বলেন, ২০০৭ সাল থেকে হামাস প্রশাসন সরকারি কর্মসংস্থান এক-পঞ্চমাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, হামাস প্রশাসনকে দুর্বল করাটাই যদি অবরোধের লক্ষ্য হয়ে থাকে, তবে সে লক্ষ্য যে ব্যর্থ হয়েছে, তা কর্মসংস্থানের হারই বলে দিচ্ছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, অস্ত্রের চোরাচালান বন্ধসহ হামাসের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই গাজায় অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জাতিসংঘের ভাষ্য, এ ধরনের পদক্ষেপ গাজার মানুষের ওপর শাস্তি প্রয়োগেরই নামান্তর।
গত বছর গাজা অভিমুখী একটি ত্রাণবাহী জাহাজের বহরে অভিযান চালায় ইসরায়েল। এ সময় তুরস্কের নয়জন কর্মীকে হত্যা করা হয়। এরপর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজার ওপর অবরোধ কিছুটা শিথিল করে ইসরায়েল।
চলতি বছর গণঅভ্যুত্থানে মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটি গাজার সঙ্গে থাকা সীমান্তে কড়াকড়ি শিথিল করে। মিসর তার রাফা সীমান্ত খুলে দেয়। এতে গাজার অধিবাসীরা মিসরে যাতায়াত করতে পারছে। তবে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ওপর অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগাল পালমোর বলেন, ‘আমাদের অবস্থান গাজার অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা হামাসের নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে নয়। বরং আমরা চাই, হামাস আমাদের স্বীকৃতি দিক।’ তবে ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হামাস ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদের একটি ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে গুলি করে ৪২ জনকে হত্যার দায়ে এক পাকিস্তানি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আফগানিস্তানে যুদ্ধ চলাকালে গত ১০ বছরের মধ্যে এটা ছিল অন্যতম ভয়াবহ হামলার ঘটনা।
আদালতের প্রধান প্রশাসক আবদুল মালিক কামাবি বলেন, আদালত জার আজম নামের ওই ব্যক্তিকে তাঁর আফগান সহযোগী মাতিউল্লাহসহ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এখন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এ রায় অনুমোদন করবেন। তবে কারজাই এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, এই ঘৃণ্য অপরাধের জন্য আজমকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত।
হামলার শিকার ওই ব্যাংক থেকে উদ্ধার করা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের পোশাক পরে আজম ব্যাংকে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটান।
আজম তাঁর অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেননি; বরং বিবিসির সঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সুযোগ পেলে অন্যদেরও হত্যা করতেন তিনি।
একজন কর্মকর্তা জানান, আজমকে আফগানিস্তানে আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে মাতিউল্লাহকেও সমান শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ফিলিপাইনে স্যুপ খেয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ ৪১

ফিলিপাইনের তুগুয়েগারাও শহরে স্যুপ খেয়ে দুটি শিশু মারা গেছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৪১ জনকে। নগর পুলিশ গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে। স্যুপে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক মিশে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শহর পুলিশের প্রধান সুপারিন্টেন্ডেন্ট পেদরো মার্টিরেজ জানান, ফিলিপাইনের তুগুয়েগারাও শহরে একজন শিক্ষিকা তাঁর শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের জন্য স্যুপ বানান। কিন্তু তা খাওয়ার পরই বেশ কয়েকজন ঝিমুনি অনুভব করে ও বমি করতে থাকে। দ্রুত তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে পাঁচ বছরের দুটি মেয়ে মারা যায়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, মার্বেল পরিষ্কারের কাজে ব্যবহার করা অক্সালিক এসিড হয়তো দুর্ঘটনাক্রমে ওই স্যুপে মিশে গিয়েছিল। স্যুপ প্রস্তুতকারী শিক্ষিকা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেননি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরও ওই শিক্ষিকাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে প্রধান সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানান।

লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার রামদেবের

সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন ভারতের যোগগুরু রামদেব। গতকাল মঙ্গলবার দেশের উত্তরাঞ্চলীয় শহর দেরাদুনের একটি হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি এ ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন। রামদেব জোর দিয়ে বলেন, তাঁর অনশন জাতিকে সজাগ করেছে এবং দেশের মানুষ এখন জেগে উঠেছে।
দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কালো টাকার মালিকদের কঠোর শাস্তির দাবিতে ৪ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন রামদেব। আট দিন পর গত রোববার তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। অনশনরত অবস্থায় স্বাস্থ্যের অবনতি হলে গত শুক্রবার তাঁকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তাঁর অভিযোগ, বিদেশে কালো টাকার মালিকদের তহবিল বিভিন্ন অবৈধ লেনদেনে ব্যবহূত হয়। তিনি ওই তহবিল দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের রামদেব বলেন, ‘কালো টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সারা দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাব।’
ভারতে রামদেবের বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। তাঁর সাড়া জাগানো আন্দোলন সরকারের ওপর চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি দেশে একের পর এক কেলেঙ্কারির খবর ফাঁস হওয়ায় এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে ভারত সরকার।
এর আগে ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী আন্না হাজারে দুর্নীতিবিরোধী একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরির দাবিতে গত এপ্রিলে নয়াদিল্লিতে ৯৮ ঘণ্টা অনশন করেন।

রিপাবলিকানদের বিতর্কে ওবামার সমালোচনা

২০১২ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাতজন প্রার্থী গত সোমবার রাতে বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। তবে এতে তাঁরা পরস্পরকে চ্যালেঞ্জ না করে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অর্থনৈতিক কৌশল, পররাষ্ট্রনীতি, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ের কঠোর সমালোচনা করেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ম্যানচেস্টারে সিএনএন টেলিভিশনের অত্যাধুনিক স্টুডিওতে এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কে প্রেসিডেন্ট ওবামার সমালোচনার ক্ষেত্রে মিট রোমনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। ম্যাসাচুসেটসের সাবেক এই গভর্নরই আগামী নির্বাচনে ওবামার বিরুদ্ধে লড়তে রিপাবলিকান পার্টির টিকিট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিতর্কে অংশ নিয়ে রোমনি বলেছেন, ‘এই মঞ্চে উপস্থিত যে কেউ প্রেসিডেন্ট ওবামার চেয়ে ভালো প্রেসিডেন্ট হবেন।’ তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। বাজেটে তিনি ভারসাম্য আনতে পারছেন না, পারছেন না বেকারত্ব দূর করতে। মার্কিন জনগণের নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এ কারণেই তিনি পুনর্নির্বাচিত হতে পারবেন না।’
মঞ্চে উপস্থিত একমাত্র নারী কংগ্রেসম্যান মিশেল বাসম্যান বলেছেন, ‘নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ওবামা ব্যর্থ হয়েছেন।’ মুক্তার হার ও কানের দুল পরে আসা টি-পার্টি আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় এ কণ্ঠস্বর কিছু সময়ের জন্য বাকি ছয়জনের নজর কাড়েন। তিনি জানান, তিনি প্রার্থিতার জন্য এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করেছেন।
ওবামার স্বাস্থ্যনীতির সমালোচনা করে রোমনি একে ‘ওবামাকেয়ার’ বলে আখ্যা দেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি ওই স্বাস্থ্যনীতি বাতিল করবেন বলে উল্লেখ করেন। ওবামার পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে রোমনি বলেন, ‘এই প্রথম আমরা এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেলাম, যাঁর কোনো পররাষ্ট্রনীতি নেই।’
মনোনয়নপ্রত্যাশী সাতজনই আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে মত দেন। তাঁরা বলেন, অন্য কোনো দেশ গঠনে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নয়।
টেক্সাস থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান রন পল বলেন, প্রেসিডেন্ট হলে তিনি জেনারেলদের আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিতে বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করতেন না। তিনি বলেন, ‘আমি কমান্ডার ইন চিফ হলে মার্কিন সেনাবাহিনীকে যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহার করে নিতাম।’
সাবেক সিনেটর রিক সানটোরাম, সাবেক পিৎজা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হার্মান কেইন, মিনেসোটার সাবেক গভর্নর টিম পলেনটি এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার নিউট গিনগ্রিস বিতর্কে অংশ নেন।
২০১২ সালের নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকান পার্টির প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জড়িতদের বিচার হবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে

পাকিস্তানের বন্দরনগর করাচিতে সরফরাজ শাহ নামের এক নিরস্ত্র কিশোরকে গুলি করে হত্যাকারী ছয়জন রেঞ্জারস সদস্যকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে (এটিএ) বিচার করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন গত সোমবার এ খবর জানিয়েছে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গতকাল মঙ্গলবার রেঞ্জারসের সিন্ধু অঞ্চলের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইজাজ চৌধুরীকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
গত বুধবার করাচির শহীদ বেনজির ভুট্টো পার্কে রেঞ্জারসের ছয় সদস্য সরফরাজ শাহকে (১৭) ঊরু ও পেটে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রেঞ্জারস সদস্যরা দাবি করেন, সরফরাজ শাহ একজন ভয়ংকর সন্ত্রাসী। সে এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে সে ডাকাতির চেষ্টা করেছিল। একজন পুলিশ সদস্য সরফরাজকে রেঞ্জারসের গাজী ইউনিটের হাতে তুলে দেন। এ সময় সরফরাজ রেঞ্জারস সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রেঞ্জারস সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে সে নিহত হয়।
আবদুল সালাম সমরু নামের এক ক্যামেরাম্যান রেঞ্জারসের হাতে সরফরাজের নিহত হওয়ার দৃশ্য ধারণ করেন। পরে স্থানীয় একটি টেলিভিশনে তা প্রচার করা হলে পাকিস্তানজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।
এ ঘটনায় ছয় রেঞ্জারস সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অপর সাতজনকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
গত শুক্রবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সরফরাজ শাহকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার বিষয়ে সুয়োমোটো আদেশ দেন। আদালত সিন্ধু অঞ্চলের রেঞ্জারস মহাপরিচালক, সিন্ধুর পুলিশ মহাপরিদর্শক, প্রাদেশিক মুখ্যসচিব, প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। সুপ্রিম কোর্ট রেঞ্জারসের সিন্ধু অঞ্চলের মহাপরিচালক মেজর ইজাজ চৌধুরী ও সিন্ধুর পুলিশ মহাপরিদর্শক ফায়াজ লাঘারিকে তিন দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সরফরাজকে মারতে মারতে রেঞ্জারস সদস্যদের হাতে তুলে দেন। এর পরই ছয় রেঞ্জারস সদস্য তাঁকে ঘিরে ধরেন। এঁদের মধ্যে একজন সরফরাজকে গুলি করতে উদ্যত হন। তখন সরফরাজ তাঁদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেও তাকে খুব কাছ থেকে ঊরু ও পেটে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ সরফরাজ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রেঞ্জারস সসদ্যদের কাছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য আকুতি জানায়। কিন্তু রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

একের পর এক মার্কিন সরকার ভিয়েতনাম নিয়ে জনগণকে মিথ্যা বলে গেছে

সোমবার প্রকাশিত ভিয়েতনাম যুদ্ধবিষয়ক গোপনীয় সরকারি নথি অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘ সময় ধরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের ব্যাপারে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল। জাতীয় আর্কাইভ (মহাফেজখানা) আনুষ্ঠানিকভাবে সাত হাজার পৃষ্ঠার ওই গোপন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনটির অংশবিশেষ ৪০ বছর আগে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সদ্য প্রকাশিত ৪৭ খণ্ডে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি অনলাইনে পাওয়া যাবে।
১৯৬৭ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের গঠিত টাস্কফোর্স ভিয়েতনাম যুদ্ধ বিষয়ে ওই প্রতিবেদন প্রণয়ন করে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মানুষই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ওই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিপক্ষে ছিল।
১৯৭১ সালে প্রতিবেদনটির কিছু অংশ নিউইয়র্ক টাইমস এর কাছে পৌঁছে দেন এক মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক। সেখানে দেখা যায়, জনসন প্রশাসন গোপনে যুদ্ধ তীব্রতর করেছে এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে কংগ্রেসের কাছে মিথ্যা বলেছে। একাধিক সরকার এ মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছিল।
পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবেদনটির প্রকাশ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ওই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় আদালত একটি যুগান্তকারী রায় দেন। ওই রায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধানে গণমাধ্যমকে আরও ক্ষমতা দেন।
প্রেসিডেন্ট নিক্সন শেষ পর্যন্ত ‘পেন্টাগন পেপার্স’ নামে পরিচিত ওই প্রতিবেদনের প্রকাশ রুখতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে এর বেশির ভাগ ফাঁস হয়ে গেলেও তা এতদিন গোপনীয় বলে বিবেচিত হতো।
‘পেন্টাগন পেপার্স’ ভিয়েতনামে দৃশ্যত পদে পদে মার্কিননীতির ব্যর্থতা তুলে ধরেছিল। এর একটি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামের পল্লি অঞ্চলের মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক হ্যামলেট প্রোগ্রাম’ নামে এক কর্মসূচি। এর আওতায় সামরিক অভিযানের পাশাপাশি নির্মাণ প্রকল্প, অর্থনৈতিক সহায়তা ও অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি। কারণ গ্রামের কৃষকেরা যে তাঁদের জীবনযাত্রার বদল মেনে নেবেন না, তা তারা বিবেচনায় নেয়নি।
রুশ-মার্কিন স্নায়ুযুদ্ধের উত্তুঙ্গ সময়ে ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলে। যুদ্ধটি হয় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন-সমর্থিত ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট-উত্তর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাপুষ্ট দক্ষিণের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধের কৌশল হিসেবে এ যুদ্ধে লিপ্ত হয়।
১৯৭১ সালে প্রতিবেদনটির অংশবিশেষ নিউইয়র্ক টাইমসসহ অন্য কয়েকটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন এর অন্যতম প্রণেতা সামরিক বিশ্লেষক ড্যানিয়েল এলসবার্গ। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম প্রধান গোমর ফাঁকের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।
এলসবার্গ সোমবার তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রকাশিত সম্পূর্ণ প্রতিবেদন থেকে নতুন বড় ধরনের কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, সরকারিভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের তাৎপর্য হলো, পুরো প্রতিবেদনটি একসঙ্গে পাওয়া যাবে। আর প্রতিবেদনটি অনলাইনে রাখায় নতুন প্রজন্ম বিষয়টি সম্পর্কে সহজে জানতে পারবে।

বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাই দেবে পাকিস্তান

নিরাপত্তার কারণে পাকিস্তানে খেলতে না যাওয়ার জন্য ফিফার কাছে অনুরোধ করেও লাভ হয়নি। বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইপর্বের ফিরতি লেগ ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানেই যেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। আর স্বাগতিক হিসেবে পাকিস্তানও সফরকারী বাংলাদেশকে সব ধরনের নিরাপত্তা দেবে।
২০১৪ বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাইপর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ বাংলাদেশের। প্রথমটি ২৯ জুন ঢাকায়, দ্বিতীয়টি ৩ জুলাই লাহোরে। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ের কারণে বাংলাদেশ পাকিস্তানে যেতে রাজি ছিল না। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কান টিমবাসে সন্ত্রাসী হামলার পর কোনো দল পাকিস্তানে যেতেও চায় না। বাংলাদেশও ম্যাচটি অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছিল। কিন্তু ফিফা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘ফিফা আমাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছে। কাজেই ৩ জুলাই ম্যাচটি খেলতে আমাদের জাতীয় দল পাকিস্তানে যাচ্ছে।’
ফিফার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইয়ার খান লোধি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার, ‘বছরের শুরুতেই আমরা ফিলিস্তিন ও মালয়েশিয়াকে আতিথ্য দিয়েছি। দুটি দলই ফিরে গেছে খুশিমনে। কাজেই আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যাপ্তই ছিল। আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই ম্যাচটিও হবে। আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ফিফা জানে, ফিলিস্তিন ও মালয়েশিয়া দলের কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, বাংলাদেশও খুশিই হবে।’

সিটির লোভকে রোনালদোর ‘না’

গুঞ্জনের চারাগাছটা ভালোই বেড়ে উঠছিল। তিনি নিজেও সার-পানি দিয়েছেন খানিকটা। এবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোই ছেঁটে ফেললেন সেই গাছ। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ‘আমি সিটিতে যাচ্ছি না। আমি কথা দিচ্ছি, আমি যাব না। টাকাই জীবনের সবকিছু নয়।’
টাকার প্রসঙ্গটা আসার কারণ আছে। খবর বেরিয়েছিল, রোনালদোর জন্য নাকি ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতেও রাজি ম্যানচেস্টার সিটির মালিক আরব ধনকুবের। ট্রান্সফার ফির বর্তমান রেকর্ডটিও রোনালদোর। ৯২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে ম্যানইউ থেকে রিয়াল মাদ্রিদ কিনেছিল তাঁকে। সেই রেকর্ডই গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল সিটি। রোনালদোকে সপ্তাহে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড বেতন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে খবর। সানডে মিরর-এ ছাপা হয়েছে, রোনালদো নাকি বন্ধুদের বলেছেন, সপ্তাহে চার লাখ পাউন্ড করে দিলে সিটিতে তিনি যেতেও পারেন।
স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের মন্তব্য গুঞ্জনের ডালপালা ছড়ায়। রোনালদো এবার নিজে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে সব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন এভাবে, ‘আমি এখন যা পাই, হয়তো তার দ্বিগুণ পেতাম। টাকাই যদি সব হতো, আমি এত দিনে চলেই যেতাম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো (ক্লাবের লোকজনের) আচরণ। এখানে আমাকে খুবই ভালোভাবে রাখা হয়েছে। আমি মাদ্রিদে খুব সুখে আছি।’
এতই সুখে আছেন যে, ‘আমি ১০ বছরের জন্য মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই, ক্যারিয়ারটা শেষ করতে চাই এখানেই’—ঘোষণা পর্যন্ত করে দিলেন। রিয়ালে তাঁর দুই মৌসুমে একটিই শিরোপা জিতেছেন—স্প্যানিশ কাপ। তবে রোনালদোর বিশ্বাস, সাফল্য ধরা দিতে আর বেশি দেরি নেই, ‘গতবার আমাদের আরও বেশি কিছু জেতার সম্ভাবনা ছিল। চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার জন্য আমি রোমাঞ্চিত অপেক্ষায় আছি। আর ভালো কোচ, খেলোয়াড় যদি থাকে, আজ হোক, কাল হোক সাফল্য ধরা দেবেই।’
রোনালদোকে এই আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে হোসে মরিনহোর উপস্থিতি, ‘কীভাবে জেতাতে হয়, সেটি তিনি ভালো করেই জানেন। আমি নিশ্চিত, মাদ্রিদে তাঁর দ্বিতীয় মৌসুমে তিনি আরও ভালো করবেন। মরিনহোই সেরা। যেসব লিগে তিনি কাজ করেছেন, সেখানে তা প্রমাণও করে দিয়েছেন।’

স্নেইডারে বিরক্ত ইন্টার

এখনো নিজের ভবিষ্যত্ নির্ধারণ করতে পারেননি ডাচ তারকা ওয়েসলি স্নেইডার। ইন্টার মিলানে তিনি আগামী মৌসুমটা থাকবেন কি না, সেটাও নিশ্চিত করেননি। আসলে, বিভিন্ন ক্লাব থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রস্তাবের হিসাব মেলাতেই তিনি এখন সিদ্ধান্তহীন। আর এ ব্যাপারটিই খুব ব্যথিত করেছে ইন্টার সভাপতি মাসিমো মোরাত্তিকে।
এ মৌসুমে দলবদলের বাজারে স্নেইডারের দিকে দৃষ্টি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসির। তাদের প্রস্তাব মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যও যথেষ্ট। এর পরেই স্নেইডার নিজের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে খুব রহস্যজনক কথাবার্তা বলা শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, ইন্টারকে মনে-প্রাণে ভালোবাসলেও তাঁর ভবিষ্যত্ নাকি নির্ধারণ করবেন স্বয়ং ঈশ্বর!
মোরাত্তি স্নেইডারের এসব কথাবার্তায় বেশ চিন্তিত। তিনি চিন্তিত, আদৌ চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো ক্লাবের সঙ্গে তিনি স্নেইডারকে রাখার লড়াইয়ে যুঝতে পারবেন কি না। সে কারণেই কিছুটা হতাশা ও অভিমানও ঝরে পড়েছে মোরাত্তির কণ্ঠে।
ইন্টার সভাপতির মতে, স্নেইডারের এমনতর কথাবার্তা সত্যিই সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। স্নেইডার নিজেকে যে অনিশ্চয়তার বাতাবরণে ঢেকে রেখেছেন তাও পছন্দ করতে পারছেন না মোরাত্তি। তাঁর মতে, ‘স্নেইডার যেসব কথা বলেছে, সেগুলো শুনে আমি খুবই দুঃখ পেয়েছি।’
২০০৯ সালে পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহোর হাত ধরে ইন্টারে নাম লিখিয়েছিলেন হল্যান্ড ফুটবল দলের অন্যতম আক্রমণ স্তম্ভ ওয়েসলি স্নেইডার।

‘ম্যানইউ বার্সকেও ছাড়িয়ে যাবে’

দীর্ঘদিন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলে ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ডাচ গোলরক্ষক এডউইন ফন ডার সার। ওল্ডট্র্যাফোর্ডের এই ক্লাবটির প্রতি অনুরক্ত ফন ডার সারের মতে, অভিজ্ঞ কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ভবিষ্যতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে এমনভাবে গড়ে তুলবেন, যা পারফরম্যান্সে বর্তমানের সেরা বার্সেলোনাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
একটি সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে হেরে যাওয়াটা ছিল হতাশাজনক। এ মুহূর্তে হয়তো আমরা বার্সার চেয়ে পারফরম্যান্সে পিছিয়ে রয়েছি, কিন্তু আমরা কিন্তু পরের মৌসুমে তাদেরও ছাড়িয়ে যেতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি হয়তো খেলা থেকে অবসর নিয়েছি, কিন্তু আমি নিশ্চিত ফার্গুসন এই দলকে দুর্দান্তরূপেই গড়ে তুলবেন।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষ করেছেন সদ্যই। এখনই নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত নন এই দীর্ঘদেহী গোলরক্ষক। তবে কোচিংয়ের কিছু কোর্স-টোর্স করে ফেলায় এই লাইনেই তিনি এগোবেন—তাতে সন্দেহ নেই। তবে এ মুহূর্তে পরিবার-পরিজনের সঙ্গেই আনন্দদায়ক কিছু সময় কাটাতে চাচ্ছেন তিনি। তিনি বলেছেন, আগে বছরখানেক সময় অবসরে কাটাই, পরিবারের সঙ্গে, বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করি, তারপরে দেখা যাবে কি করব।