Sunday, June 30, 2013

আবার সমলিঙ্গের বিয়ে শুরু হলো ক্যালিফোর্নিয়ায়

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় সমকামীদের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরই কয়েকটি সমলিঙ্গের যুগল আইনত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।গত বুধবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে সমকামী বিয়ের পক্ষে রায় দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় এ-বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সদ্য বিয়ে করা দুই নারীর নাম ক্রিস্টিন পেরি ও স্যান্ডি স্টিয়ার। তাঁরা সমলিঙ্গের বিয়ের অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন। সান ফ্রান্সিসকো সিটি হলে তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিয়ে পরিচালনা করেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল কামালা হ্যারিস। পেরি ও স্টিয়ার বিয়ের আংটি বিনিময় করেন ও শপথবাক্য পাঠ করেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখন আমি আপনাদের সারা জীবনের সঙ্গী হিসেবে ঘোষণা করছি।’ বিয়ের পর স্টিয়ার তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজকের এই মুহূর্তের জন্য আমরা দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলাম।’ ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০০৮ সালে স্বল্প সময়ের জন্য সমকামীদের বিয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পরে গণভোটের মাধ্যমে এ বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর এই অঙ্গরাজ্যে গতকাল শনিবারই প্রথম কোনো সমকামী যুগলের বিয়ে হলো। এএফপি।

অনেক আগেই আলোচনায় বসা উচিত ছিল

পাশ্চাত্যের উচিত ছিল আরও এক দশক আগেই তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসা। কট্টরপন্থী এ গোষ্ঠীকে আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর পরই ছিল তাদের সঙ্গে আলোচনার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেছেন আফগানিস্তানে থাকা যুক্তরাজ্যের শীর্ষ জেনারেল নিক কার্টার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে কাতারে তালেবানের সঙ্গে আলোচনার তৎপরতা শুরু হয়েও দৃশ্যত থমকে যাওয়ার কয়েক দিন পর জেনারেল কার্টার এ মন্তব্য করলেন। তিনি আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার। জেনারেল নিক কার্টার বলেন, এক দশক আগে তালেবানরা যখন পলায়নপর অবস্থায় ছিল তখনই আলোচনা সুবিধাজনক হতো। তিনি মনে করেন, ২০১৪ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পরও তাদের আফগান বাহিনীকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়া অব্যাহত রাখতে হতে পারে। বর্তমানে দেশটির মাত্র কয়েকটি অঞ্চল সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। এর আগে ২০০২ সালে জার্মানির বনে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পরাজিত তালেবান সরকার অনুপস্থিত ছিল। কারণ তারা তখন পালাতে ব্যস্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার পর ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তর করতে রাজি না হওয়ায় মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে তালেবান সরকারকে উৎখাত করেছিল।
জেনারেল নিক কার্টারের মতে, ২০০২ সালে পালিয়ে থাকা তালেবানদের সঙ্গে আলোচনা সবচেয়ে ফলপ্রসূ হতো। এ সময় উদ্যোগ নিলে হয়তো একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমাধান পাওয়া যেত। সব আফগান নেতাকে আলোচনার টেবিলে আনা হলেই এটি সম্ভব ছিল। ওই সময়ের পর থেকে ন্যাটো যে সমস্যা মোকাবিলা করে আসছে তা রাজনৈতিক। আর রাজনৈতিক সমস্যার একমাত্র সমাধান সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা। তবে জেনারেল নিক কার্টার মনে করেন, আফগানদের হাতে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হলে তালেবানের সঙ্গে আলোচনার পথ সুগম হবে। সম্প্রতি আফগান জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে। বিবিসি।

অধিকারের নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরবেন স্নোডেন

মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন সাংবিধানিক অধিকারের নিশ্চয়তা পেলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন। তাঁর বাবা লনি স্নোডেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লেখা এক চিঠিতে এ কথা জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার সপ্তম দিনের মতো রাশিয়ার শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরের ট্র্যানজিট এলাকায় অবস্থান করেন স্নোডেন। গত রোববার তিনি হংকং থেকে মস্কোর ওই বিমানবন্দরে পৌঁছান। এডওয়ার্ড স্নোডেনের বাবা গত বৃহস্পতিবার ওই চিঠি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠান। চিঠিতে লনি স্নোডেন উল্লেখ করেন, কিছু শর্ত মানলেই তাঁর ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে বিচারের আগে তাঁকে আটক করা বা কারাগারে রাখা যাবে না, তাঁর ওপর কথা বলায় নিষেধাজ্ঞাসহ কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যাবে না এবং ইচ্ছামতো যেকোনো স্থানে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। লনি স্নোডেনের পক্ষে আইনজীবী ব্রুস ফিন ওই চিঠি লেখেন। ফিন বলেন, লনি স্নোডেন আত্মবিশ্বাসী যে সরকার তাঁর ছেলেকে সাংবিধানিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিলে সে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে। এই চিঠির ব্যাপারে মার্কিন বিচার বিভাগের মন্তব্য জানা যায়নি। এদিকে গত শুক্রবার এনবিসি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লনি স্নোডেন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তিনি উদ্বিগ্ন এই ভেবে যে তাঁর ছেলেকে কেউ ব্যবহার করতে পারে। লনি বলেন, ‘আমার ছেলের আশপাশে যাঁরা আছেন, তাঁদের নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। যেমন উইকিলিকসের লোকজন আছেন। উইকিলিকসের অতীত ইতিহাস দেখেন। তারা চায় যত বেশি সম্ভব তথ্য ফাঁস করা। এসব বিষয় নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।’ সাক্ষাৎকারে লনি স্নোডেন বলেন, গত এপ্রিল থেকে ছেলের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি মনে করেন না যে সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কিন্তু এটা মানেন যে তাঁর ছেলে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ প্রকল্পের তথ্য ফাঁস করে দিয়ে মার্কিন আইন লঙ্ঘন করেছে। বিবিসি ও রয়টার্স।

দেশের দ্বীপেই বাড়ি কিনতে পারবেন ভারতীয়রা

দ্বীপে বাড়ি কেনার জন্য ভারতীয়দের এখন থেকে দুবাই না গেলেও চলবে। দেশের দ্বীপগুলোতেই তাঁরা বিলাসবহুল বাড়ি কিনতে পারবেন। ভারতের আবাসন ব্যবসায়ীরা দ্বীপে জায়গা কিনে এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এর বিরোধিতা করছেন। আবাসন ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি এখন কেরালার বিস্তৃত হ্রদ ও এর তীরবর্তী এলাকা এবং আরব সাগরে পড়া গোয়ার অসংখ্য নদ-নদীর দিকে। ইতিমধ্যে এসব জায়গা বাড়ি নির্মাণের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বেঙ্গালুরুভিত্তিক আবাসন প্রতিষ্ঠান ওজোন গ্রুপ এরই মধ্যে গোয়ার মান্দভি নদীর প্রান্তঘেঁষা কাপাও দ্বীপে ১৫৬ একর জমি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপরচুনিটিজ ফান্ডের সহযোগিতায় এই জমি কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানটির ছয় বছর লেগেছে। খরচ হয়েছে ২০০ কোটি রুপি। ওজোন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস বাসুদেব বলেন, ‘আমরা একেবারেই কম ঘনত্বে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছি। আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে ৮০ থেকে ১০০টি বাড়ি নির্মাণের কথা ভাবছেন। এ জন্য খরচ হবে প্রায় এক হাজার কোটি রুপি। প্রতিটি বাড়ির দাম পড়বে ২০ কোটি রুপি বা তারও বেশি।’ টিএনএন।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে আবারও সহিংসতা

চীনের জাতিগতভাবে বিভক্ত শিনজিয়াং প্রদেশের একটি থানায় হামলা চালিয়েছে ১০০ জনের বেশি লোক। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে গতকাল শনিবার এ কথা বলা হয়েছে।  শিনজিয়াং প্রদেশের হোতান এলাকায় গত শুক্রবার এই হামলা হয়। এলাকাটির বাসিন্দাদের বেশির ভাগই ইসলাম ধর্মাবলম্বী উইঘুর সম্প্রদায়ের। দুই দিন আগে সেখানে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় ৩৫ জন মারা যায়। প্রদেশটিতে মুসলিম উইঘুরদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ হান সম্প্রদায়ের সংঘাত দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে। উইঘুরদের অভিযোগ, চীনা সরকার তাদের সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। তবে সরকারের দাবি, তারা উইঘুরদের বড় পরিসরে স্বাধীনতা দেয়। এরপর তারা বিচ্ছিন্নতাবাদের চরমপন্থার দিকে যাচ্ছে বলে সরকারের অভিযোগ। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলির মালিকানাধীন সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস-এর খবরে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে স্থানীয় একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জড়ো হয়। এরপর তারা মোটরসাইকেলে চড়ে মোইউ কাউন্টির একটি থানায় হামলা চালায়। কর্তৃপক্ষ হামলায় হতাহতের সংখ্যা খতিয়ে দেখছে এবং সন্দেহভাজনদের খোঁজ করছে। এ ছাড়া পৃথক ঘটনায় ২০০ জনের একটি দল হোতানে একটি বিপণিবিতান এলাকায় ‘ঝামেলা উসকে দেওয়ার’ চেষ্টা করে। তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত রেডিও ফ্রি এশিয়ার খবরে একজন উইঘুর বাসিন্দার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, পুলিশ স্থানীয় একটি মসজিদে নামাজ চলাকালে গত শুক্রবার অভিযান চালায় এবং সেটিকে ঘিরে রাখে। দাপ্তরিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া বক্তব্য ওই মসজিদের ইমাম প্রচার না করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় উইঘুর বাসিন্দারা উত্তেজিত হয়। সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে আরও বলা হয়, উইঘুর সম্প্রদায়ের লোকজন মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ তাদের ওপর গুলিও চালায়। এতে অন্তত দুজন নিহত ও আরেকজন আহত হয়।
তবে রাষ্ট্র-পরিচালিত সংবাদ ওয়েবসাইট তিনশান ওয়েবের খবরে বলা হয়, ওই ঘটনায় স্থানীয় কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ বা সরকারের কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা খবরে জানানো হয়নি। এএফপি ও রয়টার্স।

কাজে লাগবে না এমন বিমান কিনবেন না

আফগান সেনাবাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ কেনার একটি পরিকল্পনা স্থগিত করতে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনকে পরামর্শ দিয়েছে দেশটির একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা। ওই পরিকল্পনায় ৭৮ কোটি ডলার ব্যয়ে ৪৮টি বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার কথা। দ্য স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগান রিকনস্ট্রাকশন নামে ওই পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনীর বিমানচালকদের ওই সব উড়োজাহাজ চালানোর দক্ষতায় ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগান স্পেশাল মিশন উইংয়ের (এসএমডব্লিউ) জন্য ওই সব বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা করা হলেও সংস্থার নিরীক্ষায় দেখা যায়,  সেগুলো চালানোর জন্য এই ইউনিটের কোনো কমান্ড কাঠানো নেই। এ ছাড়া ইউনিটটির আফগান বিমানচালকদের মধ্যে মাত্র সাতজনের রাতে দেখার উপযোগী চশমা পরে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ রয়েছে। বিবিসি।

দাবদাহে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ চলছে। সেখানকার তাপমাত্রা এত বেশি যে তা বিশ্বের সর্বকালের জানা রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্সে গত শুক্রবার তাপমাত্রা মাপা হয় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। একই দিন ক্যালিফোর্নিয়ার মরু এলাকা ডেথ ভ্যালিতে তাপমাত্রা ছিল ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত এই তীব্র দাবদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। অসহনীয় তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে সংশ্লিষ্ট সব অঙ্গরাজ্যের শহরগুলোয় শীতলীকরণ কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দাবদাহের কারণে বিমান পরিবহনে বিলম্ব ঘটতে পারে। অধিকাংশ বড় আকারের উড়োজাহাজই অবশ্য ৫২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রার মধ্যে চলাচলে সক্ষম। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ রোববার ডেথ ভ্যালির তাপমাত্রা ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছাতে পারে। ১০০ বছর আগে ১৯১৩ সালের ১০ জুলাই পূর্ব ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্থানেই বিশ্বের এযাবৎকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়; তা ছিল ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একটি মার্কিন বিমান পরিবহন সংস্থার মুখপাত্র বলেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান  ফিনিক্সের তাপমাত্রার ওপর ‘ঘনিষ্ঠ নজর’ রাখবে। অ্যারিজোনার স্কটসডেল এলাকার বাসিন্দা মাইকেল ফেডো বিবিসিকে বলেন, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে কম সময়ই থাকছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস লাস ভেগাসসহ পশ্চিমের কিছু কিছু এলাকায় আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে। পশ্চিমাঞ্চলের কলোরাডো, ইউটাহসহ পাঁচটি অঙ্গরাজ্যের কোনো কোনো স্থানে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। বিবিসি।

কেরির মধ্যপ্রাচ্য শান্তি মিশন দীর্ঘায়িত হলো

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি তাঁর মধ্যপ্রাচ্য শান্তি মিশনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন। গতকাল শনিবার তাঁর আবার ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে কেরি পূর্বনির্ধারিত আবুধাবি সফর বাতিল পর্যন্ত করেন। জন কেরির জোর তৎপরতা ভেঙে পড়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা আবার শুরুর বিষয়ে জল্পনাকল্পনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁরা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার আগে কেরি নিজেই বিবৃতি দিয়ে যাবেন। জেরুজালেমে অবস্থানরত কেরি হেলিকপ্টারে করে আম্মানে যাবেন ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। এরপর গতকাল সন্ধ্যায়ই তাঁর জেরুজালেমে ফিরে আবার ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার কথা। মধ্যপ্রাচ্যে এ মিশনে অগ্রগতির সম্ভাব্য লক্ষণ হিসেবে কেরি তাঁর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি সফর বাতিল করেছেন। শনিবার রাতে সেখানে একটি নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সহায়তা নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর এক কর্মসূচির অংশ ছিল ওই নৈশভোজ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মেরি হার্ফ জানিয়েছেন, কেরি টেলিফোনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়িদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি এ সময় সফর বাতিলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। কেরির আবুধাবি সফর বাতিলের কারণ হিসেবে মুখপাত্র ‘আলোচনায় অব্যাহত অগ্রগতির’ কথা উল্লেখ করেন। কেরির মধ্যপ্রাচ্য শান্তি মিশন নিয়ে হার্ফের এই বিবৃতিকে বড় ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক সম্পর্কে এ পর্যন্ত কোনো মার্কিন কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি। এএফপি।

মিসরজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা আজ বড় সংঘাতের আশঙ্কা

প্রেসিডেন্ট মুরসির বিরোধীরা গত শুক্রবার আলেকজান্দ্রিয়ায় ক্ষমতাসীন
ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির একটি কার্যালয়ের আসবাব রাস্তায়
এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় ছবি: এএফপি
মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও তাঁর বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শুক্রবারের সংঘর্ষে কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিক। সারা দেশে আহত হয়েছে কমপক্ষে দেড় শ লোক। যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার জরুরি কর্মী ছাড়া মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকর্তারা নিরাপত্তাহীনতাবোধ করলে তাঁরা মিসর ছাড়তে পারেন বলে ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মিসর সফর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দেশটির নাগরিকদের। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইসলামপন্থী নেতা মুরসির দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্তি হচ্ছে আজ রোববার। এই দিনেই তাঁর অপসারণ চেয়ে দেশব্যাপী তুমুল বিক্ষোভ করা হবে বলে এক সপ্তাহ আগে ঘোষণা দেয় বিরোধীরা এবং ছোটখাটো বিক্ষোভ শুরু করে। তাঁদের রুখে দিতে মুরসির সমর্থক মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মী-সমর্থকেরা রাজপথে নেমে এলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আলেকজান্দ্রিয়ায় গত শুক্রবারের সহিংসতায় একজন মার্কিন নাগরিকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছে ৭০ জনের মতো। এ ছাড়া পোর্ট সাইদে বিস্ফোরণে আরেকজন মারা গেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মিসরে তাদের নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা বলেছে, ২১ বছর বয়সী ওই মার্কিনের নাম অ্যান্ড্রু পোক্টার। তিনি একটি এনজিওর কর্মী হিসেবে কাজ করতে মিসরে গিয়েছিলেন। পুলিশ বলেছে, নিজের ক্যামেরা দিয়ে বিক্ষোভের ছবি তোলার সময় কেউ একজন পোক্টারের বুকে ছুরিকাঘাত করে। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। ক্ষমতাসীন ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) আদর্শিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড দাবি করেছে, আলেকজান্দ্রিয়াসহ আটটি স্থানে তাদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষ বেধে গেলে মুরসিবিরোধীদের একজন প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হয়। পুলিশের কর্মকর্তারা বলেছেন, পোর্ট সাইদে কেউ একজন মুরসিবিরোধীদের সমাবেশে বিস্ফোরক ছুড়ে মারে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন সাংবাদিক ছিলেন। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কর্মকর্তারা বলেছেন, কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়া, মানসুরা, পোর্ট সাইদের পাশাপাশি নীল বদ্বীপ অঞ্চলভুক্ত দাকাহলিয়া ও বেহেইরা এলাকায়ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। আজ রোববারের পূর্বঘোষিত গণবিক্ষোভে যোগ দিতে কায়রোর তাহরির স্কয়ারে গতকালই বিক্ষোভকারীরা তাঁবু ফেলে জড়ো হওয়া শুরু করে। বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্স।

ওবামার তাগিদ

ডাকারে এক প্রদর্শনীতে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী
কায়দায় ধান ভানায় অংশ নেন ওবামা
আফ্রিকা সফরে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সমকামীদের অধিকারের পক্ষে জোর দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি গত বৃহস্পতিবার সেনেগালের রাজধানী ডাকারে পৌঁছান। সেনেগাল সফরে ওবামা সমকামীদের জন্য সম-অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। আফ্রিকার বেশির ভাগ অংশেই সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল জবাবে বলেছেন, তাঁর দেশ সবার প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও তাঁরা ‘সমকামিতা অপরাধ নয়’ এটা ঘোষণা করতে এখনো প্রস্তুত নন। দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে তানজানিয়া সফরের মাধ্যমে ত্রিদেশীয় আফ্রিকা সফর শেষ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এএফপি ও রয়টার্স।