Saturday, September 25, 2010

ঘূর্ণিঝড় ফানাপিতে চীনে মৃতের সংখ্যা ৫৪

চীনে ঘূর্ণিঝড় ফানাপির আঘাতে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনো ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত সোমবার এটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়ানদন প্রদেশে আঘাত হানে। সে দেশের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানায়।
সিনহুয়া জানায়, ফানাপির কারণে ওই এলাকা থেকে ৭৯ হাজার লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে গুয়ানদন কর্তৃপক্ষ কিছু এলাকার দুর্গতদের ত্রাণ দিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। তারা হেলিকপ্টার থেকে ত্রাণ ফেলছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে ২৫ জনকে ভূমিধসের পর থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড়-সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে তিন হাজার ৬০০ বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

এবারও শীর্ষ ধনী বিল গেটস

যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ধনীদের তালিকায় প্রথম স্থান অক্ষুণ্ন রেখেছেন শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
গত বুধবার মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের এ বছরের শীর্ষ ৪০০ ধনকুবেরের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। তালিকায় টানা ১৭ বছর এই অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ এই তালিকাভুক্তদের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি উপার্জন করেছেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে পেছনে ফেলেছেন।
তালিকা অনুযায়ী, বিল গেটসের সম্পদের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। চার হাজার ৫০০ কোটি ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনাপ্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হাথাওয়ের প্রতিষ্ঠাতা ওয়ারেন বাফেট। আরেক সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ওরাকলের মালিক লরেন্স জে এলিসন রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে; সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার ৭০০ কোটি ডলার। চার নম্বরে রয়েছেন খুচরা পণ্যের বিক্রেতাপ্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের উত্তরাধিকারী ক্রিস্টি ওয়ালটন, পাঁচ নম্বরে চার্লস ও ডেভিড কোচ ভাইয়েরা। ওয়ালটন পরিবারের আরও তিন সদস্য জিম, অ্যালিস ও এস রবসনও শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছেন। নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ রয়েছেন তালিকার ১০ নম্বর স্থানে।
সাময়িকীটি জানিয়েছে, মার্ক জুকারবার্গের সম্পদ এক বছরের ব্যবধানে ২৪৫ শতাংশ বেড়েছে, যা এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তালিকার ৩৫ নম্বরে তাঁর অবস্থান। আর স্টিভ জবসের অবস্থান ৪২ নম্বরে।

আফিয়া সিদ্দিকীর ৮৬ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের বিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকীকে ৮৬ বছরের কারদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন এক আদালত। আফগানিস্তানে মার্কিন এক কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতের বিচারক রিচার্ড বারম্যান বলেন, বিচার শেষে আফিয়া সিদ্দিকীকে (৩৩) ৮৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের নিন্দা জানিয়ে আফিয়া বলেন, ‘এর বিরুদ্ধে আপিল করা মানে বাজে সময় নষ্ট করা। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে আপিল করছি।’

আটক চীনা নাবিককে মুক্তি দেবে জাপান

জাপান আটক চীনা নাবিককে মুক্তি দেবে। জাপানেরই গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
জাপানি কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পূর্ব চীন সাগরে বিরোধপূর্ণ একটি দ্বীপের কাছ থেকে জেহান কিউজিওন নামে ওই চীনা নাবিককে আটক করে।
তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পেট্রলবাহী জাহাজ ফুটো করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। চীন আটক নাবিকের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে আসছিল।
এদিকে চীনের সামরিক এলাকায় অবৈধভাবে আলোকচিত্র গ্রহণের অপরাধে কর্তৃপক্ষ চার জাপানি নাগরিককে সে দেশে আটক করার ঘটনার পরই জাপান ওই নাবিককে মুক্তি দেয়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, বেইজিংয়ে অবস্থিত জাপানি দূতাবাস এ খবর নিশ্চিত করেছে।
এ সপ্তাহের শুরুর দিকে চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও বলেছেন, এ অবস্থার জন্য জাপানই দায়ী এবং তিনি ওই নাবিকের দ্রুত মুক্তি দাবি করেন।
গতকাল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এ অঞ্চলে এই ইস্যু নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রভাব পড়ার আগেই উভয় দেশকে উদ্ভূত সমস্যার দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান।
কয়েক দিন আগেই ‘উগ্র জাতীয়তাবাদ’ উসকে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে চীনকে সতর্ক করে দিয়েছিল জাপান।
জাপান চীনকে সতর্ক করে দিয়ে বলে, উভয় দেশকে ‘উগ্র জাতীয়তাবাদ’ উসকে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
আটক চীনা নাবিকের আটকাদেশ বাড়ানোর ব্যাপারে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার যে ঘোষণা চীন দিয়েছিল, তা প্রতিহত করতে সব ধরনের পন্থা অবলম্বন করারও ঘোষণা দেয় জাপান।
গত রোববার জাপানের একটি আদালত আটক ওই চীনা নাবিকের আটকাদেশ আরও ১০ দিন বাড়ানোর কারণে চীন জাপানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এ ছাড়া সাংহাই এক্সপোতে অংশ নেওয়া প্রায় এক হাজার জাপানি তরুণকে চীন সরকার তাদের দেশে স্বাগত না জানানোর ঘোষণাও দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি বিজ্ঞানীকে কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি বিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকীকে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তানে মানুষ টায়ার জ্বালিয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি আদালত তিন ঘণ্টা শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
দীর্ঘ পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকার পর ২০০৮ সালে মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তান থেকে আফিয়া সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে। পাকিস্তানে অনেকেই মনে করে যে সিদ্দিকীকে যুক্তরাষ্ট্রে গোপন কোনো কারাগারে আটক রাখা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আফিয়া সিদ্দিকীর এই কারাদণ্ডের খবর পাকিস্তানে আসার পরপরই সেখানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পেশোয়ারে অনেক মানুষ রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। তারা পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবং ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দেয়। এ সময় কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করে।
সিদ্দিকীর বোন ফউজিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাকিস্তানি শাসকেরা আফিয়াকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই রায় তাঁদের মুখে থাপ্পড় মারার শামিল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি আজ শুক্রবার আফিয়া সিদ্দিকীকে ‘জাতির কন্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আবদুল বাশিত বলেন, ‘পাকিস্তান এই রায়ে হতাশ। এটা খুবই দুঃখজনক যে আমরা তাঁকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সফল হতে পারিনি। তবে অন্য কোনোভাবে তাঁকে ফিরিয়ে আনা যায় কি না, সে লক্ষ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আমরা এখনো হাল ছাড়ছি না।’
আফিয়া সিদ্দিকী নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও ব্রান্ডেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০০৩ সালে তিনি পাকিস্তানে ফিরে আসেন।