Tuesday, August 28, 2018

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যেসব সুপারিশ করলো জাতিসংঘ

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর অভিযানের ঘটনায় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। ঘটনার এক বছর পর প্রকাশিত তদন্তে মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে সংঘটিত অপরাধে প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নসহ মারাত্মক অপরাধের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনারও সুপারিশ করা হয়েছে। এজন্য নির্যাতনের শিকার মানুষগুলোকে দেশে ফিরিয়ে আনা, তাদের পুনর্বাসন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংস্কার নিশ্চিত করাসহ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কিছু নির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ। মানবাধিকার কাউন্সিলের আওতায় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন মিয়ানমারের ২০১১ সাল থেকে জাতিসংঘের ভূমিকার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখার কথা বলেছে। এছাড়া এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা চৌকিতে আরসার হামলাকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযানের কারণ বলা হলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে এবং তাদের ফেরার সব পথ বন্ধ করতে আরসার হামলার আগে থেকেই পরিকল্পিত সেনা-অভিযান শুরু হয়েছিল। চলমান জাতিগত নিধনে হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। এক বছরেও মিয়ানমারের এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। এখনও আশার আলো দেখার মতো, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়ার মতো অবস্থায় নেই বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লাখ লাখ মানুষ। এসব মানুষকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনার শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশগুলো করা হয়েছে।
জাতিসংঘ তদন্ত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য করা সুপারিশগুলো নিম্নরুপ: 
ক. গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে নিজেদের জনগণকে সুরক্ষার দায়িত্বপালনে মিয়ানমারকে সহায়তা করতে জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সব ধরনের কূটনৈতিক, মানবিক ও অন্যান্য শান্তিপূর্ণ উপায়ের ব্যবহার করা উচিত। তাদের জাতিসংঘ বিধান অনুসারে ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে হবে।

খ. নিরাপত্তা পরিষদের উচিত আন্তর্জাতিক আইনে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধগুলোর বিচার নিশ্চিত করা। বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা তার বিকল্প সাময়িক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা যেতে পারে। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদকে আন্তর্জাতিক আইনে মারাত্মক অপরাধের ঘটনায় মূল দায়ী ব্যক্তিদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাসহ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার মতো নিষেধাজ্ঞা আরোপও করতে হবে। আর মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।

গ. নিরাপত্তা পরিষদে কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণ অধিবেশন বা মানবাধিকার কাউন্সিলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহ, একত্রিকরণ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ উপায় বের করতে হবে যেন জাতীয়, আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য নথিপত্র প্রস্তুত করা যায়।

ঘ. মানবাধিকার কমিশনকে মিয়ানমারে বিশেষ দূত ও মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনারের কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। মিয়ানমারে মানবাধিকার সংকটের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখার জন্য তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

ঙ. মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করার জন্য মানবাধিকার কাউন্সিলকে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে হবে। এজন্য মানবাধিকার পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়ানো, নথিভুক্তকরণ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ্য প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য পক্ষগুলোর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং ভুক্তভোগী সম্প্রদায়গুলোকে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতে কাউন্সিলকে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মোতাবেক আইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্যও মিয়ানমারকে সহায়তা করতে হবে। এজন্য দেশটিকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

চ. যদি উপরের (খ) ও (গ) এ বর্ণিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা না হয় অথবা (ঙ) অনুসারে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনকে উজ্জীবিত করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে মানবাধিকার কাউন্সিলকে স্বল্প সময়ের জন্য আরেকটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গঠন করতে হবে।

ছ. ‘হিউম্যান রাইটস অব ফ্রন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ অনুসারে মানবাধিকার বিষয়ে মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট সবকিছুকে বিচারের আওতায় আনার জন্য জাতিসংঘকে দ্রুত একটি সাধারণ কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এই কৌশলে মিয়ানামারে বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের কৌশল ও প্রকাশ্য প্রচারণা অবস্থানসহ সব কার্যক্রমের নির্দেশনা থাকবে। পূর্ণ মানবাধিকার বাস্তবায়নের নিরন্তর বিশ্লেষণের মাধ্যমে মিয়ানমারকে জাতিসংঘের সব সহায়তা প্রদান করতে হবে।

জ. ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পৃক্ততার বিষয়ে অবশ্যই জরুরি ভিত্তিতে বিস্তারিত ও স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। কারণ সেখানকার বিদ্যমান সংকটের সবকিছু ঠেকানো বা প্রশমিত করা যেত কিনা তা জানা প্রয়োজন। এছাড়া সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষণীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত করা ও জবাবদিহিতাসহ যথার্থ সুপারিশ করা এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর কাজের সক্ষমতার জন্য এই তদন্ত জরুরি।

ঝ. জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন ও আন্তর্জাতিকভাবে বিতাড়িত মানুষকে শুধুমাত্র তখনই ফেরত আনা হবে, যখন নাগরিকত্বসহ সুস্পষ্ট মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তা নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ হবে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ফেরত আনা সম্ভব না।

ঞ. সব সদস্য দেশকে মানবাধিকার দৃষ্টিকোণ এবং সুস্পষ্টভাবে বৈষম্যহীনতা ও সমতার নীতি মেনে মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক রাখাসহ ত্রাণ সহায়তা, উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পগুলোতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারে কর্মরত ত্রাণ সংস্থাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলও সদস্য দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারে সত্যিকারের সংস্কারের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ দেশটিকে এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ ও অপরাধীদের বিচারে আন্তর্জাতিক কৌশলকে মেনে নেওয়ার পাশাপাশি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।  

ট. নিরাপত্তা পরিষদে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হলেও সদস্য দেশগুলোর উচিত হবে মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা বন্ধ করা। কারণ দেশটিতে আন্তর্জাতিক আইনে মারাত্মক অপরাধ করার মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তাকে হেয় করার ঝুঁকি রয়েছে।

ঠ. সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে টেকসই সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে এই কৌশল প্রয়োজন।

ড. মিয়ানমারে সংঘটিত মারাত্মক অপরাধের ঘটনায় অভিযুক্তদের ব্যাপারে তদন্ত ও বিচার করার জন্য বিচার ব্যবস্থার ওপর সদস্য দেশগুলোকে আস্থা রাখতে হবে।

ঢ. জাতিসংঘকে ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা, জীবিকায় সহায়তাসহ অন্যান্য উপায়ে সহায়তা করার জন্য ভিকটিম সাপোর্ট ফান্ড গঠন করতে হবে। এই ফান্ডের সব প্রকল্পই ভুক্তভোগীদের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে আসলে কী হচ্ছে?

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে মালয়েশিয়া প্রচলিত নিয়মে বাংলাদেশ থেকে আর জনশক্তি নেবেনা৷ কিন্তু নতুন পদ্ধতি কী হবে তাও স্পষ্ট নয়৷ আর যারা এরইমধ্যে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে তাদেরই বা কি হবে?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটা বুঝতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে৷ কারণ এনিয়ে ২১ আগস্ট বাংলাদেশকে চিঠি দেয়া হলেও ঈদের ছুটি ও বন্ধের কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরবর্তী অবস্থা জানতে যোগাযোগ এখনো করা হয়নি৷ তবে সেপ্টেম্বরে এনিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বেঠক আছে বলে জানা গেছে৷
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার যুগ্ম সম্পাদক শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে এসপিপিএ (অনলাইন সিস্টেম) পদ্ধতিতে জনশক্তি নেয়৷ তারা তাদের চিঠিতে বলেছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই পদ্ধতিতে দেশটি বাংলাদেশ থেকে আর জনশক্তি নেবেনা৷ কিন্তু তারা কোথাও বলেনি যে তারা ভিসা দেয়া বন্ধ করে দেবে৷ তারা এখনকার পদ্ধতির পরিবর্তে একটি ইউনিফর্ম সিস্টেম ডেভেলেপ করবে৷''
এরইমধ্যে একটি বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে৷ কারণ প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিকের ভিসা হয়েছে৷ আরো ৪০ হাজারের মত শ্রমিকের মালয়েশিয়া যাওয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে৷ তাদের কী হবে? তারা কি যেতে পারবেন, না তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়৷
শামিম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, ‘‘বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে৷ এটা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের বিষয়৷ তবে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তাহচ্ছে এখনো শ্রমিকদের ভিসা অনুমোদন করছে৷ ফ্লাইট শিডিউল ঠিক আছে৷ যাদের ফ্লাইট আছে তারা যেতে পারছেন৷''
২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর জন্য ১০টি রিক্রুটিং এজেন্টকে এককভাবে ক্ষমতা দেয়া হয়৷ তারা অনলাইন ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে (এসপিপিএ) লোক পাঠায়৷ এই সিস্টেমের নাম দেয়া হয় জি টু জি প্লাস৷ ১০টি বাদে অন্যকোনো রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়৷ এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই লাখ শ্রমিক গেছে মালয়েশিয়ায়৷ আরো পাইপ লাইনে আছে এক লাখের মত৷
কিন্তু এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷ গত জুনে মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টার-এর অনলাইন সংস্করণে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র৷ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় একজন শ্রমিক পাঠাতে খরচ হয় দুই হাজার রিঙ্গিত৷ আর বাংলাদেশি একটি চক্র নিচ্ছে ২০ হাজার রিঙ্গিত৷ এভাবে দুই বছরে একটি চক্র হাতিয়ে নিয়েছে ২০০ কোটি রিঙ্গিত৷ বাংলাদেশি মুদ্রায় চার হাজার কোটি টাকারও বেশি৷
সংবাদে এই চক্রের হোতা হিসেবে বাংলাদেশের মন্ত্রী মর্যাদার একজন ব্যক্তির কথা বলা হয়৷ প্রতিবেদনে তার নাম প্রকাশ না করে আরো বলা হয়, ওই ব্যক্তির বয়স কমবেশি ৫০ বছর৷ আর তিনি ১৫ বছর আগে এক মালয়েশীয় নারীকে বিয়ে করেন৷
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, ‘‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০১৬ সালে একটি চুক্তি সই হয়৷ ওই চুক্তির অধীনে সরকারের বাইরেও শ্রমিক নিয়োগের জন্য ১০টি কোম্পানিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ এর আগে সরকারই কেবল জনশক্তি পাঠাতে পারত৷ ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণেই চুক্তি সই হয়৷ তার ছত্রছায়ায়ই এই ১০টি রিক্রুটিং কোম্পানি রাতারাতি গজিয়ে ওঠে৷ হাজার কোটি টাকার এই মানবপাচার ব্যবসাকে ‘বৈধতা' দেওয়ার পেছনে তার ভূমিকাই প্রধান৷ মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই এসব কোম্পানি গড়ে তোলা হয়৷ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার এই কেলেঙ্কারিকে নতুন ধাপে নিয়ে গেছেন এই মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি৷
শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ করতে এবং ১০টি কোম্পানির স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখতে এসপিপিএ নামে অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে৷ বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে হয়৷ এসপিপিএ অনুসারে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগে মালয়েশীয় কোম্পানিকে ৩০৫ রিঙ্গিত দিতে হয়৷ এই নিবন্ধন ব্যবস্থা পরিচালনা করে বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি নামের একটি বেসরকারি কোম্পানি৷ এসপিপিএ-র সংগৃহীত অর্থ চলে যায় বেস্টিনেটের কাছে৷ ১০টি কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়োগ কর্তাদের কাছে শ্রমিকদের বণ্টন কাজের জন্য এই অর্থ নেয় বেস্টিনেট৷
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে মালয়েশিয়া যেতে ওই দেশগুলোর শ্রমিকদের বাংলাদেশের তুলনায় কম টাকা দিতে হয়৷ ওই দেশগুলোর শ্রমিকদের খরচ পড়ে আড়াই হাজার রিঙ্গিতের মতো৷
ক্লাং ভ্যালিতে বেশ কয়েকটি কোম্পানির কনসালটেন্সি করা একটি কোম্পানির মালিক চিরারা কান্নান দ্য স্টার অনলানকে তখন জানান, এসপিপিএ চালু হওয়ার আগে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের খরচ ছিল অনেক কম৷ আগে শ্রমিকদের ৭ থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিত দিতে হতো মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য৷ কিন্তু এখন মধ্যস্থকারীরা বড় অংকের টাকা নেয় শ্রমিকদের কাছ থেকে৷
চিরারা জানান, বাংলাদেশের স্থানীয় গ্রামীণ এলাকার সাব-এজেন্টদের শ্রমিকরা দেয় ২০ হাজার রিঙ্গিত৷ এই সাব-এজেন্টরা আরো অন্তত দু'জন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সরকারের অনুমোদিত এজেন্টের কাছে যায়৷ আগে যারা সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্ট ছিল তারা এখন বড় ১০টি কোম্পানির সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে৷
চিরারা বলেন, ‘‘পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে৷ অনেক নিয়োগ দাতা কোম্পানিও শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে৷ নিয়োগকৃত প্রত্যেক বাংলাদেশি শ্রমিকের কাছ থেকে অনেক নিয়োগদাতা ১৫০০ রিঙ্গিত করে নিচ্ছেন৷'' এসব কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থাটি কলঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন চিরারা৷
জনশক্তি রপ্তানি বিশ্লেষক হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২০১৬ সালে যখন শুধু ১০টি রিক্রুটিং এজন্টকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির অনুমতি দেয় তখন বলা হয়েছিল পর্যায়ক্রমে অন্যান্যরাও সুযোগ পাবে৷ কারণ তার আগে দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ ছিল৷ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি৷ তারা একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে৷ অভিবাসন ব্যয় বেড়ে যায়৷ এক জনের কাছ থেকে তিন-সাড়ে তিন লাখ টাকা নেয়া হয়৷ নানা ফি'র নামে টাকা নেয়া হয়৷ এটার একটা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন৷ কারা এরজন্য দায়ী তাদের চিহ্নত করা দরকার৷''
তিনি আরো বলেন, ‘‘সংবাদ মাধ্যমে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়ার যে তথ্য প্রকাশ হয়েছে তাকে হাতিয়ে নেয়া ছাড়া আর কী বলা যায়? তারা প্রকৃত খরচের তিন-চার গুণ বেশি অর্থ নিয়েছেন৷ ওই অর্থ কোথায় গেছে, কাদের কাছে গেছে, তা তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন৷''
একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে লোক নিতে মালয়েশিয়া সব রিক্রুটিং এজেন্টকে সমান সুযোগ দিতে চায়৷ আর তারা এজন্য একটি ইউনিফর্ম নীতিমালা তৈরি করবে৷ সেজন্য বাংলাদেশের সঙ্গে তারা বৈঠকও করবে৷ তবে ওটা চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত৷ এনিয়ে জানতে প্রবাসী কল্যাণমমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা যায়নি৷
সূত্রঃ- DW

বাংলাদেশের জন্য কেন বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারগুলির একটি, মালয়েশিয়ার দরজা আর পাঁচদিনের মধ্যেই আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
'জিটুজি-প্লাস' নামে যে এসপিপিএ সিস্টেমের আওতায় মালয়েশিয়া তাদের দেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়োগ করত, সেই পদ্ধতি আগামী ১লা সেপ্টেম্বর থেকেই স্থগিত হয়ে যাবে বলে সে দেশের সরকার বাংলাদেশকে ইতিমধ্যে জানিয়েও দিয়েছে।
কুয়ালালামপুরের সাংবাদিক শেখ কবীর আহমেদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, বর্তমান পদ্ধতিতে যে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মারফত বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করা হত তা বাতিল ঘোষণা করা হলেও মালয়েশিয়ার সরকার নতুন কী পদ্ধতি চালু করতে চাইছে তা আদৌ স্পষ্ট নয়।
"মাহাথির মোহাম্মদের নতুন সরকার হয়তো নতুন কোনও পদ্ধতি চালু করবেন। কিন্তু তাতে যে বেশ সময় লাগবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই, আর ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এদেশে শ্রমিক আসা বন্ধ থাকবে ধরেই নেওয়া যায়," বলছেন মি. আহমেদ।
বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সমিতি বায়রা বিবিসিকে জানিয়েছে, গত বছরের মার্চ থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১,৯০,০০০ হাজার অভিবাসী শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়াতে পাড়ি দিয়েছেন।
এই সংখ্যা সৌদি আরবে যাওয়া বাংলাদেশী শ্রমিকের সমান - কাজেই বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানিতে মালয়েশিয়ার গুরুত্ব কতটা, তা বোঝা কঠিন নয়।
বায়রা-র সচিবালয়ে উপদেষ্টা মো. দলিলউদ্দিন মন্ডল অবশ্য বলছেন, "হ্যাঁ, সাময়িকভাবে হয়তো বিরূপ প্রভাব কিছুটা পড়বে। তবে মালয়েশিয়া এর আগেও বহুবার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করেছে ও আবার চালু করেছে - আর সেই গত প্রায় পঁচিশ বছর ধরে এ জিনিস চলছে। কাজেই আমরা অতটা ভয় পাচ্ছি না, আশা করছি আবার নতুন কোনও সিস্টেম চালু হবে।"
তবে ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ এম. এম. আকাশ মনে করছেন, মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্তে রেমিট্যান্স প্রবাহে যেমন বড় ভাটা পড়ার আশঙ্কা আছে সেটা একটা দিক - কিন্তু তার চেয়েও বড় বিপদ হল বাংলাদেশের 'ভাবমূর্তির সঙ্কট'।
অধ্যাপক আকাশের কথায়, "যে কারণেই মালয়েশিয়া এটা বন্ধ করুক, আমাদের যে কিছুটা বদনাম হয়ে গেল তা তো অস্বীকার করতে পারি না। আমি যেটুকু সমস্যাটা বুঝতে পারছি, আমাদের দিক থেকেও যে মালয়েশিয়াতে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ছিল না - সেটা তো পরিষ্কার। বাংলাদেশকে এখন তারই মাশুল গুনতে হবে।"
কিন্তু মালয়েশিয়া কেন ১লা সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করছে, তার কি কোনও নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়েছে?
মালয়েশিয়ার সাংবাদিক শেখ কবীর আহমেদ জানাচ্ছেন, "গত ২১ অগাস্ট এ দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি, জেনারেল দাতো ইন্দেরা খাইরুল দাজমি বিন দাউদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে যে সে দেশের বিগত সরকার বাংলাদেশের যে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মারফত শ্রমিক নিত, তাদের এসপিএ সিস্টেম সেপ্টেম্বরের গোড়া থেকেই বাতিল হয়ে যাবে।
"এখন যদিও ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি, আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারছি ওই ১০টি এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় নিয়োগ পেতে একজন শ্রমিকের যেখানে মাত্র ৪০,০০০ টাকা লাগার কথা, সেই জায়গায় এই এজেন্সিগুলো চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত চার্জ করত বলে জানা যাচ্ছে", বলছিলেন মি আহমেদ।
এই দুর্নীতির সঙ্গে মালয়েশিয়ার পূর্বতন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন মালয়েশিয়ার নাগরিকও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এই কথিত দুর্নীতির ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বায়রা কর্তৃপক্ষ।
তবে সংস্থার উপদেষ্টা দলিলউদ্দিন মন্ডল জানাচ্ছেন, তারা চেয়েছিলেন এই রিক্রুটমেন্ট পদ্ধতি সব সংস্থার জন্যই উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক।
তার কথায়, "এর আগে ২০১৬তে দুই দেশের সরকার যখন আলোচনায় বসেছিল, তখন বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯০০ এজেন্সির নাম জমা দেওয়া হয়েছিল - কিন্তু মালয়েশিয়া মাত্র ১০টি এজেন্সিকে বেছে নেয় এবং বলে যে সংখ্যাটা পারে বাড়ানো হবে। আমরা অনেকবার লিখেছি যে প্রসেসটা ওপেন করে দেওয়া হোক, কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত আর হয়নি।"
"এখন মালয়েশিয়াতে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার হয়তো আগের পদ্ধতিটা পছন্দ করছে না, এই জিনিস তো প্রায়ই হয়। ঠিক বলতে পারব না কী হয়েছে, তবে আমাদের বিশ্বাস মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রপ্তানি পাকাপাকিভাবে কিছুতেই বন্ধ হবে না।"
"তাহলে তো দুপক্ষেরই ক্ষতি, তাই না? ওরা যদি সা-রে-গা-মা সুর ধরে থাকে, তাহলে আমাদের শ্রমিকরা গিয়েই তো পা-ধা-নি গেয়ে সপ্তসুর শেষ করছে - এটা তো বুঝতে হবে। দুজনেরই আসলে পরস্পরকে দরকার", বলছিলেন মি. মন্ডল।
মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণেই আপাতত বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করা হচ্ছে, বায়রা এমন একটা ইঙ্গিত করতে চাইলেও সেই যুক্তি মানতে নারাজ অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ।
তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, "যদি ধরেওনি মালয়েশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পুরনো জমানার মন্ত্রী-নেতাদের দুর্নীতি খুঁড়ে বের করার চেষ্টা হচ্ছে, বাংলাদেশকে তো তার বলির পাঁঠা বানানোর কোনও কারণ নেই। এখানে আমাদেরও কিছু গাফিলতি ছিল, সেটা স্বীকার করে নেওয়াই ভাল।"
জনশক্তি রপ্তানির পুরো পদ্ধতিটা যতক্ষণ না পুরোপরি 'ডিজিটাল' করা হচ্ছে, ততদিন এই জাতীয় সমস্যা থেকেই যাবে বলে ধারণা অধ্যাপক আকাশের।
"সরকারের একটা ওয়েবসাইট থাকবে - যেখানে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক শ্রমিকরা নিজেদের যোগ্যতা, তথ্য-পরিচয় উত্যাদি আপলোড করবেন। সেখান থেকে বেছে নিয়ে বিদেশে চাহিদা অনুযায়ী ম্যাচ করে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে, এটা করলেই তো সমস্যা মিটে যায়!"
"তার বদলে এখন যে 'মিডলম্যান' বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের 'স্বার্থাণ্বেষী চক্র' কাজ করছে সরকার তাদের কাছে বারবার নতি স্বীকার করার ফলেই গুরুত্বপূর্ণ এই শ্রমবাজারগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে", বলছিলেন অধ্যাপক আকাশ।
সুত্রঃ-বিবিসি

একটি অপশক্তি নির্বাচন বানচালের প্রস্তুতি নিচ্ছে

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশি-বিদেশি উস্কানিতে একটি অপশক্তি নির্বাচন বানচাল ও দেশে অরাজকতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের তথ্য প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে ওয়ান ইলেভেনের নীল নকশা বাস্তবায়ন। এই অপশক্তি, ছদ্মবেশীরা হলো সুশীল সমাজের একাংশ। তারা ফটো সাংবাদিক শহিদুল আলমকে কেন্দ্র করে বিদেশিদের সঙ্গে নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে হাইব্রিড বা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সম্পর্কিত একটি তালিকা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে রয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা সারা দেশ থেকে রিপোর্ট নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে একটি কমিটি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই তালিকাটির যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম চলছে। ফলে আগামী নির্বাচনে দলের টিকিট অনুপ্রবেশকারীরা পাবে না। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিসহ অন্য কমিটিতেও অনুপ্রবেশকারীদের স্থান হবে না।
গতকাল সচিবালয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন সঠিক সময় সংবিধান অনুযায়ী হবে। বিএনপি নির্বাচন বানচালের জন্য যতই অপকৌশল বা আন্দোলনের হুমকি দিক না কেন তা প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগ দেশের উন্নয়নের জন্য, গণতন্ত্র রক্ষায় জনস্বার্থে সব সময় অপশক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগ অতীতে রাজপথে ছিল, বর্তমানে দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য রাজপথে আছে, ভবিষ্যতেও রাজপথে থাকবে। ফলে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি আন্দোলনের জন্য যতই হুমকি দিক না কেন, কোনো লাভ হবে না।
বিএনপির আন্দোলন করার মতো সাংগঠনিক শক্তি নেই উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে এসির মধ্যে থেকে পুলিশের গতিবিধি সম্পর্কে ফোনে জানতে চেষ্টা করেন। নেতারা যদি মাঠে না নামে তা হলে কি কর্মীরা মাঠে থাকবে? কখনই থাকবে না। তবে তাদের নেতৃত্বে ছদ্মবেশে জামায়াত-জঙ্গি-সামপ্রদায়িক শক্তিগুলো দিয়ে নাশকতামূলক গুপ্ত হামলা চালাতে পারে। ওই সামপ্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিগুলো, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সজাগ দৃষ্টিতে রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের বাইরে কেউ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চলালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর হস্তে তা দমন করবে।
মন্ত্রী এ সময় নাম প্রকাশ না করে বলেন, গুজব ছড়ানো নোবেল জয়ী ওই বিদেশিদের সঙ্গে আমাদের দেশের একজন নোবেলজয়ীও জড়িত রয়েছেন। তিনি ওখানে বসে আল জাজিরা টেলিভিশনের মাধ্যমে অনেক উস্কানিমূলক গুজব ছড়াচ্ছেন। এই নোবেল বিজয়ী একসময় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা আমরা করবো কেন? বিএনপি একটি রেজিস্ট্রিকৃত রাজনৈতিক দল। তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না চায় তা হলে নির্বাচন তো বসে থাকবে না। সংলাপ তাদের সঙ্গে কি করে হবে? ২০১৪ সালে সংলাপ নামের ট্রেনটি তারা মিস করেছে। সংলাপ নামের দরজাটি বন্ধ করে দিয়েছে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে ডেকেছিলেন। তারা সাড়া দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী নিজে তাদের বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন তারা দরজা খুলেনি। এখনতো সংলাপ করার সময় নেই। মন্ত্রী বলেন, দেশ ও জাতির কাছে আমরা সত্য ঘটনাগুলো তুলে ধরবো। দেশের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। বিএনপির শাসন আমলের চিত্র আর আওয়ামী লীগের শাসন আমলের চিত্র দেখেই জনগণ তাদের মতামত দেবেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায় তারা এড়াতে পারবে না। বিএনপি ওই সময় ক্ষমতায় ছিল। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতার উপর গ্রেনেড হামলা হতে পারে না। প্রকাশ্যে কর্তব্যরত পুলিশের চোখের সামনে সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড হামলা চালিয়ে পালিয়ে গেল। এরপর গ্রেনেড হামলার আলামত নষ্ট করে দিলো।
এফবিআই দিয়ে তদন্ত করাতে দিলো না, বরং বিএনপি সরকার জজ মিয়া নাটক সাজালো। বিএনপি যদি এই হামলার সঙ্গে জড়িত না থাকে তা হলে কেন তারা বিচারের পথ রুদ্ধ করতে এসব কার্যক্রম করলো। গ্রেনেড হামলার প্ল্যানার, মাস্টারমাইন্ড বিএনপি। আর কিলিং এজেন্ট যাদের নিয়োগ করেছে সেটিও তাদের। মন্ত্রী বলেন, বিএনপির টার্গেট ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করার। ওইদিন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার জন্য গিয়েছিলেন। আর সেদিনই বিএনপি সরকারের নিয়োগকৃত কিলিং এজেন্টরা তাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা করলো। এসবের দায় বিএনপির কোনো নেতা এড়াতে পারে না। পদ্মা সেতু সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর কার্যক্রম ৫৭ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। মেট্রোরেলের কার্যক্রম ২০২০ সালে সম্পন্ন হবে। আর সড়ক পরিবহন আইন আসন্ন অধিবেশনে পাস হবে।

চামড়ার টাকার জন্য ভিক্ষুকদের কান্না by ইব্রাহিম খলিল

বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই মাইমুনা খাতুনের। উপার্জন করে খাওয়ানোর মতো ছেলে সন্তান নেই তার। তার উপর স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে ও তার দুই সন্তান মাইমুনা খাতুনের কাঁধে। শরীর নিয়েই চলার শক্তি যখন নেই তার; তখনও ভিক্ষা করেই বিধ্বস্ত সংসার টেনে চলেছেন তিনি। প্রতিদিন সকালে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও থেকে বাসে করে চট্টগ্রাম শহরে চলে আসেন তিনি। সন্ধ্যায় ভিক্ষার কাঁড়া-আকাঁড়া কিছু চাল ও তরিতরকারি নিয়ে ফিরেন। এভাবে কোনোমতে খেয়ে না খেয়ে  মেয়ে আর নাতি নিয়ে জীবন নির্বাহ করছেন তিনি। এবার তিনি আশা করেছিলেন কোরবানির চামড়ার দান থেকে কিছু টাকা পেলে মেয়ে ও নাতিদের একটি করে মোটা কাপড় কিনে দেবেন। বাকি টাকা দিয়ে ভেন্নাপাতার (ছাডাপাতা) ছানি দিয়ে গড়া ঘরের চালে কিছু টিন দেবেন। যাতে বর্ষার জলে অন্তত কাকভেজা থেকে রক্ষা পান। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি হলো তার। যেখানে যান সেখানে চামড়ার টাকা নেই বলে ক্ষমা চান কোরবানি দাতারা। কোরবানি দাতারা নাকি বলেন, চামড়ার টাকা গরিবের বদলে এবার সরকার গিলে ফেলেছে।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অভিজাত চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় এক কোরবানি দাতার কাছে চামড়ার টাকা চাইতে গিয়ে নাই কথাটি শুনে অঝোরে কান্না শুরু করেন মাইমুনা খাতুন। যা আশেপাশের অনেক মানুষের নজর কাড়ে। কাঁদতে কাঁদতে উপস্থিত সকলের কাছে এমন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তিনি। ‘চামড়ার টাকার জন্য এক ভিক্ষুকের কান্নার’ এমন খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার অলিতে-গলিতে। অনেকের সঙ্গে ছুটে গিয়ে কথা হয় ভিক্ষুক মাইমুনা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ঘরটা বিলের ছাডা পাতা দিয়ে বানানো। একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। তাই ভেবেছিলাম এবার কোরবানির চামড়ার টাকায় ঘরটাতে যতটুকু পারি টিন লাগাবো। আর মেয়ে ও নাতিদের কাপড়- চোপড় নেই। তাদের জন্য একটি করে মোটা কাপড় কিনবো। কিন্তু তা আর হলো না। চামড়ার টাকা তেমন কেউ দিলো না। কয়েকজনে দিয়েছে ১০ টাকা, ২০ টাকা করে। এতে আমার ৫০০ টাকাও হয়নি। এই টাকা দিয়ে তো আর ঘর বানাতে পারবো না। কাপড়ও কিনতে পারবো না। তবে ভিক্ষুক মাইমুনা খাতুন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলেছিলেন কথাগুলো। 
তিনি আরো বলেন, গত ৩ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ভিক্ষা করছেন তিনি। স্বামী বেঁচে থাকতে একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেন। এরমধ্যে যৌতুকের জন্য স্বামী তালাক দিলে দুই নাতিকে নিয়ে মেয়ে আমার কাছে চলে আসে। সেই থেকে ভিক্ষা করে খাই। তবে পাড়া-প্রতিবেশী ও গ্রামের লোকজন গরিব হওয়ায় চট্টগ্রাম শহরে ভিক্ষা করি। শহরের মানুষ আমাকে ভালোবেসে ভিক্ষাও দেয়। ভিক্ষার চালে কোনোরকমে জীবন চলে। কিন্তু চামড়ার টাকা না পেয়ে ঘরটা করতে পারবো না- এই আশঙ্কায় কান্না আসছে বলে জানান তিনি। কোরবানির চামড়ার টাকার জন্য আরো এক ভিক্ষুকের কান্নার খবর পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর আরেক অভিজাত এলাকা নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে। সোসাইটির বাসিন্দা চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. কাউছার আলম বিষয়টি জানান। তিনি জানান, নগরীর বলীরহাট থেকে ক্র্যাচে ভর দিয়ে আসা পঙ্গু ভিক্ষুক বদিউল আলম (৫৮) তার কাছে কোরবানির পশুর চামড়ার টাকা চান রোববার সকালে। ৫০ টাকা দেয়ায় তিনি কেঁদে  ফেলেন। বদিউল আলম প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত আমার বাসায় ভিক্ষা করতে আসেন। এ সময় বদিউল আলম কেঁদে কেঁদে বলেন, স্যার ছেলের জন্য বই কিনবো, আমাকে চামড়া বেচার আরো কিছু টাকা দিন। কিন্তু চামড়ার টাকা তো খুবই কম। সবাইকে ১০ টাকা, ২০ টাকা করে দিয়েছি। আপনাকে বেশি দিয়েছি। এ কথা বলায় সে চোখ মুছতে মুছতে চলে যান। এছাড়া ১০-২০ টাকা দেয়ায় ভিক্ষুকরাও অনেকে মন খারাপ করে চলে গেছেন। দুয়েক জনে চামড়ার টাকার জন্য ঝগড়াও লাগিয়েছেন। একই কথা বলেন নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির কোরবানিদাতা আবু জাফর, হাজী আবদুল মালেক ও চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম চৌধুরী। তারা বলেন, কোরবানির চামড়ার দাম এবার এতই কম যে, লাখ টাকায় গরু কিনেও ৩০০ টাকায় চামড়া বেচতে হয়েছে। ফলে গরিবদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই টাকা বিলানো সম্ভব হয়নি। এতে মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন ভিক্ষা করে খাওয়া অচল মানুষগুলো। বন্দরের আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম চৌধুরী বলেন, ধনী থেকে খেটে খাওয়া মানুষ সবাইর বেঁচে থাকার একটি পরিকল্পনা থাকে। ভিক্ষুকদেরও রয়েছে। ধনী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলোর ওপর তাদের সকল আশা-প্রত্যাশা। সে হিসেবে এবার কোরবানির চামড়ার টাকা না পেয়ে তাদের সেই আশা-প্রত্যাশায় গুড়ে বালি হয়েছে। তিনি বলেন, বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ছে। চামড়াজাত পণ্যের দামও বেশি। তাই  কোরবানির চামড়ার দাম এভাবে কমিয়ে আনা সরকারের ঠিক হয়নি। এতে গরিব মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার কোরবানিদাতা মো. রাশেদ বলেন, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়ার টাকার জন্য ভিক্ষুকরা আসেন। গত বছরও প্রত্যেককে ৫০/১০০ টাকা করে দিয়েছি। কিন্তু এ বছর ৮৫ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকায়। যা ২০/৩০ টাকা করে কয়েকজনকে দিতে পেরেছি। আর এ টাকায় খুশি হননি কোনো ভিক্ষুক। বরং চামড়ার টাকা শেষ হওয়ার কথা বলায় অনেকে চোখের জল ফেলেছে। যা খুবই খারাপ লেগেছে। চামড়ার দাম কমিয়ে সরকার পুরোপুরি অমানবিক কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিয়ানমারের ছয় জেনারেলের বিচার চায় জাতিসংঘ

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশটির সেনাপ্রধানসহ ৬ ঊর্র্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। সোমবার জেনেভায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে সেখানে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী রাখাইনে পরিকল্পিতভাবে এ গণহত্যা পরিচালনা করেছে। এ খবর প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে। এতে সাংবাদিক শিবানি মাহতানি লিখেছেন, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধারে দায়ে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ শীর্ষ সামরিক কর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচার করতে হবে। গত আগস্ট থেকে তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে নৃশংসতা চালায় তার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক নিন্দার ঝড় ওঠে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে সাক্ষাৎকার, গবেষণা, জাতিসংঘের অনুমোদিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে ওই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। রাখাইন রাজ্য ও অন্যান্য স্থানে কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে সে বিষয়টিতে দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন শুধু রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানেই সীমাব্ধ থাকেনি। তারা ২০১১ সাল থেকে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এতে দেখা গেছে রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যে ভয়াবহভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। নির্যাতন করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ন্যক্কারজনক অপরাধ। বাছবিচারহীনভাবে হত্যা, গণধর্ষণ, শিশুদের ওপর নির্যাতন, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার বিষয়কে কখনো সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা দিয়ে সাফাই গাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে যে নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিয়েছিল তার প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী যে কৌশল নিয়েছিল তা ভয়াবহভাবে অযৌক্তিক।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বলেছে, মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেলদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করার জন্য যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এ বিষয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মন্তব্য নিতে চাইলে তাদের পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্টে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারের সময় রাখাইনে কি জঘন্য মানবাধিকার বিষয়ক সঙ্কট তৈরি হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই সরকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা উল্টো এ বিষয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করেছে। তদন্তে দেখা গেছে রাখাইনে ধ্বংসলীলা চালানোর প্রমাণ রয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তকারীদের সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। মিয়ানমারে জাতিসংঘের কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড হোরসে বলেন, এই রিপোর্টটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় রকমের প্রভাব ফেলবে। কারণ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি তদন্ত করেছে জাতিসংঘের অনুমোদিত তদন্তকারী ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। তারা শান ও কাচিন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের বিষয়েও আলোকপাত করেছে। এই রিপোর্টে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচার করার জন্য পর্যাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।
ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কোনো ধরণের সমালোচনা মেনে নেয় না। তারা দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন আইনে গ্রেপ্তার করছে ও কারাদণ্ড দিচ্ছে। এ সময় তারা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রয়টার্সের দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই সাংবাদিকরা দেশটির রাখাইন রাজ্যের ইন দিন অঞ্চলে রোহিঙ্গা গণহত্যার খবর প্রকাশ করেছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন। তাদের জামিন নিয়েও নানা টালবাহানার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেস কাউন্সিলের সদস্য মিন্ট কাও বলেছেন, এই মামলায় খুব সম্ভবত সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে। আমরা বলতে পারি না, মিয়ানমারের বিচার ব্যবস্থা একেবারেই স্বাধীন।
সোমবার সকালে জেনেভায় প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকজনের নামের তালিকা দেয়া হয়েছে। এতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের অপরাধের তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। তালিকার একদম প্রথমেই রয়েছে সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ মিন অং হ্লাইং। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এছাড়া আরো ৫ জন সেনা কমান্ডারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলো, সো উইন, অং কাও যাও, মং মং সু, অং অং ও থান ও। এরমধ্যে মং মং সু ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে। জুন মাসে তাকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী থেকেও বরখাস্ত করা হয়।
জাতিসংঘের এ প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের উপরে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্যও সুপারিশ করা হয়। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছে, এ অঞ্চলের পরাশক্তি চীন রোহিঙ্গা সংকটের প্রথম থেকেই মিয়ানমারকে রক্ষা করে আসছে। এছাড়া মিন অং হ্লাইং সমপ্রতি রাশিয়া সফর করেছেন। রাশিয়াও এ সংকটে মিয়ানমারের পক্ষে তার অবস্থান সপষ্ট করেছে। তাই মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করা সহজ হবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইট বার্তায় বলেছেন, তার দেশ রোহিঙ্গা গণহত্যায় যুক্ত সকলকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করবে। এ সময় তিনি এ গণহত্যাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে অভিহিত করেন। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ১৮ই সেপ্টেম্বর সংস্থাটির মানবাধিকার পরিষদে এ বিষয়ে একটি পূর্ণ প্রতিবেদন হস্তান্তর করবে।

একসঙ্গে বসছেন বি. চৌধুরী-ড. কামাল

ভবিষ্যৎ রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আদায়ের দাবি সামনে রেখে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ একসঙ্গে বসতে পারেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। সন্ধ্যায় কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় গণফোরাম নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের অংশীদার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও অংশ নেবেন। বৈঠক থেকে জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে নেতারা জানিয়েছেন। জাতীয় ঐক্য গড়তে বেশ কিছুদিন ধরে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনও জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিলেন। এ ঐক্য প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৯শে আগস্ট বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর অব. আবদুল মান্নানের বাসায় বৈঠক করেন যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম নেতারা। এ বৈঠকে আরো কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা অংশ নেন।
ওই বৈঠকে কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়। পরের দিন করণীয় নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করতে ড. কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক করার কথা থাকলেও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর অসুস্থতার কারণে তা আর হয়নি। ওই বৈঠকটিই আজ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গণফোরামের কার্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, মঙ্গলবারের বৈঠকটি ফলোআপ বৈঠক। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর জাতীয় ঐক্য সামনে রেখে যে মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। এছাড়া জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপরেখা নিয়েও নেতারা কথা বলবেন। সবকিছু চূড়ান্ত হলে খুব শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা দেয়া হবে। বৈঠকের বিষয়ে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৈঠক হচ্ছে। এখনও কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি। আলোচনা করেই একটি রূপরেখা তৈরি হবে। এদিকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় শুরু থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর অংশ নেয়া নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি এখনো তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। এ বিষয়ে আবদুল মালেক রতন বলেন, তিনি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতারা জানিয়েছেন, মেজর আব্দুল মান্নানের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকেই জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে একমত হন অধ্যাপক বি. চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপরেখা এবং লক্ষ্য উদ্দেশ্য প্রণয়ন এবং অন্য রাজনৈতিক দলকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত কৌশল নির্ধারণে ধারাবাহিক বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ওই বৈঠকে। নেতারা জানিয়েছেন, ঐক্য প্রক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি হলে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন তারা। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বরের আগেই সরকারের বাইরে থাকা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে আগ্রহী দলগুলোকে নিয়েই ২২শে সেপ্টেম্বর মহাসমাবেশ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোক্তারা।

ঢাকার সড়কে বাস দাঁড়াবে কোথায়? by হাফিজ মুহাম্মদ

রাজধানীর সড়কের পুরোটাই যেন বাস স্টপেজ। যেখানে যাত্রী আছে সেখানেই বাস দাঁড়াবে। এটাই যেন নিয়ম। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন নির্ধারিত স্থানে বাস না থামা-ই বিশৃঙ্খলার বড় কারণ। কিন্তু সড়কে বাস আসলে দাঁড়াবে কোথায়? পুরো সিটি এলাকায় বাস দাঁড়ানোর স্থান বা স্টপেজ আছে হাতেগোনা কয়েকটি। কিছু কিছু স্থানে এক সময় বাস দাঁড়ানোর চিহ্নও ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এটিও আর সড়কে দেখা  যায় না। তাই বাসসহ অন্য গণপরিবহন ইচ্ছেমতো যেখানে সেখানে দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠায়-নামায়। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত স্থানে বাস দাঁড়াতে বাধ্য করার জন্য আগে বাস স্টপেজ ঠিক করে দিতে হবে। যেখানে সুবিধা আছে বে-বাস: বাস নির্মাণ, যেখানে সুবিধা নেই সেখানে রোড সাইন দিয়ে বাস দাঁড়ানোর স্থান চিহ্নিত করে দিতে হবে। স্থান চিহ্নিত করার পর ওই স্থানের আগে পরে যাতে কোনো বাস দাঁড়াতে না পারে সেজন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা আন্দোলনের পর রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নির্ধারিত স্থানে বাসসহ গণপরিবহন থামানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সেই নির্ধারিত স্থান বা বাস স্টপেজ না থাকলে বাস দাঁড়াবে কোথায় এ প্রশ্ন চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের। দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নগরীর সড়কে গণপরিবহনের জন্য দেয়া হয় একাধিক নির্দেশনা। যার একটি হচ্ছে নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যাত্রী উঠানো এবং নামানো যাবে না। এ নির্দেশনা ২০ আগস্টের মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশনা থাকলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। নির্দিষ্ট স্টপেজ  তৈরি তো দূরে থাক যে দুই একটি রয়েছে সেখানেও দেখা গেছে আগের অবস্থা। যাদের জন্য নির্দেশনা তাদের অনেকের জানা নেই মূল সড়কের পাশের বাড়তি অংশটি বা বাস স্টপেজ। যা যাত্রী উঠানো-নামানোর জন্য বৈধ স্থান।
সরজমিনে গতকাল রাজধানীর একাধিক স্থান ঘুরে দেখা যায়, বাস চালকরা যেখানে ইচ্ছে বাস থামাচ্ছে, যাত্রী নামিয়ে আবার পুনরায় উঠিয়ে চলে যাচ্ছেন। তারা কোনো কিছুই যেন জানে না। রাজধানীর কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড। মিরপুর-মতিঝিল রুটে চলে নিউ ভিশন বাস। এখানে যাত্রী দাঁড়িয়ে রয়েছেন ওভার ব্রিজের নিচে। বাসটি কোন স্থানে থামবে তার কোনো নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত নেই। বাসটি থামলো ওভার ব্রিজ থেকে আরো ৬০/৭০ গজ সামনে। এখানে কিছু লোক নামেন। পরে দৌড়ে এসে কিছু লোক আবার বাসে উঠেন। একই চিত্র শ্যামলী স্ট্যান্ডেও দেখা গেলো। নিউ ভিশন বাসের চালকের কাছে জানতে চাওয়া হলো আপনি কেন সড়কের উপরে বাস থামালেন। রাস্তার মধ্যে তো বাস থামানো নিষেধ। চালক বলেন, ঠিক আছে বাস সড়কের উপরে থামাবো না। কই থামবো তা তো আমাদের বলে দেয়নি। আমাদের বাস স্টপেজ নির্দিষ্ট করে দিয়ে জানানো হলে আমরা সেখানেই বাস থামাবো। একই চিত্র দেখা গেলো রাজধানীর ব্যস্ততম স্থান শাহবাগে। একে তো একাধিক সড়ক মিলিত হয়েছে ওইখানে। আবার সড়কের দুই পাশে রয়েছে দুইটি বড় হাসপাতাল। এরপরও সেখানে নেই বাস থামনোর নির্দিষ্ট কোনো স্টপেজ। যে পাশে বারডেম হাসপাতাল সে পাশে বাস থামে বাংলাদেশ বেতার থেকে শুরু করে একেবারে মোড় পর্যন্ত। বাসের চালক যেখানে খালি পাচ্ছে সেখান থেকেই লোক উঠায় নামায়। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পাশেও দেখা যায় একই অবস্থা। সড়কের ওই পাশেও শাহবাগ মোড় থেকে একেবারে বাস থামছে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় পর্যন্ত। নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ না থাকায় সে সুযোগটিই নিচ্ছে বাস চালকরা। এই মোড়ে কথা হয়ে আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলাচল করা বিআরটিসি বাসের এক চালকের সঙ্গে। তিনি জানান, তারা নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ বলতে বুঝেন স্ট্যান্ডগুলো। তিনি বলেন, এ মোড়ে তো কোথাও লেখা নেই এখানে বাস স্টপিজ তাইলে লোক তুলতে কিসের নিষেধ। তবে রাজধানী ঘুরে মাত্র কয়েকটি স্থানে পাওয়া যায় বাসের নির্দিষ্ট স্টপেজ। নগরীর ব্যস্ততম স্থান ফার্মগেটের সড়কের উভয় পাশ এবং কাওরানবাজার সড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ। এ ছাড়াও মহাখালি ফ্লাইওভারের নিচের পশ্চিম পাশ, বনানী বাস স্ট্যান্ড, এয়ারপোর্ট বাস স্ট্যান্ডে রয়েছে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ। কিন্তু সেসব স্থানে খুব কম বাসই থামতে দেখা যায়। মূল সড়কের পাশে থাকে যাত্রী দাঁড়ানো, সেখান থেকেই বাস চালকরা যাত্রী উঠিয়ে চলে যায়। আবার অনেক সময় সড়কের মধ্যেও যাত্রী উঠাতে নামাতে দেখা যায়।
ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনেই রয়েছে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ। এখানে নামেমাত্র কয়েকটি পরিবহনকে থামিয়ে যাত্রী উঠাতে-নামাতে দেখা যায়। যেগুলো সারাবছর ওই স্থানেই থামায়। এ ছাড়া বাকি বাসগুলো কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ের মূল সড়কেই যাত্রী উঠানামা করায়। এখানে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ বক্স। বাস চালকদেরকে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ ব্যবহার করানোর জন্য পুলিশকে কখনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি খুব একটা। ফার্মগেটে কিছু বাস নির্দিষ্ট স্টপেজ ব্যবহার করলেও কাওরানবাজারে তা দেখাই যায় না। এখানে বাস স্টপেজটা দীর্ঘ। কাওরানবাজারের এক মাথা থেকে শুরু করে একেবারে মোড় পর্যন্ত শেষ হয়েছে। মূল সড়কের পাশেই রয়েছে একটি সরু সড়ক যেখান থেকে যাত্রীরা উঠানামা করবে। কিন্তু এই সরু সড়কটি কখনো স্টপেজের জন্য ব্যবহার হয় না। শুধু বাস দ্রুত চলার জন্যই ব্যবহার হয়। আবার অনেক চালক জানেন না যে এটি যাত্রী উঠানো নামানোর নির্দিষ্ট স্টপেজ। এয়ারপোর্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউ পরিবহন (তিন নম্বর) বাসের সেলিম নামের এক চালক বলেন, এটা যে স্টপেজ তা আমাদের জানা নেই। আমরা জানলে তো ভিতর থেকেই যাত্রী তুলতাম। মূল সড়কে যাত্রীদের উঠানামা করাতাম না। একই কথা বললেন একাধিক পথচারী। তারা বলেন, এই সরু সড়কটি যে বাস স্টপিজ তা আমরাও জানি না। আবদুল মালেক নামের এক যাত্রী বলেন, বাস মূল সড়ক থেকে চলে যায়। ভিতরে থাকলে অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকলেও বাস পাই না। তাই বাধ্য হয়েই মূল সড়ক থেকে বাসে উঠতে হয়।
নগরীতে বাস থামার নির্দিষ্ট স্টপেজ না থাকায় একদিকে বাস চালকরা হচ্ছেন বেপরোয়া। অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীরা হয়ে পড়ছেন অসহায়। তাদের বাধ্য হয়েই মূল সড়ক থেকে বাসে উঠতে হয়। এসবের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ বাজেটে বক্তৃতায় মেয়র সাইদ খোকন জানান, নগরীর যানজট নিরসনের জন্য মেগা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টি বাস-বে/বাস স্টপেজ নির্মাণে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। যার তিনটির কাজ শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি স্থানে বাস স্টপেজ থাকলে বাকি স্ট্যান্ডে কবে নাগাদ নির্মাণ করা হবে তাদের জানা নেই। তবে তারা কাজ করছেন বলে জানান। উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখার মহা-ব্যবস্থাপক আবদুল লতিফ খান বলেন, আমাদের উত্তর সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। আমাদের কয়েকটি স্থানে নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ রয়েছে। এগুলোর বাইরে অন্য সব স্থানেই বাস স্টপেজ নির্মাণ করা হবে। আমাদের পরিবহন বিভাগের প্রকৌশলীরা এর তত্ত্বাবধান করছেন।

গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য by রিপন আনসারী

পথে ঘাটে শুধুই ভোগান্তি। এই ভোগান্তি ঠেলেই মানুষ চলছে ঢাকায়। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য। নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েই ফিরতে হচ্ছে ঈদ ফেরত যাত্রীদের। এমন দৃশ্য পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে শুরু করে ঢাকার গাবতলি পর্যন্ত। সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গাবতলী পর্যন্ত প্রত্যেকটি বাস স্টপেজে ঢাকামুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। এছাড়া দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে দুর্ভোগ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঈদ ফেরত যাত্রীদের।
সরজমিন মানিকগঞ্জের ঘাটে পথে ঘুরে দেখা গেছে ঈদ ফের মানুষের দুর্ভোগের করুন দৃশ্য। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরি ও লঞ্চযোগে যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাটে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন গণ-পরিবহনের কাউন্টার গুলোর সামনে। সকাল থেকে দিনভর ঠেলা ধাক্কায় চলে গণ-পরিবহনে ওঠার প্রতিযোগিতা। তাও আবার নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে দ্বিগুণ বেশি ভাড়া গুনে। এছাড়া আরিচা, উথুলী, টেপড়া, বরংগাইল, বানিয়াজুরী, তরা, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, গোলড়া, নয়াডাঙ্গিসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের প্রত্যেকটি বাস স্টপেজে ঢাকামুখো যাত্রীরা দিনভর চরম ভোগান্তি নিয়ে ফিরছে যে যার গন্তব্যে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় থেকে কেউ গন্তব্যে যেতে পারছে আবার কেউ বাসে উঠতে না পেরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে পাটুরিয়া ও আরিচা থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত বিআরটিসি’র নির্ধারিত ভাড়া ১৬০ টাকা। কিন্তু ঈদ ফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া গচ্ছে আড়াইশ’ টাকা করে। এছাড়া পদ্মা লাইন, নবীনবরণ, ভিলেজ লাইন, যাত্রীসেবাসহ লোকাল বাসগুলো একই কায়দায় নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে দ্বিগুণ ভাড়া নিয়ে যাচ্ছে গাবতলী, সাভার, নবীনগরসহ বিভিন্ন প্রান্তে। বাসের ভেতরে সিট না পেয়ে ভেতরে গাদাগাদি করে এমনকি ছাদেও যাচ্ছেন মানুষজন। এছাড়া ঈদকে পুঁজি করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইরের রোডের গাড়ি চলছে এই রুটে। তারা ভাড়া হাকাচ্ছে দ্বিগুণ। যাত্রীদের অভিযোগ- সাধারণ সময়ে পাটুরিয়া কিংবা আরিচা ঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত ভাড়া ৮০-৯০ টাকা হলেও যাত্রী চাপকে পুঁজি করে ঈদের পর ভাড়া নেয়া হচ্ছে কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। শুধু তাই নয়, আরিচা-পাটুরিয়া ঘাট থেকে নবীনগর ও সাভারের ভাড়াও একই সমান গুনতে হয়। এতে কম আয়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন।
পাটুরিয়া ঘাটে কথা হয় কয়েকজন বাসযাত্রীর সঙ্গে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকার রহিম মিয়া তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে লঞ্চযোগে আসেন পাটুরিয়া ঘাটে। সকাল ৯টা থেকে বাসের অপেক্ষায় বসে থাকেন পরিবারটি। বেলা ১১টায়ও বাসে উঠতে পারেনি।  ভাড়তি ভাড়ার অভাবে তারা কোনো বাসেই উঠতে পারছেন না বলে তাদের অভিযোগ। রহিম মিয়া জানালেন, আমরা নিম্ন আয়ের  মানুষ। ঢাকার বাসাবো এলাকায় কাজ করি। ঈদে বাড়ি এসে অধিকাংশ টাকাই খরচ করে ফেলেছি। ফেরার জন্য যে টাকা রেখে দিয়েছি তা দিয়ে বাসের ভাড়াই হচ্ছে না, তার ওপর বাড়তি ভাড়া কোথা থেকে পাবো?  দেখি কম টাকায় যাওয়া যায় কিনা তার জন্য অপেক্ষায় আছি।
ফরিদপুরের নারী শ্রমিক রোকেয়া বেগম ও সাহেলা বেগম  কাজ করেন নবী নগরের ইপিজেড-এ। ঈদের ছুটি শেষে  নবীনগর যাওয়ার উদ্দেশে তিনি পাটুরিয়া ঘাটে আসে। তিনি জানান, গাবতলী যেতেও ২০০ টাকা আর নবীনগর যেতেও একই ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অথচ পাটুরিয়া থেকে নবীনগরের ভাড়া মাত্র ৫০-৬০ টাকা দেই। তাই কম ভাড়ার গাড়ির জন্য অপেক্ষায় আছি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার সাহেব আলী জানালেন, পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে এসে বেকায়দায় পড়ে গেছি। ঢাকা যেতে দ্বিগুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছে। তাই সকাল থেকে বসে আছি কম ভাড়ায় যাওয়ার কোনো বাস আছে কি-না।
আরিচা ঘাটের চিত্র একই রকম। সেখানেও পাবনা, বাঘাবাড়ি, কাজিরহাট, সুজানগর, ভেড়াসহ আরো বিভিন্ন এলাকার ঈদ ফেরত মানুষজন ঢাকা ফিরতে বাস ভাড়ার রোসানলে পড়ে বেকাদায় পড়েছেন। যাত্রী সেবা ও নবীনবরণ পরিবহনসহ অনান্য পরিবহনের ভাড়া কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। নগরবাড়ীর শফি উদ্দিন  জানালেন, সাধারণ সময়ে আরিচা থেকে গাবতলী যেতে বাস ভাড়া লাগে সর্বচ্চ ৮০-৯০ টাকা। কিন্ত ঈদকে পুঁজি করে এখন ৯০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা নিচ্ছে।  বিআরটিসি বাসের উঠতে গেলে ভাড়া চাচ্ছে আড়াইশ’ টাকা। পাবনার সুজানগর এলাকার আকমল হোসেন জানালেন, বর্তমানে যে ভাড়া বাসে নেয়া হচ্ছে এটা টাকাওয়ালাদের জন্য। আমাদের মতো গবির মানুষের এটা ওপর বোঝা। ঘাটে প্রশাসনের লোকজন এই অনিয়ম দেখেও দেখে না।
বাস চালকরা জানিয়েছেন, ঈদের পর গাবতলী থেকে খালি গাড়ি নিয়ে তাদের ঘাটে আসতে হচ্ছে। তাই ভাড়া পুষিয়ে নিতে কিছুটা বেশি নেয়া হচ্ছে।
এছাড়া  পাটুরিয়া ও আরিচা লঞ্চ ঘাটে ঈদ ফেরত মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা না করে প্রত্যেকটি লঞ্চে উঠানো হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী। এসব রুটে  ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করছে। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় লঞ্চে গাদাগাদি করে যাত্রী পরাপার হচ্ছে।
এদিকে দৌলতদিয়া ঘাটের যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় সেখানে যানজট দেখা দিয়েছে। সকাল থেকেই ঘাট ছাড়িয়ে যানবাহনের লম্বা লাইন কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। এতে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ঈদ ফেরত যাত্রীরা ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকছে  ফেরির সিরিয়াল পেতে। ফলে যানবাহনের যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ঘাট এলাকায়। পাশাপাশি রয়েছে পদ্মায় তীব্র স্রোতে। স্রোতের কারণে বিলম্ব হচ্ছে ফেরি পারাপার। বিআইডাব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের এজিএম জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঈদের আগে মাওয়া এলাকায় নব্যতা সংকটের কারণে সেখানে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। ঈদের পর মূলত দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। কয়েকদিন ধরেই সেখানে চাপ বেশি। তবে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল করছে কিছুটা ধীর গতিতে। যার কারণে টিপও কমে গেছে। পাটুরিয়া ঘাটে কোনো সমস্যা নেই বলে তিনি জানান। পাটুরিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টিআই) একে এম ফজলুল হক বলেন, বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীরা কোন অভিযোগ করছে না।