Saturday, January 10, 2026

সৌদি-আমিরাত উত্তেজনা বদলে দিতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি by রায়হান উদ্দিন ও শন ম্যাথিউস

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক নতুন বছরের শুরুতেই এক বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের ঘনিষ্ঠ উপসাগরীয় মিত্র দুই দেশ এখন প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বীর পথে এগোচ্ছে। কিছুদিন ধরেই তেল উৎপাদন থেকে শুরু করে সুদান যুদ্ধ পর্যন্ত নানা ইস্যুতে এ দুই শক্তির মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তবে এত দিন সেই বিরোধ খুব একটা প্রকাশ্যে আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে ২০২৬ সালে সেই চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার সৌদি আরব ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী আল মুকাল্লায় বোমা হামলা চালায়। রিয়াদের দাবি, সেখানে আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্ত একটি অস্ত্রের চালান ছিল, যা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এটি ছিল নজিরবিহীন এক প্রকাশ্য তিরস্কার। সৌদি আরব প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলে যে আমিরাতের আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তা সৌদি নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এর জবাবে আমিরাত জানায়, সৌদি আরব ভিত্তিহীন ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।

আল–জাজিরায় সরাসরি আলোচনায় সৌদি বিশ্লেষক আবদুল আজিজ আলঘাশিয়ান বলেন, তিনি সাধারণত আমিরাতের কর্মকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করেন না, যাতে অস্বাস্থ্যকর আলোচনা তৈরি না হয়। তবে এখন আর কোনো সন্দেহ নেই যে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে ঢুকছে, যেখান থেকে আগের অবস্থায় ফেরা না–ও সম্ভব হতে পারে।

প্রায় এক দশক আগে কাতারের ওপর অবরোধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা তৈরি হলেও সৌদি আরব তখন কখনোই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুক্ত কোনো শক্তির ওপর সরাসরি বোমা হামলা চালায়নি। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক চিত্র অনেকটাই নির্ধারিত হবে আবুধাবি ও রিয়াদ কীভাবে এই ক্রমবর্ধমান এবং এখন প্রকাশ্য হয়ে ওঠা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সামলায় তার ওপর।

বেকার ইনস্টিটিউটের গবেষক ও উপসাগর–বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিয়ান উলরিখসেন মিডল ইস্ট আইকে বলেন, বহু বছর ধরেই দুই দেশের কৌশলগত পার্থক্য ছিল, কিন্তু সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা আর কাজ করছে না। ইয়েমেন ও সুদানের মতো ক্ষেত্রে সশস্ত্র অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরব ও মিসরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা হারানোর এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

গত মাসে মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে আসে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সুদানের র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস নামের আধা সামরিক বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে আরব আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লবিং করার পরিকল্পনা করেছিলেন। যেখানে আমিরাত ওই আধাসামরিক বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে, সেখানে সৌদি আরব স্পষ্টভাবে সুদানের সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে।

ইয়েমেনের ক্ষেত্রে দুই দেশই হুতিদের বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে অবস্থান নিলেও বহু বছর ধরে আরব আমিরাত সেখানে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেয়। এরপরই এ সপ্তাহে সৌদি আরব হামলা চালায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন দ্বন্দ্বের রেখাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত অঞ্চলজুড়ে আধা সামরিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে। অন্যদিকে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্য ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে রাষ্ট্রগুলোর বিদ্যমান সীমান্ত ও কাঠামো টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক জোট গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে।

আমিরাত বড় আকারের প্রক্সি বাহিনী মোতায়েন করতে পারলেও সৌদি আরবের বর্তমান শক্তি অন্য জায়গায়। আন্তর্জাতিক বৈধতা, কৌশলগত গভীরতা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শেখা শিক্ষা সৌদি আরবকে এগিয়ে রাখছে। রিয়াদ বড় পরিসরের সামরিক অভিযানের পথ থেকে সরে এসে এখন প্রতিরোধ, সীমিত চাপ প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক ফল অর্জনের ওপর ভিত্তি করে কৌশল সাজাচ্ছে।

দুই দেশের মধ্যে বিভাজনের আরেকটি বড় ক্ষেত্র হলো ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্ন। ২০২০ সালে আবুধাবি ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

উপসাগরীয় শক্তিগুলোর মধ্যে শেষ বড় ধরনের বিভেদের সময় সৌদি আরব ও আমিরাত একই শিবিরে ছিল। তবে সেই বাস্তবতা এখন বদলে গেছে। মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এই সংঘাত কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে!

* রায়হান উদ্দিন ও শন ম্যাথিউস, সাংবাদিক মিডিল ইস্ট আই
- মিডিল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত দক্ষিণ ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর সদস্যরা একটি ট্যাঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত দক্ষিণ ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর সদস্যরা একটি ট্যাঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি: রয়টার্স

নতুন বিশ্বব্যবস্থা: রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন প্রস্তাব’ কি সত্য হতে চলেছে by ওয়েন জোন্স

যুক্তরাষ্ট্রের বোমায় যখন ভেনেজুয়েলার আকাশ জ্বলে উঠছিল, তখন আমরা এক ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্যের রোগলক্ষণ দেখতে পাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই আমরা প্রতাপশালী দেশটির দুর্বলতা দেখতে পাচ্ছিলাম।

কথাটা শুনতে হয়তো উল্টো মনে হতে পারে। কারণ, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তো তার ক্ষমতাই দেখিয়েছে, দুর্বলতা দেখায়নি। তারা একটি দেশের নেতাকে অপহরণ করেছে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলা ‘চালাবেন’।

এই দৃশ্য কি নিজ শক্তিতে মাতাল পরাশক্তির ক্ষমতার নেশার আড়ালে থাকা অবক্ষয়কেই প্রকাশ করে না?

ট্রাম্পের বড় গুণ (যদি একে গুণ বলা যায়) তাঁর অকপটতা। আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টরা নগ্ন স্বার্থকে ‘গণতন্ত্র’ আর ‘মানবাধিকার’-এর মুখরোচক ভাষায় ঢেকে দিতেন। ট্রাম্প সে ভব্যতার মুখোশই পরেন না। ২০২৩ সালে তিনি গর্ব করে বলেছিলেন, ‘আমি যখন ক্ষমতা ছাড়ি, ভেনেজুয়েলা তখন ভাঙনের মুখে ছিল। আমরা যদি তখন ওটা দখল করে নিতাম, তাহলে একদম পাশের বাড়িতেই দরকারি সব তেল পেতাম।’

এটি ট্রাম্পের হঠাৎ বলে ফেলা কোনো কথা নয়। তেল দখলের যুক্তি ট্রাম্পের সদ্য প্রকাশিত জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রেই স্পষ্টভাবে লেখা আছে। কৌশলপত্রের সেই নথি ওয়াশিংটনে দীর্ঘদিন অস্বীকার করা যে সত্যকে মেনে নেয়, তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্যের অবসান হয়েছে।

কৌশলপত্রে বিদ্রূপের সুরে বলা হয়েছে, শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির শীর্ষ মহল নিজেদের বোঝাতে শুরু করেছিল, সারা পৃথিবীর ওপর স্থায়ী মার্কিন আধিপত্যই দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। কিন্তু এখন তারা স্বীকার করছে, গ্রিক পুরাণের দেবতা অ্যাটলাসের মতো গোটা বিশ্বকে কাঁধে তুলে রাখার দিন যুক্তরাষ্ট্রের শেষ হয়ে গেছে। বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যে যুগ ছিল, তার ইতি টানার ঘোষণাই কৌশলপত্রে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান ব্যবস্থার জায়গায় আসছে এমন এক বিশ্বব্যবস্থা, যেখানে একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্র নিজেদের মতো করে আলাদা আলাদা এলাকা দখলে রাখবে এবং প্রভাব খাটাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেই এলাকা হবে পুরো আমেরিকা মহাদেশ।

কৌশলপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বহুদিন অবহেলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবার পশ্চিম গোলার্ধে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সে জন্য তারা মনরো নীতিকে (প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর ঘোষিত একটি নীতি, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম গোলার্ধে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপ রোধ করার কথা বলা আছে) নতুন করে কার্যকর করবে।

মনরো নীতি উনিশ শতকের শুরুতে তৈরি হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, ইউরোপ যেন আমেরিকা মহাদেশে উপনিবেশ না গড়ে। কিন্তু বাস্তবে এই নীতির ফল হয়েছে ভিন্ন। এর মাধ্যমে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের সহায়তায় লাতিন আমেরিকায় সহিংসতা নতুন কিছু নয়। আমার মা–বাবা চিলির ডানপন্থী স্বৈরতন্ত্র থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট সালভাদর আয়েন্দেকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানের পরই ডানপন্থী স্বৈরশাসক ক্ষমতায় বসেন।

তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘নিজেদের মানুষের দায়িত্বহীনতার কারণে কোনো দেশ কমিউনিস্ট হয়ে যাচ্ছে—এটা আমরা বসে বসে দেখব কেন?’ এই একই যুক্তি ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া এবং মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয়জুড়ে হত্যাযজ্ঞ চালানো শাসনগুলোর প্রতি মার্কিন সমর্থনের ভিত্তি ছিল।

তবে গত তিন দশকে সেই আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তথাকথিত ‘পিঙ্ক টাইড’—ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বে প্রগতিশীল সরকারগুলো আঞ্চলিক স্বাধীনতা জোরদার করতে চেয়েছিল। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী চীন এ সময়ে মহাদেশজুড়ে তার শক্তি বাড়িয়েছে।

এ অবস্থাকে উল্টিয়ে দেওয়ার চেষ্টার প্রথম চালই ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা আক্রমণ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, তিনি আসলে কথার মানুষ—বেশি চেঁচামেচি করেন, কিন্তু কাজের বেলায় তেমন কিছু করেন না। বাস্তবে তখন তিনি রিপাবলিকান দলের পুরোনো ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর সঙ্গে একধরনের অঘোষিত সমঝোতায় ছিলেন।

শর্তটা ছিল: তিনি অভিজাতদের ওপর থেকে কর কমাবেন, বড় ব্যবসার ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবেন; আর এর বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইচ্ছেমতো উত্তেজক কথা বলবেন।

কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে সেই সমঝোতা আর নেই। এবারকার ট্রাম্প আর শুধু কথায় সীমাবদ্ধ নন, তিনি পূর্ণ শক্তিতে একটি চরম ডানপন্থী শাসন কায়েম করতে চাইছেন।

এ কারণে ট্রাম্প যখন কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টদের হুমকি দেন, তখন তা বিশ্বাস করুন। যখন তিনি বলেন, ‘কিউবা ধসে পড়ার মুখে’, তখন তাঁর কথা বিশ্বাস করুন। তিনি যখন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই আমাদের দরকার’—বিশ্বাস করুন। এটাও বিশ্বাস করুন, ইউরোপের ২০ লাখের বেশি বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা তিনি সত্যিই পোষণ করেন।

যদি বা যখন গ্রিনল্যান্ড ট্রাম্পীয় সাম্রাজ্যের মুঠোয় যায়, তখন কী হবে? ভেনেজুয়েলার ওপর তাঁর প্রকাশ্য বেআইনি হামলায় ইউরোপ যে মিনমিনে দুর্বল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তিনি নিশ্চয়ই তা লক্ষ করেছেন। এখন ডেনমার্কের সার্বভৌম ভূখণ্ড দখল হলে যৌথ প্রতিরক্ষার নীতিতে গড়ে ওঠা ন্যাটোর অবসান অনিবার্য হয়ে উঠবে। আন্দাজ করা যায়, রাশিয়া যেভাবে প্রকাশ্যে ইউক্রেনের জমি কেড়ে নিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে ডেনমার্কের জমি চুরি করবে। এর বিরুদ্ধে লন্ডন, প্যারিস বা বার্লিন থেকে মৃদু আওয়াজ হয়তো উঠবে। কিন্তু ততক্ষণে পশ্চিমা জোট শেষ।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর মার্কিন অভিজাতরা নিজেদের সামরিক অজেয়তা আর অর্থনৈতিক মডেলকে মানব উন্নয়নের চূড়ান্ত গন্তব্য ভেবে নিয়েছিলেন। সেই অহংকারই সরাসরি বিশ্বকে ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়ার বিপর্যয়ে এবং ২০০৮ সালের আর্থিক ধসে নিয়ে যায়। তাঁরা নিজেদের মানুষকে স্বর্গীয় স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তারপর একের পর এক দুর্যোগে টেনে নিয়েছেন। সেই হতাশা থেকেই জন্ম নেয় ট্রাম্পবাদ।

যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয় সবার সামনে আসে, তা থেকেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ধারণাটি আসে। আর এ ধারণার মূল সুর হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক আধিপত্য ছেড়ে গোলার্ধভিত্তিক সাম্রাজ্য কায়েম করতে হবে।

উনিশ শতকের শেষে যুক্তরাষ্ট্র যখন স্পেনকে হারিয়ে ফিলিপাইন দখল করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই অনেকে এর বিরোধিতা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নাগরিকেরা মিলে গড়েছিলেন ‘আমেরিকান অ্যান্টি-ইম্পেরিয়ালিস্ট লীগ’। তাঁদের কথা ছিল পরিষ্কার—সাম্রাজ্যবাদ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যায় এবং দেশকে ধীরে ধীরে সামরিক শাসনের দিকে ঠেলে দেয়।

এর কিছুদিন পর বিশ শতকের শুরুতে ডেমোক্রেটিক পার্টিও সতর্ক করে বলেছিল—কোনো দেশ একসঙ্গে অর্ধেক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আর অর্ধেক সাম্রাজ্য হয়ে টিকে থাকতে পারে না। বিদেশে সাম্রাজ্য গড়তে গেলে শেষ পর্যন্ত দেশের ভেতরেও স্বৈরতন্ত্র ঢুকে পড়ে।

আজ এসব পুরোনো সতর্কবাণীকে আর অতিরঞ্জন বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। কারণ, বাইরে অন্য দেশগুলোর ওপর যা করা হয়, তার প্রভাব দেশের ভেতরেও পড়ে। মার্তিনিকের লেখক এমে সেজেয়ার একে বলেছেন সাম্রাজ্যের ‘বুমেরাং’। তাঁর মতে, উপনিবেশবাদ বাইরে গিয়ে যা সৃষ্টি করে, তা একসময় ঘুরে এসে নিজের দেশকেই আঘাত করে। ইউরোপে যেমন উপনিবেশবাদ শেষে ফ্যাসিবাদ ফিরে এসেছিল।

আমরাও দেখেছি ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর বুমেরাং। বিদেশে যুদ্ধের ভাষা ও যুক্তি এখন দেশের ভেতরে দমননীতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রাম্পের উপপ্রধান স্টাফ স্টিফেন মিলার পর্যন্ত বলেছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টি নাকি একটি ‘ঘরোয়া চরমপন্থী সংগঠন’। আফগানিস্তান বা ইরাকে একসময় যেভাবে সেনা পাঠানো হয়েছিল, ডেমোক্র্যাট–শাসিত শহরগুলোতে সেভাবেই ন্যাশনাল গার্ড নামানো হচ্ছে, যেন সেগুলো শত্রু এলাকা।

এই দৃষ্টিতে দেখলে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ট্রাম্পের নরম মনোভাবও আর রহস্যজনক থাকে না। ২০১৯ সালে শোনা গিয়েছিল, রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেন থেকে সরে আসে, তাহলে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন প্রভাব মেনে নেওয়া হবে। এমন কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা অবশ্য জানা নেই।

কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার—একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ে উঠছে। সেখানে ক্ষমতাধর, কর্তৃত্ববাদী দেশগুলো জোর খাঁটিয়ে প্রতিবেশীদের নিয়ন্ত্রণ করবে এবং তাদের সম্পদ দখল করবে, যা একসময় কল্পনার দুঃস্বপ্ন মনে হতো, আজ তা বাস্তব হয়ে চোখের সামনে ঘটছে। এখন আসল প্রশ্ন হলো—এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো উপায়, ইচ্ছা আর শক্তি কি আমাদের আছে?

* ওয়েন জোন্স, গার্ডিয়ানের কলাম লেখক।
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
[৭ জানুয়ারি ২০২৬ প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণে এ লেখা সংক্ষিপ্তাকারে ট্রাম্প নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়ছেন, ভেনেজুয়েলা দিয়ে শুরু—এ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।]

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-07%2Ffzo3hmps%2Fmadurowifereuters.JPG?rect=0%2C0%2C566%2C377&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে কারাকাস থেকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। ছবি: রয়টার্স

গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে সামরিক শক্তি ব্যবহার হতে পারে: হোয়াইট হাউস

অবশেষে গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেয়ার বিষয়ে নিজের প্রশাসনের ভিতরে আলোচনা শুরু হয়েছে মার্কিন প্রশাসনে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখলে বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা আছে। বিবিসিকে দেয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, গ্রিনল্যান্ডকে অধিগ্রহণ করা ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অগ্রাধিকার’। গ্রিনল্যান্ড হলো ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। হোয়াইট হাউসের এই বিবৃতির কয়েক ঘন্টা আগে ইউরোপীয়ান নেতৃবৃন্দ যৌথ বিবৃতি দিয়ে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ডেনমার্ক শুরু থেকেই ট্রাম্পের আর্কটিক দ্বীপটি অধিগ্রহণের আকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করে আসছে।

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প আবারও বলেন যে, নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড ‘প্রয়োজন’। এর জবাবে ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করেন। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আক্রমণ হলে ন্যাটোর সমাপ্তি ঘটতে পারে। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ও তার দল এই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিগত লক্ষ্য অর্জনে একটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন এবং অবশ্যই, সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা হলো সেই বিকল্পগুলোর একটি। এই সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক প্রেসিডেন্ট নিজে। ফলে তার হাতে সবসময় এটা ব্যবহারের সুযোগ থাকে।

উল্লেখ্য, ন্যাটো হলো একটি আন্তঃমহাসাগরীয় সামরিক জোট। এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বহিঃশত্রুর আক্রমণের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহায়তা করার অঙ্গীকার করে। মঙ্গলবার ছয়টি ইউরোপীয় মিত্র দেশ ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। তারা যৌথ বিবৃতিতে বলে, গ্রিনল্যান্ড হলো তার জনগণের, এবং কেবল ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারা আরও জোর দিয়ে জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই উদ্বিগ্ন। তবে এটি অবশ্যই ন্যাটো মিত্রদের মাধ্যমে ‘সমষ্টিগতভাবে’ অর্জিত হতে হবে। এছাড়া তারা জাতিসংঘ সনদের নীতি- সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সীমান্তের অক্ষুন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে ‘সম্মানজনক সংলাপের’ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংলাপ হতে হবে এই সম্মানের ভিত্তিতে যে গ্রিনল্যান্ডের মর্যাদা আন্তর্জাতিক আইন ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতিতে প্রতিষ্ঠিত।

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ বিতর্কটি নতুন করে সামনে আসে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের পর। সেখানে এই অভিযানের নিন্দা জানায় বেইজিং ও পিয়ংইয়ং। সেই অভিযানের এক দিন পর ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক মাধ্যমে আমেরিকার পতাকার রঙে রঙিন একটি গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র পোস্ট করেন। ইংরেজিতে পাশে লিখেছেন- ‘সুন’। অর্থাৎ গ্রিনল্যান্ডেও একই রকম ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে শিগগিরই। সোমবার স্টিফেন মিলার জানান, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করা হলো ‘মার্কিন সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান’। সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একাধিকবার জিজ্ঞাসা করা হলেও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেউ লড়াই করবে না।

রয়টার্সকে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড সরাসরি কিনে নেয়া, অথবা এর সঙ্গে ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তি করা। এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, যা আমেরিকান জনগণ ও গ্রিনল্যান্ডের মানুষের জন্য উপকারী হবে। আমাদের অভিন্ন প্রতিপক্ষরা ক্রমবর্ধমানভাবে আর্কটিকে সক্রিয় হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও ন্যাটো মিত্রদের যৌথ উদ্বেগের বিষয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার কংগ্রেসে গোপন বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা নেই। তবে ডেনমার্কের কাছ থেকে এটি কেনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করার জন্য গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জানিয়েছে তারা দ্রুত রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বললে কিছু ভুল বোঝাবুঝির নিরসন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর এরিক শ্মিট বিবিসিকে বলেন, তারা এখন কেবল আলোচনার পর্যায়ে আছে। আমার আশা- ইউরোপ বুঝবে যে শক্তিশালী আমেরিকা পশ্চিমা সভ্যতার জন্য ভালো।

ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্সির মেয়াদে গ্রিনল্যান্ডকে আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশলগত ঘাঁটিতে রূপান্তরের ধারণা তোলেন। ২০১৯ সালে তিনি বলেন, মূলত এটি একটি বড় রিয়েল এস্টেট চুক্তি। ওদিকে, রাশিয়া ও চীনের আগ্রহ বাড়ছে দ্বীপটিতে। সেখানে রেয়ার আর্থ খনিজ বা বিরল খনিজ সম্পদের মজুদ আছে। বরফ গলতে থাকায় নতুন সমুদ্রপথের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। মার্চে ট্রাম্প বলেন, দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ পেতে যুক্তরাষ্ট্র যতদূর যেতে হয়, যাবে।

গত গ্রীষ্মে কংগ্রেসীয় শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে জিজ্ঞেস করা হয়, প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড দখলে নেয়ার কোনো সামরিক পরিকল্পনা আছে কিনা। তিনি বলেন, যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ড ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে, যদিও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। বেশিরভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী একদিন স্বাধীনতা সমর্থন করলেও, জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ব্যাপারে তাদের বড় ধরনের বিরোধিতা রয়েছে। দ্বীপটিতে ইতিমধ্যে একটি মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। ইলুলিসাতের ২৭ বছর বয়সী ইনুইট নাগরিক মর্গান আঙ্গাজু বিবিসিকে বলেন, বিশ্বনেতাকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে হাসতে শোনা ভয়ংকর ছিল, যেন আমরা কোনো বস্তু, যাকে দাবী করা যায়। তিনি বলেন, আমাদের ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডবাসীরা দাবি করে কালাল্লিত নুনাত। যার মানে গ্রিনল্যান্ডিকদের ভূমি।
তিনি আরও জানান, দুশ্চিন্তায় আছেন কী ঘটতে পারে সামনে। মাদুরোর মতো পরিণতির মুখে পড়বেন কিনা গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ‘আমাদের দেশ আক্রমণ করবে কিনা’ তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।

https://mzamin.com/uploads/news/main/197636_Abul-1.webp

কানাইঘাটে লোভাছড়ার পাথর লুটের মহোৎসব by মুফিজুর রহমান

সিলেটের কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকার লোভাছড়া কোয়ারিতে পাথর লুটের মহোৎসব চলছে। একটি চক্র দিনে ও রাতে লুট করে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার পাথর। একইসঙ্গে যন্ত্রদানব ক্রাশার মিল দিয়ে ভেঙে পাথরগুলো বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। লোভাছড়া কোয়ারির পাথর ইজারাদার অংশের লোকজন সম্প্রতি পাথর লুটের অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে করে প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। ইজাদার পিয়াস ইন্টারপ্রাইজ গত বছর লোভাছড়া থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত প্রায় ৪৫ লাখ ঘনফুট পাথর নিলামে কিনে নেয়। সরকারের দপ্তরের হিসাব বলছে; নদীতে পানি শূন্যতাসহ নানা কারণে পিয়াস এন্টারপ্রাইজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ লাখ ঘনফুট পাথর সরিয়ে নিতে পেরেছে। এখনো তাদের প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট পাথর লোভায় রয়ে গেছে। এ নিয়ে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত তাদের পাথর সরিয়ে দেয়ার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে খনিজ ব্যুরো আপিল করলে এখনো সেটি শুনানি হয়নি। এই অবস্থায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ উদ্দিনের নির্দেশে লোভায় পাথর লুটপাট করা হচ্ছে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তারা জানিয়েছেন- তমিজের সঙ্গে কামাল হাজী, ময়নুল মেম্বার, সায়েক মেম্বার, আলমগীরসহ কয়েকজন এ লুটের সঙ্গে জড়িত। তারা পাথর লুট করে এনে নিজেদের ক্রাশার মিলে ভেঙে সেগুলো বিক্রিও করছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া আবেদনে পিয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান জানিয়েছেন- লোভাছড়া একটি দুর্গম ও নদী বেষ্টিত দুর্গম অঞ্চল। চাইলেই মালামাল অপসারণ করা যায় না। ইতিমধ্যে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক আমাদের মাল অপসারণ বন্ধে আদেশ জারি করলে, আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হই এবং মহামান্য আদালত আমাদের ৩ মাস, ৯০ দিনের সময় দেন। তথাপি আপনাদের অফিসের রিভিউর কারণে মামলাটি এখনো বিচারাধীন পর্যায়ে আছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন ম্যানেজ করে ভাল্লুকমারা ও জকিগঞ্জের আটগ্রাম এবং চিন্তার বাজার বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার পাথর প্রতি রাতে চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় প্রভাবশালী মহলের কারণে তেমন একটা খবর প্রচার হতে পারছে না এবং একাধিকবার মৌখিকভাবে পুলিশ ও ইউএনও অফিসে জানিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না। ৩০ থেকে ৫০ গাড়ি প্রতিদিন ও মাঝে মাঝে বড় কন্ট্রাকের মাধ্যমে ১০০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বার্কি নৌকা দিয়ে ও প্রশাসন ম্যানেজ করে মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন- তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তার জানাও নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন- তিনিও অভিযোগ পাননি। যদি পাথর লুট হয়ে থাকে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
mzamin

রিয়াদে বসে ইয়েমেনের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ গোষ্ঠী এসটিসির বিলুপ্তি ঘোষণা

ইয়েমেনের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) নিজেদের বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুলরহমান আল-সুবাইহি আজ শুক্রবার সৌদি আরবের একটি সম্প্রচারমাধ্যমে এ ঘোষণা দেন।

তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সহায়তাপুষ্ট এসটিসির মুখপাত্র অবশ্য আল-সুবাইহির দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এসটিসির বিলুপ্তি ঘোষণা হাস্যকর।

সৌদি আরবের সম্প্রচারমাধ্যমে এসটিসি বিলুপ্তির ঘোষণা পাঠের সময় সুবাইহিকে বিচলিত মনে হয়েছে। লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বিলুপ্তি ঘোষণা করছি।’

সুবাইহি আরও বলেন, ‘সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে আমরা দক্ষিণাঞ্চলের বিষয়ে বৃহত্তর সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দক্ষিণের ন্যায়সংগত লক্ষ্য অর্জনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সুবাইহির বিবৃতি ইয়েমেনের সৌদি সহায়তাপুষ্ট সরকারের সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বুধবার ভোরে শান্তি আলোচনার জন্য এসটিসির ৫০ জনের একটি প্রতিনিধিদল রিয়াদে পৌঁছায়। এর পর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সুবাইহি যখন বিবৃতি পড়ে শোনান, তখন প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদেরও ফুটেজে দেখা গেছে। তাঁদের বিমর্ষ মনে হয়েছে।

আমিরাত একটা সময় পর্যন্ত ইয়েমেনের সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোটের অংশ ছিল। তারা আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলকে (পিএলসি) সমর্থন দিত। সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এ সরকারের অংশ ছিল।

কিন্তু পরে আমিরাত এসটিসিকে আলাদা করা সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ দিতে শুরু করে। এটি ঘিরে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসে।

বিশেষ করে গত মাসে এসটিসি সৌদি সীমান্তবর্তী হাজরামাওত এবং এর পার্শ্ববর্তী মাহারা প্রদেশের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করে। অবশ্য পরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনের মিত্রবাহিনী এসটিসির অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দেয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে এডেন এবং আশপাশের অঞ্চলে এসটিসি এবং সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বেড়েছে। এডেন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর। ২০১৪ সালে বিদ্রোহী হুতিদের কাছে রাজধানী সানা হারানোর পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার এডেনে নিজেদের সদর দপ্তর সরিয়ে নেয়।

এই পরিস্থিতিতে গত মাসের শেষের দিকে এসটিসির প্রতিনিধিদলকে শান্তি আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায় রিয়াদ।

আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থানরত এসটিসির মুখপাত্র আনোয়ার আল-তামিমি সৌদি আরব থেকে আসা নিজেদের গোষ্ঠীর বিলুপ্তির ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এটি একটি হাস্যকর খবর। রিয়াদে অবস্থানরত প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি বলেও জানান তিনি।

এসটিসি সদস্যদের প্রত্যাহারের পর সরকার–সমর্থিত একটি মিলিশিয়া দলের সদস্যদের এডেনে মোতায়েন করা হয়েছে
এসটিসি সদস্যদের প্রত্যাহারের পর সরকার–সমর্থিত একটি মিলিশিয়া দলের সদস্যদের এডেনে মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলি আগ্রাসন: যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশুসহ ১৩ জনকে হত্যা

যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজায় আবারও হামলা চালিয়ে পাঁচ শিশুসহ ১৩ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। গতকাল বৃহস্পতিবার এ হামলা চালানো হয়। গাজার জরুরি পরিষেবা বিভাগ ‘সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি’ এ কথা জানিয়েছে।

জরুরি পরিষেবা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, দক্ষিণ গাজায় যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ চারজন নিহত হন। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের কাছে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু এবং একটি স্কুলে হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের কাছে ড্রোন হামলায় এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। পৃথক হামলায় এক শিশুসহ আরও দুই গাজাবাসী নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাহমুদ বাসাল বলেন, গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও চারজন নিহত হন। তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

এদিকে আজ শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, একটি ‘ব্যর্থ রকেট’ উৎক্ষেপণের জবাবে তারা উত্তর ও দক্ষিণ গাজা উপত্যকায় ‘হামাস সন্ত্রাসী এবং তাদের অবকাঠামোতে সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘গাজা উপত্যকা থেকে রকেট উৎক্ষেপণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।’

গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের মধ্যে লড়াই মূলত বন্ধ থাকলেও উভয় পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছে।

হামাস মুখপাত্র হাজেম কাসেম বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বৃহস্পতিবার গাজায় এই হামলা ‘যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি থেকে দখলদার ইসরায়েলের সরে আসারই প্রমাণ’।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অন্তত ৪২৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। এর মধ্যে গত ২২ নভেম্বর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন, যা যুদ্ধবিরতি শুরুর পর গাজায় অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছেন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-09%2Fk4ca0pnf%2FPALESTINIAN-ISRAEL-CONFLICT-GAZA.jpg?rect=0%2C0%2C5028%2C3352&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ইসরায়েলি হামলায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে তাঁবু। সেটি আবার গোছানোর চেষ্টায় পরিবারের সদস্যরা। উৎকণ্ঠা নিয়ে সেখানে বসে আছে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ৯ জানুয়ারি ২০২৬; গাজা নগরী, ফিলিস্তিন। ছবি: এএফপি

তৃণমূলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আই–প্যাকে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে মমতার নেতৃত্বে কলকাতায় বিক্ষোভ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরামর্শক সংস্থা আই–প্যাকের কলকাতার কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রতীক জৈনর বাসভবনে তল্লাশি চালানোর প্রতিবাদে তৃণমূল সভানেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে আজ শুক্রবার কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) প্রতীক জৈনর বাসা ও আই–প্যাকের কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল কলকাতার যাদবপুরের এইট–বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়ে শেষ হয়। যাদবপুর এইট–বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড়ের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। এই প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

বেলা তিনটায় প্রতিবাদ মিছিল শুরুর আগে মমতা দাবি করেন, তল্লাশির নামে ইডি গতকাল আই–প্যাকের দপ্তর ও কর্ণধারের বাসভবন থেকে তৃণমূলের বহু নথি নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, ওই দুই দপ্তর থেকে চুরি হওয়া নথি যেন আদালত সংরক্ষণ করে রাখে।’ পরে প্রতিবাদ মিছিল শেষে হাজরা মোড়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় মমতা বলেন, ‘ইডি আমাদের আসন্ন বিধানসভার ভোট–সংক্রান্ত নথি চুরি করে নিয়ে গেছে।’

ইডি দাবি করেছে, তারা আই–প্যাক দপ্তরে গিয়ে কোনো নথি বা নথির কোনো কপি সংগ্রহ করতে পারেনি। তল্লাশির সময়ও কোনো নথি নিয়ে যায়নি; বরং তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কার্যত ওই দুই দপ্তর থেকে মূল্যবান নথি নিয়ে গেছেন।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতা হাইকোর্টে দুটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। আজ মামলার শুনানির কথা ছিল। তবে শুনানির সময় উভয় পক্ষ আদালতের এজলাসে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এই মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন।

যদিও ইডি আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে এক আবেদনে এই মামলার শুনানি আজই করার দাবি জানায়। একই সঙ্গে তারা এই মামলা অবিলম্বে সিবিআই দিয়ে তদন্ত করার দাবিও তোলে। সেই আবেদনে প্রধান বিচারপতি সাড়া দেননি।

ইডির তল্লাশির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
ইডির তল্লাশির বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ছবি: ভাস্কর মুখার্জি