Saturday, January 5, 2019

ঘরের বাইরে নারী কেন এত প্রশ্নের মুখে? -বিবিসি বাংলা

শামিমা শামিম প্রতিদিন কর্মস্থলে যান নিজের স্কুটিতে করে। নিজেই চালান। আজ আমি তার সঙ্গী হলাম। খেয়াল করলাম, রাজধানী শহর ঢাকার রাস্তায় একটা মেয়ে স্কুটি চালিয়ে যাচ্ছে এটা যেন কারো নজর এড়াচ্ছে না। আরো খেয়াল করলাম ট্রাফিক সিগন্যাল বা জ্যামে থাকার সময় আশপাশের আরোহীদের বাঁকা চাহনি। কয়েকজন রিক্সাচালকের ব্যঙ্গাত্মক হাসি।
শামিমা শামিম বলছিলেন এটা তার প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতা। যখন রাস্তায় বের হই তখন তারা স্কুটির চেয়ে আমার শরীরের দিকে বেশি চেয়ে থাকে। সব থেকে ভয়ঙ্কর হলো স্কুটি চালানোর সময় পিছন থেকে অনেক ছেলে আছে যারা মোটরবাইক নিয়ে টার্গেট করে, ধাক্কা দেয়ার জন্য।
আমার সাথে এমন ঘটনা অনেকবার হয়েছে। একবার তেজগাঁও লিংক রোডে ২/৩ টা বাইক এবং প্রতিটাকে তিনজন করে ছেলে। আমি দেখলাম আমার আর কোনো জায়গা নেই। তখন আমি থেমে গেলাম। যদি আমি সচেতন না হয়ে একই গতিতে চালাতাম তাহলে ঐদিন নিশ্চিত আমার বড় একটা অ্যাকসিডেন্ট হতো।
ঢাকার রাস্তায় এখন অনেক মেয়েকেই স্কুটি চালাতে দেখা যায়, এমনকি মেয়েদের দ্বারা চালিত অ্যাপ ভিত্তিক রাইডও রয়েছে। শামিমা শামিম স্কুটি চালান আরো আগে থেকে। তখন হাতে গোনা দুই-একজন নারীকে দেখা যেত চালাতে।
তখনকার সঙ্গে এখনকার কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
শামিমা শামিম বলছিলেন, ‘কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখন তো আমি চেষ্টা করি ১০টার মধ্যে বাসায় ফিরতে। কারণ বেশি রাত হলে রাস্তায় কী ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে কে জানে। যে বাসায় থাকি সেখানেও অলিখিত একটা সান্ধ্য আইন জারি করা। ১০টার মধ্যেই বাসায় ফিরতে হবে। যেখানে আমার ছেলে বন্ধুরা রাত ১২টা পর্যন্ত শুধুমাত্র আড্ডা দেয়ার জন্য বাইরে থাকে সেখানে আমাকে মাথায় রাখতে হয় সব কাজ ফেলে ১০ টার মধ্যে বাসায় ফেরার তাড়া’। আর এখানেই প্রশ্ন উঠে ‘কিন্তু কেন?’। পুরুষরা যদি বাইক চালিয়ে কর্মস্থলে যেতে পারেন বা কে কত পারদর্শী তার প্রতিযোগিতা হতে পারে তাহলে নারীরা নয় কেন? এত গেল দৈনন্দিন জীবনের রাস্তায় চলার ক্ষেত্রে ছোট একটা উদাহরণ। আরো অনেক গল্প আছে যেগুলো শুনলে অবুঝের মতোই আপনার মনে প্রশ্ন উঠতে পারে কিন্তু কেন। বীণা রহমান। এই মেয়েটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সের কাজ করেন। কাজের প্রয়োজনে তাকে সপ্তাহে কয়েকদিন নাইট শিফট করতে হয়। কিন্তু প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকেও।
তিনি বলছিলেন ‘রাতে বের হয়ে যাই সকালে ফিরি। আমার আশপাশের ফ্ল্যাট থেকে আমার মা’কে জিজ্ঞেস করেছে আপনার মেয়ে এত রাতে কোথায় যায়? আসলেই আমি এই কাজ করি কি না সেটা নিয়েও তাদের সন্দেহ।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হকের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছিলাম ঠিক কী কারণে সমাজে যে কাজ পুরুষ করতে পারে, নারী করতে গেলে তাকে কেন শুনতে হয় বিচিত্র, অশালীন কথা।
মি. হক বলছিলেন, ‘নারীদের যে আচরণগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে সেটা একটা সাবলীল আচরণ। কিন্তু পুরুষ সদস্যরা সেটাকে স্বাভাবিকভাবে দেখছে না। মেয়েদেরকে একটা নির্দিষ্ট আচরণিক গণ্ডির মধ্যে দেখতে পছন্দ করে। এর বাইরে যদি কোনো মেয়ে কোনো আচরণ করে তখন সেটা তারা মেনে নিতে পারে না। এমনকি আমাদের দেশে যারা নাগরিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত তারাও এটা মেনে নিতে পারে না। কিন্তু মেয়েরা সেই সনাতনী পুরনো ধাঁচে চলতে থাকবে সেটা হতে পারে না।
যে প্রসঙ্গে কথা হচ্ছে এই প্রসঙ্গটি নতুন নয়। কিন্তু প্রতিবার নতুন নতুন পরিস্থিতির মুখে মেয়েদের পড়তে হয়, যেটাকে পরিস্থিতি না বলে বলা উচিত হয়রানি, যৌন হয়রানি, শারীরিক, মানসিক হেনস্তার শিকার। সমপ্রতি একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যেখানে ৬ মিনিটের বেশি সময় ধরে দেখা গেছে, কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সিএনজি’র মধ্যে থাকা একজন নারীকে নানা ধরনের অশালীন প্রশ্ন করতে। মেয়েটি মধ্যরাতে কোথায় আসছিল....এ ধরনের নানা প্রশ্ন।
আমি ঢাকায় নানা পেশার কয়েকজন নারী এবং পুরুষের সঙ্গে কথা বলেছিলাম পুরুষের জন্য যেটা সাবলীল সেটা মেয়েদের জন্য স্বাভাবিক আচরণ নয় কেন? একজন পুরুষ বলছিলেন ‘যেমন ধরেন আমি অনায়াসে আমার বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে সাজেক চলে যাচ্ছি বেড়াতে। কিন্তু আমার বোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, সে যদি যেতে চায় তাহলে আমি যেতে দিচ্ছি না।’ প্রশ্ন- কেন দিচ্ছেন না? উত্তর: ‘এই সুযোগটা ছোটবেলা থেকে আমাদের পরিবার প্রথম নষ্ট করে দেয়। আমি দেখে এসেছি মেয়েরা সন্ধ্যার পর বাইরে থাকতে পারবে না। আমি খেলা করে রাত ন’টায় এলেও ক্ষতি নেই’। আরেকজন পুরুষ বলছিলেন ‘আমরা একটা সাইকোলজিক্যাল জায়গায় আটকে আছি। আমার বোন বা বাড়ির মেয়েরা যদি রাত ১১টায় বাসায় ফেরে তাহলে আমি মেনে নিতে পারবো না। যদিও আমি বুঝতে পারছি আমার মতো তারো মবিলিটি দরকার’। উত্তর: ‘এক্ষেত্রে আমার মাথায় কাজ করে তার সিকিউরিটির কথা। আমাদের দেশে সেই নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয়নি’। তবে কয়েকজন নারী আমাকে বলছিলেন তারা যে শুধু পুরুষদের কাছ থেকেই এই ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়ে থাকেন তাই নয়। অনেক নারীর কাছ থেকে শুনতে হয় একই রকম অপমানসূচক মন্তব্য।
একটি মেয়ে আমাকে বলছিলেন ‘পরিবারের মধ্যেই বয়োজ্যেষ্ঠা যেসব মহিলা থাকেন তারা এগুলো করেন। এমনকি আত্মীয়স্বজন যারা আছেন তারা বলেন মেয়ে মানুষের এই কাজ করার কি দরকার’। (কিছুটা সংক্ষেপিত)

প্রথমবারের মতো চাঁদের অন্ধকার অংশে চীনের রোবটযান

প্রথমবারের মতো চাঁদের অন্ধকার অংশে সফলভাবে অবতরণ করেছে চীনের একটি রোবটযান। বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। চীনের রোবটিক চেঞ্জ-৪ নামের ওই রোবটযানটি পৃথিবী থেকে চাঁদের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে প্রথমবারের মতো সফলভাবে অবতরণ করেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে মহাকাশযানটি চাঁদের দক্ষিণ মেরু-এটকেইন বেসিনে অবতরণ করে বলে নিশ্চিত করেছে চীন।
রোবটযানটি চাঁদে বহন করে নিয়ে গেছে ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল চিহ্নিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র। একইসঙ্গে তাতে জৈবিক গবেষণার উপকরণও রয়েছে। গত ৮ই ডিসেম্বর চীনের সিচুয়ান প্রদেশ থেকে মহাকাশযানটিকে উৎক্ষেপণ করা হয় ও ১২ই ডিসেম্বর এটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করার ২২ দিন পর চাঁদের দূরবর্তী অন্ধকার অংশে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। রোবটযানটি পৃথিবী থেকে পরিচালনা করছিল চীনের জাতীয় মহাকাশ কর্তৃপক্ষ। চাঁদে নেমে এটি ‘কারমান’ নামে পরিচিত একটি বিশাল গর্তে অনুসন্ধান চালাবে বলে জানা গেছে।
চাঁদের সৃষ্টির শুরুর দিকে বড় ধরনের কোনো মহাজাগতিক প্রভাবের বিষয়ে নিশ্চিত হতেই এ অভিযান। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদের বুকে কারমান নামের এই বিশালাকৃতির গর্তের ব্যাস প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কিলোমিটার ও গভীরতা প্রায় ১৩ কিলোমিটার। এ ছাড়াও চাঁদের এ অংশ থেকে ধুলা ও পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এতে করে ভবিষ্যতে চন্দ্র গবেষণার পথ অনেকাংশে সহজ হয়ে যাবে।

বাংলাদেশকে কেন মলিন দেখাচ্ছে? ইকোনমিক টাইমসের নিবন্ধ by মিহির শর্মা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল-বিশ্বের একটি সফলতার কাহিনী বলে। গত বছর এখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা প্রায় আট ভাগের কাছাকাছি ছিল, যা প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে দ্রুত বর্ধিষ্ণু। নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন যেমনটা বলেছেন, আয়ের দিক থেকে যে সূচক, তার চেয়ে মানব উন্নয়ন সূচক এখানে ভালো। বিশ্বে হাতেগোনা যেসব উন্নয়নশীল দেশ সফলতার সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় পেয়েছে তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। প্রকৃতপক্ষেই একটি ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড, যা অনেক বৃহৎ ও ধনী দেশকে লজ্জায় ফেলতে পারে, তা হলো, জনবহুল এই দেশটি মিয়ানমারের কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।
তাই গত সপ্তাহে বাংলাদেশের নির্বাচনে শেখ হাসিনার দল বিজয়ী হয়েছে, এটা বড় বিস্ময়ের কিছু নয়। কিন্তু তিনি যে মাত্রায় জিতেছেন তা আক্ষরিক অর্থেই অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশে নির্বাচন হওয়া ২৯৮টি আসনের মধ্যে ১০টি বাদে সব আসনে বিজয়ী হয়েছেন তারা।
সবিনয়ে সরকারি জোটকে নির্বাচনে ‘ওভার ম্যানেজিং’-এর জন্য দায়ী করা হয়। এটাও বিস্ময়ের নয়। সর্বোপরি, নির্বাচনটা এগিয়ে এসেছে দীর্ঘ সময় নিয়ে, যখন বিরোধী রাজনীতিকদের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে, জেলে দেয়া হয়েছে অথবা নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া জেলে। তার ছেলে ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী এখন বৃটেনে। তিনি দেশে ফিরলেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা হলো একটি দীর্ঘদিনের ধারা, যেমনটা হয় সীমান্তের ওপাড়ে, পশ্চিমবঙ্গে। খারাপ দিক হলো, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তারা হলো নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী। ভয়াবহভাবে গণতন্ত্র ধ্বংসের এই ব্যবস্থাকে চেক দিতে পারে এমন নিরপেক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠান দেশে খুব সামান্যই রয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে সরকারি ভাষ্যের বিষয়ে যেসব সাংবাদিক প্রশ্ন তুলেছেন তাদেরকে সরকার নতুন বিতর্কিত আইন ব্যবহার করে গ্রেপ্তার করেছে। উপরন্তু, ভোটকেন্দ্রগুলোতে যেসব মানুষকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভীতি প্রদর্শন করেছিলেন অথবা যারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছেন তাদের ভোট দেয়া হয়ে গেছে, সেইসব মানুষের ক্ষোভের কাহিনী ফেসবুকে উতলে উঠছে।
ভারত থেকে দেখে, এই নির্বাচন যেভাবে হয়েছে তা ভীষণভাবে হতাশাজনক। কারো কাছে, এখানে (ভারতে) বাংলাদেশকে একটি সুশাসনের মডেল হিসেবে দেখা হয়। এটি সেই দেশ, যেখানে ভারতের মতো না হয়ে রপ্তানিখাতে ব্যাপক উন্নতি করেছে। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যার সম্পদ হলো দারিদ্র্য, সেখানে জনগণকে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষমতায়ন করা হয়েছে। যখন তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন সমাধান নিয়ে চেষ্টা করে এবং পরীক্ষা করে তখন সরকারযন্ত্র একটি নম্র ও বাস্তবতা প্রদর্শন করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক ইসলামীকরণের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কোনো আপস করেন না। তিনি বাঙালি মূল্যবোধের পরিচয়ের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল। তার এমন অবস্থানকে ভারত পছন্দ করে থাকতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে ২০০০-এর দশকে নয়া দিল্লি খালেদা জিয়ার শাসনকে স্মরণ করে আতঙ্ক নিয়ে। দৃশ্যত ওই সময়টা বাংলাদেশ উগ্রবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। এতে পাকিস্তানিদের সুবিধা হয়েছিল এবং তারা প্রতিবেশী দেশটিতে সন্ত্রাস রপ্তানি করেছিল।
কিন্তু নির্বাচনে সরকারের ‘ম্যানেজমেন্টে’র মাধ্যমে যে ক্ষতি হয়েছে তা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চেয়েও বেশি কিছু। এই মেয়াদে শেখ হাসিনা পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় হয়তো খুব কম সরকারই শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাবে। দীর্ঘ মেয়াদে একটি অনুদার গণতন্ত্র কম বিপজ্জনক নয়, কারণ, এটা হওয়া উচিত গণতান্ত্রিক।
খুব সিম্পল সত্য কথা হলো, শেখ হাসিনা চিরদিন শাসন করবেন না।
কেউই তা পারেন না। তার কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা যদি বাংলাদেশীদের মানসিকতায় দাগ ফেলে, আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ ও অংশগ্রহণমূলক মূলনীতিতে দাগ ফেলে তাহলে অবশ্যই প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ। আর তাতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতায় তা হবে আরো খারাপ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই পাঁচ বছর মেয়াদকে তার শেষ মেয়াদ হিসেবে ভাবা উচিত এবং পরিকল্পনা শুরু করা উচিত তিনি বিরোধীদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে কী ঘটতে পারে, যেমনটা সব গণতান্ত্রিক নেতাকে এক সময় করতেই হয়। তার প্রশাসন যেসব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে তা পুনর্গঠন করা উচিত।
(ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ। কিছুটা সংক্ষেপিত)

টাউট উচ্ছেদ কমিটি by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই তারা কারা। তবে তাদের দেখে বিভ্রান্ত হন আদালতে বিচার চাইতে আসা সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা। জানা যায়, এসব টাউট বা ভুয়া আইনজীবী ঢাকার প্রতিটি থানার সামনে ভিড় জমায়। তারা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের টার্গেট করে মামলার কাগজপত্র নিয়ে তাদের সঙ্গে করে প্রতারণা। আদালত চত্বরগুলোতেও এদের ভিড় লেগেই থাকে। এ প্রতারকদের ধরতেই আইনজীবী সমিতিগুলো তাদের গঠনতন্ত্রে রেখেছে টাউট উচ্ছেদ কমিটি। যাদের কাজ এসব ভুয়া আইনজীবী শনাক্ত করে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয়া। আইনজীবী সমিতিগুলোতে এমন গঠনতন্ত্র থাকলেও কোনোটারই এমন কার্যক্রম চোখে পড়ে না।
তবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির টাউট উচ্ছেদ কমিটির কার্যক্রম চলছে বেশ জোরালো ভাবে।
সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই কমিটি করার কথা থাকলেও তা পুরোপুরি বাস্তবে রূপ পেয়েছে ৯৫-৯৬ সালের আবু সাঈদ সাগর এবং মকবুল হোসেন ফকিরের কমিটি থেকে। এরপর থেকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রতিটি কমিটিই দিয়েছে টাউট উচ্ছেদ কমিটি। গত ২৪ বছর ধরে চলছে টাউট উচ্ছেদ কমিটির কার্যক্রম। এই পর্যন্ত উচ্ছেদও হয়েছে অসংখ্য ভুয়া বা টাউট আইনজীবী। এই কমিটির পক্ষ থেকে শনাক্ত হওয়া ভুয়া আইনজীবীদের পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার পর তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলায় লড়ার নিয়ম নেই। তবে সমিতির ছাড়পত্র নিয়ে তাদের পক্ষে মামলা লড়তে পারবেন আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টেও রয়েছে টাউট উচ্ছেদ কমিটির আদলে ‘আদালত ব্যবস্থাপনা’ নামে একটি কমিটি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজমুল হাসান রাকিব বলেন, এখানে আনুপাতিক হারে ভুয়া আইনজীবীর সংখ্যা অনেক কম। তবে এমনও রয়েছে পনেরো বিশ বছর প্র্যাকটিস করার পরও ভুয়া আইনজীবী হিসেবে ধরা খেয়েছেন, শাস্তিও পেয়েছেন।’
তবে আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, এসব ভুয়া আইনজীবীর পক্ষে প্রায় সময় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশ আসে তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য, তাদের পক্ষে আইনজীবীদের ছাড়পত্র দেয়ার জন্য। শুধু তাই নয়, ভুয়া আইনজীবীরা ছাড় পাওয়ার পর আবারো একই কাজ করেন। ফলে পুরোপুরি তাদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতি মাসে এমন নানান ঘটনার সাক্ষী হন উচ্ছেদ কমিটির সদস্যরা। কমিটির সদস্যরা উচ্ছেদের অংশ হিসেবে প্রতি মাসে নানান সময় বিভিন্ন থানার সামনে অভিযান চালায় তারা। এতে বেশ ফলও মিলেছে তাদের । বলছিলেন এই কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল। তিনি নিজেই গত এক বছরে প্রায় ৭২ জন ভুয়া আইনজীবী শনাক্ত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় গ্রুপ করে বিভিন্ন থানার সামনে অভিযান চালিয়ে থাকি।
গত ১৭-১৮ বছরের টাউট উচ্ছেদ কমিটি প্রায় দেড়শ’ জন ভুয়া আইনজীবীকে শনাক্ত করেছে তারা। ভুয়া আইনজীবীদের পুলিশে দেয়ার পাশাপাশি আইনজীবীরা তাদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সবাইকে সতর্কও করে দেন।
বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু বলেন, আমরা নানান সোর্সের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করি। তাদের ধরে পুলিশের কাছে তুলে দেই। কিন্তু তারা ছাড়া পেয়ে আবার একই কাজ করে। আমরা সব সময়ই কঠোর অবস্থানে থাকি।
আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতির একজন সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদককে আহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। আবার প্রয়োজনে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতিক্রমে এই কমিটির সদস্যসংখ্যা কমবেশিও হতে পারে।

রাখাইনে বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ সদস্য নিহত

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে কট্টরপন্থি বৌদ্ধদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৭ সদস্য নিহত হয়েছে। গতকাল দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মধ্যেই রাখাইনের ৪টি পুলিশ চেকপোস্টে হামলা চালায় আরাকান আর্মির সদস্যরা। এতে অর্ধডজনেরও বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা চলছে। গত মাসেও সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
তখন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় আরাকান আর্মির যোদ্ধারা। দীর্ঘদিন ধরেই তারা রাখাইনের সংখ্যালঘু বৌদ্ধ জাতিগোষ্ঠীর আরো স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। এই রাখাইনেরই আরেক অংশে ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালানো হয়।
যার ফলে লাখ লাখ মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘর্ষে আড়াই হাজারের মতো বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিনে থু বলেন, তারা চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে। পরে সেখান থেকে সাত ‘শত্রুর’ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যকে আটক করেছে।
খিন থু বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আমরা তাদের ক্ষতি করবো না।’ তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের পাল্টা জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জ মিন তুন বলেন, ৭১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পতাকা উত্তোলনের কয়েক মিনিট পরই হামলা শুরু হয়। তবে আরাকান আর্মির দাবি, তাদের এই হামলা স্বাধীনতা দিবসকে লক্ষ্য করে না। মুখপাত্র খিন তু বলেন, আমরা এখনো স্বাধীন না। আজ আমাদের স্বাধীনতা দিবস না।’ তার দাবি, রাখাইনের বৌদ্ধরা বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।
এদিকে, সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুথিডং ও মংডুতে শুক্রবারের হামলার পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। মুখপাত্র জ মিন তুন বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে। তবে শুক্রবারের হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, হামলার শিকার পুলিশ পোস্টগুলো বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের লোকদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য। তাই এগুলোতে হামলা করা উচিত না। রাখাইনের এই অঞ্চলের বেশিরভাগ অধিবাসী বৌদ্ধ নৃতাত্তিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এরা মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত। রাখাইনের এসব অধিবাসীকে নাগরিকের স্বীকৃতি দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করা হয় না। মিয়ানমারের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এর আগেও আরাকান আর্মির যোদ্ধারা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে। তখন এক পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।
প্রসঙ্গত, গত মাসে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শান্তি আলোচনা শুরু করার জন্য দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে জাতিগত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে যুদ্ধরত বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তবে রাখাইনকে ওই ঘোষণার বাইরে রাখা হয়।

ভোটের রাতে ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৭, ঢাকায় প্রতিবাদ নোয়াখালীতে বাম জোটের নেতারা

সুবর্ণচরে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনার মূল নির্দেশদাতাসহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- শীর্ষ সন্ত্রাসী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন, মামলার প্রধান আসামি সোহেল, বাদশা আলম, স্বপন ও বেচু। চরজব্বার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, চরজব্বার থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে জসিম উদ্দিনকে   গ্রেপ্তার করে। তবে সে এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ি একই ইউনিয়নের মধ্য চরবাগ্যায়। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ৫ জনের মধ্যে প্রথম তিনজনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বাকি দু’জনের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়ার কাগজপত্র আজ আদালতে জমা দেয়া হবে।
এদিকে ঘটনার মূল নির্দেশদাতা স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জানান, রুহুল আমিনকে দল থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ভোটের রাতে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। যা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। চট্টগ্রাম থেকে জসিমসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজন হলো হাসান আলী বুলু (৪৫)। সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘প্রধান সহযোগী’ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। আর জসিম উদ্দিন (৩০) সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে। জসিম পেশায় একজন কলা বিক্রেতা। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, মামলার এজাহারে বুলু বা জসিমের নাম ছিল না।
তবে পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পায়। দুজনের মধ্যে জসিমকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে চরজব্বার থানা পুলিশের একটি দল। পরে চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাসান আলী বুলুকে। গত ৩০শে ডিসেম্বর ভোটের রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে ওই ধর্ষণের ঘটনার পর এ পর্যন্ত মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, চারজন ইটভাটা শ্রমিক। মামলার অপর আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে চরজব্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানিয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ওই চল্লিশোর্ধ নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়েছিল।
এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গোপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, ‘হাসান আলী বুলু ওই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। ভোটকেন্দ্রে তার সঙ্গেই ওই নারীর ঝামেলা হয়েছিল। পরে সে দশ হাজার টাকায় কয়েকজন ইটভাটা শ্রমিককে ভাড়া করে।’ চরজব্বার থানায় ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘর ভাঙচুর করে ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করে। মামলার এজাহারে মোট নয়জনকে আসামি করা হলেও সেখানে চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার রুহুল আমিনের নাম না থাকায় বুধবার রাতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেন ওই নারী। এরপর সেই রাতেই জেলা সদরের একটি হাঁস-মুরগির খামার থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা রুহুল আমিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ওই নারী এখন নোয়াখালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডাক্তারি পরীক্ষায় তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে জানিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এদিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলীতে গণধর্ষণের শিকার সেই নারীর (৪০) খোঁজখবর নিতে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের (বোয়াফ) একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বোয়াফের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের নেতৃত্বে তদন্ত টিমের সদস্যরা চরজুবলী গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতা ওই নারীর মুখে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন তদন্ত টিমের সদস্যরা। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় মহিলা সংস্থার পরিচালনা কমিটির সদস্য ইরাদিয়া জামান।
বোয়াফের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় জানান, তারা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করতে এসেছেন। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি বিস্তারিত জেনে ঢাকায় একটি প্রেস কনফারেন্স আমাদের সুপারিশ সরকারকে অবহিত করবো। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জাতীয় মহিলা সংস্থার পরিচালনা কমিটির সদস্য ইরাদিয়া জামান জানান, তারা ভিকটিম নারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তার দেয়া তথ্য মতে ঘটনার সময় থাকা অনেক আসামি এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। তারা বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে কীভাবে নির্যাতিতা নারীসহ তার পরিবারকে আইনগত সহযোগিতা দেয়া যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
তিনি আশা করেন অপরাধীদের কঠিন শাস্তি হবে। অপরদিকে, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতে ঘটনায় মূল ইন্ধনকারীর নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্তিসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়। গতকাল দুপুর ১টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নোয়াখালী সদর হাসপাতালে গণধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরিদর্শন দলে ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় সদস্য শুভ্রাংশ চক্রবর্তী, বাসদের কেন্দ্রীয় সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের পলিটব্যুরোর সদস্য অধ্যাপক আবদুর সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য লক্ষ্মী চক্রবর্তী, বাসদ (মাহবুব) এর কেন্দ্রীয় নেতা মহিন উদ্দিন লিটন ও জোটভুক্ত জেলা নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়কালে নেতৃবৃন্দ ঘটনায় জড়িত মূল ইন্ধনদাতাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করতে পুলিশের গড়িমসির তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে ইন্ধনদাতাদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা, জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানান। আজ শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণধর্ষণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। সকালে তারা সুবর্ণচর যাবেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান। এ সফরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও সাবেক ডাকসুর ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি ও স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলক আ.স.ম আবদুর রব, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান থাকবেন।
গণধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
সুবর্ণচরে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। গতকাল বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য ও জাতীয় জাদুঘরের সামনে দুটি পৃথক মানববন্ধনে এমন দাবি জানানো হয়। জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী জোট’ নামের একটি সংগঠন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামালসহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ‘ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই, কথায় নয় কাজে’ ‘ধর্ষক তুমি মানুষ নও’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় নোয়াখালীর সুবর্ণচরের গণধর্ষণের প্রতিবাদে অবস্থান নেয় ‘স্ট্যান্ড অ্যাগনেইস্ট রেইপ: হোক প্রতিবাদ’ ব্যানারের একটি সংগঠন। ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবার আগে ধর্ষণের বিচার করুন’ ‘রাষ্ট্র তুমি অন্ধ বলে, ধর্ষক আজো মুক্ত চলে’ ‘কাউকে তো দাঁড়াতে হবে’ এরকম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। দুটি মানববন্ধনেই সুবর্ণচরের গণধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।

জাপার সিদ্ধান্ত কোনটি?

একাদশ সংসদে জাতীয় পার্টি সরকারে থাকবে না বিরোধী দলে? এ প্রশ্ন নির্বাচনের পর থেকেই চলছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার দলের কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার অফিসের ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় জাপা সরকারে থাকার। ওই সভায় অবশ্য দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অনুপস্থিত ছিলেন। একদিন পরই শুক্রবার এরশাদ সিদ্ধান্ত জানান জাতীয় পার্টি বিরোধী দলে থাকবে। শুধু তাই নয়, তিনি হবেন বিরোধীদলীয় নেতা।
পাশাপাশি উপ-নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন জিএম কাদেরকে। এ অবস্থায় জাপার অভ্যন্তরীণ কোন্দল ফের প্রকাশ্যে এসেছে।
এ অবস্থায় জাপার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও বিব্রত। পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জানান, সংসদে জাপা এবার পূর্ণাঙ্গ বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে। কোনো মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করবে না। তবে এরশাদ বৃহস্পতিবার জাপার এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। ছিলেন না পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকেও। তার অনুপস্থিতিতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে জাপা সরকারে থাকার সিদ্ধান্তের কথা জানান পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।
রাঙ্গা ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, আমরা মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করেছি। তাই বেশির ভাগ এমপিই সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। এ ব্যাপারে মহাজোটের নেত্রী শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দশম সংসদের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে রওশন এরশাদই থাকবেন নাকি নতুন কেউ হবেন সে বিষয়ে ওইদিন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি দলটির নবনির্বাচিত এমপিরা। দলের নীতিনির্ধারণী সভায় বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ওইদিন এরশাদ ছাড়া জাপার নবনির্বাচিত ২১ জন এমপি শপথ নেন।
জাপার একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রওশন এরশাদের সভাপতিত্বে জাপার সংসদ সদস্যরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে জাপা সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি। তবে, জাপা সরকারে থাকা না থাকা নিয়ে উচ্চবাচ্য হয়। দশম সংসদের তিন মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মশিউর রহমান রাঙ্গা ও মুজিবুল হক চুন্নু সুযোগ পেলে এবারও মন্ত্রী হতে চান। ওই বৈঠকে দশম সংসদে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা একজন বলেন, আমরা মন্ত্রিত্বে থাকতে চাই, মন্ত্রিত্ব ছাড়তে চাই না। একই ধরনের বক্তব্য রাখেন আরেক প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা মহাজোটে আছি। সরকারেও থাকতে চাই, বিরোধী দলেও থাকতে চাই। এ দু’জনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান জানতে চান, আপনারা টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেছেন। জাপার জন্য আপনারা কী করেছেন? জাপার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, জাতীয় পার্টিকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন।
রওশন এরশাদের বক্তব্যের জবাবে ওই প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জাপার জন্য অনেক কিছু করেছি। আরো কিছু করতে চাইলেও তা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আমরা এগুতে পারিনি। এ দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে ঢাকা থেকে নির্বাচিত এক এমপি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আপনারা একা একা মন্ত্রিত্বে থাকবেন কেন? দরকার হলে দলের সবাইকে মন্ত্রিপরিষদে নিয়ে নিন। এই বক্তব্যের পর তিনি তোপের মুখে পড়েন বৈঠকে মন্ত্রিত্বে থাকা তিন নেতার সঙ্গে তার উচ্চবাচ্য হয়। তবে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও  কো-চেয়ারম্যান জাপাকে সংসদের বিরোধী দলে রাখার পক্ষে মত দেন। দুই কো-চেয়ারম্যানের এই অবস্থানের ফলে মিটিংয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ওই বৈঠকে জাপা সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ জানান, আমাদের সংসদ নেতা ও উপনেতা কে হবে তা পরবর্তী বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তীতে ব্রিফিংয়ে একই কথা জানিয়েছিলেন জিএম কাদেরও। তিনি বলেছিলেন, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা কে হবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি। আশা করি, পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
গতকাল দুপুরে জাপা চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ‘সকলের অবগতির জন্য’ শিরোনামে এক চিঠির মাধ্যমে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে পার্টির সর্র্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থক এবং দেশবাসীর উদ্দেশে আমি এই মর্মে জানাচ্ছি যে, একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। পদাধিকার বলে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি দলের সভাপতি হিসেবে আমি প্রধান বিরোধী দলের নেতা এবং পার্টির কো-চেয়ারম্যান জনাব গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপ-নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতীয় পার্টির কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন না। সংসদের মাননীয় স্পিকারকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি।’
এরশাদের এ সিদ্ধান্তের পর পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের গতকাল বিকেলে এরশাদের বাসভবনে সাংবাদিকদের বলেন, দেশের বৃহত্তম স্বার্থে জাতীয় পার্টি এবার জাতীয় সংসদে প্রধানবিরোধী দলের ভূমিকায় আসছে। আমি যেটুকু জানি, জাপা চেয়ারম্যান মহাজোটের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার বৈঠকের শেষ পর্যায়ে একটি সিদ্ধান্ত ছিল আমরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চাই, তবে জোট কিংবা দেশের স্বার্থে যদি কোনো সিদ্ধান্ত হয় তা মেনে নিবো।
পার্টির সংসদ সদস্যদের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে এরশাদ এমন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছেন সাংবাদিকরা জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, গতকাল যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আমরা মহাজোটের সঙ্গে থাকতে চাই। কিন্তু পরে আমাদের চেয়ারম্যান মহাজোটের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছেন। আমাদের চেয়ারম্যান তাতে রাজি হয়েছেন।
জিএম কাদের বলেন, মহাজোট সরকারের বাইরে এসে কাজ করতে হবে, চেষ্টা করবো আমরা। সমস্যা কিছু তো আছেই। সেটা তো আমরা কালকে তুলে ধরেছি। যেকোনো কারণেই হোক, এখন মহাজোটেই এই সিদ্ধান্তটি হয়েছে। আমরা ধরে নিচ্ছি, এটাতে  সামনে আমাদের ভালো হবে।
দলের সব সংসদ সদস্যরা যখন মহাজোট সরকারের অন্তর্ভুক্ত হতে চাইছিলেন, তখন এরশাদের এই সিদ্ধান্তে দলে কোন্দলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, দলের ভেতরে কোন্দলের প্রশ্নই আসে না। বৃহত্তর স্বার্থে চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, জোটের সঙ্গে কথাবার্তা বলে। তো সে হিসেবে আমি মনে করি যে দলে কোন্দলের কোনো স্কোপ আর নেই। এরশাদের শারীরিক অসুস্থতার কারণে বৃহস্পতিবার শপথ নিতে না পারলেও রোববার অথবা সোমবার এরশাদ শপথ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন জিএম কাদের।  তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে। তিনি আজকালের মধ্যে চেকআপ করাবেন একবার। তারপর শপথ নেবেন।
পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দশম সংসদের শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মানবজমিনকে বলেন, স্যার আমাদের কারো সঙ্গে কোনো কথা বলেননি এবং মিটিংও করেননি। স্যার যেহেতু চেয়ারম্যান তাই তার স্টেটমেন্টের উপর কোনো মন্তব্য নেই। তিনি নিজেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে জাপার মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বলেছি, মন্ত্রিপরিষদে থাকতে চাই, তবে কে কে থাকবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। এছাড়া স্যারের সঙ্গে কোনো বৈঠক হওয়ার কথাও ছিল না। এছাড়া তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগই হয়নি।

নিস্তব্ধ গ্রাম, গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সবাই

সহিংসতায় নিহত ইসরাইল
ভোটকেন্দ্রে সহিংসতায় হতাহতের জেরে নীরব-নিস্তব্ধ এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজঘর গ্রাম। ৩০শে ডিসেম্বর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে হামলা থামাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালালে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। আহত হয় আরো ক’জন। এ ঘটনায় মামলা হলে গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে যান গ্রামের পুরুষরা। গ্রামে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। 
রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র হামলার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এখন। বিদ্যালয়টি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে হামলায়। সদর আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী কেন্দ্রটি পরিদর্শন করতে এসে ওই হামলার মুখে পড়েন।
কেন্দ্রের এই গোলযোগ থামাতে পুলিশ গুলি চালালে নিহত হয় ইসরাইল নামের ওই নির্মাণ শ্রমিক। সে আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক বলে জানান তার পরিবারের লোকজন। এছাড়াও সেদিন গ্রামের কিছু বাড়িঘরে হামলা হয়। ভোটে সহিংসতার জেরে হতাহতের ঘটনা এবং পরবর্তীতে মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক এখন রাজঘর গ্রামে। আয়েশা নামের এক গৃহবধূ জানান, পরিস্থিতি ভালো না। পুরুষ লোক বাড়িতে থাকতে পাওে না।   
ঘটনার দিন ৩০শে ডিসেম্বর দিবাগত রাতেই ইসরাইল নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা সাঈদ মিয়া ওরফে সাওয়াল বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সদর উপজেলা বিএনপি নেতা জহির মেম্বারকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জনের নামোল্লেখ করা হয়। এছাড়া আরো ৪-৫শ’ অজ্ঞাত লোককে আসামি করা হয়েছে। মামলায় গুলি করে ইসলাইলকে হত্যা, আওয়ামী লীগ প্রার্থী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টা, তার গাড়ি ভাঙচুর, ভোট কেন্দ্র ভাঙচুর, বোমার বিস্ফোরণ ঘটানোসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করার অভিযোগ আনা হয়। মামলার প্রধান সাক্ষী বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। এখনো এ মামলার কোন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই সুমন নাথ। তবে তাদেরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানান তিনি। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এদিকে পুত্রকে হারিয়ে শোকে পাথর নিহত ইসরাইলের বাবা-মা। রাজঘর গ্রামের সওয়াল মিয়ার তিনি ছেলের মধ্যে ইসরাইল ছিলো মেঝ। সে পিতার সহযোগী হিসেবে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতো। ইসরাইল মিয়া বলেন, আমার ছেলে ভোটার না। সেজন্যে সে কেন্দ্রে যাবে এটা আমার ভাবনার মধ্যে ছিলো না। তবে এলাকার ছেলেপেলে সবাই সেখানে গিয়েছিলো। এমপি সাহেব আসার পর হঠাৎ সেখানে গণ্ডগোল সৃষ্টি হয়। এসময় আমার ছেলেও ছিলো সেখানে। হঠাৎ তার ওপর হামলা হয়। নিহত ইসরাইলের মা সমিরন বলেন, ১০ মিনিট আগে তারে আমি খাওয়াইয়া দিছি। আমিতো জানি কোন গ্যাঞ্জাম নাই। পরে শুনি লাইগ্‌গা গেছেগা। এরপর শুনি আমার ছেলের ওপর গুলি পড়ছে।

মন্ত্রিসভায় চমকের ইঙ্গিত কাদেরের: মহাসমাবেশ ১৯শে জানুয়ারি

নবীন-প্রবীণ মিলিয়েই মন্ত্রিসভা গঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এবার বিশাল জয়ের সঙ্গে মন্ত্রিসভায়ও বিশাল চমক থাকতে পারে। গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশাল বিজয়ের সঙ্গে বিশাল প্রত্যাশা। জনগণেরও এখানে একটা প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি বলেন, কেবিনেটের বিষয়টা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর এরিয়া, এখানে অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয়ের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই নির্বাচনে বিজয়ের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে ‘হাসিনা ম্যাজিক’। এটা আমাদের লিডারের উন্নয়ন, রাজনীতি, স্বচ্ছতা, সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রতি জনগণের সমর্থন।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পার্টির পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ করেছি, তাদের অনুরোধ করছি জনগণের রায়কে অসম্মান করা উচিত নয়। সম্মান করতে না পারলে তাদের ব্যর্থতার বৃত্তেই আটকে থাকতে হবে। গতবারও তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে ভুল করেছে সেই ভুলের চোরাবালিতে তারা এখনও আটকে আছে। যদি তারা সংসদে যোগ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এই ব্যর্থতা আর ভুলের চোরাবালিতে তাদের আবারও আটকে থাকতে হবে।
নবনির্বাচিত এমপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন: এদিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং তার দলের নবনির্বাচিত এমপিরা। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ এবং ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, নুরুল ইসলাম নাহিদ, আব্দুল মতিন খসরু, ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং রমেশ চন্দ্র সেন, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহন মন্ত্রী মো. শাজাহান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, চিফ হইপ আ স ম ফিরোজ, দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এবং আওয়ামী লীগের অন্য এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছাড়া আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যবৃন্দ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেন। গত ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয়ের তিন দিন পরেই এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য সংসদ সদস্যগণকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ২৫৯টি আসনে বিপুল বিজয় অর্জন করে। এইচ এম এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২২ এবং বিএনপি ৫টি আসনে জয়লাভ করে। ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি আসনে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ২টি আসনে, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি আসনে এবং তরীকত ফেডারেশন একটি আসনে জয়লাভ করে। এ ছাড়া, গণফোরাম ২টি আসনে, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি) একটি আসনে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়লাভ করে।
১৯ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীতে মহাসমাবেশ: এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৯শে জানুয়ারি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল দলটির দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মহাসমাবেশকে সর্বাত্মকভাবে সফল করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে আওয়ামী লীগ জানিয়েছে, আজ বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরের অন্তর্গত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যদের এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ওবায়দুল কাদের।

৬ মাসে রপ্তানিতে আয় ২ হাজার কোটি ডলার

টানা চার মাস রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ২ হাজার ৫০ কোটি (২০.৫০ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯.১৩ শতাংশ বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪.৪২ শতাংশ বেশি আয় এসেছে। এদিকে গত ডিসেম্বর মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২.১৮ শতাংশ বেশি অর্থ দেশে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, রপ্তানি আয়ে সুখবর নিয়েই শুরু হয়েছিল নতুন অর্থবছর। ইতিবাচক সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতের আয় ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। যার কারণে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিদ্যমান।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে ২ হাজার ৪৯ কোটি ৯৭ লাখ (১৭.০৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪.৪২ শতাংশ বেশি। আর এই ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯.১৩ শতাংশ। তথ্য মতে, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৭৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত বছরের এই ছয় মাসে আয় হয়েছিল ১ হাজার ৭৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ডিসেম্বরে ৩৪২ কোটি ৬১ লাখ ডলার রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই মাসে লক্ষ্য ধরা ছিল ৩৫৫ কোটি ডলার। গত বছরের ডিসেম্বরে আয় হয়েছিল ৩৩৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার। এ হিসাবে ডিসেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ৩.৪৯ শতাংশ। ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩.৩৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫.৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ ২০.৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৭.০৮ বিলিয়ন ডলারই এসেছে এ খাত থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ৮৬৫ কোটি ২৬ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ শতাংশ। ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৮৪৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ১৭.৪৮ শতাংশ। নিটে লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়ে গেছে ১১.২৩ শতাংশ। আর ওভেনে প্রায় ৬ শতাংশ।
অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০ শতাংশের মতো। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টেই তা হোঁচট খায়। ওই মাসে গত বছরের আগস্টের চেয়ে আয় কমে ১২ শতাংশ। এর পরের মাস থেকে তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। নভেম্বরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ শতাংশের মতো। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ওপর বরাবরই তৈরি পোশাক পণ্যের বড় ধরনের প্রভাব থাকে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মালিকরা গত কয়েক বছরে তাদের কারখানার  
উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেয়ায় ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি রপ্তানি আয় বাড়াতে অবদান রেখেছে বলে মনে করে পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, কারখানাগুলোর উন্নয়নে পোশাক শিল্প মালিকরা গত কয়েক বছরে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ৮০ শতাংশের বেশি কারখানা উন্নত কর্মপরিবেশের (কমপ্লায়েন্স) আওতায় চলে এসেছে। এতে বায়াররাও খুশি। এ কারণেই বিদেশি ক্রেতাদের আস্থার সঙ্গে ক্রয়াদেশও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। ফারুক হাসান বলেন, আমাদের পোশাকের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে। আমরা এখন বেশি দামের পোশাকও রপ্তানি করছি। নতুন নতুন বাজারে প্রবেশ করছি আমরা। সার্বিকভাবে সব কিছুই আমাদের অনুকূলে। সে কারণেই বাড়ছে রপ্তানি আয়। অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করেন তিনি।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কৃষিপণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৫১ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬.৮০ শতাংশ বেশি। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে রপ্তানি আয় ১৪.১৮ শতাংশ কমেছে। এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ৫৩ কোটি ২৩ লাখ ডলার। একইভাবে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি আয়ও কমেছে। এ খাতে আয় হয়েছে ৪২ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ (৩৬.৬৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করে। এরমধ্যে ৩০.৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। অর্থাৎ মোট রপ্তানির ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশই এসেছিল এই খাত থেকেই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সার্বিক রপ্তানি ৫.৮১ শতাংশ বাড়লেও তা ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২.২২ শতাংশ কম। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩৯ বিলিয়ন (তিন হাজার ৯০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি। এবার দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩২.৬৯ বিলিয়ন ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩.৮২ শতাংশ।

মিলারের সঙ্গে ফখরুলের বৈঠক

মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। গতকাল সকালে মিলারের সঙ্গে তার গুলশান বাসভবনে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি তারা।
যোগাযোগ করা হলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠক সম্পর্কে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈঠকে অবশ্যই নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এটা একটা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক। ফলে এই বৈঠকের  আলোচনার বিষয়বস্তু আমরা বলতে চাই না।
আর যদি এটা আনুষ্ঠানিক বৈঠক হতো, তাহলে তারাও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতো, আর আমরাও সেখান থেকে ফিরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাতাম।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, বিএনপির উচিত সংসদে যাওয়া। তবে নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি জানা খুব অস্বাভাবিক নয়। তাঁর মতে, বড় দেশগুলোর একটা ভূমিকা থাকে। তাদের সহযোগিতা তো আমাদের পেতে হয়। অনেকগুলো বড় দেশ ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এখানে তাদের বৈঠকে এগুলো নিয়ে কথা হওয়ার চেয়ে তারা নিজেরা সংসদে যাচ্ছেন কিনা সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জোট ঐক্যফ্রন্ট ৭টি আসনে জিতেছে। তারা এখনও শপথ নেননি, নেবেন না বলছেন। সেগুলোই এখন প্রধান আলোচনা বলেই মনে হয়।
অন্যদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে নানা অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকে ভোটের অনিয়মের সব তথ্য-উপাত্ত দেখানো হয়। একটি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণেই বিএনপি নেতারা রাষ্ট্রদূতের বাসায় যান। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। তবে শপথ গ্রহণ করেননি ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত ৭ সংসদ সদস্য। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি দেন। সেখানে তারা এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।