Wednesday, November 28, 2018

রাজনৈতিক বিরোধ, তবু তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু

ভারত ও পাকিস্তান। রাজনীতি, খেলাধুলা সহ সব ক্ষেত্রেই যেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুটি দেশ। কিন্তু এই দুটি দেশের দুই রাজনীতিক ও সাবেক ক্রিকেটারের মধ্যে রয়েছে অকৃত্রিম বন্ধুত্ব। তা নিয়ে বার বার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। আরো একবার তারা সংবাদ শিরোনামে উঠে এলেন। এরা হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খান। অন্যজন হলেন ভারতের পাঞ্জাবের মন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেটার নভোজট সিং সিধু। ক্রিকেট মাঠে তারা ছিলেন একে অন্যের প্রতিপক্ষ।
কিন্তু দৃশ্যত এখন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব। তারই নিদর্শন হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সিধু। অবশ্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ইমরান খান। সিধুর সেই যোগ দেয়া নিয়ে ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় হয়। সেই ইমরান খান আগামী ২৮ শে নভেম্বর কর্তারপুর সীমান্ত করিডোর উদ্বোধন করবেন। একে যুগান্তকারী এক অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নভোজত সিং সিধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইমরান খান। সেই আমন্ত্রণ গর্বের সঙ্গে গ্রহণও করেছেন সিধু। নিশ্চিত করেছেন যে, ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
নভোজত সিং সিধু বলেছেন, ‘বাবা নানক আমাদের দুটি দেশকে একত্রিত হতে সহায়তা করছেন। কোটি কোটি মানুষের প্রার্থনা এখন সত্যি হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছে তিন মাস আগে। আমার বন্ধু (ইমরান খান) আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং অবশ্যই আমি তাতে যোগ দেব’। সিধু আরো বলেছেন, ইমরান খানের এই করিডোর উদ্বোধনের উদ্যোগ অবশ্যই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত করবে এবং রক্তপাত বন্ধ হবে।
কর্তারপুর সীমান্ত করিডোরের পাকিস্তান অংশের উদ্বোধন করবেন ইমরান খান। এ উপলক্ষে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী আগেভাগেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, নভোজত সিধু পাকিস্তান সফরে যাবেন। এটা হবে এ বছরে সিধুর দ্বিতীয়বার পাকিস্তান সফর।
উল্লেখ্য, ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যখন নভোজত সিং সিধু যোগ দিয়েছিলেন আগস্টে তখনই কর্তারপুরের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। ওই সফরের সময় পাকিস্তানের  সেনা প্রধান কমর জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এ ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে সেই সমালোচনার কাছে মাথা নত করেন নি সিধু। তিনি আত্মপক্ষ সমর্থণ করেছেন। বলেছেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তাকে বলেছেন, কর্তারপুর সাহিবে একটি করিডোর উন্মুক্ত করা হতে পারে।
পাকিস্তানের এমন উদ্যোগের জবাব দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তারা বৃহস্পতিবার বলেছে, পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর জেলা থেকে আন্তজাতিক সীমান্ত পর্যন্ত ওই করিডোরের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ করবে তারা। এর ফলে ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা পাকিস্তানের কর্তারপুরে অবস্থিত গুরুদ্বার দরবার সাহিব সফরে যেতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে শুক্রবার চিঠি লিখেছেন ক্রিকেটার কাম রাজনীতিক নভোজত সিং সিধু। তাতে তিনি বলেছেন, এই পথে যেয়ে এ অঞ্চলে বিশ্বাস ও ভালবাসার একটি নতুন অধ্যায় রচনা করা হচ্ছে। আমি প্রার্থনা করি এবং প্রত্যাশা করি এই উদ্যোগ অপরিহার্য ও ব্যাপক পরিবর্তন আনবে। সম্পর্ক উন্নত হবে। এতে সম্পর্কের সেতুবন্ধন রচিত হবে। শত্রুতা নিঃশ্বেষ হবে।
সিধু একজন শিখ ধর্মাবলম্বী হিসেবে এমন উদ্যোগের ভীষণ প্রশংসা করেন। কারণ, ওই করিডোরটি উন্মুক্ত করার জন্য সারাবিশ্বের শিখ সম্প্রদায়ের দাবি ছিল। আর এ উদ্যোগ নেয়ায় শিখ তীর্থযাত্রীদের মাঝে নতুন আশার আলো এনে দিয়েছে।

ইরানে চালু হলো ক্যান্সারের ওষুধের সর্ববৃহৎ কারখানা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে ক্যান্সারের ওষুধ তৈরির সর্ববৃহৎ কারখানার উৎপাদন শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্যান্সারের ওষুধের সবচেয়ে বড় কারখানা এটি। কারখানাটি রাজধানী তেহরানের অদূরে কারাজ শহরে অবস্থিত।
গতকাল (সোমবার) কারখানার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইয়্যেদ হাসান কাযিযাদেহ হাশেমি উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছেন, এই কারখানায় উন্নতমানের ওষুধ তৈরি হবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে এ ধরনের ওষুধ কারখানার উদ্বোধনকে ইরানের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্যান্সারের মতো বিশেষ রোগের ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে যখন আশঙ্কা করা হচ্ছে ঠিক তখনি তা উদ্বোধন করা হলো।
সম্প্রতি ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রধান আলী আসগার পেইভান্দি বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে খাদ্য ও ওষুধের মতো পণ্যকেও টার্গেট করেছে আমেরিকা। এর অর্থ হলো আমেরিকা ইরানি জনগণকে কষ্ট দিতে চায়।

এরশাদ সিএমএইচে দিকভ্রান্ত নেতাকর্মীরা

জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমইচে) ভর্তি রয়েছেন। সোমবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিএমইচে ভর্তি করা হয়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এদিকে পার্টি চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দিকভ্রান্ত অবস্থায় রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। পার্টির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা গতকালই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার হেলিকপ্টারে চড়ে পটুয়াখালী-১ এ নিজের বরিশাল-৬ এ স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার মনোনয়নপত্র জমা দেন। নিজ এলাকায় তিনি অবস্থান করায় দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পার্টি চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে দিনভর অপেক্ষা করেও তার সাক্ষাৎ পাননি।
দলটির পক্ষ থেকে কতজন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, মনোনীত প্রার্থীরা দল না জোটের হয়ে নির্বাচন করবেন এ বিষয়ে গতকাল দলের নীতি-নির্ধারকদের কেউই কিছু বলতে পারেননি।
বিকাল ৪টায় জাপা মহাসচিব বনানী কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়নের অবশিষ্ট চিঠি বিতরণ করার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। এদিকে পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়নের চিঠি না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেক নেতা। তারা বলেন, বুধবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে আমরা এলাকায় গিয়ে মনোনয়ন ফরম কিভাবে জমা দিবো জানি না। কয়েকজন নেতা বলেন, মনোনয়ন ফরম যদি না দেয়া হয় তাহলে তো স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার অপশন খালি রয়েছে। পার্টির দপ্তর থেকে জানানো হয়, এরশাদ হাঁটু ব্যথাসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন। তার শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এমনকি তিনি দাঁড়াতেও পারছেন না। যেকোনো সময় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
পার্টির কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে মহাসচিব এবং তার স্ত্রী তার নির্বাচনী এলাকায় গেছেন মনোনয়নপত্র দাখিল করতে। তিনি কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এমন কেন করছেন তার সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেনি পার্টি অফিসে থাকা এরশাদের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জাপা মহাসচিব বিকালে এসে বাকি মনোনয়নপত্র বিতরণ করবেন। মনোনয়নের তালিকা নিয়ে গড়িমসি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা চেয়ারম্যান মহাসচিবকে দায়িত্ব দিয়েছেন কেবল তিনিই এর জবাব দিতে পারবেন। তাদের হাতে মহাসচিব যে কয়টি মনোনয়নপত্র রেখে গেছেন সে কয়টি কেবল সেসব নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
ঠিক কতটি আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে এ বিষয়ে পার্টির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয় নি। সংখ্যা নিয়ে প্রথম থেকেই চলছে লুকোচুরি। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে মহাজোট থেকে জাপা ৪৭টি আসন পেয়েছে এমন একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে কোনো পক্ষই এই তালিকার সত্যতা নিশ্চিত করেনি। মহাজোটের মনোনয়ন তালিকায় নাম না থাকায় এমপি শওকত চৌধুরী সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার টাকা ফেরত দিয়ে স্যারকে (এরশাদ) এবং হাওলাদারকে সৈয়দপুর যেতে বলবেন। না হলে দেখে নিবো। তার জন্য আমি কি করি নাই? যখন যা বলেছেন তাই করেছি। এবার ৬০ লাখ টাকা দিয়েছি তারপরও আমাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না। টাকা ফেরত না দিলে পুলিশও তাদের রক্ষা করতে পারবে না, আমি এটা বলে গেলাম। পরে তাকে ডেকে নিয়ে পার্টির মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, আমাদের যদি মনোনয়ন দেয়া নাই হবে, তাহলে কেন এত টাকা নিলো। এত টাকাইবা খরচ করানো হলো কেন’। তিনি এ সময় টাকা ফেরত দাবি করেন। পার্টির চেয়ারম্যান তাহলে লক্ষাধিক লোকের সামনে কেন আমাকে পার্টির এবং মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করলেন। গাজীপুর-৫ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী গাজী ওবায়দুল কাদের মজনু বলেন, নির্বাচন আসলে পার্টির চেয়ারম্যান যদি সিএমএইচে থাকেন তাহলে পার্টি চালাবে কে। আমাকে মনোনয়ন ফরম নেয়ার জন্য মহাসচিব আসতে বলেছেন। মহাসচিব আসবে সে অপেক্ষায় আছি। পার্টির মনোনয়নের চিঠি না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবো। জাপা আমার কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা নিয়ে এক প্যাকেট বিরানি ধরিয়ে দিয়েছে।
যশোর-৫ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার কথা আমাকে জানিয়েছে। এ কারণে পার্টির মনোনয়ন ফরমের চিঠি নিতে এসেছি। পার্টির চিঠি না পেলে পরে দেখবো কি করা যায়।

অ্যাটর্নি জেনারেলের মন্তব্যে অনেকেই স্তম্ভিত

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মন্তব্যে অনেকেই স্তম্ভিত। কারণ তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য। অথচ খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় পাননি। রায় না পেলে তিনি আপিল করতে পারছেন না। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় তিনি ৭ বছরের দণ্ড পেয়েছেন। সেই দণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন এবং তাতে তিনি স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু সেই বিষয়ে আদালত এখনো সিদ্ধান্ত দেননি।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট টুয়েন্টিফোরডটকম বলেছে, ‘বেগম খালেদা জিয়া এখন খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে হলে, পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও অ্যাটর্নি জেনারেল জানান।
তিনি বলেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ আছে, কিন্তু সংবিধানের ধারা কোনো আদালতেরই অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।’
এ পর্যায়ে  মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিচারিক আদালতে সাজা হলেও, আপিল চলমান অবস্থায় তারা নির্বাচন করেছেন, সেটা বেআইনি কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তা এড়িয়ে যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রবীণ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার এর আগে সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশে প্রাকটিস হলো আপিল করেই নির্বাচন করা যাবে। কারণ আপিলকে ধরা হয় চলমান বিচারের অংশ।  
অভিজ্ঞ আইনজীবীরা বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এমন কিছু বলছেন, যা আদালতে এর আগে কাউকে বলতে শোনা যায়নি। প্রবীণরা বলেছেন, তারা নতুন কিছু শুনছেন। কারণ আপিল বিভাগের রায় আছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কে যোগ্য বা অযোগ্য সেটা ঠিক করবে ইসি। আর সেখানে যদি কোনো সংবিধান লংঘনের ঘটনা ঘটে তখন তা কেবল উচ্চ আদালতে আসতে পারে। এখন তিনি যা বলেছেন, তা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেয়ার শামিল। এমনকি তার বক্তব্য আপিল বিভাগের রায় দ্বারা সমর্থিত নয়। আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী যেকোনো রিটার্নিং অফিসার বেগম খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ বলে ঘোষণা দিতে পারেন। তারা দেবেন কিনা সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু আইন তাকে বাধা দিবে না। কেউ তা মনে করলে তার বৈধতা ইসিতে আপিলে চ্যালেঞ্জড হবে।
ইসির নেয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা রিটে পরীক্ষা না করতেও আপিল বিভাগের নির্দেশনা আছে। বৈধতা পরখ করতে চাইলে ভোটের পরে করতে হবে, ভোটের আগে নয়। তফসিলের পরে এগুলো নির্বাচনী বিরোধ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিষয়টি দেখবেন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল। হাইকোর্টের বিচারকদের নিয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনাল অনধিক ৬ মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করবেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অতীত নজির হলো একই দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সকালে একরকম আবার বিকেলে বিপরীত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এভাবে তিনি জিতেছেন, মন্ত্রী হয়েছেন। টানা ৫ বছর দিব্যি কেটে গেছে, আর সেটাই বর্তমান অ্যাটর্নি  জেনারেল নিজেই অবলোকন করেছেন।
এবার হাইকোর্টে আপিল করা বিএনপির পাঁচ নেতা হলেন আমানউল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাব। এই পাঁচ নেতার নির্বাচনে অংশ নেয়াও এখন অনেকটাই অনিশ্চিত।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যারা আবেদন করেছিলেন তারা সবাই দণ্ডপ্রাপ্ত। তারা তাদের দণ্ড থেকে মুক্তি লাভ করেনি। তাদের ৫ বছর সময় অতিবাহিত হয়নি। এমতাবস্থায় যদি তাদের দণ্ড স্থগিত করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেয়া হয় তা হবে আমাদের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। কাজেই আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ থাকলো না বলে আমি মনে করি।’
খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, এটি সাংবিধানিক বিধিবিধান। যে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিংবা সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে থাকতে পারবেন না যদি কিনা ওই ব্যক্তি ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হন এবং মুক্তিলাভের পর ৫ বছর সময় অতিবাহিত না হয়। এখানে শর্ত ২টি। তাহলো- তিনি যদি দণ্ডিত হন তাহলে পারবেন না। আর মুক্তিলাভের পর ৫ বছরের আগে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। কাজেই খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে দুইটি প্রতিবন্ধকতাই রয়েছে। কোনো আদালত তার রায় দিয়ে এই সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করতে পারেন না।’  
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনবিদরা বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল যা বলেছেন, সেটা  যেকোনো মীমাংসিত আইন নয়, তার জ্বলন্ত প্রমাণ তিনি নিজেই। কারণ সরকারদলীয় দণ্ডতিদের সংসদ সদস্যপদ টেকাতে তিনি যা খালেদা জিয়ার বিষয়ে বলেছেন, ঠিক তার উল্টা অবস্থান নিয়েছেন। এখন তিনি আকস্মিক তার অবস্থান পরিবর্তন করছেন। কিন্তু বড় কথা হলো, সাবজুডিশ বিষয়ে নির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট বক্তব্য রেখে তিনি সংবিধান ও আদালতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন বলেই প্রতীয়মান হয়।
বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পর আপিল করে সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকার নজির আছে। দুর্নীতির মামলায় ২০০৮ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালত ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীকে ১৩ বছর কারাদণ্ড দেন। আর সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ২০১৬ সালের ৩রা নভেম্বর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির তিন বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার একটি আদালত।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মওদুদ আহমদ প্রথম আলো অনলাইনকে গতকাল বলেছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কারণ, নিম্ন আদালতের দণ্ডই চূড়ান্ত দণ্ড নয়। নিম্ন আদালতের দেয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া হাইকোর্টে আপিল করবেন। আবার হাইকোর্টের দেয়া দণ্ড বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবেন খালেদা। মওদুদ আহমদ মনে করেন, খালেদার আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হওয়ার পরও আপিল করে সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকার নজির আছে।

ভারতভুক্তির তিন বছর পর সাবেক ছিটবাসীরা জমির স্বত্ব পাচ্ছেন

ভারতভুক্তির তিন বছর পর সাবেক ছিটবাসীরা জমির স্বত্ব পাচ্ছেন। গত তিন বছরে  প্রশাসনের কাছে বহু অনুনয় করেও কাজ হয় নি। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নিদের্শের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় সাবেক ছিটমহলে বসবাসকারীদের জমির স্থায়ী মালিকানা দিতে ভূমি আইনের সংশোধনী সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। এই বিল পাসের পর সাবেক ছিটবাসীরা খুশি। বিরোধীরাও আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা একই সঙ্গে  সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের  সার্বিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা দেওয়ার দাবিতে সরব হয়েছেন। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, দু’বছর আগেই এটা হতে পারত।
কোচবিহারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা বুঝেছিলেন। তাই তাড়াহুড়ো করে করা হল। এ দিন বর্তমান ভূমি আইনে ৩-বি নামে নতুন ধারা যুক্ত করে ছিটমহলের সব জমিকে খাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩-বি (২) ধারা যুক্ত করার ফলে ওই জমিতে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে জমির আইনি অধিকার দেওয়া সম্ভব হবে। ২০১৫ সালে ছিটমহল চুক্তির পরে বাংলাদেশ থেকে ভারত পায় ৭১০০ একরের কিছু বেশি জমি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ছিটমহল বিনিময়ের পর নাগরিকত্ব বেছে নেওয়ার যে বিকল্প ছিটমহলের বাসিন্দাদের কাছে ছিল তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি ছিটমহলগুলির ৯২২ জন বাসিন্দা ভারতের নাগরিকত্ব নিয়েছেন। কিন্তু ভারতে থাকা বাংলাদেশি ছিটমহলগুলির ২৩,৩২৪ জনের কেউ বাংলাদেশে যান নি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্র সাবেক ছিটবাসীদের উন্নয়ন ও পরিকাঠামো খাতে ১০০৫ কোটি রুপি দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা এখনও পূরণ করে নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ‘৫৭৯ কোটি টাকা কেন্দ্র দিয়েছে। এখনও ৪২৬ কোটি টাকা দেয় নি। জানা গেছে, সাবেক ছিটমহলকে এবার পঞ্চায়েতের আওতায় আনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাস্তা, হাসপাতাল অন্যান্য পরিকাঠামো সব হচ্ছে। সেখানকার মানুষদের রেশন, ভোটার কার্ড, বিদ্যুৎ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি সমস্যা আমরা দেখছি। বিরোধীদের দাবি মেনে ছিটমহলের বাসিন্দাদের ‘কন্যাশ্রী’, ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

দিল্লীর সরকার পরিবর্তন হলে মানুষের মুখে হাসি ফুটবে: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আগামীতে দিল্লীর সরকার পরিবর্তন হলে মানুষের মুখে হাসি ফুটবে। তিনি আজ (মঙ্গলবার) পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়াতে এক সভায় ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন,  ‘আমি চাই আপনারা মনের জোর নিয়ে কাজ করুন,  ভালো করে কাজ করুন। ভয় পেলে কিছু হবে না। দিল্লীর সরকার আমাকেও নানাভাবে উত্যক্ত করে। কিন্তু আমিও ওদের ছাড়িনা।’
মমতা বলেন, মানুষের ভরসা পাওয়াটাই তার কাছে  মুখ্য, দিল্লীর গদি নয়। তিনি বলেন, ‘আমি যা করবো বলে কথা দেই, জীবন দিয়ে হলেও সেই কথা রাখি। কিন্তু যারা নির্বাচনের আগে একরকম পরে আরেকরকম কথা বলে  আমি তাদের সঙ্গে নেই।’
কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিল (৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট)  কর্মসূচি প্রসঙ্গে মমতা বলেন,  ‘নোট বাতিলের ফলে ব্যবসা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশে  বেকারত্ব বেড়েছে। ছোট ব্যাবসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।  মাঝারি ও বড় ব্যাবসাও অনেক  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ দেশ ছেড়ে চলেও গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য রাজনীতি নয়, মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করাটাই রাজনীতি।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  দিল্লীর সিংহাসনের (কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় যাওয়ার) লোভ নেই, আমি জনতার ভরসা চাই’।

ভগ্নিপতি ওমর সা'দের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে কারবালার বদলা নেন মুখতার

১৩৭৪ বছর আগে ৬৫ হিজরির এই দিনে (নয়ই রবিউল আউয়াল) কারবালার অতি অসম-যুদ্ধ ও মহা-ট্র্যাজেডির অন্যতম প্রধান অপরাধী ইয়াজিদ বাহিনীর সেনাপতি ওমর ইবনে সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাসের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কারবালার ঘটনার প্রায় চার বছর পর নবী (দ.)- বংশের পক্ষে গণ-জাগরণে নেতৃত্বদানকারী বীর মুখতার সাকাফির নির্দেশে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় যদিও ওমর সাদ ছিল মুখতারের আপন ভগ্নিপতি।
বিশ্বনবী (সা.)’র প্রিয় নাতী হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবারের প্রায় সব পুরুষ সদস্যসহ (একজন ছাড়া) নবী (সা.)বংশের বেশ কয়েকজন সদস্য ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছিলেন ওই যুদ্ধে।  ইমামের ছয় মাসের শিশুপুত্র হযরত আলী আসগর (র.)সহ নবী-বংশের প্রায় ১৮ জন সদস্য শহীদ হন। এ ছাড়াও  ইমামের পক্ষে বীরের মত লড়াই করে প্রায় ১০০ জন সঙ্গী-সাথীও এ যুদ্ধে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হয়েছিলেন। ইয়াজিদের নির্দেশে কুফার গভর্নর ইবনে জিয়াদের ফরমান পেয়ে ত্রিশ হাজারেরও বেশি সেনা নিয়ে ওমর সা'দ কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হয় যুদ্ধ নতুবা ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের অপমানজনক শর্ত আরোপ করেছিল। ইমাম (আ.) ও তাঁর অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজনসহ কারবালায় নবী-বংশের প্রেমিক প্রায় ১০০ জন সদস্য ত্রিশ হাজার সুসজ্জিত সেনার বিরুদ্ধে প্রবল পিপাসার্ত অবস্থায় বীরের মত লড়াই করে শহীদ হন এবং এভাবে তাঁরা ইসলামের ইতিহাসে ধর্মের জন্য বীরত্ব ও ত্যাগের এক অনন্য-অমর দৃষ্টান্ত রচনা করেন। 
ইমাম শিবিরের জন্য কয়েকদিন ধরে পানি সরবরাহ নিষিদ্ধকারী ইয়াজিদ বাহিনী নবী-পরিবারের সদস্যদের লাশের ওপর ঘোড়া ছুটিয়ে লাশগুলো দলিত-মথিত করেছিল এবং তাঁদের মস্তক ছিন্ন করে বর্শার আগায় বিদ্ধ করেছিল। তারা কারবালায় ইমাম শিবিরের তাঁবুগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে লুটপাট চালিয়েছিল। এ ছাড়াও নবী-বংশের নারী ও শিশুদেরকেও টেনে হিঁচড়ে শিকল পরিয়ে বন্দী অবস্থায় কুফার গভর্নরের দরবারে ও দামেস্কে ইয়াজিদের দরবারে নিয়ে গিয়েছিল খোদাদ্রোহী ইয়াজিদ বাহিনী।
নবী-বংশের পক্ষে মুখতারের গণ-জাগরণের ফলে ইরাকে উমাইয়া শাসনের অবসান ঘটেছিল এবং কারবালার নৃশংসতায় জড়িত প্রায় সব প্রধান নরপিশাচকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল মুখতারের বিপ্লবী গণ-বাহিনী।