Saturday, June 14, 2014

পরিণীতির স্বপ্নের নায়ক সাইফ

পরিণীতি চোপড়া তারকা হয়েছেন মাত্র তিন বছর হলো। তার আগে অন্য সাধারণ মানুষের মতো তার কাছেও পর্দার তারকারা ছিলেন স্বপ্নের মতো। আর তার স্বপ্নের পুরুষ ছিলেন সাইফ আলি খান। বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা হলে ছোট নবাবের ছবি দেখলেই পরিণীতির মনে হতো, ‘ইস্! যদি তার নায়িকা হতে পারতাম!’ অবশেষে ২৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর বহুদিনের শখ পূরণ হতে চলেছে।

সাইফের সঙ্গে একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন পরিণীতি। তিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, তার সঙ্গে অভিনয় করতে যাচ্ছি। ভক্ত হিসেবে তার জন্য আমি সত্যিই দিওয়ানি হয়ে গিয়েছিলাম।’
পরিণীতিকে তার সাধাসিধে স্বভাবের জন্য বেশ পছন্দ করেন নবাবপত্নী কারিনা কাপুর খান। তাই সাইফ প্রযোজিত এই ছবিতে নায়িকা হিসেবে পরিণীতিকে নাকি কারিনাই পছন্দ করেছেন।

সাইফ-পরিণীতি জুটির প্রথম ছবির নাম, কাহিনী এবং পরিচালকের কোনো খবরই এখনও জানানো হয়নি। তবে এটি প্রযোজনা করছে সাইফের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইলুমিনাতি ফিল্মস। ছবিটি সম্ভবত পরিচালনা করবেন সাইফের প্রযোজনা সংস্থার অংশীদার দীনেশ বিজন।

২ লাখ ১৬ হাজার হীরায় ঢাকা রিয়ান্না

কাউন্সিল অব ফ্যাশন ডিজাইনারস অব আমেরিকান অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ফ্যাশন আইকন পুরস্কারটি জিতলেন গায়িকা-অভিনেত্রী রিয়ান্না। তিনি যে পুরস্কারটির জন্য পুরোপুরি যোগ্য, সাজগোজে সেটারও প্রমাণ দিলেন এই অনুষ্ঠানে।

চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়া একটি পোশাকে সেজে এসেছিলেন এই ২৬ বছর বয়সী। পোশাকটি ডিজাইন করেছেন অ্যাডাম সেলম্যান। চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, পোশাকটি ২ লাখ ১৬ হাজার হীরায় খচিত।

পোশাকটি এমনই পিনপিনে যে রিয়ান্নার শরীরের প্রতিটি বাক কারও চোখ এড়ায়নি। পুরো পিঠ খোলা, বুকে কোনো অন্তর্বাস নেই, উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ পোশাকটিতে তাকে অসাধারণ লাগছিল।

পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে মাথায় একটি হিজাবও পরেছিলেন রিয়ান্না। আর স্মোকি সাজ দিয়েছিলেন চোখে, মুখে ছিল খুবই হাল্কা মেকআপ। এই জমকালো সাজগোজে যখন তিনি আলোর মাঝে এলেন, পোশাকের চাকচিক্য আরও বেড়ে গেল। স্বাভাবিকভাবেই হীরাগুলোও করছিল জ্বলজ্বল।

আলোকচিত্রীদের সামনে দাঁড়াতেই হয়তো পশমযুক্ত একটি স্কার্ফ ব্যবহার করেছিলেন রিয়ান্না। তবে উত্তেজক পোশাক হলেও তাকে দেখে কেউ কটুক্তি করতে পারেনি। বরং সবার চোখ ও মন দুটোই কেড়েছেন মার্কিন এই পপতারকা।

যৌনদাসীর কথায় কাঁদলেন অ্যানজেলিনা জোলি

কাঁদলেন বিশ্বের সেরা আবেদনময়ী অভিনেত্রী অ্যানজেলিনা জোলি। সুদানের শিশু যৌনদাসীদের কথা শুনে কাঁদলেন তিনি। বুধবার সাবেক এক শিশু যৌনদাসী বলছিলেন, কিভাবে তাকে উগান্ডা থেকে অপহরণ করে অন্য আরও শিশুদের সঙ্গে শত মাইল দূরের সুদানে পাঠানো হয়েছিল। নগ্ন অবস্থায় পালিয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত তাকে বহুবার ধর্ষণ করা হয়েছে। তার নাম ইসথার রুথ আতিম। সংঘর্ষ ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন নির্যাতনবিষয়ক একটি বৈশ্বিক সম্মেলনে এসব বলছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে মাত্র ৯ বছর বয়সে পূর্ব উগান্ডার কাবেরামাইদো জেলার একটি গ্রাম থেকে তাকে অপহরণ করে প্রায় ৩ বছর ধরে তার ওপর নৃশংসভাবে যৌন নির্যাতন চালায় কুখ্যাত লর্ডস রেসিসটেন্স আর্মি (এলআরএ) নামক উগান্ডার একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী দলের সদস্যরা। এলআরএ প্রায় দুই যুগ ধরে উত্তর উগান্ডায় গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। হলিউড অভিনেত্রী অ্যানজেলিনা জোলি ও বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগের সামনে ইসথার রুথ বলেন, তিনি সুদানে এলআরএ বিদ্রোহীদের দ্বারা কতবার ধর্ষিত হয়েছেন, তা তিনি নিজেও জানেন না। তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ ছিল প্রতিদিনকার চিত্র। ধর্ষণের পর আমি সাধারণ মানুষের মতো নাড়াচাড়াও করতে পারতাম না। খুব করুণভাবে হাঁটতে হতো, মনে হতো যেন কোন ব্যাঙ লাফিয়ে চলছে। তাদের সঙ্গে সব সময় দাসীর মতো আচরণ করতো বিদ্রোহীরা। তাদের কোমরে শক্তভাবে রশি বেঁধে রাখা হতো। এলআরএ সদস্যরা তাদের সাবধান করে দিয়েছিল, যদি তারা পালাতে চেষ্টা করে, তাহলে মেরে ফেলা হবে। সকল শিশু যৌনদাসীর সামনেই পালানোর চেষ্টাকালে ধরা পড়া একজনকে নিষ্ঠুরভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। তবুও অনেক শিশুই রাতের অন্ধকারে পালানোর চেষ্টা করতো। পালাতে গিয়ে বহু শিশুই বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছিল। বন্দি অবস্থায় তাদের পোশাক অশ্রুতে ভেজা থাকতো। তিনি অশ্রুবিগলিত কণ্ঠে বলেন, অনেক সময় আমাদেরকে খুব ঠা-া বা বৃষ্টি বা রোদের মধ্যে ঝোপঝাড়ের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হতো। কোন খাবার এমনকি পানিও দেয়া হতো না। যদি তৃষ্ণা লাগে, তাহলে সঙ্গের আরেক শিশুকে প্রশ্রাব করতে বলা হতো, তারপর সেসব খেয়েই তৃষ্ণা নিবারণ করতে হতো। সবাই ছিল খুব তৃষ্ণার্ত। কেউ যদি প্রশ্রাব করতে না পারতো, তাহলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হতো। ইসথারের কাজ ছিল রান্না করা, কিন্তু নিজে সেই রান্না খেতে পারতো না। বাধ্য হয়ে গাছের পাতা খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতে হতো। সকল বয়সের সৈনিক এসে ধর্ষণ করতো। যদি কোন শিশু এতে অস্বীকৃতি জানাতো, তাহলেই মৃত্যু। ৩ বছর পর ১২ বছর বয়সে তিনি পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু তখন তিনি নতুন মানসিক সমস্যায় পড়েন। তখন তাকে কাউন্সেলিং করতে হয়েছিল। তখন সব সময় দুঃস্বপ্নের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। এদিকে ঘরে ফিরে আসার পর তিনি উপলব্ধি করলেন সবকিছু আগের মতো নেই। বন্দিকালীন তার ভাইকে খুন করেছে এলআরএ, তার বাবার ওপর অত্যাচার চালিয়ে, তার মাকে করেছে গণধর্ষণ। তিনি অতঃপর স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু যৌনদাসত্বের শিকার হওয়া অন্যান্য শিশুর মতো, তাকেও পেতে হয়েছিল কলঙ্কিনী ও অলক্ষুণে অপবাদ। তিনি জানান, যেসব মেয়ে এলআরএ কর্তৃক অপহৃত হয়েছে, তারা নিজ ঘরে ফিরলে, নিজের সমপ্রদায়ের মধ্যে এখনও কলঙ্কিত মেয়ে হিসেবে পরিগণিত হয়। এছাড়া, অপহরণকালীন সময়ে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায়, জীবনযুদ্ধে তাদের নিরন্তর সংগ্রাম কখনই শেষ হয় না। তিনি এই ধরনের ধর্ষিতাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আর্থিক সাহায্য ও এলআরএ বিদ্রোহীদের থেকে সুরক্ষা এবং অপহৃত শিশুদের এলআরএ’ হাত থেকে মুক্ত করার জন্য উগান্ডার সরকারের কাছে আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, উগান্ডার সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবাজ নেতা জোসেফ কনির নেতৃত্বাধীন এলআরএ’র সংঘাতের সময়ে বহু শিশু অপহৃত হয়। এদের অনেকে যোদ্ধা, কুলি, রান্না ও যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এসব সংঘাত উগান্ডার প্রতিবেশী দেশসমূহেও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে ইথার একটি সংগঠন দাঁড় করিয়েছেন, যেটি এই ধরনের সাবেক শিশু যৌনদাসীদের জন্য কাজ করে। তিনি এদের সাহায্যের জন্য উগান্ডা সরকারের কাছে আবেদন জানান। এলআরএ প্রধান জোসেফ কনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত। বর্তমানে সে মধ্য আফ্রিকার জঙ্গলে পালিয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়।

মিরপুরে সংঘর্ষ, নিহত ১০

রাজধানীর মিরপুর বিহারি বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে এলাকাবাসী ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শবে বরাতের রাতে আতশবাজি পোড়ানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সংঘর্ষের পর বিহারি ক্যাম্পের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় স্থানীয় লোকজন। আগুনে পুড়ে অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তাদের লাশ উদ্ধার করে বিহারি ক্যাম্পেই রাখা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের গুলিতে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফজরের নামাজের পর বিহারি ক্যাম্পের কয়েকজন যুবক আতশবাজি পোড়ালে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন তাদের বাধা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বেধে যায়।  পরে দুর্বৃত্তরা বিহারি ক্যাম্পের কয়েকটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ঘুমন্ত লোকজন মারা যায়। হতাহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিহারি ক্যাম্পের লোকজন বিক্ষোভ করতে থাকেন। তাদের বিক্ষোভ থামাতে পুলিশ রাবার বুলেট ও কাদানে গ্যাস ছুড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকার রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। পুলিশের সাঁজোয়া যান রাস্তায় টহল দিচ্ছে। নিহতদের পরিবারের সদস্য শওকত জানান, আগুনে পুড়ে তার স্ত্রী শাহানি (২২), ছেলে মারুফ (৩), শাশুড়ি বেবি (৪০), শ্যালিকা আফসানা (১৮), রুফসানা (১০), শ্যালক আসিফ (২০), দুই জমজ লালু ও গুলু। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে আজাদ নামের আরও এক যুবক হাসপাতালে মারা যান বলে শওকত জানান। এদিকে আমাদের মেডিকেল প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ঢাকা মেডিকেলে গুলিবিদ্ধ একজনের লাশ নেয়া হয়েছে। তার নাম আজাদ। সেখানে আহত অবস্থায় আরও কয়েকজনকে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার কারণ নিয়ে ভিন্ন রকম বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। বিহারী ক্যাম্পের লোকজনের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থকরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। পাশের একটি বস্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় সুযোগ বুঝে তারা এভাবে প্রতিশোধ দিয়েছে। ওই বস্তিটি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা করেছেন বলেও দাবি বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দাদের।

যৌন আবেদনময় শরীর, আকর্ষণীয় ঠোঁট এবং চেহারার ভয়ঙ্করতম ‘গ্ল্যামারাস’ মাফিয়া রানী

মেক্সিকোর ২৭ বছরের তরুণী ক্লডিয়া ওচোয়া ফেলিক্স তার যৌন আবেদনময় শরীর, আকর্ষণীয় ঠোঁট এবং চেহারা নিয়ে মার্কিন রিয়্যালিটি স্টার কিম কারদাশিয়ানের চেয়ে কোন অংশে কম যান না। বরং, সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটগুলোতে তার পোস্ট করা ছবি দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। বিএমডব্লিউ সিরিজ ৩’র বিলাসবহুল গাড়ির লাল চামড়ায় মোড়ানো সিটে গোলাপি রঙের একে-৪৭ রাইফেল হাতে তোলা ছবিটি অনেকেরই চেনা। টুইটারে ক্লডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ১ লাখের বেশি। ৩ সন্তানের মা ও দুর্ধর্ষ তরুণী ক্লডিয়াকে সবাই ‘মেক্সিকান কিম কারদাশিয়ান’ বলেই চেনেন। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত গ্ল্যামারাস ক্লডিয়ার চারপাশে থাকেন তার দেহরক্ষীরা। মার্কিন সেলিব্রিটিদের সঙ্গে ক্লডিয়ার পার্থক্য কেবল এক জায়গায়। সেলিব্রিটিরা যেখানে নিজেদের অতি উৎসাহী ভক্তদের কাছ থেকে রেহাই পেতে তাদের দেহরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন, সেখানে সশস্ত্র দেহরক্ষীরা গুপ্তঘাতকদের হাত থেকে সর্বক্ষণ ক্লডিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে তার চারপাশে ঘোরাফেরা করেন। কারণ, ক্লডিয়া সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও নৃশংস হিট স্কোয়াড লস অ্যানট্রাক্সের ডন বা মাফিয়া রানী নির্বাচিত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিরর। মেক্সিকোর এ গ্যাং শ’ শ’ লোমহর্ষক খুনের জন্য দায়ী। এ গ্যাংটি সিনালোয়া ড্রাগ কার্টেলের সবচেয়ে কুখ্যাত চুক্তিভিত্তিক খুনি স্কোয়াড। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে সিনালোয়া ড্রাগ কার্টেল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মাদক চোরাকারবারি প্রতিষ্ঠান। লস অ্যানট্রাক্স স্কোয়াডের সদস্যদের বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ বলে গণ্য করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এরকম কিছু লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ গ্যাংটির সদস্যরা জড়িত। সাম্প্রতিক নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি সেতুর ওপর ৩টি হিমায়িত মৃতদেহ ঝুলতে থাকা, ভলিবল খেলার সময় ৮ জনকে গুলি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চোরাকারাবারি গ্যাংয়ের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৩০ জন নিহত হবার ঘটনাগুলো নৃশংসতম। যাই হোক। টুইটার আর ফেইসবুকের সঙ্গে ভীষণ সখ্যতা রয়েছে মাফিয়া রানীর। ফেইসবুকেও তার অনুসারীর সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। প্রতিদিন হাজার হাজার অনুসারী তার ফেইসবুক ও টুইটারের পেইজগুলোতে ভিজিট করেন। সিনালোয়ার এক মাদক চোরাকারবারি এল চাভো ফেলিক্সের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ক্লডিয়ার। ৩টি সন্তানের জন্ম হলেও, তাদের সম্পর্ক বেশিদূর গড়ায়নি। নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক হয় লস অ্যানট্রাক্সের ডন জোস রডরিগো গ্যাম্বোয়ার সঙ্গে। কিন্তু, ক্লডিয়ার প্রেমিক গ্যাম্বোয়া গত জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হয়। এটা সুযোগ করে দিলো ক্লডিয়াকে মাফিয়ার রানীর আসনে বসার। ক্লডিয়া তখনও স্পটলাইটে আসেননি। এক তরুণীর খুনের ঘটনায় মোড় গেলো পাল্টে। প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে নির্যাতিত ও খুন হয়েছিলেন ২৩ বছরের ইউরিনা ক্যাসটিলো টরেস। চেহারায় বেশ মিল থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং ক্লডিয়ার পরিবর্তে ভুল করে গ্যাম্বোয়ার সাবেক প্রেমিকা ইউরিনাকে খুন করে। মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি প্রচার হলো। ওই হামলার পরও বেপরোয়া ক্লডিয়া তার লাইফস্টাইলে তেমন কোন পরিবর্তন আনেননি। এখনও তাকে বিভিন্ন নাইট ক্লাবে নিয়মিত যেতে দেখা যায়। পার্থক্য শুধু একটাই। এখন তার সঙ্গে ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দেহরক্ষীদের থাকতে হয়। ২০০৬ সাল থেকে ক্লডিয়ার নাম মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চোরাকারবারি গ্যাংসমূহ। আর অবিশ্বাস্যভাবে এ পর্যন্ত তাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে ১ লাখ মানুষকে। অবশ্য, তার সঙ্গে কোন অপরাধ সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে বলে স্বীকার করেননি ক্লডিয়া। বরং, তার বিরুদ্ধে যা রটানো হচ্ছে, তাকে কাপুরুষোচিত মিথ্যা ও অপবাদ বলেই দাবি করছেন তিনি। ক্লডিয়া যে শুধু ৩ সন্তানের এক মমতাময়ী মা, সেটা বারবার বোঝাতে গিয়েও ব্যর্থ হলেন। শেষ পর্যন্ত ইউরিনার ওপর হামলার পর কোন সময় অপচয় না করে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটে নিজের কুখ্যাত কর্মকাণ্ডের প্রচারণা শুরু করলেন ক্লডিয়া। তার সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট বহু ছবি আপলোড করলেন। কিন্তু, যখনই জানলেন, তিনি কিলিং স্কোয়াডের প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন, লস অ্যানট্রাক্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সব অপরাধ কর্মকাণ্ডের অধিকাংশ প্রমাণ ইন্টারনেট থেকে একে একে সরিয়ে ফেললেন। বরং, ফেইসবুকে নতুন একটি পেইজ চালু করলেন তিনি। অপরাধ কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার সব ছবির পরিবর্তে সেখানে স্থান পেলো এক মমতাময়ী মায়ের ছবি, যিনি তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের কাছে সবকিছু। কিন্তু, অতীতের সব প্রমাণ সরাতে পারেননি ক্লডিয়া। বিএমডব্লিউ সিরিজ ৩’র বিলাসবহুল গাড়ির লাল চামড়ায় মোড়ানো সিটে গোলাপি রঙের একে-৪৭ রাইফেল হাতে তোলা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। লস অ্যানট্রাক্স গ্যাংয়ের মাথার খুলির প্রতীকটাও একে-৪৭’র অ্যামুউনিশন ক্লিপে সুস্পষ্ট। একটি ছবিতে একটি গ্রেনেড লঞ্চার হাতেও তাকে দেখা গেছে যেখানে লেখা আছে, দেখে পা বাড়াও, বন্ধু! এদিকে গ্যাম্বোয়া গ্রেপ্তার হবার পর থেকে লস অ্যানট্রাক্সের প্রধান হন ক্লডিয়া। তখন থেকে সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটগুলোতে তার প্রতিটি পদক্ষেপ আপডেট করা হচ্ছে। লস অ্যানট্রাক্সের সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে বারবার দাবি করলেও, প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চোরাকারবারি সংগঠনগুলোর প্রধান টার্গেট এখন মাফিয়া রানী ক্লডিয়া। গত মাসে যখন ইউরিনা জিম থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন তাকে অপহরণ করে বিপক্ষ গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাকে নির্যাতন করে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ একটি স্কুলের পেছনে ফেলে রাখা হয়। ইউরিনাকে তারা ক্লডিয়া ভেবে ভুল করেছিল। জীবনের এতো ঝুঁকি সত্ত্বেও, তা যেন থোড়াই কেয়ার করেন তিনি। বিভিন্ন নাইটক্লাবে নিয়মিত তাকে যেতে দেখা যায়। মদের নেশায় ডুবে থাকেন তিনি। অবশ্য, মাতাল হলেও, ক্লডিয়ার দেহরক্ষীরা বরাবরই মাফিয়া রানীর সুরক্ষায় নিজেদের ষোল আনা প্রস্তুত রাখেন।

শেখ হাসিনার বিদায় ঘন্টা বেজে উঠেছে : ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, জণগণের সমর্থন ছাড়া কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। ৮৬ ও ৮৮ নির্বাচন দিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকতে পারেন নি। তাকে গণঅভ্যুত্থানে বিদায় নিতে হয়েছে। একই পথে হাটছেন হাসিনাও। তারও (শেখ হাসিনা) বিদায় ঘন্টা বেজে উঠেছে। শনিবার বেলা ২টায়  ঠাকুরগঁাঁও জেলা পরিষদ (বিডি হল )মিলনায়তনে জেলা  বিএনপি আয়োজিত দলীয় কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  এসব কথা বলেন তিনি। নারায়নগঞ্জের শামিম ওসমান প্রসঙ্গে সংসদে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ অবৈধ সরকার ভয়াবহ সন্ত্রাস খুনিদের সঙ্গে আছে। বিরোধী দলকে নির্মুল করতে শুধু এক বছরে বিএনপির ৩১০ জন নেতা কমীকে খূন ও ৩৭ জনকে গুম করেছে। 
সরকারের নানা দোষ ও ব্যর্থতা  তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখায় বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা দেয়া স্বর্ণের জায়গায় পিতল দেয়া হয়েছে যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুর্ণ হয়েছে।    দলের নেতাদের অঙ্গসংগঠনের সম্মেলন ও কমিটি পূর্ণগঠনের নির্দেশ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, অবৈধ সরকার বাজেট দেয়ার ক্ষমতা রাখেনা। হলমার্ক কেলেংকারি ও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের  টাকা হরিলুটকারীদের শাস্তি না দিয়ে বাজেটে তাদেরকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা  ভুর্তিকি দেয়া হয়েছে । যা দেশের অর্থনীতিকে ধবংস করছে। বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিস্ট এক নায়ক সরকারের সঙ্গে তুলনা করে সরকারের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দলীয় নেতা কর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি। জেলা কমিটির সহসভাপতি শাহেদ কামাল ডালিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান  তৈয়মুর রহমান,এ্যাড.আব্দুল হালিম, পয়গাম আলী, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, নূর করিম, অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম, আইনুল হক মাস্টার, ফোরাতুন নেহার, সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধূরী, আব্দুল হামিদ প্রমুখ।

সকল প্রশংসা নতুন সম্রাটের

সংখ্যাটা অবিশ্বাস্য! ৯৩ শতাংশ। আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ। দারুণ, একদম আক্ষরিকভাবে। মিসরের সাধারণ নির্বাচনে এই পরিমাণ ভোট পেয়ে সাবেক ফিল্ড মার্শাল আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসি আধুনিক আরবের অন্য অবিনাশী দানবদের সঙ্গে একই কাতারে উঠে এলেন: নাসের, সাদাত, মুবারক, হাফেজ আল আসাদ প্রমুখ। ব্যাপারটা এমন হলো যে সিসি আরবের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সবচেয়ে অদম্য, সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে মাত্র ৭ শতাংশ ভোট কম পেয়েছেন। সাদ্দাম হোসেন ২০০২ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের গণভোটে ১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সব প্রশংসা মিসরের সম্রাটের, তিনি যদি বাগদাদের নিষ্ঠুর শাসকের সমকক্ষ নাও হন। কিন্তু পরিসংখ্যান কে অস্বীকার করবেন? কেন মাত্র ৯৩ বছর আগে ব্রিটিশদের আয়োজিত গণভোটে (অবশ্যই জাল ভোট) ফয়সাল ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ইরাকের রাজা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন? তার পর থেকে জনতার সমর্থন পাওয়া আরব নেতাদের জন্য ডালভাতে পরিণত হয়। মুবারক ২১ বছর আগে ৯৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সরকারি খাতে সংস্কারের জন্য সাদাত ৯৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ ভোট পান। সাদ্দাম ২০০২ সালে ১০০ শতাংশ ভোট পাওয়ার আগে ১৯৯৩ সালে ৯৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, আর হাফেজ আল আসাদ ১৯৯৯ সালে ৯৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ ভোট পান। মিসরীয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে এই নির্বাচনে ৪৬ ভাগের কমসংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছেন। যদিও এই মহান ব্যক্তি ভেবেছিলেন ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দেবেন—তার পরও এতে কিছু যায়-আসে না। সিসি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, ৮০ মিলিয়ন ভোটার ভোট দেবেন। সিসির প্রতিদ্বন্দ্বী হামদিন সাবাহি সত্যিকার অর্থেই একজন ভাগ্যবিড়ম্বিত ব্যক্তি।
তিনি মাত্র ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, এটা আসলেই হাস্যকর। সাবাহি প্রকৃত অর্থেই একজন সাহসী ব্যক্তি, তিনি মুবারকের গুন্ডাদের হাতে মার খেয়েছিলেন। তাঁকে জেলেও পোরা হয়েছিল। এটা এক অর্থে সম্মানেরই বিষয়। কিন্তু তিনি কেন ভোটে দাঁড়ালেন, সেটাই ভেবে পাই না। মোহাম্মদ মুরসির ভাগ্যে কী আছে? তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, ২০১২ সালের নির্বাচনে তিনি ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁকে অনেক বছর কারাভোগ করতে হতে পারে, এমনকি তাঁকে ফাঁসিতেও ঝোলানো হতে পারে। ব্রাদারহুড যদি সব ‘সন্ত্রাসের’ উৎস হয়, তাহলে পশ্চিমারা তাঁর মৃত্যুতে অঝোরধারায় অশ্রু বর্ষণ করবে, যা বাস্তবে কুম্ভীরাশ্রুকেও ছাড়িয়ে যাবে। বিরোধী পক্ষকে দমন করতে নাসেরের কোনো সংশয় ছিল না। আর আজ তাঁর চেয়ে কম ভোট পাওয়া একজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমা দাবি করতে পারেন? কিন্তু ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেলে কী ঘটবে? সৌদি বাদশা ফোন করে সিসিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। হ্যাঁ, সৌদি আরব সারা দুনিয়ায় গণতন্ত্রের এক মূর্ত প্রতীকই বটে। সিসি আবার আবদুল্লাহকে ‘আরবের রাজা’ বলে সম্বোধন করেছেন, একজন মিসরীয়র পক্ষে সৌদি রাজাকে এভাবে প্রশংসা করা সত্যিই অভূতপূর্ব। কিন্তু সৌদি আরবের ডলারে মিসর (ও তাঁর নতুন রাষ্ট্রপতি) যখন ভেসে যাবে, তখন আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। তারপর নিশ্চয়ই আরব উপসাগরের অন্য রাজা-বাদশারা সৌদি বাদশার পেছনে দাঁড়িয়ে গাঁইগুঁই করতে থাকবেন। তবে এ কাতারে অবশ্যই কাতার থাকবে না, কারণ এই দেশটি এখনো কারাবন্দী মুরসির পক্ষে। সিসির সবচেয়ে বড় পশ্চিমা গুণগ্রাহী টনি ব্লেয়ারও তাঁর মন ভোলানো কথা নিয়ে পেছনে পড়ে থাকবেন না। আর ওবামাও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকবেন না।
যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আফগানিস্তানের গত প্রতারণামূলক নির্বাচনে জয়ী হামিদ কারজাইকে অভিনন্দন জানাতে পারেন, তাঁর পক্ষে সিসির ক্ষমতায় আরোহণে মুখে হাসি নিয়ে মিসরের গণতন্ত্রে উত্তরণপর্বকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দেওয়া তো কোনো ব্যাপারই না। সিসি ইতিমধ্যে বলেছেন, মিসরীয়দের আরও ২০ বছর গণতন্ত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফলে এই ‘উত্তরণ’প্রক্রিয়া চোখে পড়ে না। তার পরও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এসব আজগুবি আশ্বাসবাণীর কমতি নেই। যেসব তরুণ ও উদারনীতিক ২০১১ সালের বিপ্লবে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এই নির্বাচনে ভোট দেননি। যে ৫০ শতাংশ ভোটার ভোট দেননি, তাঁরা এঁদেরই অংশ। কিন্তু তাঁদের পরিচয় কেউ ঘেঁটে দেখবেন না। এই মানুষেরা ২০১৩ সালে সিসির ক্যু-তেও সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু সিসির অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, সেটা ভেবে দেখেননি। জনপ্রিয়তা আসলেই একটি পরিবর্তনশীল ব্যাপার। কায়রোর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিষ্প্রভ ময়দান তাহরির স্কয়ারে জড়ো হয়ে সিসি–সমর্থকেরা তাঁর বিজয় উদ্যাপন করেছেন। এই সিসি তাঁর পূর্বসূিরকে সামরিক উভ্যুত্থান করে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দিয়েছেন। অথচ সিসির নীতি খুবই আবছা: কঠোরতা ও দেশপ্রেম। বিক্ষোভকারীদের বলা হয়েছে, আপনারা পরিবারবর্গকে নিয়ে আসুন। কাজ, পরিবার, পিতৃভূমি—বর্গগুলো কি পরিচিত মনে হয় না? ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন রবার্ট ফিস্ক: ইংল্যান্ডের দি ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার মধ্যপ্রাচ্য সংবাদদাতা।

শাবানের মধ্যরজনী ‘শবে বরাত’

হিজরি সনের শাবান চান্দ্রমাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হাদিসের পরিভাষায় ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ অর্থাৎ ‘শাবানের মধ্যবর্তী রজনী’কে উপমহাদেশে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। মাহে রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য শাবান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফজিলতময় মাস। রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিক হারে এ সময় দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসে আমাদের ওপর বরকত নাজিল করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন!’ (মুসনাদে আহমাদ) নবী করিম (সা.) শাবান মাসে বেশি নফল রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের রোজা পালন করতে বলতেন। হজরত উসামা বিন জায়েদ (রা.) বলেন, ‘একদা নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি তো আপনাকে শাবান মাসের মতো অন্য কোনো মাসে এত অধিক রোজা রাখতে দেখি না।’ ... উত্তরে তিনি বললেন, ‘শাবান মাসটি রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী মাস। অনেক মানুষ এ মাসের ফজিলত সম্পর্কে উদাসীন থাকে। অথচ বান্দার আমলগুলো এ মাসে আল্লাহর সমীপে পেশ করা হয়। এ জন্য আমি চাই যে আমার আমলগুলো আল্লাহর দরবারে এমতাবস্থায় পেশ করা হোক যে আমি রোজাদার।’ (বায়হাকি) ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে শাবানের মধ্যরজনীটি অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহিমান্বিত বলে বিবেচিত। আল্লাহ তাআলা মানবজাতির জন্য তাঁর রহমতের দরজা এ রাতে খুলে দেন। রাত জেগে নফল ইবাদত করে নিজের গুনাহখাতা মাফ ও অপরাধের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলে আল্লাহ তা কবুল করেন এবং অসংখ্য অনুতপ্ত বান্দাকে পাপমুক্ত করে দেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা রহমতের ভান্ডার নিয়ে তাঁর সব সৃষ্টির প্রতি এক বিশেষ ভূমিকায় আবির্ভূত হন এবং মুশরিক অথবা হিংসুক ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’
(তাবারানি) হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মধ্য শাবানের রজনী আসে, তখন তোমরা রাত জেগে ইবাদত করো এবং পরের দিন রোজা রাখো। কেননা, প্রতি রাতে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মহান আল্লাহ পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, “কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করব। কোনো রিজিকপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। কোনো বিপদগ্রস্ত আছে কি? আমি তাকে বিপদমুক্ত করব।” সুবহে সাদেক পর্যন্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে।’ (ইবনে মাজা) মাহে রমজানের প্রস্তুতির লক্ষ্যে শাবান মাসের অন্যতম ঐচ্ছিক ইবাদত রোজা পালন হিসেবে ‘নিস্ফে শাবান’ তথা শবে বরাতের আগে সোম ও বৃহস্পতিবার মিলিয়ে কমপক্ষে দুটি নফল রোজা পালন করা যেতে পারে। তা ছাড়া প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে ‘আইয়ামে বিজের’ তিনটি নফল রোজা পালনের জন্য নবী করিম (সা.) অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, ‘যখন তুমি মাসে তিনটি রোজা রাখতে চাও, তখন ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখো।’ (তিরমিজি) হজরত কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) আমাদের ‘আইয়ামে বিজের’ রোজা রাখার হুকুম দিতেন, আর আইয়ামে বিজের দিনগুলো হচ্ছে চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ।’ (আবু দাউদ) রাসুলুল্লাহ (সা.) গৃহে অবস্থানকালে বা ভ্রমণরত অবস্থায় কখনো আইয়ামে বিজের রোজা ছাড়তেন না।’ (নাসাঈ) এ অবস্থায় কেউ যদি ‘নিস্ফে শাবান’ বা শবে বরাত পালন উপলক্ষে শাবান মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের তিনটি ঐচ্ছিক রোজা রাখেন, তাহলে এর সুবাদে ‘আইয়ামে বিজের’ নফল রোজা পালনের সওয়াব অর্জন করতে পারেন। শবে বরাতের আরেকটি নেক আমল মরহুম পিতা-মাতা,
আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর কবর জিয়ারত এবং ইসালে সওয়াব বা মৃতের জন্য সওয়াব পৌঁছে দেওয়া। একদা মধ্য শাবানের রজনীতে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-এর ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে রাসুলে করিম (সা.) নীরবে জান্নাতুল বাকির সমাধিস্থলে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করছিলেন। (বায়হাকি) নবী করিম (সা.) কবর জিয়ারতে গিয়ে মানুষকে এ দোয়া করতে শিক্ষা দিয়েছেন, ‘হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলিমরা! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! আমরাও ইনশা আল্লাহ তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব! আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের এবং তোমাদের জন্য ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি!’ (মুসলিম) নিস্ফে শাবানের রাতে অধিক নফল নামাজ আদায় গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। যুগ যুগ ধরে শবে বরাতে মুসলিম সম্প্রদায় যথাসাধ্য রাত জেগে বাসায় ও মসজিদে ঐচ্ছিক ইবাদত তথা নফল নামাজ, তাহাজ্জত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হাদিস অধ্যয়ন, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তওবা-ইস্তেগফার ও দোয়া-দরুদে মশগুল থাকেন এবং পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের কল্যাণ, দেশ-জাতি তথা মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য আল্লাহর রহমত কামনায় এবং সবার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। শবে বরাতে অযথা আতশবাজিতে অনর্থক অপব্যয় না করে সমুদয় অর্থ জনকল্যাণকর কাজে বা গরিব-মিসকিনের মধ্যে দান-সাদকা করে দেওয়া পুণ্যময় কাজ। এ রজনীতে অহেতুক আলোকসজ্জা করা, তারাবাতি জ্বালানো, আতশবাজি পোড়ানো, পটকা ফুটানো, আড্ডাবজি বা মেলা বসানো প্রভৃতি শরিয়ত গর্হিত কাজ। পাড়া-মহল্লায় শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের এ বিষয়ে সতর্ক করা অবশ্যকর্তব্য। শরিয়তবিবর্জিত ও অর্থের অপচয় রোধ করে সাধ্যমতো নফল ইবাদত বন্দেগিরত ধর্মপ্রাণ মানুষের আল্লাহর ধ্যানে যেন বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখা উচিত।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com