Thursday, December 28, 2017

যেখান থেকে পানির স্রোত এসেছে সেটা সামনে আসে নাই

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গতকাল চতুর্থদিনের মতো যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তাকে খালাস দিতে আদালতের কাছে আর্জি জানান রেজাক খান। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষে খালেদা জিয়ার অন্য আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে আজ আবারো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন খন্দকার মাহবুব হোসেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ রাজধানীর বক্‌শীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ডে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলছে। মামলায় হাজিরা দিতে গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় কড়া নিরাপত্তায় আদালতে আসেন খালেদা জিয়া।
১১টা ২০ মিনিটে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন আবদুর রেজাক খান। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ১৫ মিনিটের বিরতিতে যান আদালত। বিরতি শেষে ২টা পর্যন্ত শুনানি হয়।  
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান (প্রয়াত) অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন রেজাক খান।  আদালতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই টাকা আকাশে ভাসতে ভাসতে আসে নাই। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা আছে মোস্তাফিজুর রহমানের মাধ্যমে এই টাকা এসেছে। মামলার সাক্ষীরাও এই কথা বলেছেন। কে কোথায়, কখন অনুদান দিয়েছে, আগে প্রমাণ করতে হবে অনুদানটা কে আনিয়েছে। উনারতো (খালেদা জিয়া) প্রশ্নই ওঠে না। খালেদা জিয়াও তার বক্তব্যে বলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান এই টাকা এনেছেন। তাই এই টাকার ভাগীদার মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, ৪০৯ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি বাক্যও উচ্চারণ করা হয়নি। তবে, এই কথাটা ওঠেছে যে যেহেতু মোস্তাফিজুর রহমান মারা গিয়েছে তাই তার নামে মামলা হয়নি। রেজাক খান বলেন, প্রাথমিক ডকুমেন্ট দিয়েই মামলার সবকিছু প্রমাণ করতে হয়। এজাহারের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই মামলায় মোস্তাফিজুর রহমান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। আসামিপক্ষ যখন মামলায় একটা কিছু থ্রো করে কিছু বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করে তখন এটা গ্রহণ করা না করা- এর একটি মাপকাঠি থাকে। রেজাক খান বলেন, পুরো টাকাটা নিয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন এসেছে। এই টাকার দু’টো ভাগ হয়েছে। একভাগ গেছে অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বাগেরহাট। অন্য ভাগ গিয়েছে চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে বগুড়ায়। মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়েই এই মামলা সাজানো হয়েছে। তিনি মারা গিয়েছেন। তাতে কি? বেনিফিসিয়ারি ওই যে ব্যাংকের যোগসাজশ যাদের ছিল তারাতো আছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আছে একরকম। আর এজাহারে এসে হঠাৎ করে যেখানে খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা আছে শুধু সেটাই নিয়ে আসা হলো। এজাহারে আরম্ভ করলো ৪ লাখ দিয়ে। শেষ করলো ২ লাখ দিয়ে। এর কোনো ব্যাখ্যা নেই। কৈফিয়তও নেই।
রেজাক খান বলেন, যদি কোনো মামলায় অসৎ উদ্দেশ্য থাকে, পারসিকিউট (হয়রানি) করা হয়, বেছে বেছে একে দিলাম তাকে দিলাম, আর কিছু ছেড়ে দিলাম, আদালতের কাছে আমি নিবেদন করবো এই যে দৃষ্টিভঙ্গিটা অনুগ্রহ করে এটি বিবেচনায় নেবেন। আদালতের উদ্দেশ্যে সিনিয়র এ আইনজীবী বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন বিজ্ঞ বিচারক হিসেবে আপনি বিবেচনা করবেন যে, এই মামলা ধোপে টিকেছে কিনা।            
আদালতের উদ্দেশ্যে রেজাক খান বলেন, আমার রুলস হচ্ছে বিজ্ঞ আদালতকে আইনি সহায়তা দেয়া। কোনোদিন অ্যাবস্ট্রাক্ট ল’ দিয়ে কোনো মামলার বিচার হয় না। উচ্চ আদালতও বলেন, বিচারিক আদালতে সর্বপ্রথমে ফ্যাক্টস (তথ্য) যত আছে তা উপস্থাপন করতে। তারপর আইনের সহায়তা নিতে, আইন দিয়ে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। এই মামলায় একতরফাভাবে যেটি রেকর্ডেও নেই সেটাও আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের বাইরে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেটা নিয়ে আমরা বলতে চাই না। কিন্তু সর্ব প্রথম আমরা শুনলাম যে মোস্তাফিজুর রহমান মারা গিয়েছেন- এজন্য তার নামে মামলা হয়নি। এটি আদালতের ভিতরের কথা নয়, কিন্তু বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোন নথিপত্র নেই। মৌখিকভাবেও কেউ বলেনি যে তার নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কুয়েতের অ্যাম্বেসি থেকে এই টাকা এসেছে। সেই নথিপত্র আমরা আদালতে উপস্থাপন করেছি। যেখান থেকে পানির স্রোত এসেছে, সেটা কিন্তু সামনে আসে নাই। কিন্তু আমরা একটি সত্যকে আমরা প্রকাশ করেছি। আমরা একটি প্রতিবেদন এফিডেভিট আকারে জমাও দিয়েছি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। কিন্তু এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (মোশাররফ হোসেন কাজল) এটি প্রমাণ করতে পারেননি। তিনি এটা কোথাও প্রমাণ করতে পারেননি যে খালেদা জিয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, টাকা তুলেছেন।  
এই মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তেব্যর উদ্ধৃতি দিয়ে রেজাক খান বলেন, সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ মামলা দায়ের করা হয়। এ সরকারের আমলেও তাঁর বিরুদ্ধে অনেক মামলা দেয়া হয়েছে। মামলার ভারে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ব্যাহত  হচ্ছে। শুনানিতে রেজাক খান বলেন, এই মামলা খালেদা জিয়ার জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলা। কিন্তু দুদক কেন এই মামলা বেছে নিল এর কোন জবাব নেই। মামলা যদি প্রমাণ হয় হবে। এত মামলা রয়েছে কিন্তু ১৯৯১ থেকে ২০০৯ কিংবা ২০১০- এই ১৯ বছরে এই মামলা নিয়ে দুদক ভালোভাবেই দৌড়ঝাঁপ করতে পারতো। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলার অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমরা খালেদা জিয়ার খালাসের দাবি জানাচ্ছি। রেজাক খান শুনানি শেষ করলে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যাই বলি না কেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে যাই থাকুক না কেন এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। আমরা যাই বলি না কেন যে কোনোভাবেই হোক খালেদাকে চোর বলতে হবে- এটাই এই মামলার উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, এই টাকা কে পাঠিয়েছে, এ বিষয়ে কি নির্দেশনা ছিল তা প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে পারেনি।   
শুনানি শেষে দুদকের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে কিভাবে ব্যর্থ হয়েছে সেটাতো তারা (আসামিপক্ষ) বলেননি। এই মামলায় ৩২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই সাক্ষীদের মধ্যে কোনো কোনো সাক্ষী ব্যর্থ হয়েছেন সেটাতো তারা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, সাক্ষীদের প্রত্যেকেই বলেছেন যে খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার সময়ে মোস্তাফিজুর রহমান এই টাকা নিয়ে এসেছিলেন। তিনি (খালেদা জিয়া) তার বাড়িতে বসে এই ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় দুদক এ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। এ মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৬শে জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

টেপ থেকে

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে গত রোববার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। শিক্ষা পরিদর্শকদের ল্যাপটপ প্রদান অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রায় ৫০ মিনিট বক্তব্য দেন। তার পুরো বক্তব্য অধিদপ্তরের ফেসবুক পেজে  সরাসরি প্রচার করা হয়। সেখান থেকে নেয়া ভিডিও রেকর্ড শ্রুতিলিখন করে ঘুষ, দুর্নীতি বিষয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিআইএ কর্মকর্তারা এগুলো...নানা প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আপনাদের দক্ষতাকে কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। মন-মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েই কাজটা করবেন।
তবে এটা ঠিক আমি অতীতটাকে আপনাদের গাড়ে চাপাতে চাচ্ছি না। আমাদের অভিজ্ঞতা ও অতীতকে স্মরণ করে কাজ করতে হবে। কারণ, ডিআইএ বাস্তব কাজের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার কাজ যদি সঠিকমতো হয়, তবেই সব জায়গায় ঠিকঠাক মতো চলবে।
আগে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) নাম ছিল ফ্যাসেলিটিজ ডিপার্টমেন্ট। সবাই ঠাট্টা করে বলতো ফ্যাসেলিটিজ মানে নিজেদের ফ্যাসেলেটিজ করা। মানুষের কল্যাণের জন্য না। এমনটাই ধরে নেয়া হতো। ওইখানে এমন একটা অবস্থা ছিল যারা যোগ্য দীর্ঘ অভিজ্ঞতা আছে, তাদের নিয়োগ দেয়া হতো না। চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব ছাড়া কেউ এখানে ওপরে পদে উঠতে পারতো না। চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ ওপরের পদগুলোতে আসতো চুক্তিভিত্তিতে। তাদের এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হতো। এই এক বছরে তিনি এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের মতো গ্রহণ করবেন? করবেন না। আর ওই লোকগুলো কোথায় থেকে আসতো। এখানে আসার একটা ম্যাকানিজম ছিল। ২০০৯ সালে মন্ত্রী হওয়ার পর দেখলাম এখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ চলে আসছে। আমার সঙ্গে কথা না বলেই চিপ ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেয়া হতো। আমি এটার খোঁজ নিয়ে দেখলাম এখানে বিরাট অংকে টাকার বিনিময়ে আসেন। এটা শোনার পর আমার মাথা ঘুরে গেল। আমি না জানার কারণ হলো এ কাজটা ওপরে সারা হয়ে যেতো। এজন্য ইইডির সবাই হতাশ হয়ে পড়েন। বর্তমান চিফ ইঞ্জিনিয়ার দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা কর্মদক্ষতার কারণে গত বছর এডিবি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ভালো ছিল। আমরা তাকে এবং তার ডিপার্টমেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছি।
মন্ত্রী বলেন, আমি আসার পর সরকারের নানা পরিকল্পনার বিষয় নিয়ে সব দপ্তরকে নিয়ে আলাদা আলাদা বসলাম। আমি সব জায়গায় এমনকি মন্ত্রণালয়ে যোগ দেয়ার প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। অপচয় বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি থাকবে। কিন্তু ইইডির ব্যাপারে আমি বলছি, দয়া করে আপনারা ভালো কাজ করবেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, কিন্তু সহনশীল হয়ে খাবেন। কারণ, আমার ওই সাহসই নাই বলা যে আপনারা ঘুষ খাইয়েন না...। তারপর এখানে অনেক চেষ্টা নিছি। পরিবর্তন নিয়ে এসেছি। চিফ ইঞ্জিনিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বাদ দিতে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে প্রমার্জনা করিয়ে আনতে হয়েছে। এরপর সৎ লোক খুঁজে বের করতে হবে জানাই। কাজ না জানলেও চলবে কিন্তু সৎ হতে হবে।
এখন খুবই ভাল চলছে ইইডি। মাঝখানে সরকারের কাছ থেকে প্রস্তাব আসছে ইইডিকে অন্য আরেকটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেয়ার। আমি বলেছি, আপনারা ওপরে গিয়ে বলেন, আমরা কারও সঙ্গে যুক্ত হবো না কারও যুক্ত হওয়ার ইচ্ছে থাকলে তারা যেন হয়। এখন সেই সংস্থাটি ঠিক আছে, দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য অনলাইনে টেন্ডার দেয়া হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো টেন্ডার হয় না। এজন্য স্বার্থান্বেষী একটি মহল তারা মামলা-মোকাদ্দমা করে নানা চাপ দেয়া শুরু করলো।
এখানে (ডিআইএ) যখন বৈঠক করছিলাম তখনকার যা চিত্র, যা অবস্থা ছিল এই প্রতিষ্ঠানটি ছিল ইইডির মতো। স্কুলে খাম তৈরি করা থাকতো, আপনার কাজ হলো, আপনি গেলেন, খাম আপনার হাতে ধরিয়ে দিবে, আর আপনি খেয়ে-দেয়ে খাম নিয়ে চলে আসবেন। এসে রিপোর্ট দিবেন ঠিক আছে। এ ছিল মানুষের কাছে আমাদের ইমেজ। তখন ওই পদ্ধতির মাঝে আমরা কড়াকড়ি করলাম। এটা হবে না, আমরা খোঁজখবর রাখবো, চেষ্টা করবো। তারপর আবার যখন তারা গেল, অনেক স্কুলের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, কমিটির চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বললো, এবার ডিআইএ লোকজন আসছিল, কিন্তু অন্যবারের মতো না। এবার তারা খুব ভালো করছে। কেউ কেউ এমন স্বচ্ছ হয়ে গেছে, তারা এক কাপ চাও খেতে চায় না। তারা বললো, আমরা আপনাদের টাকায় এক খাপ চাও খাবো না। আমি বলছি, এত কড়াকড়ি হইয়েন না। কারও বাড়িতে গেলে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারে। এটা নির্ভর করে সম্পর্কের ওপর। এর বিনিময়ে কিছু নিয়ে আসবেন কি না বা সে কিছু চায় কি না সেটা বুঝে নিবেন। আমরা মাছও খেতে পারি মাংসও খেতে পারি। কিন্তু আমার যদি এর মধ্যে স্বার্থ থাকে তাহলে চা খাওয়ার দরকার নেই। আবার এমন ফোনও আসছে, আপনার তো কোনো পরিবর্তন হয়নি। বড় বড় কথা বলেন মন্ত্রীরা। আপনার লোক তো এখানে আসছিল সে তো খাম নিয়েই গেল। পেয়ার ইন্সপেকশনসহ নানা উদ্যোগের মাঝে কিছু দিন আগে একজন কর্মকর্তার পেছনে তথ্য সংগ্রহ করলাম। তিনি ওখানে গিয়ে ৫টা স্কুলের সঙ্গে চুক্তি করলেন সব কর্মচারী পিয়ন থেকে প্রধান শিক্ষক পর্যন্ত এক মাসের বেতন তাকে দিতে হবে। না হলে খারাপ হবে। এ কথাটা আমাকে বলেছে। তার সম্পর্কে সব তথ্য পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক আর রাজি হয় না। টাকা সব নিয়ে যাও তবু আমরা ঝামেলায় পড়তে চাই না। বাঘে খাইলে আটারো ঘা, আর ...। এটার দরকার নাই। বহুত কষ্টে তাকে ধরে নিয়ে আসলাম এখানে, এখানে ধরতে পারলাম না। কত সতর্ক। তারপরও যদি ধরি থানাওয়ালা ঘুষ খেয়ে সাইজ। আরেকটু যদি এগিয়ে যাই কোর্টে। সেখানেও উকিল-মোক্তার দিয়ে আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যাবে। আমাদের কোনো ইন্টারেস্ট নাই। তারপর আমি দুদক দিয়ে ধরাইলাম। এতো কিছুর পরও আমাদের মধ্যে কী অবস্থা। আর কত কিছু রয়ে গেছে। এখন এক মাসের বেতন মানে দ্বিগুন হয়ে গেছে। সবাই মিলে এক মাসের বেতন দিতে হবে। সেটা ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। তাকে ধরার সময় তার পকেটে পাওয়া গেছে আড়াই লাখ টাকা। ওদের কাছ থেকে নিচ্ছিল আরও সাড়ে তিন লাখ টাকা। ওই টাকা লেনদেন করতে গিয়েই আমরা তাকে ধরলাম। বোঝা গেল আমাদের মাঝে যে সংকটটা ছিল সেটা কাটিয়ে উঠতে পারে নাই। এত কিছুর পরও সে করতে পারবো? কিন্তু করলো। তারা তো আমাদের লোক, আমাদের সহকর্মী। আমাদের শিক্ষক। কোথায় যাবো? এ অবস্থার মাঝে আমরা খুব খুশি; বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া আমাদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। খুব কাটাকাটি করে পেয়ার ইন্সপেকশন নামে নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে পরিদর্শনের উদ্যোগ নিলাম। ভালো কিছু শিক্ষক, প্রধান শিক্ষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে নিজেদের মধ্যে পরিদর্শন করাতে পারলে আপনাদের কাজটা অনেক কমে আসবে। শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়েই কাজ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এরপরও যদি কেউ দুর্নীতি করেন, এটা অজানা থাকবে না। আমি একটা কথা প্রায়ই বলে থাকি, সিলেটে একটা কথা আছে, যত মরা ভাইসে যায় পদ্মা নদী ছঁইয়া যায়। আমি মরা-ধরা যা-ই হই না কেন, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদ্মা নদী। এমন কোনো মাথা নাই এমন কোনো ঘটনা নাই যে আমি জানি না। সব কিছু জানলেই যে আমি লাফ দিয়ে উঠবো তা-ও আমি মনে করি না। আমি এটা বিচার করি, বিবেচনা করি, মনের কথা হয়তো বলিও না, কাজে লাগাই। আপনার স্বার্থে আপনি আমার কাছে এসে বলবেন- এ কাজটা আমি করছি। সে এমন লোকের কাছে বলে যাবেন যে, কথাটা আমার কাছে চলে আসবে। নিজেরা নিজেদের সম্পর্কে বলবেন, আলোচনা করবেন। আমিও এ-ও জানি, এখানে কী পরিমাণ বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডারদের মধ্যে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে সংঘাত আছে, এমন বিশ্রী বিশ্রী প্রচারণা একজনের বিরুদ্ধে অন্যজন চালায়, মনে করেন আমি জানি না। মেয়েরা মেয়েদের সর্ম্পকে কী পরিমাণ খারাপ খারাপ কথা বলে অনুমান করতে পারবেন না। আপনারা মনে করবেন আমি জানি না? আমার কানে অটোমেটিক চলে আসবে। শুধু আমি না আরও পদ্মা নদী আছে। ছোট ছোট পদ্মা নদী, বড় পদ্মা নদী। সব মিলিয়ে আমাদের টিম ও লিডারশিপ খুবই স্ট্রং। আপনারাও খুব স্ট্রং হইছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা থাকতে পারে, তবে মনে করবেন না আমি জানি না। না জানলে আমরা কীভাবে জানলাম উনি চা খেতে যাবেন আর আমরা উনাকে ধরবো।
ওই শিক্ষকরা তাকে ধরাতে রাজি হয়নি। তারা ভয় পায়। উনি লেখেই দিয়ে আসছেন টাকা যদি না দিবা তবে খারাপ হবে। এখানে আমরা অনেকেই ধরছি। এখানে চাকরি করে ঢাকা শহরে একজন ১৩টি বাড়ি করছে। বাড়ি সব যে ধানমন্ডি গুলশানে তা নয়। বিভিন্ন এলাকায় আশপাশে বা দূরে। বৃদ্ধিমান লোক তো জমি কিনে রাখছে পরে জমির দাম বাড়ছে তারপর বাড়ি বানাইছে। নানা জায়গায় এরকম হইছে, সব জায়গায় এ রকম হইছে। খালি যে অফিসার চোর তা না, মন্ত্রীরা চোর, আমিও চোর। আমি না হলেও দুনিয়াটা এভাবে চলে আসছে। এই অবস্থার মধ্যে আমাদের সবাইকে পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের খারাপ যে দিকগুলো সেগুলো ত্যাগ করতে হবে, ভালো দিকগুলো ফুটিয়ে তুলতে হবে। এ সম্ভবনাটা আমাদের দেশে তৈরি হয়েছে। আমরা এটা করতে পারি। বাস্তবে এটা সম্ভব। এক সময় দারিদ্র্য সম্বল ছিল। এখানে মানুষ তিন হাজার বছর ধরে বাস করে। কোনো দিন স্বাধীন ছিলাম না। পেট ভরে ভাত খেতে পারেনি।  এখন আমরা স্বাধীন।

কর্ণফুলীর পাড়ে শুঁটকির ঘ্রাণ by সারোয়ার সুমন

'লাক্ষ্যা হুঁনির তরকারি বেশি অইয়ে ঝাল/কী সালুন রাইন্ধে বউয়ে/পুরি যারগৈ গাল'- আবদুল গফুর হালীর কথায় শিল্পী শেফালী ঘোষ ও শ্যামসুন্দর বৈষষ্ণবের গাওয়া আঞ্চলিক এ গানেই লুকিয়ে আছে যেন শুঁটকির গুণাগুণ। শীত এলে এ অঞ্চলের মানুষের খাদ্য তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে নেয় শুঁটকি। আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে শুঁটকির জনপ্রিয়তা এখন সারাদেশে। রফতানি হচ্ছে বিদেশেও। শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর দুই তীরে শুরু হয় শুঁটকি তৈরির ধুম। নদীর ওপারে থাকা পটিয়ার ইছানগর, ডাঙ্গারচর, জুলধা ইউনিয়ন এবং কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলায় তৈরি হচ্ছে রূপচাঁদা, লাক্ষ্যা, হাঙর, টাইট ও কেঁচো নামের শুঁটকি। এপারে থাকা চরচাকতাই ও পাথরঘাটা এলাকার বাতাসে পাওয়া যাচ্ছে ছুরি ও লইট্টা শুঁটকির ঘ্রাণ। উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ায় আছাদগঞ্জ ও চাকতাইয়ের বড় মোকামে চলছে যেন শুঁটকি উৎসব।

ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, প্রতিবছর দেশে শুঁটকির চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত শুঁটকি দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার টনের চাহিদা মেটানো হয়। বাকি প্রায় ৩৫ হাজার টন আমদানি করতে হয় মিয়ানমার, ভারত ও পাকিস্তান থেকে। এটি মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ। এ ছাড়া দেশে উৎপাদিত শুঁটকির ২০ শতাংশ রফতানি করা হয়।

যেভাবে তৈরি হয় শুঁটকি স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ী ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুমে শুঁটকি উৎপাদন সুবিধাজনক হওয়ায় এ সময়টাকে বেছে নেন তারা। এ সময় বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া ও টেকনাফের গভীর সাগরে গিয়ে মাছ সংগ্রহ করেন জেলেরা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসব মাছ নদীতীরবর্তী এলাকায় নিয়ে আসা হয় শুঁটকি উৎপাদনের জন্য। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুঁটকি শুকানো হচ্ছে কয়েক ধাপে। প্রথমে মাছের পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের করে একটি দল। আরেকটি দল পেট কাটা মাছ ধুয়ে নেয় পানিতে। আরেকটি দল সেই ধোয়া মাছ শুকাচ্ছে। কেউবা হালকা শুকানো মাছে লাগাচ্ছে লবণ। শুঁটকি নিয়ে এমন কর্মব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে ইছানগর ও পাথরঘাটা গ্রামের শত শত মানুষকে। তাদের মধ্যে আছে নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর। শিশু-কিশোরদের প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। নারী শ্রমিকরা পান দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর পুরুষরা পান ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

সবচেয়ে দামি শুঁটকি লাক্ষ্যা

পটিয়ার ইছানগর এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী আজমল হুদা জানান, শুঁটকির বাজারে সবচেয়ে বেশি দাম লাক্ষ্যার। বাজারে ভালো মানের প্রতি কেজি রাঙ্গাবালির লাক্ষ্যা শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে

সাড়ে তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায়। ২ থেকে ১৫ কেজি ওজনের লাক্ষ্যা শুঁটকিও আছে বাজারে। এ হিসাবে ভালো মানের ১৫ কেজি ওজনের একটি লাক্ষ্যা শুঁটকির দাম ছাড়িয়ে যায় অর্ধলাখ টাকা। মাঝারি মানের লাক্ষ্যা শুঁটকি দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুঁটকির বাজারে কদর আছে রূপচাঁদারও। ভালো মানের প্রতি কেজি রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ২০০ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায়। মাঝারি মানের রূপচাঁদা প্রতি কেজি তিন হাজার ৩০০ থেকে সাড়ে তিন হাজার এবং ছোট সাইজের রূপচাঁদা এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লইট্টা ২৭০, ফাইশ্যা ১৮০, হাঙর ৩৪০, বাইল্যা ২২০, ফোপা ৩১০, অস মাছ ২০০, চাঁদা বাইল্যা ১২০, ফটকা ১৫০ ও টিক্কা শুঁটকি তারা বিক্রি করে ১২০ টাকা কেজিতে। নুন ইলিশ শুঁটকি প্রতিটি ১৮০ থেকে ২২০ টাকা ও নাইল্যা শুঁটকি ১৭০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ছুরি শুঁটকির পাইকারি মূল্য ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকা।

সরেজমিন চিত্র

ইছানগর গ্রামের ডাঙ্গাচর, জুলধা, কর্ণফুলী এলাকায় দেখা যায়, বেশ কয়েকটি চাঙ (শুঁটকি শুকানোর বিশেষ ব্যবস্থা)। এসব চাঙে মাছ শুকানো হয় আলাদা আলাদাভাবে। কোনো চাঙে লইট্টা। কোনো চাঙে ঝুলছে ফাইশ্যা। শুঁটকি ব্যবসায় যুক্ত থাকা ডাঙ্গারচরের রাবেয়া বেগম বলেন, 'আমার চাঙে কাজ করছে ১৫ শ্রমিক। পরিবারের ছয় সদস্য এ কাজে যুক্ত। প্রতি মৌসুমে প্রায় ছয় লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি করি।'

একাধিক চাঙের মালিক আবদুর রহমান বলেন, 'লাক্ষ্যা মাছকে শুঁটকি করা একটু জটিল। সব শ্রমিক এ কাজ করতে পারেন না। এ মাছের শুঁটকি করে তা বিদেশেও রফতানি করছি। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি করি।' তারা জানান, হাঙর ও বড় লাক্ষ্যা শুকাতে পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগে। আর ফোপা, বাইল্যা, রূপাচাঁদাসহ বেশিরভাগ মাছ শুকিয়ে প্রস্তুত করতে লাগে দুই থেকে চার দিন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে শুঁটকি এভাবে মিশে থাকাতেই হয়তো বলা হয়- 'শুঁটকি, সারেং, দরগাহ/ এ তিন নিয়ে চাটগাঁ'।

নিজের ঘরই যখন টাঁকশাল!

ঘরে বসে টাকা কীভাবে তৈরি করতে হয়, সেই কৌশল খুব ভালোই রপ্ত করেছেন তিনি। এক দিন-দুদিন নয়, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে টাকা তৈরি করে আসছিলেন। তবে যে নোট তৈরি করতেন, সেগুলো আসল নয়, জাল নোট। নাম তাঁর লিয়াকত আলী। জাল নোট তৈরি করতে গিয়ে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হন তিনি। তবু জাল নোট তৈরির নেশা কাটাতে পারেননি তিনি। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে লিয়াকত ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। গোপন সংবাদ পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা উত্তরপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে প্রথমে লিয়াকতকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৩-এর একটি দল। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ভারতীয় ১০ লাখ জাল রুপি, রুপি তৈরির বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম ও রং জব্দ করা হয়। পরে লিয়াকতের কাছ থেকে খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আরেকটি বাড়ি থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ কথা জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে কর্নেল ইমরানুল হাসান। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ৩৫ বছর বয়সী লিয়াকত আলী জাল নোট তৈরির কৌশল শেখেন ছগির মাস্টার নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে। তাঁর গুরু ছগির মাস্টার ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর আর্থিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপর থেকে ছগির মাস্টারের সহযোগী ছিলেন লিয়াকত।
গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে ১০ বছর ধরে তিনি নিজেই জাল নোট তৈরি করে আসছিলেন। লিয়াকত যে বাসায় ভাড়া থাকতেন, সেখানেই এই নোট তৈরি করতেন। প্রথম দিকে বাংলাদেশের জাল টাকা তৈরি করতেন তিনি। তবে জাল টাকার নোট তৈরি হওয়ায় ধরা পড়ার শঙ্কা থাকে বেশি। তাই ভারতীয় জাল রুপির নোট তৈরিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন লিয়াকত। তিনি ঘরের ভেতর ভারতের নতুন ২০০০ ও ৫০০ রুপি নোট তৈরি করতেন খুব নিখুঁতভাবে। জাল নোট তৈরির জন্য লিয়াকতকে বিদেশি উন্নত মানের রঙিন কালি সরবরাহ করতেন জাহাঙ্গীর। লিয়াকত জাল রুপি তৈরি করে প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করতেন জানিয়ে লে. কর্নেল ইমরানুল হাসান বলেন, লিয়াকত প্রতি মাসে ৫০ লাখ থেকে ৬০ লাখ রুপির জাল নোট তৈরি করতেন। এক লাখ রুপির জাল নোট লিয়াকত বাংলাদেশের মুদ্রায় ১২ হাজার টাকায় তাঁর সরবরাহকারীদের কাছ বিক্রি করতেন। তাঁর এই সরবরাহকারীরা এসব নোট আবার বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জের কাছে বিক্রি করতেন। অনেকে আবার সীমান্তবর্তী এলাকায় সরবরাহ করতেন। জাল নোট তৈরির অপরাধে লিয়াকতের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। লিয়াকতের আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম পাওয়া গেছে। তা ছাড়া কোন কোন মানি এক্সচেঞ্জে রুপির জাল নোট সরবরাহ করতেন লিয়াকত, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান র‍্যাব-৩-এর অধিনায়ক।

সেন্টমার্টিনের এই রূপ কি দেখেছেন? দেখুন মুগ্ধ হবেন

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সম্প্রতি শখের বসে ড্রোন থেকে এই দ্বীপের কিছু ভিডিও-চিত্র ধারণ করেন তরুণ আলোকচিত্রী আল আমিন আবু আহমেদ আশরাফ দোলন। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বিবদ্যালয় থেকে স্থাপত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি। বহু আগে থেকেই ভিডিও করার শখ দোলনের। তাই সম্প্রতি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে সেখানকার কিছু ভিডিও-চিত্র ধারণ করে ফেলেন ড্রোন ক্যামেরায়।
পরে সেন্টমার্টিনের সেই ভিডিও তিনি ‘আপলোড' করেন নিজের ফেসবুক পেজে। দোলনের করা ভিডিওতে বাংলাদেশের এই প্রবাল দ্বীপকে ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন ভ্রমণ পিপাসুরা। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ‘আপলোড' করা ভিডিওটি ইতোমধ্যেই লক্ষাধিকবার দেখা হয়েছে। এছাড়া ভিডিওটি নিজেদের ‘ওয়ালে' ‘শেয়ার' করেছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ, যাতে লাইক রয়েছে চার হাজারেররও বেশি। আর মজার মজার মন্তব্য করেছেন প্রায় চার শ' জন। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে ছোট্ট প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রায় নয় কিলোমিটার সমুদ্রগর্ভে এই দ্বীপের অবস্থান। প্রায় ১৬ বর্গকিলোমিটার দীর্ঘ এ দ্বীপের আকর্ষণ সমুদ্র সৈকত জুড়ে প্রবাল পাথরের মেলা, সারিসারি নারকেল গাছ, দিগন্তে হারিয়ে যাওয়া সমুদ্রের নীল জলরাশি আর এখানকার অধিবাসীদের বিচিত্র জীবনধারা। প্রচুর নারিকেল গাছ থাকায় স্থানীয়ভাবে এটি ‘নারিকেল জিঞ্জিরা' নামেই পরিচিত।

সবচেয়ে খ্যাতিমান পুরুষ ওবামা, নারী হিলারি

যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং নারীদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন অধিক খ্যাতিমান নাগরিক। বুধবার এক জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গ্যালাপের বার্ষিক জরিপে ওবামা দশম বারের মতো এবং হিলারি ক্লিনটন টানা ১৬ বারের মতো শীর্ষ খ্যাতিমানের নামের তালিকায় ওঠে আসলেন। হিলারি গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন।
এ জরিপে অংশ নেয়া ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক সর্বাধিক খ্যাতিমান ব্যক্তি হিসেবে ওবামাকে সমর্থন করেন। গত বছর সমর্থন জানানোর এ হার ছিল ২২ শতাংশ। এক্ষেত্রে ১৪ শতাংশ নাগরিকের সমর্থন পেয়ে ট্রাম্প দ্বিতীয়। পোপ ফ্রান্সিস তিন শতাংশ লোকের সমর্থন পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। জরিপে অংশ নেয়া নয় শতাংশ মার্কিন নাগরিক অধিক খ্যাতিমান নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করেন। এক্ষেত্রে সাত শতাংশ নাগরিকের সমর্থন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এবং চার শতাংশ লোকের সমর্থন পেয়ে এর পরের অবস্থানে রয়েছেন টক শো উপস্থাপক ওপরাহ উইনফ্রে। গ্যালাপ জানায়, এ জরিপে এক হাজার ৪৯ জন অংশ নেন এবং ৪ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়।

টর্চের আলোয় চোখের ছানি অপারেশন

ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের নবাবগঞ্জ জেলার একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  বিদ্যুৎ না থাকায় টর্চের আলোতেই একে একে ৩২ রোগীর চোখের ছানি অপারেশন করলেন চিকিৎসকরা। পরে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সেই ছবি ভাইরাল হতেই জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে উত্তরপ্রদেশ সরকার। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করা রোগীদের পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের জন্য কোনো বিছানার ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেই তাঁদের হাসপাতালের মেঝেতে শুতে বাধ্য করা হয়।

৬০০ কোটি ডলার দিলেই মুক্তি পাবেন সৌদি প্রিন্স বিন তালাল

ছয় শ’ কোটি ডলার মুক্তিপণ দিতে রাজি না হওয়ায় এখনো মুক্তি পাননি সৌদি ধনকুবের প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালাল। বিষয়টি নিয়ে এখনো দেনদরবার চলছে। গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সৌদি আরব দুর্নীতির অভিযোগে যে কয়জন প্রিন্স ও মন্ত্রীকে আটক করেছে তার মধ্যে তালালও রয়েছেন। আটকের পর থেকে বিশ্ব মিডিয়াতে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এবার সৌদি প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালালের মুক্তির বিনিময়ে ছয় বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলার দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দেশটির বিলাসবহুল হোটেল রিৎজ কার্লটনে গত প্রায় দুই মাস ধরে বন্দী রয়েছেন ওয়ালিদ। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে ওয়ালিদের কাছেই সবচেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এর আগেও অর্থের বিনিময়ে কমপক্ষে একজন প্রিন্স মুক্তি পেয়েছেন বলে খবর এসেছে। রিয়াদের রিৎজ কার্লটন হোটেলটি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিসালবহুল কারাগার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ফোর্বস তালাল বিন আবদুল আজিজকে বিশ্বের শীর্ষ ৪৫তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ সময় তার সম্পত্তির নিট মূল্যমান ছিল এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার। - ওয়াল স্ট্র্রিট জার্নাল

সৌদি আরবে প্রত্যাখ্যাত ইসরাইলি খেলোয়াড়রা

সৌদি আরবে একটি আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। তবে তাতে ইসরাইলি খেলোয়াড়দের ভিসা দেয়া হয়নি। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় সাত ইসরাইলি দাবাড়ুকে ভিসা দেয়া যায়নি বলে সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ইসরাইলের দাবা ফেডারেশন বলছে, ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করবে তারা। দেশের কট্টর রক্ষণশীল ইমেজ পাল্টে বিশ্বের কাছে নিজেদের তুলে ধরার অংশ হিসেবেই সৌদি আরব প্রথমবারের মতো এ ধরনের বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। প্রতিযোগিতার উন্মুক্ত বিভাগে জয়ী দাবাড়ু পাবেন সাড়ে সাত লাখ ডলার; নারীদের বিভাগে বিজয়ী প্রতিযোগীকে আড়াই লাখ ডলার দেয়া হবে। কূটনৈতিকভাবে টানাপড়েন থাকা কাতার ও ইরানের খেলোয়াড়দের শেষ মুহূর্তে ভিসা দিয়েছে সৌদি আরব। ইসরাইলি দাবা কর্তৃপক্ষ বলেছে, কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা ঠিকই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস ছিল।
ওয়ার্ল্ড চেস ফেডারেশনকে বিভ্রান্ত করে সৌদি আরব আয়োজক হতে পেরেছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা। সৌদি আরবে জনসমে আসা নারীদের আপাদমস্তক, ঢিলেঢালা পোশাক ‘আবায়া’ পরতে হলেও কিং সালমান ওয়ার্ল্ড র‌্যাপিড অ্যান্ড ব্লিটজ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া নারীদের হিজাব কিংবা ‘আবায়া’ পরা বাধ্যতামূলক নয় বলেও আয়োজকেরা নিশ্চিত করেছিলেন। এরপরও দু’টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুটধারী ইউক্রেনের আন্না মুজিচুক টুর্নামেন্টে অংশ না নেবেন না বলে জানিয়েছেন। প্রতিযোগিতায় অংশ না নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব হারাতেও আপত্তি নেই তার। ‘রেকর্ড পুরস্কার সত্ত্বেও আমি রিয়াদে খেলতে যাব না,’ এক ফেসবুক পোস্টে বলেন ২৭ বছর বয়সী এ দাবাড়ু। চলতি বছর এক ঘোষণায় সৌদি কর্তৃপ আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকে নারীদের গাড়ি চালনায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে; দেয়া হয়েছে নারীদের স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখারও অধিকার। রিয়াদে অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজন নিয়ে আরো অনেক খেলোয়াড়ই আপত্তি জানিয়েছেন। আমেরিকার তিন নম্বর র‌্যাঙ্কিংধারী দাবাড়ু হিকারু নাকামারু সৌদি আরবের আয়োজক হওয়ার ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।

হামাসের হুঁশিয়ারি

পূর্ব জেরুসালেমকে বাদ দিয়ে আবু দিস শহরকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করার যে তথাকথিত ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি বা শতাব্দী চুক্তির পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতা ও গাজার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়া। তিনি জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি নেতাদের কাছে আবু দিসকে রাজধানী করার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় গোত্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। হানিয়া বলেছেন, ফিলিস্তিনি সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন একটি প্রস্তাবে বলেছে, ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী হতে পারে আবু দিস। ওই খান থেকে পূর্ব জেরুসালেমের আল-আকসা মসজিদে আসার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। এই প্রস্তাবের মধ্যে পশ্চিমতীরকে তিন ভাগে বিভক্ত করা এবং গাজা উপত্যকায় একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
পুরনো জেরুসালেম শহরের কাছাকাছি একটি গ্রাম আবু দিস, যার অবস্থান জেরুসালেমের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল এবং জর্দান উপত্যকার পূর্ব দিকে। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর নিই ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছিল, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাজধানী হিসেবে আবু দিসের নাম প্রস্তাব করেন। ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ‘এই পরিকল্পনার মধ্যে আল-আকসা মসজিদের মূল ফটকের সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য একটি ব্রিজ নির্মাণের কথাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই প্রস্তাবের মধ্যে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে তিনটি ভাগ হওয়ার কথা রয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। হানিয়া বলেন, কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তি চায় পশ্চিম তীরকে তিন ভাগে বিভক্ত করতে। সেই সাথে গাজায় স্বায়ত্তশাসিত একটি রাজনৈতিক সত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা। মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত এখনো প্রকাশ না হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করার বিরুদ্ধে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দেন হানিয়া। তিনি বলেন, জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করার মার্কিন সিদ্ধান্তে নতুন ঝুঁকি রয়েছে। এতে ফিলিস্তিন ও জর্দানের মধ্যে সম্পর্কের ধরণ পাল্ট যেতে পারে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণকে ইন্তিফাদা চালিয়ে যাওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

খেলার ছলে পড়ে থাকা কামানের গোলায় ৬ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় বালখ প্রদেশে এক বিস্ফোরণে ছয় শিশু নিহত হয়েছে। তাদের বয়স ছয় বছর থেকে ১২ বছর। বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনিক প্রধান কারিম বে বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় দৌলত আবাদ জেলার একটি স্কুলের কাছে একদল শিশু খেলা করছিল। এ সময় এক শিশু পরিত্যক্ত একটি কামানের গোলার ওপর আছাড় খায়। এতে গোলাটি বিস্ফোরিত হয়ে নিষ্পাপ শিশুগুলো মারা যায়। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করেনি। তবে কারিম দাবি করেছেন, তালেবান এ ঘটনা ঘটাতে পারে। আফগান নিরাপত্তার রক্ষী ও কর্মকর্তাদের হত্যার জন্য তারা এমনটা করে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। ল্যান্ডমাইন ও এন্টি-পার্সোনাল মাইন বিস্ফোরণে প্রতি মাসে সেখানে অর্ধশতাধিক লোক নিহত বা বিকলাঙ্গ হয়

গহীন জঙ্গলে বিজ্ঞানচর্চা

১৯৫৭ সালে সোভিয়েত সরকার সাইবেরিয়ার গভীরে একটা বিজ্ঞাননগরী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। শহরের নাম দেয়া হয় অ্যাকাডেমিক সিটি বা আকাদেমগোরোদক। সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শিক্ষাবিদদের শহর নামে পরিচিত হয়ে ওঠা ওই শহরে কাজ করতে যাবেন হাজার হাজার বিজ্ঞানী। অ্যাকাডেমিক সিটিতে প্রথম যেসব বিজ্ঞানী কাজ করতে গিয়েছিলেন তাদের একজন ছিলেন ভিক্টর ভারাণ্ড। "সেখানে সবকিছুই ছিল আলাদা। বাড়িগুলো একেবারে জঙ্গলের মাঝখানে। চারিদিক নিঝুম। বাতাস খুব পরিস্কার। নভেম্বরে যখন তুষার পড়ত, রাস্তাঘাট সব সাদা হয়ে যেত। একদিন-দুইদিন-একসপ্তাহ পর্যন্ত বরফ গলত না। কখনও কখনও এক মাস পর্যন্ত বরফ থাকত।" ভিক্টর ভারাণ্ড সেখানে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে। ১৯৬২ সাল থেকে সেখানে তিনি কাজ করেছিলেন ৪৬ বছর। ইনস্টিটিউট অফ ইনঅরগ্যানিক কেমিস্ট্রি সংস্থায় রসায়নবিজ্ঞানের গবেষক হিসাবে তিনি সেখানে কাজে যোগ দেন। ওই নতুন শহরের বাসিন্দা তখন ছিল ২৫ হাজার, যাদের প্রায় সবাই হয় বিজ্ঞানী, নয় বিজ্ঞানী হতে যাচ্ছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছে তাদের গড় বয়স তিরিশের নিচে। শহর গড়ে তোলা হয়েছে একেবারে সাইবেরিয়ার বরফঢাকা বিরানভূমির মাঝখানে, গহীন জঙ্গলে, জীবনধারণ যেখানে কঠিন। কিন্তু ভিক্টর ভারাণ্ডের মতে ওই গহীন জঙ্গলের মাঝে বিজ্ঞানীদের জন্য শহর বানানোর একটা যৌক্তিকতা ছিল। ''সেখানে গভীর বনজঙ্গলে ছিল প্রচুর গাছগাছালি- খনিজ সম্পদ ছিল অঢেল। এসব সম্পদের সন্ধান এবং কীভাবে সেসব আহরণ করতে হয় ব্যবহারের জন্য, তা জানা দরকার ছিল। আর সে কারণেই ওই বনভূমিতে তৈরি হয়েছিল আকাদেমগোরোদক।''
তিনি বলছেন সোভিয়েতরা বিজ্ঞানের সেবায় উৎসর্গ একটা নগরী গড়ে তোলার জন্য ১৯৫৭ সালটা বেছে নিয়েছিল তার মূল কারণ দেশে তখন বিজ্ঞানীদের একটা অভাব তৈরি হয়েছে। "যুদ্ধের সময় ১৯২০ থেকে ৩০এর দশকে সোভিয়েতরা বিজ্ঞান চর্চায় পেছিয়ে পড়েছিল। কারণ বহু নামকরা, প্রথম সারির বিজ্ঞানী, এমনকী নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানীরাও হয় দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন নয় তাদের জেলে ভরা হয়েছিল। কাজেই নতুন বিজ্ঞানী তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।" জারের সময় থেকে লোকজনকে নির্বাসনে পাঠাতে হলে পাঠানো হতো সাইবেরিয়ায়। "আপনি কি কাউকে ভালো জায়গায় নির্বাসনে পাঠাবেন? সাইবেরিয়া বলতে লোকের মনে একটা ভয়ঙ্কর জায়গার ছবি ভাসত- যেখানে নেকড়ে মানুষ খেয়ে ফেলে। রাশিয়ার অন্য জায়গা থেকে বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়ায় যাওয়ার কথা শুনে ভয় পেত- কারণ মস্কো বা লেনিনগ্রাড থেকে সাইবেরিয়া ছিল অনেক অনেক দূরে," বলছিলেন ভিক্টর ভারাণ্ড। বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া ওই অ্যাকাডেমিক সিটি বা বিজ্ঞানী নগরীতে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান- যেগুলো বিজ্ঞানের বিশেষ বিশেষ শাখা নিয়ে গবেষণার কাজ করত। কিন্তু তাদের পরস্পরের মধ্যে সম্বন্বয় ছিল- সংযোগ ছিল। ওই নগরীতে সবপ্রথম যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে তাদের কাজ ছিল জলসম্পদ নিয়ে। ইনস্টিটিউট অফ হাইড্রোডায়নামিক্স। এই সংস্থার পরিচালক মিখাইল লাভরেনত্যিফ ছিলেন গোটা আকাদেমগোরোদকের প্রধান। তাকে মস্কো থেকে সাইবেরিয়া যেতে রাজি করাতে লোভ দেখানো হয়েছিল যে সেখানে গবেষণাগারের সরঞ্জামের জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। "তারা আমাদের বেতন নিয়ে লোভ দেখায়নি। দারুণ সব কাজের সুযোগ এবং ভালো বাসস্থানের সুযোগ আমাদের আকৃষ্ট করেছিল। সেখানে পৌঁছনমাত্র ওরা আমাদের ভালো বাসাবাড়ি দিয়েছিল। সেসময় সোভিয়েত ইউনিয়নে বাসস্থানের দারুণ সঙ্কট ছিল। বেশিরভাগ তরুণ- এমনকী বিয়ের পর বাচ্চাকাচ্চা হয়ে যাওয়ার পরও থাকত বাবা-মায়ের সাথে। আমরা অবশ্যই চাইতাম স্বাধীনভাবে থাকতে কিন্তু সামর্থ্যে কুলাত না।" এছাড়াও সোভিয়েত ইউনিয়নে তখন ছিল খাদ্য সঙ্কট। আর কি খাবার কে পাবে তা নির্ভর করত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পদমর্যাদা অনুযায়ী। "যারা শিক্ষাবিদ ছিলেন এবং যাদের ডক্টরেট ডিগ্রি ছিল তাদের বাসায় খাবার পৌঁছে দেয়া হতো। শিক্ষাবিদদের ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ ছিল। তারা ফল, নানাধরনের মাংস, সসেজ এবং পানীয় খেতে পারতেন। " কিন্তু ওই বিজ্ঞান নগরীতে সাধারণ বাসিন্দাদেরও ছিল ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ। ভিক্টর ভারাণ্ডের স্ত্রীও ছিলেন বিজ্ঞানী। তার স্ত্রী প্রথমে গিয়েছিলেন অ্যাকাডেমিক সিটিতে। পরে ছেলেকে নিয়ে সেখানে যান ভিক্টর ভারাণ্ড। তার মত প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা ওই জনহীন প্রত্যন্ত সাইবেরিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে যেতেন, কারণ তারা চাইতেন এমন কিছু করতে যা উৎসাহ-উদ্দীপনা জোগায় এবং যা মানুষের কাজে লাগে। এছাড়াও কাজের জন্য সেখানে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাওয়া দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় সহজ ছিল, যদিও আমলাতান্ত্রিকতা ছিল পদে পদে। সেখানে যারা কাজ করতেন তাদের জন্য আরেকটা বড় সুবিধা ছিল শিক্ষা নগরীতে ছেলেমেয়েদের ভালো স্কুলে লেখাপড়ার সুযোগ। নতুন নগরীতে ব্যতিক্রমী এক স্কুলে উন্নতধরনের শিক্ষার সুযোগ ছিল। ওই স্কুলে প্রতি বছর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন অংশ থেকে সবচেয়ে প্রতিভাবান ছেলেমেয়েরা ভর্তি হতো। দেশব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হতো। ওই স্কুল ছিল মেধাবীদের পীঠস্থান। তবে সাইবেরিয়ায় অ্যাকাডেমিক সিটিতেও বিজ্ঞানীরা তাদের কাজে, ভাবনায় বা কথাবার্তায় স্বাধীন ছিলেন না। ভিক্টর বলছেন ১৯৩০এর দশকে স্তালিনের দমননীতির যুগ থেকে মানুষের যে শিক্ষা হয়েছিল তার আলোকে অবশ্যই মানুষ চুপচাপ থাকত। আকাদেমগোরোদকের এক গবেষণা কেন্দ্র। সাইবেরিয়ার জঙ্গলে প্রায় ৬০ বছর আগে গবেষণা কাজের জন্য গড়ে তোলা এই শহরের বিজ্ঞানীরা এখন বাজারের চাহিদা ও বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক গবেষণার তাগিদ দুয়ের মাঝে টানাপোড়েনের শিকার। "আমরা ভাবতাম একরকম, কিন্তু মুখ খুলতাম যখন, তখন বলতাম অন্যকথা। অভিজ্ঞতাই আমাদের এভাবে কথা বলতে শিখিয়েছিল। কম্যুনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস সবার ছিল না।" বিজ্ঞানীদের ওই শিক্ষানগরীতে অনেক পরস্পরবিরোধী ব্যাপার ছিল। মানুষ একদিকে জ্যায সঙ্গীত শুনত কিন্তু অন্যদিকে মুখ বুজে থাকত- বাক স্বাধীনতা ছিল না। একদিকে গবেষণার জন্য প্রচুর অর্থ ঢালা হতো- আধুনিক গবেষণাকে উৎসাহিত করা হতো- কিন্তু গবেষণার সরঞ্জাম কেনার জন্য একবছর আগে অর্ডার দিতে হতো- পুরনো আমলাতান্ত্রিকতা থেকে রেহাই ছিল না। তারপরেও বিজ্ঞানীরা মনে করেন ষাট বছর আগে গড়ে তোলা অ্যাকাডেমিক সিটি বা বিজ্ঞান-নগরীর পরীক্ষা সফল হয়েছিল। "অবশ্যই এই শহর একটা বিরাট অর্জন। নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের এখানে লালন করা হয়েছে। যারা এখন এখানে কাজ করছেন তারা এখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই স্নাতক। রাশিয়ার মূল সম্পদ এখন কী? তেল আর গ্যাস। কারা এই সম্পদ খুঁজে পেয়েছে - কারা তা উত্তোলন করেছে? আমাদের এই সাইবেরিয়ার বিজ্ঞানীরাই, " ইতিহাসের সাক্ষী অনুষ্ঠানে বলেছেন বিজ্ঞানী ভিক্টর ভারাণ্ড, যিনি এখনও থাকেন অ্যাকাডেমিক সিটিতে।
সূত্র : বিবিসি

অবশেষে কাটা হচ্ছে হোয়াইট হাউজের বিখ্যাত 'ম্যাগনোলিয়া' গাছ

অবশেষে আয়ু ফুরাতে চলেছে হোয়াইট হাউজের ২০০ বছরের পুরনো গাছ ম্যাগনোলিয়ার। জ্যাকসন ম্যাগনোলিয়া নামের এ গাছটি লাগিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসন তার সদ্য প্রয়াত স্ত্রী র‍্যাচেল জ্যাকসনের স্মরণে। হোয়াইট হাউজে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার পেছনের দৃশ্যে যেমন এই গাছটিকে দেখা যায়, তেমনি একসময় বিশ ডলারের নোটেও গাছটির ছবি ছিল। টেনিসির খামার থেকে র‍্যাচেল জ্যাকসনের প্রিয় ম্যাগনোলিয়া গাছের একটি অংশ এনে হোয়াইট হাউজে লাগানো হয়েছিল। জীবদ্দশায় গাছটি ৩৩ জন প্রেসিডেন্টের শাসনামল দেখেছে, সেইসাথে আমেরিকান গৃহযুদ্ধ আর দুটি বিশ্বযুদ্ধেরও প্রত্যক্ষদর্শী এই গাছ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন এ গাছটি খুবই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেটি রাখা নিরাপদও নয়। তাই ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের অনুরোধে গাছটির বড় একটি অংশই কেটে ফেলা হবে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম বলছেন, মিসেস ট্রাম্প অনুরোধ করেছেন যেন গাছটির বীজ রক্ষা করা হয়। ফলে খালি জায়গায় নতুন একটি গাছ লাগানো সম্ভব হবে। তিনি বলছেন, মিসেস ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ তার মতে এই গাছটি দর্শনার্থী আর সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, যারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ওঠানামার সময় প্রায়ই এই গাছটির সামনে দাড়িয়ে থাকেন। ১৯৭০ সালে গাছটির একটি বড় অংশ প্রথমবার ভেঙ্গে পড়ে। তখন সেটি সিমেন্ট দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়। এর বছর দশেক পর গাছটি রক্ষা করতে বড় পোল আর তার দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়। প্রথমে দেখে স্বাভাবিক মনে হলেও, কিছুদিন আগে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনে খবর প্রকাশিত হয় যে, গাছটি পুরোপুরি কৃত্রিম সহায়তায় টিকে আছে।
সূত্র : বিবিসি

ট্রাম্পকে লন্ডনে স্বাগত জানানো হবে না : সাদিক খান

সব কিছু ঠিক থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সফর করবেন। তবে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লন্ডনে স্বাগত জানানো হবে না। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেনের উগ্রপন্থী দল ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’-এর তিনটি মুসলিম বিদ্বেষী ভিডিও রিটুইট করেন। এর পর দেশ-বিদেশে সমালোচনার সম্মুখীন হন ট্রাম্প। ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ ওঠে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।
এ অবস্থায় লন্ডন বিধানসভায় মেয়রের কাছে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তারই লিখিত জবাবে মেয়র সাদিক খান বলেন, ‘মেয়র হিসেবে আমি সব সময় লন্ডনবাসীর স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় কথা বলব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করতে আমি আগেও থেরেসা মেকে বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি দল আমাদের দেশে বিভেদ ও হিংসা ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জঘন্য চরমপন্থী দলটির জন্য টুইটারে প্রচার চালিয়েছেন। এই ঘটনার পর যে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সফরে তাকে স্বাগত জানানো হবে না।’ সাদিক খান বলেন, ‘লন্ডন সহনশীলতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বৈচিত্র্যতার বাতিঘর। আর ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে যেসব মতামত দিয়েছেন তা লন্ডনবাসীর মূল্যবোধের সঙ্গে বেমানান।’

আফগান বার্তা সংস্থায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৪০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বার্তা সংস্থা আফগান ভয়েসের দফতরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। খবর আলজাজিরা। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১২ জনের অধিক। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে হামলার ঘটনায় দেশটিতে স্বক্রীয় বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখনো কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি। অন্যদিকে তালিবান এ হামলায় জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
হামলার ঘটনায় আফগান সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কমিটি (এজেএসসি) এক টুইটবার্তায় নিন্দা জানিয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনটির দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার আফগানিস্তানে হামলার ঘটনা বেড়েছে। গত মাসে কাবুলে একটি বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনে হামলা হয়েছিল। এর পর আবারও আরেকটি গণমাধ্যমের ওপর হামলা চালানো হল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তানের মিডিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রথম ইন্তিফাদায় অংশ নেয়া সেই কালো পোশাকের তরুণী

ফিলিস্তিনি ভূমিদখলের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ যে শুধু মুসলিমদের নয়, সেখানকার ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানরাও ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ছিলেন সরব। তেমনই এক খ্রিস্টান নারীর ছবি ফিলিস্তিনিদের প্রথম ইন্তিফাদা বা অসহযোগ আন্দোলনের (১৯৮৭) সময় ভাইরাল হয়ে পড়ে। ৩০ বছর আগের সেই ছবিটি পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লেও কারো জানা ছিল না ছবির নারীর পরিচয়। হলুদ স্যান্ডেল হাতে নিয়ে কালো পোশাকের একজন ফিলিস্তিনি নারী ইসরাইলি পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারছেন এমন দৃশ্য পুরো বিশ্বকে নাড়া দেয়। দখলকৃত পশ্চিমতীরের বেইট সাহোর গ্রামে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি তরুণদের সংঘর্ষের সময় ওই ছবিটি তুলেছিলেন আলফ্রেড ইজোবযাদেহ। কিন্তু ছবির সেই নারীর পরিচয় এত বছরেও কারো জানা ছিল না। সম্প্রতি তার পরিচয় জানা গেছে। তার নাম মিশেলাইন আওডা।
তিনি একজন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান। ওই ঘটনার দিন তিনি ছিলেন সেখানকার এক চার্চে। মিশেলাইন বলেন, সেদিন আমার বিশেষ একটি ম্যাসের অনুষ্ঠান ছিল, তাই ওরকম কালো পোশাক পরেছিলাম। সেদিন কোনো বিক্ষোভ হবে বলে ভাবিনি। কিন্তু আমি দেখতে পেলাম, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এসে তরুণদের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছে। আমি সেই তরুণদের সঙ্গে তখনই যোগ দিলাম। একসময় আমি দৌড়াতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু স্যান্ডেল পরে দৌড়াতে পারছিলাম না বলে সেগুলো খুলে হাতে নিলাম। পরে একসময় নিচু হয়ে একটি পাথর কুড়িয়ে ইসরাইলিদের দিকে ছুড়ে মারলাম। কিন্তু আমি জানতাম না কেউ আমার ছবি তুলছে। মিশেলাইন আওডার বয়স এখন ৬৩। তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে চাকরি করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে, কিন্তু তিনি চান না তারা আবার এ রকম কোনো সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ুক। প্রসঙ্গত, ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ১৯৮৭ সালে ‘ইন্তিফাদা’ বা গণজাগরণের আন্দোলন শুরু করেন ফিলিস্তিনিরা। ওই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি আর ২৭১ ইসরাইলি নিহত হন। ২০০০ সালে দ্বিতীয় দফার ইন্তিফাদা শুরু হয়েছিল। সেই সময় মারা যান ৩ হাজার ৩৯২ ফিলিস্তিনি আর ৯৯৬ ইসরায়েলি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জেরুজালেমকে দখলদার ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পর তৃতীয় ইন্তিফাদার ডাক দেয়া হয়। এখন পর্যন্ত এ লড়াইয়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই সহস্রাধিক।

মেঘনায় বালু লুটে প্রভাবশালীরা

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার ভাঙনকবলিত এলাকার কাছে মেঘনায় অবৈধভাবে খননযন্ত্রের (ড্রেজার) সাহায্যে বালু তোলা হচ্ছে। এতে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার স্লুইস ও চৌমহনী লঞ্চঘাট এলাকায় ১৫ ডিসেম্বর দেখা যায়, তীর সংরক্ষণকাজের প্রস্তুতি চলছে। বালু-পাথর আসছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মতে, চৌমহনী থেকে কেয়ামুল্যাহ পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার মেঘনার তীর ও স্লপ (বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢাল) সংরক্ষণকাজ করা হচ্ছে। এখানে প্রায় ৪০ লাখ সিসি ব্লক ফেলা হবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৪৪৯ কোটি টাকা। কাজটি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শুরু হলেও কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। বড়জোর ৮-১০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আরও দেখা যায়, উপজেলার গুড়িন্দা থেকে লঞ্চঘাট হয়ে দক্ষিণ দিকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের মুখে রয়েছে। স্লুইস ও চৌমহনী লঞ্চঘাট বিলীন হয়ে গেছে। নতুন স্থানে লঞ্চঘাট (পন্টুন) বসানো হলেও ভাঙনের কারণে পন্টুনটি কাত হয়ে আছে। যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার লঞ্চে ওঠানামা করছেন। বালু তোলা অবস্থায় ড্রেজার মালিক নুরু মিয়া ও দুলাল বলেন, তাঁদের উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার বালু তোলার জন্য মুন্সিগঞ্জ থেকে ভাড়া এনেছেন। শতাধিক তজুমদ্দিনবাসীর অভিযোগ, বালু উত্তোলনের কারণে উপজেলার ভাঙন তীব্র হচ্ছে। বর্ষায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তজুমদ্দিনবাসী বর্ষার জোয়ারে প্লাবিত হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ভাঙনকবলিত পাঁচ-ছয়জন বলেন, ভাঙন এলাকার পাশে মেঘনা থেকে আবদুস সালাম ওরফে বালু সালাম নামের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বছর ধরে বালু তুলছেন। মানুষ সেই বালু দিয়ে পুকুর, জলাভূমি ও কৃষিজমি ভরাট করছেন। ঠিকাদার মেঘনার চিকন দানার বালু সিলেট-মুন্সিগঞ্জের মোটা দানার বালুর সঙ্গে মিশিয়ে উন্নয়নকাজ করছেন। এতে মেঘনার ভাঙন তীব্র ও নিম্নমানের উন্নয়ন হচ্ছে। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, প্রতিদিন তজুমদ্দিন উপজেলায় মেঘনা থেকে অপরিকল্পিত ২০-২৫টি কার্গো জাহাজ বালু তোলা হচ্ছে। বিগত সময়ে মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জের খননযন্ত্র ভাড়া এলেও বর্তমানে ভোলার মালিকদের নিজস্ব খননযন্ত্র আছে।
বর্তমানে বালু তোলার কাজে জড়িত আছেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আমিন মহাজনসহ রুবেল মহাজন, আবদুল খালেক, দুলাল বণিক, হারুন গাজী ও মো. সবুজ। মো. সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেঘনা থেকে চিকন দানার ভিটি বালু তোলা হয়, তিনি মুন্সিগঞ্জের টোকের (বড় দানা) বালুর ব্যবসা করেন। আবদুস সালাম বালু তোলার সঙ্গে জড়িত। তবে আবদুস সালামের ছেলে নুরে আলম বলেন, শুধু তাঁরা নন, আবদুল খালেক, আমিন মহাজন ও রুবেল মহাজন যৌথভাবে মেঘনা নদী থেকে চার-পাঁচটি খননযন্ত্র দিয়ে বালু তুলছেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে ও নদীর তীর সংরক্ষণকাজে মাঠ ভরাটের জন্য বালু তোলা হচ্ছে। তবে তীরের কাছ থেকে নয়, মাঝনদী থেকে। একই ধরনের কথা বলেন ছাত্রলীগ সভাপতি আমিন মহাজন। তিনি বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নও হচ্ছে, আমার ফুটপ্রতি চার আনা লাভও হচ্ছে।’ বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের পরিদর্শক নাসিম আহমেদ বলেন, ভাঙনের কারণে মেঘনার সব কটি ঘাট বিকল হয়ে পড়ছে। বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা সাধারণত যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করেন। এ কারণে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়ে থাকতে পারে। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো-২) নির্বাহী প্রকৌশলী কাইসার আহমেদ বলেন, মেঘনা নদী এমনিতেই ভাঙনপ্রবণ। ভাঙনের আশপাশ দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে ভাঙন আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে দূর থেকে তুললে সমস্যা নেই। প্রকৌশলী আরও বলেন, মেঘনা নদীর মাঝে অনেক ডুবোচর আছে, যা নদীর নাব্যতা হ্রাস করছে। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ও ভাঙন প্রতিরোধ করতে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সঙ্গে নদী খনন ধরা আছে। তাই ডুবোচর কেটে বালু উত্তোলন করলে ক্ষতি নেই। ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে ভাঙন বৃদ্ধি ছাড়াও অনেক ক্ষতি করছে। তা ছাড়া ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এখানে ‘উন্নয়নের স্বার্থ’ বলে কোনো কথা নেই।

ভাসমান সবজি চাষে কৃষকেরা লাভবান

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় পানির ওপর ভাসমান শাকসবজি চাষ করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা বেশ সফল। তাঁরা সবজি বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করছেন। কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং সদর উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের সহায়তায় প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ভাসমান শয্যা পাতা হচ্ছে। যেসব অঞ্চল পানির নিচে থাকে, সেখানে কৃষকদের ভাসমান সবজি চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মূলত কচুরিপানা দিয়ে শয্যা (বেড) তৈরি করা হয়। প্রতিটি শয্যা ২০ মিটার লম্বা, প্রায় দেড় মিটার পুরু ও প্রস্থ চার মিটার। তিনটি বেড মিলে একটি প্রকল্প। সদর উপজেলায় এমন মোট ৪৫টি প্রকল্পে শাকসবজির আবাদ চলছে। কৃষকেরা প্রধানত লালশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, কলমি লতা, ঢ্যাঁড়স, শিম, লতিরাজ কচু ও লাউয়ের চাষ করছেন। প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। কৃষি কর্মকর্তারা চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিচ্ছেন চাষিদের। সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া, গোবরা, চাপাইলপাড়া ও চেচানিয়া কান্দি এলাকায় এ ধরনের ভাসমান সবজির আবাদ করা হচ্ছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন মানুষেরা এতে বেশ সুফল পাচ্ছেন। গোবরা ইউনিয়নের বাবু রাম বিশ্বাস বলেন, এভাবে পানির ওপর কচুরিপানার বেডে শাকসবজির চাষ করা সম্ভব আগে কখনো তাঁরা চিন্তাই করেননি। কৃষি কর্মকর্তারা এ ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়েছেন। এখন শাকসবজি বিক্রি করে তাঁরা অর্থ উপার্জন করছেন। সদর উপজেলার কাজুলিয়া ইউনিয়নের মোস্তাফিজুর রহমান ও হাকিম মোল্লা বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ১০ হাজার টাকার লালশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, গিমা কলমি, ঢ্যাঁড়স, শিম ও লাউ বিক্রি করেছি। নতুন আরও সবজি হচ্ছে।’ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ার রানা কাজী বলেন, ‘ভাসমান সবজি চাষের প্রতি আমাদের কোনো ধারণা ছিল না, কিন্তু এ বছর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় নতুন এক অভিজ্ঞতা হলো। আমার পাঁচটি বেড তৈরি করতে চার-পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি এরই মধ্যে ১০-১১ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছি। এখনো অনেক সবজি বেডে রয়েছে।’ মাঝিগাতি ইউনিয়নের রেজাউল কাজী বলেন, ‘গত বছরে প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় সরকারি খরচে ভাসমান সবজি চাষ করি। তখন একটা ধারণা হয়। এ ধরনের চাষ লাভজনক। তাই আমি এবার নিজে চারটা বেডে সবজি চাষ করেছি। খুব ভালো সবজি হয়েছে। যেসব মজা পুকুর, ডোবা ও খাল এমনিতেই পড়ে থাকে, সেসব জায়গায় আমরা ভাসমান সবজির চাষ করতে পারছি।’ সদর উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, যেসব এলাকা বছরের বেশির ভাগ সময় পানির নিচে থাকে, সেসব এলাকায় ভাসমান সবজি চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন। তবে এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের মাঝে আগে ছিল না, এই প্রদর্শনী প্রকল্প দেখে এখন অনেক কৃষক উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, কমপক্ষে পাঁচটি বেড থাকলে প্রত্যেক কৃষককে তাঁদের পক্ষে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় দুই বছর ধরে এ ধরনের প্রদর্শনী প্রকল্প চলছে। ইতিমধ্যে কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহের সৃষ্টি হচ্ছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত খুনি

নয় মাস আগে পুলিশ খিলক্ষেতের টানপাড়ায় সীমানাপ্রাচীরের পাশে নর্দমা থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মাথাবিহীন ও বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছিল। এর তিন দিনের মাথায় চলতি বছরের ২৫ মার্চ জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে লাশটি মিরপুর ১২ নম্বরের বাসিন্দা কুলসুম আক্তারের (২৮) বলে শনাক্ত হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা যুবক এনামুল হকের সঙ্গে কুলসুমের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে গতকাল বুধবার পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এনামুলই খুনি। গত ২২ মার্চ পুলিশ বস্তাবন্দী ওই লাশ উদ্ধার করে। গামছা দিয়ে লাশটির হাত-পা বাঁধা এবং বিবস্ত্র ছিল। এ ঘটনায় পুলিশ বিমানবন্দর থানায় হত্যা মামলা করে। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এজাজ শফী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ওই নারীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে কুলসুমের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে লাশটি শনাক্ত করা হয়। তিনি মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ইলিয়াস মোল্লার বস্তিতে থাকতেন। কুলসুমের পরিচয় জানার পর পুলিশ তাঁর আত্মীয়দের খুঁজে বের করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যায় জড়িত সন্দেহে মিরপুর ১২ নম্বর থেকে এনামুল হককে (৩০) গ্রেপ্তার করে। তিনি মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর সড়কের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাঁর বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে। তাঁরও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কুলসুমের ডিএনএর সঙ্গে এনামুলের ডিএনএ নমুনা মিলে যায়। পুলিশ পরিদর্শক এজাজ শফী বলেন, গতকাল ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, এনামুলই কুলসুমের খুনি। এখন এনামুলকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। তদন্তে জানা গেছে, কুলসুম জীবিত থাকাকালে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকতেন। একপর্যায়ে কুলসুমের সঙ্গে এনামুলের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর এনামুল জানতে পারেন, কুলসুমের আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এতে এনামুল ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুলসুমের মাথা বিচ্ছিন্ন করে খুন করেন। পরে বস্তায় ভরে লাশ ফেলে দেন এনামুল। কুলসুমের বিচ্ছিন্ন হওয়া মাথা এখনো পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।

ফিলিস্তিনি কিশোরী তুলল প্রতিবাদের ঝড়

মেয়েটির নাম আহেদ তামিমি। বয়স ১৬। সুন্দর একটা কৈশোর কাটানো তার অধিকার। তবে সে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত। জন্মের পর থেকে সে দেখে আসছে, তার জন্মভূমি ফিলিস্তিনে চলছে সংঘাত-সহিংসতা। তবে এসব দেখে নীরবে সয়ে যাওয়ার মেয়ে সে না। যেখানে যেভাবে যতটুকু প্রতিবাদ করা যায়, সে তা-ই করে। সম্প্রতি ইসরায়েলি সেনার গালে চড় মারার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ফিলিস্তিনে প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে কিশোরীটি। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনি মানুষ। কারণ, পবিত্র ভূমি জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে চায় তারাও। এ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ, সেই প্রতিবাদ থামাতে ইসরায়েলের দমন-পীড়ন—সব মিলিয়ে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলটিতে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্ত আর দশটা ফিলিস্তিনির মতো মেনে নিতে পারেনি কিশোরী আহেদ তামিমিও। পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে নিজেদের বাড়ির সামনে ইসরায়েলের সেনাদের দেখে নিজেকে আর সংযত করতে পারেনি সে। ক্ষোভে ফেটে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে মেয়েটি ইসরায়েলি সেনাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য বলে।
চিৎকার করতে থাকে। সেনারা তাকে সরে যেতে বলে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি চলতে থাকে দুই পক্ষের মধ্যে। একপর্যায়ে এক ইসরায়েলি সেনার গালে চড় মারে কিশোরী আহেদ। আল-জাজিরা বলছে, কিশোরীর সেই চড় হজম করতে পারেনি ইসরায়েলি সেনা দলের সদস্যরা। ঘটনার কিছু সময় পর কিশোরী আহেদকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় তারা। পরের দিন বাড়িতে হানা দিয়ে তছনছ করে সব। মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পুলিশ স্টেশনে গেলে মা নারিমান আল তামিমিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মা-মেয়ের কেউই মুক্তি পাননি। বরং তাঁদের আটকাদেশের মেয়াদ বেড়েছে। নিউজউইক বলছে, ঘটনাটিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, শুধু ওই কিশোরী নয়, এ ঘটনার জন্য দায়ী তার বাবা-মাসহ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাপ্য সাজা তাদের ভোগ করতেই হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যদি কোনো ধরনের বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে, তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। এই কড়া বার্তাটি সবাইকে মনে রাখার ও মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি। আহেদ তামিমি যে এবারই প্রথম এমন ঘটনা ঘটাল, তা নয়। নয় বছর বয়স থেকে সে ইসরায়েলবিরোধী মিছিলে শামিল হয়। ২০১৪ সালে বাড়ির কাছ থেকে ছোট ভাইকে ইসরায়েলি বাহিনীর লোকজন ধরে নিতে গেলে সে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু এতেও আটকাতে না পেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের হাত কামড়ে ধরেছিল সে। আর তার পুরো পরিবারই প্রতিবাদী। আহেদের বাবা বাসেম আল তামিমিও তাঁদের গ্রামে একজন প্রতিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচিত, যিনি সব সময়ই ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বলে যান। কী কারণে আহেদ তামিমি এত খেপে গিয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাবা বাসেম বলেন, কয়েক দিন আগেই ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহেদের ১৪ বছর বয়সী চাচাতো ভাই গুলিবদ্ধ হয়। টানা তিন দিন কোমায় থাকার পর তার জ্ঞান ফেরে। প্রায় সমবয়সী ভাইয়ের এমন অবস্থা ক্ষুব্ধ করে তুলছিল তাকে। আর সে কারণেই সে প্রতিবাদ করেছে। মেয়ের সাহসের তারিফ করেছেন বাবা। শুধু পশ্চিম তীর নয়, গোটা ফিলিস্তিনেই আহেদ এখন প্রতিবাদের প্রতীক। সবাই তার সাহসের প্রশংসা করছে। বাদিল নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আহেদের মতো শিশুদের এমন আচরণ করার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছে, জন্মের পর থেকে দমন-পীড়ন দেখতে দেখতে শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শিশু অসহায়-বিপন্ন বোধ করে। এ থেকে মুক্তির জন্য, ভালোভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশা থেকে তারা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠছে। ভাবছে, প্রতিবাদেই মুক্তি মিলবে তাদের।

রাশিয়ায় বিপণিবিতানে বিস্ফোরণ

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের একটি বিপণিবিতানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বার্তা সংস্থাগুলোর খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার রাতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় ওই বিপণিবিতানে আসা বেশ কয়েকজন ক্রেতা আহত হন।
বিস্ফোরণে কারও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আহতদের মধ্যে কমপক্ষে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি অসমর্থিত সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আহত হন আরও ১০ জন। বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়। তবে রুশ বার্তা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার তদন্ত করছেন।

জাতিসংঘ প্রতিনিধির বার্ষিক বাজেট সাড়ে ৮ লাখ ডলার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০১৮-১৯ সালের জন্য বিশ্ব সংস্থাটির জন্য যে দ্বিবার্ষিক বাজেট পাস করেছে, তাতে মিয়ানমারে একজন জাতিসংঘ প্রতিনিধির দপ্তরের জন্য ২০১৮ সালের ব্যয় বাবদ ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ ডলার মঞ্জুর করা হয়েছে। গত মাসে সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে গৃহীত এক প্রস্তাবে মিয়ানমারের জন্য একজন বিশেষ প্রতিনিধির নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। কমিটি যে প্রস্তাব করে তাতে বিশেষ প্রতিনিধির কার্যাবলি পরিচালনার জন্য নিউইয়র্ক ও মিয়ানমারের কাছাকাছি কোনো দেশে দুটি সমান্তরাল দপ্তর প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের ব্যয় বরাদ্দ অনুরোধ করা হয়েছিল। সাধারণ পরিষদের ফিফথ কমিটির নিরীক্ষার পর দপ্তরটির পরিধি কাটছাঁটের পর মূল প্রস্তাব থেকে প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার ডলার ব্যয় বরাদ্দ কমিয়ে আনা হয়। জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালের জন্য জাতিসংঘের যে দ্বিবার্ষিক বাজেট গৃহীত হয়েছে, তার পরিমাণ ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা বিগত দ্বিবার্ষিক বাজেটের ৫ শতাংশ কম।
জাতিসংঘের বাজেট প্রস্তাব গৃহীত হলেও মিয়ানমারের জন্য বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যাপারে থার্ড কমিটির প্রস্তাবটি এখনো সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত হয়নি। জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটি সম্ভবত নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে গৃহীত হতে পারে। কে নতুন জাতিসংঘ প্রতিনিধি হবেন, অথবা নিউইয়র্ক ছাড়া অন্য কোথায় তাঁর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, স্ক্যান্ডেনেভিয়ার কোনো একটি দেশের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে এই পদ গ্রহণে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। একই সূত্র থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখার জন্য সম্ভবত ব্যাংককে মহাসচিবের প্রতিনিধির দ্বিতীয় দপ্তরটি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এই শহরের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভিত্তিতেই বাজেটের মোট ব্যয় বরাদ্দ নির্ধারিত হয়। অন্য একজন কূটনীতিক প্রথম আলোকে জানান, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়াতেও দপ্তরটি স্থাপিত হতে পারে। বাংলাদেশি কূটনীতিকেরা মিয়ানমার প্রশ্নে জাতিসংঘ প্রতিনিধির নিয়োগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এর আগে প্রথম আলোকে জানান, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী যদি এই প্রশ্ন থেকে তাদের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়, তাহলে সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।

নতুন ভ্যাট চালু হয়নি

২০১৭ সালে অর্থনীতিতে অন্যতম বড় আলোচিত ঘটনা হলো নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়া। ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে শেষ মুহূর্তে এসে ভ্যাট আইন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।  গত ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। এর আগে অবশ্য দুবার আইনটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়া হয়। এখন ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে আইনটি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারের পদক্ষেপ আটকে গেল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর প্রভাব পড়তে পারে অন্য সংস্কার কার্যক্রমে। বছরের প্রায় অনেকটা সময়জুড়েই নতুন ভ্যাট আইনটি আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক বাজেট আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ীরা নতুন আইনটির সমালোচনা শুরু করেন। নতুন আইনে একটাই ভ্যাট হার নির্ধারণ করা হয়। এই হার ছিল ১৫ শতাংশ। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল ভ্যাট হার কমানো এবং একাধিক হারে ভ্যাট আরোপ করা। প্রথম দিকে ব্যবসায়ীরা নতুন আইনে প্যাকেজ ভ্যাট প্রথা বহাল রাখার দাবি করলেও শেষ দিকে এটি নিয়ে তেমন জোরালো দাবি করতে দেখা যায়নি। ব্যবসায়ী ও এনবিআরের মধ্যে প্রতিবছর বাজেট যৌথ পরামর্শক সভা হয়। এটিই সবচেয়ে বড় প্রাক বাজেট আলোচনা। গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই সভায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
উভয় পক্ষ ‘হুমকি’ ও ‘পাল্টা হুমকি’ দেয়। ব্যবসায়ীরা নতুন ভ্যাট আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলনের হুমকি দেন। জবাবে অর্থমন্ত্রী আন্দোলন দমনের পাল্টা হুমকি দেন। এমন নজিরবিহীন ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকার ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে অনড় থাকে। গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকেই নতুন আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। তিনি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, নতুন আইনটি পুরোপুরি কার্যকর করতে রাজস্ব প্রশাসন প্রস্তুত। এরপর ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় আরও উচ্চপর্যায়ে। শেষ পর্যন্ত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে ভ্যাট আইন দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বছরটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বছর হতে পারত। কিন্তু আমরা সংস্কারের সেই সুযোগটি হারিয়েছি। আগামী নতুন আয়কর ও শুল্ক আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগও এগোবে না।’ তাঁর মতে, একটি আইন বাস্তবায়নের আগে নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, জাতীয় সংসদে পাস ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন-এসব প্রক্রিয়া শেষ করে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঠিক আগমুহূর্তে পিছিয়ে যাওয়া সরকারের জন্য বিব্রতকর। কোনো দেশে এমন দেখা যায়নি।

চালে চাপ সংসারে

২০১৭ সালকে চালের বছর বলা যায়। মোটা দাগে কয়েক বছর ধরে স্থিতিশীল চালের বাজার এবার যেন জেগে ওঠে। ৩৫ টাকা কেজির মোটা চাল ওঠে ৫০ টাকার ওপরে। আর জনপ্রিয় সরু চাল বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৬৫ টাকার বেশি দামে। চাল ছাড়া এ বছর নজির গড়েছে পেঁয়াজ। বাজারে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় উঠেছে, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। এবার বর্ষাজুড়ে ক্রেতাদের ভুগিয়েছে সবজির দাম। অবশ্য বছর শেষে আলু ও ডিমের দামে বেশ স্বস্তি দেখা যায়, যা আবার চাষিদের জন্য দুঃসংবাদ হিসেবে দেখা দেয়। মূল্যস্ফীতিতে চালের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ফলে এ বছর মূল্যস্ফীতিতে যে বাড়তি প্রবণতা ছিল, তাতে বড় ভূমিকা চালের। সর্বশেষ হিসাবে অক্টোবর মাসে মাসওয়ারি ভিত্তিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। চালের দাম নিয়ে সংকট শুরু হয় গত বোরো মৌসুমে হাওরে ফসল নষ্ট হওয়ার পর। সব মিলিয়ে চালের উৎপাদন কমে যায় প্রায় নয় লাখ টন। কিন্তু বাজারে দাম বেশ বেড়ে যায়।
সরকারের গুদামেও খাদ্য মজুত তলানিতে নামে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে দেশে মোটা চালের গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৬ টাকা ৪৫ পয়সা, যা গত জুনে ৪১ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠে। অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে মোটা চালের কেজি ৫০ টাকায় উঠেছিল। আশা ছিল নতুন আমন ধান আসার পর দাম কমবে। কিন্তু আমন ওঠার পর মোটা চালের কেজিপ্রতি দর আরও ৩-৪ টাকা বেড়েছে। চালের দাম দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ঢাকার মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ফুটপাতে পোশাক বিক্রি করেন শামসুর রহমান মণ্ডল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর এখন ৬০ টাকা কেজিতে চাল কিনতে হয়। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁর দোকানে ক্রেতাও কমেছে। এ বছর পুরো বর্ষায় বেশির ভাগ সবজির দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬০ টাকার ওপরে। ফলে সাধারণ মানুষের ভরসা ছিল আলু। কিন্তু ৮০ লাখ চাহিদার বিপরীতে ১ কোটি ২ লাখ টন উৎপাদিত হওয়ায় মৌসুম শেষে আলু গরুকেও খাওয়াতে হয়েছে।

ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেন নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

অনলাইনে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বিটকয়েনের মতো ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা পৃথিবীর কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ দ্বারা স্বীকৃত নয়। সুতরাং ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেন করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ‘ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ ইস্যু করে না বিধায় এর বিপরীতে আর্থিক দাবির কোনো স্বীকৃতি নেই।’
এ ধরনের লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে। অনলাইনে কেনাকাটা করা যায় ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা বিটকয়েনে। তবে অন্যান্য মুদ্রাব্যবস্থায় যেমন সে দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে, বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা নয়। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের কেউ কিংবা একদল সফটওয়্যার ডেভেলপার নতুন ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার প্রচলন করে। এ ধরনের মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সি নামে পরিচিতি পায়। নাকামোতোর উদ্ভাবিত সে ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম দেওয়া হয় বিটকয়েন।

শিক্ষকদের কাজ শিক্ষকদের করতে দিন

দার্শনিক প্লেটো গিয়েছিলেন তাঁর ওস্তাদ সক্রেটিসের কাছে। জিজ্ঞাস্য হলো—একটি দেশে নানান পেশা ও নানান ধরনের লোক থাকে। সবার কাজ আলাদা। তাহলে দেশের কাজ কেমনে হবে? উত্তরে সক্রেটিস বলেছিলেন, যার যা কাজ, সে যদি সেটিই ঠিকমতো করে, তাহলেই দেশের কাজ হয়ে যায়। সক্রেটিসের এই কথাটা আমরা সারা দেশে গণিত উৎসবে বলতে থাকি। সেই সঙ্গে বলি নিজের কাজটা ঠিকমতো করা একটা ইবাদতও বটে। আমাদের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০১৭ শুরু হয়েছে ২১ ডিসেম্বর থেকে। এই সময়টাতে গণিতের বার্তা নিয়ে শহর থেকে শহরে ঘুরে বেড়ানোই আমার কাজ। এবারও তা-ই করছি। ঘুরতে ঘুরতে বগুড়া জিলা স্কুলে গিয়ে দেখি রাতের বেলায় শিক্ষকেরা দরজা বন্ধ করে খাতা দেখছেন। স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার খাতা। আর সেটা তত্ত্বাবধান করছেন জেলা প্রশাসনের লোকজন। পঞ্চগড়ে গিয়ে শুনি, পরদিন সেখানে ও ঠাকুরগাঁও জেলার সরকারি স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা। শিক্ষকেরা বললেন, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করেন জেলা প্রশাসনের লোকজনই। শিক্ষকেরা নন! আমার চমকানো দেখে তাঁরা জানালেন, এই নিয়ম নাকি বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে। জেলা শহরগুলোতে সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করার যোগ্যতা আমাদের শিক্ষকদের নেই। এই প্রশ্ন করেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা! স্কুলের শিক্ষকেরা কেবল খাতা দেখেন। তা-ও আবার কঠিন পাহারার মধ্যে। যত রাতই হোক, পরীক্ষার দিনই নাকি খাতা দেখা শেষ করতে হয়। আর ফলাফল প্রকাশ করে ওই জেলা প্রশাসন! জেলা প্রশাসনকে কেন স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব নিতে হলো, সেটা অবশ্য কেউ আমাকে বলতে পারলেন না। এক শিক্ষক শুধু বললেন, সম্ভবত স্কুলে শিক্ষকেরা ভর্তি পরীক্ষাটা ঠিকমতো নিতে পারেন না বলে প্রশাসনের হাত লম্বা করতে হয়েছে! এক শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলাম, কর্তাব্যক্তিরা কি স্কুলে এসে বাচ্চাদের পড়ান? উনি হেসে বললেন, ‘তা কেন হবে। স্কুলে পড়ানোর কাজটা আমরাই করি।’ তবে শিক্ষকেরা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করতে পারেন না। এবার ঘটেছে একটি চমৎকার ঘটনা।
খুলনা শহরের দুটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত একটি খবর পড়লাম পত্রিকায়। ‘খুলনা জিলা স্কুল ও সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ঘোষিত ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় গত শনিবার ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাদ পড়া শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা। এ সময় বাদ পড়া কোমলমতি শিশুশিক্ষার্থীরা খুলনা প্রেসক্লাবে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এদিকে গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা তৃতীয় শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফলে অনিয়মের জন্য জেলা প্রশাসক ও পরীক্ষা কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। এ সময় অভিভাবকেরা বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার দাবিতে গত রোববার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, হাইকোর্টে রিট করাসহ আন্দোলনের হুমকি দেন। এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রশাসক মো. অমিন উল আহসান বলেন, কোনো প্রকার দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রশ্নই ওঠে না। টেবুলেশন শিট থেকে ফলাফল কম্পিউটারে আপলোড করার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে ফলাফল ভুল হয়ে যায়, যে কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে সঠিকভাবে রেজাল্ট তৈরি করে তা শনিবার প্রকাশ করা হয়’ (দৈনিক ইত্তেফাক, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭)। খুলনার ঘটনা থেকে একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার। প্রথমত, যাঁরা ফল প্রকাশ করেছেন, তাঁরা ফল প্রকাশের আগে সেটি যাচাই-বাছাই করেননি। সম্ভবত প্রয়োজনও বোধ করেননি। কারণ, ‘এ রকম কাজ ওনারা হরহামেশা করেন’। প্রিয় পাঠক, আপনারা কেউ কি বলতে পারবেন, স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল কোনো দিন দ্বিতীয়বার প্রকাশ করা হয়েছে? না, হয়নি। শিক্ষকেরা জানেন তাঁদের কাজ কী। সেটা কীভাবে করতে হয়। শিক্ষাদানের কাজটা তাঁরা করেন, মূল্যায়নটাও তাঁরা করেন। ওটাই তাঁদের কাজ। যে শিক্ষকের কাছে ছেলেমেয়েরা পরবর্তী পাঁচ-সাত বছর পড়াশোনা করবে, সেই শিক্ষকদের কোনো যোগ্যতাই নেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করার! এই হচ্ছে আমাদের দেশ। শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ হাজার রকমের কাজ বাদ দিয়ে জেলা প্রশাসনের এখন একটা বড় কাজ হলো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া। আর তাদের এই কাজে যুক্ত করে দিয়েছে খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ থেকে কী লাভ হচ্ছে, সেটি শিক্ষামন্ত্রী হয়তো বলতে পারবেন। আমি যা বুঝি তা খুবই সহজ। এভাবে শিক্ষকদের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন করা ও ফল প্রকাশের দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেওয়ার কারণে সমাজে এমনটাই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে যে শিক্ষকেরা এই কাজের যোগ্য নন। তাই শেষ বিচারে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকেরা স্কুলের শিক্ষকের ওপর ভরসা রাখতে পারেন না। ছেলেমেয়েদের পাঠিয়ে দেন কোচিংয়ে। দেশের হাজার হাজার কোচিং সেন্টারে এমন লোকজন পড়ানোর দায়িত্ব পালন করেন, যাঁরা কখনো স্কুল-কলেজে শিক্ষক হতে পারেননি, শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতাও তাঁদের নেই। নিজেদের কোচিং সেন্টারের নাম বাড়ানোর জন্য তখন তাঁরা প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানাবিধ কাজে যুক্ত হন। স্কুলের শিক্ষককে ঠিকমতো সম্মান বা সম্মানী দুটোর কোনোটিই দেওয়া হচ্ছে না। এই সফরে এক শিক্ষক জানালেন, ১৩ বছর ধরে তাঁদের টাইম স্কেলের ফাইলটা কিছুতেই পাস হচ্ছে না। কারণ, ওই ফাইলগুলো তো প্রশাসনের কর্তাদের পাস করতে হয়। তাঁরা তো ভর্তি পরীক্ষা আর শিক্ষকদের দুর্নীতি ধরতে ব্যস্ত থাকেন। এই সব ফাইল দেখার সময় কই? চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের বেশির ভাগ বিনিয়োগ করতে হবে শিক্ষায়। আর সেটার সম্পূরক হলো শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা এবং তাঁদের কাজ তাঁদের করতে দেওয়ায়। মনে রাখতে হবে, শিক্ষককে মর্যাদাহীন করে শিক্ষার উন্নতির আশা করাটা বাতুলতা।
মুনির হাসান: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

স্থিতিশীলতার জন্য ভারসাম্য দরকার

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি আদালতের এক আদেশের ব্যাপারে জনসমক্ষে ব্যাখ্যা দিলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। মোল্লারা রাজধানী ইসলামাবাদ অবরোধ করলে দেশটির শাসনব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর কারণ হচ্ছে, এই অতি উত্তেজনা কেবল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমিত ছিল না। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার মধ্যে শুধু বিবাদই হয়নি, তাদের অন্তঃকলহে রাষ্ট্রের মৌলিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ২০১৪ সালে নওয়াজ শরিফ নির্বাচিত হওয়ায় ইসলামাবাদে যে আগ্রাসী অবস্থান ধর্মঘট হয়েছে, তার পেছনে যেমন রাষ্ট্রের ভেতরের রাষ্ট্রের প্রভাব ছিল, তেমনি আদালতের এক সন্দেহজনক আদেশের মাধ্যমে নওয়াজ শরিফকে সরানোর ক্ষেত্রেও তার হাত ছিল। যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) যে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই আদালত এই আদেশ দিয়েছেন, সেই দলটি সামরিক গোয়েন্দাদের দিয়ে ভর্তি ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ আদালতকে ব্যবহার করে নওয়াজ শরিফকে সরিয়েছে, যিনি দুটি কারণে তাদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। প্রথমত, তিনি সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে অভিযুক্ত করে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের সামনে দাঁড় করিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, নওয়াজ শরিফ প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেয়েছিলেন, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে। ভারতের সঙ্গে তিনি যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্কে যেতে চাইছিলেন, তাতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর চক্ষুশূল হন। তবে নওয়াজ শরিফ অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পরও যখন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচরণ করলেন,তখন সরকারের ওপর নতুন চাপ দেওয়া হলো। তিনি আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ইসলামাবাদ থেকে নিজ শহর পর্যন্ত এক বড় মিছিলের নেতৃত্ব দেন, সেই মিছিল লাহোর পর্যন্ত গিয়েছিল। এর জবাবে দাঙ্গা পুলিশ নামানো হয়েছিল। আর নভেম্বরে ধর্মীয় চরমপন্থীরা যে ইসলামাবাদ ঘেরাও করল, সেটা ছিল এই মন্থর অভ্যুত্থানের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পর্যায়, যার কারণে সরকার বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে এই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির সংঘাতের সময় নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে নীরব থেকেছে এবং শেষের দিকে তারা যেভাবে ‘মধ্যস্থতাকারীর’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তাতে মানুষের মনে অনেক প্রশ্নের উদয় হয়েছে। এক ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা পোশাক পরে এই ধর্মান্ধদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছেন—এই দৃশ্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে আমাদের সবকিছু বোঝা হয়ে যায়। নিরাপত্তা বাহিনী ও উচ্চ আদালত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের যে চেষ্টা করেছেন, তার সম্ভাব্য দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথম কারণ হলো, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে তারা যে ভূমিকা পালন করেছে, তা শোভনতা ও শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এসব কারণে তাদের একটু পিছু হটতে হবে। দ্বিতীয়ত, পিএমএলের(এন) রক্ষণশীল নেতারা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের লক্ষ্যে নওয়াজ শরিফকে নিরাপত্তা বাহিনীর শর্ত মানতে রাজি করাতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পদে শাহবাজ শরিফের মনোনয়ন সেই কথিত চুক্তির সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রকাশ।
এসব সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট যে রাজনৈতিক ভারসাম্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংসদে আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের যে বিল পেশ করা হয়েছে, তাতে আগামী নির্বাচনের পথ পরিষ্কার হয়েছে। এখনকার মতো সংবিধানাতিরিক্ত পদক্ষেপ যেমন দীর্ঘস্থায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে পাকিস্তানের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান টলমল করছে। বিশেষ করে বেসামরিক সংস্থাগুলোর অবস্থা ভালো নয়। আর ভাবমূর্তির দিক থেকেও উচ্চ বিচারালয় বেশির ভাগটাই হারিয়েছে। যে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা বাহিনী দানব বানিয়েছে, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত তঁাদের বিচারে জিহাদি জোশ দেখিয়েছেন। কিন্তু জেনারেলদের বিচার তাঁরা করতে পারেননি, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলেরও। জেনারেল মোশাররফের বিচার করতে না পারাটা সবচেয়ে কুখ্যাত নজির হয়ে থাকবে। দুর্নীতিবাজ বিচারকদেরও কিছু হয় না, এ ক্ষেত্রে আদালতের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। সংসদও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নির্বাচিত সংস্থাগুলো কয়েক বছর ধরে কোণঠাসা হয়ে আছে। কিন্তু আসন পুনর্বিন্যাসের বিল পাসে বিলম্ব হওয়ায় বোঝা যায়, সংসদ অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে কতটা অসহায়। নেতারা ব্যক্তিস্বার্থে বুঁদ হয়ে আছেন। তাঁরা যে ন্যূনতম বিষয়েও একমত হতে পারেন না, তাতে তাঁদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়নি। সংকট কাটিয়ে ওঠাটা দৃশ্যত সুখবর। সবাই চাইবে, আগামী নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাক, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ হোক। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এটিই একমাত্র পথ। কিন্তু রাষ্ট্রের এক মৌলিক বিরোধের মীমাংসা না করে এর মসৃণ অগ্রগতি আশা করা যায় না। এই সংকটের মূলে আছে ভারসাম্যহীন সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক। দেশ রক্ষায় সেনাবাহিনী অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে—এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নে তারা যা বলে, সবাই তা একরকম বিনা বাক্যে মেনে নেয়। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু জেনারেল যখন অন্য সব প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে নিজেদের ‘রাষ্ট্র’ ভাবতে শুরু করেন, তখনই বিপত্তিটা বাধে। নির্বাচিত নেতারা যখন সংবিধানের ঊর্ধ্বে উঠে রাজার মতো আচরণ করেন বা জবাবদিহির আওতায় থাকেন না, তখন তাঁদের চ্যালেঞ্জ জানানোটা আমাদের তরফে ন্যায্য। শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক আমলারা যখন চাকরির সীমা ছাড়িয়ে নিজেদের ‘প্রকৃত শাসক’ ভাবতে শুরু করেন, তখনো তাঁদের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য। ঠিক সেখানেই রাষ্ট্রের ভেতরে রাষ্ট্রের প্রসঙ্গ আসে। এটা শুধু অসাংবিধানিকই নয়, টেকসইও নয়। রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানুষের রায় পায়। কিন্তু সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র যখন মানুষের রায়ে ভেটো দেওয়ার অধিকার আছে বলে মনে করে, তখন গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়ে। পাকিস্তানে স্থিতিশীল গণতন্ত্র আনার ক্ষেত্রে এটা পূর্বশর্ত। এই প্রশ্ন অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা যাবে না।
দ্য নেশন থেকে নেওয়া, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
আফ্রাসিয়াব খটক: পাকিস্তানের আঞ্চলিক রাজনীতি বিশ্লেষক।

নতুন মেয়র ও নাগরিক প্রত্যাশা

২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদকে হারিয়ে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে ভোটাররা তাঁকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। এখন মেয়রের দেওয়ার পালা। রংপুরে পাঁচজন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করলেও ইশতেহার দিয়েছিলেন কেবল বিজয়ী প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান। তিনি ‘রংপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক ইশতেহারে রংপুরের অনেকগুলো সমস্যাই সমাধানের অঙ্গীকার করেছেন। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত সিটি করপোরেশন এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা পায়নি। ফলে সদ্য বিদায়ী মেয়র পৌরসভা থেকে পরিবর্তিত সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেননি। মাত্র ৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকার পৌরসভা এখন ২০৩ বর্গকিলোমিটারের সিটি করপোরেশন। নতুনভাবে যুক্ত হওয়া এলাকাগুলো এখনো গ্রাম। এখানে সড়ক পাকা হয়নি, বিদ্যুতের ব্যবস্থাও ভালো নয়। অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সুদূরপরাহত। উল্টো কমেছে সাধারণ মানুষের সুযোগ-সুবিধা। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতামূলক সেবা চালু ছিল, সিটি করপোরেশন হওয়ায় তা-ও বন্ধ হয়েছে। নতুন এলাকাগুলোতে কৃষিজমির ওপর সিটি করপোরেশন করের বোঝা চাপিয়েছে। মূল শহর, উপশহর, গ্রাম—এই তিন ধরনের মানুষের আছে কিছু অভিন্ন সমস্যা, কিছু স্বতন্ত্র সমস্যা। দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব সমস্যা সমাধানে আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদকাল ভাগ করে নিয়ে নতুন মেয়রের কাজে নেমে পড়া জরুরি। নতুন মেয়র শুরুতেই কিছু কাজ করতে পারেন, যে কাজের অনেকগুলোতে টাকাপয়সা কিংবা অতিরিক্ত জনবলের বেশি প্রয়োজন হবে না, শুধু সদিচ্ছাই যথেষ্ট। রংপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে ফুটপাত দখল করে আছে অসংখ্য ভাসমান দোকান। এক নির্দেশেই এসব দোকান অন্যত্র স্থানান্তরিত করা সম্ভব। প্রধান সড়কের ওপর থেকে গাড়ি পার্কিং ও ভবন সংস্কারের যাবতীয় মালামাল সরানো সম্ভব। শহরের প্রধান সড়কগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত কোনো জনবলেরও প্রয়োজন হবে না। তবে সমস্ত নগরে ডাস্টবিন বসাতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতন করেও তুলতে হবে। সড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তার ভেতর থেকে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরানো সম্ভব। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এলাকাগুলো থেকে সিটি করপোরেশনের কৃষিজমির কর কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জরুরি। নতুন সিটি করপোরেশনকে ইচ্ছামতো ঢেলে সাজানোর সুযোগ আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ, বিনোদনকেন্দ্র, বড় পুকুর, প্রশস্ত সড়কের ব্যবস্থা করা সম্ভব। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কয়েকটি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার পর্যাপ্ত জমিও আছে। শহরের শ্যামাসুন্দরী খালটিকে ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। শ্যামাসুন্দরী খাল, কেডি খাল, ঘাঘট নদ, খোকসা ঘাঘট নদ ও ইছামতী নদীর পরিচর্যা করতে পারলে শহরের চেহারাই পাল্টে যাবে। রংপুরবাসী এমন একটি শহর চায়, যেখানে কোনো রকম যানজট থাকবে না। রেলক্রসিংগুলোতে থাকবে ফ্লাইওভার। অটোরিকশাগুলো শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে। পর্যাপ্ত আলো, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও প্রয়োজন।
প্রতিদিন ছিনতাই এবং মোটরসাইকেল চুরির হাত থেকে শহরকে নিরাপদ করতে হবে। জেলা প্রশাসন ও প্রশাসনের সঙ্গে রংপুর সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ের অভাব আছে। নতুন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান নিশ্চয়ই প্রশাসনের সঙ্গে এই দূরত্ব দূর করবেন। সিটি করপোরেশনের এখন পর্যন্ত মাস্টারপ্ল্যান ও অর্গানোগ্রাম পাস হয়নি। ফলে শহরটি গড়ে উঠছে অপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা শহরের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত। রংপুরের উন্নয়নের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার রয়েছে। মোস্তাফিজার রহমান জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত, তবু রংপুরের উন্নয়নে তা বাধা হবে না বলেই অনেকে মনে করছেন। জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হলেও তো পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নামে অনেক অপবাদ আছে, তিনি রংপুরের উন্নয়নের জন্য তেমন কিছুই করেননি। যদি এখন সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করতে পারেন, তাহলে সেই অপবাদ অনেকটাই ঘুচবে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব যা আয়, তা দিয়ে রংপুরে বড় বড় উন্নয়ন একেবারেই অসম্ভব। ফলে নতুন মেয়রকে মনে রাখতে হবে, সরকারের কাছ থেকে এবং বেসরকারি বড় বড় দাতা সংস্থার সাহায্য নিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনকে সাজাতে হবে। সাবেক মেয়র বেশ কিছু অবকাঠামোগত কাজ শুরু করেছিলেন। এগুলোর অনেকটাই জাইকাসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায়। সেই কাজগুলোও যথাসময়ে সম্পন্ন করতে হবে। সিটি করপোরেশন শুধু মেয়রের দ্বারা পরিচালিত হবে না। সে জন্য কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরদের কাজের সুযোগ দিতে হবে। আদর্শ নগরে পরিণত হওয়ার অযুত সম্ভাবনা রয়েছে রংপুরের। নতুন মেয়র ইশতেহারে ঘোষণা করেছেন, তিনি রংপুরের সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ ও উন্নয়নমূলক কাজ সব সময়ই সবার পরামর্শ নিয়ে করবেন। যদি তিনি দক্ষ-অভিজ্ঞ-সৎ-নিষ্ঠাবানদের সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নকাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন, তাহলে রংপুর একদিন সত্যিই আদর্শ নগরে পরিণত হবে। রংপুর শহরটি ভালো রাখার দায়িত্ব শহরের প্রত্যেক নাগরিকের। এই চেতনার উন্নয়ন জরুরি। এই চেতনাবোধ শুধু শহর পরিষ্কার রাখার প্রশ্নে নয়, সামগ্রিক বিবেচনায়। সিটি করপোরেশনে এমন একটি ফান্ড চালু করা প্রয়োজন, যেখানে সবাই উন্নয়নমূলক কাজে আর্থিক সহযোগিতা করবেন। এই ফান্ডের অর্থ ব্যয় ব্যবস্থাপনায় রংপুরের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিরাও থাকবেন। রংপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নগরীকে সবুজ করে তুলতে পারে। নিজেদের ব্যবস্থাপনায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও করা সম্ভব। গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, সম্মানজনক কাজের জন্য সম্মাননা প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারে। সিটি করপোরেশনে একটি আর্কাইভ থাকা খুবই জরুরি। এই আর্কাইভ হয়ে উঠতে পারে ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনকেন্দ্র। নিজস্ব একটি মাসিক কিংবা ষাণ্মাসিক প্রকাশনাও থাকতে পারে। যেখানে শিল্প-সাহিত্য-ইতিহাস-ঐতিহ্যবিষয়ক লেখা থাকবে। একই সঙ্গে তাদের নিজস্ব অবস্থানও সেখানে তুলে ধরা থাকবে। এক কথায়, রংপুর সিটি করপোরেশন হয়ে উঠবে রংপুরের নাগরিকদের প্রাণকেন্দ্র। মেয়রের নেতৃত্বে সবার অংশগ্রহণে রংপুর সিটি করপোরেশন হয়ে উঠুক একটি আদর্শ নগর।
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
wadudtuhin@gmail.com

হত্যার আসামিদের স্পর্ধা দেখি

১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর প্রিন্ট সংস্করণে ও ২৩ ডিসেম্বর প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে দুটি খবর ছাপা হয়। ১৮ ডিসেম্বরের খবর হচ্ছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলার আসামিরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সম্মেলনে তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার নকশার অংশ হিসেবে তাঁদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। ২৩ ডিসেম্বরের খবর হচ্ছে, দিয়াজ হত্যা মামলার দুই আসামিসহ তিনজনকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের অধীন এক বছর মেয়াদি বিপিএড (ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন) কোর্সের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। খবর দুটি পড়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। একটি হত্যা মামলার আসামিরা কীভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেন? তাঁরা দোষী কি নির্দোষ, সেটা তো আদালতে প্রমাণিত হবে। এভাবে সংবাদ সম্মেলন করার সাহস পান কীভাবে তাঁরা? আর কোন বিবেচনাতেই আসামিদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন? গত বছরের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় নিজ বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এই অভিযোগ এনে ওই বছরেরে ২৪ নভেম্বর তাঁর মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু (বর্তমানে কমিটি বিলুপ্ত), সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, দিয়াজকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। আসামিরা সব ‘প্রভাবশালী’। ক্ষমতার দাপটে তাঁরা পার পেয়ে যেতে পারেন—শুরু থেকেই এই আশঙ্কা ছিল দিয়াজের মায়ের। এ কারণে ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের কাছে ধরনা দেওয়া এবং খোলা চিঠি লেখা—সবই করেছেন তিনি। কিন্তু কিছুই হয়নি। এক বছর পরও ছেলে হত্যার বিচারের কোনো আশা দেখতে না পেয়ে দিয়াজের মা আমরণ অনশনের পথ বেছে নেন। গত ২৭ নভেম্বর থেকে অনশন শুরু করেন তিনি। সাত দিন পর পুলিশ, মহানগর ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। কিন্তু এখন কী দেখছেন তিনি? ছেলে হত্যার আসামিরা প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করছেন! পুলিশ বলেছিল, দিয়াজ হত্যা মামলার আসামিরা পলাতক। তাহলে কী করে তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেন। আর পুলিশ তখন কেন তাঁদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করল না? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কি অন্ধ হয়ে গেল? তারা কী করে হত্যা মামলার আসামিদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়? তবে শুধু এ ক্ষেত্রে নয়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রই দেখা যায়, এসব খুনি-ধর্ষক যদি প্রভাবশালী হয়, অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী হয় বা সম্পদশালী হয়, তাহলে তো কথাই নেই। তাদের আইনের হাতে আনতে গড়িমসি চলবেই। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নিতে পুলিশ অনীহা দেখায়, গ্রেপ্তারে অনীহা দেখায়। যেমনটি দেখিয়েছিল বনানী থানার পুলিশ আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলা নিতে। একসময় মামলা নিলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করতে চাইছিল না পুলিশ। এই অনীহার পেছনে কারণ ছিল আসামিরা আর্থিকভাবে প্রচণ্ড প্রভাবশালী। এ রকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। রাজনৈতিক নেতার কথা না শুনলে চাকরি হারানোর ভয় আছে। সে জন্য নেতারা যেভাবে চান, সেভাবেই কি কাজ করে পুলিশ? তাহলে কি এ দেশের পুলিশ এখন ক্ষমতাসীনদের সংকীর্ণ স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে? রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করাই কি তাদের প্রধান কাজ। আইন, নীতি, নৈতিকতা—এসবের কোনো গুরুত্বই নেই? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়েও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকা বিষ্ময়কর। পুলিশের এসব নেতিবাচক ভূমিকা আমাদের হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করে। চোখে অন্ধকার দেখি। তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? যাদের টাকা নেই, ক্ষমতা নেই, যাদের মাথার ওপর রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া নেই, তারা কি তাহলে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে? প্রশ্ন হচ্ছে, কবে এসবের অবসান হবে? কবে পুলিশ সাধারণ মানুষের সত্যিকার বন্ধু হবে। নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধার করা ও তাদের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পুলিশেরই।
রোকেয়া রহমান: সাংবাদিক

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে সেখানকার মেয়র আনিসুল হকের অকালমৃত্যুতে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) যে যথাসময়ে নির্বাচন করার বিষয়ে আগ্রহী, সেটি তাদের কার্যক্রম থেকেই অনুধাবন করা যাচ্ছে। ইসির সচিব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে এবং জানুয়ারিতে তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে হতে পারে, সে জন্য কমিশন তিন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। কেননা ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এসএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা আছে। অবকাঠামোগত ও লোকবলের সমস্যার কারণে একই সময়ে দুটি হতে পারবে না। এ কারণে নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের পরীক্ষা পিছিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে বোর্ডের চেয়ারম্যানরা রাজি হন। রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিরোধী বিএনপিসহ কয়েকটি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও নানা জল্পনা চলছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলো নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার বিধান থাকলেও অতীতে অনেক সংস্থাই অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দিয়ে পরিচালিত হয়েছে, যার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। একদিকে যেমন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে নানা কথা ভেসে বেড়াচ্ছে। শুধু মেয়রের শূন্য আসনেই নির্বাচন হচ্ছে না।
উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে যাতে কোনো আইনগত জটিলতা দেখা না দেয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অম্লমধুর। অনেক স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আবার অনেক নির্বাচন নানা বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থী জয়ী বা পরাজিত হলেন, সেটি কমিশনের বিবেচ্য বিষয় নয়। তাদের দায়িত্ব ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা। তবে সেই কাজটি করতে হলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রার্থী তথা তাঁদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সহায়তা প্রয়োজন। আগামী বছরটিকে বলা হয় নির্বাচনের বছর। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন দিয়ে সেই যাত্রা শুরু হবে। অতএব, কেবল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার নন, সারা দেশের মানুষই চান নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হোক। আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নতুন ধারা ফিরে আসুক।

কোচ সংস্কারে ৭৬ কোটি টাকা সাশ্রয়!

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ১৮টি রেলকোচ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে বাস্তব-বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। এভাবে সংস্কারের মাধ্যমে শুধু যে রেলকোচগুলো নতুন রূপে ফিরে আসছে তা নয়, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থেরও সাশ্রয় হবে। বুধবার প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, জার্মান প্রযুক্তির ওই ১৮টি কোচ ১৯৯৮ সালে আমদানি করা হয়। ওই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন চলত ওই কোচবহর দিয়ে। পরে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের কোচ পাল্টে দেওয়ায় এগুলো পরিত্যক্ত হয়ে যায়। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় পাঁচ বছর ধরে এই ১৮টি কোচ পড়ে ছিল। এ ধরনের একটি নতুন মিটারগেজ কোচ কিনতে গেলে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা গুনতে হতো। সেখানে সংস্কার করতে প্রতিটি কোচে খরচ হবে প্রায় ৮০ লাখ টাকা করে। অর্থাৎ ১৮টি কোচে সরকারের সাশ্রয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোচগুলো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চট্টগ্রাম থেকে গত এপ্রিল মাসে কোচগুলো সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নিয়ে আসা হয়। রেল ভবনের নির্দেশে সেখানেই এখন কোচগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। রেলকোচ সংস্কারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। আমাদের দেশে দেখা যায়, বিআরটিসি, হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনেক মূল্যবান যানবাহন বা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সংস্কার ও মেরামতযোগ্য হলেও সে পথে না গিয়ে নতুন করে কেনা হয়। আবার অযত্ন ও অবহেলার কারণেও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক যানবাহন ও যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। আবার যথাযথ প্রয়োজন ছাড়াও আমাদের দেশে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে যানবাহন ও যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এভাবে সরকারের যে কত কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। অথচ সচেতনতা থাকলে ও শীর্ষ কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও বাস্তব বিচার-বুদ্ধি থাকলে অনেক অপচয়ই রোধ করা যায়। রেল কর্তৃপক্ষের এই দৃষ্টান্ত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও বিবেচনায় নিক।

বছরের শুরুতে আসছে নতুন নকিয়া

নকিয়া ব্র্যান্ড নামে স্মার্টফোন তৈরি করা ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবাল চীনের বাজারে নকিয়া ৭ নামের একটি স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে। ওই স্মার্টফোন এবার বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে এ স্মার্টফোন বাজারে আনা হতে পারে। স্মার্টফোনটির ৪ জিবি ও ৬ জিবি র‍্যামের দুটি সংস্করণ। স্মার্টফোন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ অ্যালুমিনিয়াম, যা নকিয়া স্মার্টফোনের মধ্যে একে সবচেয়ে শক্তিশালী করেছে।
অ্যান্ড্রয়েড নোগাট সংস্করণের স্মার্টফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ওরিও সংস্করণে হালনাগাদ হবে। ৫ দশমিক ২ ইঞ্চি মাপের ফুলএইচডি রেজল্যুশনের স্মার্টফোনটিতে অক্টাকোর কোয়ালকম ৬৩০ প্রসেসর, ৬৪ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, মাইক্রোএসডি সমর্থন, পেছনে কার্ল জেইস লেন্সযুক্ত ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে। নকিয়া ৭ মডেলটিতে রয়েছে বোথি নামের বিশেষ ফিচার। একই সঙ্গে সামনে ও পেছনের দৃশ্য ধারণের উদ্দেশ্য নিয়ে ফোনটির নির্মাতা প্রকৌশলীরা ‘বোথি’ নামের নতুন সুবিধা জুড়ে দিয়েছেন ফোনটিতে। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ছবি বা ভিডিও ধারণ করার সময় ফোনটির পর্দায় দুটি অংশেরই দৃশ্য দেখাবে। তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির ফোনটিতে ফোরজি, থ্রিজি, ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস সুবিধা আছে। চীনের বাজারে নকিয়া ৭–এর দাম ২ হাজার ৪৯৯ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় প্রায় ৩২ হাজারে। তথ্যসূত্র: গ্যাজেটস নাউ।

আসছে কম আলোয় সেলফি তোলার ফোন

দেশের বাজারে ক্যামন সিরিজের নতুন স্মার্টফোন আনছে টেকনো মোবাইল। এ ফোনে কম আলোয় ভালোমানের সেলফি তোলা যাবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী বছরের শুরুতেই নতুন স্মার্টফোন মডেলটি বাজারে আসবে। অ্যান্ড্রয়েডচালিত ফ্ল্যাগশিপ ফোন হিসেবে এতে উন্নত ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাঁচটি স্মার্টফোন নিয়ে গত জুলাই মাস দেশের বাজারে যাত্রা শুরু করে হংকংভিত্তিক মোবাইল ফোন নির্মাতা টেকনো মোবাইল। স্মার্টফোনগুলো বাজারজাত করছে ট্রানশান হোল্ডিং বাংলাদেশ। ট্রানশানের প্রধান নির্বাহী রেজওয়ানুল হক বলেন, বাংলাদেশের গ্রাহকদের চাহিদা এখন সেলফি ক্যামেরা। তাদের জন্য বিশেষ সেলফি ক্যামেরা, ইনফিনিটি ডিসপ্লে, বেশি র‍্যাম দিয়ে নতুন স্মার্টফোন ছাড়া হচ্ছে। ক্যামন সিরিজের নতুন স্মার্টফোনটির বিশেষত্ব হবে—লো লাইট সেলফি ক্যামেরা ও ফুলএইচডি ডিসপ্লে। টেকনো ব্র্যান্ডের ক্যামন সিরিজের সিএক্সএয়ার, আই সিরিজের আইসেভেন, আইথ্রি, ডব্লিউ সিরিজের ডব্লিউ এক্স ৩, এক্স ৪ ও স্পার্ক সিরিজের স্মার্টফোন বাজারে এনেছে ট্রানশান।

ঢাকায় কাল থেকে শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস

দেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করে তুলতে কাল ২৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনের শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করবেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির চার শতাধিক শিক্ষার্থী তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসের দুই দিনব্যাপী আয়োজনে সারা দেশের স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা উপস্থাপন করবে বৈজ্ঞানিক পেপার, বৈজ্ঞানিক পোস্টার বা বিজ্ঞান প্রজেক্টের মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত একটি বিচারক দল শিক্ষার্থীদের এসব গবেষণা মূল্যায়ন করবে। তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা পেপার, পোস্টার ও প্রজেক্টগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে। কংগ্রেসের দ্বিতীয় দিন সকালে অনুষ্ঠিত হবে খুদে বিজ্ঞানী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক-বিজ্ঞানীদের নিয়ে যৌথ কংগ্রেস। এতে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে দেশের বিজ্ঞান শিক্ষা এবং এ-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে মতবিনিময় করবে। যৌথ কংগ্রেস শেষে একটি প্রস্তাব তৈরি করা হবে। কংগ্রেসের সেরা গবেষণাকাজগুলোকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি নির্বাচিত তিনটি গবেষণাকে ‘পেপার অব দ্য কংগ্রেস’, ‘পোস্টার অব দ্য কংগ্রেস’ ও ‘প্রজেক্ট অব দ্য কংগ্রেস’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। দুই দিনব্যাপী কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত থাকবেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির (এসপিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আইইইই-এর ডিস্টিংগুইশ লেকচারার অধ্যাপক রেজওয়ান খান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মফিজুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক সিদ্দিক-ই-রাব্বানী, অধ্যাপক ড. আরশাদ মোমেন, বিশিষ্ট জীববিজ্ঞানী ড. রেজাউর রহমান, ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার অধ্যাপক ফাহমিদা নিলুফার চৌধুরীসহ অনেকে। কংগ্রেসের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে পঞ্চম জগদীশচন্দ্র বসু ক্যাম্প। এসপিএসবি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) আয়োজনে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় পঞ্চমবারের মতো শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস আয়োজিত হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তি।