Showing posts with label বাগেরহাট. Show all posts
Showing posts with label বাগেরহাট. Show all posts

Wednesday, April 8, 2026

আস্ত ছাগল গিলে খেয়ে নদীর চরে পড়ে ছিল অজগর, উদ্ধার করল বন বিভাগ

সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার একটি গ্রামে গৃহপালিত একটি ছাগল আস্ত গিলে ফেলেছে একটি অজগর। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ভোলা নদীর চর থেকে অজগরটিকে উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

ছোট হয়ে আসা ভোলা নদীর পশ্চিম পাড়ে সুন্দরবন আর পূর্ব পাড়ে রসুলপুর গ্রাম। ওই গ্রামের সোহরাব ফরাজীর একটি ছাগল অন্যদিনের মতো সকালে ঘাস খেতে ভোলা নদীর চরে যায়। দীর্ঘ সময় পরেও ছাগলটিকে আর না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে পাশের ঝোপঝাড়ের মাঝে বিশাল আকৃতির অজগরটি দেখতে পান স্থানীয়রা। অজগরটির পেট অস্বাভাবিক ফোলা ছিল। তা দেখেই সবাই ধারণা করছে, অজগরটি ওই ছাগলটিকে গিলে খেয়েছে। সেখানে অজগরটি ভালোভাবে নড়াচড়াও করতে পারছিল না।

খবর পেয়ে কমিউনিটি প্যাট্রল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্য সেখানে যান। খবর দেওয়া হয় বন বিভাগকে। বন বিভাগ জানায়, অজগরটি লম্বায় প্রায় ১৫ ফুট এবং ওজন ছিল ৩৫ কেজি।

সিপিজি সদস্য সগির সওদাগর বলেন, ছাগল গিলে খাওয়ার পর সাপটি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অজগরটি দেখতে আশপাশে শত শত মানুষ জড়ো হয়।

ছাগলের মালিক সোহরাব ফরাজী বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে আসা অজগরটি আমার ছাগলটি আস্ত গিলে খেয়েছে। আমার খুবই ক্ষতি হলো।’

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে অজগরটি উদ্ধারের পর সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

অজগরের ছাগল গিলে খাওয়ার খবরে অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ভোলা নদীর চরে
অজগরের ছাগল গিলে খাওয়ার খবরে অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। মঙ্গলবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ভোলা নদীর চরে। ছবি: স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে সংগৃহীত

Wednesday, December 4, 2024

সমসাময়িকতায় পরিপূর্ণ মানবিক ইত্যাদি

ইত্যাদি সব সময়ই অনন্য, অসাধারণ; নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। টানা তিন যুগ ধরে আলো ছড়ানো ইত্যাদির জৌলুস বেড়ে চলেছে দিনকে দিন। এবারে অনুষ্ঠান ধারণের স্থান বাগেরহাটের মোংলা বন্দর। এবারের ইত্যাদি দেখে একটা অদ্ভুত উপলব্ধি হলো। সেটা হচ্ছে, ইত্যাদি যেন অনিন্দ্য সুন্দর এই বাংলাদেশকে আরও নান্দনিকভাবে তুলে ধরছে দুর্দান্ত মুন্সিয়ানায়। আর এই মুন্সিয়ানার কারিগর তো সেই কিংবদন্তি হানিফ সংকেত। গত প্রায় দেড় দশক থেকে ইত্যাদি যখন চার দেয়াল পেরিয়ে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়তে থাকলো, তখনই বিভিন্ন জেলা সম্পর্কে আমরা জানতে থাকলাম নতুন করে। নতুনভাবে যেন আমরা জেলাগুলোকে আবিষ্কার করেছি। এবার বাগেরহাট সম্পর্কে যে প্রতিবেদন বা যে নৃত্যগীত পরিবেশিত হয়েছে, তা যেন আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। ইতিহাস-ঐতিহ্য তো ছিলই, ছিল অনেক অজানা তথ্যও। এ যেন পর্যটনবান্ধব এক আয়োজন। প্রতিবেদনও যে কতোটা হৃদয়গ্রাহী, আকর্ষণীয় ও নান্দনিক করে তোলা যায় সেটার প্রমাণ এবারের ইত্যাদি। বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের রুমিছা বেগমকে নিয়ে করা প্রতিবেদনটি একইসঙ্গে মানবিক, হৃদয়ছোঁয়া ও অনুপ্রেরণামূলক। স্বামী অসুস্থ বলে নিজে দমে যাননি; ইঞ্জিনভ্যান চালিয়ে গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমাণ মুদির দোকান। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করেন তিনি। একজন নারী হয়ে সংসারের বোঝা কাঁধে নেয়ার এই চিত্র বহু মানুষকে যে অনুপ্রাণিত করবে তাতে সন্দেহ নেই। মোশারফ গাজীকে নিয়ে করা আরেকটি মানবিক প্রতিবেদনও দর্শকদের অশ্রুসিক্ত করে তুলেছে। পেটের তাগিদে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে শেষে কুমিরের আক্রমণে তিনি নিহত হন। বন বিভাগের জারি করা নিষিদ্ধ সময়ে বনে প্রবেশ করায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংসারের অভাব-অনটন আর স্বামীর সুন্দরবনের যাওয়ার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মোশারফের স্ত্রী। সুন্দরবন-সংলগ্ন কিছু মানুষের জীবিকার চিত্র উঠে আসার পাশাপাশি নিষিদ্ধ সময়ে বনে প্রবেশের বিষয়ে সতর্কতা বাড়বে বলে আশা করা যায়। সমসাময়িক কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে দুর্দান্ত একটি বিষয় এসেছে এক নাট্যাংশে। বর্তমানে তো বহুল আলোচিত বা চর্চিত একটি শব্দ হলো ‘সংস্কার’। একটি নাট্যাংশে দেখানো হলো যে ‘আত্মসংস্কার’ কতোটা প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, যত ধরনের সংস্কারই করা হোক না কেন, আমরা যদি নিজেকে সংস্কার না করি, নিজের মনের সংস্কার না করি, নিজেরা কাজে-কর্মে বা আচার-আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন না নিয়ে আসি, তাহলে কোনো ভালো ফলই আসবে না। চরম বাস্তব এই বার্তাটি দেয়ার জন্য ইত্যাদিকে বিশেষ ধন্যবাদ দেয়া যেতেই পারে। সমসাময়িক আরও দু’টি আলোচিত বিষয় হলো ‘চুরি’ ও ‘ঘুষ’। এই দুই বিষয়ে দুইজন ‘গবেষক’কে নিয়ে করা দু’টি নাট্যাংশও বেশ প্রশংসার দাবিদার। চুরি ও ঘুষের সেকাল-একাল এবং চোর ও ঘুষখোরের সেকাল-একাল নিয়ে রসাত্মক কিন্তু চরম বিদ্রূপাত্মক নাট্যাংশ দু’টিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে। আরেকটি নাট্যাংশে ঋণখেলাপিদের চেয়েও ভিক্ষুকদের জমানো টাকার পরিমাণ বেশি- এমন তুলনা শুধু চরম বাস্তবতার দিকেই কটাক্ষপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। এবার নানি-নাতি পর্বেও সমসাময়িক বিষয় উঠে এসেছে। ‘কালার’ দেয়া, অর্থাৎ কাউকে পছন্দ না হলে কোনো একটা তকমা লাগিয়ে দেয়ার নেতিবাচক বিষয়টি উঠে এসেছে তাদের মজার আলাপচারিতায়। এ ছাড়া দর্শক পর্ব, বিদেশি প্রতিবেদন ও বিশেষ ম্যাজিকও ছিল বেশ উপভোগ্য। সবমিলিয়ে বলা যায়, ইত্যাদি ইত্যাদিই। হানিফ সংকেত হানিফ সংকেতই। তাকে শুধু তিনি নিজেই ছাড়িয়ে যেতে পারেন। ভালো থাকুন আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় এই নান্দনিক কারিগর।
mzamin

Friday, May 15, 2020

চীনা গণমাধ্যমে মসজিদের শহর বাগেরহাট by জনি হক

মসজিদের শহর হিসেবে বাগেরহাটের আলাদা সুনাম রয়েছে। বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের এই জেলায় অবস্থিত। বাগেরহাটে ৫০ বর্গকিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে ৩৬০টি মসজিদ। তাই জেলাটিকে মসজিদের শহর হিসেবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনা ইংরেজি ভাষার সংবাদ চ্যানেল সিজিটিএন। চীনা এই গণমাধ্যমের শিরোনাম ‘দ্য লস্ট সিটি উইথ কমপ্লিট মেমোরিস: মস্ক সিটি অব বাগেরহাট’। এর বাংলা করলে দাঁড়ায়— স্মৃতিঘেরা হারানো শহর: মসজিদের শহর বাগেরহাট।
চীনা গণমাধ্যমটি মনে করিয়ে দিয়েছে, মার্কিন ব্যবসা-সংক্রান্ত ম্যাগাজিন ফোর্বসের দৃষ্টিতে বিশ্বের ১৫ হারানো শহরের তালিকায় বাগেরহাট অন্যতম। সেজন্যই তারা প্রতিবেদনটির এমন শিরোনাম করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘১৪৫৯ সালে খান জাহানের মৃত্যুর পর বাগেরহাট পরিণত হয় জঙ্গলে। শতাব্দী পর এটি আবিষ্কৃত হয়েছে।’
ষাটগম্বুজ মসজিদ
ষাটগম্বুজ মসজিদ
সিজিটিএনের ‘নো এশিয়া বেটার’ অর্থাৎ ‘এশিয়াকে ভালোভাবে জানুন’ সিরিজের অংশ হিসেবে এবার বাংলাদেশ তথা বাগেরহাট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাগেরহাটের মসজিদগুলো প্রাচীনকালে বাংলার মুসলিম স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। পঞ্চদশ শতকে ইসলাম ধর্মের প্রচারক উলুঘ খান জাহান শহরটি গড়ে তোলেন। এর আগে খলিফতাবাদ নামে পরিচিত ছিল এটি। এখানে মধ্যযুগীয় ইসলামি শহরের সব বৈশিষ্ট্য সংরক্ষিত আছে।
ষাটগম্বুজ মসজিদ
ষাটগম্বুজ মসজিদ
প্রতিবেদনে স্বাভাবিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে ষাটগম্বুজ মসজিদ। বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হজরত খান জাহানের (র.) অমর সৃষ্টি। সাড়ে ৬০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক এই স্থাপনার পুরাকীর্তিগুলোতে রয়েছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের নিদর্শন।
ষাটগম্বুজ মসজিদ
ষাটগম্বুজ মসজিদ
ষাটগম্বুজ মসজিদ থেকে মাইলখানেক দূরে অবস্থিত চুনা খোলা মসজিদের একটি ছবি প্রকাশ করেছে সিজিটিএন। মনে করে, খান জাহানের মাজার বাগেরহাটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিস্তম্ভ। এটি ভালোভাবে সংরক্ষিত আছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। প্রতিদিন শত শত মানুষ সেখানে গিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বলে জানান লেখক ওয়াঙ লা। তিনি আরও লিখেছেন, ‘১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান পায় বাগেরহাট।’
চুনা খোলা মসজিদ
চুনা খোলা মসজিদ
‘নো এশিয়া বেটার’ সিরিজে এশিয়ার ৪৭টি দেশের সেরা স্থাপত্য, শিল্পকলা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কথা জানাচ্ছে সিজিটিএন। তাদের প্রতিবেদনের সুবাদে বাগেরহাটে বিদেশি পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হজরত খান জাহানের (র.) মাজার
হজরত খান জাহানের (র.) মাজার
সিজিটিএন আগে সিসিটিভি-নাইন ও সিসিটিভি নিউজ নামে পরিচিত ছিল। বেইজিং ভিত্তিক চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের অংশ চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক গ্রুপের সংবাদ চ্যানেল এটি।

Monday, September 3, 2018

ভাসমান সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

চারদিকে থৈ থৈ পানি। বর্ষা মৌসুমে এখানকার নিচু এলাকা প্রতি বছরই প্লাবিত হয়। বাড়ির আশেপাশে সবখানেই পানি জমে আছে কিন্তু এতেই হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই চাষিরা। অনাবাদি জমিতে আগাছা ও কচুরিপনার স্তূপ সাজিয়ে তার ওপর ভাসমান সবজি চাষ করছেন তারা। এ পদ্ধতিতে চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন অনেকে। সার-কীটনাশক ছাড়া চাষ করা এ ধরনের সবজির চাহিদাও রয়েছে বাজারে প্রচুর।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে কচুরি ও আগাছার ধাপ টেনে এই ভাসমান সবজির চাষ করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এ ধরনের পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হলেও তেমন গুরুত্ব পাইনি কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় কৃষি অফিস এ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। ফলে চাষিরা উৎসাহী হয়ে বাণিজ্যিকভাবে এটি চাষের প্রতি জোর দিয়েছেন। এতে কৃষি কাজে এক নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। চিতলমারীর রুইয়েরকূল, বেন্নাবাড়ি, কোদালিয়া বিলে ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বন্যাবাড়ি, মিত্রডাঙ্গা, জোয়ারিয়া, পাথরঘাটা, চাপরাইল, রুপাহাটের বিভিন্ন বিলসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা এখন ভাসমান বেডে সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। রাত-দিন ক্ষেতের পরিচর্যায় সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষি অফিসের সূত্রে জানা গেছে, এখানকার প্রায় ৮০ হেক্টর অনাবাদি জমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে ঢেঁড়স, পুঁইশাক, লালশাক, বরবটি, শসা, করলা, লাউ, কুমড়া, কচু ও হলুদসহ বিভিন্ন রকমের শাক সবজি ও মসলার চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে পানির ওপর ভাসমান ক্ষেত তৈরি ও চাষাবাদ করার জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, নেটসহ প্রয়োজনীয় কাজে শ্রমিকের মূল্যসহ সার্বিক ভাবে পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিস। এতে এ সকল চাষিরা উদ্বুদ্ধ হয়ে আগ্রহের সঙ্গে ভাসমান সবজি চাষে বেশির ভাগ সময় পার করছেন। ভাসমান সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষক বরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, রবিন দাস, হরেন্দ্রনাথ বসু, জোয়ারিয়া গ্রামের নরোত্তম বালা, অনিমেষ চন্দ্র সরকারসহ অনেকে জানান, এটি একটি বিল এলাকা। এখানকার অধিকাংশ জমি বর্ষা মৌসুমে পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে চাষাবাদের তেমন কোনো জমি নেই। এ সময়টায় চাষিদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। উপজেলার বেশিরভাগ নিচু জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এখন অনেকেই ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। সার-কীটনাশক ছাড়াই এটি চাষ করা হয়। সবজির স্বাদ ও গুণগতমান বজায় থাকে। ফলে বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আগামীতে আরো নানা ধরনের পরিকল্পনার কথা জানালেন এসব চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিসার জামাল উদ্দিন জানান, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষের উপর নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এখানকার চাষিদের সবজি চাষে বেশ সাড়া মিলেছে। আগামীতে এ পদ্ধতি আরো ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে চাষিদের মাঝে। এর জন্য সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা পাবে কৃষি অফিস থেকে।

Sunday, May 13, 2018

স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন চন্দ্রমহল by রবিউল ইসলাম

সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মমতাজের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে যেমন স্থাপন করেছিলেন জগদ্বিখ্যাত আগ্রার তাজমহল। তেমনি বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী তার স্ত্রী নাসিমা হুদা চন্দ্রার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে স্থাপন করেছে চন্দ্রমহল। রনজিৎপুর গ্রামে স্থাপিত চন্দ্রমহলটি এখন ইকোপার্ক হিসেবে দেশি বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এখাতে প্রতিদিন বেড়াতে আসেন দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক। সুন্দরবনে যাওয়ার পথে খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে ইকোপার্কটির অবস্থান। তাই সুন্দরবন ভ্রমণকারী দর্শনার্থীদের আরো বাড়তি আনন্দ যুক্ত করে এই চন্দ্রমহল।
রনজিৎপুর গ্রামে ৩৫ একর জমির ওপর এই চন্দ্রমহল তৈরি করা হয়েছে। দোতলা চন্দ্র মহলে প্রবেশ করতে হয় পানির নিচ দিয়ে তৈরি সুড়ঙ্গ পথে। ইকোপার্কে আরো আছে সারি সারি নারিকেল গাছ, নানা প্রজাতির গাছ, পিকনিক স্পট ও বেশ কয়েকটি পুকুর। আর পুকুরে রয়েছে ময়ূরপঙ্খী নৌকার উপর ভাসমান মঞ্চ, মহল জুড়ে রয়েছে নানা স্থাপত্যশৈলীসহ পূর্ব পুরুষের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ডাকটিকেট, মূদ্রা, তলোয়ারসহ আকর্ষণীয় অনেক মালপত্র। আরো রয়েছে হরিণ, কুমির, বানর ও পাখিসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর প্রতিকৃতি ও ভাস্কর্য, বিলুপ্ত রূপসা-বাগেরহাট রেল লাইনের প্রতিকৃতি।

বাগেরহাট সদরের ঐতিহ্যবাহী হাকিমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সৈয়দ আমানুল হুদা তার ৩৫ একর জমির উপর গড়ে তুলেছেন চন্দ্রমহল নামের এই নয়নাভিরাম ইকো পার্ক। পার্কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০১ সালে। তার স্ত্রীর চন্দ্রার নামে মূল ভবনটির নামকরণ করেন “চন্দ্রমহল”। এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০০৯ সালে। বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের একটি নামকরা পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 মূল ভবনটি ছাড়াও পুরো এলাকাটি ফুল ও ফলজ বৃক্ষ দিয়ে চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে। এছাড়া এখানে ভাস্কর্যের মাধ্যমে দেশীয় সাংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এখানে সাজানো পুকুরে মাছ চাষ হয়। একটি মিনি চিড়িয়াখানাও রয়েছে। ভবনটির অভ্যান্তরে হুদা পরিবারের সংগ্রহীত বিভিন্ন জিনিসপত্র প্রদর্শিত করা হয়েছে। এখানে গ্রাম্য মানুষের চরিত্র নিয়ে প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পশু পাখি। আদি আসবাবপত্র আর তৈজশপত্র ছাড়াও কিছু স্থির ছবি রয়েছে এখানে। আরো রয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত, মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, মাষ্টার দা সূর্য সেন, বেগম রোকেয়া, আতাউল গনি ওসমানী, মাদার তেরেসা, মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্য।
চন্দ্রমহলটি মূলত তাজমহলের আদলে তৈরি। মহলটির সৌন্দর্য দেখে যে কোনো পর্যটক মুগ্ধ হবেন। বিশেষ করে প্রখর রোদের আলো যখন মহলের উপরি সোনালী অংশে পড়ে তখন এটি আর চমৎকার দেখায়।
মহলের চারিপার্শ্বে স্বচ্ছ পানির লেক। পানির নিচে গ্লাস দ্বারা বেষ্টনি করা সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে মহলে প্রবেশ করতে হয়। এর দুই পার্শ্বের স্বচ্ছ পানির মধ্যে মাছের খেলা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মহল জুড়ে রয়েছে নানা স্থাপত্য শৈলী। বের হওয়ার জন্য বাঁশের পুল রয়েছে। যা কারুকার্য্য করা। যে কারণে অন্যান্য পার্কের তুলনায় চন্দ্র মহলে পর্যটকদের ভীড় কিছুটা বেশি। জেলে, কৃষক, ধোপা ইত্যাকার নানান পেশাজীবী গ্রামীন মানুষের মধ্যযুগের জীবনযাত্রা কেমন ছিল তার ধারণা দিতেই নির্মিত হয়েছে এখানে মাটির কারুকার্য্য সম্বলিত শিল্প। পানির উপর বাঁশের তৈরি রেস্তোরা। পুকুরের মধ্যে ইট-সিমেন্টের তৈরি কাঁকড়া ও ঝিনুক, পানসী নৌকা।
বন্য প্রাণীদের সাথে পরিচয় করানোর জন্য এখানে রয়েছে বানর, বনবিড়াল, হরিণ, তিতপাখি, তুর্কী মোরগ, সাদা বক, ময়ূর, বিভিন্ন প্রজাতির কুকুর, ঈগল, মদন টাক পাখি, সাদা ঘুঘু, হাঁস, পেঁচা, বেজী, কবুতর, কোয়েল, কুমির ইত্যাদি।
চন্দ্রমহলের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন জানান, মহলের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমানুল হুদা সেলিম বর্তমানে অষ্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। বাগেরহাট সদর উপজেলার খাঁনপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের সৈয়দ আনোয়ারুল হুদার বড় ছেলে তিনি। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনিই সবার বড়। অষ্ট্রেলিয়ায় জাহাজে চাকুরির সুযোগ পান তিনি। পরে দেশে এসে ঢাকায় গার্মেন্টস্ ব্যবসার পাশাপাশি নিজ এলাকায় চন্দ্রমহল প্রতিষ্ঠা করেন। ছোট বেলায় ফুফু শিরিনা বেগমের সাথে তাজমহল দর্শনের সুযোগ পান তিনি। সেখানে তাজমহল দর্শনের পর থেকে তার স্বপ্ন তাজমহলের আদলে একটি মহল তৈরি করার। পরে কর্মজীবনে এসে যখন সেই সুযোগ সৃষ্টি হয় তখন আর পেছনে ফিরে তাকাননি। স্বপ্ন পূরণে উঠে পড়ে লেগে যান। আর তাজ মহল নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে স্ত্রী নাসিমা হুদা চন্দ্রার নাম স্মরণীয় করে রাখতে গড়ে তোলেন চন্দ্রমহল।
চন্দ্রামহলের প্রবেশ মূল্য বর্তমানে ৫০ টাকা। এই মহল এখন দক্ষিণাঞ্চলে আগত হাজার হাজার পর্যটকদের বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

Sunday, April 22, 2018

সুন্দরবন এখন স্ক্র্যাপ জাহাজের ভাগাড়, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য by মো. আবু সাঈদ শুনু

ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন এখন স্ক্র্যাপ (মেয়াদ উত্তীর্ণ) জাহাজের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। একের পর এক ডুবছে পণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজ। সুন্দরবনে নদীতে পণ্যবোঝাই লাইটারেজ জাহাজডুবির ঘটনা আগে থেকে ঘটলেও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এসে জাহাজডুবির ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যায়। সাড়ে ৩ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষিত এই বনের নদীতে তলা ফেটে ডুবেছে পণ্যবোঝাই ১০টি লাইটার জাহাজ। সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্ধারকারী জলযান না থাকায় দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না ডুবে যাওয়া এসব জাহাজ ও পণ্য। ডুবে যাওয়া এসব জাহাজে থাকা ফার্নেস অয়েল, সার, কয়লা, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিঙ্কার, স্লাগ, জিপসান ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ম্যানগ্রোভ এই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। ডুবে যাওয়া অনেক লাইটার জাহাজ উত্তোলন না করায় দ্রুত পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে সুন্দরবনের নদ-নদী। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জানায়, ১৯৯৪ সালের আগস্টে সুন্দরবনের কাছে পশুর চ্যানেলের বানিশান্তা এলাকায় একটি তেলবাহী জাহাজ ডুবে গেলে প্রথম বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে সুন্দরবন। ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তেল। এরপর ১৯৮৮ সালের ১লা জুলাই মোংলা বন্দরের কাছে একটি তেলবাহী লাইটার কার্গো জাহাজ দুর্ঘটনায় পশুর চ্যানেলে তেল ছড়িয়ে পড়লে সুন্দরবন আবারো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে।
একই বছরের ১০ই আগস্ট সুন্দরবনের মাজহার পয়েন্টে অপর একটি তেলবাহী লাইটার কার্গো দুর্ঘটনায় পড়ে উচ্চমাত্রার সালফারযুক্ত তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনে। সুন্দরবনে নদীতে পণ্যবোঝাই লাইটারেজ জাহাজডুবির ঘটনা আগে থেকে ঘটলেও ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে এসে জাহাজডুবির ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যায়। ওই বছরের ১২ই সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ৬৩০ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল নিয়ে তলা পেটে ডুবে যায় লাইটার জাহাজ ‘এমভি হাজেরা-২’। একই বছরের ৩০শে সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ৬০০ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল নিয়ে তলা পেটে ডুবে যায় লাইটার জাহাজ ‘এমভি য়ন শ্রী-৩’। একই বছরের ২৪শে নভেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের হরিণটানা এলাকায় তলা ফেটে ডুবে যায় তিনতলা বিশিষ্ট যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি শাহীদূত’। একই বছরের ৯ই ডিসেম্বর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শ্যালা নদীতে তলা ফেটে সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডুবে যায় ‘ওটি সাউদার্ন স্টার-৭’ নামের একটি অয়েল ট্যাংকার। সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নদ-নদী ও বনের প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অস্তিত্ব সংকটে পড়ে সুন্দরবন। এ ঘটনা দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে ম্যানগ্রোভ এই সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছুটে আসতে হয় খোদ জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলদের। এরপর ২০১৫ সালের ৫ই মে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের মরাভোলা নদীতে তলা পেটে ডুবে যায় ‘এমভি জাবালে নূর’ নামের সার বোঝাই একটি লাইটার জাহাজ। সুন্দরবনের নদীর পানিতে গলে ছড়িয়ে যায় ৫০০ টন পটাশ সার। একই বছরের ১১ই সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীতে তলা ফেটে ডুবতে ডুবতে অন্য একটি লাইটার জাহাজের সহয়তায় মোংলায় পৌঁছাতে সক্ষম হয় আরো একটি কয়লা বোঝাই লাইটার জাহাজ।
ওই একই বছরের ২৭শে অক্টোবর সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে তলা ফেটে ৫১০ টন কয়লা নিয়ে ডুবে যায় ‘এমবি জিয়ারাজ’ নামের একটি লাইটার জাহাজ। ২০১৬ সালের ১৯শে মার্চ পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শ্যালা নদীতে ১ হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে তলা ফেটে ডুবে যায় ‘এমভি সি হর্স-১’ নামের একটি লাইটার জাহাজ। ২০১৭ সালের ১৩ই জানুয়ারি সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের মোহনায় ১ হাজার টন কয়লা বোঝাই ‘এমভি আইচগাতি’ নামের একটি লাইটার জাহাজ ডুবোচরে ধাক্কা খেয়ে তলা ফেটে ডুবে যায়। একই বছরের ৫ই জুন সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ৮২৫ টন সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল স্লাগ নিয়ে তলা ফেটে ডুবে যায় ‘এমভি সেবা’ নামের অপর একটি লাইটার জাহাজ। সর্বশেষ গত ১৫ই এপ্রিল ভোরে মোংলা বন্দর চ্যানেলের পশুর নদীর হারবাড়িয়ায় সুন্দরবনের মধ্যে ৭৫০ টন কয়লা বোঝাই একটি লাইটার জাহাজ এমভি বিলাস ডুবে যায়। কয়লাবোঝাই এই জাহাজডুবির পর এখনো শুরু হয়নি উদ্ধার অভিযান। সুন্দরবনে প্রতিটি জাহাজ জাহাজডুবির পর বন বিভাগের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে আসে সুন্দরবনের নদ-নদীর মূল চ্যানেল না চিনে জাহাজ চালানো, ফিটনেসবিহীন স্ক্র্যাপ (মেয়াদ উত্তীর্ণ) জাহাজের চলাচল, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকদের কারনে সুন্দরবনে ডুবোচরে জাহাজ উঠিয়ে দেয়ায় স্ক্র্যাপ জাহাজগুলোর তলা ফেটে দূর্ঘটনা ঘটছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খামখেয়ালী পানার কারেনে এসব লাইটার মেয়াদ উর্তিন্ন জাহাজগুলো পন্য পরিবহন করে আসছে। সুন্দরবন বিভাগ প্রতিটি জাহাজডুবির পর বনের জলজপ্রাণীসহ জীববৈচিত্র্যের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আদালতে মামলা করলেও তা এখনো রয়েছে বিচারাধীন। অন্যদিকে ডুবে যাওয়া অনেক লাইটার জাহাজ উত্তোলন না করায় দ্রুত পলি পড়ে ভরাট হচ্ছে সুন্দরবনের নদ-নদী। সুন্দরবন গবেষক ও সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনে একের পর এক লাইটার জাহাজডুবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুন্দরবনের মধ্যে মোংলা বন্দরের পশুর চ্যনেল ও নদ-নদীতে স্র্ক্যাপ (মেয়াদ উত্তীর্ণ) জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করায় ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড এই বনের নদ-নদী এখন ডুবন্ত জাহাজের ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। এত করে সুন্দরবনের গাছের শ্বাসমূলসহ জীববৈচিত্র্য, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, কয়েকশ’ প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণীর প্রজননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ড. ফরিদ গত বছর ইউনেস্কোর বার্ষিক সভায় গৃহীত ‘সুন্দরবন সুরক্ষায় কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা’ দ্রুত করতে সরকারের কাছে দাবি জানান। খুলনা বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বারবার লাইটার জাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুন্দরবনে জলভাগে এভাবে পণ্যবোঝাই লাইটার জাহাজ ডুবির কারণে জাহাজের পণ্য দ্রবীভূত হয়ে ম্যানগ্রোভ এ বনের পানি দূষিত হচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের কয়েক শত প্রজাতির মাছসহ জলজপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজ ও পণ্য ওঠানো সম্ভব হলে সুন্দরবনে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি অনেক কম হতো।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, সুন্দরবনে প্রতিটি জাহাজডুবির পর বন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ভিত্তিতে সুন্দরবনের জলজপ্রাণিসহ জীববৈচিত্র্যে ক্ষতির কারণে আদালতে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কোনোটিরই বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, সুন্দরবন রক্ষাসহ মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ছড়িয়ে পড়া তেল জাতীয় পদার্থ দ্রুত অপসারণের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ পশুর ক্লিনার-১ নামে নিজস্ব বর্জ্য অপসারণকারী জাহাজ কিনেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের জন্য মোংলা বন্দর উদ্ধারকারী জলযান কেনার বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে। উদ্ধারকারী জলযান কেনার বিষয়ে একটি প্রস্তাব দ্রুত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

Wednesday, March 28, 2018

চিতলমারীতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট by পঙ্কজ মণ্ডল

বাগেরহাটের চিতলমারীতে গ্রীষ্মের শুরুতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চারদিকে চলছে পানির জন্য তীব্র হাহাকার। এতে দূষিত পানি পান করে নানা রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। সমস্যা সাধানের জন্য জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট লোকজনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ টিউবয়েলে অতিমাত্রায় আর্সেনিক ও নদী-খাল, পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় গ্রীষ্মের শুরুতেই পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে তীব্র পানির হাহাকার লেগেছে। ফলে বেঁচে থাকার তাগিদে অনেকেই দূষিত পানি পান করে জীবন ধারণ করছো। ফলে ডাইরিয়া, আমাশয়, টাইফেয়ডসহ নানা পানিবাহী রোগ-ব্যাধি দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানির অপর নাম জীবন হলেও এই পানি এখন ডেকে আনছে মৃত্যু। বিশুদ্ধ পানির অভাবে শত শত লোক এখন ভুগছে নানা রোগ-ব্যাধিতে। সুপেয় পানির এ এসংকট যেন এলাকাবাসীর নিত্যদিনের সমস্যা। উপজেলাব্যাপী বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব সংকটে এখন দিশাহারা হয়ে উঠেছে লোকজন। গত কয়েক যুগ ধরে এ সমস্যা চলে এলেও এটি সমাধানের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলাকার বেশিরভাগ নদী-খাল ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় গোসল ও খাবারের পানি মিলছে না কোথাও। ফলে লোকজনকে আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি পান করতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানীয়জলের অভাবে শত শত পরিবারের খাওয়া গোসল বন্ধ হতে বসেছে। এছাড়া সদরে অবস্থিত হাসিনা বেগম বালিকা বিদ্যালয়, এসএম মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শিশু কানন বিদ্যা নিকেতন, শেখ হেলাল উদ্দিন একাডেমিসহ ৬-৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শত শত শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় কোনো পানির ব্যবস্থা না থাকায় তারা দূষিত আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে তারা। এ অবস্থায় এ পানি পান করে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে ভুগছে লোকজন। এছাড়া এখানকার বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে সুপেয় পানির অভাবে বিভিন্ন পুকুরের দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেটি পান করার অযোগ্য। বিভিন্ন লোক ভ্যানযোগে পুকুর থেকে এসব পানি তুলে এনে বিক্রি করছে হোটেল-রেস্তরাঁয়। পানির এ প্রকট সমস্যায় যেন দিশাহারা হয়ে উঠেছে লোকজন।
চিতলমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ প্রকল্পটি পাস হলে মধুমতী থেকে পানি এনে এলাকায় সাপ্লাই করা হবে। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অরুণ কুমার মণ্ডল জানান, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডাইরিয়া, আমাশয়, টাইফেয়ডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Sunday, March 25, 2018

ধর্ষিতার আকুতি: ‘মা, আমাকে বিষ এনে দাও’ by মো. আনোয়ার হোসেন

দেড় মাস আগেও সহপাঠীদের সঙ্গে মাদরাসায় যেত শরণখোলা সোনাতলা গ্রামের কিশোরীটি। কিন্তু স্থানীয় ৩ লম্পটের লালসার শিকার হওয়ায় মাদরাসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সে। ঘটনার পর ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে শরণখোলা থানা পুলিশের কাছে যান কিশোরীর মা। কিন্তু পুলিশ অপরাধীদের বাঁচিয়ে মামলা গ্রহণ করে। অথচ ধর্ষকরা এলাকায় বুক ফুলিয়ে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে ৩ বখাটে তাকে ইভটিজিং শুরু করে। ওই সময় অচেনা এক পথচারী যুবক তার প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মধ্য সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস হাওলাদারের ছেলে মোটরসাইকেল চালক বখাটে আইউব হাওলাদার (২২), আঃ রহমানের ছেলে নান্না মিয়া (২৫) ও সোহরাব মাতুব্বরের ছেলে মিজান মাতুব্বর (২৩) ওই ছাত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। এসময় ওই যুবককেও আটক করে তারা। এরপর ওই কিশোরীর সঙ্গে তার কথিত প্রেমের অভিযোগ তুলে বিচারের নামে উভয়কে মধ্য মাঠের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ওই যুবককে মারধর করে গাছে বেঁধে রেখে কিশোরীকে আইউব, মিজান ও নান্না পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে এ নিয়ে মুখ খুললে উভয়কে হত্যার হুমকি দেয় ধর্ষকরা। খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যান মা। এ সময় বখাটেরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, আপনার মেয়ের চরিত্র ভালো না, সে রাতে মাঝ মাঠে অচেনা এ যুবকের সঙ্গে কি করছে? মা হয়ে তো তার কোনো খোঁজখবর রাখেন না। তখন তিনি মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে ওই কিশোরী তার মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলে মা- আমি তোমার মেয়ে, আমি খারাপ না। বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওরা আমাকে বেঁধে মধ্য মাঠে নিয়ে জোর করে আমার সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। আমি আর বাঁচতে চাই না, ভাতের বদলে আমাকে একটু বিষ এনে দাও। তাহলে তুমি-আমি উভয়েই মুক্তি পাবো। তিনি নরপশুদের বিরুদ্ধে ১৬ই ফেব্রুয়ারি থানা পুলিশের কাছে মামলা করতে যান। কিন্তু পড়ালেখা না জানায় অজ্ঞাত কারণে পুলিশ ধর্ষণ মামলার পরিবর্তে রুজু করে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা। আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশ ওই ছাত্রীর পোশাক গ্রহণ করলেও অজ্ঞাত কারণে তার কোনো ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়নি। উল্টো ওই কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে আদালতে জবানবন্দিতে পুলিশের শেখানো কথা বলতে বাধ্য করা হয়। অপরদিকে, স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ বলছেন, ‘তুই বিধবা মানুষ, মামলা চালাবি টাকা পাবি কই? তার চেয়ে মেয়েটার ডাক্তার দেখাতে ২০/২৫ হাজার টাকা নিয়ে আপোষ-মীমাংসা করে ফ্যাল। এক গ্রামে থেকে ওদের সঙ্গে বিবাদ করে লাভ কি? এছাড়া থানায় মামলা ও আদালতে এফিডেভিট করায় বখাটেদের হুমকি-ধমকি সহ প্রভাবশালীদের চাপের মুখে এখন অসহায় অবস্থায় ওই পরিবারটি। তবে সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যশোর মণিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা ইসমাইল দফাদারের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক শিমুল দফাদার (২২) বলেন, ওই মেয়েটির সঙ্গে তার কোনো পরিচয় নেই। তবে ওই দিন বাজারে যাওয়ার পথে ৩ বখাটে ওই মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করছিল। আমি তার প্রতিবাদ করায় আমাকে সহ মেয়েটিকে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে বখাটেরা আমাকে ব্যাপক মারধর করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে মেয়েটিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে ধর্ষক সাজিয়ে এলাকাবাসীর হাতে তুলে দিয়ে শটকে পড়ে আসল ধর্ষকরা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নান্নার পিতা আঃ রহমান হাওলাদার দাবি করেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। এ ঘটনার বিষয়ে সাউথখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা আবু রাজ্জাক আকন ও যুবলীগ নেতা তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত ওই আইউব, মিজান ও নান্নারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এ ধরনের অনেক ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
অপরদিকে, শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম জানান, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তার ব্যর্থতার দায় পুলিশ বহন করবে না।

Thursday, June 29, 2017

সড়কে ঝরল স্বামী-স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের প্রাণ

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজনসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মাঝিগাতী এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন সৌদিপ্রবাসী হালিম আকন্দ (৪৯), তাঁর স্ত্রী আসমা বানু (৪২), তাদের দুই ছেলে সুমন আকন্দ (১৮) ও সিহাব আকন্দ (৬), হালিম আকন্দের শ্যালক বাদল হাওলাদার (৪৫) ও তাঁদের বহনকারী প্রাইভেটকারের চালক। এক পরিবারের সদস্যদের বাড়ি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়। তবে চালকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটগামী প্রাইভেটকারের সঙ্গে ঢাকাগামী সেবা গ্রিন লাইন পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে বাসের নিচে চলে যায়। এতে প্রাইভেটকারের যাত্রী ও চালকসহ ছয়জন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দল গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
নিহত বাদল হাওলাদারের বড় ভাই হালিম হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বুধবার রাতে হালিম আকন্দ সৌদি আরব থেকে ঢাকায় পৌঁছান। তাঁকে স্বাগত জানাতে তাঁর ছোট ভাই, বোন ও ভাগনেরা ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। সেখান থেকে আজ ভোররাতে তাঁরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলী নূর হোসেন দুর্ঘটনায় এক পরিবারের পাঁচজনসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গোপালগঞ্জে আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রাইভেটকার ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে বাসের নিচে চলে যায়। ছবি: প্রথম আলো

Sunday, April 2, 2017

অভিযান সমাপ্তির ৯ ঘণ্টা পর শিশুর লাশ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণার ৯ ঘণ্টা পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে রাহাতের (১০ মাস) লাশ উদ্ধার করা হয়। রাহাত মোরেলগঞ্জের পল্লীমঙ্গল গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় মোট ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হল।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সরদার মাসুদুর রহমান যুগান্তরকে জানান, শনিবার রাতে পানগুছি নদীর সোনাখালী এলাকায় শিশু রাহাতের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ মঙ্গলবার সকালে শতাধিক যাত্রী নিয়ে পানগুছি নদীতে ট্রুলারটি ডুবে যায়।

Thursday, March 30, 2017

বাগেরহাটে ট্রলারডুবি : আরো ৭ লাশ উদ্ধার

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ডুবির ঘটনার তৃতীয় দিনে আরো ৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-বাহিনীর ডুবরি দল। উদ্ধুরকৃত লাশ গুলোর মধ্যে ৪ জন পুরুষ, ১ জন নারী ও ১ শিশু রয়েছে। বৃহষ্পতিবার বেলা ৭ টা থেকে সকাল সাড়ে ৮ টার মধ্যে এই লাশগুলো উদ্ধার করে। নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলের পানগুছি নদীর দুই দিকে ১০ কিঃ মিঃ ব্যাপী ডুবুরিরা সার্চ শুরু করে। মঙ্গলবার ৪ নারীর লাশ ও বুধবার ১ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সব মিলে এখন পর্যন্ত ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল আলম জানান, থানায় বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ ১৭ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানাগেছে। এরমধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৫ জন শিশু ও বাকীরা মহিলা। নিখোঁজদের এই ১৭ তালিকার মধ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৬ টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বাকী ১১ জনের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পানগুছি নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারনে খেয়া পারাপারের ট্রলার ডুবে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাগেরহাটে ট্রলারডুবিতে নিহত বেড়ে ১২

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় আরও ৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় নিহত বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। মোড়েলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে নদীর বিভিন্নস্থানে ভেসে থাকা অবস্থায় ৭ জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পানগুছি নদীতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও স্রোতের তোড়ে শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় এখনও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা হায়দার আলী আকন জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Wednesday, March 29, 2017

বাগেরহাটে ট্রলারডুবি: আরো একজনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১৭

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পানগুছি নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় মুন্নী আক্তার নামে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় মোড়েলগঞ্জ উপজেলার শ্রেণীখালীর নদীর চর থেকে মুন্নীর লাশ উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার চিংড়িখালী এলাকার তোতা শিকদারের স্ত্রী। মোড়েলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা হায়দার আলী আকন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধার কর্মীরা। হায়দার আলী আকন জানান, আজ সকাল ৬টা থেকে নিখোঁজ বাজি ১৭ জনের সন্ধানে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে ফায়ারসার্ভিস, নৌবাহিনী ও পুলিশ।  ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে লাশের সন্ধান। সকাল ১১টায় মোড়েলগঞ্জ উপজেলার শ্রেণীখালীর নদীর চর থেকে মুন্নী আক্তারের লাশ উদ্ধার করে উদ্ধার কর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে প্রমত্তা পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে, মোড়েলগঞ্জের কাছিঘাটা গ্রামের হেলেনা বেগমের ৬ বছরের শিশু নাজমুল,
ছোট জামুয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৩৮), উত্তর ফুলহাতা গ্রামের হাসিব (৮), ছোটপড়ি গ্রামের নাসিমা আকতার (১৮), রায়েন্দা বাজারের আবির (১৭), বদনিভাঙ্গা গ্রামের বশির (২২), কাছিকাটা গ্রামের আব্দুল মজিদ শেখ, বরুজবাড়িয়া গ্রামের সুলতান আহমেদ (৬০), ভাইজোড়া গ্রামের খাদিজা (৪০), রাহাত (১০), আনছার হাওলাদার (৩৮), মোশার্রফ হাওলাদার (৫০), সালমা বেগম (৩০)  শিশু সাজ্জাত (২) ও লাবনী আক্তারহ (৭) ১৭ জন। সকাল সাড়ে ১১ টায় মোড়েলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান যুগান্তরকে জানান, মোড়েলগঞ্জের শ্রেণীখালী এলাকা থেকে মুন্নি আক্তারের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।  সকাল ৬ টার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল ও নৌবাহিনী সদস্যরা লাশের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে। তারা সম্ভাব্য যে সকল স্থানে লাশ ভেসে যেতে পারে সেই স্থানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

Saturday, December 13, 2014

তেল অপসারণে ১০০ নৌকায় অভিযান

১০০ ভাড়া করা নৌকা দিয়ে শেলা নদী থেকে তেল সংগ্রহ শুরু করেছে বন বিভাগ। গ্রামবাসী এবং জেলেরা তেল সংগ্রহ করে তা রাষ্ট্রীয় কোম্পানি পদ্মা অয়েলের কাছে প্রতি লিটার ৩০ টাকায় বিক্রি করছে। এই পদ্ধতিতে তেল অপসারণের ফলে সুন্দরবন সংলগ্ন খাল ও নদী থেকে তেলের তেজস্ক্রিয়তা কমে আসবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বন বিভাগের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কার থেকে নদীর ৮০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে তেল অপসারণের জন্য রাসায়নিক পদার্থ ছিটানোর কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের তেল ছড়িয়ে পড়ায় চারদিনে ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে। সেখানে রাসায়নিক দ্রব্য ছিটানো হলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে কিনাÑ সেটা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। ট্যাংকার ডুবে যাওয়ার চারদিনের মাথায় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, সাধারণ মানুষের মাধ্যমে নদী থেকে তেল সংগ্রহের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গত মঙ্গলবার ভোরে প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে অন্য একটি জাহাজের ধাক্কায় তলা ফেটে ডুবে যায় ওটি সাউদান স্টার -৭। এ সময় নিখোঁজ হন ট্যাঙ্কারের মাস্টার মোখলেছুর রহমান। এখনও তার খোঁজ মেলেনি।