Wednesday, May 22, 2013

সেনা বৃদ্ধি

সাত সেনা অপহূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মিসর সিনাই উপদ্বীপ অঞ্চলে সাঁজোয়া যান ও সেনা উপস্থিতি বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সোমবার সকালে মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্ট মুরসি এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, অপহূত সেনাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।

পুনর্বিচারের নির্দেশ

গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য গুয়েতেমালার সাবেক সেনাশাসক এফরেইন রিওস মন্টকে (৮৬) দেওয়া শাস্তি পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। গত সোমবার দেওয়া এ নির্দেশে গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিচার কার্যক্রম ঠিক রেখে সেখান থেকে বিচার নতুন করে শুরু করতে বলা হয়েছে। সাবেক জেনারেল রিওস মন্টের বিরুদ্ধে তাঁর শাসনকালে (১৯৮২-৮৩) এক হাজার ৭৭১ ইক্সিল মায়া আদিবাসী হত্যার অভিযোগ ছিল। চলতি মাসের ১০ তারিখে একটি আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে ৮০ বছর কারাদণ্ড দেন। কিন্তু মন্টের আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

সেই রোগের কারণ

গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য আলুর খেতে একটি বিশেষ রোগের কারণেই আয়ারল্যান্ডের আলু দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। এতে অনাহার ও রোগে মারা যান ১০ লাখ মানুষ। অনেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ দূর দেশে পাড়ি জমান। আয়ারল্যান্ডের ইতিহাস বদলে দেওয়া আলুর এই রোগটি গবেষকেরা চিহ্নিত করেছেন। জানা গেছে, ওই রোগের জন্য দায়ী ছিল এক বিশেষ ধরনের পতঙ্গ। যুক্তরাজ্যের সেইন্সবেরি পরীক্ষাগারের গবেষকেরা জাদুঘরে সংরক্ষিত রোগাক্রান্ত পাতা বিশ্লেষণ করে রোগটি চিহ্নিত করেন। ছত্রাকজাতীয় রোগটি বর্তমান বিশ্ব থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

ইরানে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত

ইরানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের তালিকা গতকাল মঙ্গলবার চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও কিছুটা এগিয়ে গেল। আগামী ১৪ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। দুজন সুপরিচিত ব্যক্তি চূড়ান্ত তালিকায় অযোগ্য ঘোষিত হয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁরা হলেন মধ্যপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট আকবর হাশেমী রাফসানজানি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র এসফানদিয়ার রহিম মাশায়ি। এবার প্রার্থিতা ঘোষণার শেষ পর্যায়ে রাফসানজানি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় দেশটির জটিল রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ শুরু হয়েছে। ২০০৯ সালে আহমাদিনেজাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভের পর থেকে রাফসানজানি অতি রক্ষণশীলদের কাছ থেকে একঘরে হয়ে আছেন।

তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ মোরালেসের জন্য

বলিভিয়ার বামপন্থী নেতা ইভো মোরালেস তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। বিতর্কিত এক আইন পাসের মাধ্যমে তাঁকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, বলিভিয়ায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কিন্তু দেশটির সর্বোচ্চ আদালত গত মাসে এক রুলিংয়ে জানান, মোরালেসের প্রথম মেয়াদে সংবিধান পরিবর্তন হয়েছে। তাই বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী সেই মেয়াদকালকে গণনার বাইরে রাখতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতারা নতুন আইনটির সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচক সমাজতন্ত্রী মোরালেস বিদেশে অবস্থান করায় আইনটিতে সই করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আলভেরো গার্সিয়া লিনেরা। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাংবিধানিক অধিকার মোরালেসের রয়েছে। বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০৬ সালে দায়িত্ব নেন মোরালেস। সংবিধান সংশোধনের পর ২০০৯ সালে তিনি বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হন। তাঁর চলতি মেয়াদ শেষ হবে ২০১৫ সালে। পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশ চালানোর সুযোগ পাবেন।

এখনই নির্বাচন হলে ভালো করবে বিজেপি

এই মুহূর্তে ভারতে সাধারণ নির্বাচন হলে কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ বা জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চা এবং পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট ভালো ফল করবে। এবিপি আনন্দ ও এসি নিয়েলসেনের এক যৌথ জনমত সমীক্ষায় ফুটে উঠেছে এই চিত্র। এই জনমত সমীক্ষা চালানো হয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ১৫২টি লোকসভা কেন্দ্রে। ভারতের লোকসভায় রয়েছে ৫৪৩টি আসন। সমীক্ষা রিপোর্টটি গতকাল মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকা এবং দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ১৭টি লোকসভা কেন্দ্রের তিন হাজার ৭৬২ জন ভোটারের ওপর চালানো হয় এই সমীক্ষা। সমীক্ষার ফলে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভার আসনে বিনা জোটে এখন ভোট হলে বামফ্রন্ট ১৮টি, তৃণমূল ১৪টি এবং কংগ্রেস নয়টি আসন পাবে। নির্দলীয়রা পেতে পারে একটি আসন। তবে বিজেপি কোনো আসন পাবে না। আর কংগ্রেস ও তৃণমূল জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে তারা পাবে ২৪টি আসন এবং বামফ্রন্ট পাবে ১৭টি আসন। বর্তমানে তৃণমূলের রয়েছে ১৯টি, কংগ্রেসের ছয়টি, বামফ্রন্টের ১৫টি, বিজেপির একটি এবং নির্দলীয় একটি। সমীক্ষায় বলা হয়, সারদাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। এই সমীক্ষা চালানো হয় ১ থেকে ১০ মে। সমীক্ষা বলছে, এখন ভোট হলে এনডিএ পাবে লোকসভার ২০৬টি আসন এবং ইউপিএ পাবে ১৩৬টি আসন। আর আঞ্চলিক দল ও নির্দলীয় প্রার্থীরা পাবে ১৬৭টি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে বিজেপির নেতা নরেন্দ্র মোদীর নাম। ৩৬ শতাংশ ভোটার নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে রায় দিয়েছেন। এর পরে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন রাহুল গান্ধী (১৩ শতাংশ), মনমোহন সিং (১২ শতাংশ), মায়াবতী ( ৯ শতাংশ), সোনিয়া গান্ধী (৮ শতাংশ), লালকৃষ্ণ আদভানি (৬ শতাংশ), মুলায়ম সিং (৫ শতাংশ), নীতিশ কুমার (৩ শতাংশ) ও সুষমা স্বরাজ (২ শতাংশ)।

আলোচকদের নাম দিয়েছে আসাদ সরকার

সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধের অবসানে সংলাপের জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার আলোচক হিসেবে পাঁচজনের একটি নামের তালিকা দিয়েছে। এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী ওয়ায়েল আল-হালকি ও উপপ্রধানমন্ত্রী কাদরি জামিল ও অন্য তিন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার নাম রয়েছে। ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্র গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা জানিয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, তালিকাটি গত মার্চের শুরুতেই মস্কোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সম্প্রতি রুশ কর্তৃপক্ষও এ কথা বলেছিল। সিরিয়া সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে শান্তি স্থাপনে একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলন আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া মধ্যস্থতা করছে। জেনেভায় আগামী মাসে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো ঠিক করা হয়নি। ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে  সিদ্ধান্ত নিতে সিরিয়ার বিরোধী নেতাদের আগামীকাল বৃহস্পতিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে এক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা। কূটনৈতিক সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারবিরোধীরা অনুমোদন না করলে সিরীয় সরকারের দেওয়া তালিকার নাম পরিবর্তন করা হতে পারে। ফ্রান্সের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, তালিকায় সিরিয়া সরকার যাদের নাম দিয়েছে তাঁদের কয়েকজন গ্রহণযোগ্য হবেন না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস আরাকচি গতকাল বলেছেন, জেনেভায় অনুষ্ঠেয় শান্তি সম্মেলনে তাঁর দেশও অংশ নিতে চায়। গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, এই আলোচনায় ইরানের অংশগ্রহণ জরুরি। তবে ফ্রান্স এর বিরোধিতা করেছে।  গোলানে গোলাগুলি: ইসরায়েলের অধিকৃত গোলান উপত্যকার আন্তর্জাতিক অস্ত্রবিরতি রেখার কাছে গতকাল সিরিয়া ও ইসরায়েলের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। সিরিয়া বলেছে, অস্ত্রবিরতি রেখা পার হয়ে ইসরায়েলের সেনারা সিরিয়ার বির-আল-আজম গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাঁরা ইসরায়েলের একটি সেনা যান ধ্বংস করেন।

বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের প্রতিশ্রুতি বেইজিংয়ের

চীনের সফররত প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বলেন, ভারতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানো হবে এবং চীনের বাজারে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। শীর্ষ ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন (এফআইসিসিআই) আয়োজিত সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে ভাষণে চীনা প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেন, ভারত-চীনের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা কমিয়ে আনার সামর্থ্য তাঁদের রয়েছে। চীনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের আরও বেশি প্রবেশ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্যের বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ,  চীন সেটা বুঝতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল অবস্থা বজায় থাকলে সেটা চীনের জন্যই ইতিবাচক হবে। কারণ, চীন তখন অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে পারবে। সীমান্ত বিরোধসহ অন্যান্য অপ্রীতিকর বিষয় পেছনে ফেলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাইছে এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও চীন। কেকিয়াংয়ের চলতি সফরকালে উভয় দেশের নেতা সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। চীনা প্রধানমন্ত্রী গত সোমবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের সংখ্যা পারস্পরিক বিরোধের সংখ্যার চেয়ে কম নয়। ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীন। দুই দেশের মধ্যে গত অর্থবছর থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ছয় হাজার ৭৮৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বাণিজ্য হয়েছে। তবে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে ৪০৭ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছায়। এই ঘাটতি কমিয়ে আনার ব্যাপারে চীনা নেতারা আগেও জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সেসব কার্যকর হতে খুব কমই দেখা গেছে। দিল্লিভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের বিশ্লেষক বি জি ভার্গিস বলেন, উভয় দেশকে এখন অবশ্যই সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে। চীনের চাহিদা অনুযায়ী দেশটিতে ভারতীয় পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হবে।

মিয়ানমারে মুসলিম হত্যা বন্ধে ওবামার আহ্বান

মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে তিনি সংখ্যালঘু মুসলিমদের হত্যা বন্ধে দেশটির প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত সোমবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে থেইন সেইনের সঙ্গে এক বৈঠকে ওবামা এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের হত্যা বন্ধ হওয়া দরকার। জবাবে মিয়ানমারের সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট সাম্প্রদায়িক হানাহানি সমাধানের প্রতিশ্রুতি  দিয়ে বলেন, এর জন্য দায়ীদের আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। থেইন সেইন এক ঐতিহাসিক সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। ৪৭ বছরের মধ্যে এটাই মিয়ানমারের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর রাখাইন রাজ্যে গত বছর মুসলিম রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বৌদ্ধ রাখাইনদের জাতিগত দাঙ্গায় ১৯২ জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। রাখাইনদের লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা। অভিযোগ আছে, বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারের প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী এসব হানাহানিতে রাখাইনদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। কোথাও কোথাও সরাসরি তাদের পক্ষ নিয়েছে।  থেইন সেইনের সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, ‘মিয়ানমারের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সহিংসতার বিষয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগের কথা আমি প্রেসিডেন্ট থেইনকে অবহিত করেছি। মুসলিমদের প্রতি সহিংস আচরণ ও তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া করা বন্ধ হওয়া দরকার।’ ওবামা বলেন, প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন, তাঁর দেশের আরও রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন। তা ছাড়া চলমান রাজনৈতিক সংস্কারের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের নেতৃত্বের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর হাত ধরেই মিয়ানমারে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সূচনা হয়েছে। গৃহীত জটিল সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে মিয়ানমারের প্রচেষ্টাকে ‘অনুধাবন ও সহায়তা’ করার জন্য থেইন সেইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান। ছয় মুসলিমের সাজা: গত মার্চে মিয়ানমারের মিকতিলা শহরে জাতিগত দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয় মুসলিমের সাজা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের ৩৪ বছরের সাজা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যা করেছেন। বাকি অভিযুক্তদের সাজা হয়েছে দুই বছর থেকে ১৪ বছর।

২০ শিশুসহ নিহত ৯১

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যে গত সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হেনেছে। বিধ্বংসী এই টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৯১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ২৪০ জন। টর্নেডো উপদ্রুত অঞ্চলকে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরের মধ্যে এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী টর্নেডো। রোববার ওকলাহোমার শওনি শহরের কাছে একটি টর্নেডো আঘাত হানলে অন্তত দুজন নিহত হয়। এরপর সোমবার বিকেলে অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ও বৃহত্তম নগর ওকলাহোমা সিটির উপকণ্ঠে প্রচণ্ড শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হানে। এতে বেশ কয়েকটি জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মুর নামের একটি শহরতলি, যার জনসংখ্যা ৫৫ হাজার। এই টর্নেডো ৪৫ মিনিট ধরে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। এ কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুটি স্কুলের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে অন্তত ২০টি শিশু আটকা পড়ে। টর্নেডোর আঘাতে ৯১ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি ওকলাহোমার চিকিৎসা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে ২০টি শিশু রয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্র জানায়, টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ২৪০ জন আহত হয়। এর মধ্যে শিশু ৬০টি। প্রেসিডেন্ট ওবামা কেন্দ্রীয় সরকার থেকে দুর্গত এলাকায় সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। টর্নেডোর আঘাতে অনেক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জাতীয় আবহাওয়া সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানায়, ওকলাহোমার শহরতলিতে স্থানীয় সময় সোমবার বেলা তিনটার দিকে ওই টর্নেডো আঘাত হানে। এর গতি ছিল ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার। মুর শহরতলিতে টর্নেডো আঘাত হানার ১৬ মিনিট আগে এনডব্লিউএসের ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্র সতর্কতা জারি করে। সাধারণত ৮-১০ মিনিট আগে এ ধরনের টর্নেডো সতর্কতা ঘোষণা করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানান। এনডব্লিউএস ওই টর্নেডোকে সবচেয়ে শক্তিশালীর মধ্যে দ্বিতীয় ক্যাটাগরির বলে উল্লেখ করেছে। এ ধরনের টর্নেডোর গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। গত রোববার ওকলাহোমাসহ যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো আঘাত হানে। ২০১১ সালে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের জপলিনে শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হানলে ১৬১ জনের প্রাণহানি হয়। একই বছর অ্যালাবামার টুসকালুসাতেও শক্তিশালী টর্নেডোতে ৬৪ জন নিহত হয়। ১৯৯৯ সালে ওকলাহোমায় এক টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি হয়। ওই টর্নেডোয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সোমবারের টর্নেডোটি ১৯৯৯ সালের টর্নেডোর চেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল। গত রোববার ওকলাহোমা ছাড়াও আইওয়া, মিনেসোটা, ক্যানসাস ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে টর্নেডো আঘাত হানে।

কাজ শেষ করেনি এনা সংস্কার হয়নি সোনাদিঘির by শরিফুল হাসান ও আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ

নির্ধারিত সময়ের পর সাত মাস পেরিয়ে গেছে। শেষ হয়নি রাজশাহীর ১৬ তলা সিটি সেন্টার প্রকল্পের কাজ। আটকে গেছে প্রকল্পের অংশ ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজও।
সোনাদিঘির সংস্কার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান। এটি ২০০৮ সালে মেয়র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর। আর প্রকল্পের কাজটি পেয়েছিল আওয়ামী লীগের সাংসদ এনামুল হকের প্রতিষ্ঠান এনা প্রপার্টিজ। এ এইচ এম খায়রুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সোনাদিঘির সংস্কার ও উন্নয়নকাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে দিঘির পাড়ের দোকান সরাতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠকও করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি সেন্টার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল সোনাদিঘির পাড়ে একটি মসজিদ, হাঁটার পথ, এমপি থিয়েটার, তথ্যপ্রযুক্তি পাঠাগার নির্মাণ। ২০০৯ সালে সিটি সেন্টারের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হলে সাংসদের প্রতিষ্ঠানটিই একমাত্র দরপত্রটি জমা দেয়। চুক্তি অনুযায়ী সেখানে যতগুলো দোকান ও ঘর তৈরি হবে, তার ৭৫ ভাগ এনা প্রপার্টিজ বিক্রি করবে এবং ২৫ ভাগ পাবে সিটি করপোরেশন। ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভায় এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বছর ১০ অক্টোবর সিটি সেন্টার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান। ২০১২ সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
নগরবাসী জানিয়েছে, একসময়ে সোনাদিঘির পানি এতটাই স্বচ্ছ ছিল যে এখানকার পানি দিয়ে রান্নাবান্নার কাজ চলত। পরিচ্ছন্নতার জন্য এখানে পাহারাদার থাকত। দিঘির পাশে বসারও জায়গা ছিল।
গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী কলেজের উল্টো দিকের ওই জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, নোংরা পানি। চারপাশ দখল হয়ে আছে। বিভিন্ন দোকান, হোটেল ও ছাত্রাবাসের বর্জ্য এসে পড়ছে দিঘিতে। আর সিটি সেন্টার ভবনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ছয়তলা উঠেছে। তা-ও কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২ ধারা অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তির ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং থাকার যোগ্য হবেন না। এর পরও এনামুল হকের মালিকানাধীন এনা প্রপার্টিজ সিটি সেন্টারের কাজ পায়।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনের পর কিছুদিন কাজ বন্ধ রেখেছিলেন এনামুল হক। পরের দেড় বছরে কেবল ভিত্তিপ্রস্তরের কাজ চলে। এরপর ২০১১ সালের জুলাই মাসে এই কাজের বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ জন্য ওই সম্পত্তির মালিকানা নিজের নামে (পাওয়ার অব অ্যাটর্নির) দেখানোরও চেষ্টা করেন তিনি। ওই বছরের ১০ নভেম্বর সিটি করপোরেশনে একটি আবেদনও করেন তিনি। কিন্তু আইন অনুযায়ী সুযোগ না থাকায় ডিসেম্বর মাসে সিটি করপোরেশন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর এনা প্রপার্টিজ ফের কাজ শুরু করে। সাংসদ এনামুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সিটি সেন্টারের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে এনা প্রপার্টিজের ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী জগলুল হক হায়দারি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ছয়তলার কাজ শেষ হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আটতলার কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপরে এই আটতলার দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শুরু হবে। বাকি আটতলার কাজ কবে শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটি বলা মুশকিল।’ সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আবেদন করার সময় এখনো চলে যায়নি।’
সোনাদিঘি সংস্কারকাজের বিষয়ে জানতে চাইলে জগলুল হক হায়দারি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন যদি দিঘির পারের দোকানগুলো উচ্ছেদ করতে পারে, তাহলে আমরা কাজ করব।’
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সিটি সেন্টার নির্মাণের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে। কাজের ধীরগতি দেখে দ্রুত করার জন্য তাদের অনেকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সোনাদিঘির সংস্কারকাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিটি সেন্টারের প্রকল্পের সঙ্গেই দিঘির সংস্কার ও উন্নয়নকাজ ছিল। চারপাশের দোকানগুলো ভেঙে তাদের অন্যত্র পুনর্বাসন করার কথা ছিল। কিন্তু সেটি এখনো হয়নি।

কালের কণ্ঠকে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ডেইলি সান পত্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম আলো সম্পাদকের করা তিনটি পৃথক মামলার রায় দিয়েছেন। প্রথম আলো ও এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে লাগাতার মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কুৎসাপূর্ণ ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য এসব মামলা করেন প্রথম আলোর সম্পাদক।
গত ২২ এপ্রিল দেওয়া রায়ে সংবাদ ও প্রতিবেদন প্রকাশে ভবিষ্যতে ওই পত্রিকাগুলোকে আরও সতর্ক হতে এবং সাংবাদিকতার সাধারণ নীতিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেন প্রেস কাউন্সিল। রায়ে বলা হয়, মামলাগুলোর শুনানিকালে প্রতিপক্ষের আইনজীবীরা ওই সব প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
ওই সব প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে পত্রিকা তিনটি সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে বলে স্বীকার করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন আইনজীবীরা। আজ প্রকাশিত হলো কালের কণ্ঠ-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায়ের হুবহু বিবরণ।
প্রেস কাউন্সিলে প্রথম আলোর দায়েরকৃত মামলার রায়
কালের কণ্ঠকে সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণের  নির্দেশ
রায়ের হুবহু বিবরণ
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল
মামলা নং-১/২০১
ফরিয়াদী
জনাব মতিউর রহমান
সম্পাদক, দৈনিক প্রথম আলো, ঢাকা
বনাম
প্রতিপক্ষ
১.   জনাব ইমদাদুল হক মিলন, সম্পাদক
২.   জনাব মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিন, প্রকাশক
৩.  নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ঢাকা
জুডিশিয়াল কমিটির উপস্থিত সদস্যবৃন্দ
১.   বিচারপতি বি. কে. দাস, চেয়ারম্যান
২.   জনাব শামসুজ্জামান খান, সদস্য
৩.  জনাব আকরাম হোসেন খান, সদস্য
৪.   জনাব মনজুরুল আহসান বুলবুল, সদস্য
ফরিয়াদীপক্ষের পক্ষে
জনাব মো. খায়রুল ইসলাম
এডভোকেট
জনাব আফতাব উদ্দিন সিদ্দিকী
এডভোকেট
প্রতিপক্ষের পক্ষে
ব্যারিস্টার ইউসুফ খান রাজীব
শুনানির তারিখ: ৫/৯/১২, ১৯/১১/১২ ও ০৩/১২/২০১২
রায়ের তারিখ: ২২/০৪/২০১৩
রায়
‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব মতিউর রহমান এই মর্মে প্রেস কাউন্সিলে একটি মামলা দায়ের করে বলেন যে, ১নং প্রতিপক্ষ জনাব ইমদাদুল হক মিলন, সম্পাদক ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় লাগাতার অব্যাহত ও বিরামহীনভাবে ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কুৎসাপূর্ণ মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে পারিবারিক পরিমণ্ডলে, কর্মস্থলে এবং দেশে-বিদেশে আত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং হিতৈষী মহলে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য কূটকৌশল হিসেবে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে তার সম্মানহানি করেছেন। ১১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় ‘মতিউর রহমান ও প্রথম আলোর সেইসব ভূমিকা’; ১৩ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী প্রথম আলো নেমেছে মিথ্যাচারে’; ১৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘নামাজকে বিদ্রূপ করছে প্রথম আলো’; ১৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘প্রথম আলোর অফিসে গিয়ে দেখি, এমন গুনাহর কাজ বিধর্মীরাও করে না’ ও ‘আমার মায়ের কান্নাও গলাতে পারেনি মতিউর রহমানকে’ প্রকাশ করে ফরিয়াদীকে জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ১৩ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ এর প্রথম পাতায় শীর্ষ সংবাদ হিসাবে- (ক) মহানবীর নাম নিয়ে আপত্তিকর কার্টুন প্রকাশ করে নাকে খত দিয়েও শিক্ষা হয়নি প্রথম আলোর। (খ) নিজেদের অপকর্মের জন্য প্রথম আলো ও এর সম্পাদক মতিউর রহমান নাকে খত দিয়েছেন বারবার।...প্রকাশ করে ফরিয়াদীকে জনসমক্ষে হেয়প্রতিন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ২০০৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিখের প্রথম আলোর ম্যাগাজিন ‘আলপিন’ এ (বর্তমানে বিলুপ্ত) পত্রিকা সম্পাদক, প্রকাশক ও মালিকের অগোচরে-অজ্ঞাতে, নিতান্তই অসাবধানতা ও ভুলবশতঃ একটি কার্টুন প্রকাশিত হয়। ঐ কার্টুনটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে, সেই অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে, ওই ভুলের সমস্ত দায়দায়িত্ব স্বীকার কর ফরিয়াদী পর পর দুদিন (১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৭) প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ফলাও করে প্রকাশিত দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই কার্টুনের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চান। ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে আবারও দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল’ শিরোনামে সম্পাদকীয়তে প্রকাশ করেন। ঐ একই দিন সরকারি উদ্যোগে সরকার ও আলেম সমাজের নেতৃবর্গের সমন্বয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ফরিয়াদী ওই ঘটনার জন্য আলেম সমাজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তৎকালীন তথ্য ও আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ধর্ম উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এ এস এম মতিউর রহমান, বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক, শীর্ষস্থানীয় তিন পত্রিকার সম্পাদকসহ দেশের নেতৃস্থানীয় আলেম ওলামাগণ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ওই বৈঠকেই কার্টুন সমস্যার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে পুনরায় ফরিয়াদী ‘দৈনিক প্রথম আলো’ পত্রিকায় প্রথম পাতায় ‘আমরা দুঃখিত ক্ষমা প্রার্থী’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি ‘আলপিন’ ম্যাগাজিন বন্ধ করে দেন ও চাকুরীচ্যুত করেন ‘আলপিন’ সম্পাদনার দায়িত্বে নিয়োজিত সাংবাদিককে। ওই বৈঠকে ‘আলপিন’ সম্পর্কীয় সংবাদ প্রকাশের ব্যাপারে ফরিয়াদীর পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের যবনিকা ঘটে উপদেষ্টাবৃন্দসহ খতিব ও বিশিষ্ট ওলামাদের সম্মুখে। উক্তরূপ সন্তোষজনক নিষ্পত্তিকৃত ইস্যুকে ব্যবহার করে ধর্মীয় মৌলবাদকে উস্কে দেওয়ার হীন ষযড়ন্ত্রে ১৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় ‘নামাজকেও বিদ্রূপ করছে প্রথম আলো’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলা হয়, ‘প্রথম আলো মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন-কাহিনী প্রকাশ করে পরে...নাকে খত দিয়েও নিবৃত্ত হয়নি।’ ১৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকার ৩য় বর্ষ ৬ষ্ঠ সংখ্যায় বাংলা নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম সূত্রের বরাতে ১ ও ২নং প্রতিপক্ষ দুরভিসন্ধিমূলকভাবে ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে গুরুতর মানহানিকর প্রতিবেদন দেওয়া হয় ‘আমার মায়ের কান্নাও গলাতে পারেনি মতিউর রহমানকে’। ঐ প্রতিবেদনের শিরোনামের উপরে কার্টুনিস্ট আরিফের ছবিও ছাপানো হয় এবং উল্লেখ, হয়- ‘(ক) কিন্তু বেচারা আরিফ ৬ (ছয়) মাস রাষ্ট্রদ্রোহ ও ধর্ম অবমাননার দায়ে জেল খাটতে হয় তাকে। (খ) আরিফের মায়ের কান্নাও স্পর্শ করেনি নির্দয় মতিউর রহমানকে। (গ) আমি জেলে যাওয়ার পরদিন প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ আমাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা আমাকে চিনে না। তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। প্রথম আলো আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নিজেদের গা বাঁচিয়ে আমাকে জেলে পাঠিয়েছে। (ঘ) যে পত্রিকায় কাজ করতাম আমি বিপদে পড়ায় সে পত্রিকা বলছে আমাকে নাকি তারা চিনে না।’ ১১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে ফরিয়াদীর অবমাননাকর ছবিসহ ‘মতিউর রহমান ও প্রথম আলোর সেইসব ভূমিকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয় যে ‘মাইনাস টু ফর্মুলার’ প্রবর্তক হিসাবে ফরিদয়াদীকে আখ্যা দেয়া হয়। ইতিপূর্বে দায়েরকৃত ফরিয়াদীর মামলা নং-৩/২০১০ এর রায়ে বিজ্ঞ প্রেস কাউন্সিল উল্লেখ করেন যে, ‘দেশে রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বাদ দেওয়ার মূল পরিকল্পনাকারী হলেন “দৈনিক প্রথম আলো”র সম্পাদক, এরও কোন তথ্য বা প্রমাণ দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার আইনজীবী কাউন্সিলের সামনে পেশ করতে পারেন নাই।’ উক্ত মামলায় ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’-এর সম্পাদক ও প্রকাশককে দোষী সাব্যস্ত করে যথারীতি দণ্ডিত করেন। তর্কিত প্রতিবেদনসমূহে মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশের বিরুদ্ধে ফরিয়াদী প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করেন। কিন্তু এরপর ফরিয়াদীর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষগণ মিথ্যা ও মানহানিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলেছেন। ফরিয়াদী আরও কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, যা আমরা মামলার সিদ্ধান্তের সময়ে উল্লেখ করার চেষ্টা করব।
প্রতিপক্ষগণ যথাসময়ে জবাব দাখিল করে উল্লেখ করেন যে, ১১ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় প্রথম আলোতে ছাপানো প্রতিবেদন ও ফরিয়াদী জনাব মতিউর রহমানের বিভিন্ন লেখা থেকে অংশবিশেষ ছাপা হয় এবং ঐ প্রতিবেদনে কোন মিথ্যা বক্তব্য ছাপা হয়নি। ১৩ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী প্রথম আলো নেমেছে মিথ্যাচারে’-প্রতিবেদনটি ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকার নিজস্ব কোনো কল্পকাহিনী নয়, ২০০৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো থেকে প্রকাশিত ফান ম্যাগাজিন ‘আলপিনে’ মহানবীকে (স.) ব্যঙ্গ করে একটি কার্টুন ছাপা হয়। যা নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বাংলাদেশের মুসলমানরা প্রথম আলোর ওই কার্টুনকে চরম ধর্মীয় অবমাননা বলে মনে করেন। ‘দৈনিক কালের কণ্ঠের’ ওই প্রতিবেদনে গত ওয়ান-ইলেভেনে মতিউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে লেখা হয় যা সত্য ঘটনা। এ নিয়ে প্রেস কাউন্সিলে মামলা করার কোনো ভিত্তি নেই। গত ১৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে ‘আমার মায়ের কান্নাও গলাতে পারেনি মতিউর রহমানকে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর কার্টুনিস্ট আরিফুর রহমানের সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছিল। আরিফুর রহমান এই প্রতিবেদনের কোন প্রতিবাদ করেননি। সুতরাং আরিফের বক্তব্য সঠিক প্রতীয়মান হয়। এছাড়া এই প্রতিবেদনটি নিউজ এজেন্সি, ‘বাংলানিউজটুয়েন্টিফোর ডটকম’ থেকে সংগৃহীত। এটি কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদন নয়। বাংলানিউজের বিরুদ্ধে ফরিয়াদী কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। কাজেই ‘কালের কণ্ঠের’ বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে ‘প্রথম আলোর’ সম্পাদকীয়তে লেখা হয়- ‘আমরা সেনাবাহিনীর এই অবস্থানকে স্বাগত জানাই’। ২০০৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে- ‘প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারেনি। বরং রাজনৈতিক চরম দেউলিয়াত্ব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে’। ২০০৭ সালের ১১ জুন তারিখে প্রথম আলোর মন্তব্য প্রতিবেদনে ফরিয়াদী বলেন, ‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’। একই বছরের ১১ জুলাই আবারো দুই নেত্রী সম্পর্কে প্রথম আলোর উপ-সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘সম্মানজনক প্রস্থানের সুযোগ থাকা উচিত’। ২০০৭ সালের ১৪ আগস্ট তারিখে প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে লেখা হয়, ‘১১ জানুয়ারির পরিবর্তনকে এ দেশের মানুষ স্বাগত জানিয়েছে’। ১১ জানুয়ারি সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল। মাইনাস টু ফর্মুলা কার্যকর করতে প্রথম আলোর সম্পাদক অত্র মামলার ফরিয়াদী জনাব মতিউর রহমান এ রকম অসংখ্য লেখা লিখেছেন। এসব প্রতিবেদন কালের কণ্ঠে ছাপানো কোন অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না। সুতরাং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলা চলতে পারে না।
উক্ত জবাবের বিরুদ্ধে ফরিয়াদী বিগত ১২/৮/১২ তারিখে প্রতিউত্তর দাখিল করেছেন। ওই প্রতিউত্তরে মোটামুটি ফরিয়াদীর মামলা সম্পর্কিত তথ্যগুলি পুনরায় ব্যক্ত করেন এবং অন্যান্য প্রসঙ্গ আমরা যথাসময়ে উল্লেখ করার ইচ্ছা রাখি।
বিগত ৫/০৯/২০১২ তারিখে মামলাটি উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। ফরিয়াদী পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ সময় চেয়ে আবেদন জানালে আবেদনটি মঞ্জুর হয় এবং পরবর্তীকালে ০৩/১২/২০১২ তারিখে প্রতিপক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করা হয়। ওই দিন ফরিয়াদীপক্ষও তাদের বক্তব্য পুনরায় পেশ করেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য আমরা শ্রবণ করেছি এবং নথিতে রক্ষিত কাগজাদি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। লিখিত বক্তব্য ও জবাব ছাড়া কোনপক্ষই তাদের বক্তব্যের সপক্ষে কোনো রকম দলিল বা কাগজপত্রাদি দাখিল করেননি। কোনপক্ষই কোনো মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করেননি। উভয়পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীদের মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করার পর আমরা মনে করি যে ফরিয়াদীপক্ষ বা প্রতিপক্ষগণ তাদের বক্তব্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনরকম তথ্য বা আইনের বিধান আমাদের সামনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফরিয়াদী জনাব মতিউর রহমান ‘আলপিন’ ম্যাগাজিনে (বর্তমানে বিলুপ্ত) পত্রিকায় প্রকাশিত কার্টুনটি প্রকাশের পর ওই কার্টুনের জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে ২০০৭ সালের পত্রিকায় সম্পাদকীয়তে প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে আলেম সমাজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তৎকালীন তথ্য ও আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ধর্ম উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) এ এস এম মতিউর রহমান, বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক, শীর্ষস্থানীয় তিন পত্রিকার সম্পাদকসহ দেশের নেতৃস্থানীয় আলেম ওলামাগণ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে ওই বৈঠকেই কার্টুন সমস্যার আনুষ্ঠানিক যবনিকাপাত ঘটে। ঐ কার্টুনটি প্রকাশের জন্য অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে ২১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে ‘দৈনিক প্রথম আলো’-এর প্রথম পাতায় ‘আমরা দুঃখিত ক্ষমাপ্রার্থী’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লেখেন এবং ফরিয়াদী ‘আলপিন’ প্রকাশনা বন্ধ করে দেন। ইত্যাকার বক্তব্যকে প্রতিপক্ষগণ খণ্ডাতে পারেননি। ২০০৭ সালের ঐ ঘটনা পুনরাবৃত্তি করে ১৫ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে প্রতিপক্ষগণের ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা সঙ্গত হয়নি বলে আমরা মনে করি। আমরা আশা করি প্রতিপক্ষগণ ভবিষ্যতে এরূপ অপকর্ম আর করবেন না। ফরিয়াদী ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ‘দৈনিক কালের কণ্ঠ’ কয়েক বছর আগে ‘দৈনিক প্রথম আলোতে’ প্রকাশিত প্রতিবেদন ও কার্টুন সংক্রান্ত বিষয়াদি আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। উপরন্তু প্রতিপক্ষ তাদের জবাবে স্বীকার করছেন: (পৃষ্ঠা-৩) আলপিনে কার্টুন সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদন নয়, প্রতিবেদনটি বাংলানিউজটুয়েন্টিফোর ডটকম থেকে সংগৃহীত। কিন্তু সাংবাদিকতার স্বীকৃত সত্য হচ্ছে, যে কোন সূত্র থেকে তথ্য সংগৃহীত হোক না কেন কোন সংবাদপত্রের তা প্রকাশের পর সম্পূর্ণ দায় সেই সম্পাদককেই বহন করতে হবে। পূর্বোক্ত স্বীকারোক্তির মাধ্যমে ‘দৈনিক কালের কণ্ঠের’ সম্পাদক যেভাবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন তাকে কোনভাবেই পেশাদারী সম্পাদকসূলভ আচরণ বলা যায় না। অনুসন্ধানে দেখা যায় বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডমকম [মিডিয়া কম কমপ্লেক্স প্লট # ৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯, বাংলাদেশ, A concern of the East-West Media Group Ltd., banglanews24.com is a most dynamic platform that brings news fast and accurate. For people across the globe, it is also a haunt for refreshing entertainment সূত্র: তাদের ওয়েবসাইট] এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রকাশনাস্থল [৩৭১/এ (৩য় তলা), ব্লক # ডি, বসুন্ধরা রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯] একই ঠিকানায় অবস্থিত। শুধু তাই নয় দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রকাশনা গ্রুপ, ইস্ট-ওয়েস্ট ম�

এভারেস্ট জয়ের পর চলে গেলেন সজল খালেদ

পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে অসীম শূন্যতায় পাড়ি জমালেন মোহাম্মদ খালেদ হোসেন (৩৫)। বাংলাদেশের এই পর্বতারোহী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সজল খালেদ নামে পরিচিত ছিলেন। গত সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে তিনি এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন। এরপর সাউথ কোলের ওপরে এসে বিকেলে আকস্মিকভাবে তিনি মারা যান।
নেপালে বাংলাদেশি দূতাবাস গতকাল মঙ্গলবার এ খবর নিশ্চিত করেছে। দূতাবাসের প্রথম সচিব খান মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন জানান, গতকাল খালেদ হোসেন এভারেস্ট জয় করেন। সেখান থেকে নামার পথে বিকেলে এই পর্বতারোহী মারা যান। ওই দলে আটজন সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধও আছেন। তিনিও এভারেস্ট জয় করেছেন।
মাউন্ট এভারেস্টসহ হিমালয়ের বিভিন্ন পর্বতশৃঙ্গ জয়ের অভিযান পরিচালনা করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও সজল খালেদের মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। খালেদ এবারের এভারেস্ট অভিযানের অনুমতি সংগ্রহ করেছিলেন সেভেন সামিট ট্রেকস (প্রা.) লিমিটেড থেকে। আর তাঁর এভারেস্ট অভিযানের আয়োজন সম্পন্ন করেন শেরপা পেমবা দরজি। কাঠমান্ডুর হিমালয়ান গাইডস প্রা. লিমিটেডের কর্ণধার ঈশ্বরী পাড়োয়াল গতকাল রাত নয়টার দিকে প্রথম আলোকে জানান, সজল খালেদের সহপর্বতারোহী নেপালি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক সুদর্শন গৌতমকে ক্যাম্প থ্রি থেকে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হেলিকপ্টারে করে সিরিক ট্রাবল মেডিসিন সেন্টারে আনা হয়েছে। তিনি একজন প্রতিবন্ধী পর্বতারোহী, তাঁর দুহাত নেই। চিকিৎসকেরা তাঁকে গতকাল রাতে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেননি। পেমবা দরজি এবং সজল খালেদের সঙ্গী শেরপার সঙ্গে কথা বলে ঈশ্বরী পাড়োয়াল প্রথম আলোকে জানান, ২০ মে সকাল সাড়ে আটটায় ২৯ হাজার ৩৫ ফুট উচ্চতার এভারেস্ট চূড়ায় আরোহণ করেন তিনি। খালেদের সহ-পর্বতারোহীরা নয়টার দিকে এভারেস্টে ওঠেন। সাড়ে নয়টার দিকে সবাই একসঙ্গে নামতে শুরু করেন। ঈশ্বরী বলেন, নামার সময় পূর্ণ অক্সিজেন ছিল খালেদের সঙ্গে। তিনি বেশ উল্লসিত ছিলেন। সাউথ কোলের ওপরে আনমানিক আট হাজার ৬০০ মিটার (২৮ হাজার ২১৫ ফুট) উচ্চতায় এসে শেরপা সর্দার মিংমাকে জানান তিনি ক্লান্ত। একটু বিশ্রাম নিয়ে সজল ঢাকায় তাঁর স্ত্রী তাহমিনা খানের সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন। ঈশ্বরী বলেন, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে মারা যান খালেদ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তিনি উচ্চতাজনিত অসুস্থতা ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
ঈশ্বরী আরও জানান, এভারেস্টে কোনো পর্বতারোহী মারা গেলে তাঁর পরিবার চাইলে সাধারণত মৃতদেহ অভিযান মৌসুম শেষে শেরপারা বহন করে নিয়ে আসেন। তবে খালেদ যে উচ্চতায় মারা গেছেন সেখান থেকে মৃতদেহ বহন করে আনা বেশ কঠিন।
খালেদ তাঁর এভারেস্ট অভিযান পরিচালনা করেছিলেন এভারেস্টের নেপাল অংশ অর্থাৎ দক্ষিণ দিক (সাউথ ফেস) দিয়ে। এর আগে ২০১১ সালে তিনি এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন তিব্বত অংশ অর্থাৎ উত্তর দিক দিয়ে। সেবার শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রায় ২৩ হাজার ফুট উচ্চতার ক্যাম্প ওয়ান থেকে তিনি নেমে আসেন।
জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল ঢাকা থেকে কাঠমান্ডু পৌঁছান খালেদ। ২৫ এপ্রিল কাঠমান্ডু থেকে এভারেস্টের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
২০০৯ সালে খালেদ গণমাধ্যমকর্মী তাহমিনা খানকে বিয়ে করেন। তাঁদের ছেলে সুষ্মিতের বয়স প্রায় দুই বছর।
খালেদ এর আগে সিকিমের ফ্রে পর্বত (২০০৬), নেপালের মাকালু (২০০৯), হিমালয়ের বাংলাদেশ-নেপাল ফ্রেন্ডশিপ পিক (২০১০), অন্নপূর্ণা রেঞ্জের সিংগুচুলি পর্বত (২০১১) জয় করেন।
চলচ্চিত্রকার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছিলেন এই তরুণ। মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে তিনি তৈরি করেন সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র কাজলের দিনরাত্রি। গত জানুয়ারি মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।

ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে ইসি ও সরকারে দুই মত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তিন নির্বাচন কমিশনার ডিসিসির আওতাভুক্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নকে নির্বাচনী এলাকার বাইরে রেখে নির্বাচন করার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সরকার বিদ্যমান অবস্থাতেই নির্বাচন করার পক্ষে। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠকে কমিশনাররা ওই মত দেন। তবে বিকেলে কমিশন সচিবালয় থেকে কমিশনের আজকের বৈঠকের যে কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে, তাতে আগামী ৩ ও ৬ জুলাইয়ের যেকোনো দিন ঢাকার দুই সিটি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাদিক প্রথম আলোকে জানান, ডিসিসির নির্বাচন হবে কি হবে না—সে বিষয়ে আজ কমিশন বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, ঢাকা সিটির বিষয়টি অনিশ্চিত হলেও নবগঠিত গাজীপুর সিটি ও জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি অনেকাংশেই নিশ্চিত। আইন অনুযায়ী, ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে গাজীপুর সিটিতে নির্বাচন করতে হবে। আর সাবেক স্পিকার আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে গতকাল কমিশনের বৈঠক হয়। এতে তিন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ ও মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ ডিসিসির সুলতানগঞ্জ এলাকাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ১ জানুয়ারি তেজগাঁও সার্কেলের সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ১৩টি এলাকাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকার সীমানা বিন্যাস এবং ওয়ার্ডের নম্বর দেওয়া হয়নি। বৈঠকে কমিশনাররা সীমানা বিন্যাস শেষ না হওয়ায় এ সময় নির্বাচন করাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিমত দেন।
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, কমিশন মনে করে, এ অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে মামলা-মোকদ্দমা হতে পারে। এতে আবারও ডিসিসি নির্বাচন ঝুলে যেতে পারে। বিষয়টি কমিশনের জন্য বিব্রতকর হবে। এর আগে একবার তফসিল ঘোষণা করেও নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, গত ১৩ মে ডিসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর কমিশন সচিবালয় সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের বিষয়টি স্পষ্ট করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। এর জবাবে ১৯ মে মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের এলাকাকে দক্ষিণ সিটির অন্তর্ভুক্ত করা হলেও এটি এখনো ওয়ার্ডভুক্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নকে বাদ রেখে দক্ষিণ সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুরোধ করেছে।
কিন্তু কমিশন মনে করে, সুলতানগঞ্জকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করার বিষয়টি আইনের পরিপন্থী। সিটি করপোরেশন আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সিটি করপোরেশন-সংলগ্ন কোনো এলাকাকে করপোরেশনের সীমানার অন্তর্ভুক্ত অথবা বহির্ভূত করতে পারবে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, ‘কোনো এলাকাকে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ার বিষয়টি চলমান প্রক্রিয়া। সুলতানগঞ্জকে সিটির আওতাভুক্ত করা হলেও এর সীমানা বিন্যাস প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। সে জন্যই এই এলাকাকে বাদ রেখে নির্বাচন করার কথা বলা হচ্ছে। এতে আইনগত কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। তাঁর প্রশ্ন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু উত্তর সিটির নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়?
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের বক্তব্যের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ বলেন, ‘পেশীশক্তির দৌরাত্ম যাতে না থাকে, সে জন্য আমরা ঢাকার দুই সিটিতে একই দিনে নির্বাচন করতে চাই।’

বিএনপিকে দোয়া মাহফিলও করতে দেয়নি পুলিশ

এবার বিএনপিকে দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলও করতে দেয়নি পুলিশ। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের নিচতলায় জড়ো হলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। এরপর বিএনপির কার্যালয়সংলগ্ন ভাসানী হলে দোয়া মাহফিল করতে যায় দলটি। পুলিশ সেখানেও বাধা দেয়। বিএনপির মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দাবি করেন, ‘দোয়া মাহফিল করতে না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ বলেছে, ওপরের নির্দেশ আছে।’ তিনি বলেন, সরকার সরাসরি জরুরি আইন ঘোষণা না করে জরুরি আইনের কার্যক্রম পুরোপুরি প্রয়োগ করছে। বিএনপি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। জানতে চাইলে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচির নাম করে পরে রাস্তায় বেরিয়ে যানবাহন ভাঙচুর করা হবে বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির কার্যালয়ের ওই অনুষ্ঠান না করতে তাঁদের অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঠেকাতে এক মাস কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই দিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সুষ্ঠুভাবে ত্রাণতৎপরতা চালানোর স্বার্থে সভা-সমাবেশের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নিষেধাজ্ঞা মানবে না বলে গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মুখপাত্র শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, সংবিধান ও গণতন্ত্র মানলে কোনো অবস্থাতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে এই ঘোষণা দিলেও গতকাল পর্যন্ত বিএনপি নতুন কোনো কর্মসূচি দেয়নি। এ ব্যাপারে শামসুজ্জামান বলেন, আজ বুধবার রাতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হবে।
বিএনপি রাজপথে সর্বশেষ কর্মসূচি পালন করে ৪ মে। ওই দিন মতিঝিলের শাপলা চত্বরে দলটি মহাসমাবেশ করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি মানতে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল। এরপর বিএনপি আর মাঠে নামতে পারেনি। ১৩ মে ও ১৫ মে দুই দফায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চেয়েও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় করতে পারেনি।
আজ ঢাকা জেলায় হরতাল: ঢাকা জেলা বিএনপি আজ বুধবার রাজধানীর বাইরে ধামরাই, সাভার, কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে এ হরতাল ডাকা হয়েছে বলে গতকাল ঢাকা জেলা বিএনপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা সংবিধানের লঙ্ঘন: গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সভা-সমাবেশ নিষেধ করে সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। এর মাধ্যমে বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করে। এটা কি গণতন্ত্রের নমুনা?’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লার মুক্তির দাবিতে এ আলোচনার আয়োজন করে বরকত উল্লা মুক্তি পরিষদ।
সভা-সমাবেশ নিষেধ করায় বিএনপি এখন হতাশ—আওয়ামী লীগের নেতাদের এমন মন্তব্যের জবাবে খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিরোধী দল এ ধরনের সিদ্ধান্তে কখনোই হতাশ নয়। বিরোধী দলকে ভয় পায় বলেই সরকার সভা-সমাবেশ নিষেধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধী দলকে নির্মূল করতে বিএনপির নেতাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
আজ নিম্ন আদালতে খালেদার হাজিরা: আজ বুধবার দুটি মামলায় অভিযোগপত্র গঠনের জন্য শুনানির জন্য নিম্ন আদালতে দিন ধার্য আছে। মামলা দুটিতে জামিনে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আজ আদালতে হাজির হতে হবে। মামলা দুটি হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের আর্থিক দুর্নীতির মামলা। দুটিতে খালেদা জিয়া প্রধান আসামি। এর একটি তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমানও আসামি।

পুলিশের কাছথেকে অস্ত্রধারীকে ছিনিয়ে নিলছাত্রলীগ

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গত সোমবার রাতে পুলিশের কাছ থেকে গোলাম রহমান চৌধুরী নামে এক যুবককে ছিনিয়ে নিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক সিলেটের এমসি কলেজে সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে অংশ নিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার এমসি কলেজে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরন মাহমুদ ও বরখাস্ত হওয়া সাবেক সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থের পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গোলাম রহমান কালো হেলমেট পরে কলেজের মূল ফটকের বাইরে অস্ত্র হাতে অবস্থান নেন। তাঁর ছবি তোলার সময় বেসরকারি টেলিভিশনসহ দায়িত্ব পালনরত আলোকচিত্র সাংবাদিকদের অস্ত্রধারীরা ধাওয়া করে। সিলেট মহানগর পুলিশের শাহ পরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নাম উল্লেখ না করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার গোলাম রহমানকে সশস্ত্র অবস্থায় সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা গেছে। সোমবার রাতে এমসি কলেজের পার্শ্ববর্তী টিলাগড় এলাকার একটি রেস্তোরাঁ থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁকে আটক করেছিল। ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন পুলিশের হাত থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নেয়। তাঁকেসহ সংঘর্ষে জড়িত অন্য অস্ত্রধারীদের ধরার চেষ্টা চলছে।’
জানা গেছে, পুলিশ গোলাম রহমানকে ধরতে সোমবার মধ্যরাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে টিলাগড়ের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকায় কয়েক দফা অভিযান চালায়। তিনি জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরন মাহমুদের পক্ষের কর্মী। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে টিলাগড় মোড়ের একটি রেস্তোরাঁর সামনে গোলাম রহমানসহ কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহ পরান থানার পুলিশ এসে গোলাম রহমানকে আটক করে। পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তোলার সময় খবর পেয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশকে ঘিরে ফেলেন। জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ এমসি কলেজ ও সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গোলাম রহমানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গোলাম রহমানকে নিয়ে আসলে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। পুলিশকে বোঝানোর পর তারা চলে গেছে। এখানে ছিনিয়ে নেওয়ার কিছু ঘটেনি।’ গোলাম রহমানকে ওই দিন অস্ত্র হাতে কলেজের ফটকে দেখা গেছে—বিষয়টি জানালে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

ছাত্রদল, যুবদল, শিবির সহিংসতা ঘটায়, টাকা দেয় ১৮-দলীয় জোট

রাজধানীর মতিঝিল-পল্টন এলাকায় ৫ মে হেফাজতে ইসলামের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সকাল থেকেই ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেন ছাত্রদল, যুবদল ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এতে হেফাজতের কিছু কর্মীও অংশ নেন।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মোহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী এ তথ্য দেন বলে পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে। ওই সহিংসতা বন্ধ করার জন্য হেফাজতের ১৪ জন নেতাকে অনুরোধ করেন দাবি করে তিনি জবানবন্দিতে বলেন, কিন্তু নেতারা তাঁকে বলেন, আন্দোলন এখন ১৩ দফায় নেই। এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের আন্দোলন। ১৮ দলের লোকজন তাঁদের অর্থসহ সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন। প্রয়োজন হলে আরও অর্থ দেবেন। সূত্রমতে, জবানবন্দিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, সমাবেশ শেষ না করে মতিঝিলে হেফাজত অবস্থান নিলে ১৮-দলীয় জোট আরও টাকা দেবে এবং সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার দেবে বলে শাপলা চত্বরের মঞ্চে উপস্থিত নেতারা তাঁকে জানান। ওই নেতারা তাঁকে বলেন, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা শাপলা চত্বরে অবস্থান করবেন। এই জবানবন্দির বিষয়ে জানতে চাইলে জুনায়েদ বাবুনগরীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাবুনগরী অসুস্থ। চিকিৎসার বিষয়ে আদালতের আদেশ আছে। তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মতিঝিল থানার একটি মামলায় দুই দফায় ১৩ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল আদালতে হাজির করে জুনায়েদ বাবুনগরীর জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন জানায় পুলিশ। জবানবন্দি দেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আদালত জুনায়েদ বাবুনগরীকে তিন ঘণ্টা সময় দেন। পরে ঢাকার মহানগর হাকিম হারুন অর-রশিদ তাঁর খাসকামরায় জুনায়েদ বাবুনগরীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। আদালত জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জুনায়েদ বাবুনগরী আদালতকে বলেন, ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবি আদায়ের জন্য ৫ মে রাজধানীর ছয়টি প্রবেশপথে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু পরে তারা মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সরকারের অনুমতি চায়। সরকার তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়।
জুনায়েদ বাবুনগরী জবানবন্দিতে বলেন, সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজসহ বিভিন্ন অপরাধে জামায়াত-শিবির, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন হেফাজতের কর্মীরা। এসব বিষয় হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীকে অবহিত করলে তিনি তাঁকে সহিংসতা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
সূত্র জানায়, বাবুনগরী আদালতকে জানান, সহিংসতা বন্ধ করতে তিনি মাওলানা নূর হোসেন কাসেমী, মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ, আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা শাখাওয়াত হোসেন, জুনায়েদ আল হাবিব, আতাউল্লাহ আমীন, গোলাম মহিউদ্দিন একরাম, শেখ লোকমান হোসেন, মাঈনুদ্দিন রুহী, শামছুল আলম, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ফজলুল ক্বারী জিহাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সহিংসতা ও লুটতরাজ বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলেন। লালবাগ মাদ্রাসায় অবস্থানকালেই তিনি জানতে পারেন, জামায়াত-শিবির, ছাত্রদল ও যুবদলের সঙ্গে হেফাজতের কর্মীরা বিভিন্ন বইয়ের দোকানসহ কোরআন শরিফ পোড়াচ্ছেন।
বাবুনগরী জবানবন্দিতে বলেন, ওই দিন মাগরিবের নামাজের পর তিনি শাপলা চত্বরে সমাবেশস্থলে যান। মঞ্চে যাওয়ার আগে শুনতে পান, সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার জন্য মঞ্চ থেকে ঘোষণা দিচ্ছেন নেতারা। তিনি বলেন, ‘নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যে আমাদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে।’
সূত্র দাবি করে, জুনায়েদ বাবুনগরী তাঁর জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন, ওই দিন রাত দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সমাবেশস্থল থেকে চলে যেতে বলেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাঁকা আওয়াজ করলে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতের কর্মীরা পালিয়ে যান। তিনিও পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পান। পরে ছাত্ররা তাঁকে লালবাগ মাদ্রাসায় নিয়ে যান।
সূত্রের দাবি, জবানবন্দিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই দিন কোনো প্রাণহানি ঘটায়নি বা কেউ আহত হয়েছেন বলে তিনি শোনেননি। হেফাজতে ইসলামের লোকজন ও জামায়াত-শিবিরের সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর নিহত হন এবং তাঁর অস্ত্র লুট হয়। পরদিন সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে তিনি এসব বিষয় জানতে পারেন। সহিংস ঘটনার জন্য তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেছেন বলেও সূত্র জানায়। ৬ মে রাত আটটার দিকে লালবাগ এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ১৬ মে পৃথক তিনটি মামলায় ২২ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। ১৩ দিনের রিমান্ড শেষে তিনি এক মামলায় গতকাল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ধান-পাটের আবাদ কমছে

দেশের প্রধান কৃষিপণ্য ধানের আবাদ কমতে শুরু করেছে। গত দুই বছরে সোয়া লাখ হেক্টর কম জমিতে ধানের চাষ হচ্ছে। প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের অবস্থা আরও খারাপ। ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাট চাষের এলাকা পৌনে দুই লাখ হেক্টর কমেছে। একই সঙ্গে উৎপাদন কমেছে সাড়ে আট লাখ বেল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক চলতি বোরো মৌসুমের উৎপাদন এলাকা হিসেবে একটি জরিপ করেছে। এতে দেখা গেছে, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭ শতাংশ কম জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এই বোরো চাষিরা বিকল্প ফসল আলু, গম, ভুট্টা ও সরিষার দিকে ঝুঁকছেন। অনেক কৃষক শীতকালীন সবজির চাষ বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক ধান-পাট চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। কারণ, ২০০৯-১০ অর্থবছরের পর থেকে দৃশ্যত কৃষক ফসল বিক্রি করে লাভ তো দূরে থাক, উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। সরকারি ধান-চাল সংগ্রহের ভুল নীতি ও পাটের আন্তর্জাতিক বাজার মন্দা হওয়ায় কৃষকের দুর্দশা বেড়েছে। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই বছর ধরেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, কৃষক ধান ও পাটের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ পর্যন্ত তুলতে পারছেন না। তাঁরা বাধ্য হয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। তাঁর মতে, ভুট্টা, গম, আলু ও সূর্যমুখীর মতো অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে কোনোভাবেই ধানের উৎপাদন কমিয়ে অন্য ফসলের উৎপাদন বাড়ানো ঠিক নয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় কৃষকের এই লোকসানের কথা নানাভাবে অস্বীকার করলেও গত জানুয়ারিতে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতি মণ ধান বিক্রি করে কৃষক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনছেন। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে অগ্রিম সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ, সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো ও কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনোটি এবারও বাস্তবায়িত হয়নি। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ৪৭ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই হিসাবে চাষ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে। গতকাল পর্যন্ত ৭০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ১০ লাখ টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। গত ২ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল সংগ্রহের পরিমাণ ছিল মাত্র দুই হাজার ৭৫ টন। এ মৌসুমের জন্য সরকার প্রতি মণ বোরো ধানের দর নির্ধারণ করেছে প্রায় ৭০০ টাকা। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন বাজারে চালকল মালিকেরা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান কিনছেন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে। ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক। ধান-পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকের অনেকেই অন্য অর্থকরী ফসলের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। যেমন, দুই বছর ধরে ক্রমাগত গমের উৎপাদন বেড়েই চলেছে। ২০১০-১১ এর তুলনায় চলতি ২০১২-১৩ অর্থবছরে গমের উৎপাদন এলাকা ৬৯ হাজার হেক্টর বেড়েছে। একই সময়ে ভুট্টার উৎপাদন এলাকা বেড়েছে ৮৫ হাজার হেক্টর। সবজি ও পেঁয়াজের উৎপাদন এলাকাও যথাক্রমে ৪৭ হাজার ও আট হাজার হেক্টর বেড়েছে। উৎপাদন কমলে বিপদ বাড়বে: বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে সাত লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত ছিল। বিশ্বব্যাংক এবং বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বজুড়ে আবার খাদ্যমন্দার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে বেশি দাম দিয়ে চাল কিনতে গেলে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে বলে সংস্থা দুটি সাবধান করে দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল কেনা ঠিক হবে না। ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশে ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় বিশ্ববাজার থেকে চাল কিনতে গিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়েছিল। এতে বাংলাদেশকে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে সংকটে পড়তে হয়।
খাদ্যমন্দার পদধ্বনি: গত মার্চে বিশ্বব্যাংক থেকে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ফুড ওয়াচ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রধান খাদ্যপণ্যগুলোর দাম বাড়তির দিকে। চালের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া বিশ্বের ধনী ও দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চালের উৎপাদন কমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক গত বছরের তুলনায় বেশি করে চাল কিনে রাখছে। এতে চালের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম নিয়মিতভাবে বাড়ছে।
বিশ্বের খাদ্য পরিস্থিতির ওপর এফএওর চলতি মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসের তুলনায় এ মাসে বিশ্বের খাদ্যপণ্যের দাম দুই পয়েন্ট বেড়েছে। এ ছাড়া ধান-গমসহ বিশ্বের প্রধান প্রধান ফসল উৎপাদনকারী দেশগুলোতে খাদ্যের মজুত কমতির দিকে। অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও প্রধান ফসলগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক ও এফএও। তারা স্বল্পোন্নত ও দরিদ্র দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বেশি চাল রপ্তানি করে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। এই দুই দেশের মধ্যে থাইল্যান্ডে চালের দাম এক মাস ধরে প্রতি টন ৫২৫ ডলারে স্থিতিশীল আছে। এই দামে চাল আমদানি করলে প্রতি কেজি চালের দাম দাঁড়াবে ৪৬ টাকা। আর ভিয়েতনামের চালের দাম প্রতি টনে দুই ডলার বেড়ে ৩৭২ ডলার হয়েছে।