Wednesday, March 19, 2025

গাজায় বর্বরতা, অধিবাসীদের দুর্বিষহ বেদনা

দীর্ঘ পনেরো মাস পরে নিজেদের আবাস্থলে ফিরতে পেরে আনন্দে আত্মহারা গাজাবাসীর সামনে আবারো নেমে এসেছে দুর্বিষহ বেদনার সময়। ইসরাইলি বোমার আঘাতে মুহূর্তেই হারিয়ে গেছে তাদের আনন্দ। পবিত্র রমজানেও রেহাই পাচ্ছেন না তারা। একদিকে সব মানবিক ত্রাণ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইল। অন্যদিকে সোমবার দিবাগত রাত থেকে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়ে গাজাকে নরকে পরিণত করেছে তারা। এর  দুঃসহ স্মৃতি স্মরণ করে আল-জাজিরাকে ওই রাতের বর্ণনা দিয়েছেন দেইর-আল-বালার অধিবাসী মারাম হামিদ। তিনি বলেন, এটা কোনো দুঃস্বপ্ন ছিলো না। এটি বাস্তব। রাত ২টা ১০ মিনিটে বিমান হামলার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় মারাম পরিবারের। মনে হলো চারপাশ কেঁপে উঠলো। ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওঠে মারামে’র মেয়ে বানিয়াস। সে তার পিতা-মাতাকে জিজ্ঞাসা করে কী হচ্ছে? মারামের পাশেই ছিলো বানিয়াস। ভয়ে কাঁদছিলো। তবে মারাম তাকে আশ্বস্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, আমার মন সম্পূর্ণ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিলো। প্রশ্ন জাগে হচ্ছেটা কী? আবার বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে? কে আমাদেরকে আক্রমণ করছে? একবার মনে হলো- ওই সব ক্ষেপণাস্ত্র কী ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপ করা হচ্ছে? না কি ইসরাইল থেকে? এগুলো কী আমাদেরকে উদ্দেশ্য করেই ছোড়া হচ্ছে? মারাম বলেন, তিনি তার ফোনের কাছে ছুটে যান। ওই সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি গ্রুপে স্ক্রল করতে থাকেন তিনি। সবাই জিজ্ঞাসা করছিলো কী হচ্ছে? এর কয়েক মিনিট পর খবর আসতে থাকে দেইর-আল-বালা’র একটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া হামলা চালানো হয়েছে নুসেইরাতে একটি বাড়িতে। খান ইউনিসের আল-মাওয়াইসিতে কয়েকটি তাঁবুতে জায়গা দেয়া হয় গৃহহীন ফিলিস্তিনিদের। বোমার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ওই সব তাঁবু। রাফায় কামান হামলা চালানো হয়। হামলা চালানো হয় জাবালিয়ার একটি আবাসিক ভবনে। এছাড়া আল-কারামার পাশ্ববর্তী এলাকাতেও হামলা চালানো হয়। এসময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে একটি পরিবার। মানুষ সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করতে থাকে। তারা বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের প্রতি সাহায্যের আহ্বান জানান। এর মাঝেই অব্যাহত থাকে বোমা বর্ষণ। ছিন্নভিন্ন দেহের ছবিতে ছেয়ে যায় চারিদিক। মারাম বলেন, যে দুর্বিষহ স্মৃতি আমরা ভুলতে বসেছিলাম তারই পুনরাবৃত্তি হলো। এর কিছুক্ষণ পরেই ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে তারা যুদ্ধবিরতি বাতিল করেছে এবং গাজার বিরুদ্ধে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করেছে। মারামের বোন প্রশ্ন করেন- এর মানে কী? অনেক যুদ্ধ হয়েছে। আমরা পুনরায় যুদ্ধ চাই না। বোমা হামলা চাই না। তিনি বলেন, সেই একই ভয়াল দৃশ্য, একই ভোগান্তি একই দুঃস্বপ্ন। তখনো ফোনে স্ক্রল করছিলেন মারাম। বলেন, চারিদিক ছোট বাচ্চার মৃতদেহের ছবি, জ্বলন্ত তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপে মিশে যাওয়া ভবনের ছবিতে ছেয়ে গেছে। যুদ্ধ ঠিক যেখানে শেষ হয়েছিলো সেখান থেকেই পুনরায় শুরু হলো। মারাম বলেন, গাজা এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি আগামী দিনের পরিকল্পনা করতে পারবেন না। কারণ এখানে এক মুহূর্ত পর আপনার সঙ্গে কী হবে তা কেউ জানে না। বলেন, গত রাতে আমি আমার পিতা ও দুই বোনকে ইফতারের দাওয়াত দেই। আমি তাদেরকে আমাদের সঙ্গে থাকতে রাজি করাই। আমরা সকালে উত্তরের দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করি। ঈদ উপলক্ষ্যে বাচ্চাদের জন্য কাপড় কেনার পরিকল্পনা করি। কিন্তু কী হলো? এক মুহূর্তেই সব ওলট-পালট হয়ে গেলো।
mzamin

গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১৩, সর্বশেষ পরিস্থিতি...

মঙ্গলবার গাজাজুড়ে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। অনেকে বিধ্বস্ত ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন ফলে মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বিমান হামলা।

ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা হামাসের ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুগুলোতে’ হামলা করেছে। এই হামলায় গাজার উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ হামাস কর্মকর্তাদের মধ্যে মাহমুদ আবু ওয়াফাহ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) গাজায় হামলা শুরুর আগে বেশিরভাগ মানুষ রমজানের সেহরি খাচ্ছিলেন, তখনই বিস্ফোরণ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ২০টিরও বেশি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান গাজার আকাশে উড়ছিল এবং সেগুলো গাজা সিটি, রাফাহ ও খান ইউনিসে লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলছিল।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আগেই এ হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বলেছেন, হামাসের কাছ থেকে বন্দিদের মুক্তির দাবি এবং পূর্বে প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যানের পর ইসরায়েল এই হামলা চালিয়েছে। ভবিষ্যতে হামাসের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নেবে তারা।

এদিকে হামাস এ হামলাকে একটি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং এখন বন্দি ইসরায়েলি সেনাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়তে হতে পারে। হামাসের কর্মকর্তা ইজ্জত আল রিশেক এক বিবৃতিতে বলেন, গাজায় পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত হলো দখলদারদের বন্দিদের বলিদান এবং তাদের ওপর মৃত্যুদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত।

বিশ্বজুড়ে এই হামলার প্রতি বিভিন্ন দেশ, সংগঠন এবং জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বলেছে, গাজায় ইহুদি শত্রুদের পুনরায় আগ্রাসনের নিন্দা জানাই। ফিলিস্তিনি জনগণ একা নয়, ইয়েমেন তাদের সহায়তা করবে।

চীনও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, তারা গাজায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে এমন যে কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন, সব বেসামরিক নাগরিককে রক্ষা করতে হবে। বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোটও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়া এবং জাতিসংঘও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং শান্তির জন্য সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজার বাসিন্দারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ বেশিরভাগই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শহরের ৭০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজার স্বাস্থ্য, পানি, ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে এবং খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের সংকট তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি বাধায় গত ১৫ দিন গাজায় কোনো ত্রাণসামগ্রী প্রবেশ করতে পারেনি। এই অবস্থায় রোজা পালন করছেন গাজার মানুষ।

ফাইল ছবি।

আরসা প্রধান আতাউল্লাহর পরিচয়

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ। পুরো নাম- আবু আম্মার জুনুনী। জন্ম ১৯৭৭ সালে, পাকিস্তানের করাচিতে। বাবা গোলাম শরীফ। সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে অষ্টম তিনি। ৬ বছর বয়সে চলে যান সৌদি আরবের রিয়াদে। ইসলামি শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে শিক্ষকতা করেন মক্কা ও রিয়াদে। ২০১৩ সালে আরসার প্রধান হিসেবে যোগ দেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি মিয়ানমার জান্তা সরকারের সৃষ্টি। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় আরসা। ফলাফল স্বরূপ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন অভিযান। এর জেরে নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠির সমর্থকদের কাছে এ আতাউল্লাহ নিজেকে একজন ‘মুক্তিকামী সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি সৌদি আরবের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে লড়াইয়ে নামেন। সমালোচকরা মনে করেন, তার বেপরোয়া সিদ্ধান্তে বিদ্রোহের কারণে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার জীবন বিপর্যস্ত। ফলে তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য ‘অভিশাপ’।

গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে মিয়ানমারভিত্তিক স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হর্সি বলেন, ‘আতা উল্লাহ খুবই ক্যারিশমাটিক। সে সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। এমনভাবে কথা বলে যেন রোহিঙ্গাদের কষ্ট অনুভব করতে পারছে তিনি।

ধারণা করা হয়, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্টে আতাউল্লাহ’র নির্দেশেই হামলা চালিয়েছিল আরসা। এরপর সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ৩০ বছর বয়সেই সে একটি বিদ্রোহী সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। শুরুতে এই সংগঠনের অল্প কয়েকটি বন্দুক ছিল, বেশিরভাগ সময় লাঠি ও ছুরি হাতেই হামলা চালাত তারা। পরবর্তিতে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র আসতে থাকে তাদের হাতে।

জানা যায়, তার বাবা করাচিতে দারুল উলুম মাদ্রাসায় পড়াশোনার পর পরিবারসহ সৌদি আরব পাড়ি দেয়। সেখানে শিক্ষকতা শুরু করে তার বাবা। এরপর এক বিত্তশালী পরিবারের নজরে আসে আতাউল্লাহ। সেই পরিবারের সন্তানদের পড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় তাকে।

পরে সৌদি আরব থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পাকিস্তানে ফিরে যায় আতাউল্লাহ। এরপর রাখাইন গিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ায়। গড়ে তোলে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন। সেখান থেকেই তীব্র লড়াই চালিয়ে যায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। অবশেষে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে ৫ সহযোগীসহ র‌্যাবের জালে ধরা পড়েন এ আতাউল্লাহ। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) তাদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে নেওয়া হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক দুই মামলায় তাদের ৫ দিন করে মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তবে তিনি কীভাবে মিয়ানমার থেকে নারায়ণগঞ্জ আসলেন সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। 

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্প কেন হামাসের সঙ্গে চুক্তিতে যাচ্ছেন by ক্রিস ডয়েল

১৯৮৯ সালে তিউনিসিয়ায় নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্টিফেন ডে একটি ফোনকল পান। ফোনটি করেছিলেন তাঁর তিউনিসিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট পেলেট্রো। পেলেট্রো বললেন, ‘আপনার কাছে কি ইয়াসির আরাফাতের ফোন নম্বরটা আছে?’ পেলেট্রোর কথা শুনে স্টিফেন ডে ধাক্কা খেলেন। কারণ, আরাফাত তখন আমেরিকার চোখে সন্ত্রাসী।

ডে ও পেলেট্রোর ওই টেলিকথোপকথন হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তার নিজের ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন পিএলওর (প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন) সঙ্গে প্রকাশ্যে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজা থেকে স্থায়ীভাবে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করার কয়েক দিন পরই মার্কিন কর্মকর্তারা দোহায় হামাসের সঙ্গে আলোচনা শুরু করলেন। এ ঘটনা ১৯৮৯ সালের সেই ঘটনাকে মনে করিয়ে দিল।

সন্দেহ নেই, এ ঘটনা মার্কিন নীতিতে ঘটে যাওয়া এক বড় পরিবর্তন। কারণ, মার্কিন নীতিতে হামাসের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনা নিষিদ্ধ ছিল।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে এবং ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ পরে এ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে। হামাসের সঙ্গে কথা বলাও ছিল মার্কিন কূটনীতিকদের জন্য ক্যারিয়ার ধ্বংসের শামিল।

যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে এসেছে, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ সঙ্গে কোনো আলোচনা করে না। তবে বাস্তবতা হলো, অতীতেও তাদের এ নীতি ভাঙার নজির আছে। যেমন ১৯৯৫ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক দল সিন ফেইনের নেতা জেরি অ্যাডামসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। অথচ অ্যাডামসের দলটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আইআরএর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় বসাটা আগের ওই সব ঘটনার চেয়ে অনেক বেশি ধাক্কা দেওয়ার মতো। কারণ, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই আলোচনা করে না।

কিন্তু ট্রাম্প এ নিয়ম বদলে দিয়েছেন। মার্কিন বন্দিমুক্তিবিষয়ক আলোচক অ্যাডাম বোয়েলার দোহায় হামাসের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। এ আলোচনা কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হয়নি, বরং মুখোমুখি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে কেবল বন্দিবিনিময়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি, সেখানে হামাস ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও দিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, ওই আলোচনার পরিধি অনেক বড় ছিল।

হামাস-যুক্তরাষ্ট্রের এ বৈঠক নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ইসরায়েলি নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়েছে। কারণ, তারা আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র হামাস নিয়ে আলাদা নীতি গ্রহণ করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ নিয়ে ইসরায়েলকে কোনো কৈফিয়ত দেয়নি। সিএনএনের সাক্ষাৎকারে যখন বোয়েলারের কাছে এ বিষয়ে ইসরায়েলকে কিছু জানানো হয়েছে কি না বলে জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা ইসরায়েলের এজেন্ট নই।’

এ অবস্থায় মনে হচ্ছে, ইসরায়েলের নেতাদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেনাচেম বেগিন ও আইজাক শামির ব্রিটিশ শাসনের সময়ে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। কারণ, তাঁরা প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিলেন। কিন্তু এটি ব্রিটেনসহ অন্যান্য রাষ্ট্রকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও তিনি তাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেই। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে আমেরিকার স্বার্থ), বরং আরও স্পষ্টভাবে বললে বলা যায়, ‘ট্রাম্প ফার্স্ট’ (সবার আগে ট্রাম্পের স্বার্থ)। তাঁর কাছে কোনো কিছুই বাইবেলের পবিত্র বাণীর মতো অপরিবর্তনীয় নয়। এমনকি এ নীতি মিরিয়াম অ্যাডেলসনের মতো তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তহবিল সরবরাহকারীকে ক্ষুব্ধ করলেও তিনি এতে একটুও বিচলিত নন।

অনেকেই ট্রাম্পকে বাইডেনের চেয়ে বেশি ইসরায়েলপন্থী নেতা বলে মনে করেন। যদিও ট্রাম্প ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের দমন করার জন্য সবুজসংকেত দিয়ে থাকেন। তবে তিনি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বাইডেনের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীন এবং প্রয়োজনে ইসরায়েলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতেও সক্ষম।

ট্রাম্পের এই স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ইসরায়েলকে উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্প এরপর কী করবেন, তা নিয়ে ইসরায়েলি নেতারা চিন্তিত। তিনি কি ইসরায়েলের অনুমতি ছাড়াই হামাসের সঙ্গে কোনো চুক্তি করবেন? তিনি কি ইসরায়েলের আপত্তি উপেক্ষা করেই তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন? এসব প্রশ্ন ইসরায়েল প্রশাসনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা গোপনে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের একটি চ্যানেল খুলেছিলেন। ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই এটি প্রকাশ্যে করতে পারেন। ট্রাম্পের অনেক সমালোচনা আছে, তবে তাঁকে কিছুটা কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। কারণ, তাঁর কিছু কাজ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ। তবে এর সঙ্গে কিছু জটিলতাও রয়েছে।

ট্রাম্প হামাসের সঙ্গে চুক্তি করতে চান, আর সংঘাতরত দুই পক্ষের এক পক্ষকে, অর্থাৎ ইসরায়েলকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে সেই চুক্তি করা সম্ভব নয়।

জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো হামাসের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখেনি। তারা ‘কোয়ার্টেট নীতিমালা’ মেনে চলে। সে নীতিমালায় বলা আছে, হামাসকে বৈধতা পেতে হলে সহিংসতা ত্যাগ করতে হবে, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আগের সব শান্তিচুক্তি মেনে চলতে হবে।

তবে হামাসকে সবকিছু থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। মিসর ও কাতার হামাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।

অনেকে মনে করেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনা করা মানে তাদের অযথা বৈধতা দেওয়া। তবে এটি তখনই সত্যি হতে পারে, যদি তাদের হোয়াইট হাউস বা ডাউনিং স্ট্রিটে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু যখন তারা দূরে, গোপনে কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনা করছে, তখন এটি তেমন গুরুতর বিষয় নয়।

আরেকটি যুক্তি হলো, সহিংসতার মাধ্যমে হামাস সুবিধা আদায় করতে পারলে, তারা সহিংসতায় আরও উৎসাহিত হতে পারে।

তবে আলোচনা কোনো পুরস্কার নয়। হামাসের সঙ্গে আলোচনা মানেই তাদের সমর্থন করা নয়। বরং এটি বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা যে শত্রুপক্ষগুলোর মধ্যেও সংলাপ ফলপ্রসূ হতে পারে এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।

ইতিহাস বলে, অন্তত এ বিষয়ে ট্রাম্প সঠিক পথে আছেন। সাবেক লেবার নেতা হিউ গেইটস্কেল একবার বলেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সব সন্ত্রাসীই সরকারের আমন্ত্রণে ডরচেস্টার হোটেলে এসে মদ খায়।’

যদি গেইটস্কেলের এ বক্তব্য ২০২৫ সালের জন্য হালনাগাদ করা হয়, তাহলে ‘মদ খাওয়ার’ সেই জায়গা ডরচেস্টার হোটেলের বদলে হতে পারে ‘ট্রাম্প টাওয়ার’।

* ক্রিস ডয়েল কাউন্সিল ফর অ্যারাব-ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে (ক্যাবু) পরিচালক

* মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেয় হামাস
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেয় হামাস। ছবি: এএফপি

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ আমরা চাই না -দ্য ডিপ্লোম্যাটকে নাহিদ

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকায় ছিলেন নাহিদ ইসলাম। পরে উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন অন্তর্বর্তী সরকারে। সম্প্রতি সে পদ ছেড়ে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন, চলমান সংস্কারপ্রক্রিয়াসহ নানা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি সোমবার ডিপ্লোম্যাটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম আলোর পাঠকদের জন্য তা সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা হলো।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনি আন্দোলন থেকে সরকারে গেছেন, পরে রাজনীতিতে ফিরে এসেছেন এবং আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। আপনার অভিজ্ঞতা কী?

নাহিদ ইসলাম: একটি সরকারকে ভেতর ও বাইরে থেকে দেখাটা বিস্তর ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অন্তর্বর্তী সরকার যখন দায়িত্ব নিল, তখন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং সময় ছিল। এটা আমার জন্য একটি বড় অভিজ্ঞতা। সময়ের চাহিদার প্রতি সাড়া দিয়ে আমি পদত্যাগ করেছি এবং মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিয়েছি। এখন এই অভিজ্ঞতা আমি আমার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রায় ব্যবহার করতে পারব—বিশেষ করে সামনের পথটা যখন কঠিন বলে মনে হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক দলের যাত্রা শুরু করা আমার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ, তবে এই পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: অন্তর্বর্তী সরকারে আপনার দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা কতটুকু সংস্কার করতে পেরেছেন?

নাহিদ ইসলাম: আমার স্বল্প মেয়াদে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা ইন্টারনেট কাঠামোর স্তরগুলো নতুন করে বিন্যস্ত করেছি। আইসিটি বিভাগের জন্য সংস্কারের একটি রূপরেখা প্রস্তুত করেছি। আর তথ্যের প্রবাহ যেন আরও ভালো হয়, তা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রণ আরোপকারী বিভিন্ন আইন নিয়ে কাজ করেছি। এই সংস্কারগুলোর পুরো প্রভাব হয়তো শিগগিরই দৃশ্যমান না হতে পারে, তবে আমি আত্মবিশ্বাসী—এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জন্য সুবিধা নিয়ে আসবে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট:
এনসিপি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? এটি কি ডানপন্থী নাকি বামপন্থী দল হবে?

নাহিদ ইসলাম: এগুলোর কোনোটিই নয়। এনসিপি একটি মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দল এবং আমরা এই আদর্শ ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য হলো নতুনদের কথা বলার জায়গা করে দেওয়া; বিশেষ করে তরুণ এবং সমাজের সব শ্রেণির ব্যক্তিদের, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে রয়ে গেছেন।

আমাদের লক্ষ্য হলো একটি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা করা। এই গণপরিষদের মাধ্যমে আমরা নতুন একটি সংবিধান প্রবর্তন করতে চাই এবং ক্ষমতার ধরনে পরিবর্তন আনতে চাই। আমাদের লক্ষ্যকে আরও সুস্পষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধারণা খতিয়ে দেখছি ও মতামত নিচ্ছি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: অনেকেই বলছেন, এনসিপি ‘কিংস পার্টি’ এবং সরকারের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিচ্ছে। এটা কি সত্যি?

নাহিদ ইসলাম: যদি এনসিপি একটি ‘কিংস পার্টি’ হয়, তাহলে আমি কেন সরকার থেকে পদত্যাগ করলাম? আমি থেকে যেতে পারতাম, আমার পদকে ব্যবহার করতে পারতাম এবং সরকারের ভেতরে থেকে রাজনীতি করতে পারতাম।

আমরা সরকার থেকে কোনো বিশেষ সুবিধা নিচ্ছি না। শুধু অভ্যুত্থানে আমাদের ভূমিকার কারণে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো থেকে অনুপ্রেরণা ও স্বীকৃতি পেয়েছি। তা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার একদলীয় সরকার নয়। এতে বিভিন্ন মতাদর্শের লোকজন রয়েছেন। ফলে সব দল সরকারের কাছ থেকে একই আচরণ পাচ্ছে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: এনসিপি কি জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ? তাদের দাবিগুলো একই রকম মনে হচ্ছে। এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশে কট্টরপন্থা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এনসিপি।

নাহিদ ইসলাম: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি—আমরা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাদের বিচার দাবি করছি। এর অর্থ কী—আমরা সবাই এক বা একে–অপরের ঘনিষ্ঠ? মোটেও না। বিষয়টি যদি তা–ই হতো, তাহলে আমরা একটি জোট গঠন করতাম।

এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী পুরোপুরি ভিন্ন দল, যাদের পৃথক পৃথক এজেন্ডা রয়েছে। আমাদের মধ্যে কোনো সংযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী আমাদের ঘনিষ্ঠ নয়। আমাদের কিছু দাবি মিলে যেতে পারে, যেমন আমরা সংস্কার আগে করার, গণপরিষদ প্রতিষ্ঠার এবং বড় পরিসরে কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিই। কিন্তু মৌলবাদের বিষয়ে আমাদের মিল রয়েছে—এমন দাবি হলো মিথ্যা একটি বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। উদাহরণ হিসেবে বলতে গেলে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে অনেকেই সন্ত্রাসী আন্দোলন তকমা দিয়েছেন, যা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনারা কখন জাতীয় নির্বাচন চান?

নাহিদ ইসলাম: আমাদের গুরুত্বের বিষয়গুলো হলো পূর্ববর্তী সরকারের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, দেশে একটি স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গণপরিষদ গঠন করা। আমরা সংবিধান ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে, যাতে ফ্যাসিবাদী শাসন আবার ফিরে আসতে না পারে। তাই একটি নির্বাচন আমাদের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার নয়। বর্তমানে নির্বাচনের জন্য আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিচ্ছি না।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার নতুন দলের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে?

নাহিদ ইসলাম: প্রথমত, বাংলাদেশে অনেক সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। এটা তাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কঠিন করে তুলবে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে সীমিত সময়ের মধ্যে। (নির্বাচনের) নির্দিষ্ট তারিখ অনিশ্চিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষে বা ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। ক্যাম্পাস ও শহরের রাজনীতি থেকে গ্রামের রাজনীতি ভিন্নভাবে পরিচালিত হয় এবং এখানে ভিন্ন পদ্ধতিতে এগোতে হয়। আগামী মাস থেকে আমরা ঢাকার বাইরে প্রচার শুরু করতে যাচ্ছি।

তা ছাড়া এটা দেশের জন্য একটি কঠিন সময়। তাই জনগণের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারের ওপর চাপ তৈরির জন্য আমাদের অবশ্যই সক্রিয় থাকতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ হবে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: এনসিপি কোন ধরনের ‘সেকেন্ড রিপাবলিকের’ কথা ভাবছে?

নাহিদ ইসলাম: সেকেন্ড রিপাবলিকের ক্ষেত্রে আমাদের প্রাথমিক দাবি হলো একটি নতুন সংবিধান। এর জন্য গণপরিষদ প্রতিষ্ঠা দরকার। এই সংবিধান হবে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার আলোকে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সীমাহীন ক্ষমতা প্রত্যাহারসহ ক্ষমতার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থার পক্ষে সোচ্চার রয়েছি।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: বাংলাদেশের কূটনীতির বিষয়ে এনসিপির অবস্থান কী? দলটি কি দেশকেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে থাকবে?

নাহিদ ইসলাম: প্রথম ও সর্বাগ্রে আমরা চাই, বাংলাদেশ যেকোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্যমুক্ত থেকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও লাভজনক কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলবে। অতীতে আমরা বিভিন্ন সরকারকে নয়াদিল্লির প্রভাবের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে দেখেছি। আমরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে ভারত বা পাকিস্তানকেন্দ্রিক হতে দেব না। এনসিপি পুরোপুরি বাংলাদেশকেন্দ্রিক থাকবে, সবার ওপরে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে।

দ্য ডিপ্লোম্যাট: আপনার দল কি আওয়ামী লীগকে রাজনীতি বা পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে দেবে?

নাহিদ ইসলাম: না, আমরা চাই না আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিক। প্রথমত, দলটির ভেতরে যাঁরা অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

নাহিদ ইসলাম
নাহিদ ইসলাম। ফাইল ছবি

প্রত্যর্পণ নিয়ে দ্বন্দ্ব: বিচারকের অভিশংসন চাইছেন ট্রাম্প, প্রধান বিচারকের সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ওয়াশিংটনের এক বিচারকের অভিশংসন চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। ওই বিচারকের অভিশংসনের জন্য তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরা এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছেন। কিন্তু বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্বের কারণে কোনো বিচারকের অভিশংসন চেষ্টা নিয়ে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস।

ট্রাম্প প্রশাসন গত শনিবার ভেনেজুয়েলার ২৩৮ নাগরিকসহ মোট ২৬১ ব্যক্তিকে এল সালভাদরে প্রত্যর্পণ করেছে।  এসব ব্যক্তিকে এল সালভাদরের একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারে রাখা হবে। এ জন্য মধ্য আমেরিকার দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাবে।

একই দিন এই ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ দুই সপ্তাহ মুলতবি রাখতে রুলিং দিয়েছিলেন ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ।

গ্যাং দল ট্রেন ডি আরাগুয়া এবং এমএস-১৩ এর সদস্যদের দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য গত শুক্রবার কয়েক শতকের পুরোনো ভিনদেশি শত্রু আইন বা এলিয়েন এনেমিস অ্যাক্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এটি যুদ্ধকালীন আইন হিসেবে পরিচিত। এই আইন ব্যবহারের বিষয়ে ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, ট্রেন ডি আরাগুয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অনিয়মিত যুদ্ধ’ চালাচ্ছে।

কিন্তু গ্যাং সদস্যদের প্রত্যর্পণে ১৭৯৮ সালের এলিয়েন এনেমিস অ্যাক্ট ব্যবহার নিয়ে আপত্তি করে বিচারক জেমস বোসবার্গ ভিন্ন যুক্তি দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই আইনে অন্য দেশের দ্বারা সংঘটিত এমন ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে’ বোঝানো হয়েছে, যা ‘যুদ্ধের সমতুল্য’।

কিন্তু আদালতের রুলিং সত্ত্বেও গ্যাং সদস্যদের প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ ও বিচার বিভাগের মধ্যে এক ধরনের সংঘাতের সূচনা হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সাংবিধানিক সংকট কত দূর গড়াবে সেটা দেখার বিষয়।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার জেমস বোসবার্গ বিচার বিভাগের আইনজীবীদের কাছে কিছু বিষয়ে তথ্য জানতে চান। তিনি তাঁদের প্রশ্ন করেন, গ্যাং সদস্যদের পাঠানো-সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোষণাটি ঠিক কখন কার্যকর হয়েছিল এবং প্রত্যর্পণের ফ্লাইটগুলো এল সালভাদরের উদ্দেশ্যে কখন রওনা করেছিল?

জেমস বোসবার্গের প্রশ্নের জবাব দিয়ে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী (আইসিই) কর্মকর্তা রবার্ট সারনা স্থানীয় একটি আদালতকে জানান, শনিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ট্রাম্পের নির্দেশ প্রকাশিত হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের বহনকারী তিনটি উড়োজাহাজ এল সালভাদরের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে।

তবে আটক ব্যক্তিদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজ বোসবার্গের রুলিংয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গিয়েছিল। শনিবার রাত ৭টা ২৫ মিনিটে বোসবার্গ দুই সপ্তাহের জন্য এই সব গ্যাং সদস্যের প্রত্যর্পণ স্থগিত রাখতে বলেছিলেন। আদালতকে আইসিই কর্মকর্তা রবার্ট সারনা আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের শুধুমাত্র এলিয়েন এনেমিস অ্যাক্টের অধীনে প্রত্যর্পণ করা হয়নি। বরং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা অপসারণের নির্দেশ ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী দেশটির বিচার বিভাগের আইনজীবীরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বিচারকের লিখিত আদেশ প্রকাশিত হওয়ার আগেই ফ্লাইটগুলো যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গিয়েছিল। তাঁদের যুক্তি, লিখিত আদেশ প্রকাশের আগে বিচারক আদালতে মৌখিকভাবে যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা ধর্তব্য নয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, আদালতের লিখিত আদেশ লঙ্ঘিত হয়নি। (কারণ সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলো লিখিত আদেশের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ছেড়ে গিয়েছিলেন। তাই বলা যায়, বিচারকের আদেশ জারি হওয়ার আগেই উড়োজাহাজের আরোহীরা ‘অপসারিত’ হয়েছিল।)

মঙ্গলবার সকালে ওই ঘটনায় বিচারকের অভিশংসন চেয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, তিনি একজন ‘বিঘ্ন ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’। ট্রাম্পের পোস্টে সরাসরি বোসবার্গের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ট্রাম্পের পোস্টের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এক বিবৃতিতে বোসবার্গের অভিশংসনের প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক করে লিখেছেন, ‘দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এইটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বিচার বিভাগের সঙ্গে কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে অভিশংসন কোনো সমাধান নয়। [এই রকম কোনো দ্বন্দ্ব দেখা দিলে] স্বাভাবিক আপিল বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।’

প্রধান বিচারপতির তরফে বিবৃতিটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির ইতিহাসে প্রধান বিচারপতির এই ধরনের পদক্ষেপ দুর্লভ।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা গত সপ্তাহে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁদের সহকর্মীদের প্রতি প্রশাসনের হুমকি বাড়ছে। রুলিংয়ের জন্য বিচারকদের অভিশংসন চাওয়াকে তাঁরা ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এদিকে ট্রাম্পের পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতা ব্র্যান্ডন গিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে জানিয়েছেন, বোসবার্গের অভিশংসনের কাজ প্রতিনিধি পরিষদে শুরু হয়েছে। তিনি এরই মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউসে বিচারকের বিরুদ্ধে অভিশংসন-সংক্রান্ত ধারাগুলো উত্থাপন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ তথা প্রতিনিধি পরিষদে কোনো বিচারককে অভিশংসিত করতে হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলে চলে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রস্তাব কত ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর প্রস্তাবটি উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে। বিচারকের অভিশংসনের জন্য সেখানে প্রস্তাবটির পক্ষে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দরকার হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সিনেটে তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের একবেলা by আসাদুজ্জামান

পুরান ঢাকায় অবস্থিত ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসামিদের রাখার জন্য হাজতখানায় তিনটি বড় আকারের কক্ষ রয়েছে। কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালত চত্বরে আনার পর আসামিদের রাখা হয় ওই হাজতখানায়।

হাজতখানার ভেতর আসামিদের বসার জন্য রয়েছে মাদুর। আসামিরা মাদুরে বসে থাকেন। যখন আদালত থেকে আসামিদের এজলাসকক্ষে তোলার নির্দেশনা আসে, তখন হাজতখানার পুলিশ সেই আসামিকে আদালতে তুলে থাকেন।

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ মঙ্গলবার। একই সঙ্গে সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীকেও দুর্নীতির মামলায় হাজির করার দিন ধার্য ছিল।

ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৯টা। একটি প্রিজন ভ্যান এসে থামে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত চত্বরে। প্রিজন ভ্যানের ভেতরে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। হাজতখানার পুলিশ সদস্যরা কামরুল ইসলাম ও এস কে সুর চৌধুরীর দুই হাতেই হাতকড়া পরিয়ে দেন। পরে তাঁদের প্রিজন ভ্যানের সামনে থেকে হাঁটিয়ে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা হাজতখানায় রাখা হয় এই দুই আসামিকে। সেখানে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবিস্তার জানা যায় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে।

তখন সকাল ৯টা ১৫ মিনিট। হাজতখানার ভেতর মেঝেতে মাদুর বিছানো। সেখানে বসে পড়েন কামরুল ইসলাম ও এস কে সুর চৌধুরী। বেলা ২টা পর্যন্ত ওই মাদুরে বসে ছিলেন তাঁরা।

একই হাজতখানায় অন্য সাধারণ কয়েদিরাও কামরুল ইসলামদের সঙ্গে ওই কক্ষে অবস্থান করেন। দুপুর ১২টার পর কামরুল ইসলাম হাজতখানার পুলিশ সদস্যদের ডাকেন। কারাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ না পেলে তাঁরা কোনোভাবেই হাজতখানা থেকে কারাগারে নিয়ে যেতে পারবেন না। এ সময় হাঁটু গেড়ে চুপ করে হাজতখানায় বসে থাকেন কামরুল।

বেলা ১টার পর কামরুল ইসলাম আরও ক্ষুব্ধ হন। হাজতখানার ওই কক্ষের ভেতর পায়চারি করতে থাকেন তিনি। বারবার পুলিশ সদস্যদের তাগাদা দিতে থাকেন, যেন তাঁকে দ্রুত হাজতখানা থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে বেলা ২টার দিকে হাজতখানার ভেতর থেকে প্রথমে কামরুল ইসলামকে বের করে আনা হয়। এরপর বের করা হয় এস কে সুরকে। তবে তাঁদের কাউকে আদালতে সশরীর হাজির করা হয়নি। মামলার পরবর্তী দিন রেখে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত।

দুজনকে যখন হাজতখানা থেকে বের করা হয়, সে সময় দেখা যায়, কামরুল ইসলামের দুই হাতে হাতকড়া। মাথায় পুলিশের হেলমেট। বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। হাজতখানার সামনে থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি হোঁচট খান। তখন পুলিশের এক সদস্য তাঁর দুই হাত ধরে বলতে থাকেন, ‘আস্তে... আস্তে’।

এ সময় আরও ক্ষুব্ধ হন কামরুল ইসলাম। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হেলমেটের গ্লাসে ময়লা। আমি কিন্তু চোখে কিছু দেখতেছি না...।’

তখন এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আমরা ধরছি...’

‘এই গ্লাসটা মুখের ওপর থেকে উঠান না!’ পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন কামরুল ইসলাম।

পরে পুলিশের দুই সদস্য সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুলের দুই হাত ধরে প্রিজন ভ্যানে তুলে দেন। পরে প্রিজন ভ্যানে উঠে যান এস কে সুর চৌধুরী। এরপর তাঁদের নিয়ে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করে প্রিজন ভ্যানটি।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কামরুল ইসলামের ১৫টি ব্যাংক হিসাবে ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা জমা হয়। অন্যদিকে এসব ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলন করা হয়েছে ১৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। বর্তমানে জমা আছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক এই মন্ত্রীর নামে মামলা করে দুদক।

অন্যদিকে ১৪ জানুয়ারি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরী। ১৯ জানুয়ারি তাঁর ধানমন্ডির বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে দুদক। এ সময় সঞ্চয়পত্র ও বিমার প্রায় চার কোটি টাকার কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। তাঁর তিনটি ফ্ল্যাটেরও সন্ধান পায় দুদক।

আদালতের হাজতখানা থেকে বের করে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামকে প্রিজন ভ্যানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে
আদালতের হাজতখানা থেকে বের করে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলামকে প্রিজন ভ্যানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে। ছবি: প্রথম আলো

ট্রাম্প-পুতিন ফোনালাপ: জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে পুতিনের সম্মতি

জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেড় ঘণ্টার ফোনালাপে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় শুরু হয় এ ফোনালাপ। এরপর ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে ফোনালাপ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন আগামী ৩০ দিন হামলা বন্ধ রাখবে—এমন প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন পুতিন।

ক্রেমলিনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পুতিন তাৎক্ষণিকভাবে রুশ সামরিক বাহিনীকে সংশ্লিষ্ট আদেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরে নিরাপদে চলাচল করার প্রস্তাবে পুতিন গঠনমূলকভাবে সাড়া দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিবরণ আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য আলোচনা শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে মস্কো।

পুতিনের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে বলা হয়েছে, ১৯ মার্চ (আজ) রাশিয়া ও ইউক্রেন ১৭৫ বন্দী বিনিময় করবে। এ ছাড়া রাশিয়ার পক্ষ থেকে ১৩ জন মারাত্মক আহত ইউক্রেনীয় সেনাকে হস্তান্তর করা হবে।

পুতিন আরও বলেছেন, সংঘাতের তীব্রতা রোধ ও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে এর সমাধানের মূল শর্ত হলো বিদেশি সামরিক সাহায্য ও কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা সম্পূর্ণ বন্ধ করা।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি এবং যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প ও পুতিন। এ সংঘাতের অবসান একটি স্থায়ী শান্তির মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে উভয় নেতাই একমত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, জ্বালানি ও অবকাঠামোগত যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শান্তিপ্রক্রিয়া শুরু হবে বলে দুই নেতা একমত হয়েছেন। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরে সামুদ্রিক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তির বিষয়ে কারিগরি আলোচনা শুরুর ব্যাপারে তাঁরা মত দিয়েছেন। এসব আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই শুরু হবে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতিতে ভবিষ্যতের বিরাট লাভ রয়েছে বলে দুই নেতা একমত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক চুক্তি ও শান্তি অর্জনের পর ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়।

পুতিন ও ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য, কৌশলগত অস্ত্রের বিস্তার বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা এবং ইরান নিয়েও আলোচনা করেছেন।

গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর পুতিনের সঙ্গে এটি তাঁর দ্বিতীয় ফোনালাপ। গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে ইউক্রেনকে ছাড়াই রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর পর থেকে ইউক্রেনকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বন্ধ করে ওয়াশিংটন। এরপর সৌদি আরবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিয়েভের বৈঠকের পর ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সামনে আসে। কিয়েভ এতে তাদের সম্মতি জানায়। তবে পুতিন বলেন, যুদ্ধবিরিতর প্রস্তাবটিতে তিনি রাজি থাকলেও এতে গুরুতর অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি ট্রাম্পের কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গতকালের ফোনালাপ।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টির কথা বলা হয়। একই সঙ্গে ইউক্রেন নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইউক্রেন সংঘাত নিরসন এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে নির্দিষ্ট কিছু বোঝাপড়া আগেই হয়। কিন্তু আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও স্বাভাবিকীকরণ এবং ইউক্রেন বিষয়ে একটি মীমাংসা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। দুই প্রেসিডেন্ট এসব নিয়ে আলোচনা করবেন।’

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গাজায় ফের বর্বরতা: নিহত কমপক্ষে ৪০৪

নৃশংস ও ‘বর্বরভাবে’ আবারো গাজার নিরীহ মানুষের ওপর গণহত্যা শুরু করেছে ইসরাইল। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি এতে ভেঙেচুরে খান খান হয়ে গেছে। নতুন করে ইসরাইলের হামলায় কমপক্ষে ৪০৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হবে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। ইসরাইলের এ হামলাকে বর্বর বলে আখ্যায়িত করেছে মাল্টা। দ্রুত নতুন করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে মাল্টা, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড। মাল্টার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলা এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, বর্বরোচিতভাবে কমপক্ষে ৩০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলের নতুন করে হামলা এবং তাতে ভয়াবহভাবে মানুষ হত্যার কড়া সমালোচনা করেছেন বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোট। তিনি এক্সে লিখেছেন, সব পক্ষকে আমি যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়কে বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। এটা পুনর্গঠন এবং সবার জন্য শান্তির পথ তৈরি করে দেবে।  বেসামরিক লোকজনকে সুরক্ষিত রাখার বাধ্যবাধকতার কথা ইসরাইলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। তিনি বলেছেন, সোমবার দিবাগত রাতে গাজায় ইসরাইল যে ভয়াবহ বিমান হামলা ও গোলা নিক্ষেপ করেছে তাতে আমি ভয়ার্ত। ওই হামলায় কয়েক শত মানুষ নিহত হয়েছেন। এটা একটা ট্রাজেডির ওপর আরেকটা ট্রাজেডি। এই হামলাকে গাজায় গণহত্যার নতুন দফা বলে কড়া নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গাজায় ইসরাইলের হামলায় শত শত মানুষকে গণহত্যা এটাই দেখিয়ে দেয় যে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের গণহত্যার পলিসি নতুন দশায় প্রবেশ করেছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং সার্বজনীন মূল্যবোধকে লঙ্ঘন করে চলেছে ইসরাইল। এই হামলাকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে এর পূর্ণাঙ্গ দায় যুক্তরাষ্ট্রের বলে অভিযোগ করেছে গাজার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। হামাস বলেছে, তারা আমাদের জনগণকে নির্মূল করতে সরাসরি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এসব করছে। দখলদারদের প্রতি সীমাহীন রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন রয়েছে ওয়াশিংটনের। এ জন্য এই গণহত্যার দায় তাদেরকে বহন করতে হবে। এহেন কর্মকাণ্ডের জন্য ইসরাইলকে বিশ্বাসঘাতক বলে আখ্যায়িত করেছে হামাস। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল-জাজিরা। উল্লেখ্য, মুসলিমদের পবিত্র রমজানে যখন সর্বোচ্চ সংযমের চর্চা করছেন রোজা পালনের মধ্যদিয়ে, তখন সেই নিরীহ, অসহায় মানুষের ওপর ইসরাইল নৃশংস হামলা চালাচ্ছে। একদিকে তাদের সব মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে গাজাবাসীকে তাদের বিধ্বস্ত বাড়িঘরে ফেরার অনুমতি দিয়েছে। এরপরই  রোজা পালনরত সেই সবহারা মানুষগুলোর ওপর হায়েনার মতো হামলা চালাচ্ছে তারা। যেন, সবাইকে একত্রিত করে তাদেরকে হত্যা করে গাজাকে ফাঁকা করে ফেলতে চাইছে।

সারা বিশ্বের মুসলিমরা যখন ধর্মীয় নির্দেশনা পবিত্র রোজা পালন করছেন, তখন গাজায় তাদের চোখের সামনে অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছেন তাদেরই ভাইবোন। সারা বিশ্ব দেখছে। কিন্তু কারও যেন কিছু করার নেই। সবাই চুপ। এই ফাঁকে গাজাবাসীর রক্তে সেখানকার মাটি লাল হয়ে যাচ্ছে। গাজার কেন্দ্রীয় এলাকা দিয়ের আল বালা থেকে সাংবাদিক হিন্দ খোদারি বলছেন, ইসরাইলের হামলায় গাজায় আবার অমানবিক এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে আহতদের উপচেপড়া ভিড়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি রক্তদানের আহ্বান জানাচ্ছে। এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে এমনিতেই আহতদের জন্য প্রয়োজনীয়  মৌলিক চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব রয়েছে। যেমন গজ, বেদনানাশক প্রভৃতি। ১৮ দিন ধরে গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকরা এমন পরিস্থিতিতে বলছেন, তারা বড় রকম চ্যালেঞ্জের মুখে। এ ছাড়া জ্বালানি সংকটে সব মেডিকেল স্থাপনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজায় ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইসরাইলকে চাপ দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেনেভায় ব্রিফিংয়ে রেড ক্রসের মুখপাত্র তোমাসো দেলা লোঙ্গা বলেছেন, গাজা জুড়ে মেডিকেল স্থাপনাগুলোতে রোগীতে ভরে যাচ্ছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফিলিস্তিনে শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের এজেন্সি ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান ফিলিপ্পে লাজারিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সোমবার দিবাগত রাতভর ইসরাইলি বাহিনী গাজায় ভারী বোমা হামলা করেছে। এতে বহু শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এই যুদ্ধ শুরু করার মাধ্যমে পৃথিবীতে নরক সৃষ্টিতে উস্কানি দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই যুদ্ধবিরতিতে ফিরতে হবে।

mzamin

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন: মুরগির রক্ত গায়ে মেখে প্রতারণা by সাজ্জাদ হোসেন

সম্রাট আকবর সবুজ। পেশায় ভ্যানচালক। ঢাকা থেকে বিভিন্ন স্থানে সবজি পরিবহনের কাজ করতেন তিনি। কয়েক বছর আগে বগুড়ায় এক গাড়িচালকের সঙ্গে বিতণ্ডার একপর্যায়ে তার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন ওই গাড়িচালক। তখন নেয়া চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে জুলাই ফাউন্ডেশনে আহতদের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে  এসে জানতে পারেন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণের ছবি কিংবা ভিডিও দেখাতে হবে। পরে সবুজ এবং তার বন্ধু মোহাম্মদ নূর আলম মিলে মুরগির রক্ত মাথায় এবং গায়ে মেখে রাস্তায় শুয়ে ভিডিও তৈরি করেন এবং ছবি তোলেন। এ সব ছবি জুলাই ফাউন্ডেশনে জমা দিয়ে ইতিমধ্যে অর্থ সহায়তা তুলে নিয়েছেন। শুধু ফাউন্ডেশনই নয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও আর্থিক সহায়তা বাগিয়েছেন এই ছবি দেখিয়ে। সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের তদন্তে তার এই প্রতারণা ধরা পড়ে।

শুধু সুবজই নন, এমন অনেকে প্রতারণা করে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান তুলে নিচ্ছেন। ফাউন্ডেশনের তদন্তে তাদের অনেকে ধরাও পড়ছেন। এ পর্যন্ত অর্ধ শতাধিকেরও বেশি প্রতারণার ঘটনা ধরা পড়েছে। ধরা পড়াদের কেউ কেউ বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত দিয়েছেন। মামলার পর জেলে গেছেন ৩ জন।  

গতকাল মঙ্গলবার জুলাই ফাউন্ডেশনের সেলে সম্রাট আকবর সবুজকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, মুরগির রক্ত  মেখে তিনি ছবি তুলেছেন। মাথায় যে আঘাত পেয়েছেন তা ব্যক্তিগত ঝগড়ার সময় প্রাপ্ত আঘাত। কিন্তু জুলাই আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন এমনটা দাবি করায় এবং প্রতারণার কথা স্বীকার করায় তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
সবুজকে ডেকে আনায় জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে আন্দোলনে আহত কয়েকজন জড়ো হয়েছিলেন। সবুজের প্রতারণার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এসব আহত ব্যক্তি তাকে মারধর করতে উদ্যত হন এই প্রতিবেদকের সামনেই। তারা দাবি করেন, এসব প্রতারণার কারণে আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মর্যাদা হানি হচ্ছে। এসব প্রতারকের কঠোর শাস্তি দেয়ারও দাবি করেন তারা।

আন্দোলনে আহত সোহান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (পিজি) চিকিৎসা নিচ্ছেন। সবুজের প্রতারণার খবর পেয়ে তিনি হাজির হন ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে। ক্ষুব্ধ সোহান বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা প্রকৃত আহতরাই সহায়তা পাইনি। কিন্তু এই প্রতারক টাকা নিয়ে গেছে। আমরা এদের কঠোর শাস্তি চাই।

গতকাল বেলা দুইটায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের গিয়ে দেখা যায়, কেউ ব্যস্ত শহীদ পরিবার ও আহতদের আর্থিক সহায়তা প্রদানে। কেউ বা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি করতে। সেখানে আহত ও তাদের স্বজনদের ভিড়। কেউবা এসেছেন অনুদানের অর্থ কবে পাবেন তা জানতে। শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের অর্থ সহায়তা, কর্মসংস্থান, সম্মানী ভাতা, আজীবন চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণসহ নানা বিষয় জানতে। তাদের বক্তব্য ও সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হতে কথা বলতে দেখা যায় ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে। প্রধান ভেরিফিকেশন অফিসার মো. হারুন ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন তাকে সহযোগিতা করছিলেন।

মঙ্গলবারই যাত্রাবাড়ী এলাকার আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক ফাউন্ডেশনে অভিযোগ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী গত ১৪ই আগস্ট সাইফ আরাফাত শরীফ এবং মো. সাইদুল ইসলাম ইয়াছিন নামে দুই তরুণ গণধর্ষণের অভিযোগে মব হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তাদের পিটিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ফেলে যায় কিছু লোক। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এই দুইজনকে জুলাই আন্দোলনে শহীদ বলে এক প্রতারকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ’ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)’ এ নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়। এমনকি জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে আন্দোলনে শহীদদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তাও বাগিয়ে নেয়া হয়েছে। যদিও ঘটনার সময় নিহত দুইজনের পরিবার দাবি করেছিল তারা জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ও জুলাই ফাউন্ডেশনের ছাত্র প্রতিনিধি মো. রাকিব হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ১৪ই আগস্টের গণপিটুনিতে তারা মারা যান। সে জুলাই আন্দোলনের শহীদ নয়। এটা ওই সময় বিভিন্ন পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ’ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)’ এএই ঘটনাায় মারা যাওয়া লোক কীভাবে ভেরিফাইড হয়। মূলত এমআইএস-এ ভুয়া নাম ভেরিফাইডের যে দালাল আমরা তাকে খুঁজে বের করবো। এছাড়াও নিহত সাইফ আরাফাত শরীফের মা’কে আমরা টাকা ফেরত দেয়ার জন্য ফোন দিলে তিনি মামলা দিয়ে আমাদের ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে কথা বললে ছেলে হত্যা মামলায় নাম দিয়ে দেয়ার হুমকিও দেন তিনি।

এসব প্রতারণার ব্যাপারে জুলাই ফাউন্ডেশনের প্রধান ভেরিফিকেশন অফিসার মো. হারুন মানবজমিনকে বলেন, আমরা প্রতিদিনই  নানা কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে ফাউন্ডেশনের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয় খুঁজে বের করছি। জুলাই ফাউন্ডেশনের বরাদ্দকৃত অর্থ যেন প্রকৃত আহত এবং নিহত পরিবারই পেয়ে থাকে আমরা সেটা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। যারা ইতিমধ্যে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা বাগিয়ে নিয়েছে তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আমরা অবশ্যই টাকা উদ্ধার করবো।

এদিকে প্রতারণার অভিযোগে জুলাই ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহেল মিয়ার করা রমনা থানার মামলায়, জুনায়েদ  এবং আবুল কালাম নামে দুই ব্যক্তির জামিন হয়েছে। জুলাই ফাউন্ডেশনের লিগ্যাল অফিসার এডভোকেট পায়েল মানবজমিনকে বলেন, মঙ্গলবার জুনায়েদ নামের এক প্রতারক তার হাতিয়ে নেয়া টাকার মধ্যে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা পরবর্তী শুনানিতে দেয়া শর্তে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। আবুল কালাম নামের আরেক ব্যক্তি পরবর্তী শুনানিতে টাকা ফেরত দেয়ার শর্তে জামিন পেয়েছেন।

mzamin


ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত: চোরাচালানিদের স্বর্গরাজ্য by জাবেদ রহিম বিজন

চোরাচালানিদের স্বর্গ হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী ৩ উপজেলা কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর। এসব উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পথে মাদকদ্রব্য, কসমেটিকস,  মোবাইল ডিসপ্লে, শাড়ি-থ্রি-পিস আসছে দেদার। সবচেয়ে বেশি আসছে গাঁজা। সীমান্তের কোনো কোনো পয়েন্ট দিয়ে রোজ দেড়-দু’কোটি টাকার গাঁজা আসছে বলে তথ্য মিলেছে। যা এখান থেকে যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে। চোরাচালানিরা গাঁজা পাচারে সড়ক পথের পাশাপাশি মালবাহী ট্রেনও ব্যবহার করছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের সীমান্তবর্তী কসবার বিভিন্ন স্থানে রাতে মালবাহী ট্রেন থামিয়ে এসব মাদকদ্রব্য উঠানোর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আখাউড়ায় একটি মালবাহী ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ৫৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ট্রেনের বগির নিচে বিশেষ কায়দায় রাখা হয় গাঁজার প্যাকেট। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও  ট্রেনে করে মাদক পাচারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আখাউড়া রেলজংশনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেনে গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি রেইডিং টিম। ৬০১ নম্বর ট্রেনটির ৯৪০২৯ এবং ৯৪০৩২ নম্বর ওয়াগন (বগি) ঘিরে চলে অভিযান। এরমধ্যে ইঞ্জিনের ঠিক পেছনের ৯৪০২৯ নম্বর ওয়াগন তল্লাশি করে ওয়াগনের নিচে লোহার অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে আটকানো ২টি সিনথেটিক বস্তার ভেতর থেকে ১ কেজির পলিথিন প্যাকেটে থাকা মোট ৩৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কসবার সালদা নদী ও মন্দভাগ স্টেশনের মাঝামাঝি প্রায়ই মালবাহী ট্রেন থামিয়ে গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উঠানো হয় বলে খবর পাচ্ছিলাম আমরা। এই অভিযানটির আগে আরও ৪ বার মালবাহী ট্রেনে করে মাদক পাচার হওয়ার তথ্য আসে আমাদের কাছে। এই খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযানে ট্রেনের চালক, গার্ড, স্টেশন মাস্টার এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কারও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ট্রেনটি জংশনে পৌঁছার পরই চালকরা গাড়ি থেকে নেমে রেস্ট রুমে চলে যান। তাদের অনেক ডাকাডাকি করে সেখানে আনা যায়নি। স্টেশন মাস্টারকে ডাকার ৩ ঘণ্টা পর সেখানে আসেন। তিনি বলেন, ওরাতো (চালক) ট্রেন হস্তান্তর করে চলে গেছে। ওরা কেন আসবে। আপনারা তাদের কাছে যান। মাদক পেয়ে থাকলে ট্রেন জব্দ করে নিয়ে  যেতে বলেন স্টেশন মাস্টার।

ট্রেনটির গার্ড মো. ফরিদ উদ্দিন (৬৮) অভিযানের সময় উপস্থিত থাকলেও এসব মাদকদ্রব্য কোত্থেকে উঠানো হয়েছে, কারা উঠিয়েছে- এব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ট্রেনটি আখাউড়ায় আসার আগে হাওয়া চলে যাওয়ার কারণে কোথাও কয়েক মিনিট দাঁড়িয়েছিল বলে জানানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, গাঁজার প্যাকেট যেভাবে ট্রেনের বগির নিচে রাখা ছিল  সেগুলো উদ্ধার করতে তাদের কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। কয়েক মিনিট ট্রেন থামার সুযোগে এসব মাদকদ্রব্য এভাবে লোড করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় ট্রেন দাঁড় করিয়ে রেখেই মাদকদ্রব্যগুলো উঠানো হয় বলে আমাদের ধারণা।  
এ ঘটনায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর গত ১০ই মার্চ জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এনিয়ে  আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়,  জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম সভায় বিষয়টি উত্থাপন করলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে যে তাদের দু’জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। তাদেরকে আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। পরবর্তীতে এমন হলে রেগুলার মামলা না হলে মোবাইল কোর্ট করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত করে স্পটে সাজা দিতে হবে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ট্রেনটির ২ জন চালকের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করেছেন। তারা হচ্ছেন মো. আবু তালহা (৪১) ও মুহাম্মদ গোলাম শাহরিয়ার (৪৫)। জিডিতে লোকো মাস্টার মো. আবু তালহা ও গার্ড মো. ফরিদ উদ্দিনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এদিকে গত কয়েক মাস ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী ৩ উপজেলায় চোরাচালানিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তথ্য মিলেছে শুধু কসবার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের চকবস্তা, কালতা, দিঘীরপাড়, চাটুয়াখলা ও রাউৎখলা সীমান্তপথে প্রতি রাতে দেড়শ’ থেকে আড়াশ’ কেজি গাঁজা আসছে। এ ছাড়াও মদ-বিয়ার, ইয়াবা,  ফেনসিডিলের পাশাপাশি শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিকস, মোবাইল ডিসপ্লে, চিনিসহ অন্যান্য মালামালও নামছে  জেলার সীমান্ত এলাকার নানা পথে। তবে সবচেয়ে বেশি আসছে গাঁজা। সড়কপথে বিভিন্ন গাড়িতে এবং মালবাহী ট্রেনে করে মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালানি পণ্য ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। কাইয়ুমপুরের চকবস্তা সীমান্ত পথে দিনদুপরে চোরাচালানি পণ্য নামানো হচ্ছে। এখানে আলোচিত এক চোরাচালানি। তার ১২৪ জন শ্রমিক চোরাচালানি পণ্য নামানোর কাজে নিয়োজিত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ বিভিন্ন সংস্থাকে ম্যানেজ করেই চলছে রমরমা এ চোরাচালান বাণিজ্য। লাইন ক্লিয়ার রাখতে চোরাচালানিদের বাজেট কয়েক কোটি টাকা। যা যাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের পকেটে। 

mzamin

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কারণ ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক -মার্কিন সিনেটরকে প্রধান উপদেষ্টা

গত বছরের আগস্টে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর সংখ্যালঘুদের বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর যে আক্রমণ হয়েছে তা ধর্মীয়ভাবে নয়, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, তবে আমাদের সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের বর্ণ, ধর্ম, জাতি এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে মানবাধিকার রক্ষায় তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মার্কিন সিনেটর গ্যারি পিটার্স (ডি-এমআই) তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা জানান। ড. ইউনূস মার্কিন সিনেটরকে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও শহর পরিদর্শন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রকৃত তথ্য জানতে দেশটি সফর করার জন্য অন্যান্য মার্কিন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক এবং কর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎকালে দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সিনেটর পিটার্স অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের প্রতিবেদন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কারে সম্মত হলে সরকার ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন বড় বড় উদ্যাপন হবে, যেমনটি আমরা অতীতে দেখেছি। আর প্রধান কমিশনগুলো প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোতে সম্মত হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। জুলাই সনদ দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।

 পিটার্স সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি মসৃণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সিনেটর পিটার্স বলেন, মিশিগানে তার নির্বাচনী এলাকায় অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করেন, যার মধ্যে ডেট্রয়েট শহরও রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে ব্যাপক ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভুল তথ্যের কিছু অংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জবাবে ড. ইউনূস বলেন, আমাদের আপনার সাহায্য প্রয়োজন। দয়া করে আপনার বন্ধুদের বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে বলুন। এইভাবে আমরা ভুল তথ্য প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারি। দুই নেতা সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্যমুক্ত পৃথিবী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের অন্যান্য স্থানে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়েও আলোচনা করেছেন।

mzamin


'বেইজিং সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তুত', মোদির মন্তব্যকে স্বাগত জানালো চীন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে বেইজিং। চীন জানিয়েছে, ভারত-চীন সহযোগিতা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য নয়াদিল্লির সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। রোববার প্রচারিত একটি পডকাস্টে মোদি বলেন যে, ভারত ও চীনের মতো প্রতিবেশীদের মধ্যে পার্থক্য স্বাভাবিক, তবে এগুলো বিবাদে পরিণত হওয়া উচিত নয়। কারণ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, ২০২০ সালে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের (এলএসি) ঘটনাগুলো ‘উল্লেখযোগ্য উত্তেজনা’ তৈরি করেছে এবং উভয় পক্ষ তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সোমবার বেইজিংয়ে একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মোদির মন্তব্যকে ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য চীন ভারতের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। মাও বলেন, ‘চীন (মোদি এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং) এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ভারতের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। চীন-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকীকে একটি সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে  বিনিময় ও সহযোগিতাকে উন্নীত করতে এবং চীন-ভারত সম্পর্ককে সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে চীন আগ্রহী।’

মাও আরো বলেন, ‘গত অক্টোবরে কাজানে শি এবং মোদির মধ্যে সফল বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। উভয়পক্ষই আন্তরিকভাবে আমাদের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ বোঝাপড়া অনুসরণ করেছে, সকল স্তরে আদান-প্রদান ও বাস্তব সহযোগিতা জোরদার করেছে।’

গত  অক্টোবরে ভারত ও চীন এলএসি বরাবর সামরিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল, ২০২০ সালের এপ্রিল-মে মাসে লাদাখ সেক্টরে সৈন্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে এখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। এই সমঝোতাটি রাশিয়ার কাজান শহরে মোদি এবং শির মধ্যে বৈঠকের পরে হয়েছিল এবং দুই নেতা সীমান্ত বিরোধের সমাধান করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে সম্মত হন। মাও মোদির মন্তব্যকেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, হাজার হাজার বছর আগে ভারত ও চীনের সম্পর্কের মধ্যে বিরোধের কোনো ইতিহাস নেই এবং চীন-ভারত সম্পর্কের  মূলধারাটি পারস্পরিক শিক্ষা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে।

তিনি বলেন, চীন ও ভারত দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে একে অপরকে বোঝা এবং সমর্থন করা উচিত। একে অপরকে সফল হতে সাহায্য করা উচিত। দুই দেশের ২.৮ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের স্বার্থে চীন ও ভারতের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। আঞ্চলিক দেশগুলোর অভিন্ন আকাঙ্খা পূরণ, গ্লোবাল সাউথকে শক্তিশালী করা এবং বিশ্ব শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। চীনের সাথে মতবিরোধের পরিবর্তে আলোচনার উপর জোর দিয়ে মোদি পডকাস্টে বলেছিলেন যে, ‘বিরোধের পরিবর্তে, আমরা সংলাপের উপর জোর দিই। কারণ শুধুমাত্র সংলাপের মাধ্যমেই আমরা একটি স্থিতিশীল সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রাখতে পারি যা উভয় দেশের সর্বোত্তম স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয়।’

গত অক্টোবরে শির সাথে মোদির বৈঠকের পর দুই পক্ষই সীমান্তে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিয়েছে। মোদির কথায়, ‘আমাদের সহযোগিতা শুধু উপকারী নয়, এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়...প্রতিযোগিতা খারাপ কিছু নয় তবে সংঘর্ষ হওয়া উচিত নয়।’

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

mzamin

অবসান হচ্ছে শ্বাসরুদ্ধকর সময়ের, পৃথিবীতে ফিরছেন দুই বিজ্ঞানী

প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। অবশেষে বাড়ি ফিরছেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ৯ মাস আটকে পড়া নভোচারীরা। তারা হলেন নভোচারী সুনিতা উইলিয়ামস ও ব্যারি বুচ উইলমোর। তাদের সঙ্গে আছেন গত সেপ্টেম্বরে আটকে পড়া আরও দু’বিজ্ঞানী নাসার নিক হেগ ও রাশিয়ার আলেকজান্দর গরবুনভ। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ১১ টা ৫ মিনিটে ইলোন মাস্কের স্পেসএক্সের তৈরি ড্রাগন মহাকাশ যানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) ছাড়েন উইলিয়ামস ও উইলমোর। একই দিন বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত ৩টা এবং ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে পৃথিবীতে তাদের অবতরণ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে তারা ১৭ ঘন্টার সফর করবেন পৃথিবীর দিকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। যাত্রা শুরু করার পর ড্রাগন নামের ওই মহাকাশযানের কমান্ডার নিক হেগ বলেন, ক্রু নাইন ঘরে ফিরছে। ক্রু নাইনের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, মহাকাশে বসবাস করা ও কাজ করা ছিলো সৌভাগ্যের বিষয়।

স্টেশনে থাকা সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জানি আইএসএস খুব দুর্দান্ত মানুষের হাতে আছে। বলেন, সেখানে তোমাদের পরবর্তী কার্যকলাপ দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করবো। উল্লেখ্য, ওই মিশনের প্রতিটি মুহূর্ত সরাসরি সম্প্রচার করে নাসা। এদিকে পৃথিবীতে ফিরে আসার পূর্ব মুহূর্তে খুশিতে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ফ্লাইং কিস বা ‘চুমু’ দেন উইলিয়ামস ও উইলমোর। তাদেরকে পৃথিবীতে অবতরণে সকল প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। এসবের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে স্পেস স্যুটগুলো। তাতে কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। এছাড়া মহাকাশযান অবতরণের আগে আকাশ পরিষ্কার থাকবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পৃথিবীতে অবতরণের পর ওই দুই মহাকাশচারী হাঁটার মতো অবস্থায় থাকবেন না। নিশ্চিতভাবে তাদেরকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

২০২৪ সালের ৫ই জুন আন্তর্জাতিক স্টেশনে ৮ দিন থাকতে হবে এই উদ্দেশে স্টারলাইনার মহাকাশযানে যাত্রা করেন উইলিয়াম ও উইলমোর। তবে টেকনিক্যাল ইস্যুর কারণে ওই দুই ক্রু’কে মহাকাশে রেখেই ফিরে আসতে বাধ্য হয় স্টারলাইনার। এদিকে তাদের দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্ক ওই নভোচারীদের দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকার কারণ হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন। তারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে নভোচারীদের মহাকাশ থেকে ফেরত আনতে দীর্ঘসূত্রতা করেন বাইডেন। ফেব্রুয়ারিতে জো রোগানের এক পডকাস্টে মাস্ক বলেন,  তিনি আট মাস আগেই ওই নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে বাইডেন প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দেন। তবে তারা তা প্রত্যাখান করে। কারণ এতে করে নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফুটে উঠার সম্ভাবনা ছিলো। যা ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিসের নির্বাচনে জয়ের পথে অন্তরায় হতে পারতো।

mzamin