Friday, January 30, 2026
দেয়াল বেয়ে ১০১ তলা ভবনের চূড়ায় অ্যালেক্স হনোল্ড
গতকাল রোববার সকালে হনোল্ড যে ভবনের দেয়াল বেয়ে উঠছিলেন, সেটি তাইপে নগরের বিখ্যাত ‘তাইপে–১০১’। সুউচ্চ এই ভবন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত এই ভবনের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হন তিনি।
হনোল্ড একজন পর্বতারোহী। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি কোনো দড়ি, নিরাপত্তা জাল বা অন্য কোনো সরঞ্জাম ছাড়াই শুধু খালি হাতে তাইপে ১০১ ভবন বেয়ে উঠেছেন। হাত পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া এড়াতে তাঁর সঙ্গে শুধু এক ব্যাগ চকের গুঁড়া ছিল।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে তিনি ১ হাজার ৬৬৭ ফুট (৫০৮ মিটার) উঁচু ভবনের চূড়ায় পৌঁছান, নিচে তাঁর ভক্ত–দর্শকেরা করতালি দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। পুরো ভবন বেয়ে উঠতে তিনি ৯২ মিনিট সময় নেন।
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই আরোহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে হনোল্ড বলেন, ‘এটা সত্যিই অসাধারণ। আমি নিশ্চিত, অনেক দিন ধরে এ আনন্দ আমার ভেতর জ্বলজ্বল করবে—এটা অবিশ্বাস্য!’
নিজের অনুভূতির বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি এটা নিয়ে দীর্ঘদিন ভাববেন, মনে হবে, এটা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবে যখন আপনি কাজটি করে ফেলবেন, সে সময়ের অনুভূতিটা সত্যিই আলাদা।’
হনোল্ডের বয়স ৪০ বছর। প্রায় দুই দশক ধরে পর্বতারোহীদের মধ্যে তিনি পরিচিত মুখ। তবে ২০১৭ সালে তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইওসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের ‘এল কেপিট্যান’ বেয়ে উঠে সারা বিশ্বের পরিচিতি পান। তাঁর শ্বাসরুদ্ধকর ওই অভিযানের তথ্যচিত্র ‘ফ্রি সলো’ পুরস্কার জিতেছে। তার পর থেকে তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। প্রায় এক দশক ধরে তিনি তাইপে–১০১ ভবন বেয়ে ওঠার পরিকল্পনা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত নেটফ্লিক্স তাঁকে এ সুযোগ করে দেয়।
হনোল্ড গত শনিবার তাইপে–১০১ ভবন বেয়ে ওঠার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই পরিকল্পনা এক দিন পেছাতে হয়।
হনোল্ডের আগে ২০০৪ সালে ফরাসি পর্বতারোহী আলাঁ রবার্ট তাইপে–১০১ ভবনের দেয়াল বেয়ে উঠেছিলেন, তবে তিনি ভবন বেয়ে উঠতে রশি ব্যবহার করেছিলেন।
| কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়া খালি হাতে তাইপের আকাশচুম্বী ভবনের দেয়াল বেয়ে উঠছেন অ্যালেক্স হনোল্ড। ছবি: রয়টার্স |
Wednesday, January 28, 2026
খালি হাতে ১০১ তলা ভবনে বেয়ে উঠলেন অ্যালেক্স হনল্ড by আহমাদ মুদ্দাসসের
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে অ্যালেক্স হনল্ড ভবনের চূড়ার শেষ ইঞ্চিটুকু পার করেন, যার উচ্চতা ১ হাজার ৬৬৭ ফুট বা ৫০৮ মিটার। আরোহণ শেষ করে যখন তিনি ভবনের উঁচু চূড়ায় উঠে দাঁড়ান, তখন তাঁর মুখে চওড়া হাসি। নিচে উল্লাস করছে তাইপেবাসী। ভিড়ের দিকে হাত নাড়াচ্ছেন হনল্ড। এই দৃশ্য নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে ক্লাইম্বিং ইতিহাসের এক আইকনিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এরই মধ্যে দুইটি সেলফি ভাইরাল হয়ে গেছে। অ্যালেক্স হনল্ড তাইপে শহরকে পেছনে রেখে দুটি সেলফি তুলেছেন।
এই প্রথম কোনো মানুষ তাইপে ১০১ ভবনে ‘ফ্রি সলো’ করেছেন। ফ্রি সলো মানে কোনো রশি নেই, কোনো সেফটি নেট নেই। নেই কোনো যান্ত্রিক সহায়তা। শুধু খালি হাত আর গ্রিপ বাড়ানোর জন্য সঙ্গে আছে সামান্য চক।
ক্লাইম্ব শেষ করে সংবাদ সম্মেলনে হনল্ড বলেছেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। কয়েক দিন ধরেই মনে হচ্ছে আমি যেন আলো ছড়িয়ে বেড়াচ্ছি। কত দিন ধরে ভাবতে হয়, কল্পনা করতে হয়, হবে কি না। কিন্তু যখন সত্যিই করে ফেলি, তখন অনুভূতিটা সব সময়ই আলাদা।’
২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি তাইওয়ানের এই গগনচুম্বী ভবনে ওঠা হনল্ডের বয়স এখন ৪০। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি ক্লাইম্বিং দুনিয়ার পরিচিত মুখ। বিশের কোঠায় থাকতেই কঠিন রুটে সফল ফ্রি সলো ক্লাইম্ব করে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ২০১৭ সালে ইয়োসেমাইট ন্যাশনাল পার্কের এল ক্যাপিটান সম্পূর্ণ রশিবিহীনভাবে বেয়ে ওঠার পরই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত নাম হয়ে যান। সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেন। সেই ভয়ংকর অভিযানের গল্প ধরা পড়ে অস্কারজয়ী ডকুমেন্টারি ‘ফ্রি সলো’তে।
কখনো থেমে যাননি হনল্ড। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ খুঁজে নিয়েছেন, রেকর্ড ভেঙেছেন। তাইপে ১০১-এ ওঠার ইচ্ছা তাঁর এক দশকের বেশি সময় ধরে। কিন্তু সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের প্রস্তাবে সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। পুরো ক্লাইম্বটি নেটফ্লিক্সে লাইভ স্ট্রিম করা হয়। বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ও ক্যামেরা পারসন রশি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঝুলে বিভিন্ন দিক থেকে হনল্ডকে ভিডিও করেন। হনল্ড এই বেয়ে ওঠাকে বলেছেন, এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শহুরে ফ্রি সলো ক্লাইম্ব।
আসলে এই অভিযান হওয়ার কথা ছিল শনিবার সকালে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তা পিছিয়ে যায়। রোবার সকালে আকাশ ছিল নীল, বাতাস ছিল শান্ত। একেবারে আদর্শ পরিবেশ। সেই সুযোগেই শুরু হয় আরোহণ।
হনল্ডের ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেকে শান্ত রাখা। এত মানুষ, এত নজর, সব মিলিয়ে চাপটা বেশি লাগছিল। কিন্তু যত ওপরে উঠেছি, ততই শান্ত হয়ে গেছি। মনে হচ্ছিল, এ তো দারুণ মজা, এ জন্যই তো আমি এটা করি।
অ্যালেক্স হনল্ড অবশ্য এই ভবনের প্রথম আরোহণকারী নন। ২০০৪ সালে ফরাসি ক্লাইম্বার অ্যালাঁ রোবেয়ার্ট তাইপে ১০১-এর চূড়ায় উঠেছিলেন, তবে রশির সাহায্যে। ভবনটির উদ্বোধন উপলক্ষে আমন্ত্রিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেদিন ছিল বৃষ্টি আর প্রবল বাতাস, ফলে তাঁর সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। সে তুলনায় হনল্ডের লেগেছে মাত্র দেড় ঘণ্টা।
রোবেয়ার্ট আর হনল্ড, দুজনই বলেছেন, ভবনটি বেয়ে ওঠা তাঁদের পরিচিত পাহাড়ি বা পাথুরে রুটের মতো অতটা জটিল নয়। কাচের পিচ্ছিল দেয়ালে ঝুলে থাকতে হয়নি হনল্ডকে। ধাতব কাঠামো, বিম আর কাঠামোর বেরিয়ে আসা অংশ ছিল, যেগুলো ধরে ওপরে আগানো সম্ভব। যদিও ওপরে উঠতে গিয়ে কয়েকটি জায়গায় বেশ কিছু বিশেষ কৌশল করতে হয়েছে। সেগুলোও হনল্ড অনায়াসে পার করে দ্রুত ওপরে উঠেছেন। মাঝেমধ্যে বারান্দার মতো ধাপে দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিয়েছেন। নিচের মানুষদের দিকে হাত নেড়েছেন।
এই পুরো সময়ে মনে মনে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন অ্যালেক্স হনল্ডের স্ত্রী স্যানি ম্যাকক্যান্ডলেস। তিনি ভবনের ভেতর থেকে কাচের দেয়ালের মধ্য দিয়ে দেখছিলেন। একতলায় এসে হনল্ড যখন কাচের ওপাশ দিয়ে হাত নেড়েছিলেন, স্যানিও তাঁকে দেখে হাত নাড়ান। চূড়ায় ওঠার পর ভেতরের এক বারান্দায় দুজনের দেখা হয়। আলিঙ্গনের পর স্যানি মজা করে বলেন, ‘পুরো সময়টাই আমার প্রায় প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছিল।’
২০০৪ সালে উদ্বোধনের সময় তাইপে ১০১ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন। পরে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা সেই খেতাব ছিনিয়ে নেয়। এরপর আরও অনেক উঁচু ভবন তৈরি হয়েছে, নিউইয়র্কের ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারও যার মধ্যে আছে। তবু তাইপে শহরের আকাশরেখায় তাইপে ১০১ আজও এক অনন্য বিস্ময়।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে হনল্ডকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘সত্যিই স্নায়ু কাঁপানো’ বলে বর্ণনা করেছেন। ক্লাইম্ব শেষ করে হনল্ড বলেছেন, তিনি চান এই দৃশ্য দেখে মানুষ নিজেদের লক্ষ্য আর চ্যালেঞ্জের পেছনে ছুটতে অনুপ্রাণিত হোক।
সূত্র: সিএনএন
![]() |
| অ্যালেক্স হনল্ড। ইয়াহু |
Wednesday, December 31, 2025
তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া, ফের উত্তেজনা
এতে বলা হয়, এই মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’। এতে দেশটির সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সঙ্গে রকেট ফোর্সও অংশ নিয়েছে। মহড়ার অংশ হিসেবে সরাসরি গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন রণনীতি অনুশীলন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে তাইওয়ানের কাছে ১১ বিলিয়ন ডলারের বৃহৎ অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির ঘোষণার পর এই মহড়া শুরু করলো চীন। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং এবং পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কয়েকটি মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। এদিকে তাইওয়ানের চলতি বছরে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগও বেইজিংয়ের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় চীনের এই সামরিক মহড়ার সমালোচনা করে একে আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার সকালে তারা দ্বীপটির আশপাশে চীনা যুদ্ধবিমান ও জাহাজ শনাক্ত করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিজেদের বাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বাহিনী।
চীনের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে এই মহড়াকে ‘ন্যায়ের ঢাল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এক পোস্টে বলা হয়, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তারা এই ঢালের মুখে ধ্বংস হয়ে যাবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মহড়াকে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির জন্য কঠোর শাস্তি বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহিরাগত শক্তিকে তাইওয়ান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে বলেছেন, তাইওয়ান শান্তি বজায় রাখতে চায় এবং বর্তমান অবস্থান অক্ষণ্ন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শান্তি টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অপরিহার্য। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর থেকে তাইওয়ান প্রণালীতে নিয়মিত সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন। চলমান এই মহড়াটি ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের নতুন প্রধান ইয়াং ঝিবিন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় মহড়া। একই সঙ্গে তাইওয়ানও নিজস্ব সামরিক মহড়ার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করে চলেছে, যা এ অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।

Monday, December 29, 2025
৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্প তাইওয়ানে
এ জায়গাটি রাজধানী তাইপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ইয়িলান কাউন্টি ফায়ার ব্যুরো এএফপিকে জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পের সময় রাজধানী তাইপের ভবনগুলো দুলে ওঠে এবং পুরো তাইওয়ানজুড়েই কম্পন অনুভূত হয়। তাইওয়ান প্রায়ই ভূমিকম্পের কবলে পড়ে। কারণ দ্বীপটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগসীমার কাছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর প্রান্তভাগে অবস্থিত।
ইউএসজিএসের ভাষায়, এ অঞ্চলই বিশ্বের সবচেয়ে ভূকম্পন সক্রিয় এলাকা। এর আগের বুধবার দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৬.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ৭.৪ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে হুয়ালিয়েন শহরসংলগ্ন এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং বহু ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়। কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, এটি ছিল গত ২৫ বছরে তাইওয়ানের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূকম্পন। এর আগে ১৯৯৯ সালে ৭.৬ মাত্রার যে ভূমিকম্প ঘটে। সেটিই ছিল দ্বীপটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

Sunday, December 21, 2025
চীনের হুমকি মোকাবিলা: তাইওয়ানকে রেকর্ড ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর তাইওয়ানের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অস্ত্র বিক্রির দ্বিতীয় বড় ঘটনা এটি। এমন এক সময়ে এ ঘোষণা এল, যখন বেইজিং সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়িয়েই চলেছে।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। দ্বীপটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহার করার কথা কখনো অস্বীকার করেনি দেশটি। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে চীন। এ নিয়ে আশপাশের ছোট দেশগুলোর সঙ্গে তার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রি চুক্তির আওতায় আট ধরনের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো অত্যাধুনিক রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ‘হিমার্স’, হাউইটজার কামান, জ্যাভলিন ট্যাংক–বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত আত্মরক্ষা ও শক্তিশালীভাবে দ্রুত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাইওয়ানকে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, এ অস্ত্র বিক্রির মূল উদ্দেশ্য, তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন ও তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা। যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শে তাইওয়ান তার সশস্ত্র বাহিনীকে গেরিলা যুদ্ধের সক্ষমতাসম্পন্ন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এর অর্থ ছোট, সস্তা কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ড্রোন বা মোবাইল রকেট ব্যবহার করে চীনের বিশাল বাহিনীকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনী।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র কারেন কুও এ সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শক্তির মাধ্যমেই আমরা শান্তি রক্ষা করতে চাই এবং নিজেদের রক্ষায় আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
গত মাসে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ঘোষণা করেন, ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলার জন্য ৪০ বিলিয়ন (৪ হাজার কোটি) ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদিত হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ছাড় নেই।
![]() |
| তাইওয়ানের বার্ষিক সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা ‘হিমার্স’। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
Sunday, February 16, 2025
তাইওয়ান নিয়ে চীনের গোপন কৌশল
সামরিক মহড়াকে শনাক্ত করতে তারা ড্রোন ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আছে। ড্রোন ব্যবহার করে যেসব ডাটা পেতেন তা তারা চীনের কাছে পাঠিয়ে দিতেন এবং তাদের আরও সহযোগী সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।
চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পদধারী কাও আন-কুও। তবে তিনিই যে প্রথম এ কাজ করছেন এমন না। রাজধানী তাইপে’তে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এবং তাইওয়ানের সামরিক ঘাঁটির ছবি ও মানচিত্র চীনা এজেন্টদের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানুয়ারিতে বর্ষীয়ান আরেকটি গ্রুপকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চীনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গত বছর ৬৪ জনের বিচার করেছে তাইওয়ানের আদালত। তার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরোর মতে, গত চার বছরে এমন বিচার চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু চীনের অনুপ্রবেশ সুযোগ এবং কৌশলের সঙ্গে বিকশিত হচ্ছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে তাইওয়ানের কর্মকর্তা ও সেনাদের দলে ভেড়ানোর জন্য অনলাইনে ১৭০৬ বার চেষ্টা করেছে চীনা গোয়েন্দারা। এর ফলে তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সৃষ্টি হয়েছে এক অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ। অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফরম এবং আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যাংদের মতো চ্যানেলের মাধ্যমে তাইওয়ানের পদস্থ সেনা কর্মকর্তা ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দলে ভেড়ানোর টার্গেট করছে চীন।
চীনের লক্ষ্যও পরিবর্তিত হচ্ছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কৌশল চুরি থেকে শুরু করে সেনাদের ভাগিয়ে নেয়ার মতো মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ তাইওয়ানের সেনাদের আত্মসমর্পণের কথিত ভিডিও ধারণ করছে। তাতে ধারণ করা ব্যক্তিকে দেখা যায় তাইওয়ানের সেনাবাহিনীর পোশাক পরা। হাতে চীনের পতাকা। মাতৃভূমি চীনের প্রতি অনুগত থেকে তার বিরুদ্ধে লড়াই না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাইওয়ানের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এখানে প্রশ্ন হতে পারে- কীভাবে তাইওয়ানের সেনা কর্মকর্তা ও সেনা সদস্যদের বুঝিয়ে দলে ভেড়াচ্ছে চীন? উত্তর হচ্ছে- এর আগে তারা প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের টার্গেট করেছে। এসব বর্ষীয়ান সেনা সদস্য এমন একটি প্রজন্ম, যারা মূল ভূখণ্ড চীন থেকে পালিয়ে এসেছে। তারা নিজেদেরকে চীনা নাগরিক বলে মনে করেন। এমনকি তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন। ২০১৮ সালে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি অবসরপ্রাপ্ত বর্ষীয়ান সেনা সদস্যদের জন্য পেনশন কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন ওইসব বর্ষীয়ান সেনা সদস্যরা। তারা ছিলেন- অসন্তুষ্ট। ফলে তাদেরকে টার্গেট করা চীনা এজেন্টদের জন্য খুব সহজ হয়ে যায়। এ কথা বলেছেন- বিমান বাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল চ্যাং ইয়েন-তিং। তিনি বলেন, এসব মানুষ যখন পারিবারিক সফরে বা ব্যবসায়িক সফরে যান, তখন তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করে চীনা এজেন্টরা। তাদেরকে খাবার খেতে নিয়ে যায়। গল্ফ খেলার আমন্ত্রণ জানায়। পিয়াজে যেমন একটির পর একটি ঝিল্লি থাকে, তেমনি একের এর এক স্তরে অগ্রসর হতে থাকে তারা।
কিন্তু এখন তরুণদের টার্গেট করছে চীন। এ কথা বলেছেন- স্পেশাল প্রসিকিউটরদের একজন। তিনি তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় দেখাশোনা করেন। তিনি বলেন, যেসব তরুণকে চীনারা টার্গেট করে তাদের অনেকেই ঋণগ্রস্ত। তারা অনলাইনে অর্থ উপার্জনের জন্য অনুসন্ধান শুরু করেন। কিন্তু তাদের কেউ কেউ চীনের পাতা জুয়ায় ধরা পড়েন। অন্যরা অনানুষ্ঠানিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণ চান। কখনো এমনও হয় যে, এসব ঋণদাতা ক্রিমিনাল গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের সঙ্গে তাইওয়ানের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সম্পর্ক আছে। এসব গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে চীন। এসব মধ্যস্থতাকারী ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। তারা যুদ্ধ চায় না এমন বক্তব্য নেয়। দেশটির সেনা সদস্যদের অনেকেই দেখেন- অর্থ বানানোর এটা একটা সহজ পথ।
ওই প্রসিকিউটর বলেন, মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও’র জন্য বিপুল পরিমাণ সহায়তা দেয়া হয়। বিনিময়ে দিতে হয় গোপন গোয়েন্দা তথ্য। প্রথমবার অর্থ দেয়া হয়ে গেলে মধ্যবর্তী ব্যক্তি আরও গোয়েন্দা তথ্যের জন্য টার্গেট করে। ওই প্রসিকিউটর বলেন, এসব ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তা ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করছে চীন। যখন তাইওয়ানকে দখল করে নেয়ার চেষ্টা করবে তারা, তখন এটাকে দেখাবে যে- জনগণ স্বাধীনতা চায় না। বহু সামরিক গোয়েন্দাবৃত্তির মামলা নিয়ে কাজ করেছেন আইনজীবী নাই রুইয়ি। তিনি বলেন, এসব ভিডিও সাধারণ জনগণকে দেখিয়ে বলা হবে- দেখ, তোমাদের সেনাবাহিনীই তো তোমাদের দেশের প্রতি অনুগত নয়। চীনের পক্ষে গোয়েন্দাবৃত্তিতে লোক সংগ্রহের জন্য এসব হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি। এভাবে সংগ্রহ করা গুপ্তচর তাইওয়ানের টার্গেট সম্পর্কে প্রকাশ করে দেবে। এতে তাইওয়ান কোথায় কোথায় সেনা মোতায়েন করবে, কোথায় কোথায় তাদের দুর্বল পয়েন্ট আছে সেসব তথ্য জানিয়ে দেবে। প্রসিকিউটর বলেছেন, তিনি সম্প্রতি এমন একটি মামলা হাতে নিয়েছেন- যেখানে থাই পাসপোর্টের বিনিময়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছেন তাইওয়ানের একজন লেফটেন্যান্ট। তিনি বলেন, ওই লেফটেন্যান্ট আমাকে বলেছেন- যদি যুদ্ধ হয়, তিনি তার দায়িত্ব পালনে দেশেই থাকবেন। তবে তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের অন্যত্র সরিয়ে দিতে চান।
চীনের সামরিক অনুপ্রবেশ বন্ধের জন্য চেষ্টা করছে তাইওয়ান। আভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এ পর্যন্ত বেশ কতগুলো ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এর ফলে দেখা যাচ্ছে গুপ্তচরবৃত্তিক শিক্ষা কাজ করছে।

Saturday, November 9, 2024
ট্রাম্পকে নিয়ে উদ্বিগ্ন তাইওয়ান, সমান্তরাল পথে হাঁটতে চায় চীন
এদিকে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লায় চিং-তে সামাজিক মাধ্যম এক্সের এক পোস্টে বলেন, তিনি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, ‘অভিন্ন মূল্যবোধ ও স্বার্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘ দিনের সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি হিসেবে অব্যাহত থাকবে এবং বৃহত্তর সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে’।
চীনের কিছু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী বলছেন তারা মনে করেন ট্রাম্প চীনা পণ্যের উপরে কর আরোপ করবেন তবে আসন্ন বাণিজ্য যুদ্ধ চীনের অর্থনীতিতে কি প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে তারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে তাইওয়ানবাসী ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তাদের দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে যাওয়ার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন, কারণ নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তিনি তাইওয়ান সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে তার বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকাটাই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তাইপেতে একজন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ ৩৫ বছর বয়সী লিডিয়া ইয়াং বলেন, ‘গত কয়েক মাসে তাইওয়ান সম্পর্কে তার মন্তব্য শুনে আমি চিন্তিত যে, তারা যদি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চান তা হলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে ততখানি সমর্থন দিবে না’।
জুলাই মাসে ব্লুমসবার্গ বিজনেসউইক পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিরক্ষার জন্য তাইওয়ানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য পরিশোধ করা এবং তিনি তাইওয়ানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর খরচকে বীমা বলে অভিহিত করেন। তিনি ঐ সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমি তাদের ভাল করেই জানি। সম্মানও করি। তারা আমাদের চিপ ব্যবসার শতভাগ নিয়েছে। আমার মনে হয় প্রতিরক্ষার জন্য তাইওয়ানের উচিত আমাদের পয়সা দেওয়া। তাইওয়ানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির সুরক্ষার জন্য অর্থ প্রদানের আহ্বান জানানো ছাড়াও ট্রাম্প তাইওয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেমি-কন্ডাক্টার প্রযুক্তি চুরি করার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং তাইওয়ানের সেমি-কন্ডাক্টার কোম্পানিগুলির উপর কর বসাবার হুমকি দেন।

Tuesday, October 15, 2024
ঘিরে ফেলল চীন, পাল্টা পদক্ষেপে সেনা পাঠাল তাইওয়ান
সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে চীন-তাইওয়ানের মধ্যে এত উত্তেজনা আর কখনও দেখা যায়নি। এরই মধ্যে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলেছে চীন। তার পদক্ষেপ হিসেবে তাইওয়ান সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
জানা গেছে, তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। এতে চীনের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ছাড়াও রকেট ফোর্স, কোর্স্টগার্ড ও অন্যান্য বাহিনীও অংশ নেয়।
চীনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেই এই মহড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা বলছে, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান বিভিন্ন দিক থেকে তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এ সময় তারা যৌথ আক্রমণের মহড়া চালায়। যুদ্ধ প্রস্তুতি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও এলাকায় ব্লকেড দেওয়া, জল ও স্থলে কীভাবে হামলা চালানো হতে পারে, তার নমুনা দেখাতেই এই মহড়ার অনুষ্ঠিত হয়।
চীনের সাম্প্রতিক সময়ে এই আগ্রাসী আচরণের জন্য বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে তাইপেকে দায়ী করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন লাই চিং-তে। তখনই তিনি কড়া ভাষায় বেইজিংয়ের সমালোচনা করেন। তবে প্রকাশ্যে দেওয়া ভাষণে তাইওয়ানের স্বশাসন বজায় প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চিং-তের এমন মন্তব্যের পর বেজায় চটেছে বেইজিং।
চিং-তের পূর্বসূরিরা অনেকটা রয়েসয়ে এই ইস্যুতে কথা বলেছেন। কিন্তু তাইওয়ানের নতুন এই প্রেসিডেন্ট চেয়ারে বসেই যেন আগুন নিয়ে খেলা শুরু করলেন। তার সর্বশেষ এই মন্তব্যের পর, সামরিক মহড়া করে তাইওয়ানকে জবাব দেয় চীন। এরপর পাল্টা তাইওয়ানও পদক্ষেপ নেয়। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিজেদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় যথাযথ সেনা পাঠানো হয়েছে। তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে তাইওয়ান।
তাইওয়ানের স্বশাসন নিয়েই বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইপের মূল দ্বন্দ্ব। চীনের ভাষায়, তাইওয়ান তাদেরই অংশ। ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে যুক্ত করার স্বপ্নও দেখে বেইজিং। এজন্য প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়ে রেখেছে তারা। যদিও তাইওয়ানিদের বিশ্বাস, তারা আলাদা জাতি। তবে অধিকাংশ তাইওয়ানি চীন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা বা দেশটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে নয়।
![]() |
| চীনের পতাকার ওপর গ্রাফিকস। ছবি : সংগৃহীত |
Monday, October 14, 2024
‘ন্যাশনাল ডে’ পালনের জেরে নতুন করে উত্তেজনায় চীন-তাইওয়ান
এতে বলা হয়, তাইওয়ানের মূল বন্দর এবং বিশেষ এলাকাকে টার্গেট করেই সীমান্তে এই মহড়া শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের জাতীয় ঐক্য রক্ষায় এই মহড়া বৈধ এবং প্রয়োজনীয় অপারেশন বলে মনে করছে বেইজিং। কবে নাগাদ এই মহড়া শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলেননি পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের মুখপাত্র লি শি।
চীনের এই মহড়াকে অযৌক্তিক এবং উস্কানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে উপযুক্ত বাহিনীর মাধ্যমে টহল জোরদার করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৫টি যুদ্ধবিমান ও নৌ বাহিনীর ৭টি যুদ্ধজাহাজ সহ মোট ১১টি যুদ্ধজাহাজ তাইওয়ানের সমুদ্র ও আকাশ সীমায় পাহারায় পাঠানো হয়েছে।
প্রসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, চীনের উচিত তাইওয়ানের জনগণের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক জীবনযাপনের প্রতি সম্মান করা এবং সামরিক উস্কানি থেকে বিরত থাকা।
সম্প্রতি সময়ে চীন তাইওয়ান সীমান্তে নিজেদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। তারা তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। চীনের হুমকি থাকা সত্ত্বেও এ বছরের ১০ অক্টোবর ‘ন্যাশনাল ডে’ পালন করেছে তাইওয়ানের জনগণ। দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে ন্যাশনাল ডে পালিত হওয়ার কয়েকদিন পরেই সামরিক মহড়া শুরু করলো চীন। যেকোনো দখলদারিত্ব প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে ‘ন্যাশনাল ডে’ উপলক্ষ্যে দেয়া নিজের ভাষণে বলেছেন, তাইওয়ানের ২৩ মিলিয়ন মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই চীনের।

Friday, October 11, 2024
তাইওয়ানের সার্বভৌমত্বকে রক্ষার অঙ্গীকার
উইলিয়াম লাইয়ের বক্তব্যের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতার প্রশ্নে এর মধ্য দিয়ে লাইয়ের অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তাদের ৭৫তম বার্ষিকী পালনের মাত্র ৯ দিন পরেই তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের স্মরণ অনুষ্ঠানে রাজধানী তাইপে জনতার উদ্দেশে ভাষণ রাখছিলেন উইলিয়াম লাই। প্রজাতান্ত্রিক চীন ও গণপ্রজাতান্ত্রিক চীন একে অন্যের অধীনস্ত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এক্ষেত্রে যথাক্রমে তাইপে ও বেইজিং সরকারকে বুঝিয়েছেন। উইলিয়াম লাই বলেন, এই দেশে (তাইওয়ান) গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা সমৃদ্ধ হচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই গণপ্রজাতন্ত্র চীনের। এর আগে লাই বলেছিলেন, জাতীয় দিবসের ভাষণে যোগ দেয়া লোকজন তার কথায় বিস্মিত হবেন না। তিনি তাদেরকে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তোলার মতো কিছু করবেন না তিনি। প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই গত কয়েক মাসে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তাকে অনেকেই উস্কানিমুলক হিসেবে দেখেন। ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লেভ ন্যাচম্যান বলেছেন, সম্প্রতি লাই যেসব বক্তব্য দিয়েছেন বৃহস্পতিবারের বক্তব্য তার চেয়ে নমনীয়। তার চেয়ে কম উত্তেজনাপূর্ণ। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য খুব কমই রসদ পাবে চীন এর মধ্যে। তা সত্ত্বেও তার বক্তব্যকে ঘৃণা করার জন্য অনেক কারণ বের করে ফেলবে বেইজিং। লেভ ন্যাচম্যান মনে করেন, তার এই বক্তব্যের জবাবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেইজিং অধিক পরিমাণে সামরিক মহড়া দেবে।
উইলিয়াম লাইয়ের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন এরই মধ্যে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, লাই স্বাধীনতার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য তিনি তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তেজনা সৃষ্টির হেয় উদ্দেশ্য নিয়েছেন। মুখপাত্র মাও নিং বৃহস্পতিবার বলেছেন, লাই চিং-তে (উইলিয়াম লাইয়ের চীনা নাম)-এর প্রশাসন যা-ই বলুক বা যা-ই করুক না কেন তাতে কিছু এসে যায় না। তাইওয়ান প্রণালীর দুই পাশে যা আছে তা একই চীনের অধীভুক্ত। এই সত্যকে তারা বদলাতে পারবে না। চীন একীভূত হতে চায় এই ঐতিহাসিক প্রবণতাকে থামাতে পারবে না। এমনিতেই একীভূত হয়ে যাবে। তবে উইলিয়াম লাই বলেছেন, জন্মভূমি তাইওয়ানকে চীন তার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে না। এটা একেবারে অসম্ভব। কারণ, ১৯৪৯ সালে বর্তমান কমিউনিস্ট শাসিত চীনা শাসকগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর কয়েক দশক আগে ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাইওয়ান সরকার। পক্ষান্তরে প্রজাতান্ত্রিক চীন (তাইওয়ান) প্রকৃতপক্ষে ওইসব গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের নাগরিকদের জন্মভূমি হতে পারে, যাদের বয়স কমপক্ষে ৭৫ বছর।

Saturday, September 28, 2024
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এই প্রথম তাইওয়ান প্রণালীতে ঢুকে পড়ল জাপানি যুদ্ধজাহাজ
ঘটনাচক্রে, তিনটি দেশই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ‘আমেরিকার ঘনিষ্ঠ’ এবং ‘চীন বিরোধী’ হিসাবে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, জাপানি যুদ্ধজাহাজটি তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রম করার সময় এটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে চীনা সামরিক বাহিনী। প্রসঙ্গত একই দিনে চীন প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে পরীক্ষা করে । যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ান উভয়ই বলেছে যে, 'তাইওয়ান প্রণালী' একটি প্রধান শিপিং এবং বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ এবং সব ধরনের নৌ জাহাজের জন্য উন্মুক্ত। তবে প্রণালীর সার্বভৌমত্ব ও এখতিয়ার দাবি করা বেইজিং এর সঙ্গে একমত নয়। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরই ছিল একমাত্র বিদেশি নৌবাহিনী যারা নিয়মিত এই প্রণালী অতিক্রম করত। তবে সম্প্রতি এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, বৃটেন ও ফ্রান্স। দুই সপ্তাহ আগে জার্মানি কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই প্রণালী দিয়ে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ চালিয়েছে। গত সপ্তাহে, প্রথমবারের মতো চীনের লিয়াওনিং বিমানবাহী জাহাজ তাইওয়ানের কাছে দুটি জাপানি দ্বীপের মধ্যে যাত্রা করেছিল। এর সঙ্গে ছিল দুটি ডেস্ট্রয়ার। বেইজিং, তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ হিসাবে দেখে, পানির উপরও তারা এখতিয়ার দাবি করে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য অনেক দেশের মতে, তাইওয়ান প্রণালীতে এই ধরনের টহল অনুশীলন স্বাভাবিক ঘটনা ।
সূত্র : dw

Thursday, September 19, 2024
লেবাননে বিস্ফোরণ: তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান ‘তৈরি করেনি’, তাহলে পেজারগুলো এল কোথা থেকে
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যদের নিশানা করে পেজার হামলার এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। হামলার এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্ভূত সংকটের মধ্যে পড়ে তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হসু চিং–কুয়াং দাবি করেছেন, পেজার হামলার এ ঘটনায় তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতার দাবি, এসব পেজার তৈরি করেছে বিএসি কনসাল্টিং নামের হাঙ্গেরির একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিকে গোল্ড অ্যাপোলোর ট্রেডমার্ক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এ অনুমতি থাকায় প্রতিষ্ঠানটি নিজেরা তৈরি করলেও পেজারে গোল্ড অ্যাপোলোর নাম ব্যবহার করেছে। বিবিসির পক্ষ থেকে বিএসি কনসাল্টিংয়ের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
গোল্ড অ্যাপোলোর কার্যালয়ের বাইরে হসু চিং-কুয়াং আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি লেবানন থেকে আসা ছবিগুলো দেখুন। সেসবে (পেজারে) তাইওয়ানে তৈরি এমন কোনো চিহ্ন দেখতে পাবেন না। আমরা এসব পেজার তৈরি করিনি।’
তাওয়ানের রাজধানী তাইপের উপকণ্ঠে গোল্ড অ্যাপোলোর কার্যালয়। আজ অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে ব্যতিক্রম কিছু দেখা যায়নি। কার্যালয়ের মূল ফটকে শুধু দুজন পুলিশ সদস্যকে দেখা গেল।
গোল্ড অ্যাপোলোর কার্যালয়ের দেয়ালে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্যের পোস্টার সাঁটানো। এসব পণ্যের মধ্যে ছোট একটি বাক্সের মতো প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি যন্ত্র, যার মধ্যে ধূসররঙা ছোট একটি এলসিডি পর্দাও রয়েছে। এসবই হচ্ছে পেজার।
আজ সকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে অন্যান্য পণ্যের মতো পেজারের জন্যও একটি পৃথক পৃষ্ঠা (পেজ) ছিল। কিন্তু লেবাননে হামলার ঘটনার পর বিস্ফোরিত পেজারগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গোল্ড অ্যাপোলোর নাম আলোচনায় আসার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।
লেবাননে হামলায় ব্যবহৃত পেজারগুলো বিএসি কনসাল্টিংয়ের তৈরি বলে জানিয়েছেন গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হসু চিং-কুয়াং। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিন বছর আগে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল বিএসি কনসাল্টিং।
হসু চিং-কুয়াং বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্রির জন্য গোল্ড অ্যাপোলোর কাছ থেকে প্রথমে পেজার কিনতে চেয়েছিল বিএসি কনসাল্টিং। কিন্তু প্রায় এক বছর পর প্রতিষ্ঠানটি একটি নতুন প্রস্তাব দেয়। বিএসি কনসাল্টিং জানায়, গোল্ড অ্যাপোলো থেকে সরাসরি পেজার না কিনে তারা নিজেরাই তৈরি করবে; কিন্তু পেজারগুলো তৈরি হবে গোল্ড অ্যাপোলোর নামে।
বিএসি কনসাল্টিং থেকে অর্থ পাওয়ার বিষয়টি খুবই অদ্ভূত ছিল বলে জানান হসু চিং-কুয়াং। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই অর্থ আসত মধ্যপ্রাচ্য হয়ে। কিন্তু এ বিষয়ে আর বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা।
গোল্ড অ্যাপোলো এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা শুধু পেজারে আমাদের ব্র্যান্ড নাম ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছি। পেজারের নকশা বা উৎপাদনে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।’
কিন্তু গোল্ড অ্যাপোলের পক্ষ থেকে এসব দাবি করা হলেও লেবাননে বিস্ফোরণের ঘটনার পর তাইওয়ানের তদন্ত সংস্থার একদল তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হয়েছেন হসু চিং-কুয়াংয়ের কার্যালয়ে। এতে বোঝা যাচ্ছে, গোল্ড অ্যাপোলোর পক্ষ থেকে যতই দাবি করা হোক, তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ তাতে আশ্বস্ত হতে পারছে না। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে।
প্রযুক্তিপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আছে তাইওয়ানের। তবে দেশটিতে প্রযুক্তিপণ্য তৈরির এ প্রক্রিয়া অবশ্য কিছুটা জটিলও। অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, তারা যেসব পণ্য বিক্রি করে, সেসব পণ্য আদতে তারা তৈরি করে না। তারা ব্র্যান্ড নাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
পেজার তেমন কোনো আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য নয়। এর ব্যবহার অনেক আগে থেকে আছে। বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান পেজার তৈরির সক্ষমতা রাখে।
পেজার মূলত ছোট একটি যন্ত্র, যা দিয়ে বেতার তরঙ্গের সাহায্যে যোগাযোগ করা হয়। এতে একটি এলসিডি পর্দা আছে। কথা বলার পাশাপাশি এই পর্দার মাধ্যমে বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। গত শতকের আশি ও নব্বইয়ের দশকে পেজার ছিল যোগাযোগের আধুনিক একটি যন্ত্র। কোটি কোটি মানুষ ছোট এই যন্ত্র ব্যবহার করতেন। মুঠোফোন আসার আগে মাঠে থাকা কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য পেজারের ব্যবহার হতো বেশি।
কিন্তু গত দুই দশকে মুঠোফোন, বিশেষ করে স্মার্টফোনের ব্যবহারের কারণে পেজারের ব্যবহার প্রায় বিলুপ্তির পথে। বিশ্লেষকদের ধারণা, পেজার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গোল্ড অ্যাপোলোর সুনামকে কাজে লাগানো হয়েছে, যাতে হিজবুল্লাহর মতো ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে কোনো সমস্যা না হয়। কিন্তু লেবাননে পেজার বিস্ফোরণের এ ঘটনার পর এমন অনেক প্রশ্ন উঠেছে, যার উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
বিএসি কনসাল্টিং কে বা কারা, এ বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে এখনো তেমন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি। এর নেপথ্যে কে আছে বা ছিল, তা-ও জানা যায়নি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—লেবাননে হামলায় ব্যবহৃত এসব পেজার যদি গোল্ড অ্যাপোলো তৈরি না করে থাকে, তাহলে কে পেজারগুলো তৈরি করেছে বা কোথায় এগুলো তৈরি করা হয়েছে?
![]() |
| বিস্ফোরিত পেজারের টুকরা দেখাচ্ছেন এক লেবাননি |
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2005)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



