Friday, December 28, 2018

সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে : বৃটিশ হাইকমিশনার

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  বাংলাদেশের মানুষ যেন সবাই নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, এমন প্রত্যাশা করেছেন বৃটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক। আজ শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তোফায়েল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন বৃটিশ হাইকমিশনার।
ডিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অ্যালিসন ব্লেইক বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতেই আসলে আমি এখানে এসেছিলাম। আমার পরস্পরের মাঝে নিজেদের ভাবনা-চিন্তাগুলো আদান-প্রদান করেছি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে তার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমরা চাই, ভোটের দিন সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে।
অ্যালিসন ব্লেইক আরো বলেন, জেলা প্রশাসক ছাড়াও মৌলভীবাজারে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গেও আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। ভোটের দিন বাংলাদেশের মানুষ যেন নিজেদের ইচ্ছামতো যাকে খুশি তাকে ভোট দিতে পারে, এটাই আমাদের চাওয়া।

সংসদ নির্বাচন: বাংলাদেশের লিটমাস টেস্ট

রোববার বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের ভোটকে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটির গণতন্ত্রের জন্য লিটমাস টেস্ট হিসেবে আখ্যায়িত করছেন অনেকে। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার শাসনকালে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠা হিসেবে অভিযোগ আছে। প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, দু’বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে। কারণ, তিনি দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে কারাভোগ করছেন । তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছেন। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এসব কথা লিখেছে অনলাইন আল জাজিরা।
নতুন গড়ে উঠা একটি বিরোধী দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলে নির্বাচন করছে বিএনপি। ওই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ধর্মনিরপেক্ষ আইকন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। সুষ্ঠু নয়, এমন অভিযোগে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। আর ওই নির্বাচনকে একটি জালিয়াতির নির্বাচন আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পর্যবেক্ষণ থেকে বিরত থাকেন। অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এতে তারা একটি ওয়াকওভার পায়। এবার নিজেদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনে এসেছে বিএনপি। তবে এর নেতারা অভিযোগ করছেন, তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ভীতি প্রদর্শন করতে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করছে সরকার।
বাংলাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা একটি সাধারণ বিষয়। এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় কমপক্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি চাপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
একনজরে ১৯৭১ থেকে বর্তমানের বাংলাদেশ:
১৯৭১: নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। আওয়ামী লীগের ওই বিজয়কে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় পশ্চিম পাকিস্তান। এর ফলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
১৯৭২: পাকিস্তানের আটক অবস্থা থেকে দেশে ফেরেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
১৯৭৫: সামরিক অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন শেখ মুজিবুর রহমান। জারি করা হয় সামরিক শাসন।
১৯৭৯: সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। বিজয়ী হন জিয়াউর রহমান।
১৯৮১: জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয় সামরিক অভ্যুত্থানে।
১৯৮২: সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। স্থগিত করেন সংবিধান।
১৯৮৬: জাতীয় নির্বাচনে ৫ বছর মেয়াদে নির্বাচিত হন এরশাদ।
১৯৮৭: বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের পরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
১৯৯০: পদত্যাগ করেন এইচএম এরশাদ। দুর্নীতির অভিযোগে পরে জেলে যান। 
১৯৯১: খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন। প্রেসিডেন্টের পদমর্যাদার বিষয়ে সংবিধান সংশোধন করা হয়।
১৯৯৬: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।
২০০১: খালেদা জিয়ার কাছে পরাজিত হন শেখ হাসিনা।
২০০৪: নারীদের জন্য ৪৫টি আসন সংরক্ষিত রেখে সংবিধান সংশোধন করে পার্লামেন্ট। গ্রেনেড হামলায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা। এতে নিহত হন কমপক্ষে ২২ জন।
২০০৭: সহিংসতার পর জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট।
২০০৮: ডিসেম্বরের নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আড়াই শতাধিক আসনে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ।
২০০৯: জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা নেন শেখ হাসিনা।
২০১২: জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ গঠন হয়। তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল বলে অভিযোগ।
২০১৩: নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে হাইকোর্ট।
২০১৪: জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরেন শেখ হাসিনা।
২০১৭: আগস্টে মিয়ানমার থেকে ঢলের পানির মতো আসতে থাকে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। জাতিসংঘ বলে, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে।
২০১৮: খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের জেল দেয়া হয়। নির্বাচনে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়।

কর্তৃত্ববাদ নাকি উগ্রবাদ- কোনটি বেছে নেবে বাংলাদেশ by কে. আনিস আহমেদ

বাংলাদেশে নির্বাচন কখনোই নিস্তেজ নয়। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি এবং ভোটের দিনে সহিংসতায় প্রায় ২০ জন নিহত হয়েছিলেন। এর আগে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন উল্লেখ করার মতো। ওই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে। রাজপথের রণে দেশ অচল হয়ে পড়ে। ফলে সেনা সমর্থিত অভ্যুত্থান ঘটে। তাতে ২০০৭ সালে নির্ধারিত ওই নির্বাচন স্থগিত হয়।
আগামী রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও প্রধান দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা দেখা দিয়েছে। অতীতের তুলনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও খুব কম। কিন্তু এই নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তাপ কোনো অংশেই কম নয়। বস্তুতপক্ষে এই নির্বাচন হচ্ছে কর্তৃত্বপরায়ণ দুটি আদর্শের লড়াই। তার মধ্যে একপক্ষের চেয়ে অন্যপক্ষ অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।
বিশ্বে সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বড় বড় খাতে দেশটি ভাল করেছে। কয়েক বছর ধরে এখানে অর্থনৈতিক গড় প্রবৃদ্ধি শতকরা প্রায় ৭ ভাগ। লিঙ্গ সমতা ও শিশুদের স্কুলে পাঠানোর মতো উন্নয়নসূচকে বৃহত্তর প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভাল করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে ক্রমাগত মৌলিক অধিকার ক্ষয়ের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের আবির্ভাবের পর থেকে দেশ শাসনে পর্যায়ক্রমে এসেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। উন্নয়নের রেকর্ড ও ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে ব্যবহার করে আবার ক্ষমতায় ফেরার আশা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। (ঘোষণা: আমার এক ভাই জাতীয় সংসদের সদস্য এবং দলীয় টিকেটে নির্বাচনে লড়াই করছে)। কিন্তু দলটি এক দশক এবং পরপর দু’বার ক্ষমতায় থাকার পরও ক্ষমতাসীন-বিরোধী মারাত্মক ভাবাবেগের মুখে পড়েছে তারা। এ বছরের শুরুতে কড়া হাতে ছাত্রবিক্ষোভ দমন করেছে দলটি। ভিন্নমতকে দমন করেছে। আর এসবই ওই উদ্বেগকে তীব্র থেকে তীব্র করেছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, গ্রেপ্তার এমন কি বিচারবহির্ভূত গুম ও হত্যাকা-ের মাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকে বিরোধীদের ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। আওয়ামী লীগকে যদি টানা তৃতীয় মেয়াদে অনুমোদন দেয়া হয়, তাহলে তাতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ভয়াবহভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে কেউ কেউ বিস্মিত হতে পারেন। তবে কি বিএনপিকে আরেকটি সুযোগ দেয়ার সময় এখন?
ধর্মীয় উগ্রতাকে পুঁজি করার অন্ধকার রেকর্ড আছে বিএনপির। দীর্ঘদিন তারা সহিংসতায় লিপ্ত ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিত্রতায় রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শেষ মেয়াদে ইসলামপন্থিদের বোমাবাজি বহুগুন বেড়ে যায়। ২০০৪ সালে দলটির সঙ্গে যোগসূত্র থাকা উগ্রবাদীরা আওয়ামী লীগের এক র‌্যালিতে হামলা চালায় গ্রেনেড দিয়ে। উদ্দেশ্য ছিল তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। (এতে কমপক্ষে ২০ জন মানুষ নিহত হন। আহত হন কয়েক শত)। পরের বছরেই আওয়ামী লীগের সাবেক এক অর্থমন্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপির রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ এবং হরকাতুল জিহাদ আল বাংলাদেশের মতো সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিস্তার ঘটে।
এ কথা সত্য যে, রাজপথের আন্দোলন ও হরতালের (শাটডাউন) আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগও, বিশেষ করে যখন বিএনপি ক্ষমতা থেকে সরে যেতে অস্বীকার করছিল। ওই সব কর্মসূচির অনেকটা সহিংস সংঘাতে রূপ নিয়েছে অনেক সময়। তবে তাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সাধারণ নাগরিককে টার্গেট করা হয় নি। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোট নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। আহত করেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তারা ২০১৩ ও ২০১৫ সালে বাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়েছে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও বিশৃংখলার মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি বিরোধী দলীয় জোট- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছেন ৮২ বছর বয়সী বিখ্যাত আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। ওই জোটে যোগ দেয়ার পর বিএনপি দৃশ্যত সম্প্রতি দায়িত্বশীলের মতো কথা বলছে। এ দলটির জন্য একটি অসম্ভাব্য অংশীদার ড. কামাল হোসেন। কারণ, তিনি ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের খসড়া করেছিলেন এবং জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি যদি বিএনপির সঙ্গে যোগ দেন তাতে হয়তো দলটির মেজাজ বা মর্যাদা বাড়তে পারে। কিন্তু এতে তিনি নিজে বিজয়ী নাও হতে পারেন। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের ২৫ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। তাই এটা বিশ্বাস করার সামান্যই কারণ আছে যে, বিএনপির ন্যক্কারজনক প্রবণতা পরিবর্তন হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট অর্থনীতিতে সুবিধা করতে পারবে এমনটা বিশ্বাস করারও কোন কারণ নেই বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে শুধু একটি উদাহরণ: বিগত মেয়াদে বিএনপি দেশের বিদ্যুত উৎপাদন একেবারে নগন্য মাত্রায় নামিয়ে আনে। গত এক দশকে আওয়ামী লীগ তা তিনগুন বৃদ্ধি করেছে। এ সপ্তাহের শেষে ভোটারদেরকে অবশ্যই যে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে তাহলো, শুধুই কি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন গণতন্ত্রের জন্য শুভ হবে? রোববার বাংলাদেশের ভোটারদেরকে দুটি অত্যন্ত অসম্পূর্ণ অপশনের মুখে একটিকে বেছে নিতে হবে। যদিও সেই পছন্দ কি হবে তা পরিস্কার।
(কে আনিস আহমেদ বাংলাদেশী লেখক ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রকাশক। তার এ লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসে)

আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে ভারত: বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. কামাল by চন্দন নন্দী

শেখ হাসিনা সরকারকে অব্যাহত সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ‘নস্যাৎ’ এবং দেশটির বিকাশমান গণতন্ত্রকে ‘ধ্বংস’ করে দিতে পারে ভারত। বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সাউথ এশিয়ান মনিটরকে এ কথা বলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন করতে ‘সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে।
গৃহবন্দি হতে পারেন- এমন গুজব উড়িয়ে দিয়ে ড. কামাল ভারতীয় সিদ্ধান্ত-প্রণয়নকারদের স্মরণ করিয়ে দেন যে এমনকি শেখ হাসিনা ‘তিনিই বাংলাদেশ মর্মে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে থাকায়’ নয়া দিল্লি যদি নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে একটি রাজনৈতিক দল ও এর নেতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখে, তবে তা ‘ভারত প্রশ্নে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি’ করবে।
গণফোরাম ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা, অশীতিপর এই ব্যারিস্টার বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি সমঝদার লোক ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। আওয়ামী লীগ নিজকে ভুলভাবে উস্থাপনের প্রেক্ষাপটে ভারতকে অবশ্যই এই দেশের জনগণকে সমর্থন দিতে হবে। অতীতের আওয়ামী লীগের কিছুই এই আওয়ামী লীগে নেই। আমি আশা করছি, বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
হোসেন বলেন, ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বা কূটনীতিক তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ না রাখলেও [ঐক্যফ্রন্টের] অন্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তিনি অবশ্য বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও ভারত এখনো চূড়ান্ত কোনো অবস্থান গ্রহণ করেনি। তারা এখনো ‘দুর্নীতিতে’ নিমজ্জিত ‘অগণতান্ত্রিক’ সরকারকে সমর্থন প্রদান থেকে বিরত থাকতে পারে।
দুর্নীতির কারণেই এই সরকার ‘নির্বাচনের ব্যাপারে ভীত।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সবাইকে অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. কামাল বলেন, আমরা নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারি না, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণকে সন্ত্রস্ত্র করতে থাকায় আমাদেরকে অবশ্যই একেবারে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে।
তিনি শেখ হাসিনা ও ক্ষমতাসীন দলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমার ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন মাত্রায় সন্ত্রাস দেখিনি। বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানে শহর-গ্রামের প্রতিটি রাস্তায় পোশাকধারী পুলিশ আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। গণগ্রেপ্তার চলছে। এটিই আসল লজ্জা।
ড. কামাল বলেন, লোকজন যাতে ভোট দিতে না আসে সেজন্য তাদেরকে সন্ত্রস্ত্র করাই তাদের উদ্দেশ্য। এ কারণে আমাদের দরকার অটল থাকা, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রচারকাজ দুইদিনের মধ্যেই শেষ হবে।
ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতারা বলছেন যে ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপ ভোটারদেরকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সেটা অনেকাংশে নির্ভর করবে সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাস লোকজনকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে কি না তার ওপর। পুলিশ সন্ত্রাসীদের অংশ হওয়া সত্ত্বেও নির্ভীকভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণকে উৎসাহিত করছে। জনগণের ভাবাবেগ অবশ্যই প্রতিফলিত হতে হবে, সরকারকে ভোটের মাধ্যমে বিদায় করার এটিই সময়।
দুইদিন আগে বিপুল সংখ্যায় মোতায়েন হওয়া সত্ত্বেও সেনাবাহিনী কেন সহিংসতা দমনে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি- এ প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, সামরিক বাহিনী পরিবর্তীত হয়নি। বাকি আছে মাত্র দুইদিন। আমরা আশা করছি আগামীকাল (২৭শে ডিসেম্বর) সেনাবাহিনী তার দায়িত্ব পালন শুরু করবে।
ড. কামাল মনে করেন, পুলিশ যখন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারে না, তখন ঐতিহাসিকভাবেই সেনাবাহিনী তা রক্ষা করে চলে। তারা কার্যকরভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এবার সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট ডিসিদের কাছে রিপোর্ট করছে। তিনি আশা করেন, সামরিক বাহিনীর পোশাক পরিহিত সদস্যরা তাদের স্বাভাবিক ভূমিকা পালন করবে, তারা পরিস্থিতি আয়ত্তে নিয়ে আসবে।
পাকিস্তানি ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টিলিজেন্স (আইএসআই) ও বিএনপির মধ্য কথিত সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ার একটি অংশের উৎসাহী ভূমিকা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (র) সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক নিয়ে খবর প্রকাশে অনীহা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, বিএনপির সঙ্গে আইএসআইয়ের কথিত সম্পর্ক থাকা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল সম্পূর্ণ মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপ এবং সেইসঙ্গে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রদান করতে হাসিনা সরকারের অস্বীকারের ব্যাপারে ঐক্যফ্রন্ট আইনগতভাবে কী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় সন্ত্রাসের বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করার জন্য ঐক্যফ্রন্টের সব প্রার্থীকে পরামর্শ দিয়েছেন। হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে পিটিশন দায়েরের সময় এগুলো দাখিল করা হবে।

ব্যাটল ফর ঢাকা -দ্য হিন্দুর সম্পাদকীয়

৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর ঠিক চারদিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দলগুলো। এতেই তিক্ত বিভক্তির প্রতিফলন দেখা গেছে, যা সরকারি এজেন্সিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতাকে খর্ব করেছে। বিরোধীদলীয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল অংশীদার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তারা দাবি করছে, নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণার পর থেকে তাদের ৯২০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটি এবার তীব্র রাজনৈতিক সহিংসতা দেখেছে, প্রধানত টার্গেট করা হচ্ছে বিরোধীদের। এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এবং সহিংসতার জন্য তারা দায়ী করছে বিএনপিকে। গত সপ্তাহে একজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধীদের মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।
২২শে ডিসেম্বর প্রকাশিত এক রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, গ্রেপ্তার ও অন্যান্য নিস্পেষণমূলক পদক্ষেপ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯০-৯১ সময়কালে যখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় তখন থেকেই নির্বাচনী মৌসুম হয়ে উঠছে উত্তেজনাপূর্ণ। অতীতে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা ক্ষমতার মেয়াদ শেষেও পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনের জন্য গণ-আন্দোলন শুরু হয়। ২০০৬ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবাধায়ক সরকার নির্বাচন স্থগিত করে। ওই নির্বাচন চূড়ান্ত দফায় অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে। তারপর থেকেই ক্ষমতা ধরে আছেন শেখ হাসিনা।
এবার তিনি সরকারে দুর্দান্ত এক রেকর্ড গড়ে পুনঃনির্বাচিত হতে চাইছেন। গত ১০ বছরে অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত অর্থবছরে তা ৭.৮ ভাগে পৌঁছেছে। এ ছাড়া গত এক দশকে সামাজিক সূচকেও উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। এসবের জন্য শেখ হাসিনার সরকার কৃতিত্ব দেখানোর পাশাপাশি ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও তার সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছে বলে সমালোচিত হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস ও ঢাকায় ছাত্রদের বিক্ষোভে দমনপীড়নের ফলে সমালোচনা এসেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের থেকেও। অন্যদিকে এই আন্দোলনকে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চ্যানেল খুঁজছে বিরোধীরা। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছে বিএনপির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এ অভিযোগে তিনি বর্তমানে কারাবন্দি। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের একজন মন্ত্রী ছিলেন বিখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। বিরোধীদলীয় একটি ঐক্যে তাকে নেতৃত্বে এনেছে বিরোধীরা। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিরোধীদের মৌন জোট উদ্বেগের বিষয়। জামায়াতে ইসলামী ইসলামপন্থি দল এবং ২০১৩ সালে আদালতের একটি রায়ের পর তাদের নিবন্ধন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সহিংসতায় বিএনপির নেতাকর্মীরাও জড়িত। আওয়ামী লীগের জন্য এই নির্বাচন হওয়া উচিত সহিংসতার ইতিহাস ভাঙার একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা এবং তাদের পারফরমেন্সের ভিত্তিতে ম্যান্ডেট খোঁজা উচিত। কিন্তু বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাদের ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা ও তাদের নেতাকর্মীদের সহিংসতা এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

বাংলাদেশে তিক্ত প্রচারণা শেষ by শুভজিত বাগচি

বৃহস্পতিবার ছিল বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিন। এদিন দেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপরই মূলত ফোকাস করেছে। অন্যদিকে বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ‘সুশাসন’ আইন শৃংখলা পরিস্থিতির ওপর জোর দিয়েছে।
এদিন ঢাকা শহরে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের যুব সমর্থকদের দীর্ঘ র‌্যালি। তাতে লাউডস্পিকারে বাজছিল ‘ভোট ফর নৌকা’। এটি দলটির নির্বাচনী প্রতীক। অন্যদিকে ঢাকার রাজপথে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা ছিলেন অনুপস্থিত। তারা দাবি করছেন, ক্ষমতাসীন দল থেকে তাদেরকে হুমকি দেয়া হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ।
জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ৩০শে ডিসেম্বর নির্বাচন হচ্ছে ২৯৯ আসনে। এর ফল পাওয়া যেতে পারে ৩১শে ডিসেম্বর।
এক ডজনেরও বেশি দলের সমন্বয়ে মহাজোট নিয়ে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এই মহাজোটে রয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। তবে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি তার দল প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক প্রার্থী তিনি প্রত্যাহার করতে পারেন। আওয়ামী লীগ ২৬০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, এর মধ্যে ৪৯ জন নতুন প্রার্থী।
বিরোধী জোট
অন্যদিকের পরিস্থিতি সম্ভবত অনেক বেশি জটিল। ২০ দলেরও বেশি দলকে নিয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠন করেছে বিরোধীরা। এর নাম জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর মূলে রয়েছে বিএনপি। তারা ২৫৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে লড়াই করছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় নি দলটি। এতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসে। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু দ্য হিন্দুকে বলেছেন, আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে, এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। কোনোভাবেই আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাবো না।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন এক সময় আওয়ামী লীগের বড় মাপের নেতা ছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের সংবিধান রচয়িতা পার্লামেন্টারি কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে দেখা হয় ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে। লেখক ও সঙ্গীতজ্ঞ অরুপ রাহী বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ নয় বিএনপি। তবে এখন তা আর কাজ করে না। ভারতের অনেক মিডিয়া এ বিষয়ে ভ্রান্ত নীতি অবলম্বন করে। আরও যুক্তি দেয়া হয় যে, ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে জড়িত নয় বিএনপি এ কথা আর ধোপে টেকে না, যখন দেখা যায় তারা নির্বাচনে নিজেদের প্রতীক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর একজন অফিস বেয়ারারকে। ঢাকায় বিএনপির একজন কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও বিএনপি ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে জড়িত নয়। এমনকি ভারত বিরোধী কোনো রকম অবস্থানকেও উৎসাহিত করে না।
ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট
ওই নেতা বলেন, যদি কোনো দল বাংলাদেশে ভারত বিরোধী প্রচারণা চালায়, তাহলে তারা শতকরা ৩০ ভাগের বেশি ভোট পাবেই, যেহেতু ভারতপন্থিদের চেয়ে এখানে ভারত বিরোধী সেন্টিমেন্ট বেশি শক্তিশালী। তবে আমরা এমন প্রচারণা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যদিও ভারত আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েই যায়।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দলেরই আলাদা আলাদ নির্বাচনী প্রচারণার ধরণ রয়েছে। আওয়ামী লীগ ফোকাস করেছে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সরকারের অর্জনের ওপর। তাদের দলীয় মেনিফেস্টোতে বলা হয়েছে, এখন বাংলাদেশ আর্থিকভাবে শক্তিশালী। ছোটখাট ঘটনা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারে না।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বাংলাদেশ ‘নিন্ম মধ্যম আয়ের দেশের’ কাতার থেকে ‘উন্নয়নশীল দেশের’ কাতারে এগিয়ে গেছে। দলীয় মেনিফেস্টোতে বলা হয়েছে, অর্থনীতি উন্নীত হয়েছে টেকসই অবস্থায়। এখানে মাথা পিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫১ ডলারে। 
আগামী ৫ বছরে শতকরা ১০ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। ১২ বছরে দারিদ্র্য শতকরা ৪১ ভাগ থেকে কমিয়ে ২১ ভাগে নামিয়ে আনার কাজ অব্যাহত রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন নেটওয়ার্ক থেকে বিদ্যুত ও গভীর সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত অনেক মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যদি তারা ক্ষমতায় ফেরে তাহলে আরও প্রকল্প শুরু হবে। গ্রামকে আধুনিকায়ন করা হবে। কমিউনিটি স্বাস্থ্য ক্লিনিক উন্নত করা হবে। ডিজিটাল কর্মকান্ডের উন্নয়ন ঘটানো হবে। ধর্ম ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতি প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। আরও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে মিডিয়ার স্বাধীনতা সুরক্ষা করতে আইনের বিষয়ে।
অন্যদিকে বিএনপি তার ১২ দফা সম্বলিত মেনিফেস্টোতে সুশাসনকে ফোকাস করেছে। তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রত্যয় ঘোষণা করেছে। প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার। এ ছাড়া বিচারকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মিডিয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছে।
(শুভজিত বাগচি ভারতীয় সাংবাদিক। তার এ লেখাটি দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত হয়েছে)

এতো গ্রেপ্তারের পরও সরকারের ভয় কাটছে না -রিজভী

নির্বাচন সামনে রেখে জেলায় জেলায় বেপরোয়া গ্রেপ্তার অভিযানে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। বলেছেন, এত গ্রেপ্তারের পরও বিএনপির মহাসমুদ্র থেকে পানি কমছে না। প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের ভয় কাটছে না। আজ শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, প্রতিদিন শত শত গ্রেপ্তার হচ্ছে, মামলা দিচ্ছে। প্রথমে পুলিশ ছিল, এখন র‌্যাব-বিজিবিকে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরও যেন অস্বস্তি কাটছে না সরকারের, আরো গ্রেপ্তার করো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডারদের গুন্ডামিতে গতকাল দেশের বিভিন্নস্থানে ধানের শীষের প্রার্থীদের মিছিলে বাধা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিএনপির নির্বাচনী এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকদের এলাকাছাড়া করেছে।
আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রামে গ্রামে সশস্ত্র মহড়া চলছে, বলেন রিজভী।
সারাদেশে ভীতিকর অবস্থা বিদ্যমান উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, সেনাবাহিনীকে মাঠে নামিয়ে হাত-পা বেঁধে রেখেছেন সিইসি। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না।
বিএনপি নাশকতা করছে না, বরং আওয়ামী লীগেই নাশকতাকারীদের ট্রেনিং সেন্টার বিদ্যমান অভিযোগ করে এ সরকারকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য বলে মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি আরো বলেন, বানোয়াট মামলা সাজিয়ে নির্বাচনের বছরখানেক আগেই সাজা দিয়ে  দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি করা হয়েছে। কারণ, রাষ্ট্রশক্তি সম্পূর্ণভাবে শেখ হাসিনার হাতের মুঠোয়। প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আদালত কারো টুঁ শব্দ করার উপায় নেই। টুঁ শব্দ করলে পরিণতি কী হবে, তারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেখ হাসিনা।
চলতি বছরের ৮ই নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে বিএনপির ১০ হাজার ৩২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন রুহুল কবির রিজভী। এ ছাড়া এ সময়ের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৮৪৪টি গায়েবি ও মিথ্যা মামলা এবং দুই হাজার ৮৯৬টি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে মোট আহতের সংখ্যা ১৩ হাজার ২৫২ ও মৃতের সংখ্যা নয়জন। কেবল গতকালই বিভিন্ন জেলায় ৩৮টি বানোয়াট মামলা দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার করা হয় এক হাজার ১২৭ জন নেতাকর্মীকে। এ ছাড়া একজন খুনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন রিজভী।

৩ ঘণ্টার মাথায় সিদ্ধান্ত পাল্টালেন এরশাদ

বিকাল পাঁচটায় সংবাদ সম্মেলন করে দুটি সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠান ফারুককে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি দলীয় সিদ্ধান্তে যেসব আসনে উন্মুক্ত প্রার্থী ছিলেন তাদেরও নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার কথা জানিয়ে ছিলেন। তার এ সিদ্ধান্ত জানানোর প্রায় তিন ঘণ্টার মাথায় রাত আটটায় পার্টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ভিন্ন তথ্য। এরশাদের স্বাক্ষর করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে না। সবাইকে নির্বাচনের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হলো।
এতে দাবি করা হয়, তার বক্তব্য ভুলভাবে গণমাধ্যমে এসেছে। এজন্য তিনি মর্মাহত। বুধবার সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে গতকাল এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে পার্টির নেতাকর্মীদের বার্তা দেন এরশাদ। তিনি বলেন, জাপার দলীয় ১৪৬ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মহাজোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে তাদের পক্ষে একত্রে কাজ করার অনুরোধ করছি।
আরেকবার তিনি বলেন, যেসব আসনে লাঙ্গলের প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা আছে সেখানে তারা লড়াই করবেন। তিনি বলেন, মহাজোটের সমর্থনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে  নেবেন। তবে যেখানে জয়ের সম্ভাবনা আছে তারা প্রত্যাহার করবেন না। এ ছাড়া মহাজোট থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হবে তাই মেনে নিতে হবে।
এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে ঢাকা-১৭ আসনে নৌকার প্রার্থী আকবর হোসেন পাঠান ফারুক দেখা করতে এলে, এরশাদ নৌকার প্রার্থীর মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে আসনটি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি তোমাকে আসনটি দিলাম। তুমি এগিয়ে যাও। আমার দোয়া রইলো তোমার সঙ্গে। এরপর বিকাল ৫টায় সম্মেলনের মাধ্যমে ঢাকা-১৭ আসন থেকে সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কথা জানান এরশাদ। বলেন, এ আসনটিতে আমি নির্বাচন করতাম, নানাবিধ কারণে আমি বিরত থেকে ফারুককে সমর্থন করলাম। সংবাদ সম্মেলনে দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, যে দলকে পছন্দ হয় সে দলকে ভোট  দেবেন।
এরশাদ আরো বলেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছি নির্বাচনে মহাজোটকে সমর্থন করবো। আমি নির্বাচনে বোন শেখ হাসিনাকে সর্বত্র সহযোগিতা করবো। তাকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। তিনি বলেন, সন্তুষ্টির মধ্য থেকে নির্বাচন শেষ হবে।
এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সহিংসতা সম্পর্কে এরশাদ বলেন, এটা বাংলাদেশের রীতি। প্রত্যেক নির্বাচনে সহিংসতা হয়।
মানুষ হত্যা করা হয়। এবছর কত জন মারা গেছে। এটা বরাবরের জন্য হয়ে আসছে। তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্য আমি রংপুর যেতে পারি নি। তবে ভালো হয়ে যাবো। আশা করি রংপুরের মানুষ সদয় হয়ে রংপুর-৩ আসন আমাকে উপহার দেবে। নির্বাচনে বিএনপির অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, বিএনপির অবস্থা ভালো না। তাদের অতীত রেকর্ড ভালো না। জয়ের সম্ভাবনা নেই বিএনপির। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারবো না। একইভাবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নীরব থাকেন এরশাদ। বলেন, এটা আপনারাই দেখছেন। ভালো বলতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনার মাহাবুব তালুকদার প্রসঙ্গে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমি তাকে অন্যভাবে চিনি। তিনি একজন কবি মানুষ, আইডিওলজিস্টিক। তবে কমিশনের কথা নিয়ে কথা বলার অধিকার আমার নাই। নির্বাচন কমিশন জনগণের পক্ষে আছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে এরশাদের বাসভবনে ঢাকা-১৭ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফারুক উপস্থিত হয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। এসময় ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, আমার বড় ভাই এরশাদ এই আসন ছেড়ে দিয়ে মানবতার নজির স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, এরশাদের মধ্যে বিন্দু পরিমাণ ক্ষোভ নেই। কেউ যদি এ কথা বলে আমি বিশ্বাস করি না।
রাতে এরশাদের বিবৃতি
রাতে জাপা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার বক্তব্য ভুলভাবে প্রচারিত হচ্ছে জেনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। মহাজোট ব্যতীত জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মুক্তভাবে নিজ নিজ আসনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না। তাদেরকে নির্বাচনের মাঠে থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।

জামায়াত থেকে প্রার্থী করা হবে জানলে ঐক্যফ্রন্টের অংশ হতাম না: ড. কামাল

বিএনপি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রার্থী করবে জানলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অংশ হতেন না বলে জানিয়েছেন এই জোটের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। রাজধানীর মতিঝিলে নিজের চেম্বারে বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে'র সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি একথা জানান। ওই আলাপচারিতার বিষয়বস্তু নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে'র সঙ্গে আলাপকালে হতাশা প্রকাশ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, 'আমি দুঃখের সঙ্গে বলছি, সাবেক জামায়াতের লোকজনকে প্রার্থী বানানো নির্বুদ্ধিতা। আমি লিখিত দিয়েছিলাম যে, জামায়াতের প্রতি কোনো ধরনের সমর্থন থাকবে না, ধর্ম, মৌলবাদ, চরমপন্থা আনা যাবে না।'
তিনি বলেন, যদি জানতাম (জামায়াত নেতাদের বিএনপির টিকিট দেওয়া হবে), আমি এর (ঐক্যফ্রন্টের) অংশ হতাম না। তবে ভবিষ্যতে সরকারে যদি এই লোকগুলোর (জামায়াত নেতা) কোনো ভূমিকা থাকে তবে আমি আর একদিনও থাকবো না।'
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেন বলেন, 'আমি আইন পেশা নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। কয়েকমাস আগে বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন এবং আমাকে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিতে বলেন। দেশজুড়ে কী ঘটছে সে বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম বিধায় আমি রাজি হই।'
তিনি নিজে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নন— একথা উল্লেখ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, 'আমি ৮০ বছর বয়সী একজন মানুষ... আমি শুধুমাত্র দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করছি। আমি ভোটের দিনের জন্য অপেক্ষা করছি। ভোটের দিনটি হচ্ছে স্বাধীনতার দিন। যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে এটা হবে দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস। স্বাধীনতা তখনই অর্থপূর্ণ যখন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।'
গণফোরাম সভাপতি বলেন, 'আমাদের জনগণকে তাদের দেশের মালিকানা পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাই এই নির্বাচন হচ্ছে দখলদারদের হাত থেকে রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার করার নির্বাচন।'
বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন শক্তির মাঝে এই ধরনের ঐক্য আগেও হয়েছে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের ঐক্য চাইছিল। আর সেই কারণটি হচ্ছে— দেশ নির্দিষ্ট কোনো দল বা পরিবারের কাছে থাকুক, এটা তারা চায় না।'
বিরোধীপক্ষ ক্ষমতায় গেলে তিনি কি প্রধানমন্ত্রী হবেন কি-না জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, 'আমি হ্যাঁ বা না বলতে চাই না... তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এর জন্য কোনো পদ বা পারিশ্রমিকের প্রয়োজন নেই।'
আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতের প্রচ্ছন্ন সমর্থনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'ভারতের সঙ্গে আমাদের সত্যিকারের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন করা প্রয়োজন। নিজেদের স্বার্থের কথা ভাবার সময় ভারতের উচিত আমাদের স্বার্থের দিকটিও দেখা।
ড. কামাল হোসেন
ড. কামাল হোসেন