Thursday, May 14, 2026

কতবেল যেভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার মিলবে by রাফিয়া আলম

দেশি মৌসুমি ফল কতবেল সুস্বাদু, বেশ পুষ্টিকরও। তবে কীভাবে খেলে এই ফল থেকে সবচেয়ে বেশি উপকার মিলবে, সে প্রশ্নের উত্তর হয়তো জানা নেই অনেকেরই। এ বিষয়ে জানালেন, টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রধান শম্পা শারমিন খান

কতবেল ভিটামিন সির ভালো উৎস। এতে আরও আছে কিছুটা ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ফোলেট, ক্যালসিয়াম এবং নানা খনিজ উপাদান। আরও আছে দেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান আঁশ।

কতবেল সাধারণত লবণ আর মরিচ দিয়ে মাখিয়ে খাওয়া হয়। তবে কেউ আবার আচারও করেন। বৈচিত্র্যের খোঁজে জুস, জেলি, এমনকি আলুর দমের মতো পদেও কতবেল ব্যবহার করা যায়।

আচার, জেলি বা রান্নায় ব্যবহার

তাপে ভিটামিন সি নষ্ট হয়ে যায়। পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় কতবেলের ভিটামিন বির বেশির ভাগটাই বাষ্প হয়ে উড়ে যায় আচার বা জেলি তৈরির সময় বা রান্নায় ব্যবহারের সময়।

তাই কতবেলের এ ধরনের পদ খেতে চাইলে আপনি এই দুটি পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হবেন। অবশ্য অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ঠিকই মিলবে।

তবে কোনো পদে চিনি যোগ করা হলে সেটি এমনিতেও খুব একটা স্বাস্থ্যকর থাকে না। কারণ, চিনি দেওয়া পদ খেলে রক্তের গ্লুকোজ বাড়ে হুট করে।

এই গ্লুকোজ আবার মেদ হিসেবে জমাও হয় সহজে। চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় ব্যবহার করাও স্বাস্থ্যকর নয়।

চিনি বা গুড় দেওয়া কোনো পদ নিয়মিত কিংবা খুব বেশি পরিমাণে খাওয়া কারও পক্ষেই ভালো নয়। আর ডায়াবেটিস থাকলে এমন পদ অবশ্যই এড়িয়ে চলুন।

কতবেল মাখানো বা ভর্তা

মাখিয়ে বা ভর্তা করে খেলে কতবেলের সব পুষ্টি উপাদানই পাবেন। কতবেল এভাবে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।

দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখতে এবং ত্বকের তারুণ্য ও সজীবতা ধরে রাখতে কতবেল দারুণ কাজে আসে। কতবেল এবং অন্যান্য ফল খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও কমে।

কতবেলের জুস

কতবেল এবং অন্যান্য খাবার থেকে পাওয়া আঁশ আমাদের রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পায় খাবারের আঁশ থেকে। তবে কতবেলের জুসে আপনি আঁশ পাবেন না।

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়ানোর জন্যও পর্যাপ্ত আঁশ প্রয়োজন রোজ। কতবেলের জুস করলে আপনি এসব উপকার থেকে বঞ্চিত হবেন।

খেয়াল রাখুন

* ক্ষুধামান্দ্যয় ভুগলে খানিকটা কতবেল খেতে পারেন যেকোনোভাবেই। রুচি বাড়াতে সহায়তা করে এই ফল।

* অতিরিক্ত কতবেল খেলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে।

* বাড়তি লবণ কারও জন্যই খুব একটা ভালো নয়। বিশেষত যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে কিংবা এমন সমস্যা আছে, যাতে শরীরে পানি আসে—তাঁদের বাড়তি লবণ এড়িয়ে চলা উচিত।

* দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কতবেল এড়িয়ে চলা উচিত।

দেশি মৌসুমি ফল কতবেল সুস্বাদু, বেশ পুষ্টিকরও
দেশি মৌসুমি ফল কতবেল সুস্বাদু, বেশ পুষ্টিকরও। ছবি: প্রথম আলো

তাঁকে শেষ করে দেওয়ার পেছনে সিনেমার মানুষেরাই দায়ী: শাকিল খান

নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডে নাম লেখান সালমান শাহ ও শাকিল খান। তাঁরা কাছাকাছি সময়ে কাজ শুরু করেছেন। যে কারণে খুব কাছ থেকে সালমান শাহর সিনেমায় বেড়ে ওঠা দেখেছেন শাকিল খান। বর্তমানে তিনি সিনেমা থেকে দূরে। সালমান শাহর সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শাকিল বললেন, ‘তাঁকে শেষ করে দেওয়ার পেছনে সিনেমার মানুষেরাই দায়ী।’

৮ নভেম্বর ২০২৫ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বিসিআরএ অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’–এ বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করেন একসময়ের জনপ্রিয় এ নায়ক। অনুষ্ঠানের মাঝে চিত্রশালা মিলনায়তনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

এ সময় ঢালিউড সিনেমার অতীত ও বর্তমান সময়ের নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন এই অভিনেতা। ‘কেন তিনি সিনেমা থেকে দূরে’, ‘সালমান শাহর হত্যা মামলা কীভাবে দেখেন’—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন এই অভিনেতা।

শাকিল খান বলেন, ‘সিনেমার কারণেই আমি দর্শকদের কাছে এখনো শাকিল খান। কিছু মানুষ আমাকে সেই কারণেই চেনেন। এই ফিল্মকে আমি এখনো ভালোবাসি। আমি এখনো সিনেমা করতে চাই। সিনেমা করব না, এটা কখনোই বলিনি। তবে সেটা অবশ্যই সুস্থধারায় হতে হবে। এখন আমি বলছি না সুস্থ ধারায় সিনেমা হচ্ছে না, ভালো ছবি হচ্ছে। কিন্তু একই প্রযোজকেরা খুব বেশি সিনেমা করছেন না।’

নব্বইয়ে দশকে একের পর সিনেমায় অভিনয় করে গেছেন। একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিলেও তারকা খ্যাতি নিয়ে কখনোই কিছু ভাবেননি। ‘এখন সিনেমা ব্যবসা করলেই সুপারডুপার হিট তকমা লেগে যাচ্ছে। একটি রিলিজ করলেই সুপারস্টার হয়ে যাচ্ছেন। সব সহজ হয়ে যাচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেও কখনো সুপারস্টার শব্দটি শুনতে পাইনি’, কথাগুলো বলেন শাকিল খান।

তিনি আরও বলেন, ‘অথচ ১৯৯৬–এ “এই মন তোমাকে দিলাম” সিনেমাটি ১১টি সিনেমার সঙ্গে মুক্তি পেয়ে তুমুল আলোচনায় আসে, ব্যবসাসফল সিনেমা। আমরা কিন্তু সুপারস্টার হতে পারিনি। দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি। এখন দুটি সিনেমা করলে নামের আগে যোগ হয় সুপারস্টার। এটা আপনারাই বানাচ্ছেন।’

শাকিল খান ১৯৯৭ সালে সিনেমায় নাম লেখান। অন্যদিকে তাঁর এক বছর আগেই সিনেমায় নাম লিখিয়ে আলোচনায় আসেন সালমান শাহ। শাকিল জানান, নব্বইয়ের দশকে কাছাকাছি সময়ে তাঁরা সিনেমায় আসেন। অল্প সময়েই তিনি নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন। গুণী শিল্পী ছিলেন।

‘আমরা চলচ্চিত্রের মানুষ যাঁরা ছিলাম, তাঁরাই সালমান শাহকে শেষ করে দেওয়ার জন্য দায়ী। তাঁকে শেষ করে দেওয়ার পেছনে সিনেমার মানুষেরাই দায়ী। একজন মানুষকে কিন্তু ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখা যায়। একটা মানুষকে সারাক্ষণ টর্চার করলে সে ফ্রাস্ট্রেশনে পড়ে যান। সিনেমার মানুষেরাই তাঁকে ফ্রাস্ট্রেশনে ফেলেছিলাম। আমি দেখেছি বিভিন্ন সমিতি তাঁকে (সালমান শাহ) বয়কট করেছিল। দেশের বহু পরিচালক তাঁকে বয়কট করেছিলেন। শেষে আমি বলতে চাই, সত্যের বিচার হবে। আইনের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। আইন বলে দেবে তাঁর (সালমান শাহ) সঙ্গে কী হয়েছিল।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-10%2F6n8vva3e%2FWhatsApp_Image_2025_11_10_at_4_38_38_PM.jpeg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শাকিল খান। ছবি: ফেসবুক থেকে