Wednesday, May 14, 2014

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হননি- সেনা কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় পুলিশ @প্রথম আলো

হাইকোর্টের আদেশের তিন দিন পরও চাকরি হারানো র‌্যাবের সেই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কোনো অভিযান চালায়নি। শুধু আদেশ মানতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে তারা। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন কর্মকর্তা সেনানিবাসে আছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখানে গিয়ে অভিযান চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। আদালতের আদেশের পরও কেন গ্রেপ্তার অভিযান হচ্ছে না, জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, আদালত যেভাবে আদেশ দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে মানা হচ্ছে। আদেশ অনুসারেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা আজ উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। তাঁদের স্বজনেরা আইনগত সহায়তা চেয়ে কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১১ মে হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, দণ্ডবিধি বা বিশেষ কোনো আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে হবে। নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় এই তিন কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগ ওঠার পর র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর আরিফ হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক প্রধান লে. কমান্ডার এম এম রানাকে অবসর দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দুজনকে অকালীন ও নৌবাহিনীর একজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, আদালত আদেশ দিলেও তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি৷ এ কারণে শুরু থেকেই পুলিশ 'ধীরে চলো' নীতি অনুসরণ করছে। এ জন্যই আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর গ্রেপ্তার অভিযান না করে সহায়তা চেয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ওই মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলের দিকে মন্ত্রণালয় পুলিশের চিঠি পেয়েছে। কিন্তু গতকাল ছুটি থাকায় এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের চিঠিটি আজ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর সেই চিঠি যাবে সেনা ও নৌবাহিনীর হাতে। অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, পুলিশ কোনো কালক্ষেপণ করছে না। আইন মেনেই সব করছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তিন দিনেও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার না হওয়ায় শুধু আইনজীবী নন, নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পরিবহন চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক রফিকুল ইসলাম রতনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। নূর হোসেনের অন্য সহযোগীদের তালিকা তৈরি করে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় একে একে ছয়জনের এবং পরদিন আরও একজনের লাশ ভেসে ওঠে৷

নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হননি- সেনা কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় পুলিশ @প্রথম আলো

হাইকোর্টের আদেশের তিন দিন পরও চাকরি হারানো র‌্যাবের সেই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কোনো অভিযান চালায়নি। শুধু আদেশ মানতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে তারা। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিন কর্মকর্তা সেনানিবাসে আছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখানে গিয়ে অভিযান চালানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। আদালতের আদেশের পরও কেন গ্রেপ্তার অভিযান হচ্ছে না, জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার প্রথম আলোকে বলেন, আদালত যেভাবে আদেশ দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে মানা হচ্ছে। আদেশ অনুসারেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা আজ উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। তাঁদের স্বজনেরা আইনগত সহায়তা চেয়ে কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১১ মে হাইকোর্টের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, দণ্ডবিধি বা বিশেষ কোনো আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে হবে। নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় এই তিন কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগ ওঠার পর র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মাদ, মেজর আরিফ হোসেন ও নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক প্রধান লে. কমান্ডার এম এম রানাকে অবসর দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দুজনকে অকালীন ও নৌবাহিনীর একজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, আদালত আদেশ দিলেও তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি৷ এ কারণে শুরু থেকেই পুলিশ 'ধীরে চলো' নীতি অনুসরণ করছে। এ জন্যই আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর গ্রেপ্তার অভিযান না করে সহায়তা চেয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ওই মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলের দিকে মন্ত্রণালয় পুলিশের চিঠি পেয়েছে। কিন্তু গতকাল ছুটি থাকায় এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের চিঠিটি আজ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর সেই চিঠি যাবে সেনা ও নৌবাহিনীর হাতে। অভিযানের ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, পুলিশ কোনো কালক্ষেপণ করছে না। আইন মেনেই সব করছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, তিন দিনেও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার না হওয়ায় শুধু আইনজীবী নন, নারায়ণগঞ্জের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পরিবহন চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রক রফিকুল ইসলাম রতনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। নূর হোসেনের অন্য সহযোগীদের তালিকা তৈরি করে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এরপর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় একে একে ছয়জনের এবং পরদিন আরও একজনের লাশ ভেসে ওঠে৷

খুনের সঙ্গে ১৮ জন জড়িত? by তানভীর সোহেল @প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন জেনে বা না জেনে যুক্ত হয়েছিলেন। এর পক্ষে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। না জেনে জড়িত থাকা বলতে পুলিশ তাঁদেরকে বুঝিয়েছে, যাঁরা অন্যের আদেশ অনুসরণ করেছেন মাত্র। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ পুরো ঘটনাটি দুই ভাগে ভাগ করে তদন্ত করছে। প্রথম ভাগে অপহরণ ও খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ভাগে যাঁরা খুনের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁদের চিহ্নিত করা হবে। প্রথম ধাপের তদন্তে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ গুছিয়ে এনেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, যাঁরা খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তকারীরাও ধরে নিচ্ছেন, নিহতদের সঙ্গে এক বা একাধিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শত্রুতার কারণে একটি গোষ্ঠী অর্থের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ জন্য সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সে বিষয়টি উদ্ঘাটনে গুরুত্ব দিচ্ছে তদন্ত দল। এই কর্মকর্তারা বলেন, খুনের সঙ্গে জড়িতরা কোনো বাহিনীর কি না, তা বিবেচ্য বিষয় নয়। এখন পর্যন্ত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকা যাঁদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়টি এখন সামনে চলে এসেছে। এমন কিছু লোকের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসাটা জরুরি।
ঘটনার প্রথম অংশে খুন হওয়া নজরুল ইসলামকে আদালত চত্বরে সাদা পোশাকে অনুসরণ করা এক ব্যক্তি এবং তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়া অপর এক ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ছাড়া অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি গাড়ির চালকের সঙ্গেও তদন্তকারীরা কথা বলেছেন। ঘটনার দ্বিতীয় অংশে আছে, প্রথমে পাঁচজন ও পরে দুজনকে অপহরণের ঘটনা। তৃতীয় অংশ হলো, অপহৃতদের একটি স্থানে নিয়ে রাখা ও হত্যা করা। চতুর্থ অংশ, লাশগুলো শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা। এই চারটি পর্বে ১৮ জনের কারও না কারও উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে পুলিশের তদন্তকারী দলের সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানায়, অপহরণের পর অপহৃতদের নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছেই একটি স্থানে রাখা হয় বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। সেখানেই সাতজনতে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সেই স্থানটিও চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তবে ওই স্থানে প্রবেশ করে তদন্ত করতে হলেও অনুমতির প্রয়োজন বলে তাঁরা জানান।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত পুলিশ অপহরণের জন্য ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস চিহ্নিত করেছে। এগুলো এখন তদন্তকারীদের নজরদারিতেই আছে। তবে যে দুটি নৌকায় করে সাতজনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ডোবানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর আছে, সেই দুটি নৌকার মালিক ও দুজন মাঝির ব্যাপারে তদন্ত দল এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পায়নি। জানা গেছে, নিহত নজরুলের শ্বশুরের অভিযোগের কারণে সম্প্রতি অবসরে পাঠানো র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের ওই দিনের মোবাইলে যোগাযোগ, এর আগের কয়েক দিনের ফোনের কললিস্ট, তাঁদের অবস্থান এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা 'ব্যাকম্যান-রানার'দের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম পার হয়ে দুই শ গজ সামনে থেকে গাড়িচালক, তিন সহযোগীসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকার এবং তাঁর গাড়িচালককে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর তাঁদের ছয়জন এবং পরদিন আরেকজনের মৃতদেহ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। র‌্যাব-১১-এর কয়েকজন কর্মকর্তাকে দিয়ে নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে নজরুলের পরিবার দাবি করে আসছে। জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এখনই কিছু বলতে পারবেন না। তবে তিনি বলেন, তদন্তে ভালো অগ্রগতি আছে। তদন্ত সঠিক পথেই চলছে। তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, তদন্ত অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে পুলিশ। এখন অভিযোগ ওঠা র‌্যাবের ওই সময়কার কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা পেলেই তদন্ত শেষ করে আনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরোতে পারবেন তাঁরা। ওই সূত্রটি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিছু সন্দেহভাজনকে তাঁরা চিঠি দিয়েছেন।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কেবল তারাই যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করছেন, তা নয়। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটিও প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত-প্রক্রিয়ায় জানা প্রয়োজন এমন অন্তত ২০টি প্রশ্ন করা হলে একজন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এসব প্রশ্নের বেশির ভাগেরই উত্তর তাঁরা ইতিমধ্যে বের করতে সক্ষম হয়েছেন। যাঁদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে সব প্রশ্নের জবাব এক করে পুরো ঘটনার একটি 'মালা গাঁথা' সম্ভব হবে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা মামলার পর্যাপ্ত আলামত সংগ্রহ করেছেন। প্রমাণাদিও যতটা সম্ভব সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কাজ অব্যাহত থাকবে।
সাত খুনের ঘটনার সাত দিন পর মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি এবং কয়েকজন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস আটক, নূর হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ, ট্রাকস্ট্যান্ডে তল্লাশি করে মদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কেবল নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি করাকে তদন্তকাজের অংশ বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। র‌্যাব-১১-এর সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) মোকলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কে জড়িত সেটা বিষয় নয়, যাঁরাই জড়িত তাঁদের বিচার হবে। তিনি বলেন, র‌্যাবের বিষয়টি আসায় তাঁরা ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে নিয়ে তদন্ত করাচ্ছেন। তাঁর প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে কথা বলা যাবে।

খুনের সঙ্গে ১৮ জন জড়িত? by তানভীর সোহেল @প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন জেনে বা না জেনে যুক্ত হয়েছিলেন। এর পক্ষে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। না জেনে জড়িত থাকা বলতে পুলিশ তাঁদেরকে বুঝিয়েছে, যাঁরা অন্যের আদেশ অনুসরণ করেছেন মাত্র। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশ পুরো ঘটনাটি দুই ভাগে ভাগ করে তদন্ত করছে। প্রথম ভাগে অপহরণ ও খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ভাগে যাঁরা খুনের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁদের চিহ্নিত করা হবে। প্রথম ধাপের তদন্তে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ গুছিয়ে এনেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, যাঁরা খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তকারীরাও ধরে নিচ্ছেন, নিহতদের সঙ্গে এক বা একাধিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শত্রুতার কারণে একটি গোষ্ঠী অর্থের বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ জন্য সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সে বিষয়টি উদ্ঘাটনে গুরুত্ব দিচ্ছে তদন্ত দল। এই কর্মকর্তারা বলেন, খুনের সঙ্গে জড়িতরা কোনো বাহিনীর কি না, তা বিবেচ্য বিষয় নয়। এখন পর্যন্ত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকা যাঁদের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়টি এখন সামনে চলে এসেছে। এমন কিছু লোকের জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে, যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসাটা জরুরি।
ঘটনার প্রথম অংশে খুন হওয়া নজরুল ইসলামকে আদালত চত্বরে সাদা পোশাকে অনুসরণ করা এক ব্যক্তি এবং তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়া অপর এক ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ছাড়া অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি গাড়ির চালকের সঙ্গেও তদন্তকারীরা কথা বলেছেন। ঘটনার দ্বিতীয় অংশে আছে, প্রথমে পাঁচজন ও পরে দুজনকে অপহরণের ঘটনা। তৃতীয় অংশ হলো, অপহৃতদের একটি স্থানে নিয়ে রাখা ও হত্যা করা। চতুর্থ অংশ, লাশগুলো শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলা। এই চারটি পর্বে ১৮ জনের কারও না কারও উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে পুলিশের তদন্তকারী দলের সূত্রে জানা গেছে। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানায়, অপহরণের পর অপহৃতদের নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছেই একটি স্থানে রাখা হয় বলে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন। সেখানেই সাতজনতে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। সেই স্থানটিও চিহ্নিত করা হয়েছে৷ তবে ওই স্থানে প্রবেশ করে তদন্ত করতে হলেও অনুমতির প্রয়োজন বলে তাঁরা জানান।
সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত পুলিশ অপহরণের জন্য ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস চিহ্নিত করেছে। এগুলো এখন তদন্তকারীদের নজরদারিতেই আছে। তবে যে দুটি নৌকায় করে সাতজনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ডোবানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর আছে, সেই দুটি নৌকার মালিক ও দুজন মাঝির ব্যাপারে তদন্ত দল এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পায়নি। জানা গেছে, নিহত নজরুলের শ্বশুরের অভিযোগের কারণে সম্প্রতি অবসরে পাঠানো র‌্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ কয়েকজনের ওই দিনের মোবাইলে যোগাযোগ, এর আগের কয়েক দিনের ফোনের কললিস্ট, তাঁদের অবস্থান এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা 'ব্যাকম্যান-রানার'দের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম পার হয়ে দুই শ গজ সামনে থেকে গাড়িচালক, তিন সহযোগীসহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকার এবং তাঁর গাড়িচালককে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর তাঁদের ছয়জন এবং পরদিন আরেকজনের মৃতদেহ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। র‌্যাব-১১-এর কয়েকজন কর্মকর্তাকে দিয়ে নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে নজরুলের পরিবার দাবি করে আসছে। জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত নিয়ে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এখনই কিছু বলতে পারবেন না। তবে তিনি বলেন, তদন্তে ভালো অগ্রগতি আছে। তদন্ত সঠিক পথেই চলছে। তদন্তে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, তদন্ত অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে পুলিশ। এখন অভিযোগ ওঠা র‌্যাবের ওই সময়কার কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা পেলেই তদন্ত শেষ করে আনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পেরোতে পারবেন তাঁরা। ওই সূত্রটি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিছু সন্দেহভাজনকে তাঁরা চিঠি দিয়েছেন।
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, কেবল তারাই যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করছেন, তা নয়। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটিও প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত-প্রক্রিয়ায় জানা প্রয়োজন এমন অন্তত ২০টি প্রশ্ন করা হলে একজন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এসব প্রশ্নের বেশির ভাগেরই উত্তর তাঁরা ইতিমধ্যে বের করতে সক্ষম হয়েছেন। যাঁদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে সব প্রশ্নের জবাব এক করে পুরো ঘটনার একটি 'মালা গাঁথা' সম্ভব হবে। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেছেন, তাঁরা মামলার পর্যাপ্ত আলামত সংগ্রহ করেছেন। প্রমাণাদিও যতটা সম্ভব সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কাজ অব্যাহত থাকবে।
সাত খুনের ঘটনার সাত দিন পর মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি এবং কয়েকজন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস আটক, নূর হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ, ট্রাকস্ট্যান্ডে তল্লাশি করে মদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কেবল নূর হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি করাকে তদন্তকাজের অংশ বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। র‌্যাব-১১-এর সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) মোকলেছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কে জড়িত সেটা বিষয় নয়, যাঁরাই জড়িত তাঁদের বিচার হবে। তিনি বলেন, র‌্যাবের বিষয়টি আসায় তাঁরা ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে নিয়ে তদন্ত করাচ্ছেন। তাঁর প্রতিবেদন পেলে এ ব্যাপারে কথা বলা যাবে।

ছাত্রলীগের সন্ত্রাস- এখনই রাশ টেনে ধরতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা—কোথায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী হাত নেই? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে অবরোধ এবং সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ঝুলছে তালা৷ রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষেও তারা ছিল সামনের সারিতে৷ সাম্প্রতিক সময়ে দেশময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ভূমিকা থেকে বোঝার উপায় নেই, তারা কি বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন, নাকি একটি অপরাধী চক্র? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীকে অপহরণ ব্যবসায় জড়িত থাকতে দেখা গেছে৷ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের নির্যাতনে নিহত হয়েছেন এক ছাত্র৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের অন্তঃকোন্দলে কিছুদিন পর পরই কেউ না কেউ নিহত হচ্ছেন৷ গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় দেখা যাচ্ছে, রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগেরই দুই পক্ষের টেন্ডার-দখলের মারামারিতে লাঠিয়ালের ভূমিকায় ব্যবহৃত হয়েছে ছাত্রলীগ৷ ছাত্রলীগে এখন ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় দশা৷
দীর্ঘ ঐতিহ্যের দাবিদার ছাত্রসংগঠনের এমন পরিণতি নিয়ে কি কিছু ভাবছে আওয়ামী লীগ? সবখানেই আওয়ামী লীগ-যুবলীগের প্রভাবশালী নেতারা ব্যবসা-দখলদারি, টেন্ডারবাজি, এলাকায় দাপট ইত্যাদি কারণে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে৷ চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, অস্ত্রবণিক থেকে শুরু করে অন্ধকার জগতের হেন শক্তি নেই, যারা ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছে না! বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের কাজ উন্নয়ন ও নিয়োগ-বাণিজ্যের বখরা আদায়৷ এই বখরা আদায়ের জন্যই তারা লিপ্ত হয় গ্রুপবাজির সংঘাতে৷ এই অবস্থায় ছাত্রলীগ আর ছাত্রদের অধিকার রক্ষা কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের সহায়ক হয়ে নেই৷ সন্ত্রাস-দুর্নীতি-অপরাধের লাঠিয়াল হিসেবে তাদের দ্বারা কল্যাণকর কিছু করা আর কিছু সম্ভব কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন৷ কেবল ছাত্রলীগ নয়, ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্র সমাজ ও ছাত্রশিবিরের অবস্থাও অতীতে এ রকমই ছিল; ভবিষ্যতেও ভিন্ন কিছু হবে, তেমন আশা করার কারণ নেই৷ ছাত্রলীগের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না হলে ছাত্ররাজনীতি তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিকেও চরম মূল্য দিতে হবে৷ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, ক্রমাগত ছাড় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছাত্রলীগকে বেপরোয়া করে তুলছে৷ ভবিষ্যতে তাদের দ্বারা বড় বিপর্যয় ঘটার আগেই সরকারের উচিত রাশ টেনে ধরা৷

ছাত্রলীগের সন্ত্রাস- এখনই রাশ টেনে ধরতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা—কোথায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী হাত নেই? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে অবরোধ এবং সিলেটের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে ঝুলছে তালা৷ রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষেও তারা ছিল সামনের সারিতে৷ সাম্প্রতিক সময়ে দেশময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ভূমিকা থেকে বোঝার উপায় নেই, তারা কি বৃহত্তম ছাত্রসংগঠন, নাকি একটি অপরাধী চক্র? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীকে অপহরণ ব্যবসায় জড়িত থাকতে দেখা গেছে৷ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের নির্যাতনে নিহত হয়েছেন এক ছাত্র৷ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের অন্তঃকোন্দলে কিছুদিন পর পরই কেউ না কেউ নিহত হচ্ছেন৷ গত মঙ্গলবারের প্রথম আলোয় দেখা যাচ্ছে, রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগেরই দুই পক্ষের টেন্ডার-দখলের মারামারিতে লাঠিয়ালের ভূমিকায় ব্যবহৃত হয়েছে ছাত্রলীগ৷ ছাত্রলীগে এখন ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় দশা৷
দীর্ঘ ঐতিহ্যের দাবিদার ছাত্রসংগঠনের এমন পরিণতি নিয়ে কি কিছু ভাবছে আওয়ামী লীগ? সবখানেই আওয়ামী লীগ-যুবলীগের প্রভাবশালী নেতারা ব্যবসা-দখলদারি, টেন্ডারবাজি, এলাকায় দাপট ইত্যাদি কারণে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে৷ চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, অস্ত্রবণিক থেকে শুরু করে অন্ধকার জগতের হেন শক্তি নেই, যারা ছাত্রলীগকে ব্যবহার করছে না! বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের কাজ উন্নয়ন ও নিয়োগ-বাণিজ্যের বখরা আদায়৷ এই বখরা আদায়ের জন্যই তারা লিপ্ত হয় গ্রুপবাজির সংঘাতে৷ এই অবস্থায় ছাত্রলীগ আর ছাত্রদের অধিকার রক্ষা কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের সহায়ক হয়ে নেই৷ সন্ত্রাস-দুর্নীতি-অপরাধের লাঠিয়াল হিসেবে তাদের দ্বারা কল্যাণকর কিছু করা আর কিছু সম্ভব কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন৷ কেবল ছাত্রলীগ নয়, ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্র সমাজ ও ছাত্রশিবিরের অবস্থাও অতীতে এ রকমই ছিল; ভবিষ্যতেও ভিন্ন কিছু হবে, তেমন আশা করার কারণ নেই৷ ছাত্রলীগের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ না হলে ছাত্ররাজনীতি তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিকেও চরম মূল্য দিতে হবে৷ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বুঝতে হবে, ক্রমাগত ছাড় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছাত্রলীগকে বেপরোয়া করে তুলছে৷ ভবিষ্যতে তাদের দ্বারা বড় বিপর্যয় ঘটার আগেই সরকারের উচিত রাশ টেনে ধরা৷

নূর হোসেন সুন্দরী নীলাকে ‘রক্ষিতা’ বানাতে চেয়েছিল

কাউন্সিলর নূর হোসেনের ‘রক্ষিতা’ হতে চাননি বলে সব হারাতে হয়েছে সুন্দরী জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে। নূর হোসেনের কারণেই নীরার সাজানো-গোছানো সংসার ভেঙ্গেছে। স্বামীকে ডিভোর্স দিতে হয়েছে। জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নীলার শিক্ষাজীবন ছিল নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ, সিদ্ধিরগঞ্জ রেবতি মোহন পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। নীলার অপরাধ নূর হোসেনের চোখে সে ছিল সুন্দরী। এক সময় নূর হোসেনের কুনজরে পড়ে সে। এরপর থেকেই নীলাকে পেতে নানা ছলচাতুরি শুরু করে নূর হোসেন। এক সময় নূর হোসেন নিজেই নীলাকে নিজের স্ত্রী বলে প্রচার চালাতে থাকে। স্বামীর জীবন রক্ষা ও সন্তান যেন বাবাহারা না হয়; সেজন্য জীবনের বিনিময়ে তাকে ‘সূক্ষ্ম’ চাতুরী করতে হয়েছে দীর্ঘদিন। নূরের সঙ্গে হোটেল শেরাটনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাতযাপন এবং একইসঙ্গে ভারত সফরে যেতে হয়েছে তাকে।

তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা- ‘‘নূর হোসেন গুমের শিকার হতে পারেন’’:র‌্যাব-১১’র নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্প তল্লাশির দাবি

নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আজ বুধবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে সংশ্লিষ্টদের পক্ষে তাঁদের প্রতিনিধিরা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তার কাছে এসব প্রতিবেদন জমা দেন বলে সূত্র জানায়। তবে প্রতিবেদনে কী আছে, বিস্তারিত জানা যায়নি।

র‌্যাবের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল? by মশিউল আলম

এক: কার হাতে কার হাতিয়ার
বিরোধী দলের বেদনা ক্ষমতাসীন দল বোঝে না। ক্ষমতাসীন দল যখন বিরোধী দলে পর্যবসিত হয়, কেবল তখনই সে তা উপলব্ধি করে। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এখন উপলব্ধি করছেন, র‌্যাবের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। গত রোববার তাঁর দলের এক নিখোঁজ নেতার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেছেন, র‌্যাবের আর প্রয়োজন নেই। কারণ, র‌্যাবকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে; এই বাহিনী গুম-খুনে জড়িয়ে পড়েছে।

মোদি সরকার ও বহির্বিশ্ব by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

এমন নয় যে বুথ-ফেরত সমীক্ষা একেবারে অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়। এমনও নয় যে বুথ-ফেরত সমীক্ষায় যে ফল উঠে এল, কার্যত দেখা গেল ফল হলো ঠিক উল্টো। এ দেশের ক্রমেই সাবালক হয়ে ওঠা নির্বাচনী সমীক্ষা সম্ভবত এই দুয়ের মাঝামাঝি কিছু একটা। তাই প্রতিটি সমীক্ষার শেষে একটা ফুটনোটে ভুলভ্রান্তির পরিমাণ দেওয়া থাকে। জনপ্রিয় ধারণায় তা কখনো ৫ থেকে ১০ শতাংশের কম-বেশি হয় না।

কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই by আনিসুল হক

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ২৫২ রান করল আবদুর রাজ্জাকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে, তখন মনে হচ্ছিল, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওই ম্যাচে হয়তো আমরা জিতেই যাচ্ছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের হার। কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই। কিন্তু এর চেয়েও অনেক বড় বড় দুঃসংবাদে আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো আকীর্ণ হয়ে আছে। সাভারে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েই চলেছে। আমরা সংখ্যা হিসাব করছি। কিন্তু মানুষ তো কোনো সংখ্যা নয়। প্রত্যেক মানুষই মানুষ। যে যায়, সে আর ফিরে আসে না। তার পরিবার-পরিজন বোঝে, স্বজন হারানোর বেদনা কাকে বলে। এই অবস্থায় আরও একটা মনুষ্য-সৃষ্ট দুর্যোগ। হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে এসে আর ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।তাদের নেতারা সব সময় বলে এসেছেন, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, তাঁরা কোনো রকমের বিশৃঙ্খলা বা জ্বালাও-পোড়াও নীতিতে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ৫ মে ২০১৩ দিনভর জ্বলল আগুন। স্থাপনা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ—পরিস্থিতি হয়ে উঠল ভয়াল। হেফাজতের নেতারা বলে আসছেন, তাঁরা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আন্দোলন করছেন না, কাউকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্যও না। কিন্তু স্পষ্টতই দেখা গেল, তাঁরা সরকার উৎখাতের ঘোষণা দিলেন, তাঁরা বললেন, তাঁরা আর বাড়ি ফিরে যাবেন না, বিএনপিও ঘোষণা করল, হেফাজতের পাশে দাঁড়ান। হেফাজতের ১৩ দফা অরাজনৈতিক নয়, তাদের কর্মসূচিও অরাজনৈতিক নয়, কিন্তু তা কেবল সরকার উৎখাতের রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপই পরিগ্রহ করল না, তা সহিংস কর্মসূচিতে পরিণত হলো। পরিস্থিতি ক্রমেই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, সরকার শক্তি প্রয়োগ করে হেফাজতের মতিঝিলের অবস্থান ভেঙে দিতে সমর্থ হলো। মহানগর পুলিশ সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বিএনপিও তাদের ৬ মের সমাবেশ বা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিল। দেখা যাচ্ছে, কেউ কথা রাখেনি। হেফাজতের সঙ্গে সরকারের হয়তো একটা যোগাযোগ ছিল, যেটা হয়তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ৫ মের উক্তিতেই বোধগম্য, তিনি বলছিলেন, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করছে জামায়াত-শিবির, এটা হেফাজতের কাজ নয়, তখনো হয়তো তিনি আশা করছিলেন, সন্ধ্যার দিকে হেফাজত তাদের কর্মসূচি শেষ করে বাড়ি ফিরে যাবে। তা হয়নি। হেফাজত কথা রাখেনি। হেফাজতের নেতারা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলছিলেন, ঘেরাও কর্মসূচি সমাপ্ত করার জন্য তাঁদের একটা সমাবেশ বিকেলে হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, মতিঝিলের সমাবেশটা তাঁরা করতে চেয়েছিলেন সরকার পতনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে, ৫ মের ঢাকা ঘেরাওয়ের সমাপ্তি টানার জন্য নয়। এখন দেখা যাচ্ছে, সবগুলো পক্ষই সমস্যা সমাধানের জন্য যতগুলো বিকল্প ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপটা বেছে নিয়েছে। ৪ এপ্রিলের মহাসমাবেশ থেকেই হেফাজতে ইসলাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, তারা ৫ মে ঢাকা ঘেরাও করতে আসবে। এই এক মাসে বড় বড় আওয়াজ দেওয়া ছাড়া সরকার আর আওয়ামী জোট নেতারা আর কী করেছেন? আগেই বলেছি, হেফাজতের দাবিগুলো রাজনৈতিক, তাদের কর্মসূচিও রাজনৈতিক, রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানই কাম্য। রাজনৈতিক সমস্যাকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে তা সমাধানের জন্য ভুল পথ অবলম্বন করতে প্ররোচিত করে। বোঝাই যাচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের একটা সমঝোতা হয়েছে, সরকার সেটা আগে থেকে টের পেল না? যদি শক্তি প্রয়োগই করতে হয়, সেটাও তো করা যেত আগে থেকে, ঢাকায় এতগুলো মানুষকে সমবেত হতে দিয়ে তারপর শক্তি প্রয়োগ করাটা কি সবচেয়ে খারাপ বিকল্পটাকেই বেছে নেওয়া নয়? সরকারের কাছে তথ্য থাকবে না? তারা জানবে না, হেফাজত কী করতে চাইছে, বিএনপি কী করতে চাইছে? হেফাজতে ইসলাম কি বিএনপির ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হলো না? তারা যা এত দিন ধরে বলে আসছে, তারা শান্তিকামী, তাদের সব কর্মসূচি হয় অহিংস, তাদের সেই কথারই বা মূল্য থাকল কোথায়? আর বিএনপির যেনতেন প্রকারে চাই ক্ষমতা। তারা নিজেরা বড় সমাবেশ করতে পারে না, বড় আন্দোলন করতে পারে না, হরতালে দেখা যায়, একটা ব্যানার যত বড়, তার পেছনে তাদের সংগঠন বা অঙ্গসংগঠনগুলোর এতজন কর্মীও জোটে না, যাতে ব্যানারটার পেছনে এক সারি লোক পাওয়া যায়। এই অবস্থায় বিএনপি একবার জামায়াতকে, একবার হেফাজতে ইসলামকে সরকার উৎখাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। বিএনপির নিজেদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ, নিজেদের কোনো রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি আছে কি না, তা ভাবার সময় কই, আগে তো সরকারকে বিপদে ফেলো। জামায়াতে ইসলামীর জন্য এটা তো প্রায় মরণপণ লড়াই, তাদের শীর্ষ নেতাদের বিচার হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে, তারা যে করেই হোক, এই সরকারের শাসনের অবসান চায়। এই অবস্থায় সরকার ঘটনাটাকে এত দূর পর্যন্ত গড়াতে দিল এবং শেষ পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগ করল। তার ফল কী হবে, তা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো এর রেশ আমাদের বহু বছর ধরে টানতে হবে। আমরা সব পক্ষকেই বলব, শান্তির পথই শ্রেষ্ঠ পথ। আলাপ-আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানই কাম্য। গণতন্ত্রেরও কোনো বিকল্প নেই। এমন কোনো কর্মসূচি কোনো পক্ষেরই দেওয়া উচিত নয়, যা প্রাণহানি, সম্পদহানির কারণ হয়, যা দেশে শান্তিশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। এমন কোনো কর্মসূচি নেওয়া উচিত নয়, যাতে দেশে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়। মতিঝিল থেকে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকারীদের বল প্রয়োগে সরিয়ে দিয়ে, বিএনপিকে ৬ মের সমাবেশ বা অবস্থান কর্মসূচি থেকে নিরত রেখে সরকার হয়তো ভাবতে পারে, একটা বড় বিপর্যয় তারা সামলাতে পারল। কিন্তু শক্তি প্রয়োগে বিক্ষুব্ধ মানুষকে বিতাড়িত করলেই কি বিক্ষোভের অবসান ঘটবে? যদি কোথাও ধোঁয়া দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে আগুনও আছে। হেফাজতে ইসলাম কিংবা ডানপন্থী দলগুলো যখন এত মানুষের সমাবেশ করতে পারে, তখন বুঝতে হবে, সে শক্তি তারা এক দিনে অর্জন করেনি! ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রেণীভেদ থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি শক্তির প্রণোদনা—নানা রসায়ন কাজ করেছে বহু বছর ধরে। কওমি মাদ্রাসায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের সমাজের বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নিয়োজিত হওয়ার মতো শিক্ষা কি আমরা দিয়েছি? আজ তারা তাদের ভাগ যদি চাইতে আসে, তখন আমরা হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, এরা কারা? এরা আমাদেরই ছেলেমেয়ে, যাদের মনের বেদনা আমরা কোনো দিনও বোঝার চেষ্টা করিনি। এর সঙ্গে আছে, সমাজে ও রাষ্ট্রে সর্বত্র দুর্নীতি, দলীয়করণ, দখলবাজি, অপশাসন, সন্ত্রাস। আছে বিচারহীনতা। আইনের শাসন না থাকা। সরকারি নেতারা অজনপ্রিয়। অনেকে এলাকায় যেতে পারেন না, এলাকাবাসীর সামনে মুখ দেখানোর মতো অবস্থা তাঁদের নেই। মানুষ যে ভোটের মাধ্যমে বিকল্প বেছে নেবে, সে আশাও খুব দেখা যায় না, ছিল একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, তাও উঠে গেছে। আর মানুষের সামনে খুব বিকল্পও কিছু নেই। সেই বিএনপি, সেই আওয়ামী লীগ। সেই চিরপুরাতন অগণতান্ত্রিক আচরণ। কেউ বা পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি করে, কেউ বা সিঙ্গাপুরে টাকা পাঠিয়ে কলঙ্কিত হয়। এত কিছুর মধ্যেও দেশের সাধারণ মানুষ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা খেতে-খামারে, ব্যবসায়-বাণিজ্যে, দেশে-বিদেশে নিজের আয় উন্নতির জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করছেন, তার মাধ্যমে দেশটাও বেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তাঁদের পথে বাধার বিন্ধ্যাচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সংঘাতময় রাজনীতি। আমাদের রাজনীতিকে অবশ্যই উন্নয়নবান্ধব হতে হবে। প্রথম শর্ত হলো শান্তি। শান্তিশৃঙ্খলা না থাকলে কিছুই থাকে না। কিন্তু বল প্রয়োগ করে শান্তি অর্জিত হয় না। কৌশলী হতে হয়। উদার ও সহনশীল হতে হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হয়। কথাগুলো অনেকটা সোনার পাথরবাটির মতো শোনাচ্ছে। জানি অরণ্যে রোদন করাই হচ্ছে। তবু বলার কথাটা বলে যেতেই হবে। রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানই খুঁজে বের করতে হবে। আর তা করতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই। ৫ মের ঘটনা এত দূর পর্যন্ত ঘটতে পারল কেন, এটা অবশ্যই বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। আর এর পরিণতি কীভাবে আমাদের দেশ, রাষ্ট্র, রাজনীতি সামলাবে, তাও ভেবে দেখতে হবে। একটা সমাজে অনেক মত থাকবে, পথ থাকবে। বিভিন্ন আদর্শ থাকবে, বিভিন্ন জীবনাচরণ, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মানুষ থাকবে। সবাইকে রাষ্ট্রে ও সমাজে তার  জায়গায় অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে থাকতে দিতে হবে। আমরা এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিনাশ চাইছি। সেটা হয় না। হানাহানি সমস্যার সমাধান আনে না, সমস্যা বাড়ায়। আমাদের দুর্বল অর্থনীতির দেশে আমরা হানাহানির ধকল সামলাতে পারব না। আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটা পথ বের করতে পারতেই হবে। কিন্তু যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতা স্থায়ী করার নেশায় উন্মত্ত রাজনীতির দাবানলে আর কত জীবনকে বলি হতে হবে, আমরা জানি না। আমরা খুব খারাপ একটা সময় অতিক্রম করছি। শান্তির ললিত বাণী ব্যর্থ পরিহাস হয়ে উঠেছে। আমাদের কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই। আজ নেই, কিন্তু আগামীকাল সুসংবাদ পাব, এই আশাও নেই।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক

হামিদ মিরের ভাবনা ও আমরা by আলী ইমাম মজুমদার

হামিদ মির পাকিস্তানের প্রগতিশীল সাংবাদিক হিসেবে বহুলভাবে পরিচিত৷ মাত্র ৪৮ বছর বয়সী এই সাংবাদিকের জীবন ঘটনাবহুল৷ আর নানা কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত ও সমাদৃত তিনি৷ বর্তমানে জিয়ো টিভির নির্বাহী সম্পাদক৷ অনেক চাঞ্চল্যকর টক শো সঞ্চালনা করে চলেছেন৷ তিনি একজন খ্যাতনামা নিরাপত্তা বিশ্লেষকও৷ আবার এই সময়ের অনেক আলোচিত ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগও লাভ করেছেন তিনি৷ টিভি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্রের জন্য লিখেও থাকেন৷ এসব লেখার কোনো কোনোটি বিতর্কও সৃষ্টি করেছে৷ তবে পাঠকের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে তঁার লেখা ও বক্তব্যের প্রতি৷ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসংক্রান্ত বিষয়ে তঁার মতামত আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিকূলে গেছে৷ তাই সেসব মতামতের বিপরীতে আমাদের শক্ত অবস্থানও জানান দেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে, তঁার বহু লেখা মৌলবাদ ও অস্ত্রের রাজনীতির বিরুদ্ধে৷ সেগুলো অনেকটা আমাদের লালিত বিশ্বাসের কাছাকাছি৷ ঠিক তেমনই একটি লেখা ‘আমি কি একজন বিশ্বাসঘাতক’ প্রকাশিত হয়েছে প্রথম আলোয়৷ নিবন্ধটি আমাদের চেতনার জগৎকে নতুনভাবে আলোড়িত করেছে৷

বুথ–ফেরত জরিপের জন্য এবার কঠিন পরীক্ষা

১৯৪৮ সালের কথা৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে বুথ-ফেরত ভোটারদের ওপর জরিপ চালানো হয়৷ বেিশর ভাগ জরিপে এগিয়ে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী টমাস ই ডিওয়ে৷ বেিশর ভাগ গণমাধ্যমে তাঁকে ৩১তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে খবর প্রকাশ করা হয়৷ কিন্তু আনুষ্ঠানিক ফলাফলে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ডেমোক্রেটিক পার্টির হ্যাির এস ট্রুম্যান৷ ভারতেও বুথ-ফেরত ভোটারদের ওপর পরিচালিত জরিপে ব্যর্থতার পাল্লা বেশ ভারী৷ ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচন বাদ দিলে, বিগত চারটি লোকসভা নির্বাচনেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ এসব জরিপে যেসব পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত ফল তার ধারেকাছেও নেই৷ বিশেষ করে ২০০৪ ও ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর পরিচালিত জরিপগুলোর ফলাফল এ ধরনের জরিপের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে৷ এবারের জরিপের ফলাফল সঠিক না হলে ভারতে এ ধরনের জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে৷
দিল্লিভিত্তিক জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটির (সিএসডিএস) প্রবীণ রায় আশা করছেন, এবার আর তেমনটি ঘটবে না৷ এবারের জরিপগুলোর পূর্বাভাস সত্যি হলে গত দুটি লোকসভা নির্বাচন নিয়ে দেওয়া পূর্বাভাস সত্যি না হওয়ার পাপমোচন হবে৷ আর এবার ভুল প্রমাণিত হলে, পুরো মতামত-জরিপ শিল্প অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হবে৷ জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় ভর করে ১৯৯৬ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)৷ তখন অটল বিহারির নেতৃত্বে দলটি সরকার গঠন করলেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য অন্যান্য দলের সমর্থন না পাওয়ায় ১৩ দিনের মাথায় সরকারের পতন ঘটে৷ এরপর বিজেপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) ১৯৯৮ সালের নির্বাচনে ৩১৫টির বেশি পাবে বলে বিভিন্ন জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছিল৷ তবে তারা পেয়েছিল ২৯৬টি৷
২০০৪ সালে পরিচালিত বুথ-ফেরত জরিপ ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে আছে আজও৷ সে সময় কোনো জরিপই আন্দাজ করতে পারেনি, কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরছে৷ তখন কেউ বলেছিল, বিজেপি বড় ব্যবধানে, অন্যরা বলেছিল সামান্য ব্যবধানে জিতবে৷ বিজেপি যে হারছে, তেমন আভাস দিতে সব জরিপই ব্যর্থ হয়েছিল৷ ২০০৯ সালে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) এগিয়ে থাকবে বলে সবাই আভাস দিলেও একটা প্রবণতা ধরতে তারা ঠিকই ব্যর্থ হয়েছিল৷ কংগ্রেস সেবার নিজেদের ভোট বাড়াতে না পারলেও অতিরিক্ত ৪০টি আসন ঠিকই নিজেদের ঝুলিতে ভরেছিল৷ হিন্দুস্তান টাইমস৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচন- উজ্জীবিত বিজেপির নানা তৎপরতা

বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে—বুথ-ফেরত জরিপে এ আভাস পাওয়ার পর করণীয় নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷ এদিকে ভোট গ্রহণের শেষ দিন সোমবার বুথ-ফেরত জরিপের যেসব ফল প্রকাশিত হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস দল৷ তারা আরও বলেছে, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, তা রাহুল গান্ধীর সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়ন নয়৷ বুথ-ফেরত সব জরিপের ফলাফলেই কংগ্রেসের ভরাডুবি ও ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে৷ বিপরীতে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ২৭২ আসন পাবে বলে দেখা যাচ্ছে৷ বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করতে চলেছে—জরিপে এ আভাস পাওয়ার পর নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সলাপরামর্শে ব্যস্ত ছিলেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷ বিজেপির একটি সূত্র জানায়, যেহেতু দলটির জন্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত, তাই ১৬ মের ভোট গণনা-পরবর্তী প্রত্যাশিত দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে কৌশল নির্ধারণ করতে বিজেপি নেতারা বৈঠক করছেন৷
দলের শীর্ষ পর্যায়ের আলাপ-আলোচনার অংশ হিসেবে বিজেপির সাবেক সভাপতি নীতিন গড়কাির গতকাল প্রভাবশালী নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন৷ এর আগের দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন৷ জয়ের হাওয়া বুঝে গত কয়েক দিন ধরেই বিজেপির শীর্ষস্থানীয় অন্য নেতারা পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে৷ দলের সভাপতি রাজনাথ সিং দেখা করেছেন সুষমা স্বরাজের সঙ্গে৷ মোদি সংঘ নেতাদের পাশাপাশি বৈঠক করেছেন রাজনাথ সিংসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে৷ ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমণ সিংও মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গত সোমবার৷ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুজরাটের গান্ধীনগরে মোদি রাজ্য বিধানসভার সব বিজেপি সদস্যকে এক বৈঠকে ডাকেন৷ মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর উত্তরসূরি খোঁজার চেষ্টাতেই এ বৈঠক আহ্বান করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছিল৷ তবে বিজেপির কিছু সূত্র জানায়, এটি দলের নিয়মিত বৈঠক৷ জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান কংগ্রেসের বুথ-ফেরত ভোটারদের জনমত জরিপের অবমাননাকর ফলের এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার দলটি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে৷
কংগ্রেস ঘোষণা করে, বুথ-ফেরত জরিপের ফলাফল নিয়ে কোনো বিতর্কেও তারা অংশ নেবে না৷ কংগ্রেসের মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, 'দলের প্রচলিত রীতিনীতি মেনে আমরা এসব জরিপ নিয়ে বিতর্কে অংশ নেব না৷ গতবারের নির্বাচনে বুথ-ফেরত জরিপগুলোর ফলাফলে আমাদের প্রাপ্ত আসনের চেয়ে ৬৮টি আসন কম দেখানো হয়েছিল৷' কংগ্রেস নেতারা বলছেন, ২০০৪ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে বুথ-ফেরত জিরপেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের আসন নিয়ে 'ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে' ফলাফল প্রকাশ করা হয়৷ অথচ শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় কংগ্রেস৷ রাহুল গান্ধীর অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ এ বিষয়ে বলেন, 'তাঁরা (বিজেপি নেতারা) আগের মতোই এবারও ভুল প্রমাণিত হবেন৷ কংগ্রেস যথেষ্ট ভালো ফল করবে এবং বিজেপি কাঙ্ক্ষিত ফল পাবে না৷'
এবারের লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে কংগ্রেসের হাল ধরেন দলটির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর ছেলে অপেক্ষাকৃত তরুণ সহসভাপতি রাহুল গান্ধী (৪৩)৷ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সামনে থেকেছেন তিনি৷ কিন্তু বুথ-ফেরত জরিপে দলটির বিপর্যয়কর ফলাফলের যে আভাস দেওয়া হয়েছে, সে দায় সহসভাপতি রাহুলের ওপর চাপাতে নারাজ কংগ্রেস৷ গতকাল ইিঙ্গত দেওয়া হয়, জরিপের আভাস পুরোপুরি মিলে গিয়ে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কংগ্রেসের ভরাডুবি যদি নিশ্চিতও হয়, তবুও তাকে রাহুলের ব্যর্থতা বলে মনে করা হবে না৷ এ ব্যাপারে মুখপাত্র শাকিল বলেন, 'রাহুল গান্ধী এই সরকারে নেই৷ (ফলাফলের জন্য) আমাদের সবাইকে দায়দায়িত্ব নেওয়া উচিত৷' তবে তিনি আশা প্রকাশ করে এ-ও বলেন, 'আমরা অবশ্যই ভালো ফল করব এবং আপনারা সবাই বিস্মিত হবেন৷' মুখপাত্রের কথার মতোই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কমল নাথ বলেন, 'নির্বাচনী ফলাফল হবে সরকারের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে৷ রাহুল গান্ধী এ সরকারের কোনো অংশ নন৷'
প্রধান বিরোধী দল বিজেপি বলেছে, সমালোচনার তির থেকে সোনিয়া গান্ধী ও তাঁর ছেলেকে বাঁচাতে কংগ্রেস দলটির প্রবীণ নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে শেষমেশ 'বলির পাঁঠা' বানাতে পারে৷ জরিপের ফলাফলকে ঘিরে কংগ্রেসের এই প্রতিক্রিয়ার জবাবে বিজেপির মুখপাত্র প্রকাশ জাভাদেকার বলেন, 'খারাপ কিছু হলে কংগ্রেসের নীতি-নির্ধারকেরা অন্যদের ওপর দোষ চাপান৷ তবে ভালো কিছু ঘটলে তার সব কৃিতত্ব দলের চেয়ারপারসন ও সহসভাপতিকে দেন৷ তাই, (পরাজয়ের জন্য) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদের দোষী করা হবে৷ তাঁদের উচিত, সম্মিলিত দায়ভার নিয়ে কথা বলা৷' বিজেপির মুখপাত্র দাবি করেন, বুথ-ফেরত জরিপে দেওয়া আভাসের চেয়েও ভালো ফলাফল করবেন তাঁরা৷ তাঁর আশা, বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসন অতিক্রম করবে৷ সরকার গঠনের জন্য লোকসভায় ২৭২টি আসনের প্রয়োজন৷
কংগ্রেসকে ত্যাগ করবে এনসিপি?
জরিপ অনুযায়ী ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের বিদায়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠায় দলটির জোটের শরিক ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) বিজেপির প্রতি ঝোঁকার ইঙ্গিত দিয়েছে৷ দলের অন্যতম নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য প্রফুল প্যাটেল গতকাল বলেন, তাঁর দল 'স্থিতিশীল সরকার' দেখতে চায়৷ আর বিজেপি যদি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তবে তার জনসমর্থনের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত৷
জরিপ প্রত্যাখ্যান নীতিশ ও ওমরের
প্রকাশিত জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার ও জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ৷ জনতা দলের (জেডি-ইউ) বাজে ফল করার আভাস প্রত্যাখ্যান করে গতকাল নীতিশ বলেন, ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে৷ বিহারে জেডি-ইউ ৪০টির মধ্যে মাত্র পাঁচটির মতো আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়৷ অন্যদিকে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, 'একমাত্র যে বুথ-ফেরত জরিপে কিছু আসে-যায় তা হচ্ছে শুক্রবার যা হবে৷ বাকি সব সময় কাটানোর দারুণ উপায় মাত্র৷' উল্লেখ্য, শুক্রবার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে৷ এনডিটিভি, পিটিআই ও টাইমস অব ইন্ডিয়া৷

ভারতের লোকসভা নির্বাচন- উজ্জীবিত বিজেপির নানা তৎপরতা

বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করার মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে—বুথ-ফেরত জরিপে এ আভাস পাওয়ার পর করণীয় নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷ এদিকে ভোট গ্রহণের শেষ দিন সোমবার বুথ-ফেরত জরিপের যেসব ফল প্রকাশিত হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস দল৷ তারা আরও বলেছে, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, তা রাহুল গান্ধীর সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়ন নয়৷ বুথ-ফেরত সব জরিপের ফলাফলেই কংগ্রেসের ভরাডুবি ও ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার স্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে৷ বিপরীতে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্তত ২৭২ আসন পাবে বলে দেখা যাচ্ছে৷ বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠন করতে চলেছে—জরিপে এ আভাস পাওয়ার পর নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সলাপরামর্শে ব্যস্ত ছিলেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷ বিজেপির একটি সূত্র জানায়, যেহেতু দলটির জন্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত, তাই ১৬ মের ভোট গণনা-পরবর্তী প্রত্যাশিত দৃশ্যের প্রেক্ষাপটে কৌশল নির্ধারণ করতে বিজেপি নেতারা বৈঠক করছেন৷
দলের শীর্ষ পর্যায়ের আলাপ-আলোচনার অংশ হিসেবে বিজেপির সাবেক সভাপতি নীতিন গড়কাির গতকাল প্রভাবশালী নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন৷ এর আগের দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন৷ জয়ের হাওয়া বুঝে গত কয়েক দিন ধরেই বিজেপির শীর্ষস্থানীয় অন্য নেতারা পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে৷ দলের সভাপতি রাজনাথ সিং দেখা করেছেন সুষমা স্বরাজের সঙ্গে৷ মোদি সংঘ নেতাদের পাশাপাশি বৈঠক করেছেন রাজনাথ সিংসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে৷ ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমণ সিংও মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গত সোমবার৷ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুজরাটের গান্ধীনগরে মোদি রাজ্য বিধানসভার সব বিজেপি সদস্যকে এক বৈঠকে ডাকেন৷ মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর উত্তরসূরি খোঁজার চেষ্টাতেই এ বৈঠক আহ্বান করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছিল৷ তবে বিজেপির কিছু সূত্র জানায়, এটি দলের নিয়মিত বৈঠক৷ জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান কংগ্রেসের বুথ-ফেরত ভোটারদের জনমত জরিপের অবমাননাকর ফলের এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার দলটি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে৷
কংগ্রেস ঘোষণা করে, বুথ-ফেরত জরিপের ফলাফল নিয়ে কোনো বিতর্কেও তারা অংশ নেবে না৷ কংগ্রেসের মুখপাত্র শাকিল আহমেদ বলেন, 'দলের প্রচলিত রীতিনীতি মেনে আমরা এসব জরিপ নিয়ে বিতর্কে অংশ নেব না৷ গতবারের নির্বাচনে বুথ-ফেরত জরিপগুলোর ফলাফলে আমাদের প্রাপ্ত আসনের চেয়ে ৬৮টি আসন কম দেখানো হয়েছিল৷' কংগ্রেস নেতারা বলছেন, ২০০৪ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে বুথ-ফেরত জিরপেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের আসন নিয়ে 'ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে' ফলাফল প্রকাশ করা হয়৷ অথচ শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় কংগ্রেস৷ রাহুল গান্ধীর অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ নেতা জয়রাম রমেশ এ বিষয়ে বলেন, 'তাঁরা (বিজেপি নেতারা) আগের মতোই এবারও ভুল প্রমাণিত হবেন৷ কংগ্রেস যথেষ্ট ভালো ফল করবে এবং বিজেপি কাঙ্ক্ষিত ফল পাবে না৷'
এবারের লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে কংগ্রেসের হাল ধরেন দলটির চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর ছেলে অপেক্ষাকৃত তরুণ সহসভাপতি রাহুল গান্ধী (৪৩)৷ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চার (ইউপিএ) নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সামনে থেকেছেন তিনি৷ কিন্তু বুথ-ফেরত জরিপে দলটির বিপর্যয়কর ফলাফলের যে আভাস দেওয়া হয়েছে, সে দায় সহসভাপতি রাহুলের ওপর চাপাতে নারাজ কংগ্রেস৷ গতকাল ইিঙ্গত দেওয়া হয়, জরিপের আভাস পুরোপুরি মিলে গিয়ে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কংগ্রেসের ভরাডুবি যদি নিশ্চিতও হয়, তবুও তাকে রাহুলের ব্যর্থতা বলে মনে করা হবে না৷ এ ব্যাপারে মুখপাত্র শাকিল বলেন, 'রাহুল গান্ধী এই সরকারে নেই৷ (ফলাফলের জন্য) আমাদের সবাইকে দায়দায়িত্ব নেওয়া উচিত৷' তবে তিনি আশা প্রকাশ করে এ-ও বলেন, 'আমরা অবশ্যই ভালো ফল করব এবং আপনারা সবাই বিস্মিত হবেন৷' মুখপাত্রের কথার মতোই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কমল নাথ বলেন, 'নির্বাচনী ফলাফল হবে সরকারের সাফল্যের ওপর নির্ভর করে৷ রাহুল গান্ধী এ সরকারের কোনো অংশ নন৷'
প্রধান বিরোধী দল বিজেপি বলেছে, সমালোচনার তির থেকে সোনিয়া গান্ধী ও তাঁর ছেলেকে বাঁচাতে কংগ্রেস দলটির প্রবীণ নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে শেষমেশ 'বলির পাঁঠা' বানাতে পারে৷ জরিপের ফলাফলকে ঘিরে কংগ্রেসের এই প্রতিক্রিয়ার জবাবে বিজেপির মুখপাত্র প্রকাশ জাভাদেকার বলেন, 'খারাপ কিছু হলে কংগ্রেসের নীতি-নির্ধারকেরা অন্যদের ওপর দোষ চাপান৷ তবে ভালো কিছু ঘটলে তার সব কৃিতত্ব দলের চেয়ারপারসন ও সহসভাপতিকে দেন৷ তাই, (পরাজয়ের জন্য) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদের দোষী করা হবে৷ তাঁদের উচিত, সম্মিলিত দায়ভার নিয়ে কথা বলা৷' বিজেপির মুখপাত্র দাবি করেন, বুথ-ফেরত জরিপে দেওয়া আভাসের চেয়েও ভালো ফলাফল করবেন তাঁরা৷ তাঁর আশা, বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট ৩০০ আসন অতিক্রম করবে৷ সরকার গঠনের জন্য লোকসভায় ২৭২টি আসনের প্রয়োজন৷
কংগ্রেসকে ত্যাগ করবে এনসিপি?
জরিপ অনুযায়ী ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের বিদায়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠায় দলটির জোটের শরিক ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) বিজেপির প্রতি ঝোঁকার ইঙ্গিত দিয়েছে৷ দলের অন্যতম নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য প্রফুল প্যাটেল গতকাল বলেন, তাঁর দল 'স্থিতিশীল সরকার' দেখতে চায়৷ আর বিজেপি যদি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তবে তার জনসমর্থনের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত৷
জরিপ প্রত্যাখ্যান নীতিশ ও ওমরের
প্রকাশিত জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার ও জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ৷ জনতা দলের (জেডি-ইউ) বাজে ফল করার আভাস প্রত্যাখ্যান করে গতকাল নীতিশ বলেন, ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে৷ বিহারে জেডি-ইউ ৪০টির মধ্যে মাত্র পাঁচটির মতো আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়৷ অন্যদিকে ওমর আবদুল্লাহ বলেন, 'একমাত্র যে বুথ-ফেরত জরিপে কিছু আসে-যায় তা হচ্ছে শুক্রবার যা হবে৷ বাকি সব সময় কাটানোর দারুণ উপায় মাত্র৷' উল্লেখ্য, শুক্রবার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে৷ এনডিটিভি, পিটিআই ও টাইমস অব ইন্ডিয়া৷

মমতাকে পাশে চায় সোনিয়া

নরেন্দ্র মোদিকে ঠেকাতে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আবার সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চান সোনিয়া গান্ধী। ভোটপর্ব চুকতেই সোমবার সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কোর কমিটির বৈঠক বসেছিল। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত হয়। প্রথমটি হল, মোদিকে ঠেকাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। দুই, এক্সিট পোলের ফলাফল দল খারিজ করবে। প্রথম উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে গেলে, মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলসহ আঞ্চলিক দলগুলোকে পাশে পেতেই হবে কংগ্রেসকে। সে জন্যই মমতাকে পাশে পেতে ঝাঁপাতে চায় কংগ্রেস। মমতার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন খোদ সোনিয়া গান্ধী। ইউপিএ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস বেরিয়ে আসার পর গত বছর দেড়েক কংগ্রেসের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক মোটেই মধুর নয়। কিন্তু সেই সম্পর্ককে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন সোনিয়া নিজে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর মমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রাখবেন সোনিয়া। এমনিতে কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক খারাপ হলেও সোনিয়ার সঙ্গে মমতার সম্পর্কে উষ্ণতায় ভাটা পড়েনি। দুজনেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেই সম্পর্ককে চাগিয়ে তোলার চেষ্টা করবেন সোনিয়া। কংগ্রেসের এক প্রধান নেতার কথায়, ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলসহ অনেক আঞ্চলিক দলকেই আমরা পাশে পেতে চাই। সে জন্যই যোগাযোগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই আঞ্চলিক দলের তালিকায় রয়েছে, মায়াবতীর বসপা, মুলায়মের সমাজবাদী পার্টি, চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির মতো দলগুলো। তবে এসব নেতা-নেত্রীদের মধ্যে মমতাকেই বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে কংগ্রেস। এ ব্যাপারে সোনিয়ার হিসাবটা স্পষ্ট। যেসব রাজনৈতিক দল মুসলিম ভোট পায় এবং অদূর ভবিষ্যতে যাদের বিধানসভা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে, তারা নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যেতে পারবেন না। তৃণমূলের ক্ষেত্রে দুটিই সত্য। ২০১৬ সালে রাজ্যে বিধানসভা ভোট হবে। তাছাড়া রাজ্যের মুসলিম ভোটের একটা বড় অংশ পাওয়ার ব্যাপারে মমতা সচেষ্ট। তাই তার পক্ষে মোদিকে সমর্থন করা সম্ভব নয়। তার উপরে মোদি সম্প্রতি রাজ্যে গিয়ে মমতাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করার পর থেকেই তৃণমূলনেত্রী সম্পর্কে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব পাল্টেছে। তার পর থেকেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে মমতা সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ভাবনারও শুরু। ভোটপর্ব চলার সময় থেকেই কংগ্রেস নেতারা কীভাবে নরেন্দ্র মোদিকে ঠেকানো যায়, তার কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন। সোমবার কোর কমিটির বৈঠকেও সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কীভাবে সেটা হবে, কংগ্রেস নিজে সরকার গঠন করতে যাবে, না কি আঞ্চলিক দলের কাউকে প্রধানমন্ত্রী করা হবে, সেই সব বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা হয়নি। ভোটের ফলাফল না দেখে সেই আলোচনা হওয়ার কথাও নয়। কিন্তু কংগ্রেস মোটামুটি সব বিকল্পই খোলা রাখছে।

অপরাধ, সমাজ ও রাষ্ট্র

তঁার কোনো নিকট আত্মীয়স্বজন ছিল না। আমরা ডাকতাম সাধু ভাই। সাধু তিনি ছিলেন না। প্রথম জীবনে তো নয়ই। ছিলেন লম্পট। তঁাকে ডাকা উচিত ছিল লুচ্চা ভাই। কিন্তু আমি যখন তঁাকে দেখি তখন তিনি লম্পট নন, নিম্ন আয়ের নিরীহ সজ্জন ব্যক্তি। জিন্দাবাহার লেনে এক ছাপাখানার দপ্তরি। ভালো বইবঁাধাই করতেন। সারা দিন বসে বসে কাজ করে রাতে নিয়মিতভাবে গঁাজা সেবন করে বুঁদ হয়ে থাকতেন। আমাকে বিশেষ স্নেহ করতেন। আমার বইটই পড়ার অভ্যাস ছিল বলে সেই পঞ্চাশের দশকে তিনি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন কার্ল স্যান্ডবার্গের পথে প্রান্তরে, সরদার জয়েনউদ্দিনের গল্পের বই বীরকণ্ঠীর বিয়ে, খরস্রোত প্রভৃতি বই। তিনি শুধু গাঞ্জুটিয়া ছিলেন না, ছিলেন একজন খুনি। কীভাবে তিনি সাধু আখ্যা পেলেন সেই কাহিনি তঁার মুখেই শুনেছি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের মধ্যে তিনি চাকরি করতেন কলকাতার এক ছাপাখানায়। পদ্মাপারে তঁাদের গ্রামের এক প্রান্তে বাস করতেন এক বোবা জেলে ও তঁার যুবতী বউ। একবার ছুটিতে বাড়ি এসে জেলের বউয়ের সঙ্গে গড়ে তোলেন অনৈতিক সম্পর্ক। মাছ ধরতে জেলে থাকেন সারা রাত পদ্মায়। একদিন মধ্যরাতে বাড়ি ফিরে দুইজনকে ঘরের মধ্যে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে জেলের মাথার রক্ত চড়ে যায়। বঁটি দিয়ে তঁাকে মারতে উদ্যত হতেই দা দিয়ে জেলেকে তিনি কোপ দেন। রক্তপাতে জেলে মারা যান। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তঁার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। বছর আটেক জেল খাটার পর পঞ্চাশের শুরুতে তিনি ছাড়া পান। মুক্তি পেয়ে যখন গ্রামে আসেন, তখন তঁার দীর্ঘ চুল ও লম্বা দাড়ি। লোকে নাম দিল সাধু। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বিয়ে করেছিলেন তঁার চেয়ে ১৫ বছরের বড় এক বিধবাকে। বছর দুই ঘর করার পর তঁাকে তালাক দেন। বিয়ে করেন তঁার চেয়ে ৩০ বছরের ছোট অতি অঁাটসঁাট শরীরের এক দরিদ্র সদ্যযুবতীকে। সন্তানসন্ততি নিয়ে এ সংসার তঁার সুখের হয়েছিল।
দোষের মধ্যে দোষ ছিল গঁাজার কলকেতে দম দেওয়া। তঁাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, খুনের মামলা করেছিল কে? জেলের বউ? তিনি বলেছিলেন, সকালে উঠানে জেলের মৃতদেহ দেখে ইউনিয়ন বোর্ডের মেম্বর চৌকিদারকে দিয়ে থানায় খবর দেন। থানা নিজের থেকেই মামলা করে। আমাকে গ্রেপ্তার করে চালান দিলে আমি কোনো উকিল মোক্তার রাখিনি। সরকার থেকে আমাকে উকিল রেখে দেয়। কোর্ট দারোগার সঙ্গে আমার উকিলের জেরা হতো। অর্থাৎ অপরাধী বিত্তহীন হওয়ায় তঁার আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যবস্থা রাষ্ট্রই করে দেয়। তিনি জানান, তঁার উকিল তঁাকে বঁাচানোর জন্য বা কম শাস্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। হিন্দু জেলের হত্যাকাণ্ডে মুসলমান আসািমর পক্ষে হিন্দু উকিল তঁার সাধ্যমতো পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। সেটা ব্রিটিশ আমলের একেবারে শেষের দিক। আইনের শাসন বলতে যা বোঝায় তখন তা ছিল, যদিও দেশটি ছিল পরাধীন। পাকিস্তানি আমলেও আইনের শাসনের এই ধারা অব্যাহত ছিল, যদিও দেশে গণতন্ত্র ছিল না অধিকাংশ সময়। রাজনৈতিক মামলা-মোকদ্দমা ছাড়া সাধারণ অপরাধের বিচারে কোনো রকম হস্তক্ষেপ ছিল না। পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট-আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতেন। সে জন্য জেলা ও দায়রা জজ তো দূরের কথা, মুনসেফ পর্যন্ত সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে যেতেন না, পাছে কেউ তঁার কাছে তদবির করে। উল্লেখ করা কাহিিন থেকে যে জিনিসটি বোঝার আছে তা হলো, কোনো সভ্য সমাজে যে ব্যক্তি যেখানেই অপরাধ করুক, রাষ্ট্রের কর্তব্য তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া। পুলিশ ও প্রশাসনের কাজ অপরাধ আমলযোগ্য হলেই তা আইনের আওতায় আনা, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা। আদালতের দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে বিচারকাজ সম্পন্ন করা। আসািম নিঃস্ব না বিত্তবান, অসহায় না প্রভাবশালী, তা বিবেচ্য নয়। ভাওয়ালের রাজকুমারের চাঞ্চল্যকর মামলার কথা অনেকেই জানেন। অপরাধ মধ্যরাতে নির্জনে, না দিনদুপুরে প্রকাশ্য রাস্তায় বহু লোকের সামনে সংঘটিত হলো, তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবার বিষয় নয়। আজকাল প্রায়ই শোনা যায়, থানার পুলিশ বলে, ‘আমরা জানি না’, ‘কেউ মামলা করে নাই’, ‘অভিযোগ এলে আমলে নেব’ ইত্যাদি। এসব আইনের শাসনের কোনো কথা হতে পারে না। ওই লোকটি মধ্যরাতে পরস্ত্রীতে উপগত হয়েছিলেন। খুনেরও কোনো সাক্ষী ছিল না। জেলের বউ ছিলেন খুনির পক্ষে। থানায় কেউ এজাহার দেয়িন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করে। আসািমকে খঁুজে বের করে। চার্জশিট দেয়। মামলার সময় আসািমকে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য রাষ্ট্র নিজের অর্থে তঁার জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেয়। আইন-আদালত যদি নির্ভুল ও নিরপেক্ষভাবে নিজস্ব গতিতে চলে, তাহলে দণ্ডপ্রাপ্ত আসািমরও কোনো

হাসপাতাল পরিদর্শন

কান টানলে যেমন মাথাও চলে আসে, তেমনি চিকিৎসক সম্পর্কে বলতে গেলে চিকিৎসালয় তথা হাসপাতালের কথাও এসে যায়। আর বিলেতের জোক্বুকে পড়েছিলাম: মানুষ অসুস্থ হলে যায় হসপিটালে। হর্স (ঘোড়া) অসুস্থ হলে কোথায় যাবে? কোথায় আবার, হর্সপিটালে! তা জীবন-নাট্যের-জীবনের হাসি-কান্না, রোমান্স-ভালোবাসার কত অসংখ্য দৃশ্যই না প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত হয়ে থাকে বিভিন্ন হাসপাতালে, যেগুলোর অধিকাংশই চিত্তাকর্ষক। নীহাররঞ্জন গুপ্তের লেখা হসপিটাল উপন্যাসটি যঁারা পড়েছেন, তঁারা সবাই একবাক্যে আমার সঙ্গে একমত হবেন। আর আমি যদি আইএসসি পাস করার আগে উপন্যাসটি পড়তাম, তাহলে স্নাতক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি না হয়ে বোধ করি তৎকালে পার্শ্ববর্তী ঢাকা মেডিকেল কলেজেই ভর্তি হতাম। সে যা হোক। আমার কনিষ্ঠ ছেলে, যে বর্তমানে এক কন্যাসন্তানের গর্বিত বাবা, জন্মগ্রহণ করেছে লন্ডনে; আমি তখন ওখানে আমাদের দূতাবাসে সরকার কর্তৃক পদায়িত। মাত্র ছয় মাস বয়সে ওর পেটের অসুখ হওয়ায় নিয়ে গেলাম নিকটবর্তী নামকরা সেইন্ট জর্জেস হসপিটালে।\
উইক এন্ডে বড় চিকিৎসকেরা থাকেন না; নবীন চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বললেন, পেটের ভেতরে অঁাত প্যঁাচ খেয়ে গেছে, অপারেশন করে ঠিক করতে হবে। বাধ্য হয়ে সম্মতি দিলাম। কিন্তু অপারেশনের পরে তঁারা বললেন, পেট কাটার পূর্বক্ষণেই তা এমনিতে সেরে গেছে; যা হোক, আমরা ওর অ্যাপেনডিক্স কেটে ফেলে দিয়েছি। আমি বললাম, ‘থ্যাংক ইউ ডক্টর, ২০-৩০ বছর পরের একটা অপারেশন এখন সারার জন্য। পরে শুনলাম, নবীন চিকিৎসকেরা হাত পাকানোর জন্য নাকি এসব করে থাকেন। আর এই যদি হয় বিলেতের অবস্থা, তাহলে...। তো মানুষের শরীরের ভেতরে অ্যাপেনডিক্স বলে একটা উপ-অঙ্গ আছে, যেটার কার্যকারিতা বা প্রয়োজনীয়তা চিকিৎসকেরা অদ্যাবধি বের করতে পারেননি বিধায় নাম দিয়েছেন ‘অ্যাপেনডিক্স’ তথা বাড়তি অংশ এবং অন্য কোনো কারণে পেটে অপারেশন করলে তঁারা এটা কেটে ফেলে দেন; কেননা পরবর্তী সময়ে এটাতে ইনফেকশন হলে পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন না করলে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে। তা এটা নিয়েও অনেক মজার গল্প আছে, যেমন: একজন গভীর রাতে পরিচিত শল্য চিকিৎসককে টেলিফোন করেছেন, ‘ডাক্তার সাহেব, তাড়াতাড়ি আসুন; আমার স্ত্রীর অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা বেড়েছে, অপারেশন করতে হবে।’ চিকিৎসক বললেন, ‘গত বছর আপনার স্ত্রীর অ্যাপেনডিক্স অপারেশন করে কেটে ফেলে দিয়েছি। অ্যাপেনডিক্সের অপারেশন।

শেষ পর্বে হিংসা ও সন্ত্রাসের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ

যাবতীয় আশঙ্কা সত্যি প্রমাণ করে গতকাল সোমবার লোকসভা নির্বাচনের শেষ পর্বে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ব্যাপক হিংসা ও সন্ত্রাসের সাক্ষী থাকল। সকাল থেকেই বুথ দখল, বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথ থেকে জোর করে েবর করে দেওয়া এবং ভোট দেওয়া ঠেকাতে গ্রামবাসীর ওপর সশস্ত্র হামলার অসংখ্য ঘটনার খবর আসতে শুরু করে। প্রায় প্রতিটি ঘটনাতেই অভিযোগের তির শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। সবচেয়ে বড় হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে বসিরহাট লোকসভা আসনের অন্তর্গত হাড়োয়া বিধানসভা এলাকার ব্রাহ্মণচক গ্রামে। সেখানে প্রায় ২০০ গ্রামবাসী তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসে দীর্ঘদিন গ্রামছাড়া থাকার পরে মাত্র দুদিন আগে গ্রামে ফিরেছিলেন ভোট দিতে। এদিন সকালে তাঁরা একসঙ্গে বুথের উদ্দেশে রওনা দিলে একদল দুষ্কৃতকারী তাঁদের ওপর গুলি চালায়৷ এতে একজন নারীসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হন৷ আরও ১৭ জন চপার ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। দুষ্কৃতকারীদের নেতৃত্ব দিতে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক ঊষা রািন মণ্ডল ও তাঁর স্বামীকে দেখা গেছে বলে গ্রামবাসী অভযোগ করেন। বহরমপুর, বনগাঁ, ব্যারাকপুর, দমদম, জয়নগর মথুরাপুর, কাঁথি, ঘাটাল, যাদবপুর, দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতাসহ বিভিন্ন আসন থেকে গন্ডগোলের খবর পাওয়া গেছে৷ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সশস্ত্র লোকজন বুথে ঢুকে বিরোধী এজেন্টদের বের করে বুথ দখল করেছে।
কোথাও কোথাও বিরোধীদের বুথে না আসতে হুমকি দেওয়া হয়৷ হামলা থেকে নারীদেরও নিষ্কৃতি মেলেনি। প্রায় প্রতিটি জায়গায় রাজ্য পুলিশ উপস্থিত থাকলেও গুন্ডামিতে বাধা দেয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোথাও কোথাও দেখা গেলেও তাদের স্থানীয় প্রশাসনের আজ্ঞাবহ করে রাখায় তারাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় ছিল৷ সকাল থেকেই সংবাদমাধ্যম দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার ভোট-প্রক্রিয়ায় হিংসার মাধ্যমে বাধা দেওয়ার খবর পরিবেশন করলেও রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুধীর কুমার রাকেশ দুপুর পর্যন্ত দাবি করেন, ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে। পরে দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তিনি হাড়োয়ার গ্রামে যান ও পুলিশকে অবিলম্বে তৃণমূলের সেই বিধায়ককে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে রাকেশ স্বীকার করেন, পুলিশ প্রশাসন গ্রামবাসীর নিরাপত্তা ও ভরসা জোগাতে ব্যর্থ। এর পরই পুলিশ সেই বিধায়ক ও তাঁর স্বামীর খোঁজে তাঁদের বাড়ি তল্লাশি করে। কিন্তু তাঁদের পাওয়া যায়নি। আগের দফায় ভোট চলাকালে বাঁকুড়া আসনে এক জায়গায় স্থানীয় বিধায়ক দলবল নিয়ে বুথে ঢুকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও তাঁর সহকর্মীদের মারধর করে পরে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপন করেন। নির্বাচন কমিশন আশ্বাসের পরও ভোট দিতে না পেরে বিভিন্ন এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। বনগাঁ আসনের কল্যানীতে বুথ দখল করে শাসক দল ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলেও তারা হস্তক্ষেপ করেনি৷
এরপর ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বনগাঁয় সিপিএম প্রার্থী দেবেশ দাস দাবি করেন, কল্যানীতে অন্তত ৫০টি বুথ দখল করেছে তৃণমূল কর্মীরা। ব্যারাকপুরের এক গ্রামে ভোটাররা ভোট দিতে না পারায় ক্ষোভে নির্বাচন কমিশনের পরিদর্শকের গাড়ি ভাঙচুর করেন। এবারের নির্বাচনে বারবারই একশ্রেণির প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যেই শাসক দলের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করতে দেখা গেছে। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বিষয়টি৷ এ নিয়ে হইচই হলে নির্বাচন কমিশন হাতে গোনা কয়েকজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সরিয়েছে, তবে প্রকৃত সংখ্যাটা অনেক বেশি বলেই ইঙ্গিত পাওয়া েগছে। গতকাল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ডহারবার আসনের বিষ্ণুপুরে একটি বুথে বিরোধী দলের এজেন্টদের েবর করে দিয়ে ছাপ্পা ভোট দিতে দেখে একটি নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলে তিনি ফোনে বাইরে খবর পাঠিয়ে সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীদের ডেকে আনেন। তারা সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানকে মারধর করে, ক্যামেরা ভেঙে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। দক্ষিণ কলকাতার কংগ্রেস প্রার্থী মালা রায় অভিযোগ করেন, গার্ডেনরিচে বহু বুথেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা উদ্যোগী হয়ে বিরোধী দলের এজেন্টদের েবর করে দিচ্ছেন৷
হিংসার কবল থেকে কলকাতা রেহাই পায়নি। সকাল থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিরোধী দলের এজেন্টদের মারধর, ভোটদাতাদের আটকাতে রাস্তায় রাস্তায় তৃণমূলের কর্মীরা হাজির ছিলেন। উত্তর কলকাতা কেন্দ্রের বিজেপির প্রার্থী রাহুল সিংহ দাবি করেন, এভাবে সন্ত্রাস করলেও মানুষ ব্যালট বাক্সে ঠিকই এর জবাব দেবেন। গতকাল সকাল থেকেই বুথে বুথে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তা সত্ত্বেও ভোটের লাইনে নারী ও নতুন প্রজন্মের ভোটদাতাদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। এই তরুণ প্রজন্মের কাছে এবারের ভোটের গুরুত্ব কতখানি, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে দমদম কেন্দ্রের দুই নতুন ভোটার উষসী মিত্র ও সোমা মিত্র। তাঁদের কথায়, নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আবার, বাম জমানার অবসানের পর এখনো মমতা জমানায় শিল্পে নতুন উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ নেই। বন্ধ কারখানার সংখ্যা বাড়ছে। বাড়ছে বেকারত্ব। উষসী ও সোমা সে কথাটাও মনে করিয়ে দিয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে পাঁচ প্রশ্ন

ভারতে গতকাল সোমবার শেষ হলো লোকসভা নির্বাচন৷ ছয় সপ্তাহ ধরে নয় পর্বে ভোট নেওয়া হয়৷ নির্বাচন নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা ও তার উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
এই নির্বাচন এত বেশি সময় নিল কেন?
ভারতজুড়ে প্রায় ৮১ কোটি ৪০ লাখ ভোটার৷ ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনে পরিণত হয় এটি৷ আয়োজকদের ভাষ্যমতে, সারা দেশে এক দিনে ভোট নেওয়া অসম্ভব একটা ব্যাপার৷ কারণ, দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নয় লাখ ৩০ হাজারটি৷ এক দিনে এতটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা দেওয়া এবং কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ পরিচালনা সত্যিই একটা কঠিন কাজ৷ মূলত এ কারণেই নয় পর্বে এ নির্বাচন হলো৷ আগামী শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা করা হবে৷
ফলাফল কী হতে পারে?
বিভিন্ন জরিপ ও বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, ভোটাররা লাগামছাড়া দুর্নীতি, বেকারত্ব ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তুষ্ট৷ তাই তাঁরা নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার পক্ষে রায় দিতে পারেন৷ গতকাল নির্বাচন-পরবর্তী জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের হার অনেকটা নিশ্চিত৷
জরিপ কী বলছে?
লোকসভার মোট আসন ৫৪৩টি৷ বিভিন্ন জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, নির্বাচনে বিজেপি জিতে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি৷ অবশ্য বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২ আসন পাবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন জরিপের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে৷ আবার অতীতে বিভিন্ন জরিপে যেসব আভাস দেওয়া হয়েছে, তা পরে ভুল প্রমাণিতও হয়েছে৷ বিশেষ করে ২০০৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস জিতবে, তা আন্দাজ করতে ব্যর্থ হয়েছিল জরিপগুলো৷ আবার গত বছর দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুমান করতেও ব্যর্থ হয়েছিল তারা৷ ওই নির্বাচনে একেবারে অপ্রত্যাশিতভাবেই ভালো ফল করে সরকার গঠন করেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (এএপি)৷
নতুন সরকার কবে দায়িত্ব নেবে?
কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, নিয়মানুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতি সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলকে অন্য দলের সমর্থন নিয়ে জোট গঠনের আহ্বান জানাবেন৷ সেিট হলে নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে বেশ সময় লেগে যেতে পারে৷ অনেক সময় কয়েক সপ্তাহও লেগে যায়৷ কারণ, ছোট যেসব দলকে জোটে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়, তারা নানা দাবিদাওয়া তুলে ধরে৷ তাদের সঙ্গে দর-কষাকষি করতে হয়৷
বিজেপি সরকার গড়লে, তার ধরন কেমন হতে পারে?
নরেন্দ্র মোদি বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে প্রধানমন্ত্রী হলে দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল করার ওপর গুরুত্ব দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ অবশ্য, সমালোচকেরা বলছেন, মোদি বিভাজনের রাজনীতি করে থাকেন৷ তিনি ২০০২ সালের আলোচিত গুজরাট দাঙ্গা থামাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন৷ সূত্র: এএফপি

গণতন্ত্রের বছর ২০১৪

২০১৪ সাল হবে বিশ্বের অন্যতম গণতন্ত্রের বছর৷ এই বছর বিশ্বের অন্তত ৫০টি দেশের জনগণ সরকার নির্বাচন করছে৷ বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব রয়েছে এবং ইউক্রেন, নাইজেরিয়া, তিউনিশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে দিকনির্দেশনা দেবে—এমন কিছু দেশেও নির্বাচন হচ্ছে এ বছরই৷ বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোট শেষ হয়েছে গতকাল সোমবার৷ এবারের লোকসভা নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ভোটার উপস্থিতিও ছিল ব্যাপক৷ দেশটির সুশীল সমাজও আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় বলে মনে হয়েছে৷ সুশীল সমাজের অনেককেই আগের নির্বাচনগুলোতে নিষ্ক্রিয় দেখা গেলেও এবার তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি নজর কেড়েছে৷ এতে বোঝা যায়, দেশটিতে সুশীল সমাজের অবস্থান আরও শক্ত হচ্ছে৷ আর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সম্প্রতি পার্লামেন্ট ও স্থানীয় নির্বাচন হয়েছে৷
আগামী ৭ জুলাই দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে৷ বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো চলতি সপ্তাহে নির্বাচন হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকায়৷ জনগণ অবশ্য তাঁর দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) পক্ষেই রায় দিয়েছে৷ দক্ষিণ এশিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তানের জনগণ গত ৫ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয়৷ কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আগামী মাসে দ্বিতীয় পর্বে ভোট হবে৷ চলতি মাসের শেষদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের নির্বাচন হবে৷ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ পর্যায়ে নিতে না পারায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্বে এবার পরিবর্তন আসছে, এটা বলা যায়৷ এ ছাড়া মিসর, সুইডেন ও ব্রাজিলের জনগণও এবার নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দেবে৷

বার্লিনে নগ্ন নারী ফুটবল প্রতিযোগিতা!

ইউরোপের মানুষ বৈচিত্রময়। তাই এবার শখ পুরনে আয়োজন করেছে নগ্ন নারী ফুটবলের। লন্ডনের দ্য সার এ ছবিও প্রকাশ করেছে। নারী ফুটবলারদের পোষাক নিয়ে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন ও ফিফার দ্বন্দ্বের কথা সবারই জানা। ইরানী ফুটবল ফেডারেশনের দাবি ছিল- নারী ফুটবলারদেরকে খেলার মাঠেও হিজাব পড়তে হবে! কিন্তু ইউরোপিয়দের ভাবনাটা ভিন্ন। সেখানে চলছে নগ্ন নারীদের ফুটবল প্রতিযোগিতা! চোখ ছানাবড়া করা প্রথম নিখিল ইউরোপ নগ্ননারী চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়েছে জার্মানির বার্লিনের এস্টোটার্ফ সমৃদ্ধ স্টেডিয়ামে ! ইতালি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক আর জার্মানির মেয়েদের লড়াই এরই মধ্যে মাঠে গড়িয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে খেলার জগতে সবচেয়ে বড় আসর ফুটবল বিশ্বকাপ। পুরুষদের বিশ্বকাপের আসরের পরের বছরেই নারীদের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করবে ফিফা।

২০১৫ সালে নারী ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে কানাডাকে বেঁচে নিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সব বয়সী নারীদের অংশ নিতে বাঁধার মধ্যে যাদের বয়স ২০ বছরের নিচে রয়েছে তারাই পারবে এই বিশ্বকাপে খেলতে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যে স্বাগতিক দেশ কানাডার কয়েকটি শহরের নাম ঘোষণা করেছে ফিফা। অনুর্ধ্ব-২০ নারীদের এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে কানাডার এডমনটন, মন্ট্রিল, টরেন্টো ও মনকটন নামক শহরে। এর এক বছর পর ২০১৫ সালের নারী বিশ্বকাপের মূল আসরও অনুষ্ঠিত হবে এই শহরগুলোতে।

মহিলা ফুটবল প্রতিযোগিতার দায়িত্বে থাকা ফিফার ডেপুটি পরিচালক তাতজানা হান্নি বলেন, “এডমনটন, মন্ট্রিল, টরেন্টো ও মনকটন স্বাগতিক শহর হওয়াটা আমাদের জন্য খুবই আনেন্দের। এখানে ২০১৫ সালের নারীদের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে।