Wednesday, January 23, 2019
৩৮০ কোটি গরিবের সমান সম্পদ ২৬ ধনীর হাতে

এতে আরো বলা হয়েছে, বিশ্বে সম্পদের অসমতার ওপর আলোকপাত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও রিপোর্ট করেছে অক্সফাম। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠক বসার কথা দাভোসে। সেখানে মিলিত হচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির মানুষ।
ঠিক তেমন এক সময়েই এমন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে অক্সফাম। এতে তারা ব্যবহার করেছে অর্থনীতি বিষয়ক বিখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের ডাটা। এই ম্যাগাজিনটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনীদের সম্পদের হিসাব রাখে। সেখান থেকে ডাটা নিয়ে অক্সফাম দেখেছে ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের মার্চ সময়ের মধ্যে বিশ্বের ২০০০ ডলার বিলিয়নিয়ারের সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১২ ভাগ।
পক্ষান্তরে সুইস ব্যাংক ক্রেটি সুইজি’র বিশ্লেষণ বলে যে, ২০১৭ সালের মধ্যভাগ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত মোট জনসংখ্যার নিচের অর্ধেকের সম্পদে কমেছে শতকরা প্রায় ১১ ভাগ। এমন মানুষের সংখ্যা ৩৮০ কোটির মতো। এ বিষয়ে অক্সফামের প্রচারণা বিষয়ক পরিচালক ম্যাথিউ স্পেন্সার বলেছেন, আমাদের অর্থনীতি এভাবে গড়ে উঠেছে, যেখানে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের সম্পদ বাড়ছেই। যেখানে কোটি কোটি মানুষ শুধু জীবনধারণ করে আছেন। তাই অক্সফাম সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্পদের ওপর আয়কর বাড়াতে এবং তা থেকে যে রাজস্ব আসবে তা দিয়ে উন্নততর স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে।
ম্যাথিউ স্পেন্সার বলেন, উপযুক্ত মাতৃত্ববিষয়ক সেবার অভাবে নারীরা মারা যাচ্ছেন। শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটা থেকে উত্তরণ হতে পারে তাদের দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্তির পথ। কেউ গরিব হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে বলেই তিনি অল্প বয়সে মারা যাবেন বা অশিক্ষিত হয়ে থাকবেন এমনটা হতে পারে না।
ওদিকে অনেক বিশ্লেষক বলেন যে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্বে দারিদ্র্যে বসবাসকারী মানুষ, যাদের দিনে আয় ২ ডলারের কম, তাদের সংখ্যা দ্রুত কমে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের একটি ডাটা অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে এমন মানুষের হার ছিল শতকরা ৪৪ ভাগ। তা কমে ২০১৫ সালে এসে দাঁড়ায় শতকরা ৯.৬ ভাগ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এমনটা হয়েছে বিশাল দেশ যেমন চীন ও ভারতের মতো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে। কারণ, তারা তাদেরকে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বিশ্বে আয় অসমতা নিয়ে আগে গবেষণা করতেন ব্রাঙ্কো মিলানোভিচ। তিনি হিসাব কষে দেখেছেন যে, শিল্প বিপ্লব শুরুর পর প্রথমবারের জন্য আন্তর্জাতিক আয় অসমতা কমেছে ১৯৮৮ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে।
অক্সফাম যে হিসাবের ওপর ভিত্তি করে বলেছে, বিশ্বের নিচের দিকে থাকা অর্ধেক মানুষের সম্পদ কমেছে সে বিষয়ে ক্রেডিট সুইজির বিশ্লেষণ সামান্য ভিন্ন কথা বলছে। এতে দেখা গেছে ২০১৮ সালে শীর্ষ ধনীদের সম্পদ সামান্য কমেছে। অর্থাৎ শতকরা ৪৭.৫ ভাগ থেকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২.২ ভাগে।
সোমবার অক্সফাম তার রিপোর্টে বলেছে, বিশ্বের ২৬ জন ধনী ব্যক্তির সম্পদ বিশ্বের মোট মোট মানুষের নিচের দিকে থাকা অর্ধেকের সম্পদের সমান। ২০১৭ সালে এমন ধনীর সংখ্যা ছিল ৪৩ জন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যানসার প্রতিরোধে ‘রঙিন ভুট্টা’ by মো. আলাউদ্দিন কবির

রঙিন ভুট্টা ক্যানসার প্রতিরোধক বলে জানান ড. আবেদ চৌধুরী। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এই ভুট্টা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে। শিশুরা ভুট্টা খেলে তাদের দেহের পুষ্টির চাহিদা অনায়াসেই পূরণ হবে। ড. আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত রঙিন ভুট্টা সারা বছরে ৪ বার চাষ করা যায়। আবার খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমেও ভুট্টা চাষ করা যায়। হাইব্রিড ভুট্টা একটি পদ্ধতির মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে পারে। বেরিয়ে আসা ভুট্টা ফলন হবে হাইব্রিডের সমান। ফলে ভুট্টাচাষে কৃষকদের আরো উৎসাহী করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। ড. আবেদ চৌধুরী কুলাউড়া উপজেলার ভুট্টাচাষীসহ সফল কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ভুট্টার বীজ বিতরণ করেন। প্রত্যেকটি বাড়ির আশেপাশে এবং পতিত জায়গায় ভুট্টা চাষের আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলাম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেবা দিয়েছি। এবার সেই সেবা নিজের দেশকে তথা কুলাউড়াকে দিতে চাই। বিশেষ করে কুলাউড়ার কৃষি বিভাগকে এগিয়ে নিতে আলাদা সময় দেবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
ড. আবেদ চৌধুরী কৃষি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে বিজ্ঞানের কারণে কৃষির উৎপাদন বেড়েছে, জমির কারণে নয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো যেভাবে জমির উপরিভাগ (পলি) অংশ ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে, মিল ফ্যাক্টরি করে ধানী জমিকে ধ্বংস এবং নগরায়ন করা হচ্ছে তাতে কৃষি বিভাগ আগামীতে হুমকির পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
মুখে পড়বে। কৃষিকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে, সেই সঙ্গে নতুন জাতের উদ্ভাবন করতে হবে। তিনি সব ধরনের গবেষণা দেশ ও দেশের বাইরে করেন। বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)- এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন।
নরমাল ভুট্টার সঙ্গে জিনগত পরিবর্তন করে বিভিন্ন ধরনের রং তৈরি করে এই ভুট্টাকে কালার করা হয়েছে। জেনিটিক্যালি মডিফাইড করে এ ধরনের ভুট্টা তৈরি করা হয়। জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়, বিজ্ঞানী ছাড়া এটা কেউ বুঝবে না। আমরা চাইলে যেকোনো ফসলকে যেকোনো রং দিতে পারি অথবা যেকোনো ফসলের রং তৈরি করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কৃষি অফিসার জগলুল হায়দারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শিকাগোর অনারারি কনস্যুল জেনারেল মুনির চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র কমিউনিটি লিডার শামছুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, সিনিয়র সাংবাদিক এম শাকিল রশীদ চৌধুরী, প্রেস ক্লাব কুলাউড়ার সভাপতি আজিজুল ইসলাম, উপজেলার শ্রেষ্ঠ চাষী আব্দুল জব্বার প্রমুখ। উল্লেখ্য, আবেদ চৌধুরী একজন বাঙালি জিন বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানলেখক এবং কবি। তিনি বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং ক্যানবেরা শহরে বসবাস করেন। তিনি ১৯৫৬ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আবেদ চৌধুরী আধুনিক জীববিজ্ঞানের প্রথম সারির গবেষকদের একজন। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে, যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন স্টেট ইনস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়োলজি এবং ওয়াশিংটন স্টেটের ফ্রেড হাচিনসন ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। ১৯৮৩ সালে পিএইচডি গবেষণাকালে তিনি রেকডি নামক জেনেটিক রিকম্বিনেশনের একটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন যা নিয়ে আশির দশকে আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যাপক গবেষণা হয়। তিনি অযৌন বীজ উৎপাদন (এফআইএস) সংক্রান্ত তিনটি নতুন জিন আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে এই জিনবিশিষ্ট মিউটেন্ট ছাড়াই আংশিক বীজ উৎপাদনে সক্ষম হয়। তার এই আবিষ্কার এপোমিক্সিস-এর সূচনা করেছে যার মাধ্যমে পিতৃবিহীন বীজ উৎপাদন সম্ভব হয়। তিনি দেশীয় নতুন উদ্ভাবন হাফিজা-১, জালালিয়া, তানহা ও ডুম- এ চার জাতের ধানের উদ্ভাবন করে বেশি ফলন পেয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট হেলথ, ম্যাসাচুসেট্?স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং ফ্রান্সের ইকোল নরমাল সুপিরিয়রের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা ও গবেষণা করেছেন। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় একদল বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে গঠিত গবেষকদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অনেক পেশাদারী জার্নালে তার লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি সহজবোধ্য ভাষায় বাংলা ও ইংরেজিতে অনেক নিবন্ধ লিখেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিজিটাল যুগেও ভরসা ঝাড়ফুঁকে by মরিয়ম চম্পা

গ্রামের সহজ-সরল মানুষ থেকে শহরের চাকচিক্যে বেড়ে ওঠা লোকজনও ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাসী। শুধু তাই নয়, সন্তান হারিয়ে গেছে। কিংবা অপহরণ হয়েছে। সেক্ষেত্রেও মানুষ দ্বারস্থ হয় পীর-ফকিরের কাছে। জিনের বশ আছে এমন লোকের কাছে। গত কোরবানি ঈদের আগের কথা।
হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার ধর্মঘর থেকে নিখোঁজ হয় প্রবাসী মসিউর রহমানের আট বছরের একমাত্র পুত্র নিলয়। মামার সঙ্গে গরু বাজারে গিয়েছিল গরু কিনতে। সেখান থেকেই হারিয়ে যায় নিলয়। খবর শুনে সৌদি আরব থেকে ছুটে আসেন মসিউর। কিন্তু থানা-পুলিশের বদলে তিনি দৌঁড়াতে থাকেন ফকিরের বাড়ি। কোনো ফকির এক সপ্তাহ, কোনো ফকির এক মাস সময় দিয়েছেন নিলয় ফিরে আসার। কেউ কেউ আবার বলে দিয়েছেন অমুকের বাড়ি আছে। সেখানেও খোঁজা হয়েছে। কিন্তু নিলয়ের সন্ধান আজও মেলেনি। এক সময় অবশ্য র্যাব ও পুলিশকে জানানো হয়। এ পর্যন্তই। নিলয়ের জন্য পিতা-মাতার ঘুম হারাম। কাঁদতে কাঁদতে তাদের চোখের পানি এখন শুকিয়ে গেছে।
র্যাব, পুলিশ রেখে কেন ফকিরের কাছে গিয়েছেন? এ প্রশ্নে মসিউর রহমান বলেন, বিভিন্নজনের পরামর্শেই গিয়েছি। কেউ কেউ বলেছে, থানা-পুলিশ করলে ছেলেকে মেরে ফেলবে। ফকির আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু তাদের দেয়া সময় পেরিয়ে গেছে। আজও আমার সন্তানকে ফিরে পাইনি। মসিউর বলেন, এক ফকির জিনের মাধ্যমে আমার সন্তানকে উদ্ধার করে দেবে বলে জানান। এজন্য তাবিজ-কবজ দেয়া হয়। নানা নিয়মের মধ্যে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। তার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল তিন লাখ টাকা। আমি শর্ত দিয়েছি, ছেলেকে পেলে তিন লাখের বেশি দেবো। নির্দিষ্ট সময়ে সন্তানকে ফিরে পাইনি। ওই কবিরাজ আরো সময় চায়। গ্রামে দেখা যায়, নামধারী এমন অনেক পীর ফকিরের বাড়ি শনি ও মঙ্গলবার ভিড় লেগে থাকে। কারণ, ওই দুই দিন পীর পানি পড়া থেকে শুরু করে ঝাড়ফুঁক করেন। সব রোগের চিকিৎসা করেন।
রহিমা বিবির বিয়ে হয়েছে ২০১০ সালে। স্বামী পেশায় গাড়িচালক। স্বামীর স্বল্প আয়ের কথা চিন্তা করে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন রহিমা। স্বামী তার কোনো চাহিদাই অপূর্ণ রাখেননি। তবে রহিমার মনে দুঃখ একটাই, তাদের কোনো ছেলেমেয়ে নেই। নয় বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তানের আশায় বড় বড় ডাক্তারদের শরণাপন্ন হয়েছেন এই দম্পতি। হোমিওপ্যাথিক, হার্বাল কী করেননি? যার কাছে যখন যা শুনেছেন তাই করেছেন। অবশেষে ডাক্তার জানালেন রহিমা বিবিকে ঢাকায় তার স্বামীর কাছাকাছি থাকতে হবে। একটু সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে। কিন্তু না এবারও ভাগ্য তার বিপক্ষে। বাচ্চা কনসিভ করলেও দুই থেকে তিন মাসের মাথায় মিসক্যারেজ হয়ে যায়। ইতিমধ্যে এক হুজুরের কাছে গিয়েছিলেন। হুজুর বলেছে, তার সঙ্গে খারাপ জিন আছে। ওই জিন তার বাচ্চা মেরে ফেলে। শেষমেশ তার এক প্রতিবেশীর পরামর্শে এখন প্রতি বৃহস্পতিবার মিরপুরে শাহ আলীর মাজারে যান। মোমবাতি জ্বালান। ওখানে গিয়ে নামাজ পড়েন। দোয়া দুরুদ পড়েন। দান সাদকা করেন। রহিমা বিবির বিশ্বাস এবার তার সন্তান হবে।
সরজমিন মিরপুর-১, হাইকোর্ট মাজার, গোলাপশাহ মাজার, ঘোড়াশাহর মাজারে দেখা গেছে অনেকেই এসেছেন মানত পূরণ করতে। তাই কেউ মাজারে লাল সুতা বাঁধছেন। মোমবাতি জ্বালাচ্ছেন। পয়সা ফেলছেন মুট ভরে। দুই হাত কড়জোর করে মাজারের সামনে থেকে পেছনের দিকে উল্টো পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সিজদা করছেন। বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে শরীর দুলিয়ে অনেকেই নাচছেন। গান গাইছেন। এসব জায়গার আশপাশে সন্ধ্যার পরে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবনকারীদের মজমা বসে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, এখানে দুটি বিষয় মনে রাখতে হবে। যুগটা ডিজিটাল। আর ডিজিটাল হওয়ার মানে এই নয় যে, আগের সব বাতিল হয়ে যাবে। যেটা সত্য এবং সঠিক বিষয় সেটার অস্তিত্ব এনালগ যুগেও যেরকম ছিল ডিজিটাল যুগেও সেরকমই থাকবে। তখন প্রচার-প্রচারণা যা ছিল, এখন সেটায় ভিন্নমাত্রা যোগ হয়েছে। আমাদের উপমহাদেশে মাজার যতটা ব্যাপকভাবে আছে, পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে এতটা নেই। আর কবিরাজ, পীর-ফকিরের নামে ব্যবসা এখন বেড়ে গেছে। দেশের মানুষ সহজ-সরল হওয়ায় তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা যায়। কিন্তু মানুষ সচেতন হলে প্রতারকের সংখ্যা কমে যাবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বৈধ অস্ত্রের বাজার ক্রেতা কারা by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, চকবাজার, ইসলামপুর, মতিঝিলে ২৫টি দোকানে বিক্রি হয় বৈধ অস্ত্র। সারা দেশে এমন দোকান আছে ৮৪টি। এসব দোকানগুলোতে বছরে সাড়ে তিন’শ থেকে চার’শ অস্ত্র বেচাকেনা হয় বছরে। তবে বিক্রির পরিমাণ রাজধানীতেই বেশি।
বাংলাদেশ আর্মস ডিলার এন্ড ইমপোর্টার এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি নাসির আহমেদ জানান, প্রায় ৪৫ বছর ধরে তিনি অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এটা অনেকটা পারিবারিক ঐহিত্য। তিনি বলেন ৩০ হাজার টাকা থেকে দুই লাখ টাকা মূল্যের অস্ত্র তারা বিক্রি করেন। এ ছাড়া পুরাতন অস্ত্রও পাওয়া যায় সাত থেকে আট হাজার টাকার মধ্যে। তারা সাধারণত পিস্তল, বন্দুক, রিভলবার, রাইফেল বিক্রি করেন। তবে এসব বিক্রির নির্ধারিত নীতিমালা আছে। চাইলেই কেউ যে কোনো মডেলের অস্ত্র এনে বিক্রি করতে পারবে না।
সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার ব্যবসায়ী জিএম আখতারুজ্জামান। প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি বৈধ অস্ত্র বহন করছেন। উপজেলা সদর থেকে তার বাড়ির দূরত্ব ছিল প্রায় ২৩ কিলোমিটার। এক সময় যোগাযোগ ব্যবস্থাও তেমন ভালো ছিল না। যার কারণে এলাকায় প্রচুর ডাকাতির ঘটনা ঘটতো। ফলে নিরাপত্তার জন্য বৈধ অস্ত্র নিয়েছিলেন।
একই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কাসেদ আলী। ১৯৭৬ সাল থেকে বৈধ অস্ত্র বহন করেন তিনি। এর আগে অস্ত্রটি তার বাবা ব্যবহার করতেন। কেন এই বৈধ অস্ত্র রাখছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একসময়ে আমাদের অনেক জমিজমা ছিল, ফলে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে চোর ডাকাত লেগেই থাকতো। এই কারণেই বৈধ অস্ত্র নিয়েছিলাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই অস্ত্র কোনো কাজে লাগেনি।
বৈধ অস্ত্র লাইসেন্সের জন্য চেষ্টা করছেন ২৫ বছর বয়সী কক্সবাজার মহেশখালীর একজন নাগরিক। পরিবারের অন্য কয়েকজনের নামে আছে বৈধ অস্ত্র। তিনি জানান, নব্বই দশকের শুরু থেকে তার দাদা জড়িত ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে, বাবা এলাকার বড় ব্যবসায়ী সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কারণেই বৈধ অস্ত্র সঙ্গে রাখতে বাধ্য হচ্ছে তারা।
রাজধানীতে অস্ত্র বিক্রি হয় এমন দোকান ঘুরে দেখা গেছে সাধারণ দোকানের মতোই প্রতিদিন খোলা হয় দোকান। তবে ক্রেতা কোনো দিন আসেন আবার কখনো এক সপ্তাহেও দেখা মিলে না। বাংলাদেশের অস্ত্র বিক্রির ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, বৃটিশ আমলে অবিভক্ত ভারতের গোটা বাংলায় বৈধ অস্ত্রের খোলা বাণিজ্য ছিল মূলত কলকাতা কেন্দ্রিক, বৃটিশ কোম্পানি পরিচালিত। সামসুদ্দিন আহম্মেদ নামে ঢাকার চকবাজারের এক ব্যক্তি কলকাতায় বৃটিশ ম্যান্টন এন্ড কোম্পানির আগ্নোয়াস্ত্র তৈরির কারখানায় অস্ত্র তৈরি ও মেরামতের কাজ করতেন। এমন কর্মীদের কারখানায় বলা হয় গানস্মিথ। ১শ’ ৬ বছর আগে, ১৯১২ সালে সামসুদ্দিন আহম্মেদ চকবাজারে দেশের প্রথম বৈধ অস্ত্রের খোলা বাণিজ্য শুরু করেন। শুরুতে কলকাতা থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের বন্দুক এখানে বিক্রি হতো। আবার অস্ত্র মেরামতের কাজও করতো। ১৯৪২ সালে ঢাকার বৃটিশ ম্যাজিস্ট্রেট জেমস লিউএন বাংলাদেশের ফসলের নিরাপত্তার জন্য কৃষকদের বন্দুকের লাইসেন্স প্রদানের নির্দেশ দিলে এই জনপদে ব্যক্তিগত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। ১৯৫২ সালে চকবাজারে দেশের প্রথম অস্ত্রের দোকানটি জার্মানি, ইংল্যান্ড ও আমেরিকা থেকেও আগ্নেয়াস্ত্র এনে বিক্রির মাধ্যমে প্রসারিত করেন এ বাণিজ্য।
ভারত ভাগের পর পরই বৈধ অস্ত্রের দ্বিতীয় দোকান হয়, ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটে। সেটি এখনো টিকে আছে। স্বাধীনতার আগে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে এমন আরো কয়েকটি অস্ত্রের দোকান হলেও তার বেশ কয়েকটি বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, স্বাধীনতার পর বৈধ অস্ত্রের খোলা দোকানের সংখ্যা একটু একটু করে বেড়েছে। জানা যায়, অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয় শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য। তাই এইসব অস্ত্র নিজের আত্মরক্ষা ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। বাংলাদেশে চলমান ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট ও ১৯২৪ সালের আর্মস রোলের এর আওতায় সামরিক, বেসামরিক, অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে অনিষিদ্ধ বোরের আগ্নেয়াস্ত্রসমূহের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর বয়স শর্ত ব্যারেল আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩০ (ত্রিশ) বছর এবং লং ব্যারেলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২৫ (পঁচিশ) বছর হতে হয়। আবেদনকারীকে অবশ্যই আয়কর দাতা হতে হবে। শিল্পপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বছরে ন্যূনতম দুই লাখ টাকা আয়কর প্রদান করতে হবে। আর পিস্তলের জন্য পর পর তিনবছর ৯ লাখ টাকা কর গুনতে হবে। শুধু তাই নয় সবমিলিয়ে আবেদনকারীর অনুকূলে থাকতে হবে পুলিশ প্রতিবেদন। এরকম আরো প্রায় ২৫টি ধাপের পর মিলতে পারে অস্ত্রের লাইসেন্স। এ ছাড়াও বিভিন্ন অস্ত্রের জন্য নির্দিষ্ট ফি তো আছেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এমন মৃত্যু আর কত? by জিয়া চৌধুরী

মালিবাগ থেকে যাত্রাবাড়ীগামী প্রতিটি বাসই ছিল মানুষে ঠাসা। দাঁড়িয়ে থাকা অনেক যাত্রীর মাঝে গায়ে অ্যাপ্রন, কাঁধে ব্যাগ আর মাথায় হিজাব পরা এক মেয়েকে খেয়াল করেন তিনি। ছয়টা ৪০ মিনিটের দিকে রামপুরা থেকে আসা তুরাগ পরিবহনের একটি বাস রেলগেট মোড়ে থামে। বাসটিতেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যার যার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বাসে উঠতে পাল্লা দেন ৭-৮ জন যাত্রী। ভেতরের কয়েকজন যাত্রী নামতে গেলেই শুরু হয় হুড়োহুড়ি। ঠিক এমন সময় বাসটিকে পাশে নিতে দ্রুতগতিতে টান দেন চালক। মোড়ের সামনে এগিয়ে ৯০ ডিগ্রি টার্ন নেন। গতি আর মোড় ঘোরানোর কারণে খেই হারিয়ে ফেলেন অনেকে। বাস থেকে রাস্তায় পড়ে যান সাদা অ্যাপ্রন পরা মেয়েটি। গতিতে থাকা বাস না থামায় মেয়েটির কোমরের ওপর দিয়ে চলে যায় পেছনের চাকা।
মুহূর্তেই থেমে যায় গাড়ির চাকা, থেমে যায় মেয়েটির জীবনও। বাসের যাত্রীরা দ্রুতই বাসটিকে ঠেলে সরিয়ে আনেন তাকে। মারাত্মক আহত অবস্থায় রিকশায় করে নেয়া হয় খিদমাহ হাসপাতালে। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আর সবশেষে নিজের আঙ্গিনা আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে আনুমানিক রাত আটটার দিকে দেড় ঘণ্টার জীবনযুদ্ধ শেষে হার মানেন ইতি। হাসপাতালে নামে শোকের ছায়া। নিহত আফসানা ইলিয়াস ইতির বড় বোন আফরোজা ইলিয়াস মিতুও পেশায় একজন চিকিৎসক। কাজ করছেন ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বড় বোনের মত ইতিও চিকিৎসক হবার বাসনা নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হন। নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হবার ইচ্ছা ছিল তার। ঘাতক বাসের চাপার পিষ্ট হবার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় একজন সম্ভাবনাময় চিকিৎসকের। পরিবারের সদস্যদের বাইরেও দেশের মানুষের দুঃখে-অসুখে পাশে থাকবার কথা ছিল তার।
সেই ইতিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর হাজীগঞ্জের বলখোলা গ্রামের বাড়িতে। ইতি ও মিতুকে নিয়ে ছিল তাদের বাবা-মায়ের সাধ-আহ্লাদ। দুই মেয়েই চিকিৎসক হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে, মানুষের পাশে থাকবে এমন স্বপ্ন ছিল ইলিয়াস-আনোয়ারা দম্পতির। ঢাকার মানিকনগর পুকুরপাড় এলাকায় ইতিদের বাড়িটি ছিল দুই বোনের উচ্ছলতায় ভরপুর। সে বাড়িটি এখন শোকে নিথর, স্তব্ধ। ঘটনার আগের দিন ১৮ই জানুয়ারি রাতে পরদিন কলেজে যেতে বারণ করেছিলেন বাবা ইলিয়াস মিয়া। সহপাঠী ফয়সাল আহমেদ জানান, পড়াশোনায় নিয়মিত আর মনোযোগী ইতি বাবার বারণ সত্ত্বেও সেদিন কলেজে যান। পরদিন সার্জারি পরীক্ষা থাকায় ক্লাস শেষে সাড়ে পাঁচটার দিকেই কলেজ থেকে বেরিয়ে যান ইতি। অন্য দিন সব সময় তার সঙ্গে থাকতেন ফয়সাল। কিন্তু সেদিন ফয়সালকে কিছু না বলেই বাসার উদ্দেশ্যে কলেজ থেকে বেরিয়ে যান। রমজান পরিবহনের বাসে যান মালিবাগ পর্যন্ত।
পথেই ছয়টা ১২ মিনিটের দিকে ফেসবুকে কথা বলেন ফয়সালের সঙ্গে। এর ঠিক মিনিট বিশেক পরেই ঘটে দুর্ঘটনাটি। বন্ধুকে হারানোর কথা বলতে গিয়ে চোখ ছল ছল হয়ে ওঠে সহপাঠী ফয়সালের। প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে তিনদিন পরও স্বাভাবিক হতে পারেননি ইতির কাছের বন্ধুরা। ইতির আরেক সহপাঠী ওমর খৈয়াম জানান, আর নয় মাস পরই চূড়ান্ত পর্বের প্রফেশনাল পরীক্ষা শেষে ডাক্তার হয়ে যেতেন ইতি। আজ তা কেবলই স্মৃতি। ইতির খালাতো ভাই সায়মন মজুমদার এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না ইতি আর নেই। বোনের পুরনো দিনের খুনসুটি আর হবু চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মুহূর্তগুলো এখনো চোখের সামনেই জ্বলজ্বল করছে। সহপাঠী ফয়সাল বলেন, দুর্ঘটনায় কোমর থেকে শরীরের নিচের অংশের হাড়গুলো টুকরো টুকরো হয়ে যায় ইতির। ক্ষতিগ্রস্ত হয় লিভার, কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। খিদমাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে শুধু পানি খেতে চেয়েছিলেন ইতি। হাইপোভলেমিক শকের কারণে এমনটা হয়ে থাকে।
তবে, শুরুতেই খিদমাহ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া গেলে হয়তো ইতিকে বাঁচানো যেত বলে দাবি করেন এই মেডিকেল শিক্ষার্থী। দেশে বিচারের সংস্কৃতি নেই বলে মেয়েকে হারানোর ঘটনায় জড়িতদের কোনো ধরনের শাস্তি চান না ইতির বাবা-মা। মেয়ের সহপাঠীদের এসব বিষয়ে শান্ত থাকতে বলেছেন তারা। কোনো ধরনের মানববন্ধন-প্রতিবাদে এদেশে কিছুই হয় না বলেও ক্ষোভ ইতির পরিবারের। এ কারণে, কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেননি তারা। দুর্ঘটনায় ইতি নিহত হবার তিন দিন পর এখনো কোনো মামলা করেনি ইতির পরিবার। মামলা কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় গিয়ে শুধু হয়রানি ছাড়া কিছুই হয় না বলেও ক্ষোভ তাদের। ইতির বাবা সহপাঠীদের বলেছেন, তুরাগ বাসের ঘাতক চালকই হয়তো ক’দিন পরে আরেক বাসে অন্য কারো প্রাণ কেড়ে নেবেন। তাই অনেকটা অভিমানেই মেয়ে হত্যার বিচার চান না বাবা ইলিয়াস মিয়া। সড়কে যাত্রী, চালক আর প্রশাসনের সবার শুভবুদ্ধির উদয় চান তারা।
এদিকে, গত বছরের ২৯শে জুলাই রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলের সামনে জাবালে নূর পরিবহনের একট বাস চাপায় মারা যায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম ও দিয়া খানম মিম। নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তায় কিশোর-কিশোরীদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয় ঢাকার রাজপথ। শিক্ষার্থীদের হাত ধরে কেবল ৯ দিনে নিরাপদ সড়কের দাবিকে জাতীয় ইস্যুতে রূপ দেন শিক্ষার্থীরা। মূলত আগস্টের প্রথম দিন থেকে নয় দফা দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে যানবাহনের লাইসেন্স পরখ করার পাশাপাশি পথচারীদের আইন মানতে বাধ্য করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানায় নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোও।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ৯ দফা দাবি মানার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পাস হয় নতুন সড়ক পরিবহন আইন। নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে সপ্তাহব্যাপী ট্রাফিক সচেতনতা কার্যক্রম চালায় ডিএমপি। আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কঠোর হাতে দমনে ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। তবে এতকিছুর পরও মোটরসাইকেলের পেছনের আরোহীর হেলমেট নিশ্চিত করা আর বিআরটিএ অফিসে লাইন্সেসের জন্য আবেদনকারীদের ভিড় বেড়েছে শুধু। সচেতনতা বাড়েনি নাগরিকদের মধ্যে। সড়ক রয়ে গেছে তার পুরনো নিয়মেই।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ জানান, বিগত এক দশকের মধ্যে ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত বছর সারা দেশে অন্তত ৩ হাজার ৫১২টি দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ যায় ৪ হাজার ৭৬ জনের। সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ২ হাজার ৯১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৬৭২ জন, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৩০টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৯৩১ জন, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৬৯০টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৭২৫ জন, ২০১৪ সালে ১ হাজার ৫৮৯টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৬৩২ জন, ২০১৩ সালে ১ হাজার ৭৫৫টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৭৮২ জন, ২০১২ সালে ১ হাজার ৯৩৯টি দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৯৫৩ জন, ২০১১ সালে ২০১৭টি দুর্ঘটনায় ২০৭২ জন, ২০১০ সালে ২ হাজার ৪৩৭টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৪৩ জন এবং ২০০৯ সালে ২ হাজার ৮১৫টি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৭০৩ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সেই হিসাবে গত এক দশকে সারা বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩ হাজার ৯৮৯ জন মানুষ মারা গেছেন। অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষণায় এমন তথ্য যাওয়া গেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় খুব একটা সাজা হওয়ারও রেওয়াজ নেই বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাওমান স্মিতা। তিনি বলেছেন, আইনে মারপ্যাঁচ থাকা, সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজির না করাসহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সড়ক দুর্ঘটনার মামলাগুলোয় সাজা নিশ্চিত করা যায় না। যে কারণে বছরের পর বছর মামলা ঝুলতে থাকে। মামলার দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ হয়ে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার পরিবার। আইনের কঠোর বাস্তবায়ন আর নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন রাওমান স্মিতা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্পাইসগার্ল টি-শার্ট এবং বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত

গার্ডিয়ানের রিপোর্টে পোশাক কারখানাটির বিরুদ্ধে কম মজুরি দেয়া, শ্রমিকদের হেনস্তা করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পোশাকখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইন্টারস্টফ দেশের উন্নত পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রকাশিত রিপোর্টে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কারখানাটির সুনামহানির চেষ্টা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতের ভাবমূর্তি নষ্ট করারও ষড়যন্ত্র থাকতে পারে এর পেছনে। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, রিপোর্টে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল। এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রতিবাদ জানাবো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইন্টারস্টফ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৪৩ লাখ পাউন্ডের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং এ খাত থেকে ট্যাক্স কর্তনের আগে লাভ করেছে ২০ লাখ পাউন্ড। যা শতকরা ৪৬.৫১ ভাগ। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, ইন্টারস্টফ রপ্তানি করেছে ৪৬৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার (৪ কোটি ২৬ লাখ পাউন্ড) পণ্য। এতে আয় হয়েছে ২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা (১৯ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড), যা শতকরা ৪.৬২ ভাগ।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সরকার বেতন বৃদ্ধি করে সর্বনিম্ন নির্ধারণ করেছে ৮০০০ টাকা। এ ছাড়া গত ৫ বছরের মধ্যে এটাই প্রথম বেতন বৃদ্ধি। অথচ বেতন বৃদ্ধির আওতায় গত ৫ বছরে মূল বেতনের বার্ষিক শতকরা ৫ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইন্টারস্টফের কর্মীদের দেয়া বেতনের প্রকৃত সত্য প্রকাশিত হয়নি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বেতন দেয়া হয়েছে গ্রেড-২ এর সর্বনিম্ন বেতন ১৫৪১৬ টাকা। ইন্টারস্টফের এক্ষেত্রে গড় বেতন ১৫৪১৬ টাকা। এমন বেতন পাওয়া শ্রমিকের শতকরা হার ০.১৪ ভাগ। গ্রেড-৩ এর সর্বনিম্ন বেতন ৯৮৪৫ টাকা। ইন্টারস্টফ এ গ্রেডে গড় বেতন দিয়েছে ১০১৮৮ টাকা। এমন শ্রমিকের হার শতকরা ৯.৬২ ভাগ।
গ্রেড-৪ এর সর্বনিম্ন বেতন ৯৩৪৭ টাকা। ইন্টারস্টফ এ গ্রেডে গড় যে বেতন দিয়েছে তা হলো ৯৬৯২ টাকা। এমন শ্রমিকের শতকরা হার হলো ৩০.৭৮ ভাগ। গ্রেড-৫ এর শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ৮৮৭৫ টাকা। ইন্টারস্টফ এ গ্রেডের শ্রমিকদের বেতন দিয়েছে ৯৭১২ টাকা। এমন শ্রমিকের শতকরা হার ৪১.০৬ ভাগ। গ্রেড-৬ এর সর্বনিম্ন বেমন ৮৪২০ টাকা। ইন্টারস্টফ এই গ্রেডের বেতন দিয়েছে ৮৯৮৩ টাকা। এমন শ্রমিকের শতকরা হার ৩.২৬ ভাগ। গ্রেড-৭ এর সর্বনিম্ন বেতন ৮০০০ টাকা। এই গ্রেডে ইন্টারস্টফ বেতন দিয়েছে ৮০৩০ টাকা। এমন শ্রমিকের শতকরা হার ১৫.১৪ ভাগ। এ ছাড়া শ্রমিকরা পান দুটি উৎসব ও উপস্থিতি বোনাস, প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা, উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রণোদনা, অর্জিত ছুটির ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা, সার্ভিসখাতের সুবিধা ইত্যাদি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজাররা কর্মীদের সঙ্গে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। কিন্তু, ইন্টারস্টফের রয়েছে হয়রানি ও নির্যাতনের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার নীতি। শ্রমিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য যে চ্যানেলগুলো আছে তার মধ্যে রয়েছে খোলা দরজা নীতি (ওপেন ডোর পলিসি), অভিযোগ/পরামর্শ বক্স, হটলাইন নাম্বার। আছে কাস্টমার টোল ফ্রি হেল্পলাইন ও সুরক্ষাবিষয়ক লাইন। পূর্ণাঙ্গ গোপনীয়তার সঙ্গে এবং খুব অগ্রাধিকার দিয়ে সব অভিযোগের বিষয়ে নজর দেয়া হয়। নিরপেক্ষ অডিটররা অডিট করেছেন ইন্টারস্টফ। তারা শ্রমিকদের গোপনীয়তার সঙ্গে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। শ্রমিকদের সচেতন করতে এবং তাদের কথা বলার বিষয়ে রয়েছে ৩০ সদস্যের অংশগ্রহণকারী কমিটি। এতে রয়েছেন শ্রমিকদের নির্বাচিত ২৪ জন প্রতিনিধি। ইটিআই, ইউকে’র নির্দেশনা ও তদারকিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শ্রমিকদেরকে জোরপূর্বক ওভারটাইম কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু নিয়মিত কর্মঘণ্টার পরে সব শ্রমিকই কাজ থেকে চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুক্ত। শ্রমিকদের হ্যান্ডবুক, ছাপানো পোস্টারে এমনটাই পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ করার কারণে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পরীক্ষা বা শিক্ষা সংক্রান্ত কারণে শ্রমিকদের ছুটি দেয়া হয়। এজন্য ইন্টারস্টফ তাদেরকে বেতন দিয়ে থাকে। এ ছাড়া শ্রমিকদের ছেলেমেয়ের শিক্ষাকে আর্থিক পুরস্কার ও সনদ দেয়ার মাধ্যমে উৎসাহিত করা হয়।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তাদের দিয়ে অতিরক্তি সময় কাজ করতে বাধ্য করানো হয়। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকদের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগ নিয়েছে ইন্টারস্টফ এবং তাদের আইনের যেসব বাধ্যবাধকতা আছে তার ঊর্ধ্বে রাখা হয়েছে। যখন কারখানার মেডিকেল সেন্টারে (যেখানে পুরুষ ও মহিলা ডাক্তাররা আছেন) নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে নিবন্ধিত করান তখন তার কাজের ভার পর্যালোচনা করা হয় এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী তা কমিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে নজরদারি বা মনিটরিং করে সমাজকল্যাণ বিষয়ক কর্মকর্তারা। এ ছাড়া ওইসব শ্রমিক মাসিক মেডিকেল চেকআপ ভাতা পান। প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরা তাদের হাইজিন ও সচেতনতা বিষয়ে পরামর্শ দেন। বিনা পয়সায় তাদের প্রথম আলট্রা-সনোগ্রাম করা হয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেনারেল ওষুধপত্র দেয়া হয়। স্বাস্থ্যবীমার অধীনে হাসপাতালের খরচ দেয়া হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, অসম্ভব টার্গেট পূরণ করতে বলা হয় শ্রমিকদের। কিন্তু ২০১৮ সালে ইন্টারস্টফের শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি শ্রমিক এ টার্গেট পূরণ করেছেন এবং তারা বিভিন্ন সময়ে পারফরমেন্সের জন্য প্রণোদনা পেয়েছেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শতকরা ৮৬ ভাগ সুইং অপারেটর পারফরমেন্সের জন্য প্রণোদনা পেয়েছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওরা কি মানুষ? শিশু ধর্ষণের মহামারি, ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি by মারুফ কিবরিয়া

সংঘবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ আর কঠোর আইন প্রয়োগ এ ধরনের বর্বরতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের অনেক ঘটনার পর অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তাদের অনেকে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। রাজধানীর ডেমরা এলাকায় ধর্ষণ চেষ্টার পর এক সঙ্গে দুই শিশু হত্যার ঘটনায় নাড়া দিয়েছে অনেককে।
গত ৭ই জানুয়ারি ঘরের সামনে খেলা করছিল দুই শিশু দোলা ও নুসরাত। তাদের লিপস্টিক দিয়ে সাজিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে আজিজুল ও মোস্তফা নামের দুই দুর্র্র্বৃত্ত। ভয়ে ওই শিশুরা চিৎকার শুরু করলে ক্যাসেট প্লেয়ারের সাউন্ড বাড়িয়ে দিয়ে চলে ধর্ষণ চেষ্টা। ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধ করে দুই অবুঝ শিশুকে হত্যা করে পালিয়ে যায় পাষণ্ডরা। চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণের ঘটনার পর দুই শিশুর অভিভাবকরা অভিযোগ করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তিতেই বেরিয়ে আসে ঘটনার নির্মমতা। দুই পরিবারের এ দুই শিশু সবেমাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু করেছিল। এই বয়সে তাদের এমন বর্বর নিষ্ঠুর মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ তাদের পরিবার ও স্বজন। ঘাতকদের জবানিতে ঘটনার বর্ণনা শুতে হতবাক এলাকার মানুষও।
এ ঘটনার দুদিন আগে ৫ই জানুয়ারি গেণ্ডারিয়ায় দুই বছর বয়সী এক শিশুকে খিচুড়ি খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিম্ন আয়ের পরিবারের ওই শিশুর মা সকালে মেয়েকে রেখে কাজে গিয়েছিলেন। খেলার জন্য শিশুটি ঘর থেকে বাইরে গিয়েছিল। ওই ফাঁকে পাশের বাসার অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে খিচুড়ি দেয়ার লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নেয়। তাকে ধর্ষণ চেষ্টার সময় শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করে পাষণ্ড ওই ব্যক্তি। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিজের মেয়েই আদালতে সাক্ষী দিয়েছে।
অন্যদিকে ৮ই জানুয়ারি সাতক্ষীরার গাবতলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার একদিন পর লাশ উদ্ধার করা হয় ওই শিশুটির। এ ছাড়া সমসাময়িক সময়ে ২রা জানুয়ারি বগুড়ার আমতলা রেল কলোনিতে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা, ১২ই জানুয়ারি মাগুরায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে অভিযুক্তদের এরই মধ্যে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। দেশজুড়ে এই শিশু ধর্ষণের পাশাপাশি ঘটছে নারী ধর্ষণের ঘটনাও। চলতি বছরের শুরু থেকে এই ২২ দিনে দেশব্যাপী এমন নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১৯টি। ভোটের দিন রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২০শে জানুয়ারি, সাভারে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর মারধর করে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই তরুণী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় হৃদয় নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। সাভারেই গত ১৭ই জানুয়ারি দিনাজপুর থেকে চাকরির জন্য আসা এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে মোশারফ হোসেন নামের এক যুবক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষক মোশারফকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এদিকে, গত সোমবার দুপুরে নরসিংদীর সদর উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়েটির পরিবার বাদী হয়ে অভিযুক্ত উত্তম দাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গত শনিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাড়ির উঠানে খেলার সময় এক শিশুকে বিস্কুট কিনে দেয়ার কথা বলে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে তার দূর সম্পর্কের এক চাচা। এ ঘটনায় রোববার রাতেই মামলা করেন শিশুটির মা।
৩০শে ডিসেম্বর রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার হন চার সন্তানের জননী। ধানের শীষে ভোট দেয়ার কারণে তিনি এ ঘটনার শিকার বলে অভিযোগ নির্যাতিতা ও তার পরিবারের। এ ঘটনার পর কবিরহাট ও সাভারেও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবার অভিযোগ করলে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে।
গত বছরও নারী ও শিশু ধর্ষণের চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১১৭৬টি। এর মধ্যে ৭৩২ জন নারী ও ৪৪৪ জন শিশু। আসকের ওই প্রতিবেদন বলছে, ৭৩২ জন নারীর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৩ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। এদিকে, আসকেরই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১৭ সালে মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৮১৮টি। এর মধ্যে ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে ৪৭ নারীকে হত্যা করা হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছে ১১ জন।
তবে, এই ধর্ষণের পরিস্থিতি ২০১৬ সালে ছিল আরো ভয়াবহ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে ওই বছর ১০৫০ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের এই মহামারী আকার ধারণ করা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, সমসমায়িক ঘটনাগুলো নজরে এসেছে। ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। এটা খুবই উদ্বেগজন। কেন এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিন কারণে হতে পারে। প্রথমত মানুষের আচরণগত অসুস্থতা, দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক প্রভাব দেখানো এবং তৃতীয়ত সংস্কৃতির বিশ্বায়নের কারণে এ ঘটনাগুলো ঘটছে। ১০ বছর আগে যখন ধর্ষণ হতো তখন শুধু আচরণগত অসুস্থতার কারণেই হতো। তবে, এখন সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনার দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, অনেক ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক বিশ্বায়নের ফলে যুব সমাজ অন্য দেশের সংস্কৃতি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে চাহিদা মেটানোর জন্য ধর্ষণের ঘটনায় জড়িয়ে যায়। তিনি বলেন, সরকার সবসময় আইনের উপর চলতে চায়।
কিন্তু আইন এ ধরনের সমস্যা সমাধানের একটি প্রক্রিয়া। তবে, বড় সমাধানের পথ হলো মানুষকে কেন্দ্র করে সমষ্টিগত উদ্যোগ নেয়া। আরেকটি বিষয় হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি থাকে তাহলে তাকে দলে স্থান না দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ বিষয়ক যেকোনো ঘটনা নজরে আসা মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এ আইজি সোহেল রানা বলেন, নারী নির্যাতনসহ যেকোনো অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। আসামি গ্রেপ্তারে নির্যাতিতাকে নিরাপত্তা ও মামলার তদন্তে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোটি টাকার রাজস্ব আদায়, অবকাঠামো উন্নয়ন শূন্য by প্রতীক ওমর ও নাজির হোসেন

এতে এই বাজারের মূল ব্যবসায়ীরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় মহাসড়কের উপরেই হাজার খানেক ধান শ্রমিক ট্রাক লোড আন লোড করছে প্রতিদিন। এতে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অনেকেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে অনেক বার জানালেও হাটের পরিধি বারানোর জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয় নি। এখানকার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছেন, প্রতি বছর এই হাট থেকে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও অবকাঠামো উন্নয়ন শূন্য।
রণবাঘা হাটে গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের দুই ধারেই গড়ে উঠেছে ধানের আড়ত। রাস্তার উপরেই প্রতিদিনি হাজার হাজার টন ধান বস্তাজাত হচ্ছে। এসব ধান দেশের বিভিন্ন জয়গায় চলে যাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে তাদের। বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের উপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দশ হাজারের বেশি বাস-ট্রাক যাতায়াত করে। এর মধ্যে দূরপাল্লার বাসের সংখ্যাও কম নায়। হাটের মূল জায়গা দখলদারদের দখলে থাকায় নিরুপায় হয়ে ব্যবসায়ীরা রাস্তার দুই ধারকেই বেছে নিয়েছেন কারবার করার জন্য। তাছাড়া হাটের আয়তনও অনেক কম।
আগে শুধু শুক্রবারে এখানে হাট বসতো। ১৯৮৬ সালে স্থানীয় সমাজ সেবক নাজির হোসেনের উদ্যোগে শুক্রবারের পাশাপাশি সোমবারেও হাটের আয়োজন করেন। আস্তে আস্তে বেশ সাড়া পড়ে। দিন দিন ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এলাকায় বেকার যুবকরা বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। সময়ের ব্যবধানে রণবাঘা হাট এখন শুধু বগুড়া জেলা নয়, আশেপাশের জেলা থেকেও অনেক ব্যবসায়ী এখানে বেচাকেনা করার জন্য আসে।
হাটের টোল আদায়কারী হাবিবুর রহমান জানান, এখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি প্রতি হাটে নওগাঁ, দিনাজপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধার অনেক ব্যবসায়ী ধান কিনতে আসেন। উত্তরাঞ্চলের উল্লেখযোগ্য হাটগুলোর অন্যতম একটি হাট হচ্ছে রণবাঘা। এখানে শুধু ধান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৩০০ ব্যক্তি। হাটের বিভিন্ন দায়িত্বে আছে ২৫-৩০ জন। এছাড়াও ধান শ্রমিক আছে আরো হাজার খানেক। এই হাট থেকেই তাদের পরিবার চলে।
রণবাঘা হাটের ইজারাদার ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বেলাল হোসেন জানান, এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকার ধান বেচাকেনা হয়। এখানে অবকাঠামোগত কোনো কোনো উন্নয়ন কখনোই হয়নি। হাজারো সমস্যার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা লেনদেন করে আসছে। তিনি জানান, এখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হলেও প্রশাসনিক নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। এখানে একটি মাত্র সোনালী ব্যাংক আছে। সেই শাখায় পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় লেনদেন করতে পারে না ব্যাংকটি। এমন অভিযোগও করেছেন ব্যবসায়ীরা।
অপর ইজারাদার সাইবুর রহমান জানান, এই বাজার থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। তারপর এখানে উন্নয়নের জন্য সেই টাকার একটাকাও খরচ করা হয় না। তিনি জানান, এই হাটের জায়গা সংকট। পানির ব্যবস্থা নেই। নেই একটি পাবলিক টয়লেটও। প্রতিদিন হাটে কোটি কোটি টাকার ধান বেচাকেনা হলেও এ বাজারের উন্নয়ন হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। নেই পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা।
ধানের পাশাপাশি জ্যৈষ্ঠ আষাঢ় এবং শ্রাবণ মাস জুড়ে এখানে পশুরহাট বসে। এই হাটও মহাসড়কের দুই ধারেই বসে থাকে। উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় গরুরহাট হিসেবেও রণবাঘা বেশ পরিচিত। পরিচিত মাছেরহাট হিসেবেও। ব্যবাসয়িক ভাবে সফল এই হাটটির আয়তন মাত্র সাত বিঘা। সেই সাত বিঘাও অবৈধ দখলে চলে গেছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণ্ডল জানান, যেহেতু ওই হাটের রাজস্ব আদায় বেড়েছে তাই হাটের উন্নয়নের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই নেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, তিনি এমন পরিকল্পনার কথা পাঁচ বছর আগে থেকে বলে আসলেও বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। হাটের রাজস্ব ঠিকই তোলা হচ্ছে। কিন্তু হাটের অস্তিত্ব নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুমিল্লায় চতুর্থ স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

শহীদ উল্লাহ প্রবাসে চলে যাওয়ার পর হুমায়ুন কবির নামে এক যুবকের সঙ্গে নাছিমা অবাধে চলাফেরা শুরু করে। একপর্যায়ে শহীদ উল্লাহকে তালাক দিয়ে হুমায়ুনকে বিয়ে করে নাছিমা। এ বিয়েও বেশিদিন টিকেনি। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে নাছিমার পরিচয় হয় বরুড়া উপজেলার আগানগর গ্রামের বাসিন্দা ও বরুড়া বাজারের ব্যবসায়ী মেহেদী ফ্যাশনের মালিক মেহেদী হাসানের সঙ্গে। নাছিমা নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে ৩০ লাখ টাকা কাবিনে মেহেদীকে বিয়ে করেন। পরে নাছিমার বহুবিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে মেহেদী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এর জেরে নাছিমার দায়ের করা যৌতুকের মামলায় জেলে যেতে হয় মেহেদীকে। পরে মেহেদীর পরিবারের হস্তক্ষেপে নাছিমা মামলা প্রত্যাহার করে মেহেদীকে মুক্ত করেন। এরপর তারা নতুন করে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। সালমান জাহিদ ত্বকী নামে এ সংসারে তাদের দেড় বছরের এক শিশু সন্তান রয়েছে। অমি নোয়াখালীর পিতার বাড়িতে থাকে। অনি মায়ের সঙ্গে থেকে কুমিল্লা নগরীর শাকতলা হাই স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। ত্বকী মা-বাবার সঙ্গে থাকত। অনি জানায়, ২১শে জানুয়ারি সোমবার বিকালে স্কুল থেকে সে ফিরে এসে দেখে বাড়ির গেটে তালা ঝুলছে। তার মা-বাবার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে সন্ধ্যায় সে বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দেখে তার মায়ের মৃতদেহ কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় পড়ে আছে। ঘরে কেউ নেই। এ অবস্থায় সে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ওই বাড়িতে আসে। খবর পেয়ে রাত ৯টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহত নাছিমার ভাই মনির হোসেন বলেন, ঘরের দক্ষিণ-পূর্ব রুমের বক্স খাটের উপর নাছিমা আক্তারের লাশ কম্বল দিয়ে ঢেকে রেখেছিল ঘাতক। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে নাছিমার স্বামী মেহেদী তার ছেলে ত্বকীকে নিয়ে পালিয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মামুন অর রশিদ জানান, ‘নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ঘাতককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনগণের আস্থার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দারিদ্র্য হার ২১ শতাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে, আমরা এই হার আরো কমিয়ে আনবো।
শেখ হাসিনা জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন, আমি জানি একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানোর পরে প্রবৃদ্ধির হার আরো বাড়ানো অনেক কঠিন। তবে, আমি বিশ্বাস করি আমরা এটি করতে পারবো। তিনি বলেন, আমরা একত্রে কাজ করছি এবং আমরা একটি টিমওয়ার্ক তৈরি করবো যাতে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ নির্মাণ করবো ইনশাআল্লাহ্। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।
আমরা ৭.৮৬ শতাংশ জিডিপি অর্জনে সক্ষম হয়েছি এবং এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এটি মনে রেখে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এই সাফল্য ধরে রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলবো। এ কথা মনে রেখে আমাদের সকল কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, আরো ৫ বছর দেশ পরিচালনার জন্য জনগণের কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়েছি। এজন্য বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন করতে আমি সকলের সহযোগিতা চাই। ব্যাপক জনসমর্থনের মাধ্যমে তার সরকারকে পুনঃনির্বাচিত করায় দেশের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি নতুনভাবে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেছেন।
১৮৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন: যাত্রাবাড়ী-ডেমরা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণসহ আটটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটাই লক্ষ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো। উন্নয়নের পথে আমরা সবাই তীর্থযাত্রী। তাই সবাই মিলেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমার একটাই লক্ষ্য- আর তা হচ্ছে গতি বৃদ্ধি করা। অর্থাৎ ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যে গতি ছিল তা বাড়ানো হবে। জনগণের অর্থ খরচে সবসময় সাবধানতা বজায় রাখবো উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত খরচ করা হবে না।
ঢাকা-ডেমরা-শিমাইল সড়কের দৈর্ঘ্য ১০ কিলোমিটার এবং বিদ্যমান প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। তাই প্রকল্পের আওতায় এই সড়কটি ১৫ দশমিক ৬০ মিটার প্রস্থে ৪ লেন সড়ক হিসেবে নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ধীরগতির যান চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত মূল চারলেন সড়কের উভয় পাশে দুইলেন বিশিষ্ট আলাদা সার্ভিস লেন নির্মিত হবে। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-পিপিআর রোগ নির্মূল এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, এর খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৫ কোটি টাকা। দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ উচ্চমূল্যের অপ্রধান শস্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কর্মসূচি প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২০৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বিদ্যমান ৭টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন ও নতুন ৬টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সমপ্রসারণ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪৭ কোটি টাকা। গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সমপ্রসারণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১০২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। নেত্রকোনা জেলার চল্লিশা (বাগড়া)-কুরিয়া-মেদনী-রাজুরবাজার সংযোগ মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৫৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক- দোয়ারাবাজার সড়কে বিদ্যমান ৯টি সরু ও জরাজীর্ণ সেতুর স্থলে ৯টি আরসিসি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরো আড়াইশ’ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি আরব -আল জাজিরার রিপোর্ট

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের প্রচারণা বিষয়ক সমন্বয়কারী নাই সান লুইন বলেছেন, সৌদি আরবে আছেন প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা। এদেরকে ফেরত পাঠানো বন্ধ করার জন্য তার সংগঠন সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, ফেরত পাঠানো রোহিঙ্গারা পৌঁছার পর বাংলাদেশে জেলের মুখোমুখি হবেন। আল জাজিরাকে তিনি আরো বলেন, এসব রোহিঙ্গার বেশির ভাগেরই সৌদি আরবে বসবাসের অনুমোদন আছে (রেসিডেন্সি পারমিট)। তারা বৈধভাবে সৌদি আরবে বসবাস করতে পারেন।
কিন্তু জেদ্দার শুমাইসি বন্দি শিবিরে যেসব রোহিঙ্গাকে আটকে রাখা হয়েছে তাদের সঙ্গে অন্য রোহিঙ্গাদের মতো আচরণ করা হচ্ছে না। উল্টো তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে যেন তারা ক্রিমিনাল।
নাই সান লুইনের দেয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় রোহিঙ্গাদের। এদের অনেকেই বেশ কয়েক বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছেন। তাদেরকে রোববার জেদ্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। তাদেরকে সরাসরি ঢাকাগামী ফ্লাইটে রোববার দিনের শেষে বা সোমবার রাতে তুলে দেয়ার কথা।
নাই সান লুইন আরো বলেন, পাচারকারীদের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত অথবা নেপালের মতো দেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে অনেক রোহিঙ্গা। তা ব্যবহার করে তারা সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়। এর ফলে তারা রাষ্ট্রহীন মানুষ হয়ে পড়েন। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারের ১৩৫টি জাতিগত পরিচয়ের অধীনে নেয়া হয়নি। এর ফলে তাদের পড়াশোনা, কাজকর্ম, ভ্রমণ, বিয়ে, ভোট দেয়ার অধিকার, ধর্মীয় চর্চা ও স্বাস্থ্যসেবা পড়ে বিধিনিষেধের মধ্যে। এমন অবস্থায় ২০১১ সালের পরে যেসব রোহিঙ্গা সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে আবাসিক অনুমোদন দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। নাই সান লুইন বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে হস্তপক্ষেপ করতে বেশকিছু মানবাধিকার বিষয়ক কর্মী সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রতি দু’বছরের বেশি আবেদন করেছে। তিনি নিজেও সৌদি আরব ও
কূটনীতিকদের দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পৌঁছার পর তাদের জেল হতে পারে। তাই তাদেরকে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা উচিত সৌদি আরবের। অন্য রোহিঙ্গাদের যেভাবে আবাসন অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাদেরকেও সেই একই সুবিধা দেয়া উচিত।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ড্রেনে স্বামীর মৃতদেহ, অতঃপর...

ভারতের উত্তর প্রদেশের বুলান্দশাহরের অধিবাসী এই স্বামী স্ত্রী।
স্ত্রীর নাম সুইটি। তার স্বামী যোগিন্দর। তিনি ট্যাক্সি চালাতেন। তাদের ৫-৬ বছরের দাম্পত্য জীবন। শীতলা কলোনিতে ৫ বছর বয়সী একটি ছেলে ও ৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে নিয়ে তারা একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। যোগিন্দরের সম্পদ বলতে ছিল একটি ট্যাক্সি ও কিছু সহায় সম্পদ। শেষের দিকে একে অন্য নারীর সঙ্গে যোগিন্দরের সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ হতে থাকে সুইটির। এতে তিনি স্বামী ও তার সম্পদ হারাবেন এ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড কমলের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুইটি। তাতে আস্থায় আনে। দু’মাসের মধ্যে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পুলিশ বলেছে, টিভিতে প্রচারিত ক্রাইম পেট্রোল সিরিজ দেখে তা থেকে উৎসাহিত হয়েছে সুইটি। এই হত্যা মিশনে যোগ দেয় কমলেশের স্বামী কান্যাইয়া ওরফে কানি। তিনিই উত্তর পূর্ব দিল্লির জাগেরাম, মথুরার বিকাশ, নয়ডার যোগেশ ও বুলান্দশহরের প্রতাপের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদেরকে হত্যা পরিকল্পনায় যুক্ত করে। এসব মানুষের সবাই শীতলা কলোনিতে দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।
হত্যা মিশন সম্পন্ন করার জন্য সুইটি তাদেরকে মোট ১৬ লাখ রুপি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। অগ্রিম হিসেবে পরিশোধ করে ২৫ হাজার রুপি। পরিকল্পনামতো, ১৫ই জানুয়ারি তার মিশনের সবাইকে মধ্যরাতে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। এ সময় তার স্বামী ছিলেন গভীর ঘুমে। তারা এ সময় একটি বালিশ দিয়ে যোগিন্দরের মুখ-নাক চেপে ধরে তার শ্বাসরোধ করে। কাঠের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে প্রহার করে হত্যা করে। আগে থেকেই এসব ঘরের ভিতর নিয়ে রাখা ছিল। এই হত্যা মিশনের সময় সব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করছিল সুইটি।
এরপর তারা মৃতদেহকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে ফেলে। তা তুলে দেয় একটি মোটরসাইকেলে। মোটরসাইকেলে করে তা টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বাজঘেরা এলাকায়। সেখানে একটি ড্রেনের ভিতর ফেলে দেয়া হয় যোগিন্দরের মৃতদেহ। এর দুইদিন পরে সুইটি সেক্টর ৫ পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার একটি অভিযোগ দাখিল করে। এতে তিনি দাবি করেন, যোগিন্দর কিছু না জানিয়ে ১৫ই জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ওইদিন তিনি কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।
২০ শে জানুয়ারি পুলিশ বাজঘেরা এলাকায় একটি ড্রেনের ভিতর থেকে আঘাতের চিহ্নসম্বলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে। তারা এর পাশে থেকে উদ্ধার করে একটি মোটরসাইকেল। পুলিশের মুখপাত্র সুভাষ বোকান বলেছেন, মোটর সাইকেল পাওয়ায় তারা এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেন। যোগিন্দরের পরিবারের বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে তারা এগুতে থাকেন। যোগিন্দরের ভাই রাজপাল সংশয় প্রকাশ করেন তার ভাবিকে নিয়। এর ফলে সুইটিকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুইটিই সব কিছু স্বীকার করে নেয়। সোমবার সকালে কমলেশ, কান্নি ও অন্য চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদেরকে দু’দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পুলিশ বলেছে, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করতে পারবে বলে আশা করছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এক কিংবদন্তির প্রস্থান

তারা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
১৯৭৬ সাল থেকে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নিয়মিত গান করা শুরু। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিৎ, আইয়ুব বাচ্চু, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সব জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর গাওয়া বহু শ্রোতাপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।
১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন বুলবুল। এরপর ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। সাবিনা ইয়াসমিনের কণ্ঠে ‘সব কটা জানালা’ গানটি শুনেন নি এমন শ্রোতা খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। কালজয়ী এই দেশাত্মবোধক গানের সুরস্রষ্টা আরো অসংখ্য গানে সুর করেছেন। যেগুলোর বেশিরভাগই তার লেখা। এসব গানের মধ্যে রয়েছে- ‘এই দেশ আমার সুন্দরী রাজকন্যা’, ‘আয় রে মা আয় রে’, ‘উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব পশ্চিম’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেললাইনের ধারে’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না’, ‘একাত্তরের মা জননী’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘ভাড়া কইরা আনবি মানুষ’, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার’, ‘আমার দুই চোখে দুই নদী’, ‘জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘আমি জীবন্ত একটা লাশ’, ‘অনেক সাধনার পরে’ প্রভৃতি। এ কিংবদন্তির জন্ম ১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি ঢাকায়।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করতে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। বাংলা গানকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতোই তিনি আরেক সংগীতযুদ্ধ অব্যাহত রেখেছিলেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। বাংলা চলচ্চিত্রে এমন অনেক জনপ্রিয় গান আছে যা একজন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। সে বয়সেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাইফেল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ স্মৃতি-বিস্মৃতি নিয়ে বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন ও সুর করেছেন। বেশ দূরন্তপনার মধ্য দিয়ে একজন মানুষের কৈশোরের সময়টা কাটে।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলেরও কাটছিলো সেভাবে। তখন তিনি ঢাকার আজিমপুরের ওয়েস্টটেন্ট হাইস্কুলে পড়তেন। ২৫শে মার্চের ঘটনা তিনি নিজ চোখে দেখেছিলেন। এ রাতকে সবাই ‘কালরাত্রি’ বললেও বুলবুল একে ‘লাল রাত’ বলতেন। কারণ, এ রাতে মানুষের রক্তে বাংলার মাটি লাল হয়েছিল। ২৭শে মার্চ কারফিউ শিথিল হলে তার বন্ধুরা মিলে সাইকেলে চড়ে এসএম হল, জহুরুল হক হল, রোকেয়া হলসহ বিভিন্ন রাস্তার অলিতে-গলিতে ছুটে গিয়েছিলেন। শত শত মানুষের লাশ আর তাজা রক্তের ছড়াছড়ি দেখে সেদিন আঁতকে উঠেছিলেন। পাক-হানাদারদের ধ্বংস করতে তখনই যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বন্ধু সজীবের নেতৃত্বে বিহারিদের অস্ত্র ছিনতাইয়ের মধ্য দিয়ে তাদের যুদ্ধ শুরু হয়। সেই অস্ত্রের সহায়তায় তারা মুক্তিবাহিনী গঠন করেন। পাশাপাশি তার বড় ভাই ক্র্যাক প্লাটুনের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ টুলটুলের সঙ্গেও বেশকিছু গেরিলা অপারেশনে অংশ নেন।
অবশেষে, মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নেয়ার জন্য আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতে চলে যান। দেশে ফিরে সজীবের নেতৃত্বে আবারো রাইফেল হাতে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেন বুলবুল। পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের হাতে আটক হয়ে একসময় পাশবিক ও লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সংগীতবিষয়ক একটি বই লিখে অবসর সময়টা পার করছিলেন। বইয়ের নাম রেখেছিলেন ‘সার্কল অব সিক্সটিন্থ’। বইটি তিনটি খণ্ডে প্রকাশ করার ইচ্ছে ছিল বুলবুলের। এটি একটি গবেষণাধর্মী বই। তাই লিখতে একটু সময় লাগছিলো তার। বইটির প্রথম খণ্ডে ৬২৫ পৃষ্ঠা, দ্বিতীয় খণ্ডে ৩০০ আর শেষ খণ্ডে ৩৫০ পৃষ্ঠা। প্রায় সাড়ে আট বছরের পরিশ্রমের ফসল তার এই বইটি। সংগীত অঙ্গনকে বইটি উপহার দিতে চেয়েছিলেন বুলবুল। কিন্তু সেটি আর নিজের মতো করে প্রকাশ করে যেতে পারলেন না। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন।
গত বছরের মাঝামাঝি তার হার্টে ৮টি ব্লক ধরা পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া প্রথিতযশা এই শিল্পীর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে সেসময় তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বুলবুলকে ভর্তি করা হয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সবাই ধারণা করেছিল তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হবে। কিন্তু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তার বাইপাস সার্জারি না করে রিং পরানোর সিদ্ধান্ত নেন। হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. অধ্যাপক আফজালুর রহমানের অধীনে বুলবুলকে ভর্তি করা হয়েছিল। ডা. আফজাল বুলবুলের হার্টে দুটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করেন। রিং পরানো শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন বুলবুল। এর পর থেকে তিনি বাসাতেই বেশি সময় কাটাতেন। গানে আর তাকে খুব একটা পাওয়া যায়নি। তার জীবনযাপনেও বেশ পরিবর্তন আসে। পরিবার পরিজন ও ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে আড্ডা আর গল্পেই সময় কাটতো তার।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কুষ্টিয়ায় জামায়াত কর্মীদের জাসদে যোগদানের খবরে তোলপাড় by দেলোয়ার মানিক
যদিও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও উপজেলা জাসদের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, স্থানীয় জাসদের এক নেতা উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত নেতাকর্মীদের দলে ভিড়িয়ে নিজে লাভবান হতে চাইছেন।
গত শনিবার বিকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের মাজিহাট এলাকার প্রায় ৫০ জন জামায়াত নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জাসদে যোগ দেন। জামায়াত নেতা নুর ইসলামের নেতৃত্বে শের আলী, আবুছদ্দীন, রেজন আলী, রাশিদুল ইসলাম, মোহর আলী, সামছুল আলম, সোলাইমানসহ প্রায় ৫০ জন জামায়াতের কর্মী কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি জামিরুল ইসলাম ও ওয়ার্ড জাসদের সভাপতি আরব আলীর হাতে হাত রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ নেতা ইকতার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য জাহার আলী, সামছুম আলী, তাইজাল আলী শেখ, ইদবার আলী, ওয়ারেশ মল্লিক, যুব জোটের নেতা হুমায়ুন কবির। জামায়াত থেকে সদ্য যোগদানকৃতরা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এর প্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও মামলা আতঙ্কে ভুগেছি। আমরা আর নাশকতার মামলায় জড়াতে চাই না। আর জাসদের কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা জাসদে যোগদান করেছি। যাতে ভবিষ্যতে আর মামলা না হয়।
স্থানীয় জাসদের ওয়ার্ড সভাপতি ও ইউপি সদস্য আরব আলী জানান, তারা আগে জামায়াত করতেন। এখন তারা জাসদে যোগদান করেছেন। কুর্শা ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জানান, জাসদের সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, মাদকমুক্ত সমাজ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কাদামুক্ত পাকা রাস্তাসহ মিরপুর উপজেলা অভূতপূর্বক উন্নয়ন দেখে জামায়াতের ৫০ জন নেতাকর্মী স্ব-উদ্যোগে জাসদে যোগদান করেছেন।
কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান জানান, স্থানীয় জাসদের নেতাকর্মীরা তাদের সমর্থন দিন দিন হারিয়ে ফেলে এখন জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে তারা জামায়াতের নেতাকর্মীকে দলে নিচ্ছে। আর যাদের নিয়েছে তারা সকলেই একাধিক নাশকতার মামলার আসামি। এলাকায় সরকারবিরোধী কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। তারা এখন জাসদের আশ্রয়ে মাথা উঁচু করতে চাইছে। আর জাসদের নেতাকর্মীরা তাদের পুনর্বাসন করছে।
এদিকে জামায়াত নেতাকর্মীদের জাসদে যোগদানের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ জাসদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গ্রাম্য সালিশের ঘটনার ছবি জামায়াত কর্মীদের জাসদে যোগদান ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছে তারা।
জেলা জাসদের সভাপতি আলহাজ গোলাম মহসীন জানান, জাসদ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। জামায়াত, যুদ্ধাপরাধীদের দলে নেবে না। যদি আত্মীয়তার খাতিরে জামায়াতদের দলে নিয়ে থাকে তাহলে আমরা তার অনুমোদন দেবো না। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা জাসদের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের অপপ্রচার মাত্র।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাসেমের মোবাইলে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পরে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম জানান, স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত। এরা চায় বিভিন্ন সময়ে তাদের মুখোশ পাল্টিয়ে জনসাধারণের ক্ষতি করতে। এরা এখন জাসদের সঙ্গে যোগ দিয়ে মাথা তুলতে চায়। জাসদ কেনো তাদের নিচ্ছে- সেটা তারাই বলতে পারে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা বন্ধ, মানুষের ভোগান্তি

আবার আপ হয়ে যাবে। ইসি থেকে বলা হয়েছে, আগামীকাল ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) এনআইডি শাখায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে এনআইডি সেবা নিতে আসা নাগরিকরা সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কবে সার্ভার চালু হবে তা তাদের জানানো হচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা জানান, সার্ভার বন্ধ থাকবে বা এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেয়ার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে, এমন একটি বিজ্ঞপ্তি দেয়া জরুরি ছিল। কিন্তু ইসি বা তাদের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে এ জাতীয় কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। যে কারণে ১০ই জানুয়ারি থেকে প্রতিদিনই ঢাকাসহ সারা দেশের হাজার হাজার মানুষকে ফিরে যেতে হয়েছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন সংক্রান্ত হেল্প লাইনের নম্বর ১০৫। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই নম্বরে ফোন করে যথাযথ সাড়া পাওয়া যায় না। গাজীপুর থেকে এসেছেন মানিক সরকার। তিনি এনআইডি হারিয়ে ফেলেছেন। এনআইডি জরুরিভাবে দরকার। তিনি বলেন, থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি ও ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। নতুন কার্ড তোলার জন্য দু’বার এলাম। বন্ধ আছে বিজ্ঞপ্তি টাঙানো থাকলে হয়রানির শিকার হওয়া লাগতো না। ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা পারুল বেগম জানান, তার বাবা মারা গেছেন। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। এখন সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্য সুবিধা পেতে হলে তথ্য হালনাগাদ করা দরকার। কিন্তু তা করা যাচ্ছে না।
ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্ভারটি ২০০৯ সালে ওরাকলের কাছ থেকে কেনা হয়। তাই সার্ভারটি রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে ওরাকল। এই সার্ভারের মাধ্যমেই ইসি প্রতিদিন সারা দেশের কমবেশি ৫ হাজার লোককে সেবা দিয়ে থাকে। ১০ বছরের পুরনো এই সার্ভারটি এখন আর আগের মতো কাজ করছে না। তা ছাড়া ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটারের তথ্য সংরক্ষণের পর এই সার্ভারে এখন আর যথেষ্ট পরিমাণে জায়গাও নেই। যন্ত্রটি ১০ই জানুয়ারি বিকল হয়ে পড়ে। এরপর যতবার তথ্য আপলোড করার জন্য দেয়া হয়েছে ততবারই অর্ধেক কাজ করার পর তা ভণ্ডুল হয়ে গেছে। যে কারণে নতুন ভোটার হওয়া, ভোটার তথ্য সংশোধন এবং হারানো এনআইডি নতুন করে তোলাসহ নিবন্ধন সংক্রান্ত সব ধরনের সেবা দেয়ার কাজ বন্ধ আছে। তবে আর্থিক ও টেলিকমসহ অন্যান্য ১০৩টি প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেয়ার কাজ এখনো অব্যাহত আছে।
নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০০৯ সালে সার্ভারটি কেনা হয়েছে। ১০ বছরের পুরনো। যে কারণে এটি আগের মতো কাজ করছে না। নতুন সার্ভার বসানো জরুরি হয়ে গেছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (অপারেশন্স) এক কর্মকর্তা বলেন, পার্লামেন্ট ইলেকশন গেলো, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, নতুন যারা ভোটার হচ্ছেন তাদের কাজ করা, তারপর মাইগ্রেশন হচ্ছে সেগুলোর কাজ করা। সবগুলোই এই সার্ভারের মাধ্যমে হচ্ছে। তিনি বলেন, সার্ভারে আমাদের কয়েকটি সার্ভিস প্রয়োজন হয়। ওরাকল থেকে যে সার্ভিসটি আমরা নিচ্ছি এ সার্ভিসটিতে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। আমাদের একটি রিকভারি সার্ভারও আছে। ওরাকলে সমস্যা দেখা দিলে ওই সার্ভারেও কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। ওরাকলে সমস্যা দেখা দিলে নির্বাচন কমিশনের যে টেকনিক্যাল টিম আছে তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর প্রায় ১০৩টি কোম্পানি এরমধ্যে ডেলকো কোম্পানি আছে, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও আছে, এসব সেবা চালু রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি। জনসাধারণের হয়রানি বন্ধে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কখন ঠিক হবে তা নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছিল না। তাই কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। তিনি জানান, সার্ভারে জায়গা বাড়ানোর জন্য বিদ্যমান সার্ভারকে হালনাগাদ এবং নতুন আরও একটি সার্ভার কিনতে হবে। এজন্য সরকারের কাছে শিগগিরই প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রকল্প নিয়েই মূলত জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহের কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। যার ভিত্তিতেই বর্তমানে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডও সরবরাহ করছে নির্বাচন কমিশন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মসজিদ-উল নববীর ইমাম কারাগারে ‘মারা গেছেন’

খবরে বলা হয়, শেখ আহমেদ আল-আমারি নামে ওই ইমাম মদিনার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরান কলেজের সাবেক ডীন ছিলেন। তিনি পাঁচ মাস ধরে কারান্তরীন ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্ট সংগঠন প্রিজনার্স অব কনসাইয়েন্স এই তথ্য দিয়েছে। সংগঠনটি সৌদি আরবের ধর্মপ্রচারক ও ধর্মীয় স্কলারদের গ্রেপ্তারের ঘটনা নথিবদ্ধ করে থাকে। সংগঠনটির অভিযোগ, ৬৯ বছর বয়সী এই ইমামের শারীরিক অবস্থা অগ্রাহ্য করে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আটক রাখে সৌদি কারা কর্তৃপক্ষ। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়।
লন্ডন-ভিতিক মানবাধিকার সংগঠন এএলকিউএসটি’র পরিচালক ইয়াহিয়া আসিরি বলেন, শেখ আল-আমারিকে আগস্টে তার বারি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় সৌদি সরকার অনেক অভিযান চালায়। এতে আমারির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ইসলামি স্কলার সাফার আল-হাওয়ালিকেও আটক করা হয়।
৬৮ বছর বয়সী আল হাওয়ালি গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগে ৩০০০ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশ করেন। এতে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দেশের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা করা হয়।
খবরে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অ্যাক্টিভিস্ট যদিও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় আল-আমারির মৃত্যু হয় বলে জানায়। তবে ইয়াহিয়া আসিরি বলেন, ২রা জানুয়ারি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর আল-আমারিকে আকস্মিকভাবে দাবান কারাগার থেকে জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ মেডিকেল কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত করা হয়। আসিরির ভাষ্য, ‘আমার বিশ্বাস, অবহেলা নয়, বরং কারা হেফাজতে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
এই ইস্যুতে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি সৌদি আরব। অক্টোবরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ভিন্নমতালম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এই ধরণের ইস্যুতে চাপে রয়েছে সৌদি আরব।
এদিকে আরেক মুসলিম স্কলার সালমান আল-আওদাহর মৃত্যুদন্ড চেয়ে আবেদন করেছেন সৌদি সরকারী কৌঁসুলিরা। তিনি নির্বাচন ও ক্ষমতা পৃথকীকরণের দাবি তুলে আটক হন। এ ধরণের দাবি সৌদি আরবে বিপজ্জনক উস্কানি বলে বিবেচিত হয়।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্কারবাদী বলে পরিচিত সালমান আওদাহ আটক হন ১ বছর আগে। ওই সময়টাতে ভিন্নমতালম্বীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো আরম্ভ করে সৌদি আরব। আটককৃতদের মধ্যে আরও রয়েছেন ইসলামি ধর্মপ্রচারক আওয়াদ আল-কারনি, ফারহান আল-মালকি ও মোস্তাফা হাসান।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কে দেখবে নূর আলমের পরিবার: বোনদের আহাজারি by আব্বাস হোসেন

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩ টা বাজে। হঠাৎ নূর আলম ঘুম থেকে উঠে বলে বাবা আমি গ্যাসের জন্য পাম্পে যাচ্ছি।
গ্যাস নিয়ে এসে সকালে নোয়াখালী চাটখিল যাবো। গ্যাস নিয়ে আসার পথে চন্দ্রগঞ্জ পৌঁছলে একটি শিশুসহ ৫ জন যাত্রী গাড়ির অপেক্ষা। তখন নূর আলম তাদেরকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল উদ্দেশ্য রওনা হলে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম মান্দারী পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রাক তার সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে নূর আলমসহ তার ৬ যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার-সার্ভিসে কর্মীরা এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠাই।
সকাল ১১ টার দিকে লাশ কাটা ঘরে পাশে বসে নূর আলমের বৃদ্ধ বাবা নূর মোহাম্মদ আকাশের দিকে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ অবস্থায় বসে ছিলেন। মাঝে-মাঝে কান্নাকাটিও করছিলেন। কিছুক্ষণ পর তার দুই মেয়ে পাকি বেগম ও লাকি আক্তার দুই পাশে বসে বৃদ্ধ বাবাকে জড়িয়ে কান্না ভেঙে পড়েন। মাঝে-মাঝে তাদের ভাঙা-ভাঙা কন্ঠে বেরিয়ে আসে নূর আলমকে নিয়ে নানা কথা। তারা বলছিলেন তাদের বাস্তবতা। কী হবে এখন তাদের সংসারের? কে তাদের বাবা-মাকে দেখবে? নূর আলমের প্রতিবন্ধী ৬ বছরের ছেলেরই কী হবে? ৭ মাস বয়সী মিরাজ বুঝি বাবা বলে ডাকতে পারবে না! এমন শত প্রশ্ন পাকি ও লাকির মুখে। সিএনজি (চালক) নূর আলম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৬ নং বাঙাখাঁ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মাঝের বাড়ির নূর মোহাম্মদের একমাত্র ছেলে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
January
(487)
-
▼
Jan 23
(17)
- ৩৮০ কোটি গরিবের সমান সম্পদ ২৬ ধনীর হাতে
- ক্যানসার প্রতিরোধে ‘রঙিন ভুট্টা’ by মো. আলাউদ্দিন ...
- ডিজিটাল যুগেও ভরসা ঝাড়ফুঁকে by মরিয়ম চম্পা
- বৈধ অস্ত্রের বাজার ক্রেতা কারা by মোহাম্মদ ওমর ফারুক
- এমন মৃত্যু আর কত? by জিয়া চৌধুরী
- স্পাইসগার্ল টি-শার্ট এবং বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাত
- ওরা কি মানুষ? শিশু ধর্ষণের মহামারি, ধর্ষকদের সর্বো...
- কোটি টাকার রাজস্ব আদায়, অবকাঠামো উন্নয়ন শূন্য by প...
- কুমিল্লায় চতুর্থ স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
- জনগণের আস্থার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে -প্রধানমন্...
- আরো আড়াইশ’ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি...
- ড্রেনে স্বামীর মৃতদেহ, অতঃপর...
- এক কিংবদন্তির প্রস্থান
- কুষ্টিয়ায় জামায়াত কর্মীদের জাসদে যোগদানের খবরে তোল...
- জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা বন্ধ, মানুষের ভোগান্তি
- মসজিদ-উল নববীর ইমাম কারাগারে ‘মারা গেছেন’
- কে দেখবে নূর আলমের পরিবার: বোনদের আহাজারি by আব্বা...
-
▼
Jan 23
(17)
-
▼
January
(487)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...