Showing posts with label পঞ্চগড়. Show all posts
Showing posts with label পঞ্চগড়. Show all posts

Saturday, February 14, 2026

পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খোলা বিএনপি নেতা বললেন, সেটি গুদামঘর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন পঞ্চগড়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা খোলা–সংক্রান্ত ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আবু দাউদ প্রধান দাবি করেন, ঘটনাস্থলটি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল না। বরং তিনি সেটিকে একটি গুদামঘর হিসেবেই জানতেন। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আবু দাউদ প্রধান বলেন, তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান। গতকাল সকালে গ্রামের বাড়ি থেকে শহরে আসার পথে চাকলাহাট বাজারে লোকজনের জটলা দেখে সেখানে যান। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী একটি গুদামঘরের তালার চাবি দিচ্ছিলেন না। পরে তিনি ওই কর্মীকে চাবি দিতে বললে তালা খুলে দেওয়া হয় এবং চাবিটি বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখা হয়।

স্থানীয় বিএনপির এই নেতার ভাষ্য, ‘এ সময় আমি ঘরটি গুদামঘর বলেই জানতাম। সেখানে কোনো চেয়ার, টেবিল বা কোনো রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ছিল না। ঘটনার সময় আমি লোকজনকে সামলাতে গিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে কে কী বক্তব্য দিয়েছেন—তা আমি বুঝে উঠতে পারিনি। পরে শুনেছি সেখানকার ভিডিও আওয়ামী লীগ অফিস খুলে দেওয়া হয়েছে বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গতকাল দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আবু দাউদ প্রধান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আনিসুজ্জামান স্বপনসহ আরও অনেকে। আওয়ামী লীগ কার্যালয় খুলে দেওয়ায় আবু দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। গতকাল শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায়
সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। গতকাল শুক্রবার রাতে পঞ্চগড় জেলা শহরের পুরাতন ক্যাম্প এলাকায়। ছবি: প্রথম আলো

পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে খুলে দেওয়া হলো আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা

পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার চাকলাহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

আবু দাউদ প্রধান চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ওই ইউনিয়নের মেহেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ বিষয়ে আবু দাউদ প্রধান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকালে চাকলা বাজারে যাওয়া পর কয়েকজন আমাকে এসে বললেন, “আওয়ামী লীগ অফিসে যে তালা লাগায় রাখছে, এটা নিয়ে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।” তখন আমি বললাম, উত্তেজনা তৈরি করা যাবে না। যে যে অবস্থানে আছেন, শান্তিপূর্ণভাবে থাকেন। আমরা এক এলাকার মানুষ সবাই সহাবস্থানে থাকব। কেন তালা দেবে? পরে তালা খুলে দিতে বলি। জামায়াতের লোকজন তালা লাগিয়ে দিয়েছিল, তারাই আবার তালা খুলে দিয়েছে। এটা মূলত এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, এখানে কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নেই। এটা নিয়ে এখন অনেকে ষড়যন্ত্র করে ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান (বুলেট)। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। তাঁর পাশে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউপির সাবেক সদস্য আবুল হোসেন ও পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান (স্বপন)। তাঁদের সামনের দিকে অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষ।

ভিডিওতে কামরুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপি বিপুল আসনে সারা বাংলাদেশে সরকার গঠনের পথে, এই প্রথম মুহূর্তে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি, চাকলাহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জননেতা জনাব আবু দাউদ প্রধান; তিনি প্রথমেই যে কাজটি করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি, তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের প্রাণের যে সংগঠন, আমাদের চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজকে তালামুক্ত-অবমুক্ত করেছেন।’

কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘যারা এই দেশটাকে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের প্রতিটি দলকে নিশ্চিহ্ন করার চিন্তাভাবনা করে বাড়িতে-অফিসে হামলা করে বন্ধ করে রেখেছিল, সেই অফিস আজকে প্রথমে তিনি চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস অবমুক্ত করলেন। আমরা চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

ফেসবুকে ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়েছে। পঞ্চগড়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা ও জাসাস নেতা ইউনুস শেখ তাঁর কমেন্টে লিখেছেন, ‘পঞ্চগড় সদর থানার সভাপতিকে কে দায়িত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার জন্য, আমার বোধগম্য হলো না।’

উল্লেখ্য, সদর, তেঁতুলিয়া এবং আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড় -১ আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মুহম্মদ নওশাদ জমির। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার চাকলাহাট বাজারে
পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের চাকলাহাট ইউনিয়ন কার্যালয়ের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার চাকলাহাট বাজারে। ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

Wednesday, October 23, 2024

সরকারি অনুদান পেতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি

সরকারি আর্থিক অনুদান পেতে পঞ্চগড় জেলার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ বিভিন্ন অনুদানের জন্য ৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল, অফিসিয়াল প্যাড, লোগো, সিল ব্যবহার ও ভুয়া স্মারক দিয়ে প্রত্যয়নপত্র বানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে জমা করে। যা এরই মধ্যে ধরা পড়েছে। পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা ও আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা সহ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জানা যায়, জেলার ৫টি উপজেলায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা সহ মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪৮১টি। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে মাধ্যমিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা্থর (ইউএনও) কাছে প্রত্যয়নের আবেদন করে। তার মধ্যে যাচাই বাছাইয়ে রেজিস্টারভুক্ত করে ইউএনও্থরা কয়েকটি বিদ্যালয়কে প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেন। যারা প্রত্যয়ন পায়নি তারা সিল ও স্বাক্ষর জাল করে তাদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা করে। মন্ত্রণালয় থেকে আরেক দফা যাচাই বাছাইয়ে ইউএনওদের অবগত করা হলে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে প্রশাসনের। জালিয়াতির ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার জন্য সদর উপজেলা থেকে ২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছে, সেখানে ৮টি আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি আবেদন জাল পাওয়া গেছে। সেগুলোতে দেখা গেছে স্বাক্ষর, সিল, প্যাড, লোগো ও স্বারক নকল করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। ভুয়া প্রত্যয়নপত্র  তৈরি করার দায়ে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার জন্য আগামী ১০ দিনের সময় দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে শোকজ করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী বলেন, আমার দায়িত্বের উপজেলা থেকে মন্ত্রণালয়ে ১০টি আবেদন জমা হয়েছিল বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে আমাদের অবগত করলে আমরা ১টি প্রত্যায়ন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সে প্রতিষ্ঠানের নাম জানিয়েছি। দেখা গেছে বাকি ৯টি আবেদন আমার স্বাক্ষর, সিল, প্যাড, লোগো ও স্বারক নকল করে মন্ত্রণালয়ে জমা করেছে। পরে শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের ডেকে মৌখিকভাবে জালিয়াতির বিষয়টি অবগত করা হয়। এ ব্যাপারে কোনো শিক্ষকের সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। ফাইল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে জমা করার কোনো সুযোগ নেই। এর সঠিক কারণ দর্শানোর জন্য রোববার লিখিত আকারে তাদের শোকজ নোটিশ করা হয়েছে।  এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে অফিসিয়ালিভাবে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় সেখানে আর্থিক অনুদানের জন্য ৯টি আবেদন জমা হয়েছে। এরপর সেগুলোর কপি পাঠালে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হই। এখন আবেদনগুলো স্থগিত রেখে তদন্তের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান বলেন, ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আমি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় বলছে ৬টি আবেদন জমা হয়েছে। নিশ্চিত করতে আমার কাছে থাকা আগে পাঠানো ৩টি কপি আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন দেখা গেছে অন্য ৩টি আবেদন জাল। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেবীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুরাব হোসেন বলেন, এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত এমন জালিয়াতির কোনো খবর পাইনি। জালিয়াতির এমন বিষয় অবগত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল মালেক বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তারা আমাকে জালিয়াতির বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করেছেন। আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত শেষে আমরা আমাদের রিপোর্ট ইউএনও বরাবর জমা করবো। তারা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Tuesday, October 22, 2019

মা চেয়েছিলেন মেয়ে কোনো ধনী পরিবারে বড় হোক

পারিবারিক অশান্তির কারণে মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে চাইছিলেন না মা রিমু আক্তার। কয়েকবার দত্তক দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হননি। শেষ পর্যন্ত গত বৃহস্পতিবার মেয়েটিকে সাজিয়ে-গুছিয়ে একটি বাসার ফটকের সামনে ফেলে রেখে চলে যান তিনি। শিশুটি যেন কোনো ধনী পরিবারের সন্তান হিসেবে বড় হয়, সে কারণেই এই কাজ করেছেন তিনি।
পঞ্চগড়ের কামাতপাড়া এলাকা থেকে নবজাতকটিকে কুড়িয়ে পাওয়ার তিন দিন পর আজ সোমবার মা রিমু আক্তারকে খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। আজ দুপুরে তাঁকে প্রথমে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেলে সদর উপজেলার ভীতরগড় এলাকার বাসিন্দা আইবুল ইসলাম এবং শিল্পী বেগমকে (রিমুর বাবা-মা) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে এনে রিমুর পরিচয় নিশ্চিত হয় প্রশাসন। পরে প্রশাসনের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে এসব কথা জানান রিমু।
এরপর বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে পুলিশি হেফাজতে রিমুকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেয়েকে বুকের দুধ খাওয়ান তিনি। এ সময় চার বছর বয়সী ছেলে সেজানও তাঁর সঙ্গে ছিল।
কেন নিজের মেয়েকে ফেলে রেখে গেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে রিমু বলেন, ‘পারিবারিক যন্ত্রণা আর অশান্তি থেকে রেহাই পেতে মেয়েটিকে ফেলে রেখে গিয়েছি। চেয়েছিলাম শিশুটি কোনো ধনী পরিবারে বড় হোক। তাই একজন বড়লোকের বাড়ির সামনে ফেলে রেখে গিয়েছিলাম।’ ফেলে যাওয়ার দিন মেয়েটির বয়স ১২ দিন ছিল বলেও জানান তিনি।
তবে মায়ের খোঁজ পেলেও এখনই নবজাতকটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। নানা-নানি ও মায়ের সঙ্গে নবজাতকটিকে আরও কিছুদিন হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। শিশুটির মায়ের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ার তাঁরও চিকিৎসা করা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন সূত্র। পরবর্তী সময়ে রিমুর অবস্থা স্বাভাবিক হলে তাঁর কাছে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) জামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুরে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মালিগাঁও এলাকার আবদুল খালেকের বাড়ি থেকে রিমু আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। গত শুক্রবার চার বছরের ছেলেকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও রেলস্টেশনে রিমুকে কান্নাকাটি করতে দেখেন আবদুল খালেক ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম। পরে তাঁরা শিশুটিসহ রিমুকে বাড়ি নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন সদস্যের মাধ্যমে আটোয়ারী থানায় খবর দেন আবদুল খালেক। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার রিমু আক্তারকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, রিমু আপাতত তাঁর বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রেই শিশুটির দেখাশোনা করবেন। তাঁর কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় তাঁরও চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরবর্তী সময়ে পুলিশের প্রতিবেদন ও তাঁর আচরণের ওপর নির্ভর করে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পঞ্চগড় শহরের কামাতপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ির ফটকের সামনে পড়ে থাকা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটিকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করে জেলা প্রশাসন। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে শিশুটির যাবতীয় খরচ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে আসা মায়েরাই ওই শিশুটিকে ধারাবাহিকভাবে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শিশুটির মা রিমু আক্তারকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ের কামাতপাড়া এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ির ফটকের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় নবজাতকটিকে। ছবি: প্রথম আলো

Wednesday, October 9, 2019

সাইদুরের পেয়ারা বাগান

পঞ্চগড়ের বোদায় দিন দিন পেয়ারার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার কৃষকরা বাণিজ্যিক ভাবে পেয়ারা ফলের বাগান করে সফলতা পেতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে পেয়ারার বাগানগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারার চাষ শুরু হয়েছে। বোদার উৎপাদিত সুস্বাদু পেয়ারা স্থানীয় বাজারগুলোতে চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারা চাষি উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের সাইদুর রহমান তার ঝলঝলী গ্রামে ১৪ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। তিনি পেয়ারা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। তার উৎপাদিত পেয়ারা বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্যান্য চাষ করে লাভবান না হতে পেরে তিনি পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন।
বর্তমানে বাজারে তিনি চারশ’ টাকা মণ দরে পেয়ারা বিক্রি করছেন। তার দেখাদেখি এখন অনেকে পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন।  
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল মামুন অর রশিদ জানান, এ উপজেলায় পেয়ারা চাষ জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। বর্তমানে অনেক কৃষক পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন। অনেক কৃষক পেয়ারা চাষ করার জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা উপজেলা কৃষি বিভাগ অন্যান্য ফলের পাশাপাশি পেয়ারা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করে আসছে। সেই সঙ্গে তাদের বিভিন্ন প্রকারের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছেন। পেয়ারা চাষি উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের সাইদুর ঝলঝলী গ্রামে ১৪ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। পেয়ারা ফলের পাশাপাশি চারার ব্যবসায় করছেন ব্যাপকভাবে।
পেয়ারা বাগান আশা জাগিয়েছে উপজেলার কৃষকদের। তাই এর পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তারা। শুধু পেয়ারা উৎপাদনই নয়, গাছের চারা তৈরিতেও ঝুঁকছেন তারা। এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস। কৃষির বহুমুখীকরণে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। এ উপজেলায় ইতিপূর্বে ফুল চাষে সফলতা এসেছে। এখন হচ্ছে পেয়ারা ও কমলার চাষ। উপজেলায় পেয়ারা চাষের পরিধি বাড়াতে কৃষি বিভাগ সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বাজারে চাহিদা থাকায় সম্ভবানাময় ফল হিসেবে ভবিষ্যতে জেলার অন্য উপজেলাগুলোতেও পেয়ারা চাষ সম্প্রসারিত হবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের পুষ্টি চাহিদাও পূরণ হবে।

Friday, September 13, 2019

পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার দরপতন হুমকির মুখে ক্ষুদ্র চা শিল্প

চা বাগান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে পঞ্চগড় জেলার ৫ হাজার ক্ষুদ্র চা চাষি। চা পাতার মূল্য বিড়ম্বনায় এ অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে চাষিদের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে কারো কাছ থেকে কোনো সুরাহা না পাওয়ার জন্য তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ। তৃতীয় চা অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এ জেলার সুনাম নষ্ট করতে সংশ্লিষ্টরা কৌশলগতভাবে চাপাতার দরপতন করিয়ে চাষিদের বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য এখানকার চা শিল্প এখন হুমকির মুখে পড়েছে অনেকে মনে করছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ স্মল টি গার্ডেন অনার্স এসোসিয়েশন আজ বৃহস্পতিবার পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেবে। অব্যাহতভাবে চলা মূল্য বঞ্চনার একপর্যায়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বশেষ গত ১৪ই জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাঁচা চা পাতার মূল্য নির্ধারণ কমিটির এক সভায় প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য ১৬ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এ সভায় চা কারখানার মালিক, চা বাগান মালিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। এক্ষেত্রে কোনো চাষির পাতার মান ভলো না হলে ১০ শতাংশ হারে কর্তন করে চাষিদের মূল্য পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে কাঁচা চা পাতা কেনার জন্য চাষিদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। এছাড়া চাপাতা বিক্রির সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পাতা কেনার পাশাপাশি কারখানা কর্তৃপক্ষ ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কর্তন করছে। কাঁচা চা পাতার এমন দরপতনের জন্য চাষিরা কারখানা মালিকদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন। চাষিদের চাপাতার ভাউচারে কর্তনের হিসাব ও প্রতি কেজির মূল্য উল্লেখ না করে শুধুমাত্র মোট টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো চাষি আপত্তি জানালে তার চা পাতা কারখানার মালিক নিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। এতে চা চাষিরা প্রতিনিয়ত লোকসান গুনলেও কারখানা মালিক কৌশলে কোটি কোটি টাকা উপরি আয় করছে বলে অনেকে জানিয়েছে। ২০১৮ সালে পঞ্চগড় জেলায় কাঁচা চা পাতার মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কিন্তু এ বছর কমতে কমতে ১৬ টাকা ৮০ পয়সায় এসে দাঁড়িয়েছে। এতে নতুন চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় চায়ের চারাও বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে চারা উৎপাদনকারীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার ১৫টি চা কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মূল্য মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা দেয়ার জন্য চা বাগান মালিকদের অন্যখাত থেকে চা শ্রমিকদের মজুরি ও সার কিটনাশকের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। অনেকে ক্ষোভে চায়ের গাছ থেকে কাঁচা চা পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছে। এ বিষয়ে চা চাষি ও কারখানা মালিকরা পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। চাষিরা জানায়, কারখানা মালিকরা সিন্ডিকেট করে কাঁচা চা পাতার মূল্য কমিয়েছে। অপরদিকে, কারখানা  মালিকরা বলছে ক্ষুদ্র চাষিরা নিয়ম অনুযায়ী কাঁচা পাতা না তুলার কারণে উৎপাদিত চায়ের মান কমে গেছে। তাই অকশন বাজারে তৈরি চায়ের মূল্য কমে যাওয়ায় কাঁচা চা পাতার দাম কমানো হয়েছে। অভিযোগ মতে, ভালো মানের চারা দিয়ে বাগান ও কাঁচা চাপাতা তুলার ব্যাপারে চাষিদের উদ্বুদ্ধ, প্রশিক্ষণ ও সচেতন করার জন্য টি বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যকর তৎপরতা নেই। তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু বলেন, চা চাষিদের অবস্থা অনেকটা তৎকালীন নীল চাষিদের মতো হয়েছে। কারণ চা কারখানার মালিকদের একতরফা সিদ্ধান্তে কাঁচা চাপাতার যে মূল্যে দিচ্ছে তা দিয়ে বাগানের সার-কীটনাশক ও পাতা তোলার কামলা খরচও হয় না।  আমি এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও বিভাগী কমিশনার মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি তারা যেন বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদোয়ের সঙ্গে কথা বলে চা বাগান মালিকদের কাঁচা চাপাতার সঠিক মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা করেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ব্রম্মতল এলাকার চা চাষি আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি ১৫ একর জমিতে চা চাষ করেছি। এখন চা নিয়ে আমাদের নাজেহাল অবস্থা। সময়মতো বিক্রি করতে না পারলে চায়ের পাতা বৃদ্ধি পেয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দা দিয়ে অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়া চা পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছে। এছাড়া কারখানাগুলো ১২ টাকা কেজি দরের উপর কিনছে না। এক কেজি চা পাতা তুলতেই তো ৪ থেকে ৫ টাকা খরচ হয়। সেখানে লাভের আশা কিভাবে করবো। সে আশা আর স্বপ্ন নিয়ে চা চাষ শুরু করেছিলাম সব স্বপ্নই আমাদের ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ টি ফ্যাক্টরি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেজারার ও তেঁতুলিয়ার বাংলা টি ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রির স্বত্বাধিকারী শেখ মো. শাহ আলম বলেন, আমরা বর্তমানে নির্ধারিত প্রতি কেজি ১৬ টাকা ৮০ পয়সা দরেই কাঁচা চা পাতা ক্রয় করছি। তবে ভেজাপাতা থাকলে সেক্ষেত্রে ১০ শতাংশ কর্তন করা হয়। কাঁচা চা পাতার মূল্য কমে যাওয়ার পেছনে কোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব নেই। বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, নিলাম বাজারে পঞ্চগড় জেলার চায়ের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় কাঁচা পাতার দামে প্রভাব পড়েছে। চা উৎপাদনে গুণগতমান রক্ষা করতে পারলে এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ হতে পারে। তবে কারখানা মালিকদেরও সচেতন হতে হবে। এছাড়া ইচ্ছেমতো যখন তখন কারখানা বন্ধ করা হলে চাষিরা বিপদে পড়তে পারেন। নির্ধারিত মূল্যে যাতে কারখানাগুলো চাষিদের কাছ থেকে চা পাতা ক্রয় করেন সেজন্য কাঁচা চাপাতার মূল্য নির্ধারণ ও তদারকি কমিটির তদারকি অব্যাহত আছে। তবে এই সমস্যা অল্পদিনের মধ্যে কেটে যাবে।

Sunday, August 18, 2019

মহানন্দায় ধরা পড়ল ১ মণ ওজনের বাঘাইড় by মোহাম্মদ রনি মিয়াজী

মহানন্দা নদীতে ধরা পড়া বাঘাইড় মাছ
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন মহানন্দা নদীতে এক মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় তেঁতুলিয়ার সর্দারপাড়া এলাকার মহানন্দা নদীতে একদল পাথর শ্রমিকের জালে মাছটি আটকা পড়ে।
সূত্রে জানা যায়, মহানন্দা নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলে ওই এলাকার রেজাউল, নাদির, বিপ্লব, দেলু, হাসিবুল নামে কয়েকজন পাথর শ্রমিক বড় জাল দিয়ে সীমান্ত সংলগ্ন নদীতে মাছ ধরতে গেলে তাদের জালে এক মণ ওজনের বাঘাইড় মাছটি আটকা পড়ে।
এদিকে মাছটি শিকার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ফলে মাছটি দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতশত মানুষ ভিড় জমায়। মাছটি অনেকেই কিনতে চাইলেও মাছটি বিক্রি না করে মাছটি তারা বাড়িতে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হাসিবুল ইসলাম বার্তাটেয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন,' আমরা আজ কয়েকজন মিলে নদীতে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ আমাদের জালে এক মণ ওজনের বাঘাইড় মাছটি আটকা পড়ে এবং মাছটি নদী থেকে বাসায় নিয়ে এসে সমান ভাগে ভাগ করে নিয়েছি।
স্থানীয়রা জানান, মহানন্দা নদী ভারত থেকে প্রবাহিত হওয়ায় মাছটি ভারত থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর আগে বোয়াল মাছ ধরা পড়লেও এই প্রথম বাঘাইর মাছ ধরা পড়লো।