Tuesday, May 23, 2023

একটি অটিজম শিশু একটি পরিবারের কান্না by ডা. এমএ হক, পিএইচ.ডি

ঘটনা (১) সালাম সাহেব (ছদ্মনাম) একজন সফল ব্যবসায়ী। উত্তরায় নিজের বাড়ি। তার একমাত্র সন্তান আশিক (ছদ্মনাম) বয়স ১২ বছর, একজন অটিস্টিক শিশু। সালাম সাহেব বর্তমানে ব্যবসা ত্যাগ করে বাসাতেই থাকেন। তার কথা ব্যবসা করে কী হবে? কার জন্যই বা ব্যবসা করবো?

ঘটনা (২)  রহমান সাহেব (ছদ্মনাম) একজন চাকরিজীবী। তার মেয়ে সুইটি (ছদ্মনাম) বয়স ১২ বছর, একজন অটিস্টিক শিশু। প্রায় ৮ বছর ধরে তারা তাদের গ্রামের বাড়িতে, কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাসায় অথবা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে বেড়াতে যান না। সুইটি কোনো সামাজিকতা বোঝে না। সে প্রায়ই হাইপার হয়ে যায়। ফলে, অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়।
দিন দিন তারাও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের একটাই চাওয়া এরা যেন নিজের ভালো-মন্দ ঠিকমতো বুঝতে পারে এবং নিজের কাজকর্ম ঠিকমতো করতে পারে। তা না হলে আমাদের মৃত্যুর পরে এদের কী হবে?
এ ধরনের সমস্যা আজ সালাম সাহেব বা রহমান সাহেবের একার নয়? এ সমস্যা শুধু ঢাকা শহরেই কয়েক লাখ অভিভাবকের; সমগ্র দেশে এর সংখ্যা আরও অনেক। এ সকল পরিবারের পিতা-মাতা দিন দিন নিজেদের কাজকর্মে অনীহা দেখাচ্ছেন। তাদের কারও কারও কথা-বার্তার মধ্যেও মানসিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে। দিন দিন তারা যেন সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এদের উন্নয়নে কাজ করছে বলে জোর প্রচারণা চলছে। এ সকল প্রচেষ্টা অটিস্টিক শিশু ও তাদের অভিভাবকদের কতটুকু উপকার করতে পারছে?

বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে এ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, ইউনানি ও আয়ুর্বেদি এই ৪ প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতির স্বীস্কৃতি দেওয়া আছে। শুধুমাত্র এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসকগণ এর কার্যকরি কোনো ওষুধ নেই বলে মত প্রকাশ করেছেন। আমরা কি অন্য ৩ প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতির শরণাপন্ন হয়েছি? বিশেষ করে হোমিওপ্যাথি? হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে অটিজমসহ নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারের সকল শাখার চিকিৎসা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন আন্তরিক গবেষণা। নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারের চিকিৎসায় বিশেষ করে অটিজমের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ গবেষণার অন্তর্ভুক্ত করলে চিকিৎসার সফলতা নিশ্চিত আসবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এখন সময় শুধু দৃষ্টিভঙ্গি বদলিয়ে এ বিষয়ে আন্তরিক হওয়ার। তাহলেই কেবলমাত্র এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অটিজম শিশুদের চিকিৎসার মাধ্যমে স্বভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ব্যতিত শুধুমাত্র প্রচারের মাধ্যমে এ সকল পরিবারের কান্না কখনও থামবে না থামানো সম্ভবও না। পরিশেষে, সরকারি-বেসরকারি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট আহ্বান, আর সময় নষ্ট না করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিন এবং লক্ষ্য রাখুন যেন প্রতিটি অটিজম শিশু সঠিক চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে এবং এ সকল পরিবারের অভিভাবকদের কান্নার অবসান ঘটে।
লেখক:  ডা. এমএ হক, পিএইচ. ডি (স্বাস্থ্য), এম. ফিল (স্বাস্থ্য), ডিএইচএমএস। চিকিৎসক ও গবেষক (ক্রণিক ডিজিজ অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার)।

চেম্বার: ড. হক হোমিও ট্রিটমেন্ট এন্ড রিসার্স সেন্টার, বিটিআই সেন্ট্রা গ্রান্ড, গ্রাউন্ড ফ্লোর (জি-৪), ১৪৪ গ্রীন রোড, পান্থপথ, ঢাকা। মোবাইল: ০১৭১২-৪৫০ ৩১০


মেয়েদের চর্মরোগ অ্যাকজিমা হলে by ডা. দিদারুল আহসান

বিভিন্ন চর্মরোগের মধ্যে হাতের অ্যাকজিমা অন্যতম। মেয়েরা, বিশেষ করে যারা পানির কাজ করেন বেশি, সারাদিন সাবান বা সোডা জাতীয় জিনিসের সংস্পর্শে আসেন, কাপড়-চোপড় বা বাসনকোসন পরিষ্কার করেন, তারা সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত হন বেশি। শুধু নারীরা নন, যেসব পেশায় অনেকক্ষণ পানির কাজ করতে হয় বা সাবান দিয়ে বার বার হাত ধুতে হয়, সেসব পেশার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হন বেশি।

অ্যাকজিমা হলে শুরুতে আঙ্গুলগুলো লাল ও শুকনা হয়ে ফেটে যায়। হাতের চামড়ায় ফোসকা পড়ে। অনেক সময় ত্বক ফেটে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। আঙ্গুলে আংটি থাকলে এর চারপাশে অ্যাকজিমা প্রকট হয়ে ওঠে। কারণ, আংটি একই স্থানে থাকে। ফলে পানি ও সাবান আংটির তলায় জমা হয়।
অনেক সময় কিছু সবজি বা খাবার, যেমন আদা, পিয়াজ, টমেটো, গাজর, ডুমুর, কুমড়া, বেগুন, পেঁপে ইত্যাদির অ্যালার্জি থেকেও হাতে অ্যাকজিমা হতে পারে। খাবারের প্রোটিন জাতীয় অংশ প্রায়ই অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। এরমধ্যে রয়েছে আলু, গম, খোলযুক্ত চিংড়ি, কাঁকড়া ইত্যাদি।
এ ছাড়া গ্লাভসসহ প্লাস্টিকের পণ্য ও নিকেল জাতীয় ধাতবের সংস্পর্শ, ফাইলোডেনড্রেন, পার্থোনিয়াম ইত্যাদি গাছ বা প্যারাফিনাইল ডাই-অ্যামাইন রং (চুলের কলপে ব্যবহৃত হয়) থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট রাসায়নিক থেকেও অ্যালার্জি দেখা দেয়।

চিকিৎসা
একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা নিলে ভালো থাকা যায়। অনেক সময় পরীক্ষার মাধ্যমে এ অ্যালার্জির কারণ জানতে হয়। যাদের সব সময় পানি বা সাবান নিয়ে কাজ করতে হয়, তারা কাজের সময় কিচেন গ্লাভস পরে নিতে পারেন। হাত শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন। কাজ শেষে হাত মুছে ফেলুন। আবার ব্যবহৃত গ্লাভস যেন পরিষ্কার ও শুকনা থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
লেখক: চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ, কনসালট্যান্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজী হাসপাতাল, ঢাকা। সেল-০১৭১৫-৬১৬২০০


পমপম চক্রের কব্জায় ২০,০০০ তরুণীর নগ্ন ভিডিও

২৩ মে ২০২৩, মঙ্গলবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ভয়ঙ্কর এক সাইবার অপরাধী চক্রের সন্ধান পেয়েছে। চক্রের অধিকাংশ সদস্য প্রকৌশলী। দীর্ঘদিন ধরে তারা হাজার হাজার কিশোরী-তরুণীদের গোপন ভিডিও সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। তাদের কব্জায় প্রায় ২০ হাজার আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব ভিডিও দিয়ে তৈরি করা ৩০ হাজার কন্টেন্টও রয়েছে। আপত্তিকর ভিডিও চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে ও ভুক্তভোগীদের আইডি হ্যাক করে সংগ্রহ করে। পরে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি সাইটে ছড়িয়ে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এছাড়া আপত্তিকর ভিডিও দেশে-বিদেশে বিক্রি করেও বড় অংকের টাকা আয় করেছে। তাদের ফাঁদে পড়ে হাজার হাজার তরুণীর রাতের ঘুম হারাম হয়েছিল। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছিলেন তাদের অভিভাবকরা।

রাত-দিন কান্নাকাটি ও আকুতি-মিনতি করেও চক্রের সদস্যদের দিয়ে কন্টেন্ট সরাতে পারেনি তরুণীরা। উপায়ন্তর না পেয়ে বিভিন্ন তরুণী অভিযোগ নিয়ে আসেন সিআইডি’র সাইবার পুলিশের কাছে। অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পায় সিআইডি। পরে আন্তর্জাতিক একটি টেলিগ্রাম চক্রের মূলহোতাসহ ৯ জনকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- চট্টগ্রামের শ্যামলী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আবু সায়েম ওরফে মার্ক সাকারবার্গ (২০), বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মশিউর রহমান শুভ (২৬), সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. সাহেদ খান (২২), নর্থসাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী কেতন চাকমা (২০), ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজমুল হাসান সম্রাট (২২), তেজগাঁও কলেজের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. মারুফ হোসেন (৩৪), চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুনাইদ বোগদাদী শাকিল (২০), বেসরকারি চাকরিজীবী মো. জসিম উদ্দিন (৩৮) ও শাহরিয়ার আফসান অভ্র (২৪)।
গতকাল মালিবাগের নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, ভুক্তভোগীরা আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, তাদের ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম আইডি হ্যাক করে পমপম নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ গোপন ছবি ও ভিডিও হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা দাবি করছে। টাকা দিতে না পারলে ভিডিও কলে এসে আপত্তিকর কর্মকাণ্ড করতে বাধ্য করছে। আর কোনো প্রস্তাবেই সাড়া না দিলে নাম-পরিচয় আর ব্যক্তিগত তথ্যসহ লাখ লাখ সাবস্ক্রাইবারের টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোতে ভাইরাল করে দিচ্ছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি’র সাইবার পুলিশের একটি দল কাজ শুরু করে। আমরা দেখতে পাই, গ্রুপটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছ থেকে যে কেবল টাকা আয় করে তা নয়, চক্রটি ওইসব ভিডিও দেশে-বিদেশে বিক্রি করেও কোটি টাকা আয় করেছে। মাসে এক থেকে দুই হাজার টাকা সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, পর্তুগাল, কানাডা, আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের মতো দেশের অসংখ্য ক্রেতা গ্রুপটির সদস্য হয়েছেন। তারা অল্পবয়সী মেয়েদের আপত্তিকর ওইসব কন্টেন্ট ক্রয় এবং সংরক্ষণ করে থাকেন।
তিনি বলেন, চক্রটির নেতৃত্ব দেয় মার্ক-সাকারবার্গ নামের এক ব্যক্তি। তার আসল নাম আবু সায়েম। বেকার সায়েম থাকে চট্টগ্রামে। তার বিভিন্ন একাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। পরে আরাফাত নামের এক ভুক্তভোগী ও তার প্রেমিকার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি পমপম গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ায় ডিএমপি’র তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মার্ক-সাকারবার্গ চক্রের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিআইডি’র একটি টিম চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মার্ক ওরফে সায়েমকে গ্রেপ্তার করে। মার্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু শাহরিয়ার আফসান অভ্রকে চট্টগ্রামের হাউজিং এলাকা থেকে এবং বোগদাদী শাকিলকে উখিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, মার্ক ওরফে সায়েমের মোবাইল ফোন তল্লাশি করে মার্ক-সাকারবার্গ আইডিটি লগইন করা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আবু সায়েমই মার্ক সাকারবার্গ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পমপম গ্রুপের যতগুলো চ্যানেল এবং গ্রুপ আছে তার এডমিনদের আসল নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। এডমিনদের কাজ ছিল সায়েমের হয়ে নতুন নতুন কন্টেন্ট যোগাড় করা। নতুন কন্টেন্ট পেতে তারা ফেইক এনআইডি বানিয়ে ভুক্তভোগী তরুণীদের সাবেক প্রেমিকেরাই নতুন নতুন কন্টেন্ট দিচ্ছে।
সম্পর্ক চলাকালীন প্রেমিকার যেসব অন্তরঙ্গ মুহূর্ত প্রেমিকরা ক্যামেরাবন্দি করেছে, প্রতিশোধের নেশায় সেগুলো তুলে দেয় চক্রের কাছে। সায়েম তার এডমিনদের দিয়ে সেগুলোতে মিউজিক বসিয়ে, ফেসবুক আইডি থেকে ছবি নিয়ে ৩০-৪০ সেকেন্ডের প্রমো বানিয়ে আপলোড করে তার গ্রুপগুলোতে। প্রমো দেখে যারা ফুল-ভার্সন দেখতে চায়, তাদের ১ থেকে ২ হাজার টাকার পুরোটা কিনতে হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান বলেন, সায়েম, অভ্র এবং শাকিলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের ডিভাইস তল্লাশি করে সায়েমের বিভিন্ন পেজের এডমিনদের আসল পরিচয় উদ্ধার করা হয়। তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ডিটিআর শুভ ওরফে মশিউর রহমান। মশিউরের দায়িত্ব ছিল গ্রুপ থেকে কৌশলে কন্টেন্ট সেভ করে রাখা এবং নানা প্রলোভনে তরুণীদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও হাতিয়ে নেয়া। মশিউর চট্টগ্রামের একটি ফিশিং কোম্পানিতে চাকরি করে। অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকে কর্ণফুলী এলাকা থেকে তার সহযোগী জসীমসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সায়েম এবং মশিউরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় এই এডাল্ট গ্রুপগুলোর এডমিনদের অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করছে। ফলে তাদের বেইলী রোড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে গেটটুগেদারের ফাঁদ পাতা হয়। ফাঁদে পা দিয়ে একে একে গ্রেপ্তার হয় গুরুত্বপূর্ণ এডমিন ক্যাকটাস ওরফে কেতন চাকমা, এল ডোরাডো ওরফে শাহেদ, তূর্য ওরফে মারুফ এবং মিঞা ভাই ওরফে নাজমুল সম্রাটকে।
সিআইডি আরও জানায়, সায়েম এবং তার সহযোগীদের গ্রুপ ও চ্যানেলগুলোয় সাবস্ক্রাইবের সংখ্যা প্রায় সোয়া চারলাখ। আর সেগুলোতে ২০ হাজার আপত্তিকর ভিডিও এবং প্রায় ৩০ হাজার কন্টেন্ট রয়েছে। মাসিক ফি দিয়ে তাদের প্রিমিয়াম গ্রুপের সদস্য হয়েছেন দেশ-বিদেশের ৭৫০ জন ব্যক্তি। তাদের সম্পর্কে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিস্তারিত তথ্য পেয়েছেন। তরুণীদের আপত্তিকর কন্টেন্ট কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, এই কাজটি ছিল ভীষণ স্পর্শকাতর একটি কাজ। ফলে তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগী কিশোরী মেয়েদের কান্না, তাদের আপত্তিকর ভিডিও গ্রুপগুলো থেকে সরিয়ে নিতে এডমিনদের প্রতি করুণ আকুতি, আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আমরা জেনেছি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। বোনের ভিডিও সরিয়ে নিতে ভাইয়ের কান্নাও আমাদের চোখে পড়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীদের অনেকেই এই অসহায়ত্বের কথা কাউকেই বলতে না পেরে ক্রমেই মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হয়েছে। এই চক্রে যারা জড়িত তারা সমাজের জঘন্য এবং ঘৃণিত মানুষ। তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। ফলে আমরা এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং তদন্ত করারও পরিকল্পনা করেছি। তাহলে কেবল টেলিগ্রাম চক্রের হোতারাই নয়, তাদের দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা যাবে।


কিশোরীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কিশোরীকে ভাড়া করে এনে পতিতাবৃত্তি করার সময় স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভূঞাপুর থানায় তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে গোপালপুর উপজেলার নলীন এলাকা থেকে কিশোরীসহ স্বামী ও স্ত্রীকে গোপালপুর থানা পুলিশ আটক করে ভূঞাপুর থানায় সোপর্দ করে। গ্রেপ্তার মিন্টু (৩৮) উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া গ্রামের হবি মণ্ডলের ছেলে এবং তার স্ত্রী তানিয়া (৩২)। এ ছাড়া সাতক্ষীরা থেকে আনা ওই কিশোরী ভূঞাপুর থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। জানা যায়, মিন্টু ভূঞাপুর পৌরসভার ফসলান্দি এলাকায় নুরুল ইসলামের বাসা ভাড়া নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী এনে দেহ ব্যবসা করেন। এই ব্যবসায় তার স্ত্রীও জড়িত ছিল। গত মার্চের ২৩ তারিখে সাতক্ষীরা থেকে একজন কিশোরীকে ভূঞাপুর নিয়ে এসে ব্যবসা শুরু করেন।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ওই কিশোরীকে দিয়ে পতিতাবৃত্তির কাজ করানো হয়। শুক্রবার মিন্টু ও তার স্ত্রী তানিয়া ওই কিশোরীকে গোপালপুরের নলীন এলাকায় একটি বাসায় নিয়ে যায় পতিতাবৃত্তির জন্য। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে কিশোরীসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরার ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মিন্টু ও তার স্ত্রী তানিয়ার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।  এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, ওই কিশোরীকে সাতক্ষীরা থেকে এনে মিন্টু ও তার স্ত্রী ব্যবসা করাতো। এ ছাড়া তার স্ত্রীও পতিতাবৃত্তির কাজ করতেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শনিবার তাদের কোর্টে প্রেরণ করা হবে। এ ছাড়া সাতক্ষীরা থেকে আনা ওই কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানান, ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মিন্টু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে।