Tuesday, October 20, 2015

বিষ ঢেলে রাতারগুলের সর্বনাশ by আবদুর রশিদ রেনু

দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট সিলেটের রাতারগুলের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে দিনের পর দিন। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় এ বনাঞ্চলের ভূমি দখলের পর এবার বিষ দিয়ে চলছে মাছ লুট। ইতিমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভূমি বেদখল হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় এ বনাঞ্চল দখলকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে ক্রমেই। ফলে অপার সম্ভাবনার এ পর্যটন স্পট ও এর জীববৈচিত্র্যের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে। এ নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ত উদাসীনতায় চরম ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে সচেতন মহলে। অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আঁতাত করেই চলেছে এসব কর্মকাণ্ড। বন বিভাগ ভূমি উদ্ধারে ইতিবাচক কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এদিকে জীবজন্তুর বদলে জনসাধারণের অবাধ বিচরণ, পিকনিক, নৌবিহার, ক্যামেরার ক্লিকে অভয়ারণ্য ছেড়ে পালানোর উপক্রম বনের প্রাণিকুলের। বন ছেড়ে যাওয়া বন্যপ্রাণী মাঝেমধ্যে ধরা পড়ছে পার্শ্ববর্তী জনপদে। পর্যটন বাণিজ্যের চিন্তায় তারা বিভোর। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের ব্যতিক্রমী এ বনের মোট আয়তন ৩ হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একর। ১৯৮৫ সালে ৫০৪ একর বনকে অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণার পর রাতারগুল বিশ্বের সোয়াম্প ফরেস্ট ও অভয়ারণ্যের তালিকাভুক্ত হয়। পৃথিবীর ২২টি জলারবনের মধ্যে রাতারগুল অন্যতম এবং উপ-মহাদেশের দ্বিতীয়। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার উত্তর সিলেট রেঞ্জ-২-এর রাতারগুল বিটের অধীনে ১০টি মৌজা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে মেওয়াবিল, ঘোড়ামারা কান্দি, ছদিভদি হাওর, শিয়ালা হাওড়, লক্ষির হাওড়, শিমুল বিল হাওড়, চলিতাবাড়ি, রাতারগুল, বগাবাড়ি ও পূর্ব মহেশখেড়। রাতারগুলো জলারবনে কয়েকদিন ধরে বিষ ঢেলে মাছসহ লাখ লাখ জলজ প্রাণী ও অণুজীব হত্যা করছে দুর্বৃত্তরা। বন বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা আছে রাতারগুল দেশের দৃষ্টিনন্দন জলাভূমির বন। এ বনাঞ্চল মাছের আবাসস্থলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কয়েকদিন ধরে মাছের এসব গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। শনিবার গভীর রাত থেকে বিষ ঢেলে দেয়ার ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, সাপ ব্যাঙ, কাঁকড়া আধমরা হয়ে ভেসে ওঠে। এলাকাবাসী প্রতিদিন দল বেঁধে মেতে ওঠেন মাছ ধরার মহোৎসবে। বিষের পাশাপাশি কারেন্ট জাল ফেলে অবাধে চলছে মাছ ধরা। গ্রামবাসীরা স্থানে স্থানে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে বিভিন্ন প্রকার সরঞ্জাম ব্যবহার করে দিনব্যাপী মাছ সংগ্রহের অংশ নেয়। আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে সারা দিন মাছ সংগ্রহ করতে খইয়ার খালে মানুষের ঢল নামে। এমন সংবাদ পেয়ে সোমবার সিলেট বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি ফিরে এসে সাংবাদিকদের জানান, খাল থেকে তুলনামূলকভাবে বড় আধমরা মাছগুলো দুর্বৃত্তরা ভোররাতেই সংগ্রহ করে নিয়েছে। এখন আধমরা ছোট মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে। সেসব মাছ সংগ্রহ করতেই বনের ভেতর সাধারণ গ্রামবাসীর এ ঢল। জলজপ্রাণ বৈচিত্র্য ধ্বংসের এই জঘন্য ঘটনার ব্যাপারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাতারগুল জলারবনের প্রাণ বৈচিত্র্য যে ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছেছে তা সরকারের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তিকে বোঝানো যাচ্ছে না। তিনি রাতারগুল জলারবনকে সুরক্ষায় অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ মতামতে ‘সোয়াম্প ফরেস্ট’ আইন প্রণয়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, এই বনের বৈশিষ্ট অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে মাছসহ জলজপ্রাণী হত্যা বন্ধ করতে হবে। বন্যপ্রাণীর এ অভয়াশ্রমে প্রায় তিন শতাধিক মানুষকে ‘পোলো উৎসব’-এর মতো দল বেঁধে মাছ সংগ্রহ করছে। বিষ ঢেলে মাছ লুটের বিষয়টি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। বাপা হবিগঞ্জ শাখার যুগ্ম সম্পাদক ডা. এসএস আল আমিন সুমন বিষের প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করা বিভিন্ন প্রজাতির ২৭টি সাপের মৃত দেহ খালের পানিতে দেখার বিষয় নিশ্চিত করেন। পরিবেশকর্মী সৈয়দ সোহাগ বলেন, খালের পানিতে বিষ ঢালার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ভেসে থাকা মাছ বা সাপের ময়নাতদন্ত করা জরুরি।

চলতি মাসেই রায় ঘোষণা হতে পারে by ওয়েছ খছরু

আগামী ২৫শে অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ হলে চলতি মাসেই দেয়া হতে পারে আলোচিত শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার রায়। এ কারণে আজ সিলেটের আদালতে ‘আসামি পরীক্ষা’ করা হবে। সকালে একে একে সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রমের জন্য কেবল একটি কার্যদিবস বাকি থাকবে। মামলা-সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বিচারক চাইলে চলতি মাসেই আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন। সিলেটের রাজন খুনের বিচার দ্রুত বিচারেই দেয়া হবে- সরকারের মন্ত্রিপর্যায় থেকে এমন ঘোষণা করা হয়েছিল। ডিবি ইন্সপেক্টর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি সিলেট মহানগর জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ওই আদালতেই মামলার চার্জগঠন করা হয়। মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধার আদালতেই শুরু হয় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১০ আসামির উপস্থিতিতে ১লা অক্টোবর রাজনের পিতা আজিজুর রহমান ও জালালাবাদ থানার বরখাস্তকৃত এসআই আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণপর্ব শুরু করা হয়। এরপর ৪ঠা অক্টোবর চার, ৭ই অক্টোবর চার, ৮ই অক্টোবর চার, ১১ই অক্টোবর তিন, ১২ই অক্টোবর চার ও ১৩ই অক্টোবর চার, ১৪ই অক্টোবর চার ও ১৫ই অক্টোবর ছয়জনসহ নির্ধারিত নয় দিবসে ৩৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের এগারোতম দিনে রোববার আদালতে সাক্ষ্য দেন তদন্তকারী কর্মকর্তার সুরঞ্জিত তালুকদার। এদিকে, গত ১৫ই অক্টোবর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় প্রধান আসামি কামরুলকে। ১৬ই অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। রোববার কামরুলের পক্ষের আইনজীবীরা সব সাক্ষীর বক্তব্য পুনঃশুনানির আবেদন করেন আদালতে। কিন্তু আদালত শুনানি শেষে তার সেই আবেদন নাকোচ করে দেন। এরপর আজ আসামি পরীক্ষার দিন ধার্য করা হয়েছে। আজ আদালতে আসামিদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মহানগর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী। তিনি জানিয়েছেন, আদালত আলোচিত এ হত্যা মামলাটি শুরু থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। এ কারণে এ মামলায় ৩৬ সাক্ষী এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া সব আইনি প্রক্রিয়াও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানিয়েছেন, সরকার রাজন খুনের দ্রুত বিচারের কথা রেখেছে। এ মামলাটি চলতি মাসেই শেষ হতে পারে। ২৫ তারিখ যুক্তিতর্ক শেষ হলে কেবল রায় ঘোষণার বাকি থাকবে। তিনি বলেন, সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করেছে। একই সঙ্গে মামলাটি বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। এদিকে, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট রাজনের পিতা আজিজুর রহমানও। তিনি জানিয়েছেন, তিনি রাজন খুনের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান। আর যেন কেউ রাজনের মতো নির্মম নির্যাতনে মারা না যায় বিচারের মাধ্যমে সেটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তিনি। সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন খুনের ঘটনায় চার্জশিটভুক্ত আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে ১১ জন মামলার বিচারিক কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। এরা হলো কামরুল ইসলাম, তার ভাই মুহিদ আলম, আলী হায়দার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, দুলাল আহমদ, নগরীর জালালাবাদ থানার পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর মিয়া, ফিরোজ মিয়া ও আছমত উল্লাও আয়াজ আলী। তাদের মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শামীম ও পাভেলকে খুঁজছে পুলিশ: রাজন খুনের চার্জশিটভুক্ত আসামি শামীম ও পাভেল এখন বিচারিক আওতার বাইরে রয়েছে। এ কারণ, ঘটনার পর থেকে তারা দুজন পলাতক রয়েছে। গত ৮ই জুলাই সিলেটের টুকের বাজারে যখন রাজন খুনের ঘটনা ঘটে, তখন ওই দুজন নির্যাতনের সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছে অন্য আসামিরা। এ কারণে ঘটনার প্রথম পর্যায় থেকেই পুলিশ শামীম ও পাভেলকে খুঁজে ফিরছে। ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে ওই দুজনের মালামাল ক্রোক করা হয়েছে। শামীম প্রধান আসামি কামরুলের ছোট ভাই ও পাভেল তাদের আত্মীয়। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায়। কামরুলকে ফেরত আনার দিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, শামীম ও পাভেলকে খোঁজা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেনও জানিয়েছেন, শামীম ও পাভেলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‘চিকিৎসাধীন খোকার বিচার প্রক্রিয়া শুরুই আইনবহির্ভূত’

আমেরিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলায় ১৩ বছরের সাজা দেয়ায় তিনি ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় সাদেক হোসেন খোকাকে পলাতক দেখিয়ে বিচার করলেও আসলে তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার কিডনি’র ক্যান্সারের উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান।  তিনি এখনও সেখানে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। এ অবস্থায় উচ্চ আদালতের রায় বাতিল না করে নিম্ন আদালতে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরুটাই ছিল আইনবহির্ভূত। রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই আত্মসমর্পণের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে তার বিরুদ্ধে এই শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। আজ বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খোকার বিরুদ্ধে দেয়া রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন।  দুদকের সমালোচনা করে তিনি বলেন,  যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনে জমাপড়া ২৩ হাজার মামলা প্রভাবশালীরা ‘দায়মুক্তি’ নিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, বেসিক ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে যারা লুটপাট করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সমাজে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনের লম্বা হাত তাদের টিকিটিও স্পর্শ করতে পারেননি। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, যে আদালত বীরমুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে এই রায় দিয়েছেন ওই আদালতের ক্রম অনুয়ায়ী এক নম্বর মামলাটির কার্যক্রম শুরু না করে প্রায় প্রতিদিন তারিখ ফেলে তথাকথিত সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাকে ‘পলাতক’ দেখিয়ে একতরফাভাবে বিচারের নামে প্রহসন করে যে দ- দিয়েছেন তা আইন-বিচারের ইতিহাসে একটি বাজে নজির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে বিদেশে থাকায় পলাতক ঘোষণা বে-আইনি হয়েছে। আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সাদেক হোসেন খোকা আইনের চোখে কোনভাবেই পলাতক নন। কারণ তিনি উচ্চ আদালতের রায় নিয়েই চিকিৎসা নিতে বিদেশে গেছেন। আদালত তাকে যেতে যেমন অনুমোদন দিয়েছেন, দেশে ফিরতেও তাকে কোন বাধা না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সুস্থ থাকলে অবশ্যই আইন মেনে বিচার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতেন। যেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধার চাকরি দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়, সেখানে একজন অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ছয় মাসের সময় প্রার্থনা করেও নি¤œ আদালত থেকে তার মঞ্জুরি পাননি। ড. রিপন বলেন, আদালতের গোটা বিচার প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, শাস্তি বিধানের মধ্য দিয়ে সাদেক হোসেন খোকা রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কূটকৌশলের শিকার হয়েছেন। যে অবৈধ সম্পদের কথা আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন খোকার আইনজীবীরা উপযুক্ত কাগজপত্র মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে তিনি তার যে সম্পদ ২০০৪ সালে মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছেন সেটিও তার সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, গুলশানের যে বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে-তা তার পৈত্রিক সম্পত্তি বিশ্বরোডে মানিকনগরের সম্পত্তি সরকার একোয়ার করে নিলে তিনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে গুলশানে ৫ কাঠা জমি ও ২৫ লাখ টাকা লাভ করেন। যে জমিতে তিনি এনসিসি ব্যাংক থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করেন-যা এখনও ব্যাংকে দায়বদ্ধ। অথচ এই সম্পত্তিকেও আদালত অবৈধভাবে অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন। সাদেক হোসেন খোকার গোপীবাগের বাড়ি মায়ের নামের সম্পত্তি এবং গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি তার দাদার নামের সম্পত্তি। গোপীবাগের বাড়ি বা গ্রামের বাড়ির সম্পত্তি তার নিজ নামের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। অথচ আদালত তা আমলে নিয়েছেন । বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বুড়িগঙ্গা ইন্ডাস্ট্রিজে তার বিনিয়োগ মাত্র ১.৮৭ পারসেন্ট শেয়ার অথচ আদালত তাকে ওই প্রতিষ্ঠানের ৭৫ ভাগ শেয়ারের মালিক গণ্য করে বিচারে আমলে এনেছেন এবং তা বাজেয়াপ্ত করেছেন। যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক। আদালতের গোটা বিচার প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিলÑ সাদেক হোসেন খোকাকে হয়রানি করা, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা এবং তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক গতিতে সম্পন্ন করেছে এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করে একতরফা রায় দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ১/১১-র সময়ের এই মামলাটি অন্যান্য অনেক মামলার মতো স্থগিত থাকলেও সম্পূর্ণ হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে তড়িঘড়ি শাস্তি দেয়া হলো। এটা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মুখপাত্র।

‘ক্ষমতায় নির্বিঘ্নভাবে থাকতেই রামপাল নির্মাণ’ -বাম মোর্চা

ভারতকে সন্তুষ্ট করতে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। এমন অভিযোগ করেছেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতারা। তারা বলেন, ক্ষমতায় নির্বিঘ্নভাবে থাকতেই সরকার এটা করছে। মঙ্গলবার রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। লিখিত বক্তব্যে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামত উপেক্ষা করে সরকার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সর্বনাশা তৎপরতায় যুক্ত হয়েছে। এটি সুন্দরবনসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিনিময়ে বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে দেশবাসী কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দিতে পারে না। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাম মোর্চার নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মোশাররফ  হোসেন, মোশরেফা মিশু, জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

ক্ষমতার বাহন মিডিয়া by সাইফুল ইসলাম

এককালে জনতাকে বশে রাখার জন্য শক্তি প্রয়োগই ছিল একমাত্র উপায়। কিন্তু যুগ পাল্টেছে। এখন শুধু শক্তিতে কাজ হয় না। জনতাকে বশে রাখার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রের অনেক অভিনব উপায় অন্বেষণ করতে হয়। দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীরা একের পর এক নতুন তত্ত্ব এবং কৌশল উদ্ভাবন করে নানাবিধ স্বার্থের বিনিময়ে তা হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রের হাতে। রাষ্ট্র নব নব উদ্ভাবিত সেসব কৌশল প্রয়োগ করে পাবলিককে বশে রাখে।
অনেকে মনে করেন, যেসব দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয় না সেসব দেশে বোধহয় সমস্যা কম। প্রকৃত সত্য হলো, সেসব দেশেও প্রচুর সমস্যা। যে যতটা সুবিধাপ্রাপ্ত তার চাহিদা ততটা উন্নত। ফলে সমস্যাহীন কোনো জনপদ নেই পৃথিবীতে। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধানে সরকার পতন আন্দোলন করে না? সেটা জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে পাবলিককে নিয়ন্ত্রণ করার অধুনা বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে। আর এ কৌশলগুলো প্রয়োগের পুরোভাগে রয়েছে গণমাধ্যম। মূলত পাবলিককে অন্ধকারে রেখে রাষ্ট্রের অনৈতিক কাজগুলোকে দিনের পর দিন করার সুযোগ করে দেয় গণমাধ্যম। গণমাধ্যম তাই বর্তমান যুগে রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ।
গণমাধ্যমকে শত্রু বানিয়ে কোনো সরকার টিকতে পারে না। তাই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই বিরোধী গণমাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল বা ভয় দেখিয়ে দন্ত নখরহীন করে রেখেছে। একই সাথে প্রয়োগ করেছিল পাবলিককে বশে রাখার আধুনিক কৌশলগুলো। আমাদের দেশের সাম্প্রতিক বাস্তবতা এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত তত্ত্বগুলো (মূলত নোয়াম চমস্কির লেখা) পড়ে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক বশে রাখার রাষ্ট্রীয় কৌশল এবং সম্ভাব্য কৌশলগুলো নিয়েই আমার বর্তমান লেখা। বর্তমান সরকার যে উপায়ে পাবলিক বশে রেখেছে বা ভবিষ্যতে যে উপায়গুলো ব্যবহার করতে পারে-
প্রকৃত সমস্যা থেকে পাবলিকের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে রাখার জন্য ক্রমাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে যাওয়া, কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নিয়ে ক্রমাগত রিপোর্ট করে যাওয়া। মানুষকে একের পর এক গুরুত্বহীন ইস্যুতে ব্যস্ত রাখা। তাদের এতই ব্যস্ত রাখা যাতে তারা চিন্তা করার সময় না পায়। সরকার যখন কোনো প্রবলেমে পড়ে তখন মিডিয়াগুলো এক সুরে কথা বলে ওঠে। প্রকৃত সমস্যা থেকে পাবলিকের চোখ অন্য দিকে সরিয়ে নেয়।
সরকার প্রথমে একটা সমস্যা সৃষ্টি করবে। সে সমস্যা সমাধানের জন্য পাবলিক আন্দোলন সৃষ্টি করবে। যখন ব্যাপক পাবলিক সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হবে তখন সে সমস্যার সমাধান দেবে। উদাহরণ : কোথাও বিনা কারণেই পুলিশ গুলি করবে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটা গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বা গড়ে তোলার সুযোগ দেয়া হবে। আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের সহনীয় মাত্রার দমন-পীড়ন চালানো হবে, এরপর চূড়ান্তপর্যায়ের আন্দোলনে দোষীদের একটা শাস্তি দেয়া হবে। মানুষও বিরাট যুদ্ধজয় করার তৃপ্তিতে আবার খোঁয়াড়ে ফিরে যাবে। ফলে মূল সমস্যার কথাও মানুষ ভুলে যাবে। সাম্প্রতিক ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনকেও এমন আন্দোলন বলা যায়।
ধরা যাক, সরকার কোনো ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করতে চায়। সে তখন মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে সেটাকে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে বলে ফলাও করে প্রচার করল। মানুষ স্বভাবতই ক্ষিপ্ত হবে। সরকারের লোকজন ব্যাপারটা ভেবে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেবে। টকশোতে পক্ষ-বিপক্ষ মতামত দেবে। প্রতিষ্ঠিত করা হবে, ওই বিষয়ে ভ্যাট দেয়া দরকার। তবে এত বেশি নয়। তারপর সরকার যখন বলবে যে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলো, তখন সবাই খুশি মনে ব্যাপারটা মেনে নেবে।
কোনো একটি ঘটনা ঘটানো হলে তার বাস্তব ক্ষেত্রে কী কী ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে, তা উল্লেখ না করে ওই ঘটনা ঘটানো কেন দরকার সে সম্পর্কে আবেগী বক্তৃতা মিডিয়ায় প্রচার করা হবে, যাতে মানুষ ঘটনার প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে উদাসীন থাকে এবং আবেগ নিয়ে পড়ে থাকে। যুদ্ধাপরাধীর বিচারের শুরু থেকে যদি এ পর্যন্ত কেউ ভালো করে খেয়াল করেন তাহলে বুঝবেন, এটাতে জনসমর্থন সৃষ্টি করা হয়েছে এ প্রক্রিয়ায়।
মানুষকে এমন ধারণা দেয়া যে, দেশে যত অন্যায় হচ্ছে সে জন্য নাগরিকেরাই দায়ী। নাগরিকেরা সঠিক হলে এমন ঘটনা ঘটত না। ফলে মানুষ সরকারকে দায়ী না করে নিজেকে দায়ী করতে থাকবে। মিডিয়াও সেই পালে হাওয়া দিয়ে সরকারকে আরো অন্যায় কাজে সমর্থন দিয়ে যাবে।
হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি একটি পরিণতিহীন চরিত্র হলো হিমু। হিমু হলে সুবিধা হলো রাষ্ট্রীয় অনাচার নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলে। তরুণ প্রজন্মকে এসবে উৎসাহিত করে তুললে রাষ্ট্রের লাভ হলো, রাষ্ট্রের অনাচার নিয়ে তরুণেরা মাথা ঘামাবে না। একই সাথে বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত হওয়া, অবৈধ যৌনাচারে আসক্ত, হালকা কামনা-বাসনার রোগে আক্রান্ত হলে সরকারের জন্য সুবিধা হবে।
নানা ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা জিইয়ে রেখে কিংবা অর্থনীতির মধ্যে নানা ধরনের অনুষঙ্গের প্রয়োগ ঘটিয়ে সমাজের নানা শ্রেণীর মধ্যে দূরত্ব, হিংসা, দ্বেষ বাড়িয়ে তোলা, যাতে মানুষ রাষ্ট্রযন্ত্রের চেয়ে তাদের কাছে দৃশ্যমান তুলনামূলক সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীগুলোকে নিজেদের শত্রু মনে করে। একই সাথে মিডিয়ার মাধ্যমে এই তত্ত্বকে জনপ্রিয় করে তোলা, যাতে আসল শত্রুর দেখা এরা কখনোই না পায়। এই শ্রেণী শুধু যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে গড়ে ওঠে তা কিন্তু নয়। ধর্মীয়, আদর্শিক, আঞ্চলিক ভাবে বিভিন্ন ধরনের শ্রেণী গড়ে তোলা হয়। শাহবাগ ও শাপলার মধ্যকার দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে সরকার দুই পক্ষ থেকেই কিভাবে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছিল তা এখনো সবার মনে থাকার কথা।
হয়তো আরো অনেক কৌশল বর্তমান সরকার প্রয়োগ করছে। কিন্তু মোটা দাগে মিডিয়া ব্যবহার করে এগুলাই তারা প্রয়োগ করেছে বা করতে যাচ্ছে। অন্য যেকোনো সরকারের আমলের চেয়ে বর্তমান সরকারকে অনেক শক্তিশালী মনে হওয়ার কারণ কিন্তু এটাই যে, তারা খুব সফলভাবে মিডিয়া ব্যবহার করে নাগরিকদের বশে রাখতে পেরেছে। যেহেতু মিডিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে, তাই ডোর টু ডোর কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা এবং মিডিয়ার চালবাজিগুলো জনগণকে জানিয়ে দেয়ার কোনো বিকল্প আপাতত নেই।

পুতিনের সাতকাহন by কায়কোবাদ মিলন

একবিংশ শতাব্দী রাশিয়া কিভাবে শেষ করবে? আবার ব্যক্তি শাসনের ধারায় চলে যাবে রাশিয়া! প্রায় ১৫ কোটি মানুষের দেশে কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক দল নেই। ফলে ভোটারদের সংগঠিত করা এবং ভোটদান নিশ্চিত করা অসম্ভবের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দিকে সেনাবাহিনীর অবস্থা হামাগুড়ি দেয়ার মতো এবং তারা তাদের স্বাভাবিক হিংস্রতা ত্যাগ করেছে বলেই মনে করা হয়। তবে দোর্দণ্ড প্রতাপে বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হচ্ছে সিক্রেট পুলিশ। আর এই বাহিনী এক ব্যক্তির পকেটে। দেশটির হাইড্রোকার্বন সেক্টর ব্যক্তিগত ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। শিল্পকারখানার মালিকানার বেশির ভাগ জায়গা বরাদ্দ দেয়ার মতো বিতরণ করা হচ্ছে। গণমাধ্যম কম বেশি রাষ্ট্রপতি পুতিনের প্রশাসনই নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলো সমৃদ্ধ বটে কিন্তু কেন্দ্রে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অনুপস্থিত। গত বছরের অক্টোবরে রুশ ও বিদেশী বিশেষজ্ঞদের এক গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে পুতিনের এক উপদেষ্টা গর্ব করে বলেছিলেন, রুশরা অনুধাবন করেছে যে, যদি পুতিন না থাকে তাহলে রাশিয়া বলে কিছু থাকবে না। রুশ পণ্ডিত স্লানসিলাভ বেলকোভস্কি বলেছেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি যে জাতীয় নীতিমালার ভিত্তিতে রচিত হয়েছিল তার কবর রচিত হয়েছে। এখন স্পষ্ট যে, রাশিয়ার জাতীয় নীতি হলো ভøাদিমির ভøাদিমিরোভিচ পুতিন।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে, রাশিয়া এখন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে খুবই ভালো অবস্থায় রয়েছে। বেকারত্ব হ্রাস, গড় আয় বৃদ্ধি, মধ্যবিত্তের বিলাসী জীবন, ইউরোপের কোনো কোনো দেশের তুলনায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার বৃদ্ধি উন্নত রাশিয়ার কথাই মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু অর্থনৈতিক বন্ধ্যত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে শ্রমিক সমাজের শ্লথগতি এবং দম্ভ করার মতো শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। উল্লিখিত সেক্টরগুলো যারপরনাই দুর্নীতিগ্রস্তও হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রের অনুরূপ এ অব্যবস্থা রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশব্যাপী বড় বড় পদকর্মকর্তারা মোটা টাকার বিনিময়ে কিনে নিচ্ছেন। এই ক্রেতারা সঙ্ঘবদ্ধ ক্রাইম সিন্ডিকেট গঠন যেমন করছেন তেমনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সরকারি উকিল ও বিচারকদেরও দলে ভিড়িয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন স্থিতিশীলতার যে জিকির তুলছেন তা এ ক্ষেত্রে অসার বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। অবশ্য ১৫ বছর ধরে পুতিন ক্ষমতায় আছেন। পুতিনের যে ক্ষমতার কোনো দিন অবসান ঘটবে এমনটি কিছু মনে হচ্ছে না। স্টালিন তিন দশক রাশিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন। ব্রেজনেভ ছিলেন দুই যুগ। সে তুলনায় পুতিন তরুণ এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। পুরনো স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তিনি নতুন কনের সন্ধান করছেন।
পুতিন প্রশাসনের সর্বত্র তার লোক বসিয়েছেন। কেজিবির সাবেক প্রধান হিসেবে এসব তার নখদর্পণে। তিনি যদি তার ওই দুই পূর্ব সুরি থেকেও বেশি দিন ক্ষমতায় থাকেন তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এতে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলেও সেই স্বপ্ন রুশদের কাছে অধরাই রয়ে যেতে পারে। বস্তুত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে রাশিয়ায় এখন চলছে পুতিনের স্বৈরাচারী শাসন- যা সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থার ধারে কাছেও নেই। আজ রাশিয়ার সামনে একক কোনো আদর্শও নেই; নেই কোনো সুশৃঙ্খল ক্ষমতাসীন দল। আইনের শাসনেরও বিন্দুমাত্র বিধিব্যবস্থা অনুপস্থিত। আজকের রাশিয়ায় ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্জনের যেমন অধিকার বিদ্যমান তেমনি সীমান্ত পারাপারেও অবাধ সুযোগ রয়েছে।
যে প্রক্রিয়ায় পুতিন একের পর এক দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তিদের সৃষ্টি ও উৎসাহিত করে চলেছেন, অখণ্ড সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর যে স্বপ্নের রাশিয়া গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকে পরিণত হলেন, পুতিনকে তার খেসারত কম দিতে হচ্ছে না। জনসমক্ষে পুতিন নিজেই বলেছেন, তিনি যে আদেশ নির্দেশ দেন তার কুড়ি ভাগও বাস্তবায়িত হয় না। এ ক্ষেত্রে তিনি যদি শক্তি প্রয়োগ করেন স্বার্থান্বেষী মহল তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পুতিনের পক্ষে এত বস, গভর্নর এবং কর্মকর্তাদের জনে জনে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন। আবার অনেকে পুতিনের নাম ভাঙিয়ে কার্যসিদ্ধি করে থাকেন। ব্যক্তি শাসনের সুফল হলো প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত সংস্থা যেমন সিক্রেট পুলিশ কিংবা ক্যাম স্লো নিয়ন্ত্রণকারীদের নজরে রাখা। কিন্তু ওই সংস্থাগুলো স্বচ্ছতা আনয়নের ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
পুতিনের জন্ম লেলিনগ্রাদে ১৯৫২ সালের ৯ অক্টোবর। তার কোনো ভাইবোনও নেই। পিটার দ্য গ্রেটের দুর্ধর্ষ অঞ্চলে তিনি বেড়ে উঠেছেন। মার্শাল আর্টে দক্ষ পুতিন লেলিনগ্রাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি নিয়ে প্রায় ভিক্ষা করার মতো কেজিবির একটি চাকরি নিয়ে ১৯৮৫ সালে পূর্ব জার্মানিতে পোস্টিং নেন। ১৯৯০ সালে বার্লিন ওয়ালের বিলুপ্তিতে পুতিনকে দেশে ডেকে পাঠানো হয়। এখানে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আনাতোলি শোবচাকের মাধ্যমে ভাগ্য ফেরাতে সক্ষম হন। শোবচাক প্রথমে সিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং পরে মেয়র হন। পুতিন তার শীর্ষ ডেপুটি হিসেবে নিয়োগ পান। পুতিন লেলিনগ্রাদে ক্ষমতার ছড়ি ঘোরানোর পাশাপাশি নিজে যেমন প্রচুর অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ পান তেমনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ভাগ্য গড়ে দিতে এগিয়ে আসেন। এভাবে তিনি গোপনে গোপনে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ১৯৯৬ সালে শোবচাক পুনর্নির্বাচনে হেরে গেলে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে পুতিন বেকার হয়ে পড়েন। কিন্তু এক বছরের মাথায় রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ আলেক্সি কুরভিনের মাধ্যমে মস্কোতে রাষ্ট্রপতির অফিসে বড় বড় কাজের দায়িত্ব পান পুতিন। আলেক্সিও শেবচকের একসময়ের সহকারী ছিলেন। ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট ইয়েলৎসিন সাবেক লে. কর্নেল পুতিনকে গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি পরে কেজিবির প্রধান করেন। এর কিছু দিনের মধ্যে পুতিন রাশিয়ার প্রথম ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। পুতিনের এ ক্ষমতা আরোহণের জয়যাত্রায় তিনি কোনো পর্যায়েই জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। তিনি সব পর্যায়েই সিলেকটেড হয়েছেন।
ইয়েলৎসিন পরিবারে অন্তর্ভুক্তির সুযোগে পুতিনের ভাগ্য আরো খুলে যায়। ইয়েলৎসিনের নিজস্ব একটি গণ্ডি ছিল। ইয়েলৎসিনের আত্মজীবনীর ঘোস্ট রাইটার ভ্যালেন্টিন ইউমালেভ এবং তার হবু স্ত্রী ও ইয়েলৎসিনের মেয়ে তাতিয়ানা অনেকের মধ্য থেকে পুতিনকে তাদের পরিবারের একজন করে নেন। প্রশাসনে দক্ষ এবং ওই পরিবারের বশ্যতা স্বীকারে পারঙ্গম এর যোগ্যতা বলে পুতিন কাজ পেয়ে যান। তার প্রধান কাজ হলো সব ক্ষেত্রে ইয়েলৎসিন পরিবার এবং একই সাথে রাশিয়ার স্বার্থ দেখভাল করা। ২০০০ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাশিয়ার প্রধান টিভি চ্যানেল ওয়ানের নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করে পুতিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রাপ্ত ভোটের শতকরা ৫৩ ভাগ ভোট অর্থাৎ চার কোটি ভোট পান পুতিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী পান ২৯ শতাংশ ভোট।
মজার কথা হলো, পুতিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও বছর দুই মূল ক্ষমতা ছিল তার চিফ অব স্টাফ আলেকজান্ডার ভালাসিনের হাতে। কেননা ভালাসিন পুতিনের চেয়েও ইয়েলৎসিনের পরিবারের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন। তরুণ ভালাসিন ও তার বন্ধুরা সব ক্ষেত্রে চাঁদাবাজি করেন। রাশিয়ার তখন ছিল ৮৯টি অঞ্চল। এসব অঞ্চলের প্রধান গভর্নরদের কারো কাছেই কোনো জবাবদিহিতা করতে হতো না। এ অরাজক অবস্থায় পুতিন বুদ্ধিবলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে নিতে সক্ষম হন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ও লোকদেখানো তৎপরতা চালান। টিভি সেন্টারের নিয়ন্ত্রণ নেন; নিয়ন্ত্রণ নেন তেল ও গ্যাস কোম্পানির। গ্রেফতার করেন বহু নাটের গুরুকে। তাদের মধ্যে একজন হলেন ভালাসিনের অনুগামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিখাইল খোদরকভিস্কিকে। তার প্রাইভেট বিমান ছিল। এ বিমানের ছবি পুতিনের নিয়ন্ত্রণাধীন টিভিতে হাজারবার প্রদর্শিত হয়। রুশ নাগরিকেরা বলে উঠতে থাকেন পুতিন রাশিয়াকে রক্ষা করলেন। এ সময় অর্থনৈতিক অবস্থা হঠাৎ করে ভালো হয়ে ওঠে। এ সময় রাশিয়ায় কৃষ্ণ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উন্মেষ ঘটে। প্রচুর বেড়ানো এবং মার্কেটিং করার সুযোগ সৃষ্টি হয় তাদের। রাশিয়ায় মোবাইল ফোনের হার শূন্য থেকে শতকরা একশত ভাগে উন্নীত হয়। অনেক বিশ্লেষক এসব ক্ষেত্রের এই উন্নয়নকে শুভ লক্ষণ বলে অভিহিত করেন। কল-কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। যদিও পুতিন বিরোধীরা এসব উন্নয়নের জন্য পুতিনকে কোনো কৃতিত্ব দিতে চাইছিলেন না।
রুশ আমেরিকান সাংবাদিক মাশা জেসেন ১৯১২ সালে পুতিনের আত্মজীবনী লেখেন। এ জীবনীর সার কথা হলো পুতিন রাশিয়ার জন্য একটা এক্সিডেন্ট। মাশা জেসেন পুতিনকে একজন মার্ডারার কিন্তু আলটিমেটলি একজন স্মল ম্যান হিসেবে অভিহিত করেন। কিন্তু এ কথাও সত্য এক্সিডেন্টের কারণে কোনো লোক এত দিন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে রাখতে সমর্থ মনে করা সঙ্গত নয়। পুতিন সম্পর্কে আরেকটি বই লিখেছেন রাশিয়ারই ফিয়োনা হিল ও ক্লিফোর্ড গ্যাডি। এ বইয়ে তারা পুতিনকে ফ্রি মার্কেটিয়ার, কেস অফিসার এ রকম ছয়টি অভিধায় চিহ্নিত করেছেন। বইয়ে তারা লিখেছেন যে, পুতিন একজন মস্কোবাসী নন, কেজিবির মূল ধারার লোকও নন। আবার কেস অফিসার বলতে গিয়ে বলেছেন, ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে পুতিন মানুষের মন জয়ে দক্ষ, ব্ল্যাকমেইল এবং ঘুষ প্রদানেও দক্ষ।
ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে জারিকৃত পশ্চিমাদের অবরোধ শুধু রাশিয়ার বিরুদ্ধে নয়, পুতিনের দুষ্কর্মের সাথীদেরও ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে ফেলেছে। কারণ দাওইশা বলেছেন, গ্যাস পাইপলাইন, কনস্ট্রাকশন ফার্ম, গানভর গ্রুপ, গ্যানপ্রমের মালিকসহ বহু কোম্পানির মালিকেরা এ অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ এসবের মালিকদের অনেকেই পুতিনের সেন্ট পিটার্সবার্গ আমলের বন্ধু। পুতিনের সাথে এরা সিন্ডিকেট গড়েছিলেন বহু আগে। দাওইশা পুতিনের জীবন কাহিনী লিখতে গিয়ে বলেছেন, পুতিনের ওইসব বন্ধু কিন্তু বনেদি ধনী নয়। তাদের উত্থানপর্ব শুরু হয় ১৫-১৬ বছর আগে থেকে। আসলে পুতিনের সাহায্য নিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ সরকারি ঠিকাদারি, রহস্যজনক ব্যাংক ঋণ গ্রহণ ইত্যাদি নিয়ে তারা বড় লোক হয়েছেন। দাওইশা লিখেছেন, তিনি পুতিনের হাতে জনসমক্ষে সাত লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ঘড়ি দেখেছেন। দাওইশার হিসাব অনুযায়ী পুতিনের সম্পদের মূল্য ৪০ বিলিয়ন ডলার।
পুতিনের ওপর লিখিত বেশির ভাগ গ্রন্থই তার প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময়কালকে নিয়ে। কিন্তু দাওইশা লিখেছেন যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির পর কেজিবি ব্যক্তি খাতে ব্যবসাবাণিজ্য শুরু করেছিল। এর মূল হোতা হলেন পুতিন। পুতিন তার সিন্ডিকেট নিয়ে সেই সামান্য ক্ষমতার আমলেই বেসরকারি খাতে ব্যবসাবাণিজ্যের বীজ রোপণ করেছিলেন। পুতিন প্রেসিডেন্ট পদে দুই বছরের মাথায় যখন সত্যিকারভাবে ক্ষমতাসীন হয়ে ওঠেন তখন খোদরকভস্কিসহ যেসব ব্যবসায়ীকে ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল তার মূলেও কিন্তু পুতিনের সেন্ট পিটার্সবার্গ কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট দায়ী। দাওইশা আরো লিখেছেন, অপরিণত গণতন্ত্রকে সত্যিকার ভিতের ওপর দাঁড় করানোর কোনো বাসনা পুতিনদের ছিল না। ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরই পুতিনের সিন্ডিকেট গণতন্ত্রকে ডেকোরেশন হিসেবে বিবেচনা করেছেন- ডাইরেকশন হিসেবে নয়। দাওইশা কেজিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে লিখেছেন যে, পুতিনকে ক্ষমতায় বসিয়েছে ইতিহাস। পরাশক্তি রাশিয়াকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে এবং বিশ্বকে ভারসাম্যপূর্ণ করার জন্য ইতিহাস পুতিনকে বিশেষ অপারেশনের জন্য ক্ষমতায় বসিয়েছে। দাওইশা মেদভেদভকে টেডি বিয়ার অভিহিত করে বলেছেন, তাকে বিশেষ প্রয়োজনে পুতিন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তার অনেক বন্ধু ও সহচর প্রধানমন্ত্রী পুতিনকে বরখাস্ত করার বহু অনুরোধ-উপরোধ করেছেন বটে তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ পুতিনকে বরখাস্ত করার যথেষ্ট ক্ষমতা মেদভেদেভের হাতে ছিল। কিন্তু রুশ জনগণ এবং পশ্চিমা বিশ্বকে মেদভেদেভকে দেখিয়ে বছরের পর বছর বোকা বানিয়ে চলেছেন পুতিন।
বিশাল দেশ রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সাথে কথা বলে পুতিনের ওপর বই লিখেছেন সাংবাদিক বেন জুডাহ। তার মতে ভঙ্গুর সাম্রাজ্য রাশিয়ায় তৃতীয়বারের মতো পুতিনের প্রেসিডেন্ট হওয়াটা দেশের জনগণের ওপর একটা চপেটাঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়। সেন্ট পিটার্সবার্গ সিটি অ্যাসেম্বলির সাবেক প্রধান আলেকজান্ডার বেলায়েৎ বলেছেন, বন্ধু বানাতে পুতিন বিশেষভাবে দক্ষ। একই সাথে বন্ধুদের প্রতি পুতিন খুবই লয়্যাল। মানুষের স্বভাব চরিত্র বুঝতে তার মতো মেধাবী লোক বিশ্বজুড়ে খুব কমই আছে। আর ট্যাকটিস ও কার্যোদ্ধারেও তার জুড়ি নেই।
পুতিনের সেন্ট পিটার্সবার্গ কেন্দ্রিক বন্ধু যিনি একটি প্রাসাদ কিনতে পুতিনকে অর্থ সাহায্য দিয়েছিলেন; সেই সের্গেই কোলেসনিকভকে একটি দুর্নীতি মামলায় এস্তোনিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয়। সের্গেই সাংবাদিক বেন জুডাহকে বলেছেন, পুতিন পুনর্বার প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আমি বিস্মিত। প্রথম দিকে আমি আমার সাধ্যমতো পুতিনকে সহযোগিতা করছিলাম বটে। আসলে ১৯৯০ সাল থেকে দুষ্টচক্র ক্ষমতা দখল করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির মাধ্যমে আমি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করেছিলাম। অথচ দেখতে পাচ্ছি, রাশিয়াজুড়ে এক ব্যক্তির স্বৈরাচারী ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটেছে।
জুডাহ তার দুইটি বইয়ের একটিতে আরো লিখেছেন যে, প্রোপাগান্ডা যে সব সময় ভালো ফল দেয় তা নয়। তাহলে নিরাপত্তা খাতে পুতিনকে ব্যয় এত বেশি বৃদ্ধি করতে হতো না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা খাতে ২০০০ সালে ব্যয় হয়েছিল দুই দশমিক আট বিলিয়ন ডলার। ২০১০ সালে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারে। নতুন মধ্যবিত্তের ৪০ শতাংশ রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে। কিন্তু তারা স্বাধীন জনগণ নয়। সাংবাদিক জুডাহ লিখেছেন, মস্কো নিজ ভূখণ্ডেই নির্যাতক কলোনিয়াল শাসন চালাচ্ছে।
জুডাহ ঘুরতে ঘুরতে রাশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল যা এক সময় মঙ্গোলিয়ার অর্ন্তগত ছিল সেই টুডায় যান। সেখানে শিকারের আয়োজনে পুতিন সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেখানকার এক গ্রামবাসী বলেন, পুতিন? সে কখনোই দেশের জন্য ভালো কিছু করেনি। সে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে শুধু কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামিয়েছে। তার বন্ধুদের ধনী বানিয়েছে। আমরা কেন পুতিনকে সমর্থন করে যাবো। জুডাহ ইহুদিদের হোমল্যান্ড বলে পরিচিত চীন সন্নিহিত বিরোবিদখান নামের একটি এলাকায় যান। সেখানে তিনি রাশিয়ার গ্রামেই শত শত চীনা নাগরিককে দেখতে পান। সেখানে তিনি এক মাশরুম চাষির কাছে জানতে চান এ ভূমি কি রাশিয়ার দখলে থাকবে না চীনাদের অধীনে চলে যাবে। এ মাশরুম চাষিই আসলে চীনা নাগরিক। চাষিটি জুডাহকে যে উত্তর দেন তাকে গালাগাল বললেও কম বলা হবে এবং তার বলার ভঙ্গিটি ছিল এমন যে, এটি আসলে চীনেরই ভূমি। জুডাহ লিখেছেন, রাশিয়ার বহু স্থানেই পুতিন অপরিচিত এবং বহু এলাকাই ভূস্বামীদের নিয়ন্ত্রণে। আসলে ইতিহাস যে কখনো কখনো নেতা বানিয়ে ফেলে পুতিন তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাকে তুচ্ছ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা না করে দুর্যোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত বলে অনেকের অভিমত।
এক যুগ আগে সুইডেনের উপশালা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশবিষয়ক গবেষক স্টেফান হুডল্যান্ড দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব শ্লাভিক ইতিহাস নিয়ে একটি সমৃদ্ধ প্রবন্ধ লেখেন। পুতিনের প্রায় স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে লিখতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, রাশিয়া ১৬১০-১৩, ১৯১৭-১৮ এবং ১৯৯১ সালে কলাপস করেছিল। হুন্ডল্যান্ড উল্লেখ করেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো সাফল্য নেই। যদিও রাশিয়া সব সময় পরাশক্তি হতে চেয়েছে। ১৯৯৯ সালে পুতিন অনলাইনে তার যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন সেখানে তিনি স্পষ্টতই বলেন যে, গত দুই থেকে তিন শত বছরের মধ্যে রাশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। রাশিয়ার জন্য এটা একটা দুঃসময়। পুতিন রাশিয়াকে বিশ্বের সেরা হিসেবে পরিগণিত করার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। তবে অনেক সাফল্যের মধ্যে একটি হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ের চেয়ে বর্তমান রাশিয়ায় গোত্র ও সম্প্রদায়গত সম্প্রীতি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি জাতীয়তাবাদী চেতনারও উন্মেষ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রেমলিন বিশ্বাস করে আমেরিকা বিশ্বব্যবস্থায় অস্থিরতা আনয়নকারী। পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় রাশিয়া ভারসাম্য যেমন বজায় রাখছে তেমনি পরাশক্তি হিসেবে ভিকটিম দেশকে যথাসম্ভব সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
লিলিয়া সেকটসোভা নামের এক বিশ্লেষকের মতে, রাশিয়া হলো ‘লোনলি পাওয়ার।’ তার মতে পুতিনের রাজনীতি হলো লুণ্ঠনপূর্ণ। দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে দুই স্থানেই তার একই আচরণ। ইউরোপের সন্ত্রাসবাদীদের সাথে তার যেমন অন্তরঙ্গতা বিদ্যমান তেমনি শক্তিশালী চীনের সাথে ভাব বজায় রাখাটাকেও রাশিয়ার বড় ধরনের কৌশল বলে মনে করেন পুতিন। প্রকৃতপক্ষে রাশিয়ার কোনো মিত্র নেই এবং সব গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুতিন নষ্ট করে ফেলেছেন। যেমন পশ্চিম জার্মানির সাথে একসময়কার মধুর সম্পর্ক আজ আর নেই। তার মতে, জাতীয়তাবাদ ও রক্ষণশীল মনোভাব সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরও অক্ষুণœ ছিল। কিন্তু ২০১২ সালের পর রাশিয়ায় এ স্লোগান আরো ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এর কারণ হলো পুতিন পুনর্বার প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে ২০১১-১২ সালে লোকজন প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। এ দিকে ইউক্রেন ও ক্রিমিয়া নিয়ে পুতিন বিশ্ববাসীকে যা দেখাতে চাইলেন তা হলো, রাশিয়াকে গ্রেট পাওয়ার হিসেবেই গণ্য করতে হবে। যদিও জুডাহ লিখেছেন, পুতিনের শাসনামলের যবনিকাপাত ঘটার আর খুব বেশ দেরি নেই। গবেষকদের এ পর্যায়ে উপসংহার হলো, রুশ নেতা নিজেকেই নিজের জালে যেমন আবদ্ধ করে ফেলেছেন তেমনি বরফে ঢাকা সমস্যাগুলোও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে বৈকি! পুতিন কিংবা তার পশ্চিমা প্রতিপক্ষ কোনোক্রমেই ইউক্রেন নিয়ে বিরোধ দীর্ঘকাল জিইয়ে রাখবে না। রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল এবং ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের সমর্থন আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং রুশ সমর্থিতদের দ্বারা একটি বেসামরিক বিমান ধ্বংস পশ্চিমাদের অবরোধ জারিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু সমস্যাটা শুধু রাশিয়ার আগ্রাসন কিংবা রাশিয়াকে ওই অঞ্চল থেকে উৎখাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যদি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রাশিয়াকে ওই এলাকা থেকে উৎখাত করাও হয় তা দীর্ঘ দিন কার্যকরও রাখা যাবে না।
দীর্ঘ সময় ধরে ইউক্রেনকে দুর্বল থেকে দুর্বল করেছে রাশিয়া। দুই দশকের অপশাসন তো ছিলই। কিন্তু এটাও বাস্তবতা যে, এই স্বাধীন দেশটি এতই বিশাল যে, রাশিয়ার পক্ষে তা গ্রাস করা বা গিলে ফেলা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশের সীমানা বিন্যাস ও একীভূতকরণ শুরু হয়। যেমন হংকং এবং মেকাও শান্তিপূর্ণভাবে চীনের সাথে চলে গেছে। যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধ ও সহিংসতা শেষে ভেঙে গেছে। অভ্যুদয় হয়েছে কসোভোর। আজারবাইজানের নগোর্নো-কারাবাস, মনটোভার ট্রান্সনিসাট্রিয়া, জর্জিয়ার আবখাজিয়া এবং দক্ষিণ ওসেটিয়া তাদের অবস্থান বদল করেছে। দোনেস ও লুথান্সকও ইউক্রেনের অংশ। লক্ষ্যযোগ্য দিক হলো স্টালিনের সীমান্ত নির্মাণের সাথে ওই স্থানগুলোর সম্পর্ক বিদ্যমান।
যা হোক, ইউক্রেনের যে সমস্যা তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়। এমনকি জাতিসঙ্ঘও পারবে না। আমেরিকাও ইউক্রেনকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু কিংবা রাশিয়ায় বোমা ফেলতে যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, আমেরিকা ইউক্রেনে নতুন করে সীমান্ত তৈরির সমঝোতার পথে এগোবে। কিন্তু বৃহৎ শক্তির দম্ভের কারণে সমঝোতার পথে রাশিয়াকে কতটা মানানো যাবে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আর পুতিনের জীবদ্দশায় কোন বিরোধের কী ধরনের পরিণতি হবে তা বলাও মুশকিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনকে এভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যেমন থাকতে হবে এবং ইউরোপের অর্থনীতিও তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। সবচে বড় কথা পুতিনের রাশিয়াকে হ্যান্ডেল করা দিনকে দিন কঠিনতর হয়ে উঠবে। তবে রুশ নেতাদের বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে যে পদক্ষেপ নিতে হবে তা বলাই বাহুল্য। পুতিন নিশ্চয়ই সে ব্যাপারটি স্মরণে রাখবেন।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক
Kaikobadmilan1955@gmail.com

পশ্চিমবঙ্গে কুমারী পুঁজায় মুসলিম কন্যা

দুর্গা পুজোর অষ্টমীতে বা নবমীতে কুমারী পুজোর প্রচলন হয়েছিল অনেক দিন আগেই।  এক থেকে ষোলো বছরের অজাতপুষ্পা কন্যাকে কুমারী হিসেবে পুজো করা হয়। সাধারনভাবে ব্রাহ্মন কন্যাকেই কুমারী পুজোর জন্য নির্বাচন করা হয়। তবে এ বছর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কালনায় কুমারী পুজো নেবেন এক মুসলিম কন্যা। অবশ্য এটা সাধারনত না ঘটলেও একেবারে নতুন নয়। ১৮৯৮ সালে স্বামী বিবেকানন্দ অমরনাথ দর্শনের পর নৌকার মুসলমান মাঝির শিশু কন্যাকে কুমারী হিসেবে পুজো করেছিলেন।  আর এবার কালনার কাঁশারিপাড়ার একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের বারোয়ারি পুজোয় কুমারী হিসেবে বন্দিত হবে গ্রামেরই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী বর্ষা খাতুন। বর্ষার পরিবার যেমন বিভোর মেয়ের দেবী রুপের কল্পনায়। আর বর্ষাও বইয়ের পাতা ওল্টানো বন্ধ রেখে এখন পুজোর সময় তাকে কি করতে হবে সবই জেনে নিতে চায় মায়ের কাছ থেকে। মা ফিরোজা বিবি পড়েছেন বিড়ম্বনায়। তিনি  কিইবা জানেন এসবের। তবু আশে পাশের লোকজনের কাছ থেকে জেনে মেয়েকে বোঝাচ্ছেন পুজোর দিন তাকে কি করতে হবে। মেয়েও খুশিতে একেবাওে ডগমগ।  বর্ষার পরিবার অবশ্য মেয়ের এই মর্যাদাকে উপরওয়ালার আশীর্বাদ হিসেবেই দেখছেন।  বর্ষাকে কুমারী হবার প্রস্তাব নিয়ে তার পরিবারের কাছে হাজির হয়েছিলেন খাঁশারিপাড়ার এক সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্ণদার ষষ্ঠী মল্লিক। পেশায় চিকিৎসক ষষ্ঠীবাবু তার প্রতিষ্ঠানের বারোয়ারি পুজোর জন্য বর্ষাকে বাছাই করেন। ধর্মেও ভ্রুকুটিকে তিনি ভয় করেন নি। বরং জানিয়েছেন, ধর্ম আলাদা হোক, ভগবান তো এক। সমাজ যেভাবে ভেঙ্গেচুওে যাচ্ছে তাতে মানুষের মঙ্গল হবে না। তাই সোজা পথের দিশা দেখাতে এটা একটা পথ মাত্র। তিনি জানান, পরষ্পরের ধর্মেও প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতেই বর্ষাকে মাতৃরুপে পুজো করব বলে ঠিক করি। বর্ষার মা ফিরোজা বিবি জানিয়েছেন, ডাক্তারবাবুর কাছে মেয়েকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাবার পর তিনিই মেয়েকে কুমারী হওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে প্রস্তাব পেয়ে আমরা তো ভেবেই পাই নি কী করা উচিত্। প্রথমে স্বামীকে বলি। তিনি বলে তার দাদাকে জিঞ্জস করতে। সেই মত ভাসুরকে গিয়ে কথাটা বলি। তিনি এককথায় রাজি হয়ে যান। ধর্মের গোঁড়ামি বর্ষার জেঠু তাহের হোসেন বলেছেন, ধর্মে ধর্মে তো কোনও বিভেদ নেই। তাই প্রস্তাবটা শুনে সম্মতি দিয়েছি। আর এই সিদ্ধাÍই প্রাচীন জনপদ হিসেবে পরিচিত কালনার এবারের উৎসবের পরিবেশটাই স্বতন্ত্র মর্যাদা এন দিয়েছে। কালনার মানুষ ধন্য ধন্য করছেন।

বৃষ্টিতে কাহিল ১০ হাজার শরণার্থী

ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী সার্বিয়ার গ্রাম বেরকাসোভোতে আটকে
পড়া শরণার্থী এক শিশুকে খাওয়াচ্ছেন তাঁর স্বজন। বৃষ্টি আর
ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে কাপড়ে ঢেকে নেওয়ার পর পলিথিন
দিয়েও মুড়িয়ে নেওয়া হয়েছে শিশুটিকে। ছবি: রয়টার্স
ইউরোপে শরণার্থী সংকট সমাধানের আশু কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে গতকাল সোমবার জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে আটকা পড়েছেন ১০ হাজারের বেশি শরণার্থী। তাঁরা ভুগছেন ত্রাণসংকটে। খবর এএফপি, বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের। সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের সার্বিয়া অংশে গত রোববার প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টি-কাদার মধ্যে দুঃসহ রাত কাটান হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশু শরণার্থী। তাঁদের গন্তব্য ক্রোয়েশিয়ায় গিয়ে স্লোভেনিয়া হয়ে অস্ট্রিয়া ও জার্মানি যাওয়া। এ লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরেই সার বেঁধে শরণার্থীবাহী বাস সার্বিয়া থেকে ক্রোয়েশিয়া হয়ে স্লোভেনিয়া অভিমুখে চলছিল। কিন্তু বাগড়া দেয় প্রতিকূল আবহাওয়া। এতে বাসগুলোর গতি ধীর হয়ে যায়। আবার স্লোভেনিয়া শরণার্থীদের প্রবেশ প্রতিদিন আড়াই হাজারের মধ্যে সীমিত রাখবে বলে আগে জানালেও এখন আর শরণার্থীদের ঢুকতেই দিচ্ছে না। এ অবস্থায় সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে আটকা পড়েছেন বিপুলসংখ্যক শরণার্থী। গতকাল তাঁরা ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের প্রাণপণ চেষ্টা চালান। এতে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। এত মানুষের আটকে পড়ার ঘটনায় আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইউরোপের শরণার্থী সংকট। হাঙ্গেরি দেশটির দক্ষিণে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে গত শুক্রবার রাত থেকে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে সমবেত হাজারো শরণার্থী পশ্চিমে স্লোভেনিয়ার দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নিরাপত্তার কথা বলে হাঙ্গেরি সার্বিয়ার সঙ্গেও সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র মেলিতা সানজিক গতকাল বলেন, এতটুকুই বলতে পারি, সার্বিয়ায় ১০ হাজারের বেশি শরণার্থী আটকা পড়েছেন। এ যেন মানুষের দীর্ঘ স্রোত। এ স্রোত যদি আটকে দেওয়া হয়, তবে কোথাও না কোথাও তা বন্যা হয়ে দেখা দেবে। এখন এটাই ঘটছে। তিনি বলেন, এই শরণার্থীদের মধ্যে খাবার, কম্বলসহ সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নিদারুণ দুর্ভোগের মধ্যে থাকা এসব শরণার্থীকে গতকাল থেকে আর নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ক্রোয়েশিয়াও। দেশটি বলছে, সেখানকার শরণার্থীশিবিরগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। স্লোভেনিয়া সীমান্তের কাছে পশ্চিম ক্রোয়েশিয়ায় আটকে পড়া একটি ট্রেনে রোববার রাত কাটান দুই হাজারের বেশি শরণার্থী। স্লোভেনিয়া অভিযোগ করেছে, অস্ট্রিয়া প্রতিদিন সর্বোচ্চ দেড় হাজার শরণার্থীকে গ্রহণ করছে। আগে হাঙ্গেরি থেকে যে সংখ্যায় শরণার্থী দেশটিতে ঢুকছিলেন, বর্তমান সংখ্যা তা থেকে অনেক কম। তবে অস্ট্রিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ক্রোয়েশিয়া তার উত্তরের প্রতিবেশী দেশটিকে (স্লোভেনিয়া) প্রতিদিন পাঁচ হাজার শরণার্থী গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে স্লোভেনিয়া গতকাল বলেছে, নিয়মিত কোটা পূরণ হওয়ায় তারা এখন ক্রোয়েশিয়া থেকে এক হাজারের বেশি শরণার্থী নেবে না। সার্বিয়া সীমান্ত থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন সংবাদদাতা জানান, এখানে সমবেত শরণার্থীদের সহায়তায় কার্যত কোনো পুলিশের উপস্থিতি নেই। শরণার্থীরা শীতার্ত ও পরিশ্রান্ত। তাঁরা সীমান্তপথ খুলে দিতে চিৎকার করছেন। তুরস্ক থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার শরণার্থী সমুদ্রপথে নৌকায় গ্রিসে আসছেন। সেখান থেকে তাঁরা পাড়ি জমাচ্ছেন এই সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে। এদিকে মেসিডোনিয়া গতকাল বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার শরণার্থী দেশটিতে প্রবেশ করেছে।

বিবিসির সাবেক সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

জ্যাকুলিন সাটন
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আতাতুর্ক বিমানবন্দরের শৌচাগার থেকে গত শনিবার বিবিসির সাবেক সাংবাদিক জ্যাকুলিন সাটনের (৫০) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপির। "যুক্তরাজ্যের নাগরিক সাটন সর্বশেষ বেসরকারি সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ওয়্যার অ্যান্ড পিস রিপোর্টিংয়ের (আইডব্লিউপিআর) ইরাক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিবিসির প্রতিনিধি বেন আনদো বলেন, সাটন শনিবার লন্ডন থেকে একটি ফ্লাইটে আতাতুর্ক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি তাঁর গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সংযোগ ফ্লাইটটি ধরতে পারেননি।  যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অর্থ না থাকায় পরে নতুন টিকিটও কিনতে পারেননি সাটন। এ কারণে তিনি হতাশ ছিলেন। গত শনিবার বিমানবন্দরের শৌচাগারে তাঁর ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। সাটনের মৃত্যুর ব্যাপারে আইডব্লিউপিআর কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাটন জাতিসংঘ ছাড়াও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে কাজ করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে সাংবাদিকতা করেন তিনি।

নগরবাসীকে জাগিয়ে ঘুমাচ্ছে সিটি করপোরেশন- জরাজীর্ণ দশা রাস্তাঘাটের by খালিদ সাইফুল্লাহ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় রাস্তার বেহাল দশা। গত রোববার
রাস্তার ওপর এভাবেই উল্টে পড়ে একটি ট্রাক : নয়া দিগন্ত
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আলস্য যেন কাটছেই না। রাজধানীর সড়কগুলোর ভগ্নদশা দিন দিন বেড়ে চললেও এগুলোর উন্নয়নে তাদের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। নামকাওয়াস্তে পুটিং করেই দায়িত্ব শেষ তাদের। আর ভোগান্তি প্রতিনিয়ত পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এ নিয়ে বাসিন্দাদের ঘুম হারাম। তাদের মতে, মানুষকে জাগিয়ে ঘুমাচ্ছে সিটি করপোরেশন। এ বছর রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। বর্ষা মওসুম শেষ করে ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও অঝোরধারার বৃষ্টিপাত নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিটি সড়কে হাঁটুপানি জমে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এখনো অনেক এলাকায় তা বিদ্যমান। এ কারণে এখন রাজধানীর বেশির ভাগ রাস্তারই পিচ উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত হয়ে গেছে। অনেক স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে বড় গর্ত হয়েছে। মূল সড়ক থেকে অলি-গলি সর্বত্রই একই অবস্থা। দুই সিটি করপোরেশন মাস দেড়েক আগে এক দফা ইট-বালু দিয়ে গর্ত সমান করার চেষ্টা করলেও আবার ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় সড়কগুলো আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। সম্প্রতি আরো এক দফা দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে রাস্তাগুলোর করুণ দশা হয়েছে। মেয়ররা সড়ক উন্নয়নে সরকারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পেলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কাজই শুরু করতে পারেনি।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাস নাগাদ টেন্ডারপ্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরপর প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু হতে আগামী বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। শেষ করতে আরো আরো ছয় মাস। সে পর্যন্ত নগরবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতেই হবে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে রাস্তা রয়েছে প্রায় দুই হাজার ১১৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে আছে এক হাজার ৩৩৮ কিলোমিটার এবং দেিণ ৭৮১ কিলোমিটার। ঢাকায় বড় বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে এমন প্রধান সড়ক (প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও সংযোগ) রয়েছে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা দেিণর বড় সড়ক ১৫৮ কিলোমিটার। বাকি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার রাস্তা সঙ্কীর্ণ ও গলি। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার দুই হাজার ১১৯ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে বর্তমানে হাজার কিলোমিটারের ওপর রাস্তা কম-বেশি খারাপ রয়েছে। তবে গত দেড় মাস আগে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এক জরিপের মাধ্যমে ১৬৫ কিলোমিটার ভাঙাচোরা সড়কের তালিকা তৈরি করেছে। একইভাবে উত্তর সিটি করপোরেশনও তাদের খারাপ সড়কের তালিকা প্রস্তুত করেছে। তাদের মোট সড়কের প্রায় অর্ধেকই ভাঙা বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড় দীর্ঘ দিন থেকেই যানজটের জন্য খ্যাত ছিল। এটি থেকে মুক্তি দিতে তৈরি করা হয় মেয়র হানিফ ফাইওভার। এতে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে। অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ফাইওভারের ওপর দিয়ে যারা চলাচল করছেন তারা কিছুটা মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু ফাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচল করা যানবাহন ও পথচারীদের চরম বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। নিচে গাড়ি চলাচলের জন্য কয়েকটি সরু লেন তৈরি করা হয়েছে। এগুলোই এখন মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে প্রতিটি লেন। বড় বড় গর্তের কারণে এখানে প্রায়ই গণপরিবহন দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। এ ছাড়া কাদাপানির কারণে পথচারীরাও চলাচল করতে পারছেন না।
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান পল্টন মোড় ঘেঁষে সরকারের মূল কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় অবস্থিত। এ সচিবালয়ে বসেই মন্ত্রীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। কিন্তু এ সচিবালয়ের পাশ ঘিরে পল্টন মোড় থেকে প্রেস কাব, জিরো পয়েন্ট রোড, দৈনিক বাংলা সড়ক ও বিজয়নগর সড়কের প্রতিটির অবস্থায়ই এখন শোচনীয়। পল্টন মোড়ের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাসখানেক আগে এসব গর্ত ইট-বালু দিয়ে ভরাট করা হলেও ক’দিন না যেতেই আবার একই রূপ ধারণ করেছে। এখান দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গণপরিবহন ও পথচারীরা সমস্যায় পড়ছেন।
মেরুল বাড্ডা কাঁচাবাজারের সামনে সড়কটিতে বেশ কিছু দিন ধরে পানি জমে রয়েছে। এ কারণে সড়কও ভেঙেচুরে গেছে। মধ্য বাড্ডায় ফুটওভার ব্রিজের নিচে পানি জমে আছে। ড্রেন বন্ধ থাকায় কিছুতেই তা সরছে না। বাড্ডা লিংক রোডের গুদারাঘাট এলাকায় মূল সড়ক ও আশপাশের বৈশাখী সরণি, গোল্ডেন প্লাজার সামনে এক সপ্তাহ ধরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বৃষ্টির পানির সাথে স্যুয়ারেজের পানি মিশে এলাকার পরিবেশ দুর্গন্ধময় হয়ে পড়ে। গতকাল পানি অপসারণ করা হয়েছে। তবে এখনো কাদাপানি রয়েছেই। এ কারণে রাস্তাটির অবস্থাও করুণ। বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় কাঠের একটি ভাঙা টুল দিয়ে পরিবহনগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে। গুলশান-২ মোড়সহ আশপাশের অনেক সড়ক ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গেছে।
মূল সড়কের চেয়ে অলিগলির অবস্থা আরো খারাপ। মতিঝিল মোড়ের অদূরে কবি জসীমউদ্দীন সড়ক। এখানকার প্রতিটি অলিগলিতে অসংখ্য গর্ত। অনেক স্থানে রাস্তা দেবে গিয়ে বড় গর্ত হয়ে গেছে। ফলে প্রাইভেট কার ও রিকশাকে অত্যন্ত সতর্কভাবে চলাচল করতে হচ্ছে। খিলগাঁও, বাসাবো, সবুজবাগ, মানিকতলা, মুগদাসহ ওই এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
ফাইওভার নির্মাণের কারণে রাজারবাগ, মালিবাগ, মৌচাক থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এক দিকে ফাইওভার নির্মাণজনিত সমস্যা, তার ওপর ভাঙাচোরা সড়কে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। মৌচাক থেকে মগবাজার ওয়্যারলেস রেলগেট সড়কেরও বেহাল দশা। মালিবাগ মোড় থেকে রাজারবাগ মোড় পর্যন্তও একই অবস্থা। পুরো সড়কটিই চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপোযোগী।
মগবাজার ওয়্যারলেস মোড় থেকে মধুবাগ সড়কটির অবস্থা খুবই করুণ। ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হওয়ায় সড়কটি দিয়ে যান ও জন চলাচলে মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন যাত্রীরা।
রাজধানীর বেশির ভাগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রিকশা থেকে বাস সব ধরনের গাড়িই এর শিকার। গুলশান থেকে মতিঝিল চলাচলকারী ৬ নম্বর বাসের চালক অহিদুল জানান, ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে গাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। টায়ার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দ্রত। পাতি ভেঙে যাচ্ছে। এতে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। গাজীপুর-মতিঝিল-সায়েদাবাদ রুটে চলাচলকারী ছালছাবিল পরিবহনের চালক মো: সাগর তীব্র ক্ষােভ প্রকাশ করে বলেন, হয় যানজট না হলে রাস্তা খারাপ। একটা না একটা সমস্যা লেগেই থাকে। গাড়ি চালাতে গিয়ে মনমেজাজ ভালো থাকে না। যাত্রাবাড়ী-গাবতলী রুটে চলাচলকারী ৮ নম্বর গাড়ির চালক আনিছুর রহমান বলেন, খানাখন্দ ছাড়াও রাস্তার ওপর পড়ে থাকা ইট-পাথরের সুরকির ওপর দিয়ে গাড়ি চালালে টায়ারের বারোটা বেজে যায়। নতুন টায়ারগুলো পাথরের খোয়ায় লেগে কেটে যায়। আর একটা টায়ার নষ্ট হলেই ২০-৩০ হাজার টাকা গচ্চা।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সম্প্রতি তাদের ১৬৫ কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তার তালিকা তৈরি করেছে। এর পাশাপাশি ড্রেন নির্মাণ, নর্দমার উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট খাতে ‘কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইমপ্রুভমেন্ট অব রোড অ্যান্ড আদার ইনফ্রাস্টাকচার অব ফাইভ জোন আন্ডার ঢাকা সিটি করপোরেশন’ প্রকল্পের আওতায় সরকারের কাছ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে তাদের কোনো তৎপরতাই এখনো চোখে পড়েনি। ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকে টেন্ডারপ্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরপর চূড়ান্তভাবে কাজ শেষ করতে আরো এক-দেড় মাস লেগে যাবে। জানুয়ারি মাসের শুরুতে কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন এ ব্যাপারে গঠিত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান।
উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরই আনিসুল হককে একনেক থেকে ২০০ কোটি টাকা দেয়া হয়। সড়ক, ড্রেন ও নর্দমা উন্নয়নে এ টাকা ব্যয় করার কথা রয়েছে। তবে টাকা বরাদ্দ করা হলেও এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি ডিএনসিসি। মাস দেড়েক আগে ইট-বালু দিয়ে কোনো রকম ঠেকার কাজ চালিয়েছিল তারা। কিন্তু বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় রাস্তার সেসব ইট-বালু ধুয়ে এখন আগের থেকেও খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ জানিয়েছেন, এ বছর বেশি সময় ধরে বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাস্তা বেশি তিগ্রস্ত হয়েছে। এসব রাস্তার তালিকা আমাদের কাছে আছে। ছোটখাটো গর্তগুলো ইটের খোয়া দিয়ে আগে একবার ম্যাকাডাম করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন শুষ্ক মওসুম শুরু হওয়ায় আবার কাজ চলছে। এ জন্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে রাস্তার ছোটখাটো গর্ত সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে পুরোদমে সব সড়কের কাজ শুরু করতে আরো সময় লাগবে। বর্তমানে কয়েকটি কাজের টেন্ডারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী মাসে টেন্ডারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ রাস্তা মেরামত শুরু হবে। জুন মাস নাগাদ সব রাস্তা মেরামত সম্পন্ন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মিসরে পার্লামেন্ট নির্বাচন শুরু

গিজার আল-আয়াত এলাকার একটি কেন্দ্রে গতকাল
লাইনে দাঁড়ানো কয়েকজন প্রবীণ ভোটার। এএফপি
মিসরে বহুল প্রতীক্ষিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ গতকাল রোববার থেকে শুরু হয়েছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৫৯৬টি আসনের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে এ নির্বাচনে। খবর বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের। মিসরে প্রথমবারের মতো অবাধ নির্বাচনে বিজয়ী ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ২০১৩ সালে সামরিক বাহিনী উৎখাত করার পর এই প্রথম দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মিসর সরকার বলছে, গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনে এই নির্বাচনই শেষ ধাপ। তবে অনেকেরই অভিমত, এবারের নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের সবাই সাবেক সেনাপ্রধান ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসির সমর্থক। নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন তাই সিসির ক্ষমতার বলয় বাড়াতে সহায়তা করবে। সিসি সেনাপ্রধান থাকার সময়ই তাঁর নেতৃত্বেই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড গত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রায় অর্ধেক আসন পায়। তবে দলটি এখন নিষিদ্ধ এবং এর অধিকাংশ নেতা এখন কারাগারে। তাঁদের অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রথম দফায় মিসরের ১৫টি প্রদেশে ভোট গ্রহণ করা হয়। আগামী ২২ ও ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে ১৩টি প্রদেশে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে। নির্বাচনের আগে গত শনিবার টেলিভিশনে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট সিসি কেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সারি ধরে ভোটকেন্দ্রে দাঁড়ান। নতুন মিসরের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’ বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রেসিডেন্টের আহ্বান সত্ত্বেও নির্বাচনে ভোট পড়বে কম। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে হতাশাই এর কারণ বলে মনে করছেন তাঁরা।

ইলিশের বিশ্বে উদাহরণ বাংলাদেশ by ইফতেখার মাহমুদ

ঝকঝকে রুপালি রং, স্বাদ তো লা জবাব। আর প্রতিবছরই তার নিত্যনতুন গুণাগুণ জানছে বিশ্ব। কিন্তু বিশ্বের ইলিশপিয়াসীদের মন খারাপ করার মতো সংবাদও আছে। ইলিশ আছে—বিশ্বের এমন ১১টি দেশের মধ্যে ১০টিতেই ইলিশের উৎপাদন কমছে। একমাত্র বাংলাদেশেই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।
মাছবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরতীরের ভারত-মিয়ানমার, আরব সাগরতীরের বাহরাইন-কুয়েত, পশ্চিম মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের পাশে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়, মেকং অববাহিকার ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়া, চীন সাগরের পাশে চীন ও থাইল্যান্ডে ইলিশের বিচরণ কমছে। আর বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ইলিশ ধরা পড়ে।
বাংলাদেশে নদী ও সাগরে কেন ইলিশ বাড়ছে, তা জানতে ইলিশ আছে—এমন দেশগুলোর আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশ ২০০২ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ইলিশের ডিম পাড়া ও বিচরণের স্থানগুলো চিহ্নিত করেছে। সেখানে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, বছরের আট মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ করেছে। ডিম পাড়ার ১৫ দিন সব ধরনের ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। ইলিশ ধরেন—এমন ২ লাখ ২৪ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র দিয়ে তাঁদের বছরে তিন মাস সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসেছে।
বাংলাদেশে ইলিশের আহরণ প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তো বটেই, বিশ্বের প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থাগুলো বাংলাদেশের ইলিশ রক্ষার এই কৌশল খুবই কার্যকর হয়েছে চিহ্নিত করেছে। এসব উদ্যোগের ফল হিসেবে গত এক যুগে বাংলাদেশে ইলিশ ধরার পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে বলে মনে করছে তারা। মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, এসব উদ্যোগের ফল হিসেবে এ বছর চার লাখ টন হবে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার এই কৌশল অনুসরণ করছে ভারত ও মিয়ানমার। ইলিশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ আছে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে। এ জন্য বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারকে একই সময়ে মা ইলিশ ও জাটকা ইলিশ ধরা বন্ধ রাখতে হবে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের সব দেশে ইলিশের সংখ্যা বাড়বে।
বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল বুঝতে সুদূর কুয়েত ও বাহরাইনের মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বাংলাদেশের মতোই ওই দেশগুলো ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র চিহ্নিত করে ডিম পাড়া ও বাচ্চা বড় হওয়ার সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ইলিশ গবেষক সুগত হাজরা এ ব্যাপারে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা ও মেঘনার মিষ্টি পানির প্রবাহ এখনো ভালো থাকায় এবং প্রয়োজনীয় খাবার থাকায় ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ২০০৫ সাল থেকে অভয়ারণ্য করে ইলিশের ডিম পাড়ার স্থান করে দিয়েছে এবং জাটকা বড় হতে দিচ্ছে।
ভারতের মৎস্য বিভাগের হিসাবে, ২০১১ সালে সে দেশে ইলিশ ধরা পড়েছিল ৮০ হাজার টন। ২০১৪ সালে তা নেমে এসেছে ১৪ হাজার টনে। আর বাংলাদেশে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ও বঙ্গোপসাগরে ২০০৯-১০-এ ইলিশ ধরা পড়েছিল দুই লাখ টন। ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয় ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। এ বছর জেলেদের জালে চার লাখ টন ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছে মৎস্য অধিদপ্তর।
২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করে ভাগীরথী (গঙ্গা) নদীর ফারাক্কা থেকে মোহনা পর্যন্ত অংশের তিনটি এলাকাকে ইলিশের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। এগুলো হলো সুন্দরবনের পাশে গদখালী, এর কিছু দূরে কাটোয়া থেকে হুগলি ঘাট এবং ফারাক্কার পাশে লালবাগ। এসব এলাকায় ১৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে পশ্চিমবঙ্গ।
সুগত হাজরা বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের দেখাদেখি তিনটি এলাকাকে নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করলেও সেখানে মা ইলিশ ও ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করতে পারেনি। জেলেদের বেশির ভাগই দরিদ্র হওয়ায় বাংলাদেশ তাঁদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গ এখনো পারেনি, ফলে এখানে ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে না।
চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইলিশ কোনো রাষ্ট্রের সীমানা মানে না। প্রতিদিন এরা ৭০-৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। ফলে বাংলাদেশ এককভাবে ডিম পাড়ার মৌসুমে ইলিশ না ধরলেও অন্য দেশগুলো যদি একই উদ্যোগ না নেয়, তাহলে ইলিশের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়বে না। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার যৌথভাবে যদি একই সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখে, তাহলে এই তিনটি দেশেই ইলিশের সংখ্যা বাড়বে। যার সুবিধা এই তিন দেশের মানুষই পাবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ইলিশের অবদান ১ শতাংশ। দেশের মোট মাছের ১১ শতাংশ উৎপাদন আসে ইলিশ থেকে। পাঁচ লাখ জেলে সরাসরি ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত। আরও ২০ লাখ লোকের জীবিকার প্রধান উৎস ইলিশ।
মাছ গবেষণাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের মতে, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, ইরানসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের উপকূলে ইলিশ ধরা পড়ে। তবে ডিম ছাড়ার জন্য তারা বেছে নিয়েছে গঙ্গা অববাহিকা বাংলাদেশকে। বর্ষায় এ দেশের নদীগুলো মা ইলিশে ভরে ওঠে ডিম ছাড়ার জন্য। মোহনা থেকে নদীর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার উজানে ও উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত সমুদ্রে ইলিশ পাওয়া যায়। দিনে ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ায় ইলিশ সাগর থেকে যতই নদীর মিষ্টি পানির দিকে আসে, ততই এর শরীর থেকে লবণ কমে যায়, স্বাদ বাড়ে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব ইলিশের নতুন গুণ আবিষ্কৃত হওয়ার দিকে আলোকপাত করে বলেন, ইলিশ মাছের মধ্যে ওমেগা-৩ নামে একধরনের তেল আছে, তা হৃদ্রোগসহ বেশ কিছু রোগের ওষুধ হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি মাছে এই তেল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইলিশ মাছের স্যুপ অনেক দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিশ্বের সব দেশই ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
প্রতি বছর উৎপাদন বাড়া সত্ত্বেও দেশের বাজারে ইলিশের দাম বেশি, এ অভিযোগ আছে। তবে ইলিশ মাছের জাতীয় সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক জাহিদ হাবিব এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, পৃথিবীর যেকোনো দেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু খাবারের দাম একটু বেশিই থাকে। ইলিশ আমাদের জন্য সেরকম সুস্বাদু খাবার, তবে সেই তুলনায় এর দাম বেশি বলা যাবে না। অন্যান্য আকর্ষণীয় খাবারের সঙ্গে তুলনা করলে ইলিশের দাম গত চার-পাঁচ ধরে স্থিতিশীল আছে। উৎপাদন যদি না বাড়ত তাহলে ইলিশ শুধুমাত্র ধনীদের শখের খাবার হিসেবে থাকত। আজকে মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা ইলিশের স্বাদ পাচ্ছেন উৎপাদন বাড়ার কারণেই।

ইরাকে হামলার এক বছর আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ব্লেয়ার?

টনি ব্লেয়ার
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাকে ২০০৩ সালে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার এক বছর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সংগৃহীত দলিলপত্রের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইল পত্রিকা গতকাল রোববার এ ইঙ্গিত দিয়েছে। খবর এএফপির। ডেইলি মেইল-এর খবরে বলা হয়, তখনকার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল ২০০২ সালের ২৮ মার্চ প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে একটি লিখিত বার্তা দিয়েছিলেন। এর এক সপ্তাহ পরেই টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি খামারবাড়িতে বৈঠক করেন ব্লেয়ার ও বুশ। মেইল পত্রিকায় গতকাল প্রকাশিত স্মারকটি সেই বার্তার অনুলিপি বলে দাবি করা হচ্ছে।
এতে পাওয়েল লিখেছেন, ‘ইরাকে সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন হলে ব্লেয়ার আমাদের সঙ্গে থাকবেন। দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে রাজি করানো হয়েছে: হুমকিটা সত্যিকারের; এবং সাদ্দামের বিরুদ্ধে সফল হলে ওই অঞ্চলে আরও সাফল্য পাওয়া যাবে।’ পরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ওই হামলায় ইরাকি নেতা সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। খবরে বলা হয়, কলিন পাওয়েল জর্জ বুশকে এ মর্মে আশ্বাস দেন যে ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের নেতৃত্ব মেনে চলবে যুক্তরাজ্য’।

বৃষ্টিতে কাহিল ১০ হাজার শরণার্থী

ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী সার্বিয়ার গ্রাম বেরকাসোভোতে
আটকে পড়া শরণার্থী এক শিশুকে খাওয়াচ্ছেন তাঁর স্বজন।
বৃষ্টি আর ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে কাপড়ে ঢেকে নেওয়ার পর
পলিথিন দিয়েও মুড়িয়ে নেওয়া হয়েছে শিশুটিকে -রয়টার্স
ইউরোপে শরণার্থী সংকট সমাধানের আশু কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে গতকাল সোমবার জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে আটকা পড়েছেন ১০ হাজারের বেশি শরণার্থী। তাঁরা ভুগছেন ত্রাণসংকটে। খবর এএফপি, বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের।
সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের সার্বিয়া অংশে গত রোববার প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টি-কাদার মধ্যে দুঃসহ রাত কাটান হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশু শরণার্থী। তাঁদের গন্তব্য ক্রোয়েশিয়ায় গিয়ে স্লোভেনিয়া হয়ে অস্ট্রিয়া ও জার্মানি যাওয়া। এ লক্ষ্যে কয়েক দিন ধরেই সার বেঁধে শরণার্থীবাহী বাস সার্বিয়া থেকে ক্রোয়েশিয়া হয়ে স্লোভেনিয়া অভিমুখে চলছিল। কিন্তু বাগড়া দেয় প্রতিকূল আবহাওয়া। এতে বাসগুলোর গতি ধীর হয়ে যায়।
আবার স্লোভেনিয়া শরণার্থীদের প্রবেশ প্রতিদিন আড়াই হাজারের মধ্যে সীমিত রাখবে বলে আগে জানালেও এখন আর শরণার্থীদের ঢুকতেই দিচ্ছে না। এ অবস্থায় সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে আটকা পড়েছেন বিপুলসংখ্যক শরণার্থী। গতকাল তাঁরা ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের প্রাণপণ চেষ্টা চালান। এতে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা।
এত মানুষের আটকে পড়ার ঘটনায় আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইউরোপের শরণার্থী সংকট। হাঙ্গেরি দেশটির দক্ষিণে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে গত শুক্রবার রাত থেকে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে সমবেত হাজারো শরণার্থী পশ্চিমে স্লোভেনিয়ার দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নিরাপত্তার কথা বলে হাঙ্গেরি সার্বিয়ার সঙ্গেও সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র মেলিতা সানজিক গতকাল বলেন, এতটুকুই বলতে পারি, সার্বিয়ায় ১০ হাজারের বেশি শরণার্থী আটকা পড়েছেন। এ যেন মানুষের দীর্ঘ স্রোত। এ স্রোত যদি আটকে দেওয়া হয়, তবে কোথাও না কোথাও তা বন্যা হয়ে দেখা দেবে। এখন এটাই ঘটছে। তিনি বলেন, এই শরণার্থীদের মধ্যে খাবার, কম্বলসহ সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
নিদারুণ দুর্ভোগের মধ্যে থাকা এসব শরণার্থীকে গতকাল থেকে আর নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ক্রোয়েশিয়াও। দেশটি বলছে, সেখানকার শরণার্থীশিবিরগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। স্লোভেনিয়া সীমান্তের কাছে পশ্চিম ক্রোয়েশিয়ায় আটকে পড়া একটি ট্রেনে রোববার রাত কাটান দুই হাজারের বেশি শরণার্থী।
স্লোভেনিয়া অভিযোগ করেছে, অস্ট্রিয়া প্রতিদিন সর্বোচ্চ দেড় হাজার শরণার্থীকে গ্রহণ করছে। আগে হাঙ্গেরি থেকে যে সংখ্যায় শরণার্থী দেশটিতে ঢুকছিলেন, বর্তমান সংখ্যা তা থেকে অনেক কম। তবে অস্ট্রিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
ক্রোয়েশিয়া তার উত্তরের প্রতিবেশী দেশটিকে (স্লোভেনিয়া) প্রতিদিন পাঁচ হাজার শরণার্থী গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে স্লোভেনিয়া গতকাল বলেছে, নিয়মিত কোটা পূরণ হওয়ায় তারা এখন ক্রোয়েশিয়া থেকে এক হাজারের বেশি শরণার্থী নেবে না।
সার্বিয়া সীমান্ত থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন সংবাদদাতা জানান, এখানে সমবেত শরণার্থীদের সহায়তায় কার্যত কোনো পুলিশের উপস্থিতি নেই। শরণার্থীরা শীতার্ত ও পরিশ্রান্ত। তাঁরা সীমান্তপথ খুলে দিতে চিৎকার করছেন।
তুরস্ক থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার শরণার্থী সমুদ্রপথে নৌকায় গ্রিসে আসছেন। সেখান থেকে তাঁরা পাড়ি জমাচ্ছেন এই সার্বিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে। এদিকে মেসিডোনিয়া গতকাল বলেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার শরণার্থী দেশটিতে প্রবেশ করেছে।

কারও এবারই শেষ, কারও শুরু... by সফি খান

দাসিয়ারছড়ায় চলছে দুর্গাপূজা। -প্রথম আলো
উত্তরের জেলাগুলোতে এরই মধ্যে পড়ে গেছে শীতের আমেজ। গতকাল সোমবার সকালে কুড়িগ্রাম শহর থেকে দাসিয়ারছড়ার দিকে যেতে চোখে পড়ে কুয়াশাভেজা সড়ক। ঠান্ডা বাতাস গায়ে মেখে দাসিয়ারছড়ায় ঢুকেই কানে আসে ঢাকের বাজনা। ওই ঢাকের শব্দ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে দেখা যায় নানা বয়সী ছেলেমেয়েদের ভিড়।
৬৮ বছর পর সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার মানুষ এরই মধ্যে দুর্গাপূজা উৎসবে মেতে উঠেছে। ঢাকের শব্দ, উলুধ্বনির মধ্যে দিয়ে গতকাল সকালে এখানকার দুটি মন্দিরে দুর্গাপূজা শুরু হয়। এখানকার যেসব পরিবার ভারতে চলে যাবে, এবার এ দেশে তাদের শেষ পূজা। যারা থাকবে তাদের প্রথম।
কামালপুর দেবীরপাটে ঢুকেই চোখে পড়ে টিনের চালা দিয়ে তৈরি মন্দির। সামনে কারুকাজ করা বাঁশের বেড়া। ভেতরে দুর্গাপ্রতিমা। মন্দিরের সামনে নারী-পুরুষের ভিড়। ঢাকঢোলের শব্দ, উলুধ্বনি, ধূপের গন্ধ ও মানুষের চিৎকারে চারদিক মুখরিত।
মন্দিরে ঢোকার পথে খুঁটি গাড়ার কাজ করছিলেন আফছার উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কম। তাই হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশেই কাজ করি। কাজের শেষে সবাই মিলেই পূজার আনন্দ করি।’
মন্দিরের সামনে পূজা দেখছেন কৃষ্ণ কান্ত বর্মণ। ভারতে যাওয়ার জন্য তিনি নাম নিবন্ধন করেছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তিনি বলেন, ‘হামরা আগত ছিটের মানুষ আছিনু। অ্যালা বাংলার মানুষ। প্রথম পূজা। খুব আনন্দ করমো।’
গৃহবধূ পারুল রানী, সবিতা রানী ও সুন্দরী বালা বলেন, বিয়ে হয়ে এখানে আসার পর কখনো পূজা দেখেননি তাঁরা। এবারই প্রথম।
দেবীরপাট থেকে ছোট কামাত পূজামন্দিরে যাওয়ার পথটি আঁকাবাঁকা। পথে কথা হয় হরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘হামরা ভারতে চলি যাম। বাংলা দ্যাশোত শ্যাষ পূজা। আনন্দের সাতে করমো।’
ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের নেতা ও দাসিয়ারছড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, দাসিয়ারছড়ায় দুটি পূজা হচ্ছে। একটি ছোট কামাত হরেকৃষ্ণ বিএসসির বাড়িতে। অপরটি কামারপুর দেবীরপাট বিপুল চন্দ্রের জমিতে। এখানে মোট লোকসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। হিন্দু পরিবারের সংখ্যা ১৬৫টি। এসব পরিবারের মোট লোকসংখ্যা মাত্র ৫৫০ জন। এখানে হিন্দু-মুসলমান মিলেই পূজা উদ্যাপন করছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি হরেকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, সরকারি অনুদানে পূজা হচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে সংখ্যায় কম। মুসলমানরাও চাঁদা দিচ্ছে। ছিটে কখনো উৎসব হয় না। পূজাকে ঘিরেই মানুষ মেতে উঠেছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কমর্কতা (ইউএনও) নাসির উদ্দিন মাহামুদ বলেন, দাসিয়ারছড়ায় দুটি পূজা হচ্ছে। দুই কমিটিকে ৮ টন করে ১৬ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দুই মন্ত্রণালয়ের দুই রকম বয়স by মুসতাক আহমদ

প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বয়স ৫-৭ বছর। এবার সেটিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে আজ একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে তারা মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি-বেসরকারি হাই স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে শিশু ভর্তির জন্য ৬ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়স নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। এটি অনুমোদন পেলে আগামী বছরের ভর্তিতে এ বয়সের বিধান কার্যকর হবে।
অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়স আগের মতোই ৫-৭ বছরই থাকছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) মহাপরিচালক মো. আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেউ তার ৭ বছরের বেশি বয়সী সন্তানকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করতে চাইলেও আমরা বাধা দেব না।
বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) রুহী রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশু ভর্তির বয়সসহ কয়েকটি দিকে পরিবর্তন এনে নতুন ভর্তি নীতিমালা করা হচ্ছে। তবে এটি নতুন কিছু নয়। জাতীয় শিক্ষা নীতিতে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়স ৬ বছর বলা হয়েছে। আমরা সেটারই বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।’
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আজকের বৈঠকে মূলত ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এতে তিনটি নতুন দিক কার্যকরের প্রস্তাব রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির বয়স সর্বনিু ৬। তবে তা ৭ বছরের কম হতে হবে। রাজধানীর ৩২টি সরকারি স্কুলের পাশাপাশি এবার ৬৪ জিলা স্কুলকেও বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। রাজধানীর গণভবন স্কুলে গণভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ভর্তির বিষয়টি সংরক্ষণের প্রস্তাবও আছে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তিতে ‘এলাকা কোটা’ সংযোজনেরও চিন্তাভাবনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘এলাকা কোটা’ চালুর সুপারিশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। এ সুপারিশ অনুযায়ী কোনো এলাকার স্কুলে সেই এলাকারই ৪০ ভাগ শিক্ষার্থীকে আগে ভর্তি করতে হবে। বাকি আসনে এলাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা যাবে।
সারা দেশে বর্তমানে ৩৩৩টি সরকারি হাই স্কুল রয়েছে। তবে সব স্কুলে প্রথম শ্রেণী নেই। ৩৩৩টির মধ্যে রাজধানীতে আছে ৩২ হাই স্কুল। এসবের মধ্যে মাত্র ১৪টিতে প্রথম শ্রেণী আছে। অপরদিকে সারা দেশে এমপিওভুক্ত নিুমাধ্যমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল আছে ১৬ হাজার ১০২টি। এসব স্কুলের মধ্যে রাজধানী এবং বড় শহরগুলোর স্কুল ছাড়া অন্যত্র প্রাথমিক স্তর নেই বললেই চলে। মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন জানান, সারা দেশে যেসব হাই স্কুলের সঙ্গে প্রাথমিক স্তর আছে, তার সবক’টিতে ভর্তি নিয়ে সংকট নেই। হাতেগোনা শতাধিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সেখানে আসনের তুলনায় বেশি প্রার্থী থাকে। এ কারণে আমরা এসব বিদ্যালয়ের দিকে নজর রাখছি। আমরা চাচ্ছি সেখানে এলাকা কোটা বাস্তবায়ন করে ভর্তির ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করা হবে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আজকের বৈঠকে ভর্তির আবেদন গ্রহণ ও পরীক্ষার সময়সূচি, আবেদন ও ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ইত্যাদি নির্ধারণ করা হবে। মাউশি উপপরিচালক (মাধ্যমিক) মোস্তফা কামাল জানান, বয়স সংশোধন, জেলা পর্যায়ের স্কুলে অনলাইনে ভর্তির বিষয়টি ছাড়া নতুন আর কিছু নেই। বাকি সবকিছুই গত বছরের মতো রাখা হয়েছে।
ঢাকার যে ১৪টি হাই স্কুলে প্রথম শ্রেণী রয়েছে সেগুলো হচ্ছে- রাজধানীর গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত হাই স্কুল, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এসব স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে আসনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারের মতো।

হঠাৎ বাস বন্ধ: পরিবহনশ্রমিকেরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?

বিশৃঙ্খলার চরমে পৌঁছেছে দেশের পরিবহন খাত। তা যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয় হোক বা নিয়ম মেনে ভাড়া আদায়ের বিষয়ই হোক। পরিস্থিতি এখন এতটাই খারাপ যে শৃঙ্খলা আনার কোনো উদ্যোগই এখন আর কাজে আসছে না। গত রোববার রাজধানী ঢাকায় কোনো ঘোষণা ছাড়া সাত ঘণ্টা বাস বন্ধ থাকার ঘটনাটি প্রমাণ করে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর কারও নিয়ন্ত্রণ নেই।
যাত্রীদের তরফে অভিযোগ আছে যে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে গণপরিবহনগুলোতে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে ভাড়ার হালনাগাদ তালিকা বাসে রাখা ও যাত্রীদের তা দেখানো। কিন্তু চালক বা তাঁদের সহকারীরা তা মানেন না। এমন পরিস্থিতিতে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত রোববার একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ভাড়ার তালিকা না পেয়ে চালকের সহকারীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন।
৭ ঘণ্টা বাস বন্ধ, ভোগান্তি
এরপরই পরিবহন শ্রমিকেরা মিরপুর ১০ নম্বরকেন্দ্রিক সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের পরিবহনশ্রমিকেরা কি আইনের ঊর্ধ্বে? বাসে একটি ভাড়ার তালিকা রাখা কি খুব কঠিন কাজ?
গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অভিযোগে গতকাল এক গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, ঢাকা শহরের ৮৭ ভাগ যানবাহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। সমিতির সভাপতি বিবিসিকে বলেছেন, এখানে মালিকদের এমন একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
পরিবহন খাতের আজকের এই অবস্থা অবশ্য এক দিনে হয়নি। আর এর দায় শুধু পরিবহন মালিক বা শ্রমিকদেরও নয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর যথাযথ নজরদারির অভাব, নানামুখী দুর্নীতি, অনিয়ম, অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতার ফলেই আজকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। শীর্ষ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ ছাড়া এর থেকে উত্তরণের পথ নেই। স্বার্থান্বেষী মহলের অন্যায় আবদার উপেক্ষা করে সরকার সেটি করতে প্রস্তুত আছে কি?

শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহাসপ্তমী

বনানী পূজামণ্ডপে মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে দুর্গাপূজা
উদ্বোধন করছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার
সিনহা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী
রাশেদ খান মেনন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড.
বীরেন শিকদারসহ অন্যরা -যুগান্তর
শারদীয় দূর্গাপূজায় আজ মহাসপ্তমী। রোববার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলোকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা কার্যকর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রাজধানীর বাইরেও প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা এবং স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির তথ্যমতে ধর্মীয় আচার অনুযায়ী আজ পূর্বাহ্নে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন ও সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ এবং অপরাহ্নে মহাসপ্তমী বিহিত পূজা। এছাড়া অন্যান্য আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দুস্থদের মাঝে বস্তা বিতরণ এবং সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মণ্ডপে মণ্ডপে বেড়েছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। রোববার দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
বুধবার ২১ অক্টোবর মহাষ্টমী। পূর্বাহ্নে মহাষ্টমী বিহিত পূজা, সন্ধিপূজা ও মধ্যাহ্নে মহাপ্রসাদ বিতরণ। বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর মহানবমী এবং শুক্রবার ২৩ অক্টোবর বিজয়া দশমী শেষে প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই বর্ণিল উৎসব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ যুগান্তরকে জানান, এবার বিজয়া দশমীর দিনে সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু একদিন বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে তাই প্রতিমা বিসর্জনে দীর্ঘরাত করা যাবে না। এবার সারা দেশে ২৯ হাজার ৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৮৫৮। এছাড়া ঢাকায় এ বছর ২২৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২১৬টি।
১২ অক্টোবর সোমবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেবী আগমনের ডামাডোল। মহালয়ায় পিতৃপক্ষ সাঙ্গ করে দেবীপক্ষের দিকে যাত্রা হয় শুরু। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবীকে পৃথিবীতে আগমনের জন্য আহ্বান জানিয়ে থাকেন। সারা দেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীর ২২২টি পূজামণ্ডপ ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। প্রথম স্তরে প্রতিটি মণ্ডপকে ঘিরে আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ও পুলিশ থাকবে। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, স্টিল ক্যামেরা ও মুভি ক্যামেরা নিয়ে বিশেষ টিম। তৃতীয় স্তরে থাকবে গোয়েন্দা পুলিশ সোয়াত, র‌্যাব। চতুর্থ স্তরে টহল পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, ডগ স্কোয়াড, সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ইত্যাদি। এর বাইরে রয়েছে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে র‌্যাব এবং পুলিশের রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যেতে পারেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন মহানগরী ও জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। তারা টহল ও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত আছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আগেই সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃংখলা কমিটি রয়েছে। নিয়োজিত আছে আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী। বসানো হয়েছে আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। চালানো হচ্ছে তল্লাশি ও সুইপিং। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ অন্যান্য আধুনিক নিরাপত্তা উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের তত্ত্বাবধানে পুলিশের ইউনিফরমে ৬ হাজার ১১৩ জন এবং সাদা পোশাকে ৭৫০ জন মোট ৬ হাজার ৮৬৩ জন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কর্মরত রয়েছে। তারা পূজার আগে, পূজা চলাকালীন, বিজয় শোভাযাত্রা এবং বিসর্জন পর্যন্ত নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন।
প্রতিটি মণ্ডপে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন রয়েছ। এর বাইর রয়েছে আনসার ও র‌্যাব।
সোমবার দুপুরে বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এ সময় পূজার নিরাপত্তা তুলে ধরে বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে র‌্যাব দেশব্যাপী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশব্যাপী ২৮ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে র‌্যাবের সাদা পোশাকধারী নিরাপত্তা দল গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। পোশাকেও বিপুলসংখ্যক র‌্যাব সদস্য নিরাপত্তায় কাজ করছে। প্রতিমা বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে র‌্যাবের নিরাপত্তা দল মাঠে থাকবে।
র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, র‌্যাব আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গোয়েন্দা সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে র‌্যাবের স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স সার্বক্ষণিক স্ট্যান্ডবাই রয়েছে।
পূজামণ্ডপে আগত বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু’জন বিদেশী নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। আমাদের কাছে দেশী এবং বিদেশী নাগরিক যেই হোক প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। র‌্যাবের মহাপরিচালকের পরিদর্শনের পর দুপুরে একই স্থানে এক সংবাদ সম্মেলনে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা পরিষদের সভাপতি সুভাষ চৌধুরী ঘোষ বলেন, ২০০৮ সাল থেকে বনানী মাঠে শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করে আসছি। প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব চলবে।
সাম্প্রতিক সময়ের কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে হাই অ্যালার্ট সিকিউরিটি জোন হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, এই পূজামণ্ডপে তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।