Saturday, March 19, 2016

শরণার্থী সংকট নিরসনে ইইউ–তুরস্ক চুক্তি

শরণার্থী সংকট নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তুরস্কের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গতকাল শুক্রবার এ চুক্তি হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের এই দিনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু। আহমেত দাভুতোগলু বলেন, ‘আজ আমরা উপলদ্ধি করতে পারছি যে, তুরস্ক ও ইইউর ভাগ্য অভিন্ন। তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ অভিন্ন এবং ভবিষ্যৎ অভিন্ন।’ ইইউর নেতারা শরণার্থী সংকট নিয়ে নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মতৈক্যে পৌঁছান। পরে এর ভিত্তিতে গতকাল তুর্কি প্রধানমন্ত্রী দাভুতোগলুর কাছে দেওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রিস থেকে সিরীয় শরণার্থী ফিরিয়ে আনার বিপরীতে তুরস্কে অবস্থানরত সমসংখ্যক সিরীয় শরণার্থীকে ইউরোপে পুনর্বাসন করা হবে। একই সঙ্গে ওই প্রস্তাবে তুরস্ককে শরণার্থী পুনর্বাসনের জন্য ইইউর পূর্বপ্রতিশ্রুত অর্থের দ্বিগুণ সহায়তা তহবিল এবং দেশটিকে রাজনৈতিক ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়। গ্রিস থেকে সিরীয় শরণার্থী ফিরিয়ে আনার বিনিময়ে তুরস্কে অবস্থানরত সিরীয় শরণার্থীদের ইউরোপে পুনর্বাসন করার প্রস্তাব নিয়ে কয়েক দিন আগেই তুরস্কের সঙ্গে ইইউর প্রাথমিক মতৈক্য হয়েছিল। এরপর গতকাল চুক্তি হলো। এর আগে ব্রাসেলসে ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী দাভুতোগলুর বৈঠক শুরু হওয়ার ঘণ্টা খানেক আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এক টেলিভিশন ভাষণে ইউরোপীয় নেতাদের কড়া সমালোচনা করেন। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক যখন ৩০ লাখ শরণার্থীকে দেখভাল করছে,
তখন মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে অল্প কিছু অসহায় শরণার্থী ‘লজ্জাজনক’ অবস্থায় রয়েছে। তারা সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় তুরস্ককে কী করতে হবে না হবে, তা নিয়ে সবক দেওয়ার আগে তাদের উচিত নিজেদের দিকে তাকানো। এরদোয়ান বলেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) মিলিশিয়াদের তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মদদ দিচ্ছে। এটা মাইন পাতা মাঠে নৃত্যগীতে মত্ত হওয়ার শামিল। ইইউ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী দাভুতোগলু সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শরণার্থী সংকটকে আর্থিক বিবেচনায় দেখবেন না। এ ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনা অগ্রাধিকার পাবে। তিনি বলেন, তুরস্ককে তাঁরা কিছুতেই শরণার্থীদের ‘কারাগার’ হতে দেবেন না। বৈঠকের আগে জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, তুরস্ককে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে শরণার্থীদের দেখভাল করতে হবে। তবে ম্যার্কেল প্রথম থেকেই বলে আসছেন, গ্রিস থেকে শরণার্থী ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়ন এ সংকট কাটাবে বলে তিনি মনে করেন না। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, তিনি মনে করেন না, ব্রাসেলস বৈঠক থেকে আশাব্যঞ্জক কিছু একটা বেরিয়ে আসবে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তুরস্ক হয়ে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী ও অভিবাসনকামী ইউরোপে ঢুকেছে। এ বছরেই ঢুকেছে ১ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ।

ট্রাম্পের ছেলেকে হুমকি!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে তাঁর ছেলেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে, এ বিষয়ে ট্রাম্পের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে। নিউইয়র্ক পুলিশ গতকাল শুক্রবার বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্পের (৩২) ম্যানহাটানের বাড়ির ঠিকানায় বৃহস্পতিবার একটি চিঠি আসে। চিঠির খামের মধ্যে শস্যদানার মতো কিছু বস্তুও ছিল। পুলিশ পরীক্ষা করে বলেছে, সেগুলো প্রাণঘাতী বা ক্ষতিকর কিছু নয়। পুলিশ আরও বলেছে, এ ব্যাপারে দোষী হিসেবে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে।
এদিকে দ্য ইকোনমিস্ট, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল পত্রিকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করার পর ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ‘তাঁদের সম্পাদকীয়তে কী লেখা হলো না হলো তা নিয়ে কারোর, বিশেষত আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’ ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়াকে অন্যতম ‘বৈশ্বিক ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর পরপরই ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পের মনোনয়ন ঠেকাতে ‘প্রয়োজনীয় সবকিছু’ করতে রিপাবলিকান নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পত্রিকাটির সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ট্রাম্প নারী, ইহুদি, মুসলমান, মেক্সিকান, প্রতিবন্ধীসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষকে অপমান করেছেন।

রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় মায়া একা নন, বড় কেউ আছে -ফিলিপাইনের সিনেট তদন্ত কমিটি

মায়া সান্তোস দেগুইতো
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো একা দায়ী নন। এর পেছনে বড় কয়েকজনের হাত আছে। এসব রাঘববোয়াল ফিলিপাইনেরই নাগরিক। এ কথা বলেছেন সে দেশের তদন্তকারী সিনেট কমিটি ব্লু রিবনের সভাপতি তোয়েফিস্তো গুংগোনা।
ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে গত বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেন রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) কর্মকর্তা মায়া দেগুইতো। রুদ্ধদ্বার ওই শুনানির পর ব্লু রিবন কমিটির সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে কীভাবে অর্থ চুরি গেল, তা জানতে আরসিবিসির আরও কর্মকর্তাকে ডাকতে হবে।
ফিলিপাইনের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইন্টারআকসিয়োনডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তোয়েফিস্তো গুংগোনা বলেন, শুনানিতে দেগুইতোর দেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, তিনি একা এ ঘটনায় জড়িত নন। এর পেছনে বড় বড় মানুষ জড়িত আছেন।
দেগুইতো আরসিবিসির জুপিটার মাকাতি শাখার ব্যবস্থাপক। এই অর্থ চুরির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেবল তাঁর নামটিই এসেছে। চুরি যাওয়া অর্থ আরসিবিসির এই শাখা হয়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে ঢুকেছে।
অর্থ চুরির পেছনে ওই ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাত আছে—গুংগোনাকে তাঁর এই কথা পরিষ্কার করে বলতে অনুরোধ করা হয়। জবাবে সিনেটর গুংগোনা বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আছে। তবে এখনই তা বলা ঠিক হবে না। কেননা, আমাদের হাতে এমন অকাট্য প্রমাণ নেই।’
বৃহস্পতিবারের শুনানির পর ফিলিপাইনের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভের সদস্য টেরি রিডন চুরি যাওয়া অর্থ নিয়ে কংগ্রেসের সমান্তরাল একটি তদন্তের দাবি জানান। তিনি বলেন, সরকারি নানা সংস্থা, ওই ব্যাংকের নির্বাহীরা এবং ক্যাসিনোর কর্তৃপক্ষ এক জোট হয়ে ব্যাংকের শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ফাঁসিয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত হওয়া দরকার।
বিবৃতিতে রিডন বলেন, পুরো ঘটনার পেছনে উচ্চপর্যায়ের লোকজনের হাত আছে। ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজও এমনটাই মনে করেন।
সিনেট কমিটির শুনানিতে জন গোমেজ বলেন, ‘একজন বহিরাগত হিসেবে আমি মনে করি, কিছু একটা লুকানোর চেষ্টা হচ্ছে। দেখুন, যখন সিনেটররা আরসিবিসি কর্তৃপক্ষকে যৌক্তিক কিছু প্রশ্ন করছিলেন, মি. লরেঞ্জো ট্যানও (আরসিবিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) সেখানে ছিলেন। কিন্তু তাঁর মুখ থেকে একটি শব্দও বের করা যায়নি।’
জন গোমেজ বলেন, ‘আমি মনে করি না, হঠাৎ করে কোনো অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি ডলার লেনদেন হলে বিশ্বের কোনো ব্যাংকের একটি শাখার ব্যবস্থাপক তা একা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এখন তাঁরা বলছেন, ওই সব অ্যাকাউন্ট ছিল ভুয়া। আমার মনে হয় না, বিশ্বের কোথাও ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা প্রেসিডেন্ট কোনো শাখা ব্যবস্থাপককে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অনুমতি দেবেন।’
টেরি রিডন বলেন, আরসিবিসি ব্যাংকের যে অ্যাকাউন্টটির মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে, তা তাঁর নয় বলে সরাসরি বলে দিয়েছেন ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো। কিন্তু ওই অ্যাকাউন্টটি খোলার এবং তা বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সংশ্লিষ্টতার যে ধারণা আছে, তা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
রিডন বলেন, ‘আমার মনে হয়, উইলিয়াম গো এবং প্রত্যেকেই সব দোষ ঠেলে দিচ্ছেন দেগুইতোর দিকে। আসলে দেগুইতো এই লেনদেনের বিষয়ে শুধু তাঁর ব্যাংকের নির্বাহী এবং তাঁর গ্রাহকের নির্দেশ পালন করেছেন।’
সিনেটর তোয়েফিস্তো গুংগোনা সাক্ষাৎকারে বলেন, আরসিবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক দেগুইতো তাঁকে বলেছেন, যে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা গেছে, তা খুলতে কিম ওং যেসব নাম দিয়েছিলেন, সেগুলো কল্পিত নাম ছিল। নামগুলো হলো মাইকেল ক্রুজ, জেসি লাগরোসাস, আলফ্রেড ভারগারা ও এনরিকো ভ্যাসকুয়েজ।
এই চারজন এবং দেগুইতোর বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের বিচার বিভাগে টাকা পাচারের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে দেগুইতো বলেছিলেন, কিম ওং আরসিবিসির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী লরেঞ্জো ট্যানের বন্ধু। তবে ট্যান এ কথা অস্বীকার করেছেন।
গুংগোনা তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, শুনানিতে ব্যাংকের দুই ‘জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর’ নাম উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, এই অর্থ পাচারের বিষয়ে দেগুইতো ফিলিপাইনের একটি চক্রের কথা উল্লেখ করেছেন।
গুংগোনা বলেন, ‘দেগুইতোর সাক্ষ্য থেকে আমরা যতটা জানতে পেরেছি তা হলো, তাঁকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনার পেছনে একজন বড় কেউ আছেন। তবে অন্য আরও লোকজনের সাক্ষ্য আমাদের শুনতে হবে।’
পাঁচজনকে তলব: ফিলিপাইনের বিচার মন্ত্রণালয় মায়া সান্তোস দেহুইতোসহ পাঁচজনকে তলব করেছে। অর্থ পাচারের ঘটনায় দেশটির মানি লন্ডারিং প্রতিরোধবিষয়ক কাউন্সিলের করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে গতকাল শুক্রবার তাঁদের তলব করা হয়।
দেগুইতো ছাড়া বাকি চারজন হলেন মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ, জেসি ক্রিস্টোফার ল্যাগরোসাস, আলফ্রেড সান্তোস ভার্গারা এবং এনরিকো থিয়োডরো ভাসকুয়েজ।