Showing posts with label জাইমা রহমান. Show all posts
Showing posts with label জাইমা রহমান. Show all posts

Sunday, February 8, 2026

নারীর নিরাপত্তায় প্রতিটি দলে আচরণবিধি থাকা উচিত: জাইমা রহমান

প্রকাশ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ রাজনীতিতে যেসব নারী সক্রিয়, নিজ অঙ্গনে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একটি আচরণবিধি থাকা উচিত বলে মনে করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।

আজ রোববার রাজধানীর বিস মিলনায়তনে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন জাইমা রহমান। ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই গোলটেবিল আয়োজন করে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইন্ড)।

জাইমা রহমান তাঁর ভাবনাটি তুলে ধরে বলেন, ‘সেফটির দিক থেকে যদি কোনো নারী নেত্রী বা স্টুডেন্ট লিডারের কিছু হয়, তাহলে দলগুলো লিগ্যাল কোড অব কনডাক্টের মাধ্যমে নারীকে প্রটেক্ট করবে। অর্থাৎ যদি নারীর কিছু হয়, দল দায়িত্বটা নেবে যে আমরা উনাকে প্রটেক্ট করব, উনার পাশে থাকব।’

লন্ডনে আইনে পড়াশোনা করে আসা জাইমা রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এরই মধ্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বাবা তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে নিজেকে অনেকটাই যুক্ত করেছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবস্থান করে নেওয়াটা পুরুষের জন্য সহজ হলেও নারীদের জন্য কঠিন। সেই কারণেই নারীদের এগিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলোর বড় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, নারীদেরকে উঠে আসার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে হবে। সব দলকে এই দায়িত্বটা নিতে হবে।

‘একদম ছায়ার মতো, তালগাছের ছায়ার মতো যদি কেউ না থাকে মেন্টর, তাহলে ওই ছোট গাছটা কীভাবে আবার বড় হবে?’ বলেন জাইমা রহমান।

রাজনীতিতে নারীদের উঠে আসার ক্ষেত্রে তাঁদেরকে অর্থনৈতিকভাবেও সহায়তার ওপরও জোর দেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, ‘তাঁদেরকে সুযোগ দেওয়া উচিত দাঁড়ানোর জন্য। যাঁর মেধা আছে দাঁড়ানোর জন্য কোনো একটা সংসদীয় আসন বা স্থানীয় সরকারে।’

সহায়তার পাশাপাশি নারীনেত্রীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন জাইমা রহমান।

‘নারীরা কি এখন ফিরে যাবে’

‘উইমেন ইন ডেমোক্রেসি’র এই গোলটেবিলে অংশ নিয়ে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারীদের নেতৃত্বের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানোর প্রবণতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

ফারাহ কবির বলেন, ‘এত দিন বিভিন্ন জায়গায় নারীরা নেতৃত্বে ছিলেন, কিন্তু গত ১৮ মাসে নতুন করে মনে হয়েছে, এসব নারী কি এখন সবাই ফিরে যাবে? এভাবে ডিভাইড অ্যান্ড রুলের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

তাই দেশের মানুষকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁরা কী ধরনের নেতৃত্ব চায়, বলেন ফারাহ কবির।

দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ফারাহ কবির বলেন, এই ‘নোংরা সংস্কৃতির কারণে’ নারীদের বলা হয়, তাঁরা এখানে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। এই সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে নারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের রাজনীতিতে অংশ নিতে হবে।

বিগত সময়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখেনি বলেও অভিযোগ করেন ফারাহ কবির।

গোলটেবিলে অংশ নিয়ে আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটে বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কীভাবে এই প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করা হবে, তা পরিষ্কার করে বলা হয়নি।

সারা হোসেন বলেন, সম্প্রতি অনেক নারী বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁরা পুরুষের অধীন থাকতে চান। পুরুষ তাঁদের পরিচালক, এটা তাঁরা মেনে নিয়েছেন। ওই নারীদের এই বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত । তাহলে এসব বক্তব্য আর আলোচনায় আসবে না।

দেশের বিদ্যমান আইনে অনেক অর্জন আছে উল্লেখ করে স্বৈরাচারের দোহাই দিয়ে সব আইনকে যাতে মুছে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সারা হোসেন।

আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা গোলটেবিলে বলেন, গত ১৮ মাসে মেয়েরা একটা খেলায় এগিয়ে এসেছে, তা হলো আত্মরক্ষার খেলায়। বর্তমানে অনলাইনে ও অফলাইনে নারীদের স্লাটশেমিং ও হয়রানি আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে।

শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তার বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনে যারাই জয়ী হয়ে আসুক, তাঁরা যেন নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন। কারণ, যতবার নারীদের পেছানোর চেষ্টা করা হবে, নারীরা লড়ে যাবে। আমাদের দুই পা পিছিয়ে দিলে আমরা চার পা এগিয়ে আসব।’

মুক্তিযোদ্ধা লুৎফা হাসান রোজি বলেন, সমান অধিকারের জন্য যে পরিবেশ দরকার, তা বাংলাদেশের সমাজে এখনো নেই। সমাজে এই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নারীকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আসতে হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা এই আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, গণ–অভ্যুত্থানে যেসব নারী এগিয়ে এসেছিলেন, পাঁচ আগস্টের পর তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও এখন নারীদের বিভিন্নভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি করছে।

নারীদের বিরুদ্ধে যে সাইবার বুলিং হয়, তার বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা বন্ধে সবাইকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান উমামা ফাতেমা।

ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও নারীদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। নারী যখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখে, সেটাকে ‘সেলিব্রেট’ করা হয় না। বরং তারা কী করছে, কী পরছে, সেটা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়। কথা বলতে গেলে চুপ করিয়ে রাখা হয়।

টিভি উপস্থাপক কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী তাসলিমা আখতার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, সাংবাদিক জায়মা ইসলাম, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি প্রমুখ।

‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে জাইমা রহমান। আজ রোববার রাজধানীর বিস মিলনায়তনে
‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে জাইমা রহমান। আজ রোববার রাজধানীর বিস মিলনায়তনে। ছবি: খালেদ সরকার

Monday, January 19, 2026

প্রতীকী সাফল্যের গল্প দিয়ে নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন দরকার: জাইমা রহমান

‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবহন ক্ষেত্র—সবকিছুই মূলত পুরুষদের নিরাপদ রাখা ও সফল হওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে। নারীরা এর মধ্যে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছে। এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়, এটি নারীদের জন্যও। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’ কথাগুলো বলছিলেন বিএনপির সদ্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। আজ রোববার বিকেলে এক নীতিনির্ধারণী সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথাগুলো বলেন। তিনি নিজেই জানালেন, এটাই কোনো নীতি সংলাপে তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ।

তারেক রহমানের সঙ্গে গত ১৭ বছর লন্ডনে ছিলেন মেয়ে জাইমাও। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর বাবা–মায়ের সঙ্গে তিনিও দেশে ফেরেন। ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ (নারীর হাতে জাতির নির্মাণ: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ) শীর্ষক ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এই নীতি সংলাপের আয়োজন করে ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ। আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই সংলাপে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা আবেদ। তরুণেরা অংশ নেন মুক্ত আলোচনায়। জাইমা রহমানের প্রতি তাঁদের প্রশ্ন ছিল জলবায়ু পরির্বতনজনিত ক্ষেত্রে নারীর ঝুঁকি, অনলাইনে হয়রানি, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি প্রসঙ্গে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক কাজী জেসিন।

প্রথমে লিখিত বক্তব্য ও পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জাইমা রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাকে আজ সুযোগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের নীতিগত বিষয়ে কথা বলার জন্য। আমি এমন কেউ নই, যার কাছে সব সমস্যার সব উত্তর আছে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবার মধ্যেই সমাজ ও দেশের জন্য কিছু করার অন্তর্নিহিত শক্তি আছে।’

জাইমা রহমান বলেন, ‘আজকের এই সংলাপ নারীরা কীভাবে জাতি গঠন করছে, সে বিষয়ে। কিন্তু ভবিষ্যৎ গঠনের কথা বলার আগে আমাদের সৎভাবে বাংলাদেশের নারীদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে কথা বলতে হবে, যে বাস্তবতা তাদের জীবনকে গড়ে দিচ্ছে। সমাজে নারীর ভূমিকা সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণা এসেছে আমার পরিবার থেকে, যেমনটা আমাদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই হয়। নীতি, আইন বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার অনেক আগেই আমাদের ঘরই ছিল আমাদের প্রথম শ্রেণিকক্ষ।’

এ সময় জাইমা রহমান নারীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দাদি খালেদা জিয়া যেভাবে মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি চালুসহ বিভিন্ন ভূমিকা নিয়েছিলেন, চিকিৎসক মায়ের পেশাগত দায়িত্ব পালন, নানির সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড, নারীর ক্ষমতায়নে বাবার ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

জাইমা রহমান বলেন, ‘আমার দাদা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বুঝতেন যে নারীদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন কখনোই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। দাদুর একটি গল্পের কথা মনে পড়ে। দাদু যখন লন্ডনে আমাদের সঙ্গে ছিলেন, একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, নাইজেরিয়ার একজন নার্স তাঁকে চিনতে পেরেছিলেন এবং বলেছিলেন তাঁর দেশ মেয়েদের শিক্ষায় খালেদা জিয়ার মডেল অনুসরণ করে উপকৃত হয়েছে।’

নারীর সমতায় পুরুষের ভূমিকা পালনের ওপর জোর দিয়ে জাইমা রহমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যেসব পুরুষ আছেন—আমাদের বাবা, ভাই, ছেলে, স্বামী, সহকর্মী ও বন্ধুরা—নারীর অধিকারের প্রতি আপনাদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের সাফল্যকে উদ্‌যাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমতা কেবল কথার ওপর টিকে থাকতে পারে না। যদি ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে নারীদের ত্যাগের ওপরই নির্ভর করে চলে, তবে বৈষম্য অবিরামভাবে চলতেই থাকবে। বিশেষ করে বাবাদের এই চক্র ভাঙার ক্ষেত্রে একটি অনন্য ভূমিকা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি একমাত্র সন্তান এবং আমার মা–বাবা কখনোই আমাকে এমন অনুভূতি দেননি যে তাঁরা মেয়ের বদলে ছেলে চাইতেন। একবার কেউ এমন প্রশ্ন করায় আমার বাবা তাকে বকেও দিয়েছিলেন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (বাবা) বুঝতেন যে ঘরে আমি সম্মান ও যত্নে বড় হলেও বাইরের পৃথিবী সব সময় একই রকম হবে না। তাই তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, আমি যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই পৃথিবীর মুখোমুখি হতে পারি।’

জাইমা রহমান বলেন, ‘যখন নারীদের প্রান্তে ঠেলে না দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, তখন তারা শুধু নিজেদের জীবনই বদলায় না, তারা বদলে দেয় তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং জাতির ভবিষ্যৎও। বাংলাদেশ যদি প্রকৃত অগ্রগতি চায়, তাহলে প্রতীকী সাফল্যের গল্প দিয়ে নয়, বরং টেকসই জাতীয় উন্নয়ন দরকার। ক্ষমতায়ন শুধু শ্রেণিকক্ষ, শুধু অফিস বা শুধু নীতিনির্ধারণে থেমে থাকতে পারে না। এটি পৌঁছাতে হবে আমাদের ঘরে, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এবং আমাদের মানসিকতায়। এর দায়িত্ব আমাদের সবার।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে জাইমা রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানচ্যুতির সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন নারীরা। পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। ৭৮ শতাংশ নারী অনলাইনে হয়রানির শিকার হন। বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে। এটি একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা। আইনি সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, অভিযোগ করার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই। নিরাপত্তা, সুরক্ষা, পরিবহন ক্ষেত্র—সবকিছুই মূলত পুরুষদের নিরাপদ রাখা ও সফল হওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে। এগুলো আসলে নারীদের জন্য তৈরি নয়। নারীদের এসবের মধ্যে নিজেকে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। নারীদের জন্য প্রবেশগম্যতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। অনেক নারী খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন তাঁরা পদোন্নতির কাছাকাছি পৌঁছে যান, তখন পারিবারিক দায়িত্ব, শিশু লালন–পালন ইত্যাদির কারণে কর্মজীবন ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় পুনর্নকশা করা যেতে পারে, যাতে সমাজে নারীরা আরও ভালোভাবে সফল হতে পারে। এই পৃথিবী শুধু পুরুষদের সফল হওয়ার জন্য নয়, এটি নারীদের জন্যও। তাই আমাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে।’

‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তব্য দেন জাইমা রহমান। আজ রোববার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে
‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি সংলাপে বক্তব্য দেন জাইমা রহমান। আজ রোববার বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে। ছবি: মীর হোসেন

Saturday, January 3, 2026

‘জেবু’র বেড়ে ওঠার গল্প বললেন জাইমা রহমান

সাইবেরিয়ান প্রজাতির পোষা বিড়াল ‘জেবু’র বেড়ে ওঠার গল্প লিখেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। সোমবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে কীভাবে ছোট্ট জেবু বড় হয়েছে, তার দিনের কর্মসূচি কীভাবে চলে এবং তার স্বভাব-প্রকৃতি নানা কিছু ফুটে উঠেছে। পোষা বিড়াল ‘জেবু’র বেড়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে নিজের ফেসবুকে জাইমা রহমান লিখেছেন, জেবুকে ঘিরে এত কৌতূহল দেখে আমি কিছুটা অবাক, আবার মজাও পাচ্ছি। ভাবছি, ও যদি বিষয়টা বুঝতে পারতো! যেকোনো প্রাণীকে লালন-পালন করা মানেই একটা বড় দায়িত্ব নেয়া। কারণ প্রাণীও একটা জীব, আল্লাহর সৃষ্টি। জেবুকে যখন প্রথম ছোট্ট বিড়ালছানা হিসেবে বাসায় এনেছিলাম, তখন ভাবিনি, সে আমাদের পরিবারের এত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে যাবে। এমনও হয়েছে, আমার আব্বু-আম্মু বাসায় ফিরে আগে জেবু’র খবর নিয়েছেন, তারপর আমার! আম্মু যখন বাগান করতেন বা পাড়ায় হাঁটতে যেতেন, জেবু তার চারপাশে লাফিয়ে লাফিয়ে ঘুরতো।

‘জেবু’ পোষা সাইবেরিয়ান প্রজাতির, তাকে নিয়ে পরিবারের একটু বিশেষ নজরের কথাও তুলে ধরেন জাইমা। তিনি  লিখেছেন, সন্ধ্যায় আব্বুর অনলাইন মিটিংগুলো শেষ হওয়া পর্যন্ত তার কোলে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতো, মাথায় হাত বুলানোর আদর উপভোগ করতো। আর আমার ক্ষেত্রে, জেবু যেন সব সময় আমার মনের অবস্থা বুঝে ফেলতো, তার ছোট্ট পা আর কোমল ছোঁয়া দিয়ে যেভাবে পারে সেভাবেই সঙ্গ দিতো। যারা প্রাণী পোষেন, তারা জানেন, পোষা প্রাণী নিয়ে বাসা বদলানো কতোটা কঠিন। জেবু এখন মহাদেশ পেরিয়ে একেবারে নতুন একটা দুনিয়ায় এসেছে। ওর ছোট্ট প্রাণটার জন্য এই পরিবর্তনটা অনেক বড় আর কষ্টের, যেটা আমরা পুরোপুরি বুঝতেও পারি না। পরিবারের কাছে ‘বিশেষ আদর’ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রাণিপ্রেমী জাইমা বলেন, জেবু’র মাধ্যমে আমাদের অনেকেই ধৈর্য শিখেছে, বড়-ছোট সব প্রাণীর প্রতি মমতা শিখেছে, আর ভাষা এক না হলেও একে অন্যকে ভালোবাসা আর যত্ন নেয়ার সৌন্দর্য বুঝেছে। কারণ ভালোবাসা তো প্রজাতির সীমা মানে না। আমরা ছোটবেলা থেকেই পশু-পাখির সঙ্গে বড় হয়েছি। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, যে মানুষ অন্য কোনো জীবের দায়িত্ব নেয়ার সৌভাগ্য পায়, সে নিজের সম্পর্কে অনেক বেশি কিছু শিখে ফেলে, যা সে হয়তো কল্পনাও করেনি। জেবু’র সম্পর্কে জাইমা বলেন, একটা মজার তথ্য: ও কখনো ‘মিউ মিউ’ করে না! একদমই না। আলমারিতে আটকে গেলেও না। বরং খুশি বা অবাক হলে পাখির মতো নরম করে ডাক দেয়। অনুমতি ছাড়া কোলে নিলে হালকা বিরক্তিতে গোঁ গোঁ করে। আর যেসব বিড়াল ওর পছন্দ না, তাদের দিকে কিন্তু বেশ জোরেই চিৎকার করে! দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান দেশে ফেরেন ২৫শে ডিসেম্বর। বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ফ্লাইটে তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে এসেছেন সেলিব্রেটি ‘জেবু’। লোমশ বিড়াল, যার ছবি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। জেবু রাশিয়ায় উৎপত্তি হওয়া সাইবেরিয়ান প্রজাতির একটি বিড়াল। বয়স প্রায় ৭ বছর। এই জাতের বিড়াল আকারে তুলনামূলক বড়, শরীর জুড়ে ঘন ও নরম তিন স্তরের লোম থাকে। স্বভাব শান্ত হলেও এরা আত্মবিশ্বাসী এবং মানুষের আবেগ বুঝতে পারদর্শী। এ কারণেই অনেকেই সাইবেরিয়ান বিড়ালকে ‘ইমোশনাল কম্প্যানিয়ন’ হিসেবে দেখেন।

mzamin