Thursday, September 17, 2015

‘মাংস বিক্রি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়’

মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কড়া মনোভাব দেখালেন। আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মানুষের ওপর এই ধরনের সিদ্ধান্ত জবরদস্তি করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সহিষ্ণুতার মনোভাব জাগিয়ে তোলা প্রয়োজন।
এর ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে মাছ-মাংস বিক্রির ওপর হুটহাট নিষেধাজ্ঞা জারি করার প্রবণতা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য বম্বে হাইকোর্টকে বলেছেন, ধর্মীয় উৎসবের সময় মাংস বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা উচিত কি না, সে বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে যেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জৈন ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হলো পযুর্সান। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় জৈনরা উপবাস করেন। ১৯৯৪ সালে কংগ্রেস শাসনামলে এই উৎসব উপলক্ষে দুই দিনের জন্য মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ১০ বছর পরে দুই দিনের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে চার দিন করা হলেও কখনো তা কঠোরভাবে বলবৎ করার চেষ্টা প্রশাসনে ছিল না। মহারাষ্ট্র রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এ বছর সেই নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর মনোভাব দেখায়। এতে নতুনভাবে বিতর্ক শুরু হয়। শিবসেনা ও মহারাষ্ট্র নির্মাণ সেনা বিজেপির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করে। শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক দিনে নামিয়ে আনা হলেও তা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা শুরু হয়।
বম্বে হাইকোর্ট প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার ওপর স্থগিতাদেশ দিলে জৈনদের এক সংগঠন তা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। বিচারপতি টি এস ঠাকুর ও কুরিয়েন জোশেফ আজ বৃহস্পতিবার সেই আবেদন শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, আদেশটি অন্তর্বর্তীকালীন। তা ছাড়া মাত্র এক দিনের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃহস্পতিবারই শেষ হচ্ছে। অতএব আবেদনকারীদের হাইকোর্টেই যেতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে হাইকোর্টকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, এই ধরনের বিষয় মানুষের ওপর জোর-জবরদস্তি করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সবারই উচিত সহিষ্ণু হওয়া।
দেশের বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আমিষ খাবারের ওপর কোপ পড়া শুরু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে গরুর মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ হয়েছে। জৈনদের উৎসব উপলক্ষে মাছ-মাংসের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির চেষ্টা হয়েছে। রাজস্থান ও ছত্তিশগড়েও এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। ছত্তিশগড়ে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গরু জবাই ও গরুর মাংস বিক্রির ওপর জম্মু-কাশ্মীরে ১৯৩৪ সালে জারি হওয়া নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার নির্দেশ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে গরু ও সার্বিকভাবে মাংস বিক্রি নিয়ে জবরদস্তি সিদ্ধান্তে বিভিন্ন রাজ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের আজকের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে বম্বে হাইকোর্ট জানিয়েছিলেন, মানুষের খাওয়ার অভ্যাসের ওপর হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা করা ঠিক নয়। একেবারে শেষ মুহূর্তে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়।

নামেই যত বিপদ! by ইব্রাহীম চৌধুরী

আহমেদ মোহাম্মদ
বাবা মোহাম্মদ এলহাসান মোহাম্মদের সঙ্গে আহমেদ
আপনমনে খেলতে খেলতে নিজেই একটি ঘড়ি বানিয়েছিল আহমেদ মোহাম্মদ। বন্ধুদের দেখাতে স্কুলে নিয়ে যাওয়ায় বাধল বিপত্তি। ঘড়িটি দেখে ভয় পেয়ে গেলেন স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক। সেটি আবার বিস্ফোরক নয়তো! সঙ্গে সঙ্গে স্কুলে ডাকা হলো পুলিশ। কড়া পাহারায় আহমেদকে নেওয়া হলো থানায়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেওয়া হলো না তাকে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের উপকণ্ঠে এ ঘটনাটি ঘটে। তদন্ত করে সুদানের বংশোদ্ভূত আহমেদের বিরুদ্ধে কিছুই পেলো না পুলিশ। কিন্তু তার আগেই স্কুল থেকে তিন দিনের জন্য বহিষ্কার করা হয় তাকে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমে। এর পরই দেশজুড়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ ওঠে-- শুধুমাত্র মুসলিম বলেই এমন বিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে আহমেদকে। এ নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারও।
সমালোচনা আর নিন্দার ঝড়ে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। গতকাল বুধবার সকালে ডালাসের পুলিশ বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, আহমেদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে না। তারপর নড়েচড়ে ওঠে খোদ হোয়াইট হাউসও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল সকালেই টুইটারে বার্তা পাঠান। আহমেদের তৈরি ঘড়ির প্রশংসা করে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। আহমেদ রাতেই সরাসরি পেয়ে যায় হোয়াইট হাউস থেকে আসা আমন্ত্রণ। ১৯ অক্টোবর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে তাকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাবেক মার্কিন ফার্স্টলেডি হিলারি ক্লিনটনও টুইট বার্তায় সহানুভূতি জানান আহমেদকে। বাদ যাননি ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গও। তিনিও তাঁর সদর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আহমেদকে।
বুধবার বিকেলে নিজের পরিবার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছে আহমেদ। জোরালো গলায় বলেছে, নাম ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হেনস্তা হলেও দমে যাবে না সে। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব সমর্থন করায় সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সে। শিগগিরই স্কুল বদলাবে আহমেদ। তার ইচ্ছে দ্য ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমএইটি) পড়া।

ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা পরমাণু হামলার সক্ষমতা আছে পাকিস্তানের

পাকিস্তানের সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব অবসর প্রাপ্ত লে. জেনারেল নাঈম খালিদ লোদি বলেছেন, ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা পরমাণু বোমা হামলা চালানোর সক্ষমতা তার দেশের আছে। রাজধানী ইসলামাবাদ ভিত্তিক থিংক ট্যাংক স্ট্রাটেজিক ভিশন ইন্সটিটিউট বা এসভিআই’এর সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রচলিত অস্ত্রে ভারতের একক প্রাধান্য রয়েছে; আর এর মোকাবেলায় পাকিস্তানের পাল্টা পরমাণু হামলা চালানোর সক্ষমতার বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। শত্রুর হামলায় ভূমি ভিত্তিক প্রধান পরমাণু বোমার ভাণ্ডার অকেজো হয়ে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে শক্রকে জবাব দেয়ার সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বোঝাতে সেকেন্ড স্ট্রাইক বা পাল্টা পরমাণু হামলা শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
নাঈম খালিদ লোদি বলেন, প্রচলিত অস্ত্রে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের ভারসাম্যহীনতা দিনে দিনে বাড়ছে। এ সত্ত্বেও পরমাণু বোমার ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সমতা বজায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের পরমাণু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্ভরযোগ্য।
পাল্টা পরমাণু হামলা ব্যবস্থা ভূমি, আকাশ বা সাগর ভিত্তিক হতে পারে কিন্তু এ সত্ত্বেও পাকিস্তানের এ ব্যবস্থা সম্পর্কে বিশদ কোনো তথ্য দেয়া থেকে বিরত থাকেন খালিদ লোদি।
পাল্টা পরমাণু হামলা নিয়ে আলোচনার সময়ে এসভিআই-এর সভাপতি ড. জাফর ইকবাল চিমা বলেন, পাকিস্তানের এ সংক্রান্ত সক্ষমতা উন্নত হয়েছে। তিনি আরো জানান, পরমাণু বোমাবাহী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হাতেফ-৭ বা বাবর মোতায়েনের মধ্য দিয়ে এ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে। বিমান বা প্রচলিত ডুবোজাহাজ থেকে হাতেফ-৭ বা বাবর ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া যায়।
এ ছাড়া, বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য হাতেফ-৮ বা রা’দ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের এ সক্ষমতা আরো বেড়েছে বলেও জানান তিনি। ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা (এসএলবিএমএস)’কে পাল্টা পরমাণু হামলা চালানোর সেরা পন্থা বলে উল্লেখ করেন ইকবাল চিমা। অবশ্য পাকিস্তান বা ভারত কেউ এখনো এ পদ্ধতি মোতায়েন করেনি বলে জানান তিনি।
সূত্র : রেডিও তেহরান

ডাকটিকিটে থাকবেন না ইন্দিরা আর রাজীব

ভারতের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর নামাঙ্কিত নতুন কোনো ডাকটিকিট আর ছাপা হবে না। বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার আধুনিক ভারতের নির্মাতাদের যে নতুন তালিকা তৈরি করেছে, যাঁদের নামে নতুন করে ডাকটিকিট প্রকাশিত হবে, সেই তালিকায় এই দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে রাখা হয়নি। এক সর্বভারতীয় দৈনিকের পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইনে করা আবেদনের ভিত্তিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।
ইন্দিরা-রাজীবের নাম বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প থেকে মুছে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত বিজেপি সরকার নিয়েছে, এই উদ্যোগ তারই অংশ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। কংগ্রেস আমলে ২০০৮ সালে দেশের নয়জন কৃতী সন্তানের নামে ডাকটিকিট প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ‘আধুনিক ভারতের নির্মাতা’ নামের সেই সিরিজে ইন্দিরা ও রাজীব ছাড়াও ছিলেন মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, বি আর আম্বেদকর, হোমি ভাবা, জে আর ডি টাটা, সত্যজিৎ রায় ও মাদার তেরেসা। পরে ওই তালিকায় যোগ হয় ই ভি রামস্বামী, সি ভি রমন ও রুক্মিনী দেবী অরুণডেলের নাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার সেই তালিকায় পরিবর্তন ঘটিয়ে ‘ভারত নির্মাতা’ নামের এক নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে। এতে ইন্দিরা-রাজীব ছাড়াও বাদ পড়েছেন সি ভি রমন, হোমি ভাবা, জে আরডি টাটা ও সত্যজিৎ রায়। নতুন তালিকায় স্থান হয়েছে ছত্রপতি শিবাজি, মহারানা প্রতাপ, বাল গঙ্গাধর তিলক, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, পণ্ডিত রবিশঙ্কর, বিসমিল্লাহ খান, ভীমসেন জোশি, মাওলানা আজাদ, রাজেন্দ্র প্রসাদ, ভগত সিংসহ বেশ কিছু ব্যক্তিত্বের।
নরেন্দ্র মোদিসহ বিজেপির একাধিক নেতা বহুবারই দেশকে ‘কংগ্রেসমুক্ত’ করার ডাক দিয়েছেন। গত এপ্রিল মাসেই ইন্দিরা ও রাজীবের নামে প্রচলিত দুটি সরকারি পুরস্কারের নাম বদলে দেওয়া হয়।
কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরযেওয়ালা ও আনন্দ শর্মা এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেছেন, মোদি যে কতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ, তা এই সিদ্ধান্তগুলোর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়। জবাবে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, ভারত মানে কোনো একটি রাজনৈতিক পরিবার নয়। এই সরকার পরিবারের বাইরে বেরিয়ে ভারতের প্রকৃত নির্মাতাদের সম্মান দিতে জানে।

চ্যালেঞ্জের মুখে একেপি by মাসুমুর রহমান খলিলী

তুরস্কের আগামী ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় পুনর্নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রথম একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় একে পার্টি। দল হিসেবে অধিক আসনে বিজয়ী হলেও সংসদের অন্য তিন দলের কোনোটির সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠন সম্ভব হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ১ নভেম্বর পুনর্নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে একেপিকে ১৮টি আসন বাড়াতে হয়। এ আসন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আগের নির্বাচনে প্রাপ্ত ৪০.৯ শতাংশ থেকে ভোট ৩ থেকে ৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এ লক্ষ্য অর্জনের পথ নানা কারণে তুরস্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ চ্যালেঞ্জের। এর একটি কারণ হলো তিন দফায় ক্ষমতায় থাকার পর সঙ্গত কারণেই স্টাবলিশমেন্ট-বিরোধী একটি মনোভাব সাধারণ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে সৃষ্টি হয়ে গেছে। তারা বিকল্প নেতৃত্ব দেখতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, একে পার্টির ক্যারিসমেটিক নেতা রজব তাইয়েব এরদোগান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দলের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দানের সুযোগ এখন আর তার নেই। বিকল্প হিসেবে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নিয়েছেন আহমেদ দাভুতোগলুর। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও আন্তর্জাতিক পরিসরে তার যে ইমেজ রয়েছে, ততটা কারিশমা নেই অভ্যন্তরীণ জনমত ও রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে। এর ফলে দাভুতোগলুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের নির্বাচনে দলের ভোট ৯ শতাংশের মতো কমে যায়, আর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় দল।
পুনর্নির্বাচনে হারানো গরিষ্ঠতা ফিরে পেতে একে পার্টি ইতোমধ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুনর্গঠন করে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের আবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিমুদ্দিন আরবাকান প্রতিষ্ঠিত দল সাদাত পার্টির সাথে নির্বাচনী সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী ভোটারদের আবার দলের সমর্থক বলয়ে ফিরিয়ে আনতে একাধিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী পিকেকে গেরিলাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান চালিয়ে কুর্দি কট্টরপন্থী প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা গ্রহণ। একই সাথে সীমান্তের ওপারে তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ দু’টি কাজে একে পার্টিকে কঠিন ঝুঁকি নিতে হয়েছে। প্রথমত, আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে একাধিক অন্তর্ঘাতী ঘটনা ঘটেছে, যার সাথে আইএসের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। অন্য দিকে পিকেকে গেরিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার ফলে একে পার্টির শান্তিপ্রক্রিয়া শুরুর কারণে কুর্দিদের মধ্যে যে সমর্থন বলয় সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে ধস নামবে। ইতোমধ্যে কুর্দিপ্রধান এলাকায় একে পার্টির একাধিক অফিসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কুর্দি এজেন্ডার প্রতি পাশ্চাত্যের বিশেষ সমর্থন থাকার কারণে সরকারের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে নেতিবাচক হিসেবে কাজ করতে পারে।
তুরস্কের একে পার্টির বিরুদ্ধে একধরনের সর্বাত্মক প্রচারাভিযান চালানো হলে দেশটির মধ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা একে পার্টির প্রতি সমর্থন বাড়াতে পারে। একেপি ৭ জুনের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তুরস্কের জাতীয় মুদ্রা লিরা রেকর্ড মাত্রায় মূল্য হারায়। নতুন বিনিয়োগে একধরনের স্থবিরতা নামে। অর্থনীতির বিকাশ হার কমে আসে। এ কারণে তুরস্কের স্থিতি প্রত্যাশীরা একে পার্টি একক সরকার গঠনের সক্ষম হওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করুক সেটি চাচ্ছেন।
২০০২ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর একে পার্টির ভোটপ্রাপ্তি ৩৪ শতাংশ থেকে ৫২ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এর মধ্যে রেফারেন্ডাম বাদ দেয়া হলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগান সর্বাধিক ৫২ শতাংশের কাছাকাছি ভোট লাভ করেন। সংসদ নির্বাচনে ৭ জুনের আগের বার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট লাভ করে একেপি। স্থানীয় সরকারের একাধিক নির্বাচনে ভোটপ্রাপ্তির হার সংসদের তুলনায় কম ছিল। ৭ জুনের নির্বাচনে একে পার্টি ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও এর আগে তার চেয়ে কম ভোট পেয়েও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে দলটি। এর কারণ ছিল কুর্দি দলগুলো তখন ন্যূনতম ১০ শতাংশ ভোটপ্রপ্তির স্তর পেরোতে না পারায় সংসদে গ্রুপ হিসেবে আসন তারা পায়নি। এর সুবিধা লাভ করেছে একে পার্টি। জুনের নির্বাচনে ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে কুর্দি দল এইচডিপি সংসদে ৮০টি আসন লাভ করে। এ ছাড়া রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী ভোটারদের মধ্যে যারা প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনপদ্ধতির রূপান্তরকে সমর্থন করেনি, তারা এমএইচপিকে ভোট দিয়েছে। ফলে তাদের ভোটপ্রাপ্তি বেড়েছে।
পুনর্নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই মেরুকরণ আগের মতো না থাকারই সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে তুরস্কের পুনর্নির্বাচন নিয়ে যেসব জনমত জরিপ প্রকাশ হয়েছে তাতে একে পার্টির ভোটসংখ্যা ২ থেকে ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল সিএইচপির ভোট কোনো কোনো জরিপে অপরিবর্তিত, আবার কোনো কোনোটিতে বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দিকে প্রায় সব জরিপে এমএইচপির ভোট ১ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। এর একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছে এমএইচপির ভোটারদের অনেকে কট্টর ভূমিকা নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন উদ্যোগ ব্যর্থ করার জন্য এমএইচপি নেতৃত্বকে দায়ী করেন। কুর্দি দল এইচডিপির সমর্থন কুর্দি ভোট নিয়ে অপরিবর্তিত থাকলেও তুর্কিরা এবার আর একেপি ঠেকাতে এই দলটিকে ভোট দেবে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে সার্বিক পর্যালোচনায় এইচডিপির ভোট কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্কে এরদোগান ও একে পার্টির প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক প্রভাবচক্রের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। তুরস্কের নির্বাচনে একেপির বিপর্যয়ের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতিতে পড়েছে। সিরিয়ার শরণার্থীরা তুরস্কে যে নিরাপদ আশ্রয় লাভ করেছিল তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ছুটেছে। ইউরোপ প্রাথমিকভাবে তাদের আশ্রয় দিতে না চাইলে এবং ভূমধ্যসাগরে শত শত শরণার্থীর সলিল সমাধি ঘটা এবং অন্যান্য মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনায় পাশ্চাত্যের প্রতি তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে আইলান কুর্দি ও তার পরিবারের পিতা ছাড়া সবার করুণ মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বজনমতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এ অবস্থায় ইউরোপসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো এক দিকে সিরিয়া ও ইরাকের শরণার্থীদের গ্রহণে বাধ্য হয়েছে, অন্য দিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে তাদের ভাবতে হচ্ছে। সেই সাথে তুরস্ককে অস্থির করে রাখার পদক্ষেপ পুরো ইউরোপে অস্থিরতার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এই বাস্তবতার ফলে তুরস্কে এরদোগান ও একে পার্টিকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার যেকোনো উদ্যোগ নেয়া হলে এ জন্য পাশ্চাত্যকে অনেক বড় মূল্য দিতে হবে বলে ইউরোপের নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করতে পারছেন।
তুরস্কের ১ নভেম্বরের পুনর্নির্বাচনের প্রভাব যে মধ্যপ্রাচ্যে বড়ভাবে পড়তে পারে, সেটি একপ্রকার নিশ্চিতভাবে বলা যেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে মধ্যপন্থী ইসলামপন্থীদের যে পৃষ্ঠপোষকতা তুরস্ক ও এর নেতা এরদোগান এত দিন দিয়ে আসছিলেন, সেটিকে কমিয়ে আনার ব্যাপারে চাপে থাকতে পারেন তিনি। ইতোমধ্যে তুরস্কের রাজনীতিতে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে মিসর থেকে তুরস্কে আশ্রয় নেয়া মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক নেতা আঙ্কারা ছাড়তে শুরু করেছেন। বিকল্প আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ইউরোপকে বেছে নিচ্ছেন তাদের মধ্যে অনেকে।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তুরস্কের ১ নভেম্বরের নির্বাচন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ তাই নয়; একই সাথে এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

কেমন আছেন ফখরুল by কাফি কামাল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। ভদ্র ও সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে নানা মামলায় বারবার কারাভোগ করেছেন তিনি। সর্বশেষ চলতি বছর কারাবন্দি অবস্থায় তিনি কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি বিদেশে চিকিৎসাধীন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের একাধিক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা। তারপরও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরতে পারেন তিনি। ১৮ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশে ফিরতে পারেন তিনি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে তিনি অন্তত ৪ দফায় কারাভোগ করেছেন। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে টানা ৬ মাস কারাভোগ করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মির্জা আলমগীর ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে দুই দফায় ৪ দিনসহ চারদফায় ১২ রিমান্ডে ছিলেন। পুলিশ একবার ৩০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হন। হার্টের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছয় মাসে তার ১২ কেজি ওজন কমে যায়। শেষে আদালতের নির্দেশে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সে বোর্ডের সুপারিশেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭শে জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি। জামিনে মুক্তির পর তিনি প্রথমে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে সিঙ্গাপুর যান। সিঙ্গাপুরে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল, মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল ও রান্দালস হাসপাতালে ড. বিজয় শর্মা, ড. মনিশ শর্মা ও ড. মরিম চু–-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। পরিকল্পনা ছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি অস্ট্রেলিয়া যাবেন। সে জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসাও যোগাড় করেছিলেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা তাকে জানান, তিনি যে রোগে ভোগছেন তার উন্নত চিকিৎসা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। পরে তিনি সিদ্ধান্ত পাল্টে তিনি ১১ই আগস্ট সিঙ্গাপুর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে নিউ ইয়র্কের কর্নেল হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. ফিলিপ ই. স্টেইগ, ডা. কাই, ডা. জন পাইল স্পেলম্যান ও ডা. ওসকার লেবিউলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। শারীরিক একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত কর্নেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেনÑ মির্জা আলমগীর জটিল সেরিব্রো ভাসকুলার (মস্তিষ্কের ধমনীর রক্ত সঞ্চালন বন্ধ) রোগ ও ইন্টারনাল করোটিড আর্টারিতে ব্লকে আক্রান্ত। তার হৃৎপি- থেকে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনের দুটি ধমনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাধারণত অত্যাধিক মানসিক চাপে এমন রোগের উদ্ভব হয়। এছাড়াও তিনি আইবিএসের সমস্যা, দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন।
চিকিৎসকদের বরাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানান, চিকিৎসকরা প্রথমে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বর্তমান শারীরিক নাজুক পরিস্থিতির কারণে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। এমন অবস্থায় কর্নেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আগামীকাল ১৪ থেকে ১৬ই সেপ্টেম্বর টানা তিনদিন চিকিৎসকদের সঙ্গে তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে। ফলে এখনই মির্জা আলমগীরের চিকিৎসা শেষ হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হওয়া রোগের জন্য তাকে দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা নিতে হবে। আপাতত চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন। তবে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তাকে নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতে হবে। এছাড়া মির্জা আলমগীরকে ইন্টারনাল করোটিড আর্টারিতে ব্লকেরও চিকিৎসা নিতে হবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের জন্য প্রাণ টানে মির্জা আলমগীর। সবকিছু ঠিকমতো হলে প্রথমদফা চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতার পরও তিনি আশাবাদী, দেশে ফিরে রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বলিষ্ট ভূমিকা রাখবেন। বাংলাদেশে এক সময় গণতন্ত্র ফিরে আসবে। এ জন্য দেশবাসী, সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ভদ্র ও সজ্জন এ মানুষটিকে আন্দোলন চলাকালে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। যেসব ঘটনার সঙ্গে মির্জা আলমগীরের জড়িত থাকা সম্পর্কে দেশের মানুষের বিস্তর মতবিরোধ রয়েছে। নেতাকর্মীরা বলেন, হাইকোর্ট থেকে জামিন ও প্রিজন সেল থেকে মুক্তি পাবার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একজন ইতিবাচক রাজনীতিক হিসেবে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সৎ, শিক্ষিত, ভদ্র, সজ্জন ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা। ইমেজ সঙ্কটে পড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তিনি ইমেজ উদ্ধারে অনেক ভূমিকা রেখেছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোটের সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোকে কেন্দ্র করে অনেক নৈরাজ্য হলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি শান্তিপ্রিয় মানুষ। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর নানা রাজনৈতিক তিক্ততার মধ্যেও গণতান্ত্রিক শাসনের সময় সাধারণত প্রধান বিরোধী দলের মহাসচিবকে কখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। কিন্তু মির্জা আলমগীরের ক্ষেত্রে কেবল গ্রেপ্তারই নয় রিমান্ডের নজির তৈরি হয়েছে। রাজনীতির মাঠ থেকে কোণঠাসা ও কারাগারে আটকে রাখায় সরকারের এক হিসেবে বোকামি প্রকাশ পেয়েছে। এতে রাজনীতিকরা রাজনীতিতে অনাগ্রহী হবেন।

ঘড়ির কারণে গ্রেপ্তার মুসলিম কিশোরকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৪ বছর বয়সী আহমেদ মোহাম্মেদকে স্কুলে বোমা আনার ভুল অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর তাকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
আহমেদ মোহাম্মেদ নামের ঐ কিশোর একটি ঘড়ি তৈরি করে স্কুলে আনলে শিক্ষকরা সেটি দেখে বোমা বলে সন্দেহ করেন।
এক টুইটারবার্তায় মি. ওবামা আহমেদের ঘড়িটিকে ‘দারুণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার মতো আরো বেশি শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠা উচিত।
টেক্সাস সময় সোমবার সকালে নিজের বানানো একটি ডিজিটাল ঘড়ি নিয়ে স্কুলে উপস্থিত হয় আহমেদ মোহাম্মেদ। তবে তার শিক্ষকরা ঐ যন্ত্রটি দেখার পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং সেটিকে একটি বোমা মনে করে পুলিশে খবর দেয়।
এর কিছুক্ষণ পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাতে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ তাকে স্কুল থেকে নিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন বলছে, আহমেদ মোহাম্মদ মুসলিম হবার কারণেই তার সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হলেও তার গ্রেপ্তারের কড়া সমালোচনা চলছে এবং অনেকেই তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। এরই মধ্যে তাকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
"আমি এক শিক্ষককে দেখানোর জন্য আমার ঘড়িটি নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরে পুলিশ আসে এবং আমাকে গ্রেপ্তার করে। ওরা আমাকে বলেছিল যে, আমি নাকি একটি নকল বোমা বানানোর অপরাধ করেছি।” এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন আহমেদ মোহাম্মেদ।
আহমেদের বাবা মোহাম্মেদ এলহাসান এসেছেন সুদান থেকে। তিনি অভিযোগ করেন, নামের কারণেই তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #IstandwithAhmed লিখে নাসার বিজ্ঞানীসহ অনেকেই আহমেদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা ছাড়াও ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও তাকে ফেসবুক সদর দপ্তরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
সুত্রঃ বিবিসি
আহমেদের সমর্থনে জাকারবার্গ
টেক্সাসে নিজে ঘড়ি বানিয়ে তা স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পর বোমা বানানোর ভুল অভিযোগে গ্রেপ্তার মুসলিম কিশোর আহমেদের সমর্থনে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তিনি লিখেছেন, আপনারা হয়তো খবরটি দেখেছেন, টেক্সাসে ১৪ বছরের ছাত্র আহমেদ একটি ঘড়ি বানিয়ে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা। নতুন কিছু তৈরির ইচ্ছা এবং দক্ষতার জন্য তার প্রশংসা পাওয়ার কথা, গ্রেপ্তার নয়। আমাদের ভবিষ্যত নির্ভর করছে আহমেদের মতো মানুষের ওপর। আহমেদ, তুমি যদি কখনও ফেসবুকে আসতে চাও, আমি সাদরে তোমাকে গ্রহণ করবো। বানাতে থাকো নতুন কিছু।

মা-ছেলের অশ্রুসিক্ত সাক্ষাৎ

দীর্ঘদিন পর লন্ডন গেছেন খালেদা জিয়া।
হিথরো বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গন্তব্যস্থলে
যাওয়ার পথে দলীয় নেতা-কর্মীদের অভিনন্দনের
জবাব দিচ্ছেন তিনি। এ সময় তাঁকে বহনকারী
গাড়ি চালাচ্ছিলেন ছেলে তারেক রহমান।
পাশেই বসেছিলেন তিনিl ছবি: প্রথম আলো
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন পর আবারও সাক্ষাৎ হলো তারেক রহমানের। লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে মাকে অভ্যর্থনা জানান তারেক রহমান। প্রথম দেখাতেই অশ্রুসিক্ত মা-ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। সেখান থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে সামনের আসনে বসিয়ে মাকে নিয়ে যান তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন খালেদা জিয়া। দেশটিতে পৌঁছার পর খালেদা জিয়া কোথায় উঠেছেন সে বিষয়টি গোপন রাখছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই তাঁর অবস্থান ও কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে দলটির নেতারা জানান। খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১১ সালের মে মাসে লন্ডন গিয়েছিলেন।
লন্ডনের স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সকাল সাতটায় এমিরেটস এয়ারওয়েজের একটি বিমানে খালেদা জিয়া হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদসহ কয়েকজন নেতা টার্মিনাল-৩ এর ভিআইপি লাউঞ্জে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে এ সময় দলের কয়েক শ নেতা-কর্মী বিমানবন্দরের টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন।
এম এ মালেক প্রথম আলোকে বলেন, বিমানবন্দরে মা-ছেলে অশ্রুসিক্ত নয়নে একে অপরকে জড়িয়ে ধরার পর মাথায় হাত বুলিয়ে, মুখে চুমু দিয়ে ছেলেকে আদর করেন খালেদা জিয়া। এটা ছিল খুব আবেগঘন মুহূর্ত। ভিআইপি লাউঞ্জে তাঁরা কিছু সময় কাটান। একে অপরের খোঁজখবর নেন। ছোট ভাই আরাফাত রহমানের মৃত্যুর পর এটাই ছিল মায়ের সঙ্গে তারেক রহমানের প্রথম সাক্ষাৎ।
খালেদা জিয়া হিথরো বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে যাবেন—এমন খবরে অনেক নেতা-কর্মী সেখানে জড়ো হন। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আটটা ৪৫ মিনিটে গাড়িতে করে খালেদা জিয়া হোটেলের সামনে এলে নেতা-কর্মীদের হুড়োহুড়ির মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য গাড়ি থামে। গাড়ির সামনের আসনে বসা খালেদা জিয়া হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের অভ্যর্থনার জবাব দেন। এরপর তারেক রহমান গাড়ি চালিয়ে মাকে নিয়ে চলে যান।
যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত হোটেলেই খালেদা জিয়াকে নিয়ে গেছেন তারেক রহমান। ওই হোটেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী-সন্তানেরা খালেদা জিয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্বজনদের নিয়ে খালেদা জিয়া এ হোটেলেই থাকবেন। দলীয় এক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া পশ্চিম লন্ডনের একটি হোটেলে উঠেছেন।
খালেদা জিয়ার সফরসূচি সম্পর্কে এম এ মালেক বলেন, ‘মূলত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে এসেছেন। এখানে তাঁর পরিবার আছে। তারাই ঠিক করবে তিনি কখন কী করবেন। তবে আজ (গতকাল বুধবার) তিনি আপনজনদের নিয়ে হোটেলে বিশ্রাম করবেন।’ তিনি বলেন, ঈদের দিন খালেদা জিয়া সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারেন। দলের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের নিয়ে একটি সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে খালেদা জিয়ার লন্ডন আগমনকে কেন্দ্র করে হিথরো বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করেছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। তারা টার্মিনাল-৩ এ অবস্থান নেয়। এ সময় নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল বিএনপির টানা তিন মাসের আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত নানা সহিংস ঘটনার ছবি।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাড়ি জমান। সেই থেকে তিনি সপরিবারে লন্ডনে অবস্থান করছেন।
২০১১ সালের মে মাসে খালেদা জিয়া লন্ডনে গেলে তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এরপর ২০১৪ সালের জুলাইয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়ে দেখা হয় মা-ছেলের। দীর্ঘদিন পর এবার খালেদা জিয়া লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করবেন।

সুভাষ জাপানি চর, রাজার তোষামোদেই ‘জনগণমন’, মন্তব্য কাটজুর!

‘রাজা পঞ্চম জর্জকে খুশি করতেই ‘জনগণমন’ লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।’
‘গাঁধী বা হিটলার কেউই ওঁকে পাত্তা দেননি বলে জাপানের দালাল হয়ে গিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু।’
‘রাজনীতির শরীরে ধর্মের ইঞ্জেকশন ফুঁড়ে দিয়েছিলেন গান্ধীজি। সেই সুযোগটাই পরে নিয়েছে ব্রিটিশরা।’
‘আবোলতাবোল’ পড়ছেন, মনে হচ্ছে?
হ্যাঁ। আবোলতাবোলই! তবে সুকমার রায়ের নয়। টুইটে এই সব ‘আবোলতাবোল’ কথা বলেছেন যিনি, তিনি কোনও রাম-শ্যাম-যদু-মধু নন!
মার্কন্ডেয় কাটজু। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি। প্রেস কাউন্সিলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। স্বাধীনতা সংগ্রামী কৈলাসনাথ কাটজুর নাতি।
ফেসবুকে-টুইটারে ‘কেউ-কেউ’ নয়, কোনও ‘কেউকেটা’ এ সব লিখলে যা হয়, হতে পারে, স্বাভাবিক ভাবেই তা হয়েছে। বিতর্ক তুঙ্গে পৌঁছেছে।
তবে এ সব ক্ষেত্রে একেবারে ‘হাই-প্রোফাইল’ মানুষ হলে, তাঁরা যেটা করে থাকেন, কাটজুর পক্ষে তা কী ভাবেই-বা সম্ভব! বরং তিনি একটি ‘শিশুসুলভ’ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এবং ‘যা করেছি, বেশ করেছি’-এই ঢঙে কাটজু বলেছেন, ‘‘কলকাতায় যাচ্ছি। রবীন্দ্রনাথ ও সুভাযকে আক্রমণ করে ভাষণ দেব। সেই ভাষণ শুনে ভিমরুলের মতো রক্ত খুঁজবেন বাঙালিরা।’’ বেহিসেবের তা-ও একটা ‘সীমা’ রয়েছে! কিন্তু কাটজুর মন্তব্যে যে ‘উস্কানি’র ছাপ মিলেছে, তা তো সীমাহীনই!
এই ‘বায়োডেটা’র শেষ কিন্তু এখানেই নয়। আরও-আরও ‘মুকুট’ রয়েছে কাটজুর প্রোফাইলে! কারণ, ‘আ-বোল, তা-বোল’-এই অভ্যস্ত, অনায়াস কাটজুর জিভ! আগেই কাটজুর ‘টার্গেট’ হয়েছেন নেতাজি। সুভাষচন্দ্রকে মাস ছয়েক আগে তাঁর ব্লগে কাটজু ‘জাপানের চর’ বলেছিলেন! মহাত্মা গাঁধীকে বলেছিলেন, ‘ব্রিটিশ এজেন্ট’! কাটজুর বিরোধিতা করে সেই সময় ঝড় ওঠে দেশজুড়ে, লোকসভা-রাজ্যসভায়।
কাটজুর ‘আবোলতাবোলে’ কিন্তু যুক্তি-টুক্তি থাকে! কেন সুভাষচন্দ্রকে তিনি ‘জাপানের চর’ বলছেন, তার তিনটি কারণ দেখিয়েছেন কাটজু। কাটজু লিখেছেন, ‘‘জাপানের ইতিহাস ব্যাখ্যা করলে দেখা যাবে, টোকিও যে-দেশকে সাহায্য করেছে, পরে সেই দেশকেই শোষণ করেছে। যদি ব্রিটেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হত, তা হেল জাপান ভারতে উপনিবেশ গড়ে তুলত। নেতাজিকে পুতুল বানিয়ে সরকার চালাত। যে ভাবে মাঞ্চুরিয়ার সম্রাট পু ই-কে ‘পুতুল সম্রাট’ বানিয়ে দিয়েছিল জাপান।’’

পশ্চিমবঙ্গে ৩,০০০ গাছ পরিচয়পত্র পেলো

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার কন্যাগর পৌরসভার গাছগুলো এবার তাদের পরিচয় পেলো। বিশ্বে যখন জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলায় নিয়ে নানা পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে, তখন এ ধরনের উদ্যোগ ভারতে এটাই প্রথম। হুগলি জেলার কন্যাগরে বায়ুম-ল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইডকে টেনে নিয়ে বা শোষণের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতে পারে, এমন ২৮টি প্রজাতির গাছকে শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিলো কর্তৃপক্ষ। এ প্রজাতিগুলোর প্রায় ৩,০০০ গাছের জন্য পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়। ওই পরিচয়পত্রে গাছগুলোর সাধারণ নাম, বৈজ্ঞানিক নাম, ভৌগোলিক অবস্থান এবং গাছগুলো কি পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করতে পারে, সে পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। এ উদ্যোগ সবুজ বাসযোগ্য পৃথিবীর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সাহায্যক করবে। মানুষ আরও সচেতন হবে। কন্যাগর পৌরসভার চেয়ারম্যা বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় বলছিলেন, গাছগুলোর সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্রগুলো ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে শিশুরা প্রতিটি প্রজাতির গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি ধারণা পাবে। যতোগুলোতে সম্ভব, আমরা ততোগুলো গাছে এভাবে পরিচয়পত্র লাগিয়ে দেবো। বিজ্ঞানী অভিজিত মিত্র প্রকল্পটির নেতৃত্বে রয়েছেন। এ প্রকল্পটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্য প্রজাতির গাছগুলোকেও শনাক্ত করা হবে। বাপ্পাদিত্য বলছিলেন, এ অঞ্চলে সাধারণভাবে নিম, কৃষ্ণচূড়া, পিপুল জাতীয় গাছ বেশি দেখা যায়। তিনি জানান, ভারতে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ এটি। চেয়ারম্যান আরও জানান, এ প্রজাতির গাছগুলোর ওপর একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে এবং অচিরেই এটি অনলাইনে আপলোড করা হবে।

জাপানের মৌচাষী ফার্স্টলেডি

প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী বলে সবসময় কেতাদুরস্ত হতে হবে এমন কথা কি আছে? স্বামীকে মধুমিশ্রিত চা খাওয়াতে তাই নিজে হাতে মৌচাক কেটে মধু সংগ্রহ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকিই আবে। পুরোদস্তুর মৌচাষী হয়ে প্রধানমন্ত্রী ভবনে নিজেই করেছেন মৌ চাষ। রোমান্টিক ভঙ্গিতে আকিই আবে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
এই মধু বোতলে ভরে রাখছি। বৈঠকের ফাঁকে আমার স্বামী এখান থেকে চা পান করবে।’ আবেও উত্তর দিয়েছেন রসিকতায়, ‘চায়ে আমি চিনি নিই না। তবে এখন দেখছি মধু নিতে হবে!’ জাপানের ফার্স্টলেডি আকিই মৌচাষের প্রেরণা পেয়েছেন মার্কিন ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার কাছ থেকে। গত এপ্রিলে হোয়াইট হাউস সফরে গিয়ে তিনি দেখেছিলেন মিশেলের কিচেন গার্ডেনের মৌ চাষ -জাপান টাইমস

একে একে বন্ধ হচ্ছে ইউরোপের দুয়ার

ইউরোপে ঢলনামা সিরিয়া শরণার্থীদের দুয়ার একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে একইসঙ্গে নতুন পথের সন্ধান করছেন শরণার্থীরা। এ ব্যাপারে তারা যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। মঙ্গলবার হাঙ্গেরির সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ বিশেষ করে জার্মানিতে পৌঁছাতে নতুন যাত্রাপথ বেছে নিচ্ছে তারা। এরই মধ্যে নতুন রুট ক্রোয়েশিয়ার সার্বিয়া সীমান্তে পৌঁছেছে শরণার্থীদের প্রথম দলটি। হাঙ্গেরির রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী ভিকতর অরবান সার্বিয়া সীমান্তের পর রোমানিয়ার সঙ্গে সীমান্তেও কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে রোমানিয়া এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।
বুধবার জার্মান পুলিশ বলেছে, ফরাসি সীমান্তেও তারা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এছাড়া শরণার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডেনমার্ক। দেশটির অভিবাসনবিরোধী ক্ষমতাসীন দল এ ব্যাপারে একটি আইন পাস করতে যাচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। কোপেনহেগেন জানিয়েছে, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার অভিবাসী ঢুকেছে। এর মধ্যে মাত্র ৯০০ জন আশ্রয়প্রার্থী হওয়ার আবেদন করেছে। এদিকে, সিরীয় শরণার্থীরা ডেনমার্কে যেতেও খুব একটা আগ্রহী নয়। ২৬ বছর বয়সী সিরিয়ার একজন লরি ড্রাইভার আবদুর রহমান আল শেহাগী বলেন, ‘ডেনমার্ক দেশটা আমাদের জন্য ভালো নয়।’ শেহাগী বর্তমানে সুইডিশ শহর মালমিতে রয়েছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অস্ট্রিয়াও তাদের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির সরকার বলছে, তাদের রেলওয়ে স্টেশনগুলো অভিবাসীতে ভরপুর হয়ে উঠেছে। সালজবুর্গের প্রধান স্টেশনটি বন্ধ করে দেয়া লাগতে পারে। সীমান্ত পাড়ির অনুমতি দেবে ক্রোয়েশিয়া : ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জোরান মিলানোভিক জানিয়েছেন, তার দেশ শরণার্থীদের সীমান্ত পাড়ির অনুমতি দেবে। বুধবার তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের গ্রহণ করতে ও নির্দেশনা দিতে প্রস্তুত। তারা কোন ধর্মের বা তাদের গায়ের রং কি তা আমাদের কাছে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। তারা যেখানে ইচ্ছা যাবে, জার্মানি কিংবা স্ক্যান্ডিনেভিয়া...।
৩৬৭ শরণার্থীকে আটক করেছে হাঙ্গেরি : অবৈধভাবে হাঙ্গেরিতে ঢোকায় ৩৬৭ শরণার্থীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। নতুন অভিবাসী আইন কার্যকরের পর মঙ্গলবার সার্বিয়া সীমান্তে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে হাঙ্গেরি। এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি শত শত পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়। একটি রেলওয়ে ক্রসিংও বন্ধ করে দেয় হাঙ্গেরি। এতসব পদক্ষেপে হাঙ্গেরি সরকার দেশে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে পারছে না। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার মোট ৩৬৭ জন শরণার্থী হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করেছে। তাদের সবাইকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৬ জনের বিরুদ্ধে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ফেলা ও বাকি ৫১ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। চলতি বছর অন্তত দুই লাখ শরণার্থী হাঙ্গেরি পাড়ি দিয়ে জার্মানিতে ঢুকেছে। শরণার্থীদের সাহায্য করতে আরব দেশগুলোর আহ্বান : সিরিয়ার শরণার্থীদের সহায়তা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো। তেলসমৃদ্ধ এসব দেশ নিজরা কাউকে আশ্রয় দিচ্ছে না বলে সমালোচনা সত্ত্বেও মঙ্গলবার তারা এ আহ্বান জানায়। ছয় উপসাগরীয় রাষ্ট্রের জোট (জিসিসি) রিয়াদে এক বৈঠকের পর এ যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শরণার্থীদের সহায়তা করা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। সিরিয়া সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিও আহ্বান জানান তারা।
ইউরোপযাত্রায় যে কোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত শরণার্থীরা : মিসরীয় কোস্টগার্ডের কাছে আটক হয়ে ১২ দিন রিমান্ডে ছিলেন সিরিয়ার তরুণী সাউদ ও তার ভাই। শত নির্যাতন সহ্য করলেও ইউরোপ যাওয়ার সংকল্প এক বিন্দুও সরে আসেননি তারা। যত ঝুঁকিই থাকুক, যে কোনো মূল্যে তারা ইউরোপে যেতে প্রস্তুত। খবর এএফপির। যুদ্ধকবলিত সিরিয়া থেকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে মিসরের উপকূলীয় শহর আলেক্সান্দ্রিয়ায় এসেছেন সাউদ (১৮)। তিনি ও তার ১৭ বছরের ভাই মোহাম্মদ তখন কোস্টগার্ডের হাতে। সাউদ বলেন, ‘কোস্টগার্ড আমাদের দিকে গুলি ছুড়েছিল। একজন মিসরীয় এতে আহত হন। আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। কিন্তু পরে অনুভব করি, আমি ঠিক আছি।’ সাউদের বাবা আবু মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।

স্যাটেলাইটের প্রভাব বাস্তব জীবনে by আফরিন আপ্পি

ইমতিয়াজ ও আফরোজা দম্পতির সুখের সংসারে এখন অশান্তি আর অশান্তি। আর এর অন্যতম কারণ টিভি। ইমতিয়াজের অভিযোগ- দিনশেষে বাড়ি ফিরে একটু খবর দেখবো সে উপায়ও নেই। তার স্ত্রী আফরোজার সারাদিনের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম টিভি সিরিয়ালগুলো। আর তা না দেখতে পারলে ঘরের সুখ উধাও হয়ে যায়। এ অবস্থা ক’দিনই চলে? তাই এর অবসানে তিনি  আরও একটি টিভি কিনে এনেছেন। বর্তমানে ২টি টিভি দু’জনে দেখেন দুই রুমে বসে। কিন্তু সমস্যা এখন তার সামনে আরেকটি এসে ধরা দিয়েছে। তাদের ৭ বছরের সন্তানের কাজ হলো টিভিতে প্রচারিত কার্টুন দেখা। সন্তান মা’র টিভিতে গেলে বকা খায়, তাই দৌড়ে আসে বাবার টিভিতে। অগত্যা ইমতিয়াজ রাগ করে বাইরে বেরিয়ে যান। অন্যদিকে আজিমপুরের মিতু ইসলাম বলেন, তার ছেলে স্পাইডারম্যান কার্টুন দেখে দেয়াল বেয়ে উঠতে গিয়ে দাঁত ভেঙে ফেলেছে। সনি টিভি, লাইফ ওকে, চ্যানেল ভি এসব চ্যানেলে প্রচারিত ক্রাইম পেট্রোল, সাবধান ইন্ডিয়া, গুমরাহ অনুষ্ঠানে প্রতিনিয়ত খুন, জখম, গুম, অপহরণের নতুন নতুন কলাকৌশল দেখানো হয়। যদিও এগুলো প্রচারিত হয় মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যে। তারপরও মানুষ এসব থেকে খুন-খারাবির নতুন নতুন ধারণা পেয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বাস্তবে তা প্রয়োগ করছে। কয়েকদিন আগে রাজশাহীতে ৩ কিশোর তাদের এক সহপাঠীকে হত্যার পর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়- বিদেশী সিরিয়াল দেখে তারা এমন পরিকল্পনা করে। অপরদিকে কার্টুন চ্যানেলে হিন্দি ভাষায় প্রচারিত কার্টুন দেখতে দেখতে অনেক শিশু এখন মাতৃভাষাকেই ভুলে যেতে বসেছে। কেজিতে পড়া এক শিশুর সঙ্গে কথোপকথনকালে শিশুটি প্রায় ১০ মিনিট একনাগাড়ে হিন্দিতে কথা বলে। যার দু’ একটি ছিলো এরকম- ‘ক্যাসো হো, তুম এ্যাহা কেয়া কার রাহেহো। তুম মেরে সাথ যাওগি।’ শিশুটির মা জানান, হিন্দি চ্যানেল দেখতে দেখতে এখন আর বাংলায় কথা বলে না তার মেয়ে। সারাদিন শুধু কার্টুন দেখে। না দেখতে দিলে চিৎকার করে কাঁদে। বিদেশী বেশকিছু চ্যানেল বাংলাদেশের ঘরে ঘরে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সমাজে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এর পেছনে অনেকটাই দায়ী স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো। আর এসব স্যাটেলাইট চ্যানেলের যাত্রা শুরু ২ দশক আগে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে মাসিক নির্দিষ্ট ফি’র মাধ্যমে নির্ধারিত কিছু চ্যানেল দেখানোর জন্য ক্যাবল নেটওয়ার্কের সংযোগ দেয়া হয়। এর বদৌলতে শহরের ঘরে ঘরে জায়গা করে নেয়ার পর প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে ক্যাবল নেটওয়ার্ক। ১৯৯২ সালে ক্যাবল টিভির জগতে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। দেশের অনেক চ্যানেলের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশী চ্যানেলের ছড়াছড়ি। স্টার প্লাস, জি বাংলা, জি সিনেমা স্টার জলসা, স্টার মুভিজ, জিটিভি, সনি টিভি, লাইফ ওকে, এমটিভি, কালারস, কার্টুন নেটওয়ার্ক সহ প্রায় শতাধিক চ্যানেল রয়েছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, রকমারি অনুষ্ঠানসহ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সকল দিক এসব চ্যানেলের মাধ্যমে উপভোগ করা যায়। এ বিষয়ে বিভিন্ন স্কুলে আসা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হয়। এক অভিভাবক বলেন, টিভি সিরিয়ালগুলো না দেখলে ওই দিনটাই যেন মাটি হয়ে যায়। আরেক অভিভাবক বলেন আমার ক্লাস ওয়ান পড়ুয়া ছেলে ডরিমন কার্টুন দেখতে দেখতে এখন নবিতার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। তরুণ সমাজের মাঝে টিভি চ্যানেলের প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে যাদের স্থিরতা খুব জরুরি স্যাটেলাইট সেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কতটা অস্থিরতা বাড়িয়েছে তার প্রমাণ মিলে তাদের হাতে রিমোট গেলেই। তাদের চোখ আর হাত খুঁজে ফেরে শুধু কোথায় সহিংসতা দেখানো হচ্ছে। কোথায় দেখানো হচ্ছে নায়ক-নায়িকার  রগরগে দৃশ্য। তাদের ড্রয়িংরুমে কাজী নজরুল, রবীন্দ্রনাথের ছবির পরিবর্তে স্থান পাচ্ছে বলিউডের বিভিন্ন নায়ক-নায়িকাদের ছবি। এমনকি স্কুল-কলেজে তাদের আলোচনার বিষয়বস্তুও এসব ঘিরেই। কথা হয় এমনই এক স্কুলছাত্রের সঙ্গে যে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। জানতে চাওয়া হয় কার্ল মার্কস, চে গুয়েভারা কে চেনে কিনা। তার পাল্টা প্রশ্ন এরা আবার কে? কিন্তু পরক্ষণেই যখন বলিউডের একজন বিতর্কিত তারকার কথা জিজ্ঞাসা করা হয় সে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে এবং জোর গলায় বলে খুব ভালোভাবে চিনি। আরেক ছাত্রকে কাজী নজরুলের কবিতার কয়েকটি লাইন আবৃত্তি করতে বলা হলে অপারগতা প্রকাশ করে। কিন্তু যখন একটি গান গাইতে বলা হয় তখন সানি লিওনের বেবি ডল গানটি গেয়ে শোনায়। বিবিসি, সিএনএন, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, ডিসকভারিসহ আরও অনেক চ্যানেলেই শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। সেদিকে নজর নেই এসব উঠতি বয়সের ছেলেমেয়ে ও তরুণ প্রজন্মের। কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার পছন্দের টিভি অনুষ্ঠানের নাম।  তখন সে জানায় রেসলিং। খেলাটি শুধু অমার্জিতই নয় অর্ধনগ্ন নারীর উপস্থিতি ও কসরতে রীতিমতো তা অশ্লীল হয়ে উঠে। বর্তমানে ধর্ষণ, খুন, হত্যা, সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে টিভি চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে দেখা যায় সেখানকার মহিলা অভিভাবকদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তুই হলো স্টার জলসা, স্টার প্লাস, জি বাংলা, সনিটিভিতে প্রচারিত বাংলা ও হিন্দি সিরিয়ালগুলো। গতকাল কি দেখিয়েছে, ভবিষ্যতে কি দেখাতে পারে- এসবই তারা আলোচনা করেন। বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গিয়ে সিরিয়ালের জগৎটাই তাদের জীবনে এখন বাস্তব হয়ে গেছে। সেখানে তারা যা দেখছেন তার আলোকেই জীবন পরিচালনা করতে চাচ্ছেন। এসব সিরিয়ালে দেখা যায় বেশির ভাগেরই বিষয়বস্তু কূটচালে পরিপূর্ণ। বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্ব, একজন পুরুষের ৩ থকে ৪ স্ত্রী, নারীদেরও একাধিক স্বামী, সবসময় অন্যের ক্ষতি করার জন্য একাধিক নারী- পুরুষের উপস্থিতি। কথা হয় এক দাদীর সঙ্গে। যিনি তার নাতিকে স্কুলে নিয়ে এসেছেন। অত্যন্ত দুঃখ নিয়ে তিনি বলেন, গ্রামের সহজ সরল মেয়ে দেখে ছেলেকে বিয়ে করিয়েছিলাম। শহরে এসে এই টিভি সিরিয়াল দেখে বউ এখন কুটিলতা শিখেছে। শুধু তাই নয়-এসব সিরিয়ালে দেখানো পোশাক, সাজগোজ, সংস্কৃতি আমাদের জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। তাই হয়তো দেখা যায়-ঈদের সময় স্বামীর কাছ থেকে পাখি ড্রেস না পেয়ে স্ত্রীর আত্মহত্যা। মার্কেটগুলোতে নায়িকাদের নামে ড্রেসের ছড়াছড়ি। উঠতি বয়সী মেয়েরা নিজেদের জীবন এসব সিরিয়ালে প্রচারিত নায়িকাদের আদলে গড়তে ইচ্ছুক। নায়িকারাই তাদের জীবনের আদর্শ হয়ে গেছে। তাদের ধ্যান জ্ঞান সব সিরিয়ালকে ঘিরেই। সরকারি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন টিভিতে এখন যা দেখানো হয় তা আর পরিবারের কারো সঙ্গে বসে দেখার উপায় নেই। বর্তমানে টিভিতে খুন, জখম দেখতে দেখতে মানুষের সহনশীলতার মাত্রা এতোটাই বেড়ে গেছে যে, চোখের সামনে ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনায় তারা আর আগের মতো বিচলিত হন না। টিভিতে প্রচারিত এসব দৃশ্য মানুষের মনে এক ধরনের উদ্দীপনার সৃষ্টি করে যার পরিণতিতে বর্তমানে সমাজে হত্যা, খুন, ধর্ষণ, রাহাজানির মতো ঘটনাগুলো মাত্রাতিরিক্ত ভাবে বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন আরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোতে সরকারি বিধিনিষেধ আরোপ করা প্রয়োজন। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে যেখানে নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু থাকবে না। বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের দরজা আমরা খুলে রাখতে চাই কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যেন এমন না হয় যে, অপসংস্কৃতির দুর্গন্ধে আমাদের সমাজ ভরে ওঠে। আমাদের সবসময়ই খেয়াল রাখতে হবে যেনো আমরা আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে না যাই।

ইসলামী রাজনীতির সংস্কার ভাবনা by মোঃ নাজমুল ইসলাম

এদেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাষ্ট্রপরিচালনার মুলনীতি হিসাবে ইসলামের অবস্থান বা আহবান কি হওয়া উচিত তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ রয়েছে। প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ইসলামের আহবান বা আবেদন কিন্তু সমগ্র বিশ্বে অভিন্ন নয়।যেমন ইউরোপ বা আমেরিকায় যেটা ইসলামের আবেদন সেখানে তুরস্কে তার ভিন্নতা রয়েছে আবার মধ্যপ্রাচ্যে যে ইসলামের অবস্থান বা আহবান তার সাথে অনেক টা উপমহাদেশের অমিল রয়েছে।ভৌগলিক অবস্থান,সাংস্কৃতিক ভিন্নতা,ভাষার বৈচিত্র,অর্থনৈতিক মজবুতি সহ অনেক উপাদানই এর মুলে কার্যকর ভুমিকা রেখে চলেছে।রাজণৈতিকভাবে ইসলাম কে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্টিত করতে আবার দেশ ও অঞ্চলভেদে নানান মতভিন্নতা ও বিতর্ক চালু রয়েছে।কেউ বা সশস্ত্র জিহাদ বা কেউ হুট করে গনবিপ্লব কিংবা কেউ ধৈর্য্য ধরে নির্বাচনী পথকে বেচে নিয়েছেন আবার অনেকে মনে করে থাকেন যোগ্যতা অর্জিত হলেই আল্লাহ অবশ্যই খেলাফত দান করে দিবেন।যাই হোক আমার লিখার বিষয়বস্তু কিন্তু আমাদের দেশ বাংলাদেশে ইসলামের রাজনীত্যয়ীকরন বা রাস্ট্রীয় ইসলামের আহবান,আবেদন ও এর প্রতিষ্টার ধরন ধারন ও প্রেক্ষাপট নিয়ে।মুসলিম সখ্যাগরিষ্ট দেশ হিসাবে ইসলামের রাজনৈতিক প্রচার প্রসার ও প্রতিষ্টায় যে হেকমত পুর্ন আহবান ও আবেদনের প্রয়োজন আমাদের দেশে রয়েছে এটা সর্বাগ্রেই স্বীকার করতে হবে।এদেশে যে যাকাত দেয় আবার সবার আগে নামাজ পড়ে হজ্বের মত ইবাদত করে সে আবার রাজনীতিতে ইসলামকে ঠেনে আনতে চায় না ।ব্যক্তিগত কিংবা প্রয়োজনীয় আনুষ্টানিকতা ছাড়া ধর্মের ব্যবহার রাজনীতিতে এরা অস্বীকার করে।হয় ধর্মনিরপেক্ষতা নয়তো জাতীয়তাবাদ অথবা অন্য কোন আদর্শ কে দেশ বা রাষ্ট্র পরিচালনার মুলনীতি হিসাবে ঠেনে নিয়ে আসতে চায়।সাধারন মানুষ ও প্রায় এই আহবানে ধাতস্থ হয়ে উঠেছে।স্বাধীনতা পরবর্তি সময় গুলোতে এ দেশে রাজণৈতিক ইসলামের আবেদন মানুষের কাছে কিছুটা হলেও সাড়া ফেলেছিলো কিন্তু বিগত কয়েক বছরে কিছুটা হলেও এর নিম্নমুখী গ্রাফ পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদিও অনুসন্ধান বা আত্মসমালোচনায় এর কারন হিসাবে বিরুধী পক্ষের শক্ত প্রতিরোধ দৃশ্যমান হয়ে উঠলেও এটা অস্বীকার করার জো নেই যে,এর জন্য এদেশীয় ইসলামপন্থীদের একগুয়েমী,অদুরর্শীতা,কৌশল ও হেকমতের প্রজ্ঞাপুর্ন ব্যবহারের ব্যর্থতা,অনৈক্য,অতিরিক্ত রাজনীতিপ্রবনতা কোন অংশেই কম দায়ী নয়।
ইসলামী রাজনীতিতে ঝড়-ঝাপ্টা বা বিপদ মুসিবত থাকবেই এটা অস্বীকার করার কোনই পথ নেই।কিন্তু যখন এই পরিক্ষাতে ধৈর্যের সাথে উত্তীর্ন হতে আগামীর সফলতার জন্য অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা গ্রহন না করা হয় বা নতুন করে কর্মপরিকল্পনা সাজানো না হয় তাহলে বুঝতে হবে এই পরিক্ষা আমাদের জন্য কোন বার্তা বয়ে নিয়ে আসেনি।গ্লোবাল রাজনীতির এই যুগে মুহুর্তেই বদলে যায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আর এই প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহন না করা হয় তাহলে বিরোধীদের শিকারে পরিনত হওয়া অনেকটা স্বাভাবিক।নিজস্ব জিহালত(মুর্খতা) বা অহমিকার উপর ভর করে আদর্শিক রাজনীতির বিস্তার ঘটানো যায় না।হাজার-হাজার লোকের উপস্থিতিতে সভার আয়োজন করে যে  আত্মতৃপ্তির স্বাদ পাওয়া যায় সেটা যে অনেকাংশে ফলপ্রসু হয় না যদি না উপযুক্ত জায়গায় উপযুক্ত লোকেরা বসে কলকাঠি নাড়তে না পারে।এটা বুঝতে বর্তমান সময়ের মত উপযুক্ত সময় অতিতে আসেনি আগামীতে আসবে কি-না বলা দুষ্কর।
একটা বড় দেশের গহ্বরে বাস করে কিভাবে ইসলামের মত আদর্শের রাজনৈতিক সফলতা ছিনিয়ে আনা যায় বা তার জন্য যে পলিসি প্রনয়ন প্রয়োজন তাও ভেসে গেছে সস্তা আবেগের তোড়ে। আবার প্রচলিত গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কিভাবে জনগনের আপনজন বা জনগনের কাছে যাওয়া যায় তার মত পলিসি নির্দ্বারনে নিদারুন ঘাটতি ও রয়েছে।মুসলিম মডারেট দেশে ইসলামের অগ্রযাত্রা ঘটাতে হলে যে কেমন আধুনিক ও উদার মনোভাবাপন্ন দাওয়াতি কাজের বিস্তার ঘটাতে হয় তার জন্য ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহনেও ঘাটতি দৃশ্যমান।কারন যে দেশের লোকেরা এখন ও ইসলাম বলতে আলাদা কোন আদর্শ বা মতবাদ কে বুঝতে অপারগ তারা মনে করে বসেই আছে ধর্মনিরপেক্ষতা আর জাতীয়তাবাদ যাই বলেন সেটা কি আর ইসলাম থেকে আলাদা?ইসলামপন্থীরাও যেমন নামাজ রোজা করে ওরাও তো তাই করে সুতরাং পার্থক্যটা কোথায়?এই সুক্ষ্য পার্থক্যটা জাতির সামনে তুলে ধরতে এদেশীয় ইসলামপন্থীরা অনেকটা ব্যর্থ হয়েছেন আবার ইসলামপন্থীরা  বিতর্কিত হয়েছেন অনেক সময় ইসলাম বিরোধীদের পাতানো জালে ধরা দিয়ে এভাবে সমালোচনার ব্যাটন ইসলামপন্থীরা বিরোধীদের হাতে তুলে ও দিয়েছেন অবলীলায় যার রেশ কাঠানো ইসলামপন্থীদের জন্য একটি চ্যলেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।
৭১ এর ভুমিকা নিয়ে ইসলামপন্থীদের  অবস্থান আজ অনেকটা গলার কাটা হয়ে উঠেছে। বুদ্ধিদীপ্ত ও কূশলতা সম্পন্ন সংগে বাস্তবসম্মত উদ্যেগে এই অবস্থার অবসান না করাটা ও স্বাধীনতার এতো বছর পরেও আজ এই ইস্যু তীরের মত বিষাক্তভাবে কাজ করছে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে।নতুন প্রজন্ম কে মোটিভেট করতে কিংবা মিডিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধে এদেশীয় ইসলামপন্থীদের ভুমিকা যারপরনাই দুর্বল।রাজপথের একটি মিছিল কিংবা বড় একটি সভা সমাবেশ কে যতটুকু গুরুত্ত্ব দেয়া হয়েছে তার বিপরিতে উপযুক্ত জায়গায় উপযুক্ত লোক সেটিং করতে ভুমিকা ছিলো তথৈবচ অথচ সমাজ পরিবর্তনের জন্য ঐ ব্যাপারটায় গুরুত্ব প্রদান করা হলো সমধিক গুরুত্বপুর্ন।যার যোগ্যতা যেটা সেটিতে না নিয়ে সবাই কে দিয়ে একি দায়িত্ব পালন করানোর প্রবনতা বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন জনশক্তি তৈরি করেনি।এভাবে কোন একটা সেক্টরে বিশেষ প্রভাব ইসলামপন্থীদের গড়ে উঠেনি।
গো ধরে মান্ধাতা আমলের ধ্যান ধারনায় পড়ে থাকার প্রবনতাও নতুন ও সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করেছে।তুরস্কের ইসলামপন্থীরা যেখানে বার বার নাম ও গঠনতন্ত্র  বদলিয়ে বিরোধীদের যেমন চমকে দিয়েছে তেমনি জনগনের আস্থাও অর্জন করতে পেরেছে।ঐ ক্ষেত্রে তারা যদি তাদের এই নতুনত্ব কে কাজে লাগাতো না তাহলে হয়তো আজ এ পর্যায়ে তারা আসতে পারতো না।
যে যাই বলুন বর্তমান প্রেক্ষাপটে এদেশীয় ইসলামপন্থীদের মধ্যে কিছুটা সংস্কার নিয়ে আসা  জরুরী।এক্ষেত্রে মরহুম শহীদ কামারুজ্জামানের লিখা জেল থেকে পাঠানো চিটিটাই হতে পারে প্রধান উপজীব্য।আর এই চিটিটার সুত্র ধরে উদার ও সহনশীল আলোচনার ধার উন্মুক্ত করে ইসলামপন্থীদের মধ্যে একটি পরিবর্তন অতীব ফলদায়ক হবে এতে কোনই সন্দেহ নাই।বিশেষ করে রাজণৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে যে ভাবে ইসলামপন্থীরা কোনঠাসা তা কাঠিয়ে উঠতে হলে এমন কিছু সিন্ধান্ত নেয়া জরুরি যা হবে বিরোধীদের জন্য এক ধরনের চপেঠাঘাত আর নতুন প্রজন্মের জন্য হবে আদতেই নতুন এক সমাজ বিনির্মানের বার্তা।