Thursday, March 6, 2025
থানার সামনে ফিল্মি গ্যাং স্টাইলে ছবি, অতঃপর...
এমন সব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মন্তব্য করেছেন রায়পুরা থানা কি কিশোর গ্যাংয়ের দখলে? আবার কেউ কেউ এটিকে চরম বেপরোয়া মনোভাবের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।
তথ্য যাচাই করতে গিয়ে জানা গেছে, রমজানের প্রথম দিন রোববার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আরমান মিয়া আইনি পরামর্শ নিতে থানায় যান। তার সঙ্গে ওই যুবকরাও থানার সীমানার ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর যখন আরমান মিয়া থানার ভেতরে প্রবেশ করেন তখন তারা বাহিরে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ছবি তোলেন। ছবিতে ৭ জন যুবককে লক্ষ্য করা যায়। তাদের বয়স আনুমানিক ১৭ থেকে ২০ বছর হবে। তারা মাফিয়া ভঙ্গিমায় বিভিন্ন স্টাইলে ছবি তোলে তা টিকটকে আপলোড করে। পরে এটি নেটিজেনদের নজরে আসলে বিষয়টি নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠে।
থানার সামনে ফিল্মি গ্যাং স্টাইলে ছবি, অতঃপর...
মরজাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আরমান মিয়া কালবেলাকে বলেন, প্রথম রমজানের দিন ইফতারের পরে আমি রায়পুরা থানাতে যাই একটি বিষয় নিয়ে। আমি থানাতে যাওয়া পর তারা ওই মাইক্রোবাস নিয়ে থানাতে আসে ফুটবল খেলার অতিথি করার বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। আমি তখন তাদের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলি কিন্তু কোন সময় তারা এই অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ছবি তুলেছে তা আমি দেখেনি এবং জানি না। তারা এইসব ছবি তুলেছে টিকটকে দেওয়ার জন্য। এছাড়া ছেলেগুলো খুব ভালো, কেউ ব্যবসা করে, আবার কেউ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত।
রায়পুরা থানার ওসি আদিল মাহমুদ কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি আমরাও আজকে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি। ওইদিন মরজাল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আরমান মিয়া থানায় একটি আইনি কাজে এসেছিলেন। ওনার কাছেই ছেলেগুলো এসেছে, পরে তাকে ডেকে এনে কথা বলার পর উনার মাধ্যমেই দু’একজনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা এগুলো টিকটকের জন্য করা হয়েছে বলে জানায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেরাও তদন্ত করছি। কিভাবে তুলল, এই সুযোগটাই কিভাবে পেলো। আমাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখছি, প্রযুক্তির সকল টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা হার্ডলাইনে কাজ করছি। পরবর্তীতে যেন এই ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে।
![]() |
| রায়পুরা থানার মূল ফটকের সামনে মাফিয়া গ্যাং স্টাইলের সাত যুবক। ছবি : কালবেলা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরব নেতাদের গাজা পুনর্গঠন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
গতকাল মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউস এক বিবৃতিতে বলেন, (আরব নেতাদের) বর্তমান প্রস্তাবে গাজার বাস্তবতাকে আমলে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গাজা বসবাসের অনুপযোগী। ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত জঞ্জাল থাকায় সেখানে মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব নয়।
ব্রায়ান হিউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হামাসমুক্ত গাজাকে পুনর্গঠনের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনায় অটল রয়েছেন। ওই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে আমরা আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’
যুদ্ধপরবর্তী গাজা পুনর্গঠনের জন্য ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবের বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করতে গতকাল মঙ্গলবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন আরব বিশ্বের নেতারা। এতে মিসরের দেওয়া প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘সত্যিকার শান্তি’ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
মিসরের দেওয়া প্রস্তাবে গাজার শাসনভার অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে হামাসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) পুনর্গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত শাসনভার ওই অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে থাকবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, পুনর্গঠনের জন্য গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে নিজেদের বসত-ভিটা ছাড়ার দরকার নেই।
ট্রাম্পের প্রস্তাবে গাজাবাসীকে জর্ডান ও মিসরে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল। ইসরায়েল–সমর্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছিল, গাজাকে পুনর্গঠিত করে মধ্যপ্রাচ্যের ‘নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্রে’ পরিণত করা হবে। উপত্যকাটির নিয়ন্ত্রণ থাকবে ওয়াশিংটনের হাতে।
গতকাল কায়রোর বৈঠকে পিএর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ‘পরিবেশ অনুকূলে আসার পর’ পশ্চিম তীর, গাজা এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দেন। পূর্ব জেরুজালেমে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় দুই দশক আগে।
আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস মিসরের প্রস্তাবের প্রশংসা করেছে। নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।
আরব নেতাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা সমর্থনের কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে যুদ্ধপরবর্তী গাজা নিয়ে এখন পর্যন্ত নিজেদের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল নানা সময়ে বলেছে, গাজা ও পশ্চিম তীরের শাসন তাদের হাতে থাকবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের সময় এই দুটি অঞ্চলকে ইসরায়েল দখল করেছিল।
ফিলিস্তিন ও আরব নেতাদের একাংশ বারবার দাবি জানিয়ে আসছে, জেরুজালেমকে রাজধানী করে গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল সরকার ও ইসরায়েলের অধিকাংশ রাজনীতিবিদ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে।
গত শনিবার (১ মার্চ) ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম দফার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তা নবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে গাজায় সর্বাত্মক অবরোধ জারি করেছে ইসরায়েল। ফলে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। খাদ্য সরবরাহ স্থগিত করায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের সমালোচনা করেছে। সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এর মাধ্যমে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।
মিসরের প্রস্তাবে গাজা পুনর্গঠনের জন্য আগামী পাঁচ বছর, তথা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। পুনর্গঠনের প্রথম পর্বে অবিস্ফোরিত জঞ্জাল ও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হবে। ইসরায়েলের বোমা হামলা ও সামরিক অভিযানের কারণে গাজায় পাঁচ কোটি টনের বেশি ধ্বংসস্তূপের সৃষ্টি হয়েছে।
কায়রোর বৈঠকে অধিকাংশ আরব দেশ অংশ নিলেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি পাঠায়নি। অথচ গাজা পুনর্গঠনের জন্য এসব ধনী দেশের অর্থসহায়তা দরকার। অন্যদিকে ‘ভারসাম্যহীন ও ত্রুটিপূর্ণ’ মন্তব্য করে আরব নেতাদের বৈঠক বর্জন করেছেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রপতি আবদেলমাজিদ তেব্বুন।
জর্ডানের কর্মকর্তারা সিএনএনকে বলেছেন, কায়রোর প্রস্তাব কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে উত্থাপন করা হবে।
![]() |
| দক্ষিণ গাজায় বাজার করছেন এক ফিলিস্তিনি নারী। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে উপত্যকাটিতে নিত্যপণ্যের দাম এখন বেড়েছে, ২১ জানুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে আলোচনা: দায়ীদের সুবিচার নিশ্চিতের তাগিদ ফলকার টুর্কের
বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক আলোচনায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভ–সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকার তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন নিয়ে এক আলোচনায় ফলকার টুর্ক এই তাগিদ দেন। তিনি এদিন ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। পরে তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ওই আলোচনায় প্যানেল আলোচক স্বেচ্ছাসেবী ও স্থপতি ফারহানা শারমিন (ইনু) এবং গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বড় ভাই মীর মাহমুদুর রহমান দীপ্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ওপর জোর দেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণের চ্যালেঞ্জটা বেশ কঠিন। তবে সব রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়সহ সবার প্রত্যয় জোরালো থাকলে জটিল পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বকে বিরাট আশাবাদের গল্প শোনানোর সুযোগ রয়েছে। তাই বাংলাদেশের সামনে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা গ্রহণ করে সেটা কাজে লাগাতে সবার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা উচিত।
প্রসঙ্গত গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে অভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রতিবেদন জেনেভা থেকে প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগের সহিংস কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিগত সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পদ্ধতিগতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ছিল। ক্ষমতায় থাকার জন্য শেখ হাসিনা সরকার ক্রমাগত নৃশংস পদক্ষেপ নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল। বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের বেশির ভাগই গুলিতে নিহত হন।
জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে আলোচনার শুরুতে ফলকার টুর্ক প্রতিবেদন নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা করেন। এরপর বক্তব্য দেন বাংলাদেশের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। পরে আলোচনায় অংশ নেন ফারহানা শারমিন ও মীর মাহমুদুর রহমান (দীপ্ত)। নির্ধারিত আলোচকদের বক্তব্যের পর উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁদের প্রশ্ন করেন। আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
আলোচনায় ফলকার টুর্ক ছাত্র–জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার ও দলটির সদস্যদের নির্যাতন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে বিগত ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদেরসহ পুলিশ ও সংখ্যালঘুদের ওপর গুরুতর প্রতিশোধমূলক সহিংসতার কথা উল্লেখ করেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জবাবদিহি নিশ্চিতের বিষয়টি তুলে ধরেন ফলকার টুর্ক। তিনি বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ (আইসিটি) বাংলাদেশের আদালতে অনেক মামলা করা হয়েছে। তবে এসব মামলায় সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর জাতিসংঘ একাধিকবার মৃতু৵দণ্ডের বিধানটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে তুলে ধরেছে। এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ চাইছে মৃত্যুদণ্ড প্রথা যেন বাতিল হয়।
জবাবদিহি নিশ্চিতের বাইরেও ক্ষত নিরাময়, সত্য বলা, পুনর্মিলন, জুলাই–আগস্ট স্মরণ ও সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়ার জন্য বলেন হাইকমিশনার। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জন্য অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফলকার টুর্ক বলেন, ‘ধর্মীয় বা জাতিগত নিজেদের মধ্যে যে মতানৈক্যই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ একটি দেশ, সবারই নাগরিকত্ব বাংলাদেশি, আমার মনে হয়, সংস্কারচেষ্টার মাধ্যমে এখন এ চেষ্টাই চলছে। ফলে আমাদের সবাইকে সংস্কার কার্যক্রমকে সহযোগিতা করতে হবে।’
এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় মানবাধিকারকে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও আশা প্রকাশ করেন ফলকার টুর্ক। তিনি বলেন, ‘এটি সব বাংলাদেশির জন্য একটি বিরল সুযোগ, তাঁরা যে গ্রুপ বা কমিউনিটিরই হোক না কেন। এটাই মানবাধিকার দৃষ্টিকোণে একটি বড় আশা। অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে আলোচনায় তিনিও বলেছিলেন, ট্রানজিশন ও সংস্কার মানবাধিকারকে সামনে রেখে করা হচ্ছে।’
এটা কঠিন কাজ উল্লেখ করে ফলকার টুর্ক বলেন, ‘এটা সহজ নয়। এটাই সঠিক প্রচেষ্টা। এ সংস্কার প্রচেষ্টাকে আমাদের সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশ জুলাই-আগস্ট গণহত্যার নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য আইসিটি আইনটি ইতিমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রশ্নে আইন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে। যাদের ওপর এসব সহিংসতা হয়েছে, তারা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বহু বছর ধরে হত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার তাদের ওপর চালানো সহিংসতার নিন্দা জানায় উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, এদের বেশির ভাগই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ, আর কিছু ছিলেন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ফলে এটিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বলায় আপত্তি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টার বক্তব্যের শেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বলপ্রয়োগের ভিডিও তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। এরপর জুলাই–আগস্টে আহত ব্যক্তিদের সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবক স্থপতি ফারহানা শারমিন (ইনু) সে সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আর গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বড় ভাই মীর মাহমুদুর রহমান ভাই হারানোর বিচারের দাবি জানান।
ফারহানা শারমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের জন্য অপরিহার্য বিষয়টি হচ্ছে, প্রথমেই শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের যথাযথভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচার করা দুটিই পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়। মীর মাহমুদুর রহমান মুগ্ধ বলেন, যারা ট্রিগারে আঙুল চেপেছেন শুধু তাঁরাই নন, যাঁরা গুলি করার নির্দেশদাতা ছিলেন তাদের বিচার করতে হবে।
![]() |
| সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বুধবার বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভ–সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকার তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনায় সংস্থার মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ সামনে আসছে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোর মতভিন্নতা by সেলিম জাহিদ
জামায়াত মনে করে, ‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ কীভাবে হবে, সেটার কোনো ব্যাখ্যা আসেনি। এই পদক্ষেপ বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন মনে করে, সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার অনুমোদনে ‘গণপরিষদ’ হতে পারে। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায়ও তাদের আপত্তি নেই। তবে এসব করতে গিয়ে যাতে কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে এ পর্যন্ত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্বের সঙ্গে জামায়াতসহ ইসলামপন্থীদের কোনো বিষয়ে তেমন মতবিরোধ দেখা যায়নি। এখন ‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ নিয়ে বিতর্কে কিছুটা মতভিন্নতা সামনে আসছে।
ছাত্র-তরুণদের নতুন দল এনসিপির নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন করে আর কোনো ফ্যাসিস্ট যাতে তৈরি হতে না পারে, সে জন্য সংবিধানসহ রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। সংবিধানের ব্যাপক সংশোধনের লক্ষ্যে গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। এ লক্ষ্যে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করতে হবে। তাঁদের মতে, প্রথম রিপাবলিক হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন। মুক্তিযুদ্ধের পর যে সংবিধান প্রণীত হয়েছে, সেই সংবিধানে কাঠামোগত ত্রুটির কারণে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী কর্তৃত্বপরায়ণ ও ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে। এই কাঠামো বারবার সংশোধন করা হয়েছে বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতে। এখন মৌলিক পরিবর্তনগুলো করতে হলে সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন প্রয়োজন। এটিকেই তারা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ বলছেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তারা কিছু শব্দ (গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক) বলেছে, কিন্তু এগুলো কীভাবে হবে তার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে এখনকার পরিস্থিতিতে এসব বিষয় নতুন করে বিতর্ক তৈরি করবে, নির্বাচনকে বিলম্বিত করবে এবং দেশকে কিছুটা অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যেতে পারে।’ জামায়াতের এই নেতা মনে করেন, এমন পরিস্থিতির উদ্ভব এড়াতে জরুরি কিছু সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান সমাধানের উত্তম পন্থা হতে পারে।
‘গণপরিষদ’ গঠন ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড রিপাবলিকের নজির আছে। সুতরাং এটা হতে পারে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন সংবিধান সংশোধনের যে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে তারা সংবিধানের আমূল পরিবর্তন চেয়েছে। সেটা করতে হলেও ‘গণপরিষদ’ বা ‘গণভোট’ প্রয়োজন হবে। সে বিবেচনায় তারা এ বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত। তবে এসব করতে গিয়ে যাতে নতুন করে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সে ব্যাপারেও তারা সতর্ক। দলটির অবস্থান, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে।
ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণহত্যাকারীদের বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন; তিনটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমরা যেটা দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি যা চায়, তার বাইরে কিছুই হয় না। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে চাইলাম, বিএনপির এর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমরা সংস্কার চাইলাম, বিএনপি চায় দ্রুত নির্বাচন। এখন সংস্কার আলোচনাতেই নেই। আমরা দেখছি, সবকিছুতে বিএনপির চিন্তাই প্রতিফলিত হচ্ছে।’
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘এ জন্যই আমরা বারবার বলছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ হয়নি। প্রশাসন নিরপেক্ষ হয়নি। তার জন্যই সংস্কার দরকার।’
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বাইরে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটি ছাত্রদের ‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর মতো তাত্ত্বিক বিষয়ে সম্পৃক্ত হতে চায় না। জমিয়তের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তাঁরা প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান চান। বরং দলটি ছাত্রদের সাম্প্রতিক তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা নতুন দল আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে আমরা তাদের দলীয় অবস্থানে রাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা চাই না। অন্যান্য দল যেভাবে দল পরিচালনা করে, তারাও সেভাবে করবে। তাদের জাতি গ্রহণ করলে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এক নয়। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের আলাদা স্বকীয়তা আছে। এখানে (ছাত্রদের) রাষ্ট্র যাতে পৃষ্ঠপোষকতা না করে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২২ অক্টোবর ‘সেকেন্ড রিপাবলিকের’ বিষয়টি প্রথম আলোচনায় এনেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। সেদিন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা ও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে ‘বিপ্লবী ছাত্র-জনতার গণজমায়েত’ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। তার মধ্যে একটি ছিল জুলাই বিপ্লবের চেতনার আলোকে ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে নতুন করে প্রক্লেমেশন অব রিপাবলিক ঘোষণা।
জুলাই-অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা নতুন দল গঠন করে গণপরিষদ গঠন ও সেকেন্ড রিপাবলিকের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। গণপরিষদ ও সেকেন্ড রিপাবলিকের চিন্তাকে নিজেদের পাণ্ডিত্য জাহির করার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র আছে বলেও সন্দেহ করছেন দলটির নেতারা।
অবশ্য এ ক্ষেত্র ভিন্নমত জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, ‘এসব কাজ (গণপরিষদ ও সেকেন্ড রিপাবলিক) করতে গিয়ে নির্বাচন প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কার যে বিষয়টা, সেটাকে আমি বড় ধরনের কোনো সমস্যা মনে করি না। সমস্যা যেটা, সেটা হলো বর্তমান সরকারের নানা দুর্বলতা দৃশ্যমান। এটা দূরে করে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে গিয়ে নির্বাচন যদি একটু বিলম্বিতও হয়, সেটাকে দেশের স্বার্থে মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত।’
![]() |
| রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলটির নেতারা গণপরিষদ নির্বাচন ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবেন বলে ঘোষণা দেন। ফাইল ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেলেনস্কির প্রশংসা করলেন ট্রাম্প: মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র হট্টগোল ওয়াকআউট
ট্রাম্পের প্রতিবাদ জানিয়ে ডেমোক্রেট অনেক সদস্য স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরেন। ওদিকে ইউক্রেনে শান্তিচুক্তিতে প্রস্তুত বলে শক্তিশালী সিগন্যাল দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ওভাল অফিসে শোডাউন পর্বের পর আলোচনার টেবিলে ফিরতে প্রস্তুত জানিয়ে ট্রাম্পকে চিঠি লিখেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার এমন অবস্থানের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেসে ম্যারাথন ১০০ মিনিট ভাষণ দেন ট্রাম্প। তাতে তিনি জেলেনস্কির এমন সাড়া দেয়ার ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। বলেছেন, জেলেনস্কি তার সঙ্গে একটি চুক্তি করার কথা বলেছেন। এই চুক্তিবলে ইউক্রেন থেকে বিরল খনিজ পদার্থ অনুসন্ধান করার অনুমতি পাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান দেশগুলোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। বলেন, তারা ইউক্রেনকে সহায়তা করার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে রাশিয়ার তেলের পেছনে। বিস্তৃত ইস্যুতে দেয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভূয়সী প্রশংসা করেন ইলন মাস্কের নেতৃত্বে পরিচালিত ডজ-এর। মার্কিনিরা বর্তমানে যেসব সমস্যা মোকাবিলা করছে তার জন্য তিনি পূর্বসূরি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেন। ২০শে জানুয়ারি শপথ নিয়ে ক্ষমতায় আসার ৪৩ দিন অতিক্রম হয়েছে। এ সময়ে কী কী কাজ করেছেন তার বর্ণনা দেন ট্রাম্প। এ সময় প্রতিশ্রুতি দেন মহিলাদের স্পোর্টস থেকে ট্রান্সজেন্ডারদের নিষিদ্ধের পরিকল্পনা দ্বিগুণ করেছেন। এদিন পানামা ক্যানেল দখল করে নেয়ার পরিকল্পনা নতুন করে তুলে ধরেন। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র কিনে নেবে- এমন অবস্থান থেকে তাকে সরে আসতে দেখা যায়। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন সেখানে বসবাসকারী মানুষ। ট্রাম্প প্রথম ৬ সপ্তাহ হোয়াইট হাউসে ঘূর্ণিঝড় তুলে দিয়েছেন। তবে তাকে ছেড়ে দেননি বিরোধী দল ডেমোক্রেট সদস্যরা। তিনি মিথ্যা কথা বলেছেন বলে তাদের অভিযোগ। গত শুক্রবার জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক দৃশ্যত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এর পরপরই ইউক্রেনকে দেয়া সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, ইউক্রেন থেকে বিরল খনিজ পদার্থ অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেলেনস্কি-ট্রাম্প উত্তেজনার পর তাও মৃত্যুদশায় উপনীত হয়। কংগ্রেসে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, কিয়েভকে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলার পাঠানো নিয়ে তিনি সন্দিহান ছিলেন। এ সময় প্রশ্ন রাখেন, ডেমোক্রেটরা কি চায় যে, এই যুদ্ধ আরও ৫ বছর চলতে থাকুক। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, সেটা হলে কী বিষয়টি ভালো হবে? এই উন্মাদনা বন্ধ করার সময় এসে গেছে। এখন সময় হলো হত্যা বন্ধ করা। এই কাণ্ডজ্ঞানহীন যুদ্ধ বন্ধের সময় এখন। যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান, তাহলে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এটা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তিনি ‘সিরিয়াস আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। বলেন, ‘এরই মধ্যে শক্তিশালী সিগন্যাল পেয়েছেন যে, রাশিয়া শান্তির জন্য প্রস্তুত’। ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি চিঠি পেয়েছি। পরে তিনি জেলেনস্কির চিঠির বিষয় প্রকাশ করে বলেন, টেকসই একটি শান্তিতে পৌঁছাতে যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার টেবিলে বসতে প্রস্তুত ইউক্রেন। ইউক্রেনের চেয়ে শান্তি অন্য কেউ বেশি চায় না। খনিজ ও নিরাপত্তা চুক্তির কথা বিবেচনা করে যেকোনো সময় চুক্তি স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত ইউক্রেন। ট্রাম্প বলেন, এই চিঠি পাঠানোর জন্য আমি তার (জেলেনস্কি) প্রশংসা করি। তবে ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ ইউরোপ খরচ করছে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনতে।
উল্লেখ্য, ওভাল অফিসে উত্তেজনার পর শান্তি সমঝোতায় উদ্যোগ নিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। কিন্তু ট্রাম্প এখনো শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। ডেমোক্রেট প্রতিনিধি আল গ্রিনের বিতণ্ডার কারণে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয় কংগ্রেসে। এরপর তাকে যখন সেখান থেকে বের করে নেয়া হয় তখন বক্তব্য দেয়া শুরু করেন ট্রাম্প। তার বক্তব্যের সময় বার বার প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ছেদ ঘটানো এবং তাকে ক্ষুব্ধ করার জন্য বেশ কয়েকবার প্রতিবাদের কৌশল অবলম্বন করেন ডেমোক্রেটরা। এতে পাত্তা না দিয়ে ট্রাম্প তার বক্তব্যে অটল ছিলেন। হাউস চেম্বারে স্পিকারের রোস্ট্রাম থেকে ট্রাম্প ঘোষণা করেন- আমেরিকা ইজ ব্যাক। এ সময় রিপাবলিকান সদস্যরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। তারা ‘ইউএসএ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটরা নীরবে বসে থাকেন। তাদের কারও কারও কাছে প্রতিবাদের বিভিন্ন প্রতীক দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র যখন সংকটজনক অবস্থানে, তখনই প্রেসিডেন্ট এই ভাষণ দিয়েছেন। মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাপনের খরচ এখনো অনেক বেশি। বাণিজ্য যুদ্ধের ভয় আছে। দেশ যেদিকে এগিয়ে আছে তাতে এক জরিপে মার্কিনিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গিয়েছে। উপরন্তু সরকার আগামী ১৪ই মার্চ শাটডাউনের মুখোমুখি হবে, যদি এদিন আইনপ্রণেতারা একটি বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হন। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির বিষয় হাউস চেম্বারে তোলা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই কংগ্রেসে প্রতিবাদ শুরু করেন ডেমোক্রেটরা। তারা ট্রাম্পকে এদিন বিব্রত করতে কাজ করেছেন। সরাসরি টেলিভিশনেও তাদেরকে এমনটা করতে দেখা গেছে। ট্রাম্প তার পথ দিয়ে অতিক্রমের সময় নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্রেট প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যান্সবারি একটি লেখা তুলে ধরেন। তাতে লেখা- এটা কোনো স্বাভাবিক অবস্থা নয়। ক্যামেরায়ও এই চিহ্ন দেখা গেছে। এক পর্যায়ে টেক্সাসের রিপাবলিকান প্রতিনিধি ল্যান্স গুডেন তা সরিয়ে নেন।
ট্রাম্প বক্তব্য শুরু করার ৫ মিনিটের মধ্যে ডেমোক্রেটরা প্রতিবাদে সোচ্চার হন। তাদের একজনকে ক্যাপিটল সিকিউরিটি হাউস চেম্বার থেকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নেন। রিপাবলিকান আল গ্রিন প্রতিবাদে স্থির থাকেন। তার হাতের বেত প্রেসিডেন্টকে দেখিয়ে দোলাতে থাকেন। তিনি ট্রাম্পকে দুয়োধ্বনি দিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকেন- মেডিকএইড কর্তনের কোনো ম্যান্ডেট আপনার নেই। এ সময় ‘ইউএসএ, ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে তার কণ্ঠকে হারিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন রিপাবলিকানরা। স্পিকার মাইক জনসন চেম্বারের সভাপতিত্ব করেন। চেষ্টা করেন হাউসে শৃঙ্খলা ফেরাতে। তিনি বলেন, সদস্যদেরকে হাউসের নির্দেশনা সমুন্নত ও ডেকোরাম সুরক্ষিত রাখতে। আর কোনো বিঘ্ন ঘটাবেন না। এটা আপনাদের জন্য একটি সতর্কতা। তার এ কথা শেষ হতেই রিপাবলিকানরা উল্লাস করতে থাকেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ডায়াসে গিয়ে দাঁড়ান এবং হাততালি দেন।
কিন্তু আল গ্রিন তার ক্ষোভ প্রকাশ বন্ধ না করলে জনসন বলেন, মিস্টার গ্রিন, আপনার সিটে বসুন। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্দেশ দেন। বলেন, এই ভদ্রলোককে চেম্বার থেকে সরিয়ে দিয়ে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য সার্জেন্টদের নির্দেশ দিচ্ছে চেয়ার। এরপরই নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা চেম্বার থেকে বের করে নেন আল গ্রিনকে। রিপাবলিকানরা উল্লাস করে চিৎকার করতে থাকেন- তাকে বের করে নাও। এক পর্যায়ে ডেকোরাম মেনে চলার অনুরোধ করেন জনসন। ঘটনা যা ঘটে গেছে তা নীরব হয়ে দেখছিলেন ট্রাম্প। তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, ধন্যবাদ। এটা বলেই তিনি বক্তব্য শুরু করেন। ওদিকে হাউস চেম্বারের বাইরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আল গ্রিন। তিনি বলেন, এটাই এর মূল্য। এই শাস্তি আমি মেনে নেবো। জনগণের জানা উচিত যে, এই প্রেসিডেন্ট মেডিকেয়ার, মেডিকএইড এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির বিরুদ্ধে তার ইচ্ছামতো অর্থ কর্তন করবেন। আমাদের মতো কিছু মানুষ আছেন, যারা প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। ডিমের উচ্চমূল্যের জন্য যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করছিলেন তখনই ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জেসমিন ক্রোকেটের নেতৃত্বে অনুসারী প্রতিনিধি অ্যান্ড্রেয়া সালিনাস, ম্যাক্সিন ডেক্সটার চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় তারা কালো টি-শার্ট পরেন। এর পেছনে ইংরেজিতে লেখা ‘রেজিস্ট’। এদিন সন্ধ্যার আরও পরে ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই ওয়াকআউট করেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেই অন্য ডেমোক্রেটরা বিভিন্ন রকম ‘সাইন’ প্রদর্শন করতে থাকেন। তাতে লেখা ছিল ‘মাস্ক চুরি করে’ এবং ‘সেভ মেডিকএইড’। ইলিনয়ের ডেমোক্রেট প্রতিনিধি ডেলিয়া রমিরেজ একটি টি-শার্ট পরেন তার ব্লেজারের নিচে। ওই টি-শার্টে লেখা ছিল- ‘নো কিং। নো ক্যু’। চূড়ান্ত প্রতিবাদ এবং ডেকোরাম লঙ্ঘন করে হাউস ও সিনেট ডেমোক্রেট নেতারা এসকর্ট কমিটিতে যোগ দেয়া ত্যাগ করেননি। এসকর্ট কমিটি সাধারণত প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। এটি দ্বিপক্ষীয় একটি বিষয়। ট্রাম্পের নীতি, অতিরিক্ত নির্বাহী ক্ষমতার ব্যবহার এবং সরকারে কর্তন পদ্ধতি নিয়ে ডেমোক্রেটদের সঙ্গে অনৈক্য সৃষ্টি হয় ট্রাম্পের। তিনি চেম্বারে প্রবেশ করতেই বহু ডেমোক্রেট ট্রাম্পকে তাদের পশ্চাৎদেশ প্রদর্শন করেন।
তবে ট্রাম্প বলতে থাকেন, কংগ্রেসে এটা আমার পঞ্চম বক্তব্য। আরও একবার আমার সামনে ডেমোক্রেটদের দেখতে পাচ্ছি। বুঝতে পারছি তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে অথবা তাদের মুখে হাসি ফোটাতে অথবা তাদের প্রশংসা করার মতো কোনো কথা বলার নেই আমার। তাদের জন্য কিছুই করতে পারবো না। আমি শুধু সবচেয়ে বিপর্যয়কর রোগগুলোর প্রতিকার খুঁজতে পারবো। যে রোগ পুরো জাতিকে শেষ করে দিতে পারে। অপরাধকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণহত্যায় শেখ হাসিনার রাজনীতির পরিসমাপ্তি by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিভিন্ন গোষ্ঠী, সংগঠন এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রতিবেদনটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বগুড়া, সিলেট ও গাজীপুর- এই আট শহরে অনুসন্ধান চালায় জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দল। মূলত যেসব স্থানে বেশি মাত্রায় বিক্ষোভ হয়েছিল, সেসব স্থানে সরজমিন কাজ করে জাতিসংঘের দলটি। প্রতিবেদন তৈরিতে অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঘটনার সাক্ষী ব্যক্তিদের নিয়ে ২৩০টির বেশি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আরও ৩৬টি সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। এই ৩৬ জনের মধ্যে সরকারের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারাও আছেন, যারা ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
তৎকালীন সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা, আওয়ামী লীগের সহিংস গোষ্ঠী ও সংগঠন পরিকল্পিতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিল। যার মধ্যে রয়েছে কয়েকশ’ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, হাজার-হাজার বিক্ষোভকারীকে গুরুতরভাবে শারীরিক নিপীড়ন ও বলপ্রয়োগ, ব্যাপকহারে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতনসহ অন্যান্য ধরনের নিপীড়ন। ওএইচসিএইচআর যুক্তিসঙ্গত কারণে বিশ্বাস করে যে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও নির্দেশনায় এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঘটেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ই আগস্টের আগে ১৮ই জুলাই সন্ধ্যায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি ‘কোর কমিটি’র বৈঠক হয়, যেখানে পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবি প্রধান ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে বিজিবি কমান্ডারকে আরও দ্রুত প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেন।
প্রতিবেদন তৈরিতে যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে- তাদের অনেকেই জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের একদিন পরেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকেন। যেখানে তিনি বিক্ষোভ দমনের জন্য বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে বলেছিলেন এবং বিশেষভাবে ‘বিক্ষোভের মূলহোতা’ বা ‘গণ্ডগোল সৃষ্টিকারী’দের গ্রেপ্তার, হত্যা এবং হত্যার পর লাশ লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ সম্পর্কিত বিষয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত এবং প্রমাণিত অপরাধী। দেশের নিরস্ত্র মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে ক্ষমতায় থাকার বাসনা শেখ হাসিনাকে এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বিশ্বমানবতার সম্মুখে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত প্রমাণিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার রাজনীতির সমাপ্তি ঘটে গেছে। ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার স্বার্থে, অবৈধ ক্ষমতা দখলে রাখার স্বার্থে এবং ক্ষমতার উন্মাদনায় অনুসারী ঘাতকদের দুষ্কর্মের নির্দেশদাতা হয়ে শেখ হাসিনার রাজনীতি এবং বেঁচে থাকা দু’টোই জটিল হয়ে পড়েছে।
এককালে গণতন্ত্রের মানসকন্যা, মানবতার জননী নামধারী শেখ হাসিনা নিরস্ত্র জনগণকে হত্যা করার জন্য রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সঙ্গে দলকেও যুক্ত করে ফেলে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশের সহিংস প্রচেষ্টাকে সাহায্য করতে, অভিযান শুরুর আগেই সশস্ত্র আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা পুলিশের সঙ্গে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল অথবা পুলিশ ফোর্সের পেছনে থেকে আক্রমণে অংশ নিয়েছিল। পুলিশের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা লোকজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালিয়েছিল, বিক্ষোভকারীদের আটক করেছিল এবং সংঘটিত ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল।
প্রতিবেদন তৈরিতে ওএইচসিএইচআরকে কিছু পুলিশ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের ৯৫ জন সদস্যের নাম এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল তার বিস্তারিত সরবরাহ করে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের মতে, এই ব্যক্তিরাই বিক্ষোভের সময় সহিংস হামলায় ব্যবহারের জন্য তাদের অনুগতদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। অস্ত্র সরবরাহ যাদের করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ১০ জন তৎকালীন সংসদ সদস্য, ১৪ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, ১৬ জন যুবলীগ নেতা, ১৬ জন ছাত্রলীগ নেতা।
নিহতদের মধ্যে ১২১৩ শতাংশ শিশু বলে জানা গেছে। পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী শিশুদের টার্গেট করে হত্যা করেছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে পঙ্গু করেছে, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, অমানবিকভাবে আটক-নির্যাতন এবং অন্যান্য ধরনের নিপীড়ন করেছে। বিশেষ করে, শুরুর দিকে বিক্ষোভের সম্মুখসারিতে থাকা নারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা মারাত্মকভাবে আক্রমণ করেছে।
গণহত্যায় অভিযুক্ত হয়েও শেখ হাসিনা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন, গুরুতর মানবতা লঙ্ঘনের প্রশ্নে তিনি কতো বড় অপরাধী। তিনি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তার নির্দেশে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে পাখির মতো গুলি করে ছাত্র-জনতা হত্যা করেছে। কীভাবে সংঘটিত হয়েছে মর্মান্তিক পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ! বিপজ্জনক শেখ হাসিনার পক্ষে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য আর কিছুই করণীয় নেই। হাসিনার সামনে এখন দু’টি পথ খোলা আছে- হয় আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করা, নয় তো বিদেশে পালিয়ে থাকা। একদিন এদেশের জনগণ তার জীবন রক্ষা করেছে এবং মৃত্যুর কবল থেকে বাঁচিয়েছে। আর পরবর্তীতে তিনি নিজেই দেশের জনগণকে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। এটাই তার কৃতজ্ঞতাবোধ! যে আওয়ামী লীগ তাকে দলের সভাপতি করেছে, সেই দলকেই গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করার রসদ জুগিয়েছে। সব সময় তিনি ক্ষমতা ধরে রাখা এবং চিরস্থায়ী করার জন্য নিজের স্বার্থ পূরণের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছেন। সময় সুযোগ পেলেই পিতা হত্যার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ও দলের প্রতি ঘৃণার গরল ছড়িয়ে দিতেন।
সর্বাত্মক স্বার্থান্ধ শেখ হাসিনার সামনে কেবল নিকষ অন্ধকার। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ইত্যাদির ব্যাপক মিথ্যাচারের বয়ান খান খান হয়ে গেছে। ’২৪-এর জুলাই গণহত্যা হচ্ছে বর্বরতার নাম। গণহত্যায় অভিযুক্তরা বিষাক্ত বাস্তব অবস্থানে বাইরের রূপটা পরিবর্তন করে থাকে। সব পুরনো সাপগুলো খোলস ছাড়ে, ভবিষ্যতকে উপহাস করে। নরহত্যার তাণ্ডবকে শেখ হাসিনা এখনো গৌরবময় মনে করে। হত্যার নির্দেশ কার্যকর হলে আত্মপ্রসাদ লাভ করে নিজেকে অভিনন্দন জানাতেন তিনি। নির্মম-নিষ্ঠুর হত্যার জন্য, গুলিতে বুক ঝাঁঝরা করার জন্য, আয়না ঘরের দুর্দশার জন্য নিজেকে তিনি অভিশপ্ত মনে করেন না। অনুশোচনার লেশমাত্রও তার মাঝে নেই। রাষ্ট্রক্ষমতাই একমাত্র আরাধ্য।
শেখ হাসিনা এসব করেছে সজাগ ও সচেতনভাবে। তিনি নিজেই নিজেকে এবং দলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছেন। অথচ সংকটের এই গভীর সময়েও বিব্রত এবং সংযত হওয়ার বিশেষ চারিত্রিক গুণটি আয়ত্ত করতে পারছেন না, এখনো মনে হয় ক্ষমতার মসনদে বিচরণ করছেন। এখনো কথার মালা জপতে-জপতে অতীতের মতোই কথা বলেন। কোনো অনুতাপ নেই, নেই কোনো আত্ম-জিজ্ঞাসা। এখনো সত্য আর গণহত্যাকে অস্বীকার করে বক্তব্য দিয়ে তিনি মানুষ হত্যার অধিকার ফিরে পেতে চাচ্ছেন। এ যেন অক্ষমের এক আস্ফালন। দুর্ভাগ্যের কবলে পড়ে পলায়ন করেও ন্যূনতম শিক্ষা শেখ হাসিনা গ্রহণ করেননি। তার ললাটে গণহত্যার সিলমোহর লেগে গেছে। ইতিহাসে গণহত্যাকারী হিসেবে শেখ হাসিনার স্থান নির্ধারিত হয়ে গেছে। অনন্তকালের জন্য ইতিহাসের মর্মরপ্রস্তরে তার নাম অমোচনীয় কালিতে খোদাই হয়ে গেছে। এখন তাকে ভারতের করুণার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়, তবু আত্মম্ভরিতা পরিত্যাগ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দল ১৯৭১ সালে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের বর্বর ও নৃশংস যুদ্ধ ও ভয়াবহ হত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই আওয়ামী লীগ ২৪-সালে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত। গণহত্যাকারীরা বিশ্বব্যাপী মানুষের কাছে উপহাস আর বিদ্রূপের পাত্র। এ ছাড়া গণহত্যাকারীদের আর কোনো উপায় থাকে না। সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্ব-রাজনীতির কেউই তাদেরকে গ্রহণ করে না। নিষ্ফল আক্রোশে গর্জন করে আর লাভ নেই। শেখ হাসিনার সব আশা চিরদিনের মতো তলিয়ে যাবে নিশ্চিহ্নভাবে। নিজের কৃতকর্মের পাপে শেখ হাসিনা এখন চূড়ান্ত দুর্ভাগ্যের প্রান্ত সীমায়। নিশ্চয়ই একদিন আত্মপীড়নের ভয়াবহ যন্ত্রণা তাকে অতিক্রম করতে হবে এবং হাজার-হাজার শহীদের মায়ের আহাজারি শেখ হাসিনার অস্তিত্বের ভিত্তিভূমিটাকে কাঁপিয়ে দেবে। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার বাসনায় মানুষ হত্যার রাজনীতি তাকে গভীর অতলান্তিক খাদের অন্ধকারে ফেলে দিয়েছে। পৃথিবীতে সূর্য কিরণ দিতে থাকবে কিন্তু শেখ হাসিনার আলো চিরতরে নিভে গেছে। বার্ধক্যের এই জীবন সায়াহ্নে এসে মৃত্যুর হাতছানি দেখেও শেখ হাসিনার বিবেক জাগ্রত হবে-এমন আশা আর করা যায় না। এরপরেও আওয়ামী লীগ বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ধরে রাখা কতো অমর্যাদাকর। বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদ ও গণহত্যাকারীর বিরুদ্ধে সুরক্ষিত দুর্গে পরিণত হয়ে অপরাজেয় হয়ে উঠেছে।
জুলাই গণহত্যার শিকার যারা, তারা মৃত্যুর থেকে মহিয়ান ও বলবান। তারা নির্বিচার গুলির সামনে দাঁড়িয়ে উপহাস করেছে স্বয়ং মৃত্যুকে। তাদের উজ্জ্বলতম জাতীয় গৌরব ইতিহাসের পাতায়-পাতায় ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লক্ষ-কোটি জনতা চিরকালই এগিয়ে যাবে অকুণ্ঠ ও নির্ভীকভাবে। প্রজাতন্ত্রের মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য অসংখ্য প্রাণ বরণ করে নেবে গৌরবময় মৃত্যু। মৃতদের উপস্থিতি এবং জীবিতদের প্রেরণা বিজয়-গৌরবে অজেয় করে তুলবে আমাদের এই মাটিকে। প্রজাতন্ত্র দীর্ঘজীবী হোক।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
faraizees@gmail.com
সূত্র- জনতার চোখ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় খাদ্য সংকট তীব্র
১৯শে জানুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুরুর পর থেকে গাজায় প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। শনিবার চুক্তির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এদিকে হামাসের বিরুদ্ধে সাহায্য সামগ্রী চুরি করে তা দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের তরফ থেকে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হামাস। খান ইউনিসের বাসিন্দা আবু কায়েস আরিয়ান বলেন, রোববার রাত থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পণ্যের মূল্য দুই থেকে তিন দিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য বাসিন্দারা জানান, রাতারাতি এক কেজি টমেটোর মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ১০ শেকেলে পৌঁছেছে। শসার মূল্য পৌঁছেছে ১৭ শেকেলে।
ইসসাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, ক্ষুধা নিবারণের জন্য আমাদের এক কেজি টমেটো ক্রয় করার সামর্থ্যও নেই। তিনি আরো বলেন, মানুষ খাদ্য ক্রয় করতে পারছে না। কারণ তাদের কাছে নগদ অর্থ নেই। জাবালিয়ার ধ্বংসস্তূপের মাঝে খাদ্য বিক্রয় করছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসা মেইত নামে গাজা শহরের এক বাসিন্দা বলেন, এমনিতেই দীর্ঘদিন যাবত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঘাটতি ছিলো। আমরা এটা ভেবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলাম যে, সবকিছুর দাম পুনরায় বৃদ্ধি পাবে। আর ঠিক সেটিই হলো। তিনি আরো বলেন, ত্রাণ আটকে দেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এই দুর্মূল্যের বাজারে আমরা কিভাবে বাচ্চাদের লালন পালন করবো - প্রশ্ন করেন তিনি। কেউ কেউ অবশ্য দাম বৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীদেরকে দায়ী করছেন। তারা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর অভিযোগ এনেছেন। ব্যবসায়ী মাহমুদ আবু মোহসেন জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পাইকারী ব্যবসায়ীর পণ্যের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আগে আমি তিন, চার অথবা পাঁচ শেকেলে চিনি ক্রয় করতাম। তবে, বর্তমানে আমাকে তা ছয় শেকেলে ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে আমার সামান্য লাভ হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তন নিষিদ্ধ ও অপরাধমূলক করার আহ্বান ট্রাম্পের
তিনি আরো একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রশাসন কেবল দুটি লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেবে- পুরুষ এবং নারী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে আমেরিকার শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আমেরিকার প্রতিটি শিশুর কাছে আমাদের বার্তা হল, ঈশ্বর যেমন তোমাকে তৈরি করেছেন, ঠিক তেমনই তুমিও নিখুঁত।" তার এই মন্তব্যে রিপাবলিকান সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। ট্রাম্প সমালোচনা করে বলেন যে তিনি তাঁর প্রশাসনের সময়ে ‘ক্রিটিকাল রেস থিওরি’ (সিআরটি) বা জাতিগত বৈষম্যের সমালোচনামূলক তত্ত্বকে স্কুলগুলো থেকে দূর করেছেন।
তিনি বলেন, "আমাদের সমাজে সিআরটি জাতিগত বিভাজনের বিষ ঢেলে দেয়।" সিআরটি সমালোচকরা বলেন এটি সাদা জনগোষ্ঠীকে বর্ণবাদী হিসেবে চিহ্নিত করে, যদিও একাডেমিকরা বলেন এটি সমাজের দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্যগুলিকে চিহ্নিত করে। ট্রাম্পের ভাষণে আরও কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ছিল, যার মধ্যে রয়েছে বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রোগ্রামগুলির "স্বৈরাচার" বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি। ট্রাম্পের এই প্রস্তাব এবং মন্তব্য আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সমাজের একটি অংশ তার এই অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানালেও, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন এবং প্রগতিশীল গোষ্ঠীগুলি এটিকে বৈচিত্র্য ও ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হুমকি হিসেবে দেখছে।
সূত্র : এনডিটিভি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 06
(8)
- থানার সামনে ফিল্মি গ্যাং স্টাইলে ছবি, অতঃপর...
- আরব নেতাদের গাজা পুনর্গঠন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কর...
- জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে আলোচনা: দায়ীদের সুবিচা...
- ‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ সামনে আসছে জামায়াতস...
- জেলেনস্কির প্রশংসা করলেন ট্রাম্প: মার্কিন কংগ্রেসে...
- গণহত্যায় শেখ হাসিনার রাজনীতির পরিসমাপ্তি by শহীদুল...
- গাজায় খাদ্য সংকট তীব্র
- শিশুদের লিঙ্গ পরিবর্তন নিষিদ্ধ ও অপরাধমূলক করার আহ...
-
▼
Mar 06
(8)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)



