Thursday, July 18, 2013

আটক উ.কোরীয় জাহাজে থাকা অস্ত্রগুলো কিউবার

পানামা খাল থেকে আটক উত্তর কোরীয় জাহাজে পাওয়া অস্ত্রশস্ত্রের মালিকানা স্বীকার করেছে কিউবা। সমাজতান্ত্রিক দেশটি বলেছে, সোভিয়েত আমলে তৈরি ওই অস্ত্রগুলো মেরামত করার জন্য তারা উত্তর কোরিয়ার উদ্দেশে পাঠিয়েছিল। পানামার প্রেসিডেন্ট রিকার্ডো মার্টিনেইলি গত মঙ্গলবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, পানামার কর্তৃপক্ষ উত্তর কোরিয়ার ‘অঘোষিত সামরিক সরঞ্জামবাহী’ একটি জাহাজ আটক করেছে। গতকাল বুধবার কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শান্তি, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণসহ নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা’ প্রদর্শন প্রশ্নে কিউবা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবৃতিতে বলা হয়, পানামায় আটক হওয়া জাহাজটিতে ২৪০ টন ওজনের ‘সেকেলে’ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুটি বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, নয়টি ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ, দুটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ও ১৫টি মিগ ইঞ্জিন। কিউবা বলেছে, ওই প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সবই বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে তৈরি। সেগুলো উত্তর কোরিয়ায় নিয়ে মেরামতের পর কিউবায় ফেরত আনা হতো। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা থেকে কিউবা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি করেছিল। বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র আমদানি বা রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। চোং চোন গ্যাং নামের উত্তর কোরীয় পতাকাবাহী জাহাজটিতে পরিবহন করা মূল মাল হচ্ছে ১০ হাজার টন চিনি। জাহাজটি গত ১২ এপ্রিল রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য থেকে ছেড়ে যায়। প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আটলান্টিক উপকূলের কিউবায় যেতে সেটি জুনের শুরুতে পানামা খালে প্রবেশ করে। পানামার কর্মকর্তারা বলেছেন, জাহাজটি পানামা খালে চলার সময় ধাতুর পাত বহন করছিল। তবে খালের ক্যারিবীয় অংশ ছেড়ে যাওয়ার পর তা স্যাটেলাইটের নজরদারি পদ্ধতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১১ জুলাই আবার এর অবস্থান শনাক্ত হয়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবস্থান শনাক্তের এই পদ্ধতি জাহাজের নাবিকেরাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরে পানামার কর্মকর্তারা জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। তাঁদের সন্দেহ হয়, এতে অবৈধ কোনো পণ্য বহন করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের চালান রয়েছে বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে মনে করেছিলেন। পানামার কর্মকর্তাদের যোগাযোগের চেষ্টায় জাহাজটির নাবিকেরা তখন কোনো সাড়া দেননি। উত্তর কোরিয়া ও কিউবা উভয়ই কমিউনিস্ট রাষ্ট্র। দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। গত জুন মাসের শেষেও উত্তর কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের একটি সামরিক প্রতিনিধিদল কিউবায় যায়। অস্ত্র পাচারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হাফ গ্রিফিথস মনে করছেন, জাহাজে অস্ত্র পরিবহনের এ ঘটনাটির মধ্যে কিউবা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বড় পরিসরে নবায়ন করার আভাস রয়েছে। পানামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটির পাঁচটি কনটেইনারের মধ্যে তাঁরা কেবল একটিতে তল্লাশি চালিয়েছে। তল্লাশি শেষ করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। জাহাজটির ৩৫ জন নাবিককে আটক করা হয়েছে। তাঁরা অবৈধ অস্ত্র পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রিল পানামা কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘আটক জাহাজটিতে তল্লাশির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন রয়েছে। পানামা এ বিষয়ে সাহায্য চাইলে ওয়াশিংটন তা দিতে প্রস্তুত। বিবিসি, এএফপি ও আল-জাজিরা।

মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কই বেশি গুরুত্বপূর্ণ: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল বুধবার বলেছেন, স্নোডেন কেলেঙ্কারির চেয়ে মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কের বিষয়টি রাশিয়ার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তথ্য ফাঁস করে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো ক্ষতি না করতে চাইলে তাঁকে স্বাগত জানানো যেতে পারে। এদিকে স্নোডেনকে রাশিয়ায় আশ্রয় পাওয়ার আবেদন করতে সহায়তা করা রুশ আইনজীবী আনাতোলি কুচেরেনা গতকাল জানিয়েছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক এই কর্মী এক সপ্তাহের মধ্যেই বিমানবন্দর ছেড়ে বাইরে যেতে পারেন। এডওয়ার্ড স্নোডেন তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মস্কোর শেরেমেয়িতেভো বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় আটকা পড়ে আছেন। আনাতোলি কুচেরেনার সহায়তায় গত মঙ্গলবার সাময়িক রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে রাশিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন স্নোডেন। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, স্নোডেনের ব্যাপারে আগের অবস্থানেই আছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা স্নোডেনকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছি। রুশ-মার্কিন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কোনো কার্যক্রম আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’ স্নোডেনের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের বিষয়ে পুতিন বলেন, ‘স্নোডেনের কপালে কী আছে, সেটা তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ নিয়ে আছি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিও আমরা বিবেচনা করছি।’ রাশিয়ার কাছে স্নোডেন আশ্রয়ের আবেদন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। এরপর এসব কথা বললেন পুতিন। এর আগে গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জে কারনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, স্নোডেনকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের পর্যাপ্ত আইনি যুক্তি রাশিয়ার কাছে আছে। তবে বিষয়টি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’ কারনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, স্নোডেনকে নিয়ে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতি রাশিয়া সমাধান করবে। তারা তিন সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’ আইনজীবী আনাতোলি কুচেরেনা গতকাল জানান, তাঁর বিশ্বাস, স্নোডেন এক সপ্তাহের মধ্যেই বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। রাশিয়ায় কিছুদিন অবস্থানের পর চূড়ান্ত গন্তব্যে যাবেন তিনি। এএফপি, রয়টার্স।

অধিকৃত ভূখণ্ডের সংগঠনকে সহায়তা দেবে না ইইউ

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের দখল করা ভূখণ্ডে সক্রিয় ইহুদি সংগঠনগুলোকে সহায়তা বন্ধ করে দেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ইইউর নীতিমালায় এ কথা বলা হয়েছে। ইসরায়েল ইইউর এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। দখল করা ভূখণ্ডে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ফলে ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিঘ্ন ঘটবে বলে ইইউ উদ্বিগ্ন।
ইইউর নতুন নীতিমালায় বলা হয়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কর্মরত ইসরায়েলি কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কাউকে ইইউর অনুদান, পুরস্কার বা ঋণ পাওয়ার যোগ্য বিবেচনা করা হবে না। ইসরায়েলি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় এই শর্তের আওতাভুক্ত হবে। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান উপত্যকা
ইসরায়েলি দখলে চলে যায়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইসরায়েলের ওই দখলদারিকে অবৈধ বিবেচনা করা হয়। ইইউর নীতিমালায় বলা হয়, তারা ১৯৬৭ সালের আগে বিদ্যমান ভূখণ্ডের সীমানায় কোনো ধরনের পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দেবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো সমঝোতা হলে তা বিবেচনা করা হবে। তাই ইসরায়েলের কোনো সংগঠনকে আর্থিক সহায়তা, বৃত্তি ও তহবিলের জন্য ইইউর কাছে আবেদন করতে হলে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তারা দখল করা ভূখণ্ডে সক্রিয় নয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইইউর ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি-প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ইইউর ভূমিকার প্রতি ইসরায়েলের আস্থার ভিত নড়ে গেছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা প্রায় তিন বছর ধরে থেমে আছে। ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ বন্ধ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এএফপি ও আলজাজিরা।

রুয়ান্ডার পর সিরিয়ার শরণার্থী সমস্যাই সবচেয়ে ভয়াবহ

সিরিয়ার শরণার্থী সমস্যাকে বিশ্বে গত দুই দশকের মধ্যে এ ধরনের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটি বলছে, ১৯৯৪ সালে আফ্রিকার রুয়ান্ডার গণহত্যার সময়ের শরণার্থী সমস্যার পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ সমস্যা এটি। চলতি বছর সিরিয়া থেকে প্রতিদিন গড়ে ছয় হাজার মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে। সহিংসতায় মাসে নিহত হচ্ছে গড়ে পাঁচ হাজার মানুষ। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান অ্যান্টনিও গাটেরেস গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তৃতায় এসব তথ্য জানান। সিরিয়ায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় এক লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে দ্বিধাবিভক্ত নিরাপত্তা পরিষদকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যান্টনিও গাটেরেস জানান, সিরিয়ার মোট শরণার্থীর দুই-তৃতীয়াংশই দেশ ছেড়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে। চলতি বছর গড়ে প্রতিদিন ছয় হাজার সিরীয় দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে। গাটেরেস বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে রুয়ান্ডায় গণহত্যার পর থেকে এই হারে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া আর দেখা যায়নি। সিরিয়ার শরণার্থী সমস্যা এর প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রায় ‘পিষে ফেলছে’। শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার প্রধান আরও বলেন, প্রতিবেশী লেবানন, জর্ডান ও ইরাক এই শরণার্থীদের গ্রহণ করছে বলে হাজার হাজার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সিরিয়া সংকট এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এই আশঙ্কা এখন আর ‘ফাঁকা বুলি’ নয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ইভান সিমোনোভিচ জানান, সিরিয়ায় সহিংসতায় প্রতি মাসে পাঁচ হাজার করে মানুষ নিহত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি এই সহিংসতা চরম পর্যায়ে অবনতির ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ায় আজ মানবাধিকার লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ জাতিসংঘের সহায়তাবিষয়ক সংস্থার প্রধান ভ্যালেরি আমোস বলেন, কমপক্ষে ৬৮ লাখ সিরীয়র এই মুহূর্তে জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করতে ব্যর্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী ও বিদ্রোহী—দুই পক্ষেরই সমালোচনা করেন তিনি। আমোস বলেন, ‘এই সহিংসতায় আমরা শুধু একটি দেশ ধংস হয়ে যাওয়া দেখছি না, সেই সঙ্গে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির বিষয়টিও দেখতে হচ্ছে।’ জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার জাফরি সহিংসতা, শরণার্থী বা ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপারে সরাসরি কোনো কিছু বলেননি। তিনি বলেন, ‘সিরিয়া সরকার জনগণের মানবিক ও মৌলিক চাহিদা পূরণে যা করা সম্ভব সবকিছুই করে যাচ্ছে।’ বিবিসি ও এএফপি।

মন্ত্রিসভা প্রত্যাখ্যান, বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন মুরসিপন্থীরা

মিসরে সদ্যগঠিত অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভাকে প্রত্যাখ্যান করেছে মুসলিম ব্রাদারহুড। মন্ত্রিসভা গঠনের প্রতিবাদে নতুন করে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থকেরা। গতকাল বুধবার এ বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। এর আগের দিন নতুন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ৩ জুলাই দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর তাঁকে পুনর্বহাল করার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করে তাঁর সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড। সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, মুরসির সমর্থকেরা দেশটির সামরিক ঘাঁটিগুলোর বাইরে সশস্ত্র বিক্ষোভ উসকে দিচ্ছেন এবং চলমান রাজনৈতিক বিরোধকে ধর্মীয় বিরোধে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মিসরে মঙ্গলবার ৩৪ সদস্যের যে অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে, তার বেশির ভাগই আমলা এবং উদারপন্থী। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদেল ফাত্তা আল-সিসি নতুন সরকারের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর যৌথ দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় তিনজন নারী এবং সংখ্যালঘু কপটিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের তিনজন প্রতিনিধি রয়েছেন। স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়লাভকারী প্রধান দুটি ইসলামপন্থী দলের কোনো সদস্য মন্ত্রিসভায় নেই। মুসলিম ব্রাদারহুড এ সরকারে থাকবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল। নতুন সরকার যেসব বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে, দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। তা কঠিন কাজ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রভাবশালী সংগঠন ব্রাদারহুডের পাশাপাশি অতিরক্ষণশীল আল-নুর পার্টিও নতুন মন্ত্রিসভাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্রাদারহুডের জ্যেষ্ঠ নেতা এসাম আল-ইরিয়ান নতুন মন্ত্রিসভা গঠন প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা কি নিজেরাই নিজেদের বিশ্বাস করে? অন্য কে-ইবা তাদের বিশ্বাস করে? তাদের কোনো কর্তৃত্ব কীভাবে থাকে, যখন তারা এটা জানে যে সামরিক বাহিনীর একটি শব্দই তাদের সব সদস্যকে গ্রেপ্তার করাতে পারে?’ ব্রাদারহুডের মুখপাত্র জিহাদ আল-হাদ্দাদ অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভা গঠনকে প্রত্যাখ্যান করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা এ মন্ত্রিসভার বৈধতা বা এর কর্তৃত্বকে স্বীকৃতি দেব না।’ মিসরের রাস্তায় রাস্তায় মুরসি-সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। সংঘর্ষে এদিন অন্তত সাতজন নিহত এবং ২৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা। এ ছাড়া সিনাই উপত্যকায়ও নতুন করে সহিংসতা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেখানে জঙ্গিদের ছোড়া গুলিতে ছয় সেনা ও দুই বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন। এদিকে মিসরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির অন্তর্বর্তী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন কায়রো সফর করছেন। তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুর ও সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠক করবেন। মিসরে চলমান সংকট দেশটির পশ্চিমা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ক্যাথরিন অ্যাস্টনের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডার সেক্রেটারি বিল বার্নস সে দেশ সফর করেন। রয়টার্স ও এএফপি।

কিংবদন্তির জন্মদিন আজ

প্রিটোরিয়ার মেডি ক্লিনিক হার্ট হাসপাতালের বাইরে ম্যান্ডেলার
আরোগ্য কামনা করে ভক্তদের শুভকামনা ষ রয়টার্স
আজ ১৮ জুলাই। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তিপ্রতিম নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন। বিশ্বজুড়ে শ্রদ্ধাভাজন এই রাষ্ট্রনায়ক আজ ৯৫ বছরে পা দিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা তো বটেই, বিশ্বের অনেক দেশেই তাঁর জন্মদিন উদ্যাপন করা হবে নানা আয়োজনে। একই দিনে আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেলা দিবসও (নেলসন ম্যান্ডেলা ইন্টারন্যাশনাল ডে) উদ্যাপন করা হবে। ম্যান্ডেলার সম্মানে ২০০৯ সালে তাঁর জন্মদিনটিকে ম্যান্ডেলা দিবস ঘোষণা করে জাতিসংঘ। যাঁর জন্য এত আয়োজন, তিনি এখনো হাসপাতালে। গত ৮ জুন ফুসফুসে আবার সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় প্রিটোরিয়ার মেডি ক্লিনিক হার্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ম্যান্ডেলাকে। সেখানেই আছেন তিনি। স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেল, দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট থাবো এমবেকির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। সর্বশেষ থাবো এমবেকি গত শনিবার জানান, হাসপাতাল থেকে শিগগিরই ছেড়ে দেওয়া হতে পারে ম্যান্ডেলাকে। ম্যান্ডেলার জন্মদিন উপলক্ষে জোহানেসবার্গভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন দেশটির জনগণকে আজ ৬৭ মিনিট কোনো জনহিতকর কাজে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ম্যান্ডেলা তাঁর জীবনের ৬৭ বছর সক্রিয়ভাবে দেশের সেবা করে গেছেন। সেই ভাবনা থেকেই এই আহ্বান এসেছে। দিনটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট জুমা প্রিটোরিয়ায় দরিদ্রদের মধ্যে বিনা মূল্যে আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিতের খোঁজখবর নেবেন। ম্যান্ডেলার জন্মদিনে তাঁর মন্ত্রিসভা খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে। কেপটাউনের সেন্ট জর্জ’স ক্যাথেড্রালে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে শ্রমিক সংগঠনগুলো। এতে সম্পদশালী ব্যক্তিদের খাদ্য-সহায়তা ও জনহিতকর কাজে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করা হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার চিত্রশিল্পী জন অ্যাডমস ও পল ব্লুমক্যাম্প জন্মদিন উপলক্ষে ম্যান্ডেলার দুটি বিশাল আকারের প্রতিকৃতি এঁকেছেন। ব্লুমক্যাম্প জানান, একটি প্রতিকৃতি আজ নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে টাঙিয়ে দেওয়া হবে। এপি।

মালালার ওপর হামলার জন্য তালেবান নেতার দুঃখ প্রকাশ

পাকিস্তানে তালেবানের এক জ্যেষ্ঠ নেতা গত বছরের অক্টোবরে স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাইয়ের ওপর হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মালালাকে পাঠানো এক চিঠিতে আদনান রশিদ নামের ওই নেতা হামলার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের চ্যানেল ফোরসহ বিশ্বের অন্যান্য সংবাদমাধ্যম চিঠির অনুলিপি পেয়েছে। আদনান রশিদ চিঠিতে মালালাকে বলেন, একজন ভাইয়ের মতো তিনি মালালার প্রতি আবেগ পোষণ করেন। কারণ, তাঁরা একই গোষ্ঠী ইউসুফজাইয়ের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, নারীশিক্ষা নিয়ে আন্দোলনের জন্য নয়, বরং তালেবানবিরোধী ‘অপপ্রচার’ চালানোর কারণে মালালার ওপর হামলা চালানো হয়। মালালাকে হামলার বিষয়টি ভুল কি না—জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রশিদ বলেন, হামলা ভুল না ঠিক, তা সৃষ্টিকর্তা বিচার করবেন। এ ছাড়া মালালার ওপর হামলাকে একটি দুর্ঘটনা মনে করেন তিনি। গত শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক ভাষণে মালালা বলে, বই ও কলমকে জঙ্গিরা ভয় পায়। ধারণা করা হচ্ছে, জাতিসংঘে মালালার ভাষণের পাল্টা জবাব দিতেই আদনান রশিদ এই চিঠি পাঠিয়েছেন। বিবিসি।

গোলটেবিল বৈঠক ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্তমান বাস্তবতা

গত ২৯ জুন ২০১৩, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে ছাপা হলো।

শাহরি রমজান-কোরআন শরিফে রোজা ও রমজানুল মোবারক by মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। রমজানুল মোবারকের রোজা এর মধ্যে অন্যতম। আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানবজাতির মধ্যে উম্মতে মুহাম্মদীকে মধ্যপন্থী, উত্তম ও শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

ভুল রায়, আপিল হবে : রাজ্জাক

বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেওয়া ট্রাইব্যুনালের রায়কে ভুল ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক।

এবারও নীরব বিএনপি

১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিএনপি।

সন্তুষ্ট মহাজোট-জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি

বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিকরা।

প্রতিক্রিয়া শহীদ পরিবারের কথা'আদিপাপ থেকে মুক্তি পেল জাতি' by নওশাদ জামিল

'আদিপাপ থেকে মুক্তি পেল জাতি। বাংলাদেশের ঊষালগ্নে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীরা আদিপাপ করেছিল। ৪২ বছর পরে হলেও সে পাপ থেকে মুক্তি পেল জাতি।' আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও একাত্তরের আলবদর

হরতালে হরতালে অতিষ্ঠ রোজাদার ও ব্যবসায়ীরা by রাজীব আহমেদ ও এম সায়েম টিপু

সময় কাটার কথা ছিল চূড়ান্ত ব্যস্ততায়। দোকানে পণ্য তোলা, ক্রেতাকে দেখানো, দামে মিললে বিক্রি করে টাকা বুঝে নেওয়া- অন্তত রোজার এক মাসে দিনভর ফুরসত মেলার কথা নয় দোকানকর্মীদের।

তৃতীয় দিনেও বোমা, আগুন ভাঙচুর-আজও জামায়াতের হরতাল

টানা হরতালের তৃতীয় দিনে গতকাল বুধবার জামায়াত-শিবিরের একটি অভিন্ন 'কর্মসূচি' ছিল হাতবোমার বিস্ফোরণ। রাজধানী ঢাকাসহ প্রায় সব স্থানেই অসংখ্য হাতবোমার (ককটেল) বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।

সাবেক কোনো মন্ত্রীর ফাঁসির রায় দেশে এই প্রথম

আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির আদেশের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন একটি নজির সৃষ্টি হলো। এই প্রথম একজন সাবেক মন্ত্রী কোনো অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি পেলেন।

বেঁচে থাকলে খুশি হতেন তাঁরা by আজাদুর রহমান চন্দন

১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে বেশি ছিল রাজধানী ঢাকায়। নগরীতে সেনাবাহিনীর সার্বক্ষণিক টহল তো ছিলই, তার ওপর নগরবাসীর কাছে আরেক আতঙ্ক ছিল অবাঙালি বিহারিরা।

'রায় প্রত্যাখ্যান আদালত অবমাননার শামিল'

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে বক্তব্য দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি বলেন, 'আমরা সুপ্রিম কোর্টের বিচারক।

বুদ্ধিজীবী হত্যার দায় মুজাহিদের-জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকাও স্পষ্ট by আশরাফ-উল-আলম ও এম বদি-উজ-জামান

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবীদের হত্যার দায় আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এড়াতে পারেন না। কারণ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠন আলবদর বাহিনী। আর এই আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন মুজাহিদ।

সেই ঘাতক পতাকাধারীর প্রাণদণ্ড

একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী কুখ্যাত আলবদরপ্রধান আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।

নবজাগ্রত প্রাণ

‘বৈষম্য’ বা ‘বিভেদ’ কথাটির মাধ্যমে যে অর্থ প্রকাশ পায়, পৃথিবীতে এর চেয়ে ঘৃণ্য কোনো কিছু বোধ হয় নেই। বিশ্বে যত অশান্তি, অনাচার, অনৈতিকতা- সবকিছুর মূলে রয়েছে বিভেদ। বিভেদ মানে কেবলই অর্থনৈতিক বৈষম্য নয়; জাতিতে জাতিতে বৈষম্য, ধর্মে ধর্মে বৈষম্য, ভাষাগত বৈষম্য, গাত্রবর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্য, নারী-পুরুষের অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্য- এককথায় মানুষে মানুষে বৈষম্য। এ বৈষম্যেরই এক চরম রূপ আমরা দেখেছি দক্ষিণ আফ্রিকায়। বিস্ময় জাগে, এই সেদিনও সভ্য জগতের একটি দেশ এমন অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার এই চরম বর্ণবাদী শাসনের অবসান ঘটে। সেই বর্ণবাদের কথা আমরা শুনেছি। এ সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় পড়েছি। কিন্তু কেমন ছিল সে বর্ণবাদের চেহারা, তা জানা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ থেকে। শ্বেতাঙ্গরা জনসংখ্যার মাত্র ১৩ শতাংশ হয়েও তিন শতাব্দীরও বেশি শাসন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই তো সেদিনের কথা। বর্ণবাদের ভিত গড়তে কতই না আইন করেছিল তারা। ১৯১৩ সালের ভূমি আইনের মাধ্যমে দেশের ৮৭ ভাগ ভূখণ্ড থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল কৃষ্ণাঙ্গদের। ১৯২৩ সালের নগর এলাকা আইনের মাধ্যমে কালোদের জন্য শহরতলীতে গড়ে তোলা হয় অসংখ্য বস্তি। উদ্দেশ্য সাদাদের শিল্প-কারখানার জন্য সস্তায় শ্রমিক সরবরাহ। শহরের কেন্দ্রে বসবাসের অধিকার ছিল না তাদের। নিজ দেশে চলাফেরায় ছিল না স্বাধীনতা। ছিল না স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার অধিকার।
ম্যান্ডেলা লিখেছেন : ‘একজন আফ্রিকান শিশুর জন্ম হয় শুধু আফ্রিকানদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া হাসপাতালে। তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় শুধু আফ্রিকানদের বাসে করে। সে বসবাস করে শুধু আফ্রিকানদের এলাকায় এবং পড়াশোনা করে কেবল আফ্রিকানদের স্কুলেÑ যদি আদৌ সে স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায়। যখন বড় হয়, তখন আফ্রিকানদের জন্য নির্দিষ্ট চাকরিটিই কেবল সে করতে পারে। বাড়িভাড়া নেয় শুধু আফ্রিকানদের জন্য নির্ধারিত শহরতলীতে। চড়ে কেবল আফ্রিকানদের নির্দিষ্ট ট্রেনে। দিনে বা রাতের যে কোনো সময় তাকে পথিমধ্যে পাস দেখানোর নির্দেশ দেয়া হতে পারে। কেউ দেখাতে ব্যর্থ হলে তাকে গ্রেফতার করে জেলে নিক্ষেপ করা হয়। বর্ণবাদী আইন ও নিয়ম-কানুন দ্বারা তার জীবন হয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রিত, যা তাকে বেড়ে ওঠার পথে পঙ্গু করে দেয়। তার সম্ভাবনাগুলো ঝাপসা করে ফেলে এবং তার জীবনের বিকাশকে করে দেয় রুদ্ধ।’
দক্ষিণ আফ্রিকার এই চরম বর্ণবাদী নীতিই ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের দারিদ্র্যের প্রধান কারণ। ম্যান্ডেলা যখন জোহানেসবার্গে ল’ ফার্মে কেরানির কাজ করার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে প্রায়ই বাসের ভাড়া বাঁচাতে ১২ মাইল পথ হেঁটে যাওয়া-আসা করতে হতো। বহুদিন তাকে পর্যাপ্ত খাবার ছাড়াই দিন কাটাতে হয়েছে। বদলে পরার মতো বাড়তি পোশাকও ছিল না তার। বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ম্যান্ডেলাসহ অধিকাংশ রাজনীতিক প্রথমে গান্ধীবাদী অহিংস আন্দোলন করেছেন। কিন্তু এ অহিংস আন্দোলনের ওপরও শুরু হয় দমনপীড়ন। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে ১৯৬০ সালের ২১ মার্চ। কয়েকটি নতুন বর্ণবাদী আইনের বিরুদ্ধে ট্রান্সভাল প্রদেশের শার্পভিলে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভরত জনতার ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে ৬৯ জন নিহত হয়, যাদের অনেকেই ছিল স্কুলের ছাত্রছাত্রী। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে একটি মোড় ফেরানো ঘটনা। কারণ এ বর্বরোচিত হামলার পর অনেকের মতো ম্যান্ডেলাও সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নেন, যার পরিণতিতে তাকে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়।
পরবর্তী সময়ে বন্ধুদের কাছে স্মৃতিচারণকালে ম্যান্ডেলা প্রায়ই একটি ঘটনার উল্লেখ করতেন। উইটওয়াটারস্ট্যান্ড ইউনিভার্সিটিতে আইন পড়ার সময় ক্লাসে তার পাশে যে শ্বেতাঙ্গ সহপাঠীটি বসত, সে ঘনঘন আসন বদল করত। কালোদের এমনই ঘৃণা করত শ্বেতাঙ্গরা। ১৯৯৯ সালে ম্যান্ডেলা যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট, তখন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সেই শ্বেতাঙ্গ সহপাঠীকে আমন্ত্রণ জানানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই ওই সহপাঠীর মৃত্যু হয়েছিল। ম্যান্ডেলা বন্ধুদের কাছে বলেছেন, যদি তার সঙ্গে একটিবার সাক্ষাতের সুযোগ পেতেন তিনি তাহলে তাকে বলতেন, ‘তোমার কি মনে আছে ঘটনাটি? প্লিজ
ঘাবড়িও না। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’
ম্যান্ডেলার মহত্ত্ব কোন ক্ষেত্রে বেশি- বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামের জন্য নাকি তার ক্ষমাশীলতার কারণে, তা নিরূপণ করা কঠিন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলে ২৭ বছর কারারুদ্ধ থাকার নজির আর কারও নেই। যারা তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, যারা তাকে রেখেছিল বন্দি করে, মুক্তির পর তাদের ক্ষমা করে দেয়ার মতো ঘটনাও ইতিহাসে বিরল। ম্যান্ডেলার মহানুভবতা ও বিচক্ষণতার কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকায় শান্তিপূর্ণভাবে অবসান ঘটে বর্ণবাদী শাসনের। যে শ্বেতাঙ্গরা শতাব্দীর পর শতাব্দী শোষণ ও নির্যাতন চালিয়েছে কালোদের ওপর, তাদের সঙ্গে সমঝোতা বা ঐক্য গড়ে তোলা আর কারও পক্ষেই হয়তো সম্ভব ছিল না। ম্যান্ডেলার সে উদারতা কালোরা মেনে নিয়েছিল, কারণ তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে নির্যাতিত বর্ণবাদবিরোধী নেতা।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ম্যান্ডেলা ছিলেন দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার সবচেয়ে বড় শক্তি। তার মৃত্যুর পর কী ঘটবে, টিকে থাকবে কি-না এ ঐক্য, তা নিয়ে চিন্তিত দেশটির সুশীল সমাজ। কয়েক বছর আগে জোহানেসবার্গের দ্য সানডে টাইমস পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মন্দলি মাখানিয়া বলেছিলেন, ‘যে আঠা দক্ষিণ আফ্রিকাকে একত্রে বেঁধে রেখেছে, তা নেলসন ম্যান্ডেলার আদর্শ। তার বয়স যত বাড়ছে, ততই দুর্বল হয়ে পড়ছেন তিনি। কঠিন সত্যটি ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। আমরা সবাই সে মুহূর্তটির কথা ভেবে উদ্বিগ্ন। এর কারণ, সবাই
তাকে ভালোবাসে। তবে উদ্বেগের কারণ রয়েছে এ প্রশ্নের মাঝেও- তার মৃত্যুর পর কে ঐক্যবদ্ধ রাখবে আমাদের?’
এটা ঠিক, বর্ণবাদী শাসন অবসানের পরও দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি এখনও শ্বেতাঙ্গদের নিয়ন্ত্রণে। কলকারখানা, স্বর্ণ ও হীরার খনিগুলোর সিংহভাগ মালিকানা তাদের। তবে কৃষ্ণাঙ্গরা ফিরে পেয়েছে রাজনৈতিক অধিকার। বর্ণবাদী আইনও হয়েছে বিলুপ্ত। এ পথ ধরেই একদিন অবসান ঘটতে পারে অর্থনৈতিক বৈষম্যের- যদি জনগণ থাকে ঐক্যবদ্ধ। যদি ফিরে না আসে বর্ণবাদ এবং গোষ্ঠী ও জাতিগত সংঘাত। নিজেদের মধ্যে হানাহানি একটি দেশকে কীভাবে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে, পিছিয়ে দেয় নানা ক্ষেত্রে, দক্ষিণ আফ্রিকা তার বড় উদাহরণ। বর্ণবাদের অবসানে সে দেশটি আজ মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ম্যান্ডেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত তিন-চার বছর ধরেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এ সময় তাকে খুব কমই জনসমক্ষে দেখা গেছে। বস্তুত জীবনের একটি বড় অংশ তিনি কারারুদ্ধ থাকায় পৃথিবীর খোলা আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত থেকেছেন। আমরা চাই, মুক্ত জীবনে আরও বহুদিন বেঁচে থাকুন তিনি। পৃথিবীতে নেলসন ম্যান্ডেলার মতো মানুষের জন্ম বিরল ঘটনা। এমন মানুষের জন্ম হয় কালেভদ্রে, হাজার বছরে একবার। আজ সেই মানুষটির ৯৫তম জন্মদিন উদ্ভাসিত হোক বিশ্বজুড়ে অগণিত মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়।
আসিফ রশীদ : সাংবাদিক ও লেখক

সরকারি প্রশাসন মেধাশূন্য করবেন না by ড. সৈয়দ রাশিদল হাসান

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটে গেল ঢাকাসহ কয়েকটি জায়গায়। এর আগেও কোটার বিরুদ্ধে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। কিন্তু সেই কোটার কোটারি থেকেই গেছে। এবার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শেষদিকে এসে কোটা নিয়ে বেশ একটা বড় ঝাঁকুনি দিয়ে গেল আমাদের মেধাদীপ্ত তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় অংশ হচ্ছে এ তরুণরা। এ কারণে বলা হয়, আমরা এখন পপুলেশন ডিভিডেন্ট উপভোগ করছি। এটা সম্ভবত ২০৫০ সাল পর্যন্ত চলবে, তারপর আমাদের জনসংখ্যার কম্পোজিশনে পরিবর্তন আসবে। তখন তরুণ প্রজর আধিপত্যের পরিবর্তে আসবে বয়স্ক ও শিশুদের আধিপত্য। তাই আমাদের তরুণদের সঠিক পথে চালাতে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে আমাদের প্রিয় দেশটাকে এগিয়ে নেয়ার এটাই মোক্ষম সময়।
কোটা সিস্টেম থাকতেই পারে। পৃথিবীর অনেক দেশেই পিছিয়ে পড়া মানুষদের সামনে এগিয়ে নিতে তাদের জন্য কোটা রাখা হয় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পর্যন্ত। আমাদের সংবিধানেও পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীসহ অন্যান্য পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা স্বীকৃত। সুতরাং কোটার বিরুদ্ধে কারও কোনো আপত্তি নেই। আপত্তি ওঠে তখনই যখন মেধার লালন না করে কোটার নামে কোটারিপনা শুরু করা হয়। আন্দোলনকারী তরুণরা খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা কোটা পদ্ধতির বিপক্ষে নয়, বরং আনুপাতিক হারের ব্যাপারেই তাদের আপত্তি। তাদের আপত্তি খুবই সঙ্গত। সরকারি চাকরিতে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩০ শতাংশ কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য। জানা মতে, দেশে এখন প্রায় দুই লাখের মতো সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা আছেন। যুদ্ধে যাওয়ার সময় তাদের বয়স বিবেচনায় নিলে এখন খুব কমসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান চাকরির অপেক্ষায় আছেন। অথচ বর্তমান সরকার এখন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সঙ্গে তাদের নাতি-পুতিকেও বিভিন্ন সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেক প্রশ্ন জাগে মনের মাঝে। কেন এ নাতি-পুতি? নাতি-পুতি কি ছেলের ঘরের নাকি মেয়ের ঘরের? নাকি উভয়েরই? মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সে শ্বশুরবাড়ির হয়ে যায়। তাহলে তার ছেলেমেয়েরা কেন এ সুযোগ পাবে? এ প্রশ্নগুলোর পেছনে আমার অজ্ঞতা আছে অনেক। কারণ আমি সরকারি সিদ্ধান্ত নিজে পড়িনি। সেখানে কী লেখা আছে তা জানি না। এ অনীহার কারণ হল, আমি কিংবা আমার বংশধরের কেউই এ সুযোগ পাবে না। অথচ আমরা ১৯৭১ সালে কিভাবে মানবেতর জীবনযাপন করেছিলাম ভারতে। বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন করতাম (মওলানা ভাসানীর সমর্থক) বলে আমাদের ভারতীয় সেনাবাহিনী রায়গঞ্জ রিক্রুটমেন্ট ক্যাম্প থেকে বের করে দেয়। তবু দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে নিজের উদ্যোগেই অংশগ্রহণ করেছিলাম। এই মহান যুদ্ধে আমার নিজের চাচা এবং তার দুই ছেলে শহীদ হন। পরবর্তী সময়ে আমার নিজের ভাই নিখোঁজ হন, যার কোনো খবর আমরা আর পাইনি। যুদ্ধের পর আমরা তো কোনো সার্টিফিকেট নেইনি। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম তার জন্য সার্টিফিকেট নেব? এমন ইচ্ছা লালন করাও আমাদের কাছে মনে হতো অপরাধ। চোখের সামনে দেখেছি মুজিব বাহিনীর সার্টিফিকেট বিক্রি হতে। শোনা কথা, পরবর্তীকালে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেটও নাকি এভাবে পাওয়া যেত! আত্মীয়তার সূত্রে এবং দলীয় বিবেচনায় নাকি অনেক অমুক্তিযোদ্ধা এ সার্টিফিকেটের অধিকারী হয়ে গেছে! সত্য-মিথ্যা জানি না, তবে এটা তো সত্য যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে দেশে নানা বিতর্ক আছে।
এ দেশে রাজাকাররাও যদি মন্ত্রী হয়ে গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে বেড়ানোর সুযোগ পায়, তাহলে সাধারণ একটা সার্টিফিকেট জোগাড় করা তো কোনো বিষয়ই নয়। তাহলে বিষয়টি কী দাঁড়াচ্ছে? মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিলেন, তাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে তাদের সন্তানদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তবে যারা যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা, তাদের কেন এ সুবিধা দিতে হবে? আমার নিজের আÍীয়ের কথাই বললাম। আমার বিধবা চাচি তার সন্তানদের নিয়ে স্বাধীনতা উত্তর কী কষ্টেই না জীবন কাটিয়েছেন। কই তখন তো কোনো সরকার তাদের কোনো খবর নেয়নি? এখনও খবরের কাগজে দেখা যায়, দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কী কষ্ট করে জীবন যাপন করে যাচ্ছেন। কই সরকার তো তাদের সন্তান কিংবা তাদের জন্য পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি? হাস্যকর এক-দুই হাজার টাকার ভাতা দিয়ে তাদের অবদানকে হয়তো আমরা অসম্মানই করছি। পিএসসিকে অনুরোধ করব, বিগত বছরগুলোতে যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছেন, তাদের উৎসে গিয়ে খবর নিন- প্রমাণ হয়ে যাবে কতজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য। অন্তত জনসাধারণের সন্দেহ দূর করার জন্য হলেও এমন একটা জরিপ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।
বর্তমান তরুণ মেধাবীদের দিকে তাকিয়ে কষ্ট পাই। একশ’ ভাগের মধ্যে মাত্র ৪৫ ভাগ মেধা, সিংহভাগই কোটা। দুই লাখ সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৩০ ভাগ কোটা রাখা শুধু অযৌক্তিকই নয়, অন্যায় বলেই মনে হয়। দেশের জনসংখ্যার মাত্র ০.১৩ শতাংশ গোষ্ঠীর জন্য খুব বেশি হলে এক ভাগ কোটা রাখা যেতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ৩০ ভাগ নয়। তারপরও যেহেতু তারা দেশের জন্য নিজেদের জীবনবাজি রেখে আমাদের এ মাতৃভূমি স্বাধীন করেছিলেন, তাই তাদের অবদানের প্রতি সম্মান রেখে কোটার পরিমাণ ৫ ভাগ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। সবশেষে বলতে চাই, সরকারি প্রশাসন মেধাশূন্য করবেন না। কোটার নামে অযোগ্যদের সরকারি চাকরিতে ঢুকিয়ে দেশের সর্বনাশ করবেন না। কারণ সরকার আসে সরকার যায়, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা থেকেই যান। তারাই চালান এ দেশটাকে। অযোগ্যতার কারণে বা ইংরেজি না বোঝার কারণে ভবিষ্যতে কোন দেশের সঙ্গে কী চুক্তি করে তারা তাদের অজান্তেই দেশের কত বড় ক্ষতি করে ফেলবেন, তা কি কেউ বলতে পারে ?
ড. সৈয়দ রাশিদুল হাসান : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

যারা প্রতারিত হচ্ছেন তারাও কি দায়ী নন? by অরবিন্দ রয়

ইদানীং পত্রিকার পাতা মেললেই কোনো না কোনো মাল্টিপারপাস কোম্পানির উধাও হয়ে যাওয়ার খবর চোখে পড়ে। ক্রিকেট খেলায় যেমন একটির পর একটি উইকেটের পতন ঘটতে দেখা যায়। এসব খবর শোনার পরও যারা কুম্ভকর্ণের নিদ্রার মতো নিজের গচ্ছিত টাকা উঠানোর গরজ করছেন না, তাদের কী বলা যায় এর ভাষা আমার জানা নেই। অনেকেই ভাবছেন, সবুরে মেওয়া ফলে। আর কটা দিন সবুর করলেই হয়তো পুঁজি এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু আর কটা দিন যেতে না যেতেই অনেক কোম্পানি পাততাড়ি গুটিয়ে হাওয়া হয়ে যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে কিছু লোক অল্প সময়ে বেশি লাভবান হতে গিয়ে সর্বাংশে প্রতারিত হচ্ছে কিছু মাল্টি বাটপারের হাতে।
কিশোর কুমারের একটি বিখ্যাত গান আছে- কী আশায় বাঁধি খেলাঘর; বেদনার বালুচরে। নিয়তি আমার ভাগ্য লয়ে যে নিশিদিন খেলা করে। গানের প্রথম অন্তরায় দেখা যাচ্ছে, গীতিকার তার ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার জন্য সরাসরি নিয়তিকেই দায়ী করেছেন। নিয়তির প্রধান নিয়ন্ত্রক বিধাতাই মূলত ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মূল নায়ক। কিন্তু আজ যারা রকমারি প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব খুইয়ে পথে নামার উপক্রম হয়েছেন, তাদের এ করুণ পরিণতির জন্য কিছুতেই বিধাতাকে দায়ী করা যায় না। সাধারণভাবে যদি চিন্তা করা হয় তাহলে দেখা যাবে ভাগ্য বিড়ম্বিতরা তাদের ভাগ্য বিড়ম্বনার জন্য নিজেরাই দায়ী। কেননা একজন বিষপান করবেন আর অন্যজন কাতরাবেন এমন নজির ত্রিভুবনে নেই। যিনি বিষ খাবেন, মূলত কাতরাতে হবে তাকেই। কাজেই বর্তমানে যারা আমানত খুইয়ে আহাজারি করছেন তা অন্যের দোষে নয়, ব্যক্তিগত লোভ-লালসায় জর্জরিত হয়ে রাতারাতি বড়লোক হতে গিয়েই আজ তারা সর্বস্বান্ত। কাজেই এ ভুলের দায় কারও ঘাড়ে বর্তানোর বিষয়টি নিছক সান্ত্বনা খুঁজে ফেরা ছাড়া আর কিছুই নয়। এক্ষেত্রে বিধাতার ওপর দোষারোপ করার প্রশ্নই আসে না।
পল্লীর অনেক এলাকায় এখনও বিষ খেয়ে আÍহত্যার চেষ্টাকারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে মানব বিষ্ঠা খাওয়াতে দেখা যায়। পর্যাপ্ত বমি করানোর মাধ্যমে পাকস্থলী থেকে বিষের কার্যকারিতা কমানোই এ টোটকার মূল কাজ। তাৎক্ষণিকভাবে জিনিসটি পাওয়া না গেলে অনেককেই পচা গোবর খাওয়াতেও দেখা যায়। পাঠক হয়তো ভাবতে পারেন, মাল্টিপারপাস নিয়ে লেখার মধ্যে আচমকা বিষ খেয়ে আÍহত্যার চেষ্টাকারীকে নিয়ে আসা হচ্ছে কেন? প্রসঙ্গটি নিয়ে আসার একটাই কারণ সেটি হচ্ছে, বিষখেকোর কার্যক্রমের সঙ্গে সর্বস্ব হারানো ব্যক্তিদের একটা সম্পর্ক দেখানো। কারণ বিষ খাওয়ার পরের অবস্থার মতো আমানত হারানোর ক্ষেত্রেও কাতরানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। প্রেক্ষাপট যাই হোক, কাতরানোর কারণ উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্ন বলা যায় এবং উভয়ের জন্য দায়ী স্ব স্ব ব্যক্তি। বিষপানকারীর ক্ষেত্রে যেমন অন্যের ওপর দোষ চাপানো অযৌক্তিক, তেমনি এমএলএম বা মাল্টিপারপাস নামধারী কিছু মাল্টি বাটপারের ফাঁদে পা দিয়ে আজ যারা সর্বস্বান্ত হয়েছেন, তাদের এ করুণ পরিণতির জন্যও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা যায় না। আজ যারা বুদ্ধিদোষে সর্বস্বান্ত হয়েছেন এবং নিত্যনতুন সর্বস্বান্তের পথে পা বাড়াচ্ছেন তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, তারা যেন নিজ অপকর্মের দায় নিজ কাঁধে নিয়ে আÍশুদ্ধির চেষ্টা করেন। এমনকি সরকারও এর দায় বহনে খুব একটা সক্ষম বলে মনে হয় না। কারণ কোন ব্যক্তি কী উদ্দেশ্যে কাকে টাকা ধার দেবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কারও ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা রাষ্ট্রের ধর্ম নয়। তাছাড়া টাকা দেয়ার সময় কোনো সরকারি লোকের সঙ্গে কেউ পরামর্শ করেন বলেও মনে হয় না। কেবল ফতুর হওয়ার পরই সরকারের কাঁধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হয়।
আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট যদি এদেশে পা রাখতেন, তাহলে লাখ লাখ লোকের মাল্টি প্রতারিত হওয়ার ধরন দেখলে বোধহয় কী বিচিত্র এদেশ, সত্যিই সেলুকাস বলার আগেই হার্টফেল করতেন। দুঃখ যে, এত প্রতারণার পরও কারও বোধোদয়ের কোনো খবর নেই। বোধহীনভাবে চলাটা বংশানুক্রমিক কি-না কে জানে। ইতিহাসও তো সে কথাই বলে। আজ থেকে প্রায় আড়াইশ বছর আগে ইস্ট ইন্ডিয়া নামক একটি ব্রিটিশ কোম্পানি হাতেগোনা আট-দশজন কর্মচারী নিয়ে ব্যবসা করতে এসে গোটা ভারতবর্ষ দখল করেছিল। শুধু তাই নয়, ১৯০ বছর শাসনও করে গেছে তারা। পরাজিত হওয়া ও দীর্ঘদিন পরাধীন থাকার ধরন দেখলেই নিজেদের মূল রক্তের সন্ধান পাওয়া যায়। আজ জোর করে যারা আমাদের আধুনিক বানিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক ফায়দা লুটে নিচ্ছে, সেই অতি আধুনিকের লেবাসে গণ্ডমূর্খ হওয়ার পাপই বুঝি লাখ লাখ লোকের ভ্রষ্টপথে চলার কারণ হতে পারে। তা না হলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আদলে সাত-আটজন কর্মচারীবেষ্টিত কিছু মাল্টিপারপাস কোম্পানি রাতারাতি পাবলিকের হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিনা বাধায় পালিয়ে যাওয়ার হিম্মত দেখাচ্ছে কিভাবে?
কী বিচিত্র এ ডিজিটাল জাতি! সেলুকাস! যেখানে বড়লোক বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কামানো যায়! মওকা মতোন স্বপ্নটা দেখাতে পারলেই হল- টাকা রাখার জায়গা পাবেন না। মানে এ জাতি স্বপ্ন কিনতে এতটাই পটু যে স্বপ্ন বিক্রেতারা বিক্রি করে কুলিয়ে উঠতে পারে না। ফলে রাতারাতি দেশজুড়ে শাখা সেন্টার খুলে বসে। সেসব সেন্টারে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেন কিছু ডিজিটাল নির্বোধ। বিনিময়ে তারা চোখে সরষে ফুল ছাড়া কিছুই দেখতে পান না।
অরবিন্দ রায় : একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কারিগরি পরিচালক

বিএনপির মৌনতার কারণ by নুরুল ইসলাম বিএসসি

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় ঘোষিত হচ্ছে। রায়ের ওপর আমার কোনো কথা নেই। আমার কথাটা বিএনপিকে নিয়ে। রায়ের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো মন্তব্য না করে বিএনপি প্রমাণ করল, এরা সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানীর দল। এদের কাছে আদর্শ নেই। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি কোনো সম্মানবোধ নেই। ক্ষমতাই এদের কাছে এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির নেতৃত্ব জানে এবং ভালো করেই জানে, যাদের বিচার হচ্ছে এবং যাদের বিরুদ্ধে রায় হচ্ছে এরা অপরাধী। শাস্তি যাই হোক, মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকাটা ভোটের রাজনীতি ও জোটবাজির রাজনীতি বলে অনেকে মনে করেন। জামায়াত যে সন্ত্রাসী দল, এখন এটা প্রমাণিত। বিএনপি কি সন্ত্রাসীদের নিয়ে থাকবে?
বিএনপি ক্ষমতায় এসে মুজাহিদসহ জামায়াত নেতাদের গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে সুযোগ করে দেয়। সর্বপ্রথমই জেনারেল জিয়া গোলাম আযমদের এদেশে থাকার সুযোগ করে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই সময় থেকেই বিএনপির রাজনীতি অপরিবর্তিত রয়েছে এবং তা মুজাহিদদের ক্ষমতার ভাগীদার করে। অথচ এই মুজাহিদরা বাংলাদেশে বিশ্বাস করেনি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের যাতে জন্ম না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে নানা অপকর্ম করেছে। দুর্ভাগ্য যে, তারাই এদেশের মন্ত্রী হয়েছিল। বিএনপি এই সরকারকে মোটেই সহ্য করতে পারছে না। প্রথমদিন থেকে সরকারকে নানা কৌশলে পর্যুদস্ত করার চেষ্টার অংশ হিসেবে বিডিআর বিদ্রোহ হয়েছে। বিদ্রোহ করে যখন সুবিধা হয়নি, সংসদ বর্জন করে সংসদকে নিষ্প্র্রাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এখন বিএনপি সংসদে যায়। পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে জিতে এরা উজ্জীবিত। এরা এখন ভালোয় ভালোয় নির্বাচন চায়। এখন এদের দৃঢ় বিশ্বাস নির্বাচন হলে এরা ক্ষমতায় যাবেন এবং আওয়ামী লীগকে তখন একহাত দেখে নেবেন। এদের বিশ্বাস জন্মেছে, আন্দোলন না করেই যখন ক্ষমতায় যাওয়া যাবে, খামাকা আন্দোলন করে সরকারের হাতে অজুহাত সৃষ্টির সুযোগ দেবেন কেন? ওদিকে লক্ষ্য রেখে এরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কথা বলেন না বা আন্দোলনের ভয়ও দেখান না।
যারা আওয়ামী লীগ করেন, চোখ বন্ধ করে ডিসেম্বর, জানুয়ারিতে যান। দেখবেন, বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার রাতে যদি দেখে ক্ষমতায় যাচ্ছে, আপনাদের বাড়িঘর আক্রমণ, হত্যা, ধর্ষণ শুরু করেছে। জামায়াত আরও একহাত এগিয়ে তালিকা নিয়ে মাঠে নামবে। কচুগাছ যেমন কাটা হয়, ওই কচুকাটাই তারা করবে। আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি কচুকাটা হতে চান, নাকি সম্মিলিতভাবে এদের মোকাবেলা করবেন, সিদ্ধান্ত নিন। আওয়ামী লীগ সরকার সব ভালো করেছে, একথা দাবি করছি না। অনেক ভুল-ত্র“টি আছে। কিন্তু অনেক ভালো কাজও তো করেছে, এগুলোকে পুঁজি করেই মাঠে নামুন। দেখবেন, বাতাস ঘুরে গেছে। শেখ হাসিনা আবার সরকার গঠনে সমর্থ হয়েছেন।
বিএনপি গোলাম আযমের রায়ের ওপর কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিশেষ করে সিডনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতারা ফোন করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। রায়ে তাদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন না দেখে তারা হতাশ হয়েছেন। দেশেও অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। হতাশা থেকে জন্ম নেয় ঘৃণা, আর ঘৃণা থেকে পশ্চাৎপসরণ। এখন কিন্তু পশ্চাৎপদের কোনো সুযোগ নেই। সব ঘৃণা, বিদ্বেষ ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের দেয়াল খাড়া করতে হবে। সরকারের ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে জিতিয়ে আনতে হবে। কে দোষ করল, কে কী বলল ওদিকে দেখার সময় নেই। নিজেদের প্রাণ রক্ষার্থে নিজেদেরই প্রস্তুত করুন। নতুবা এই দেশটা আফগানিস্তানে পরিণত হবে।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : সংসদ সদস্য ও কলাম লেখক

আল্লামা শফীর উদ্দেশে কিছু কথা by ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী

‘কোনো ব্যক্তির ঘরে কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সে যেন তাকে জাহেলিয়াতের যুগের ন্যায় জীবিত কবর না দেয় এবং তাকে তুচ্ছ মনে না করে, আর পুত্র সন্তানকে উক্ত কন্যা সন্তানের উপর প্রাধান্য না দেয়। তাহলে আল্লাহ তাকে বেহেশত দান করবেন।’ [নবী করিম (সা.)-এর বাণী : হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত - আবু দাউদ ]।
উদ্ধৃত হাদিসটিতে লক্ষ্য করার মতো তিনটি বিষয় রয়েছে। ১. এতে ইসলামপূর্ব আরবে কন্যা সন্তান জন্মালে তাকে জীবন্ত কবর দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তেমনি এক সময়ে, তেমনি এক সমাজে কন্যা সন্তানকে তুচ্ছ মনে না করতে বলা হয়েছে এবং তার প্রতি অমানবিক আচরণ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ২. পুত্র সন্তানকে কন্যা সন্তানের উপর প্রাধান্য না দেয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তানের সমমর্যাদার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ৩. যে ব্যক্তি কন্যা সন্তানের প্রতি অনুরূপ ন্যায়সঙ্গত আচরণ করবে তার জন্য পরকালে বেহেশতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে অনুরূপ আরও অসংখ্য নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামে নারীর অবস্থান কী হওয়া উচিত এ থেকেই তা স্পষ্ট।
*
সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে ‘হেফাজতে ইসলামে’র আমীর আল্লামা শফী সাহেবের কিছু মন্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নারীকে তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বলেছেন, ‘নারী হচ্ছে তেঁতুল, তেঁতুল, তেঁতুল। তেঁতুল দেখলেই জিভে পানি আসে ... ইত্যাদি।’ তিনি গার্মেন্ট কর্মীদের প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তারা সকালে বাইরে যায় রাত দশটা-এগারোটা-বারোটায় ফিরে আসে, কোথায় যায়, কোন্ পুরুষের সঙ্গে সময় কাটায় কে জানে ... ইত্যাদি।’ তিনি মেয়েদের স্থান গৃহের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং তাদের লেখাপড়ার সীমা চতুর্থ শ্রেণীতে বেঁধে দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তার এ ধরনের বক্তব্যে সর্বমহলে, বিশেষ করে দেশের নারী সমাজে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
*
আল্লামা শফী যে ভাষায় এবং যে ভঙ্গিতে এসব কথা বলেছেন, নারীকে ‘তেঁতুলে’র সঙ্গে তুলনা করে যে ধরনের রসিকতা করেছেন, তা অবশ্য নতুন কিছু নয়। গ্রামবাংলার ওয়াজ-মাহফিলে কিছু মোল্লা-মৌলভী সাহেব এ ধরনের ‘মুখরোচক’ কথাবার্তা হামেশাই বলে থাকেন, বাল্যকাল থেকেই শুনে আসছি। সাধারণ মানুষ এসব শুনে খুব মজা পায়। যে মাওলানা সাহেব মেয়েদের নিয়ে যত বেশি মুখরোচক কথা বলেন, তার জনপ্রিয়তা তত বেশি। এ নিয়ে যত কম আলোচনা হয় ততই ভালো। কারণ বৃহত্তর সমাজ জীবনে এর কোনো প্রভাব পড়ে বলে মনে হয় না। সেটা বাংলাদেশের জনজীবনে, শিক্ষা ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে, রাজনীতিতে নারীর বর্তমান অবস্থার দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
তবে আল্লামা শফীর মতো একজন বর্ষীয়ান ধর্মজ্ঞ ব্যক্তিও সেই একই ভাষায় কথা বলবেন, গ্রাম্য মোল্লাদের মতো নারীদের নিয়ে অশোভন ভাষায় সস্তা রসিকতা করে লোক হাসাবার চেষ্টা করবেন, সেটা আমার ধারণার বাইরে ছিল। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে তার যে মর্যাদার আসন গড়ে উঠেছিল, এ ধরনের বক্তব্যে সেই অবস্থানটি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
*
শুরুতে আমরা ইসলামে নারীর অবস্থান সম্পর্কে যে হাদিসটি উদ্ধৃত করেছি, সেভাবেই মুসলমান সমাজে নারীর অবস্থান নির্ধারিত হতে হবে। পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তানকে সমদৃষ্টিতে দেখার এই নির্দেশনা অবশ্যই আমাদের নারীনীতিতে প্রতিফলিত হতে হবে। সেভাবেই রাষ্ট্রের নারীনীতি স্থির হতে হবে। আল্লামা শফী বা অন্য কোনো মাওলানার মন্তব্য-বক্তব্য রাসূলুল্লাহর নির্দেশনার উপরে স্থান পেতে পারে না। কাজেই তার এসব বক্তব্যে আমাদের নারী সমাজের উৎকণ্ঠিত হওয়ার কিছু নেই।
*
সমাজে নারীর অবস্থান, কর্মপরিধি, পেশাগত উপযোগিতা ইত্যাদি নিয়ে আদিকাল থেকেই টানাপোড়েন ও বিতর্ক চলে আসছে। নিছক দৈহিক শক্তি যখন ক্ষমতার নিয়ামক ছিল, তখন তুলনামূলকভাবে শক্তিমান পুরুষ অতি সহজেই নারীকে পরাভূত রাখতে পেরেছে। যুগ বদলের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ জীবনের শক্তি বিন্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। সেই সঙ্গে সমাজে মেয়েদের অবস্থান ও ভূমিকাও ধাপে ধাপে বদলে যাচ্ছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা বা সমাজপতিদের ভ্রুকুটি কোনো কাজে আসছে না।
এটা ঘটছে দুটি কারণে- ১. জীবনধারণের অপরিহার্য প্রয়োজনে এবং ২. বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় কাজের ধরন ও সমাজ কাঠামোর গুণগত পরিবর্তনে।
এক শতাব্দী আগেও দুনিয়ার প্রায় সব সমাজেই নারীর জীবন মূলত গৃহকর্মেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। পুরুষ মাঠে-ময়দানে কাজ করবে আর নারী ঘর সামলাবে, এটাই ছিল সার্বজনীন রীতি ও কর্মবিভাজন। নারীরাও যা মেনে নিয়েছে। ইউরোপ-আমেরিকাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু এ শতাব্দীর দুই দুইটি মহাযুদ্ধ পশ্চিমে, বিশেষত ইউরোপে সেই প্রেক্ষাপট পাল্টে দিল। যুদ্ধে অসংখ্য প্রাণহানি ও অঙ্গহানিতে সবপক্ষে কর্মক্ষম পুরুষের সংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যায়। অর্থনৈতিক মন্দায় সামাজিক ও পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই বাস্তবতায় পুরুষের শূন্যস্থান পূরণ করে পরিবারের হাল ধরতে হয়েছে লাখ লাখ নারীকে। নিছক প্রয়োজনের তাগিদেই যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপে নারীকে আয়-রোজগারের জন্য কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হয়েছে। সমাজকেও তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে। যার অনিবার্য প্রভাব পড়েছে সারা পৃথিবীতে।
পাশাপাশি গত এক শতকে, বিশেষ করে বিগত সিকি শতকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য জয়যাত্রায় মেধা শক্তি ক্রমেই পেশীশক্তির জায়গা দখল করে নিয়েছে। বিশালাকার যন্ত্রের আকার ও ওজন কমতে কমতে হাতের তালুতে চলে এসেছে। গাঁইতি-কোদাল, হাতুড়ি-বাটালের জায়গা করে নিচ্ছে ডিজিটাল সিগনাল। ফলে পুরুষের পেশিশক্তির দাপট এখন আর আগের মতো কাজে আসছে না। পেশিশক্তিতে নারী পিছিয়ে থাকলেও মেধাশক্তিতে বিধাতা নারী-পুরুষে দৃশ্যমান কোনো পার্থক্য রাখেননি। স্কুলের পরীক্ষার ফলাফলে মেধাতালিকার দিকে তাকালেই তা দেখতে পাই। মেধাশক্তির প্রতিযোগিতায় এখন প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারী ও পুরুষের যোগ্যতা-দক্ষতা সমপর্যায়ে চলে আসছে। পরিণামে নারী-পুরুষের সম্পর্কেও গুণগত পরিবর্তন চলে এসেছে।
সারা পৃথিবীতে এখন সব ধরনের পেশাতেই নারীর বিচরণ। আমদের দেশও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই নতুনভাবে সমাজ-শৃংখলা বিনির্মাণের কথা ভাবতে হবে। আল্লামা শফী এবং তার অনুসারীরা সেদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখে চলমান সমাজ-প্রবাহকে পেছন থেকে টেনে ধরে রাখার যত চেষ্টাই করুন না কেন, তাতে কোনো ফল হবে বলে মনে হয় না।
*
লক্ষ্য করার বিষয়, আমাদের কিছু মাওলানা সাহেব তাদের ওয়াজ নসিহতে নারীর পর্দা এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে অনেক কিছু বলে থাকেন। আমাদের মেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবেই শালীন পোশাক পরিধান করে থাকেন। এজন্য তাদের কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করতে হয় না। ঢাকার রাস্তার দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিস-আদালতে কর্মরত মেয়েদের দিকে তাকালেও বোঝা যায়। তাদের শতকরা ৮০/৯০ জনই যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে পোশাক পরিধান করে থাকেন। দু’-চারজন ব্যতিক্রমী মহিলাকে দিয়ে আমাদের নারী সমাজকে ঢালাওভাবে সমালোচনা করা অন্যায়। গার্মেন্টকর্মীরা যখন দলে দলে কর্মস্থলের দিকে ছোটে, তখন তাদের সেই মিছিলের দিকে তাকালেও তা-ই দেখা যায়। শহুরে উচ্চবিত্ত পরিবারের কিছু মেয়েকে ইদানীং কিছুটা উগ্র পোশাক পরিধান করতে দেখা যায়। তাদের সংখ্যা খুবই কম। ধর্তব্যের মধ্যে নয়। তবে তারাও তেমন পোশাকে কর্মস্থলে যায় না।
*
আল্লামা শফী আমাদের গার্মেন্টকর্মীদের সম্পর্কে যেসব কথা বলেছেন তা খুবই দুঃখজনক। অভাবের সংসার থেকে আসা এই মেয়েরা এখন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের নিয়ামক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাদের উদয়াস্ত পরিশ্রমে (আল্লামা শফীর ভাষায় সকাল থেকে রাত আটটা-নয়টা-বারোটা) দেশের অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। যদিও তার সুফল তারা ভোগ করছে খুব সামান্যই। দেশ এবং দেশের একটি সুবিধাভোগী শ্রেণী বিপুলভাবে লাভবান হলেও এই হতোভাগিনীদের মানবেতর জীবনের অবসান হয়নি। আমাদের মেয়েরা যুগ যুগ ধরে সেলাই-ফোঁড়নের কাজে দক্ষতা দেখিয়ে আসছে। কিন্তু এতকাল তা গৃহস্থালী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তাদের সেই দক্ষতা দুনিয়াজোড়া বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহƒত হয়ে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। এ থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনও নেই। প্রয়োজন এ ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম-শৃংখলা প্রবর্তন করা। শ্রমের ন্যায্যমূল্য ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। গার্মেন্টকর্মীদের সুস্থ-সুন্দর ও মানবিক জীবন উপহার দেয়া।
আল্লামা শফী এবং তার সহযোগীদের দৃষ্টি সেদিকে আকৃষ্ট হওয়া প্রয়োজন ছিল। রাসূলুল্লাহর নির্দেশ মতো ‘কন্যাদেরকে পুত্রদের’ সমান বিবেচনা করে গার্মেন্টের মেয়েদের পুরুষের সমপর্যায়ে ন্যায্য মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা, কর্মস্থলে ইজ্জত-আব্র“ রক্ষা করে কাজ করার পরিবেশ বহাল করা, তাদের পর্দা-পুশিদা মতো থাকার উপযুক্ত বাসস্থান ও যাতায়াতের নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ... ইত্যাদি বিষয়ের দিকে তারা দৃষ্টি দেবেন সেটাই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু তা না করে তারা ঢালাওভাবে এই মেয়েদের চরিত্র হনন করেছেন। তাদের সম্পর্কে গিবৎ রটনা করেছেন। ইসলামে কোনো নারীর নামে মিথ্যা গিবৎ রটনা করার জন্য কী ধরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে তা উল্লেখ করে হুজুরদের লজ্জা দিতে চাই না।
*
নারী-পুরুষের একত্রে কাজ করার ব্যাপারে যাদের আপত্তি, তাদের সময়ের বাস্তবতা অনুধাবন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা অবশ্যই আছে। সেজন্য পশ্চিমের দেশগুলোতে কর্মস্থলে নারী সহকর্মীর প্রতি আচরণ কঠোরভাবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যত্র নারী-পুরুষের প্রকাশ্য আপত্তিকর আচরণ কেইবা পছন্দ করে? জনমত জরিপ করলে শতকরা ৯৯ জন এর বিপক্ষে অবস্থান নেবে। সামাজিক প্রতিরোধ গড়েই এসব রুখতে হবে। পশ্চিমের দেশগুলোতেও সহশিক্ষা নিয়ে বিতর্ক হয়। আমাদের দেশের মতো সেখানেও মেয়েদের আলাদা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু সব শিক্ষা, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা সেভাবে পৃথকীকরণ করা বাস্তবসম্মত নয়। নারীকে এবং নারীদেহকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা এখন বড় মাপের ব্যবসা। এর বিরুদ্ধেও এখন দুনিয়াজুড়েই প্রতিবাদ উঠছে। নোংরা ওয়েবসাইট, পর্নোগ্রাফি গ্রাস করছে বিশ্ব জনপদ। একের পর এক পশ্চিমের দেশগুলোতে ‘সমলিঙ্গ’ বিবাহ আইনসিদ্ধ হচ্ছে। এসব সমাজবিধ্বংসী টাইফুন কী করে রুখতে হবে, সেদিকেই দৃষ্টি দেয়া দরকার।
*
তবে নারী দেখলেই ‘যাদের মুখে লালা আসে না’ তারা যদি শফী সাহেবের ভাষায় ‘ধ্বজভঙ্গ’ রোগী হয়, তাহলে নারী দেখামাত্রই যাদের লালা ঝরতে থাকে তারা তো আরও বড় রোগী। দু’টারই চিকিৎসা দরকার।
তেঁতুল গাছ দেখলেই তাতে ঢিল মারা বিধেয় নয়। সেজন্য সমাজকে বিধিবিধান শক্ত করতে হবে। পশ্চিমের দেশগুলোতে একই অফিসে পাশাপাশি কর্মরত কোনো মহিলাকে আকারে ইঙ্গিতেও কোনো আপত্তিকর বার্তা দেয়া, এমনকি বাঁকা চোখে তাকালেও, এখন গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। তাদেরও শক্ত হতে হচ্ছে। আমাদেরও হতে হবে। এটা কেবল শফী সাহেবের সমস্যা নয়, গোটা সমাজের সমস্যা। গোটা দুনিয়ার সমস্যা। নারীকে শৃংখলিত করে তার সমাধান হবে না। রাষ্ট্রের আইন এবং কঠোর সামাজিক শৃংখলা প্রবর্তন করেই তার সমাধান খুঁজতে হবে।
*
বর্তমান বিশ্বে কোনো শিশুকে বিদ্যা শিক্ষা থেকে দূরে রাখা তাকে জীবন্ত কবর দেয়ার শামিল। তাই যারা বলেন, মেয়েরা চতুর্থ শ্রেণীর বেশি পড়বে না, তাদের বক্তব্যে আইয়ামে জাহেলিয়ার মতো কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়ার আভাস পাওয়া যায়। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের তালেবানদের হাতে নিগৃহিতা স্কুলছাত্রীদের আর্তনাদ প্রকৃতপক্ষে আইয়ামে জাহেলিয়ার জীবন্ত কবর দেয়া সেই সব শিশুরই আর্তনাদ।
আমাদের দেশে আমরা তেমন আর্তনাদ শুনতে চাই না। আমার বিশ্বাস আল্লামা শফীও তা চান না।
ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী : ভূরাজনীতি ও উন্নয়ন গবেষক, চেয়ারম্যন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপি

ফেরত গেছে দুই প্রকল্পের অর্ধেক খাদ্যশস্য

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের দুই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া খাদ্যশস্যের অর্ধেক অংশ মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, এ বছরের প্রথম দিকে

ছয় মাসে চিকিৎসা নিলেন এক লাখ ১১ হাজার রোগী দ্বীপের ভরসা এখন কমিউনিটি ক্লিনিক by রুহুল বয়ান

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের ভরসাস্থলে পরিণত হচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের লোকজন এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি বিনা মূল্যে ওষুধপত্রও পাচ্ছে।

ঈদ ফ্যাশন এবারও লম্বা কামিজ by এমিলিয়া খানম

উৎসবের পোশাকের ক্ষেত্রে তরুণীদের প্রথম পছন্দ সালোয়ার- কামিজ। তাই পোশাকটির ডিজাইন ও প্যাটার্ন নিয়ে প্রতিবছরই চলে বেশ ঘষামাজা। পছন্দের পোশাক পেতে আগেভাগেই তরুণীরা ঢুঁ মারছেন বুটিক হাউসগুলোতে।

‘ইফতারের সময় আম্মার জন্য মন কেমন করে’ by আহমেদ মুনির

পরনে মেরুন রঙের পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি। পাক্কা রোজাদার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ জাহেদ প্লেট-ভর্তি ইফতারি সামনে নিয়ে সাইরেন পড়ার অপেক্ষায় বসে আছে। সারা দিনের উপবাসে ছোট্ট মুখটা শুকিয়ে গেলেও হাসিটুকু এখনো তরতাজা।

ভাসমান দোকানের দখলে ফুটপাত

ঈদ সামনে রেখে নগরের প্রায় সব সড়কের ফুটপাতজুড়ে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকান। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সড়কের দুই পাশে চলাচল করেন পথচারীরা। এতে সড়ক সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে যানজট।

হলিউড টপচার্ট

১. ডেসপিক্যাবল ২: স্টিভ ক্যারল, মিরান্ডা কসগ্রোভ, ক্রিসটেন উইগ
২. গ্রোউন আপস ২: অ্যাডাম স্যান্ডলার, কেভিন জেমস, ক্রিস রক

বলিউড টপচার্ট

১. ভাগ মিলখা ভাগ: ফারহান আখতার, সোনম কাপুর, প্রকাশ রাজ
২. লুটেরা: রণবীর সিং, সোনাক্ষী সিনহা

হলিউড আসুন ভিলেন হই

যুগটা হিরোদেরও নয়, সুপারহিরোদের। এই যুগে ব্যাটম্যান, সুপারম্যানদের জয়জয়কার। সবাই নায়ক বনতে চায়। সাজতে চায় সুপার হিরো। সুপার হিরোদের পেশির তাকদের কাছে যে হার মানে ভিলেন।

বলিউড ভাগ মিলখা ভাগ

১৯৪৭ সাল। দেশভাগের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জীবনের অন্তিমক্ষণে সিং পরিবার। মিলখা সিং-এর বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিশোর মিলখার চোখের সামনেই মেরে ফেলা হলো বাবা-মা, ভাইবোনদের।

গানের ন্যান্সি অন্য ন্যান্সি by মেহেদী মাসুদ

: ন্যান্সি, আপনি এখন কোথায় আছেন?
: ময়মনসিংহে, শ্বশুরবাড়িতে।
: নতুন জীবন। কেমন লাগছে?
: ভালো। জায়েদ (ন্যান্সির স্বামী) পৌরসভায় চাকরি করছে, ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

হুবহু চেহারার উইলিয়াম ও কেট

আজকালের মধ্যেই ব্রিটিশ রাজপরিবারে আসছে নতুন অতিথি। খুশির সংবাদের ভাগিদার হতে লন্ডনে লিন্ডো উইং হাসপাতালের সামনে ইতিমধ্যেই অবস্থান নিয়েছে অনেকেই। এ হাসপাতালেই ভর্তি আছেন প্রিন্স উইলিয়ামের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কেট মিডলটন।

গাদ্দাফির 'দুর্গকে' পার্ক বানানো হবে

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আড়াই বর্গমাইল এলাকাজুড়ে অবস্থান বাব আল-আজিজিয়া কমপ্লেক্সের। বছর দুয়েক আগে এটা ছিল সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কার্যালয় ও বাসভবন। একে রীতিমতো দুর্গের সঙ্গে তুলনা চলে।

ড্রোন হামলায় আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নিহত

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন বিমান (ড্রোন) হামলায় আরব উপদ্বীপের আল-কায়েদার (একিউএপি) দ্বিতীয় শীর্ষনেতা নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম সাইদ আল সেহরি। তিনি সৌদি আরবের নাগরিক। একিউএপির পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

নাইজেরিয়া থেকে পালালেন বশির

আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্মেলন যোগ দিতে নাইজেরিয়া গিয়েছিলেন সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানী আবুজায় থাকার কথা ছিল তাঁর। গত সোমবার সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ারও কথা ছিল বশিরের।

পেট্রায়াসের বেতন এক ডলার!

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক এবং ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার ডেভিড পেট্রায়াস এক ডলার বেতনে নতুন চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন। নিউ ইয়র্কের ম্যাকাউলি অনার্স কলেজে আগামী ১ আগস্ট থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন তিনি।

ভারতে সুপ্রিম কোর্টের রায়-আঠারোর আগে প্রাপ্তবয়স্ক নয়

১৮ বছরের আগে সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেই বিবেচিত হবে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল বুধবার এক আদেশে এ মন্তব্য করেছেন। বিচারকরা প্রাপ্তবয়স্কের নূ্যনতম বয়স ১৮ থেকে কমিয়ে ১৬ বছর করার আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানান, এ-সংক্রান্ত আইনে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখছেন না তাঁরা।

পিয়ংইয়ংয়ের আটক জাহাজের সামরিক সরঞ্জাম কিউবার

পানামায় আটক উত্তর কোরীয় জাহাজে পাওয়া সামরিক সরঞ্জাম নিজেদের বলে জানিয়েছে কিউবা। কমিউনিস্ট এ দেশটির দাবি, সাবেক সোভিয়েত আমলে তৈরি 'সেকেলে' এসব সরঞ্জাম মেরামতের জন্য উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো হচ্ছিল।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত স্নোডেন!

ইন্টারনেট ও টেলিফোনে নজরদারিসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের গোপন কর্মসূচি প্রিজমের কথা ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেনকে (৩০) নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সুইডেনের উমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্তেফান স্যাভালফরস এ মনোনয়ন দিয়েছেন।

ট্রেভন হত্যা মামলার রায়-আত্মরক্ষা আইন নিয়ে চিন্তা-ভাবনার আহবান

যুক্তরাষ্ট্রে আত্মরক্ষার্থে হামলার অধিকার-সংক্রান্ত আইন 'স্ট্যান্ড ইয়োর গ্রাউন্ড' নিয়ে নতুন করে বিচার-বিশ্লেষণের আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার। ফ্লোরিডায় কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর ট্রেভন মার্টিনের হত্যাকারী জর্জ জিমারম্যান এ আইনের ফাঁক গলে বেকসুর খালাস পেয়েছেন গত শনিবার।

মিসরের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ-উপপ্রধানমন্ত্রী হলেন সিসি

মিসরের নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গত মঙ্গলবার শপথ নিয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে অপসারণের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি উপপ্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

খাবার খেয়ে ভারতে ২২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু-প্রশ্নবিদ্ধ 'মিড ডে মিল' কর্মসূচি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের সারণ জেলার একটি গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা দুপুরের খাবার খেয়ে ২২ শিক্ষার্থী মারা গেছে। গত মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পারিবারিক বিরোধে মর্মাহত ম্যান্ডেলার নাতনি এনদিলেকা

নেলসন ম্যান্ডেলার নাতনি এনদিলেকা ম্যান্ডেলা বলেছেন, তাঁদের পারিবারিক বিরোধে তিনি মর্মাহত। বিষয়টি জনসমক্ষে আসুক- এটা তাঁরা কখনো চাননি। ম্যান্ডেলার ৯৫তম জন্মদিনের আগে গত বুধবার সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি।

রেলের নিয়োগ-বাণিজ্য-এখনো দূর করা গেল না

রেল নিয়ে কেলেঙ্কারি কম হলো না। নিয়োগবাণিজ্যের টানাপড়েনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী দপ্তর হারালেন। কিন্তু নিয়োগবাণিজ্য থেমে নেই। হাত গুটিয়ে বসে নেই নিয়োগবাণিজ্যের হোতারা।

মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড-হরতাল-নৃশংসতা বন্ধ করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল বুধবার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-অ্যারোসল ও এয়ার ফ্রেশনার

বাসা, অফিস এবং গাড়ির ভেতরের মশা তাড়াতে এবং বায়ুমণ্ডলকে সতেজ বা দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে অ্যারোসল ব্যবহার করা এখন খুব বেশি দেখা যায়। এগুলো সম্পূর্ণটাই রাসায়নিক বস্তু দিয়ে তৈরি।

ভালো থাকুন-শিশুর হাঁপানিতে সতর্কতা

শিশু হাঁপানিতে আক্রান্ত হলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কিছু উপসর্গ ও লক্ষণ রয়েছে যা দেখে বোঝা যায় শিশু তীব্র হাঁপানিতে আক্রান্ত এবং দ্রুত তাকে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

সরল গরল ন্যায়বিচারের পথে প্রধানমন্ত্রীরাই যখন বাধা by মিজানুর রহমান খান

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সময় টিভিকে গতকাল বলেছেন, কোনো সরকারই আর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বের করতে পারবে না। তাঁর কথা একেবারে অমূলক নয়। রাজনৈতিক কবর খুঁড়েই তবে বিএনপি বা পরবর্তী যেকোনো সরকারকে এবারের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বের করার ঝুঁকি নিতে হবে।

কালের পুরাণ বিএনপির নীরবতা by সোহরাব হাসান

মানুষ কখন নীরব হয়? যখন শোকে পাথর হয়ে যায় অথবা আনন্দে আত্মহারা। বিএনপির ক্ষেত্রে কোনটি ঘটেছে, তা বিএনপির নেতা-নেত্রীরাই ভালো বলতে পারবেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণ গুপ্তঘাতক আলবদর ছিল জামায়াতের ‘সশস্ত্র বিভাগ’

একাত্তরের গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনী ছিল জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র বিভাগ। জামায়াত কোনোভাবেই একাত্তরের অস্ত্রসজ্জিত, ফ্যাসিস্ট এই বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব এড়াতে পারে না।

রায় প্রত্যাখ্যান করা আদালত অবমাননার শামিল: ট্রাইব্যুনাল

রায় পছন্দ না হলেও কোনো পক্ষেরই তা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ নেই। রায় প্রত্যাখ্যান করা আদালত অবমাননার শামিল।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে

আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের সাত অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালের রায় বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে প্রথম ফাঁসি by কুন্তল রায় ও মোছাব্বের হোসেন

স্বাধীনতার ৪২ বছর পর বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রথম বিচার হলো। একাত্তরে বুদ্ধিজীবী নিধনের পরিকল্পনা ও সহযোগিতা করার দায়ে গতকাল বুধবার আলবদর বাহিনীর নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

ব্যক্তিত্ব-জেন অস্টেন

জেন অস্টেন উনিশ শতকের একজন প্রভাবশালী ইংরেজ ঔপন্যাসিক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। তিনি প্রধানত রোমান্টিক কথাসাহিত্যিক। সে সময়ের ভদ্রসমাজের পটভূমিতে কাহিনী নির্মিত হলেও সমাজের স্বরূপ সূক্ষ্মভাবে উদ্ঘাটন করেছেন।

পবিত্র কোরআনের আলো-সাহাবায়ে কেরাম উম্মতের মধ্যে পবিত্র ও সর্বোত্তম কাফেলা

১০৮. কুল হা-যিহী সাবীলী- আদ'ঊ- ইলাল্লা-হি, 'আলা- বাসীরাতিন আনা ওয়া মানিত তাবা'আনী, ওয়া সুবহা-নাল্লাহি ওয়া মা- আনা মিনাল মুশরিকীন। সুরা ইউসুফ।

'আবেগকে পলিটিক্যালি দেখলে চলবে না'

জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও রায় নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি বলেছেন, 'জনতার আবেগকে শুধু পলিটিক্যালি দেখলে চলবে না, এটাকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করতে হবে।

গাজীপুরের নির্বাচন ও প্রবাসীদের ভাবনা by তারেক শামসুর রেহমান

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ঢাকাতে যেভাবে প্রভাব ফেলেছে, ঠিক তেমনি প্রভাব ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাঙালিদের মধ্যেও। নিউ ইয়র্কে বাস করেন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি।

রমজান আসিয়াছে বাজার নাচিতেছে by মমতাজ উদদীন আহমদ

রমজান আসিয়াছে। সিয়াম সাধনার আহ্বান আসিয়াছে। আর আর মাসে পারি আর না-ই পারি এই একটি মাস সংযম সাধনা করিব। চক্ষুতে সংযম, জিহ্বায় সংযম, বুদ্ধিতে সংযম, সর্বোপরি হৃদয়ে সংযম।

অনলাইন থেকে-শুভ জন্মদিন ম্যান্ডেলা

যত ব্যস্ততাই থাকুক, আজ প্রত্যেকেই নিজের সময় থেকে ৬৭ মিনিট করে ব্যয় করবে, প্রিয় নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নামে। ম্যান্ডেলা দিবসের এই সময়টা তারা উৎসর্গ করবে জনহিতকর কোনো কাজের মাধ্যমে।

ভোটার জনগণ অপেক্ষা করছে by ড. মাহবুব হাসান

'আপনাদের দেশে যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।' এ কথাগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যুক্তরাজ্য সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ জুলাই লন্ডনে সে দেশের কয়েকজন পার্লামেন্ট সদস্যের উদ্দেশে এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগকে 'মৃত্যুদণ্ড' দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করুন by আবদুল মান্নান

বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে যে কজন চরম ঘৃণিত ব্যক্তি আছেন তার মধ্যে রয়েছে বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আর জামায়াতের এক কালের আমির মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সদ্য ৯০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযম।