Wednesday, December 3, 2014

‘শুধু আমার কলিজারে ফেরত দেন’

(ইরাকে পাচার হওয়া ছেলে মো. রুবেলের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন মা জাকিয়া বেগম। কয়েক বার মূর্ছা যান। জ্ঞান ফিরতেই আবার ছেলের জন্য বিলাপ শুরু করেন। ছবিটি আজ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তোলা। ছবি: সাহাদাত পারভেজ) (ছেলে বাদল মোল্লাকে কাতার পাঠানোর কথা বলে সাত মাস আগে পাচার করা হয় ইরাকে। ছেলেকে হারিয়ে এখন শুধু চোখের জলই সম্বল বানেছা বেগমের। ছবি: সাহাদাত পারভেজ) ছেলের কথা বলতে বলতেই মূর্ছা গেলেন দুই মা। স্বজনেরা একে একে এলেন। জানালেন তাঁদের বাবা, ছেলে কিংবা সন্তানের দুর্দশার কথা। এক সন্তান তাঁর বাবার জন্য কাঁদছেন, আরেক বাবা তাঁর সন্তানের জন্য। এটি এক সংবাদ সম্মেলনের চিত্র। ইরাকে শ্রম পাচারের শিকার ১৮০ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে স্বজনেরা আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তাঁদের সহযোগিতা করে রাইটস যশোর, শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদ নামের তিনটি বেসরকারি সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রাইটস যশোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ওই বক্তব্য থেকে জানা যায়, ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালট্যান্ট লিমিটেড নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি কাতারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত মে মাসে ১৮০ জনকে ইরাকে পাঠায়। ইরাকে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের একটি কক্ষে বন্দী রাখা হয়। সেখান থেকে তাঁরা মুঠোফোনে স্বজনদের জানান, নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় না। এক কক্ষে সবাইকে বন্দী রাখা হয়েছে। কোনো কাজ নেই। বাড়ি ফিরতে চাইলে মারধর করা হয়।
লিখিত বক্তব্যের পর স্বজনেরা বক্তব্য দেন। বক্তৃতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কুষ্টিয়া থেকে আসা মা বানোয়ারা খাতুনের আকুতি, ‘আমার ছেলের জীবন ভিক্ষা চাই। আমি গরিব মানুষ বাবা, তাও টাকা-পয়সা চাই না। শুধু আমার কলিজারে ফেরত দেন।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, সব নিয়মকানুন মেনে বৈধ পথে যাওয়ার পরও তাঁরা বিপদে আছেন। এটি কখনোই হতে পারে না। তাঁদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।
বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, থানার ওসি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত সবার কাছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ধরনা দিয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সব ভুক্তভোগী পরিবারের কথা শুনে মনে হচ্ছে, দেশ থেকে ইনসাফ চলে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান এসব মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ১৬ ডিসেম্বরের আগেই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার সুস্পষ্ট পদক্ষেপ আশা করেন।

বিয়ের বয়স নিয়ে নারী আন্দোলন কর্মীরা মাঠে থাকবে

(আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম বয়স ১৮ নিশ্চিত করার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনঅনুষ্ঠিত হয়) মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর করা না হলে নারী আন্দোলনের কর্মীরা মাঠে আছেন এবং মাঠে থাকবে। আজ বুধবার দুপুরে ৬৮টি নারী মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আন্দোলনের কর্মীরা। আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম বয়স ১৮ নিশ্চিত করার দাবিতে এ মানববন্ধন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। আজ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একই দাবিতে সারা দেশে একযোগে একই সময়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচিটি পালন করা হয়।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত বিস্মিত, দুঃখিত ও লজ্জিত এই কারণে যে, মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ নিশ্চিত করার দাবিতে আমরা পথে নেমেছি। ১৯২৯ সালে যেখানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ করা হয়, সেখানে ২০১৪ সালে এসে সরকার কীভাবে নারীদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৬ করতে চায়, তাই আমাদের প্রশ্ন। সরকার যদি এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে তাহলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি রওশন জাহান বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত দাবি মেয়েদের বিয়ের বয়স যদি ১৮ করা না হয়, তাহলে আমরা পথে আছি এবং পথে থাকব।’

বরিশালে হেলথ টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা

(ছবি:-২ বরিশাল শহরের বান্দরোডে আজ বুধবার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচীতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। ছবি: মো. সাইয়ান) (ছবি:-২ বরিশালে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজীর শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার সকালে শহরের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সামনে দশ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশেরা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে সড়িয়ে দেয়। এতে অনেকেই আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ছবি: মো. সাইয়ান) বরিশালে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুলিশের তিন সদস্যসহ ২৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল ১০টায় নগরের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বান্দরোডে ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সরকারি চাকরিতে ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদাসহ ১০ দফা দাবিতে তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। একই দাবিতে আজ সকাল ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে তাঁরা বান্দরোডে যান। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য ওপর ইটপাটকেল ছোড়েন। পরে পুলিশ তাঁদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে একজন ছাত্রীসহ ১৪ শিক্ষার্থীকে।
বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলাম। পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে।’
পুলিশের দাবি, আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেন। সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তাঁরা শোনেননি। তাঁরা পুলিশের সঙ্গে বিরোধে জড়ান।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হন। এ সময় তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে পুলিশের সার্জেন্ট কামরুল ইসলাম ও কনস্টেবল বেলাল হোসেনসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। আটক করা হয় ১৪ শিক্ষার্থীকে।

বরিশালে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ: আহত ৪০, আটক ১৪

(বরিশালে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজীর শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার সকালে শহরের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সামনে দশ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশেরা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে সড়িয়ে দেয়। এতে অনেকেই আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ছবি: মো. সাইয়ান, প্রথম আলো) বরিশালে সড়ক অবরোধকারী ইনস্টিটিউট এন্ড হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ কনস্টেবলসহ ৪০ জন আহত হয়েছেন। আজ সকাল ১১টার দিকে নগরীর বান্দ রোড শেবাচিম হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৪ শিক্ষার্র্থীকে আটক করে পুলিশ। আহত শিক্ষার্থীদের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, অবিলম্বে ‘বাংলাদেশ ডিপোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ গঠন, ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী কোর্স চালু, নতুন পদ সৃষ্টি,  আইনগত সমস্য নিষ্পত্তি, সরকারি চাকুরিতে ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ফার্মসিষ্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা পদমর্যাদা, উচ্চ শিক্ষা সম্প্রসারণে বি.এস.সি ও এম.এম. সি কোর্স চালু করাসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল ১০ টায় শিক্ষার্থীরা বান্দরোডে মানববন্ধন শুরু করে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া আইএইচটি শিক্ষার্থী মো. হোসেন জানায়, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যদার দাবিতে কিছুদিন ধরেই তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। সকালে বান্দ রোডে মেডিকেল কলেজের সামনে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন। কিন্তু পুলিশ বিনা উস্কানীতে তাদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করায় ত্রিশ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। লাঠিচার্জে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ প- হয়ে যায়। বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা ইট-পাটক্কেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠি চার্জ করতে বাধ্য হয়। এতে পুলিশের সার্জেন্ট কামরুল ইসলাম ও কনেস্টেবল বেল্লাল হোসেনসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বরিশাল নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিন) গোলাম রউফ খান পিপিএম জানান, রাস্তা অবরোধ করে দাবি আদায় হয়না। দাবি আদায়ের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হয়। এর আগেও তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। তখন তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ সড়ক অবরোধকালে পুলিশ তাদের বোঝাতে গেলে শিক্ষার্থীরা অনাকাঙ্খিত আচরণ করায় জনগনের চলাচলের স্বার্থে পুলিশ বল প্রয়োগে বাধ্য হয়েছে।

পুলিশের গায়ে ক্যামেরা বসাবেন ওবামা

পুলিশের ওপর আস্থা ফেরাতে ও বিভাগটির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে ২৬৩ মিলিয়ন ডলারের অনুমোদন চেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই ফান্ড পুলিশের প্রশিক্ষণ, পরিধানযোগ্য বডি ক্যামেরা ও সংস্থার সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হবে। ফার্গুসনে এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দাঙ্গার পর তিনি এ আহ্বান জানান। এর আগে তিনি নাগরিক অধিকার নেতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ওবামা বলেন, এই সমস্যা শুধু ফার্গুনসের নয়। পুরো যুক্তরাষ্ট্রেরই সমস্যা। তবে এই সমস্যা সমাধানযোগ্য। ওবামা বলেন, টহলে থাকার সময় আরও ৫০ হাজার পুলিশ সদস্যরা যেন একটি ক্ষুদ্র ভিডিও ক্যামেরা পরিধান করতে পারেন। সেজন্য তিনি অর্থ বরাদ্দ করবেন।
নিরস্ত্র ওই কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর মাইকেল ব্রাউনের ওপর যে পুলিশ সদস্য গুলি চালিয়েছিলেন, তাকে অভিযুক্ত না করার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ফার্গুসনে সহিংস প্রতিবাদের পর ওবামা এ আহ্বান জানান। পুলিশের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে আগামী তিন বছরব্যাপী সাড়ে ২২ কোটি ডলারের একটি প্রকল্পেরও প্রস্তাব করেন ওবামা। এ প্রস্তাবটি অর্থায়নের জন্য তিনি কংগ্রেসের প্রতিও আহ্বান জানান। বারাক ওবামার প্রস্তাবিত তহবিল দিয়ে পুলিশ বাহিনীর জন্য ৫০ হাজার পরিধানযোগ্য ক্যামেরা কেনা হবে এবং একই সঙ্গে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্কারের জন্যও এই অর্থ ব্যয় করা হবে। ফার্গুসনের সহিংস প্রতিবাদের সময় ভাংচুরের শিকার হয় স্থানীয় পুলিশের গাড়ি।
পরিধানযোগ্য এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ফার্গুসনের মতো বিতর্কিত ঘটনাগুলোতে। ফার্গুসনের কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসারকে অভিযুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে দাঙ্গা শুরু হয়। বিবিসি।

ইন্টারনেটে রাজ্য চালান আফ্রিকার রাজা

টোগবে গোরিফিয়া সেফাস কোসি বানাস। আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব ঘানার হোহেই এলাকার এই রাজা রাজ্য শাসন করেন ইন্টারনেটে ভিডিও চ্যাটের সফটওয়্যার স্কাইপের মাধ্যমে। তিনি থাকেন জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের একটি গ্রামে। সম্প্রতি তার সেই প্রাসাদ থেকে চুরি গেছে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঐতিহ্যের ধারক রাজদণ্ড, মুকুট ও সোনার চেইন। ৬৬ বছর বয়সী টোগবে বিদেশি ছাত্র বিনিময় প্রোগ্রামের আওতায় জার্মানিতে যান। সেখানে গ্যাব্রিয়েল নামে এক জার্মান তরুণীর প্রেমে পড়েন তিনি। এরপর থেকে সেখানে থিতু হয়েছেন। টোগবের বাড়িটি ফ্রাঙ্কফুর্টের ৪৯ মাইল দক্ষিণে লুডভিগশাফেন গ্রামে। সেই বাড়ি থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজকীয় জিনিসগুলো চুরি যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দোতলার বারান্দা দিয়ে চোর বাড়িতে প্রবেশ করে। দরজা খুলে ক্যাবিনেট ভেঙে সবকিছু লুটে নিয়ে গেছে।’ টোগবের চুরি যাওয়া এসব জিনিসের দাম অবশ্য খুব বেশি নয়। সর্বসাকুল্যে ১৫ হাজার ৯শ’ ডলার। তবে যতই কম দামি হোক টোগবের দাবি এগুলো তার পরিবারের ও দেশের এমন স্মৃতিচিহ্ন যেগুলো ক্ষতিপূরণ হওয়ার নয়। দাদার মৃত্যুর পর ১৯৮৭ সালে সিংহাসনে বসেন টোগবে। তাকে তার বাবা ও বড় ভাইয়ের পরিবর্তে ক্ষমতায় বসানো হয়। কারণ তারা দু’জনই ছিলেন বাঁ-হাতি। দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

রাজনীতি থেকে অবসর নিলেন ব্রাউন

ব্রিটেনের প্রভাবশালী রাজনীতিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ক্ষমতা হারানোর তিন বছর পর সোমবার তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রায় তিন দশক ধরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন গর্ডন ব্রাউন। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্রিটেনের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না গর্ডন ব্রাউন। ৬৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে কর্তব্যরত জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক দূত হয়েই থাকছেন তিনি। ওয়েস্ট মিনস্টার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন তিনি। ব্রাউন বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ ২০০৭ সালের ২৭ জুন তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের কাছ থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদস্য। টনি ব্লেয়ারের মন্ত্রিসভায় তিনি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি।

পরমাণু বোমা তৈরি করেছে আইএস

ইরাক ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট এবার পরমাণু বোমা বানানোর দাবি করেছে। তাদের তৈরি এ বোমার নাম দেয়া হয়েছে ‘ডার্টি বম্ব’। সাবেক ব্রিটিশ বিস্ফোরক হুমায়ুন তারিক বর্তমানে আইএসের হয়ে এ বোমা বানিয়েছেন। তারা এই বোমা দিয়ে লন্ডনে হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছে।
ইরাকের মসুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাতিয়ে নেয়া ৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এ পরমাণু বোমা। গত জুনে তারা ওই ইউরেনিয়াম হস্তগত করতে সক্ষম হয়েছিল। মঙ্গলবার খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল। পত্রিকাটি জানায়, লন্ডনে ডার্টি বোমা ফাটানো হলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হবে তা নিয়ে টুইটারে হুমকি দিয়েছেন আইএসের কয়েকজন জঙ্গি। হুমকিদাতাদের অন্যতম হলেন হুমায়ুন তারিক। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডের এই বাসিন্দা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সিরিয়ায় ব্রিটিশ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। টুইটার বার্তার হুমায়ুন তারিক লিখেছেন ‘ওহ, ইসলামিক স্টেটের হাতে এখন ডার্টি বোমা রয়েছে। মসুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা এ বোমা তৈরির উপাদান সংগ্রহ করেছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘এর একটি যদি লন্ডনের জনাকীর্ণ এলাকায় ছুড়ে দেয়া হয় তাহলে যে কোনো ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে।’ এরপর মজা করে তিনি লিখেছেন, ‘ওরা (ইরাকি বাহিনী) নাকি আইএসের কাছ থেকে মসুল পুনর্দখলের পরিকল্পনা করেছে। হা: হা:! ওরা যদি জানত আমাদের কাছে কী সম্পদ রয়েছে!’ গত জুলাই মাসে মসুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম খোয়া যায়। জাতিসংঘে নিয়োজিত ইরাকি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আলী আলহাকিম এক চিঠিতে বিষয়টি তখন বান কি মুনকে জানিয়েছিলেন।
খলিফা বাগদাদির স্ত্রী-পুত্র আটক : স্বঘোষিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ‘খলিফা’ আবু বকর আল-বাগদাদির এক স্ত্রী এবং ছেলেকে আটক করেছে লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনী। সম্প্রতি সিরিয়া সীমান্ত অতিক্রম করার সময় তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র।
বাগদাদির স্ত্রীর নাম কিংবা জাতীয়তা প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, ‘আটক হওয়া মহিলা খলিফা আবু বকর আল-বাগদাদির স্ত্রী।’ লেবাননের সংবাদপত্র আস-সাফির জানায়, ‘বিদেশী গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে বাগদাদির স্ত্রীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। আলজাজিরা, এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালাতে পারে জঙ্গিরা : এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ওপর ইসলামিক স্টেট হামলা চালাতে পারে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছে এফবিআই। এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি যৌথ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন টিভি নেটওয়ার্ক এবিসি।
আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সামাজিক গণমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার জন্য বলা হয়েছে যাতে তাদের পরিচয় সম্পর্কে এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা নিশ্চিত হতে না পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাক ও সিরিয়া ‘খেলাফত’ ঘোষণাকারী ইসলামিক স্টেট যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের মধ্যেই হামলার পরিকল্পনা করছে। গত অক্টোবরে কানাডায় অভ্যন্তরে হামলা চালিয়ে দু’জন কানাডীয় সৈন্যকে হত্যা করা হয়। হামলাকারীরা ছিল ইসলামে ধর্মান্তরিত কানাডীয় নাগরিক। এএফপি।

অনলাইনে আবেদন শুরু : টাকা জমা বিকাশে

রাজধানীর ৩২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাত ১২টায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে আবেদন ফরম গ্রহণ শুরু হয়েছে। ছুটির দিনসহ ১২ ডিসেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
অন্য বছরের মতো এবার বিদ্যালয় থেকে ফরম পাওয়া যাবে না। তবে এই প্রক্রিয়ার কারণে অনেক অভিভাবকই ঝামেলায় পড়েছেন। প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিস্তারিত প্রচারণা না থাকায় অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি অপরিচিত মনে হচ্ছে। যে কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনেককেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) টেলিফোন করতে দেখা গেছে। এর বাইরে এক শ্রেণীর নিু আয়ের ও কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত অভিভাবকরাও বিপাকে পড়েছেন, যারা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে কম জানেন। তবে মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) মোস্তফা কামাল জানান, ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া সহজতর করতেই তারা এ সিদ্ধান্ত নেন। কেননা, বর্তমানে রাজধানীর বেশিরভাগ মানুষই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এর ফলে অনেকে ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন। কিছু লোকের হয়তো বাইরে থেকে সেবা নেয়া লাগবে। তবে এতে ঝক্কির কিছু নেই।
তিনি জানান, অভিভাবকরা www.dshe.gsa.edu.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রাজধানীর যে কোনো সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। ওয়েবসাইটে ঢোকার আগে ০১৮৫১২৮৭৯১৫ নম্বরে ১৫০ টাকা বিকাশ করতে হবে। গ্রামীণ, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল নম্বর থেকে এই বিকাশ করা যাবে। বিকাশ শেষে ফিরতি এসএমএসে প্রাপ্ত আইডি সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর ওয়েবসাইটে গিয়ে নিউ অ্যাপ্লিকেশন অপশনে ক্লিক করতে হবে। ফরম পূরণের সময় বিকাশের আইডি নম্বর লিখতে হবে। সর্বোচ্চ ৫০ কেবি (কিলোবাইট) সাইজের রঙিন ছবি যুক্ত করতে হবে। ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট করলেই একটি প্রবেশপত্র আসবে। তা ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে।

এমপি এনামুলের বিরুদ্ধে পুনঃ অনুসন্ধান চান দুদক কমিশনার

রাজশাহী-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে পুনঃঅনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ। এর আগে তিনি মামলা রুজুর পক্ষে এবং কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নথিভুক্তির পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে এনামুল হকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান প্রতিবেদনের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করছে দুদক চেয়ারম্যানের মতামতের ওপর। তিন সদস্যের কমিশনে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বিধায় অপর কমিশনার (চেয়ারম্যান) মো. বদিউজ্জামান যে মতের সঙ্গে একমত পোষণ করবেন সেটিই হবে কমিশনের সিদ্ধান্ত। তবে তিনি যদি মামলা রুজুর পক্ষে মত দেন তাহলে এনামুল হকের বিষয়টি নতুন জটিলতার দিকে মোড় নেয়ার আশংকা রয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সরকারদলীয় প্রভাবশালী এমপি এনামুল হকের সম্পদ অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মামলা রুজুর পক্ষে সুপারিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। ১৬ সেপ্টেম্বর ২১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনামুল হকের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা যতন কুমার রায়। কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়ে তিন সদস্যের কমিশন। কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ এনামুলের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করার পক্ষে মত দেন। পক্ষান্তরে বিষয়টি দুদকের তফসিলভুক্ত নয় মর্মে পর্যবেক্ষণ দিয়ে নথিভুক্তির পক্ষে মত দেন কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। সিদ্ধান্তহীনতার এ প্রেক্ষাপটে ৩ নভেম্বর সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পর্যবেক্ষণসহ মতামত পর্যালোচনা করে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয় কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদকে। কমিশনের এ সিদ্ধান্তেরও বিরোধিতা করেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি বলেন, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এনামুল হকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এবং তার ব্যক্তিগত সম্পদ পৃথক করা হয়নি। তিনি যদি সম্পদের যথাযথ আয়কর না দিয়ে থাকেন তাহলে এ বিষয়ে এনবিআর ব্যবস্থা নেবে। এটি দুদকের তফসিলভুক্ত নয়। তাই এ গ্রাউন্ডে মামলা হলে বিচারে দুদকের পক্ষে সুফল আসবে না। আয়কর নথিতে উল্লিখিত সম্পদের বাইরে অর্থ-সম্পদ থেকে থাকলেই কেবল দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতো।
ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মামলার পক্ষে মতামত দেন। পরে পর্যালোচনা শেষে স্বীয় অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি। পুন:অনুসন্ধানের পক্ষে মত দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমি আমার অবস্থানে (নথিভুক্তি) অনড় রয়েছি। ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ তার অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তিনি পুন:অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে শুনেছি। এখন চেয়ারম্যান কি মতামত দেন সেটির ওপর নির্ভর করছে কমিশনের সিদ্ধান্ত। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামার ভিত্তিতে ২২ জানুয়ারি দুদক সরকারদলীয় ৭ প্রভাবশালীর সম্পদ অনুসন্ধান শুরু করে। রাজশাহী-৪ আসনের এমপি এনামুল হক তাদের একজন। এনামুল হক ও তার স্ত্রী তহুরা হকের সম্পদ অনুসন্ধান করেন উপপরিচালক (বর্তমানে অবসরে) যতন কুমার রায়। তার দাখিলকৃত অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এনামুল হকের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চাওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এনামুল হক অডিট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দুটি অডিট রিপোর্ট তৈরি করান। ভুয়া অডিট রিপোর্ট ব্যবহার করে তিনি আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। এনা প্রপার্টিজের নেট প্রোফিট আফটার ট্যাক্স হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। অথচ ভুয়া অডিট রিপোর্ট দাখিল করে তিনি আয়কর শোধ করেছেন মাত্র ৮৭ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে তিনি আয় গোপন করেছেন। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে এ গরমিলের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এনামুল।

বাড্ডায় বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

‘মা, আমার ক্লাস শেষ, বাসায় ফিরছি। দুপুরে কি রান্না করেছো? খুব ক্ষুধা পেয়েছে।’ বিকাল ৪টার কিছু পরে মোবাইলে এসব কথা জানতে চান ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) বসুন্ধরা শাখার বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাদিম ওরফে সাদী মোরশেদ (২২)। এর আধ ঘণ্টা পরই সাদীর মোবাইল থেকেই ভয়াবহ সেই দুসংবাদটি পান মা সবুরা বেগম। কেউ একজন ফোন করে জানান. সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার নাড়িছেঁড়া ধন। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় দ্রুতগামী বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন আইইউবি’র মেধাবী এ ছাত্র। সাদী মোরশেদের বাবা এসএমএম আলম জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য। সাদী মোরশেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদ পারভেজ জানান, মেরুল বাড্ডা এশিয়ান হাসপাতালের সামনে ফাল্গুন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস পেছন থেকে মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সময় তিনি সড়কের বিপরীত দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে উত্তরা যাচ্ছিলেন। নাহিদ জানান, মোটরসাইকেলসহ যুবকটি দ্রুতগামী বাসের নিচে চলে যেতে থাকে। এ সময় আশপাশের লোকজন চিৎকার দিলেও বাসটি পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ছেঁচড়ে সামনের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন ধাওয়া দিলে বাসটি রেখে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় সাদী মোরশেদকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী এশিয়ান হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাহিদ পারভেজ ও তার বন্ধুরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেয়ার পর সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদী মোরশেদকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে ছেলের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন বাবা এসএমএম আলম, মা সবুরা খাতুন ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালে এসে মৃতুর খবর পেয়ে তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তাদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী হাসপাতালে ভিড় করেন। এ সময় ভিড় সামলাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও হিমশিম খেতে দেখা যায়।
নিহতের মামা জসিম উদ্দিন জানান, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সাদী মোরশেদ। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) বসুন্ধরা শাখার বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাদের বাসা ৪২ উত্তর কমলাপুরে। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদর উপজেলার তালতলা। বাড্ডা থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, ফালগুন পরিবহনের বাসটিকে আটক করা হয়েছে। চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযানের শেষ কোথায় by বিশ্বজিত রায় বিশ্ব

অভিযানের পর অভিযান, এর শেষ কোথায়? আদৌ কি এর কোনো মীমাংসা খুঁজে বের করতে পারছে সরকার? ঠাণ্ডা মাথায় বলা চলে হয়তোবা পারছে না, ভবিষ্যতেও পারবে কি না এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। একের পর এক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এ দেশে। কিন্তু বাস্তবসম্মত কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না দেশ ও সমাজ। যে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ ও আমলাসহ প্রায় প্রত্যেক শ্রেণিপেশার নাগরিকই দুর্নীতিতে অভ্যস্ত সে দেশ বা রাষ্ট্র কতটুকু ভেজালমুক্ত থাকবে—এ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। শুরুতেই সরকার সর্বক্ষেত্রে জোরেশোরে অভিযান পরিচালনা করলেও কিছুদিন যাওয়ার পর সে অভিযান তার আসল রূপ হারিয়ে ফেলে এবং আইনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় পরবর্তীতে আস্তে আস্তে আগের অবস্থানে ফিরে আসে ভেজালকারীরা। সরকার বিভিন্নভাবে তার চেষ্টা চালিয়ে আসলেও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা কৌশল পরিবর্তন করে ভিন্নপথে অগ্রসর হয়। এক কথায় বলা চলে দুর্নীতি ও ভেজাল আমাদের রক্তে নিত্য বহমান। উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, মাদক পাচার প্রতিরোধে জল ও স্থলপথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকার পরও মাদক ব্যবসায়ীরা গতিপথ পরিবর্তন করে অন্য পথে অগ্রসর হচ্ছে। খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরও দুষ্কৃতিকারীরা ভিন্নপথ অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সশূন্য চালক অভিযানের কবল থেকে বাঁচতে অন্য রাস্তা ব্যবহার করছে এবং অবৈধভাবে রাস্তা পারাপার ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হলেও পথচারীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঠিকই রাস্তা পারাপার হচ্ছে। ভেজাল ও দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ থেকে পরিচ্ছন্ন পথে এগুতে হলে আগে আমি, আমরা এবং আমাদের সকলকেই চরিত্রগতভাবে পরিবর্তনশীল হতে হবে। তবেই সম্ভব হবে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠন।

২. গত ২০ অক্টোবর নাটোরের বড়াইগ্রামে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিকভাবে ৩৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সরকারের টনক নড়ে। সাধারণ মানুষের চলারপথ নিরাপদ রাখতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সশূন্য চালকদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে বিআরটিএ। সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনায় গাড়িশূন্য হয়ে পড়ে রাস্তাঘাট। সরকার অবৈধ চালক ও গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও যাত্রীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায়। বিকল্প পরিবহন ছাড়া অভিযানে নামায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। আটকের ভয়ে অবৈধ গাড়ি গ্যারেজ ও রাস্তার পাশে রেখে দেয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। পরিবহন সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করে যাত্রীরা বলেন, কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান শুরু করা হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা আগ থেকে জেনে যাচ্ছে, কোথায় কখন মোবাইল কোর্ট বসবে। তারা ওই রুট পরিবর্তন করে অন্য রুটে চলে যাচ্ছে। এছাড়া পাড়া-মহল্লায় ভাঙাচোরা লেগুনা, হিউম্যান হলারসহ ঝুঁকিপূর্ণ ছোট ছোট গাড়ি চলছে। ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব ‘আইওয়াশ’ ছাড়া কিছুই নয়। কয়েকদিন পর আবারও সেই পুরনো গাড়ি রাস্তায় দেখা যাবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সিএনজি ও অটোরিকশা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করে নেয় যাত্রীদের কাছ থেকে। যাত্রীরা এদের কাছে অনেকটা জিম্মী অবস্থায় থাকলেও পুলিশ কর্তৃক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিরুদ্ধে সারা দেশে অভিযান শুরু হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিআরটিএ এর বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ রয়েছে। মোবাইল কোর্ট দিনভর অভিযান পরিচালনা করলেও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাচ্ছে না বিআরটিএ সদর দফতর। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযানে তেমন একটা সফলতা নেই। তাদের পরামর্শ বাস টার্মিনাল ও গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে পরিবহন জব্দ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে গাড়ি লুকিয়ে রাখার অপরাধে মালিকের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা করারও পরামর্শ দেন তারা। বর্তমান বাস্তবতায় সরকারকে আরো কঠোর অবস্থানে থেকে অভিযানে নেতৃত্ব দিতে হবে। নইলে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। আইনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যে ফরমালিন মেশানোর অভিযোগে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয় বেশ চমকপ্রদভাবে। লক্ষ্য করা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ফরমালিনযুক্ত ফলমুলসহ অন্যান্য দ্রব্যাদি ধ্বংস করে। ভেজালবিরোধী এমন অভিযানকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানালেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই উধাও হয়ে যায় এর কার্যক্রম। আস্তে আস্তে আবারও ফরমালিনযুক্ত ফলমুল ও মাছে সয়লাব হয় বাজার। মানুষ ফিরে পায় আবার সেই ভেজাল দ্রব্যাদি। থমকে গেছে খাদ্যে ফরমালিন তথা ভেজালবিরোধী অভিযান। গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যে জানা যায়, পুলিশ ও জনপ্রশাসনের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে ভেজালবিরোধী অভিযান আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ অভিযান পরিচালনায় মেট্রোপলিটন পুলিশকে ক্ষমতা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিপত্র জারি করায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা এর বিরোধিতা করেন। ‘খাদ্যে রাসায়নিক দ্রব্য ও ভেজাল মিশ্রণ নিরোধ অভিযান’ সংক্রান্ত জারি করা পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে থমকে যায় ভেজালবিরোধী অভিযানের কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন অভিযান বন্ধ হওয়ায় জনস্বাস্থ্য রয়েছে হুমকির মুখে। ভেজালবিরোধী অভিযান না থাকায় ইতিমধ্যে ভেজালকারীরা বিভিন্ন ফলসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের এক প্রতিবেদনেও এটি উঠে আসে। গত রোজার মাসে খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান চলায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কোণঠাঁসা হয়ে পড়েন। খাদ্যে ভেজাল মেশানোর মাত্রা কমতে শুরু করে। কিন্তু চার মাসের মাথায় সংশ্লিষ্টদের কার্যকরী ভূমিকা না থাকায় আবার খাদ্যে ভেজাল শুরু হয়।

৪. সম্প্রতি অনুসন্ধানে দেখা যায়, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য থেকে তৈরি ফিশ ও পোলট্রি ফিডে ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়াম নামে বিষাক্ত কেমিক্যাল থাকে, যা মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী রোগের সৃষ্টি করে। হাজারীবাগে এ ধরনের একাধিক ফিশ ও পোলট্রি মুরগীর বিষাক্ত খাদ্য তৈরির অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে বহু কারখানা বন্ধ করে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত খাবার ধ্বংস করা হয়। একাধিক ব্যক্তিকে আটকসহ এসব অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে গত ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর দু-একটি জায়গায় পথচারী সেতু (ফুটওভারব্রিজ) ও পাতাল পথ (আন্ডারপাস) ব্যবহারের জন্য প্রচারণা চালায় ডিএমপি। তারই অংশ হিসেবে গত ২৫ নভেম্বর ডিএমপির উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। প্রথম দিনে অবৈধভাবে রাস্তা পারাপারের অভিযোগে মোট ৩৩১ জনকে ২৫ হাজার ৯৫ টাকা, দ্বিতীয় দিনে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় ২৫৬ জনকে ১৩ হাজার ৭১৫ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জানা যায়, ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের কারণে গত পাঁচ বছরে এক হাজার ১৫০ জন মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এর মধ্যে সাড়ে ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর ১৮৪ জন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩৪ জন মারা গেছেন। তাই মানুষকে সচেতন করতে এমন উদ্যোগ। তবে এ উদ্যোগ কতটুকু আলোর মুখ দেখবে তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

>>>লেখক :গ্রাফিকস ডিজাইনার, সাংবাদিক।
bishwa85@gmail.com

লিপস্টিকে বুদ্ধি কমে!

নারীর সাজসজ্জার অন্যতম অনুসঙ্গ লিপস্টিক। দুই ঠোঁট না রাঙালে সাজটাই যেন অপূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, লিপস্টিক ব্যবহারে নারীর বুদ্ধি কমে যায়। তাদের আচরণ ও শেখার ক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এটি। কারণ লিপস্টিকে থাকে ক্ষতিকারক সীসা। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা ঠোঁট রাঙানোর এ উপাদানকে নিয়ে গবেষণা করেন। এজন্য অকল্যান্ডের ১২ তরুণীর ২২টি ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ও লিপগ্লস সংগ্রহ করেন তারা। গবেষণায় ১২টি লিপস্টিক ও লিপগ্লসে সীসা পাওয়া যায়। গবেষকরা বলেন, লিপস্টিকে খুব কম মাত্রার সীসা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সামান্য এ সীসা জমতে জমতে একদিন তা মানুষের বুদ্ধি ও আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকি গর্ভবতীরা সীসাযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করলে গর্ভজাত সন্তানের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। ওয়েবসাইট।

বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা ঋণ আবার খেলাপি

বিশেষ বিবেচনায় যেসব খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে সেগুলো আবার খেলাপি হতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনোরকম ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই নবায়ন করা ঋণের বিপরীতে শর্ত অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধ না করায় ঋণগুলো আবার খেলাপি হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে গত বছরের শেষ দিক থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে বিশেষ বিবেচনায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এগুলো নতুন করে আবার খেলাপি হতে শুরু করায় একদিকে যেমন খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে, তেমনি এর বিপরীতে প্রভিশন বাবদ ব্যাংকগুলোর মোটা অংকের টাকা আটকে যাবে। ফলে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশংকাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা ঋণ আবার খেলাপি হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে সার্বিকভাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গত জুনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। ৩ মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এর বড় অংশই বিশেষ বিবেচনায় নবায়ন করা। ওই সময়ে বিশেষ বিবেচনায় যেসব খেলাপি ঋণ নবায়ন করেছিল সেগুলোর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গঠন করা হয়েছে ‘ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট’ বা সামু নামে বিশেষ ইউনিট। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘ব্যাংক পরিদর্শনের চার এবং বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগে এ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের একজন করে উপ-মহাব্যবস্থাপক ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ওই ঋণগুলোর বিপরীতে যথেষ্ট জামানত আছে কিনা, গ্রাহকের ব্যবসার অবস্থা, লেনদেন পরিস্থিতি, শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ হচ্ছে কিনা, ঋণগুলো কত দফা নবায়ন করা হয়েছে এসব বিষয় দেখছে সামু। তদন্তে এর মধ্যেই সামু দেখেছে, খেলাপি ঋণের অধিকাংশই ওই সময়ে নবায়ন করা।
গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান নতুন ঋণ পাবে না। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নতুন ঋণ পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে এসএমই খাতের খেলাপি ঋণ নবায়নে বিশেষ ছাড় দেয়। একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর আরেক সার্কুলার জারি করে সব ধরনের ঋণ নবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। ওই দুই সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে যৌক্তিকভাবে ডাউন পেমেন্ট নির্ধারণ করে খেলাপি ঋণ নবায়ন এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ নির্ধারণ করা যাবে। এই সুযোগ নিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে যেসব ঋণ নেয়া হয়েছে সেগুলোও এর আওতায় করা হয়েছে নবায়ন। ফলে ওইসব ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ না করায় আবার সেগুলো খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ওই সময়ে বিশেষ বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ নবায়ন করেছে সরকারি ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে সরকারি খাতের চার বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রায় ৭ হাজার কোটি, বেসরকারি ব্যাংকগুলো করেছে ৬ হাজার কোটি এবং বিশেষায়িত ও বিদেশী ব্যাংকগুলো করেছে আরও প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। সরকারি খাতের জনতা ব্যাংক দেড় হাজার কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৪০০ কোটি, রূপালী ব্যাংক ১ হাজার ৯০০ কোটি, সোনালী ব্যাংক ৫৪৭ কোটি, সাউথইস্ট ব্যাংক ১ হাজার কোটি, এবি ব্যাংক ৩৩০ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংক ৩২৬ কোটি, ইউসিবিএল ২৩৭ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ১০০ কোটি, পূবালী ব্যাংক ৬৩ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংক ১৭ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করেছে। সূত্র জানায়, ওই নীতিমালার আওতায় ঢাকার একটি বড় শিল্প গ্র“পের প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করা হয়েছে।
ওই ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় খেলাপির উপক্রম হলে গ্রাহকের অনুরোধে এগুলোর মেয়াদ আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। থার্মেক্স গ্র“পের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করার পর আবার খেলাপি হয়। পরে এর মেয়াদ আবার বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রামের একটি বড় গ্রুপের ৮০০ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এর কিছু ঋণের মেয়াদ নতুন করে আবার বাড়ানো হয়েছে। আনন্দ গ্রুপের ৩৩৭ কোটি, এনআর গ্র“পের ২১৩ কোটি, মেঘনা গ্রুপের ২৩২ কোটি, এমআর ট্রেডিং ১৪৩ কোটি, এসআর গ্রুপের ৫০ কোটি, শাহ জুটের ৩৫ কোটি টাকার ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি আবার খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।
সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ সুযোগ দেয়ার পর কিছু অসাধু উদ্যোক্তা ব্যাংকের সহায়তায় ব্যাপকভাবে ওই নীতিমালার অপব্যবহার করে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খেলাপি না হয়েও এই বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নেই, কারখানা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, ঋণের টাকা অন্য খাতে স্থানান্তর করেছেন, ওইসব ঋণই আবার খেলাপি হচ্ছে।

তৃণমূল আলীগের নেতৃত্বে বিতর্কিতরা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপক্ষা করে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্থান দেয়া হচ্ছে বিতর্কিতদের। সেই সঙ্গে বাদ পড়ছেন ত্যাগী নেতারা। ইতিমধ্যেই ২২টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি এসব জেলার উপজেলা ও পৌর শাখার সম্মেলন শেষ করে গঠন করা হয়েছে নতুন কমিটি। নবগঠিত অনেকগুলো কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছে বিতর্কিতরা। এমনকি হত্যা মামলার আসামি থেকে শুরু করে মাদকসেবী, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও জাকের পার্টি করে আসা ব্যক্তিরাও ঠাঁই পেয়েছেন এই দুই পদে।
মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপিদের ‘ম্যানেজ’ করে পদগুলো বাগিয়ে নিয়েছেন তারা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া হলে দলীয় কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে উল্লেখিত সব তথ্য। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সড়ক পরিবহন এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, কমিটি পাঠালেই তা অনুমোদন দেয়া হবে না। সব কমিটিই কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এসব কমিটি দেখবেন। ‘এ টু জেড’ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচনা হবে। তারপর কমিটি অনুমোদন দেয়া হবে। সেখানে যদি বিতর্কিতরা থাকেন অবশ্যই তারা বাদ পড়বেন।
ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটিতে বিতর্কিতদের স্থান দেয়ায় মন্ত্রী-এমপিদের ওপর ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ জমা হচ্ছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ বিতর্কিতদের দায়িত্ব না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সেপ্টেম্বর থেকে বিপুল সমারোহে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয়ভাবে দশটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। ইতিমধ্যে ২২টি জেলায় সম্মেলন শেষ হয়েছে। রাজশাহী-১ আসনের কাকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছে আবদুল মজিদ মাস্টারকে। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। এই ব্যক্তি সরকারদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন এমপি প্রভাব বিস্তার করে তাকে নেতৃত্বে এনেছেন। রাজশাহীর বাগমারায় স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আগে থেকেই সমালোচিত। হঠাৎ করে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এবার দলীয় নেতৃত্ব কব্জা করেছেন। তিনি বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, প্রবীণ নেতা আবদুস সোবহান চৌধুরীকে বিতাড়িত করে ওই পদটি নিজেই দখল করেছেন। এ নিয়ে সেখানে সমালোচনার ঝড় বইছে।
রাজশাহীর আরেক এমপি গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ দ্বারা কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তিনিও ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের মতো হঠাৎ উড়ে এসে নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এবার তিনি নিজ উপজেলা পুঠিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতির পদটি দখল করছেন। তার চেষ্টা এখন জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদের একটি দখল। এ সংসদ সদস্য সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে নিজের ইচ্ছা পোষণ করেছেন বলে জানা গেছে। রাজশাহীর স্থানীয় আরেক এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজ উপজেলা বাঘা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন। তারও লক্ষ্য রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বে আসা। প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা এমন তথ্য জানিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গণফোরাম থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি ভোটারবিহীন নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে জাসদ এবং জাকের পার্টি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এ ব্যক্তির। এবার তিনি শিবগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি দখলে নিয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন রেজাকে সরিয়ে সভাপতি হয়েছেন শাহজাহান আনসারী। তিনি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মামুনুর রশিদ। তিনি এক সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মামুন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপি গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের ফুফাতো ভাই। অপরজন এমপির ঘনিষ্ঠ।
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান। তিনি দুবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। মিজানুর রহমান স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল কুদ্দুসের ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। অথচ ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান আরিফ চেষ্টা করেও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসতে পারেননি।নাটোর বনপাড়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন কেএম জাকির হোসেন। তিনি বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ নূর বাবু হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। জাকিরও সরকারদলীয় স্থানীয় এমপির লোক হিসেবে পরিচিত। বনপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আতাউর রহমান আতা। এলাকায় তার পরিচিতি একজন মাদকসেবী হিসেবে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, আতাউর রহমান আতাকে প্রায় সময় অসংলগ্ন (মাতাল) অবস্থায় দেখেন সেখানকার মানুষ।
প্রভাব বিস্তার করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভির ইমাম। শুক্রবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পরপরই তিনি নতুন পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আগে এ পদে ছিলেন সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম। গত নির্বাচনে তাকে বাদ দিয়ে তানভির ইমামকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ দখল করেছেন স্থানীয় এমপি আবদুল মজিদ মণ্ডল। গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও বিপুল অর্থবিত্তের মালিক মজিদ মণ্ডল ভোটারবিহীন নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কখনোই যুক্ত ছিলেন না।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। ওয়ান-ইলেভেনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রতন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এবার স্থানীয় ত্যাগী নেতা মনিন্দ্র চন্দ্রকে বিতাড়িত করে সভাপতি পদ দখলে নিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আলী। তিনি স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দবিরুল ইসলামের ছোট ভাই। দলে সক্রিয় না থাকলেও ভাইয়ের আশীর্বাদে এ পদটি দখল করেছেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মোশারুল ইসলাম। তিনি সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের আশীর্বাদপুষ্ট বলে জানা গেছে। রমেশ চন্দ্র সেন মন্ত্রী থাকাকালে মোশারুল ইসলাম বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাবেক মন্ত্রীর প্রভাবেই উপজেলা আওয়ামী লীগের পদটি দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ যুগান্তরকে বলেন, গঠনতন্ত্র মেনেই সব উপজেলায় কাউন্সিল হচ্ছে। কোথাও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে ঠাঁই হচ্ছে না। রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, যদি এমন ঘটনা ঘটেই থাকে তা হবে দুঃখজনক। অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চলছে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। তারা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা পাল্টিয়ে ফেলেছে। তারা যে গণতন্ত্র বোঝে তা হচ্ছে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে, তারাই ক্ষমতা ভোগ করবে। তারা যে গণতন্ত্রের কথা প্রচার করছে, তা রেজিমেন্টেড গণতন্ত্র অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র। মঙ্গলবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক ফোরাম আয়োজিত উন্নয়নের পূর্বশর্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র হয় না। অনেক দেশে নির্বাচিত সরকার আছে কিন্তু তারা গণতান্ত্রিক নয়। আওয়ামী লীগ তাদের নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের স্বপক্ষে কিছু উদাহরণও দেয়। তারা বলে মালয়েশিয়া নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের জন্যই আজ উন্নত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ নিয়ন্ত্রিত নয়, উন্মুক্ত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তারা কোনো চাপিয়ে দেয়া গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র নয়, মুক্ত গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, দেশ স্বাধীন করেছে। ফখরুল বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, তারা (সরকার) সামন্ততান্ত্রিক রাজা-বাদশা-প্রভু। ঢাকা শহরে প্রখ্যাত সাংবাদিক জগ্লুল আহ্মেদ চৌধূরীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ শহরে কোনো ট্রাফিক ব্যবস্থা নেই। নয়াপল্টন থেকে প্রেস ক্লাবে আসার পথে দেখলাম তোপখানার কাছে ব্যাপক যানজট। পুলিশ, ট্রাফিক কেউ নেই। হাজার হাজার পুলিশ নিয়োগ দিচ্ছে। তাহলে কোথায় তারা? এই পুলিশ বাহিনীকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কারণে দেশে আজ কোনো জবাবদিহিতা নেই। পুলিশ দুর্নীতি ও লুটপাটে ব্যস্ত। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করে বিএনপি দেশে সামরিক শাসন আনতে চেয়েছিল- প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এ বক্তব্য মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। এটা সত্যের অপ্রলাপ মাত্র। বিএনপি কখনোই সামরিক শাসনে বিশ্বাস করে না। দেশে যতবার সামরিক শাসন এসেছে সব কটির পেছনে ছিল আওয়ামী লীগ। সবশেষ ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেই আওয়ামী লীগ মঈনুদ্দিনকে ডেকে এনেছিল। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এইচএম হারিছুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তৃতা করেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নবী উল্লাহ নবী, নরসিংদীর উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী, অ্যাডভোকেট কানিজ ফাতেমা, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক ফোরামের মহাসচিব মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সৈয়দ আশরাফ জাতির মুখে কালিমা লেপন করেছেন- শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালকে দুই পয়সার মন্ত্রী বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সমগ্র জাতির মুখে কালিমা লেপন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দল আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমি সন্দিহান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সৈয়দ নজরুল ইসলামের ঔরসজাত সন্তান কিনা। কারণ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সৎ, ভদ্র, বিদ্যান একজন লোক। তিনি অধ্যাপক ছিলেন। ছিলেন অ্যাডভোকেট। তাকে সবাই সম্মান করত। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে স্যার বলে ডাকতেন। তার ছেলে হয়ে সৈয়দ আশরাফ যেভাবে কথা বলছেন তাতে আমি সন্দিহান তিনি নজরুল ইসলামের ছেলে কিনা। তিনি বলেন, নিশা দেশাই মন্ত্রী হোন অথবা না হোন। আমেরিকার একজন সাধারণ নাগরিক হলেও কি তার সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফ এভাবে বলতে পারেন। ন্যূনতম ভদ্রতা বলে কিছু থাকবে না? স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো অবদান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুতুবদিয়া সমুদ্র সৈকত- প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার মতোই










আমরা বাংলাদেশের মানুষ হয়েও অনেকে বাংলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারিনি। হয়তো জেনে , হয়তো না জেনে। হয়তো অবহেলা করে, হয়তো উপেক্ষা করে। কিন্তু আমরা দেশের বাইরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য প্রচুর টাকা খরচ করি। যাই হোক, কুতুবদিয়া একটি দ্বীপ। এটি বাতি ঘরের জন্য বিখ্যাত। এর সমুদ্র সৈকতও দেখার মতোই। >>সামু ব্লগের কুতুবি থেকে

ফিলিস্তিনকে ‘রাষ্ট্রে’র প্রতীকী স্বীকৃতি ফ্রান্সের এমপিদের

প্রতীকী অর্থে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্সের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সদস্যরা। দেশটির পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে একটি প্রতীকী প্রস্তাব পেশ করা হয়। প্রস্তাবটির পক্ষে পড়ে ৩৩৯ ও বিপক্ষে পড়ে ১৫১ ভোট। গত মঙ্গলবার ন্যাশনাল অ্যসেম্বলির ভোটের ফলে এ ইস্যুতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেয়ার ব্যাপারে ফ্রান্সের সরকারের ওপর চাপ বাড়বে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল-জাজিরা। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের সিনিয়র নেতা হানান আশরাওয়ি বলেন, ন্যায়বিচার ও মানব মর্যাদার পক্ষে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করায় আমরা ফ্রান্সের পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাই। প্যারিস অবশ্য অতীতে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল ইস্যুতে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানে’র পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করেছে এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারেও তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এদিকে এ ভোটের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হবে ইসরাইল। এর আগে বৃটিশ, স্প্যানিশ ও সুইডিশ এমপিরাও একই পথ অবলম্বন করায় ইসরাইল ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।

ব্রিটেনে বাংলাদেশীদের জন্য বিজনেস ভিসা সহজ হচ্ছে

বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে আসতে ভিসা পদ্ধতি আরও সহজ করা হবে। ঢাকা থেকে দিল্লিতে শুধু ব্রিটিশ ভিসা অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য। তবে আগের মতোই তা দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছে। সোমবার লন্ডনে কারি অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরিসা মে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ব্রিটেনে আমরা আরও দক্ষ প্রফেশনাল ইমিগ্রেন্ট চাই। বর্তমানে যে হারে আনস্কিলড (অদক্ষ) লোক প্রবেশ করছে এ ধারা অচিরেই বন্ধ করে দেশে কাজে লাগে এমন ইমিগ্রেন্টদের প্রবেশাধিকার সহজ করা হবে।
সেন্ট্রাল লন্ডনের বাটারসি ইভেলুয়েশনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরিসা মে রেস্টুরেন্টগুলোর কর্মচারী সংকট নিরসনে বাংলাদেশ থেকে লোক আনার বিষয়ে কোনো অনুমতি প্রদানের আশ্বাস দেননি। অনেকটা দৃঢ়ভাবেই উপস্থিত সবাইকে হতাশ করে ইমিগ্রেন্ট কমানোর বিষয়টি আবারও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশী এনাম আলী এই ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডের প্রবক্তা, ২০০৫ সালে এটি শুরু হয়। প্রতিবছর ব্রিটেনের কারি রেস্টুরেন্টগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টিকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে এনাম আলী ব্রিটেনের কারি রেস্টুরেন্টের নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটিশ অর্থনীতিতে এই কারি শিল্প ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যবসা করছে। তবে রেস্টুরেন্টগুলো ২০ হাজার দক্ষ কর্মচারী সংকটে ভুগছে। ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের নামে এমন অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে রেস্টুরেন্টগুলো কর্মচারী সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এ অবস্থার নিরসন না হলে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টগুলোর বিশাল বাজার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, লর্ড, হাউস অব কমন্সের সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে ব্রিটেনে ১২ হাজার বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এতে কর্মরত আছেন কয়েক লাখ লোক, এদের প্রায় সবাই বাংলাদেশী।
কর্মচারী সংকট বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেরিসা মে বলেন, কারি রান্না বিষয়ে বিভিন্ন কলেজে কোর্স চালু করা হয়েছে। তারা কয়েকটি কারি কলেজ প্রতিষ্ঠার কথাও জানান।

বিচার বিভাগে কারও দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা

জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। মঙ্গলবার এসব স্তরের বিচারকদের নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে তিনি এ নির্দেশ দেন।
সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের যেকোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর দুর্নীতিবিষয়ক যেকোনো তথ্যকে আমি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করি। কারণ বিচার বিভাগে দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমার অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। দুর্নীতির ব্যাপারে কোনো প্রকার শৈথিল্য গ্রহণ করা হবে না। দুর্নীতি অবিচারের জন্ম দেয়। আর একস্থানে অবিচার সর্বত্র সুবিচারের জন্য হুমকি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারকদের বিরুদ্ধে হয়রানিম?ূলক মিথ্যা অভিযোগ আমি কখনও আমলে নেব না। কিন্তু দুর্নীতির প্রতিটি যুক্তিগ্রাহ্য অভিযোগকে আমি আমলে নেব এবং উপযুক্ত একজন জজ অভিযোগটি তদন্ত করবেন। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিচারক বা আদালত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি তোমাদের নতুন ও কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করার নির্দেশ দিচ্ছি। আদালত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে আনতে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি।
সম্মেলনে জেলা জজ ও সমপর্যায়ের বিচারক, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার প্রায় তিন শতাধিক বিচারক যোগ দেন। সম্মেলন পরিচালনা করেন সুপ্রিমকোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এসএম কুদ্দুস জামান।
প্রধান বিচারপতি বিচারকদের উদ্দেশে আরও বলেন, বিচার ব্যবস্থায় মামলাজট ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতা জনগণের বিচার লাভের ক্ষেত্রে একটি বড় অন্তরায়। আদালতগুলোতে প্রায় ২৭ লাখ মামলার জট রয়েছে। এ জন্য মামলা নিষ্পত্তির সময় ও ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ নিতান্তই বাধ্য না হলে তার বিরোধকে আদালতে আনতে উৎসাহিত হয় না। মামলাজট থেকে অব্যাহতি পেতে হলে অপ্রয়োজনে শুনানি মুলতবি করার বা পক্ষগণের সময়ের দরখাস্ত মঞ্জুর করা বন্ধ করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি শুনতে পাই কোনো কোনো জেলা জজ মধ্যাহ্ন বিরতির পর আদৌ বিচার কাজে বসেন না। এ ছাড়া কোনো কোনো বিচারক, যাদের পরিবার ঢাকায় থাকেন, তারা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং রোববার দুপুরে কর্মস্থলে ফিরে যান। এ অবস্থা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।

সাকিবের বিদেশে খেলতেও বাধা নেই

বিদেশী লীগে খেলার ওপর থেকেও সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে, তা আগেই জানা ছিল। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছিলেন, সামনের বোর্ড সভায় সাকিবের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। বোর্ড মিটিং আরও কিছুদিন পরে হবে। তার জন্য অপেক্ষা না করে বোর্ড পরিচালকদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে বিদেশী লীগে খেলার ওপরে সাকিবের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে বিসিবি। আজ পরিচালকদের স্বাক্ষর নেয়া শেষ হবে। মঙ্গলবার বিদেশ গেছেন বিসিবি সভাপতি। আগামীকাল দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই ঘোষণা দেবেন, সাকিবের বিদেশে খেলার ওপর আর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কাল বিসিবিতে নাজমুল হাসান নিজেই একথা নিশ্চিত করেন।
১৮ ডিসেম্বর শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ায় বিগ ব্যাশ টি ২০ ক্রিকেট লীগ। বিগ ব্যাশের গত আসরে খেলেছিলেন সাকিব। এবারও খেলবেন। নাজমুল হাসান বলেন, ‘কালকের (আজ) মধ্যে আমরা সিদ্ধান্তটা পেয়ে যাব। যেহেতু আমাদের বোর্ড সভা একটু দেরিতে হবে, সেজন্য সাকিবের সঙ্গে আজও (গতকাল) কথা হয়েছে। বিগ ব্যাশ লীগ শুরু হয়ে যাবে দু’চার দিনের মধ্যেই। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা না উঠলে তো সে দল পাবে না। আমি আজ (মঙ্গলবার) রাতে বাইরে যাচ্ছি। পরশু ফিরব। কালকের (আজ) মধ্যে সবার সই হয়ে যাবে। কিছু সই এখনও বাকি। পরশু (আগামীকাল) বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেব।’ তিনি বলেন, ‘যদি আমার একক সিদ্ধান্তে এটা হতো, তাহলে আমি বলে দিতাম সাকিব খেলতে পারবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত বোর্ডের। সবার সঙ্গে আলাপ করে লিখিত সম্মতি ছাড়া আমরা করতে চাচ্ছি না।’
আচারণগত সমস্যার কারণে গত ৭ জুলাই সব ধরনের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে সাকিবকে নিষিদ্ধ করে বিসিবি। বিদেশী লীগে খেলার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সাকিবের শাস্তি কমানো হলে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। তার বিদেশী লীগে খেলার ব্যাপারে তখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিসিবি।
এদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফল পেয়েছেন সাকিব। আইসিসির ওয়ানডে বোলিং র‌্যাংকিংয়ে চার ধাপ উপরে উঠে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল জনসনের সঙ্গে যৌথভাবে পঞ্চম স্থানে আছেন বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি স্পিনার। সর্বশেষ প্রকাশিত র‌্যাংকিংয়ে সাকিবের পয়েন্ট ৬৮০। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জনসনেরও সমান পয়েন্ট।
৭৭০ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তানের সাঈদ আজমল আছেন সবার উপরে। ৭৫৩ পয়েন্ট নিয়ে এরপর আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার সুনীল নারিন। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছেন যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেল স্টেইন (৬৯৯ পয়েন্ট) ও ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন (৬৮৩ পয়েন্ট)। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচে সাকিব ১২.৩৬ গড়ে নেন ১১ উইকেট। সেরা ৪/৪১। প্রতি ২২.৯ বলে একটি করে উইকেট নেন তিনি। র‌্যাংকিংয়ে দেশসেরা পেসার মাশরাফি মুর্তজা ৯ ধাপ উপরে উঠেছেন। তিনি আছেন ২১তম স্থানে।

‘আমার আকাশটা ফিরিয়ে দাও’ by মানসুরা হোসাইন

(অসুস্থ হওয়ার আগে এমনই ফুটফুটে ছিল মাহীন। ছবি: সংগৃহীত) (ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ক্যানসারে আক্রান্ত মাহীন। স্কুল, খেলা সবকিছুকে ছুটি দিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এভাবেই সময় কাটে তার। ছবি: সংগৃহীত) (হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে লেখা মাহীনের চিঠি। ছবি: সংগৃহীত) ছোটদের একটা আপন ভুবন থাকে। থাকে বিশাল এক আকাশ। সেই আকাশে নানা রঙের ঘুড়ির মতো উড়ে বেড়ায় মজার যত কল্পনা। ফানুসের মতো ভেসে বেড়ায় দুরন্ত সব স্বপ্ন। কিন্তু মাহীনের সেই আকাশ এখন কঠিন এক ফাঁদে বন্দী। এই ফাঁদের নাম ক্যানসার। অথচ নিজেই জানে না ১৩ বছরের এই মেয়েটি। সে শুধু জানে, অন্য সবার মতো একটা রোগ হয়েছে তার। একটু কঠিন—এই যা! তবে সেরে যাবে। সেরে উঠলেই সে ফিরে যাবে নিজের ঠিকানায়। তার এই ভাবনার সঙ্গে চোখেমুখে খেলা করে নীরব এক আকুতি। সে যেন সবার কাছে মিনতি করে বলছে, ‘আমার আকাশটাকে তোমরা ফিরিয়ে দাও!’
মাহীন বলে, ‘আমি তো আরও ভয় পাচ্ছিলাম, আমার বুঝি ক্যানসার হয়েছে!’
এ কথায় নিজেকে যেন সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করে মাহীন। কিন্তু আপনজনেরা তা পারছেন না। ব্লাড ক্যানসার (অ্যাকিউট লিমফোব্লাস্ট লিউকেমিয়া) হলে কি আর শান্তিতে থাকা যায়?
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউনিট-২-এর ১১৯ নম্বর কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছে মাহীন।
মামার কাছে মাহীন জানতে চেয়েছিল, তার কী হয়েছে। তিনি বলেন অন্য কথা। আসল রোগটার নাম মুখেও আনেন না। অকপটে মামার কথা বিশ্বাস করে মাহীন। ভাবে, এই তো আর কয়েকটা দিন। তারপরই ফিরে যাবে আপনজনদের কাছে। জাহিন আপু, সামিন, জারা—প্রিয়মুখগুলো ঘোরাফেরা করে চোখের পাতায়। ডায়েরি নিয়ে লিখতে বসে যায় মনের ভেতর ঘোরাফেরা করা প্রিয়জনদের। লেখে আবার স্কুলে ফিরে যাওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছার কথা।
১৩ নভেম্বর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মাহীন লিখেছে, ‘ডিয়ার জাহিন আপু, সামিন, জারা তোমাদেরকে আমি অনেক মিস করতেছি। আমার এখানে একটুও ভালো লাগে না তোমাদেরকে ছাড়া। আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে চাই। কালকে তোমাদের চিঠি পেয়ে আমার অনেক কান্না আসছে।’
চিঠির শেষ দিকে মাহীন লিখেছে, ‘তোমাদেরকে কত পছন্দ করি, এখন বুঝতে পারছি। আম্মুকে বলিও আমি ভালো আছি। আম্মু এখানে থাকলে আমার ভালো লাগত। কিন্তু না থাকলে সমস্যা নাই। দূর থেকে তোমরা সবাই দোয়া করলেও আমি ভাবব—তোমরা পাশেই আছো।’
কেমোথেরাপি দেওয়ার পর থেকে মাহীনের গলায় এখন আর স্বাভাবিক স্বর ফোটে না। শুধু ফ্যাসফ্যাস আওয়াজ হয়। তবে আপনজনদের উদ্দেশে ডায়েরি লেখায় তার ক্লান্তি নেই। এভাবেই কেটে গেছে পুরো এক মাস।
মাহীনের পরিবারেরও এখন একমাত্র ভরসা সবার দোয়া ও সহায়তা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হেমাটলজি বিভাগের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ সালমা আফরোজ বলে দিয়েছেন, মাহীনকে বিদেশে নিতে হবে। উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলেই হয়তো মাহীন আবার প্রজাপতির মতো ঘুরে বেড়াতে পারবে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত বাবার পক্ষে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। আত্মীয়, বন্ধুদের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত ১০ লাখ টাকাও হয়নি। পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘সাপোর্ট মাহীন টু ফাইট ক্যানসার’ নামে একটি পেজ খুলেছেন। এতে অনেকেই এগিয়ে আসছেন।
ভালো গান গাওয়া, সারাক্ষণ মুখে হাসি ধরে রাখা মাহীনের পুরো নাম মালিহা তাবাসসুম। সে মিরপুরের মনিপুর হাইস্কুলের (মূল ক্যাম্পাস) প্রভাতি শাখার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে নিতেই ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। কেমোথেরাপি দেওয়ার পর তার চুল পড়ে গেছে। তাই ভীষণ মন খারাপ। এ ছাড়া স্কুলে যেতে না পারা, চটপটি খেতে না পারা, পরীক্ষা দিতে না পারার আশঙ্কা ইত্যাদি নিয়ে মাহীনের কষ্ট তো আছেই।
চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিদিনই চলছে নানা পরীক্ষা। দুই হাতে সুচের খোঁচায় সে ক্লান্ত। রক্ত দিতে দিতে হয়রান।
মাহীনের মা সিদ্দীকা আক্তার বলেন, ‘আমার মেজো মেয়েটার (মাহীন) খুব ধৈর্য। তার কষ্টের সময়ও আমি বা অন্যরা কষ্ট পাবে চিন্তা করে কষ্ট প্রকাশ করে না। আমি তার সামনে খুব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু ওর সামনে থেকে বাসায় এলেই আর নিজেকে সামলাতে পারি না। চারপাশে আমার মেয়েটার কত যে স্মৃতি।’
গত কয়েক মাসে মাহীনকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা এক চিকিৎসক থেকে আরেক চিকিৎসকের কাছে ঘুরেছেন। যে যা বলেছেন, তাই করেছেন। কিন্তু তেতালা বাসায় উঠেই মেয়ে বলত, ‘মনে হয় হিমালয়ে উঠলাম।’ তারপর যখন ক্যানসার ধরা পড়ল, তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
এখন সবার সম্মিলিত সহযোগিতাই কেবল মাহীনকে মুক্ত করতে পারে এই বন্দিদশা থেকে। ফিরিয়ে দিতে পারে তার আপন আকাশটাকে।
মাহীনকে সহযোগিতা করতে চাইলে তা পাঠাতে পারেন: বিকাশ অ্যাকাউন্ট, ০১৮১৮২০০৯২১ এই নম্বরে।
আরেকটি ঠিকানা: কানিজ শারমীন, হিসাব নম্বর: ১৬৪২১০৯০০২৪৩৩২, প্রাইম ব্যাংক, পল্লবী শাখা, ঢাকা।

মুজাহিদের আপিল শুনানি ১৪ জানুয়ারি

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের করা আপিলের শুনানি আগামী ১৪ জানুয়ারি শুরু হবে। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ মুজাহিদের আপিল শুনানির এ তারিখ ধার্য করেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন মুজাহিদ। মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী নিধনের পরিকল্পনা ও সহযোগিতা করার দায়ে গত বছরের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার ২৫ দিনের মাথায় আপিল করে আসামিপক্ষ। আপিলের পর মুজাহিদের আইনজীবী তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, আপিলে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে খালাসের আরজি রয়েছে। ১১৫টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৯৫ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে তিন হাজার ৮০০ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদের বিরুদ্ধে মামলার রায়ে বলা হয়, মুজাহিদের বিরুদ্ধে গঠন করা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। তৃতীয় অভিযোগে (ফরিদপুরের রণজিৎ নাথকে আটক রেখে নির্যাতন) আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পঞ্চম অভিযোগে (নাখালপাড়া সেনাক্যাম্পে আলতাফ মাহমুদ, রুমী, বদি, আজাদ, জুয়েল হত্যাকাণ্ড) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ষষ্ঠ (বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড) ও সপ্তম অভিযোগে (বাকচরে হিন্দুদের হত্যা ও নিপীড়ন) মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ষষ্ঠ অভিযোগের সঙ্গে প্রথম অভিযোগ (সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন হত্যা) একীভূত করায় এতে আলাদা করে শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেল রপ্তানি করবে ভারত

পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল রপ্তানি করবে ভারত। ভারতের ডেইলি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা জানায়, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের একটি সহযোগি প্রতিষ্ঠান আসাম ভিত্তিক নুমালিগড় রিফাইনারী লি. খুব শিগগির পশ্চিমবঙ্গে শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পেট্রোল সরবরাহ কাজ শুরু করবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের অনুমোদন মিলেছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। এনআরএল হাইস্পীড ডিজেল (এইচএসডি) এবং মটর স্পিরিট বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। কোম্পানির একজন মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকা খবরে বলা হয়, এনআরএল এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্ট প্রস্তুত করছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এটির কাজ সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এনআরএল আগামী বছর থেকে নেপাল, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে পেট্রোলজাত পণ্য রপ্তানি করবে। খবরে বলা হয়, তিনটি দেশই তাদের নিজ নিজ দেশে এই জ্বালানি তেল আমদানি করার প্রস্তাব দেয়। পত্রিকার খবরে কোম্পানির মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রতিবেশী তিনটি দেশে তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হব। এনআরএল ইতোমধ্যেই বর্তমান পর্যায়ে জ্বালানি তেল তিন মিলিয়ন টন থেকে ৯ মিলিয়ন টনে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। বছরের গোড়ার দিকে এইচএসডি ও মটর স্পীরিট বিক্রয়ের জন্য নেপাল ভিত্তিক বিরাট পেট্রোলিয়াম প্রায়. লি. এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। উৎপাদিত পণ্য শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে নেপালের বিরাটনগরে পাঠানো হবে।

দুর্নীতি বেড়েছে, গত বছরের চেয়ে ২ ধাপ অবনতি -ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশ ১৪তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের এই অবস্থান। আজ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ কথা জানান। দুর্নীতির এই ধারণা সূচক অনুযায়ী, সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয় ডেনমার্কে। আর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছে। তবে সিপিআই ২০১৪ এর ফলাফল অনুযায়ী মানের নিন্মক্রম অনুসারে দুর্নীতির ধারণা সূচকে গত বছরের চেয়ে ২ ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। এই ধারণা সূচকে গতবছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬তম। এবছর ২ ধাপ কমে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।

বাদ দেওয়ার আজব শর্ত by মানসুরা হোসাইন

(বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমীন সুলতানা জ্বরের কারণে তিন দিন মহড়ায় অংশ নিতে পারেননি। এ কারণে তাঁকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ছবি: খালেদ সরকার) আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আজব এক শর্তের কারণে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অন্যতম শর্ত রিহার্সেলে প্রতিদিন (৩০ দিনই) উপস্থিত থাকতে হবে। অক্ষরে অক্ষরে এ শর্ত পালন না করতে পারায় বাদ পড়েছেন অনেকে। বাদ পড়া প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রতিবন্ধীদের জন্য আনুষ্ঠানিকতা পালনের বেলায় এত কঠিন শর্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।  আজ বুধবার পালিত হবে ২৩তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। সরকার এ দিবসে ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী’ দিবস হিসেবেও পালন করে। এবার ১৬তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। আজ বিকেল তিনটায় দিবসটির অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠানের জন্যই নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেককে বাদ পড়তে হয়েছে শর্তপূরণের বাধ্যবাধকতার কারণে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের সদস্য সচিব দিলারা সাত্তার বলেন, ‘শর্ত পূরণ করতে না পারায় অনেককে বাদ দিতে হয়েছে। অনুশীলন শুরুর আগেই সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে, প্রতিদিন উপস্থিত হতে পারলে তাঁরা অংশ নিতে পারবেন।’
দিলারা সাত্তার বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা প্রতিদিন উপস্থিত হতে পারবে না, তা ঠিক নয়। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যে মেধা আছে, তা আমরা তুলে ধরতে চাই। তাই প্রতিদিন আসতেই হবে। এ ছাড়া এ ধরনের শর্ত ওপর মহল থেকেই দেওয়া হয়েছে, আমার কিছু করার নেই।’
বাদ পড়াদের কথা
শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছে হাই কেয়ার। এ প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল জুলেখা বেগম বললেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের আটটি বাচ্চা নাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, তারা শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারছে না। কেননা “এক দিনও মিস করলে নেওয়া যাবে না”—এ শর্ত মানা কঠিন। প্রায় মাসব্যাপী রিহার্সেল হয়েছে। এখন বার্ষিক পরীক্ষার সময়। শর্ত মানা সম্ভব নয় বলে নিজেরাই আর বাচ্চাদের নিয়ে যাইনি। এতে বাচ্চাদের খুব মন খারাপ।’
বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমীন সুলতানা জ্বরের কারণে তিন দিন রিহার্সেলে যেতে পারেননি। জ্বরের কথা অপর একজন অংশগ্রহণকারীর মাধ্যমে জানানোর পাশাপাশি দিলারা সাত্তারকে ফোনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু লাভ হয়নি। বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। শারমীন সুলতানা বলেন, ‘অনেক শখ ছিল রাষ্ট্রপতির সামনে গাইব। আমাদের ব্যাপারে আপনারা (সমাজে সুস্থরা) যদি এত কড়াকড়ি করেন, তাহলে কেমনে চলবে?’
এ ব্যাপারে দিলারা সাত্তার বলেন, ‘অটিস্টিক বাচ্চারা যদি প্রতিদিন আসতে পারে, তিনি (শারমীন) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে কেন পারবেন না? এ ছাড়া নাচের সঙ্গে তাঁর যে গান গাওয়ার কথা ছিল, তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাদ দিতে হয়েছে।’ অন্যদিকে শারমীন সুলতানা জানালেন, তাঁকে জানানো হয়েছে, তাঁর জায়গায় অন্য একজনকে নেওয়া হয়েছে। সেই একজনের সঙ্গে হলেও গান গাওয়ার একটু সুযোগ চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।
এর আগেও দিবসের এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উঠেছিল। সাভারে সালভেশন আর্মি ইন্টিগ্রেটেড চিলড্রেন সেন্টার প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে স্বাভাবিক শিশুদের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একসঙ্গে পড়ানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বছর চার দিন রিহার্সেলে যাই। বাচ্চাদের পরীক্ষার কথা জানাই। তখন বলা হয়, কালকে না আসতে পারলে আর আসবেন না। বাচ্চাদের পরীক্ষা বাদ দিয়ে তো আর যেতে পারি না। এবার তাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রস্তুতিই নেইনি।’
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীরের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। অনুষ্ঠান আয়োজন-সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক উপকমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন বলেন, ‘এ অভিযোগ সঠিক নয়। কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। দিলারা সাত্তার অনেক কষ্ট করে অনুষ্ঠান সাজাচ্ছেন। কেউ তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ অভিযোগ করেছে। আর এটা নিউজ হওয়ার মতোও কোনো ঘটনা না।’

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামে বাংলাদেশে ক্রুসেড চলছে’ -ড. তুহিন মালিক

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী  ড. তুহিন মালিক  বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের কাছে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। শরীরের আকার বড় হলেও হাতি যেমন বনের রাজা হতে পারেনি, তেমনি ভারত আয়তনে যতই বড় হোক - বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভারতকে  রাজা মানবে না। রোববার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলি হলে সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। তুহিন মালিক বলেছেন, নাস্তিকদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা পুরো রাজনীতিটাকে কলুষিত করেছেন। যে নাস্তিকরা তার বাবাকে হত্যা করতে চেয়েছেন, তার বাবা মারা যাওয়ার পর ট্যাংকের ওপরে দাঁড়িয়ে উলঙ্গ নৃত্য করেছে, তার বাবার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাতে চেয়েছে; শুধুমাত্র ইসলামকে আঘাত করার জন্য এই নাস্তিকদের শেখ হাসিনা সঙ্গে রেখেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বাম পচলে হয় আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ যখন পচে যায় তখন তার নাম হয় নাস্তিক।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে বাংলাদেশে ক্রুসেড চলছে।  আওয়ামী লীগ সরাসরি ধর্মের বিরুদ্ধে লেগেছে, ছদ্মবেশে তারা ধর্মযুদ্ধ চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেটা খন্ডিত মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি। নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। নিজেদের অস্তিত্বের কারণে এখন আমাদের এ লড়াই করতে হবে। তা না হলে আমাদের নতুন প্রজন্ম ভুলে যাবে যে এটা শাহজালাল আর শাহপরানদের দেশ; এটা আলেমদের দেশ, এটা দেওবন্দিদের দেশ। সেমিনারে ফরহাদ মাজহার বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিলের স্বাধীনতা ঘোষণায় গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নিয়ে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিলো  আওয়ামী লীগ তা বিনষ্ট করেছে। এই ঐক্য বিনষ্টের ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। আমাদেরকে এই তিন নীতির ভিত্তিতে আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সেমিনারে সমবেত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী বাঙালীদের পক্ষে পাঁচ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকের আহ্বায়ক এমএ মালেক।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন, ৫ই জানুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন,  বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম,  দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিসিহ সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া এবং ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশকে গঠন করার আহ্বান জানান। সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকের আহ্বায়ক এমএ মালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক মাওলানা সালেহ আহমেদ, উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এমএ সালাম,  ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, শিক্ষাবিদ সৈয়দ মামনুন মোর্শেদ, মানবাধিকার কর্মী মনোয়ার বদরুদ্দোজা, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি শাহ আখতার হোসেন টুটুল, আক্তার হোসেন, শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ইউকের চেয়ারম্যান শরীফুজ্জামান চৌধুরী তপন, বিএনপি নেতা প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী।

ইরাকে আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের বিমান হামলা

ইরাকে কট্টরপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল জন কিরবি এ তথ্য দিয়েছেন। ইরাকের পূর্বাঞ্চলীয় দিয়ালা প্রদেশে আইএসের অবস্থান ও তাদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ৪ ফ্যান্টম জেটের সাহায্যে হামলা চালিয়েছে ইরান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ইরানের সঙ্গে এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছিল না বলে নিশ্চিত করেছেন ওই মুখপাত্র। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্কের ব্যাপারে আলোচনার বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সিনিয়র এক সামরিক কর্মকর্তা। গত আগস্ট মাস থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বাহিনী শ’ শ’ বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, জোটে যোগ দেয়াটা ইরানের জন্য যথোচিত হবে না।

মিশরে ১৮৮ ব্রাদারহুড সমর্থকের মৃত্যুদণ্ড

মিশরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের ১৮৮ সমর্থককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ২০১৩ সালে রাজধানী কায়রোর কাছে একটি থানায় হামলা চালানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ওই ১৮৮ সমর্থককে মৃত্যুদ-ে দ-িত করে রায় প্রদান করে আদালত। ওই হামলায় কমপক্ষে ১১ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। আগামী ২৪শে জানুয়ারি চূড়ান্ত রায় প্রদানের পর বিবাদীরা আপিল আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ১৮৮ জনের মধ্যে ১৪০ জন কারাগারে রয়েছে। বাকিদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। এ বছরের শুরুতে অপর একটি থানায় হামলার অভিযোগে ৫ শতাধিক ব্রাদারহুড সমর্থককে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছিল। থানায় হামলার দিনেই মিশরের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভে অংশ নেয়া ব্রাদারহুড সমর্থকদের তাঁবুতে অভিযান চালিয়েছিল। এতে শ’ শ’ মানুষ প্রাণ হারায়। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকদের ওপর নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় বয়েছে সারা বিশ্বেই। এ পর্যন্ত শ’ শ’ কিংবা এমনকি হাজারেরও বেশি মৃত্যুদ-ের রায় দেয়া হয়েছে দেশটিতে। তবে এখন পর্যন্ত একটি রায়ও কার্যকর করা হয়নি। অ্যামনেস্টির মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বারবার এ ধরনের রায়ের কড়া সমালোচনার করেছে এবং রায় প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।

যন্ত্রের উন্নতি মানে মানুষের মৃত্যু: স্টিভেন হকিং

বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিভেন হকিং মনে করেন বুদ্ধিমান যন্ত্র আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে মানব জাতির ধ্বংসের পথ খুলে যাবে। বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা যান্ত্রিক বুদ্ধির যতই অগ্রগতি ঘটবে মানুষের অবসান ততই কাছে এগিয়ে আসবে। মি. হকিং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে এই ভবিষ্যতবানী করেন বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি নিজে একটি যন্ত্র ব্যবহার করেন যা এআই-এর একটি প্রাথমিক যন্ত্র। স্নায়ূতন্ত্রের এক বিশেষ অসুখ অ্যাট্রোফিক ল্যাটারাল সিরোসিস-এ আক্রান্ত হয়ে এই তাত্ত্বিক পদার্থবিদের দেহ অসাড়। তিনি কথা বলেন যন্ত্রের মাধ্যমে। অধ্যাপক হকিং বলছেন, এআই-এর গোড়ার দিকের যেসব আবিষ্কার তা মানুষের বেশ উপকারে লাগছে। কিন্তু মানুষের বুদ্ধিমত্তার সমকক্ষ বা তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান যেসব যন্ত্র ভবিষ্যতে আবিষ্কৃত হবে সে সম্পর্কে তার মনে শঙ্কা রয়েছে। মানুষের অগ্রগতির বিবর্তন ধীর। ফলে এরা (যন্ত্রের সঙ্গে) প্রতিযোগিতায় আর টিকে থাকতে পারবে না। এবং এক পর্যায়ে পিছিয়ে পড়বে।

যে কারণে নিকৃষ্টতম উ. কোরিয়া

জাতিসংঘ চলতি মাসে উত্তর কোরিয়াকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে তোলা নিয়ে একটি ভোটাভুটির আয়োজন করবে। এর আগে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। একনায়ক কিম জং উনের সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে অনেক চ্যালেঞ্জ। এতে অবশ্য ভেটো দিতে পারে চীন ও রাশিয়া। তবে হেগে দেশটির বিচার হোক বা না হোক- অভ্যন্তরীণভাবেই ক্ষয়ে যাচ্ছে দেশটি। সোমবার টেলিগ্রাফ প্রকাশিত ছয়টি তথ্যে দেখা যাচ্ছে কীভাবে ভেতর থেকে দেশটি বিশ্বের নিকৃষ্টতম দেশ হয়ে উঠছে
১. দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় দু’দশক ধরে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া একই সমান্তরালে থেকে উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ১৯৭০ সালের পর দক্ষিণ কোরিয়া দেশে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার এনে জিডিপি ও মাথাপিছু আয় বাড়িয়ে এখন জি-২০ সদস্য হয়ে গেছে। অন্যদিকে একনায়কতান্ত্রিক কমিউনিস্ট শাসন চালিয়ে নিজেদের সামনে স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি ব্যানার টানিয়ে রেখেছে। কিন্তু জিডিপি মাথাপিছু আয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশগুলো কাতারে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। ১৯৩ দেশের মধ্যে তার অবস্থান ১৮০তম। দেশটির অর্ধেক জনগোষ্ঠী বা এক কোটি দুই লাখ মানুষ একেবারে ‘হতদরিদ্র’।
২. জীবন-মৃত্যু : দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় উত্তর কোরিয়ার মানুষ গড়ে ১২ বছর আগে মৃত্যুবরণ করে। দক্ষিণে যেখানে গড় আয়ু ৮১ বছর, সেখানে কিমের হারমিট সাম্রাজ্যে মাত্র ৬৯ বছর।
৩. ক্ষুধা : মারাত্মক খাদ্যঘাটতি উত্তর কোরিয়ার গড় আয়ু কমে যাওয়ার কারণ। ১৯৯০ দশকের এক মহামারিতে ৬-২৫ লাখ মানুষ ক্ষুধার কারণে মারা গিয়েছিল। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির এক-তৃতীয়াংশ শিশু প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণের খাবার পায় না।
৪. সামরিকায়ন : জনসংখ্যার হিসাবে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সেনাবাহিনীর দেশ উত্তর কোরিয়া। প্রায় ১২ লাখ সেনাসদস্য রয়েছে তাদের। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ জনগণ সক্রিয় সেনাসদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করছে। যা এশিয়ার যে কোনো দেশের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। ছেলেদের ১৭ বছর বয়স হলেই সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগ দিতে হবে এবং কমপক্ষে ১০ বছর কাজ করতে হবে। মেয়েদের জন্য ৭ বছর।
৫. অর্থনৈতিক স্বাধীনতা : মুক্ত অর্থনীতি ও আর্থিক স্বাধীনতার দিক দিয়ে বৈশ্বিক সূচকের তলানিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। আর আইনের শাসন, শ্রমিক স্বাধীনতা, বাণিজ্য সুবিধা নেই বললেই চলে।
৬. দেশান্তর : ‘নিকৃষ্টতম’ শাসনব্যবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে উত্তর কোরিয়া ছেড়ে পালাচ্ছে দেশটির অধিবাসীরা। যদিও কিম জং উন ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বসিয়েছেন। আগের দু’বছরের তুলনায় বর্তমানে প্রতিবছর দেশান্তরী হওয়ার সংখ্যা অন্তত ২ হাজার কমে গেছে। ১৯৯০ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার মানুষ পালিয়ে দ. কোরিয়া, চীন, রাশিয়া ও জাপানে চলে গেছে।

যেসব প্রশ্নের মুখোমুখি মিসর

হোসনি মোবারক
মিসরে ২০১১ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে ৮৪৬ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। এ ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি করা হলেও গত শনিবার আদালত খালাস দেন ওই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারককে। এর পরিপ্রেক্ষিতে উঠছে অনেক প্রশ্ন। বার্তা সংস্থার এপির বিশ্লেষণে সেসব প্রশ্নের উত্তর— মোবারক কি শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন?
হত্যার নির্দেশের অভিযোগ থেকে খালাস পেলেও গত মে মাসে দুর্নীতির দায়ে তিন বছরের সাজা হয় মোবারকের। তিনি ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে বন্দী আছেন। অর্থাৎ ইতিমধ্যে সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় তাঁকে বন্দী থাকতে হয়েছে। বন্দী থাকা এই দিনগুলো দুর্নীতির মামলার সাজা হিসেবে ধরা হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাই মোবারকের মুক্তির প্রশ্নে নিশ্চিত উত্তরও মিলছে না।
বিচারক কি হত্যার নির্দেশ থেকে মোবারককে পুরোপুরি মুক্তি দিয়েছেন?
বিচারক মাহমুদ আল-রাশিদি কৌশলগতভাবে মোবারককে খালাস দেন। বিচারক রায়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রথমে মোবারকের নিরাপত্তাপ্রধানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে এতে মোবারকের নামও যুক্ত করা হয়, যা ঠিক হয়নি। এ কারণেই তাঁকে হত্যার অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে?
রায়ের বিরুদ্ধে মিসরের সর্বোচ্চ আইনি কর্তৃপক্ষ ‘কোর্ট অব ক্যাসেশন’-এ আপিল করা যাবে।
তাহলে ৮৪৬ জনকে হত্যার জন্য দায়ী কে?
ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৭০ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মকর্তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হলেও সবাই খালাস পেয়েছেন। সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব বা আত্মরক্ষায় গুলি চালানোয় তাঁদের খালাস দেওয়া হয়। তাই প্রশ্ন উঠেছে, এসব হত্যাকাণ্ডের দায় কার?
আদালতের সিদ্ধান্ত মিসরে কী প্রভাব ফেলবে?
এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে, কাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তার ওপর। সরকারপন্থী গণমাধ্যমগুলোর দাবি, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মোবারক খালাস পেয়েছেন। এখানে সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু সিসির হাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকেরা মনে করেন, হোসনি মোবারকের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্য খুবই কম। এ ছাড়া এই রায়ের ফলে ২০১১ সালে মোবারক-বিরোধী আন্দোলেন মূল ভূমিকায় থাকা ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থীরা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বেন।
রায়ে মিসরীয়দের প্রতিক্রিয়া কী?
২০১১ সালের পর থেকে মিসরীয়দের মূল উদ্বেগের বিষয় হলো তাঁদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি। এ কারণে মোবারকের বিচারের প্রতি তাঁদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। শনিবার রায় ঘোষণার পরপরই কায়রোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু তাহরির স্কয়ারের আশপাশে শনিবার হাজার হাজার মানুষ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, বিক্ষোভ-সহিংসতায় দুজন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। গত রোববারও বিক্ষোভ হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সিসির প্রতিক্রিয়া কী?
সিসির দপ্তর থেকে গত রোববার এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি আদালতের রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে তিনি নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও দেখাশোনা করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ছোট কাপড় পরায় থাপড়!

গওহর খান l এএফপি
টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছিলেন বলিউড অভিনেত্রী গওহর খান। আচমকা দর্শকসারি থেকে একজন সরাসরি মঞ্চে হাজির। সেখানে গিয়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিনেত্রীর গালে বসিয়ে দিলেন থাপড়। ভারতের মুম্বাই শহরে গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। খবর পিটিআইয়ের। পুলিশ জানায়, টিভি রিয়েলিটি শো ‘র স্টার’-এর চূড়ান্ত পর্বের শুটিং চলছিল গত রোববার। ‘র স্টার’ হচ্ছে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার প্লাস-এ সম্প্রচারিত গানের প্রতিযোগিতা। গওহর খান এতে উপস্থাপিকা হিসেবে কাজ করেন। রোববার প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের কাজ চলার একপর্যায়ে একজন দর্শক সেখানে হাজির হয়ে তাঁর ওপর হামলা করে বসেন এবং হুমকি দিতে থাকেন। ওই দর্শক বলতে থাকেন, ‘একজন মুসলিম নারী হিসেবে গওহরের এমন স্বল্পবসন পরে টিভির সামনে হাজির হওয়া ঠিক হয়নি।’ হামলাকারীর নাম মোহাম্মদ আকিল মল্লিক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি অভিনেত্রী গওহর খানকে থাপড় দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে অসংগতভাবে স্পর্শও করতে শুরু করেন।
তবে ঘটনাস্থলে নিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীরা অবিলম্বে হামলাকারীকে পাকড়াও করে। স্থানীয় পুলিশের জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক বিলাস চবন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৫৪ ও ৫০৬ ধারায় তিনটি অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ তিনটি হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করা, কোনো নারীর শালীনতা নষ্ট করার চেষ্টা করা এবং কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা। গতকালই অভিযুক্ত মল্লিককে আদালতে হাজির করার কথা ছিল। গওহর খান বলিউডের প্রায় আধা ডজন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। রকেট সিং ও সেলসম্যান অব দ্য ইয়ারসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে নিজের অভিনয়দক্ষতা ফুটিয়ে তুলে তিনি ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছেন। এ ছাড়া গত বছর গওহর খান টিভি রিয়েলিটি শো বিগ বস-এ বিজয়ী হয়ে সবার নজর কাড়েন।

বিশ্বে এইডস ছড়িয়ে পড়া বন্ধ হয়ে আসছে

সারা বিশ্বে ব্যাপক হারে এইডস ছড়িয়ে পড়া শেষমেশ বন্ধ হতে যাচ্ছে। এখন এই প্রাণঘাতী ব্যাধির সংক্রমণ ‘বন্ধ হওয়ার শুরুর পর্ব’ চলছে। গতকাল ১ ডিসেম্বর সোমবার বিশ্ব এইডস দিবসে এমন সুসংবাদ দিয়েছে এইডস নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। খবর রয়টার্সের। আফ্রিকায় দারিদ্র্য দূরীকরণ ও প্রতিরোধমূলক রোগ নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির নাম ‘ওয়ান’। বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গত তিন দশকে কয়েক কোটি মানুষ এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তবে গত বছর নতুন করে এইচআইভির সংক্রমণের হার ছিল কম। সংগঠনটির বিশ্ব স্বাস্থ্যনীতি-বিষয়ক পরিচালক এরিন হোলফেল্ডার বলেন, নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এইডস সংক্রমণের হার নিম্নমুখী করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, পৃথিবীর সব দেশেই এইডস প্রতিরোধে সাফল্য এসেছে। এইডস চিকিৎসায় এখনো প্রতিবছর অন্তত ৩০০ কোটি ডলার তহবিল ঘাটতি রয়েছে। এইডস রোগীর রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধের মাধ্যমে নতুন করে অন্যদের এইচআইভির সংক্রমণ ঘটে। এ রোগ নিরাময় সম্ভব নয়।
কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং রোগীরা অনেক বছর ধরে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বে এইচআইভি সংক্রমণের শিকার মানুষের সংখ্যা ছিল সাড়ে তিন কোটি। তাদের মধ্যে ২১ লাখই নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর ১৫ লাখ এইডস রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি এইচআইভি-এইডসের ঝুঁকিতে রয়েছে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল। ৩০ বছর আগে সারা বিশ্বে ব্যাপক আকারে এইডস ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যে এ রোগে অন্তত চার কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনএইডসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত অন্তত এক কোটি ৩৬ লাখ এইডস রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, এমন পাঁচ লাখ এইডস রোগীর স্বাস্থ্যের নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। তবে এ সুসংবাদ সত্ত্বেও এখনই এইডসের বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণার সময় আসেনি।

দেশে ফিরছেন সেই শারমিন

দীর্ঘ ভোগান্তির পর লেবানন থেকে আজ দেশে ফিরছেন প্রতারিত শারমিন আক্তার। সকাল ১০টায় এয়ার অ্যারাবিয়ানের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। বিমানবন্দর থেকেই তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে পঙ্গু হাসপাতালে। এর আগে গত ৬ মাস ধরে লেবাননের একটি হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তিনি। এদিকে তাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লেবানন পাঠালেও আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশনের বিরুদ্ধে। এমন কি শারমিনকে ফেরত আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি এজেন্সিটি। স্বামী পরিত্যক্তা শারমিন আক্তার ভাগ্য বদলের আশায় গত ৩০শে এপ্রিল রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশনের মাধ্যমে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে। এজেন্সি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গৃহকর্মীর কাজ দেয়ার। কিন্তু সে দেশে পা রেখেই শারমিন বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছেন। লেবাননে বসবাসকারী এজেন্সির প্রতিনিধি নিপা নামে বাংলাদেশী এক মহিলা তাকে কাজে নিয়ে যান। কয়েকদিন কাজ করার পর তাকে আটকে রাখা হয়। তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে শারমিন ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পালানোর সময় তিনি সে দেশের ফাইদা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ডা. মনজের আল হাজ্ব হাসপাতালে ভর্তি করেন। তখন থেকেই শারমিন সেখানে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শাহিদা নামে এক বাংলাদেশী ওই হাসপাতালে চাকরি করেন। তিনি ফোনে শারমিনের স্বজনদের জানান, তাকে এতদিন হাসপাতালের মালিক নিজ খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। কিন্তু এখন আর অতিরিক্ত খরচ বহন করতে তিনি রাজি নন। এমনকি বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে পুলিশে হস্তান্তরেরও হুমকি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সব মিলে সেখানে বকেয়া হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। এব্যাপারে গত ২৯শে অক্টোবর মানবজমিন-এ একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার কাছে চিঠি দেয়। কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) উপ-সচিব ড. মো. জিয়াউদ্দিন জানান, আমরা আর্থিক সাহায্য চেয়ে বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার কাছে চিঠি দিই। কিন্তু বর্তমান শারমিনকে দেশে ফেরত পাঠাতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ কে বহন করেছে- এ ব্যাপারে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেন নি। তবে তিনি বলেন- বিভিন্ন সংস্থা এবং স্থানীয় দাতারা ওই অর্থের যোগান দিয়েছেন। রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যাপারে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে বিষয়টি অবহিত করে বিএমইটিকে চিঠি দেয়া হয়েছে কিন্তু সেখান থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে তারা কিছু জানাননি। গত ১২ই নভেম্বর এজেন্সির দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে একটি চিঠিও দেয় ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড। এ ব্যাপারে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক যুগ্ম-সচিব মো. গোলাম মোস্তফা খান বলেন, এ ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক। কেউ কোন এজেন্সির দ্বারা প্রতারিত হলে ওই এজেন্সিকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, গত ১৭ই নভেম্বর কর্মী ও নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে শারমিনকে দেশে ফেরত পাঠাতে পরিচালকের (কর্মসংস্থান) পক্ষ থেকে অনারারি কনসাল জেনারেলকে একটি চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ই সেপ্টেম্বর কর্মী ও নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে শারমিনকে দেশে ফেরত আনতে এজেন্সিকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলেও এ ব্যাপারে তারা অবহিত করেননি। শারমিনের ভগ্নিপতি কিসমত জানান, বোনটিকে ফেরত আনতে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। সরকারি লোকজনও তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরও বলেন এজেন্সি প্রথমে তাদের নিজ খরচে শারমিনকে দেশে ফেরত আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা রাখেনি। কিভাবে তার চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করবেন তা-ও জানেন না তিনি।