Sunday, August 9, 2009

বিশ্বকাপ জিতে তবেই ক্ষান্তি

টেন্ডুলকার : স্বপ্ন ১৫০০০ টেস্ট রান
টেস্টে ১২৭৭৩ এবং ওয়ানডেতে ১৬৬৮৪ রান, মোট ২৯৪৫৭ রান। ৪২ ও ৪৩টি সেঞ্চুরি মিলিয়ে ৮৫টি সেঞ্চুরি। ১৪৪টি ফিফটি। টেস্ট-ওয়ানডের সর্বোচ্চ রান আর সেঞ্চুরির মালিক। ক্রিকেটের সব গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড তাঁর অধিকারে। তার পরও দুই দশকের ক্যারিয়ারটা দেখে শচীন টেন্ডুলকার বলছেন, ‘এ পর্যন্ত যা করেছি, তাতে আমি মোটেও তৃপ্ত নই।’ নির্দিষ্ট করে দুটি অতৃপ্তির কথা বলছেন ভারতের এই ‘লিটল মাস্টার’। এক, টেস্টে ছুঁতে চান ১৫ হাজার রানের মাইলফলক। দুই, জিততে চান ২০১১ বিশ্বকাপ।
গতকাল প্রকাশিত উইজডেন ক্রিকেটার ম্যাগাজিনে এক সাক্ষাত্কারে এই অতৃপ্তির কথা বলেছেন টেন্ডুলকার। আর তাই আগামী দুই বছরের মধ্যে অবসরসংক্রান্ত কোনো ভাবনাকে মনে ঠাঁই দিতে চান না, ‘আমি অবসর নিয়ে মোটেও ভাবিনি। ক্রিকেটটা আমি ভালোই খেলি। তাই আরও কিছুদিন খেলে যেতে চাই। ক্রিকেটের প্রতি আমার ভালোবাসা আগের মতোই অটুট। এটাই আমার পেশা, নেশাও। ভাবতে ভালো লাগে, ক্রিকেট এখনো আমার হূদয়ে।’
টেস্টে ১৫ হাজার রানের ভাবনা টেন্ডুলকারের মাথায় ঢুকিয়েছেন আরেক ‘লিটল মাস্টার’ সুনীল গাভাস্কার, ‘সুনীল গাভাস্কার একবার আমাকে বলেছিলেন, তিনি চান আমি যেন টেস্টে ১৫ হাজার রান করি। বলেছিলেন, এটা না করতে পারলে তিনি রাগ করবেন। আমি তাঁর এত বড় এক ভক্ত, তাঁর কথামতো সেটি করতে পারলে তো দারুণ হবে। কিন্তু এটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য নয়।’
অন্য লক্ষ্যটির কথা তো জেনেই গেছেন। সুদীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে একটা বিশ্বকাপ শিরোপাও জেতা হয়নি তাঁর। অথচ খেলে ফেলেছেন ৫টি বিশ্বকাপ। নিজের ষষ্ঠ এবং শেষ বিশ্বকাপটা হচ্ছে নিজের ঘরেই। এবং এবার বিশ্বকাপ জেতার শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন এই ৩৬ বছর বয়সী।
উইজডেন-এর এই দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে টেন্ডুলকার বলেছেন তাঁর সম্পর্কে জন বুকাননের একটা মন্তব্য নিয়েও। সাবেক অস্ট্রেলীয় কোচ বলেছিলেন, শর্ট বলে টেন্ডুলকারের দুর্বলতা রয়েই গেছে। কিন্তু টেন্ডুলকারের জবাব, ‘এটা স্রেফ তাঁর মন্তব্য। সব সময় জন বুকানন যে সঠিক কথা বলবেন তারও কোনো মানে নেই। আমি শর্ট বল ঠিকমতো সামলাতে না পারলে এতগুলো রান কখনোই করতে পারতাম না। তাঁর মন্তব্য হয়তো পাল্টাতে হবে।’
সাক্ষাত্কারে টেন্ডুলকার টি-টোয়েন্টির উত্থান আর টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট ধ্বংস হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেকটা হলো ফলাহারের মতো, মূল খাবারের শেষে যেটা পরিবেশন করা হয়। কে শুধু ফলাহারেই পেট ভরাতে চায়? টেস্ট ক্রিকেটই আমার মূল খাবার, যেখানে আমিষ-নিরামিষ সবই আছে। এর পর ফলাহার হিসেবে টি-টোয়েন্টি পেলে মন্দ হয় না।’
তবে ভয়েরও একটা দিক তিনি ঠিকই টের পাচ্ছেন, ‘হয়তো ১০ বছর পর সবাই ক্রিকেট ব্যাট হাতে তুলে নেবে শুধু টি-টোয়েন্টি থেকে আসা অজস্র টাকার লোভে। কিন্তু টাকার প্রশ্ন কেবল অনুষঙ্গ হিসেবে আসা উচিৎ। খেলাটার প্রতি অনুরাগ আর আকাঙ্ক্ষাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আমি কেবল রান করা নিয়েই ভাবি, (বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে) চুক্তি নিয়ে নয়।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে খেলতে ভারতে জিয়া-রিফাতরা

বিশ্বকাপ দাবার বাছাইপর্বে খেলতে ভারতে গেলেন বাংলাদেশের গ্র্যান্ড মাস্টার জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার এবং জাতীয় মহিলা চ্যাম্পিয়ন শারমীন সুলতানা। আগামীকাল থেকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এই প্রতিযোগিতার উন্মুক্ত বিভাগে খেলবেন জিয়াউর ও রিফাত। মেয়েদের বিভাগে খেলবেন শারমীন।
বিশ্বকাপ দাবায় এশিয়া অঞ্চল থেকে খেলার সুযোগ পাবেন ১৯ জন খেলোয়াড়। যার ১০ জন এরই মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন এশিয়ান দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে। বাকি নয়জনকে বেছে নেওয়া হবে ৩.১ থেকে ৩.৬ অঞ্চলের প্রতিযোগিতা থেকে। বাংলাদেশ খেলবে ৩.২ অঞ্চলে। এখানে বাংলাদেশ ছাড়াও অংশ নিচ্ছেন ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ভুটান ও মালদ্বীপের খেলোয়াড়েরা।

প্রস্তুতি ম্যাচে ৭ উইকেটে হার বাংলাদেশের

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে পরশু ভোররাতে (তিনটায়) জিম্বাবুয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর পরদিনই মাঠের পারফরম্যান্সেই তারা বুঝিয়ে দিল তাদের ভ্রমণক্লান্তি। কাল জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটা তারা হারল ৭ উইকেটে। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ জিতেছে প্রায় ১২ ওভার বাকি থাকতেই।
প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে ১৮০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেছেন রকিবুল হাসান। মুশফিকুর রহিম ৩২ ও নাঈম ইসলাম ১৭ রান করেন। টিমাইসেন মারুমা ৩টি ও চামু চিবাবা ২টি উইকেট নেন।
জবাবে ফরস্টার মুতিজাওয়া (৭৮*) ও অধিনায়ক টাটেন্ডা টাইবুর অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরির (৬৬*) সুবাদে ৩৮.১ ওভারে ৩ উইকেটেই টপকে যায় বাংলাদেশের রান। দুই পেসার—নাজমুল ২টি ও সৈয়দ রাসেল ১টি উইকেট পেয়েছেন।
জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের ওয়ানডে পরিসংখ্যান খুব একটা ভালো নয়। ১৫ ওয়ানডের মাত্র ৬টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান ১০৩। হারারেতে ২০০১ সালের ওই ম্যাচে অবশ্য ১২৭ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। কাল প্রস্তুতি ম্যাচেও মাত্র ১৮০ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করল তাদের ওপর দিয়ে এই সফরও স্নায়ুপীড়নটা ভালোই চালাবে।
আগামীকাল থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে এই বুলাওয়েতেই।

ওর্তেগাকে ম্যারাডোনার ডাক

ওর্তেগা : আবার দৃশ্যপটে
ফুটবলে তাঁর শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। রিভার প্লেটের সঙ্গে দুর্দান্ত সব ফর্ম সেই সঙ্গে অপ্রতিরোধ্য ড্রিবলিং তাঁকে বানিয়ে দিয়েছিল ‘নতুন ম্যারাডোনা’। ফুটবলীয় কীর্তিতে শেষ পর্যন্ত ম্যারাডোনার নখের সমান হতে না পারলেও বিতর্ক আর মদের কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিকই ‘নাম’ রেখেছিলেন অ্যারিয়েল ওর্তেগা।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে ডাচ গোলরক্ষক ফন ডার সারকে ঢুস মেরে আলোচিত এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার যেন হারিয়েই গিয়েছিলেন। তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনলেন আসল ম্যারাডোনা। ৩০ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ওর্তেগাকে ডেকে পাঠিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ। অথচ ওর্তেগার বয়স হয়ে গেছে ৩৫!
তবে ম্যারাডোনার কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে, ওর্তেগাকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনার পেছনে কাজ করছে সহমর্মিতা। ম্যারাডোনা চান, মদের নেশায় তলিয়ে যেতে থাকা ওর্তেগা যেন নিজেকে ফিরিয়ে আনার নতুন প্রেরণা খুঁজে পান, ‘আমি ওর্তেগাকে দলে নিচ্ছি। ওর এখনো চিকিৎসা চলছে, পাশাপাশি চলছে অনুশীলন। ওর বেশি করে বাচ্চাদের কথা ভাবা উচিৎ। আমার দুই মেয়ে দালমা আর জিয়ান্নিয়ার কথা ভেবেছিলাম বলেই আমি নেশার জগৎ থেকে ফিরে আসতে পেরেছি। সে যদি তা করে, তাহলে সেও এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।’
ম্যারাডোনার সঙ্গে ১৯৯৪ বিশ্বকাপেও খেলেছেন। সেই ম্যারাডোনা যখন কোচের ভূমিকায়, আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারাটা ওর্গেতার জন্য যেন একটা স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণের উচ্ছ্বাস নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি সত্যিই খুব খুশি। আর্জেন্টিনার জার্সি আবার পরতে পারাটা তো আমার জন্য বিরাট কিছু একটা পাওয়ার সমান।

প্রথম দিনেই কাঁপছে ইংল্যান্ড

প্রায় আট মাস পর ফেরার মতোই
ফিরলেন স্টুয়ার্ট ক্লার্ক।
৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে
ফেরালেন অ্যাশেজের পথে
ঠিক ১০০ বছর আগে, এই লিডসের হেডিংলি টেস্টে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কাল টস জিতে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডকে দেখে মনে হলো, স্ট্রাউসরা বুঝি সেই শতবর্ষ পূরণের কোনো অনুষ্ঠান করছেন। ৬৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তো মনে হয়েছিল, এবারও বুঝি ওই ৮৭ রানের মতোই কোনো লজ্জায় পড়তে যাচ্ছে তারা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য শত রানের গণ্ডি পেরিয়েই ইংল্যান্ড অলআউট হয়েছে (১০২ রান)।
সিরিজে সমতা ফেরানোর ঘ্রাণ পেয়ে ক্ষুধার্ত বাঘের মতো যেন ফুঁসে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া। একটা সময় টি-টোয়েন্টির গতিতে টেস্টে রান তোলার প্রদর্শনী সাজিয়ে বসেছিলেন রিকি পন্টিং আর শেন ওয়াটসন! আটের ওপরে রান তুলছিলেন তাঁরা। সেই তুলনায় রানের গতি এখন স্লথ হলেও পাঁচের ওপরে। ১২ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর: ৬২/১।
পুরো স্কোরকার্ড দেখলে মনে হবে, ইংল্যান্ডের আসল সর্বনাশটা বোধহয় পিটার সিডল করেছেন। ৯.৫ ওভারে ২১ রানে ৫ উইকেট শিকার। সিডলের ইনিংস-সেরা বোলিং। এর আগেও একবার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেবার রান দিয়েছিলেন ৫৯।
আসলে ইংলিশ লেজটা ছেঁটে দিয়েছেন সিডল। শেষ চারটি উইকেট তাঁর। দিনের প্রথম আঘাতও হেনেছিলেন তিনি, স্ট্রাউসকে মাত্র ৩ রানে আউট করে। কিন্তু আসল কাজ করেছেন আট মাস পর টেস্ট দলে ফেরা স্টুয়ার্ট ক্লার্ক। প্রথম তিন ওভারের দুটোই মেডেন পাওয়া এই ফাস্ট বোলার নিজের চতুর্থ ওভারে কলিংউডকে ফিরিয়ে দেন। এর আগে বেন হিলফেনহস রবি বোপারা আর মিচেল জনসন ইয়ান বেলকে ফিরিয়ে দিলে ৪২ রানে ৪ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
এক পাশ থেকে সুইং, পেস, বাউন্সে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন ক্লার্ক। লাঞ্চের আগেই ইংল্যান্ডের পরিণতি নিশ্চিত করে দেন আরও দুটি উইকেট নিয়ে। তখন তাঁর বোলিং ফিগারটি ছিল: ৭-৪-৭-৩!

মার্কিন চিত্রপরিচালক জন হিউজেসের জীবনাবসান

মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার জন হিউজেস (৫৯) আর নেই। গত বৃহস্পতিবার হিউজেসের মুখপাত্র জানান, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। আশি ও নব্বইয়ের দশকের বেশ কিছু জনপ্রিয় কমেডি চলচ্চিত্রের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
হিউজেসের নির্দেশনায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ফেরিস বুয়েলাস ডে অফ, দ্য ব্রেকফাস্ট ক্লাব, প্লেনস, ট্রেইনস অ্যান্ড অটোমোবাইলস উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া প্রিটি অ্যান্ড পিংক ও হোম অ্যালোন-এর মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রগুলোর চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি। হিউজেসের সর্বশেষ পরিচালিত চলচ্চিত্রটি ছিল ১৯৯১ সালে নির্মিত ক্রুলি সু।

চীনের দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন মোরাকোট

চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার দিকে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘মোরাকোট’। আজ শনিবার টাইফুনটি ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। প্রদেশটি থেকে গতকাল শুক্রবার ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩০ হাজারের বেশি নৌকাকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফুজিয়ান প্রদেশের ২১ হাজার ১৯০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩৪ হাজার নৌকাকে বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রাদেশিক সরকার গতকাল মুঠোফোনে ৮০ লাখ ৪০ হাজার মেসেজ পাঠিয়ে লোকজনকে টাইফুনের গতিবিধি জানিয়ে সতর্ক করেছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে প্রথম হিস্পানিক বিচারপতি সোটোমেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে সোনিয়া সোটোমেয়রের (৫৫) মনোনয়ন অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট। সোটোমেয়র যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের প্রথম হিস্পানিক ও তৃতীয় নারী বিচারপতি। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই মনোনয়ন দেন।
মনোনয়নের পক্ষে ভোট দেন ৬৮ জন, বিপক্ষে ৩১ জন। সোটোমেয়রের পক্ষে ছিলেন ৫৯ জন ডেমোক্র্যাট ও নয়জন রিপাবলিকান।
সোটোমেয়রের মনোনয়ন অনুমোদনকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তিনি বলেন, সোটোমেয়রের মেধা, ইতিহাস ও তাঁর চারিত্রিক সততার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছে সিনেট।

হুগো শাভেজের ‘পাঠ বিপ্লব’

ভেনেজুয়েলার বামপন্থী রাষ্ট্রনায়ক হুগো শাভেজ তাঁর দেশে পাঠ বিপ্লব শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে একটি বাম বিপ্লবাত্মক বই উপহার দিয়ে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বারাক ওবামাকে তিনি যে বইটি উপহার দিয়েছেন তা এডুয়ার্ডো গ্যালিয়ানোর একটি বিখ্যাত বাম বিপ্লব ক্ল্যাসিক। ওপেন ভেইনস অব ল্যাটিন আমেরিকা নামের বইটি হুগো শাভেজের কল্যাণে ইতিমধ্যেই নিউইয়র্ক টাইমসের সর্বোচ্চ বিক্রীত বইয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। হুগো শাভেজ কিছুদিন আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত এক ভাষণে তাঁর দেশের জনগণকে পাঠে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বিপ্লবী ভাষণে নির্দিষ্ট করে একটি স্লোগান জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। তা হলো ‘পাঠ’, ‘পাঠ’ এবং ‘পাঠ’। এত দিন বিশ্বনেতারা তাঁদের দেশের জনগণকে কাজ করতে উত্সাহিত করেছেন, কৃষিতে সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো নেতা জনগণকে পড়াশোনার নির্দেশ দিচ্ছেন, তাও আবার এক সরাসরি প্রচারিত ভাষণে, এমনটা বিশ্ব আর কখনো অবলোকন করেনি।
ভেনেজুয়েলায় রাস্তায় রাস্তায় মানুষকে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের মধ্যে সমাজতন্ত্রের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁদের মানবপ্রেম, মনুষ্যত্ব ইত্যাদি জাগ্রত করার লক্ষ্যেই এই সরকারি উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার তাঁদের দেশের মানুষকে পৃথিবীর অনেক ক্ল্যাসিক লেখার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে। এমন সব বই দেশের মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে যার বাজারমূল্য অনেক এবং এত দিন যে বইগুলো দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন রাস্তায় বই সংগ্রহের জন্য মানুষের বিরাট লাইন দেখে বলা যেতে পারে, হুগো শাভেজের এ উদ্যোগকে দেশের মানুষ স্বাগতই জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট শাভেজের পাঠ বিপ্লব দেশের মানুষের মধ্যে সাড়া ফেললেও অনেক বিজ্ঞজন এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, বিনামূল্যে বই বিতরণ ছাড়া এ উদ্যোগের অন্য উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তা ছাড়া চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পড়ে যাওয়ার কারণে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি যখন ধসের মুখোমুখি, ঠিক তখন বই পড়ার পেছনে লাখো ডলারের ভর্তুকি কোনোমতেই অর্থনীতির জন্য স্বাস্থ্যকর নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
অর্থনীতির কথা বাদ দিলেও সরকারের চাপিয়ে দেওয়া এই ‘পাঠ বিপ্লব’ মানুষকে তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থেকে বঞ্চিত করবে বলে অনেকে মনে করেন। প্রত্যেক নাগরিকেরই নিজের পছন্দে বই পড়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় জনগণ কেবল তাঁদের সরকারের চাপিয়ে দেওয়া বইগুলোই পড়তে বাধ্য হচ্ছে। তা সবই একই রাজনৈতিক মতাদর্শনির্ভর, যা ভেনেজুয়েলার জনগণের অধিকার হরণ করছে।
অনেকে বলছেন, এভাবে জনগণের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা যাবে না। এ পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার একমাত্র সময় স্কুলের প্রাইমারি পর্যায়। যে শিশুটির পাঠাভ্যাস ছোটবেলায় গড়ে ওঠে না তাঁর পক্ষে পরবর্তী সময়ে বই পড়ার অভ্যাস করা একটু কঠিন বৈকি।
এদিকে যে বইগুলো ভেনেজুয়েলা সরকার বিনামূল্যে বিতরণ করছে, সেগুলোর কপিরাইটসংক্রান্ত অনেক ধরনের জটিলতা রয়েছে এবং যেভাবে তারা বিতরণ করছে তা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।
সবকিছু ছাপিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের এ উদ্যোগ নিয়ে যথেষ্টই গর্ব অনুভব করছে। এমনকি তারা এটাকে প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের গত ১০ বছরের শাসনকালের অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা মনে করে, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা একটি জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠছে।
ভেনেজুয়েলা জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠুক আর না-ই উঠুক, তাঁদের এ উদ্যোগ সফল কি না তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। বিবিসি অবলম্বনে নাইর ইকবাল

কোনো ছাড় না দেওয়ার ইঙ্গিত মনমোহন সরকারের- চীন-ভারত সীমান্ত সংলাপ

ত্রয়োদশ সীমান্ত সংলাপে ভারতের কাছ থেকে কিছুটা নমনীয় মনোভাব আশা করছে চীন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার সীমানার বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না—এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ভারতে দুই দেশের মধ্যে এই সীমান্ত সংলাপ শুরু হয়। সীমান্ত সংলাপে অরুণাচল প্রদেশের ওপর চীনের দাবির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে চীন তিব্বতের দক্ষিণাঞ্চল হিসেবে অভিহিত করে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে চীনের দাবি কমপক্ষে অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং এলাকাটি তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তবে ভারতীয় পক্ষ এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে।
দুই দিনের এ সংলাপে ভারতীয় পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এম কে নারায়ণন এবং চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী দাই বিংগোও। সম্প্রতি দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তবে সংলাপ শুরুর আগে ভারতীয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই আলোচনা করার আশাবাদ জানায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে ভারতীয় কর্মকর্তারা সীমান্তে চীনের সেনা মোতায়েনের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। ভারত সীমান্তে ৩০ ডিভিশন সেনা মোতায়েন করে রেখেছে চীন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, চীনের সেনারা প্রায়ই সীমানা লঙ্ঘন করে অরুণাচল প্রদেশে ঢুকে পড়ছে। এ ছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নবগঠিত ডিপার্টমেন্ট অব বাউন্ডারি অ্যান্ড ওশেন অ্যাফেয়ার্সের ভূমিকা সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে ভারত।
মনমোহন সিংয়ের সরকার সম্প্রতি অরুণাচলে আরও দুই ডিভিশন সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়ায় সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে চীন তিব্বতে সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করছে এবং ভারত সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভারতও সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে সড়কব্যবস্থার উন্নয়নের দিকে নজর দিয়েছে। এদিকে সীমান্তে ভারতের সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানার পর চীনও সীমান্তে আরও সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা।
গত সপ্তাহে ভারতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিএম কৃষ্ণ বলেন, সীমান্তের সমস্যাটি জটিল এবং এর সম্মানজনক নিষ্পত্তির জন্য ধৈর্য ও সময় দরকার। চীনা বিশ্লেষকেরা বলেছেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে চীন-রাশিয়া চুক্তি ভারতের সঙ্গে চীনের সমস্যা সমাধানে মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। চীনের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, সীমানা নিয়ে তাঁদের সরকারের মাথা ঘামানোর একটি বড় কারণ সাম্প্রতিক উইঘুর বিদ্রোহ। কমিউনিস্ট সরকারের আশঙ্কা, উইঘুর বিদ্রোহীরা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে তৎপর তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এর আগে ভারত-চীন দ্বাদশ সীমান্ত সংলাপটি হয়েছিল বেইজিংয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে।