Sunday, December 17, 2017

একাত্তর: আগে-পরে, ১- থ্যাংক ইউ জেনারেল, উই আর অলরেডি বার্নিং, ডোন্ট অফার আস ফায়ার by কাজল ঘোষ

থ্যাংক ইউ জেনারেল, উই আর অলরেডি বার্নিং, ডোন্ট অফার আস ফায়ার। তরুণ ছাত্রনেতার মুখে এমন কথা শুনে বিস্ময়ে চোখ ছানাবড়া দুই সেনা কর্মকর্তার। তৎকালীন পাকিস্তানের গোয়েন্দা দপ্তরে এ ঘটনা যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তরুণ এই ছাত্রনেতা অনলবর্ষী বক্তা। যিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চার খলিফার একজন। যার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।
গোয়েন্দা দপ্তরে সাবধান করতে ডেকে নেয়া সেই তরুণ ছাত্র নেতার মুখে এমন কথা শুনতে হবে- তা ভাবনায় ছিল না দুই জেনারেলের। শাহেবজাদা ইয়াকুব আলী ও রাও ফরমান আলী বিস্ময়ের ঘোর না কাটতেই ফোন করেন বাংলার
অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। উচ্চকণ্ঠে সাহেবজাদা বঙ্গবন্ধুকে ফোনে বললেন, ‘ইস্ট পাকিস্তানতো আজাদ হো গ্যায়া।’ বঙ্গবন্ধু অপরপ্রান্ত থেকে বললেন, ‘ভাইসাব, হাম ইনসাফ মাংতা’। গোয়েন্দা দপ্তর থেকে বেরিয়ে সেই তরুণ ছাত্রনেতা ছুটে গেলেন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর। বঙ্গবন্ধু তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘ব্রাভো, ব্রাভো। আই এম প্রাউড অব ইউ।’ সেদিনের সেই ছাত্রনেতা ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী। প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক সাবেক এই ছাত্রনেতা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে দেখছেন খুব কাছ থেকে। মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনাক্রম, মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠনের নেপথ্য কথা, বাকশাল গঠনের প্রেক্ষাপট এবং বাকশালে যোগ না দেয়া নিয়ে নেপথ্যের কথা বলেছেন মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে। ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের আজ পড়ুন প্রথম কিস্তি
নেতা বঙ্গবন্ধু, শাসক বঙ্গবন্ধু কোন পরিচয়টি আপনার কাছে বড়?
- নেতা বঙ্গবন্ধু আমার কাছে আকাশের ধ্রুব তারার মতো জাজ্বল্যমান। সব আন্দোলনের অগ্রদূত কারাগারের অবরুদ্ধ জীবনে নিবিড় সন্নিধ্যে এসে তাকে দেখা ও চেনার সুযোগে বলতে পারি নেতা মুজিবের চাইতে মানুষ মুজিব অনেক বড় ছিলেন। ১৫ই আগস্টে তার মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা জাতিকে হতবিহ্বল করলেও বাংলার মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাসই তার মৃত্যুর অন্যতম কারণ। ৩২ নম্বর ছেড়ে গণভবনে থাকলে দুর্বৃত্তরা এই দুষ্কর্মটি করার সুযোগ পেতো না। গণভবনে না থাকার কারণ ছিল সেখানে নিরাপত্তা বেষ্টনি পেরিয়ে কর্মীরা তার সঙ্গে অবাধে দেখা করতে পারবে না। অন্যদিকে পাকিস্তান কারাগার থেকে তার মনে একটা প্রচণ্ড বিশ্বাস জন্মে শুধু ৩২ নম্বর কেন সারা দেশটাই তার জন্য সুরক্ষিত দুর্গ। অনেকের মতো আমিও দুয়েকবার বঙ্গবন্ধুকে অনুরোধ করেছিলাম গণভবনের নিরাপত্তার আবেষ্টনিতে থাকার জন্য। আমাকে মুখ ভেংচিয়ে তিনি বলতেন, ‘তোমার তো অসুবিধা হবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষ আমার কাছে আসবে কীভাবে?’ মুখ ভেংচানো বা ধমক হজম করা ছাড়া আমাদের আর কোনো গত্যন্তর ছিল না। ১৫ই আগস্ট আত্মগোপনে থাকাকালে বেতারে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলাম। কান্নাকাটি করা ছাড়া আমার করারও কিছু ছিল না। কারণ কোনো সংগঠনেই কোনো অবস্থান আমার তখন ছিল না। যদিও আমি যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। সেখান থেকেও আওয়ামী লীগের কোটারি নেতৃত্ব আমাকে নির্মমভাবে সরিয়ে দেয়। তারা আওয়াজ তুলে ভাবীকে (মিসেস মুজিব) ‘হু আফটার শেখ, মণি অর কামাল’। এই প্রশ্নে ভাবীকে তারা ভুল বোঝাতে সক্ষম হয়। আসলে মণি ভাইও কোনো দিন মুজিব ভাইকে সরিয়ে ক্ষমতাসীন হওয়ার কল্পনাও করতেন না। কিন্তু এই প্রচারে সবচাইতে কঠিন শাস্তি পেতে হলো আমাকে। মণি ভাইয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আমাকে যুবলীগের মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো। বিষয়টি মানতে আমার খুব কষ্ট হলেও কোনো গত্যন্তর ছিল না।
শাসক হিসেবে বঙ্গবন্ধু অনেকটাই ব্যর্থ। নেতা বঙ্গবন্ধু কর্মী অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। জাতির পিতা হিসেবে দেশের প্রান্তিক জনতা তার ভালোবাসার উপাদান ছিল। যেকোনো অপরাধী তার সামনে গিয়ে পা ধরে মাফ চাইলে তিনি নির্ধিদ্ধায় তাকে মাফ করে দিয়ে বলতেন, এবার ছেড়ে দিলাম, আর করিসনে। পৃথিবীতে কোনো জাতির জনকই সফল শাসক হতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি না থেকে রাজধানী থেকে সরে গিয়ে টুঙ্গীপাড়ায় আশ্রম গড়ে তুললে তিনি সব বিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝির ঊর্ধ্বে থাকতেন। বাকশাল গঠন তো বটেই দেশ শাসনের অনেক পর্যায়ে তিনি সমালোচনার স্বীকার হয়েছেন। জাসদ, গণবাহিনী, স্বাধীনতা বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে একটা ধূম্রজাল সৃষ্টি করে এবং তার জনপ্রিয়তায় একটা চিড় ধরাতে সক্ষম হয়। যুক্তিগ্রাহ্য এবং অযৌক্তিভাবে তিনি সমালোচনার শিকার হতে থাকেন। আন্দোলন চলাকালে তিনি ছাই ধরলে সোনা হতো কিন্তু শাসক হিসেবে অধিষ্ঠিত হলে অবস্থাটি কেন-যেন পালটে গেল।
ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে দেখেছেন?
-ব্যক্তিগত জীবনে বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত সরল ও সাদাসিধে মানুষ ছিলেন। তার চরিত্রের একটি কালো দিক ছিল কারো কথায় হঠাৎ প্রভাবান্বিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো আলাপ না করে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে বসতেন। তার প্রতিক্রিয়া জাতির জন্য যাই হোক না কেন- যারা যারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে আমিও তাদের মধ্যে অন্যতম। দুর্নীতি কখনই আমার জীবনকে স্পর্শ করেনি কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিজের চেতনার আঙ্গিকে প্রভাবিত করার অপরাধ আমার কাছে। একটা উদাহরণ দিলে এটা স্পষ্ট হওয়া যাবে, লন্ডনে আমাদের হাইকমিশনার ছিলেন ময়মনিসংহের এমএনএ (মেম্বার অফ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সৈয়দ সুলতান আহমদ। তার ওপর বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন কেন জানি না। আমি ৩২ নম্বরের বারান্দায় বসে টিভি দেখছিলাম। তিনি চিৎকার করে কাকে যেন নির্দেশ দিচ্ছিলেন ‘ব্রিং ব্যাক সৈয়দ সুলতান আহমদ’। সৈয়দ সুলতান আহমদের সঙ্গে আমার সখ্যতা ছিল। তাৎক্ষণিক আমার মাথায় জেদ চেপে গেল তাকে ওখানে রাখতেই হবে। বস (বঙ্গবন্ধু) ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তার নির্ধারিত সোফায় বসলে আমি বলেছিলাম, ‘বস, একটা কাজের কাজ করেছেন। আমি আজীবন আপনার ওপর বক্তৃতা করার সময় আলঙ্করিক শব্দ প্রয়োগে কখনও কার্পণ্য করিনি। লন্ডনের হাইকমিশনার হিসেবে একটি বাঙালি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ উদ্বোধনকালে তিনি পনের মিনিটের বক্তৃতায় সাতাশিবার আপনার নাম উচ্চারণ করেছেন। ওনি কি আমাদের সঙ্গে টেক্কা দিতে চান? এটি অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করেছিল। ওনি ঘরে ফিরে গিয়ে লাল টেলিফোনে নির্দেশনা দিলেন, ‘সৈয়দ সুলতানকে প্রত্যাহার করার প্রয়োজন নেই। আছে, থাক।’ এ রকম শ’ শ’ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমি। তিনি অনেকাংশে আত্মীয়-স্বজন কর্তৃক বিশেষ করে ভাবীর দ্বারা প্রভাবান্বিত হতেন। তার ভাগ্নে যাকে আমরা দাদাভাই বলে ডাকতাম খন্দকার মাহমুদ ইলিয়াসকে শিবচর থেকে প্রাদেশিক পরিষদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। ফলে ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি ৬ দফা কর্মসূচির সফল রূপকার সৈয়দ মাজহারুল হক বাকী সে আসন থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হন। যার ফলে রাজনীতির সক্রিয় ধারা থেকে তিনি ছিটকে পড়েন। এখানে বাকী ভাইয়ের একটি প্রত্যক্ষ অপরাধ ছিল তিনি সম্পর্কটা ঝালিয়ে নেয়ার কোনো চেষ্টাতো করেন-ই নি বরং আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু নিজে ক্ষিপ্র বুদ্ধির (উইটি) লোক ছিলেন। অন্যের তীর্য ক্ষিপ্র বুদ্ধিতে তিনি প্রচণ্ডভাবে আপ্লুত হতেন এবং উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতেন। আমার স্পষ্ট মনে আছে শাহেবজাদা ইয়াকুব আলী ও রাও ফরমান আলী পূর্ব-পাকিস্তানের সামরিক প্রশাসক ছিলেন। আমাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে এলফো ঊ.খ.ঋঙ. (ইলেকশন লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডিনেন্স) সম্পর্কে কোনো সংঘাত হলে সরাসরি মামলা দায়ের না করে আমাদেরকে গোয়েন্দা অধিদপ্তরে ডেকে সতর্ক করে দেয়া হতো। আমি মাওলানা মওদূদীকে আবুল আ’লা ইহুদী বলে সম্বোধন করতাম। এটা নির্বাচনী আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তারই সম্পর্কে সতর্কতা প্রদানের জন্য এখনকার প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় তখনকার তাদের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে আমাকে সতর্ক করলেন। কথোপকথনের সময় টেবিলে রাখা ওনাদের অপূর্ব সুন্দর ইলেক্ট্রনিক সিগারেট লাইটার হাতে নিয়ে আমি আনমনে নাড়াচাড়া করছিলাম। শাহেবজাদা ইয়াকুব অত্যন্ত কৌতূহলী মনে আমাকে বললেন, মি. সিদ্দিকী, ‘ডু ইউ লাইক ইট’ ইউ মে টেক ইট।’ আমি তাৎক্ষণিক লাইটারটি তাদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম, ‘থ্যাংক ইউ জেনারেল, উই আর অলরেডি বার্নিং, ডোন্ট অফার আস ফায়ার।’ ওনারা বিস্মিত এবং আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন। কিছুটা বিমুগ্ধ ও বিহ্বলও হয়েছিলেন বটে। সঙ্গে সঙ্গে মুজিব ভাইকে ফোন করে উনি উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলতে লাগলেন, ‘ইস্ট পাকিস্তানতো আজাদ হো গ্যায়া। কোই রোক নাহি সাকতা।’ ওদিক থেকে মুজিব ভাই বলছিলেন, (নেতার সঙ্গে দেখা হলে তিনি নিজে বলেছেন) ‘ভাইসাব, হাম ইনসাফ মাংতা।’ এদিক থেকে জেনারেল ইয়াকুবকে বলতে শুনলাম, আমার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে তিনি বলছেন, একজন ছাত্রনেতার উপস্থিত বুদ্ধি ও বুদ্ধিমত্তা এতো প্রখর হলে সেই জাতিকে অবদমিত রাখা যায় না। ওখান থেকে বেরিয়ে আমি ৩২ নম্বরে গিয়ে দেখলাম নেতা ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত। আমি কিছু বোঝার আগেই আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘ব্রাভো, ব্রাভো, আই অ্যাম প্রাউড অফ ইউ’ বলে তিনি ঘটনাটি উল্লেখ করলেন।
একবার ব্যক্তিগত সফরে লন্ডন গিয়েছিলাম। বাংলাদেশ বিমানে ফিরতি পথে আমাদের কিছু যাত্রীকে বাহ্‌রাইনে রেখে প্লেনটি মিশরে বঙ্গবন্ধুকে আনতে যায়। উদ্দেশ্য ফিরতি পথে বাহ্‌রাইন থেকে আমাদের উঠিয়ে নিয়ে বিমানটি ঢাকায় আসবে। যেহেতু বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গীর তালিকায় আমার নাম ছিলো না আমি ওই ফিরতি প্লেনে না এসে বাহ্‌রাইনেই দুইদিন থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এতে প্লেনে আমাকে বঙ্গবন্ধু না দেখে চিফ পারসারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আলম কোথায়?’ উত্তরে পারসার বঙ্গবন্ধুকে জানালেন, ওনি দুইদিন বাহ্‌রাইনে থাকবেন। বাহ্‌রাইন থেকে প্রত্যাবর্তনের পর যথারীতি বসের সঙ্গে দেখা করতে ৩২ নম্বর গেলাম। তিনি তিনতলায় ছাদে পায়চারী করছিলেন। আমাকে দেখা মাত্রই চিৎকার করে বললেন, ‘মি. সিদ্দিকী নট অনলি ইউরোপ, ইউ হ্যাভ এনজয়েড ইন মিডলইস্ট টু’। আমি তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছিলাম। মিডলইস্ট ইজ টু হট অ্যান্ড এক্সপেনসিভ, অল ফর দি শেখস।’ বঙ্গবন্ধুর আত্মসম্মানে কথাটা লেগেছিল। তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘হোয়াট’? আমি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে তাৎক্ষণিক জবাব দিয়েছিলাম, ‘অফকোর্স ইট ইজ অ্যারাবিয়ান শেখস, নট বেঙ্গলি শেখস।’ তিনি এই ক্ষিপ্রতায় এতোখানি আপ্লুত হয়েছিলেন যে, আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘হোয়াট এন ওয়ান্ডারফুল এস্কেপ’। দোষে গুণে মানুষ। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নে দু’টিই ছিল মাত্রাতিরিক্ত। বুদ্ধির ক্ষিপ্রতা ছিল অনন্য সাধারণ এবং কালজয়ী।

চসিক সম্মাননা পেল ১৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধা


৪৭ তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রবিবার, বেলা ১১ টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে ১৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

স্বপরিবারে মুক্তিযোদ্ধাদের সরব উপস্থিতিতে বিরল এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা, সম্মাননা ক্রেষ্ট ও সনদ এবং ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধিত করেন সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন। 
মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিমের সঞ্চলনায় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জী, রাশিয়ার একটিং কনসুল জেনারেল ভিশে-স্লাব জাখারব, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিট এবং সাবেক কমান্ডার মোজাফফর আহমদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠান মঞ্চে প্যানেল মেয়র মিসেস জোবাইরা নার্গিস খান ও প্রফেসর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু উপস্থিত ছিলেন।
 
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই অবহেলিত ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্দশার কথা বিবেচনায় এনে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর তৈরী করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় তৎমধ্যে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার জন্য ১০টি গৃহনির্মাণের কার্যক্রম চলমান আছে। 

বাকিদের মেয়াদের মধ্যে গৃহনির্মাণ করে দেয়া হবে। বীরমুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের মধ্যে যারা নিঃস্ব বা অভাবগ্রস্থ তাদের পাশে ব্যক্তিগতভাবেও আমি সহযোগী হিসেবে পাশে থাকব।

মেয়র বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার কোন সন্তান বিপদগামী হতে পারে না। স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের সাথে কোন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আপোষ করতে পারে না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য সকলকে সন্তানদের প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, দেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্য অসংখ্য সংগঠন কাজ করছে।


চট্টগ্রামে বুধবার অটোরিকশা শ্রমিকদের ধর্মঘট


চট্টগ্রামের জন্য আলাদা সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নসহ ১২ দফা দাবিতে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে অটোরিকশা অটো-টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন।
রোববার ) সকালে নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার কাতালগঞ্জ মোড়ে আয়োজিত এক সমাবেশে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলম, লাইন সেক্রেটারি মো. মনিরসহ আরও অনেকে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রামের জন্য আলাদা সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা, ৪ হাজার নতুন গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়া, পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নো-পার্কিং মামলা বন্ধ করা, সহজ শর্তে চালকদের লাইসেন্স দেওয়া, মালিকের জমা ৬০০ টাকা করাসহ ১২ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
‘এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য বুধবার চট্টগ্রামে শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ১২ দফা বাস্তবায়ন করে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা। মিছিলটি কাতালগঞ্জ-চকবাজার-কাপাসগোলা হয়ে নগরীর বহদ্দারহাটে গিয়ে শেষ হয়।

ব্যাংকিং খাতে দায়ীদের শাস্তি না হওয়ায় বাড়ছে দুর্নীতি


ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে লাগামহীন জালিয়াতি, দুর্নীতি ও ঋণ খেলাপির দৌরাত্ম্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি মনে করছে, অনিয়মের অন্তর্নিহিত সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় অনিয়ম-দুর্নীতি বেড়েছে। একইসঙ্গে বেড়েছে আমানতকারীসহ দেশবাসীর মধ্যে দুশ্চিন্তা ও আস্থার সংকট।

আজ রোববার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে একদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশের মাধ্যমে লাগামহীন জালিয়াতি, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপির দৌরাত্ম্য বিরাজ করছে। অন্যদিক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের একাংশের অ্যাডহকভিত্তিক অকার্যকর পদক্ষেপ ও দৃশ্যমান অসহায়ত্বের ফলে তৈরি হয়েছে অরাজকতা ও ঝুঁকি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যাংকিংখাতে চলমান সংকট নিরসন, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিরসন পরিকল্পনাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন ছাড়া সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খাতের পাশাপাশি বহুল-বিতর্কিত ফারমার্স ও এনআরবিসির মতো ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যাংকে সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অনিয়মের অন্তর্নিহিত সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন করতে হবে। অবৈধ উপায়ে অর্জিত মুনাফা ও সম্পদলোভী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও চক্রকে চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করতে পারলে এ খাতে আইন অমান্যের চলমান বেপরোয়া ধারা রোধ করা যাবে না। খবর আরটিভি অনলাইন

৪৬ বছরে কেমন আছে প্রিয় বাংলাদেশ?



বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশের তালিকায় অনন্য এক নাম বাংলাদেশ। এক সময়ের তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে গেলো চার দশকেই উন্নয়নের রোল মডেলও বলা হচ্ছে এই ছোট্ট বাংলাদেশকেই। স্বাধীনতার ৪৬ বছরে অর্জনের খাতে অনেক কিছুই যোগ হয়েছে।

তবে উন্নয়ন ধারাকে টেকসই করাটাই এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে বলছেন বিশ্লেষকেরা।

এক সাগর রক্ত আর অনেক প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলার মাটি, মুক্ত আকাশ, পাখি, ফুল-ফল ও প্রকৃতি, স্বাধীন লাল-সবুজ পতাকা।

৪৬ বছর আগে যে স্বপ্ন আর সাহস নিয়ে অর্জিত হয়েছিলো লাল-সবুজের নিশান, বয়সের ৪৬ বছরে কেমন আছে সে প্রিয় বাংলাদেশ?

এক সময়ের পিছিয়ে থাকা আজকের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে অনন্য এক নাম। যাকে বিশ্ববাসী বলে থাকে এশিয়ান টাইগারস কিংবা নেক্সট ইলেভেন।

বিশ্ব অর্থনীতি যখন টানাপোড়েনের মধ্যে তখন ছোট্ট বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১৬১০ মার্কিন ডলার। অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়েছে যেমন তেমনি নারীর ক্ষমতায়ন কিংবা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার সঙ্গে বেড়েছে রিজার্ভ-রেমিটেন্স।

পরিসংখ্যান বলছে, স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে দীর্ঘ ২৫ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে ৪ শতাংশের বেশি বাড়েনি। এর মধ্যে ১৯৭৩-৭৪ থেকে ১৯৭৯-৮০ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র গড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। পরের ১০ বছর জিডিপি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ হারে। এরপর থেকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছাড়িয়ে গেছে ৬ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।

গেলো সাত বছরে দারিদ্র্যের হার ১০ ভাগ কমে এখন ২১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর ১৬ কোটির মধ্যে দারিদ্রসীমার নিচে এখন ২ কোটি মানুষ। যা স্বাধীনতার পর ছিলো সাড়ে চার কোটি।

সমাজ বিশ্লেষক সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের মতে, স্বাধীনতা মানেই মুক্তি নয়। সামাজিক-রাজনৈতিক বৈষম্যহীন সমাজের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যেতে হবে আরো বহুদিন।

বিদেশ থেকে আনা যাবে ৮ মোবাইল ফোন



ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ ৫টি মোবাইল ফোন আনার নিয়ম ছিল। এই সংখ্যা বৃদ্ধি করে এখন থেকে ৮টি ফোন আনা যাবে যাত্রীর ব্যাগেজে, তবে তা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ছাড়া। বিটিআরসি থেকে পাঠানো এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানিয়েছেন, পরিপত্রটি বিটিআরসি থেকে পাঠানো হয় গত ১২ ডিসেম্বর। এতে উল্লেখ রয়েছে—‘ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ব্যক্তিপর্যায়ে মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট আমদানির সংখ্যা ৫টির পরিবর্তে ৮টি করা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে।’

প্রত্যেক যাত্রী প্রতিটি বোর্ডিং পাস বা সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজ অনুয়ায়ী বিটিআরসি’র অনাপত্তিপত্র ছাড়া ৮টি মোবাইল ফোন নিয়ে আসতে পারবেন। তবে এসব মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি আনা যাবে বিনা শুল্কে। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে কাস্টমস সংশ্লিষ্ট আইন প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া ৮টির বেশি মোবাইল ফোন আনার ক্ষেত্রে বিটিআরসি থেকে ‘ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট’ নিয়ে সেগুলো কাস্টমস থেকে খালাস করা যাবে। তবে তা হতে আমদানির তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে।

এবার ট্রাক ও মোটরসাইকেল চালাতে অনুমতি সৌদি নারীদের


সৌদি আরবের নারীরা ট্রাক ও মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি পেয়েছেন। শুক্রবার দেশটির ট্রাফিক বিভাগ এ অনুমতি দিয়েছে বলে দেশটির সরকারি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে। আগামী বছরের জুন থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। খবর আরব নিউজের।

সৌদি জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ট্রাফিক (জিডিটি) বলেছে, যথাযথ শর্ত পূরণ করে নারীরাও ট্রাক ও মোটরসাইকেল চালাতে পারবেন। নারীদের জন্য বিশেষ নম্বর ও নম্বর প্লেটও দরকার হবে না বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় ওই প্রতিষ্ঠানটি।

তারা বলছে, গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে ‘সমান’ বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ তাদের জন্য প্রচলিত নিয়মই কার্যকর হবে।

তবে কোনো নারী যদি অ্যাকসিডেন্ট করেন বা ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেন তাহলে বিশেষ সেন্টারে পাঠানো হবে তাদের। ওই সেন্টারটি নারীদের দ্বারাই পরিচালিত হবে।

এদিকে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির নারীরা।

এর আগে গেলো ২৬ সেপ্টেম্বর সৌদি বাদশাহ নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়ে একটি ডিক্রি জারি করেন। তবে ওই ঘোষণা অনুযায়ী নারীদের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিশেষ নম্বর ও নম্বর প্লেট ব্যবহারের কথা বলা হয়। কিন্তু সর্বশেষ ঘোষণায় সে অবস্থান থেকে সরে আসলো রিয়াদ।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবই বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে এতদিন নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি ছিল না।

জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস ঠেকাতে প্রস্তাব দেবে মিসর


জেরুজালেমের বিষয়ে কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনগত বৈধতা পাবে না। এমন একটি প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তুলতে যাচ্ছে মিশর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে জাতিসংঘে এই প্রস্তাব তুলবে মিসর। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রস্তাবে ভেটো দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমর্থনে অন্যান্য দেশ যেন জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর না করে, সে বিষয়টিও থাকবে ওই প্রস্তাবে।

কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য মিশরের এই প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানাতে পারে। তবে বিরোধিতা আসতে পারে ওয়াশিংটনের দিক থেকে। তারা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৬ ডিসেম্বর ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই সময় তিনি তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ারও ঘোষণা দেন।

তাৎক্ষণিকভাবে ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় আরব বিশ্বের নেতারা।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত আছে।

দুর্নীতিবাজদের মানুষ ভোট দেবে না : প্রধানমন্ত্রী


জামায়াত-বিএনপি এ দেশের পরগাছা। স্বাধীনতাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজদের বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভোট দেবে না। বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের নিয়ে দল গঠন করছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন আর স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান।

তিনি আরো বলেন, বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির অধিকারের ছয় দফা আদায়ে সারাবাংলা ঘুরেছেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ করছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।

তিনি আরো বলেন, শুধু গাড়ি নয়, মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। কোরান শরিফ পোড়ানো, গাছকাটা, রাস্তা কেটে ফেলা, কি-না করেছে? এভাবে তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিতে চেয়েছে। জনগণ যখন প্রতিরোধ করেছে তখন তারা থামতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে ৯৫০ কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। তারা আবার স্বপ্ন দেখছে ক্ষমতা যাওয়ার। তারা আবার স্বপ্ন দেখে রাজনীতি করার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর কাছে বুদ্ধিজীবী ও বিজয় দিবস উপলক্ষে এটাই আহ্বান; এ দেশের মানুষ যেন দারিদ্র্যমুক্ত হয়, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যেন লেখাপড়া শেখে। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরি করছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ এগিয়ে যাবে। সে উন্নতি যারা চান তারা কি কখনো তাদের সমর্থন করতে পারে? এরা তো লুটেরা। এরা একদিকে যেমন যুদ্ধাপরাধী ও সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করেছে; তেমনি দেশের মানুষের শান্তি বিনষ্ট করেছে। দেশকে উন্নয়নের পথ থেকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। আমরা দেশ গড়ি ওরা ধ্বংস করে।

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আসল প্রশ্নফাঁসকারী শিক্ষক: নাহিদ


শিক্ষকরাই প্রশ্ন ফাঁস করে আসছেন বলে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

রোববার সচিবালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথসভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। শিক্ষা সংক্রান্ত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে এই যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস বন্ধে অনেক সাজেশন এসেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পরীক্ষার দিন আধঘণ্টা আগে প্রশ্ন ছাপিয়ে পরীক্ষা নেয়ার কথা হয়েছে। কিন্তু আমরা যখন বুঝলাম আসল প্রশ্নফাঁসকারী তো শিক্ষক তখন আধঘণ্টা আগে দিয়েই লাভ কী।

মন্ত্রী আরো বলেন, কিছু শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে বাড়িতে বা কোচিংয়ে পড়ান। যত বড় ভাল শিক্ষক তত ক্লাসে কম পড়ান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষকদের লোভ দেখায় যে, কোনোভাবে প্রশ্নফাঁস করে তাদের শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করাতে পারলে কোচিং ব্যবসা ভালো হবে। টাকা আয়ের পরিমাণটাও বাড়বে। এসব লোভের কারণে শিক্ষকরাই কোচিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে।

তিনি আরো বলেন, আমরা শিক্ষা আইনটি চূড়ান্ত করেছি। আইনটি হলে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করতে পারবো। কোনো আইন না থাকায় কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না। তারা আদালতে গিয়ে ছাড় পেয়ে যায়।

বৈঠকে দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন, মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গাড়ির চেয়ে লেহেঙ্গার দাম বেশি

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করছেন ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি ও অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। এদিকে আনুশকা শর্মার লেহেঙ্গা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে আলোচনা।

গত ১১ ডিসেম্বর সকালে ইতালির তাসকেনি প্রদেশের ফ্লোরেন্সে এক ঐতিহ্যবাহী রিসোর্টে বিরাট কোহলির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন আনুশকা শর্মা। বিয়ের সময় শেরওয়ানিতে রাজকুমারের লুকে হাজির হয়েছিলেন বিরাট। অন্যদিকে লেহেঙ্গা পরে জমকালো সাজে রাজকুমারীরূপে বিয়ের আসরে দেখা গেছে আনুশকা শর্মাকে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বিয়েতে আনুশকা যে লেহেঙ্গা পরেছেন তার দাম একটি বিলাসবহুল গাড়ির চেয়েও বেশি। আনুশকার ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জিনিউজ জানায়, আনুশকার লেহেঙ্গার দাম ৩০ লাখ রূপি। যা দিয়ে ভালো একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনা যায়।

বিরাট-আনুশকা এখন মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করছেন। তবে কোথায় মধুচন্দ্রিমা উদযাপন করছেন এই তারকা দম্পতি? আনুশকা তার ফেসবুকে একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেই ছবি দেখা বোঝা যাচ্ছে তুষারপাত ও পাহাড়ি কোনো এলাকায় রয়েছেন নবদম্পতি।

আগামী ২১ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে বিরাট-আনুশকা জুটির পরিবারের লোকজনকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বলিউড ও ক্রিকেট অঙ্গনের তারকাদের নিয়ে মুম্বাইয়ে জমকালো বিবাহোত্তর সংবর্ধনা হবে ২৬ ডিসেম্বর।

এরপর মুম্বাইয়ের বাড়িতে সংসার জীবন শুরু করবেন তারা। ২০১৫ সালে মুম্বাইয়ের একটি বহুতল ভবনে ৭০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কেনেন বিরাট। সমুদ্রমুখী অ্যাপার্টমেন্টের ৩৫ তলায় হবে বিরাট-আনুশকার নতুন ঠিকানা।

এছাড়া নবদম্পতি শিগগিরই দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়াল দেবেন। সেখানে বিরাট তার আসন্ন ক্রিকেট সিরিজের প্রস্তুতি নেবেন। দক্ষিণ আফ্রিকাতেই এবার নববর্ষ উদ্‌যাপন করতে পারেন দুজনে।

ওমরাহ করতে যাচ্ছেন অনন্ত জলিল


ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন অনন্ত জলিল। এর জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। অনন্ত জলিল বলেন, আমি আজ ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যাচ্ছি। প্রথমে মদিনায় যাব। সেখানে তিন দিন থাকার পরে মক্কায় যাব। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমার হজ কবুল করেন।

অনন্ত জলিল আজ নিজের ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আপনাদের সবার জন্য দোয়া চাইবো এবং দেশের জন্য দোয়া চাইবো। আপনারা যেন ঈমান মজবুত রেখে কাজ করতে পারেন। সবাই সৎ পথে চলুন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন ও দেশের জন্য ভালো কাজ করুন।

অনন্ত জলিল সিনেমা নির্মাণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে সবার কাছে পরিচিতি পান। ২০১০ সালে ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে তার বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ, দ্য স্পীড, মোস্ট ওয়েলকাম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মোস্ট ওয়েলকাম-টু ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন।

বর্তমানে ব্যবসা ও ধর্মচর্চায় ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। মাঝে সাহাবীদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানালেও সেখান থেকে সরে আসেন। অনন্ত বলেন, সাহাবীদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণ ইসলাম সমর্থন করে না।

চলচ্চিত্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে সরে না দাঁড়ালেও ধর্মচর্চায় ব্যস্ত হওয়ায় তিনি এখন আর সিনেমা করবেন না বলেই মনে করছেন অনেকে।

বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে র‌্যাম্প চালু

নগরীর এম এ মান্নান ফ্লাইওভারে (বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার) আরাকান সড়কমুখী যুক্ত করা র‌্যাম্পটি শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এটি ব্যবহার করে নগরীর মুরাদপুর থেকে আসা গাড়িগুলো চান্দগাঁও ও বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের দিকে একমুখী চলাচল করতে পারবে।

দুপুরে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম র‌্যাম্পটির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, র‌্যাম্প নির্মাণের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা অনেক দুর্ভোগে ছিলেন। আজ এ দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। এখন থেকে শুধু বহদ্দারহাট ও চান্দগাঁওবাসী নয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের মানুষ বংশ পরম্পরায় এর সুফল ভোগ করতে পারবে।

র‌্যাম্প উদ্বোধনের সময় সিডিএ-এর বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, কেবিএম শাহজাহান, প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, র‌্যাম্প নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবসে সাতকানিয়া থানা পুলিশের বিভিন্ন কর্মসূচী পালন

সাতকানিয়া থানা পুলিশ কর্তৃক মহান বিজয় দিবস ২০১৭ প্রভাতে সাতকানিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ’দের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন  করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ’দের অাত্নত্যাগের স্মৃতিগাথা পটভূমিকে স্মরণ করে ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল হোসেনসহ থানার অফিসারগণ সাতকানিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদ’দের আত্নার প্রতি অঘাত সম্মান ও বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)  মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম, এসআই দীপন চন্দ্র সরকার, এসআই প্রিয়লাল ঘোষ, এসআই রেখা প্রভা দে, এএসআই মো. ইসমাইল।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি সোমবার

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে।
 
রোববার মহিউদ্দিনের বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ কথা জানিয়েছেন।
 
তিনি জানান, ওইদিন সকাল ৯টায় চশমা হিলের বাসায় ছোট পরিসরে মিলাদের আয়োজন করা হবে। সেখানে আমার মা, দলের নারী নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেবেন।
 
‘কিং অব চিটাগাংয়ে সকাল ১১টা থেকে দলের নেতারা থাকবেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত ওই কুলখানি অনুষ্ঠান শেষে সেখানে মেজবানও থাকছে।’

পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নগরীর রিমা কমিউনিটি সেন্টারে কুলখানি ও মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


এদিকে বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতে ওই মেজবানে অংশ নিতে পারে সেজন্য চট্টগ্রাম নগরীর আরও আটটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজন রাখা হয়েছে।
 
প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী ফয়েজ আহমদ  জানান, কিং অব চিটাগাংয়ের পাশাপাশি কে স্কয়ার, কিশলয়, সুইস পার্ক, স্মরণিকা, এন মোহাম্মদ, কে বি কনভেনশন হল, ভিআইপি ব্যাংকুয়েট, গোল্ডেন টাচ, সাগরিকা কমিউনিটি সেন্টার এবং কমিউনিটি সেন্টারে (অমুসলিমদের জন্য) মিলাদ ও মেজবান অনুষ্ঠিত হবে।
 
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নগরীর মুসাফির খানা মসজিদে রোববার বাদ আসর দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
 
এছাড়া রোব, সোম ও মঙ্গলবার নগরীর প্রতি ওয়ার্ডে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান ফয়েজ আহমদ।
 
গত ১৪ ডিসেম্বর দিনগত রাত ৩টার দিকে বন্দরনগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন চট্টল বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

জাতিসঙ্ঘে মিসরের জেরুসালেম সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন

জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ জেরুসালেম সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের বিষয় বিবেচনা করছে। এতে জেরুসালেমের অবস্থানের যে কোনো ধরনের পরিবর্তনের বৈধতা নেই এবং তার পূর্বের অবস্থান সংরক্ষিত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শনিবার মিসর এই খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
কূটনৈতিকরা বলছেন, সোমবার প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। আন্তর্জাতিক মতামত উপেক্ষা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মাসে জেরুসালেমকে ইসলাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। তিনি মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে আনারও ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। খসড়া প্রস্তাবটিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়েই’ জেরুসালেম ইস্যুর সমাধান করতে হবে। এছাড়াও এতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার কথা সরাসরি উল্লেখ না করে ‘জেরুজালেমকে নিয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।’
জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস ঠেকাতে মিসরের প্রস্তাব
জেরুসালেমের সঙ্কটের ব্যাপারে কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনগত বৈধতা পাবে না, এমন একটি প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে জাতিসঙ্ঘে এই প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে মিসর। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ভেটো দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমর্থনে অন্যান্য দেশ যেন জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তর না করে, সে বিষয়টিও থাকবে প্রস্তাবে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এর সমর্থন করলেও বিরোধিতা আসতে পারে ওয়াশিংটন থেকে। তারা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে তেল আভিভ থেকে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের সাথে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার চারজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় আরব বিশ্বের নেতারা। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পথে নেমে আসেন ফিলিস্তিনের মানুষ। গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সাথে সঙ্ঘাত শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। ইসরাইলি সেনাদের সাথে বিক্ষোভকারীদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার মারা গেছেন চারজন ফিলিস্তিনি। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের জেরুসালেম সফরের সময়ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের আন্দোলনকারী জোট 'ফাতাহ'।

সাত এনার্জি ড্রিংকসের ৫টিতেই অতিরিক্ত ক্যাফেইন

দেশে প্রচলিত এমন সাত এনার্জি ড্রিংকসের পাঁচটিতে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাজারে প্রাপ্ত সাত কোম্পানির এনার্জি ড্রিংকস দৈব চয়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইনের উপস্থিতি পায়। ‘শক্তি বাড়বে’ এমন বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রধানত তরুণ ও যুবক এসব এনার্জি ড্রিংকস পান করে। অনেকেই দৈনিক দুই থেকে তিন ক্যান পর্যন্ত এনার্জি ড্রিংকস পান করে। কিন্তু শক্তির পরিবর্তে এদের অনেককেই পেয়ে বসেছে নিস্তেজতা বা হতাশা। এনার্জি ড্রিংকস পানকারীদের অনেকেই এখন অস্থিরতায় ভুগছে, ঘুম হয় না অনেকের। বাংলাদেশে কোমল পানীয়ে ক্যাফেইনের মাত্রা কত থাকবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলে দেয়া না হলেও আমেরিকান ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইউএসএফডিএ) একটি মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এফডিএর একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন নিরাপদ বলে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। এর বেশি পান করা হলে শরীরে এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। বাংলাদেশ ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির বাজারের সাত ব্র্যান্ডের পাঁচ এনার্জি ড্রিংকসেই সর্বোচ্চ ৭০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন পেয়েছে। এসব ড্রিংকসে অতিরিক্ত ক্যাফেইনের সাথে মাত্রাতিরিক্ত চিনির উপস্থিতিও রয়েছে। রামপুরার বনশ্রী আবাসিক এলাকায় রাতে এক যুবক বাজারের একটি ব্র্যান্ডের এনার্জি ড্রিংকস পান করছিলেন। ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এ যুবক কেন এনার্জি ড্রিংকস পান করছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ‘আমি অনেক রাইত পর্যন্ত রিকশা চালাই। শইলডায় অনেক বেশি শক্তি দরহার, এই কারণে খাইতাছি।’ এ ড্রিংকস পান করলেই যে শক্তি পাওয়া যাবে, তা বুঝলেন কিভাবে? প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘দেহেন না টিভিতে এড দেয় কী বিশাল শক্তি পায় এই এইডা খাইয়া। এই কারণে খাইতাছি।’ এটি পান করলে কি শক্তি পান? উত্তরে রিকশাওয়ালা একটু হেসে জানান, শক্তি পাই। পরথম ভালোই পাইতাম। কিন্তু এখন ভোর রাইত পর্যন্ত সজাগ থাকি, ঘুম আহেনা।’ নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলা ইটাখোলা এলাকার হাইস্কুলের ছাত্র কিশোর সফিক জানিয়েছে, সে প্রতিদিন একটি করে এনার্জি ড্রিংকস পান করে। আগে রাতে পড়তে পারত না ঘুমের জন্য।
এখন তার ঘুম পায় না। অনেক রাত জেগে পড়তে পারে। সফিক আরো জানায়, এটি না খাইলে ভালো লাগে না, পড়তে পারি না। এখন খাইলেই পড়তে পারি। আগে এমন ছিল না। একটু চেষ্টা করলেই ঘুম তাড়িয়ে পড়তে পারতাম কিন্তু এখন পারি না।’ বাংলাদেশ ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এনার্জি ড্রিংকসে অতিরিক্ত ক্যাফেইন দেয়া হয় পানকারীদের মধ্যে ড্রিংকসকে জনপ্রিয় করে রাখার জন্য। এটি পান করলে পানকারী যেন দ্রুত ফল পায় এ জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে ক্যাফেইন দেয়া হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। তিনি এফডিএকে উদ্ধৃত করে বলেন, এফডিএ অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। এফডিএ অনুসারে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়, হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলকারী ধমনীর রক্ত চলাচল ধীর করে দেয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যাফেইন খেলে বুক ধড়ফড়ানি, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের ব্যাঘাত হয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে শরীরে টান টান উত্তেজনা দেখা দেয়, কিন্তু অনবরত পান করলে একসময় শরীরের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এ ছাড়া মায়ো ক্লিনিক থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন পান করলে মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা, ইনসোমনিয়া, স্নায়ুবিক দুর্বলতা, বিরক্তি ভাব, অস্থিরতা, প্রায় প্রস্রাব হওয়া অথবা প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে অসমর্থ হয়ে যান পানকারী।

দুঃসাহসিক ভিডিও: তরুণের মৃত্যু নিয়ে চীনে বিতর্ক

দুঃসাহসিক ভিডিও করতে গিয়ে এক চীনা তরুণের মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান। এ নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে তর্কবিতর্ক। তার মৃত্যুর জন্য হুওশান ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম এবং এর দর্শকদের দায়ী করা হচ্ছে। খবর বিবিসির। সম্প্রতি উ ইয়ংনিং নামে ওই তরুণ ৬২ তলা ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। চীনে ইন্টারনেট ভিডিও তৈরি করে অর্থ উপার্জন করেন তরুণরা। ‘জ্যান্ত মাছ খাওয়া’, ‘কাঁচা ডিম গিলে ফেলা’, ‘নগ্ন নৃত্য’ বা ‘আকাশছোঁয়া উঁচু ভবনে ঝুলে থাকার মতো দুঃসাহসিক কাজের ভিডিও প্রচার করে তারা অর্থ আয় করেন। দেশটির ভিডিওশিল্পে এখন শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে।
এ অবস্থায় উ ইয়ংনিংয়ের মৃত্যু নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে- হুওশানের মতো ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম এবং এর দর্শকরাও কি এ মৃত্যুর জন্য কোনোভাবে দায়ী নয়? খবরে বলা হয়েছে, কোনো যন্ত্রপাতি ছাড়াই চীনের চাংশা শহরে ৬২ তলা ভবনে উঠেছিল উ ইয়ংনিং। এই ভিডিও তিনি ইন্টারনেটে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কাজ তিনি আগেও করেছেন। কিন্তু এবার ৬২ তলা ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান তিনি। বেইজিংয়ের একটি সংবাদমাধ্যম অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, ৫০০টিরও বেশি ছোট ভিডিও এবং ‘লাইভ স্ট্রিম হুওশান নামে একটি ওয়েবসাইটে ছেড়েছিলেন উ ইয়ংনিং, যা থেকে তিনি আয় করেন সাড়ে পাঁচ লাখ ইউয়ান বা প্রায় ৮৩ হাজার মার্কিন ডলার। হুওশানে তার ‘ফ্যান’ ছিল ১০ লাখের মতো। হুওশান অবশ্য বলছে, তারা কখনই উ ইয়ংনিংকে বিপজ্জনক কাজের উৎসাহ দেয়নি।

‘হৃদয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বাসে কাতার’

বাংলাদেশের বিজয় দিবস ও কাতারের জাতীয় দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আল নূর কালচারাল সেন্টারের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বাসে কাতার’। ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফানার ভবনে অধ্যাপক এ. কে. এম. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে ও প্রকৌশলী মুনিরুল হকের পরিচালনায় উদ্বোধনী ভাষণ দেন আল নূর সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক মাওলানা ইউসুফ নূর। প্রধান আলোচক ছিলেন আইইবি কাতার শাখার চেয়ারম্যান ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াজুল হাসান, আল নূর সংস্কৃতি বিভাগের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। আলোচনায় অংশ নেন কাতার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুশাহিদুর রহমান, আলনূর সমাজ কল্যাণ পরিচালক পেয়ার মুহাম্মদ ও অর্থ সম্পাদক সালেহ নূরন্নবী। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোয়াত করেন রমজান হোসেন। মহিলা কর্ণার ও শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা মাহমুদা, ফেরদৌসি পেয়ার, হেনা পারভিন ও লুৎফর নাহার। মাওলানা ইউসুফ নূর বলেন, বাংলাদেশকে আমরা হৃদয়ে লালন করি আর কাতারের সাথে রয়েছে আমাদের বিশ্বাসের সম্পর্ক। বাংলাদেশ আমাদের দিয়েছে পরিচয় আর কাতার দিয়েছে ভাগ্যোন্নয়নের সুযোগ।
তাই উভয় দেশের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, সব নবী রাসূল ছিলেন মুক্তিকামী জনগণের কাণ্ডারি ও স্বাধীনতার অতন্দ্র সেনানি। মুহাম্মদ (সা.) ও অন্যান্য নবীদের মহান সংগ্রাম আমাদের প্রতিরোধ চেতনাকে শাণিত করে আর অসত্যের বিরুদ্ধে লড়তে অনুপ্রাণিত করে। প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও তাৎপর্য বিষয়ে সারগর্ভ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনার ক্ষেত্রে দলীয় সংকীর্ণতা পরিহার করতে হবে। আমরা বীরের জাতি, থাকব চির উন্নত মমশির। বাঙালি জাতির সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন যেকোনো তৎপরতা থেকে দূরে থাকা সবার কর্তব্য। স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করা দরকার। দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা কারো কল্যাণ বয়ে আনবে না। বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার রিয়াজুল হাসান বলেন, আমাদের অর্জন অনেক তবে এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইস্পিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। পেয়ার মুহাম্মদ বলেন, উন্নততর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কমিউনিটি গঠন সময়ের দাবি। ড. শামসুল আলম আলনূর কালচারাল সেন্টারর সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কথা স্মরণ করে বলেন, এ  সেন্টারর কল্যাণে কাতারে আমি কুরআন ও ইসলাম শিক্ষার সুয়োগ পেয়েছি। মাওলানা মুশাহিদুর রহমান বলেন, দেশপ্রেমের বাণী প্রচারর জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রশংসনীয়, তবে তার বাস্তব প্রয়োগ আরও জরুরি।

দখলদারদের গুলি থেকে বাঁচেনি দুই পাবিহীন ফিলিস্তিনি

ইব্রাহিম আবু তোরায়াহ। ২০০৮ সালে ইসরাইলি বিমান হামলায় দুই পা হারান। এ সমস্যা অবশ্য তার প্রতিরোধের আগুন নেভাতে পারেনি। জেরুজালেম ইস্যুতে প্রতিবাদে ঠিকই হাজির হয়েছিলেন স্বাধীন ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে। তবে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর গুলিতে শেষ পর্যন্ত জীবনের কাছে হার মানতে হয়েছে নিরস্ত্র  ও দুই পাবিহীন ইব্রাহিমকে। খবর আলজাজিরার শুক্রবার ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ইব্রাহিম তোরায়াসহ আরও চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ওই সংঘর্ষ চলাকালে ইসরাইলি এক সেনার গুলি ইব্রাহিমের মাথায় এসে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মিডলইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিবাদে গাজা ও পশ্চিমতীরে নতুন করে সংঘর্ষে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে আহত হন আরও ৯০০ জন। এই চারজনকে নিয়ে সম্প্রতি বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।  আহত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজায় বিক্ষোভকালে ইসরাইলি সেনার গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫০ জন আহত হন। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিমতীরে দুই ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত এবং ১০ জন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপনে ডলার পাচার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রযুক্তির যুগে গুগল-ফেসবুক এখন প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এখন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেখতে আগ্রহী। দিন দিন এর ব্যবহার বাড়ছে। বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। এ সুযোগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে দেশ থেকে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট জায়ান্ট এ দুই প্রতিষ্ঠান। বিপুল অঙ্কের অর্থ কামিয়ে নিলেও সরকারকে এক পয়সাও রাজস্ব দিচ্ছে না। বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের অর্থ ক্রেডিট কার্ডে ডলারে পরিশোধ করছেন। প্রতি বছর ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন বাবদ কত ডলার বিদেশে যাচ্ছে তার সঠিক হিসাবও নেই। তবে ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গুগল চুক্তি করতে বাধ্য হয় এবং এমনকি যুক্তরাজ্যকে ১০ বছরের বকেয়া রাজস্ব বাবদ ১৩ কোটি পাউন্ড পরিশোধও করে গুগল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার যুগান্তরকে বলেন, ইচ্ছে করলেই প্রযুক্তিকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তেমনি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন রোধ করা যাবে না। তবে ফেসবুক-গুগলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার এখান থেকে কিভাবে রাজস্ব আদায় করতে পারে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। জানা গেছে, গুগল ও ফেসবুকের বাংলাদেশে কোনো অফিস না থাকায় তারা দেশের প্রচলিত আইনকে তোয়াক্কা করছে না। অথচ যে কোনো দেশে ব্যবসা পরিচালনার প্রধান শর্ত হচ্ছে ওই দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। এ দুই ইন্টারনেট জায়ান্ট কত আয় করছে সেটি প্রকাশ করছে না বা করার প্রয়োজনও মনে করছে না। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে হলে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও তার সঙ্গে ৪ শতাংশ উৎসে কর দিতে হয়। গুগল-ফেসবুক এসব না মানায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সরকার শুধু হারাচ্ছেই না পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের টাকা ডলারে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) গুগল ও ফেসবুকের এ অর্থ পাচারের কাহিনীর বর্ণনা দিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি ধারণাপত্র পৌঁছে দেয়। সেখানে বলা হয়েছে, একজন বিজ্ঞাপনদাতা যদি ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে এক ডলার ব্যয় করেন তার ৬০ ভাগই (৬০ সেন্ট) চলে যাচ্ছে গুগল ও ফেসবুকে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের প্রবৃদ্ধিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ফেসবুক। ২০১৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের প্রবৃদ্ধি পায় ৫৭ ভাগ।
এ সময় বিজ্ঞাপনের আকার ৩৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৫২০ কোটিতে। ২০১৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৫০ ভাগে। তবে মোট আয় ৪৪.৮ ভাগ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩২ কোটি ডলারে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়াও আয়ারল্যান্ড এবং জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশ গুগল ও ফেসবুককে জবাবদিহির মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে গুগলের চুক্তি সই হয়। তারা বকেয়াও পরিশোধ করেছে যুক্তরাজ্যকে। যুক্তরাষ্ট্রও তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে। ফলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশ থেকে তাদের আয়ের বড় একটি অংশ পাঠিয়ে দিচ্ছে ট্যাক্স হ্যাভেন (শূন্যকর) হিসেবে খ্যাত বারমুডায়। যদিও সেখানে গুগলের কোনো অফিস নেই। ২০১২ সালে ফেসবুকের আয়কর বিবরণীতে দেখা যায়, ফেসবুক তাদের আয়ের ৬৪.৫ কোটি পাউন্ড করস্বর্গখ্যাত কেম্যান আইল্যান্ডে পাচার করেছে। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞাপন থেকে তাদের যে রাজস্ব আসে তা এখানে জমা হয়। ২০১২ সালে ফেসবুক ১৫০ কোটি পাউন্ড আয় করলেও আইরিশ সরকারকে কর দেয় মাত্র ৪৪ লাখ পাউন্ড। আয়ারল্যান্ডে রয়েছে ফেসবুকের সহযোগী অফিস। কর ফাঁকি দিয়ে অর্থ নিজ দেশে নিয়ে যেতে ফেসবুক ‘ডাবল আইরিশ’ নামের একটি জটিল ওয়েব সাবসিডিয়ারি পরিচালনা করে। তারা আমেরিকান বহুজাতিক সংস্থাগুলোর নিয়োজিত বলে দেখানো হয়েছে। গুগল-ফেসবুকে সরাসরি বিজ্ঞাপন দেয় এমন একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত সাশ্রয়ী ও অধিক কার্যকর হওয়ায় গুগল-ফেসবুকে তারা বিজ্ঞাপন দেয়। কম খরচে পণ্যের বিজ্ঞাপন নির্দিষ্ট শ্রেণীর ক্রেতা-দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয় গুগল-ফেসবুক।
অথচ ওই অর্থ খরচ করে কোনো অনলাইন সংবাদ মাধ্যম বা সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেয়া সম্ভব নয়। আর তাতে ভালো সাড়া পাওয়া যায় না। কারণ একজন ক্রেতা বা দর্শক সব সংবাদপত্র ও অনলাইনের পাঠক নন। এদিক থেকে গুগল-ফেসবুক ক্রেতা-দর্শককে বিজ্ঞাপন দেখাতে বাধ্য করে। দেশীয় প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভোক্তার কাছে পণ্য নিয়ে পেঁঁছানো যায়। তবে ডিজিটাল প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন দেয়ার মাধ্যমে মুহূর্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এ কারণে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্লাটফর্ম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক খবরে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মিডিয়া ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ এমের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে চীন বাদে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাবদ বৈশ্বিক ব্যয় প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছাবে। ২০১৮ সালে এ ব্যয় চলতি বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়বে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে গুগল ও ফেসবুকের আধিপত্যের কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দুটি ডিজিটাল ডুওপলি বা দ্বৈত আধিপত্য বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রেডিট কার্ড বা হুন্ডির মাধ্যমে ফেসবুক বা গুগলে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করা যাবে না। এটি রোধ করার মতো কারিগরি ক্ষমতাও খুব একটা নেই। ভবিষ্যতে অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজার আরও বাড়বে। তবে সঠিক নজরদারির মাধ্যমে পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।
ফলে এ খাতে এখনই সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিদেশি মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, বিদেশি ইলেকট্রুনিক বা অনলাইন মিডিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন বাবদ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে চুক্তি ও ইনভয়েসের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের যথার্থতা এবং সঠিকতা নিরূপণসহ প্রযোজ্য করাদি কর্তন করতে হবে। অথচ বিগত সময়ে এ নির্দেশনা মেনে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশে টাকা পাঠায়নি। কথা হয় বেসিসের সাবেক সভাপতি শামীম আহসানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে অফিস না করলে গুগল-ফেসবুককে প্রচলিত আইনের আওতায় আনা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সঠিকভাবে অনলাইন মার্কেটিং করতে না পারার কারণে দেশের ই-কমার্স সাইটগুলো পিছিয়ে পড়ছে। বেসিসের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ বিদেশে পাঠানো যায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এর চেয়ে বেশি অর্থ খরচ করছে, যেমন উবার। এসব বিষয়ও ভাববার সময় এসেছে।

ইসরাইলের সঙ্গে আঁতাতের স্বীকারোক্তি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপের কথা স্বীকার করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ রয়েছে। শুক্রবার ‘ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর’ টিভি চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি আঁতাতের বিষয়ে এ স্বীকারোক্তি দেন তিনি।
আদেল আল জুবায়ের বলেন, আমাদের একটি শান্তি প্রক্রিয়া রয়েছে। ওই প্রক্রিয়ার পর ইসরাইলের সঙ্গে সব মুসলিম ও আরব দেশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এটি হবে পরিপূর্ণ সম্পর্ক। এর অর্থ হল, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে। আরব ও ইসরাইলিদের মধ্যে শান্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্তরিক বলেও দাবি করেন তিনি। আল জুবায়ের বলেন, ইসরাইল নয় বরং ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষেই সৌদি আরব কাজ করে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র ভূমি বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় বিশ্বের মুসলমানরা যখন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন ঠিক তখনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দখলদারদের সঙ্গে পরিপূর্ণ সম্পর্কের রোডম্যাপের কথা স্বীকার করলেন।

এবার ট্রাক- মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি সৌদি নারীদের

গাড়ি চালানোর অনুমতির পর এবার মোটরসাইকেল ও ট্রাক চালানোর অনুমতি মিলেছে সেৌদি আরবের নারীদের। শুক্রবার দেশটির ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সেৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞার ইতিটানতে দেশটির এক ঐতিহাসিক ঘোষণার প্রায় তিন মাস নতুন এ ঘোষণা এলো। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি বাদশা সালমান এ বিষয়ে এক ডিক্রি জারি করেন। ট্রাফিক বিভাগের বরাত দিয়ে আল-আরাবিয়া জানায়, জারি করা রাজকীয় ডিক্রির অধীনে গাড়ির পাশাপাশি নারীরা ট্রাক ও মোটরসাইকেলও চালাতে পারবেন। ২০১৮ সালের জুন থেকে এই আইন বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য নারী চালকদের বিশেষ কোনো লাইসেন্স প্রয়োজন হবে না জানিয়েছে তারা। তবে রাস্তায় কোনো দুর্ঘটনা বা ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের নারীদের দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত বিশেষ কেন্দ্র থেকে তদারক করা হবে। সেৌদি  'ভিশন-২০৩০' নামে একটি সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তেলের ওপর নির্ভরতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনা, তরুণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানে নতুন নতুন খাত তৈরি, নারীর ক্ষমতায়ন ও নাগরিকদের জীবনযাপনের ওপর কড়াকড়ি শিথিলের মতো বিষয়গুলো। এর প্রথম ধাপ হিসেবে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় দেশটি।

ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র ভয়াবহ আকার নিচ্ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র ও অসমতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভয়াবহ এ দারিদ্র দেশটির গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলছে। জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ কথা বলেছেন। চরম দারিদ্র ও মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ফিলিপ অলস্টন বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৮ জন নাগরিকের একজনই দারিদ্রযসীমার নিচে বাস করছে। এছাড়া প্রতি ৮ জনের ৪ জনই এমন অবস্থায় জীবনযাপন করছে, যাকে 'চরম দারিদ্র' হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তিনি আরও বলেন, দারিদ্রপীড়িত এসব মানুষের বেশিরভাগেরই এ দুর্দশা থেকে বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। খবর ইন্ডিপেনডেন্ট ও রয়টার্সের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ এ দারিদ্রের কারণে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা দেশটি রাজনীতি, নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করে এর সমালোচনা করেছেন। সমপ্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘরহীন মানুষদের আশ্রয় শিবির থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ছোট ছোট শহরগুলো এবং সমপ্রতি ঘূর্ণিঝড় আক্রান্ত ও বিধ্বস্ত পুয়ের্তোরিকো পর্যন্ত সফর করেন। বৈশ্বিক অসমতার মূল্যায়নে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এলাকাগুলোর দারিদ্র ও মানবাধিকার বিষয়ে এক প্রতিবেদন প্রস্তুত করছেন তিনি। খুব শিগগিরই পূর্ণ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের চুম্বকাংশ তুলে ধরে তিনি বলেন,  'ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অসমতায় চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে। বহু বছর ধরে গৃহীত অর্থনৈতিক নীতির কারণে দেশটি এ ভয়াবহ দারিদ্র ও অসমতার মুখে পড়েছে। তবে কর সংস্কার ও কল্যাণমূলক ভাতা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে খরচ কমাতে ট্রাম্প ও তার দল রিপাবলিকান সমর্থিত প্রস্তাব কার্যকর হলে এ পরিস্থিতি আরও নাজুক আকার ধারণ করবে।' অলস্টন বলেন, 'আমেরিকান স্বপ্ন খুব দ্রুতই মরীচিকায় পরিণত হতে যাচ্ছে। কেননা এ মুহূর্তে বিশ্বের অন্যান্য ধনী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক সচলতার হার সবচেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্রের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা একটা শিশুর পক্ষে বর্তমানে দারিদ্রের চক্র থেকে বের হয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।' তিনি জানান, দেশটিতে দরিদ্র শিশুরা তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে না বললেই চলে। একইভাবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও মানসম্মত শিক্ষায় তাদের কোনো প্রবেশাধিকার নেই। এ মুহূর্তে এদের যেটা সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা হচ্ছে দারিদ্রের শিকল ভেঙে বের হয়ে আসা।

তুরস্কে প্রথম চালকবিহীন মেট্রো লাইন চালু

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান শুক্রবার দেশটির ইস্তানবুল শহরে প্রথম চালকবিহীন মেট্রো লাইন চালু করেছেন। বহুদিন ধরে প্রত্যাশিত এ প্রকল্প চালুর কারণে যানজটপূর্ণ এ শহরে জনদুর্ভোগ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি জানায়, এরদোগান ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য তার অবস্থানকে শক্ত করেছেন।
দেশজুড়ে নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সে অবস্থানকে আরও পাকাপোক্ত করছেন তিনি। নতুন এ মেট্রো লাইনটি তুরস্কের উসকুদার শহর এবং বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা উমরানিয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে। এতে ওই শহর দুটির মধ্যে যাতায়াতকারী নাগরিকদের যানজটের দুর্দশা আর পোহাতে হবে না। ওই মেট্রো লাইনে উদ্বোধনী ভ্রমণের আগে এরদোগান বলেন, ‘ধাপে ধাপে আমরা আরও কাছে চলে আসছি। যানজটবিহীন ইস্তানবুল গড়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের অর্থনীতিকে অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগিয়ে যারা দেশকে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য এ মেট্রো লাইনের উদ্বোধন মহা আনন্দের।’ আগামী বছরের মধ্যে আরও কয়েকটি মেট্রো লাইন চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস ঠেকাতে মিসরের প্রস্তাব

টরেন্টোতে মার্কিন দূতাবাসের সামনে
ফিলিস্তিনি ও তাদের সমর্থকদের বিক্ষোভ
জেরুসালেমের সঙ্কটের ব্যাপারে কোনো একটি দেশের একক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আইনগত বৈধতা পাবে না, এমন একটি প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে জাতিসঙ্ঘে এই প্রস্তাব তুলতে যাচ্ছে মিসর। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ভেটো দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের সমর্থনে অন্যান্য দেশ যেন জেরুসালেমে দূতাবাস স্থানান্তর না করে, সে বিষয়টিও থাকবে প্রস্তাবে।
কূটনীতিকরা মনে করছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য এর সমর্থন করলেও বিরোধিতা আসতে পারে ওয়াশিংটন থেকে। তারা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ মাসের শুরুতে তেল আভিভ থেকে জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে শহরটিকে ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের সাথে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার চারজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় আরব বিশ্বের নেতারা। এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে পথে নেমে আসেন ফিলিস্তিনের মানুষ। গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরাইলি নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর সাথে সঙ্ঘাত শুরু হয় বিক্ষোভকারীদের। বিক্ষোভকারীদের সাথে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্ঘাতে শুক্রবার মারা গেছেন চারজন ফিলিস্তিনি। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের জেরুসালেম সফরের সময়ও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের আন্দোলনকারী জোট 'ফাতাহ'।
১০ম দিনে ফিলিস্তিনি ইন্তিফাদা
ফিলিস্তিনের পবিত্র নগরী জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির প্রতিবাদে ইন্তিফাদা বা সর্বাত্মক প্রতিরোধ পালন করছেন ফিলিস্তিনিরা। গতকাল ১৬ ডিসেম্বর এ ইন্তিফাদার নবম দিন অতিবাহিত হয়। ইন্তিফাদার অষ্টম দিনে শুক্রবার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৪০ ফিলিস্তিনি। এ নিয়ে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। ৬ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর দুনিয়াজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ৮ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় ইন্তিফাদার ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন বা হামাস। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই জেরুসালেম, গাজা উপত্যকা, পশ্চিমতীরের রামাল্লা, হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, কালকিলিয়া, তুলকার্ম ও জেনিনের রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হতাহত হন বহু বিক্ষোভকারী। তারপরও দমে যাননি মুক্তিকামী মানুষ। প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তারা। ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর ছবি পুড়িয়ে, আমেরিকা-ইসরাইলের পতাকা জ্বালিয়ে দিয়ে স্লোগান তুলছেন, ফিলিস্তিনিদের রাজধানী নির্ধারণের অধিকার আমেরিকাকে কেউ দেয়নি। আর হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ইসরাইল নামে কোনো দেশ নেই। তাই এর কোনো রাজধানীও থাকতে পারে না। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রামের বিপরীতে তাদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। শুক্রবার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ফিলিস্তিনিরা হচ্ছেন গাজা উপত্যকার ইয়াসির সকার (৩২), ইবরাহিম আবু সুরিয়া (২৯), পশ্চিম তীরের রামাল্লার মোহাম্মদ আমিন আকেল (২২) এবং পূর্ব জেরুসালেমের বাসেল ইবরাহিম। গাজায় আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কাদরা এক বিবৃতিতে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছেন। পূর্ব জেরুসালেমের উত্তরে আনাতা গ্রামে সংঘর্ষ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলি বুকে বিদ্ধ হলে ইবরাহিম আবু সুরিয়া নিহত হন। অন্যরাও ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় একই পরিণতি বরণ করেন।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামাসের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইসরাইলি সেনাদের বর্বরোচিত হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর তেল আবিবের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন বা হামাস। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলি সেনাদের হামলায় ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের নিহতের ঘটনায় আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে ইসরাইল একটি অপরাধী সরকার। হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেরুসালেমকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কখনোই ট্রাম্পের ঘোষণাকে বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং নিজেদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায় করে ছাড়বে।- বিবিসি

হন্ডুরাসে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : প্রেসিডেন্টের বোনের মৃত্যু

এক মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্টের বোন নিহত হয়েছেন। শনিবার দেশটির রাজধানীর কাছে একটি পাহাড়ে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এই ঘটনায় আরো পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ক্ষমতাসীন দলের প্রেসিডেন্ট রিনাল্ডো সানচেজ টুইটারে জানান, ‘ঈশ্বর তার প্রিয় পাত্রী হিল্ডা হার্নান্ডেজেককে তার কাছে নিয়ে গেছেন।
হিল্ডা ন্যাশনাল পার্টির একজন অক্লান্ত পরিশ্রমী যোদ্ধা ছিলেন।’ হিল্ডাকে বহনকারী হন্ডুরান বিমান বাহিনীর এএস৩৫ বি-৩ হেলিকপ্টারটি রাজধানীর টোকোনটিন বিমান বন্দর থেকে উড়ে যায়। এ সময় আবহাওয়া অবস্থা খারাপ ছিল। সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইয়ারবাবুয়েনা পর্বতের কাছে আকাশযানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনাস্থলে ‘কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি।’ এই দুর্ঘটনায় আরো যারা মারা গেছেন তারা হলেন, পাইলট লেফটেন্যান্ট ইভান ভাসকুয়েজ পোর্টিলো, কো-পাইলট সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট গার্সন ডিয়াজ নোলাস্কো, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন প্যাট্রিসিয়া ভালাদারেস এবং মন্ত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিভাগের দুই কর্মী নাগুম লাগোস ও মার্কোস বানেগাস। লিন্ডার মৃত্যুর খবর জানার পর প্রেসিডেন্ট তারই টুইটার অ্যাকাউন্টে তার বোনের একটি ছবি পোস্ট করেন।

বাড়ির বেইজমেন্ট থেকে ধনকুবের ও তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

কানাডার এক শীর্ষ ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে তাদের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের মৃত্যুকে ‘রহস্যজনক’ বলে বর্ণনা করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার টরন্টোতে নিজেদের বাড়ির বেইজমেন্টে ব্যারি শেরম্যান ও তার স্ত্রী হানির লাশ পাওয়া যায়। বিশ্বজুড়ে ‘জেনেরিক’ ওষুধ বিক্রয়কারী কোম্পানি অ্যাপোটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ব্যারি কানাডার সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। জনসেবক বা দাতা হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল। ব্যারি ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়ে পুলিশ খুব বেশি তথ্য দেয়নি, তারা লাশের পরিচয়ও নিশ্চিত করেনি। ঘটনায় স্তম্ভিত বন্ধু ও কর্মকর্তারা পরে ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীর নাম জানায়। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এরিক হসকিনস টুইটারে বলেন, ‘কথা হারিয়ে ফেলছি। আমার প্রিয়প্রন্ধু ব্যারি ও তার স্ত্রী হানিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তারা ছিলেন চমৎকার মানুষ, অসাধারণ দাতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অনন্য নেতা’। পুলিশের মুখপাত্র পুলিশের কনস্টেবল ডেভিড হপকিনস জানান, শুক্রবার বিকেলের আগে ব্যারির বাড়ি থেকে ইমার্জেন্সি সার্ভিসে ফোন দেয়া হয়েছিল। তাদের মৃত্যুর ঘটনাটি সন্দেহের সৃষ্টি করছে এবং আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ ফোর্বসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যারির ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩২০ কোটি ডলার। তিনি ১৯৭৪ সালে অ্যাপোটেক্স ইনকরপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন; এটি এখন বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও তার স্ত্রীর মৃত্যুকে গভীর শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অ্যাপোটেক্স। ব্যারি-হানি দম্পতির চার সন্তান আছে।

সৌদি জর্দান ও কাতারে নির্যাতিত বাংলাদেশী নারী কর্মীরা

সৌদি আরব, জর্দান ও কাতারে পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকদের মধ্যে অনেকে মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার এসব নারীর মধ্যে অনেকে উপায় না পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। সৌদি আরবে পালানো নারীরা বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেকের পরিবারের সদস্যরা তাদের আপনজনকে দ্রুত দেশে ফেরত আনতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নিয়োগকারী কোম্পানির নাম, নির্যাতনের ধরন, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সির নাম, টেলিফোন নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করে আবেদন করছেন। পরে ওই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে সৌদি আরব, জর্দান ও কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসে।
তবে গত দেড় বছরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যত অভিযোগ জমা পড়েছে তার মধ্যে নির্যাতিত নারীদের দেশে ফেরানোর সংখ্যা খুবই কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ দিকে বিদেশ যাওয়ার পর নারী শ্রমিকের ওপর নির্যাতন প্রসঙ্গেও রয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, যাওয়ার আগে নারী শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তার এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিদেশ যেতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যাওয়ার পরই তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ‘দেশে আমি দুধের বাচ্চা রেখে এসেছি। আমি আর থাকতে পারব না’। তখনই তারা দেশে ফিরতে নির্যাতনের ‘বানোয়াট’ অভিযোগ তৈরি করেন। তবে সবাই না। যদিও ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকায় উল্লেখ রয়েছে, বিদেশ যাওয়ার পর কোনোভাবেই চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ের আগে দেশে ফিরতে পারবেন না। অন্য দিকে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসে জমা পড়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নারীকর্মীদের যে সময় পর্যন্ত কাজ করানোর কথা রয়েছে; সেই সময়েরও বেশি কাজ করানো হচ্ছে। কাউকে কাউকে আত্মীয়স্বজনেরর বাসাবাড়িতেও অতিরিক্ত কাজ করানোর অভিযোগ থাকলেও বেতন দিতে গড়িমসি শুরু হয়। আবার অনেক মালিকের দৃষ্টি পড়ছে খারাপভাবেও। এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কিছু নারীকে এজেন্সির পাঠানো টিকিটে ইতোমধ্যে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরে সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্যাতনের শিকার মুক্তা বেগমকে দেশে ফেরত আনার জন্য তার ভাই মো: বোরহান লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ফরমে উল্লেখ করেন, মোসাম্মৎ মুক্তা বেগম, পাসপোর্ট নম্বর বিএম০৮৬৬৩৭৩, মোবাইল নম্বর ০০৯৬৬৫৫৮২৬৫৫০৯।
 বাবার নাম আব্দুল করিম তালুকদার। গ্রামের নাম মাদারীপুর বাহোরান্দি। চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর রিক্রুটিং এজেন্সি তানিয়া ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (আরএল-৪৩৬) মাধ্যমে সৌদি আরব যান। অভিযোগে মুক্তার ভাই দেশে ফেরত আসার কারণের জায়গায় উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন নিয়োগকর্তার বাসায় শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হন তার বোন। নিয়োগকর্তার বাসা থেকে পালিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের (জেদ্দা) আশ্রয়ে আছেন। সৌদি আরবের দালাল তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে। তাকে জরুরি ভিত্তিতে দেশে আনা প্রয়োজন। এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে মুক্তার ভাই বোরহান বলেন, তাকে সৌদি আরব পাঠাতে ৭০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। শুধু মুক্তা নন- সৌদি আরবে রিক্রুটিং এজেন্সির পাঠানো এমন কয়েক শ’ নারী শ্রমিক এখন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে দেশে ফেরা নারীর সংখ্যা খুবই কম বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কমকর্তা। শুধু সৌদি আরব নয় ; একইভাবে জর্দান, কাতারে ও অনেক নারী শ্রমিক নির্যাতিত হচ্ছেন। প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকেই তাদের দেশে ফেরত আনতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে আবার নিখোঁজও রয়েছেন মাসের পর মাস। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগে জানা যায়, ফরিদপুরের হাজিগঞ্জের হাজার বিঘা গ্রামের রওশন আরা ২০১৪ সালে বিএমইটির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে জর্দান যান। ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের আবেদন ফরমে তার বোন জুলেখা বেগম দেশে ফেরত আনার কারণের জায়গায় উল্লেখ করেন, তার বোন জর্দানে ছয় মাস ধরে নিখোঁজ। নিয়োগকর্তাকে ফোন করলে রওশন আরাকে এজেন্সি অফিসে রেখে আসে বলে জানান। নিয়োগকর্তার শারীরিক নির্যাতনে তার হাত ভেঙে গেছে। এর পর থেকে পরিবারের সাথে আর কোনো যোগাযোগ নেই। রওশন আরার পরিবার তাকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। নিয়োগকর্তার কাছ থেকে বকেয়া বেতন আদায়সহ রওশন আরাকে যেকোনো অবস্থায় দেশে ফেরত আনা জরুরি। একইভাবে কাতারে পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই সমস্যায় রয়েছেন।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সৌদি আরবে নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের মধ্যে পালিয়ে ৩৫০ জন বর্তমানে শেল্টার হোমে অবস্থান নিয়েছেন।
এ ছাড়া দেশে ফেরত আসার জন্য গত দুই দিন ৭০ নারী শ্রমিক জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন। তবে তাদের কী কারণে সেখানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে তা জানা যায়নি। সৌদি আরবে নারী শ্রমিক নির্যাতন প্রসঙ্গে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সরকারি নিয়মকানুন মেনেই বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক পাঠাচ্ছি। কিন্তু কিছু মহিলা সেখানে যাওয়ার পর নানা অভিযোগ তুলে দেশে চলে আসতে পরিবারকে দিয়ে অভিযোগ দিচ্ছেন মন্ত্রণালয়ে। তবে তিনি স্বীকার করেন, সৌদি আরবে গৃহকর্তা-কর্ত্রীরা নারী শ্রমিকদের ইদানীং কিছুটা নির্যাতন করছেন। বেতনও পাচ্ছেন না। সময়ের বেশি তাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এসব ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের এখনই গুরুত্ব সহকারে উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। এ দিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০১৭ উপলক্ষে আজ রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বক্তৃতা করবেন বলে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত সৌদি, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এক লাখ ১৩ হাজার নারী শ্রমিক। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস-২০১৭ এ বিদেশে নির্যাতিত নারী শ্রমিকদের কিভাবে বেতনভাতা নিশ্চিতসহ তাদের সুরক্ষা করা যায় তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবা উচিত।

গরু চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে গরু চোর সন্দেহে রাসেল শেখ (৪২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় একটি ট্রাক পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। রোববার ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাদীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল শেখ একই ইউনিয়নের বিলমামুদপুর গ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে। গ্রামবাসী জানায়, চার থেকে ৫ জন একটি ট্রাকে করে সাদীপুর গ্রামে আসে। তারা আশপাশের বাড়িতে থাকা গরুগুলোর দড়ি খুলতে শুরু করলে এলাকাবাসীরা টের পেয়ে তাদের ঘিরে ফেলে।
এক পর্যায়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে রাসেল শেখ। অন্যরা পালিয়ে যায়। এর এক পর্যায়ে  উত্তেজিত গ্রামবাসী চোরদের আনা ট্রাকটি পুড়িয়ে দেয়। আলিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ডাবলু যুগান্তরকে বলেন, গণপিটুনিতে আহত রাসেলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফরিদপুর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা ট্রাকটি পুড়িয়ে দেন পরে খবর পেয়ে ফরিদপুর শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বল জানান এসআই।

গৌরীপুরে ৫ পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৫টি পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। বিস্ফোরণে রফিকুল ইসলাম (ধান ব্যবসায়ী) ও মতি মিয়া (অটোচালক)  নামে দুই ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ১০/১২জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গৌরীপুরের শাহগঞ্জ বাজারে অবস্থিত অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদ থেকে এ পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করা হয় বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। গৌরীপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দা মাকনূন হৃদি জানান, মতি মিয়ার শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে, তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আর রফিকুল ইসলামের চিকিৎসা চলছে। গৌরীপুর থানার সহকারি পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ জালাল জানান, শাহগঞ্জ বাজারে ৫টি পেট্রোল বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। একটি রিকশা পুড়ে গেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম অন্তর পেট্রোল বোমা হামলার খবর জানিয়েছেন।
সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি অংশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম অন্তরের ওপর হামলা করেছে বলে জানা গেছে। চেয়ারম্যান জানিয়েছে, ওরা মহান বিজয় দিবস অনুষ্ঠান উদযাপন করতে দেয়নি। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এখনও উদঘাটন সম্ভব হয়নি। পেট্টোল বোমায় দগ্ধ অচিন্তপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল রশিদের পুত্র মো. মতি মিয়া (২৮) জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহগঞ্জ বাজারে অবস্থিত অচিন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদ থেকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। আমি অটোরিকশায় ছিলাম। হঠাৎ করেই আমার পুরো রিকশাটি পুড়ে যায় ও আগুন ধরে যায়। আহতের চাচাতো ভাই প্রত্যক্ষদর্শী খোরশেদ আলম জানান, পুরো শরীরে আগুন নিয়ে দৌড়ে আমার দোকানে ওঠে। অপর দগ্ধ ব্যক্তি খালিজুড়ী গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র ধান ব্যবসায়ী  মো. রফিকুল ইসলাম (৪২) জানান, আমি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিভাবে শরীরে আগুন ধরে গেলো বুঝতে পারি নাই। ঘটনার পরপরই শাহগঞ্জ বাজারের সকল দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জন্য দোয়া, মাদ্রাসা অধ্যক্ষ গ্রেফতার

ড. ফায়জুল আমীর সরকার
বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করায় টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুল কাদের তালুকদার বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আজ রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  গ্রেফতার ড. ফায়জুল আমীর সরকার গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৮টার দিকে গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের আগে একাত্তরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এ দোয়া অনুষ্ঠানে মোনাজাতে নেতৃত্ব দেন গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা শারমীন, ওসি হাসান আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম আক্তার মুক্তা, পৌরমেয়র রকিবুল হক ছানা, জেলা পরিষদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের তালুকদার, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহবায়ক অ্যাডভোকেট কেএম আবদুস সালাম, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুস সোবহান তুলাসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, সব সরকারি কর্মকর্তা এবং মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ ফায়জুল বলেন, হে আল্লাহ তুমি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী, যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের বেহেশত নসিব করো। হে আল্লাহ তুমি বিচারের পর তাদের বেহেশত নসিব করো। দোয়া অনুষ্ঠানে তার এ ধরনের বক্তব্যে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান। উত্তেজনা দেখা দিলে উপস্থিত নেতারা সবাইকে শান্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা শারমীন জানান, দোয়া অনুষ্ঠানে এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক বক্তব্য শুনে তিনি নিজের কানকে প্রথমে বিশ্বাস করতে চাননি। একই কথা আবার রিপিট করলে তিনি মনোযোগ দিয়ে তা শোনেন। আশপাশে যারা ছিলেন তাদের কাছ থেকে তিনি শতভাগ নিশ্চিত হন। ওসি হাসান আল মামুন বলেন, এমন ঘটনা সত্যিই হতবাক হওয়ার মতো। ঘটনার পরপরই তাকে আটক করা হয়। মামলার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, একুশে গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান তিন আসামির বাড়ি গোপালপুরে। গোপালপুরের দুই জঙ্গি সম্প্রতি ক্রসফায়ারে মারা গেছে। অধ্যক্ষ ড. ফায়জুলের মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মানুষ, যারা জামায়াত শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আমরা তার কঠিন শাস্তি চাই। সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এবং গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সোবহান তুলা জানান, মুখ ফসকে হয়তো তিনি এ কথা বলেছেন। তবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহাদুজ্জামান জানান, শনিবার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে মহান বিজয় দিবসে একাত্তরের বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বেহেশত নসিব কামনা করেন ফায়জুল। জানা গেছে, ফায়জুল কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের আবদুল মান্নান সরকারের ছেলে। গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় ২০০৯ সালে তিনি যোগদান করেন। এর আগে তিনি কুমিল্লা শহরের একটি মাদ্রাসায় এক বছর ও জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় পাঁচ বছর শিক্ষকতা করেন।

যুদ্ধাপরাধীমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়

মহান বিজয় দিবসে শনিবার সাভার স্মৃতিসৌধে বীর
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর শপথ নেয় জনতা -যুগান্তর
যথাযথ মর্যাদায় শনিবার মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেয়া এবং ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, শপথ ও দাবির মাধ্যমে দিনটি পালন করে গোটা জাতি। সব যুুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে যুদ্ধাপরাধী মুক্ত করার দাবি জানায় সর্বস্তরের মানুষ। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বাঙালি জাতি ভালোবাসা আর অহংকারের প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের।
ভোরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের সূচনা হয়। দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংবাদপত্রগুলো বের করে বিশেষ ক্রোড়পত্র। জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এদিন ছিল সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়। প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো সাজানো ছিল জাতীয় পতাকা ও রং-বেরঙের কাগজে। জেলখানা, হাসপাতাল, এতিমখানা ও শিশু সদনগুলোয় পরিবেশন করা হয় উন্নত খাবার। সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দেয় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদি। সেখানে সর্বস্তরের লাখো মানুষের ঢল নামে। এ ছাড়া দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা শহরের চিত্রও ছিল প্রায় অভিন্ন। মানুষে মানুষে বৈষম্য ভুলে সাম্প্রদায়িকতা প্রতিহত করে নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ছিল শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের চোখে-মুখে। শিশুকিশোর ও তরুণ-তরুণীদের হাতে, কারও গালে কিংবা কপালে আঁকা ছিল রক্তস্নাত জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে ছিল জাতীয় পতাকার রঙে শার্ট, পাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েদের পরনে ছিল লাল-সবুজের শাড়ি অথবা সালোয়ার-কামিজ। বিজয় দিবসে আনন্দ-উৎসবের আলোয় সাজে ঢাকাসহ পুরো দেশ। পতাকায় সজ্জিত রাজধানীসহ দেশের বড় শহরগুলোর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ।
সচিবালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান আলোর ঝলকানি। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দেয়ালে লাল-সবুজের ছাপ। আলোর সাজে সাজানো হয় জাতীয় সংসদ ভবনও। মূল ভবন আর আশপাশের সব ভবনে জ্বলে লাল-সবুজ আলো। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ভবনের পাশাপাশি সাজানো হয় রাজপথের দুই পাশ। সন্ধ্যার পর রং-বেরঙের আলোকচ্ছটায় ঝলমলিয়ে ওঠে এলাকাগুলো। আলো দিয়ে তৈরি করা হয় প্রিয় লাল-সবুজ পতাকা। মনকাড়া এমন আলোকসজ্জায় মুগ্ধ সবাই। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তস্নাত লাল-সবুজের পতাকা হাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ আর পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয়। চোখে ছিল একাত্তরের ঘাতক রাজাকার-আলবদর-যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দোসরদের প্রতি তীব্র ঘৃণা-ধিক্কার। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো সকালে সূর্য ওঠার আগেই জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ছিল মানুষের দীর্ঘ লাইন। দিনের আলোর উজ্জ্বলতা যতই বাড়তে থাকে জনতার ভিড়ও তত বাড়তে থাকে। দিনটি পালনে সকাল ৮টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীনতার মহান স্থপতির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয়প্রধান হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ৪৭তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড এবং ডাক বিভাগের ইস্যুকৃত একটি স্মারকগ্রন্থ তিনি অবমুক্ত করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সম্মিলিত বাহিনীর দৃষ্টিনন্দন কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। বিকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন রাষ্ট্রপতি। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এতে বিজয় দিবসের কেক কাটেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবনের বিশাল চত্বর ঘুরে ঘুরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। আগত অতিথিদের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তারা। বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব মুক্তিযোদ্ধাকে (এফএফ) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এবারও তিনি নগরীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। মহান বিজয় দিবসে রাজধানীজুড়ে ছিল নানা আয়োজন। বিকালে রাজধানীতে বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা করে আওয়ামী লীগ। ৩ কিলোমিটারের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়ে শেষ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর। দিনের শুরুতে বাঙালির অধিকার সংগ্রামের অন্যতম সূতিকাগার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিজয় শোভাযাত্রা ও পতাকা মিছিলের আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও শিশু একাডেমি। তরুণ-তরুণী একসঙ্গে শপথ নেয় অসমাপ্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। মুক্তি সেনাদের মতো তারাও দেশ মাতৃকার জন্য আমুত্যু লড়াই করে বাঙালির কাক্সিক্ষত বিজয় ছিনিয়ে আনতে প্রস্তুত। বিজয় শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি, টিএসসি, জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের সামনে দিয়ে ঘুরে যায়। সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে সাইকেল র‌্যাবলি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া শিখা চিরন্তনে শহীদদের আত্মদানের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও তরুণ প্রজন্মের হাতে পতাকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছায়ানটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সকাল থেকেই ঢাকার রাজপথে চলে লাল-সবুজের মেলা। রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সবাই মেতেছেন উৎসবের রঙে। কেউ হাতে পতাকা নিয়ে কেউ বা গালে কিংবা কপালে পতাকা একেছেন। মহান বিজয় দিবসে বিজয়ের গৌরবগাঁথা নিয়ে পৃথক আলোচনা সভা, বক্তৃতা, রচনা প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দোয়ার আয়োজন করে রাজধানীর বেরাইদের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এগুলো হল- বেরাইদ গণপাঠাগার, বেরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, রওশনআরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল, আলহাজ রহিমউল্লাহ মাদ্রাসা ও এতিমখানা, বেরাইদ মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং বেরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় স্কেটিং র‌্যালি।

পাঁচ বছর ধরে বাক্সবন্দি ক্যান্সার মেশিন

প্রতিদিন অনেক ক্যান্সার রোগী তাদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রেডিয়েশন থেরাপি না পেয়ে সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে ফিরে যান। অপর্যাপ্ত চিকিৎসায় সঠিকভাবে ক্যান্সার নিরাময় না হওয়ায় অনেক রোগীকে করুণভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। অথচ ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের একটি লিনিয়ার এক্সিলারেটর (রেডিও থেরাপি) মেশিন ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাক্সবন্দি পড়ে আছে। যথাসময়ে মেশিনটি স্থাপন সম্ভব হলে গত পাঁচ বছরে অন্তত সোয়া লাখ ক্যান্সার রোগীকে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া সম্ভব হতো। ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অপরিণত সিদ্ধান্ত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অব্যবহৃত পড়ে থাকায় মেশিনটি নষ্ট হওয়ারও উপক্রম হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সচল প্রতিটি লিনিয়ার মেশিনে গড়ে ৮০-৯০ জন রোগীকে রেডিও থেরাপি দেয়া হয়। সেই হিসাবে মেশিনটি স্থাপন হলে মাসে প্রায় ২ হাজার রোগী সেবা পেতেন। পাঁচ বছরে এ সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যেত। জানা গেছে, ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে ২০১২ সালে রাজস্ব অর্থায়নে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের জন্য কেনা হয় একটি অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন। ক্যান্সার হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী জানান, এটি সে সময়ের সর্বাধুনিক মেশিন হওয়ায় তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব হুমায়ুন কবীর এটিকে নিজ জেলা চট্টগ্রামে স্থাপনের ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু এতে তিনি আপত্তি করেন। তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক বিষয়টি জানতে পেরে এটি তার এলাকা খুলনায় স্থাপনের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক মেশিনটি ঢাকার ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে ওই বছরের ৬ নভেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু খুলনায় এ ধরনের মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা না থাকায় সেটি এখনও বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী যুগান্তরকে বলেন, এ লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিনটি দিয়ে শুধু রেডিও থেরাপি নয়, আরও অনেক কাজ করা যায়। বিশেষ করে রেনাল ক্যান্সার, ব্রেন টিউমার ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষ কার্যকরী। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতায় মেশিনটি আজও ব্যবহার করা সম্ভব হল না। যথাসময়ে এটি ব্যবহার করতে পারলে অনেক জটিল ক্যান্সার রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো। তিনি বলেন, পাঁচ বছর পার হয়েছে। মেশিনটি নির্ধারিত কার্যকালের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখন এটি কতটা ভালো আছে তা বলা কঠিন। কারণ এ ধরনের মেশিন অব্যবহৃত পড়ে থাকলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লিনিয়ার মেশিন স্থাপনের জন্য বিশেষ ধরনের বাঙ্কার তৈরি করতে হয়। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা নিরোধক বাঙ্কার ছাড়া এ ধরনের মেশিন স্থাপন করা হলে সেটি থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। মেশিনটি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপনের জন্য একটি বাঙ্কার তৈরি করা হয়। এটি নির্মাণে গণপূর্ত অধিদফতরকে এক কোটি ৯২ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। গণপূর্ত অধিদফতর বাঙ্কার স্থাপনে অপারগতা প্রকাশ করায় এ টাকা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরকে অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর বাঙ্কার নির্মাণ হলেও সেটি আন্তর্জাতিক মানের হয়নি। এমনকি এ মেশিনটি স্থাপনের জন্য উপযুক্তও নয়। ফলে ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মেশিন সরবরাহকারী কোম্পানি বাঙ্কার মেরামতে একটি নকশা প্রদান করে।
কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর ২০১৫ সালের ২ আগস্ট মেশিনটি স্থাপনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ জানানো হয়। অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকান উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর খুলনা মেডিকেল কলেজের বাঙ্কারটি পরিদর্শন করে এবং ৮ সেপ্টেম্বর এ ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৮ মার্চ তারিখে মেশিনটি পুনরায় জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ একটি বাঙ্কার ও কন্ট্রোল রুম করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও ঘটে নতুন বিপত্তি। বাঙ্কার ও কন্ট্রোল রুম তৈরি করতে একটি দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। যেখানে ইলেকট্রিফিকেশন, এসি, চিলার, ক্যাবলিং ইত্যাদি কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। অথচ এসব ছাড়া বাঙ্কার কোনো কাজে আসবে না। আবার বাঙ্কার নির্মাণের পর এসব কাজ করতে আরও অন্তত ৫০ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। অন্যথায় মেশিনটি সচল করা সম্ভব হবে না। ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিবছর দেশে ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৫০ হাজার রোগী মৃত্যুবরণ করে। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের (আইএআরসি) সমীক্ষা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর হার শতকরা ৭ দশমিক ৫ ভাগ। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ এ হার ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। দেশে ক্যান্সারের এ করুণ দশার পরও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অনেকটাই উদাসীন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, লিনিয়ার মেশিনটি চূড়ান্তভাবে জাতীয় ক্যান্সার ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে বাঙ্কার নির্মাণে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে এটি স্থাপন হবে। ৫ বছরের বেশি সময় মেশিনটি অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের মেশিন অব্যবহৃত থাকলে সমস্যা হতেই পারে। তবে স্থাপন না করে আগেই মন্তব্য করা ঠিক হবে না। মেশিনটি কেন এতদিন ফেলে রাখা হল জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা না করেই মেশিনটি ঢাকা থেকে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে স্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।