Saturday, August 12, 2017

৪০ হাজার রোহিঙ্গা বহিষ্কার করবে ভারত- রাখাইন রাজ্যে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোয় জাতিসঙ্ঘের উদ্বেগ

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি।
জেনেভা থেকে গতকাল শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতি তিনি বলেন, এ ঘটনা একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি বাহিনী যাতে সব পরিস্থিতিতে সংযত এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, মিয়ানমার সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইয়াংহি লি বলেন, ‘গত অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যের মংডু ও রুথিডংয়ে সীমান্তরক্ষীদের তিনটি চৌকিতে হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়টি স্মরণ করে আমি বিশেষভাবে শঙ্কিত।’
মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ার বলেন, রাখাইন রাজ্যের ঘটনা তদন্তে গঠিত মিয়ানমার সরকারের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিশন নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ নানা অপরাধের অভিযোগ সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছে। কমিশন এগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দেখার পরামর্শ দিয়েছে।
তিনি বলেন, রাখাইনের সংখ্যালঘু স্থানীয় জনগোষ্ঠির কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ৩ আগস্ট ছয়জন ম্রো গ্রামবাসীকে হত্যা করা হয়েছে।
ইয়াংহি লি বলেন, রাজ্যের নিরাপত্তা বিধান করা এবং চরমপন্থীদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব সরকারের রয়েছে। কিন্তু এ দায়িত্ব সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ পক্ষপাত করতে পারে না। নিরাপত্তা বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ বা অভিযান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সংক্ষিপ্ত বিচারে মৃত্যুদণ্ড বিষয়ক জাতিসঙ্ঘের স্পেশাল রেপোর্টিয়ারও ইয়াংহি লি’র মতামতকে সমর্থন দিয়েছেন।
এদিকে রয়েটার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থান করা ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমানকে ফেরত পাঠানোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে আলোচনা করছে ভারত।
এতে বলা হয়, উদ্বাস্তু বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) নিবন্ধন নিয়ে ১৪ হাজার রোহিঙ্গা ভারতে বসবাস করছে। বাকী রোহিঙ্গাদের অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠাতে চাইছে ভারত। ভারত উদ্বাস্তু বিষয়ক জাতিসঙ্ঘ সনদ সই করেনি এবং দেশটির জাতীয় কোনো আইন দ্বারা উদ্বাস্তুরা সুরক্ষিত নয়।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কে এস ধাতওয়ালি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাথে এ ব্যাপারে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। যথাসময়ে তা আরো পরিষ্কার হবে।’
ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরন রাজ্জু গত বুধবার পার্লামেন্টে বলেছেন, জেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করার জন্য রাজ্য সরকারগুলোকে নিদের্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
১৯৯০ সালের গোড়া থেকে মিয়ানমার সরকারের দমন-পীড়ন ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের একটি অংশ সীমান্ত দিয়ে ভারতেও গিয়েছে। রোহিঙ্গারা মূলত ভারতের জম্মু, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ ও রাজস্থানে বসবাস করছে।

৪০ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছাড়া করতে চায় ভারত

ভারতে বসবাসরত প্রায় ৪০ হাজার অবৈধ রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠাতে চায় মোদি সরকার। এজন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এ উদ্দেশে একটি টাস্কফোর্স গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোকে নির্দেশও দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এসব তথ্য জানায়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কেএস ধাতওয়ালিয়া বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। উপযুক্ত সময়ে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে। ভারতের দাবি, দেশটিতে বসবাসরত মাত্র ১৪ হাজার রোহিঙ্গা জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত। বাকি রোহিঙ্গারা অবৈধ। তাই এদের দেশছাড়া করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভারত জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক কনভেনশনের সিগনেটরি রাষ্ট্র নয়। জানা যায়, দমন-পীড়নের শিকার হয়ে ১৯৯০ সাল থেকে বৌদ্ধ সংখ্যাঘরিষ্ঠ মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ভারতের দাবি, মিয়ানমার থেকে ভারতে এসে বসবাস করা রোহিঙ্গা মুসলমানের সংখ্যা কমপক্ষে ৪০ হাজার। সমুদ্র পথ ছাড়াও চীন ও বাংলাদেশ হয়েও রোহিঙ্গারা ভারতে প্রবেশ করে। রোহিঙ্গারা মূলত ভারতের জম্মু, উত্তর প্রদেশ, হারিয়ানা এবং উত্তরে দিল্লিতে, দক্ষিণে হায়দরাবাদে এবং পশ্চিমে রাজস্থানে বসবাস করছে। বুধবার ভারতের রাজ্যসভায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত পাঠাতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু। অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করা এ মুসলিমদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠাতে জেলা পর্যায়ে ওই টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রিজিজু সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মিয়ানমার সফর করেন। তবে সেখানে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে তাৎক্ষণিকভাবে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত বা ফেরত পাঠানো হবে ‘একেবারেই অযৌক্তিক’। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের জ্যেষ্ঠ একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে নয়াদিল্লি সাহায্য করছে।

হিজাব খোলার ক্ষতিপূরণ সাড়ে ৬৮ লাখ টাকা!

জোরপূর্বক হিজাব খুলে নিয়ে বিপাকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগ। ক্রিস্টি পাওয়েল নামে এক মার্কিন মুসলিম নারীর হিজাব খুলে নেয়ায় তাকে সাড়ে ৬৮ লাখ টাকা (৮৫ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগকে। ধর্মীয় ও পোশাকের স্বাধীনতায় আঘাত হানার অভিযোগে এ রায় দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচ শহরের একটি আদালতের পক্ষ থেকে এ রায় দেয়া হয়। রায়ের সময় ক্রিস্টির পক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)। খবর লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের। ২০১৫ সালের মে মাসে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ক্রিস্টিকে আটক করে পুলিশ। সেসময় তাকে জনসম্মুখে হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করে সিএআইআর। পরে পুলিশের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে একটি মামলা করেন ক্রিস্টি। মামলার শুনানিতে সিএআইআর আরও জানায়, ক্রিস্টি তার ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে হিজাব পরেন। কিন্তু পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর তাকে সারারাত হিজাব ছাড়াই রাখা হয়। ওই পরিস্থিতি ক্রিস্টির জন্য খুবই বিব্রতকর ছিল। রায়ের পর লং বিচ শহরের অ্যাটর্নি মন্টে ম্যাচিট জানান, এখন থেকে পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য কোনো নারীর হিজাব খোলার প্রয়োজন হলে, শুধু নারী পুলিশ সদস্যরাই তা করতে পারবেন। এছাড়া জনসম্মুখে হিজাব খুলতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না। এ বিষয়ে ক্রিস্টি বলেন, ‘আমার মতো অবস্থায় অন্য কাউকে যেন পড়তে না হয়।’

রাজনীতি হচ্ছে ভরা হাতে আসবো, খালি হাতে যাবো

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আমি যদি অ্যাটর্নি জেনারেল না হতাম তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা পরিচালনার সুযোগ পেতাম না। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ, তিনি আমাকে সে সুযোগ করে দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কাজিরপাগলা এ বি ইন্সটিটিউশনে বই বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাহবুবে আলম বলেন, রাজনীতির অর্থ তাই না- খালি হাতে আসবো, আর ভরা হাতে যাবো; রাজনীতি হচ্ছে ভরা হাতে আসবো, খালি হাতে যাবো। দেশ সেবার অর্থ হচ্ছে- আপনাকে খালি হাতে ফেরা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পড়াশুনার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের জানতে হলে প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে, সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। এসময় বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীসহ বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। আগামী ১৩, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। শনিবার ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নূর তাপস। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সারাদেশের আইনজীবীদের সংক্ষুব্ধ করেছে। একটি মহল রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। সংগঠনটির দাবি, রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে হবে।

'মুক্তামণির রক্তনালীর টিউমার অপারেশন সফল'

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামণির অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামণির ডান হাতের রক্তনালীর টিউমারের অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। তার হাত রক্ষা করে মাংস কেটে ফেলা সম্ভব হয়েছে। মুক্তামণির হাত ঠিক আছে। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচারের পর মুক্তামণির জ্ঞান ফিরেছে। সে চিকিৎসকদের কথায় সাড়া দিচ্ছে। শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে দিকে তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার শেষ হয়। অস্ত্রোপচার শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান  ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের এই চিকিৎসক। মুক্তামণিকে বর্তমানে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে (নিবির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) রাখা হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের তৃতীয় তলার অপারেশন থিয়েটারে মুক্তামণির অস্ত্রোপচার শুরু হয়।
তার অপারেশন ঘিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ মনিটর বসানো হয়। মুক্তামণির ডান হাতের রক্তনালীতে থাকা টিউমার অপারেশন করা হবে বলে গত ৮ আগস্ট জানিয়েছিলেন ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা। এর আগে ৫ আগস্ট তার ডান হাতের বায়োপসি করা হয়। বায়োপসি রিপোর্টে মুক্তামণির রক্তনালীতে টিউমার ধরা পড়ে। বয়োপসি রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের পর ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছিলেন, ভালো লক্ষণ যে মুক্তামনির শরীরে ক্যানসার ছড়ায়নি। তখন তিনি বলেছিলেন, আমরা জানি এ অস্ত্রোপচারে যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। জীবনরক্ষার জন্য মুক্তামণির হাতও কাটতে হতে পারে। বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামণিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। মুক্তামণির চিকিৎসার জন্য বোর্ড গঠনসহ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে, ভূমিধসের আশঙ্কা

মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়া ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়া মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এ কারণে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদ মোঃ বজলুর রশিদ জানান, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। তিনি বলেন, এসময় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার এবং ৮৯ মিলিমিটার থেকে তারও০ অধিক পরিমাণ অথি ভারি বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিশেষ বার্তায় পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় (তিনদিন) আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়, বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (আজ সকাল ৬ টা পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে তেতুলিয়ায়। এছাড়া রংপুরে ১৫৯, সিলেটে ১১৭, ময়মনসিংহ ১০০, রাজশাহী ৮৬, চট্টগ্রাম ৮৩ ও ঢাকায় ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

মুক্তামণির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামণির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে দিকে তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার শেষ হয়।   বর্তমানে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে (নিবির পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) রাখা হয়েছে। বার্ন ইউনিটের একজন আবাসিক চিকিৎসক যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অস্ত্রোপচার বিষয়ে চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান পরে এ নিয়ে ব্রিফিং করবেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই চিকিৎসক। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের তৃতীয় তলার অপারেশন থিয়েটারে মুক্তামণির অস্ত্রোপচার শুরু হয়। তার অপারেশন ঘিরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে অত্যাধুনিক সরঞ্জামসহ মনিটর বসানো হয়। মুক্তামণির ডান হাতের রক্তনালীতে থাকা টিউমার অপারেশন করা হবে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকরা। এর আগে গত শনিবার তার ডান হাতের বায়োপসি করা হয়। বায়োপসি রিপোর্টে মুক্তামণির রক্তনালীতে টিউমার ধরা পড়ে। বয়োপসি রিপোর্ট পর্যবেক্ষণের পর ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছিলেন, ভালো লক্ষণ যে মুক্তামনির শরীরে ক্যানসার ছড়ায়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি এ অস্ত্রোপচারে যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। জীবনরক্ষার জন্য মুক্তামণির হাতও কাটতে হতে পারে। বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামণিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। মুক্তামণির চিকিৎসার জন্য বোর্ড গঠনসহ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।

আবারও শপথ ভঙ্গ করলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল

মন্ত্রী পদে থেকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করে শপথ ভঙ্গের কাজ করেছেন বলে মনে করছেন বিশিষ্ট আইনজীবীরা। তাদের মতে, মন্ত্রীর বক্তব্যে দৈন্যতাই ফুটে উঠেছে। এ ধরনের ব্যক্তিরা কিভাবে মন্ত্রী পদে বহাল থাকে- সে প্রশ্নও তুলেছেন তারা। এ ধরনের অভিযোগেই গত বছর খাদ্যমন্ত্রীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে আপিল বিভাগ বলেছিলেন, তিনি (খাদ্যমন্ত্রী) শপথ ভঙ্গ করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের জিল্লুর রহমান মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তার (প্রধান বিচারপতি) যদি সামান্যতম জ্ঞান থাকে, সামান্যতম বুঝ থাকে, তাহলে তার স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া উচিত। তা না হলে সেপ্টেম্বর মাস থেকে আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন। এখন আর চোখ বুজে থাকার কোনো সুযোগ নেই। আর কোনো রক্তচক্ষু সহ্য করব না। অবশ্যই আমরা তার অপসারণ চাই।’ প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে খাদ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্য দিতে পারেন কিনা- জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, ‘খাদ্যমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নীতিনৈতিকতা ও শিষ্টাচারের দৈন্যতাই ফুটে উঠেছে। আমাদের দুর্ভাগ্য এ ধরনের ব্যক্তিরাই বছরের পর বছর মন্ত্রী পদে বহাল থাকেন।’ এই বক্তব্য দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী আদালত অবমাননা করেছেন কিনা জানতে চাইলে ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘যাদের নিজেদের আত্মসম্মান বোধ নাই, তাদের পক্ষে অন্যের মানসম্মানের বিষয়টা অনুধাবন করা অসম্ভব।’ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্য প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী যা বলছেন, তা আদালত অবমাননার চেয়েও বেশি। এটা অশালীন বক্তব্য। একজন মন্ত্রীর কাছে দেশের মানুষ এটা আশা করে না। মন্ত্রী হিসেবেও তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। এর আগেও এই খাদ্যমন্ত্রী প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে আদালত অবমাননার দায়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন। এটা হয়তো তিনি ভুলে গেছেন। কারণ কামরুল ইসলাম প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন- তা একজন মন্ত্রী দিতে পারেন না।’ এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুূল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘দেশে এখন ভদ্রতা, শিষ্টাচার এগুলো এখন নাই। এই নিয়ে চিন্তা করে লাভ নাই। নির্বাচন ছাড়া এই ধরনের একটা সরকারকে যে জাতি সহ্য করতে পারে, তাদের তো এগুলো সহ্য করতেই হবে। একজন মন্ত্রী প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। পাগলের দেশেও এটা হয় না। আমরা একটা অসভ্য ব্যবস্থার মধ্যে আছি।’ মন্ত্রীর বক্তব্যে শপথ ভঙ্গ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা আইনকানুনের কথা নয়, এটা সভ্যতার কথা। প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে পৃথিবীর কোনো দেশের মন্ত্রী এই ধরনের কথা বলেন না। আমরাও চাই না, বারবার আদালত অবমাননার বিষয়টি সামনে আনা হোক। মন্ত্রীর বক্তব্য অশালীন।’ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ.ম রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিষয়ে আমরা শনিবার (আজ) বৈঠকে বসছি। সেখানে সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের অবস্থান জাতিকে জানাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে যা বলছেন, তা বিচ্ছিন্নভাবে বলা হচ্ছে। ব্যক্তি বিশেষের বক্তব্য নিয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ বিশিষ্ট আইনজীবীদের এই মন্তব্য সম্পর্কে জানতে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। উল্লেখ্য, গত বছর এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে বাদ দিয়ে পুনরায় জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানি করাসহ তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আদালত অবমাননা হয়েছে বলে মন্ত্রীকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। তিনি শপথভঙ্গ করেছেন বলেও রায়ে উল্লেখ করেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ পাঁচ বিচারপতি রায়ে বলেন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম তাদের শপথভঙ্গ করেছেন। একই অভিযোগ আনা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধেও। তার বক্তব্য নিয়েও একই রায় দেয়া হয়। ওই সময় আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ রায়ের পরে আইনগতভাবে ওইদিন থেকেই খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম পদচ্যুত হয়েছেন। পাবলিক সার্ভেন্ট (ডিসমিসাল অন কনভিকশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮৫ অনুযায়ী আদালতের রায়ে সরকারি কোনো কর্মচারীর ১ হাজার টাকার বেশি জরিমানা হলে তারা আপনা-আপনিভাবে বরখাস্ত হয়েছেন বলে ধরে নেয়া হবে। ওই আইন অনুসারে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার সময় থেকেই খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বরখাস্ত হয়েছেন। আর সর্বোচ্চ আদালত বলছেন, তারা শপথ লংঘন করেছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে 'দেশের আসল চেহারা' উন্মোচিত হয়েছে

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে 'দেশের বর্তমান অবস্থার আসল চেহারা' উন্মোচিত হওয়ায় সরকারের গাত্রদাহ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার সকালে এক দোয়া মাহফিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘আজকে যখন সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের বর্তমান অবস্থার আসল চেহারা তুলে ধরেছেন, তখন তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে এখন তাদের খুব দুঃসময়। দুঃসময় কেনো? বলছে যে এখন নাকী ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে।” ‘‘ তোমরা রাষ্ট্র চালাতে পারো না, ব্যর্থ হও। এয়ারপোর্টের মধ্যে তিনতলায় আগুন লাগে, সমস্ত বন্ধ করে দিতে হয়। হজযাত্রীরা যেতেও পারছেন না একটার পর একটা সমস্যা তৈরি হয়ে যাচ্ছে, তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তোমরা ঢাকা শহরের রাস্তা ঠিক করতে পারো না। বাইরের কথা বাদই দেন।” মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘ আমরা বার বার বলছি, এই সরকার বিশেষ করে এই রায়ের পর্যবেক্ষণের পরে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, এদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় বসে থাকার। জোর করে বসে আছে, বন্দুক-পিস্তল দিয়ে বসে আছে, পেছনে বন্দুক-পিস্তল না থাকলে দাঁড়াতেও পারবে না এক সেকেন্ড-এটাই হচ্ছে মূল কথা।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে উন্মুক্ত আলোচনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অংশ নিলে তাদেরকে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ‘লাঠি-সোঠা-অস্ত্র’ নিয়ে বের করে দেয়ার ঘটনায় কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র।
আবার বলে কিনা দেশে তো গণতন্ত্র আছে, গণতন্ত্রের ওপর কোনো আকাশ ভেঙে পড়লো যে, আপনাদেরকে সহায়ক সরকার দিতে হবে?” ‘‘ আমাদেরকে তোমরা সাধারণ সভা করতে দাও না, আমাদেরকে মাঠের মধ্যে জনসভা করতে দাও না। ঢাকার বাইরে গতকালও চাঁদপুর থেকে আমাকে টেলিফোন করেছিলো ম্যাডামের আরোগ্য কামনায় মিলাদ করতে চেয়েছিলো তাদেরকে বাইরে মিলাদ করতে দেয়নি। শেষে মসজিদের ভেতরে গিয়ে তারা মিলাদ করেছে, সব জায়গায় এসব কাজ করছে। এখন সেখানে তাদের ভয় যদি মিলাদ করতে গিয়ে এসে বসে পড়ে, এখান থেকে আবার যদি আন্দোলন শুরু না হয়ে যায়, সেখানে ক্ষমতা চলে যায়।” জাতীয়তাবাদী যুব দলের নেতৃত্বকে তাদের সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ দেন ফখরুল। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী যুব দলের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশু আরোগ্য কামনায় এই দোয়া মাহফিল হয়। গত ৮ আগস্ট লন্ডনের মুরফিল্ড আই হসপিটালে খালেদা জিয়ার ডান চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয়। যুব দলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু'র পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় যুব দলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু বক্তব্য রাখেন। দোয়া মাহফিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুব দলের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম নয়ন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তফা কামাল রিয়াদ, গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিজ ভেঙ্গে ২ ট্রাক খালে, ১১ রুটে যান চলাচল বন্ধ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় দুটি পাথরবোঝাই ট্রাকসহ বেইলি ব্রিজ ভেঙ্গে খালে পড়ে গেছে। এতে বরগুনা, পাথরঘাটার, মঠবাড়িয়া সঙ্গে পিরোজপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনাসহ ১১টি রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ওই রুটে চলাচলকারী জনসাধারণ। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খুলনা-পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে মাদার্শী নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, পাথরবোঝাই দুটি ট্রাক একসঙ্গে মাদার্শী ব্রিজের  উপর ওঠায় ব্রিজটি ভেঙ্গে ট্রাক দুটি খালে পড়ে যায়। ঘটনার পর থেকে ট্রাক দুটির চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন। পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফখরুল ইসলাম জানান, ব্রিজটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক উঠার কারণে ব্রিজটি ভেঙ্গে গেছে। ট্রাক দুটি উদ্ধারের জন্য বরিশাল থেকে ক্রেন আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিগগিরই ট্রাক দুটি উদ্ধার করা হবে। তবে ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ করতে আরো এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জের সাত উপজেলায় প্রাইমারি স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত

সুনামগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পাউবোর দেয়া তথ্যমতে শনিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে বন্যার পানি বিভিন্ন স্কুল ও স্কুল সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করায় জেলার সাতটি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, দিরাই ও  ধর্মপাশা উপজেলায় পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়োজীদ খান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, উল্লেখিত উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আজ শনিবার ও আগামীকাল রোববারের  পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তঅ বলেন, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্কুল ও স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দু'টি বিষয়ে পরীক্ষা আবার নেয়া হবে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের ওপাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পরিমাপ অনুযায়ী সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রাতে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাউবোর দেয়া তথ্যমতে আজ শনিবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় জেলার সবকটি নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে কয়েকশ পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মাছচাষীরা। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিরখলা সড়ক ঢলের পানিতে ডুবে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ তাহিরপুরে সড়কে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ফতেহপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের বেশ কয়টি অংশ বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। বন্যায় জেলার রোপা আমনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জাহেদুল হক যুগান্তরকে জানান, রোপা-আমন যা রোপন করা হয়েছিল তা পানিতে তলিয়ে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে পানি না কমলে ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ পর্যন্ত জেলার তাহিরপুর, দোয়ারা বাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও সদর উপজেলার প্রায় এক হাজার হেক্টর রোপা-আমন পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি প্রশাসনের রয়েছে। যেখানে যা প্রয়োজন সেখানে সেরকম সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। ইতোমধ্যে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সব স্থরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৫ সেমি উপরে

উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু এলাকা ও ঘর-বাড়ি। বিশ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ভোর ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শুরু করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের সবকটি জলকপাট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এছাড়া কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে পানি বেড়েছে বুড়ি তিস্তা, চারালকাটা, বুড়িখোড়া, যমুনেশ্বরী, খড়খড়িয়া, দেওনাই, খেড়ুয়া, শালকি, নাউতারা, কুমলাই, ধুম, ধাইজান, চিকলি, আউলিয়া খানা নদীতে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের সবগুলো গেট খুলে দেয়া হয়েছে।

খোয়াইয়ে ২১০ ও তিস্তায় বিপদসীমার ২৫ সেমি উপরে পানি

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ২১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে শুক্রবার রাত থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিদসীমার ২১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। খোয়াই নদীর পানি আরও বাড়ার আশংকা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাওহীদুল ইসলাম জানান, খোয়াই নদীর উৎপত্তিস্থল ভারতে। বাংলাদেশে শুক্রবার থেকে ভারি বর্ষণ হচ্ছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। তবে এখনও পর্যন্ত নদীর বাঁধের কোনো স্থানে অতিঝুঁকির খবর পাওয়া যায়নি জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সবধরনে প্রস্ততি রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন খোয়াই নদীর পানি হঠাৎ আশংকাজনভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তখন বিপদসীমার ২৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। ওই সময় নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনের গুজব ছড়িয়ে পড়লে আতংকিত হয়ে উঠেন শহরবাসী। এবারও নদীর বাঁধ ভাঙনের আশংকায় শহরবাসীর মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।

সোয়া ২ কেজি কোকেনসহ আটক ৬

খুলনা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ২৫০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ছয় মাদক চোরাকারবারীকে আটক করা হয়। শুক্রবার দিনগত রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কোকেনসহ তাদের আটক করা হয়। র‌্যাব-৬ খুলনার সিনিয়র এডি জাহিদ হোসেন জানান, সংঘবদ্ধ মাদক চোরাকারবারীরা খুলনা নগরীর বিভিন্ন স্থানে কোকেন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা নগর জুড়ে অভিযান চালায়। এসময় মাদক চোরাচালান চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করে তাদের কাছ থেকে মোট ২ কেজি ২৫০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কোকেনের মূল্য প্রায় ২২ কোটি টাকা। আটককৃতদের র‌্যাব- ৬’এর সদর দফতরে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বাহুবলে ইমাম পরিবর্তন নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ২

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবলে মসজিদ কমিটি ও ইমাম পরিবর্তনের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক। শনিবার ভোর রাতে উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মুগকান্দি জামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মুগকান্দি গ্রামের সাবু মিয়ার ছেলে কবির আখনঞ্জী (৪৫) ও একই গ্রামের মতিন মিয়া (৫০)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মুগকান্দি জামে মসজিদের কমিটি গঠন ও ইমাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে শুক্রবার জুম্মার নামাজে সাতকাপন ইউপি চেয়ারম্যান মুগকান্দি গ্রামের আবদাল মিয়া আখনঞ্জী গ্রুপের সোহেল মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের শফিক মাস্টারের বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জের ধরে বাদ জুম্মা উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-শিশুসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। শনিবার ভোরেও তারা ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো একজনের মৃত্যু হয়।  সংঘর্ষে নারীসহ অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে বাহুবল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি রাসেলুর রহমান জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জের ২ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

পাহাড়ি ঢল ও টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে শুক্রবার রাতে তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী জাঁদুকাঁটা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে শুক্রবার রাত থেকে এ বন্যা পরিস্থিরি সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাহিরপুরের আনোয়ারপুর বাজারের ৫০ দোকানের কয়েক কোটি টাকার মালামাল পানিতে ভেসে গেছে। তাহিরপুরের উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া শুক্রবার রাতে যুগান্তরকে জানান, বাজারের পাশের সড়ক ও বাঁধ ভেঙ্গে ৫০টি দোকানের মালামাল পানিতে ভেসে গেছে। দোকানের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা যুগান্তরকে জানান, শুক্রবার উপজেলার ১১টি গ্রামের কয়েক হাজার লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ জানান, পাহাড়ি ঢল ও তিন দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, জেলার সুরমা নদীর পানি শুক্রবার সন্ধার পর থেকে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী জাঁদুকাঁটা, পাটলাই, বাগলী ছড়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি করনীয় নির্ধারনে জরুরি বৈঠকে করেছেন।

উজানের ঢল ও বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বর্ষণে নীলফামারী, খুলনা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওয়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিতে হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষকের রোপা আমন-আউশ ধান ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ডুবে গেছে গ্রামীণ সড়ক। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। নওগাঁর নিয়ামতপুরে ক্ষুদ্র পানিসম্পদ প্রকল্পের বাঁধের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। ফের বন্যায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
নীলফামারী ও ডিমলা
নীলফামারীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া নিন্ম আয়ের লোকজন। তিন দিন ধরে নীলফামারীতে চলছে অবিরাম বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া অবিরাম বর্ষণে চারালকাটা, ধাইজান, বুড়িতিস্তা, খড়খড়িয়া, ঘাঘট, ধলেশ্বরী, বুড়িখোড়াসহ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৪টি নদীর পানি বেড়েছে। ফলে নদীগুলোর তীরবর্তী গ্রামগুলো হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু এলাকার আমন ক্ষেত।
নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
নিয়ামতপুর উপজেলার বহড়াঘাটির খাড়িতে এলজিইডি নির্মিত ক্ষুদ্র পানি প্রকল্পের বাঁধের ওপর দিয়ে অতিরিক্ত বর্ষণের পানি চলে যাচ্ছে নিচের দিকে। এতে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে নয়নাভিরাম জলপ্রপাতের।
খুলনা
ডুমুরিয়া উপজেলার সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অতিবৃষ্টি এবং ভদ্রা নদীর উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামগুলো। বদ্ধ হয়ে থাকা পানির কারণে ওই সব গ্রামের সব বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় পানি আটকে রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। গাছপালার পাতায় লালচে আবরণ পড়তে শুরু করেছে। এলাকাবাসী জানায়, ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর, ঘোষড়া, বাদুড়িয়া, কাকুড়পাড়া, বেতাগ্রাম, আটলিয়া, সুভাশুনির ৭টি গ্রাম অতি বৃষ্টি, ভদ্রা নদীর উজানের পানি, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ
জেলার সবকটি নদীর পানি বেড়েছে। সুরমা নদীর পানি শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, শাল্লা ও দোয়ারাবাজার এবং সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার পাহাড়ি নদী জাদুকাটা, চেলা, রক্তি, বৌলাইসহ হাওরের পানিও কয়েক ফুট বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন শুক্রবার বিকাল ৫টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলাগুলোতেও সভা করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে ঠাকুরগাঁওয়ে টানা দু’দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুক্রবার সারাদিন প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় ঘরবন্দি কাটায় শহর কী গ্রামের মানুষ। টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। নদীনালা, খাল-বিল বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে।
বেসরকারি সংস্থা সিডিএ জানায়, শ্রাবণের শেষের দিকে এ রকম ভারি বৃষ্টি হবে তা ভাবায় যায়নি। এ বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরবাড়ির এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে মৌসুমি শাকসবজি ও মরিচ ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নিচু জমির আমন চারা তলিয়ে গেছে।
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
আখাউড়া উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের রোপা আমন ও আউশ ধানের ফসলি জমি, বসতঘরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া পানিতে ডুবে গেছে গ্রামীণ সড়ক। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়ন, মনিয়ন্দ, মোগড়া ও ধরখার- এ ৪টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচশ’ হেক্টর রোপা আমন ও আউশ পাকা ধানের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন যুগান্তরকে জানান, তার ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের রোপা আমন ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। নিচু এলাকায় সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পুকুরে মাছ ভেসে গিয়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
শুক্রবার ভোররাত থেকে শুরু হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলায় সারাদিন টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে কমলগঞ্জের ধলাই নদীসহ সবগুলো পাহাড়ি ছড়ায় পানি বেড়ে গেছে। পানি বাড়া অব্যাহত থাকলে রাতের মধ্যেই ধলাই নদীতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম
জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমারসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীতে পানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। ফলে দ্বীপচর ও নদ-নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে চর, দ্বীপচর ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৫ হাজার মানুষ। ধরলা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীতে ৪৬ সেমি., ব্রহ্মপুত্রে ২৬ সেমি. দুধকুমরে ৫৪ সেমি. ও তিস্তায় ৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজীবপুরের চরাঞ্চলের বেশ কিছু ঘরবাড়িতে দ্বিতীয় দফা পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
সিলেট
গোয়াইনঘাটে ২ মাসের ব্যবধানে ফের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বর্ষণের ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন উপজেলার মানুষজন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার কারণে পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে দুটি পাথর কোয়ারিও। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। শুক্রবার পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ি, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।

বৃষ্টিতে দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেয়াল ধসে মাটিচাপা পড়ে নাহিদা আক্তার নামে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নাহিদার অপর বোন নাঈমা আক্তার (৪) আহত হয়েছে। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের উত্তর পাঁচাউন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা দেওয়ান রায়হান আহমদ জানান, দিনভর ভারি বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে উপজেলার পাঁচাউন গ্রামের আলাল মিয়ার ঘরের মাটির দেয়াল ভেঙে পাশ্ববর্তী আবদুল মালিকের ঘরের ওপরে পড়ে। এতে আবদুল মালিকের দুই মেয়ে নাহিদা ও নাঈমা মাটিচাপা পড়ে। আশে পাশের লোকজন মাটি সরিয়ে নাহিদা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমা আক্তারকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল সরকারী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন শ্রীমঙ্গল থানার এসআই রাব্বি।

গিনেস বুকের স্বীকৃতি পেলেন হালিম

মাথায় ফুটবল নিয়ে সাইকেল চালিয়ে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করার রেকর্ড গড়েছেন ফুটবল জাদুকর আবদুল হালিম। গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার তাকে এ স্বীকৃতি দিয়েছে। মাগুরার শালিখা উপজেলার অজপাড়াগাঁ ছয়ঘরিয়া গ্রামের সাধারণ কৃষক সানাউল্লাহ পাটোয়ারির ছেলে আবদুল হালিম এর আগে ফুটবল নিয়ে নৈপুণ্য দেখিয়ে আরও দু’বার বিশ্ব সেরার স্বীকৃতি পান। ফুটবলপাগল হালিম ২০১১ সালে প্রথম বিশ্বরেকর্ড গড়ে গিনেস বুকে নাম লেখান। সেটি ছিল ২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে মাথায় ফুটবল নিয়ে ১৫.২০ কিলোমিটার পথ হাঁটা। এরপর ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো স্বীকৃতি পান ২৭.৬৬ মিনিটে ১০০ মিটার রোলার স্কেটিংয়ের জন্য। ওই দুটি রেকর্ডের কারণে ফুটবল জাদুকর হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিতি পান তিনি। এবার তৃতীয়বারের মতো স্বীকৃতি পেলেন সাইকেল চালানো অবস্থায় মাথায় বল নিয়ে ১৩.৭৪ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য। এ নতুন রেকর্ডের জন্য হালিম গত ৮ জুন দুপুর ১১.৫৩ মিনিটে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে বল মাথায় নিয়ে সাইকেল চালানো শুরু করেন। কিন্তু বাতাসের প্রচণ্ড ঝাপটায় দুপুর ১টা ১২ মিনিটে তার মাথা থেকে বল পড়ে যায়।
ততক্ষণে তিনি ১৩.৭৪ কিলোমিটার অতিক্রম করে ফেলেন, যা নতুন রেকর্ড। দু-দু’বার বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী হালিম নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য ২০১৬ সালে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। সেসময় তারা কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার সীমা নির্ধারণ করে দেয়। তাদের বেঁধে দেয়া সীমার চেয়ে বেশি পথ অতিক্রম করেন হালিম। তিনি ১ ঘণ্টা ১৯ মিনিটে ১৩.৭৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। ভিডিওতে ধারণ করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো ভিডিও, স্থিরচিত্রসহ অন্যান্য প্রমাণাদি গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হয়। সেসব বিচার-বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় আবদুল হালিমকে নতুন রেকর্ডের স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ। হালিম বলেন, ‘এই আনন্দ বিশ্ব জয়ের। এর প্রকাশ কীভাবে করবো জানি না। আমার জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের সাথেই। আমি চেয়েছি এটি করতে এবং তার জন্য নিয়মিত পরিশ্রমের ফসল হিসেবেই পাওয়া সম্ভব হয়েছে।’ দরিদ্র কৃষক পরিবারের সস্তান প্রথম দুটি বিশ্বরেকর্ড অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ব স্বীকৃতি পেলেও দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে কোনো স্বীকৃতি না দেয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সিংগাইরে শিশু ধর্ষিত : নানা পলাতক

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মধ্য ধল্লা গ্রামে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে নানা আনোয়ার আলী (৪৫)। শুক্রবার বিকাল ৩টায় আনোয়ার আলী তার নিজ ঘরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ভিকটিমের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, বিকাল ৩টার দিকে শিশুটি তার সহপাঠী তামান্নার সঙ্গে খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এ সময় শিশুটির মায়ের চাচা মৃত মতি মিয়ার ছেলে আনোয়ার আলী শিশুটির মুখ চেপে ধরে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। নির্যাতিত শিশুটি তার মা ও প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি জানায়। এ সময় অভিযুক্ত আনোয়ার আলী গা-ঢাকা দেয়। শিশুটির মা জানান, আমি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় এক মাস ধরে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকি। এ সুযোগে আমার চাচা এমন অমানবিক ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। ধর্ষক আনোয়ার আলীর বোন মরিয়ম বলেন, সে এলাকাছাড়া। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার আলীর স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকেন। এ ব্যাপারে ধল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, চৌকিদারের মাধ্যমে ঘটনাটি শুনেছি। সত্য হলে ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আমরা আবার দুঃসময়ে পতিত হয়েছি: ওবায়দুল কাদের

দেশে আবারও চক্রান্তের রাজনীতি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আমরা আবার দুঃসময়ে পতিত হয়েছি, চক্রান্তের মুখে পড়েছি। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি সুপ্রিমকোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মনে হয় ক্ষমতার সিংহ দরজার কাছাকাছি চলে এসেছে। তারা আবার গর্ত থেকে ওঠে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে। শুক্রবার বিকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, তাই আজ আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। আমাদের মানসিক, রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে এ অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শেখ হাসিনার অর্জনকে পণ্ড করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। একটি দল বিষধর সাপের মতো সুযোগ পেলেই ছোবল মারে। জনগণকে পাশে পায় না। আবার গর্তে ঢুকে যায়। ইস্যুর পর ইস্যু খোঁজে। সব ইস্যুই তাদের মাঠে মারা যায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এদের রাজনীতির পথে সংকটের দীর্ঘ ছায়া পড়ে। তাই এরা সন্ত্রস্ত। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির শাসনামল মানেই হল সারি সারি লাশ। লুটপাটের হাওয়া ভবনের অপর নাম হচ্ছে বিএনপি।
তারা আবার ক্ষমতায় এলে দেশ ভয়ঙ্কর অমানিশায় পতিত হবে। এ অপশক্তিকে ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি জেনে খুব খুশি হয়েছি স্বেচ্ছাসেবক লীগে টাকা দিয়ে কোনো পদ দেয়া হয় না। এটা খুব খারাপ, কিন্তু এটা যারা করে তারা দলের, নিজের এবং দেশের ক্ষতি করে। আমি তোমাদের অনুরোধ করব যোগ্য কর্মীদের মূল্যায়ন করতে। দল ভারি করার জন্য খারাপ লোকদের এ পার্টিতে জায়গা দেবে না। খারাপ লোকদের নিয়ে দল ভারি করা আমাদের দরকার নেই। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, আগস্ট মাসে আমরা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। শোক করি, চোখের পানি ফেলি। আমাদের আজ মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ কোনো শোকের নাম নয়, তিনি আজ  চেতনার নাম, এক শক্তির নাম। এ দিনে আমরা শপথ নেব বঙ্গবন্ধুর চেতনায় মানুষের মতো মানুষ হব। তার মতো কর্মী হব। কর্মী থেকে নেতা হব। লড়াই করব সংগ্রাম করব। ভোগ করব না, ত্যাগ করব। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ  দেবনাথের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের  প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নুর তাপস প্রমুখ।

বিশেষজ্ঞের উত্তর

ডা. একেএম মাহমুদুল হক (খায়ের), ত্বক, যৌন, অ্যালার্জি ও কসমেটিক সার্জন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা। ফোন : ০১৭১৯২১৯৪২৯
প্রশ্ন : আমি বিবাহতা। বয়স ২৪। প্রায় ২ বছর যাবত আমার মাথা ও শরীরে চুলকানিসহ ত্বকের বাকল উঠে যাচ্ছে। চিকিৎসা নিলে কমে কিন্তু আবার দেখা দেয়। এ এক অসম্ভব যন্ত্রণা। আমি সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হতে চাই।
- রূপসী, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
উত্তর : আপনার রোগটি সম্ভবত: সেবোরিক ডারমাটাইটিস। এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আপনি নিশ্চয়ই সেরে উঠবেন।
প্রশ্ন : আমি বিবাহিত। বয়স ৪১। এ বয়সে আমরা দাম্পত্য কলহ শুরু হয়েছে। কারণ বর্তমানে আমার স্ত্রীর সঙ্গে স্নায়ুর সমস্যা হচ্ছে। এর কোনো চিকিৎসা আছে কি না।
- আনার হোসেন, বরিধারা, ঢাকা।
উত্তর : আপনার সমস্যাটির বর্তমানে কোনো পার্শ্বক্রিয়া ছাড়াই সফল চিকিৎসা সম্ভব। এ জন্য আপনার দেহের হরমোন এনালাইসিস করতে হবে। দেরি না করে করে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রশ্ন : আমি অবিবাহিতা। বয়স ১৯। আমার কপালে, ঠোঁটে ও বুকে সাদা দাগ হচ্ছে। দিনদিন বেশি সাদা হচ্ছে। এটি কি শ্বেতিরোগ। প্রতিকার কি?
- অনুপমা, আজিমপুর, ঢাকা
উত্তর : আপনার রোগটি মনে হচ্ছে শ্বেতি রোগ। খালি চোখে না দেখলে কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এখন এটি কোনো ভাবনার কারণ নয়। আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসায় কোনো পার্শ্বক্রিয়া ছাড়াই নিরাময় করা সম্ভব।
প্রশ্ন : আমি অবিবাহিত। বয়স ২৮। আমার হাত ও পায়ে অতিরিক্ত ঘাম ও গন্ধ হচ্ছে। এতে আমি অফিসে কাজ করতে পারছি না। এটি আমার জন্য বিড়ম্বনা। অনেক চিকিৎসা নিয়েছি। ভালো হচ্ছে না। তাই আপনার শরণাপন্ন হলাম।
-মি. আসগর আলী, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
উত্তর : ঘাম এখন একটি জটিল সমস্যা। তবে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। আপনার সম্ভবতঃহরমোনজনিত সমস্যা হয়েছে। তাই দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ ত্বক বিশেষজ্ঞের শরনাপন্ন হন।

ফিস্টুলা নিয়ে কিছু কথা

কোনো কোনো সার্জনের ভুল ধারণা রয়েছে, জটিল ফিস্টুলা অপারেশন করতে পেটে কৃত্রিম মলদ্বার (colostomy) করতে হবে। আমি মনে করি কোনো জটিল ফিস্টুলার অপারেশনে (colostomy) করার প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে আমি কয়েকটি রোগীর অপারেশন করেছি যাদের ইতিমধ্যে ১ বা ৩ বার অপারেশন হয়েছিল এবং এর মধ্যে দু-একবার (colostomy) করেও অপারেশন করা হয়েছিল; কিন্তু অপারেশন ব্যর্থ হয়েছে। এদেরকে আমি (colostomy) না করেই অপারেশন করেছি এবং তারা ভালো হয়েছেন। তবে ব্যতিক্রমী কিছু ফিস্টুলা আছে যার জন্য কলোস্টমি করতে হয় যার সংখ্যা অত্যন্ত কম।
জটিল ফিস্টুলা অপারেশন সিটন প্রযুক্তি
আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে হিপোক্রেটিস এই প্রযুক্তির ধারণার জন্মদাতা। এ প্রযুক্তিতে মলদ্বারের মাংসপেশিকে অত্যন্ত ধীরে ধীরে কাটার ব্যবস্থা করা হয়। ২-৩ সপ্তাহে কাটা সম্পন্ন হয়। রাবার ব্যান্ড অথবা পেনরোজ ড্রেইন টিউবের সাহায্যে মাংসপেশিকে বেঁধে দেয়া হয়।এ প্রযুক্তির কারণে স্থানীয়ভাবে প্রদাহের সৃষ্টি হয় যার কারণে মাংসপেশি দূরে সরে যায় না। এটি কত দিন পরপর ব্যবহার করতে হবে এবং কী কৌশল অবলম্বন করতে হবে তা বেশ বৈচিত্র্যময়। এটি নির্ভর করছে যে সার্জন অপারেশন করবেন তার ওপর। ইতিমধ্যে আমি চট্টগ্রামের একজন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অত্যন্ত জটিল একটি ফিস্টুলা অপারেশন করেছি। এর আগে তিনি ১৯৯৪ সালে একজন অভিজ্ঞ সার্জন দ্বারা অপারেশন করান; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সফল হননি। এরপর তিনি অপারেশনের জন্য আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে আমাকে দিয়ে অপারেশন করান। তার তিনটি ফিস্টুলার মধ্যে দুটি অত্যন্ত জটিল ছিল। প্রথম দিন অপারেশনে আমি সিটন প্রয়োগ করি। ৭ দিন পর এটি অপসারণ করে অন্যটিতে সিটন প্রয়োগ করি এবং এর ১৪ দিন পর দ্বিতীয় সিটনটি অপসারণ করে আবার প্রয়োগ করি যা ৭ দিন পর আবার অপসারণ করি। তিনি সম্পূর্ণ ভালো হয়েছেন।
অপারেশনের সাফল্য
অপারেশনের কথা শুনলে রোগীরা বলেন স্যার, শুনেছি অপারেশন করলে আবার হয় তাই অপারেশন করে আর লাভ কী? কিন্তু আমি বলব, অপারেশনের সাফল্য চমৎকার। কিন্তু এক কথায় এর উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। কারণ ফিস্টুলার প্রকারভেদের কারণে এর সাফল্য তুলনা করা কষ্টসাধ্য। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন সার্জনের বিভিন্ন অপারেশন কৌশল। কী কারণে ফিস্টুলা হয়েছিল তার ওপরও ফলাফল নির্ভর করে। সাফল্য ও ব্যর্থতার মাপকাঠি হচ্ছে তিনটি-
* পুনরায় ফিস্টুলা হওয়া;
* ক্ষত শুকাতে অতিরিক্ত দেরি হওয়া;
* মল ও বায়ু ধরে রাখার অক্ষমতা। অপারেশনের ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে যদি সার্জন ফিস্টুলার ভেতরের মুখটি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন এবং এটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলতে না পারেন। আমি এটি শনাক্ত করার চেষ্টা করি যখন রোগী আমাকে চেম্বারে দেখায় তখনই। এবং অপারেশনের সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আমি এটিকে শনাক্ত করতে চেষ্টা করি। তবে জটিল ফিস্টুলা আবার হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত ৭-১৫ শতাংশ।
কম জটিল ফিস্টুলার অপারেশন
অপারেশনের পর ৪-৯ শতাংশ আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ক্ষত শুকাতে দেরি হয় ৭ শতাংশ ক্ষেত্রে। বায়ু এবং মল নিয়ন্ত্রণের সামান্য অক্ষমতা ৭-১২ শতাংশ।
লেখক : বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ, ইডেন মাল্টিকেয়ার হসপিটাল, ঢাকা

হজযাত্রীদের খাওয়া-দাওয়া

প্রতিবছর আমাদের দেশ থেকে বেশ কিছুসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান সৌদি আরবে যান পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য। হজে যাওয়া আর বিদেশ ভ্রমণের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। কারণ, ভ্রমণের সময় থাকা-খাওয়া-বেড়ানো ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। কিন্তু হজের সময় নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে বেশ কিছু ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতে হয়। যে বয়সেই হজ করতে যান না কেন, যদি শরীর সুস্থ না থাকে, তাহলে ইবাদত করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমনকি কিছু কিছু ফরজ কাজও বাদ পড়ে যেতে পারে। সুতরাং, যাত্রার আগেই চিন্তা করে নেবেন কীভাবে যতটা সম্ভব সুস্থ থাকবেন। এ ব্যাপারে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
অতিরিক্ত আহার : এ সময় প্রচুর হাঁটাহাঁটি ও ইবাদত করতে হয়। ভিড়ের সময় কাবা শরিফের কাছাকাছি রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইচ্ছা করলেই গাড়িতে যাতায়াত করা যায় না। ফলে ক্যালরি ব্যয় হয় প্রচুর। এসব কারণে অনেকেই বেশি বেশি খেয়ে থাকেন দেহে শক্তি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে। কিন্তু দেখা যায়, শক্তি লাভের পরিবর্তে অতিভোজন বদহজমের সৃষ্টি করে, যা সত্যিই একটা যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার। কারণ, পাকস্থলি যতখানি খাবার পরিপাক করতে পারে, তার বেশি হলেই বদহজম হয়ে থাকে। এতে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, বমি, মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। ফলে নির্বিঘ্নে ইবাদত করা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, খাবার চাহিদার তুলনায় কিছু বেশি হবে, তবে অতিরিক্ত নয়।
স্বল্প আহার : অনেকে এতই কম খান যে, শরীরের স্বাভাবিক সার্মথ্যটুকুও হারিয়ে ফেলেন। হজের ব্যাপারটি এক-দুই দিনের নয়। টানা ২০-৪০ দিন পর্যন্তও মানুষকে ব্যস্ত থাকতে হয়। এসব বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ক্যালরিযুক্ত খাবার অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। যাদের ভাত-রুটি কম খাওয়ার অভ্যাস, তারা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল অর্থাৎ, আমিষজাতীয় খাদ্য একটু বেশি খাবেন। অপর্যাপ্ত আহারের ফলে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শারীরিক ও মানসিক অবসাদ দেখা দেয়। এর ফলে কোনো কাজেই শক্তি ও উৎসাহ পাওয়া যায় না। হজের সময় দীর্ঘপথ হাঁটা, তাওয়াফ (সাতবার কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ), সায়ি (সাফা থেকে মারওয়া সাতবার দৌড়ানো), সালাত ইত্যাদি সঠিকভাবে পালন করার জন্য শরীরে শক্তি থাকা একান্ত জরুরি। এদিকে মদিনা শরিফে মসজিদে নববিতে ৪০ রাকাত নামাজ আদায় করতে পারলে আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত পাওয়া সম্ভব হয়। সুতরাং, ওই সুযোগ কেউই ছাড়তে চান না। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো কোনো হজ এজেন্সি সকালের নাশতার ব্যবস্থা রাখে না। এর ফলে মক্কা-মদিনায় গিয়ে হাজিরা বেশ বিপাকে পড়ে যান। অনেকে পয়সা খরচ করে বাইরে খেতে চান না অথবা খুব কম খান। আবার অনেকে ভেবে পান না কী আহার করবেন, কোথায় করবেন। এমনও দেখা যায়, অনেকে সকালে না খেয়ে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেন প্রদত্ত খাবারের জন্য। আবার দেখা যায়, খাবার পছন্দ না হলে অনেকে খেতে চান না বা কম খান। এসব কারণে দেহে ক্যালরির ঘাটতি প্রকট হয়ে দেখা দেয়।
বাসি খাবার : কোনোক্রমেই বাসি খাবার খাওয়া উচিত নয়। অনেক সময় বাসি খাবারে গন্ধ না হলেও জীবাণুর বিস্তার ঘটে থাকে এবং এটা শরীরে গিয়ে ধীরে ধীরে সংক্রমিত হয়। এ ধরনের খাবারে পেটে গ্যাস, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি হতে পারে।
পানি : হজের সময় প্রচুর পানি, ফলের রস, দুধ, যে কোনো শক্তিদায়ক পানীয় পান করা উচিত। কারণ, অত্যধিক পরিশ্রম এবং গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দেহে পানিস্বল্পতা হতে পারে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি বা পানীয় গ্রহণ করতে হবে। পানি দেহের জলীয় ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
অসুস্থতা : জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে মানুষ যেমন ফরজ আদায় করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন, তেমনি এ সময় বার্ধক্যজনিত অথবা যে কোনো ধরনের রোগেও আক্রান্ত হতে পারেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমান এরপরও আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটে যান মক্কা-মদিনা, মিনা-আরাফাত প্রান্তরে। তবে অসুস্থতা যা-ই থাকুক না কেন, প্রত্যেক মানুষকেই নিজ নিজ শরীর সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি ও খাবার। কারণ, হাজীরা কখন কোথায় অবস্থান করবেন তার কোনো ঠিক নেই। এ ছাড়া সে দেশের আনুষঙ্গিকতার জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে অবস্থান করতে হয়, সে ক্ষেত্রে সঙ্গে থাকা খাবার খেয়ে শরীর সুস্থ রাখাটা জরুরি। সঙ্গে রাখতে পারেন কেক, বিস্কুট, কলা, আপেল, নাশপাতি, খেজুর, বাদাম, আলু বোখারা, কিশমিশ, শুকনা মিষ্টি, জুস, দুধ। এসব খাবারে সহজেই অধিক ক্যালরি পাওয়া সম্ভব। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তারা সঙ্গে রাখতে পারেন চিড়াভাজা, মুড়ি, ভুট্টার খই, ডায়াবেটিক বিস্কুট, দুধ ইত্যাদি। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার আশংকা থাকলে সঙ্গে জুস রাখতে পারেন। মদিনায় বাঙালিদের অবস্থান যেখানে, সেখানে মুড়িসহ বাংলাদেশের অনেক খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। ডায়াবেটিসে যেহেতু প্রতি তিন ঘণ্টা পরপর খাবার খেতে হয়, তাই দেরি না করে সময়মতো খেয়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার (রক্তশর্করা স্বাভাবিকের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়া) হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ডায়াবেটিস গাইড বইটি সঙ্গে রাখা একান্ত জরুরি।
এতে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র, খাদ্যতালিকা সবই রয়েছে। হজে যাওয়ার সময় ইনসুলিন (যদি প্রয়োজন থাকে) এবং ডায়াবেটিসের মুখে খাওয়ার বড়ি যা-ই ব্যবহার করেন না কেন, হিসাব করে কিছু বেশি পরিমাণে নিতে হবে। কারণ, এগুলো শেষ হয়ে গেলে বিপদে পড়তে হবে। এ ছাড়া গ্লুকোমিটার (রক্তশর্করা মাপার যন্ত্র), রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, থার্মোমিটার সঙ্গে নিতে হবে। হৃদেরাগী ও উচ্চরক্তচাপের রোগীদের সময়মতো ওষুধ সেবন করা জরুরি। এ ছাড়া তাদের চলাফেরা ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। জমাট চর্বি বাদ দেয়ার পরও এমন কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয়, যাতে অস্বস্তি বোধ হয় এবং পেটে গ্যাস হয়। যেমন, খুব বেশি মশলাযুক্ত মাংস, আঁশযুক্ত সবজি ও ডুবোতেলে ভাজা খাবার খাওয়া। উট, দুম্বা, গরু, খাসির মধ্যে উটের মাংসে চর্বির আনুপাতিক হার কম। সুতরাং, তারা উটের মাংস অনায়াসে খেতে পারেন। তাদের খাসি ও দুম্বার মাংস পরিহার করা উচিত। বড় ধরনের অসুস্থতা ছাড়াও হজের সময় যতটা সম্ভব সতর্ক থাকতে হবে, যাতে অন্যান্য ছোটখাটো অসুখে আক্রান্ত না হন। এতেও ইবাদতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। যেমন- জ্বর, সর্দিকাশি, পেট খারাপ, পেটব্যথা, বমি, মাথাব্যথা, গা-ব্যথা, অ্যালার্জিজনিত চুলকানি ইত্যাদি। যেহেতু প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অনেক লোকের সঙ্গে চলাফেরা, ওঠাবসা, খাওয়া, প্রার্থনা করতে হয়; সে জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মানুষ সহজেই সংক্রমণজনিত রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য মাস্ক ব্যবহার করলে ভালো হয়।
লেখক : হারবাল গবেষক, মডার্ন হারবাল গ্রুপ

ডিম খাওয়ায় কোনো বিধিনিষেধ নেই

ডিম পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় খাবার। কম দামে এর চেয়ে পুষ্টিকর খাবার আর নেই বললেই চলে। চিকিৎসকরা বিভিন্ন সময়ে উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগীসহ এ ধরনের রোগীদের ডিম খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ দিয়ে আসছিলেন। তবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিমের পুষ্টিগুণ অসীম এবং ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের রোগীদের কোনো বিধিনিষেধ নেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনেও কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, ডিম পুষ্টিতে ভরপুর এবং এটি সহজলভ্যও। এ খাদ্যপণ্যটি হৃদরোগের শঙ্কা কমানো থেকে শুরু করে প্রসবজনিত ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, চোখ ও লিভার ভালো রাখে, হজম শক্তি বৃদ্ধি, শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। ডিমের আকৃতি ও প্রকৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিকভাবেই কিছু ডিম গঠনে ত্রুটিযুক্ত হতে পারে, যেমন- নরম খোসাযুক্ত বা খোসাবিহীন, কুসুমে বিভিন্ন রং, জোড়া কুসুম বা ডিমের ভেতরে সামান্য রক্ত, এমনকি ডিমের ভেতরে মাংশের উপস্থিতিও থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের সাদা অংশের মধ্যে পানি ৮৮ দশমিক শূন্য ভাগ, প্রোটিন ও আমিষ ১১ দশমিক শূন্য ভাগ, চর্বি শূন্য দশমিক ২ ভাগ এবং খনিজ পদার্থ শূন্য দশমিক ৮ ভাগ। ডিমের হলুদ অংশ বা কুসুমের মধ্যে ৪৮ দশমিক শূন্য ভাগ পানি, ১৭ দশমিক ৫ ভাগ প্রোটিন, ৩২ দশমিক ৫ ভাগ চর্বি এবং ২ দশমিক শূন্য ভাগ খনিজ পদার্থ আছে। এছাড়া কুসুমের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লৌহ আছে। তথ্য মতে, ডিম বেশিক্ষণ সিদ্ধ করলে কুসুমের বাইরের অংশে একটা কালো স্তর পড়ে, সেটা হলো আয়রন সালফাইড।
ডিম যেভাবেই রান্না করা হোক না কেন, এর পুষ্টি উপাদান সম্পূর্ণ অক্ষুণœ থাকে। ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় কিনা- জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়- এমন কোনো তথ্য বা গবেষণা জানা নেই। তবে ডিমে যে কোলেস্টোরেল আছে, তা ক্ষতিকর নয়। তাই হৃদরোগীদের জন্য ডিম খাওয়া ক্ষতিকর নয়। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. একেএম সামসুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এর আগে ডিমের কোলেস্টোরেল উচ্চরক্তচাপ বা হৃদরোগীদের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ডিম ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি করে। শরীরের ওজন বুঝে কাউকে কাউকে দিনে কমপক্ষে একটা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। তিনি বলেন, ক্ষেত্রবিশেষ কারও কারও জন্য ডিম খাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ থাকতে পারে। তবে সব শেষ আন্তর্জাতিক গবেষণায় ডিম খাওয়ার পক্ষেই মতামত দেয়া হয়েছে। আইসিডিডিআরবি’র সহকারী বিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদ ড. সোহানা শফিক যুগান্তরকে বলেন, ডিম অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ডিমের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে মানুষের শরীরের পুষ্টি চাহিদা কোনো একটি নির্দিষ্ট খাদ্যের ওপর নির্ভর করে না। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত পুষ্টিকর খাবার। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিচালক মোকলেসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, স্বল্পমূল্যে দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে ডিমের বিকল্প নেই। তাই সব বিভ্রান্তি ভুলে জনগণকে ডিমের প্রতি আগ্রহী করতে এ বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। ডিম সম্পর্কে যেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার উৎস জানতে চাইলে তিনি জানান, বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তাদের একটি বিশেষ দল রয়েছে। সেই দলের তথ্যর ভিত্তিতেই এসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

দুই কোটি টাকায় কুমিল্লায় বাটলার

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) খেলবেন ইংলিশ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জস বাটলার। খেলবেন ২০১৫ আসরের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টো-রিয়ান্সের হয়ে। তার জন্য দুই কোটি দশ লাখ টাকা (দুই লাখ পাউন্ড) খরচ করছে কুমিল্লা। ইংল্যান্ডের শীর্ষ দৈনিক গার্ডিয়ান এ খবর দিয়েছে। খবরে বলা হয়, দুই লাখ পাউন্ডে বিপিএলের দল কুমিল্লার সঙ্গে চুক্তি করেছেন বাটলার। তবে কুমিল্লা ভিক্টোরি-য়ান্সের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তারা পরিষ্কার কিছু বলেনি। কুমিল্লা ফ্র্যাঞ্জাইজির একটি সূত্র জানিয়েছে, তাকে দলে ভেড়াতে বিপিএলের অন্য দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে তাদের।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইয়ন মরগ্যানের অনুপস্থিতিতে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশে আসেন বাটলার। ওই সময়ই তার পারফরম্যান্স দেখে বিপিএলে নিজেদের দলে টানার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে কুমিল্লা। এর আগে ২৬ বছর বয়সী এই ইংলিশ ক্রিকেটার চুক্তি করেন দক্ষিণ আফ্রিকা গ্লোবাল টি ২০ তে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ওই টুর্নামেন্টের চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়ায় কুমিল্লার হয়ে বিপিএলে খেলবেন তিনি। টি ২০ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে বাটলার ৫৬ ম্যাচে মাত্র ৯৮৪ রান করছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লীগে ১৮৫ ম্যাচে ২৮.৭৭ গড়ে তার রান ৩৭১২। সর্বোচ্চ ৮০, হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ২১টি। এছাড়া এবার বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ডেভিড উইলি এবং লিয়াম প্লাংকেটের খেলার কথাও জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

টেস্টের জন্য প্রস্তুত সাব্বির

ব্যাটিংয়ে কিছু জায়গায় টেকনিকে সমস্যা দেখছেন সাব্বির রহমান। টেস্ট ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ দিয়ে সেই সমস্যার জায়গাগুলোতে উন্নতি করতে চান তিনি। জাতীয় দলের নতুন ব্যাটিং পরামর্শক মার্ক ও’নিল সাব্বিরের সমস্যাগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন। সেগুলো নিয়েই এখন কাজ করছেন তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এই ডান-হাতি ব্যাটসম্যান বলেন, ‘সব সময়ই তো আক্রমণাত্মক খেলা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী শট খেলতে হবে। এজন্য ঠিকঠাক শট নির্বাচনও করতে হবে। প্রথম বল থেকেই শট খেলতে গেলে হবে না। আগে উইকেটের ধরন দেখতে হবে, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা ও বোলার কেমন এসব কিছু বিবেচনা করেই খেলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আক্রমণাত্মক খেলি। এভাবেই খেলার চেষ্টা করব। একই সঙ্গে পরিস্থিতি বুঝেও ব্যাটিং করতে চাই।’ নিজের টেকনিক নিয়ে সাব্বির বলেন, ‘টেকনিক নিয়ে কাজ করছি। টেকনিক বলতে ব্যাক লিফট নিয়ে কাজ করছি। সামনে-পেছনে থ্রো ডাউন নিয়ে কাজ করছি। থ্রো ডাউনটা ব্যাটিংয়ের খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। সামনের বল বা পেছনের বলে কীভাবে দ্রুত মানিয়ে নেয়া যায়, কীভাবে ছাড়তে হয়, এসব আর কী।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাক লিফটের সমস্যা নিয়ে কোচ ও’নিলের সঙ্গেই কাজ করছি। এছাড়া গ্রিপ নিয়ে, নতুন বলে মুখোমুখি হওয়া নিয়েও কাজ করছি। কীভাবে ধৈর্য্য বাড়তে পারে সেটাও আয়ত্ত করার চেষ্টা করছি।’ টি ২০ ক্রিকেটে তিন নম্বর জায়গাটা সাব্বিরের জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। ওয়ানডেতেও তিনে ব্যাট করেছেন তিনি।
সর্বশেষ টেস্টে সাব্বিরের পজিশন ছিল চারে। কিন্তু প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে তিনি আটে ও সাতে ব্যাটিং করেন। পজিশন নিয়ে সাব্বিরের কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, ‘পজিশন নিয়ে চিন্তা করি না। দল যেখানে খেলায়, সেখানেই খেলব। কোচ এখনও কিছু বলেননি। হয়তো ছয় বা পাঁচেও খেলতে পারি।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের আগে চট্টগ্রামে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ১০ রানে আউট হয়েছেন তিনি। বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়েই নামা হয়নি। টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সাব্বির বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচের জন্য যেভাবে কাজ করা দরকার, আমি করছি। কীভাবে বড় রান করা যায়, ধৈর্য্য কীভাবে রাখা যায়, সেসব নিয়েও কাজ করছি।’ গত বছর সাব্বিরের অভিষেক টেস্টে চট্টগ্রামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এক পাশে ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির। নিজে দারুণ ব্যাটিং করার পরও দল হেরে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন সাব্বির। সেই স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি তিনি, ‘আক্ষেপ তো অবশ্যই আছে, অভিষেক ম্যাচ ছিল। জিততে পারলে অনেক ভালো লাগত। একদম কাছে চলে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্য, হয়নি।’ এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ভালো কিছু করে দেখাতে চান তিনি। চট্টগ্রামে অনুশীলন কেমন হল জানতে চাইলে ২৫ বছর বয়সী এ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য ছিল বোলাররা যেন বোলিং করতে পারে আবার ব্যাটসম্যানরাও যেন ব্যাটিং করার সুযোগ পায়। তিনদিন অনুশীলন, একদিন বিশ্রামের পর ম্যাচ খেললাম। কন্ডিশন অনুযায়ী যেরকম খেলা দরকার তেমনই খেলা হয়েছে। ৮০ ভাগ কাজ আমরা করতে পেরেছি। বাকি ২০ ভাগ হয়নি বৃষ্টির কারণে।’ আজ চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরবেন মুশফিকুর রহিমরা।

শুটিং বাকি দুই দিন

মাসখানেক আগে জানানো হয়েছিল ‘জন্নাত’ ছবির শুটিং শেষ। অবশেষে জানা গেল ছবিটির শুটিং এখনও শেষ হয়নি। বাকি রয়েছে আরও দুইদিনের শুটিং। সম্প্রতি এমন খবরই জানালেন জান্নাত ছবির পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। ছবিটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। তার সঙ্গে জুটি হয়েছেন চিত্রনায়ক সাইমন সাদিক। এতে মাহির সবগুলো দৃশ্যের শুটিং শেষ হলেও বাকি রয়েছে নায়কের বেশ কিছু দৃশ্য। মাহির শুধু শুটিংই নয়, তার ডাবিংও শেষ। ছবিটির শেষ আপডেট জানতে চাইলে পরিচালক মানিক বলেন, ‘জান্নাত ছবিতে মাহির শুটিং পুরোপুরি শেষ। বাকি রয়েছে শুধু সাইমনের কিছু দৃশ্য। বাকি থাকা কাজ আজ এবং আগামীকালের মধ্যেই শেষ করব। এরপর ছবিটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শুরু হবে।’ ছবিটি ঈদে বা কোনো উৎসবে মুক্তি দেয়া হবে কী না জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, ‘আপাতত এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ঈদের পরই ভালো কোনো দিন নির্বাচন করে ছবিটি মুক্তি দেয়া হবে।’ জান্নাত প্রসঙ্গে মাহিয়া মাহি বলেন, ‘এ ছবিতে জান্নাত আমার অন্যতম একটি ভালোলাগার চরিত্র। ছবিটি নিয়ে আমার প্রত্যাশা অনেক। গল্পের কারণেই দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে আমার বিশ্বাস।’ এ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে সাইমন সাদিক বলেন, ‘ছবির গল্প দারুণ। গ্রামীণ পটভূমির সঙ্গে শহুরে মিশেল রয়েছে। গতানুগতিক ধারার বাইরে। অনেকটা আমার পোড়ামনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেবে দর্শকদের। আশা করি দর্শকরা ছবিটি দেখে নিরাশ হবেন না।’ এ ছবি ছাড়াও মাহি অভিনীত ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নামে একটি ছবি মুক্তির প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছে। অভিনয় করছেন ‘গোলাপতলীর কাজল’, মনে রেখ নামের দুটি ছবিতে। যৌথ প্রযোজনার একটি ছবিতেও অভিনয় করছেন তিনি।

উপযুক্ত নন কাজল!



বলিউডের মায়াবি আলো ছড়ানো অভিনেত্রী কাজল। অভিনয় জীবনের রজতজয়ন্তী পার করেছেন তিনি। পঁচিশ বছরের এ ক্যারিয়ারে অনেক কিছুই ধরা দিয়েছে হাতে। হাতছাড়াও হয়েছে অনেক কিছু। কিন্তু, দীর্ঘ এ ক্যারিয়ারে জনপ্রিয় নির্মাতা সঞ্জয়লীলা বানসালির সঙ্গে কখনও কাজ করা হয়নি তার। সম্প্রতি ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন কাজল। এ সময় কখনও সঞ্জয়লীলা বানসালির সঙ্গে কাজ করা নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে কাজল বলেন, ‘আমিও তো বানসালীর সঙ্গে অভিনয় করতে চাই। কিন্তু তার গল্পের জন্য যোগ্য কিনা সেটাও তো আমাকে দেখতে হবে। তবে এখন যদি বানসালির ছবিতে প্রস্তাব আসে তাহলে প্রথমে দুটি জিনিস দেখব আমি। সেটি হচ্ছে আমার মনে সায় এবং বানসালির নায়িকা হিসেবে আমি উপযুক্ত কী না।’

সজলের সঙ্গে শখের প্রেম!

ফোকলা দাঁতের সজল। এই ফোকলা দাঁতের জন্য অন্য আট-দশজন মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন না তিনি। সম্পর্কও গড়তে পারে না কোনো তরুণীর সঙ্গে। কিন্তু এ যুগে কী নারী সম্পর্ক ছাড়া থাকতে পারে যুবক মন! সজলও পারে না। তাই প্রেম করেন তিনি। তবে বাস্তবে নয়, ভার্চুয়াল প্রেম। তার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় ঘটে শখের। প্রেমও হয় তাদের মধ্যে। একদিন দেখা করেন। দেখা হওয়ার পরই সব ওলট পালট হয়ে যায়। সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সজলের ফোকলা দাঁত। এমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে নাটক ‘চেনা অচেনা’। নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন শ্রাবনী ফেরদৌস। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে সজল বলেন, ‘এবারের ঈদের জন্য বেশ কয়েকটি কাজ করেছি। সবগুলো নাটকের গল্পেই ভিন্ন ভিন্ন সজলকে দেখতে পাবেন দর্শকরা। বিশেষ করে এ নাটকে যে চরিত্রে অভিনয় করেছি আগে কখনও এমন চরিত্রে অভিনয় করিনি।’ এ নাটকে সজলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় টিভি তারকা আনিকা কবির শখ। আসছে কোরবানির ঈদে নাটকটি কোনো এক চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে।