Saturday, January 13, 2018

রোহিঙ্গার ছুরিকাঘাতে রোহিঙ্গা নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গার ছুরিকাঘাতে মমতাজ আহমদ (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এসময় মহিব উল্লাহ নামের আরো একজন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশের একটিদল অভিযান চালিয়ে আরিফ উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে।

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরিফ উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পের মমতাজ আহমদ নামক এক রোহিঙ্গাতে ছুরিকাঘাত করে। এসময় ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য রোহিঙ্গারা দ্রুত মমতাজকে স্থানীয় চিকিৎসা সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মারা যান। এসময় আরিফ উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গাকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ।


আটক আরিফ উল্লাহ বরাত দিয়ে ওসি আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে গেলো দুই বছর আগে আরিফ উল্লাহ ভাইকে হত্যা করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে মমতাজ। এরপর আরিফ উল্লাহও বাংলাদেশে এসে মমতাজকে খোজতে থাকে। এক পর্যায়ে দুপুরে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে পেয়ে মমতাজকে ছুরিকাহত করে।

ওসি আবুল খায়ের বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন কোন না কোন ঘটনা ঘটাচ্ছে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা। এ কারণে এসব রোহিঙ্গাদের সামাল দিতে পুলিশতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গার ছুরিকাঘাতে মমতাজ আহমদ (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। এসময় মহিব উল্লাহ নামের আরো একজন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উখিয়া থানা পুলিশের একটিদল অভিযান চালিয়ে আরিফ উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে।

উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরিফ উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী ক্যাম্পের মমতাজ আহমদ নামক এক রোহিঙ্গাতে ছুরিকাঘাত করে। এসময় ক্যাম্পে থাকা অন্যান্য রোহিঙ্গারা দ্রুত মমতাজকে স্থানীয় চিকিৎসা সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি মারা যান। এসময় আরিফ উল্লাহ নামের এক রোহিঙ্গাকে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ।


আটক আরিফ উল্লাহ বরাত দিয়ে ওসি আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে গেলো দুই বছর আগে আরিফ উল্লাহ ভাইকে হত্যা করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে মমতাজ। এরপর আরিফ উল্লাহও বাংলাদেশে এসে মমতাজকে খোজতে থাকে। এক পর্যায়ে দুপুরে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে পেয়ে মমতাজকে ছুরিকাহত করে।

ওসি আবুল খায়ের বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিদিন কোন না কোন ঘটনা ঘটাচ্ছে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা। এ কারণে এসব রোহিঙ্গাদের সামাল দিতে পুলিশতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

ইসি’র ওয়েবসাইট হ্যাকের পর পুনরুদ্ধার

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুটি ওয়েবসাইট শুক্রবার রাতে হ্যাক হয়। তবে শনিবার সকালেই তা পুনরুদ্ধার করা হয়।   জর্দানের একটি হ্যাকিং গ্রুপ নিজেদের ‘ডার্ক টেররিস্ট’ সাইট দুটি হ্যাক করার কথা জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হ্যাকিং গ্রুপটি নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে কোনো দাবি, হুমকি বা প্রতিবাদ জানায়নি। তারা বলছে, ‌হ্যাকিং কোনো অপরাধ নয়! এটা তাদের শিল্প।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন,  নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটটি তাদের সার্ভারেই হোস্ট করা। ফলে তাদেরই সাইটটি দেখভাল করতে হয়। তিন দিন আগে আইসিটি বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল। যেকোনও সময় হ্যাক হতে পারে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় এই হ্যাকিং এর ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপ (বিডিনগ) এর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির আরটিভি অনলাইকে বলেন, দেশের সরকারের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা খুবই দুর্বল। এ বিষয়ে সরকারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বহুবার কথাও হয়েছে। কিন্তু এখনো নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানা নেই।  এ কারণেই হ্যাকারদের সহজ টার্গেট হয় সরকারি ওয়েবসাইটগুলো। সাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা না গেলে ভবিষ্যতেও এরকম ঘটনা ঘটবে।

সুমন বলেন, নিজেদের পরিচিতি ও লাইমলাইটে আসতেই তারা হ্যাকিং এর জন্য সরকারি সাইটগুলোকে বেছে নেয়।  এছাড়াও সরকারি সাইটগুলোর প্রতি হ্যাকারদের একটি রাজনৈতিক আক্রোশ থাকে। সমসাময়িক দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুর কারণে ক্ষোভের জের ধরে হ্যাকাররা এই সাইটগুলো হ্যাক করে। এ কারণেই সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো জরুরি।

২০১৭ সাল ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর

বিদায়ী ২০১৭ সাল ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে চিহ্নিত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ব্যাংকে যে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে, ২০১৮ সালে তা নিরসন হবে এমন কোনো লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশের উন্নয়নে স্বাধীন পর্যালোচনা শিরোনামে বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৮-২০১৯ প্রথম অন্তর্বর্তী পর্যালোচনা বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য  বলেন, ২০১৭ সালটা ব্যাংক কেলেঙ্কারির বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। সার্বিকভাবে ২০১৭ সালে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চাপের মধ্যে ছিল। ব্যাংক অস্থিতিশীলতা নিরসনে কোনো পদক্ষেপ ২০১৮ তে হবে সেটার কোনো লক্ষণ আমরা দেখছি না। আমরা দেখছি অপরিশোধিত ঋণ বেড়ে গেছে। করের টাকা দিয়ে পুনরায় তফসিলি করা হয়েছে।

“বিভিন্ন ব্যক্তি খাতের ব্যাংকে প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মালিকানা বদল হয়েছে। নতুন যে ব্যক্তি খাতের ব্যাংকগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে সেগুলো কার্যকর হতে পারেনি। আমরা দেখছি ব্যক্তি খাতের ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনাও ঘটছে। ব্যাংকিং খাত দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায় সরকার এখন সংস্কারে আগ্রহী নয়।”

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি উল্টো একই পরিবারের দুই জনের পরিবর্তে চারজনকে ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগের সুযোগ দিয়েছে সরকার। এতে ব্যাংক হয়ে উঠছে পরিবারকেন্দ্রিক। 

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে, রপ্তানি আয় সেই হারে বাড়েনি। ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি হচ্ছে। টাকার মান কমেছে। সার্বিকভাবে সুদ হার কমলেও দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই সুবিধা পাননি। ঋণের  টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ জনগণের করের টাকা থেকে মূলধন যোগান দিচ্ছে। এখন বেসরকারি ব্যাংক থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

নতুন বছরে কে এগিয়ে?

বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের ব্যবসা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। গেলো বছর মাত্র দু’টি ছবি ব্যবসা সফল হয়েছে। সাফটা চুক্তির আওতায় চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী ও পরিবেশকরা কলকাতা থেকে ছবি এনেও খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেননি। সেসব ছবি মুখ থুবড়ে পড়েছে।

এমন অবস্থায় এসে নতুন বছরে বাংলাদেশের নায়িকারা কে কোন ছবি নিয়ে এগিয়ে থাকবে তার হিসেব করাটা বেশ কঠিন। তবুও বেশ কজন নায়িকার নাম ঘুরে ফিরে চিত্রপুরীতে আলোচনা হচ্ছে। এই প্রতিবেদনটি তাদের নিয়েই লেখা।  

২০১৮ সালে প্রথম স্থান দখলের জন্য বেশ ক'জন নায়িকার মধ্যে লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা হলেন ইয়ামিন হক ববি, শবনম বুবলী, মাহিয়া মাহি, বিদ্যা সিনহা মিম। এসকল নায়িকারা সবাই পরীক্ষিত। প্রত্যকের ঝুলিতে ব্যবসা সফল ছবি রয়েছে।

নায়িকা ববি অভিনীত সুপার হিরো সুপার হিরোইন ছবি ‘বিজলি’, ‘নোলক’, ‘বেপরোয়া’ ছবিগুলো মুক্তি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘বিজলি’ ছবির শুটিং শুরু সময় থেকেই আছে আলোচনায়। ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত এই ছবির মাধ্যমে প্রযোজকের খাতায় নাম লিখেছেন ববি।

এছাড়াও ‘নোলক’ ছবিতে ববির বিপরীতে আছেন শাকিব খান। আগেও এই নায়কের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিতে জুটি বেঁধেছিলেন ববি। ছবিগুলো প্রশংসিত হয়। ‘নোলক’-এর শুটিং হয়েছে ভারতের হায়দারাবাদ ফিল্ম সিটিতে। ছবিতে নতুন এক ববিকে দেখা যাবে। এমন লুকে তিনি আগে কখনো দেখা দেননি।

ছবিতে ববির ফাস্ট লুকও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়াও জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত এ নায়িকার ‘বেপরোয়া’ ছবিটিও বেশ আলোচনায় আছে। সবমিলে তিন ছবি নিয়ে তুমুল আলোচনায় আছেন ববি।     
শবনব বুবলী অভিনীত ‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া, নোয়াখাইল্যা মাইয়া’ ছবিটির শুটিং শেষ পথে।

ছবিতে তার নায়ক হিসেবে রয়েছেন শাকিব খান। এর আগে শাকিব-বুবলী জুটির সবক'টি ছবি ব্যবসা সফল এবং প্রশংসিত হয়েছে। নতুন ছবিটিও সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন উত্তম আকাশ। এছাড়াও শাকিব খানের সঙ্গে এই নায়িকার আরো দুই একটি ছবি মুক্তির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

মাহিয়া মাহি অভিনীত বহুল আলোচিত ছবি ‘জান্নাত’ চলতি বছরেই মুক্তি পাবার কথা। ছবিতে তার নায়ক হিসেবে আছেন সাইমন সাদিক। পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। ব্যবসা সফল ছবি ‘পোড়ামন’-এর পর আবারো এক সঙ্গে দেখা যাবে এই জুটিকে। ছবিটি নিয়ে এরই মধ্যে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।

‘জান্নাত’ ছবিটি মাহিকে বেশ এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও এই নায়িকার কয়েকটি ছবির শুটিং শেষপথে। কিন্তু চলতি বছর ছবিগুলো মুক্তি পাবে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   
বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত পাষাণ, আমি নেতা হবো, দাগ ছবি তিনটি আছে মুক্তির অপেক্ষায়।

এর মধ্যে ‘আমি নেতা হবো’ ছবিতে মিমের বিপরীতে আছেন শাকিব খান। উত্তম আকাশ পরিচালিত ছবিটি ব্যাপক আলোচনায় আছে। ছবির একটি গান এরই মধ্যে ইউটিউবে প্রশংসিত হয়েছে। ছবিতে শাকিব-মিমের রসায়ন দেখার আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন তাদের ভক্তরা।

এছাড়াও তানহা তাসনিয়া অভিনীত ‘ভালো থেকো’, অধরা খানের ‘মাতাল’ এবং ‘নায়ক’ ছবিগুলো আলোচনায় আছে। এই ছবি তিনটি দুই নায়িকার ভাগ্য খুলতে পারে বলে মনে করেছেন অনেকেই।
এদিকে নতুন বছর মাত্র শুরু হয়েছে। বছর শেষ হতে আরো ১১ মাস বাকি।

চলতি সময়ের নায়িকাদের মধ্যে যে কারো ছবি এসব হিসেব উল্টে দিতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে আপাতত প্রথম হবার লড়াইয়ে ইয়ামিন হক ববি, শবনম বুবলী, মাহিয়া মাহি, বিদ্যা সিনহা মিমকেই এগিয়ে রাখছেন সবাই।    

ঘন কুয়াশায় চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব


ঘন কুয়াশার কারণে আবুধাবী থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে নামতে পারেনি। সেটি সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে প্রথম ফ্লাইট সঠিক সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। একইভাবে অন্যান্য ফ্লাইটও ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে যাচ্ছে।
 

জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশ বিমানসহ সব এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ফ্লাইট অবতরণ করতে না পারায় ছাড়তে পারেনি।
 
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়া কথা ছিল। কিন্তু সেটি আবুধাবী থেকে এলেও শাহ আমানতে নামতে পারেনি। ফলে সকাল ১১টায় প্রথম ফ্লাইট ছেড়ে যায়।

২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ হাজার

২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। নিহতের এই সংখ্যা ২০১৬ সালের চেয়ে ২২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে সংগঠনটি।

পর্যবেক্ষণ রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে ছোট-বড় ৪,৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ২৩ হাজার ৫৯০ জন যাত্রী, চালক ও পরিবহন শ্রমিক হতাহত হয়েছেন।

এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মোট ৭ হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয়েছেন ১৬ হাহার ১৯৩ জন। এর মধ্যে হাত, পা বা অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন ১ হাজার ৭২২ জন।

দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ পথচারীকে চাপা, ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ মুখোমুখী সংঘর্ষ, ১১ দশমিক ৯ শতাংশ খাদে পড়ে এবং ২ দশমিক ৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সংগঠিত হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তা-ঘাটের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেড ফোন ব্যবহার।

এছাড়া রয়েছে মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, মহাসড়ক ও রেলক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে পড়া, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকায় রাস্তার মাঝ পথে পথচারীদের যাতায়াত।

ছয় ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ শুরু

কুমিল্লায় দুর্ঘটনাকবলিত ডেমু ট্রেন উদ্ধারের  সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ডেমু ট্রেনটি উদ্ধারের পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

ঘটনাস্থল থেকে রেলওয়ের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী মজুমদার জানান, ডেমু ট্রেনের একটি বগির আটটি চাকা লাইনচ্যুত হওয়ার পর লাকসাম থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১২টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরুর পর বিকেল তিনটার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হয়।

ওই দুর্ঘটনার ফলে কুমিল্লা, ময়নামতি, আখাউড়া ও লাকসামসহ বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আখাউড়া থেকে যাত্রীবাহী একটি ডেমু ট্রেন কুমিল্লা আসার পথে বানাসোয়া রেলক্রসিং এলাকায় একটি ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এতে ডেমু ট্রেনের একটি বগির আটটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এসময় বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

নারায়ণগঞ্জে কোরান শরিফ অবমাননাকারী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কোরআন শরিফ অবমাননার দায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে মেঘনা ঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার নাম হাসান উল ইসলাম। তিনি ফতুল্লার পূর্ব দেলপাড়া এলাকার মাছ মজিবুর রহমানের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরফুদ্দিন  জানান, সম্প্রতি হাসান উল ইসলাম তার নামে ফেসবুক আইডিতে কোরআন শরীফ অবমাননা করে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে।

এতে ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠে। এ নিয়ে ফতুল্লায় তোলপার সৃষ্টি হলে স্থানীয় মসজিদের ইমামরা জুমার নামাজ শেষে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।

এতে বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মুসলমান স্থানীয় একটি মাঠে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ করে। পরে হাসান উল ইসলামের বড় ভাই হেদায়েত উল ইসলামকে আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, প্রায় সাত ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে শনিবার সকালে মেঘনা ঘাট এলাকা থেকে হাসান উল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাতকানিয়ার ৮৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেপটপ বিতরণ


শিশুদের কম্পিউটার শিক্ষার আওতায় আনার উদ্দেশেই প্রাইমারি স্কুল পর্যায়ে সরকার ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে বললেন প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি। 

শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এসব লেপটপ বিতরণ করেন। এসময় সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোহাম্মদ মোবারক  হোসেন, সাতকানিয়া পৌর সভার মেয়র মোহাম্মদ জোবোয়েরসহ অন্যান্যরা উপস্থিতি ছিলেন।



সকাল ১০টায় সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স চত্বরে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাননীয় সাংসদ প্রফেসর ড আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বলেন, শিশুদের কম্পিউটার শিক্ষার আওতায় আনার উদ্দেশেই প্রাইমারি স্কুল পর্যায়ে সরকার ল্যাপটপ বিতরণ করছে। সভার সভাপতিত্ব করেন সাতকানিয়ার ইউএনও মোহাম্মদ মোবারক  হোসেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কতৃক প্রদত্ত লেপটপ বিতরণ ২০১৮ এর  অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার  ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামুল্যে লেপটপ বিতরণ করা হয়।




আসামে মুসলমান by এবনে গোলাম সামাদ

আসামের সবচেয়ে বড় শহর গৌহাটি। এখন এই শহরের দিসপুর নামক শহরতলিতে করা হয়েছে বর্তমান আসাম প্রদেশের রাজধানী। আমরা বাংলায় যে শহরটিকে বলি গৌহাটি, আসামি ভাষায় তার নাম গুয়াহাটি। এর আগের নাম ছিল গুবাক-হাটি। নামটা আসলে ফারসি। ফারসিতে গুবাক বলতে বোঝায় সুপারিকে। আর গুবাক-হাটি বলতে বোঝায় সুপারি বিক্রির হাট। বাংলার স্বাধীন সুলতানেরা গৌহাটি পর্যন্ত দখল করেছিলেন। সম্ভবত সে সময় থেকেই হতে পেরেছিল এই নামটি দেয়া। বাংলার সুলতান শাম্স-উদ-দীন ইলিয়াস শাহ্রে পুত্র সিকন্দার শাহ্ ১৩৬৭ সালে কামরূপে একটি টাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তার পুত্র গিয়াস-উদ-দীন আজম শাহ্ গৌহাটিতে একটি দুর্গ নির্মাণ করিয়েছিলেন। গৌহাটিতে প্রাপ্ত আরবি ভাষায় লিখিত একটি শিলালিপি থেকে এ তথ্য জানতে পারা যায়। শিলালিপিটি কামরূপ অনুসন্ধান সমিতির জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বাংলার বিখ্যাত সুলতান হোসেন শাহ্্ কামরূপ অধিকার করেছিলেন। কামরূপ বলতে বোঝাত, বর্তমান আসামের পশ্চিম ভাগকে। ব্রিটিশ শাসনামলে কামরূপ বলতে বুঝিয়েছে আসামের একটি জেলাকে। গৌহাটি ছিল এর সদর এবং আসামের সর্ব প্রধান শহর। একসময় কামরূপ বলতে বোঝাত বর্তমান আসমের পশ্চিম ভাগ এবং বর্তমান বাংলাদেশের উত্তর ভাগের কিছু অংশকে একত্রে। কামরূপের আরেকটি নাম ছিল ‘প্রাগজ্যোতিষ’। মুঘলরা পশ্চিম আসামকে বলতেন কামরূপ। তারা আসাম বলতে বোঝাতেন কেবল বর্তমান আসামের পূর্ব ভাগকে। আওরঙ্গজেবের শাসনামলে তার নিযুক্ত বাংলার নবাব মীর জুমলা আসাম জয় করতে গিয়ে গরগ্রাম পর্যন্ত জয় করেছিলেন। গরগ্রাম তখন ছিল আসামের রাজধানী। কিন্তু বন্যায়, বৃষ্টিতে, খাদ্যাভাব ও সৈন্যদের অসুস্থতার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হন ঢাকায়। এই যুদ্ধে ব্যবহৃত মীর জুমলার একটা কামান এখনও ঢাকায় রক্ষিত আছে। আসাম নামটির উদ্ভব নিয়ে অনেক মতভেদ আছে। বিখ্যাত ব্রিটিশ ভাষাতাত্ত্বিক জর্জ গ্রিয়ারসনের মতে, আসাম নামটির উদ্ভব হয়েছে সান শব্দ থেকে। সানরা বাস করত বর্তমান চীনের উন-নান (Yun-Nan) প্রদেশে। এখনো তারা সেখানে বাস করে। তাদের একটি শাখা উত্তর বার্মায় (মিয়ানমার) এসে উপনিবিষ্ট হয়। উত্তর বার্মায় উপনিবিষ্ট সানদের একজন নেতা এসে জয় করেন পূর্ব-আসাম; যা এখন শিব সাগর ও ডিব্রুগড় জেলা। এরপর তারা সারা আসামে অর্থাৎ কামরূপ অঞ্চলও দখল করতে সক্ষম হয়। সানরা তিব্বতি চীনা পরিবারভুক্ত (Sino-Tibetan) ভাষায় কথা বলে; আর্য পরিবারভুক্ত ভাষায় নয়। সানদের রাজা চুচেন জাফা (Chuchen Jpha) খ্রিষ্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন। তার রাজত্বকাল থেকে আসামি বা অহমিয়া ভাষা সমগ্র আসামের রাজভাষা হয়ে উঠতে আরম্ভ করে এবং অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
পুরনো এই আসামি ভাষা ছিল কামরূপী বাংলার আধারে গঠিত। কিন্তু বর্তমান আসামে যে ভাষা চলেছে, তাতে আছে শিব সাগর ও ডিব্রুগড়ের কথ্যভাষার শব্দের প্রাধান্য। অর্থাৎ সান ভাষার কিছু প্রবণতা। কিন্তু মানবধারার দিক থেকে গোটা আসামে রয়েছে মঙ্গোলীয় মানবধারার বিশেষ প্রভাব। আর্য বলতে সাধারণত যে ধরনের মানুষের চেহারা আমাদের মনে আসে, অধিকাংশ আসামির চেহারার মিল তার সঙ্গে হয় না। আসামবাসীর মাথার চুল সাধারণত ঋজু ও খড়খড়ে। অর্থাৎ তাদের মাথার চুল মাটিতে পড়লে সোজা হয়ে থাকে। দুই মাথা সামান্য একটু বাঁকা হয় মাত্র। এদের মুখে দাড়িগোফ হতে দেখা যায় কম। এদের চোখের উপরের পাতায় থাকতে দেখা যায় বিশেষ ধরনের ভাঁজ। এ জন্য এদের চোখকে দেখায় ছোট এবং বাঁকা। এদের গণ্ডের হাড় হতে দেখা যায় উঁচু। এর ফলে সাধারণভাবে এদের মুখমণ্ডলকে মনে হয় সমতল। এদের গায়ের রঙ হতে দেখা যায় হরিদ্রাভ-বাদামি। তবে ভারত সরকার এখন এদের আর্য বলে প্রমাণ করতে চাচ্ছে। কিন্তু ভাষাতাত্ত্বিকরা আসামি ভাষাকে বাংলার মতো ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারে (আর্য) স্থাপন করলেও বলেন না যে, এদের উদ্ভব হয়েছে আদি আর্য মানবধারা থেকে। গ্রিয়ারসনের মতে, বাংলা ও আসামি ভাষার উদ্ভব হয়েছে একই মাগধী প্রাকৃত ভাষা থেকে। এদের সম্বন্ধ খুবই কাছের। গ্রিয়ারসনের মতে- ভোজপুরী, মাগধী, মৈথিলি, উড়িয়া, আসামি এবং বাংলা হলো এতই কাছের ভাষা যে, এদের সবার জন্যই একটি ব্যাকরণ রচনা করা যেতে পারে। আগে মৈথিলি, বাংলা ও অহমিয়া ভাষা একই অক্ষরে লিখা হতো। কিন্তু এখন বিহারে মৈথিলি ভাষা লেখা হচ্ছে নাগরিতে। তবে বাংলা ও অহমিয়া আগের মতোই এখনও লিখা হচ্ছে একই অক্ষরে। যার উদ্ভব হয়েছিল বর্তমান বিহারের ত্রিহুতে (মিথিলা)। বাংলা ও অহমিয়া অক্ষরের মধ্যে পাথর্ক্য হলো, অহমিয়া ‘ব’ অক্ষর হলো অন্তস্থ ‘ব’ এবং অহমিয়া ভাষায় ‘র’ লেখা হয় এই অন্তস্থ ‘ব’-এর পেট কেটে। অহমিয়া ভাষায় ‘খ’-এর উচ্চারণ হয় কতকটা ফারসি ‘খে’ অক্ষরের মতো। আসামে শতকরা ৬১.৪৭ জন হলো হিন্দু। মুসলমান শতকরা ৩৪.২২ জন। বাদবাকিরা অন্যান্য ধর্মের লোক। আসামের ৩২ জেলার মধ্যে ৯টি জেলা হলো মুসলিমপ্রধান।
এগুলো হলো : ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, বড়পেটা, মরিগাঁও, নওগাঁও, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দী, দারাঙ্গ এবং বনগাইগাঁও। আসামে সব মুসলমান যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া, নিশ্চয় তা নয়। অনেক মুসলমানকে চেহারার দিক থেকে আসামিদের থেকে আলাদা করে চেনা যায় না। বাঙালিদের গায়ের রং কালো। মাথার আকৃতি সাধারণত মাঝারি। চোখ আয়ত এবং মুখে দাড়িগোঁফের প্রাধান্য থাকতে দেখা যায়। কাছাড় জেলায় অনেক মুসলমানের বাস। তাদের পূর্বপুরুষ সেখানে গিয়েছিল সিলেট জেলা থেকে। ব্রিটিশ শাসনামলে ধুবড়ি ও গোয়ালপাড়া জেলা রংপুর থেকে কেটে যোগ করা হয় আসামের সঙ্গে। এ দু’জেলার ভাষা হলো বাংলা। আসামে ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার কিছু দিন পর ১৯৫০ সালে গোয়ালপাড়ায় আরম্ভ হয় ‘বঙ্গাল খেদা’ আন্দোলন। অথচ গোয়ালপাড়া একসময় ছিল বাংলাদেশেরই অংশ। ১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ মে আসামের শিলচরে একদল বাঙালি হিন্দু দাবি করেন, আসামে কেবলমাত্র অহমিয়া ভাষাকেই প্রাদেশিক সরকারি ভাষা করা যাবে না এবং বাংলাভাষাকে করতে হবে দ্বিতীয় সরকারি ভাষা। এই বিক্ষোভকারীদের ওপর আসাম সরকার গুলি চালায়। ফলে ১১ জন নিহত হয়। কিন্তু আসাম সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে। ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সরকার আসাম দখল করার পর আসামকে করেছিল তদানীন্তন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অংশ। ১৯০৬ সালে গঠিত হয় Eastern Bengal And Assam Province। এরপর আসামকে একটি চিফ কমিশনার শাসিত প্রদেশ হিসেবে গঠন করা হয় যার রাজধানী হয় শিলং। ইস্টার্ন বেঙ্গল-আসাম প্রভিন্সের রাজধানী করা হয়েছিল ঢাকা। নবগঠিত আসাম প্রদেশের সাথে যুক্ত করা হয় সাবেক সিলেট জেলাকে। ১৯৪৭ সালে গণভোটের মাধ্যমে সিলেট জেলার করিমগঞ্জ মহকুমা ছাড়া আর সবক’টি মহকুমা গণভোটের মাধ্যমে যোগ দেয় পাকিস্তানে। অর্থাৎ আসাম ও বাংলাদেশের মধ্যে নানাভাবেই হতে পেরেছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। হঠাৎ করেই যে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে মুসলমানেরা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে, তাও বলা সঙ্গত নয়। বাংলাদেশ একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর দলে দলে বাংলাভাষী মুসলমানরা আসামে গেছে, এমন প্রমাণ নেই।
যেখানে এখনও বাংলাদেশ থেকে মানুষ বেআইনিভাবে ভারতে যেতে বিএসএফের গুলি খেতে হচ্ছে, সেখানে এত মুসলমান ভারতের আসামে কী করে যেতে পারে, সেটা আমাদের উপলব্ধিতে আসে না। আসামের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশেরও সীমান্ত আছে। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ থেকে বাংলাভাষী মুসলমান একরাষ্ট্র বলে সহজেই আসামে ঢুকতে পারে। তাদের গুলি করে মারার কোনো আইন কার্যকর নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসাম থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের তাড়াবার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেননা, এদের একটি বিরাট অংশ হতে পারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নয়। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলা থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসাম রাজ্য সরকারের সমালোচনা করার পর, আসাম রাজ্য সরকার তার বিরুদ্ধে আসামের আদালতে মামলা রুজু করেছে। ভারতের সংবিধান অনুসারে এরকম মামলা আদৌ করা যায় কি না, তা আমরা জানি না। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ব্রিটিশ শাসনামলে আসাম প্রদেশে কোনো হাইকোর্ট ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। থাকার কথা নয় কোনো সমুদ্র বন্দর। আসামকে ব্যবহার করতে হতো কলকাতা ও চট্টগ্রাম বন্দর। এর মাধ্যমে তাদের মূল অর্থকরী রফতানিপণ্য চা বিদেশে রফতানি হতো। আসামে বর্তমানে হাইকোর্ট আছে। এই হাইকোর্ট কেবল আসামের জন্য নয়; মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল ও ত্রিপুরা প্রদেশেরও জন্য। আসামের হাইকোর্ট গৌহাটিতে অবস্থিত। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯৮০ এর দশকে গঠিত হয়েছিল উলফা (ULFA= United Liberation Front of Assam)। এদের লক্ষ্য ছিল আসাম, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশকে নিয়ে একটি পৃথক স্বাধীন ‘আসাম ফেডারেশন’ গঠন। এই আন্দোলন বর্তমানে খুব স্তিমিত হয়ে পড়লেও আবার মাথা চাড়া দেয়ার সম্ভাবনা আছে। আসামে যাতে এই আন্দোলন আবার জোরালো হতে না পারে, আসাম থেকে বাংলাভাষী মুসলমান বিতাড়ন সম্ভবত এ জন্যই। জানি না, আসামে বসবাসকারী বাংলাভাষী মুসলমানদের দশা আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানদের মতোই হয়ে উঠবে কি না।
লেখক : প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

ইজতেমায় এবার বাংলায় আখেরি মোনাজাত

বিশ্বইজতেমায় এবার আখেরী মোনাজাত হবে বাংলায়। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাংলাদেশী মাওলানা হাফেজ জোবায়ের। আখেরি মোনাজাতের আগে হেদায়তি বয়ান হয় তা করবেন আরেক বাংলাদেশী মাওলানা আব্দুল মতিন। বিশ্বইজতেমার মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভিকে নিয়ে বিতর্ক তৈরীর পর বাধার মুখে তিনি এবারে টঙ্গীর বিশ্বইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন না। ভারতের মাওলানা জোবায়রুল হাসান মারা যাওয়ার পর তিনিই বিশ্বইজতেমায় তার হাল ধরেছিলেন। বিশ্বইজতেমায় উর্দূতে বয়ান করা ছাড়াও তিনি একই ভাষায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করতেন।
কিন্তু এবার আখেরি মোনাজাত ও হেদায়তি বয়ান দুই-ই হবে বাংলায়। বিশ্বইজতেমার মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন আরো জানান, রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার রাতে তাবলীগ জামাতের মুরুব্বীদের নিয়ে এক বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তাবলীগ জামাতের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক শীর্ষ স্থানীয় মুরুব্বী বলেন, আখেরি মোনাজাত হবে আরবিতে কিংবা উর্দূতে। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর শুরু হয়েছে এবারের বিশ্বইজতেমার প্রথম দফা। রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ দফা। চারদিন বিরতি দিয়ে ১৯জানুয়ারি শুরু হবে বিশ্বইজতেমার দ্বিতীয় দফা, ২১জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা। প্রায় ১০০বছর আগে ইসলামের দাওয়াতি কাজকে ত্বরান্বিত করতে মাওলানা ইলিয়াছ শাহ (রহ.) দিল্লীর নিজামুদ্দিন মসজিদ থেকে তাবলিগের কাজ শুরু করেন। মাওলানা ইলিয়াছের (রহ.) ছেলে মাওলানা হারুন (রহ.)। তারই ছেলে হলে মাওলানা সাদ কান্ধলভী। ২০১৫সাল থেকে মাওলানা সাদ আখেরি মোনাজাত পরিচালানা করে আসছেন। এরআগে তিনি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুধু তাবলীগের বয়ান দিতেন।

অবৈধ পথে মালদ্বীপ যাওয়ার হিড়িক, বিপদ ঘাটে ঘাটে

বিশ্বে দ্বীপরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত মালদ্বীপে পাড়ি জমানো বেশির ভাগ শ্রমিক বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত। আদমপাচারকারী সিন্ডিকেটের খপ্পরে অবৈধ পথে দেশটিতে যাওয়ায় তাদের যেন বিপদ পিছু ছাড়ছে না। এর ওপর আবার দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে শ্রমিকদের ঘাটে ঘাটে বিপদ দেখা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী ও প্রতারিত শ্রমিকদের অভিযোগ- মালদ্বীপে যারা পাড়ি দিয়েছেন তাদের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ কর্মীই পাসপোর্টসহ নানাবিধ সমস্যার মধ্যে আছেন। এসব অসহায় কর্মী বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হাইকমিশনের দ্বারস্থ হলেও তারা কাক্সিক্ষত সেবার বদলে আরো বেশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ দেশে ফিরতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তার পরও পাচ্ছেন না ট্রাভেল পাস। এর কারণে দেশে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অনেকের। তবে হাইকমিশনে দালালদের কদর বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ দিকে দেশটিতে অবৈধ পথে বাংলাদেশী যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দালালদের উৎপাতও বেড়েছে। বেড়েছে মুক্তিপণসহ নানবিধ অপরাধও। সম্প্রতি মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে থেকে হারুনুর রশীদ নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণকারীরা চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে আটকে রাখেন। তার ছেলে রাজিব বিষয়টি জানতে পেরে থানায় মামলা করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অপহরণকারী দলের প্রধান কবিরসহ দু’জনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয়। এ ঘটনার জেরে অপহৃত হারুনুর রশীদ হাইকমিশন থেকে দেশে ফিরতে ট্রাভেল পাস নিতে গেলে লেবার উইংয়ের কর্মকর্তা আল মামুন পাঠান গড়িমসি করছেন। এ কারণে হার্টের রোগী হারুন এক মাসেও দেশে ফিরতে পারেননি। হারুনকে দেশে ফিরতে দেয়ার জন্য পরে অপহরণ মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মামুনকে অনুরোধ জানান। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিএস) মুহসীন চৌধুরীসহ অনেকেই হস্তক্ষেপ করেন। কিন্তু তিনি কারো কথাই শুনছেন না। বরং তিনি অপহরণকারীদের পক্ষ নিয়ে উল্টো হারুন ও তার ছেলেকে হুমকিধমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মালদ্বীপে নিযুক্ত লেবার উইংয়ের কর্মকর্তা আল মামুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে লেবার কাউন্সিলর টি কে এম মুশফিকুর রহমানের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হয়। তাকেও পাওয়া যায়নি। যদিও শুক্র ও শনিবার দেশটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর মালের বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাজ শেষে বাসায় ফিরতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন ময়মনসিংহ ভালুকার আংগারগারা গ্রামের বাসিন্দা হারুনুর রশীদ। কিন্তু তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছয়-সাতজন দুর্বৃত্ত তাকে মারধর করে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তার ছেলে রাজীব ১০ ডিসেম্বর থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে ৫২ বছর বয়সী হারুনকে একটি ফ্ল্যাট থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় জড়িত সন্দেহে এজাহারভুক্ত আসামি বাংলাদেশী কথিত অপহরণকারী দলের প্রধান কবিরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে রিমান্ডে নিয়ে অপহরণ রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বিষয়টি মালদ্বীপের জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনেও প্রকাশিত হয়। পরে কবির ও তার সহযোগী জামিনে মুক্তি পান। এরপরই হারুনের দেশে ফেরার ব্যাপারে জটিলতা দেখা দেয়। গতকাল মালদ্বীপ থেকে টেলিফোনে হারুনুর রশীদের ছেলে রাজীব নয়া দিগন্তকে বলেন, আমার বাবাকে অপহরণকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে পারলেও এক মাসেও দেশে ফেরাত পারিনি। বাবা হার্টের রোগী। তার দেশে ফিরতে হলে ট্রাভেল পাস দরকার। হাইকমিশনে লোক পাঠিয়েছি। কিন্তু লেবার উইং কর্মকর্তা আল মামুন পাঠান স্যার দিতে চাচ্ছেন না। আমি নাকি তাকে টেলিফোনে হুমকি দিয়েছি। আমাকে আগে হাইকমিশনে যেতে হবে। এখন বলছেন মামলা নিষ্পত্তি হোক। তিনি বলেন, পুলিশ গিয়ে তাকে অনুরোধ করেছে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর পিএস স্যারের কথা বলেছি। তিনি কারো কথাই শুনছেন না।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাবাকে দেশে পাঠাতে হলে তিন পাতার ট্রাভেল পাস দরকার। ২০ ইউএস ডলারে এটি হাইকমিশন থেকে দেয়া হয়। কিন্তু যারা দেশে ফিরতে চাচ্ছেন তারা কেউ দালাল ছাড়া ফিরতে পারছেন না। প্রতি পাসপোর্ট, টিকিট ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্যাকেজ হিসেবে দালালরা ছয় হাজার মালদ্বীপ রুপি নিচ্ছে। অপহরণকারী কবির প্রসঙ্গে বলেন, কবিরসহ বাংলাদেশী একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। যারা অবৈধভাবে এ দেশে আসছে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ কামাই করাই তাদের কাজ। এখানে এরা অনেক বছর ধরে আছে। বিয়ে এ দেশে করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই গুম করার চেষ্টা করে। কেন কবির আপনার বাবার ওপর ক্ষিপ্ত- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কবীর বলে, আমার বাবার কাছে নাকি চর লাখ টাকা পাবে। এ দিকে মালদ্বীপের একটি রিসোর্ট থেকে রুস্তম ও জয়নাল নামের দুই বাংলাদেশী গতকাল নয়া দিগন্তকে টেলিফোনে বলেন, তারা মালদ্বীপে থাকলেও তাদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে অনিশ্চয়তায়। কাজ করার পরও রিসোর্টের মালিক ঠিকমতো বেতন দেয় না। কোনো কোনো মালিক দুই-তিন মাস খাটানোর পর বলে, ‘তুই চলে যা’। না গেলে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়। তবে যারা কোম্পানি, ফিশিংয়ের নামে আসছেন তাদের সমস্যা হয় না। তারা মাস শেষে বেতন পান লাখ টাকার মতো। জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর এক কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, মালদ্বীপের নামে কিছু বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। তবে একশ্রেণীর দালাল অবৈধ পথে বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন লোক পাঠাচ্ছে। দালালেরা আড়াই লাখ টাকার চুক্তিতে টুরিস্ট ভিসায় প্রথমে ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কায় নিয়ে যাচ্ছে। সেখান থেকে আবার ভিসা লাগিয়ে মালদ্বীপে নিয়ে যাচ্ছে। এমন অবৈধ শ্রমিকের সংখ্যা শতকরা ৭০ ভাগ। এখন শ্রীলঙ্কা ছাড়াও ভারতের রুট দিয়ে অবৈধ লোক পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের মতে, যারা অবৈধ পথে যাচ্ছেন তারাই রয়েছেন পাসপোর্ট করা, নতুন পাসপোর্ট নবায়নসহ নানা ধরনের বিপদে। এই সংখ্যা অর্ধলক্ষাধিক হবে বলে তিনি মনে করছেন।

২০১৭ সালে গুমের শিকার ৮৬ জন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গত বছর ৮৬ জনের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৯ জনের লাশ পাওয়া গেছে এবং ৪৫ জনকে গুম করার পর পরবর্তী সময়ে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছেড়ে দেয়া হয়েছে ১৬ জনকে। এখন পর্যন্ত বাকি ১৬ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১৭ তে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে অধিকার। তথ্যানুসন্ধান, দেশের বিভিন্ন জেলার মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে অধিকারের মাসিক মানবাধিকার প্রতিবেদনগুলো। ২০১৭ সালের প্রতি মাসে অধিকারের প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর সংক্ষিপ্তরূপ এ বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১৭। বার্ষিক এ মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুম মানবতাবিরোধী অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও ২০১৭ সালে তা অব্যাহতভাবে ঘটেছে। ভিকটিমদের (ভুক্তভোগীদের) পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাই তাদের ধরে নিয়ে গেছে এবং এর পর থেকেই তারা গুম হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে স্পষ্টতই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যও পাওয়া গেছে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রথমে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তী সময়ে আটক ব্যক্তিটিকে জনসম্মুখে হাজির করেছে অথবা কোনো থানায় নিয়ে হস্তান্তর করেছে বা গুম হওয়া ব্যক্তিটির লাশ পাওয়া গেছে। অধিকারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ সালে ১৫৪ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ১৫৪ জনের মধ্যে ২ জন বিএনপির নেতা, ১ জন শিবিরকর্মী। ১ জন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নানিয়ারচর শাখার সাধারণ সম্পাদক, ১ জন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য, ১ জন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির (মৃণাল বাহিনী) সদস্য, ১ জন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, ২ জন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (লাল পতাকা) সদস্য, ১ জন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল জনযুদ্ধ) সদস্য, ১ জন সর্বহারা পার্টির সদস্য, ৫ জন জেএমবির সদস্য, ১ জন হরকাতুল জিহাদ-আল-ইসলামীর সদস্য, ১ জন গরু ব্যবসায়ী, ১ জন প্রামবাসী, ২ জন ব্যবসায়ী, ১ জন কাঠমিস্ত্রি, ১ জন কৃষক, ১ জন ড্রাইভার, ১ জন চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী, ২ জন বিভিন্ন মামলার আসামি, ১ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ১১৯ জন কথিত অপরাধী। নিহত ৭ জনের পরিচয় জানা যায়নি। অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে ব্যাপক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে প্রকাশ করেছেন এবং দায়মুক্তি ভোগ করেছেন। অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল বছর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৬৬ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ সময় ক্ষমতাসীন দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনা ঘটেছে ৩১৪টি। আর তাতে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩২৭ জন। অধিকার গত বছর বিএনপির ২২টি অভ্যন্তরীণ সঙ্ঘাতের ঘটনা রেকর্ড করে। এসব ঘটনায় কেউ নিহত না হলেও ২২৫ জন আহত হন।

দাবি না মানলে মরা ছাড়া গতি নেই

সরকার যদি আমাদের দাবির প্রতি সাড়া না দেয় তাহলে না খেয়ে মরে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না। এ ছাড়া আমরা আর কী করতে পারি? আমরা অনেক অহিংস আন্দোলন করেছি। বারবার খালি হাতে ফিরে গিয়েছি। এখন না খেয়ে মরা ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নেই। কথাগুলো বললেন বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের আমরণ অনশনের গতকাল চতুর্থ দিন পার হয়েছে। তাদের দাবি মাদরাসা বোর্ড থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করতে হবে। কিন্তুসরকার এখনো নির্বিকার তাদের এ দাবির প্রতি। অপর দিকে অনশনরত শিক্ষকেরাও অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, দাবি আদায় না করে তারা এবার আর বাড়ি ফিরবেন না। অনশন করতে করতে যদি মৃত্যুও হয় তবু তারা ফিরবেন না। সমিতির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম ফরাজী বলেন, আমরা আর এ মুখ নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই না। আমাদের আর মুখ দেখানোর উপায় নেই। মানুষ এখন আমাদের নিয়ে মশকারা করে। তাই দাবি আদায় করার জন্য যত দিন অনশন করতে হয় করব। প্রয়োজনে মরে যাবো। কিন্তু এভাবে আর ফিরতে চাই না।
মাস্টার্স পাস করে বিনা বেতনে শিক্ষকতা
আব্দুল লতিফ চৌধুরী কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে মাস্টার্স পাস করেছেন। এ ছাড়া তিনি কুরআনে হাফেজ এবং মাদরাসা থেকে কামিল পাসও করেছেন। আব্দুল লতিফ চৌধুরী টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে অবস্থিত অলোয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় গত ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন। তিনি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক। মাস্টার্স পাস করে কেন এখানে পড়ে আছেন জানতে চাইলে আব্দুল লতিফ বলেন, মাদরাসাটি আমার নানা প্রতিষ্ঠা করেছেন। নানা মারা যাওয়ার সময় আমাকে বলে গেছেন আমার পরে তুমি মাদরাসাটি চালাবে। এটা একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। তুমি এটা ছেড়ে যাবে না। মাদরাসাটি ধরে রাখবে। তাই নানার কথা অনুযায়ী পরকালের আশায় এখানে থেকে গেছি। কিভাবে সংসার চালান জানতে চাইলে আব্দুল লতিফ বলেন, কিছু জমি আছে। তা চাষ করি। জাতীয়করণ বিষয়ে তিনি বলেন, যত দিন সরকার আমাদের দাবি না মানবে তত দিন এখানে অনশন করতে থাকব। একই দাবির কথা জানান জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার শিক্ষক মো: নাসির উদ্দিন। তিনি ৩৩ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। রুহুল আমিন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক। তিনি কামিল পাসের সাথে সাধারণ শিক্ষায়ও মাস্টার্স পাস করেছেন ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে। ২৫ বছর ধরে তিনি বিনা বেতনে চাকরি করছেন। মো: গোলাম মাওলা জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জে অবস্থিত আইরমারি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। মাওলানা মো: শেখ আব্দুস সাত্তার কাউনিয়ার চর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় ৩২ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। মাদরাসাটি ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শেখ আবদুস সাত্তার কামিল পাস করেছেন। দাবি আদায়ের ব্যাপারে তারা সবাই অনড় অবস্থানের কথা জানান। অনশনে অংশ নেয়া সুলতান আহমেদ নামে একজন তরুণ শিক্ষক মুখ মলিন করে বলেন, ভাই আমি খুব গরিব মানুষ। না খেয়ে আর কত দিন থাকব। আর এভাবে খালি হাতে বাড়ি গিয়ে করবই বা কী? সংসার তো অচল।
সুলতান আহমেদ নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার মৌজাতৈলমারি দক্ষিণ যদুনাথপাড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক। জাতীয়করণের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনের বিবরণ দিয়ে সমিতির সহভাপাতি তাজুল ইসলাম ফরাজী বলেন, ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয়করণের লক্ষ্যে লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি শুরু করি আমরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেই আট থেকে ১০ বার অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ অনেক কর্মসূচি পালন করেছি আমরা। ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে একটানা ২৯ দিন অবস্থান কর্মসূচি করে খালি হাতে ফেরত গিয়েছি। তখন শিক্ষামন্ত্রী আমাদের ডেকে নিয়ে বৈঠকও করেছেন। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলনের সময় মন্ত্রীসহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে অনেক বৈঠক হয়েছে, কমিটি গঠিত হয়েছে আমাদের দাবি পূরণের বিষয়ে। কিন্তু প্রতিবার ফলাফল শূন্য। এখন আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দাবি আদায় না করে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। গত ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির গত ৯ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন তারা। অনশনে প্রতিদিন বাড়ছে শিক্ষকদের সংখ্যা। সমিতির সভাপতি কাজী রুহুল আমিন চৌধুরী বলেন, একটানা ১২ দিন অবস্থান এবং চার দিন অনশনের কারণে এখন সবাই কমবেশি অসুস্থ। আমরা স্বাস্থ্যসচিবের কাছে চিঠি লিখেছিলাম আমাদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ার জন্য। কিন্তু কোনো সাড়া পেলাম না। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর অধীন হলেও শিক্ষামন্ত্রী এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো খোঁজ নিলেন না। অনশন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনরত তরুণ শিক্ষক আবু সাঈদ জানান, গতকাল পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। সাতজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষকেরা জানান, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ভাতার আওতায় আনার ঘোষণা দেয়ার পর সব রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করা হয়, কিন্তু স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করা হয়নি। জাতীয়করণ দূরের কথা, মাত্র এক হাজার ৫১৯টি মাদরাসা ভাতার আওতায় আনার পর এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অপর দিকে রেজিস্টার্ড প্রাইমরি স্কুলের ভাতা ধাপে ধাপে বাড়ার পর ২০১৩ সালে সব স্কুল জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮৪ সালে মাদরাসা বোর্ড ১৮ হাজার ১৯৪টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রেজিস্ট্রেশন দেয়। বেতন ভাতার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক মাদরাসা।

কনকনে ঠাণ্ডা আরো দু–এক দিন

চলমান শৈত্যপ্রবাহে কনকনে ঠাণ্ডা আরো এক-দুই দিন থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী শৈত্যপ্রবাহটি শুরু হয়েছিল মূলত জেট বায়ু নামে একটি শীতল বাতাসের প্রবাহ ও উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপবলয় একসঙ্গে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হয়ে পড়ায়। জেট বায়ুটি বাংলাদেশের ওপর থেকে সরে গেলেও উচ্চ চাপবলয়টি এখনো সক্রিয়। ফলে শৈত্যপ্রবাহটি সক্রিয় রয়েছে এবং এটি আরও এক-দুই দিন থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত বৃহস্পতিবার দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল তা কমে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও অনেক এলাকায় তা এখনো ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে। একই সঙ্গে বেশির ভাগ এলাকার ওপর মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা ছিল। আর থেমে থেমে ঠান্ডা বাতাসও বয়ে গেছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নওগাঁর বদলগাছিতে ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি। দেশের অন্যান্য এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রির নিচে ও সামান্য ওপরে। এসব এলাকায় আজও একই ধরনের তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

হার্টের ছিদ্র দিয়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যুর মুখে শফিকুল

হার্টের মধ্যে ছিদ্র দেখা দিয়েছে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত শফিকুল ইসলামের। প্রায় ৭ মাস আগে হার্টে ছিদ্র ধরা পড়লেও শফিকুলের দিনমজুর বাবা ছেলের এখনো চিকিৎসা শুরু করতে পারেননি। ওই অবস্থায় শফিকুলের হার্টের ছিদ্রটি বড় হয়ে তা দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে থাকায় মৃত্যু মুখে পড়েছে শফিকুল। শফিকুলের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের নিজতুলন্দর গ্রামের আবদুর রহিমের ৩ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় শফিকুল। আবদুর রহিম ঈশ্বরগঞ্জ বাজারের একটি রড-সিমেন্টর দোকানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। শফিকুল ইসলাম ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ২০১৭ সালে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়ণরত অবস্থায় গত শফিকুলের বুকে ব্যথা অনুভব করায় এবং শরীর ক্রমশ খারাপ হয়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর জানায়, শফিকুলের হার্টে একটি ছিদ্র রয়েছে। দ্রুত সেটি অপারেশন করতে হবে। কিন্তু দিনমজুর বাবা ছেলের হার্টের রোগ জেনে ভয় পেয়েছে। টাকার অভাবে ছেলের চিকিৎসা শুরু করতে পারেননি। এরই মধ্যে গত ডিসেম্বর মাসে শফিকুলের শরীর শুকিয়ে, অবস্থা অবনতির দিকে যায়। তখন তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানায়, হার্টের ছিদ্রটি অনেক বড় হয়ে গেছে। দ্রুত অপারেশন না করানো হলে শফিকুলকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু দরিদ্র দিনমজুর বাবা আবদুর রহিম ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না। তার সহায়-সম্বল বলতে মাথা গুঁজার ঠাঁইটুকুই। ছেলের চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় বাড়িতে পরেই ধুঁকে ধুঁকে মরতে বসেছে স্কুলছাত্র শফিকুল ইসলাম। অসুস্থতার কারণে নবম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা দেওয়া হয়নি শফিকুলের। শফিকুলের বাবা আবদুর রহিম জানান, দ্রুত ছেলের অপারেশন না করতে পারলে তাকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু অপারেশনের জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা প্রয়োজন। সব টাকার জোগান দেওয়ার তার পক্ষে সম্ভব নয়। ওই অবস্থায় তার ছেলের জীবন বাঁচাতে সমাজের উচ্চবিত্ত ও হৃদয়বানদের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করেন তিনি। শফিকুল ইসলামকে বাঁচাতে সহযোগিতা করতে পারেন বিকাশের এই নম্বরে ০১৯৩১-৬৪৪২৬৮ (বাবা: আবদুর রহিম)।

কনকনে শীতেও যে সব ফুল মন রাঙায়

কনকনে শৈত প্রবাহের মধ্যে দিয়ে চলছে শীত। সকাল সন্ধ্যা প্রকৃতি কুয়াশায় ঢাকা থাকলেও কোথাও কোথাও সকালে কিংবা মধ্য দুপুরে সূর্যের উকি দেয়া রোদ আকৃষ্ট করছে শীতার্ত মানুষকে। এমনি চলমান শীতে সময় এসেছে বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদে সকাল কিংবা দুপুরের মিষ্টি রোদে গা এলিয়ে দেয়ার। শীতের বিভিন্ন আমেজের সাথে প্রকৃতিতে বাড়তি যোগ হচ্ছে ফুল। বাহারি রঙের ফুল শীতের মাঝেও সবার মন রাঙায়। অনেক সৌকিন মানুষ বাড়ির আঙিনায় কিংবা ছাদে ফুলের বাগান করতে ভালোবাসে। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিভিন্ন নার্সারীতে ও সৌখিন কিছু লোকের বাড়ির আঙিনায়ও বিভিন্ন ফুলের বাগান দেখা যায়। শীতে নানা জাতের হাজারো ফুল ফোটে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- শিউলি, সূর্যমুখী, গাঁদা, ডালিয়া, সেলভিয়া, বাগানবিলাস, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, গ্লাডিওলাস ও বিভিন্ন ধরনের গোলাপ।
গাঁদা : এটি অনেকেরই প্রিয় ফুল। শীত অথবা গরম সব সময়ই এ ফুল ফোটে। তবে শীতেই বেশি হয় গাঁদা ফুলের চাষ। এ ফুলের জন্য বিশেষ কোনো যত্ন না করলেও চলে। তবে অবশ্যই রোদে রাখতে হবে। গাঁদা অনেক প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে- বড় ইনকা গাঁদা, ছোট ছোট চায়না গাঁদা, রক্ত গাঁদা, দেশি গাঁদা, জাম্বো গাঁদা উল্লেখযোগ্য। লাল, হলুদ, কমলা ফুলের মধ্যে হলুদ গাঁদা বেশি জনপ্রিয়।
সূর্যমুখী : শীতের ফুল সূর্যমুখী। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্য্যরে মতো। সূর্য্যরে দিকে মুখ করে থাকে বলে এর নাম হয়েছে সূর্যমুখী। এর বীজ হাঁস মুরগির খাদ্যরূপে ও তেলের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ বীজ যন্ত্রে মাড়াই করে তেল বের করা হয়। তেলের উৎস হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সূর্যমুখীর ব্যাপক চাষ হয়। সূর্যমুখীর তেল ‘ঘি’ এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হয়, যা বনস্পতি তেল নামে পরিচিত। এই তেল অন্যান্য রান্নার তেল থেকে ভাল এবং হৃদরোগীদের জন্য বেশ কার্যকরী।
ডালিয়া : ডালিয়া শীতকালীন ফুল। বর্ণ-বৈচিত্র্য, দৃষ্টিনন্দন পাপড়ির জন্য এটি জনপ্রিয়। সুইডেনের উদ্যানতত্ত্ববিদ আন্দ্রেডালের নামানুসারে এ ফুলের নামকরণ করা হয় ডালিয়া। এ ফুলের আদি বাসস্থান মেক্সিকোর গুয়াতেমালায়। লর্ডবুটি নামের এক ব্যক্তি স্পেন থেকে ডালিয়া ফুল প্রথমে ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন। সেই ফুল দেখে সুইডেনের উদ্ভিদতত্ত্ববিদ আন্দ্রিয়াস গুস্তাভ ডাল নিজের নামের অনুকরণে ফুলের নাম রাখেন ডালিয়া। ডালিয়ার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে- রেড মনার্ক, সিঙ্গল, স্টার, অ্যানেমিন ফাওয়ার্ড, কলারেট, পিওনি ফাওয়ার্ড, ফরমাল ডেকোরেটিভ, ইন ফরমাল ডেকোরেটিভ, ডবল শো ফ্যান্সি, পম্পন, রয়্যাল হোয়াইট, ক্যাকটাস, ভ্যারাইটি গার্ল প্রভৃতি।
শিউলি : শরৎ ও হেমন্তকালের শিশির ভেজা সকালে ঝরে পড়া শিউলি দেখা গেলেও এই ফুল শীত ঋতু পর্যন্ত সুবাস ছড়ায়। এই ফুল রাতে ফোটে, সকালে ঝরে যায়। এটি শেফালী নামেও পরিচিত।
চন্দ্রমল্লিকা : এটি চীনের ওষুধি ফুলের গাছ। কিন্তু জাপানিরা এর উন্নত রূপ দিয়েছে। এই ফুলটি জাপানের রাজ-পরিবারে বিশেষ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়। এ ফুল প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রকারের হয়ে থাকে। ফুলগুলো গোলাকার, পুরু, জটাবাঁধা প্রভৃতি রূপে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত পানি বা জলাবদ্ধতা এর জন্য ক্ষতিকারক। সাধারণত অক্টোবর মাসে এ গাছে কুঁড়ি ধরে। এবং নভেম্বর মাসে ফুল ফোটে। গাছে ফুল তাজা থাকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন।
কসমস : শীতকাল এলেই অনেকের বাগানে দেখা যায় সবুজ এক প্রকার গাছ। কিছুদিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন রঙের ফুল ফুটে তাতে। এর নাম কসমস। আগে শুধু হলুদ বা কমলা রঙের কসমস দেখা যেতো। এখন বিভিন্ন রকমের হালকা-গাঢ় গোলাপি, মেরুন এবং সাদা কসমস দেখতে পাওয়া যায়। কসমসের উৎপত্তিস্থল হিসেবে ধরা হয় মেক্সিকোকে। আমেরিকার ফ্লোরিডা, অ্যারিজোনা এমনকি প্যারাগুয়ে পর্যন্ত এই ফুলের বিভিন্ন ধরণ প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়।
গ্লাডিওলাস : গ্লাডিওলাস ফুল আমাদের দেশে এখন অনেক জনপ্রিয়। এ ফুল কমবেশি সারাবছরই উৎপাদন করা হয়। বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে এ ফুল। তার মধ্যে সাদা, হলুদ, গোলাপী, লাল, ফিকে লাল, বেগুনী ইত্যাদি। টিনা, পুনম, ফ্রেন্ডশিপ, হোয়াইট ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন প্রজাতির গ্লাডিওলাস ফুল রয়েছে।
গোলাপ : গোলাপকে ফুলের রানি বলা হয়। গোলাপ এমনই একটা ফুল যা সারা বছর ফোটে। পৃথিবীতে প্রজাতি ও উপ প্রজাতি মিলেয়ে প্রায় ৫৫০টি আলাদা আলাদা গোলাপের অস্তিত্ব রয়েছে। কয়েক জাতের বিদেশি গোলাপের মধ্যে রয়েছে- রানি এলিজাবেথ, ব্ল্যাক প্রিন্স, ইরান, মিরিন্ডা, পাপা মিলাঁ, আইসবার্গ, রোজ গুজার্ড, বেংগলি, কুইন এলিজাবেথ, জুলিয়াস রোজ, ডাচ গোল্ড, সানসিল্ক, কিংস উল্লেখযোগ্য। আর দেশি জাতের মধ্যে রয়েছে- ফাতেমা ছাত্তার, মল্লিক, রাহেলা হামিদ, পিয়ারী, ভাসানী, শের-এ-বাংলা, জয়ন্তি, শিবলী উল্লেখযোগ্য।

বালিয়াকান্দির মানুষ বিক্রির হাট

পিঁয়াজ, রসুন, মাছ, তরকারি, গোশত, কাপড়সহ নিত্যপণ্যের বাজার বসলেও রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল বাজারে তীব্র শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন ভোরে বসছে মানুষ বিক্রির হাট। বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে খুব ভোরে জড়ো হয়ে বিক্রি হয় মানুষ। তাদের কাজ শেষে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। বৃহস্পতিবার ভোরে সরেজমিন জঙ্গল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাংশা, হাবাসপুর, নারুয়া, চরঘিকমলা, অলংকারপুর, বালিয়াকান্দি, মধুখালী, শ্রীপুর, মাগুরা এলাকার বিভিন্ন লোকজন জড়ো হয়ে আছে। যেমন লোকজন জড়ো হচ্ছে তেমনিভাবেই বিক্রি হয়ে চলে যাচ্ছে। বিক্রি হওয়ার পর থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ শেষ করেই যার যার গন্তব্যে চলে যাবে। প্রতিজন ৩৭০ টাকা থেকে শুরু করে ৪ শ' টাকা বিক্রি হয়েছে। চরঘিকমলা গ্রামের ইমরান হোসেন জানায়, তিনি ফজরের আযানের সময় বাড়ি থেকে রওনা হয়ে পায়ে হেঁটেই জঙ্গল বাজারে আসেন।
এরপর বিক্রি হয়েছেন ৩৮০ টাকায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত কাজ শেষ করে বাড়ি চলে যাবেন। চষাবিলা গ্রামের রতন ও মৃগীর হেদু জানান, তারা ভ্যান যোগে ৪-৫জন মিলে এক সাথে এসেছেন। বিক্রি হওয়ার পর কাজ শেষ করে ওই ভ্যানেই বাড়িতে চলে যাবেন। এ অঞ্চলে পিঁয়াজের চাষ বেশি হওয়ার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে এসেও বিক্রি হয়ে কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরতে পারেন। এজন্য বিভিন্ন এলাকার লোকজন বেশি জড়ো হন। অলংকারপুর গ্রামের আহম্মদ আলী ও মোহন ফকির জানান, তাদের বাড়ির কাছে হাট হওয়ার কারণে কোনো কষ্ট করতে হয় না। পায়ে হেঁটে গিয়েই বিক্রি হন। কাজ শেষ করেই বাড়ি ফেরেন। প্রতিদিন ভোরে মানুষ বিক্রির হাট বসার কারণে পাংশা, শ্রীপুর, মধুখালী উপজেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ আসে ভ্যান, নসিমনসহ বিভিন্ন গাড়িযোগে। কাজ শেষ করে আবার ফিরে যান। মানুষ ক্রয় করতে আসা হাফিজুল, অমল, কৃষ্ণ, হরেন্দ্রনাথ, এনামুল জানান, এখন পেঁয়াজের আবাদের মৌসুম চলছে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে লোকজন পাওয়া যায় না। এজন্য জঙ্গল বাজার থেকে প্রতিদিন যে যার মতো লোক দরকার তা সহজেই ক্রয় করে নিয়ে যান। এতে তাদের কাজও সহজে হয়। এখানে কেউ বিক্রি হতে এসে ফেরত যায় না। দূর-দূরান্তের লোকজন আসে গাড়ি নিয়ে। কাজ শেষ করার পর ওই গাড়িতেই আবার ফেরত চলে যান।

সুনামগঞ্জে হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে

সুনামগঞ্জের হাওরাবাসীর জীবিন জীবিকা এখন হুমকির মুখে পড়েছে। হাওরে একের পর এক সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না। এতে করে চরম ক্ষতি শিকার হচ্ছে জেলার ৩ লক্ষাধিক অসহায় কৃষক পরিবার। শুষ্ক মৌসুমে এক ফসলী বোরো ধান চাষাবাদ আর বর্ষায় মাছ ধরেই জীবন-জীবিকা পরিচালিত হয় জেলার হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার ৮০ভাগ মানুষের। এই হাওরের সাথেই জড়িয়ে আছে শহরের ব্যবসায়ী,চাকুরীজীবি সহ সকল স্থরের লোকজন। গত কয়েক বছর ধরেই এই জেলার হাওরবাসীর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রকৃতির বৈরী আচরন। ফলে অকাল বন্যায় হাওর পানিতে ডুবে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে কৃষক। বর্তমানে হাওরের পানি না কমা,শৈত প্রবাহসহ প্রকৃতি যেন এখন বিরুপ আচরন করছে অসহায় হাওরবাসীর সাথে। ফলে চরম দূর্ভোগে রয়েছে হাওরবাসী। জানাযায়, জেলার ছোট বড় ১৫৪টি হাওরে উৎপাদিত এক ফসলী বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল লাখ লাখ হাওর পাড়ের কৃষক। জেলার সর্বমোট আবাদী জমির পরিমান ৩,৭৯,২১৬ হেক্টর। গত বছর প্রায় ২লাখ ১৫হাজারের অধিক হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছিল। আর বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল। যার মূল্য ১৫শ কোটি টাকার বেশি। এই সম্পূর্ন ফসলেই অকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাড়ে ৩লক্ষাদিক কৃষক পরিবার। ফসল হারানো কৃষকরা এখন বোরো মৌসুমে নতুন করে হাওরকে ঘিরে বাচাঁর স্বপ্নও দেখছেন। কিন্তু এবারো তাদের স্বপ্ন ভাঙার আশংকায় তারা। চলতি বছর জেলায় ২লাখ ২২হাজার ৫৫২হেক্টর লক্ষ্যমাত্র নির্ধারন করা হয়েছে। যার মূল্য ১৫শ কোটি টাকার বেশী। এছাড়াও এখানকার হাওরে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। বর্ষায় মাছ ধরা আর শুষ্ক মৌসুমে বোরো জমি চাষ করাটা এখানকার হাওরবাসীর বংশ পরমপরায়। এখানকার হাওরে উৎপাদিত মাছ জেলার চাহিদা পূরন করেও দেশের বিভিন্ন জেলায় ছাড়াও দেশের বাহিরে রপ্তানি করা হয়। জানাযায়,এ জেলায় উৎপাদিত মাছ ও ধান দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রেখেছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে হাওরের এমন গুরুত্বপূর্ন অবদান থাকার পরও জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাব,কৃষি জমিতে মাত্রারিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার,ইঞ্জিন চালিত যানবাহনের দূষন,অবাধে মৎস্য নিধন,অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রভৃতির কারনে হাওরের পরিবেশ এখন বিপন্ন। ফলে নাব্যতা হারাচ্ছে হাওরাঞ্চলের নদ-নদী। ধবংশ হচ্ছে হাওরের জলজ প্রানী ও উদ্ভিদের আবাস্থল এবং জীববৈচিত্র। এরপরও এখানকার হাওর ও জলাভূমি গুলোর বিপন্ন প্রায় পরিবেশের উন্নয়নে র্দীঘ দিনেও কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি।
ফলে প্রতি বছর আগাম বন্যা কিংবা সেচের মৌসুমে পানির অভাব হাওরের বিস্তীর্ন এলাকার ফসল উৎপাদনকে মারাতক ভাবে ব্যাহত করছে। এক ফসলী এই এলাকার একমাত্র ফসলটি সঠিক ভাবে ঘরে তুলতে না পারায় এবং উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হাওরের কৃষকগন প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গত বছর অকাল বন্যায় বোরো ফসলহানী হাওর পাড়ের কৃষকের মেরুদন্ড ভেগে দিয়েছে। এই বোরো ধানের উপরেই ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়া,সংসারের খোরাকি,হাট-বাজার ও ছেলে-মেয়েদের বিয়ে সহ সকল কাজ নির্ভর করে। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারন সম্পাদক পিযুস পুরকাস্ত টিটু,ব্যবসায়ী আবুল কালামসহ জেলার সচেতন হাওরবাসী জানান,গত বছর জেলার সবকটি হাওরের বোরো ধান হারিয়ে জেলার সাড়ে ৩লক্ষাধিক কৃষক সর্বশান্ত হয়ে পড়ে। বিক্রি করে দেয় শেষ সম্বল হালের গরু। বোরো ধান অকাল বন্যায় পানিতে ডুবে যাওয়ার পর হাওরের মাছ ধরে জীবিকা নির্ভাহ করার স্বপ্ন দেখলেও সেখানে দেখা দেয় মহামারী। মাছ মরে ভেসে উঠে হাওরে হাওরে। এরপরও এই সংকট কাটিয়ে উঠে হাওরের মাছ ধরার জন্য গেলেও এর উপর চলে ইজারাদারদের নানান বাঁধা। এছাড়াও এই জেলায় গড়ে উঠেনি এখনও কোন শিল্প-কলখারকানা। তাহিরপুরের কৃষক খেলু মিয়া,সাদেক আলী,সবুজ মিয়া,অপু তালুকদার সহ জেলার বিভিন্ন হাওর পাড়ের কৃষকগন বলেন,হাওরে প্রকট দারিদ্রের সাথে যুদ্ধ করে জীবন যাপন করতে হয় হাওরবাসীকে। বাধ্য হয়ে ঐসব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবার ছেড়ে বাধ্য হয়ে প্রিয় এলাকা আর বাড়ি-ঘর নিজ সন্তান,মা,বাবাসহ সবাইকে ছেড়ে পন্যের মত শ্রম বিক্রি হাটে নিজেকে পন্য হিসাবে দাড়ঁ করতে ঢাকা,সিলেটের ভোলাগঞ্জ,ঢাকা দক্ষিন,চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। এতে করে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে অকাল বন্যা,বর্ষায় হাওর পাড়ের বাড়ি-ঘরে ভাঙ্গন,মৌসুমী বেকারত্ব ও বিভিন্ন সমস্যার কারনে এ জেলার হাওরাঞ্চল থেকে অসহায় কৃষক পরিবারের ২লক্ষাধিক সদস্য নিজ গ্রাম ছেড়ে ভিন্ন স্থানের বাসিন্দা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূনেন্দ্র দেব জানান,আমার উপজেলায় হাওরবাসীর স্বার্থে সকল কাজ সমাধানে সর্বোচ্ছ চেষ্টা করছি।

ভালো ঘুমের জন্য মধ্যযুগের সাতটি উপায়

আধুনিক ব্যস্ত জীবনের সাথে তাল মেলাতে ভালো ঘুমের বিকল্প নেই। কিন্তু ভালো ঘুমের জন্য কি পূর্বপুরুষদের কোন সম্পর্ক আছে? আর তাই ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সাশা হ্যান্ডলি ইংল্যান্ডের মধ্যযুগের টিউডর সময়ের (১৪৮৫-১৬০৩) ঘুমের ধরণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। সেই গবেষণায় তিনি এমন কিছু কৌশল বা ধরণ দেখতে পেয়েছেন ভালো ঘুমের জন্য যা মধ্যযুগে ইংল্যান্ডের টিউডর যুগের মানুষরা ব্যবহার করতো। এ থেকে হয়তো আধুনিক যুগের মানুষরাও ভালো ঘুমের কিছু পরামর্শ পেতে পারেন। মোবাইল ফোন সরিয়ে রাখুন বরং সুচসুতো হাতে নিন ড. হ্যান্ডলি বলছেন, টিউডর সময়ে যদিও মোবাইল ফোন বা টেলিভিশন ছিল না, কিন্তু তারা এ সময় অন্য কোন কাজেও সময় দিতো না। কখনো কখনো বিছানায় বসে বা বিছানার পাশে তারা প্রার্থনা করতেন অথবা শুয়ে শুয়ে বই পড়তেন। অনেক সময় নারীরা ঘুমানোর আগে সুই সুতো বা কাটা দিয়ে উলের কাপড় বুনতেন। এ ধরণের কাজ মাথাকে ঠাণ্ডা করে যা অনেকটা ধ্যানের মতো। ঘুমের সমস্যায় রয়েছেন, এমন অনেককে এ ধরণের কাজের পরামর্শ দিচ্ছেন ঘুম বিজ্ঞানীরা।
মধ্যরাতে একবার জেগে ওঠা
মধ্যরাতে একবার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া ভালো লক্ষণ যা টিউডর যুগেও ছিল বলে দেখতে পেয়েছেন ড. হ্যান্ডলি। তিনি বলছেন, প্রাক শিল্প যুগে মানুষজন দুইভাগে ঘুমাতো। অনেকে মধ্যরাতে ঘুম ভেঙ্গে উঠে মোমের আলোয় বই পড়তো বা চাদের আলোয় হাটাহাটি করতো। তারা হয়তো রাতে জেগে চার্চের ঘণ্টা শুনতো। সুতরাং রাত ১টা কি ২টার সময় ঘুম ভেঙ্গে খানিকক্ষণ সজাগ থাকা একেবারে খারাপ কিছু নয়।
ভালো খাবার খাওয়া
ভালো ঘুমের সঙ্গে ভালো খাবারের সম্পর্ক রয়েছে। মধ্যযুগেও টিউডোররা জানতো তাদের ভালো খাবার কি হওয়া উচিত এবং অতিরিক্ত খাবার ঘুমের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে। ড. হ্যান্ডলি বলছেন, বিশেষ করে ঘুমের আগে খাবারের বিষয়ে তারা খুব সতর্ক ছিল। তারা এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতেন যা খানিকটা ঠাণ্ডা ধরণের। বিশেষ করে তারা অনেক শসা খেতেন। কারো কারো মধ্যে খানিকটা অপিয়াম খাওয়ারও প্রবণতা ছিল।
শুধু শয়নকক্ষের চিন্তা ঝেড়ে ফেলা
শুধুমাত্র শয়নকক্ষে ঘুমানোর চিন্তাটি আধুনিক যুগের একটি ব্যাপার। কিন্তু টিউডর যুগে পুরো বাড়িটি ঘুমানোর একটি জায়গা হিসাবে ভাবা হতো। ড. হ্যান্ডলি বলছেন, তারা যেকোনো কক্ষেই ঘুমাতে পারতো। হয়তো সেসব কক্ষে ঘুমানো ছাড়াও আরো অনেক কাজ হতো। নিজেদের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে তাদের অত বেশি চিন্তা ছিল না। তারা হয়তো তাদের বিছানা অন্য অনেকের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। তাতে কখনো কখনো বিপদও ঘটতো। তবে ঘুমের জন্য একান্ত বিছানার যে ধারণা, সেটি তাদের ছিল না।
বিছানার কাছে গোবর রাখা
মধ্যযুগের ঘুমের ধরণ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ড. হান্ডলি দেখতে পেয়েছেন, তারা পোকামাকড়ের কামড়ের ব্যাপারে খুব সচেতন ছিলেন। অনেকে গোলাপের তেল শরীরে মাখিয়ে রাখতেন। আবার গ্রাম এলাকায় অনেকে বিছানার কাছে বা পায়ের দিকে গরুর শুকনো গোবর বেধে রাখতেন, যাতে পোকামাকড় তাদের শরীরে না এসে সেদিকে চলে যায়।
পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেয়া
আধুনিক যুগের তুলনায় টিউডর যুগের মানুষরা তাদের বিশ্রামের ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিলেন। তারা ঘুমের প্রস্তুতির জন্য অনেক সময় নিতেন। সারা সব ধরণের কাজ থেকে আস্তে আস্তে গুটিয়ে নিতেন এবং শুধুমাত্র ঘুমের দিকেই মনোযোগ দিতেন। অনেকে ঘুমের আগে ধ্যানের মাধ্যমে মাথা থেকে সব চিন্তা সরিয়ে দিতেন। এখন যেমন সব যন্ত্রপাতি বন্ধ করা আর কৃত্রিম আলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয়া ভালো ঘুমের একটি উপায় হতে পারে।
বাচ্চাদের মতো ঘুমানো
অনেক মানুষ হয়তো রাতের বেলাতেও যখন তাদের ঘুমাতে যাওয়া উচিত, তখন অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকেন। হয়তো কেউ প্রার্থনা করেন, কেউ লেখালেখি করেন বা পাবে-রেস্তোরায় সময় কাটান। কিন্তু এর মাধ্যমে জীবন থেকে ঘুমের জন্য বরাদ্দ গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু হারিয়ে যায়। তাই ড. হ্যান্ডলি পরামর্শ দিচ্ছেন, শিশুরা যেভাবে ঘুমায়, সবার উচিত এই ঘুমের সময়টাকে সেভাবেই ব্যবহার করা। (বিবিসি টুমরো থেকে অনুদিত)

ট্রাম্পের 'শিটহোল' নিয়ে তোলপাড়

"এসব 'শিটহোল' দেশের লোকজন সবাই কেন আমাদের দেশে আসছে?"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি হোয়াইট হাউজে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটরদের সাথে এক বৈঠকে এভাবেই হাইতি, এল সালভাদর এবং আফ্রিকান দেশগুলোকে বর্ণনা করেছেন। এই বৈঠকে তিনি সেনেটরদের সাথে অভিবাসন নিয়ে কথা বলছিলেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ শব্দটি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তারপরও ঘটনাটি সাংবাদিকদের রিপোর্ট করতে হয়েছে। আর এই 'শিটহোলে'র অনুবাদ করতে গিয়ে বিশ্বজুড়েই সাংবাদিকরা বেশ বিপাকেই পড়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে 'শিটহোল' শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করেনি অনেকে। সিএনএন এবং এমএসএনবিসি তাদের স্ক্রিনে শব্দটি ব্যবহার করেছে, কিন্তু সংবাদ উপস্থাপক ওলফ ব্লিটজার পুরো শব্দটি না বলে এর চেয়ে কম আপত্তিকর 'এস হোল' বলেই ক্ষান্ত দিয়েছেন।
কিন্তু বাকি দুনিয়ার সাংবাদিকরা কী করেছেন?
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কয়েক ডজন ভাষায় সংবাদ প্রচার করা হয়। সেই বিভিন্ন ভাষায় কিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচ্চারিত এই শব্দটি?
কিছু কিছু ভাষা বিভাগ 'শিটহোল কান্ট্রিজে'র একেবারে আক্ষরিক অনুবাদই করেছে। বিবিসি মুন্ডু, যারা মূলত স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষিণ আমেরিকার মানুষের জন্য রেডিও অনুষ্ঠান করে, তারা এটিকে অনুবাদ করেছে 'পেইসেস ডে মিয়েরডা' বা 'মল বা বিষ্ঠার দেশ' বলে। বিবিসি তুর্কী ভাষা বিভাগ 'শিটহোলে'র অনুবাদ কওেরছে 'বোক কাকারু' বা 'মল ভর্তি গর্ত' বলে। বিবিসি ইন্দোনেশিয়া ভাষা বিভাগ জানিয়েছে, তাদের ভাষায় 'শিটহোল' হচ্ছে, 'লোবাং কোটেরান', অর্থাৎ 'মলত্যাগের গর্ত। তারা সংবাদটি পরিবেশনের সময় তাই বলেছে। বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার লিস্টন সিরেগার বলেন, আমাদের শ্রোতাদের জন্য এটা সেরকম বড় কোনো ব্যাপার নয়। এটা একটা অভদ্র এবং বাজে শব্দ। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ায় কেউ যখন খুব রেগে যায়, তখন এরকম শব্দ ব্যবহার করে। তবে একজন রাজনীতিক বা প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে এটা কেউ আশা করেন না।" তবে অন্য অনেক ভাষা বিভাগ সরাসরি এই শব্দের আক্ষরিক অনুবাদ ব্যবহার করতে চাননি এটি খুবই অরুচিকর শোনাবে বলে। উর্দূ ভাষা বিভাগ ব্যবহার করেছে 'ঘাটিয়া' বা টয়লেট শব্দটি। বিবিসির ফার্সি বিভাগের সাংবাদিকরা ব্যবহার করেন 'টয়লেটের মলভান্ড' শব্দটি। রুশ ভাষা বিভাগের ফামিল ইসমাইলভ বলেন, আমাদের ভাষায় এরকম শব্দ আমরা ব্যবহার করতে পারি না, এটা ইংরেজির চেয়েও অনেক বেশি আপত্তিকর শোনাবে।" তারা এটির অনুবাদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন 'দূর্গন্ধযুক্ত গর্ত'। ভিয়েতনামী বিভাগের সাংবাদিক থু ফ্যান বলেন, তারাও আক্ষরিক অনুবাদের পরিবর্তে টয়লেট শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তার মতে, যদি তারা আসল শব্দটি ব্যবহার করতেন, তাহলে হয়তো খবরটি ভাইরাল হয়ে যেতে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
কিন্তু ইংরেজি ভাষাতেই বা 'শিটহোলে'র আসল অর্থ কী?
অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারী অনুযায়ী শিটহোলের এক নম্বর অর্থ আসলে 'রেকটাম' বা 'অ্যানাস', অর্থাৎ মানুষের মলদ্বার। এর তিন নম্বর অর্থ হিসেবে টয়লেটও আছে অবশ্য। বিবিসির থাই সার্ভিস তাদের খবরে 'শিটহোলের' অনুবাদ হিসেবে 'মলদ্বার'কেই বেছে নিয়েছে।

ইসরায়েলি সৈন্যদের আবারও থাপড়ানোর ইচ্ছা তামিমির

ইসরায়েলি সৈন্যদের আবারও থাপড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ফিলিস্তিনি জাতির বীরের স্বীকৃতি পাওয়া কিশোরী নূর তামিমি।

১৬ দিন কারাভোগের পর মুক্ত হয়ে ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎজ এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নূর বলেন, ইসরায়েলি সৈন্যদের গালে চড় মারার জন্য তিনি মোটেও দুঃখিত বা লজ্জিত না।

তিনি বলেন, আমি তাদের আমার বাড়ির আঙিনা থেকে তাদের তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম। তারা আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা করছে। ইসরাইলি সৈন্যরাই তো দখলদার।

সাংবাদিক নূরকে আরও জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি আবার এ রকম করবেন। দৃঢ়কণ্ঠে এই তরুণীর জবাব, আবার যদি তারা হামলা করে, আমি আবারো তাদের থাপড়াবো।

গত ডিসেম্বরের ১৫ তারিখে ফিলিস্তিনের রামাল্লায় মোহাম্মদ তামিমিকে হত্যা করে ইসরাইলের সেনারা। শোকবিহ্বল ফিলিস্তিনি তরুণী নূর  তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ তামিমির বাড়ির উঠানে বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছেন মোহাম্মদকে গুলি করেছে ইসরাইলি সৈন্যরা। মাথায় গুলির আঘাত গুরুতর। মারাও যেতে পারে তার ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাইটি।

এর মাঝেই বাড়িতে হানা দেয় কয়েকজন সৈন্য। ছোট ভাইকে গুলি করেছে, আবার এখন এসেছে বাড়িতে অভিযান চালাতে! ইসরাইলি সৈন্যদের দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারেননি নূর। হনহন করে এগিয়ে যান অত্যাধুনিক অস্ত্রধারী সেনা সদস্যদের দিকে। তারপর কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গালে চড় বসিয়ে দেন দুই সৈন্যের! সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসে ছোট বোন আহেদ তামিমিও। দুই বোন মিলে বেশ কয়েকবার চপেটাঘাত করেন হানাদারদের মুখে। ঘটনাস্থলে অনেকে ক্যামেরা নিয়ে থাকায় আপাতত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি সৈন্যরা।

এই ঘটনার পরপরই নূর, আহেদ এবং আহেদের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরাইলি কারাগারে এখনো আহেদ এবং তার মা  আটক থাকলেও ১৬ দিন কারাভোগের পর মুক্ত হয়েছেন নূর তামিমি।

আমেরিকা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে : বাজওয়া

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন তাতে   পুরো পাকিস্তানি জাতি মনে করে আমরিকা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল জোসেফ ভোটেলের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া এ মন্তব্য করেন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে শুক্রবার জেনারেল বাজওয়ার সঙ্গে জেনারেল ভোটেলের টেলিফোন সংলাপের বিষয়টি জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে জেনারেল ভোটেল পাক সেনাপ্রধানকে ফোন করেন।


গত ১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত অবমাননাকর এক টুইটার পোস্টে বলেছেন,  গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকা বোকার মতো পাকিস্তানকে তিন হাজার তিনশ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিয়েছে কিন্তু তারা মিথ্যা ও প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই দেয় নি।  আমাদের নেতাদেরকে বোকা মনে করেছে। আমরা যেসব সন্ত্রাসীকে আফগানিস্তানে ধরার জন্য খুঁজে বেড়াচ্ছি, সে বিষয়ে পাকিস্তান সাহায্য করে না বরং তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় দেয় পাকিস্তান। আর সাহায্য দেয়া হবে না।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে নিরাপত্তা সহায়তা বাবদ ২০০ কোটি ডলার স্থগিত করার ঘোষণা করে। ট্রাম্প সরকারের এ ঘোষণায় পাকিস্তানের জনগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

পাক সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আসিফ গফুর জানান, ফোনালাপে জেনারেল ভোটেল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আফগানিস্তানে হামলা চালানোর জন্য সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে মার্কিন সেনারা একতরফা কোনো অভিযান চালাবে না এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাবে। ভোটেল আরো বলেছেন, তার দেশ আফগান তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের ওপর নির্ভরশীল।

প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামে খেলা দেখল সৌদি নারীরা

সৌদি নারীরা প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখেছেন। সম্প্রতি সৌদি সরকার যে উদারপন্থী নীতির কথা বলছে এরই অংশ হিসেবে তারা স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল ম্যাচ দেখেল। খবর বিবিসির।

শুক্রবার জেদ্দার একটি স্টেডিয়ামে নারীরা দলে দলে প্রবেশ করে। এরই মধ্য দিয়ে রাজতান্ত্রিক শাসিত এই দেশটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হলো।

এর আগে সোমবার সৌদির সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পরবর্তী এক সপ্তাহে তিনটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে পারবে দেশটির নারীরা।

সৌদি আরবে নারীর ক্ষমতায়নে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে রিয়াদ। এটি তার মধ্যে একটি।

এর আগে গেলো বছরের অক্টোবরে জেনারেল স্পোর্টস অথরিটি (জিএসএ) জানায়, ২০১৮ সালের শুরুর দিকে তিনটি স্টেডিয়ামকে নারীদের উপযোগী করে তোলা হবে। সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানায় জিএসএ।

এদিকে শুক্রবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো নারীদের জন্য গাড়ির শোরুম উদ্বোধন করা হয়েছে। এমন সময় এই গাড়ির শোরুম খোলা হলো, যখন আর মাত্র কয়েক মাস পরই দেশটির নারী গাড়ি চালানোর অনুমতি পাচ্ছে।

আগামী জুন থেকেই সৌদি নারীরা গাড়ি চালাতে পারবেন। গেলো বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি সরকার ঘোষণা দেয় যে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তা তুলে নেয়া হবে।

বিশ্ববাজারে তেল-চিনি-মাংসের দাম নিম্নমুখী

সদ্য শেষ হওয়া ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববাজারে সার্বিকভাবে খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে। জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে।

আলোচ্য মাসে বিশ্ব খাদ্য মূল্যের গড় সূচক অবস্থান করছে ১৬৯ দশমিক ৮ পয়েন্টে। এফএওর হিসাবে নভেম্বর মাসের তুলনায় যা কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৫ দশমিক ৮ পয়েন্ট।

এফএও বলছে, আলোচ্য মাসে বিশ্ববাজারে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, ভোজ্য তেল ও চিনির দাম কমার প্রভাবেই সার্বিক খাদ্য মূল্য সূচক কমেছে।

এদিকে মাস ব্যবধানে সার্বিক খাদ্য মূল্য সূচক কমলেও বছর ব্যবধানে খাদ্য মূলক সূচক বেড়েছে। ২০১৭ সাল জুড়ে খাদ্য মূল্য সূচকের গড় দাঁড়িয়েছে ১৭৪ দশমিক ৬ পয়েন্টে। যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

এফএও‘র তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে খাদ্য পণ্যের মূল্য সূচক ২০১৪ সালের পরে সর্বোচ্চ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। তবে ২০১১ সালের তুলনায় তা প্রায় ২৪ শতাংশের বেশি কম। ২০১১ সালে খাদ্য পণ্যের মূল্য সূচক ছিল ২৩০ পয়েন্টে।

বিশ্বব্যাপী ৫ ধরনের পণ্যের দাম নিয়ে জরিপ চালায় এএফও। সংস্থাটি সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলছে, আলোচ্য মাসে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে গতবছরের একই সময়ের তুলনায় আলোচ্য পণ্যের দাম ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য মাসে চিনির মূল্য সূচক কমেছে। নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বরে এই পণ্যটির মূল্য সূচক ৮ দশমিক ৬ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

ভোজ্য তেলের মূল্য সূচক নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বরে কমেছে ৯ দশমিক ৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। যা সর্বশেষ ৫ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববাজারে দানা জাতীয় খাদ্যের মূল্য সূচক গতমাসের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তা এখন ১৫২ দশমিক ৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এছাড়া আলোচ্য সময়ে মাংসের দামেও ভাটা পড়েছে বিশ্ববাজারে। নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে এই পণ্যটির মূল্য সূচক ১৭১ দশমিক ৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

শীতের পিঠা বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ


শীতের পিঠা তৈরির সময় ফিরোজা বেগম (৫০) নামে এক নারী অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। 

শুক্রবার  দিনগত রাতে রাঙ্গুনীয়া উপজেলার শীলক গ্রামের জহির আহমদ সওদাগর বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফিরোজা বেগম একই এলাকার প্রবাসী মফিজুল হকের স্ত্রী।
 
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্বরত জেলা পুলিশের এএসআই মো. আলাউদ্দিন তালুকদার  জানান, মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য রান্না ঘরে পিঠা বানাচ্ছিলেন ফিরোজা বেগম। এসময় ওই তাঁর গায়ে থাকা চাদরে আগুন লেগে যায়। পরে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।
 
শরীরের প্রায় ৬৫ ভাগ পুড়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ

কুমিল্লার বানাসোয়া ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ট্রেনের ৮টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সিলেট ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর ফলে কুমিল্লা স্টেশনে সুবর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকা পড়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ট্রাকটির চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন। তবে তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী লিয়াকত আলী মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিলিফ ট্রেন এখনও আসেনি। লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করার পর এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।

‘পাগলে কি না কয়’ by আনিসুল হক

বাংলাদেশের বাউলগানে পাগল বলতে ঠিক মানসিক রোগীকে বোঝানো হয় না। বরং খ্যাপা বাউল, বিশেষ দশাপ্রাপ্ত সাধকদের বলা হয়ে থাকে পাগল। পাগলদের সম্মেলনও হয় এই দেশে। গতকালই খবর পড়েছি: আসল নাম সিদ্দিক মিয়া। বয়স ষাটের কাছাকাছি। কিন্তু এলাকায় তাঁর পরিচিতি ‘সিদ্দিক পাগল’ হিসেবে। নামের সঙ্গে ‘পাগল’ জুড়ে ডাকলেও খারাপ লাগে না তাঁর। এই সিদ্দিক পাগল ভাবেন অন্য ‘পাগলদের’ নিয়েও। তাই তিন বছর ধরে তাঁর গ্রামে ‘পাগলের মেলা’র আয়োজন করছেন তিনি। (প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি) আবার একই দিনের খবর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাগল হিসেবে অভিহিত করেছেন খালেদা জিয়াকে। কেন করেছেন, সেটার প্রেক্ষাপটটা আগে জেনে নিই।
সরকার এই আমলে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না দাবি করে ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘এখন পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কিন্তু পদ্মা সেতু এই আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। আর সেই সেতুতে ওঠার জন্য...একটি যদি জোড়াতালি দিয়ে বানায়, সেই সেতুতে কেউ উঠতে যাবেন না। অনেক রিস্ক (ঝুঁকি) আছে।’ তো এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মত জানতে চাওয়া হয়েছিল জাতীয় সংসদে। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি নেত্রী পদ্মা সেতু নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এ ব্যাপারে আমি কী মন্তব্যটা করব? তবে সেতু তো বিভিন্ন পার্ট (অংশ) তৈরি করে করে নির্মাণ হয়। এ ক্ষেত্রে তো জোড়া দিয়েই সেতু করা হয়। জোড়া না দিলে তো সেতু হয় না। কিন্তু উনি (খালেদা জিয়া) জোড়াতালি দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা আমার বোধগম্য নয়। তবে বাংলাদেশে তো একটা প্রচলিত কথা রয়েছে, পাগলে কি না কয়, ছাগলে কি না খায়। আমার মনে হয়, এ ধরনের পাগলের কথায় বেশি মনোযোগ না দেওয়াই ভালো।’ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরি করা হচ্ছে—খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ফজিলাতুন্নেসা। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো সুস্থ মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। তাই এ মন্তব্যকে পাগলের প্রলাপ হিসেবে মেনে নেওয়া ভালো।’ (প্রথম আলো ডটকম) এ ব্যাপারে আমাদের তৃতীয় পক্ষের বক্তব্য শুনতে হবে। কারণ, একজন বলেছেন, পদ্মা সেতুতে ওঠা হবে বিপজ্জনক। আরেকজন বলেছেন, পাগলের কথায় গুরুত্ব দিতে নেই। তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যও কালকের সংবাদমাধ্যমেই আমরা পেয়ে গেছি। তিনি কাদের সিদ্দিকী। খবরে প্রকাশ: বড় ধরনের ভূমিকম্প হলেও পদ্মা সেতু ভাঙবে না। বুধবার বিকেলে সখীপুরে একটি জনসভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাদের সিদ্দিকী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
খবরে আরও প্রকাশ: জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি সঠিক ভোট হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। আর ভোট না হলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলেও মরবে। অন্যদিকে নির্বাচনে বিএনপি জিতলে ওই রাতেই কয়েক লাখ মানুষ খুন হবে। হাসিনা-খালেদা কিছুই করতে পারবে না।’ কোনো দিক থেকেই তো কোনো সান্ত্বনার বাণী পাওয়া গেল না। কাদের সিদ্দিকী আমাদের আশ্বাস দিলেন পদ্মা সেতু ভাঙবে না। আমরা আশ্বাস পেলাম। কিন্তু ভোট হলেও আমরা মার খাব, ভোট না হলেও মার খাব, বিএনপি জিতলেও লক্ষ লোক মারা যাবে, শুনে মন কোনো সান্ত্বনা পাচ্ছে না। পদ্মা সেতু ভাঙলে একসঙ্গে কজন মানুষই–বা মারা যাবে? বিএনপি জিতলে লক্ষ মানুষ মারা যাবে? তাহলে আমাদের কোনো আশা নেই, উপায় নেই, উদ্ধার নেই! এ অবস্থায় জনগণের তাহলে করণীয় কী? আলী রিয়াজ প্রথম আলোয় একটা কলাম লিখেছেন। শিরোনাম: ‘নতুন মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক ভূমিকার অবসান?’ বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত কি আত্মপর হয়ে গেছে? রাজনীতিতে কী হচ্ছে না–হচ্ছে, তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই? আচ্ছা, তা-ই যদি হবে, তাহলে আসুন পরপর তিনটা কৌতুক বলে নিই।
এক. হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, সবচেয়ে ভালো উপদেশ দেন পাগলেরা। আমি একজন পাগলকে দেখেছি, যিনি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে রেলগাড়িগুলোকে উপদেশ দিচ্ছিলেন, বেটারা লাইনে থাকিস।
দুই. চাঁদপুর শহরে এক পাগল রাস্তার মধ্যখানে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করত। বলত, ডাইনে ডাইনে, বামে বামে। সব বাস, ট্রাক, গাড়ি, রিকশা ডানে-বামে সরে যেত। পাগল দেখল, সড়কপথ ঠিক হয়ে গেছে। এবার রেলপথ ঠিক করতে হবে। সে চলে গেল রেললাইনের ওপরে। ট্রেন আসছে, রেললাইনের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে সে বলতে লাগল, ডাইনে ডাইনে, বামে বামে। রেলগাড়ি তার কথা শুনল না।
তিন. মানসিক হাসপাতালের এক রোগী নিজেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে দাবি করছে। সে কিছুতেই ভেতরে যাবে না। বাইরে চিৎকার করছে, বলছে, ‘আমার অ্যাটম বোমার সুইচ বেশি মোটা।’ হাসপাতালের পরিচালক এলেন। বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট, এবার আপনাকে আপনার রুমে যেতে হবে।’
‘যাব। তবে, আপনি কে?’
‘আমি এই হাসপাতালের পরিচালক।’
রোগী হেসে বললেন, ‘প্রথম প্রথম এসেছেন তো! কয় দিন থাকুন, ঠিক হয়ে যাবে। প্রথম প্রথম আমিও নিজেকে হাসপাতালের পরিচালক বলে দাবি করতাম।’ চলন্ত ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করতে হয় না। সেটা সাহসের কাজ নয়, বুদ্ধিমানেরও কাজ নয়। কিন্তু যদি সত্যি সত্যি কোনো রেলগাড়ি থামানো দরকার হয়ে পড়ে, কী করতে হবে তা দেখিয়েছে রাজশাহীর দুই শিশু। ছয় আর সাত বছরের দুই শিশু রেললাইন ভাঙা দেখতে পেয়ে লাল মাফলার দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে দেয়। বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে ট্রেন আর যাত্রীদের। সুতরাং, সাহস থাকতে হবে, কর্তব্যবোধ থাকতে হবে, আর থাকতে হবে প্রত্যুৎপন্নমতিতা। জাপানি চলচ্চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া বলেছেন, পাগলের পৃথিবীতে সুস্থতাই পাগলামি। আর নিৎশে বলেছেন, সব ভালোবাসার মধ্যেই কিছু না কিছু পাগলামো থাকে, কিন্তু সব পাগলামোতেই কিছু না কিছু যুক্তি থাকে। আচ্ছা, শীতকালে কি পাগলামো বাড়ে? তাহলে আমাদের যুক্তি হলো, এত শীত কেন পড়েছে।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

ঢাকার নির্বাচনটি যেন আটকে না যায় by মিজানুর রহমান খান

রংপুরে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। কিন্তু তারা স্থানীয় সরকার প্রশ্নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আজ্ঞাবহ কি না, সেই প্রশ্ন অপ্রিয় কিন্তু অবান্তর নয়। কারণ, সংকীর্ণ রাজনৈতিক কারণে ৪০০ বছরের ঢাকা আমরা চার মিনিটে ভাগ হতে দেখেছি। এখন সেই ঢাকার নির্বাচন প্রশ্নে আমরা একই রাজনীতি ঘূর্ণমান দেখছি। রাজধানী ঢাকায় নতুন ওয়ার্ড সৃষ্টি করা এবং তাতে নির্বাচন দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হলো, তাতে এই নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।
আমরা রাজধানীতে জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে এমন একটি জেরিমেন্ডারিংয়ের ধারা (রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচনী এলাকা রদবদল করা) চালু করে দিয়েছি, তা থেকে অদূর ভবিষ্যতে বের হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখি না। ঢাকা সিটি করপোরেশন হওয়ার পর ১৯৯৪ সালের প্রথম নির্বাচনে যখন আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ হানিফকে জয়ী হতে দেখেছিলাম, তখন বিএনপির আমল। লালবাগে ব্রাশফায়ারে ছয়জনের লাশ পড়েছিল। এরপর ২০০১ সালের অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে ভোটে জিতে বিএনপি সংখ্যালঘু দলনসহ বিরোধী দলকে দৌড়ের ওপর রেখে নভেম্বরেই তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিকে নজর দিয়েছিল। এর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে ১৯৯৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীতে তারা সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। এর প্রমাণ হলো, তারা ওই তারিখে তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঢাকার ৯০টি ওয়ার্ডকে ১০০, খুলনার ৩১টি ওয়ার্ডকে ৩৭টি এবং রাজশাহীর ৩০টি ওয়ার্ডকে ৩৫ টিতে উন্নীত করেছিল। কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ ঢাকায় মেয়র নির্বাচনটি ইচ্ছা করে এড়িয়ে গেছে। সে কারণে পাঁচ বছরের নির্বাচিত মেয়র হানিফ প্রায় আট বছর থাকলেন। আবার মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন যখন মেয়র হলেন, তখন আওয়ামী লীগ তা বয়কট করেছিল। সাদেক হোসেন ১৩ বছর মেয়র থাকলেন। এরপর ঢাকা ভাগ। ২০১৫ সালের দুই ঢাকার নির্বাচনে বিএনপির আধা বয়কট নির্বাচনের দিন অপরাহ্ণে পুরো বয়কটে রূপ নিয়েছিল। সুতরাং, ২০২০ সাল আসার দুই বছর আগে তাদের এই পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে, তা তাদের হিসাবের বাইরে ছিল। এসব থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, ঢাকায় বড় কোনো নির্বাচন দেওয়ার বিষয়টির সঙ্গে রাজনীতির লাভ-লোকসানের একটি দীর্ঘ পরম্পরা রয়েছে। সুতরাং, বিষয়টি এতটা সরল নয় যে, শুধু আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ এত বড় ঝুঁকি নেবে। এ নিয়ে যে সংশয় আছে, সেটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নির্বাচনী বছরে আওয়ামী লীগ ঢাকায় রংপুরের মতো একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেবল ‘আইনের শাসনের’ শর্ত পূরণে হতে দেবে, এমন ধারণায় অনেকেরই সংশয় থাকতে পারে।
কিন্তু আমরা এই নিবন্ধে লক্ষ করব, নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মীমাংসা না করে কেন তফসিল ঘোষণা করে দিয়েছে? এটা নেহাত আইনের শর্ত পূরণ কি না? কিংবা বুঝেও না বোঝার ভান করার দায়ে তাদের দোষী করা যাবে কি না? নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ ঢাকা উত্তরের নতুন ১৮টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণের ১৮টি ওয়ার্ডের ভোটার ও প্রার্থীরা এখন সন্দেহমুক্ত নন যে তাঁরা প্রায় আড়াই বছরের মেয়াদে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে যাচ্ছেন কি না? এটা প্রচলিত আইন সমর্থন করে কি না? আড়াই বছরের মেয়াদে মেয়র নির্বাচনও বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম উদাহরণ হবে। ঢাকা উত্তরের জনপ্রিয় প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক, যাঁর ভালো কাজের জন্য আমরা তাঁর নির্বাচনপ্রক্রিয়ার শুদ্ধতার প্রশ্ন বিস্মৃত হয়েছিলাম, যিনি কর্মগুণে প্রমাণ রেখে গেছেন, সব সময় বৈধতা কেবল কাগুজে আইন দ্বারা হয় না, সেখানে আমরা তাই তাঁর কাজ ও ব্যক্তিত্বকে বড় করে দেখেছি, সেখানে তাঁর মৃত্যুজনিত শূন্যপদে নির্বাচন নিশ্চয়ই আইনের শর্ত পূরণ করবে। কিন্তু সেখানে ১৮টি নতুন ওয়ার্ডের ভোটারদের পাঁচ বছরের পরিবর্তে আড়াই বছর মেয়াদে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচন করার দরকার কী? এটা অপরিহার্য বিকল্প কি না? আমরা এ বিষয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করি। তিনি জানালেন, তফসিলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে তাঁরা আড়াই বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হবেন। বললাম, এ নিয়ে যে আইনি জটিলতা হতে পারে, সে বিষয়ে আপনারা সচেতন কি না? তাঁর উত্তর: ‘আমরা এ বিষয়ে সম্ভাব্য কোনো জটিলতা এড়াতে স্থানীয় সরকারকে অবহিত করেছি।’ কিন্তু কবে সেই চিঠি তাদের দেওয়া হয়েছে এবং তারা কী উত্তর দিয়েছে, তা তিনি তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে পারেননি। বললাম, আপনারা এই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কেন সংলাপ করেননি। আমাদের যুক্তি হলো, অংশীজনদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ করার দরকার ছিল। আর যখন দলীয় ভিত্তিতে মেয়র পদে লড়াই হবে, তখন বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হতে পারত। উত্তর ও দক্ষিণের ৩৬টি ওয়ার্ডের ভোটার ও প্রার্থীরা আড়াই বছরের জন্য হতে চান কি না কিংবা অন্য কোনো বিকল্প ছিল কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে আগ্রহী ছিল, এর কোনো প্রমাণ আমরা এখনো পাই না। আমরা জানতে পারি, ঢাকার ওয়ার্ডগুলো জনসংখ্যা ও এলাকার আয়তনের অনুপাতে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস এখনো হয়নি। অথচ শামসুল হুদার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পেশাদার ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা এ বিষয়ক একটি সংস্কারের কথা গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করেছিলেন। তাঁরা দেখেছিলেন, পুরান ঢাকায় কোনো ওয়ার্ড যখন ১০ থেকে ১২ হাজার লোক নিয়ে আছে, তখন মিরপুরে একটি ওয়ার্ড ১ লাখ লোক নিয়ে আছে। তখন মোট ওয়ার্ডসংখ্যা ৯০ রেখেই ৪২টি ওয়ার্ডে ব্যাপক পরিবর্তন এনে একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কোতোয়ালির ১০টি ওয়ার্ডকে ৬ টি, সূত্রাপুরের ৬ টিকে ১০ টিতে পরিণত করার মতো একটি পেশাদারি পুনর্বিন্যাসের অনুশীলন কেন ফাইলচাপা পড়ল, তার কোনো সদুত্তর নেই।
গত এক দশকে বাছাই কমিটির মাধ্যমে আমরা অনেক মাতামাতি করে দুটি নির্বাচন কমিশন পেয়েছি, কিন্তু তাদের কারও অ্যাজেন্ডায় এই লোকসংখ্যা ও আয়তনের অনুপাতে প্রতিনিধি নির্বাচনের মৌলিক কাজটি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরের মেয়র উপনির্বাচনে ভোট। এই দিন দুই সিটির প্রশাসনিক এলাকায় নতুন যুক্ত হওয়া উত্তরের ১৮টি ও দক্ষিণের ১৮টি ওয়ার্ডে ভোট হবে। সম্ভাব্য চিত্রটি এ রকম: উত্তরে উপনির্বাচন হবে। উত্তরে এখন যে ৩৬টি ওয়ার্ড রয়েছে, তার ভোটাররা শুধু মেয়রকে আর বাকি নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের মানুষ মেয়রসহ কাউন্সিলরদের ভোট দেবেন। এর মধ্যে উপনির্বাচনটিই শুদ্ধতম। কারণ, মেয়রের শূন্যপদে ভোট হবে। কিন্তু বাকি ১৮ টিতে নির্বাচন আইনি প্রশ্নমুক্ত নয়। আবার দক্ষিণের বিদ্যমান ৫৭ ওয়ার্ডে কোনো ভোট নেই, শুধু নতুন ১৮ টিতে ভোটাররা কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন। অতীতে এমন নজির বিরল নয় যে সরকার যখন নির্বাচন করতে চায়নি, আবার ভোট না করার বদনামও নিতে চায়নি, তখন তারা এমনভাবে পরিস্থিতিকে ঠেলে দিয়েছে, যাতে আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। আমরা অবশ্যই ঢাকার স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে অধিকতর কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল দেখতে চাই। যদি আড়াই বছরের বিষয়টি কোনো জটিলতা তৈরি না করে, যদি নির্বাচনকে আটকে না দেয়, তাহলে আমরা মনে করি, ঘোষিত তফসিলে নির্বাচন হলে ক্ষতি নেই। কেউ বলছেন, দক্ষিণের ১৮টি ওয়ার্ডের মানুষের নির্বাচিত কাউন্সিলর থাকবেন, কিন্তু নির্বাচিত মেয়র থাকবেন না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন, তা সংবিধান বা নৈতিকতা-কোনোটিই সমর্থন করে না। তাঁর কথায়, ইসির কাজ নির্বাচন করা। তার মানে তিনি নিজেই নিজেকে ‘পোস্টবক্স’ দাবি করছেন। বলছেন, নির্বাচনের পরে ‘হয়তো’ স্থানীয় সরকার বিভাগ মেয়াদ নির্ধারণ করবে। আর মামলা হলে ইসির কিছু করার নেই। আমরা মনে করি, ১৮ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র জমাদানের আগেই মেয়াদের বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নতুন ৩৬ ওয়ার্ডে প্রশাসক নিয়োগ করা যায়। এই ৩৬ টিতে কোনো ভোট হবে না, এবার শুধুই মেয়র পদে উপনির্বাচন হবে। মেয়র মারা না গেলে সরকার ওই ৩৬ টিতে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য নির্বাচন দিতও না। ২০০২ সালে ঢাকার মেয়র নির্বাচনের আগে অনুরূপ একটি প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ, আওয়ামী লীগ ১৯৯৮ সালে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীর ওয়ার্ডসংখ্যা বাড়ালেও তাতে নির্বাচন করেনি। ২০০১-এর নির্বাচনী জয়ের পর ঢাকাকে নিজেদের আরও নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনটি বিএনপির জন্য জরুরি হয়ে পড়েছিল। মওদুদ আহমদ তখন আইনমন্ত্রী। তিনি দেখলেন, নবগঠিত ওয়ার্ড নিয়ে হাইকোর্টে একাধিক রিট বিচারাধীন। তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ সাঈদের সম্মতিতে মওদুদ এর একটি অভিনব সুরাহা দিলেন। ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনের এক মাস না পেরোতেই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। ২৫ নভেম্বর, ২০০১-এর ওই প্রজ্ঞাপনের (পৌর/১ /এন/৩ /৯৮/১৪৮৯, ১৪৯১ ও ১৪৯৩) মাধ্যমে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়ানো হয়েছিল। তাতে বলা হলো, ১৯৯৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে যেভাবে তিনটি সিটিতে নতুন ওয়ার্ড সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেই প্রজ্ঞাপন এখন এমনভাবে বাতিল করা হলো, যেন সেগুলো কখনো জারি করা হয়নি। ওই প্রজ্ঞাপন ১২ মার্চ ২০০২ তারিখে তফসিল ঘোষণার আগেই জারি করা হয়েছিল। প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বললেন, ওই প্রজ্ঞাপনের কথা তাঁর জানা নেই। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। বালাই ষাট, আইনি জটিলতায় আসন্ন নির্বাচন আটকে গেলে ইসিকে দায়িত্বহীনতার একটা দায় নিতে হবে বলেই প্রতীয়মান হয়।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

মৌলভীবাজার শহর প্রতিরক্ষা বাঁধে ধস

মৌলভীবাজার পৌরসভার পূর্ব বড়হাট এলাকায় মনু নদের শহর রক্ষা বাঁধে যে ধস দেখা দিয়েছে, তা দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পড়তে পারে এবং সেই সঙ্গে বাঁধসংলগ্ন অনেক বাড়িঘরও ভেঙে যেতে পারে। গত বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বাঁধের কুসুমবাগের পেছন থেকে পূর্ব বড়হাট এলাকার নদসংলগ্ন মসজিদের পশ্চিম পর্যন্ত দেড় থেকে দুই হাজার ফুট এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ধসের কারণে ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা বাঁধসংলগ্ন বেশ কিছু বাড়ির লোকজন সরে গেছে। মনু নদ থেকে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। বাঁধে ধস দেখা দেওয়ার পর বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বাঁধ মেরামতে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এখন ধস মেরামতে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া মনু নদ থেকে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। নদীতে বালুমহালের ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীগর্ভ থেকে বালু তোলা নিষিদ্ধ। অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হলে নদীর গতি পরিবর্তিত হয় এবং নদীর দুই পাড় ভেঙে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে দেখা যায়, কোনো নিয়মনীতির ধার না ধেরে অনেকে নিজেদের স্বার্থে নদ-নদী থেকে বালু তুলছেন। অনেক সময় এ জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমতিও নেওয়া হয় না। এই বালু উত্তোলনের মাধ্যমে একদল মানুষ অবৈধভাবে টাকা কামাচ্ছে, আর অন্যদিকে মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে। এভাবে বেশি দিন চলতে পারে না। এখন শহর রক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে উদ্যোগী হতে হবে। এটা তাদেরই দায়িত্ব।

২০ শীর্ষ ঋণখেলাপি

শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার কাছে ৩২ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট ঋণের ৪০ শতাংশই আটকে থাকার খবরে নতুনত্ব নেই। ঋণ আদায়ে তদারকি জোরদার করতে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তাগাদা নিশ্চয় ইতিবাচক। ঋণখেলাপিদের রাজনৈতিক খুঁটির জোর যেখানে সুবিদিত, সেখানে নির্বাচনী বছরটিতে সরকারের মনোভাব বদলাবে বলে মনে হয় না। কিন্তু সরকার যদি জনগণের গচ্ছিত আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকিং খাতকে জাতির রক্ত সঞ্চালনব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে, তাহলে রাষ্ট্রের বিচলিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। খেলাপি ঋণ একটা বৈশ্বিক সমস্যা। কিন্তু অন্যদের সঙ্গে যেটা তফাত তা হলো, উল্লেখযোগ্য অংশ ঋণ শুধু খেলাপি নয়, কিছু ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এর সপক্ষে কাগজপত্র খুবই দুর্বল। উপরন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাড়পত্র দেওয়া ৯টি নতুন বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ যখন ৮৬ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, তখন ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্যকর চিত্রটি স্পষ্ট হয়। ২০০৩ সালের অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ উশুলের যে দেওয়ানি ব্যবস্থাটি চলমান, তা ইতিমধ্যে অকার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
একসময় সংসদে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ পেত, হইচই হতো, কিন্তু বর্তমান সংসদ কখনো তালিকা প্রকাশ করেনি। এটা তাদের করা উচিত হবে। মানুষের জানা দরকার কারা ঠেকায় পড়ে খেলাপি আর কারা অভ্যাসগত আজীবন ঋণখেলাপি। সব ঋণখেলাপিকে নিশ্চয় এক পাল্লায় মাপা যাবে না। অবশ্য সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয়–সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি, সরকারি অনুমিত হিসাব কমিটি এবং সরকারি হিসাব কমিটির কতিপয় সদস্য অনানুষ্ঠানিকভাবে ঋণখেলাপিদের তালিকা সময়ে সময়ে মিডিয়াকে দিয়েছেন। বোঝাই যায়, ঋণখেলাপিদের বাগে আনতে না পারায় তাঁরা বিব্রত। কিন্তু দরকার হলো শীর্ষ ঋণখেলাপি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের যাবতীয় কাগজপত্রসহ সংসদীয় কমিটি আয়োজিত শুনানিতে হাজির করা। ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ঋণ সরবরাহের সময় আইনের শর্ত অনুযায়ী দরকারি কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে কি না, তা তারা অনেক ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখে না। তারা রাজনৈতিক তদবির ও যোগসূত্রকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সে কারণে কিছু কুঋণ বেড়েছে, যা জনগণের আমানত আত্মসাতের শামিল। প্রতিবেশী ভারতের ৩০ শীর্ষ কোম্পানির কাছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি খেলাপি ঋণ (প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকা) আটকে পড়ার পটভূমিতে তা মোকাবিলায় প্রথমে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ এবং পরে লোকসভা নির্দিষ্ট একটি আইন পাস করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ আমরাও বিবেচনা করতে পারি। তবে সে জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।

তবু সব ক্লাসে প্রথম

জন্ম থেকে দুটি হাত ও ডান পা নেই। যে একটি পা আছে, তা দিয়ে সে লেখে। সুন্দর করে ছবি আঁকে। পা দিয়ে লিখেই সব পরীক্ষায় প্রথম সে। অদম্য ইচ্ছা আর নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধিতা জয় করে এগিয়ে চলেছে তামান্না আক্তার। তামান্না আক্তার যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীনের মেয়ে। তামান্না বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। রওশন আলী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। খাদিজা পারভীন গৃহিণী। তাঁদের তিন ছেলেমেয়ে। তামান্না সবার বড়। ছোট বোন মুমতাহিনা রশ্মি দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। ভাই মুহিবুল্লা তাজের বয়স তিন বছর। তামান্না আক্তার গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলে, ‘আমার ইচ্ছা মানুষের মতো মানুষ হওয়ার। এ জন্য আমি ডাক্তার হতে চাই। মানুষের সেবা করতে চাই। মা-বাবা ছাড়াও স্কুলের স্যার ও বন্ধুরা আমাকে খুব অনুপ্রেরণা দেন। সহযোগিতা করেন।’ তামান্নার মা খাদিজা পারভীন বলেন, ‘২০০৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তামান্নার জন্ম। ওর জন্মের পর কষ্ট পেয়েছিলাম। পরে ভেবেছি, ওকে কারও বোঝা হতে দেওয়া ঠিক হবে না। ছয় বছর বয়সে ওর পায়ে কাঠি দিয়ে লেখানোর চেষ্টা করলাম। কলম দিলাম। কাজ হলো না। এরপর মুখে কলম দিলাম। তাতেও কাজ হলো না। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম, ওকে পা দিয়েই লেখাতে হবে। এরপর ওকে বাড়ির কাছে একটি বেসরকারি সংস্থার স্কুলে নিয়ে গেলাম ভর্তি করতে। কিন্তু প্রতিবন্ধী বলে তারা ভর্তি করল না। তাদের বললাম, শুধু দুই মাস এখানে ও ক্লাস করবে। তাতেও তারা রাজি হলো না। এরপর স্কুলটির এক শিক্ষিকাকে বলে দুই মাস ক্লাস করালাম। সেখান থেকে ওকে বাঁকড়া আজমাইন এডাস স্কুলে ভর্তি করালাম। মাত্র দুই মাসের মাথায় ও পা দিয়ে লিখতে শুরু করল। এরপর ছবি আঁকা শুরু করল। এ বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) জিপিএ-৫ পায় তামান্না। বৃত্তিও পায়।’
আজমাইন এডাস স্কুলের তৎকালীন অধ্যক্ষ ফারহানা আফরোজ বলেন, তামান্না কারও কাছে প্রাইভেটও পড়ত না। তারপরও ও সব ক্লাসে প্রথম হতো। খাদিজা পারভীন বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর তামান্নাকে বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় (জেএসসি) সে জিপিএ-৫ পায়। বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছে। কিন্তু ওকে পড়ানোর সামর্থ্য আমাদের নেই। টাকা থাকলে ওকে ভালো করে মানুষ করতে পারতাম। গান শেখাতে পারতাম। ওর মধ্যে প্রতিভা আছে। চর্চা করেই আজ এ পর্যন্ত এসেছে। ওকে নিয়ে আমি আশাবাদী।’ তামান্নার বাবা রওশন আলী বলেন, ‘মেয়েটার জন্য কোনো কাজ করতে পারি না। সারাক্ষণ ওর দিকে খেয়াল রাখতে হয়। শরীরে একটা মশা পড়লেও ও তাড়াতে পারে না। প্রতিদিন আমি আর ওর মা ওকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে স্কুলে দিয়ে আসি। ছুটি হলে নিয়ে আসি। কিন্তু ছেলেদের সাথে ক্লাস করতে ওর অসুবিধা হয়। পোশাক সরে গেলে ও ঠিক করতে পারে না। একা শৌচাগারে যেতে পারে না। মেয়েদের সাথে নিচতলায় ওর ক্লাস হলে ভালো হতো।’ বাঁকড়া জনাব আলী খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘তামান্না প্রতি ক্লাসেই প্রথম হয়ে আসছে। ওর লেখা স্পষ্ট, দৃষ্টিনন্দন। সুন্দর ছবি আঁকে। আশা করি, এসএসসি পরীক্ষায়ও তামান্না ভালো করবে। বিদ্যালয় থেকে সব রকম সুবিধা ওকে দেওয়া হয়। সহপাঠীরা ওকে খুব সহযোগিতা করে। এরপরও ওর সুবিধার্থে মেয়েদের ক্লাস নিচতলায় আনার ব্যাপারে শনিবার মিটিং করব। তাহলে ও মেয়েদের সাথে ক্লাস করতে পারবে।’