Saturday, July 23, 2016

রিপাবলিকান সম্মেলনে হিজাবি সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকানদের চূড়ান্ত সম্মেলনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন আলজাজিরার সাংবাদিক নুন সালিহ। একই সঙ্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং অভ্যর্থনাকারীদের চোখের সন্দিহান দৃষ্টি- কোনোটাই ভুলতে পারছেন না তিনি। প্রথমত, হিজাব পরে ক্লিভল্যান্ডের সম্মেলনে যাওয়ার সময় তার মনে যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছিল তা শুরুতেই কেটে যায়। রিপাবলিকানদের আন্তরিক ব্যবহার এবং আতিথেয়তায় হিজাবের কারণে অপদস্থ হওয়ার আশংকা দূর হয়ে যায়। উপরন্তু আকাশ-নীলের শুভ্রতা ছড়ানো হিজাবটি সবার প্রশংসা কুড়ায়।
ফ্লোরিডার গভর্নর রিক স্কট, টেক্সাসের সাবেক গভর্নর রিক পেরি এবং সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হারমান কেইন তার হিজাবের প্রশংসায় মেতে ওঠেন এবং কনভেনশনে অভিনন্দন জানান তাকে। তবে অনেকের কৌতূহলী দৃষ্টিও তাড়া করেছে বলে আলজাজিরাকে জানান তিনি। তার সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করলেও মুসলিমদের ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন কনভেনশনে আসা রিপাবলিকানরা। ব্যক্তিগত আলাপচারিতার সময়েও তারা নুনকে জানান যে, আমেরিকান মুসলিমদের ব্যাপারে ট্রাম্পের ‘ব্যান মুসলিম’ প্রস্তাবে দ্বিধাহীনভাবে সমর্থন জানাবেন তারা। কনভেনশন চলাকালীন সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র মারিও রুডি তার বক্তব্যে ইসলামকে সন্ত্রাসীদের আখড়া বলে অভিহিত করেন। এ সময় ‘নো ইসলাম’ ‘নো ইসলাম’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সম্মেলন কক্ষ। কনভেনশনের এক পর্যায়ে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনের জন্য ঘুরে ঘুরে সম্মেলনের ছবি তোলার সময় মিশিগান থেকে আগত একদল ডেলিগেট তাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছিল।

মুস্তাফিজ ‘স্পেশাল’

ম্যাচের আগে অনুশীলনেই মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং পড়তে পারছিলেন না সাসেক্স সতীর্থরা। পরে ম্যাচে সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে প্রতিপক্ষের। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইংল্যান্ডে অভিষেকেই ম্যাচসেরা মুস্তাফিজ। অধিনায়ক লুক রাইটের উপলব্ধি, ‘স্পেশাল’ এক প্রতিভাকে দলে পেয়েছেন তারা। মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিংয়ে দারুণ জয় পেয়েছে ধুঁকতে থাকা সাসেক্স। টি ২০ ব্লাস্টে বৃহস্পতিবার চেমসফোর্ডে সাসেক্স ২৪ রানে হারিয়েছে এসেক্সকে। অভিষেকে চার ওভারে ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মুস্তাফিজ ম্যান অব দ্য ম্যাচ। বুধবার ইংল্যান্ডে পৌঁছে পরদিন মাঠে নেমেই এমন পারফরম্যান্স, ম্যাচ শেষে সাসেক্স অধিনায়ক লুক রাইট জানালেন মুগ্ধতার কথা, ‘মুস্তাফিজ খুবই স্পেশাল এক বোলার। এসেই এমন পারফরম্যান্স করেছে, যা দেখতে পারা ছিল স্পেশাল কিছু। মাত্র আগের দিন সে এসেছে, তারপরও এমন বোলিং করল... আমাদের মাঝে আমরা পেয়েছি অসাধারণ এক প্রতিভাকে।’
রাই জানালেন, ম্যাচের আগে নেটে সতীর্থদেরও ভুগিয়েছেন মুস্তাফিজ, ‘সে কি করতে যাচ্ছে, এটা বোঝা খুব কঠিন। গা গরমের সময় আমরা চেষ্টা করছিলাম ওর বোলিং ঠিকঠাক মতো খেলতে। কিন্তু পারিনি। আমাদের উইকেটকিপার ক্রেগ কাচোপাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে, মুস্তাফিজের বোলিংয়ে সে দারুণ কিপিং করেছে। ওকে আগে থেকে দেখার সময় যেখানে ছিল না। মুখোমুখি না হয়ে ওর বোলিং বোঝা কঠিন,’ বলেছেন সাসেক্স অধিনায়ক। জুনের শুরুর দিকেই মুস্তাফিজকে পাওয়ার কথা ছিল সাসেক্সের। কিন্তু আইপিএল থেকে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে ফিরেছিলেন বাঁ-হাতি পেসার। সেটা কাটিয়ে উঠতে লেগে যায় মাসখানেক। এরপর আরও দু’সপ্তাহ দেরি হয় ভিসা জটিলতায়। প্রথম ম্যাচেই মুস্তাফিজ বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাকে পেতে এতটা মরিয়া ছিল কাউন্টির দলটি। অধিনায়ক রাইটের কণ্ঠেও সেই কথা, ‘ওকে এখানে আনতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। অনেক লোক অনেক কষ্ট করেছে এটা সম্ভব করতে। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, আসলেই এতটা সময় দেয়া ও এত প্রচেষ্টার যোগ্য সে।’ ওয়েবসাইট।

ভারতীয় শিল্পী নেহা কাক্কর অবশেষে ঢাকা আসছেন

অবশেষে ঢাকায় আসছেন ভারতের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নেহা কাক্কর। ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘নেহা কাক্কর লাইভ ইন ঢাকা’ শিরোনামের কনসার্টে গান পরিবেশন করবেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠান রেয়নেক্সের পরিচালক জয়ন্ত মণ্ডল গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৭ মে এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তাই আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হলে ফের এ অনুষ্ঠানের আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসার কথা রয়েছে নেহার। কলকাতার মডেল জয়ীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটিতে নেহার সঙ্গে বাংলাদেশের দু’জন সঙ্গীতশিল্পীও গান পরিবেশন করবেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কারা নেহার সঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করেছেন রেয়নেক্স ও অন্তর শোবিজ।

ফ্রান্সে কেন এত হামলা?

ফ্রান্সের নিস শহরে বাস্তিল দিবস উদ্‌যাপনের সময় মোহাম্মদ লাওয়েজ বুলেল নামের যে ব্যক্তি ৮৪ জন  মানুষকে মেরে ফেললেন, তিনি কি ইসলামিক স্টেটের প্রতিনিধি ছিলেন, নাকি তাদের নাম ব্যবহার করে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন—সেটা বড় প্রশ্ন নয়। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এক মৌলিক প্রশ্নের অবতারণা হয়: ফ্রান্সে কেন এত বড় বড় হামলা হয়, কিন্তু ইউরোপের অন্য দেশে তা হয় না কেন? সম্প্রতি বেলজিয়ামেও হামলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে এত ঘন ঘন তা হয় না। আর গত এক দশকে ব্রিটেন বা স্পেনে কোনো সন্ত্রাসী হামলায় ১০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়নি। জার্মানিতে তো এত বড় হামলাই হয়নি। ফ্রান্সের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার ব্যর্থতাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। কারণ, ইউরোপজুড়েই যোগাযোগের সমস্যার কারণে গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যর্থ হয়। উত্তরটা অন্য কোথাও রয়েছে। বিষয়টা হচ্ছে জিহাদের প্রসঙ্গ এলে ফরাসি ব্যতিক্রম বলে একটা ব্যাপার সামনে চলে আসে। আসলে ফরাসি বিপ্লবের পর ফরাসি জাতি নিজেদের যে আদর্শে বলীয়ান করেছে, তার মধ্যেই এই ব্যতিক্রমের বীজ রয়েছে, অংশত। এই আদর্শের একটি দিক হচ্ছে খুব দৃঢ়প্রত্যয়ী প্রজাতন্ত্রবাদ ও সব ধর্মের প্রতি উন্মুক্ত অবিশ্বাস, যা শুরু হয়েছিল ক্যাথলিক ধর্মকে দিয়ে।
এই মডেলটি বছরের পর বছর ধরে নানা কিছুর সংস্পর্শে এসেছে। প্রথমত, এটি বিঔপনিবেশিকীকরণের খপ্পরে পড়েছে, এরপর এসেছে বছরের পর বছর ধরে অর্থনৈতিক দুর্ভোগ, সাংস্কৃতিক ভিন্নতাকে ক্রমবর্ধমান হারে কলঙ্কিত করার প্রবণতা, নতুন প্রজন্মের ঐকান্তিক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও বিশ্বায়ন। এতে রাষ্ট্রের পক্ষে কিছু করার সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে। সর্বোপরি, ফ্রান্সে একদল মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এই সমস্যার সমাধান সে করতে পারেনি। ফ্রান্সের ব্যবস্থায় কর্মজীবীরা সুরক্ষিত হলেও কর্মহীনদের প্রতি এই ব্যবস্থা অতটা উন্মুক্ত নয়, এতে সবার মধ্যেই রাগ-ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। যে তরুণেরা সুবিধাবঞ্চিত হয়ে তেমন একটা আশার আলো দেখেন না, তাঁরা নিজেদের অনেকটা ভুক্তভোগী মনে করেন। আর জিহাদিরা এদের লক্ষ্য করেই প্রচার-প্রচারণা চালায়, হয়তো তার আগে সেই তরুণেরা ছোটখাটো অপরাধের জন্য জেল খেটে এসেছেন। জার্মানি বা ব্রিটেনের এই প্রান্তিকীকরণের সমস্যা নেই বা থাকলেও তার মাত্রা এতটা ভয়াবহ নয়। জার্মানির ডিনস্ল্যাকেন নামের ছোট একটি ঘেটো শহর আছে, যেটি ইসলামি চরমপন্থার উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ইংল্যান্ডের পশ্চিম ইয়র্কশায়ারের ডিউসবিউরি ও ব্রাসেলসের মোলেনবিক শহরের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
কিন্তু মনে হচ্ছে, ফ্রান্স তার অনেক নাগরিক ও অধিবাসীকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে, যাদের সংখ্যা ইসলামি স্টেটে যোগ দেওয়া তরুণদের চেয়েও অনেক বেশি। এর একটি কারণ হচ্ছে, ফ্রান্সের নাগরিকত্বের ধারণা খুবই উচ্চমার্গীয় কিছু মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত হলেও সেটি গত কয়েক বছরে অনেকটাই মলিন হয়ে গেছে। ১৯৮০-এর দশক থেকেই রিপাবলিকান আদর্শ পথভ্রষ্ট হতে শুরু করে: এটা সমসুযোগের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ঠিকঠাক দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই সময়ে ফ্রান্সের গরিব মানুষের দল কমিউনিস্ট পার্টিও অনেক দুর্বল হয়ে গেছে, যার আংশিক কারণ হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে জার্মানি আরও দূরদর্শী ও সংযত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। তারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের নীতি গ্রহণ করে। আজ মুসলিম বিশ্বের প্রতি জার্মানির পররাষ্ট্রনীতি যথেষ্টই সংযত। আবার তারা নিজ দেশের নাগরিকদের সর্বজনীন নীতিতে বাঁধতে চায়নি। আবার ব্রিটেনও একমুখী সংস্কৃতি নির্মাণের চেষ্টা করছে না। তারা বহু সংস্কৃতির মিলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যেখানে হাইফেনযুক্ত লম্বা পরিচয় ও সাম্প্রদায়িক আচরণ সহাবস্থান করতে পারে।
এদিকে ফ্রান্স একদম ইউনিভার্সালিস্ট অবস্থান নিয়েছে। তারা দাবি করে, সমাজে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা ও শক্তি দুটোই তার আছে। কিন্তু তার আত্তীকরণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে যায়, আর এই ক্রমবর্ধমান ফারাকই সর্ব ব্যাপক দুঃখ-দুর্দশার কারণ। আর তাই ফ্রান্সের জাতীয় পরিচয়ের শক্তি ও মাহাত্ম্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শুধু সেখানে বসবাসরত উত্তর আফ্রিকার তরুণদের হতাশাই বাড়ে। কথা হচ্ছে, ফ্রান্স যখন আলজেরিয়া থেকে সরে আসে, তখন সে ওখানে হাজার হাজার মানুষকে মেরেছিল। তার চেয়ে বড় কথা হলো, তারা মানুষের সম্মিলিত অবচেতনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছিল, যেটা আজও অনেকের মনে রয়ে গেছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক ব্রিটিশ ও জার্মানরা অভিবাসন ও ইসলামের ব্যাপারে ভীত। এসব উদ্বেগের কারণেই ব্রেক্সিট হতে যাচ্ছে। জার্মানির কোলনে নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় আপাতদৃষ্টিতে অভিবাসীদের দ্বারা যৌন নিপীড়ন জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশেই উত্তপ্ত তর্ক-বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। কিন্তু জার্মানি ও ব্রিটেন উভয়েই অভিবাসী সংখ্যালঘুদের নিজস্ব ধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত রীতি প্রকাশ্যেই পালন করার সুযোগ দিয়েছে।
কিন্তু ফ্রান্স রিপাবলিকানিজমের নামে দাবি করে, ধর্ম মানুষের একদমই ব্যক্তিগত ব্যাপার। চরম আদর্শবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তারা মাথায় হিজাব পরাসহ উন্মুক্ত স্থানে জামাতে নামাজ পড়ার মতো প্রথার প্রতীকী মূল্যের ওপর জোর দেয়। ফলে এসব রীতি পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার অনেক গভীর প্রভাব পড়ে। এতে ইসলামপন্থীরা অতিরঞ্জিত করার সুযোগ পেয়ে যায়, তারা তখন অভিযোগ করতে পারে, ফ্রান্স ইসলামভীতিতে আক্রান্ত। বস্তুত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সের ইসলামভীতি বেশি, বিষয়টা এ রকম নয়। আসলে গণপরিসরে ইসলামের আচার-অনুষ্ঠান পালনের ব্যাপারে তাদের অবস্থান ইসলামের সঙ্গে অধিকতর সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। ফ্রান্স অনেক অভিবাসীকে স্থান দিয়েছে, এটা ঠিক। তার অন্তর্ভুক্তির মডেল নীতিগতভাবে অনেক উদার, কিন্তু বাস্তবে তা অনেক বেশি অনমনীয়। ফ্রান্সের সমাজের বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আরও বাস্তবসম্মত ও নমনীয় মনোভঙ্গি নিতে হবে। আদর্শিক নির্দেশনা দেওয়া কমাতে হবে তাদের, আর বহুত্ববাদের সম্পর্কেও তাদের উদ্বেগ কমাতে হবে। তাহলে কিছু হতে পারে।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া।
ফরহাদ খোসরোখাভার: ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক।

বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিন

আবাসিক এলাকা বলতে যা বোঝায়, এমন কিছুর আর এখন অস্তিত্ব নেই ঢাকায়। আবাসিক-বাণিজ্যিক সব মিলেমিশে একাকার। এখন আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে ফেলার একটি উদ্যোগ সরকারের তরফে দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ১২ হাজার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে যে উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা জানা যাচ্ছে, তা কতটুকু বাস্তবসম্মত, তা সত্যিই এক বড় প্রশ্ন।
আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার কাজটি এক দিনে হয়নি, বছরের পর বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলেছে। গত এপ্রিলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা। এ সময়ের মধ্যে সরিয়ে না নিলে উচ্ছেদ করার কথাও বলা হয় তখন। প্রশ্ন হচ্ছে, ৩০-৩৫ বছর ধরে যে প্রক্রিয়া চলেছে, তা কি ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলা সম্ভব। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কি কোনো কার্যকর সমীক্ষা হয়েছে? এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ কত, তার কি কোনো হিসাব-নিকাশ হয়েছে?
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে, আবাসিক এলাকাগুলোতে যে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠল, তা ঠেকানোর দায়িত্ব যাদের ছিল, তারা এত দিন কী করেছে? এই দায়িত্বহীনতার জন্য কি সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহি করতে হয়েছে? আমরা দেখছি নতুন গড়ে ওঠা আবাসিক এলাকাগুলোতেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে এবং এখনো তা থেমে নেই। আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরানোর উদ্যোগ অবশ্যই নিতে হবে। তবে সে ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। একটি বাস্তবসম্মত সময় নির্ধারণ করে এলাকা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধরন বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে কাজটি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। দীর্ঘ সময়ে অনিয়মের জঞ্জাল যত বড় আকার ধারণ করেছে, তা আস্তে আস্তে সাফ করতে হবে। তড়িঘড়ি করে কিছু করতে গেলে উদ্যোগটিই ব্যর্থ হতে পারে।