Sunday, April 7, 2019

ডিসেম্বরের নির্বাচন গণতন্ত্রের মানদন্ড পূরণে ব্যর্থ: বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা

বাংলাদেশের কাছের বন্ধু হিসেবে বৃটেন স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থাকা এক প্রত্যয়ী বাংলাদেশ দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন সফররত দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। রোববার রাজধানীর এক হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, আমরা প্রাণবন্ত বিতর্ক, উদ্দীপনাময় সুশীল সমাজ এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেখতে চাই। বৃটিশ মন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জানান, ২০২১ সালে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আয়োজনে বৃটেনও অংশীদার হতে চায়। এ সময় মার্ক ফিল্ড বলেন, বন্ধু হিসাবে আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবারও বলছি, এখানে ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয়েছে তা গণতন্ত্রের মানদন্ড পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই নির্বাচনের যত অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে তার পূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বানও পূণর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৃটিশ মন্ত্রী আরও বলেন, তার দেশ দেখতে চায় যে উদীয়মান গণতান্ত্রিক ভূমি বাংলাদেশ অবাধ ও স্পন্দনশীল গণমাধ্যমের দ্বারা জবাবদিহির আওতায় থাকবে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় অর্ধশতকের জন্য তা হবে এক চমৎকার রূপকল্প এবং সেই সাথে এটি হবে দেশটির অবিসংবাদিত সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে ভালো উপায়। বৃটিশ মন্ত্রী জানান, যে কোনো উপায়ে এ সম্ভাবনা অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকতে তার দেশ প্রস্তুত।
দুই দেশের মধ্যকার ইতিহাস ও আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্ককে শক্তিশালী ও গভীর করেছে মন্তব্য করে মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশ গত অর্ধশতকে যে বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে বৃটেন তাকে স্বাগত জানায় এবং আগামীতে এ দেশের আরও অনেক কিছু অর্জনের সম্ভাবনাকে তারা উপলব্ধি করছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা  এইচটি ইমাম  প্রধান অতিথি  ও ড. মশিউর রহমান   গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন পিআরআই’র ড. আহসান মনসুর। উল্লেখ্য, বৃটেনের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করছেন এবং সোমবার তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

ছোট শহরের এক তরুণী যেভাবে রাতারাতি ইউটিউব তারকা বনে গেলেন

চার বছর আগে, পালোমা সান্তোস সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভ্রমণ বা ফ্যাশন নিয়ে পরামর্শ দিয়ে খ্যাতি অর্জনের স্বপ্ন দেখতেন।
তবে সেখানে একমাত্র সমস্যা ছিল: তিনি দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের সেতে লাগোয়াস শহরে থাকেন। যার লোকসংখ্যা মাত্র দুই লাখ সাঁইত্রিশ হাজার। তিনি কখনোই এই শহর ছেড়ে যাননি। এবং এখনও এখানেই থাকেন।
একসময় তিনি এটাও জানতেন না যে মেকআপ কিভাবে দিতে হয়।
কিন্তু এখন তার ইউটিউব চ্যানেলে (পালোমা সিপ্রিয়ানো) মোট সাবস্ক্রাইবার বা অনুসারীর সংখ্যা ছয় লাখ ২৫ হাজার। তবে তিনি সেখানে কোন সমুদ্র সৈকত বা লিপস্টিকের রং নিয়ে কথা বলেন না।
ইউটিউবে ২৫ বছর বয়সী এই তরুণীর আলোচনার বিষয় বিভিন্ন ধরণের নির্মাণ কাজ।
তিনি ব্রাজিলের একমাত্র নারী সদস্য যিনি নির্মাণ বিষয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।
মূলত মা আইভনির পরামর্শেই পালোমা তার মূল পরিকল্পনা পরিবর্তন করে নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য এমন একটি ভিন্ন বিষয়বস্তুকে বেছে নেন। হলুদ হেলমেট পরে মা মেয়ের যাত্রা:
"তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে নিজের মেঝের টাইলস বসানোর একটি ভিডিও আপলোড করা যেতে পারে। প্রথমে শুনে এই আইডিয়াটা খু্ব একটা আকর্ষণীয় মনে হয়নি। তারপরও আমি সেটা পোস্ট করেছিলাম।" বিবিসি নিউজ ব্রাজিলকে বলেছেন পালোমা।
তার সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিও এখন পর্যন্ত ৭৫ লাখ বার দেখা হয়েছে।
ওই ভিডিও টিউটোরিয়ালে তিনি দেখিয়েছিলেন যে কিভাবে একটি দেয়ালে প্লাস্টার করতে হয়।
নির্মাণ শিল্প কেন্দ্রিক ইউটিউব চ্যানেলের হিসেবে ব্রাজিলের অন্য যেকোনো চ্যানেলের তুলনায় পালোমা অনেক বেশি অনুসারী অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
তার ইনস্টাগ্রামেও ফলোয়ারের সংখ্যা ৪৫ হাজারেও বেশি।
তার চ্যানেলে অন্যান্য ভিডিওগুলোয় ধাপে ধাপে ডিআইওয়াই (ডু ইট ইওরসেল্ফ) অর্থাৎ যেকোনো কাজ নিজে করার মতো উপায় দেখানো হয়।
এর মধ্যে রয়েছে মেঝেতে টাইলস বসানো, পানির কল ফিট করা এমনকি, কি করে একটি দেয়াল তুলতে হয় সেটাও।
পালোমার এই ভিডিওগুলো বেশ সোজাসাপ্টা আর সহজ নির্দেশাবলী সম্পন্ন।
"আমি মানুষকে দেখাই যে যদি আমি এটা করতে পারি, অন্য সবাই পারবে।"প্রয়োজন থেকে নিজেই শিখছেন পালোমা
পালোমা এক পর্যায়ে তার তীব্র প্রয়োজনীয়তা থেকেই বিভিন্ন নির্মাণ কাজ শিখতে শুরু করেন। একদিন পালোমা ও তার মা আইভোনেকে নিজেদের দুই রুমের বাড়িটি বর্ধিত করার কাজ করতে হয়েছিল।
কারণ শ্রমিকদের দিয়ে করানোর মতো অর্থ তাদের কাছে ছিলনা।
পরে মায়ের বান্ধবীরা তাকে রোজগারের একটি পথ দেখিয়ে দেন। আর পালোমাও সেই পথের প্রেমে পড়ে যান দ্রুতই।
এই নির্মাণ শিল্প বিষয়ে জানার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ২০১৩ সালে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। তবে ইউটিউব চ্যানেলে নিজের সমস্ত সময় উৎসর্গ করার জন্য প্রথম সেমিস্টারেই তিনি ঝরে পড়েন।
পালোমা বিশ্বাস করেন যে তিনি নিজের বাড়ির উন্নয়নের কাজ নিজে করার মাধ্যমে প্রায় ৭০০০ ডলার সঞ্চয় করতে পেরেছেন।
"আমি যা করেছি তা অন্য কাউকে দিয়ে করার মতো সামর্থ্য আমার ছিল না।" বলেন পালোমা।পুরুষদের রাজত্বে এক নারী।

ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) -এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রাজিলের নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের মধ্যে কেবলমাত্র ৩.২% নারী।
তাই পুরুষ আধিপত্যের এই সেক্টরে পালোমার বিরল সফলতায় প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন তার মা আইভোনে।
"আমার মা সব ধরণের কাজ করেছেন। যখন আমরা ছোট ছিলাম তখন তিনি ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে জমি থেকে আগাছা পরিষ্কারের কাজ করতেন। তার ইচ্ছাশক্তি আমাকে শক্তি দেয়।"
তবে পালোমার ভাইবোনেরা ভিন্ন ভিন্ন দিকে কাজ করেছেন। তার দুই বোন ভবনের কাজ থেকে দূরেই ছিলেন। কিন্তু তার ১৩ বছর বয়সী ছোট ভাই, তার ভিডিওগুলি তৈরি করতে সহায়তা করে।
"সে এখনো তার হাত নোংরা করেনি, কিন্তু আমি তাকে শেখাচ্ছি।"
অনেক চ্যানেল অনুসারীরা পালোমার এমন খ্যাতি অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।সেক্সিস্ট ট্রলিং
পালোমা বলেন, "আমি খুব দুঃখ পেতাম যখন লোকেরা বলতো যে আমি কাজটি করছিনা এবং কোন না কোন পুরুষ নিশ্চয়ই এই কাজের পেছনে রয়েছে।"
তবে ধীরে ধীরে তিনি এসব মন্তব্যকে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। বিশেষ করে যেগুলো নির্মাণ শিল্পে কর্মরত পুরুষদের থেকে আসতো।
"উদাহরণ স্বরূপ, যখন আমি ভিউয়ার্সদের উদ্দেশ্যে বলতাম যে এই কাজটি এই নির্দিষ্ট নিয়মে করা উচিত, তখন কিছু লোক মানতে চাইতো না এবং বলতো যে আমি ভুল বলছি।"
"কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমিই ঠিক ছিলাম। কিছু মানুষের কোন অস্তিত্ব না থাকলেও তারা মনে করে যে, অন্যের খুঁত তাদের বের করতেই হবে।"
পালোমা এখন ওই মন্তব্যগুলো হয় এড়িয়ে যান, নাহলে মুছে ফেলেন।
পালোমার অনুসারীদের মধ্যে ৬০% পুরুষ। কিন্তু দিন দিন তার চ্যানেলে নারী অনুসারীর সংখ্যা বাড়ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি জানান যে, তার চ্যানেলের নারী অনুসারীরাই সবচেয়ে বেশি উৎসাহব্যঞ্জক প্রতিক্রিয়া দেন।
তার মধ্যে একটি মন্তব্য এমন- " এ ধরণের কাজ করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। আপনার ভিডিওগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি কোন নির্মাণ শ্রমিক ছাড়াই আমার বাড়ী তৈরির কাজ শেষ করেছি"।
আবার আরেকজন নারী উল্লেখ করেছিলেন- "আমি আমার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম, এরপর আমি আপনার চ্যানেলে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।" নিজে নিজেই করুন, নারীরা
পালোমার ব্যবসা বাড়ানোর একটি কৌশল আছে: তিনি আরও বেশি নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে তাদের নিজে নিজে কাজ করার তাগিদ দেন, যেটা ইংরেজিতে ডু ইট ইউরসেল্ফ বা সংক্ষেপে ডিআইওয়াই নামেই বেশি পরিচিত।
"যদি আমি প্রকৌশলবিদ্যার কোন ডিগ্রী ছাড়াই একটি কংক্রিট স্তম্ভ তৈরি করতে পারি, তাহলে তারা কেন বৈদ্যুতিক ঝরনা বসাতে পারবে না?" তিনি প্রশ্ন করেন।
এই নির্মাতা বিশ্বাস করেন যে নারীরা নিজেরা সেই কাজ করতে ইচ্ছুক না হলেও তারা ব্যবসা শিখতে পারবেন।
"প্রশ্ন এটা নয় যে, যদি তারা জানতে পারে তারা এটা কিভাবে করবে, কিন্তু যথেষ্ট তথ্য থাকা যেন তারা কখনই সুবিধা গ্রহণ না করে।"
হাসিঠাট্টার মধ্যেও, পালোমা আরেকটি মূল বিশ্বাসের কথা জানান।
"পুরুষরা যতোটা ভাবে যে তাদেরকে আমাদের অনেক দরকার, আমাদের এটা দেখাতে হবে যে, আমাদের এগিয়ে যেতে তাদের কোন প্রয়োজন নেই।" পেশাজীবী ইউটিউবর
পালোমার ইউটিউব চ্যানেলে ১৫০টির বেশি ভিডিও রয়েছে এবং তিনি বলতে গেলে একজন পেশাদার ইউটিউবর হয়ে উঠেছেন।
তিনি নিজেই এসব ভিডিও ধারণ করেন, সম্পাদনা করেন এবং প্রযোজনা করেন। অথচ আগে তিনি ছিলেন মুদ্রলেখক (টাইপিস্ট) এবং সেলসওম্যান (বিক্রয়কর্মী) হিসেবে কাজ করতেন। অনেক সময় রাস্তায় রাস্তায় লিফলেট বিলির কাজ করে তাকে উপার্জন করতে হয়েছিল।
পালোমার প্রতিটি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে শুধুমাত্র একটি ক্যামেরা দিয়ে। এবং তার এই কাজ শেষ করতে গড়ে এক থেকে তিন দিন সময় লাগতো।
প্রতিটা ভিডিওর বিষয়বস্তু বা থিম বের করার ক্ষেত্রে পালোমা চিন্তা করতেন তার বাড়িতে নিজের প্রয়োজনে কোন কাজগুলো করতে হয়। সেই প্রয়োজনীয়তা অনুসন্ধান করেই তিনি ভিডিও নির্মাণের বিষয় নির্বাচন করতেন।
তিনি বলেন, "আমাদের বাড়িতে যা যা করার দরকার হয়, আমি তাই করি। আমি বাড়ির দেয়াল রং করেছি, বইয়ের/কাপড়ের তাক বানিয়েছি এমনকি সুইমিংপুল বানানোও বাদ যায়নি।"
যে নারী এক সময় ভ্রমণ নিয়ে ব্লগিং করার স্বপ্ন দেখতেন, এখন তিনি তার চ্যানেলের সুবাদে অনেক জায়গাতেই ঘুরে বেড়ান। তবে তার উদ্দেশ্য বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিয়ে মানুষকে শেখানো আর উদ্বুদ্ধ করা।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার এই চলাচলের খরচ বহন করে থাকে ডিআইওয়াই দোকানগুলো।
স্পন্সরের থেকে পাওয়া এই টাকা তাকে একটি ডিগ্রী নিতে, সেইসঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের প্রয়োজনেও কাজে আসছে।
"আমি জানি যে আমার জীবনের অভিজ্ঞতা অন্যান্য নারীদের মতো নয়, কিন্তু আমি মনে করি মানুষ যা চায় সেটা নিয়ে সন্দেহ করার পরিবর্তে আর খুব বেশি চিন্তা না করে সেটা অর্জনে লেগে পড়া উচিত।
"যখন এটি হয়ে যাবে, তখন আপনি মূল্যায়ন করবেন এবং এটা থেকেই শিখবেন।"
সূত্রঃ বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কংগ্রেস সদস্যকে হত্যার হুমকিতে গ্রেপ্তার এক

একজন মুসলিম কংগ্রেস সদস্যকে হত্যার হুমকির দায়ে নিউ ইয়র্কে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত করা হয়েছে ৫৫ বছর বয়সী প্যাট্রিক কারলিনিও জুনিয়রকে। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্রেট দলের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে তিনি হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ১০ বছরের জেল এবং আড়াই লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আরো লিখেছে, ২১ শে মার্চ ইলহান ওমরের একজন স্টাফের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন কারলিনিও। এ সময় তিনি ওই স্টাফের কাছে জানতে চেয়েছেনÑ আপনি কি মুসলিম ব্রাদারহুডের পক্ষে কাজ করেন? কেন আপনি তার (ইলহান ওমর) জন্য কাজ করছেন? তিনি তো একজন সন্ত্রাসী। আমি তার মাথার খুলিতে একটি বুলেট ছুড়তে চাই।
এমন হুমকির পর বিষয়টি ইউএস ক্যাপিটল পুলিশকে জানানো হয়। তারা এফবিআইয়ের সহযোগিতায় তদন্ত শুরু করে।
এতে দেখা যায় ইলহান ওমরের ওই স্টাফের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় কারলিনিও ছিলেন ক্ষুব্ধ। রাগের সঙ্গে নিজের নামের বানানটা পর্যন্ত বলে দেয়। দিয়ে দেয় যোগাযোগের বিস্তারিত। এফবিআইয়ের তদন্তে এসব বেরিয়ে এসেছে।
কারলিনিও’র বাসায় তদন্তকারীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় কারলিনিও নিজেকে একজন দেশপ্রেমিক বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট (ডনাল্ড ট্রাম্প)কে ভালবাসেন, এ জন্য যে, তিনি উগ্র মুসলিমদের ঘৃণা করেন।
কারলিনিওকে শুক্রবার প্রাথমিকভাবে আদালতে হাজির করা হয়। আগামী ১০ই এপ্রিল পর্যন্ত তাকে নিরাপত্তা হেফাজতে দেয়া হয়েছে। ওইদিন আবার শুনানি হওয়ার কথা।
গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হন ইলহান ওমর। তিনি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য। ওই সময় কংগ্রেসে প্রথম দু’জন মুসলিম নারী নির্বাচিত হন। তার মধ্যে অন্যতম ইলহান ওমর। তার কোনো প্রতিনিধি বা স্টাফ ওই হুমকি দেয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলপন্থি লবি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ইলহান ওমর। তার ওই বক্তব্যের নিন্দা জানায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটরা। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পুনঃনির্বাচিত হলে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন সম্প্রসারিত করবেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী

আবার নির্বাচিত হলে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপন সম্প্রসারিত করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার ইসরাইলে নির্বাচন। এ নির্বাচনে তিনি ডানপন্থি দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করছেন। এসব দলও পশ্চিম তীরের অংশবিশেষে বসতি স্থাপন সম্প্রসারণকে সমর্থন করে। আন্তর্জাতিক আইনে এমন বসতি স্থাপন অবৈধ। কিন্তু এ অভিযোগ মানতে নারাজ ইসরাইল। ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার কাছ থেকে তারা দখল করে নেয় গোলান মালভূমি। আর সেই গোলানকে গত মাসে ইসরাইলের বলে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
পশ্চিম তীরে এরই মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ইহুদি বসতি স্থাপন করেছে। এর বাইরে আরো দুই লাখ বসতি গড়েছে পূর্ব জেরুজালেমে। পশ্চিম তীরে এখনো প্রায় ২৫ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস আছে। ফিলিস্তিনিরা চায় দখলীকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যাকায় একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করতে। কিন্তু এখানে ইসরাইলের দখলদারিত্ব তাদের সে উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করছে। এসব এলাকায় ইসরাইলের ইহুদি বসতি স্থাপন ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সবচেয়ে কলহের ইস্যুর অন্যতম।
ফিলিস্তিনিরা বলছে, তাদের এসব ভূমিতে ইহুদি বসতি থাকায় ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বা রাজ্য প্রতিষ্ঠা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠবে। অন্যদিকে ইসরাইলের অভিযোগ, এই বসতি স্থাপনের ইস্যুটিকে ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিরা সরাসরি শান্তি আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, প্রকৃত শান্তি ও আলোচনার ক্ষেত্রে বসতি স্থাপন কোনো বাধাই নয়।
ইসরাইলি টিভিতে নেয়া এক সাক্ষাতকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কেন পশ্চিম তীরে বিশাল বসতিতে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব জাহির করছেন না। জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা পরবর্তী পর্যায়ে যে পদক্ষেপের দিকে অগ্রসর হবো, আপনি সে বিষয়ে কথা বলছেন। হ্যাঁ, আমরা পরবর্তী পর্যায়ে এ বিষয়ে অগ্রসর হবো। আমরা ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব বর্ধিত করবো সেখানে।
জবাবে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, যেকোনো পদক্ষেপ অথবা যেকোনো ঘোষণা প্রকৃত সত্যকে পাল্টে দিতে পারবে না। বসতি স্থাপন অবৈধ। তা প্রত্যাহার করে নিতেই হবে।

এডিবির পূর্বাভাস চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৮ শতাংশ

চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবি মনে করে, ব্যাপক ভোগ চাহিদা ও সরকারি বিনিয়োগের কারণে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। এ ছাড়া রপ্তানি ‘পারফরম্যান্স’ প্রবৃদ্ধিতে বাড়তি অবদান রাখছে। এর পাশাপাশি শিল্প খাতের সমপ্রসারণ প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
গতকাল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৯ প্রকাশ করেছে এডিবি। প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের এডিবি ঢাকা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে পূর্বাভাস দেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ। আর মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সুন চান হং।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ।
তিনি বলেন, এশিয়ার অনেকগুলো উন্নয়নশীল দেশের চাইতে বাংলাদেশ অনেকখানি এগিয়ে আছে। তিনি বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দ্রুতগামী। এ কারণে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিমানবন্দর, সড়কের বড় অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ধরে রাখতে আগামীতে শিল্পের ভিত্তি বাড়াতে হবে। ব্যক্তি খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে। করের ভিত্তি বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি খাতের চাহিদা মেটাতে মানব সম্পদের উন্নয়ন করতে হবে।
এর আগে গত ১৯শে মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ ছাড়াবে। আর এর প্রায় দুই সপ্তাহ পর এডিবি তার আউটলুক প্রকাশ করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কথা জানাল।
গত বছর এডিবি বলেছিল এবার প্রবৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৫ শতাংশ। সেই অবস্থান থেকে এডিবি সরে আসছে কেন জানতে চাইলে মনমোহন প্রকাশ বলেন, তাদের আগের হিসাব ছিল তিন মাসের তথ্যের ভিত্তিতে। এখন নয় মাসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতি বদলে গেছে। তাছাড়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দ্বন্দ্বের কারণেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ কিছু পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। ফলে এ বিষয়টিও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন। মনমোহন বলেন, বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কম হলেও বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকবে।
প্রতিবেদনে এডিবি জানায়, ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের পেছনে যেসব বিষয় কাজ করেছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশ শান্ত থাকা; রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি, কর আদায়ে জোর দেয়া, বেসরকারি বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি ও স্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজমান। এছাড়া অবকাঠামো খাতে সরকারের ধারাবাহিকভাবে চলা উন্নয়নে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ৫.৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও বলেছে এডিবি। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংক খাতের আইনকানুন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন; করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্তে আরো সতর্কতা অবলম্বন; রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের একীভূত করা। উন্নতি ধরে রাখতে আগামীতে বিদ্যমান ব্যাংক আইনের কঠোর প্রয়োগ চেয়েছে এডিবি।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এডিবি ঢাকা অফিসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সন চ্যাং হং বলেন, ১৯৭৪ সালের পর বাংলাদেশের জন্য এটা বড় অর্জন। ২০১৮ সালে ৭.৯ এবং ২০১৭ সালে ৭.৩ প্রবৃদ্ধি অর্জন দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আরো উন্নত করা ও রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা গেলে জিডিপি আরো বাড়বে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার ৫.৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। কৃষি ফলন বৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও তেলের দাম কম হওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়বে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ধরা হয়েছে ৩.৮ শতাংশ, শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ১২.৫ ভাগ। তবে যানবাহন, শিক্ষা, আর্থিক খাত ও স্বাস্থ্য খাতের ধীরগতির কারণে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ততটা এগুবে না। যা থাকতে পারে ৬.৪ শতাংশের আশেপাশে। এডিবির মতে, রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়াবে ১৪ শতাংশে। মূলত পোশাক খাতে রপ্তানির ওপর ভর করেই এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে।
সংস্থাটির মতে, গেল অর্থবছরে, দেশে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি হলেও ১০ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। মূলত খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কম থাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছরেও দেশে আমদানির পরিমাণ কমবে। এডিবি জানায়, চলতি অর্থবছরে দেশে প্রবাসী আয় বাড়বে ১১ শতাংশ হারে। তবে এর পরের অর্থবছরে তা একই ধারায় না থেকে নেমে আসবে ১০ শতাংশের ঘরে।
টেকসই উন্নয়নের এ ধারায় বেশকিছু চ্যালেঞ্জও দেখছে উন্নয়ন সহযোগী এ সংস্থা। এর মধ্যে আছে, ব্যাংক খাতে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ ও দুর্বল শাসন ব্যবস্থা। বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা আগামীতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করে এডিবি। এ ছাড়া বিনিয়োগের তুলনায় লাভের হার কম। এখানে সুশাসন ব্যবস্থাও দুর্বল। এর ফলে বাড়ছে মূলধন ঘাটতির প্রবণতা। ব্যাংকিং খাতে পরিচালনায় ও আইনি কাঠামোয় বড় ধরনের অদক্ষতা রয়েছে বলেও মনে করে এডিবি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতায় নেয়া আগের অনেক উদ্যোগ সফল হয়নি। ব্যাংক আইন সংশোধন, ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা ও ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গাইড লাইনে কিছুটা সফলতা এসেছে। উন্নতি ধরে রাখতে আগামীতে বিদ্যমান ব্যাংক আইনের কঠোর প্রয়োগ চেয়েছে এডিবি। তা ছাড়া করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা যাচাই করা, সরকারি ব্যাংকে একীভূতকরণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে এডিবি। জাতীয় পর্যায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও পরামর্শ দিয়েছে এডিবি।

প্রকাশ্যে চলছে মাছ নিধন

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে ভোলার নদী থেকে মাছ শিকার করা হচ্ছে। মাছের মধ্যে আছে ইলিশ, পোয়া, তাপসী, পাঙাশসহ বিভিন্ন মাছের রেণুপোনা। বৈশাখ ঘনিয়ে আসায় জেলেরা আরও বেশি করে নদী মাছ ধরতে যাচ্ছেন।
মৎস্য বিভাগ বলছে, এখন জাটকা সংরক্ষণ অভিযান চলছে। গত ১ মার্চ (শুক্রবার) থেকে দুই মাস (মার্চ-এপ্রিল) ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর জলসীমানায় জাল ফেলা, মাছ শিকার, বহন, মজুত, কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। তারপরেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ শিকার হচ্ছে। এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মৎস্য আইন অনুযায়ী দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, দুই হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
এক মাস ধরে ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর, ইলিশা কাঠিরমাথা, কাচিয়া, তুলাতুলি, ভোলাখাল, ভেদুরিয়া-ভেলুমিয়া, শান্তিরহাট, দৌলতখান উপজেলার মাঝিরহাট, চৌকিঘাটা, রাধাবল্লভ, সৈয়দপুর, হাজিপুর, বোরহানউদ্দিনের হাকিমউদ্দিন, মির্জাকালু, গঙ্গাপুর, তজুমদ্দিনের চরজহিরুদ্দিন, স্লুইসগেট, বাগানের খাল, চর মনতাজ, ভাসানচর, মনপুরার কলাতলি থেকে শুরু সর্ব-দক্ষিণে সামরাজ, ঢালচর-কুকরি-মুকরি, মুজিবনগর এলাকায় দেখা যায়, জেলেরা দিন-রাত জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামছেন। এ সময় অবৈধ জাল বেশি পাতছেন।
দেখা যায়, মাঝনদীতে নৌকা কম। কৃষকেরা নদীর কিনারায়, ডুবোচরে, নদীর শাখা খালে কারেন্ট, বেহুন্দি, মশারি, চরঘোরা, ঘুন্ডি, পাই, পিটানো জাল, খুঁটিজাল পাতছেন। এসব জালে ছোট-বড় ইলিশ, ১-২ সেন্টিমিটার জাটকা ও শত প্রজাতির মাছের রেণু-পোনাসহ জলজ প্রাণী ধরা পড়ছে। মাছঘাটের আড়ত ও বরফ কলও চালু। মাছঘাট, আড়তদার, এমনকি ভোলার সদর রোডে প্রকাশ্যে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ বিক্রি হচ্ছে গভীর রাত পর্যন্ত।
ভোলায় নিবন্ধিত ১ লাখ ৩২ হাজার জেলে আছেন। অনিবন্ধিত আছেন আরও কয়েক হাজার। ভোলার ৭৫ জন জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরে ১২ মাস। এর মধ্যে ৮ মাস ২২ দিন চলে সরকারি অভিযান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জেলেদের জাল, নৌকা, মাছ জব্দ করছে। জেলেদের জেল ও জরিমানা করছে। ফলে জেলেরা বারবার জাল, নৌকা কিনে, জেল-জরিমানায় অর্থ ব্যয় করে ঋণী হয়ে থাকছে। এসব ঋণ তাঁরা নিচ্ছেন মাছঘাটের মহাজন, স্থানীয় সুদের কারবারি ও বেসরকারি সংস্থা থেকে। তাঁরা মাছ ধরছেন, আয় করছেন আর সেই টাকায় ঋণ শোধ করছেন। জেলের পকেটে কিছু থাকছে না, ঋণ ছাড়া।
জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্র জানায়, সাত উপজেলায় মার্চ মাসে ১১৮টি অভিযান হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসেছে ৭৩টি, মামলা হয়েছে ১০৭টি। এসব মামলায় ১৫৮ জন জেলের জেল এবং কিছু জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীর ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। এসব অভিযানে ২ দশমিক ১৬৩ মেট্রিক টন ইলিশ ও ৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন অন্যান্য মাছ জব্দ হয়েছে। এ সময় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলেরা নদীতে মাছ ও আড়তে দাম বেশি পাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছেন।
কয়েকজন জেলে বলেন, জেলের অভাব দূর করতে না পারলে নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে যাওয়া বন্ধ করা যাবে না। জেলের অভাব দুই রকম। পরিবারের জন্য খাবার সংগ্রহ ও সপ্তাহ অন্তর বেসরকারি সংস্থার(এনজিও) কিস্তি পরিশোধ করা। অন্যদিকে মহাজনের চাপ তো আছেই। ঢাকাসহ সারা দেশের মোকাম ভোলার আড়তদারকে বৈশাখ এলে চাপ দেয় ইলিশের জন্য। আর আড়তদার চাপ দেয় জেলেকে।
সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছঘাটের রফিক মাঝি বলেন, ‘জাইল্যা অভিযান মানবো ক্যামনে। এমন কোনো জাইল্যা নাই, য্যার সমিতির কিস্তি নাই, আঁর নিজের চাইরডা সমিতির সাপ্তাহিক কিস্তি দিতো অয়। সাপ্তার আগামাতায় চাইর হাজার টিয়ার খেল, নদীত যাই বা না যাই, ঘর-ভিডা বেচি অইলেও কিস্তি শোধাইতো অইবো।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া দুটি বিশাল নদী। লোকবলসংকটে পুরোটা দেখা সম্ভব নয়। জেলেরা আইন মানছেন না। কেন মানছেন না, সেটা ভাবতে হবে। পেটে ক্ষুধা থাকলে জেলেদের আটকে রাখা সম্ভব না। জেলেদের ঘরে আটকে রাখতে হলে পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক বলেন, জাটকা সংরক্ষণ অভিযান ও উপজেলা নির্বাচন প্রায় একই সময়ে হওয়ায় অভিযানে ধীর আসতে পারে। বাকি সময়ে কঠোর অভিযান হবে। জেলেদের আরও সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন।

দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতির শীর্ষ ৫-এ বাংলাদেশ

বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা অর্থনীতির শীর্ষ ৫ দেশের একটি বাংলাদেশ। ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে দ্রুতগতির উন্নয়নশীল বাকি ৪ দেশ হলো- ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, ভুটান এবং ভারত। জিবুতি, আইভরি কোস্ট ও ঘানার সঙ্গে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট ২০১৯: টুওয়ার্ডস রেগুলেটরি প্রেডিক্টিবিলিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে  বিশ্বব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের এ বছর প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭.৩ শতাংশ। সামষ্টিক অর্থনীতি ও রপ্তানি নির্ভর শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধির কারণে এই অর্জন হবে বলে মনে করে সংস্থাটি। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর (বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চল) রবার্ট জে সম।
প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধারা শক্তিশালী ও স্থিতিশীল। বাংলাদেশ বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখতে পেরেছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে উৎপাদন ও অবকাঠামো নির্মাণের হার বেড়েছে। অন্যদিকে ভোক্তা ও রপ্তানিও বেড়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ কৃষি উৎপাদনেও বাংলাদেশ অগ্রগতি দেখিয়েছে। এসব কারণে অর্থনীতির আকারও দ্রুত বাড়ছে।
বিশ্ব পরিস্থিতিতে ৭.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও ‘অনেক’: প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৭.৩ শতাংশ হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ৭.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও ‘অনেক’। এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দেশকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। একদিকে, ডলারের অবমূল্যায়ন, অন্যদিকে, ব্রেক্সিট ইস্যু, চীনের অর্থনীতি, চীন-আমেরিকা সম্পর্ক ইত্যাদি। তবে যদি ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে যেতে হয়, তাহলে এখানে ভালো বিনিয়োগ থাকতে হবে। ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মানবসম্পদকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক খাতে সংস্কার আনতে হবে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ইথিওপিয়া (৮.৮%), রুয়ান্ডা (৭.৮%), ভুটান (৭.৬%) এবং ভারতের (৭.৫%) জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারই কেবল বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ এখনও কম।
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়লেও তা এখনও জিডিপির ১ শতাংশের কম। বস্ত্র, তৈরি পোশাক, ওষুধ বা প্যাকেজিংয়ের মতো শিল্প খাতগুলোতে যন্ত্রপাতি আমদানির হারও কমেছে। ভূমি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ শিল্প খাতের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
উদ্ভাবনী সংস্কার করতে হবে: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্য আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগ হতে হবে, প্রয়োজনীয় জনবল থাকতে হবে এবং আর্থিক খাত, ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও অবকাঠামো শূন্যতা পূরণের মতো খাতগুলোতে উদ্ভাবনী সংস্কার করতে হবে।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের মুদ্রানীতির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হলো ব্যাংকিং খাত, যার মাধ্যমে আমরা মুদ্রানীতি পরিচালনা করি। সেই খাতে বেশ কিছু দুর্বলতা আগে থেকেই ছিল। ইদানীং সেই দুর্বলতা আরো বেড়েছে। এটা কি শুধু আকাশের মেঘ, নাকি বজ্রপাত, এটা বুঝতে হবে। এটা বুঝার যে স্টেশন, তা হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আমাদের দুর্বলতার প্রধান জায়গা হলো খেলাপি ঋণ।
৩ জন বড় ঋণগ্রহীতা বিপর্যয়ে পড়লে ২১টি ব্যাংক সংকটে পড়বে: জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলোর আরেকটি দুর্বলতা হলো- আমরা বড় বড় যেসব ঋণগ্রহীতাকে ঋণ দিচ্ছি, তাদের ব্যবসায় যদি কোনো দুর্যোগ দেখা দেয়, তাহলে কী হবে? ব্যাংকিং খাতে তার কী প্রভাব হতে পারে? বিশ্লেষণ বলছে, দেশের ৩ জন বড় ঋণগ্রহীতা যদি ঋণখেলাপিতে পরিণত হন বা তাদের প্রতিষ্ঠান আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে, তাহলে ২১টি ব্যাংক মূলধন সংকটে পড়বে। এমন ঋণগ্রহীতা ৭ জন ঋণখেলাপি হলে ৩১টি এবং ১০ জন খেলাপি হলে ৩৫টি ব্যাংক মূলধনের সংকটে পড়বে।
ব্যাংকিং খাতে ঘূর্ণিঝড়-তুফানে পরিণত হতে পারে: জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলো যে ঋণ দেয় তার বিপরীতে কিছু জামানত নেয়া হয়। এই বন্ধকি জামানত যদি বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায় করা হয়, তাহলে কী হবে? তিনি বলেন, এই জামানতের যদি ১০, ২০ ও ৪০ শতাংশ মূল্য কমে যায় তাহলে ২, ৫ ও ৯টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়বে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্যাংকিং খাতে কালো ঘন মেঘ ঘূর্ণিঝড়-তুফানে পরিণত হতে পারে।
খেলাপি ঋণ ছোঁয়াচে রোগ: জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের ব্যাংকিং খাতে বড় বড় ঋণখেলাপি রয়েছে। তাদের ঋণ বারবার পুনঃতফসিল করা হচ্ছে। একেকজনকে তিন-চার বার করে ঋণ পুনঃতফসিল করতে দেয়ায় আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংক দুর্বল হচ্ছে। এভাবে পুনঃতফসিলের কোনো যৌক্তিকতা নেই। খেলাপি ঋণ একটি ছোঁয়াচে রোগে পরিণত হয়েছে। ঋণ পুনঃতফসিল ছোঁয়াচে রোগটা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সমপ্রতি ঋণখেলাপিদের ৯ শতাংশ সরল সুদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার সমালোচনা করে জাহিদ হোসেন বলেন, এভাবে ঋণ পরিশোধের সুযোগ করে দেয়া হলে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। ববারবার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার পরিবর্তে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন তিনি।
খেলাপি ঋণকে অনিচ্ছাকৃত বলা যাবে না: ৯৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এত ঋণের সবই কি অনিচ্ছাকৃত?’ সব খেলাপি ঋণকে অনিচ্ছাকৃত বলা যাবে না বলে মত দেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, গত ১০-১৫ বছরে দেশে এমন কিছু (বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা) ঘটেনি যে বারবার ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। এভাবে পুনঃতফসিল করা হলে ব্যাংকগুলো লোকসানে পড়ে যাবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ না করা: আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে দেয়া উচিত উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক যেন ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কাজে যেন হস্তক্ষেপ না করা হয়।
জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে যে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে শিল্প খাতের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তবে দুর্বলতার জায়গা হলো ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ। তবে এই খাতে যে বিনিয়োগ হচ্ছে না, তা নয়। তবে প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ এই খাতে হচ্ছে না। সামষ্টিক অর্থনীতি মোটামুটি স্থিতিশীল হলেও বেশ কিছু দুর্বল জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে প্রধান হলো- ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ ও রাজস্ব খাতের আয়ের দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কিছুটা কমেছে। তবে আমাদের মতে, অগ্রাধিকারভিত্তিতে সংস্কারের ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাত, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক পুঁজি বিনিয়োগে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের এবারের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আর্থিক খাতের রেগুলেটরের সংস্কারে। এ বছরের প্রবৃদ্ধিতে বেশকিছু পরিবর্তন দেখা গেছে, অতীতে প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে দেশীয় বাজারভিত্তিক উৎপাদনে। তবে এবারের প্রবৃদ্ধি রপ্তানি খাতভিত্তিক হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক খাত ও পোশাক বহির্ভূত খাতে প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। শিল্প খাতে প্রতি মাসে ১ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সে হিসাবে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে।
মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নে ১৫৭ দেশের মধ্যে আমরা ১০৬ নম্বর। আমাদের অক্ষমতা দূর হলে ৪৮ শতাংশ অগ্রগতি সম্ভব। এর মধ্য শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা।

খালেদার প্যারোল: সরকারের প্রস্তাব, বিএনপি আলোচনা করবে

কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন পেলে বিবেচনা করবে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে বিএনপির প্রতি সরকারের তরফে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এতদিন দলটির নেতারা চেয়ারপারসনের মুক্তি চেয়েছেন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জামিনে। তবে সরকারের তরফে এমন বক্তব্য আসার পর এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল সন্ধ্যায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন কথা বলিনি। আমরা যেটা বলেছি- সেটা হচ্ছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য। আমরা জামিন পাওয়ার যোগ্য। কারণ যে মামলায় সাজা দিয়েছে সেখানে আমরা আইনগতভাবে জামিন পেতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘প্যারোলের ব্যাপারটা তো আমরা বলিনি।
এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমরা সেটা দেখবো; আমাদের মধ্যে আলোচনা করবো।
তবে আমরা এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিইনি।’ এদিকে প্রথম থেকেই বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দাবি করে আসছে বিএনপি। আর সরকারের তরফে সে দাবি অগ্রাহ্য করা হয়েছে বারবার। কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়লে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ মেনে কয়েকদিন আগে তাকে ভর্তি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন। কিন্তু বিএনপির তরফে এ হাসপাতালে তার চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বারবার। গতকাল রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে কমরেড মনি সিং মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চতুর্থ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি বলেন- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ সরকার নিয়ন্ত্রিত হাসপাতাল। সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবেই হাসপাতালকে কাজ করতে হবে।
এ ধরণের একটি হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুষ্ঠু ও সঠিক চিকিৎসা হতে পারে বলে আমরা মনে করি না।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করলেও সরকার সেটা অগ্রাহ্য করেছে। তারা তাদের পছন্দমতো বিএসএমএমইউ হাসপাতালেই খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য নিয়েছেন। বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা না দিয়ে মানবাধিকার বিবর্জিত কাজ করছে সরকার।’ দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এমন পর্যায়ে গেছে যে, এখন তিনি হাঁটতে পারেন না, কোনো কিছু খেতে পারছেন না।’ ওদিকে জামালপুরে বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন- ‘প্যারোল পেতে হলে তাকে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শিয়ে আমাদের কাছে আবেদন করতে হবে। তিনি আবেদন করলে আমরা তখন চিন্তা করব।’ এ সময় খালেদার জিয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি বলেও জানান তিনি। এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।
পরে সে মামলায় সাজার পরিমান বাড়িয়েছে উচ্চ আদালত। ইতিমধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়েও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষনা করেছে নিম্ন আদালত। এছাড়া অন্য ৩৪টি মামলার মধ্যে তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলছে দুই মামলায়। দলটির নীতিনির্ধারক ফোরামের কয়েকজন সদস্য বেশ কিছুদিন ধরে প্রকাশ্য সভা-সমাবেশে বলে আসছেন আইনি লড়াই চালিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা নেই। রাজনৈতিকভাবেই তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির আগ্রহ প্রকাশ করেননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলটির তরফেও এ ব্যাপারে প্রকাশ্যে কেউ কোন কথা বলেনি। তবে আইনী প্রক্রিয়ায় তার জামিনে মুক্তির অনিশ্চয়তা ও তার শারীরিক অবস্থার অব্যাহত অবনতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে ভাবতে পারে বিএনপি। এমন গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। সার্বিক পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যকে সরাসরি অস্বীকার করেননি বিএনপি নেতারা।

তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় শান্তি আসবে?

১৮ বছরে এবারই প্রথম আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র খুব গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে অবশেষে শেষ হবে ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ।
গত বছরের অক্টোবরের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিরা সর্বমোট পাঁচ দফায় আলোচনায় বসেছেন। আবার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে এই দুই পক্ষ। উদ্দেশ্য সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র অফগানিস্তান থেকে সব সেনা সরিয়ে নেবে। এই প্রথম সমাধানের এতটা কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলেও একমত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। তবে কাতারের দোহায় বৈঠক শেষে তালেবান জানায়, এটা দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। ফলাফলের জন্য তাদের আরও অনেক বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে।
এই বৈঠকে প্রত্যাশা কী?
দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে যে সংকট চলছে, কয়েকটা বৈঠকে ম্যাজিকের মতো সব ঠিক হয়ে যাবে—এমনটা আশা করা ভুল। সেই ভুল করছেন না বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকেরাও। কিন্তু রাশিয়ায় তালেবান ও আফগান প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যে এক সম্মেলনকক্ষে শান্তি আলোচনার জন্য বসেছেন, এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও আফগান বাহিনী আফগানিস্তানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। আবার রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি আস্থার সম্পর্ক আছে—এমনটা বলা যাবে না। এ রকম পরিস্থিতিতে, সব পক্ষের একসঙ্গে আলোচনায় বসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই বৈঠক তাই আশার জন্ম দেয়।
যুদ্ধবিরতি ঘটবে?
আফগানিস্তানজুড়ে এখনো যুদ্ধ চলছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তালেবান এখন আফগানিস্তানের সব থেকে বেশি অঞ্চল দখল করে রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার সাপেক্ষে এই যুদ্ধের যবনিকা টানার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবছর মার্কিন কোষাগার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার খরচ হয় এই যুদ্ধে! আফগানিস্তান থেকে প্রায় ১৪ হাজার সেনা প্রত্যাহারের আগ্রহ তালেবান সহ সবাইকেই অবাক করেছে।
ন্যাটোর একটি মিশনের অংশ হিসেবে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রায় এক হাজার ব্রিটিশ সেনাও মোতায়েন সেখানে।
আলোচনার সুবিধার্থে ধরে নিলাম, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সমঝোতায় পৌঁছাবে। কিন্তু এরপরও অভ্যন্তরীণ অনেক বিষয় নিয়ে জটিলতা থেকেই যাবে। এর মধ্যে সরকার গঠন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের খাতিরে হলেও এই বছরের শেষের দিকে তালেবান যুদ্ধবিরিতিতে যাবে এবং নির্বাচনে অংশ নেবে। কিন্তু এরপর কী ঘটবে, সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না।
ক্ষমতার ভাগাভাগি সম্ভব?
এই প্রশ্নের উত্তরে অনেক সম্ভাবনা ও দৃশ্যপট রয়েছে। এমন হতে পারে, সব বড় দলের হর্তাকর্তারা এক হয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। যদি ভালোয় ভালোয় তা হয়, তাহলে নতুন সরকার তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। এই আলোচনায় আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কীভাবে ভাগাভাগি করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ পর্যন্ত যাওয়ার আগেই অনেক ‘যদি, কিন্তু, তবে’ পার হতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সবাই মিলে নির্বাচনের জন্য একটি নিরপেক্ষ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গঠন করা যেতে পারে। তবে হ্যাঁ, আগে মার্কিন সেনাবাহিনীকে আফগানিস্তান ছাড়তে হবে। কয়েকজন তালেবান নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলধারার আফগান সমাজকে ফিরিয়ে আনতে ও নির্বাচনের জন্য আফগানিস্তানকে প্রস্তুত করতে এখনো অনেক সময়ের প্রয়োজন বলেই তাঁরা মনে করছেন।
পূর্বের শত্রুরা একসঙ্গে কাজ করবে?
সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকলেও নির্বাচনের পর সরকার পক্ষ, বিরোধী পক্ষ ও বেসামরিক জনগণ—সবাইকে এক করে আফগানিস্তানের জন্য কাজ করাটা হবে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যেমন, তালেবানরা আফগানিস্তানের বর্তমান সংবিধান মানে না। তারা আফগান সরকারকে মনে করে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার’। এই বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি। আবার সাধারণ আফগানদের অনেকে মনে করছেন, তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করলে তারা ইসলামি শাসনব্যবস্থায় বাজেভাবে হস্তক্ষেপ করবে। বিশেষ করে নারীদের স্বাধীনতা ও অধিকার বলে কিছু থাকবে না। এর আগে ১৯৯০–এর দশকে তালেবানরা ক্ষমতায় থাকার সময় আফগানিস্তানের সব নারীর বাইরে বের হওয়া নিষেধ ছিল। শাস্তিস্বরূপ ওই নারীদের জনসম্মুখে পাথর ছুড়ে মারা হতো এবং শরীরের অঙ্গ কেটে ফেলা হতো।
আলোচনায় যদি শান্তি না আসে?
এতক্ষণ যা কিছু আলোচনা হলো, তা অত্যন্ত ইতিবাচক দৃষ্টিকোণে, বৈঠক সফল হবে ধরে নিয়ে। কিন্তু, আলোচনা যদি ভেস্তে যায়? কত আলোচনাই তো শুধু দুই পক্ষের করমর্দন আর হাসির ছবিতেই শেষ হয়। এ ক্ষেত্রেও যদি তা–ই হয়? ১৯৭৯ সালের সোভিয়েত আগ্রাসন পর থেকেই আফগানিস্তানে ব্যর্থ বৈঠক আর চুক্তির লম্বা তালিকা রয়েছে। এগুলোর কোনোটাই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারেনি। গত চার বছরের আফগান যুদ্ধে অন্তত ৪৫ হাজার পুলিশ ও আফগান সেনার মৃত্যুর খরব সংবাদমাধ্যমের রসদ জুগিয়েছে। কাবুলের এই বৈঠক ব্যর্থ হলে আগফান সরকার আর্থিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। তালেবান এখন আফগানিস্তানের প্রায় ৭০ শতাংশ দখল করে রেখেছে। তাই আলোচনা বিফলে গেলে তারা যে আফগানিস্তান দখল করে নেবে না, এমনটাও বলা যায় না। আবার আফগানিস্তানসহ বাকি বিশ্বকে আল-কায়েদা ও আইএসের থেকে নিরাপদ রাখাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
বৈঠক কীভাবে সফল হবে?
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চরম সংকট নিরসনে আলোচনা খুবই প্রাথমিক পর্যায়ের একটা পদক্ষেপ। এর সামনে পড়ে থাকে অত্যন্ত জটিল এবং চ্যালেঞ্জের দীর্ঘ পথ। দুই পক্ষ কোনো একটি বিষয়ে সম্মত হলেই যে বৈঠক সফল হয়েছে, তা বলা যাবে না। বরং তারা যে কাগজে স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব হলেই আলোচনা সফল বলে ধরে নেওয়া যায়। সব পক্ষকে তাই শান্তির জন্য আন্তরিক হতে হবে। যেকোনো পক্ষের সামান্য ভুলেই পুরো সমঝোতার বিষয়টিই তছনছ হয়ে যেতে পারে। চার দশক ধরে চলে আসা এই যুদ্ধ অবশেষে শেষ হবে—প্রথমবারের মতো এটি সত্যি হওয়ার খুব কাছাকাছি একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে। রুদ্ধশ্বাসে এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে এখন তাই অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে এগোনো ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই।

ডানপন্থী মোদির চ্যালেঞ্জ তিন নেত্রী

চলতি সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচন। প্রায় দেড় মাসব্যাপী এই নির্বাচন প্রক্রিয়া চলবে, এর মধ্যেই নির্ধারিত হবে বিশ্বের উদীয়মান পরাশক্তির দেশটির পরবর্তী শাসক কারা হতে যাচ্ছে। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরবর্তী মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পথে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রভাবশালী ৩ নারী নেত্রী। তারা হলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, ‘দলিত রাণী’ হিসেবে পরিচিত ৬৩ বছর বয়সী মায়াবতী নয়না কুমারী এবং চলতি বছর জানুয়ারিতে রাজনীতির পারিবারিক ধারায় নাম লেখানো প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী: আসন্ন নির্বাচনে মোদির জন্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মমতা। তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রীর কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয়তা কেঁড়ে নিতে মোদিকে যে এক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তা একেবারে স্পষ্ট। ভারতের এই রাজ্যের জনসংখ্যা জার্মানির থেকে বেশি। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এই রাজ্যে শিক্ষিতের হার তুলনামূলক বেশি এবং একে সাহিত্যিকদের রাজ্য বলেও সম্বোন্ধন করা হয়। এমন রাজ্যে মোদির ডানপন্থী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যে সুবিধা করতে হলে বাঘিনী মমতার থাবার শিকার হবেন তা সমসাময়িক সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশগুলির ভাষণেই স্পষ্ট। ‘এক্সপায়ারি বাবু, চৌকিদার, চাওয়ালা’ এমন কোনো বিষয় নাই যা নিয়ে মোদির সমালোচনা করতে ছেড়েছেন মমতা। ৬৪ বছর বয়সী এই নেত্রীকে মোদির সবচেয়ে গোঁড়া সমালোচকদের মধ্যে একজন হিসেবেই দেখা হয়। এমনকি বাংলার এই দাপুটে নেত্রীর উদ্দ্যেগেই ভারতজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে এন্টি-মোদি জোট গঠন কন্ হয়।
মোদীর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আঁচ লাগতে দেয়নি মমতা। তার তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির গোঁড়া এই পশ্চিমবঙ্গ, ২০১৪ সালের নির্বাচনে যেখানে সারাদেশে বিজেপির জয়জয়কার সেখানে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসই নির্বাচিত হয়ে এসেছে। সাবেক জাতীয় রেলমন্ত্রী মমতা তার নম্র ধৃষ্টতা এবং নিম্নরথার শৈলীর থেকেও ‘দিদি’ (বড় বোন) হিসেবেই সমাধিক জনপ্রিয়।
নিম্ন বর্ণের চ্যাম্পিয়ন: বিচিত্র বর্ণ, ধর্ম, ভাষা, শ্রেণির দেশ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গণে রঙ্গিন ক্যারিয়ার পার করে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য এবং নির্বাচনের বাজারে সবচেয়ে মূল্যবান পুরস্কার উত্তর প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ তারকা এই মায়াবতী। ২০ কোটি মানুষের উত্তর প্রদেশের দলিত শ্রেণির চ্যাম্পিয়ন মায়াবতী। আসন্ন নির্বাচনে মোদির বিজেপির জন্য মায়াবতীর কাছ থেকে এই উত্তর প্রদেশ ছিনিয়ে নেয়া যে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের হতে যাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তার বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছিল কিন্তু, তিনি তার পরম শত্রু সমাজবাদী পার্টির সাথে একটি জোট গঠন করেছিলেন।
দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তার ২০১৪ সালের নির্বাচনে ছত্রভঙ্গের পেছনে তার চরমপন্থাকে দোষারোপ করেছেন। ইউএস লিকড ক্যাবল অনুসারে, তিনি একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একজোড়া জুতা কিনে নেয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত জেট পাঠিয়েছিলেন এবং তার নিজ দলীয় প্রতিকের মূর্তিতে ভরা একটি কংক্রিট পার্ক নির্মাণের জন্যে বিতর্কিত হয়েছিলেন।
তবে, এবার যদি তার দল ভালো করে সেক্ষেত্রে জোটগঠনের আলোচনায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সমাজতান্ত্রিক পার্টির পরিচালনাকারী অখিলেশ যাদব একবার তার সঙ্গে একমত হওয়ার সাথে সাথে তিনি বিজেপিকে তার ‘বিভাজন ও শাসন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ থেকে বের হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক: বেশ কয়েক বছর ধরে পর্যবেক্ষন করার পর ভারতের বিখ্যাত নেহরু-গান্ধীর সবচেয়ে তরূণ বংশধর প্রিয়াঙ্কা গান্ধী যোগ দিয়েছেন পারিবারিক রাজনীতিতে। ভারতের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধীর ক্যারিস্মাটিক ছোট বোনের জন্য উত্তর প্রদেশের থেকে দুর্দান্ত যুদ্ধক্ষেত্র আর কি হতে পারে। হিন্দুত্ববাদী এই রাজ্য মোদি সমর্থকদের একেবারে মূল ভিত্তি। এই রাজ্যে কংগ্রেস পার্টিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন ৪৭ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা। যেখানে ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় হয়েছিল। ৮০টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটি আসন জিতেছিল কংগ্রেস আর বিপরীতে মোদির বিজেপি পেয়েছিল ৭১টি আসন।
হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সনাতনীদের অত্যন্ত পবিত্র নদী গঙ্গায় নৌকায় করে প্রচারে নামার মাধ্যমেই ইন্দিরা গান্ধীর এই নাতনী জানান দিয়েছেন যে, ভানার্সির চ্যালেঞ্জ তিনি মাথার ভেতরে খুব ভালোভাবেই নিয়েছেন। বিশ্লেষকরা এই প্রতীকী প্রচারণাকে হারিয়ে ফেলেননি, বলেছিলেন যে, তার পদক্ষেপটি ছিল সমালোচনার মুখে। তার কংগ্রেস পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ভোটারকে উপেক্ষা করেছে এবং ভারতের ১৭ কোটি মুসলমানের পক্ষপাতিত্ব করার সমালোচনার জবাব দিয়েছেন।
প্রিয়াঙ্কার ভক্তরা তার সাধারণ স্পর্শকে, তার চেহারা, ইন্দিরা গান্ধীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তার দাদী ইন্ধিরা ছিলেন ভারতের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৮৪ সালে আততায়ীদের হাতে তিনি নিহত হন।

সুন্দরবন পর্যটন শিল্প বিকাশে ধীর গতি: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার by আবু হেনা মুক্তি

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ভয় ও শিহরণের স্থান সুন্দরবন। জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ। প্রকৃতির অকৃপণ হাতের সৃষ্ট এ ম্যানগ্রোভে বসেছে গাঢ় সবুজের সমারোহ। শুধু সবুজ আর সবুজের মেলা। পৃথিবীর হরেক রকমের জীব-জন্তু, পাখ-পাখালি, আর কীট-পতঙ্গ, বঙ্গোপসাগর থেকে ছুটে আসা জলভেজা লবণাক্ত বাতাস, আর প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দর রূপ বর্তমানে ভ্রমণ পিপাসুদের পিপাসা মিটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার সুন্দরবন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করা লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করলেও তা শতভাগ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ফলে সম্ভাবনাময় খাতটি পড়ছে হুমকির মুখে।
জানা গেছে, সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্পের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও টানা দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ মুহূর্তেও প্রকল্পটি শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। যে কারণে সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্প বিকাশে ধীর গতিতে অসন্তোষ ক্রমেই দানা বেধে উঠছে। নাগরিক কমিটির ব্যানারে নানা কর্মসূচিতে সোচ্চার সামজিক সংগঠনগুলো। অথচ খুলনা-নলিয়ান হয়ে সুন্দরবন পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনাময় প্রকল্পটি এখনো পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। প্রকল্পটি চলছে শম্ভুক গতিতে। ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
স্থানীয়রা জানায়, গত ১০ বছরে ঝপঝপিয়া নদীর ওপর পানখালি সেতু এবং দাকোপ সেতুর কোনটাই এখনও কাজ শুরু হয়নি। নগরীর গল্ল­ামারী থেকে দাকোপের নলিয়ান পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার সড়কের মাত্র সাড়ে ২৫ কিলোমিটার নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে। ফলে সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটন শিল্প বিকাশের অমিত সম্ভাবনার পথটি একেবারেই রূদ্ধ হয়ে আছে।
এসব বিষয় নিয়ে সুন্দরবন রক্ষা কমিটি এবং বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি বিভিন্ন সময় সরকার প্রধানসহ সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করে। বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি এ ব্যাপারে নানামুখী কর্মসূিচ হাতে নেয়। গতকাল বাপমাবাসো এর বটিয়াঘাটা উপজেলা কমিটি এক বিশেষ সভার আয়োজন করে। অধ্যাপক এনায়েত আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাপমাবাসো’র সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শেখ আব্দুল হামিদ, রতন কুমার সাহা, নগেন্দ্রনাথ মন্ডল, বিবেক বিশ্বাস, সওদা বেগম, সুফিয়া বেগম, তানিয়া বিশ্বাস প্রমুখ। বক্তরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম উপায় পর্যটন শিল্প গড়ে তুলে এগিয়ে চলেছে। সেখানে আমাদের দেশের এত বড় প্রাকৃতিক সম্পদ অবহেলায় ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। একটু সুনজর দিলেই এই সুন্দরবন হয়ে উঠবে পর্যটনের অন্যতম খাত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সড়কটি নির্মিত হলে দাকোপসহ খুলনার অর্থনীতির চাকা সচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রে দাকোপ উপজেলার নলিয়ান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখান থেকে সরাসরি সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এত অল্প সময়ে খুলনা থেকে সুন্দরবনের যাওয়ার অন্যকোন পথ নেই। নদীপথে খুলনা থেকে সুন্দরবনে যেতে সময় লাগে প্রায় ৫-৬ ঘন্টা। এ রোডটি নির্মাণ হলে সময় ও অর্থ বাঁচবে। এছাড়া নলিয়ান ও দাকোপে গড়ে উঠবে নতুন নতুন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। স্থানীয় জনগণের আয়ের উৎস সৃষ্টি হবে। সরকারি সহায়তায় ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে খুব সহজেই আকৃষ্ট হবে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা।

পুরান ঢাকার কেমিক্যাল উচ্ছেদ: অভিযানে ফল আসেনি by শাহনেওয়াজ বাবলু

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর ২৫শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের পক্ষ থেকে রাসায়নিক গুদাম ও কারখানার তালিকা ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেয়া হবে বলা হয়েছিল। একই আশ্বাস এসেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকেও। এরপর গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরাতে সংশ্লিষ্ট সবক’টি সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি নিয়ে অভিযানও শুরু করে বিশেষ টাস্কফোর্স। প্রথমদিকে জোরেশোরে অভিযান চালালেও আস্তে আস্তে তা ঝিমিয়ে যায়। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে অভিযান রাখা হয় বন্ধ। এ ছাড়া অভিযানে গেলেও দু-তিন ঘণ্টা থেকে সাত-আটটি বাড়ি পরিদর্শন শেষে নিজ কার্যালয়ে ফিরে যান কর্মকর্তারা। টাস্কফোর্সের কেমিক্যাল উচ্ছেদ অভিযানের নির্ধারিত সময় শেষ হয় গত ১লা এপ্রিল। সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে,  টাস্কফোর্সের অভিযানে দাহ্য রাখার অভিযোগে ১৭০টি বাড়ির পরিসেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এর মধ্যে অনেক বাড়ি থেকে অবৈধ কেমিক্যাল এবং গোডাউন সরিয়ে ফেলা হয়। পরে ওইসব বাড়িতে সব ধরণের সংযোগ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে পুরান ঢাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অনেক কারখানা থেকে এখনো মালামাল সরানো হয়নি। কয়েকজন ব্যবসায়ী মানবজমিনকে জানান, তারা এখনো কেমিক্যাল কারখানা স্থানান্তরের বিপক্ষে। রাসায়নিক বা কেমিক্যাল কারখানার পরিবর্তে প্লাস্টিক কারখানাগুলোতে শুরুতেই অভিযান চালানো হয় বেশি। এ কারণে অভিযানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে পড়ে টাস্কফোর্স। এরপর কয়েক দফা বৈঠকের পর ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে গত ১০ মার্চ প্লাস্টিককে অভিযানের আওতামুক্ত ঘোষণা করেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এর পর থেকে রাসায়নিকের পাশাপাশি পলিথিন কারখানা ও গুদামে অভিযান চালায় টাস্কফোর্স।
অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় ঠিকমতো রাসায়নিক গুদাম বা কারখানা পাওয়া যায়নি। কারণ ব্যবসায়ীরা খবর পেয়ে অভিযানের আগেই সব রাসায়নিক সরিয়ে নেয়। জানা যায়, পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম সরকারের পক্ষ থেকে কেরানীগঞ্জসহ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হতে পারে। এছাড়া শ্যামপুর ও টঙ্গীতে সরকারিভাবে রাসায়নিক সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনো কোনো গুদাম তৈরি করা হয়নি।
পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই এলাকায় কয়েক হাজার রাসায়নিক গুদাম রয়েছে। চকবাজারের উর্দু রোডের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, এটা একটা লোক দেখানো অভিযান হয়েছে। এখনো প্রত্যেকটি বাড়িতে কারখানা এবং গোডাউন রয়েছে। হিসেব করলে পুরো চকবাজার এলাকায় কয়েক হাজার কেমিক্যাল পাওয়া যাবে এখনো।
এ নিয়ে ঢাকা সিটি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের টাস্কফোর্সের অভিযান ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আমরা এখন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করবো। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী রোববার দাহ্য নয় এমন কেমিক্যালের ব্যবসা যারা করেন তাদের সঙ্গে মিটিং রয়েছে। ৯ এবং ১০ তারিখে পুরান ঢাকার সকল কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের নিয়ে আরমানীটোলা মাঠে আমরা এবং ফায়াস সার্ভিস মিলে একটি প্রশিক্ষণশালা করবো। পরে মন্ত্রণালয় গোডাউন শিপ্টিংয়ের জন্য যে জায়গা দিচ্ছে এই সব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউম মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বেলায়েত হোসেন মানবজমিনকে বলেন, আমরা রাসায়নিক গুদাম সরানোর বিপক্ষে না। তবে সরিয়ে রাখব কোথায়? সরকার রাসায়নিক সরানোর আলাদা জায়গা বা যত দ্রুত আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে তত দ্রুত আমরা সরে পরবো। যে ২৯টি কেমিক্যাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেগুলো এখন আর ব্যবসায়ীরা রাখে না। টাস্কফোর্সের অভিযানের পরও কেউ যদি এই নিষিদ্ধ কেমিক্যালের ব্যবসা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আমরা বাধা দিব না।

লিবিয়ায় দুই পক্ষের প্রচণ্ড সংঘর্ষ

লিবিয়ায় জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিরোধী পক্ষ খলিফা হাফতার বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলোর আহ্বান উপেক্ষা করে সেখানে ভারী অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ত্রিপোলির সাবেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু শহরতলী দখলে নেওয়ার দাবি করেছে হাফতার বাহিনী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের খলিফা হাফতারের বাহিনী জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লিবিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণাঞ্চলের শহরতলীতে প্রচণ্ড আঘাত হেনেছে। তারা ত্রিপোলির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
গতকাল ত্রিপোলির সাবেক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) গতকাল শেষ রাতের দিকে সেখানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এলএনএ মুখপাত্র ও সেখানকার বাসিন্দারা এ তথ্য জানিয়েছে। তবে সরকার বাহিনী দাবি করেছে, সাবেক বিমানবন্দরটি তারা আবার নিজেদের দখলে নিয়েছে।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে হত্যার পর দেশটির বাসিন্দারা সরকার ও সরকারের সমান্তরালভাবে চলা পূর্বভিত্তিক এলএনএ বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই দেখে আসছে।
বেসামরিক যুদ্ধ এড়াতে হাফতারের সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বৈঠক পণ্ড হওয়ার পরই এ সংর্ঘষের ঘটনা ঘটল। এ প্রসঙ্গে টুইটারে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছিলেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং গভীর উদ্বেগ নিয়ে আমি লিবিয়া ছেড়ে এসেছি। এখনো আমি আশাবাদী যে ত্রিপোলি ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব।’
শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা কাউন্সিল রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছে। বৈঠকের পর এপ্রিল মাসের জন্য কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হোয়েসগুন এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কাউন্সিল এলএনএ বাহিনীকে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। পাশাপাশি অন্য বাহিনীগুলোকেও সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে। সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সংঘাতের কোনো সমাধান আসতে পারে না।
গুতেরেসকে হাফতার বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অভিযান চলবে। সেই বিষয়টিকে তুলে ধরে আল অ্যারাবিয়া টিভি বলেছে, ৭৫ বছর বয়সী হাফতার নিজেকে ইসলামি চরমপন্থীদের বিরোধী বলে দাবি করেন। তবে বিরোধীরা তাঁকে গাদ্দাফির নতুন সংস্করণ বলে মনে করেন।
উপকূলীয় রাজধানী ত্রিপোলি হাফতারের পূর্বাঞ্চলের সমান্তরাল সরকারের জন্য পুরস্কার হিসেবেই হাজির হয়েছে। ২০১৪ সালে হাফতার গাদ্দাফির সাবেক সেনাদের একত্র করেন এবং তিন বছরের যুদ্ধে পূর্বাঞ্চলের মূল শহর বেনগাজি দখল করে নেন। এ বছর তিনি তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলও দখল করেছেন।
বিরোধ মিটমাট করে দেশটিতে জাতীয় পুনর্মিলনী সম্মেলন আয়োজনের লক্ষ্যে বেনগাজিতে হাফতারের সঙ্গে সাক্ষাতে পাশাপাশি গুতেরেস এই সপ্তাহে ত্রিপোলিও সফর করেন।
গতকাল শুক্রবার এলএনএ জানিয়েছে, তারা রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলের শহরতলী কসর বেন ঘাশির এবং ওয়াদি আল-রাবি দখল করেছে। ২০১৪ সালের যুদ্ধের পর পরিত্যক্ত সাবেক ত্রিপোলি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও তারা দখল করছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের পাঁচজন সেনা নিহত হয়েছে।
এদিকে হাফতার বাহিনীকে ঠেকাতে ত্রিপোলি সরকারের সশস্ত্র বাহিনী মেশিনগান স্থাপন করা আরও ট্রাক নিয়ে উপকূলীয় শহর মিসরাতা থেকে ত্রিপোলির দিকে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়ার প্রেসিডেন্সি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফায়েজ মুস্তফা আল সেরাজ (৫৯) ও হাফতারের মধ্যে সমঝোতা চেষ্টা করেছিল জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলো। তাঁরা দুজন গত মাসে দুবাইয়ে এক বৈঠকে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। হাফতারের প্রতি মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এ দেশ দুটো থেকে সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকেন হাফতার।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা হাফতার বাহনীকে সাহায্য করছে না এবং ওই অঞ্চলে নতুন রক্তপাত এড়াতে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার প্রতি সমর্থন রয়েছে তাদের। নতুন সংঘাতের ঘটনায় লিবিয়ার সঙ্গে সীমান্তজুড়ে তিউনিশিয়া কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।
এদিকে এসব এলাকায় সংঘাত হলে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইতালিতে অভিবাসীদের ঢল নামে। তাই নতুন সংঘাতের ঘটনায় ইতালি খুব উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাতেও সালভিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের আগুনে পেট্রল নয়, পানি ঢালা প্রয়োজন। আমি আশা করি, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কথা ভেবে মানুষ সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে না। এটা ধ্বংস ডেকে আনবে।’

হাফ-পাস আছে হাফ-পাস নেই by সাথী মজুমদার

হাফ পাস, নাগরিক জীবনে শিক্ষার্থীদের রোজকার বিড়ম্বনার নাম। গণপরিবহনে যাতায়াতে অর্ধেক ভাড়া দিতে চান শিক্ষার্থীরা। কিন্তু না নিতে নারাজ বেশির ভাগ বাসের চালক-হেলপার। এই হাফ ভাড়া দেয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি হাফ ভাড়া নিয়ে বাসে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ওয়াসিমকে বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে।
কয়েক বছর আগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী সোনাপুর বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকদের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এর আগে পরেও ঘটেছে অনাকাঙ্খিত প্রাণহানির ঘটনা। শিক্ষার্থীরা বলছেন গণপরিবহনের হাফ পাস তাদের আবদার নয়, এটা এক ধরনের অধিকার। অথচ নিজেদের এমন অধিকার আদায় করতে গিয়ে সড়কে প্রাণ দিতে হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থীদের। রাজধানীর ২৪৬টি রুটে চলাচল করে প্রায় আট হাজার বাস। এর মধ্যে মাত্র বারোটি রুটে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস চালু আছে বলে মানবজমিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে। ১৯৬৪ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) চারটি বাসের মাধ্যমে সরকারিভাবে গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু করে। মূলত তখন থেকে সরকারি বাসে চালু হয় শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাসের প্রচলন।
এমন প্রচলনের পর ধীরে ধীরে বেসরকারি পরিবহনেও হাফ পাসের বন্দোবস্ত করা হয়। তবে এখন রাজধানীর প্রায় সব রুটে হাফ পাস না মানার কারণ হিসেবে পরিবহন মালিকরা বলছেন, বেসরকারি পরিবহন কোম্পানিগুলোর সাথে সরকারের এমন কোন লিখিত চুক্তি নেই। তবুও নায্য অধিকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস ব্যবস্থা পুরোদমে চালু করার দাবি সাধারণ শিক্ষার্থীদের। উন্নত বিশ্বের যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকায় ছাত্রছাত্রীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। নানা সময় ঘটছে প্রাণহানিও। হাফ পাসের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সরকারের কাছে নানা দাবিও তুলে ধরেন তারা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় বলেন, ঢাকার সকল রোডেই হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা উচিত। সিটিংয়ের নামে প্রতিটি বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া থেকে বঞ্চিত করা হয়।
অথচ নির্ধারিত সংখ্যক যাত্রীর চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী যাতায়াত করে এসব পরিবহনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র রিয়াজ বলেন, হাফ ভাড়া দিতে গেলে অনেক সময় বাকবিতণ্ডা হয়। হাতাহাতি ও মারারির ঘটনাও ঘটে। বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা গাড়িও ভাঙচুর করে। তবে গাড়ি ভাংচুর করা শিক্ষার্থীদের কাজ নয়। কিন্তু অধিকার আদায়ের জন্য অনেক সময় এরকম কাজ করতে হচ্ছে। সরকারি তিতুমীর কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তাসনিম মানবজমিনকে জানান, মনজিল (কামারপাড়া টু চিটাগাংরোড রুট) বাসে যাতায়াতের সময় হাফ ভাড়া দেয়া হলে অপমান করে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। একই কলেজের রসায়ন বিভাগের ছাত্রী সুমাইয়া শিমু জানান অনাবিল পরিবহন কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই হাফ পাশ কাটেন না। অপরদিকে ইডেন কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তানিয়া জেরিন জানান, রজনীগন্ধা বাস শিক্ষার্থী দেখলে দরজা বন্ধ করে দেয়। ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র নাঈম জানান, মালঞ্চ বাসটি হাফ পাশ কাটতে বললে মালিকের অযুহাত দেখান।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের লুবনা জানান, লাব্বাইক বাসের হেল্পার তার সাথে অশালীন আচরণ করে। হাফ ভাড়া নিয়ে মনজিল (গাড়ীনং ৯৬৩৮) বাসের চালক স্বপন এবং তার হেল্পারকে প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, হাফ পাশ শুধু স্টাফ , পুলিশ এবং প্রতিবন্ধীর জন্য। কোম্পানি ছাত্রছাত্রীদের জন্য কোন পাশ রাখেনি। অপরদিকে চেকার ও সমভাবে কোম্পনির উপর দায় চাপিয়ে যায়। বিকাশ, আলিফ, লাব্বাইক পরিবহনের হেলপার ও চালকরাও একই কায়দায় কোম্পানির অজুহাত দেখান। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েত উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, বেসরকারি বাসে ছাত্রছাত্রীদের জন্য পাশ নেই, পাশ সরকারি বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার এম মুরাদ আলী হাফ পাস বাস্তবায়নের বিষয়ে হতাশার কথা জানিয়ে বলেন, হাফপাশ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার। অনেক চেষ্টা করেও বাংলাদেশে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
এদিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া নিশ্চিতে উদ্যোগ নিবেন বলে সম্প্রতি ঘোষণা দেন। তার উদ্যোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত বিষয়টির সুরাহা করতে আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের একটি অফিসিয়াল গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবহনের বাস নিয়ে অভিযোগ করেন। যেসব পরিবহনে হাফ পাস নেয়া হয় না এমন কিছু পরিবহনের বিষয়ে অভিযোগে করেছেন শিক্ষার্থীরা। এগুলো হলো: মনজিল (কামারপাড়া টু চিটাগাংরোড), লাব্বাইক (সাইবোর্ড টু জিরানী), ট্রান্সসিলভা (যাত্রাবাড়ি টু মিরপুর), রজনীগন্ধা (চিটাগাংরোড টু মোহাম্মদপুর), অনাবিল (সাইনবোর্ড টু গাজীপুর), রবরব (গাবতলী ট ডেমরা), ছালছাবিল (সদরঘাট টু গাজীপুর), রাইদা (সদরঘাট টু দিয়াবাড়ি), মালঞ্চ (গুলিস্তান টু মোহাম্মদপুর), গাজীপুরপরিবহন (গুলিস্তান টু গাজীপুর), স্মার্ট উইনার (আজিমপুর টু কুড়িল)।
এছাড়া উৎসব, কোমল, দেওয়ান, ভিআইপি, বসুমতি, ৭১ পরিবহন, বিকাশ, বন্ধন, ১৩ নম্বর লোকাল, মৌমিতা পরিবহনসহ বেশ কিছু পরিবহন শিক্ষার্থীদের থেকে হাফ পাস নেয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব পরিবহন ছাত্রছাত্রীদের হাফভাড়া নিয়ে লাঞ্চিত ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তবে সরকার হস্তক্ষেপ নিলে দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করে শিক্ষার্থীরা।

কক্সবাজার উন্নয়নে গৃহীত মাস্টারপ্ল্যানে ব্যাপক অসঙ্গতি: ভোগান্তিতে নাগরিক সমাজ, বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছেন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা ঘিরে গৃহীত মাস্টারপ্ল্যানে ব্যাপক অসঙ্গতির কারণে ভুক্তভোগী ভূমি মালিকরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। একই সাথে এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের সাথে ২০১৩ সালে অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যানের বিস্তর গরমিল দেখা যাচ্ছে। এতে করে পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকার ভূমি মালিকরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সেলটেক নামের একটি বেসরকারি সংস্থা ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চেষ্টা করে তৈরী করেছিলেন কক্সবাজার পর্যটন এলাকার মাস্টার প্ল্যানটি।এর সাথে এখন বাস্তবতার নিরিখে অনেক গরমিল দেখা যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে পর্যটন এলাকা কক্সবাজারে অনেক ধরনের পরিবর্তন এবং উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
কয়েকজন ভূমি মালিক জানান, তারা নিজেদের মালিকানাধীন ভূমি সংস্কার ও সেখানে ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভে ব্যর্থ হচ্ছেন। অথবা ২০১৩ সালের অনুমোদিত মাস্টার প্লান এর সাথে বর্তমান উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপগুলোর গরমিলের কারণে তারা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভূমি মালিকরা জানান, মাস্টার প্লানে কিছু এলাকাকে বাণিজ্যিক এলাকা বলে দেখানো হলেও তা বাস্তবে আবাসিক এলাকা। আবার কিছু এলাকাকে প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা বলে উল্লেখ করা হলেও তা বাণিজ্যিক এলাকা।
কক্সবাজার শহরের পরিচিত টেকপাড়ার উকিলপাড়া নামে খ্যাত এলাকাটি একটি উন্নত মানের আবাসিক এলাকা হলেও এটিকে মাস্টারপ্ল্যানে দেখানো হয়েছে বাণিজ্যিক এলাকা বলে। আবার শহরের কচ্চইপ্পা পুকুরের পূর্ব এলাকাকে প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা বলে মাস্টারপ্ল্যানে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তা হচ্ছে একটি বিরাট আবাসিক এলাকা। সদর উপজেলার লাগোয়া উত্তর পাশের এলাকাটি একটি আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছে। সেটিকেও মাস্টার প্ল্যানে প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও টেকনাফ কক্সবাজার-আরাকান সড়কের সংযোগস্থল লিংক রোড এলাকাটি একটি বাণিজ্যিক এলাকা হলেও সেটিকে মাস্টার প্ল্যানে উল্লেখ করা হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক এলাকা হিসেবে। এতে করে ওই এলাকার ভূমি মালিকরা ঘরবাড়ি দোকানপাটসহ ভবন নির্মাণে কউকের অনুমোদন পেতে এখন হিমশিম খাচ্ছেন। এ সমস্যায় এখন কক্সবাজার শহরের শত শত নাগরিক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মাস্টার প্ল্যানে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্যিক এলাকায় ভবন নির্মাণ করতে দুই হাজার এক শত পঞ্চাশ বর্গফুটের জমিতে ২৫০ বর্গফুট পার্কিং রাখতে হবে। আর আবাসিক এলাকায় তিন হাজার দুইশত আটাশ বর্গফুট জমির জন্যও ২৫০ বর্গফুট পার্কিং রাখার বিধান করা হয়েছে। এখানেও আবাসিক এলাকাকে বাণিজ্যিক এলাকা বলে উল্লেখ করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন আবাসিক এলাকার ভূমি মালিকরা।
এদিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পাশে শহরের নাজিরারটেক থেকে নিরিবিলি হ্যাচারী পর্যন্ত জোয়ার ভাটা থেকে এক হাজার ফুট জায়গা খালি রেখে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার নিরিবিলি হ্যাচারী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দেড় হাজার ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে স্থাপনা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে মাস্টার প্ল্যানে।
অথচ এই পরিমাণ জায়গা ছেড়ে দিলে সৈকত এলাকায় কোন ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ আর থাকে না। এতে করে একদিকে বিস্তীর্ণ মেরিন ড্রাইভ সড়ক এলাকায় পর্যটক আকর্ষণের জন্য কোন ধরনের স্থাপনা যেমন নির্মাণ করা সম্ভব হবে না। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ওইসব এলাকার ভূমি মালিকরা। পাশাপাশি এখন যে দেশ-বিদেশের লাখ পর্যটক কক্সবাজার আসছেন সৈকতের সৌন্দর্য হারিয়ে এই পর্যটক স্রোত থেমে যাবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের অনুমোদিত এই মাস্টার প্লান বর্তমান অবস্থানের সাথে মিল নেই বলে উল্লেখ করে বাস্তবতার নিরিখে এ মাস্টার প্ল্যানের সংশোধন দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারের অভিজ্ঞ ও বিশিষ্টজনরা।
এছাড়াও বাস্তবতার সাথে নানা অসঙ্গতিপূর্ণ এই মাস্টার প্ল্যানের কারণে বর্তমান কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এখন জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে বাস্তবতার নিরিখে অসঙ্গতি গুলো দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করারও দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড মেম্বার প্রকৌশলী এম বদিউল আলম বলেন, অবশ্যই বাস্তবতার নিরিখে, বৃহত্তর জনস্বার্থে মাস্টার প্ল্যানের এসব অসঙ্গতির সংশোধন করে জন ভোগান্তি লাঘব করা খুবই প্রয়োজন।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত ফোরকান আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, হ্যাঁ, আগের মাস্টার প্ল্যানের বেশ কিছু অসঙ্গতি নজরে এসেছে। সেগুলো সংশোধন করে নতুন করে মাস্টার প্লান এর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই নতুন মাস্টার প্ল্যান পাওয়া যাবে।