Thursday, April 10, 2014

জয়াপ্রদা, নাগমা ও রাজ বাব্বর কি পারবেন?

নাগমা, রাজ বাব্বর ও জয়াপ্রদা
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ রাজ্যে আজ বৃহস্পতিবার ভাগ্য পরীক্ষা হবে বলিউডের তিন তারকার। তাঁরা হলেন জয়াপ্রদা, নাগমা ও রাজ বাব্বর। মিরাট আসনে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ছেন নাগমা। গাজিয়াবাদ থেকে কংগ্রেসের হয়েই লড়ছেন রাজ বাব্বর। আর জয়াপ্রদা প্রার্থী হয়েছেন মুজাফফরনগর জেলার বিজনর আসনে। তিনজনই বাইরে থেকে গিয়ে ওই তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নিজেদের জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। শেষ বিচার করবেন ভোটাররা। জয়াপ্রদা রাজনীতির মাঠে বেশ পরিচিত মুখ। এর আগে দুবার সমাজবাদী পার্টি (এসপি) থেকে উত্তর প্রদেশের রামপুর আসনে জয়ী হন।
এবার তিনি দল ও আসন পাল্টেছেন। অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোক দল (আরডিএল) থেকে বিজনর আসনে প্রার্থী হয়েছেন জয়া। তাঁর শক্ত প্রতিপক্ষ বিজেপির কুনওয়ার ভরতেন্দ্র সিং। গাজিয়াবাদে অভিনেতা রাজ বাব্বরকে বেছে নিয়েছে কংগ্রেস। সেখানে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ভিকে সিং। এ ছাড়া আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রার্থী সাজিয়া ইলমি আছেন। নাগমা লড়ছেন মিরাট আসনে। সেখানে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন বিজেপির রাজেন্দ্র আগারওয়াল, সমাজবাদী পার্টির শহীদ মঞ্জুর। নাগমা যদিও বলেছেন, অভিনয় আর রাজনীতির মাঠ এক নয়। এর পরও ভোটারদের মন জয়ে আশাবাদী তিনি। পিটিআই।

ভোটের আসল উত্তাপ ছড়াবে আজ

নিতিন গড়কারি, মীরা কুমার,
পি এ সাঙমা ও অজিত সিং
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় গতকাল বুধবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চার রাজ্যের ছয়টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় পাওয়া যাবে ভোটের আসল উত্তাপ। দিল্লি, উত্তর প্রদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি রাজ্য ও ইউনিয়ন টেরিটরির ৯১টি আসনে আজ ভোট হবে। ভাগ্য নির্ধারণ হবে ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রার্থীর।
চার রাজ্যের ছয় আসনে ভোট গ্রহণ: নয় দফা নির্বাচনের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দফা। এ দিন অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের দুটি, মেঘালয়ের দুটি, নাগাল্যান্ডের একটি ও মণিপুরের একটি আসনে ভোট হয়। মিজোরাম রাজ্যের একটি আসনে ভোট গ্রহণের কথা থাকলেও বনেধর কারণে তা পিছিয়ে ১১ এপ্রিল নেওয়া হয়। বিকেল তিনটা পর্যন্ত অরুণাচলে ৫৫, মেঘালয়ে ৫৩, নাগাল্যান্ডে ৬০ ও মণিপুরে ৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। অরুণাচলের একটি আসনে লড়েন কংগ্রেসের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিনং এরিং। রাজ্যটিতে লোকসভার পাশাপাশি ৬০ সদস্যের বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট হয়। রাজ্যের তিরাপ জেলার কোনসা বিধানসভা আসনের কংগ্রেস প্রার্থীকে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অপহরণ করলেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি খাসি জয়ন্তিয়া এলাকায় ১২ ঘণ্টার বন্ধ্ ডেকেছিল একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ। তবে তা উপেক্ষা করেই রাজ্যের শিলং ও তুরা আসনে ভোট হয়। রাজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন লোকসভার সাবেক স্পিকার পি এ সাঙমা। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির নেতা সাঙমা তুরা আসনে আটবার জিতেছেন। তিনি গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রণব মুখার্জির বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। লোকসভায় নাগাল্যান্ডের আসন মাত্র একটি। আসাম সীমান্তবর্তী সংঘাতময় লংলেং জেলায় দুপুর পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শুরু করা যায়নি। মণিপুরের দুই আসনের মধ্যে গতকাল আউটার মণিপুর আসনে ভোট হয়।
আজ ভোট ৯১টি আসনে: আজ তৃতীয় দফায় বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওডিশা, উত্তর প্রদেশ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, চণ্ডীগড়, লাক্ষাদ্বীপ, দিল্লির ৯১টি আসনে ভোট হবে। আজ প্রভাবশালী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমার (বিহারের সাসারাম), কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়নমন্ত্রী কমল নাথ (মধ্যপ্রদেশের চিন্দওয়ারা), কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিবাল ও শশী থারুর, বিজেপির সাবেক সভাপতি নিতিন গড়কারি (মহারাষ্ট্রের নাগপুর), কংগ্রেস নেতা ইমরান মাসুদ (উত্তর প্রদেশের মোজাফ্ফরনগর)। আজ আরও রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ভি কে সিং ও হর্ষবর্ধনের (বিজেপি) মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা। লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের নির্বাচনী আসন বিহারের সাসারাম। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির শেডি পাশান ও এএপির গীতি আরা। অজিত সিং উত্তর প্রদেশের বাগপত আসনের শক্ত প্রার্থী। তাঁর দল আরএলডির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট রয়েছে। একই আসনে মুম্বাইয়ের সাবেক পুলিশ কমিশনার সত্যপাল সিং বিজেপির, গোলাম মোহাম্মদ সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও প্রশান্ত চৌধুরী বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। গাজিয়াবাদে অভিনেতা রাজ বাব্বরের আসনে সাজিয়া ইলমি এএপির ও ভি কে সিং বিজেপির প্রার্থী। এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস।

ক্ষমা চাইলেন সেই অটোরিকশাচালক

আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল
গতকাল সেই অটোরিকশাচালক লালির বাড়িতে
যান। এসময় ক্ষমা চান লালি, সৌজন্যে এনডিটিভি
ভারতের আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে চড় মারা সেই অটোরিকশাচালক ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁকে চড় মারা ‘বিরাট ভুল’ হয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি। কেজরিওয়াল গতকাল বুধবার পশ্চিম মুম্বাইয়ে ওই অটোরিকশাচালক লালির বাড়িতে যান। এ সময় লালি হাতজোড় করে তাঁর কাছে ক্ষমা চান। তিনি কেজরিওয়ালকে বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাচ্ছি। তাঁকে আক্রমণ করে বিরাট ভুল করেছি।’ জবাবে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমি তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’ ৩৮ বছর বয়সী লালি গত মঙ্গলবার দিল্লির সুলতানপুরিতে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও এএপি প্রধান কেজরিওয়ালকে চড় মারেন। এ সময় চড়ের আঘাতে ৪৫ বছর বয়সী কেজরিওয়ালের বাঁ চোখ ফুলে যায়। হামলাকারী লালি কেজরিওয়ালকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে আক্রমণ করেন। কেজরিওয়ালকে কেন আক্রমণ করেছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে লালি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি অসন্তুষ্ট ছিলাম। কারণ, আমি তাঁর (কেজরিওয়ালের) সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, তবে পারিনি। এমনকি আমি তাঁর জনতার দরবারে গিয়েও দেখা করতে ব্যর্থ হয়েছিলাম।’ এ ছাড়া কেজরিওয়াল গতকাল আবদুল ওয়াহিদ নামে তাঁর ওপর আরেক হামলাকারীর সঙ্গে দেখা করেন। গত শুক্রবার তিনি দক্ষিণপুরি এলাকায় কেজরিওয়ালকে ঘুষি মারেন। এর আগে গত ২৮ মার্চ হরিয়ানা রাজ্যের একটি এলাকায় কেজরিওয়ালের ঘাড়ে ঘুষি মারেন এক ব্যক্তি। এ ছাড়া উত্তর প্রদেশের বারানসিতে তাঁর মুখে কালি ছুড়ে মারা হয়েছিল। গত মঙ্গলবার হামলার পর কেজরিওয়াল বলেন, তিনি এখন নিজের জীবন নিয়েও শঙ্কিত। তিনি বলেন, ‘এই হামলাগুলো পূর্বপরিকল্পিত। সব হামলাই কেন আমাদের ওপর হচ্ছে? আমাদের ওপর আরও হামলা ঘটবে। এমনকি আমাদের হত্যাও করা হতে পারে।’ আইএএনএস।

হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন মার্কেজ

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
কলম্বিয়ার নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ প্রায় এক সপ্তাহ পর হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার মেক্সিকো সিটিতে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো নাজুক।  মার্কেজ (৮৭) প্রায় তিন দশক ধরে মেক্সিকোর রাজধানীতে বসবাস করছেন। ফুসফুস ও মূত্রনালির সংক্রমণ নিয়ে গত ৩১ মার্চ তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে হাসপাতাল থেকে নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। এর আগে থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন।
তবে বিড়ম্বনা এড়াতে বাড়িটিতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছিল। মেক্সিকোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেরসেদেস হুয়ান রেডিও ফরমুলাকে জানান, মার্কেজ ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে সেরে উঠেছেন। তাঁর বয়স বিবেচনায় বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নতুন করে সংক্রমণ ঠেকাতে খ্যাতিমান এই লেখককে তাঁর বাসায় অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হবে। ১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান মার্কেজ। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপন্যাস নিঃসঙ্গতার একশ বছর প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। উপন্যাসটি অন্তত ৩৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এএফপি।

নির্বাচন কমিশন-মমতা মুখোমুখি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসি) লোকসভা নির্বাচনের তফসিল বাতিল অথবা স্থগিত করার হুমকি দেওয়ার পর কিছুটা সুর নরম করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশাসনের আট কর্মকর্তার বদলিতে রাজি হলেও এসব পদে নির্বাচন কমিশন যাঁদের নিয়োগ দিয়েছে, তাঁদের মানতে রাজি নন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, আজ বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে মমতার সরকার নতুন নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের মেনে না নিলে কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচন সামনে রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ না করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশন গত সোমবার পাঁচজন জেলা পুলিশ সুপার, একজন জেলা প্রশাসক ও দুইজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে বদলি করে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের বদলির আদেশ মানবেন না বলে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে আলোচনা না করে কোনো কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই। প্রয়োজনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হোক। তবুও তিনি কর্মকর্তাদের বদলি করবেন না। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন গতকাল সকালে ঘোষণা দেয়, আট কর্মকর্তাকে বদলি করা না হলে পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করা হবে।
এমনকি রাজ্যের মুখ্য সচিবের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই হুমকির পর আগের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসে রাজ্য সরকার। সূত্র জানায়, কমিশনের হুমকির পর রাজ্যের মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্র গতকাল সকালে মমতার নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, আট কর্মকর্তাকে বদলি করা হলে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের ওপর কেন আস্থা রাখা হয়নি, তাও জানতে চাওয়া হয়। সূত্র জানায়, মুখ্য সচিব চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদেরও একটি তালিকা পাঠান। তিনি অনুরোধ করেন, আট কর্মকর্তার স্থলে যেন এই তালিকা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে গতকাল সকালে রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করার হুমকি প্রসঙ্গে জানতে চায়। পক্ষান্তরে বদলির আদেশে সই করতে রাজ্য সরকারকে গতকাল বেলা ১১টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে নির্বাচন কমিশন বলে, অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কমিশন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে বাধ্য...কর্মকর্তাদের বদলি করা না হলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করা হতে পারে। আট কর্মকর্তার বদলি নিয়ে মমতার ভূমিকায় রাজ্যজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কড়া ভাষায় নিন্দা জানায় কংগ্রেস, বিজেপি ও বাম দল। কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, পাগলের মতো কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের উচিত জামিন অযোগ্য ধারায় মমতার বিরুদ্ধে মামলা করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া। বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, উনি আইনের তোয়াক্কা করেন না। গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে চাইছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের খুব দরকার ছিল।

কেজরিওয়ালকে এবার চড় দিলেন অটোচালক

অরবিন্দ কেজরিওয়াল
ভারতের নতুন রাজনৈতিক দল আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে এবার এক অটোরিকশার চালক থাপড় মেরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় তিনি অটোরিকশাচালকের হামলার শিকার হন। কেজরিওয়াল তাঁর দলের প্রার্থী আশুতোষের পক্ষে দিল্লির সুলতানপুরি এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ওই অটোচালক তাঁকে থাপড় মারেন। পরে অবশ্য দলীয় নেতা-কর্মীরা হামলাকারীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। ওই হামলাকারীর নাম লালি বলে জানা গেছে। তিনি দিল্লির আমান বিহার এলাকায় থাকেন। এএপি দিল্লিতে সরকার গঠনের পর প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অটোচালক হতাশ হয়েছেন।
দিল্লির অটোচালকদের অধিকাংশই এএপির সমর্থক। লোকসভা নির্বাচনে তাঁদের অনেকে এএপির পক্ষে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। এর আগে গত শুক্রবার নয়াদিল্লির দক্ষিণপুরি এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় এক ব্যক্তি কেজরিওয়ালকে থাপড় মেরেছিলেন। পরে ওই হামলাকারীকে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। গত ২৮ মার্চ হরিয়ানার চরকি দাদরি এলাকায় কেজরিওয়ালের ঘাড়ে এক ব্যক্তি ঘুষি মারেন। বারানসিতে তাঁর মুখে কালি ছুড়ে মারা হয়েছিল। ঘটনার পর কেজরিওয়াল খুদে ব্লগ লেখার সাইট টুইটারে লেখেন, ‘আমি চিন্তা করছি, কেন আমি বারবার হামলার শিকার হচ্ছি? এর মূল হোতা কারা? তারা কী চায়? এর মাধ্যমে তারা কী অর্জন করছে?’ এদিকে এএপির উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলি আসনের প্রার্থী বিচারক (অব.) ফকরুদ্দিন তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ওই আসনে ৭ মে ভোট। সেখানে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী প্রার্থী হয়েছেন। এনডিটিভি।

ইশতেহার বিজেপির, নাকি মোদির?

নরেন্দ্র মোদি
হিন্দুত্ববাদী তিনটি বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার অটুট রেখেই এবারের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ইশতেহারে মূল তিনটি বিষয় হলো, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ, লৈঙ্গিক সমতা রক্ষায় ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ প্রণয়ন এবং জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) কেন্দ্রে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে মোদির বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে ইশতেহারে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
দলের সহকর্মীদের উদ্দেশে মোদি বলেছিলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করতে হবে। কাজেই ইশতেহারের নামে প্রথাগত দলিলের পরিবর্তে ‘সুনির্দিষ্ট এবং বাস্তবায়নের উপযোগী’ কাজ নির্ধারণ করতে হবে। কংগ্রেসসহ বিজেপির বিরোধীরা এই ইশতেহারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে রামমন্দির নির্মাণের বিতর্কিত বিষয়টির ওপর আবার গুরুত্ব দেওয়ায় বিজেপির ‘সাম্প্রদায়িক’ চরিত্র পাল্টায়নি বলে অভিযোগ করছে অন্য দলগুলো। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বিজেপির ইশতেহার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। মোদির ইচ্ছা অনুযায়ী ইশতেহারটি প্রকাশের কারণেই এতটা বিলম্ব হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্র জানিয়েছে। বিজেপির ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রধান মুরলি মনোহর যোশীকে বাড়তি পরিশ্রমটুকু করতেই হয়েছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানায়, ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়াটি ‘সারগর্ভ’ হলেও সহজে পড়ার উপযোগী ছিল না। মোদির পরামর্শে নতুন করে সেটিকে সহজপাঠ্যে রূপ দেওয়া হয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি এবারের ইশতেহারকে গত ১৬টি নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে ‘সেরা’ বলে মন্তব্য করেন। হিন্দুস্তান টাইমস।
বিজেপির ইশতেহার ২০১৪
‘সংবিধানসম্মতভাবে’ রামমন্দির নির্মাণ লৈঙ্গিক সমতা রক্ষায় ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ প্রণয়ন কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদাদানকারী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রহিতকরণ বহুজাতিক বিনিয়োগকে (এফডিআই) না, তবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে এফডিআইকে উৎসাহিত করা হবে
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ: ই-গভর্ন্যান্স, কর আদায় সহজকরণ, কালো টাকার ব্যাপারে তথ্য দিতে বিদেশি সরকারকে চাপ প্রদান
সরকারি সংস্কার: দ্রুত বিচার আদালত, লোক আদালতের মতো বিকল্প ব্যবস্থা, জটিল আইনসমূহের সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন আইন বাতিলকরণ
নারী অধিকার: আইনসভায় ৩৩ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ ও পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন

মার্কিন কংগ্রেসের প্যানেলে মালালা বৃত্তি অনুমোদন

মালালা ইউসুফজাই
মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্যানেল গত সোমবার পাকিস্তানের নারীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধিসংক্রান্ত একটি প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে পাকিস্তানের নারী আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাইয়ের নামে। এরপর প্রস্তাবটির পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটির জন্য প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হয়। নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্র্যাস মেং বলেন, ‘আমি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছি।’
তিনি মালালা ইউসুফজাই আইনের সহ-উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকের কলেজে শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। এই অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, প্রস্তাবটি পাস হবে।’ এই প্রকল্পের আওতায় পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত অনেক কলেজ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। ডন।

বাপ্পী লাহিড়ী ও তাঁর স্ত্রীর ১৮ কেজি সোনা!

বাপ্পী লাহিড়ী
ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও পরিচালক বাপ্পী লাহিড়ী গতকাল সোমবার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করেছেন তাঁর ও স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী। এতে দেখা যায়, বাপ্পী লাহিড়ীর নিজের প্রায় আট কেজি এবং স্ত্রীর প্রায় ১০ কেজি সোনা রয়েছে।
বাপ্পী লাহিড়ীর জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণী থেকে জানা যায়, এই সংগীতশিল্পীর সব মিলিয়ে এখন সোনা রয়েছে ৭ দশমিক ৫৪ কেজি। রুপা রয়েছে ৪ দশমিক ৬২ কেজি। এ ছাড়া রয়েছে পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি, মহারাষ্ট্রে চার কোটি রুপির মূল্যের পাঁচ একর জমি এবং ব্যাংকে দুই কোটি ২৪ লাখ রুপি। একই সঙ্গে দেনা রয়েছে নয় কোটি রুপি। অন্যদিকে, স্ত্রী চিত্রাণী লাহিড়ীর রয়েছে ৯ দশমিক ৬৭ কেজি সোনা, ৮ দশমিক ৯ কেজি রুপা, হীরা ৩ দশমিক ২ ক্যারট, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৬২ হাজার রুপি এবং মুম্বাইয়ের জুহুতে লাহিড়ী হাউস, যা কেনা হয়েছিল ৯৯ লাখ ৩২ হাজার রুপিতে। তাঁরও পাঁচ কোটি রুপি দেনা রয়েছে। বাপ্পী লাহিড়ী এবার প্রথমবারের মতো লোকসভা নির্বাচনে লড়ছেন।

বাংলাদেশটা যদি বরিশাল হতো!

৬ এপ্রিল বিভাগীয় বইমেলা উপলক্ষে বরিশালে গিয়েছিলাম। এতে সব মিলিয়ে ৬৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যোগ দেয়। ৩ এপ্রিল মেলা উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। মেলায় প্রতিদিনই আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন চলছে, যাতে বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। একটি বইমেলায় কত বই বিক্রি হলো, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, বই সম্পর্কে পাঠককে আগ্রহী করে তোলা। কালেভদ্রে নয়, প্রতিবছরই জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে মেলার আয়োজন হওয়া উচিত। খুব ভোরে লঞ্চযোগে বরিশালে পৌঁছেই কিছুটা অবাক হলাম। রাস্তাঘাট সব পরিষ্কার। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় ‘বাংলার ভেনিস’ না হলেও বরিশাল শহরটি এখন বেশ পরিচ্ছন্ন, ছিমছাম। নদীর পাড় ঘেঁষে সবুজের বেষ্টনী। পামগাছের সারি। শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ। বরিশালের শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী—যাঁদের সঙ্গেই কথা হয়েছে, সবাই একবাক্যে স্বীকার করলেন, শহরটির এই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির কৃতিত্ব সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের, যিনি বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাঁরা বললেন, হিরনের আমলেই শহরে বেশির ভাগ উন্নয়নকাজ হয়েছে। দখলদারদের আগ্রাসন থেকে বিবির পুকুরসহ অনেক সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
সকালে সদর রোডের এক রেস্তোরাঁয় নাশতা করতে গিয়ে আলাপ হয় স্থানীয় কয়েকজন পেশাজীবীর সঙ্গে। সেখানে কিশোর বয়সী এক হকার ছিল, নাম রতন। জিজ্ঞেস করি, কোন পত্রিকা এখানে বেশি চলে? রতন বলল, প্রথম আলো ও যুগান্তর। সে কোন পত্রিকা কটি বিক্রি করে? তার জবাব: প্রথম আলো ৬০টি ও যুগান্তর ৩২টি। রেস্তোরাঁর মালিক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঢাকার খবর কী?’ সাতসকালে ঢাকার খবর? আমি কৌতূহল প্রকাশ করলে তিনি জানান, ‘আমি জানতে চাইছি, অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিরন সাহেবের কোনো খবর আছে কি না?’ দুপুরে আদালতপাড়ায় কথা হয় বরিশাল বারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে। জানতে চাই, বরিশালের রাজনীতি কেমন চলছে? জবাবে তাঁদের একজন বললেন, মোটামুটি ভালো। গত বছর নির্বাচন ও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশজুড়ে হানাহানি, মারামারি হলেও বরিশাল শান্ত ছিল। এখানে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হয়নি। কেউ মারা যায়নি। জানতে চাই, এখানে কি বিরোধী দলের কোনো তৎপরতা ছিল না? তাঁরা জানালেন, বিরোধী দল শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের বলা হতো, নির্দিষ্ট এলাকা দিয়েই তাদের মিছিল নিয়ে যেতে হবে। তারা সেটি মেনে চলত। আবার সরকারি দল বা প্রশাসনও তাদের সেই কর্মসূচিতে বাধা দিত না। তাহলে কি আমরা বলতে পারি, বরিশালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে একধরনের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আছে? একজন আইনজীবী জবাব দিলেন, হ্যাঁ, তা বলতে পারেন। তবে কত দিন এই ভালো অবস্থা থাকবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। এর কারণ, এখানে আওয়ামী লীগের নেতা শওকত হোসেন হিরন ও বিএনপির নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের মধ্যে একটি অলিখিত সমঝোতা ছিল। তাঁরা কেউ কারও কাজে বাধা দেবেন না।
একবার বিএনপি অফিসে হামলা হলে হিরন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সমবেদনা জানান। বলেন, ‘যাঁরা হামলা চালিয়েছে, তারা আওয়ামী লীগের কেউ নয়।’ এমনকি সম্প্রতি ঢাকায় হাসপাতালে হিরনকে দেখতে গেছেন বিএনপির নেতা সরোয়ার ও আহসান হাবিব কামাল। আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে এ ধরনের নজির খুব কম। জিজ্ঞেস করলাম, হিরন সাহেব এত উন্নতি করলেও কেন সিটি নির্বাচনে পরাজিত হলেন? আরেক আইনজীবী বললেন, মানুষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, হিরনের বিরুদ্ধে নয়। আর মনে রাখতে হবে, বরিশাল সব সময়ই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। ১৯৭৩ সালের পর এখানে আওয়ামী লীগ কোনো নির্বাচনে জেতেনি। এমনকি ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের জোয়ারের সময়ও সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার। আগের সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন না। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার শরফুদ্দিন আহমেদ ছিলেন কিংস পার্টির লোক। নানা ঘাটের জল খেয়ে তিনি এখন বিএনপিতে। ২০১৩ সালের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। তিনি আরও যোগ করলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি এলে আওয়ামী লীগ বুঝতে পারত, কত ধানে কত চাল। একতরফা নির্বাচন দিয়ে তো জনপ্রিয়তা যাচাই করা যায় না। তিনি আরও বললেন, তবে এ কথাও মনে রাখতে হবে, সরকারি উন্নয়নকাজ মানেই কমিশন ভাগাভাগি। আবার উন্নয়নকাজের জন্য যাঁদের বাড়িঘর ভাঙা হয়েছে, জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাঁরা তো তাঁর বিপক্ষে যাবেনই। তবে ড্রেনেজব্যবস্থার সমালোচনাও করলেন কেউ কেউ। রাস্তার পাশে খোলা ড্রেনে অনেকেই আবর্জনা ফেলে ভরাট করেছে। এটি মাটির নিচে হলেই ভালো হতো।
জিজ্ঞেস করি, আর উপজেলা নির্বাচন? তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ যে আইনজীবী, তিনি জবাব দিলেন, উপজেলা নির্বাচনে তো কাউকে ভোট দিতে হয়নি। সকাল আটটার মধ্যেই সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে সব ভোট দেওয়া হয়ে যায়। বিএনপি প্রতিবাদ করেনি? না, করেনি। কেননা, তারা বুঝে গেছে, প্রতিবাদ করে কোনো লাভ হবে না। আরেকজন বললেন, যে কাজটি এত দিন সামরিক শাসকদের দল করত, তা এবার শেখ হাসিনার দল করল, এটাই দুর্ভাগ্য। উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। তারা সাড়ে পাঁচ হাজার নির্বাচন সুষ্ঠু করেছে, ভবিষ্যতে সেই দাবি আর করতে পারবে না। জিজ্ঞেস করলাম, আওয়ামী লীগের আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর প্রভাব কেমন এখানে? তাঁরা জানান, বরিশালে তাঁর কোনো প্রভাব নেই। তিনি এখানে থাকেনও না। ঢাকা থেকে সোজা আগৈলঝাড়ায় চলে যান। জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব কেমন? এ প্রশ্নের জবাবে সরকারি বরিশাল কলেজের একজন শিক্ষক জানান, বরিশালে জামায়াতের তেমন প্রভাব বা সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। তবে চরমোনাই পীরের প্রভাব আছে। তাঁর ভক্ত-মুরিদানও কম নন। গত বছর মের আন্দোলনের সময় হেফাজত এখানে বড় সমাবেশ করেছে। কিন্তু গোলযোগ হয়নি। এই মুহূর্তে বিএনপি কি ভালো অবস্থায় আছে? রাজনৈতিকভাবে ভালো না থাকলেও সাংগঠনিকভাবে ভালো অবস্থায় আছে। সরোয়ার ও কামালের মধ্যে যে বিরোধ ছিল, তা এখন নেই। কামাল মেয়র হলেও সরোয়ারের পরামর্শ নিয়েই কাজ করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংশয় রয়েই গেছে। হিরনের সমর্থকেরা মনে করেন, হাসানাতের জন্যই আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। আর হাসানাতের অনুসারীদের দাবি, হিরনের কারণেই এখানে বিএনপি আশকারা পেয়েছে।
তবে বরিশালের ছাত্রলীগ সম্পর্কে একটি ভয়াবহ একটি তথ্য দিলেন হাসানাত আবদুল্লাহর সমর্থক এক কর্মী। তিনি জানান, এখানে ছাত্রলীগ মানে হোন্ডালীগ। গ্রাম থেকে কেউ এসেই ছাত্রলীগে যোগ দিয়ে কিস্তিতে একটি হোন্ডা কেনেন। তারপর সেই হোন্ডার টাকা দেওয়ার জন্য নেতাদের কাছে ধরনা দেন কিংবা চাঁদা তোলেন। ওই কর্মীর দাবি, হিরন সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতেন। হিরনের এক সমর্থক জানান, হাসানাত সাহেব যাঁদের নিয়ে রাজনীতি করেন, তাঁদের নাম শুনলে মানুষ ভয় পায়। তিনি রাতে এসে বৈঠক করে আবার সকালে চলে যান। নির্বাচনের পর এখানে সাম্প্রদায়িক উসকানির ঘটনা ঘটেছে কি না? একজন শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী জানান, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত। শহরে কোনো অঘটন ঘটেনি। কিন্তু এই স্থিতিশীল অবস্থা কত দিন থাকে, বলা কঠিন। কেননা, আওয়ামী লীগেরই কোনো কোনো নেতা ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের জন্য উসকানি দিয়ে থাকেন। ওই আইনজীবী আরও জানান, আগৈলঝাড়ায় ৫৫ শতাংশ ভোটার হিন্দুধর্মাবলম্বী। তাঁরা চেয়েছিলেন, উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদটি তাঁদের দেওয়া হোক। কিন্তু সেখানে হাসানাতের অনুগত সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের একজনকে দেওয়া হলো। এ নিয়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ আছে। আগামী নির্বাচনে তাঁরা সমুচিত জবাব দেওয়ারও চেষ্টা করবেন। জিজ্ঞেস করি, সমুচিত জবাব দেওয়ার নির্বাচন আদৌও হবে কি? তিনি বললেন, নির্বাচন তো একদিন হবেই। পাঁচ বছর, দশ বছর পরে হলেও।
সন্ধ্যায় যাই বরিশাল প্রেসক্লাবে। সেখানে সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে নানা বিষয়ে আলাপ হয়। জানতে চাই, বরিশালের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কেমন চলছে? এক সাংবাদিক বন্ধু বললেন, তেমন তৎপরতা নেই। তবে পয়লা বৈশাখ বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই উদ্যাপিত হবে। উদীচী, খেলাঘরসহ অনেক সংগঠন প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাস্তায়ও বৈশাখী মেলার ব্যানার দেখতে পেলাম। বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে। বিএনপির রাজনীতি করে বিএনপি। এমনকি জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম কিংবা চরমোনাই পীরের যে রাজনীতি, তা তাঁরা করছেন। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন দল না চাইলে প্রশাসন ও পুলিশও সমঝে চলে। বাড়াবাড়ি করে না। মেয়র হিরন সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই শান্তিপূর্ণ অবস্থা চলছে। তবে কত দিন চলবে, বলা যায় না। কেবল রাজনীতিতেই বরিশাল এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তাই নয়। অনুকরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বরিশালের সাংবাদিক সমাজও। নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমলে ঢাকায় প্রথম সাংবাদিক ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন বিভক্ত হলে সারা দেশের সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেসক্লাবগুলোও ভাগ হয়ে যায়। ব্যতিক্রম বরিশাল। সেখানে একটি ভবন। সাংবাদিক একটিই সংগঠন। তারা কোনো কেন্দ্রীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয়। বিভিন্ন সময়ে দুই ইউনিয়নের নেতারাই তাঁদের কাছে গেছেন, তাঁদের সঙ্গে বসেছেন। কিন্তু বরিশালের সাংবাদিকদের এক কথা, ‘আমরা ইউনিয়ন নিয়ে রাজনৈতিক ভাগাভাগি চাই না। আপনারা এক হয়ে আসুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।’ দুই দশক ধরে বরিশালের সাংবাদিকেরা ঐক্যের পতাকা সুমন্নত রেখেছেন। তাই বলতে ইচ্ছা হয়, বাংলাদেশটা যদি বরিশাল হতো! যদি সবখানেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বরিশালের মতো সহাবস্থান নীতি জারি থাকত, তাহলে অনেক হানাহানি, সংঘাত-সংঘর্ষ এড়ানো যেত। দেশটায় শান্তি আসত।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

সিনেমা ও মঞ্চের শিল্পীরাই মমতার ভরসা?

এবারের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক চরিত্রের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন সিনেমা ও মঞ্চের শিল্পীরা। টালিউডের শিল্পীরা আগেও দু-একবার নির্বাচনে লড়ে দিল্লি গেছেন। যেমন, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে টালিউডের দুই শিল্পী তাপস পাল ও শতাব্দী রায় ২০০৯ সালে লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে জিতেছিলেন। এবারও তাঁরা লড়ছেন। তবে শুধু তাঁদেরই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরেক ধাপ এগিয়ে একঝাঁক শিল্পী-অভিনেতাকে ভোটে প্রার্থী করেছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখ টালিউডের জনপ্রিয় নায়ক দেব, যাঁর অভিনীত চাঁদের পাহাড় থেকে শুরু করে অনেক সিনেমাই বক্স অফিসে সাড়া জাগিয়েছে। এ ছাড়া রয়েছেন বিগত দিনের অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়, মুনমুন সেন, ভূমি ব্যান্ডের মূল গায়ক সৌমিত্র, জনপ্রিয় গায়ক ইন্দ্রনীল সেন এবং নাট্যজগতের পরিচিত মুখ অর্পিতা ঘোষ। এই নবাগতদের মধ্যে একমাত্র অর্পিতা ঘোষকেই কয়েক বছর ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে। আর বাকিদের কাউকে কাউকে মাঝেমধ্যে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গেলেও রাজনীতিতে তাঁদের আগে দেখা যায়নি। বিজেপির তরফেও এবার অন্তত এমন দুজনকে ভোটে দাঁড় করানো হয়েছে, যাঁরা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। একজন জাদুকর পি সি সরকার (জুনিয়র), অন্যজন মুম্বাই চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত প্লেব্যাক সিঙ্গার বাবুল সুপ্রিয়। এ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সদ্য রাজ্যসভার সদস্য হওয়া মিঠুন চক্রবর্তীও নির্বাচনী প্রচারে এসে জোরকদমে মমতার প্রার্থীদের হয়ে কাজ করছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সেলিব্রিটি প্রার্থীদের হয়ে এবারই প্রথম প্রচারে নামছেন টালিউডের শিল্পী-কলাকুশলীরা, যেটা আগে কখনো দেখা যায়নি।
এ ছাড়া দার্জিলিং আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে ভারতীয় ফুটবলের সাবেক আইকন বাইচুং ভুটিয়াকে, হাওড়ায় আরেক সাবেক ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সব মিলিয়ে এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রার্থীদের ছাপিয়ে সিনেমা, বিনোদন ও ক্রীড়াজগতের প্রার্থীরাই প্রচারের আলো কেড়ে নিয়েছেন। তামিলনাড়ুতে এম ডি রামচন্দ্রন ও করুণানিধির হাত ধরে চলচ্চিত্রজগতের মানুষেরা অনেক আগেই, সেই সত্তরের দশকে রাজনীতিতে এসেছেন। আশির দশকের গোড়ায় অন্ধ্র প্রদেশে তেলেগু সিনেমার প্রবাদপ্রতিম নায়ক এন টি রামরাও রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু সেসবই ছিল আঞ্চলিক দলগুলোর ব্যাপার। সর্বভারতীয় দলগুলো তখনো এ নিয়ে মাথা ঘামাত না। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী হত্যার পরে যে নির্বাচন হয়, সেবারই প্রথম কংগ্রেস লোকসভায় প্রার্থী হিসেবে চিত্রতারকাদের আনে। অমিতাভ বচ্চন, সুনীল দত্ত, বৈজয়ন্তীমালারা সেবারই প্রথম লোকসভায় নির্বাচিত হন। বিজেপিও আর পিছিয়ে থাকেনি। কংগ্রেসের দেখাদেখি তারাও শত্রুঘ্ন সিনহা, হেমা মালিনী, ধর্মেন্দ্র, বিনোদ খান্নাদের প্রার্থী করতে শুরু করে। গোড়ায় তেলেগু দেশমের টিকিটে সংসদে ঢুকলেও আরেক নায়িকা জয়া প্রদা পরে দল পাল্টে উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়ে সেখান থেকে নির্বাচিত হন। এবারও তিনি লড়ছেন। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো এত দিন চিত্রতারকাদের ছোঁয়া বাঁচিয়েই নির্বাচন লড়ত। সিপিএম বড়জোর ভোটের আগে তাদের অনুগামী শিল্পীদের দিয়ে দলীয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আবেদন প্রচার করত। বিধানসভায় আগে যে দু-তিনজন শিল্পীকে সিপিএম প্রার্থী করেছিল, তাঁরা শিল্পী হিসেবে যতটা, তার চেয়ে বেশি সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। যেমন, অনিল চ্যাটার্জি, বিপ্লব চ্যাটার্জি, অনুপ কুমার প্রমুখ। মুখমন্ত্রী থাকাকালীন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে মিশতেন।
তাঁর আমলেই বাংলা কবিতা ও গানকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ সরকারি আর্থিক আনুকূল্যে আলাদা করে কবিতা উৎসব ও বাংলা গানের উৎসব শুরু হয়। ক্রমে বাংলার শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী সমাজের একটা বড় অংশই বামপন্থীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়। এমনকি ২০১১ সালে চরম বিপর্যয়ের সময়েও ভোটের আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে শিল্পীদের বৈঠকে দেখেছিলাম প্রায় সব নামীদামি শিল্পীকেই। এখন তাঁরা অনেকেই শিবির পাল্টেছেন। দুই দিন আগে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে সে রকমই একটি বৈঠকে অনেকেই গরহাজির। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো হাতে গোনা কয়েকজন সঙ্গে থাকলেও বেশির ভাগই মমতার শিবিরে। আর মমতা তাঁদের সন্তুষ্ট রাখতে বঙ্গশ্রী, বঙ্গভূষণ ইত্যাদি পুরস্কার চালু করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের মতো এত বেশি করে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের, বিশেষ করে বিনোদন জগতের লোকজনকে কখনোই পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভায় প্রার্থী দাঁড় করাতে দেখা যায়নি। ফলে, প্রশ্ন উঠছে, দলে অনেক রাজনৈতিক কর্মী থাকতেও কেন মমতা বেছে বেছে বিনোদন জগতের লোকদেরই প্রার্থী করছেন। তাঁরা জেতার পরে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন তো? এ নিয়ে মমতা একাধিকবার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ যা করার, সে জন্য তো তিনি নিজেই রয়েছেন। অতএব তাঁরা কাজ করবেন কি না, তা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলে। কিন্তু সমস্যা হলো, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকার লোকজন তাঁদের সমস্যার কথা বলার জন্য হাতের কাছে পাবেন কী করে? তাই মমতার এই ব্যাখ্যায় তাঁরা সন্তুষ্ট নন। মমতার দলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনের ব্যাখ্যা, মমতা সচেতনভাবেই রাজনীতিতে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে আসছেন। ভোটের লড়াইয়ে দেব বা অন্য তারকারা তাঁদের রুপালি পর্দার জনপ্রিয়তাকে টেনে এনে সহজেই জিতে যেতে পারেন। বরং এবার যে নতুন প্রজন্মের ভোটার প্রথমবার ভোট দেবেন (মোট ভোটদাতার অন্তত ১০ শতাংশ নবাগত), তাঁদের কাছে টানা এটা একটা সহজ রাস্তা। সেটা যে হচ্ছে, তা দেবের প্রচারে উপচে পড়া ভিড় দেখেই আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে। আবার মুনমুন সেন বাঁকুড়ায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে পুরোটাই দুই নারীর বন্দনায় কাটিয়ে দিচ্ছেন। প্রথমজন অবশ্যই তাঁর মা, সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তি নায়িকা সুচিত্রা সেন, দ্বিতীয়জন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দর্শকেরাও সেটা ভালোভাবেই নিচ্ছেন। ফলে, টানা আটবার বাঁকুড়া কেন্দ্রে জয়ী প্রবীণ রাজনীতিক সিপিএমের বাসুদেব আচার্যকে এবার কঠিন লড়াই লড়তে হচ্ছে মুনমুন সেন ছাড়াও সুচিত্রা সেনের ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ভূমির সৌমিত্র ও ইন্দ্রনীল সেনও প্রচারে নেমে গান গেয়ে ভোটদাতাদের মনোরঞ্জন করে চলেছেন। এককথায়, ভোটযুদ্ধের আঙিনায় রাজনীতিকে ছাপিয়ে চলে আসছে অরাজনৈতিক প্রসঙ্গ। আপাতদৃষ্টিতে রাজনীতির আঙিনায় এই বিনোদন জগতের অনুপ্রবেশকে হালকাভাবে দেখলেও এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত সচেতনভাবেই এটা করছেন। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে ২০০৯ সালের লোকসভায় ও ২০১১ সালের বিধানসভায় বামপন্থীদের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকে এ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এমন কিছু কাজকর্ম করে দেখাতে পারেনি, যাতে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় এবং নিজস্ব ভোটব্যাংক তৈরি হয়। মমতার এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক পুঁজি একটাই—সাধারণ ভোটদাতাদের মধ্যে বামপন্থীদের সম্পর্কে তীব্র বিতৃষ্ণা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এটা প্রবল। এখনো মমতার যা কিছু জয়, তার মূলে রয়েছে এই সত্য। আর তা মমতা জানেন বলেই রাজনৈতিক লড়াইয়ে না নেমে সিনেমা, মঞ্চ ও ক্রীড়াজগতের একগুচ্ছ প্রার্থী দাঁড় করিয়ে গোটা নির্বাচনী লড়াইকেই একটা বৃহৎ বিনোদনের উৎসবে পরিণত করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাতে তাঁর সুবিধা এটাই, দলের নীতি, তা রূপায়ণে সাফল্য বা ব্যর্থতা, রাজ্যে বেড়ে চলা নারী নিগ্রহের ঘটনা, বা বিজেপি সম্পর্কে তাঁর মনোভাব, সব প্রশ্নই ঊহ্য রেখে বা পাশ কাটিয়ে যেতে পারছেন। এমনিতেই ২০০৯ সাল থেকে দলের নির্বাচনী ইশতেহারে মমতা পশ্চিমবঙ্গের গ্রামের ভোটদাতাদের একটা স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন। সেই স্বপ্ন শুরু হয়েছিল কলকাতাকে লন্ডন, দিঘাকে গোয়া এবং দার্জিলিংকে সুইজারল্যান্ডে পরিণত করার আশ্বাস দিয়ে। পরে সেই স্বপ্নের তালিকায় আরও নতুন নতুন সংযোজন ঘটেছে। কিন্তু বাস্তবে পরিবর্তন কিছুই হয়নি; বরং সিপিএম শাসনের সময় যা কিছু খারাপ ছিল, সেই দলতন্ত্র ও দুর্নীতি আরও বেশি করে দেখা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে সারদার মতো চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিকে চাপা দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা, যা করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ধমক খেতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। এই অবস্থায় ভোটদাতাদের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য সিনেমা ও বিনোদন জগতের শিল্পীদের দলীয় প্রার্থী করাটা সুবিধাজনক। মমতা সেটাই করেছেন।
রজত রায়: ভারতীয় সাংবাদিক।

ওরা ভারত ভাগ করতে চায় : সোনিয়া

কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সোনিয়া গান্ধী বিজেপির ইশতেহারকে উদ্দেশ করে বলেছেন, বিরোধীদের সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা ভারতের একতা ও অখণ্ডতার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। ওরা (বিরোধীরা) ভারতকে ভাগ করে ফেলতে চায়। সোমবার তিনি দলের এক নির্বাচনী প্রচারণায় ঠেক্কিনকাড়ু ময়দানে এসব কথা বলেন। সোনিয়া গান্ধী বলেন, আমরা একটি বৈচিত্র্যময় অখণ্ড ভারত চাই। কিন্তু বিরোধীরা ধর্ম আর বর্ণের ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করতে চায়। ইউপিএর আদর্শ মানুষকে সংঘবদ্ধ করা কিন্তু বিরোধীদের আদর্শ হল দেশকে ভাগ করার আদর্শ। আমরা যদি এমন ভারত চাই যার সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে সেখানে বিরোধীরা চাইবে যাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়। তারা একনায়কতন্ত্র চায়। তারা চায় ঘৃণার ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করে ফেলতে। তিনি এরপর বলেন,
কংগ্রেসই একমাত্র দল যারা ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে নিশ্চিত করতে চায়। এ সময় তিনি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন করেন, তারা কোন ধরনের পরিবর্তনের কথা বলছে? তাদের মিথ্যা আশ্বাস আর ভ্রান্ত নীতির জন্য কি দেশের জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর মূল্যবোধকে ত্যাগ করবে? যারা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য সবসময়ই মুখোশ পরিবর্তন করে তাদের ওপর কি জনগণ আস্থা রাখতে পারে? যারা ভদ্রতার অভিনয় করে তাদের কি জনগণ বিশ্বাস করতে পারে? এরপর কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট সমর্থকদের বলেন, কেউ যাতে তাদের উদ্দেশ্য ও প্রাধ্যান্য নিয়ে মিথ্যাচার না করতে পারে সেই চেষ্টা করুন। বিরোধী দলের আসল উদ্দেশ্য তাদের প্রকাশিত ইশতেহারের মাধ্যমেই বেরিয়ে এসেছে। সোনিয়া গান্ধী এরপর বলেন, আমাদের বিরোধীরা ইউপিএকে দুর্নীতির জন্য অভিযুক্ত করছে। কিন্তু আমি বলতে চাই ইউপিএ সরকার প্রত্যেকটি দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।