Tuesday, March 31, 2026
পৃথিবীর শেষ প্রান্তভাগের গ্রামটির মানুষ কীভাবে বাঁচে
পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত বিশ্বব্যবস্থায় সত্যিকারের দুর্গম জায়গায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাওয়াটা খুবই বিরল। একই সঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোর মানুষেরা কীভাবে জীবন যাপন করে, তা জানতে পারাটা আরও বিরল অভিজ্ঞতা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আলোকচিত্রী কেভিন হল সেই বিরল অভিজ্ঞতাই লাভ করেছেন। বিবিসিতে লেখা এক নিবন্ধে তিনি সে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।
ইতোকোর্তোরমিত হলো ছোট একটি গ্রাম। সেখানে ৩৭০ জন মানুষের বসবাস। গ্রামের ঘরগুলো বর্ণিলভাবে রং করা।
গ্রামটিতে নেই কোনো সড়ক। সেখানে পৌঁছানোর উপায় হলো হেলিকপ্টার, নৌকা (গ্রীষ্মকালে) ও স্নোমোবাইল নামের যানে চড়া। এ ছাড়া প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে নের্লেরিট ইনাট বিমানবন্দরগামী ফ্লাইটে চড়েও যাওয়া যায়। এ ফ্লাইট সপ্তাহে দুবার হয়। এর মধ্যে একটি আসে আইসল্যান্ড থেকে, আর অন্যটি পশ্চিম গ্রিনল্যান্ড থেকে।
ইতোকোর্তোরমিতের খুব কাছাকাছি কোনো গ্রাম বা শহর নেই। এর সবচেয়ে নিকটবর্তী শহরের অবস্থান প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে। গ্রামের আশপাশের এলাকা বরফময়। সেখানকার হিমশৈলে বাস করে মেরুভালুক (পোলার বিয়ার), মাস্ক অক্স আর লাখ লাখ সামুদ্রিক পাখি।
বছরের নয় মাস গ্রামটি সাগরের পানিজমা বরফে ঢাকা থাকে। ইতোকোর্তোরমিতের আদিবাসী গোষ্ঠী ইনুইটরা তখন কুকুরে টানা স্লেজ বাহন ব্যবহার করে বরফের ওপর ভ্রমণ করে এবং শিকারের খোঁজ করে।
২০২৫ সালে গ্রামটির শতবর্ষ উদ্যাপিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এখানে জনসংখ্যা কমতে দেখা গেছে। কিছু হিসাব অনুসারে, ২০০৬ সালের পর জনসংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ কমে গেছে।
কারণ হচ্ছে, পূর্বসূরিদের শিকারনির্ভর জীবনধারা থেকে বের হয়ে নতুন ধরনের পেশার খোঁজে কিংবা পড়াশোনা করতে তরুণেরা শহরে চলে যাচ্ছেন। তা ছাড়া, উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে আশপাশের সাগরের বরফ জমতে বেশি সময় নিচ্ছে এবং দ্রুত গলে যাচ্ছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বারবারই ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে। সব মিলে ইতোকোর্তোরমিত এখন দুটো বড় সমস্যার মুখোমুখি। একটি হলো জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যটি হলো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা।
আলোকচিত্রী কেভিন হল লিখেছেন, ইতোকোর্তোরমিতে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ভ্রমণ করাটা শুধু রোমাঞ্চকর অভিযানই ছিল না, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।
কেভিন প্রথমে আইসল্যান্ড থেকে ফ্লাইটে করে নের্লেরিট ইনাট বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর পর তিনি জমে থাকা বরফের ওপর পাঁচ দিন কাটিয়েছেন। সেখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেত।
কেভিন হল লিখেছেন, ‘আমি কুকুরে টানা স্লেজ বাহনে ভ্রমণ করেছি, তাঁবু ও শিকারিদের ছোট কুটিরে ঘুমিয়েছি। সেখানে ছিল না বিছানা, চলমান পানিপ্রবাহ, উষ্ণতা বা অন্য কোনো সুবিধা। আমি ঘণ্টায় ৮০ মিটার গতির বাতাস আর তুষারঝড়ের মধ্যে ৪৫ কিলোমিটার এলাকা স্নোমোবাইলে পার হয়েছি।’
কেভিনের মতে, এটি নিতান্তই একটি ফটোগ্রাফি অভিযান ছিল না, বরং এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী অঞ্চলে মানুষের জীবনযাপনের বিরল চিত্রটা একঝলক দেখার সুযোগ দিয়েছে। এ ছাড়া ইতোকোর্তোরমিতের বাসিন্দারা কীভাবে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে সংগ্রাম করছেন, তা–ও জানার সুযোগ হয়েছে।
চরম ঠান্ডার সঙ্গে বসবাস
কেভিন হলের জন্য এই ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছিলেন খ্যাতিমান আলোকচিত্রী জোশুয়া হোলকো। তিনি ওগে ড্যানিয়েলসেন ও মানাসে টুকো নামের দুজন স্থানীয় ইনুইট গাইডের ব্যবস্থা করেন। কুকুরে টানা স্লেজে করে কেভিনসহ তিনজন আলোকচিত্রীকে নের্লেরিট ইনাট বিমানবন্দর থেকে ইতোকোর্তোরমিতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে নির্জন ও বিস্ময়কর মেরুপ্রকৃতির ছবি তোলা।
ভ্রমণের শুরুর দিকের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে কেভিন হল লিখেছেন, ‘প্রথম রাতেই আমরা বিমানবন্দরের কাছাকাছি ছোট ছোট তাঁবুতে ক্যাম্প করি। তখন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ক্রমাগত নামছিল।
ড্যানিয়েলসেন ও টুকো বরফের ওপর জমে থাকা কড মাছ কাঠমিস্ত্রির মতো করে করাত দিয়ে কেটে নেন এবং গলানো বরফের পানি গরম করে সেখানে তা (মাছ) সেদ্ধ করেন। তাঁরা বললেন, রাতের খাবার প্রস্তুত। মাছ সুস্বাদু ছিল, যদিও অনেক কাঁটা ছিল। কিন্তু আমাদের আসল চিন্তা ছিল, সামনে কী অপেক্ষা করছে।’
কেভিন লিখেছেন, তিনি এর আগে কখনো এমন শীত অনুভব করেননি। রাতে যখন তাঁরা গুটিসুটি মেরে শুয়ে ছিলেন, তখন প্রবল বাতাসে তাঁবু কাঁপছিল। স্লেজ টানার কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করছিল।
কেভিন বলেন, তাঁর ধারণা, উত্তর মেরু অঞ্চলের শিয়াল বা ভালুক তখন সেদিক দিয়ে চলাচল করছিল। তাপমাত্রা আরও কমতে থাকলে তাঁর পায়ে টান ধরে যায়।
কেভিন হলের মতে, এটা ছিল সত্যিকার অর্থেই ঠান্ডায় দীক্ষা নেওয়ার মতো এক অভিজ্ঞতা।
জাতীয় প্রতীক
পরদিন সকালে নাশতার পরপরই ড্যানিয়েলসেন ও টুকো তাঁদের সঙ্গে থাকা মালামাল গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। তাঁরা ব্যাগ, কুলার বক্স, ক্যামেরার কেস, কুকুরের খাবারসহ আরও বিভিন্ন জিনিসপত্র স্লেজে তুলে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন।
এরপর একেকটি স্লেজে দুজন করে বসলেন। সামনে ছিলেন একজন গাইড, যিনি স্লেজটানা কুকুরগুলোকে পরিচালনা করতেন। পরবর্তী ছয় দিন ধরে প্রতিটি স্লেজে নিযুক্ত ১২টি গ্রিনল্যান্ড স্লেজ কুকুর ৪৫০ কিলোগ্রামের বেশি বোঝা টেনে নিয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়েছে তারা।
এই আদুরে প্রাণীগুলোকে গ্রিনল্যান্ডের ইনুইট ভাষায় ‘কিম্মিত’ নামে ডাকা হয়। ইনুইটদের আদিগোষ্ঠীর মানুষেরা বড় ও হাস্কি জাতের এই কুকুরকে প্রায় এক হাজার বছর আগে সাইবেরিয়া থেকে গ্রিনল্যান্ডে নিয়ে এসেছিল বলে ধারণা করা হয়। বর্তমানে এগুলো গ্রিনল্যান্ডে একধরনের জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এক সকালে স্লেজে করে ইতোকোর্তোরমিত গ্রাম থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের দিকে যাওয়ার সময় কেভিন হলরা দূরের একটি পাহাড়ের চূড়ায় চারটি মাস্ক অক্সকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন।
মাস্ক অক্স দেখতে কেমন, সেটার বর্ণনা দিয়ে কেভিন হল লিখেছেন, প্রায় ৪০০ কেজি ওজনের এই প্রাগৈতিহাসিক চেহারার প্রাণীগুলোর গাল থেকে বেরিয়ে থাকা ছোট শিং আর শক্ত বাতাসে উড়তে থাকা লম্বা কালো-বাদামি লোমের আবরণ—সব মিলিয়ে তারা যেমন ভয়ংকর, তেমনি দারুণ ফটোজেনিক।
কেভিন হল ও তাঁর সঙ্গীরা স্লেজ থেকে নেমে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোতে শুরু করেন। কারণ, হোলকো তাঁদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে বরফযুগের এই জীবাশ্মসদৃশ প্রাণীগুলো খুব সহজেই চমকে ওঠে এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। খুব দ্রুত নড়াচড়া করলে তারা পালিয়ে যাবে, আবার খুব কাছে গেলে সোজা তেড়ে আসতে পারে।
কেভিন লিখেছেন, ‘বিশালাকার প্রাণীগুলোর ছবি তুলতে প্রায় এক ঘণ্টা কাটানোর পর তারা ধীরে ধীরে পাহাড়ি পথের আরও উঁচু দিকে উঠে যেতে শুরু করল। হয়তো তারা জানত, ইতোকোর্তোরমিত এলাকায় তাদের স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’
শিকারি
তৃতীয় দিনে কেভিন হলকে ড্যানিয়েলসেন জানালেন যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে তাঁর একটি কুঁড়েঘর আছে। সেখানে দুটি রাত কাটানোর আমন্ত্রণ জানান তিনি। কুঁড়েঘরটির অবস্থান এমন এক জায়গায় যে আমন্ত্রণ পাওয়ামাত্রই কেভিন হল রাজি হয়ে যান। কারণ, তাঁর মনে হলো, ওখানে গেলে জমে থাকা বরফের ওপর মেরুভালুকের দেখা পাওয়া যেতে পারে।
ড্যানিয়েলসেনের কুঁড়েঘরটি ছিল উজ্জ্বল নীল রঙে রাঙানো। ভেতরে আছে ছোট একটি সোফা, একটি চেয়ার, একটি সিঙ্ক, একটি চুলা আর একটি টয়লেট।
ড্যানিয়েলসেন যদিও আয়ের বাড়তি উৎস হিসেবে গাইডের কাজ করেন, তবে শিকার করাই তাঁর আসল ভালোবাসা, পেশা ও বংশানুক্রমিক ঐতিহ্য। সেখানকার আইনে শিকারিদের শিকার করা প্রাণীর মাংস বা চামড়া বিক্রি করার অনুমতি নেই। মাস্ক অক্সের ক্ষেত্রে তো সেগুলো দেশের বাইরে নেওয়াও নিষেধ।
আইন অনুযায়ী, শিকার করা মাংস কেবল পরিবারের খাবার ও পোশাকের প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়, ঠিক যেমনটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হয়ে আসছে।
ড্যানিয়েলসেনের কুঁড়েঘর থেকে কেভিন হলরা প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করেন। পাঁচ দিন ভ্রমণের পর তাঁরা ক্যাপ হোপে পৌঁছান। এটি ইতোকোর্তোরমিত থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিমে ছোট একটি বসতি। সেখানে প্রায় ২০টি পুরোনো কুঁড়েঘর রয়েছে। রাতে তাঁরা সেখানেই ঘুমিয়েছেন।
পরদিন সকালে দেখা মিলল মেরুভালুকের। ড্যানিয়েলসেন দুরবিন দিয়ে তাকিয়ে হঠাৎ চিৎকার করলেন, ‘পোলার বিয়ার! পোলার বিয়ার!’ কেলভিনরা তখন ছবি তোলার প্রস্তুতি নেন। ভালুকটি প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বরফের ওপর দাঁড়িয়ে ২০ মিনিট কাটায়, তারপর ধীরে ধীরে চলে যায়।
আলোকচিত্রী জোশুয়া হোলকোর কাছ থেকে গল্প শুনে আরেক ধরনের মেরুভালুকের ছবি তুলতে চেয়েছিলেন কেভিন হল। সাদা লোমের ওই মেরুভালুককে ‘আর্কটিক অঞ্চলের ভূত’ নামে ডাকা হয়। কারণ, তাদের সাদা লোম এত নিখুঁতভাবে আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায় যে এদের খালি চোখে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কেভিন হল ওই ভালুকদের দেখা পাননি।
পৃথিবীর প্রান্তভাগের জীবনধারা
কেভিন হলের তথ্য অনুসারে, পায়ে হেঁটে ইতোকোর্তোরমিত গ্রামের পুরোটা ঘুরে বেড়াতে আধা ঘণ্টার মতো সময় লাগে। এখানে আছে একটি গির্জা, ছোট একটি ট্রাভেল এজেন্সি, পুলিশ স্টেশন, একটি বার, একটি অতিথিশালা, একটি হেলিপোর্ট এবং পিলেরুইসোক নামের একটি ছোট সুপারমার্কেট। এই সুপারমার্কেটে প্রতি মৌসুমে মাত্র দুটি জাহাজে করে পণ্য আসে।
দোকানের প্রায় ফাঁকা তাক ঘুরে দেখে আমার চোখে পড়ে, সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক বেশি। তখন ভাবি, যেখানে কাজের সুযোগ খুব কম, সেখানে স্থানীয় মানুষ এসব জিনিস কিনে কীভাবে চলে?
সবশেষে কেভিন হল লিখেছেন, বাইরে বেরিয়ে অনেক বাড়ির পাশে ঝুলতে থাকা মেরুভালুকের চামড়া আমাকে এই সম্প্রদায়ের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমি এই অভিযানে এসেছিলাম বন্য প্রাণীর অনন্য ছবি তুলতে। এ যাত্রায় তথাকথিত ‘আর্কটিক অঞ্চলের ভূত’দের দেখা না পেলেও তাতে আফসোস নেই। কারণ, এর চেয়ে বেশি কিছু আমি পেয়েছি। পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী একটা স্থানে মানুষ কীভাবে জীবন চালিয়ে যায়, তা আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি।’
![]() |
| ইতোকোর্তোরমিত গ্রাম। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
Friday, January 16, 2026
গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইউরোপের সেনারা
দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করতে ডেনমার্ক ও তার মিত্ররা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এই দলে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সেনারা রয়েছেন।
সুমেরু অঞ্চলের এই দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে গতকাল বুধবার একটি বৈঠক হয়। এ সময় ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকে সমস্যা সমাধানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বেশ কিছুদিন ধরে ট্রাম্প বলে আসছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরি। রাশিয়া কিংবা চীন যাতে এটি দখল করতে না পারে, সে জন্য এর মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা দরকার। এই ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বিকল্প তাঁর বিবেচনায় আছে। তাঁর দাবি, সুমেরু অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে ডেনমার্ক সক্ষম নয়।
তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক বারবার বলে আসছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। যেকোনো ধরনের হুমকি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ মিত্রদের মধ্যে আলোচনা করেই সমাধান করা উচিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউরোপের অনেক নেতা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অভিযান চালিয়ে দ্বীপটি দখলে নেয়, তাহলে কার্যত ন্যাটোর সমাপ্তি হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জানিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ড ও এর চারপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুরু করেছে। প্রতিরক্ষা জোরদারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ন্যাটো মিত্রদের সহযোগিতায় এ পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।
জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়েসহ ইউরোপীয় মিত্ররা বলেছে, চলতি বছরের শেষ দিকে বড় ধরনের মহড়ার প্রস্তুতি নিতে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠাচ্ছে তারা।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সুমেরু ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে শিগগিরই যৌথভাবে যাচাই করে দেখবে যে ওই অঞ্চলে বাস্তবে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মহড়া কার্যক্রম কীভাবে কার্যকর করা যায়।
ট্রাম্পকে সমর্থন প্রতি পাঁচজনের একজন আমেরিকানের
রয়টার্স/ইপসোসের একটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টাকে সমর্থন করেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের উল্লেখযোগ্য অংশ দ্বীপটি দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধী। গত মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপী জরিপটি শেষ হয়। জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন বলেছেন, তাঁরা গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার কথা শোনেননি।
![]() |
| ডেনমার্ক বিমানবাহিনীর একটি বিমানে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানীতে পৌঁছান ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা। ছবি: রয়টার্স |
Tuesday, January 13, 2026
আমরা মার্কিন নাগরিক হতে চাই না: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসী পছন্দ করুক বা না করুক, যুক্তরাষ্ট্র ‘কিছু একটা করবেই’।
গত শুক্রবার রাতে গ্রিনল্যান্ড পার্লামেন্টের পাঁচটি রাজনৈতিক দলের নেতারা একজোট হয়ে এই বিবৃতি দেন। এর কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দ্বীপটি দখল করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডরিক নিলসেনসহ ওই নেতারা বলেন, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডবাসীকেই নির্ধারণ করতে হবে।’
নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করার অধিকারের ওপর জোর দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের নেতারা বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ এতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কোনো চাপ বা দেরি না করে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ আমাদেরই ঠিক করতে হবে।’
ট্রাম্পের ‘সহজ বা কঠিন’ পথ
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা যদি ব্যবস্থা না নিই, তবে তারাই এটা করবে। তাই আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করতে যাচ্ছি, তা সে সহজ পথেই হোক বা কঠিন পথে।’
হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্প তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দ্বীপটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ‘সক্রিয়ভাবে’ আলোচনা করছেন।
জনমত এবং ডেনমার্কের প্রতিক্রিয়া
২০২৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে মাত্র ৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সম্প্রতি বলেছেন, এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের অর্থ হবে ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমাপ্তি। তিনি ট্রাম্পকে হুমকি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডেনমার্কের কোনো অংশ দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
জবাবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি না থাকলে ন্যাটোর অস্তিত্বই থাকত না। ন্যাটো রক্ষা করবেন নাকি গ্রিনল্যান্ড দখল করবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, ‘এটি একটি পছন্দ হতে পারে।’
ভূরাজনৈতিক পটভূমি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেই গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ট্রাম্প সেখানে যত খুশি সৈন্য পাঠাতে পারেন। কিন্তু ট্রাম্প মনে করেন, কেবল চুক্তিতে কাজ হবে না। তিনি বলেন, ‘মালিকানা থাকতে হয়। আপনি মালিকানা রক্ষা করেন, লিজ নয়।’
এর আগে ট্রাম্প ২০১৯ সালেও দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে জানানো হয়েছিল, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের চারপাশে প্রচুর রুশ ও চীনা জাহাজ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে গ্রিনল্যান্ডের জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের প্রধান জেস বার্থেলসেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘আমরা এমন কিছু দেখি না। ট্রাম্পের কথা আমাদের বোধগম্য নয়।’
![]() |
| গ্রিনল্যান্ডের ওল্ড নুক। রয়টার্স ফাইল ছবি |
Sunday, January 11, 2026
গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন: ট্রাম্প
গত শুক্রবার এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হয়। আর মালিকানা থাকলে আপনি তার সুরক্ষা দেবেন, ইজারা থাকলে নয়। গ্রিনল্যান্ডকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সহজ উপায়ে হোক অথবা কঠিন উপায়ে, আমরা এটা করব।’ গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চুক্তির মাধ্যমে, মানে সহজ পথে বিষয়টিকে সমাধান করতে চাই। এতে কাজ না হলে কঠিন পথেই করব।’ ট্রাম্পের দাবি, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি। কারণ, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা পদক্ষেপ না নিলে তারা ঠিকই সেটিকে দখল করে নেবে। তাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের কিছু করতে হবে। হয় তা সুন্দরভাবে, না হয় আরও কঠিন কোনো উপায়ে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ালেও এখন পর্যন্ত বিশাল এই বরফাচ্ছাদিত দ্বীপের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করেনি। এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের এই হুমকিতে ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় মিত্ররা বিস্ময় প্রকাশ করেছে।
গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। হোয়াইট হাউস সম্প্রতি বলেছে, প্রশাসন ন্যাটোভুক্ত সহযোগী দেশ ডেনমার্কের আধা স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটিকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা নাকচ করছে না। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বলে দিয়েছে যে ভূখণ্ডটি বিক্রি হবে না। ডেনমার্ক বলেছে, সামরিক অভিযান চালানো হলে তা ট্রান্স আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর শেষ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেবে।
সবচেয়ে কম জনবহুল অঞ্চল হলেও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা ও উত্তর মেরু অঞ্চলের মধ্যে হওয়ায় এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা পাওয়ার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। তা ছাড়া ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজ পর্যবেক্ষণের জন্যও স্থানটি বেশ উপযোগী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবারই বলে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, অঞ্চলটি ঘিরে রুশ ও চীনা জাহাজ অবস্থান করছে। গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনের বেশি সেনাসদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন আছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর আওতায় গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছেমতো সংখ্যায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
তবে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইজারাভিত্তিক চুক্তি যথেষ্ট নয়। দেশগুলোর মালিকানা থাকতে হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দেশগুলো ৯ বছরের চুক্তি এমনকি ১০০ বছরের চুক্তির ভিত্তিতে চলতে পারে না।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীনের মানুষকে ভালোবাসি। আমি রাশিয়ার মানুষকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি চাই না, তাঁরা গ্রিনল্যান্ডে আমাদের প্রতিবেশী হোন। সেটা হবে না। ব্যাপারটা ন্যাটোকেও বুঝতে হবে।’
গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিবাদ
গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলো গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্কের নেই।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে সে দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনার পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজরে গ্রিনল্যান্ড। তিনি দ্বীপটির দখল চান বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। তার প্রতিবাদে গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলো জোরালোভাবে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদেরই। যুক্তরাষ্ট্র বা ডেনমার্ক তা ঠিক করবে না। গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টে সব রাজনৈতিক দল যৌথ বিবৃতি দিয়ে এমনই জানিয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডকে আমরা রক্ষা করব: ডেনমার্ক
এনডিটিভি জানায়, ডেনমার্কের পার্লামেন্ট সদস্য এবং প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান রাসমুস জারলোভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ করে, তবে ডেনমার্কের নিজেকে রক্ষা করতেই হবে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, মার্কিন সেনারা গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ করলে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীও তাঁদের আটকাতে পারবে না। তবু এমন কোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এনডিটিভির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জারলোভ বলেন, ‘আমরা এটাও স্পষ্ট করতে চাই, আমাদের ওপর সামরিক হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ন্যাটোভুক্ত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার মতো একটি বোকামিপূর্ণ এবং বিধ্বংসী পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক এবং খুবই, খুবই বোকামি এবং অপ্রয়োজনীয়।’
জারলোভ মনে করেন, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডে হামলার হুমকি দেওয়া বা শত্রুতার কোনো কারণ নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকারের সুযোগ আগে থেকেই আছে। দুই দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে তাদের খনি খননের জন্য প্রবেশাধিকার দেওয়া আছে। এর ব্যাখ্যায় ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এর আসলেই কোনো প্রয়োজন নেই এবং আশা করি, আমরা আবার সঠিক পথে ফিরে আসতে পারব এবং এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়বে না।’
ট্রাম্প এর আগে ২০১৯ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন তাঁকে উত্তরে বলা হয়েছিল, এটি বিক্রির জন্য নয়। ২০২৪ সালে নির্বাচনে জিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প আবার একই প্রস্তাব দেন। এবারও তাঁকে প্রত্যাখ্যাত হতে হয়।
![]() |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি |
গ্রিনল্যান্ড আমরা রক্ষা করব’- যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংসাত্মক’ ন্যাটো যুদ্ধের সতর্কবার্তা ডেনমার্কের
জারলোভ বলেন, গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানোর মতো কোনো হুমকি, শত্রুতা বা যুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার ভোগ করে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় খনিজ অনুসন্ধানসহ নানা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর একেবারেই কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা আশা করি বিষয়টি আবার সঠিক পথে ফিরবে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে না।
গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না
ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্সির সময়ে ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখনই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, এই দ্বীপ বিক্রির জন্য নয়। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড কেনার সেই পুরোনো প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা ফের প্রত্যাখ্যান করা হয়। এ প্রসঙ্গে জারলোভ বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির বিষয়টি দামের প্রশ্ন নয়। তার ভাষায়, আমরা ৫৭ হাজার ড্যানিশ নাগরিককে বিক্রি করে আমেরিকান বানাতে পারি না। গ্রিনল্যান্ডের জনগণ এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।
‘মার্কিন সামরিক হামলা হলে ন্যাটোর অবসান’
এদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হামলা চালায়, তাহলে ৭৬ বছরের পুরোনো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে জারলোভ বলেন, নিশ্চিতভাবেই সামরিক হামলা হলে সেটাই হবে ন্যাটোর শেষ। কারণ তখন ডেনমার্ককে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর করতে হবে। এই ধারাটি সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার দেয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশ বাধ্য হবে ডেনমার্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই রক্ষা করতে। অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র এতে ভেটো দেবে, আর সেখানেই ন্যাটোর মৃত্যু ঘটবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য তারা ‘বিভিন্ন বিকল্প’ বিবেচনা করছে। ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি। লিভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার এবং আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষদের ঠেকাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুবিও স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান, সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চান না।
ডেনমার্ক সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে এবং একে ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ বলে অভিহিত করেছে।

Saturday, January 10, 2026
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে সামরিক শক্তি ব্যবহার হতে পারে: হোয়াইট হাউস
সপ্তাহান্তে ট্রাম্প আবারও বলেন যে, নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড ‘প্রয়োজন’। এর জবাবে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আক্রমণ হলে ন্যাটোর সমাপ্তি ঘটতে পারে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ও তার দল এই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিগত লক্ষ্য অর্জনে একটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন এবং অবশ্যই, সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা হলো সেই বিকল্পগুলোর একটি। এই সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রেসিডেন্ট নিজে। ফলে তার হাতে সবসময় এটা ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
উল্লেখ্য, ন্যাটো হলো একটি আন্তঃমহাসাগরীয় সামরিক জোট। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বহিঃশত্রুর আক্রমণের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহায়তা করার অঙ্গীকার করে। মঙ্গলবার ছয়টি ইউরোপীয় মিত্র দেশ ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। তারা যৌথ বিবৃতিতে বলে, গ্রিনল্যান্ড হলো তার জনগণের, এবং কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা আরও জোর দিয়ে জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই উদ্বিগ্ন। তবে এটি অবশ্যই ন্যাটো মিত্রদের মাধ্যমে ‘সমষ্টিগতভাবে’ অর্জিত হতে হবে। এছাড়া তারা জাতিসংঘ সনদের নীতি- সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অক্ষুন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে ‘সম্মানজনক সংলাপের’ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংলাপ হতে হবে এই সম্মানের ভিত্তিতে যে গ্রিনল্যান্ডের মর্যাদা আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতিতে প্রতিষ্ঠিত।
গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ বিতর্কটি নতুন করে সামনে আসে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর। সেখানে এই অভিযানের নিন্দা জানায় বেইজিং ও পিয়ংইয়ং। সেই অভিযানের এক দিন পর ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক মাধ্যমে আমেরিকার পতাকার রঙে রঙিন একটি গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র পোস্ট করেন। ইংরেজিতে পাশে লিখেছেন- ‘সুন’। অর্থাৎ গ্রিনল্যান্ডেও একই রকম ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে শিগগিরই। সোমবার স্টিফেন মিলার জানান, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা হলো ‘মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান’। সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একাধিকবার জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেউ লড়াই করবে না।
রয়টার্সকে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড সরাসরি কিনে নেয়া, অথবা এর সঙ্গে ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তি করা। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, যা আমেরিকান জনগণ ও গ্রিনল্যান্ডের মানুষের জন্য উপকারী হবে। আমাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষরা ক্রমবর্ধমানভাবে আর্কটিকে সক্রিয় হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ন্যাটো মিত্রদের যৌথ উদ্বেগের বিষয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার কংগ্রেসে গোপন বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা নেই। তবে ডেনমার্কের কাছ থেকে এটি কেনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জানিয়েছে তারা দ্রুত রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বললে কিছু ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর এরিক শ্মিট বিবিসিকে বলেন, তারা এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে আছে। আমার আশা- ইউরোপ বুঝবে যে শক্তিশালী আমেরিকা পশ্চিমা সভ্যতার জন্য ভালো।
ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্সির মেয়াদে গ্রিনল্যান্ডকে আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত ঘাঁটিতে রূপান্তরের ধারণা তোলেন। ২০১৯ সালে তিনি বলেন, মূলত এটি একটি বড় রিয়েল এস্টেট চুক্তি। ওদিকে, রাশিয়া ও চীনের আগ্রহ বাড়ছে দ্বীপটিতে। সেখানে রেয়ার আর্থ খনিজ বা বিরল খনিজ সম্পদের মজুদ আছে। বরফ গলতে থাকায় নতুন সমুদ্রপথের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। মার্চে ট্রাম্প বলেন, দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ পেতে যুক্তরাষ্ট্র যতদূর যেতে হয়, যাবে।
গত গ্রীষ্মে কংগ্রেসীয় শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জিজ্ঞেস করা হয়, প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড দখলে নেয়ার কোনো সামরিক পরিকল্পনা আছে কিনা। তিনি বলেন, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে, যদিও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী একদিন স্বাধীনতা সমর্থন করলেও, জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ব্যাপারে তাদের বড় ধরনের বিরোধিতা রয়েছে। দ্বীপটিতে ইতিমধ্যে একটি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। ইলুলিসাতের ২৭ বছর বয়সী ইনুইট নাগরিক মর্গান আঙ্গাজু বিবিসিকে বলেন, বিশ্বনেতাকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে হাসতে শোনা ভয়ংকর ছিল, যেন আমরা কোনো বস্তু, যাকে দাবী করা যায়। তিনি বলেন, আমাদের ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডবাসীরা দাবি করে কালাল্লিত নুনাত। যার মানে গ্রিনল্যান্ডিকদের ভূমি।
তিনি আরও জানান, দুশ্চিন্তায় আছেন কী ঘটতে পারে সামনে। মাদুরোর মতো পরিণতির মুখে পড়বেন কিনা গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ‘আমাদের দেশ আক্রমণ করবে কিনা’ তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

Friday, January 9, 2026
ট্রাম্পকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি দেয়া বন্ধ করুন
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করার পর তিনি এ মন্তব্য করলেন। ওই ছবিতে গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার জাতীয় পতাকার রঙে দেখানো হয়েছিল, সাথে লেখা ছিল ‘সুন’ (শিগগিরই)।
ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বহুবার তুলেছেন। তার কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের কথা তুলে ধরেছেন। ফ্রেডেরিকসেনের সমালোচনার পরও তিনি নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন। ড্যানিশ সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ‘খুব সরাসরি’ এই বার্তা দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ডেনমার্ক এবং সেইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য এবং জোটের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আওতায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের এমনিতেই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার পায়। পাশাপাশি ডেনমার্ক আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বিনিয়োগও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে অনুরোধ করব, একটি ঐতিহাসিক মিত্র দেশের বিরুদ্ধে এবং এমন এক দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেয়া বন্ধ করুন, যারা খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।
কয়েক ঘণ্টা পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প আবার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার, আর ডেনমার্ক এটা করতে পারবে না। এর আগে কেটি মিলারের পোস্টের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ড্যানিশ রাষ্ট্রদূত এক ‘বন্ধুসুলভ মনে করিয়ে দেয়া’ বার্তায় জানান- দুই দেশ মিত্র এবং ডেনমার্ক তার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করে।
এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ভেনিজুয়েলায় বড় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। পরে ট্রাম্প বলেন, ভেনিজুয়েলা পরিচালনা করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির অবকাঠামো ঠিক করে দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।
ট্রাম্প আগে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে বল প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তার দাবি, দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর কৌশলগত অবস্থান ও উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের জন্য জরুরি বহু খনিজসম্পদ সেখানে রয়েছে। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডে একটি বিশেষ দূত নিয়োগ করায় ডেনমার্ক ক্ষোভ প্রকাশ করে। গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা ৫৭ হাজার। ১৯৭৯ সাল থেকে অঞ্চলটি ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে- যদিও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনো ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চায়। তবে জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে তারা প্রবলভাবে বিরোধিতা করে।

Thursday, August 28, 2025
গ্রিনল্যান্ডে গোপন তৎপরতা, মার্কিন শীর্ষ দূতকে তলব করেছে ডেনমার্ক
ডেনমার্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘ডিআর’ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ গোপন তৎপরতার খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্য গ্রিনল্যান্ডের সমাজে ঢুকে পড়া এবং ডেনমার্ক থেকে দ্বীপটিকে বিচ্ছিন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত করার পক্ষে প্রচার চালানো। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, রাষ্ট্রের (ডেনমার্ক) অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ করার যেকোনো চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। এ অবস্থান থেকেই মার্কিন কূটনীতিককে তলব করা হয়েছে।
এদিকে ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানোর জন্য গ্রিনল্যান্ডকে নিশানা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য জানার জন্য ডেনমার্কে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সময় বলেছেন, ডেনমার্কের আধা স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ডের দখল নিতে চান তিনি। কোপেনহেগেন এই অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
কয়েক মাস আগে গ্রিনল্যান্ড সফর করেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। ওই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা অন্য কোনো দেশকে নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করতে পারেন না।’
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বিবিসিকে বলেন, বিভিন্ন বিদেশি শক্তি গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে এবং সেখানে ডেনমার্কের অবস্থান নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার অবগত।
ডেনমার্ক পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে দেখে এসেছে দেশটি। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গ্রিনল্যান্ড দখলে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় ডেনিশরা অবাক হয়েছেন।
![]() |
| বরফে ঢাকা গ্রিনল্যান্ডের একটি শহর। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Thursday, April 10, 2025
আমেরিকান পণ্য বর্জন করছেন কানাডিয়ান এবং ড্যানিশরা
তার স্ত্রীর সাথে বাজারে বেরিয়ে ব্রেম্যান পছন্দের ওয়াইনসহ যে সমস্ত আমেরিকান পণ্য কিনতেন তার পরিবর্তে এখন কানাডিয়ান ওয়াইন পান করা শুরু করেছেন। ব্রেম্যানের কথায়, তবে কোন পণ্যগুলো কানাডিয়ান তা নির্ধারণ করা সবসময় সহজ নয়। কখনও কখনও লেবেলিং বিভ্রান্তিকর হতে পারে। সাহায্য করার জন্য তিনি এখন তার ফোনে একটি অ্যাপ ব্যবহার করেন যা কোনও পণ্যের বারকোড স্ক্যান করতে পারে এবং এটি কোথা থেকে এসেছে তা শনাক্ত করতে পারে। ম্যাপেল স্ক্যান নামে এই অ্যাপটি কানাডার স্থানীয় পণ্য কেনাকাটা করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা।
ম্যাপেল স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা সাশা ইভানভ বলেছেন যে, গত মাসে চালু হওয়ার পর থেকে তার অ্যাপটি ১০০,০০০ বার ডাউনলোড হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে কানাডিয়ানরা এভাবেই নিজের দেশের জিনিস কিনতে থাকবে। ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত আমদানি শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় ব্রেম্যানের মতো কানাডিয়ানরা আমেরিকান পণ্য বর্জন করছেন। ইতিমধ্যেই সমস্ত বিদেশি গাড়ি, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপর ২৫% শুল্ক এবং অন্যান্য কানাডিয়ান এবং মেক্সিকান পণ্যের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। তার জেরেই এই প্রতিক্রিয়া।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের উপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হবে, যেখানে যুক্তরাজ্য ১০% শুল্ক আরোপের সম্মুখীন হবে।ট্রাম্প বলেছেন যে, এই শুল্ক মার্কিন উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। কর রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে। তবে, তারা বিশ্ব বাজারকে আতঙ্কিত করে তুলেছে, যা গত মাসে তীব্রভাবে পতনের সম্মুখীন হয়েছে। ট্রাম্প এমনকি কানাডাকে ৫১তম রাজ্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পৃক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যা কানাডিয়ান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। অটোয়াও পাল্টা শুল্ক হিসেবে ৬০ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার এবং মার্কিন অটো সেক্টরের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী কানাডিয়ানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলোতেও মার্কিন পণ্য বর্জনের হিড়িক বেড়েছে। মার্কিন পণ্য বয়কটের জন্য বিশেষভাবে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছে ডেনমার্কে, যেখানে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করতে চান বলে জানিয়েছেন। ডেনমার্কের বৃহত্তম মুদি দোকান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্যালিং গ্রুপ সম্প্রতি ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোকে ফোকাস করতে পণ্যের ওপর একটি কালো তারকা প্রতীক যুক্ত করেছে। কোপেনহেগেনের শহরতলির স্কোভলুন্ডে বসবাসকারী একটি স্কুলের অধ্যক্ষ বো আলবার্টাস বলেন, তিনি এই বয়কটে যোগ দিয়েছেন।
তার কথায়, ‘গ্রিনল্যান্ড কিনতে চাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা মেনে নেয়া যায় না। আমি আমেরিকান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছুই হয়তো করতে পারবো না, তবে আমি আমার ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ভোট দিতে পারি।’
আলবার্টাসসের প্রথম পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি ছিল নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস এবং অ্যাপল টিভিসহ মার্কিন স্ট্রিমিং পরিষেবাগুলোর সাবস্ক্রিপশন বাতিল করা। আলবার্টাস হলেন ডেনিশ ফেসবুক গ্রুপের প্রশাসক যিনি মার্কিন পণ্য বর্জনে জনগণকে সহায়তা করার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। ৯০,০০০ সদস্য বিশিষ্ট এই গ্রুপে, লোকেরা জুতা থেকে শুরু করে লন মাওয়ার পর্যন্ত মার্কিন পণ্যের স্থানীয় বিকল্পগুলো শেয়ার করে।
কোপেনহেগেনের ব্রডার্স নামক একটি মুদি দোকানের মালিক মেটে হিরুল্ফ ক্রিশ্চিয়ানসেন তার দোকানে চিটোস ক্রিস্পস এবং হার্শি'স চকলেটের মতো আমেরিকান পণ্য মজুদ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। ডেনিশ বা ইউরোপীয় পণ্য দিয়ে সেগুলো প্রতিস্থাপন করছেন। তিনি মনে করছেন যে, কিছু পণ্য প্রতিস্থাপন করা সহজ। যেমন কোকা-কোলা ডেনিশ ব্র্যান্ড জলি কোলা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ। কিন্তু ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি এড়ানো বেশ কঠিন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ডেনমার্কের বয়কট আন্দোলন ট্রাম্পের নীতি এবং বাগাড়ম্বরের প্রতি মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মার্কিন বাণিজ্য নীতির ইতিহাসে বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ডগলাস আরউইন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের পণ্য বয়কট কতটা অর্থনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে তা বিচার করা কঠিন। অতীতে, বয়কট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং তা থেকে খুব বেশি কিছু অর্জন করা যায়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পদক্ষেপের প্রতি প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া হিসাবে শুরু হয় কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তা ম্লান হয়ে যায়।
যদিও কানাডায় ‘বাই কানাডিয়ান’ মনোভাব বৃদ্ধির ফলে অনেক স্থানীয় ব্র্যান্ডের বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কানাডিয়ান মুদি দোকানের সিইও লোবলা লিঙ্কডইনে পোস্ট করেছেন যে কানাডিয়ান পণ্যের সাপ্তাহিক বিক্রয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডার আলবার্টার বাসিন্দা বিয়ানকা পার্সনস, স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্যের প্রচারণার জন্য ‘মেড ইন আলবার্টা’ নামে একটি উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘শুল্ক আরোপের পর থেকে এই পণ্যের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। আমরা এখন প্রতি দুই সপ্তাহে ২০,০০০ এরও বেশি ভিজিটর পাচ্ছি।’
অন্টারিও এবং নোভা স্কটিয়াসহ বেশ কয়েকটি কানাডার প্রদেশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় তাদের মদের দোকানের তাক থেকে আমেরিকার তৈরি অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় সরিয়ে ফেলেছে। জ্যাক ড্যানিয়েলের নির্মাতা ব্রাউন-ফরম্যানে এই পদক্ষেপকে ‘শুল্কের চেয়েও খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন।বয়কটের শিকার হওয়া আমেরিকান ব্যবসাগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যালেডোনিয়া স্পিরিটস, যা কানাডিয়ান সীমান্তের কাছে ভার্মন্টে অবস্থিত একটি ডিস্টিলার। ক্যালেডোনিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান ডিস্টিলার রায়ান ক্রিশ্চিয়ানসেন বলেছেন যে, শুল্ক ঘোষণার পর তার অনেক অর্ডার সরাসরি বাতিল করা হয়েছে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত আমেরিকান মশলা কোম্পানি বার্ল্যাপ অ্যান্ড ব্যারেলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইথান ফ্রিশ, যারা কানাডাতেও মশলা রপ্তানি করে, বলেছেন যে তিনি ভোক্তা বয়কটের চেয়ে তার কোম্পানির আমদানির উপর শুল্কের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে বেশি চিন্তিত। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এমন একটি ধারণা আছে যে, যদি আপনি কোনও আমেরিকান কোম্পানি বয়কট করেন, তাহলে এর অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়বে। সেইসঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয় এই ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ মার্কিন অর্থনীতি এমনিই ভেঙে পড়ছে। আমাদের মতো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকার লড়াই করছে।’
সূত্র: বিবিসি

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(2249)
-
▼
October
(177)
-
▼
Oct 17
(14)
- মুসলিম বিশ্বে ‘মুহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রা...
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন রণতরি তাড়াতে ইরানের নতুন ...
- এডেন বিমানবন্দরে হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল যাত্...
- হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত ‘সরকারি বাহিনী’ ক...
- গণহত্যার মুখে ভারতের মুসলমানরা by মেহেদী হাসান
- ফিলিস্তিনিদের জলপাই ‘চুরি’র অনুমতি দিলেন ইহুদি ধর্...
- রোহিঙ্গা গ্রাম ধ্বংস করে রাখাইনে সেনাচৌকি!
- রয়টার্সের প্রতিবেদন: ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য...
- ইরানের নিখুঁত হামলায় বিপর্যস্ত উপসাগরীয় দেশ, চাপে ...
- ইসরাইলের নির্বাচনে ক্ষমতার চাবিকাঠি হতে পারেন আরব ...
- ‘নেতানিয়াহু মিথ্যাবাদী, তার হাতে ফিলিস্তিনি শিশুদে...
- ইয়েমেনে রণক্ষেত্রে উত্তেজনার কেন্দ্রে তাইজ, শহরটি ...
- ভারতে মুসলিম হওয়াই কি অপরাধ, প্রাণনাশে পুলিশের হুম...
- নেটফ্লিক্সের ৬৫০ কোটি রুপির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিলেন...
-
▼
Oct 17
(14)
-
▼
October
(177)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




