Wednesday, July 17, 2019

আংশিকভাবে সিরিয়া ছাড়ার ঘোষণা হিজবুল্লাহর

হাসান নাসরুল্লাহ
আংশিকভাবে সিরিয়া ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন লেবাননের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নসরুল্লাহ। শুক্রবার দলীয় সম্প্রচারমাধ্যম আল মানার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ ঘোষণা দেন তিনি। সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর হয়ে লড়াই করা হিজবুল্লাহকে নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়া ও ইসরায়েলের অস্বস্তি রয়েছে।
হাসান নসরুল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যেই সিরিয়া থেকে আসাদ বাহিনীর সমর্থনে লড়াই করা যোদ্ধার সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। তার ভাষায়, এখনও সেখানে আমাদের উপস্থিতি রয়েছে। তবে এখন আর সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় থাকার প্রয়োজন নেই।
২০১৩ সাল থেকে সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর হয়ে লড়ছে ইরান সমর্থিত লেবাননের এই সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠী। তবে ইরান থেকে ঠিক কী পরিমাণ হিজবুল্লাহ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হবে সে ব্যাপারে সরাসরি হাসান নসরুল্লাহ সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।
এমন সময়ে হিজবুল্লাহ প্রধান এ ঘোষণা দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত ৩১ মার্চ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন হাসান নাসরুল্লাহ। এদিন কুদস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ার করে বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে তা ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং যুদ্ধের আগুন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে এই সমগ্র অঞ্চল পুড়বে, যুক্তরাষ্ট্রের সব সৈন্য ও স্বার্থ নির্মুল করে দেওয়া হবে। ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর তার গোয়েন্দা বাহিনী এটা ভালো করে জানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও সেনাবাহিনী ধ্বংস হবে এবং সৌদি শাসক গোষ্ঠী ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মতো যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছে তাদেরকে যুদ্ধের পরিণাম ভোগ করতে হবে।’
হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি প্রসঙ্গে নাসরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা মিথ্যা বলি না। আমি আবারও পুরো বিশ্বের সামনে বলছি আমাদের কাছে লক্ষ্যে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা পরিবর্তন করে দেওয়া সম্ভব।’

ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ৫৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল জাহিদ

ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে আবু জাহেদ নয়ন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত আবু জাহেদকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন। আদালতের আদেশে কাফরুল থানা-পুলিশ আবু জাহেদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, আবু জাহেদ নয়ন নিজেকে কখনো পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে, আবার কখনো পরিচালকের গাড়িচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে নিজের চাচাসহ এলাকার অনেক লোকের কাছ থেকে ৫০ লাখের বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নয়ন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার অভিযোগে জাহেদের চাচা আবুল খায়ের বাদী হয়ে কাফরুল থানায় গত রোববার মামলা করেন। জাহেদের বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম থানার সালেহপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবু তাহের।
মামলার কাগজপত্র এবং আবুল খায়েরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন আবু জাহেদ নয়ন। কয়েক বছর আগে নোয়াখালী থেকে ঢাকায় আসেন তিনি। ঢাকা থেকে এলাকায় যাওয়ার পর পরিচয় দেন যে, তিনি পাসপোর্ট অফিসে ডেটা এন্ট্রির কাজ পেয়েছেন। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ আছে। ২০১৬ সালে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। জাহেদের চাচা আবুল খায়েরের আত্মীয় নূর হোসেন ওই পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদনের পর নূর হোসেনের মোবাইলে দুটি পৃথক নম্বর থেকে খুদে বার্তা আসে। খুদে বার্তায় লেখা ছিল, নূর হোসেন অফিস সহায়ক পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন। নূর হোসেনের মনোনীত হওয়ার এই তথ্য পরে আবুল খায়েরকে জানানো হয়।
আবুল খায়ের সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, যে নম্বর থেকে নূর হোসেনের মোবাইলে খুদে বার্তা আসে, সেই নম্বরে তিনি কল দিয়েছিলেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এক নারী কণ্ঠে বলা হয়, তাঁর নাম সানজিদা। তিনি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) আবু সাইদের ব্যক্তিগত সহকারী। কথিত সানজিদা আরেকটি মোবাইল নম্বর তাঁকে দেন। এও বলেন, ওই নম্বরটি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আবু সাইদের। চাকরির নিয়োগের ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন সানজিদা। পরে ওই মোবাইলে খায়ের ফোন দেন। নিজেকে পরিচালক পরিচয় দিয়ে কথিত পরিচালক সাইদ বলেন, এই নিয়োগ কমিটির তিনি সচিব। তিনি চাইলে চাকরি দিতে পারবেন। অফিস সহায়ক পদে চাকরির জন্য একেক জনের লাগবে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের গত ৮ এপ্রিল আবুল খায়ের কথিত পরিচালক আবু সাইদকে ফোন দেন। আবুল খায়েরকে সাইদ বলেন, তাঁর চালকের কাছে তিনি নিয়োগপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছেন। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর তিনি যেন চালকের কাছে টাকা দিয়ে দেন। সেদিন বেলা ২টার দিকে অপরিচিত মোবাইল থেকে খায়েরের কাছে ফোনে আসে। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের পরিচালক আবু সাইদের চালক পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি মিরপুরের কাজীপাড়ার উড়াল সেতুর নিচে আসতে বলেন। পরে আবুল খায়ের দেখেন, পরিচালক আবু সাইদের চালক তাঁর ভাতিজা আবু জাহেদ। জাহেদ তখন তাঁর কাছে নিয়োগপত্র দেন।
আবুল খায়ের প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, জাহেদ তাঁকে সেদিন বলেছিল, পাসপোর্ট অফিসে অফিস সহায়ক, কম্পিউটার অপারেটর, সহকারী হিসাবরক্ষক পদে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ আছে। পরিচালক আবু সাইদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। জাহেদের কথা মতো আবুল খায়ের কথিত পরিচালক সাইদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। চাকরির আশ্বাস পেয়ে খায়ের নিজের ভাগনে কামরান হোসেনসহ নয়জনের কাছ থেকে নেওয়া মোট ৪৩ লাখ টাকা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা দেন। আর ভাতিজা জাহেদের হাতে তিনি নগদ দেন আরও ১২ লাখ টাকা। এসব টাকা নিয়ে কথিত পরিচালক আবু সাইদ তাঁর ভাতিজা জাহিদের মাধ্যমে মোট ১০ জনের নিয়োগপত্র দেয়। নিয়োগপত্র পাওয়ার পর কাজে যোগদান করতে গেলে জানা যায়, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এসব নিয়োগপত্র সবই ভুয়া। পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে এমন কোনো নিয়োগপত্র কাউকে দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে কথিত পরিচালক আবু সাইদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলায় আবুল খায়ের আরও বলেন, কোনো উপায় না দেখে পরে তিনি নারায়ণগঞ্জে র‍্যাব-১১ কার্যালয়ে আসেন। কথিত পরিচালক আবু সাইদের দুটি মুঠোফোন নম্বর র‍্যাবকে দেন। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে র‍্যাব আবু জাহেদকে আটক করে। কাজীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাহেদ র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনিই আবু সাইদ ও সানজিদা নামের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। অপর আসামি মাহমুদুল হাসানের সহযোগিতায় তিনি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ভুয়া নিয়োগপত্র বানান। এই মাহমুদুলকেও রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
কাফরুল থানা-পুলিশ ঢাকার আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে জানিয়েছে, জাহিদ নিজেকে পাসপোর্ট অফিসের ভুয়া কর্মকর্তা পরিচয় দেন। ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সর্বমোট ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। তদন্ত কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার এসআই নুরুজ্জামান বলেন, প্রতারক জাহিদ এখন কাফরুল থানা হেফাজতে আছেন। ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন তিনি।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রচ্ছদে বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর ছবি

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের
আগস্ট সংখ্যার প্রচ্ছদ
বাংলাদেশের কক্সবাজার। সেখানে আশ্রয় নেওয়া একজন রোহিঙ্গা মা তার সন্তানকে কোলে নিয়ে জল ভেঙে এগোচ্ছেন। শিশুটির চোখেমুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া। এমন একটি ছবি নিয়ে বিখ্যাত ম্যাগাজিন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের আগস্ট মাসের সংখ্যার প্রচ্ছদ সাজানো হয়েছে। এটি তুলেছেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী কেএম আসাদ। ম্যাগাজিনটির এবারের বিষয় অভিবাসন সমস্যা।
সুখবরটি জানিয়ে কেএম আসাদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আজ আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা দিন। আমার তোলা একটি ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রচ্ছদ হওয়ায় আমি ধন্য। ২০০৫ সালে ছবির মাধ্যমে গল্প বলতে শুরু করেছিলাম। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম, একদিন আমার তোলা ছবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জায়গা করে নেবে। এটি পূরণ হওয়ায় আমি অনেক আনন্দিত। আমার সব পরিশ্রমের সুফল পাচ্ছি।’
কেএম আসাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই ছবিটি ২০১৭ সালে তুলেছিলাম। এর সুবাদে ওই বছর ইউনিসেফ ফটো অব দ্য ইয়ারে দ্বিতীয় হয়েছিলাম। দুই মাস আগে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একজন সম্পাদক কল দিয়ে জানান আমার তোলা ছবি নিয়ে প্রচ্ছদ করতে চান। তারা একটি ওয়েবসাইটে এটি দেখেছেন। তবে প্রচ্ছদের জন্য তারা তিনটি ছবি রেখেছিলেন তালিকায়। সমস্যা হয়েছিল রোহিঙ্গা মা ও তার সন্তানের অনুমতি লাগবে! এটা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নিয়ম। কিন্তু তাদের তো খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ সেই সময় সাগরপাড়ি দিয়ে অনেকের মতো এই নারী তার সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে আসেন কক্সবাজারে। আর তার মুখও আমি তেমন খেয়াল করিনি।  ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে জানালাম, রণাঙ্গনে যদি কোনও আলোকচিত্রী ছবি তোলেন তাহলে কি তার পক্ষে অনুমতি নেওয়া সম্ভব? আমার যুক্তি তাদের মনে ধরে। তাই আর সমস্যা হয়নি।’
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের অন্যতম পরিচালক আমেরিকান আলোকচিত্রী সারাহ লিনের খুব ভালো লেগেছে কেএম আসাদের ছবিটি। তিনি এটাই প্রচ্ছদ করার পক্ষে ছিলেন। তাই তার কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার কথাও ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন কেএম আসাদ। অফুরান সহযোগিতার জন্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সব সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বন্ধু আর ফলোয়ারদের ধন্যবাদ দিয়েছেন ক্যামেরার গল্পকথক।
আগামী ২৫ আগস্ট বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়ার দুই বছর পূর্ণ হবে। এ উপলক্ষে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এবারের সংখ্যা রোহিঙ্গা ও অভিবাসন নিয়ে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে ছবির গল্পে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিন ৬০টি শিশুর জন্ম হচ্ছে। এতে তুর্জয় চৌধুরীর তোলা বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা শিশুর স্থিরচিত্র প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন অলাভজনক সংগঠন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি ১৯৮৮ সাল থেকে ম্যাগাজিন প্রকাশ করে আসছে। বিজ্ঞান, ভূগোল, ইতিহাস ও বিশ্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয় এতে।
কেএম আসাদের তোলা রোহিঙ্গা মা ও তার সন্তানের ছবি

যে কারণে উড়তে পারেনি ভারতের ‘বাহুবলী’!

প্রথমবারের মতো চাঁদের মাটিতে ‘পা’ ছোঁয়াতে গিয়েও পারলো না ভারত। চাঁদে পাড়ি জমাতে ‘চন্দ্রযান-২’ নামে একটি মহাকাশযান প্রস্তুত করেছিল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। তবে কারিগরি সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময়ের ৫৬ মিনিট আগে অভিযানটি স্থগিত করা হয়।

সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও কেন আটকে গেলো ‘চন্দ্রযান-২’ এর মহাকাশ অভিযান?

এনডিটিভি জানায়, তিন দশমিক আট টন ভারী মহাকাশযানটিকে বহন করে কক্ষপথে নিয়ে যেতে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট জিএসএলভি এমকে থ্রি ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিয়েছিল।

৬৪০ টন ওজনের, ১৫ তলা সমান উচ্চতার এ রকেটের নাম দেয়া হয়েছে ‘বাহুবলী’। এই রকেটটিতেই ত্রুটি ধরা পড়ে। রকেট থেকে জ্বালানি লিক করছে বলে ইসরোর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। তাই শেষ সময়ে এসে মহাকাশযানটিকে আর উৎক্ষেপণ করা হয়নি।

স্থানীয় সময় রোববার রাত ২টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ স্টেশন থেকে চন্দ্রযান-২ এর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। যাত্রা শুরুর নির্ধারিত সময়ের ২০ ঘণ্টা আগে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫১ মিনিট থেকে এ অভিযানের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল।

ভারতের মহাকাশ সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই উৎক্ষেপণের নতুন একটি তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

এ মহাকাশ অভিযান সফল হলে ভারত হবে চন্দ্রজয়ী চতুর্থ দেশ। এখন পর্যন্ত কেবল রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সংক্ষিপ্ত এ তালিকায় নিজেদের নাম লিখিয়েছে।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অত্যন্ত শক্তিশালী, সর্বাধুনিক ‘জিএসএলভি-মার্ক-৩’ রকেটের পিঠে চেপে রওনা হবে চন্দ্রযান-২।

যাতে থাকবে একটি ‘অরবিটার’, যা চাঁদের বিভিন্ন কক্ষপথে থেকে প্রদক্ষিণ করবে। চন্দ্রযান-২-এ থাকবে একটি ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। থাকবে একটি রোভারও।

যার নাম ‘প্রজ্ঞান’, যা চাঁদের পিঠে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে-চরে বেড়াবে। ভারতের আগে মাত্র তিনটি দেশ রোভার পাঠাতে পেরেছে চাঁদে- রাশিয়া (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন), আমেরিকা ও চীন। দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের ৫২ দিনের মাথায় চাঁদের পিঠে পা ছোঁয়াবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’।

নামার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ল্যান্ডার থেকে বেরিয়ে আসবে খুবই ছোট একটি রোভার ‘প্রজ্ঞান’, যার ওজন মাত্র ২০ কিলোগ্রাম। আর চন্দ্রযান-২-এর সার্বিক ওজন ৩ হাজার ৮৫০ কিলোগ্রাম। ল্যান্ডারটি নেমে আসার সময় চন্দ্রযান-২-এর অরবিটারটি চাঁদের পিঠ (লুনার সারফেস) থেকে থাকবে মাত্র ১০০ কিলোমিটার উপরে।

চন্দ্রযান-২ পাঠানোর উদ্দেশ্য, চাঁদের পিঠের বালিকণায় মিশে রয়েছে কোন কোন মৌল ও খনিজ পদার্থ আর তা রয়েছে কী পরিমাণে, তা জানা।

সেই মৌল বা খনিজগুলো নিষ্কাশনের যোগ্য কি না, তা যাচাই করা। যে স্বপ্নটা প্রথম দেখেছিলেন ভারতের প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, দক্ষিণ মেরুর দিকেই চাঁদের অন্দরে এখনও বয়ে চলেছে জলের ধারা। উল্কাপাত বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তু আছড়ে পড়ায় সেখানে একটি বিশাল গর্ত (ক্রেটার) তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এর ফলে চাঁদের অন্দরে মৌল বা খনিজ বা জলের খোঁজতল্লাশের কাজটা সহজতর হয়ে উঠতে পারে। উৎক্ষেপণের পর ১৭ দিন ধরে গতি বাড়িয়ে ৬ গুণ করা হবে, যার সাহায্যে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাবে চন্দ্রযান-২।

চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছতে চন্দ্রযান-২কে পাড়ি দিতে হবে প্রায় ৩.৮৪ লাখ কিলোমিটার। সময় লাগবে পাঁচ দিন। কক্ষপথে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২৮ দিন কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে কৃত্রিম উপগ্রহ। তার পর ল্যান্ডার স্যাটেলাইট থেকে আলাদা হয়ে চাঁদের মাটিতে নামার প্রক্রিয়া শুরু করবে।

এ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে ৫২ দিনে। ইসরোর হিসাবে চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে নামার কথা ছিল ৬ সেপ্টেম্বর। চাঁদের মাটিতে নামার চার ঘণ্টা পর খুলে যাবে রোভার। এটি একটি ৬ চাকার যন্ত্রযান। চাঁদের পুরো এক দিন অর্থাৎ পৃথিবীর ১৪ দিন ধরে ৫০০ মিটার এলাকা ঘুরবে ওই যন্ত্রযান।

ছবি তোলা, মাটির পরীক্ষা, খনিজ পদার্থের বিশ্লেষণ করবে এই যন্ত্রযান। এছাড়া চাঁদের মাটিতে জলের সন্ধানও চালাবে এই চন্দ্রযান-২। ল্যান্ডার এবং উপগ্রহটির মাধ্যমে সেসব তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে চন্দ্রযান-২। বেঙ্গালুরুর বায়ালালুতে ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কও এই তথ্য গ্রহণে সাহায্য করবে।

মার্কিন পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে ট্রাম্পের বর্ণবাদী মন্তব্যের নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের চার নারী কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বর্ণবাদী টুইটের প্রতি নিন্দা জানাতে ভোট দিয়েছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার আয়োজিত ওই ভোটে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতি নিন্দা প্রকাশ করে ভোট দিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য। সকল ডেমোক্র্যাট সদস্যের পাশাপাশি ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানের একাধিক সদস্যও তার মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে বিদেশি বংশোদ্ভূত চার ডেমোক্র্যাট নারী কংগ্রেস সদস্যকে দেশ ছাড়তে বলেন ট্রাম্প। তিনি সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও তার টুইটে ¯পষ্ট বোঝা যায় যে, ওই সদস্যরা হচ্ছেন, আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, ইলহান ওমার, রাশিদা তালিব ও আয়ানা প্রেজলি। স্থানীয় সময় সোমবার ধারাবাহিক তিনটি টুইটে ট্রাম্প বলেন, যেসব নারীরা আদতে এমন সব দেশ থেকে এসেছে যেদেশের সরকার সম্পূর্ণর”পে ব্যর্থ, তাদের দেশে ফিরে যাওয়া উচিৎ। ডেমোক্র্যাট নেত্রী ও প্রতিনিধি পরিষদের ¯িপকার ন্যান্সি পেলোসি তাদের দ্রুত যাবার ব্যবস্থা করে দিতে খুশি হবে। তার টুইটের এক সপ্তাহ আগে পেলোসির সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক একটি বিল নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয় ওই চার কংগ্রেস সদস্যদের।
তার ওই টুইট নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
দেশজুড়ে সমালোচিত হন তিনি। প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের পর এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, আমার শরীরের বর্ণবাদের একটি হাড়ও নেই। ভোটে ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দেন ২৪০ জন। আর পক্ষে ভোট দেন ১৪৭ জন।
ভোটের আগে ডেমোক্র্যাট নেতা জন লুইস বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই। তবে ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রিপাবলিকান নেতা ড্যান মিউজার বলেন, এইসব অভিযোগ হাস্যকর।
এদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে রেজুলিউশন পাসের পরপরই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রস্তাব দেন টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট নেতা আল গ্রিন। তবে তার প্রস্তাবে সায় দেননি বাকি ডেমোক্র্যাটরা।
এদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্য-বিরোধী রেজুলিউশনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রতিটি ধাপ সংজ্ঞায়িত হয়েছে অভিবাসনের মাধ্যমে। কেবল আদিবাসী ও দাসত্বের শিকার হওয়া আফ্রিকান-আমেরিকান ছাড়া প্রত্যেক আমেরিকানই অভিবাসী বা অভিবাসীদের বংশধর।
রেজুলুশনে আরো বলা হয়, জাত বা বর্ণ দিয়ে দেশপ্রেম প্রকাশ পায় না। দেশের সাংবিধানিক আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু

ইসরাইলের কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছে এক ফিলিস্তিনি। তাকে আটক করার এক মাসের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো। নিহত ওই ব্যক্তির নাম নাসার তাকাতকা। ৩১ বছর বয়সে ইসরাইলের নিতজান নামের এক নির্জন কারাগারে তার মৃত্যু হয়। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। তার পরিবার জানিয়েছে, গত ১৯শে জুন তাকে পশ্চিম তীরে নিজ গ্রাম বেইত ফাজ্জার থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেখান থেকে তাকে জালামেহ কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এটি পূর্বেও বন্দিদের ওপর অত্যাচারের জন্য আলোচিত হয়েছিল।
এরপর তাকে আল-রামলেহ এলাকার নিতজান কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মারা যান ওই ব্যক্তি। মঙ্গলবার মৃত নাসারের চাচাতো ভাই আল-জাজিরাকে জানান, তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে পরিবারের কেউই বিশ্বাস করতে চায়নি। তারা এখন বিস্তারিত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন। তিনি আরো বলেন, আমরা এখনো তার মরদেহ পাইনি। তার মৃত্যুর কারণ জানতে একটি ময়নাতদন্ত করা হবে।

এজলাসে খুন: নিরাপত্তা জোরদার আইনের শাসন নিশ্চিতের তাগিদ

কুমিল্লার আদালতে বিচারকের সামনে খুনের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিচারাঙ্গনে। আদালতের মতো নিরাপদ জায়গায় এ ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালত এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সব ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এ ধরনের ঘটনা রোধ সম্ভব। নজিরবিহীন এ ঘটনার পর সারা দেশের আদালত পাড়ার নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে সরকারের তরফে। তবে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, শুধু আদালত না। মানুষ সব জায়গায় প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সারা দেশে যখন লাগাতার হত্যা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে তখন আদালতকে সুরক্ষা দিয়ে এর সমাধান হবে না। দুর্বৃত্তায়িত দুর্নীতির রাজনীতি ও প্রশাসনকে সংস্কার ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
মেটাল ডিটেক্টর ও পুলিশ পাহারা এর সমাধান নয়। সমাধান হবে আদর্শের রাজনীতি ও জনগণের সেবার প্রশাসন দ্বারা। 

সাবেক আইনমন্ত্রী ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। কোর্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অর্থাৎ পুলিশকে আরো সতর্ক হতে হবে। যারা আসামি  বা বহিরাগত আছে তাদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে প্রবেশ করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিচারক, আসামি, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীরা যেন কোর্টে স্বস্তিবোধ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়াতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি খুবই আশ্চর্যের। আমার কাছে একটি বিষয় মনে হয়, সেটি হচ্ছে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। হত্যাকারী, অপরাধদের বিচার কাজ বিলম্ব হলে অপরাধীরা বেপরায়া হয়ে ওঠে। যুক্তির খাতিরে অনেকে বলবে আদালতে আসামিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করে যেন প্রবেশ করানো হয়। সেটা কিন্তু সম্ভব না, সারা দেশে হাজার হাজার আসামি কোর্টে যায় তাদের চেক করে প্রবেশ করানো খুব কঠিন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি চরমভাবে উদ্বেগজনক। এই ঘটনা প্রমাণ করে আদালতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতির ফলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। যার ফলে অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সচেতন এবং সতর্ক হতে হবে। সঙ্গে বিচারক, আইনজীবী, আসামিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, বিচার হয় না, বিচার হতে অনেক বিলম্ব হয় এসব কারণেই অপরাধের সংখ্যা বাড়ছেই। হত্যা মামলার আসামি খুব সহজে জামিন পেয়ে যায়। জামিন পেয়ে কেউ কেউ পালিয়ে যায়। আবার নিম্ন আদালতে সাজা পেলেও উচ্চ আদালতে খালাস পেয়ে যায়। এমন ঘটনা অনেক ঘটছে। মানুষের মনে হয়তো একটা আত্মবিশ্বাস জন্মেছে কোনো না কোনো ভাবে অপরাধ করলেও ছাড়া পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, কুমিল্লায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তারা দুইজনই খুনের মামলার আসামি। কিন্তু তারা জামিনে আছে। আমাদের দেশে ছোট ছোট রাজনৈতিক মামলাগুলোয় দিনের পর দিন জামিন দেয়া হয় না অথচ ভয়ঙ্কর এই খুনের মামলাটিতে জামিন দেয়া হয়েছে। এটা যে অনেক বড় একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল সেটা প্রমাণ হয়ে গেল।

তিনি বলেন, গভীরভাবে দেখলে মানুষের যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জীবিকা নেই, আয় বৈষম্য বাড়ছে, মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য বাড়ছে, হতাশা বাড়ছে, সুশাসন নেই, ক্ষোভ প্রকাশ করার কোনো মাধ্যম নেই, প্রচণ্ড রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে এটা ব্যক্তি মানুষের ওপর প্রভাব পড়ছে।

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সালমা আলী এ বিষয়ে বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে।  দেশে আইনের শাসন নেই। সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হচ্ছে আদালত, সেখানে যদি প্রকাশ্যে খুন করা হয় তবে এর দায়ভার কে নেবে? এটি গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তারপরও পুলিশের কাছে কোনো কৈফিয়ত চাওয়া হচ্ছে না। জনগণ আদালতে গিয়ে বিচার পাচ্ছে না। সালমা আলী বলেন, কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিনা বিচারে মানুষ মারা হচ্ছে। ক্রসফায়ার বা বিচার বহির্ভূত হত্যা কোনো সমাধান নয়। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে ক্রসফায়ার নেই।

এই মানবাধিকার কর্মী বলেন, দেশে যখন বিচার ব্যবস্থা অকার্যকর থাকে, তখন বিচার বহির্ভূত হত্যা বেড়ে যায়। এতে করে অপরাধীরা আরো সাহস পায়। দেখা যায় যে, প্রকৃত অপরাধীরা ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যায়।

ঘাতকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মামলা ডিবিতে by জাহিদ হাসান

কুমিল্লার আদালতে বিচারকের খাস কামরায় একটি হত্যা মামলার আসামির উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে একই মামলার আরেক আসামি খুনের ঘটনায় সোমবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলাটি পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই রাতেই ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিনের আদালতে আসামি ফারুকের ঘাতক হাসান হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। পরে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক প্রদীপ মণ্ডল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে, এ ঘটনার পর থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছিল। এসময় মনোহরগঞ্জ উপজেলার কান্দি গ্রামের হাজী আবদুল করিম হত্যা মামলার হাসান নামের এক আসামি একই মামলার ফারুক নামের অপর এক আসামিকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার সময় ওই আদালতে একটি মাদক মামলার সাক্ষ্য দিতে আসা জেলার বাঙ্গরা বাজার থানার এএসআই ফিরোজ আহমেদ ঘাতককে রক্তমাখা ছুরিসহ জাপটে ধরেছিলেন।
তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বাদী হয়ে সোমবার রাতে ঘাতক হাসানের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক প্রদীপ মন্ডল জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হাসান ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। বিকালে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য নেয়া হয়। সেখানেও সে ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘাতক হাসানের জবানবন্দির বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৩ সালের ২৬শে আগস্ট তার নানা আবদুল করিমকে তার ছেলে-সন্তান ও নাতি ফারুকসহ অন্যরা মিলে হত্যা করে। ওই ঘটনায় হাসান জড়িত না থাকলেও তাকে আসামিভুক্ত করা হয়। ওই মামলাটি আপসের জন্য বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হলেও ফারুক ও তার বাবার কারণে তা হয়নি। এতে তার মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভ থেকে সে আদালতে হাজিরা দিতে আসার সময় ধারালো ছুরি সঙ্গে নিয়ে আসে এবং ফারুককে আদালতের ভেতরে ছুরিকাঘাত করে।

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি জানান, আদালতে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। দেহ তল্লাশি করে বিচারপ্রার্থী ও আসামিদের বিভিন্ন আদালতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। এদিকে, এ ঘটনার পর আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারকার্যে সংশ্লিষ্টরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান। তারা আদালতের প্রতিটি ফটকে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য নিয়োজিত করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানান। আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী বরুড়া উপজেলার ঘোষ্পা গ্রামের আবদুল মজিদ, চান্দিনার মাধাইয়া এলাকার বরুণ চক্রবর্তীসহ বেশ কয়েকজন জানান, আদালতে বিচারকের সামনে প্রকাশ্যে যদি ছুরি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা জীবনের নিরাপত্তা চাই, বিচারালয়ের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানাই।

ঘটনার সময় ওই আদালতে উপস্থিত অ্যাডভোকেট শাহিদ বেগম বলেন, আমি একটি মাদক মামলার আইনজীবী হিসেবে ওই কোর্টে ছিলাম। তখন দেখতে পাই এক আসামি হাতে ছুরি নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে আরেক আসামিকে ছুরি মারতে যাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ি। আদালতে এমন ঘটনা ঘটলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? অ্যাডভোকেট কাজী আক্তার হামিদ সোহেল বলেন, আদালতে শুধু বিচারিক কার্যক্রম করলেই চলবে না। আসামি ও বিচারপ্রার্থীদের আইন সম্পর্কে সচেতন করাসহ তাদের কাউন্সিলিং করতে হবে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে ভবিষ্যতে কেউ আর এ ধরনের ঘটনা সংঘটিত করার সাহস পাবে না। এ ঘটনার পর আমরা শঙ্কিত। এ শঙ্কা দূর করার দায়িত্ব যাদের তারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করি।

কংগ্রেসের নারীদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী টুইট করার জন্য সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেসের সদস্য কয়েকজন নারী সম্পর্কে বিদ্বেষমূলক টুইট করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
তিনি দাবি করেন, ঐ নারীরা নিজেরা "এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানকার সরকার সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।"
এরপরেই মি. ট্রাম্প ঐ নারীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, "ফিরে যাও।"
কংগ্রেসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে চারজন ভিন্ন বর্ণের কংগ্রেস সদস্যদের কিছুটা বচসা হওয়ার ঘটনার পরের সপ্তাহে এমন টুইট করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট কী বলেছেন?

এক সাথে করা তিনটি টুইটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের তিন নারীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে 'ভয়ঙ্করভাবে' সমালোচনা করার অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি লিখেছেন: "খুবই অবাক লাগে দেখতে যখন 'প্রগতিশীল' ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসের নারী সদস্যরা, যারা এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানে তাদের সরকার বিপর্যস্ত, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং সবচেয়ে অদক্ষ, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানকার মানুষদের বলছে কীভাবে আমাদের সরকার পরিচালনা করতে হবে।"
"তারা কেন তাদের নিজেদের অপরাধপ্রবণ দেশে ফিরে গিয়ে তাদের পরিস্থিতির উন্নয়ন করে না! তারপর ফিরে এসে আমাদের জানালেই পারে যে কীভাবে সে কাজ করলো তারা।"
এরপর মি. ট্রাম্প স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি'র উল্লেখ করেন, যার ফলে কংগ্রেসের কোন কোন নারী সদস্যদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন তাদের নাম উল্লেখ না করলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে কাদের বিষয়ে এসব মন্তব্য করেছেন তিনি।
ধারণা করা হচ্ছে মি. ট্রাম্প ভিন্ন বর্ণের চারজন ডেমোক্র্যাট নারী কংগ্রেস সদস্যকে ইঙ্গিত করেছিলেন যাদের তিনজনই অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন।
গত এক সপ্তাহব্যপী ন্যান্সি পেলোসির সাথে মিজ. ওসারিও-কর্টেজের কিছুটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
মিজ. ওসারিও-কর্টেজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে, সীমান্ত নিরাপত্তা বিল নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সাথে দ্বন্দ্বের সময় ভিন্ন বর্ণের নারী কংগ্রেস সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন তিনি।

এর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে?

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের অবশ্য নেতিবাচক সমালোচনাই বেশি হয়েছে।
স্পিকার মিজ পেলোসি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইট সম্পর্কে লিখেছেন যে মন্তব্যটি 'জেনোফোবিক'(বিদেশীদের সম্পর্কে অহেতুক আতঙ্ক তৈরি করার প্রবণতা)।
নিজের টুইটে মিজ পেলোসি লেখেন, "আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি এবং একতাই আমাদের ক্ষমতা।"
মি. ট্রাম্পের এই মন্তব্যে ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই, রিপাবলিকান রাজনীতিবিদদেরও অনেককেই সমালোচনা করতে দেখা গেছে।
সাবেক রিপাবলিকান শীর্ষ নেতা জন ম্যাককেইনের মেয়ে মেগ্যান ম্যাককেইন, যিনি নিজেও রিপাবলিকান সমর্থক কলামিস্ট, বলেন: "এই মন্তব্য বর্ণবাদী।"
তিনি বলেন, "এই দেশে আমরা যাদের একবার স্বাগত জানিয়েছি, তাদের আবার ফিরে যেতে বলি না।"
সামাজিক মাধ্যমে মি. ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে অধিকাংশ মানুষ।
টুইটের পর রাশিদা ত্লাইব মি. ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে সমালোচনা করেছেন

কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু ১ কোটি ১৮ লাখ

দেশে এবার কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় এক কোটি ১৮ লাখ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, কুরবানির বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পশুর সরবরাহ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের যাবতীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
আজকের সভায় ঈদুল আজহার পশুর সংখ্যা নিরূপণ, কোরবানির হাটবাজারে স্বাস্থ্যসম্মত পশুর ক্রয়-বিক্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা, বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। পশুর গাড়ি ছিনতাই রোধ এবং দেশের পশু বিক্রেতাদের স্বার্থে ঈদুল আজহা পর্যন্ত সীমান্তপথে বৈধ-অবৈধ সকলপ্রকার গবাদিপশুর অনুপ্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, দেশ মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর থেকে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। আগে প্রতি বছর ২৪-২৫ লাখ ভারতীয় গরু আসত। ২০১৮ সালে মাত্র ৯২ হাজার গরু ঢুকেছে।
এবার সারা দেশে কোরবানিযোগ্য ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু-মহিষ, ৭২ লাখ ছাগল-ভেড়া এবং ৬ হাজার ৫৬৩টি অন্যান্য পশুর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আসন্ন ঈদুল আজহায় এক কোটি ১০ লাখ পশুর কোরবানি হতে পারে বলে সভায় জানানো হয়। গত বছর ঈদে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর মোট সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৫ লাখ এবং কোরবানি হয়েছিল এক কোটি ৫ লাখের মতো।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আসন্ন ঈদে ঢাকাসহ দেশের উল্লেখযোগ্য হাটবাজারে পশুর স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে পশু চিকিৎসকদের দল প্রস্তুত থাকবে। ঢাকায় দুটি সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট ২৪টি স্থায়ী-অস্থায়ী কোরবানির হাটে দুটি করে দল কাজ করবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ১৪টি এবং উত্তরের অধীনে মোট ১০টি হাটবাজার বসবে এবার।
মৎস্য প্রতিমন্ত্রী পশু ব্যবসায়ীর কাছে থেকে চাঁদা আদায়সহ অতিরিক্ত হাসিল-আদায় রোধ এবং ব্যাপারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
সভায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসি উদ্দিন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক, প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নাথুরাম সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

১১ কোম্পানির দুধে সিসা ও ক্যাডমিয়াম -হাইকোর্টে প্রতিবেদন

বিএসটিআই অনুমোদিত ১১ কোম্পানির পাস্তুরিত দুধের পরীক্ষায় অতিরিক্ত মাত্রায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর সিসা ও ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ওই সব কোম্পানিগুলো হলো- মিল্ক ভিটা, ডেইরি ফ্রেশ, ঈগলু, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আড়ং, প্রাণ মিল্ক, আইরান, পিউরা ও সেফ ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধ। গতকাল বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওই প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আদালতে বিএসটিআই’র পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান (মামুন) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

আদালতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত, পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ফার্মেসি অ্যানিমেল অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বা বিতরণ করতে পারবে না। কোনো খামারি বা কেউ  প্রেসক্রিপশন ছাড়া গবাদিপশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে পারবে না।
একইসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী ক্ষতিকারক উপাদান থাকা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা আগামী ২৮শে জুলাইয়ের মধ্যে জানাতে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া, জনস্বার্থে দুধের দূষণ পরীক্ষা ও গবেষণায় বিএসটিআই নিবন্ধিত দুধ কোম্পানিগুলোকে একটি তহবিল গঠন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- এই মর্মে একটি রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

বিএসটিআই এবং দুধ উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিএসটিআই ২০০২ সালে পাস্তুরিত দুধের যে মান নির্ধারণ করেছিল তার ভিত্তিতেই বাজারে থাকা দুধের নমুনা পরীক্ষা করে এই প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তবে দুধে অ্যান্টিবায়োটিক বা ডিটারজেন্টের উপস্থিতি সেখানে পরীক্ষা করা হয়নি। এছাড়া, আদালত দুগ্ধ খামারিদের পশু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গাভীকে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক না দেয়া, ক্ষতিকারক উপাদান থাকা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং নিবন্ধিত দুধ কোম্পানিগুলোকে একটি তহবিল গঠন করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- এই মর্মে একটি রুল জারি করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পত্রিকার ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে পুষ্টির অন্যতম প্রধান জোগান হিসেবে বিবেচিত গরুর দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্যে মিলেছে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদান। পরে আদালত দুধে সিসা মিশ্রণকারীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন। রুলে দুগ্ধজাত খাবারে ভেজাল প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্কিয়তা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদণ্ড) নির্দেশ দেয়া হবে না কেন- তা জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া, ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে কোন কোন কোম্পানির দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য পণ্যে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক এবং সিসা মেশানো রয়েছে- তা নিরূপণ করার জন্য একটি জরিপ শেষে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেন। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলেন আদালত।

রংপুরেই এরশাদের সমাধি by পিয়াস সরকার

সকাল থেকেই রংপুরের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। গুমোট আবহাওয়ার মতো রংপুরের মানুষের মনও ছিল শোকাচ্ছন্ন। শোকের সঙ্গে ক্ষোভ আর দাবি আদায়ের উচ্চারণ। ভিন্ন এ পরিবেশ ছিল দুপুর পর্যন্ত। দুপুরের পর প্রিয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লাশ যখন কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আসে তখন লাখো মানুষের জমায়েত সেখানে। এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করার দাবি মুখে মুখে। কারও কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার।
জানাজার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। বক্তৃতা দিচ্ছিলেন নেতারা। কিন্তু এরশাদকে কোথায় দাফন করা হবে এর কোন ঘোষণা আসছিল না। এতে বাড়ে ক্ষোভ। হতাশা। নেতাকর্মীরা থেমে থেমে স্লোগান দিতে থাকেন। ‘এরশাদের সমাধি-রংপুরে, রংপুরে’। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দাফনের ঘোষণা না দিয়েই জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর এরশাদের কফিনবাহী গাড়ি ঘিরে ধরেন হাজারো নেতাকর্মী। এসময় কেন্দ্রীয় নেতারা ঘোষণা দেন এরশাদকে রংপুরেই দাফন করা হবে।

তখন নেতাকর্মীদের বিজয়ধ্বনি। রংপুর নগর পিতা জাপা নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা লাশবাহী গাড়ির সামনের সিটে উঠে বসেন। নির্দেশনা দেন গাড়ি চালিয়ে এরশাদের পল্লী নিবাসের দিকে নিয়ে যেতে। গাড়ি চলতে থাকে। গাড়িবহর ঘিরে হাজার হাজার নেতাকর্মী। তারা প্রায় কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় গাড়ি বহরকে ঘিরে রেখেই। বিকাল পৌনে ছয়টার পর এরশাদের হাতে গড়া পল্লি নিবাসেই চির নিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে। আর এর মধ্য দিয়ে তার দাফন নিয়ে কয়েক দিনের উত্তেজনার সমাপ্তি ঘটে। শনিবার এরশাদের মৃত্যুর পর ঘোষণা দেয়া হয়েছিল রাজধানীর বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। গতকাল সকালে ঢাকা থেকে রংপুরে এরশাদের লাশ নিয়ে যাওয়ার আগে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরও একই কথা জানিয়ে এর পক্ষে নানা যুক্তি দেখিয়েছিলেন। বনানী কবরস্থানে কবরও খোড়া হয়েছিল। দাফনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল।

ঘড়ির কাটা তখন সকাল ৯ টায়। এরই মধ্যে রংপুর কালেক্টরেট ঈদ গাহ মাঠে বাড়তে থাকে  নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়। উদ্দেশ্য প্রিয় নেতার জানাজায় অংশগ্রহণ ও শেষ বিদায়। রংপুর সেন্ট্রাল রোডের জাপা কার্যালয় নেতাকর্মীতে পূর্ণ। তখন থেকেই আওয়াজ উঠতে থাকে এরশাদের লাশ রংপুরে দাফনের। এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুপুর ২ টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। আর আশপাশের জেলা উপজেলা থেকে বাসে ট্রাকে করে আসতে থাকেন  নেতাকর্মীরা। জানাজা নামাজের মাঠেই উপস্থিত ছিলেন রংপুরের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফা। এরশাদের মৃত্যুর পর তিনি রংপুর জাপার পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়েছিলেন রংপুরে এরশাদের দাফন না হলে প্রয়োজনে কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে।

কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠ এরশাদের পল্লী নিবাস থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে। এই মাঠেই ঈদের নামাজ আদায় করতেন তিনি। সেই মাঠেই জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা করা হয়। মাঠ আগে থেকেই ছিল প্রস্তুত। সামিয়ানা টাঙানো ও মঞ্চও বানানো হয় সোমবার। জানাজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সকাল সাড়ে ১০টায় এরশাদকে বহন করা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার তেজগাঁও বিমনবন্দর থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। মরদেহের সঙ্গে যান জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের, এরশাদের বড় ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এ বিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু। মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি দুপুর ১২ টায় রংপুর ক্যান্টনমেন্টে অবতরণের পরে সেখান থেকে এরশাদের লাশ সরাসরি কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে এরশাদকে দেয়া হয় সম্মান সূচক গার্ড অব অনার। কয়েক মিনিট মঞ্চে রাখার পর ফের জনতার চাপে নেয়া হয় গাড়িতে। এরপরে সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সভাপতি সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা। এসময় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন ‘লাশ নিয়ে রাজনীতি চলবে না চলবে না।’

বাদ যোহর এ মাঠেই জানাজা নামাজের কথা থাকলেও নেতাকর্মীদের রংপুরে দাফনের দাবির কারণে বিলম্বিত হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজার পূর্ব মুহুর্তে ঈদগাহ মাঠে আসেন জি এম কাদের, মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ নেতারা। জানাজার নামাজের পূর্বে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গা। তিনি বলেন, আমরা অভিভাবক শুন্য হয়েছি। এরশাদের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমাদের মিইয়ে গেলে চলবে না। পার্টির নতুন অভিভাবক জি এম কাদের। আপনারা তার কথা মানবেন? এরপর সবার হাত উচিয়ে সম্মতি নেন। 

জি এম কাদের তার বক্তব্যের শুরুতে এরশাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এরশাদের শাসন আমলে আমরা উপজেলা পেয়েছি, জেলা পেয়েছি ৬৪টি। তিনি আমাদের বাংলাদেশের সকল উন্নয়নের নায়ক। তিনি যেসব আইন করেছেন সেসব আইন আমাদের  দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি সাবেক সফল রাষ্ট্রপ্রধান, তিনি সাবেক সেনাপ্রধান, বিরোধী দলীয় নেতা। তার লাশ দাফন করা উচিত সম্মানের সঙ্গে। তাই আমরা চাই তার লাশ ঢাকায় দাফন করতে। এই কথার পরেই চারদিকে শোরগোল উঠে না, না। উত্তেজিত জনতার স্লোগানে আর একটি কথাও বলতে পারেননি জি এম কাদের। নির্ধারিত সময়ের ৪০ মিনিট পর অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। নামাজ শেষেই ফের উত্তপ্ত ময়দান। লাশের গাড়ি ঘিরে রাখেন নেতাকর্মীরা। তারা ফের স্লোগান দিতে থাকেন লাশবাহী গাড়ি ঘিরে। আবারও ৪০ মিনিটি দেরি হয়। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থতি। এরপর সিটি মেয়র এরশাদকে রংপুরে দাফনের ঘোষণা দিলে গাড়ি ছাড়েন নেতাকর্মীরা। দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ঈদগাহ মাঠ ছাড়ে লাশবাহী গাড়ি। ঈদ গাহ মাঠ থেকে বেরিয়ে বা পাশের সড়ক দিয়ে পল্লী নিবাস আর ডানের রোডে সেনানিবাস। ডানের রোডে নেতাকর্মীদের ভিড় ও হাতে হাত রেখে নেয়া অবস্থান ছিলো চোখে পড়ার মতো। এই ঈদগাহ মাঠ থেকে গাড়ি তারা হেঁটে নিয়ে যান পল্লী নিবাসে।

প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা লাখো মানুষ গাড়ি ঘিরে নিয়ে যান এরশাদের বাড়িতে। এতে সময় লাগে ২ ঘণ্টারও বেশি। আর লাশ বাহী গাড়ির সামনে বসা ছিলেন মেয়র মোস্তফা। বিকাল ৪ টা ৫০ মিনিটে মরদেহ পৌঁছায় পল্লী নিবাসে। সেখানে আগে থেকেই সেনাবাহিনীর একটি দল প্রস্তুত ছিল। গাড়ি থেকে এরশাদের মরদেহ সেনা সদস্যরা ফুল সজ্জিত এক কফিনে নামিয়ে নেন। এরপর ফের গার্ড অব অনার দেয়া হয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিটে দাফন করা হয় এরশাদকে। দাফনের পূর্বে সেনাবহিনীর পক্ষ থেকে এরশাদের কর্মজীবন তুলে ধরা হয়।

বননীতে দাফনের সব প্রস্তুতি ছিল: এরশাদকে দাফনের জন্য ঢাকার বনানীর সামরিক কবরস্থানে সবধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কবর খুঁড়ে রাখা ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কবরস্থানের প্রবেশ রাস্তা বন্ধ করে দেন। বনানীতে দাফন করা হবে জেনে পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশেপাশে অবস্থান নেন। কিন্তু বিকাল ৩ টার দিকে রংপুরে দাফনের খবর এলে তারা চলে যান।
নেতাকর্মীরা এরশাদের মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন পল্লী নিবাসে -ছবি: জীবন আহমেদ

উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রশিক্ষক বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই উদ্যোক্তাদের ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। উদ্যোক্তাদের স্লোগান হচ্ছে, ‘চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই’। গতকাল ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএসসি)-এর যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর পল্টনে ইআরএফের নিজস্ব কার্যালয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইএফসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড.মাশরুর রিয়াজ ও বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস, ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। সালমান এফ রহমান বলেন, সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নতি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখী করতে হবে, তবে সেটা পোশাক খাতকে বাদ দিয়ে নয়। পোশাকে আমার দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছি। আরো উন্নতির সুযোগ আছে। পাশাপাশি অন্য খাতের রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, পোশাকের মতো সব রপ্তানি খাত সমান সুযোগ পাবে। অতীতে আমরা সেই সুযোগ দিতাম না। এবার সে সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের গার্মেন্ট পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্ট পণ্যের বাজারেরও বহুমুখীকরণ হয়েছে। আগে আমরা আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি করতাম, এখন বিশ্বের অনেক দেশে গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিল্পের এক খাত থেকে যখন আমরা অন্য খাতে যাচ্ছি, তখনই আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের শ্রমিক সংকট না হলেও ম্যানেজারের সংকট হয়। সেই অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা বাইরে থেকে ম্যানেজার আনি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ সংকট থাকবে না।

সালমান এফ রহমান বলেন, আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যখন ইজ অব ডুইং বিজনেসের র‌্যাংকিং ঘোষণা করবে, আশা করছি বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ডাবল ডিজিটে থাকবে। যদি আমাদের আশা পূর্ণ হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা), বেপজা ও হাইটেক পার্ক এসব জায়গায় যারা বিনিয়োগ করবে, তারা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা পাবে।

ইআরএফ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ৭৪৪টি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে একটি মাত্র খাত পোশাক শিল্প থেকে। আমরা মনে করি- কেবল একটি পণ্যের ওপর এভাবে নির্ভরশীল হয়ে একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তাই রপ্তানি পণ্য বহুমূখীকরণের উদ্যোগ নেয়া এখন সময়ের দাবি। আমাদের পণ্য বহুমূখীকরণের বাঁধা কোথায়? সেটি নিশ্চয় সরকারের নীতি নির্ধারকরদের অজানা নয়। তবে আমরা মনে করি ব্যবসায় পরিবেশের উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহজীকরণের প্রতি আমাদের মনোযোগ বাড়াতে হবে।

মিন্নি গ্রেফতার

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি
বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবার বাড়ি থেকে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্নিকে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টার দিকে বরগুনার গোয়েন্দা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

সংবাদ সম্মেলনে বরগুনা জেলা বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার জানান, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এ মামলার সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে (২০) সকালে ডেকে এনে মামলার ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও দীর্ঘ সময় ধরে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের জন্য মিন্নিকে রাত ৯টায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে সকালে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ‘আসামি শনাক্ত করার কথা বলে সকালে পুলিশের একটি দল মিন্নিকে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে।’

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘মিন্নি রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী। জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য মিন্নি ও তার পরিবারকে পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় জানার আছে।’

এর আগে শনিবার (১৩ জুলাই) রাত ৮টায় নিহত রিফাত শরীফের বাবা ও হত্যা মামলাটির বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন তার ছেলে হত্যার ঘটনায় পুত্রবধূ মিন্নিও জড়িত বলে সন্দেহ করছেন তিনি। সেদিন মিন্নি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এমন সন্দেহের পেছনে ১০টি কারণও বলেন তিনি। তার সন্দেহের বিষয়টিকে আমলে নেয় পুলিশ।

সেই সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হালিম দুলাল শরীফ অভিযোগ করেন, ‘রিফাত হত্যাকাণ্ডের নতুন ভিডিও ফুটেজ দেখে আমি ধারণা করছি, আমার ছেলেকে হত্যার পেছনে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত। মিন্নি যদি হামলাকারীদের প্রতিরোধের চেষ্টা না করে রিফাতকে জড়িয়ে ধরতো, তাহলে আমার ছেলে নির্মম হত্যার শিকার হতো না।’

তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আসামিরা মিন্নির ওপরে চড়াও হয়নি এবং মিন্নি কোনোভাবেই আক্রান্ত হয়নি। তার প্রশ্ন, ‘কেন, মিন্নি কেন আক্রান্ত হয়নি?’

তবে এর পরদিন মিন্নি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘বরগুনায় যারা ০০৭ গ্রুপ সৃষ্টি করেছেন, তারা খুবই ক্ষমতাবান ও অর্থশালী। তারা রিফাত হত্যার বিচারকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য আমার শ্বশুরকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। খুনিদের আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত: রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর বরগুনার এক সংসদ সদস্যের ছেলে ঘটনাটিকে প্রভাবিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। মিন্নিও তার সংবাদ সম্মেলনে সেদিকে ইঙ্গিত করেন।

এর আগে গত ২৮ জুন মিন্নির নিরাপত্তার জন্য তার বাবার বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের দাবি তার মেয়েকে ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ মহলের সঙ্গে যোগাযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার মানুষ ভিডিও ফুটেজে দেখেছে কীভাবে আমার মেয়ে তার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে চেষ্টা করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমার মেয়েকে ডেকে পুলিশ মানসিক নির্যাতন করেছে।

উল্লেখ্য, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এজাহারে উল্লেখ থাকা ৭ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ৭ জনকে পুলিশ এর আগে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। বাকিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে বিভিন্ন মেয়াদে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট কিবরিয়াকে

শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়াকে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রক্ত দেয়ার জন্য সহকর্মীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিকালে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায়ও নেয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চলে নিবিড় চিকিৎসা। কিন্তু সকল মায়া ত্যাগ করে তিনি গতকাল সকালে মারা যান। তার মৃত্যুতে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্ণকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত  দেন তিনি।
কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিকের সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। তখন কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। জানা যায়, তার দুই পায়ের ৪টি স্থান ভেঙে যায় এবং মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় ওয়্যারলেস বার্তা পেয়ে হাসপাতালে অগণিত সহকর্মী হাজির হন। কিন্তু কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। রাতেই বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। গতকাল সকালে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর থানায় বরিশাল  মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

বাসর হলো না নবদম্পতির by ইসরাইল হোসেন বাবু

একমাত্র ছেলের বিয়ের আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না পরিবারে। আনন্দ উৎসবের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছিল। প্রায় সপ্তাহখানেক আগে সুমাইয়া খাতুন (২১)-এর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল রাজন শেখের (৩২)। সোমবার যথারীতি ২টি মাইক্রোবাসে বর সেজে কনের বাড়িতে গিয়েছিল রাজন। উৎসবমুখর পরিবেশে বর-কনে কবুল পাঠ করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী করে নেয় তারা। নব-দম্পতির চোখজুড়ে যখন একের পর এক সোনালী স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছিল নিয়তি তখন আড়াল থেকে মিটিমিটি হাসছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বপ্নগুলো পড়ে রইলো স্বপ্নের জায়গায়। রইলো না স্বপ্ন বোনার মানুষগুলো।
একটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বর-কনে দু’জনেই। একই সঙ্গে প্রাণ গেলো বিয়ে উৎসবের সফরসঙ্গী আট জনের। দুর্ঘটনায় আহত হলো আরও চারজন। আর নিয়তির এ নিষ্ঠুর খেলায় বিয়ে হলেও ফুলশয্যা হলো না রাজন আর সুমাইয়া দম্পতির। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর কান্দাপাড়ার গরু ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন ও উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর শেখের বাড়িতে এখন উৎসবের পরিবর্তে চলছে শোকের মাতম। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কান্দাপাড়া গ্রামে আলতাফ হোসেনের বাড়িতে গেলে দেখা যায় হাজারও মানুষের ভিড়। সবারই চোখ ছিল অশ্রুসজল। হাজার লোকের ভিড়েও একটি শোকাবহ পরিবেশ  পুরো  গ্রামজুড়ে।

২ বোনের একমাত্র ভাই টুইস্টিং মিলের শ্রমিক বর রাজন শেখের বাসরঘরটি তখনও তরতাজা ফুলে সজ্জিত। তবে তাতে ছিল না কোনো সুভাষ। এই খাটে যাদের ঘুমানোর কথা ছিল আজ তারা শেষ বিদায়ের খাটিয়ায় চড়ে মাটির বিছানা চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। রাজনের মা-বাবা ছেলের শোকে তখনও বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছিলেন। কোন কথা বলার মত অবস্থায় নেই তারা। ছোট বোনটিও কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। শোকে পাথর পুরো পরিবার। প্রতিবেশী কান্দাপাড়া গ্রামের সোহরাব আলী, আসমা খাতুন,  রুবিয়া খাতুন ও বাবলু শেখ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে সুমাইয়ার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় রাজনের। সোমবার দু’টি মাইক্রোবাসে প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী নিয়ে যান তারা। উৎসবমুখর পরিবেশে খানা-পিনা শেষে কলেমা পড়ে বিয়ে সম্পন্ন হয় তাদের। বিকেলে নব-দম্পতিকে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে কামারখন্দ-উল্লাপাড়া আঞ্চলিক সড়ক পথে আনন্দের সঙ্গে ফিরছিলেন তারা। এ পথেই শাহিকোলা এলাকায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় বর-কনে বাহী মাইক্রোবাসটি। আর এ দুর্ঘটনাতেই পরিসমাপ্তি ঘটে নব-দম্পতি রাজন-সুমাইয়ার জীবনের।  স্থানীয়রা জানান, দুপুরের আগেই রাজন ও তার মামাতো ভাই আলিফের (৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরের পর উল্লাপাড়ায় সুমাইয়া ও তার ভাইয়ের স্ত্রী মমতার মরদেহ দাফন করা হয়। পর্যায়ক্রমে নিহত বাকিদের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় ২টি তদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে, দুর্ঘটনায় ১০জন নিহতের ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগ পাকশী ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে দপ্তর থেকে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের পৃথক আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ছয় কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা  হয়েছে। এছাড়াও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নে শাহীকোলা এলাকার অরক্ষিত রেলক্রসিং পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহি মাইক্রোবাসে থাকা ১০ জন নিহত হয়। আহত হন আরও ৪ যাত্রী।

ইরানের ‘পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন’ নিয়ে ইইউ-এর নরম সুর!

ইরান ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি যতোটুকু লঙ্ঘন করেছে তা ‘উল্লেখযোগ্য কিছু নয়’ বলে মনে করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং এর বিপরীতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ইইউ-এর ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এ মাসে চুক্তির বাধ্যবাধকতা অতিক্রম করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা দেয় তেহরান। ইইউ-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মোগারিনি বলেছেন, যা ঘটেছে তা সংশোধনযোগ্য।
২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই বছরের নভেম্বর থেকে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো চুক্তি বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান। ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এ বছরের মে মাসে চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয় তেহরান। সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। ৭ জুলাই সেই সময়সীমা শেষে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশে উত্তীর্ণ করার ঘোষণা দেয় ইরান। ২০১৫ সালের চুক্তিতে এই মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল তেহরানের।

সোমবার ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি চুক্তি বহাল রাখার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা যায়। বৈঠক শেষে মোগারিনি বলেন,  চুক্তি লঙ্ঘনের বিপরীতে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে চুক্তি বহির্ভূত পদক্ষেপ থেকে সরে এসে পুরোপুরিভাবে চুক্তি মেনে চলতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক এ প্রধান।

বৈঠকে অংশ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু চুক্তিটি এখনও মরে যায়নি। এ চুক্তি বাঁচানোর জন্য এখনও হাতে সময় আছে। ফেদেরিকা মোগারিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরকারী ইউরোপের দেশগুলোর কেউই ইরানের লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে না, যে কারণে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে না।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। একই উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী, বি-৫২ বোমারু বিমান ও এফ-২২ জঙ্গিবিমান মোতায়েন করে তারা। সবশেষ গত ২০ জুন ভোরে মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের আকাশসীমায় একটি ড্রোন পাঠালে ইরান তা গুলি করে ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানকে নতুন করে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার জন্য দেশটির ওপর প্রবল চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে ইরান বলেছে, দেশটি তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একবার পাশ্চাত্যের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। ফলে এ বিষয়ে দ্বিতীয়বার আলোচনায় বসবে না তেহরান।

মুসলিম নারীকে আশ্রয় দিয়ে রোষানলে মুর্শিদাবাদের পুরোহিত পরিবার!

ক্ষমতাসীন বিজেপির সৃষ্টি করা সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার মধ্যেই এক মুসলিম নারীর প্রতি মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের এক পুরোহিত পরিবার। আর তাতেই গ্রামবাসীর রোষানলে পড়েছে তারা। গোটা পরিবারকে গ্রামবাসীরা একঘরে করে রেখেছে। পুরোহিতের জীবিকাও সংকটের মুখে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের চোঁয়াতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সুভাষ রায়চৌধুরী নামের ওই পুরোহিত বাড়িতে বাড়িতে পূজা করে নিজের সংসার চালাতেন। কিছুদিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বিতারিত এক নারী সখিনা বিবিকে দুই নাবালক সন্তানসহ রাস্তায় অসহায়ভাবে বসে থাকতে দেখে আশ্রয় দেন তিনি। এতেই বাঁধে বিপত্তি। সখিনা ও তার সন্তানরা মুসলিম হওয়ায় গ্রামের অন্যরা বিষয়টা ভালো চোখে দেখেনি। এখন যেখানেই তিনি পূজা করতে যাচ্ছেন সবাই তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বলছেন, ‘না, ঠাকুরমশাই, আপনাকে আর আসতে হবে না!’

এ প্রসঙ্গে সুভাষ রায়চৌধুরী বলেন, ‘ঘর-হারা একটা মেয়ে রাস্তায় এভাবে ঘুরছে, চোখ সইল না। তাই মুসলিম হলেও দুটি নাবালক বাচ্চা-সহ তাকে ঘরে ঠাঁই দিয়েছি। আমার কাছে ওটাই যে সব চেয়ে বড় ধর্ম’।

বাবার কথার সঙ্গে একমত কন্যা কাকলীও। বিবাহ বিচ্ছেদের পরে বাবার বাড়িতেই থাকেন তিনি। মুলত কাকলীই ওই মুসলিম নারীকে সন্তানসহ বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। তাতে সম্মতি ছিল তার বাবার। কাকলী বলেন, ‘আশ্রয়হীন এক নারী, তাকে দেখেও চোখ বুজে থাকব?’ তিনি আরও বলেন, ‘বাবাকে এসে বললাম, সখিনাকে আমাদের বাড়িতে একটু জায়গা দাও না। বাবা রাজি হতেই নিয়ে এসেছি’। দুঃখের সঙ্গে কাকলী জানান, শুধুমাত্র সখিনা আর তার সন্তানদের সাহায্য করার অপরাধে গ্রামের লোকেরা তাদের একঘরে করে রেখেছে।

সুভাষের স্ত্রী ইলা বলেন, ‘আমরাতো এর মধ্যে কোনও অন্যায় দেখিনি। দুটি ছোট বাচ্চা ছেলে-মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো একটা মেয়েকে আশ্রয় দিয়েছি’। তার প্রশ্ন, ধর্ম কি মানবতার চেয়েও বড়?

গ্রামের লোকেরা সুভাষ রায়চৌধুরীকে একঘরে করলেও সখিনার পরিবার এখন রায়চৌধুরী পরিবারের অংশ হয়ে ওঠেছে। ছেলে-মেয়ে দুটিকে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে। কাকলী আর  ইলার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঘরের কাজ করছেন সখিনাও।

সখিনা জানান,  পুরোহিতের বাড়িতে থাকলেও নিজের ধর্ম নিয়ে কখনই কোনও বাঁধা পাননি তিনি। সখিনা বলেন, ‘এক বারের জন্যও আমার ধর্ম নিয়ে আপত্তি তোলেননি সুভাষবাবু। রোজাও রাখতে পারছি’।

সখিনা কিংবা পুরোহিত পরিবারের মধ্যে মানবতার এমন মেলবন্ধন তৈরি হলেও তা মানতে পারছেন না গ্রামের মাতব্বরা। চোঁয়া গ্রামের এক মাতব্বর বলেন, ‘ভিন্ন ধর্মের মানুষকে ঘরে রেখে কি পূজা করা যায়’? গ্রামের হর্তাকর্তাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও হার মানেননি সুভাষ। তিনি বলেন, ‘মেয়ের উপর অত্যাচার হলে কী হয় সেটা আমি জানি। তাই সখিনাকে এ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছি’। নিজের সিদ্ধান্তে অটল মানবদরদী এই পুরোহিত বলেন, ‘যত দিন না সখিনা ও তার ছেলেমেয়েদের কোনও ব্যবস্থা হয় এখানেই থাকবে তারা’।

সুভাষের এই উদারতার কথা পৌছেছে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। স্থানীয় এক বিডিও কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ অসামান্য সাহস দেখিয়েছেন সুভাষ। আমরা সরকারের পক্ষে ওই পরিবারকে সবরকম সহযোগিতা করব।’  তিনি আরও বলেন, ‘ওই গ্রামে গিয়ে আমরা কথা বলব, মানুষকে বোঝাব। তাদেরকে বলবো, এটাই তো প্রকৃত ধর্ম’।

মালদ্বীপে প্রথমবারের মতো বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত

মালদ্বীপের আইনজীবীরা গত শনিবার প্রথমবারের মতো বার কাউন্সিলের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে আইন পেশাজীবীদের একটি ঐতিহাসিক আত্মনিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলো।
সাবেক এটর্নি জেনারেল হুসনু সুদকে ১৪২ ভোটে হারিয়ে কাউন্সিলের প্রথম প্রেসিডেন্ট হয়েছেন মামুন হামিদ। এক সাবেক বিচারপতিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সাবেক এটর্নি জেনারেল আব্দুল্লা মুইজ।
লিগ্যাল প্রফেশন এ্যাক্ট অনুযায়ী বার কাউন্সিল গঠিত হয়। এই কাউন্সিল আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে। গত জুনে গৃহীত আইনটি নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতা বিচারবিভাগের কাছ থেকে নবগঠিত স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটির হাতে অর্পন করবে।
এর আগে এটর্নি জেনারেলের অফিস ও বিলুপ্ত বিচার মন্ত্রণালয় আইন পেশাকে নিয়্ন্ত্রণ করতো। সাম্প্রতিক সময়ে এই দায়িত্ব নেয় সুপ্রিম কোর্ট এবং সেখান থেকেই এটর্নিদের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়।
শনিবারের নির্বাচনে বার কাউন্সিলের  নির্বাহী সদস্য হিসেবে আরো ছয় জন নির্বাচিত হন।
রাজধানী মালে ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আদ্দু শহরে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৪৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ৯৫৫ জন ভোট দেন।
রোববার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। কারণ একজন প্রার্থী মাত্র ১ ভোটে পরাজিত হওয়ায় তিনি পুনর্গণনার আবেদন করেন। বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার সময় ওই পদে পুনর্গণনা চলছিলো।

জাতিসংঘের ‘লজ্জা তালিকায়’ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী

জাতিসংঘ শিগগিরই শিশু অধিকার লঙ্ঘনকারীদের নিয়ে কালো তালিকা তৈরি করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে, যেখানে ইয়েমেনে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের কড়া সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা হতে পারে বলে কূটনীতিক সূত্রে জানা গেছে, যদিও গত বছর ইয়েমেনে বাসে বোমা হামলায় কয়েক ডজন শিশু নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুটেরাস শিশু ও সশস্ত্র সঙ্ঘাত বিষয়ে আগামী ২ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকের আগ দিয়ে চলতি মাসের শেষের দিকে একটি বার্ষিক লজ্জা তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে ২০১৬ সালে জাতিসংঘের কালো তালিকায় রাখা হলেও সৌদি আরবের তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর সেটা সরিয়ে নেয়া হয়। সৌদি আরব জাতিসংঘের কর্মসূচিতে অর্থায়ন বন্ধের হুমকি দিয়েছিল।
রিয়াদকে শান্ত রাখতে জাতিসংঘ ২০১৭ সালে তালিকাকে দুটো ভাগে ভাগ করে এবং সৌদি কোয়ালিশানকে ‘সেকশান বি’তে স্থান দেয়। এই সেকশানে ইয়েমেনে শিশুদের মৃত্যু এড়ানোর জন্য সৌদি আরবের চেষ্টা ও তৎপরতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, শিশু ও সশস্ত্র সঙ্ঘাত বিষয়ক জাতিসংঘের দুত ভার্জিনিয়া গামবা আরও সুপারিশ করেছেন যাতে মিয়ানমার, সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদানের সশস্ত্র বাহিনীগুলোকেও সাব-সেকশানে স্থানান্তরিত করা হয় যেখানে শিশুদের রক্ষায় তাদের তৎপরতার বিষয়টি উল্লেখ করা হবে।
শূণ্য প্রতিশ্রুতি
এটা এখনই স্পষ্ট নয় যে, দূতের সুপারিশ গুটেরাস তার চূড়ান্ত রিপোর্টে গ্রহণ করবেন কি না। তবে মানবাধিকার গ্রুপগুলো এটা নিয়ে তাদের হতাশা জানিয়েছে।
ওয়াচলিস্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড কনফ্লিক্টের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর অ্যাড্রিয়ান লাপার বলেছেন, “অপরাধের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশের ব্যাপারে মহাসচিব গুটেরাসের এত গড়িমসি করা উচিত নয় এবং সকল অধিকার লঙ্ঘনকারীদের একটি একক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত”।
তিনি বলেন, “সৌদি ও আমিরাতের নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় যতক্ষণ ইয়েমেনে শিশুরা নিহত ও আহত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই জোটের কোন ফাঁপা বুলি বা আশ্বাসের কোন প্রশংসা করা যেতে পারে না”।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘ ডিরেক্টর লুই চারবোন্নিউ বলেছেন, “২০১৮ সালে এবং ২০১৯ সালের এ পর্যন্ত, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী অব্যাহতভাবে স্কুল ও হাসপাতালগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে, যেগুলোর সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে এবং ইয়েমেনে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের অন্যান্য অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে”।
তিনি আরও বলেন, লজ্জা তালিকার সেকশান বি-তে অন্তর্ভুক্ত করে এই জোটকে প্রশংসা করার কোন অর্থ হয় না।

নেতাদের ভুল স্বীকার করতে নির্দেশ মমতার by পরিতোষ পাল

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানে উদ্বিগ্ন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে সংগঠনের দায়িত্ব্ব নিয়ে দলের শুদ্ধিকরণে উদ্যোগী হয়েছেন। নির্বাচনের পরে দলে পর্যালোচনার সময় দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের আচার-আচরণ ও জনসংযোগের অভাব নিয়ে বহু অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে। সেগুলোর অধিকাংশই যে ভিত্তিহীন নয়, তার প্রমাণ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী নিজেও পেয়েছেন। আর তাই দলের শুদ্ধিকরণে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে তিনি পরামর্শদাতা হিসেবে সঙ্গে নিয়েছেন দেশের অন্যতম নির্বাচন কৌশলী বলে পরিচিত প্রশান্ত কিশোরকে। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে প্রশান্ত কিশোর তাদের সাফল্য এনে দিয়েছেন। সামপ্রতিক লোকসভা নির্বাচনেই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা অন্ধ্র প্রদেশে ওয়াই এস আর কংগ্রেসকে জয়ী করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। আর এবার প্রশান্ত কিশোরকে ডেকে আনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
মমতার ভাইপো তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই পিসিকে বুঝিয়েছেন প্রশান্ত কিশোরের সাহায্য নেবার জন্য। একাধিকবার প্রশান্ত কিশোর মমতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক করেছেন অভিষেকের সঙ্গেও। এমন কি বিভিন্ন জেলার নেতৃত্বকে নিয়ে মমতা যে বৈঠক করছেন তাতেও হাজির থাকছেন প্রশান্ত কিশোর। এই প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই নাকি মমতা দলের নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে অপ্রিয় নির্দেশ দিয়ে চলেছেন।
কয়েকদিন আগেই দলের নেতাদের কাটমানি  (বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ কেটে রাখা বা ঘুষ নেয়া) ফেরত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে দলের মধ্যে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হলেও মমতা কোনো কথাই বলছেন না। রাজ্যের প্রায় সর্বত্র কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের ঘেরাও করে মুচলেকা আদায় করা হচ্ছে। অনেকে অর্থ ফেরতও দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতির মাঝেই গত শুক্রবার দলের বিধায়কদের ভুল সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন।
মমতার পরামর্শ, কোনো ভুল হয়ে থাকলে এড়িয়ে যাবেন না। ভুলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জনসংযোগের মাধ্যমে তা শুধরানোর চেষ্টা করুন। বিধায়কদের অনেকের আচার-আচরণ, বিলাসী জীবনযাপন যে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার অন্যতম কারণ, তা বুঝিয়ে এদিন মমতা বলেছেন, সাধারণভাবে মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। বিধায়কদের সহজ-সাধারণ জীবনযাপন করতে হবে। বিধায়কদের অনেকের ঔদ্ধত্য যে ‘নেতিবাচক’ বার্তা দিয়েছে, তাও সংশোধনের চেষ্টা করতে পরামর্শ দিয়েছেন মমতা। মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে তা দ্রুত প্রতিকারের চেষ্টা করতেও বলেছেন তিনি।
এদিকে দলের নেতা ও কর্মীদের পুলিশ প্রশাসনের উপর ভরসা না করারও নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনের উপর নির্ভরতার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে যে ভুল বার্তা গিয়েছে সে কথাও মমতা দলকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।
বিজেপির ছাঁকনি নীতি
লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই অন্যদল থেকে নেতা-কর্মী ভাঙিয়ে আনা শুরু হয়েছে। বিজেপিতে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতাই নির্বাচনে জিতে সংসদ সদস্যও হয়েছেন। আর নির্বাচনের পরে অন্যদল, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেয়ার যে জোয়ার দেখা গিয়েছে তাতে দলের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে দ্বন্দ্ব। পুরনো নেতা-কর্মীরা নতুনদের মেনে নিতে পারছেন না। বীরভূমেই বিধায়ক মণিরুল ইসলামকে দলে নেয়া নিয়ে স্থানীয় স্তরে বিক্ষোভও হয়েছে। এরপরেই টনক নড়েছে দলীয় নেতৃত্বের। দলের মেন্টর হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পক্ষ থেকেও বিজেপি নেতাদের বেনোজল সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এর পরেই চালু করা হয়েছে ছাঁকনি নীতি।
বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দলে বেনোজল প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ সিলেকশন কমিটি তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদলের নেতা-কর্মীদের কারা বিজেপিতে যোগ দিতে পারবেন তাদের বাছাই করবেন এই কমিটি। দলে নতুন আসা অন্য দলের নেতা-কর্মীরা কী কাজ করবেন তাও ঠিক করে দেবেন এই কমিটি। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ছাঁকনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দলের মধ্যে নতুন-পুরাতনের দ্বন্দ্ব মেটানোর বার্তাই দেয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সভাপতি অমিত শাহ এই পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে কাটমানিতে অভিযুক্তদের দলে নেয়া হবে না বলেও ঘোষণা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয়। রাজ্যের দলীয় সাংসদ এবং বিধায়কদের বৈঠকে কৈলাস দাবি করেছেন, তৃণমূলের অনেক নেতা-মন্ত্রীই এখন বিজেপিতে যোগ দিতে ইচ্ছুক। তবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কাটমানিখোরদের দলে নেয়া হবে না। তাই সিলেকশন কমিটি করা হয়েছে।
দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বলেছেন, যারা কাটমানি নিয়েছে, বিজেপিতে তাদের এন্ট্রি এখন কাট। তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, রাজনৈতিক অর্বাচীনদের প্রতিটি কথার উত্তর দেয়ার প্রয়োজনই বোধ করছি না। তবে সততার প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বলেছেন, এক সময় বিজেপি যাকে ভাগতে বলেছিল, তাকেই এখন সসম্মানে দলে নিয়েছে। তিনিই এখন ঠিক করছেন, অন্য কাকে দলে নেবেন বা নেবেন না। তারপরে আর এসব কথা মানায় না।
গাছে পেরেক পুঁতলেই জরিমানা
পশ্চিমবঙ্গে গাছে পেরেক লাগানোর বিরুদ্ধে চালু হতে যাচ্ছে নতুন আইন। বিধি অনুসারে গাছের গায়ে পেরেক পোঁতা হলে জরিমানা করা হবে। বিধানসভার চলতি বর্ধিত বাজেট অধিবেশনে পুর দপ্তর রাস্তা, হাসপাতালসহ প্রকাশ্য জায়গায় থুতু ফেলা বন্ধে আইনে সংশোধনী এনেছে। এই আইনের আওতাতেই বিধি তৈরি করে পুর-এলাকায় গাছের গায়ে পেরেক পোঁতা বন্ধ করার ব্যবস্থা হচ্ছে।
বিধি নিয়ে বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, গাছের গায়ে পেরেক পুঁতে বিজ্ঞাপন দেয়ার প্রবণতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অথচ আমরা বলে থাকি, একটি গাছ একটি প্রাণ। পথে পথে ছোট-বড় গাছে পেরেক পুঁতে বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে দেয়া আমাদের সকলেরই নজরে পড়লেও কিছু পরিবেশবাদী সংগঠন ছাড়া কেউই প্রতিবাদ জানান না। গাছকে পেরেক পুঁতে ক্ষত-বিক্ষত করা যে অন্যায় সেই সচেতনতাই নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়নি। তাই যারা এগুলো লাগান তাদের কেউ বাধাও দেন না।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা এ নিয়ে ভাবিত নন। সরকারি স্তরে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই।
এক পরিবেশকর্মী জানান, গাছ কাটা ঠেকাতে আইন থাকলেও গাছের গায়ে পেরেক দিয়ে বিজ্ঞাপন সাঁটা মোকাবিলায় কোনো বিধি নেই রাজ্যে। গাছে পেরেক লাগানোর প্রবণতা রোধে প্রশাসনিক স্তরে সার্বিক পদক্ষেপও নেয়াও হয়নি কখনো। তবে এই প্রথম গাছে পেরেক পোঁতা বন্ধে পুর আইনের আওতায় বিধি তৈরি করতে চলেছে রাজ্য।
কলকাতায় পাখিদের জন্য বানানো হবে বাসা
নগর উন্নয়নের জন্য কলকাতা ও শহরতলি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পাখি। শোনা যায় না তাদের কিচিরমিচির। তারা বাসা তৈরির জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। আর তাই কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকাকে পাখিদের বাসযোগ্য করে তুলতে বাসা বানিয়ে দেয়া হবে।
তবে বাসা বলতে যা বোঝায় সেটি পাখিরা তৈরি করে বিভিন্ন জায়গা থেকে একটু একটু করে শুকনো ডালপালা, লতাপাতা, খড়কুটো সংগ্রহ করে। গাছের ডালে বা কোঠরে তৈরি করা বাসার মতো বাসা তৈরি করা সম্ভব নয়। পরিবর্তে গাছের ডালে ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে মাটির তৈরি হাঁড়ি। থাকবে আলাদা করে পানিরও ব্যবস্থা। রাজ্য বন দপ্তরের অধীনে যেসব গাছ ও পার্ক রয়েছে সেখানেই দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে পাখিদের কৃত্রিম বাসা।
এই কাজে ছাত্রছাত্রীদের যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে কিচির-মিচির প্রকল্প।
রাজ্যের নগর বিনোদন ও বনায়ন বিভাগের উপ বনপাল রবীন্দ্রনাথ সাহা বলেছেন, আমরা চাইলে নিজেরা পাখিদের বাসা বানানোর জন্য হাড়ি কিনে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা চাইছি, ছাত্রছাত্রীরা এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হোক। পাখিদেরও যে এই শহরে থাকার অধিকার রয়েছে সেই সচেতনতা গড়ে উঠুক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। আর সেজন্যই ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই হাড়ি কেনার টাকা দেবে। যে ছাত্র বা ছাত্রী মাটির হাঁড়ি কিনে দেবে তাকে বন দপ্তর একটি পরিচয়পত্র দেবে। সে হাঁড়িটিতে নিজের মতো করে স্লোগান লিখতে পারবে। হাঁড়িটিতে ছাত্র বা ছাত্রীর ছবিও লাগানো থাকবে। নিজের ইচ্ছেমতো তারা দেখে যেতে পারবে কোনো পাখি বাসা বেঁধেছে কিনা। পাখিপ্রেমীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। 
মধু কবির বাড়ি নিয়ে জটিলতা
কলকাতার খিদিরপুরে ২০বি, কার্ল মার্কস সরণির বাড়িটিতে বিভিন্ন সময় মিলিয়ে ১৭ বছর কাটিয়েছিলেন অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এখানে কবি সৃষ্টি করেছিলেন ‘মেঘনাদবদ কাব্য’সহ অনেক উল্লেখযোগ্য রচনা। অথচ আজ এই বাড়ির স্বীকৃতি আদায়ের লড়াই চলছে।
২০০৯ সালে বাড়িটিকে ‘হেরিটেজ’ বলে ঘোষণা করার পরও অধিগ্রহণ করা যায়নি। উল্টো বর্তমান বাড়ির মালিক প্রশ্ন তুলেছেন  বাড়িটিতে মধুসূদনের থাকা নিয়েই। ফলে আইনি জটিলতায় জর্জরিত মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজরিত বাড়িটি।
মধুসূদনের বাবা রাজনারায়ণ দত্ত  ১৮৩১ সালে খিদিরপুরের বাড়িটি কিনেছিলেন। পরের বছরই মধুসূদন তৎকালীন হিন্দু কলেজে ভর্তি  হয়েছিলেন। ১৮৪৩ সাল পর্যন্ত তিনি সেই বাড়িতেই ছিলেন এবং পরেও থেকেছেন, বিভিন্ন লেখায় তার উল্লেখ রয়েছে। তবে ১৮৬২ সালে বাড়ির একাংশ তিনি কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই হরিমোহনের কাছে বিক্রি করেছিলেন। সেখান থেকে একের পর এক মালিকানা বদল হয়েছে।
বাড়িটির বর্তমান মালিকানা দাবি করেছেন স্থানীয় এক প্রমোটার সালাউদ্দিন। তিনি বাড়িটি ভেঙে বহুতল করতে চান বলে অভিযোগ। ২০০৯ সালে আদালতে মামলা করেন সালাউদ্দিন।
সালাউদ্দিনের দাবি, মধুসূদনের থাকার কোনো নথি পুরসভা আদালতে পেশ করতে পারেনি। প্রমাণ না দিতে পারলে তিনি কেন মেনে নেবেন যে, এটা মধুসূদনের বাড়ি এবং সেটা কেন ‘হেরিটেজ’ করে দেয়া হবে। তাই তিনি তার অবস্থান থেকে নড়বেন না।
নিয়ম অনুযায়ী ‘হেরিটেজ গ্রেড-২ এ’-তে বলা হয়েছে যে, ওই ধরনের কোনো বাড়ির ফাঁকা অংশে নতুন নির্মাণ করা যেতে পারে, কিন্তু তা  যেন কোনোভাবেই হেরিটেজ ঢাকা না দিয়ে দেয়। তা মানুষ যেন স্পষ্ট দেখতে পায়। তবে এখন অবশ্য কলকাতা পুরসভা বাড়িটি গ্রেড ২ এ থেকে ২ বি তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে  প্রশাসন নিজের ইচ্ছামতো চাইলে ওই নির্মাণের পুনর্গঠনের ব্যবস্থা করতে পারে।  তবে আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি দেয়া যাচ্ছে না কবির বাড়িটিকে।

গবেষণা থামাবেন না অধ্যাপক ফারুক by সাদ্দিফ অভি

দুধে দুই দফা অ্যান্টিবায়োটিক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নানা মহলের রোষানলে পড়েন তিনি। তার গবেষণার মান এবং গবেষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান। গবেষণা নিয়ে আলোচনা হয় সংসদেও। দুধের প্রতিবেদন নিয়ে নানা মহল থেকে তাকে চাপ দেওয়া হয় বলেও গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুদান পেলে শত চাপ আসলেও গবেষণা চালিয়ে যাবেন বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন অধ্যাপক ফারুক।
গত ২৫ জুন এবং ১৩ জুলাই দুই দফা দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার কথা জানান অধ্যাপক ফারুক। তিনি প্রথম পরীক্ষার তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে জানান, মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো দুধের প্রায় প্রতিটি নমুনায় পাওয়া গেছে লেভোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এজিথ্রোমাইসিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক।
এছাড়া অপাস্তুরিত দুধের নমুনার একটিতে ফরমালিন এবং একটিতে ডিটারজেন্ট পাওয়ার তথ্য জানান তিনি। এরপর আবারও ১৩ জুলাই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি জানান, জারে বিক্রি হওয়া পাঁচটি কোম্পানির সাত ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত গরুর দুধে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষাতেও আরও বেশি পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে। প্যাকেটজাত এ ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে- মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগো দুধ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক ফারুক জানান, প্রথম দফায় দুধের নমুনা পরীক্ষা করে তিন রকম অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গিয়েছিল। এবার চারটি পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে পরীক্ষাটি পুনরায় করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এবারও আগের পাঁচটি কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেটজাত দুধের নমুনা এবং খোলা দুধের তিনটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ১০টি নমুনাতেই উদ্বেগজনক মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, এবার অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চার ধরনের। এগুলো হলো, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং লেভোফ্লক্সাসিন। এর মধ্যে আগেরবার ছিল না এমন অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে দুটি। তা হচ্ছে, অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিন। ১০টি নমুনার মধ্যে তিনটিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে চার রকমের। ছয়টিতে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে তিনটি এবং একটিতে দুই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দুধের প্রতিবেদন প্রকাশের পর নানা ধরনের চাপে আছি। সেগুলো বলে আর কি হবে? এ নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। এগুলো বলে কোনও লাভও নেই।
এদিকে রবিবার তার গবেষণার প্রাপ্ত তথ্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন তিনি। সংস্থাটি প্রথম গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর চিঠি দিয়ে তার কাছ থেকে তথ্যগুলো চায়। এই বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ চিঠিতে জানতে চেয়েছিল –কোথায় পরীক্ষা করেছি, কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে, কোন পদ্ধতিতে করা হয়েছে। আমি তাদেরকে সব তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে পেয়ে যাওয়ার কথা। যেভাবে যেভাবে যা চাওয়া হয়েছে সবই আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছি।
এই গবেষণা তিনি চালিয়ে যাবেন কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক ফারুক বলেন, ‘গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। এখন দেখি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি অনুমোদন দেয়, নিশ্চয়ই করবো। আগে যে কাজটি করেছি, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুদান নিয়েই করা। মন্ত্রণালয় যদি মনে করে কাজটি চলমান থাকুক, তাহলে করবো। আর না হলে অন্য কোনও উপায় থাকলে করবো।’

কার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল?

সম্ভাব্য এক যুদ্ধকে সামনে রেখে পুরোদমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইসরাইল। এমন তথ্য ফাঁস করেছেন ইসরাইলের এক মন্ত্রী। কার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্ততি নিচ্ছে ইহুদীবাদী দেশটি- সেটাও জানিয়েছেন ওই মন্ত্রী। ইরানের সাথে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা করছে তেল আবিব। আর সেটিকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে তাদের পুরোদমে প্রস্তুতি।
মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ইসরাইলের আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী জাশি হানেগবি শুক্রবার বলেছেন, ইরান ও তার সামরিক বাহিনীর সাথে আগামী দুই বছরের মধ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা করছি আমরা। তাই এ লক্ষ্যে চলছে যুদ্ধের প্রস্তুতি।
ওই মন্ত্রী একই সাথে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা ক্যাবিনেটেরও সদস্য। ‘ইসরাইল হায়োম’ পত্রিকার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরানের সাথে একটি যুদ্ধ হবার আশঙ্কা আছে। যুদ্ধ হবে কি হবে না সেটি নয়, এখন মূল বিষয় কবে হবে?
জাশি হানেগবি বলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের বিষয়টি ছায়া যুদ্ধকে ছাড়িয়ে সরাসরি যুদ্ধের পর্যায়ে পৌছে গেছে। ইরান ও আমাদের মধ্যে একটি যুদ্ধ হবে সরাসরি।
সিরিয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১০ হাজার যোদ্ধা কাজ করছে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের অধীনে। লেবাননের হিজবুল্লাহর অস্ত্রগারে এক লাখ ৬০ হাজার রকেট রয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে চলছে উত্তেজনা। হুমকি পাল্টা হুমকি চলছেই। পরমাণু চুক্তি থেকে বেড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরেনিয়াম মজুদ বাড়াতে চলছে। এর মধ্যে মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করেছ ইরান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এই উত্তেজনায় বাদ পড়ছে না ইসরাইল। ইরান তো বলেই দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করলে তারা ইসরাইলে হামলা করবে।

জঙ্গিদের জন্য বাংলা ভাষায় আল কায়েদার ‘আচরণবিধি’!

ভারতীয় উপমহাদেশের জিহাদি মুজাহিদিনদের জন্য আদর্শ আচরণবিধি প্রকাশ করল আল কায়েদা। বাংলা ভাষায় ওই আচরণবিধি একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে প্রকাশ করল আল কায়েদা।
শুধু এই অডিও বার্তাই নয়। আল কায়েদা তাদের অন্যতম শীর্ষনেতা আনওয়ার আল আওলাকির বিভিন্ন ভাষণ সঙ্কলিত করে বাংলায় ‘দ্য বুক অব জিহাদ’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে। আওলাকির ভাষণের বাংলা অনুবাদ করে সিডিও তৈরি করেছে বিশ্ব ত্রাস ওই জঙ্গি সংগঠন।
স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর, সম্প্রতি ইজরায়েল এবং আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ভারতকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সতর্ক করেছে আল কায়েদার ভারতে সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে। সূত্রের খবর, ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভারতে আল কায়েদার সংগঠন বিস্তারে মূল ফোকাস এলাকা দুটি। এক, কাশ্মীর এবং দুই পশ্চিমবঙ্গ সমেত পূর্ব ভারতের বাংলাভাষী এলাকা।
সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী আইএস-এর ধাঁচে নিজেদের প্রচার বিভাগকে সাজিয়েছে আল কায়েদা। ইসলামিক জঙ্গি কার্যকলাপের উপর নজর রাখা ভারতীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তা বলেন, ইসলামিক স্টেট (আইএস) জমি হারানো শুরু করার পরই পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশের বিভিন্ন প্রকাশ্য সংগঠনের মাধ্যমে আল কায়েদার তহবিলে বিপুল অঙ্কের টাকা ঢালা হচ্ছে।
আইএস-কে টেক্কা দিতে, ওই সংগঠনেরই ট্রেডমার্ক অনলাইন প্রচারকে হাতিয়ার করেছে আল কায়েদা। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা প্রায় দু’ডজন ওয়েবসাইট চিহ্নিত করেছেন যেখানে প্রকাশ্যে আল কায়েদার হয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। তার মধ্যে এক ডজনের বেশি ওয়েবসাইট বাংলায়। বাংলা ওই ওয়েবসাইটগুলি আল কায়েদার মতাদর্শ থেকে শুরু করে সংগঠনের শীর্ষ জিহাদি নেতাদের আরবি বক্তব্যকে বাংলায় ডাব করে প্রচার করছে। সেই সঙ্গে ওই ওয়েবসাইটের পড়ুয়াদের জন্য দেওয়া হচ্ছে অনলাইন প্রশিক্ষণ—কী ভাবে ফোন এবং ইন্টারনেটের উপর নজরদারি এড়ানো সম্ভব বা কী ভাবে নিজের মোবাইলে কোনও নির্দিষ্ট ফাইল গোপনে রাখা সম্ভব হবে।
এক শীর্ষ গোয়েন্দাকর্তা বলেন,‘‘মূলত ওয়ার্ডপ্রেসে ওই সাইটগুলি বানানো হচ্ছে। সাইটগুলিকে চিহ্নিত করে ব্লক করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সাইট খোলা হচ্ছে।”
অন্য এক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাকর্তা বলেন, সাইটগুলি বেশির ভাগই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন,‘‘লাদেন জীবিত থাকাকালীন আল কায়েদা কখনওই এ ভাবে সংগঠনের প্রচার করত না। বর্তমানে তারা এই নতুন পন্থা নিয়েছে।” আইএস বা আল কায়েদার মতো সংগঠনে এত দিন বাঙালিদের আলাদা কোনও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি, মার্কিন গোয়েন্দাদের বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, আইএস শিবিরেও, মূল বাহিনীতে ভারতীয় এবং বাঙালিদের যোদ্ধা হিসাবে কোনও সম্মান ছিল না। মূলত পশ্চিম এশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং আফ্রিকার মুজাহিদরাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ওই দুই সংগঠনে।
কিন্তু আল কায়েদার সাম্প্রতিক কার্যকলাপ থেকে গোয়েন্দারা নিশ্চিত যে এবার তারা সংগঠন বিস্তার করতে বাংলাভাষী মুজাহিদদেরই গুরুত্ব দিচ্ছে। তারা তাদের প্রচারে বাংলাভাষী শহিদদের কথাও ফলাও করে প্রচার করছে। আফগানিস্তানে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের এক জিহাদি আল কায়েদার হয়ে লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হয়। তার নামে গজল তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, এ ভাবে বাংলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আল কায়েদা দুই বাংলাতেই জিহাদি নিয়োগ শুরু করেছে। আর সেই নিয়োগে সাহায্য করছে জামাতুল মুজাহিদিনের মতো সংগঠন।
স্বরাষ্ট্র দফতরের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, আল কায়েদা প্রতি সপ্তাহে একটি উপ-মহাদেশীয় সংবাদ বুলেটিন প্রচার করছে যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সমেত দেশের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ক্যানিং লোকালে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনাও জায়গা পেয়েছে ওই বুলেটিনে। গোটা প্রক্রিয়াটিকে উস্কানিমূলক খবর দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে মগজধোলাই করার পরিকল্পনা বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এ রাজ্যে সক্রিয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে চিহ্নিত করেছেন। ওই সংগঠনগুলি দাবি করে, তারা নিপীড়িত মুসলিম মানুষদের জন্য কাজ করে। গোয়েন্দাদের দাবি, ওই প্রকাশ্য সংগঠনগুলিই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জিহাদের বীজতলা তৈরি করছে। রাজ্য পুলিশের এক কর্তাও স্বীকার করেন, সম্প্রতি বৈষ্ণবনগরে এক যুবককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আচমকাই অশান্তি ছড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায়। ওই অশান্তির ক্ষেত্রেও ওই ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সরাসরি ভূমিকা পাওয়া গিয়েছে। ওই পুলিশকর্তা বলেন, খুব পরিকল্পিত ভাবেই সাধারণ একটি দুর্ঘটনা বা অপরাধের ঘটনাকেও অন্যদিকে মোড় দেওয়ার চেষ্টা করছে ওই ধরনের কিছু সংগঠন।
আল কায়েদার এই বাংলাকেন্দ্রিক প্রচার যে আরও বড় কোনও অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে সে ব্যাপারে দ্বিমত নেই কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের।

জরুরি সেবার গাড়ি কি ‘টোল ফ্রি’ হবে by আমানুর রহমান রনি

জরুরি সেবার গাড়ি
জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে এখনও ‘জরুরি’ হিসেবে স্বীকৃত নয়। ‍উল্টো টোল আদায়ের নামে হয়রানির অভিযোগ আছে। কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি আটকে দেওয়ায় সেতু কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর সরকার জরুরি সেবার ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সকে ‘টোল ফ্রি’ করার কথা ভাবছে।

তবে গত কয়েক বছরে এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়কে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আলমগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রোগী ও লাশ বহনে সময়ের প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা উন্নত করা হলেও এ-সংক্রান্ত আধুনিক নীতিমালা নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করা হলেও এ কাজে গতি আসেনি।’

নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সের আসন, রুট-পারমিট নিয়েও পুলিশ মামলা দেয়। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ২২ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বরাবর আবেদন করে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেড। আবেদনটি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর পাঠিয়ে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।’ রবিবার (৭ জুলাই) ডিএমপি সদর দফতরে এ বিষয়ে একটি সভা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

আলমগীর বলেন, “সারাদেশে আমাদের অসংখ্য অ্যাম্বুলেন্স জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর  হয়েও সেবা নিশ্চিত করে। তাদেরও টোল দিতে বাধ্য করা হয়।”

তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান মোটরযান আইনটি ১৯৮৪ সালের। এর সংশোধন দরকার। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও হয়নি।’

সবকিছু যুগপোযোগী করা দরকার বলে মত দিয়ে আলমগীর বলেন, ‘ওই সময় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে ব্যবসায়িক মনোভাব ছিল না। এখন সেবাটি বাণিজ্যিক হয়েছে। তবে আইনটি বাণিজ্যিকভাবে এখনও পুনর্গঠিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘চার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে আটকে আছে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নীতিমালা। স্বরাষ্ট্র, সড়ক পরিহন ও সেতু, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, সেতু পারাপারের সময় অ্যাম্বুলেন্সকে মাইক্রোবাস বিবেচনা করে টোল আদায় করা হয়।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর তাদের গাড়ি ‘টোল ফ্রি’ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কয়েক দফা লিখিতভাবে জানিয়েছে। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

অধিদফতরের মহাপরিচালক সাজ্জাদ হোসাইন জানান, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের অধীন বঙ্গবন্ধু সেতু ও মুক্তারপুর সেতু। এই সেতু দুটিতে রাষ্ট্রপতি ছাড়া সবাইকেই টোল দিতে হয়। ভবিষ্যতে এই সেতুতে জরুরি সেবার গাড়ির জন্য টোল মওকুফের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. সামসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু করা হয়েছে। এই সেতুর বিষয়টি আলাদা। এখানে রাষ্ট্রপতি ছাড়া কেউ টোল ফ্রি যেতে পারে না।’

ওই দু'টি ছাড়া দেশের অন্য সেতুগুলো সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের অধীনে। এসব সেতুতে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি টোল ফ্রি চলাচল করে বলে দাবি করেছে সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ অধিদফতর।

প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা) মো. আশরাফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ি টোল ফ্রি সুবিধা পায়। অ্যাম্বুলেন্সকেও কোনও কোনও সেতু টোল ফ্রিতে যেতে দেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে মাইক্রোবাস হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে পরে অ্যাম্বুলেন্স করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে তাদের কাছে টোল চাওয়া হয়।’