Wednesday, December 31, 2014

খালেদার বক্তব্যে হতাশা, বিস্ময় by রিয়াদুল করিম

বিএনপির চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলন শেষ। তাঁর গুলশান কার্যালয়ের সামনেই অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি ও ছাত্রদলের অনেক নেতা-কর্মী। ভেতরে ঢোকার সুযোগ ছিল না তাঁদের। কার্যালয় থেকে বের হতেই ছাত্রদলের পরিচিত কয়েকজন নেতা-কর্মী ঘিরে ধরলেন। জানতে চাইলেন, চেয়ারপারসন কী আলটিমেটাম দিয়েছেন? কী কর্মসূচি দিয়েছেন? কর্মসূচি ৫ জানুয়ারি সমাবেশ, সারা দেশে বিক্ষোভ। কোনো আলটিমেটাম নেই—এমন উত্তর শুনে তাঁদের চোখেমুখে হতাশার ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠল। একজন বলেই বসলেন, ‘তাহলে কী হলো?’ আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের অনেকেই হতাশ হয়েছেন। ছাত্রদলের সম্পাদক পর্যায়ের একজন নেতা গুলশান কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবেদককে বলেন, তাঁরা আশা করেছিলেন খালেদা জিয়া এবার একটি আলটিমেটাম দিয়ে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন। কিন্তু তা না হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী হতাশ হবেন বলে তাঁর ধারণা। আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘হরতালের কর্মসূচিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠে থাকেন।’ এ কথা শুনে ছাত্রদলের সম্পাদক পর্যায়ের ওই নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদেরই গালাগাল দিতে শুরু করেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মতো বিএনপির চেয়ারপারসনের বক্তব্যে হতাশ ও বিস্মিত হয়েছেন খোদ দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা। হতাশ শরিক দলের নেতারাও। খালেদা জিয়ার আজকের বক্তব্যে মূল বিষয় ছিল মূলত সংকট সমাধানের লক্ষ্যে সাত দফা প্রস্তাবনা (আসলে প্রস্তাব)। কিন্তু যেসব প্রস্তাব তিনি উপস্থাপন করেছেন, তা মূলত নির্বাচনী সমঝোতার পর আশা করা যায়। যেখানে সরকার বার বার আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে, সেখানে বিএনপির প্রধানের এমন প্রস্তাব কেন, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেকেই বিস্মিত। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার পাশেই ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এমন একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাডামের বক্তব্যে আমরা নিজেরাও কনফিউজড (বিভ্রান্ত)। বক্তব্যের পর আমরা নিজেরা অনেকে এটি নিয়ে আলোচনা করেছি। উনি যেভাবে কথা বলছিলেন, এগুলো তো নির্বাচনের প্রাক্কালের কথা। নির্বাচন কী খুব কাছাকাছি সময়ে হচ্ছে? তবে আমি মনে করি না মার্চ, এপ্রিল বা ভেরি নিয়ার ফিউচার ইলেকশন হচ্ছে। জাতিসংঘের মতো বড় কোনো শক্তি কী নির্বাচনের ব্যবস্থা করছে? আন্তর্জাতিক বিশ্ব পরিস্থিতি সে কথা বলছে না।’
স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ সভায় এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি স্থায়ী কমিটির আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাঁরাও এ বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানতেন না। খালেদা জিয়ার বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের শরিক একটি দলের শীর্ষ একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা হতাশ। উনি কী কর্মসূচি দিলেন? ওনার কাছে তো জাতি অনেক বড় প্রত্যাশা করে ছিল। কিন্তু উনি কি ওই কর্মসূচি দিতে পারছেন?’ তিনি মনে করেন, হামলা-মামলা থেকে রক্ষা পেতে খালেদা জিয়া নরম সুরে কথা বলছেন। এতে আন্দোলন যে গতি পেতে শুরু করেছিল, তাতে ভাটা পড়ার আশঙ্কা আছে বলে তিনি মনে করেন।

সুন্দরবনে নৌ চলাচল বন্ধের সুপারিশ -জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দলের সংবাদ সম্মেলন

(সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ৯ ডিসেম্বর জাহাজের ধাক্কায় তেলবাহী ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডুবে যায়। ফাইল ছবি) সুন্দরবনের পরিবেশকে ‘মহামূল্যবান’ এবং ‘বৈচিত্র্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে এর মধ্য দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল। দলটি বলেছে, সুন্দরবনের কিছু প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুকূলে থাকায় এবারের তেল দুর্ঘটনার প্রভাব কম পড়েছে। তবে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এই বনের ভেতরে তেল ট্যাংকার চলাচল সুন্দরবনের পরিবেশ ও বনজীবীদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। শ্যালা নদীতে ট্যাংকারডুবিতে তেলের প্রভাব সীমিত বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল। সুন্দরবনে তেল বিপর্যয়ের ঘটনায় ২৫ সদস্যের জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল ২৩ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনে অবস্থান করে। তাঁরা সুন্দরবনের শ্যালা এবং পশুর নদের তেল ছড়িয়ে পড়া এলাকা পরিদর্শন করে। সেখানে তাঁদের দেখা পর্যবেক্ষণ আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন। এ সময় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দলের প্রধান এমিলিয়া ওয়ালস্ট্রর্ম, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক বিট্রিস টালডুন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ম্যানগ্রোভ ও জলজ বাস্তুতন্ত্রের ওপর আপাতত তেলের প্রভাব সীমিত পরিমাণে দেখা গেছে, উল্লেখ করে এমিলিয়া ওয়ালস্ট্রর্ম বলেন, জোয়ার-ভাটার কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল। ফলে বনে তেলের অনুপ্রবেশে কম হয়েছে। এর সঙ্গে তেল সংগ্রহে স্থানীয় জনসাধারণ তৎপর থাকায় ক্ষতি কম হয়েছে। তবে তেল সংগ্রহের কারণে স্থানীয় লোকজন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে কি না, সে বিষয়টি তাঁরা পর্যবেক্ষণ করছেন। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ৯ ডিসেম্বর জাহাজের ধাক্কায় তেলবাহী ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ সাড়ে তিন লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে ডুবে যায়। ১৫ ডিসেম্বর সহায়তা চেয়ে জাতিসংঘের কাছে চিঠি দেয় সরকার। এর পরই ২২ ডিসেম্বর সুন্দরবন পর্যবেক্ষণে যায় এমিলিয়া ওয়ালস্ট্রর্মের নেতৃত্বাধীন ২৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। জাতিসংঘ দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ফিনল্যান্ড থেকে আসা জাতিসংঘের পরিবেশ ও দুর্যোগবিষয়ক উপদেষ্টা এমিলিয়া ওয়ালস্ট্রর্ম। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সংস্থার ১২ জন বিশেষজ্ঞও ওই দলে অংশ নেন। জাতিসংঘের দলটিতে মেক্সিকো উপসাগর ও আলাস্কায় তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত দলে কাজ করা চারজন সদস্য রয়েছেন। আটটি দেশ থেকে আসা এই দলের ১৪ জন জাতিসংঘের হয়ে বিভিন্ন দেশে তেল অপসারণ বিষয়ে কাজ করেছেন।

নির্বাচন নিয়ে সাত দফা প্রস্তাব খালেদার

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারের প্রতি নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সাত দফা উপস্থাপন করেন। লিখিত বক্তব্য পড়া শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন। খালেদা জিয়া সাত দফায় বলেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচন অবশ্যই একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে হবে। গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, দক্ষ, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হবে। আর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরুর আগেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির দাবি জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়া সাত দফায় বর্তমান সরকারের আমলে বন্ধ করে দেওয়া সব সংবাদপত্র ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল খুলে দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। খালেদা জিয়া মাহমুদুর রহমানসহ আটক সব সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা সরকারকে প্রস্তাবসমূহ মেনে নিয়ে জাতীয় সংকট নিরসনের আহ্বান জানাচ্ছি। জনমত গঠনের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ঘোষণা করছি।’ তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে একটি জাতীয় আন্দোলন গড়ে তুলতে গণতান্ত্রিক দলসহ সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রশ্নোত্তর পর্বে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মন্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সে যে কথা বলেছে তা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই বলেছে।’
সরকারকে আর সময় দেওয়া যাবে না, উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘একটি বছর তো দিলাম। দেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছি। এখন সরকারই ঠিক করবে, তারা কী করবে।’
আন্দোলনের ডাক দিয়ে নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকেন না—এমন অভিযোগ অস্বীকার করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নেতারা মাঠে না থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার মামলা দিচ্ছে কী করে। তার মানে সরকার মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।’ তিনি দাবি করেন, কিছু এজেন্সি নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকেন না বলে প্রচার করে। গণমাধ্যম সেসব খবর ছাপতে অনেকটা বাধ্য হয়। যখন প্রয়োজন তখনই রাজপথে তাঁকে পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ওই দিন সারা দেশে সভা-সমাবেশ ও কালো পতাকা বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘এ উপলক্ষে ঢাকায় আমরা একটি কেন্দ্রীয় সমাবেশ করতে চেয়েছি। আশা করি আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে দেওয়া হবে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিকে অগ্রসর করে নিতে চাই। পর্যায়ক্রমে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি আসবে। বাধা দিয়ে, আক্রমণ করে জনগণের আন্দোলনকে কেউ কখনো দমাতে পারেনি, এবারও পারবে না।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের মালিকানা এখন আর জনগণের হাতে নেই। আওয়ামী লীগ বহুল বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী পাস এবং জাতীয় নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এর মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের খেয়ালখুশি ও সুবিধামতো একতরফাভাবে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করেছে। ধূর্ত অপকৌশলের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে গিয়ে তারা জনমতের কোনো তোয়াক্কা করেনি। এতে জনগণের ওপর স্বৈরশাসন চেপে বসেছে।’
খালেদা জিয়া মনে করেন সরকার, সংসদ, মন্ত্রিসভা, স্পিকার ও বিরোধী দলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের প্রতিনিধিত্বহীন হয়ে পড়েছে। দেশের জনগণের কাছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হয়নি। এর মাধ্যমে জনগণ তাঁদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন।
বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতাসীনেরা রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছে। তারা কোনো ধরনের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে না। সরকার বলেছিল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রয়োজনে নাকি ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন তথাকথিত নির্বাচন করতে হয়েছে। খুব শিগগিরই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তারা নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু তারপর একটি বছর পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজ, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু নিজেদের দেওয়া অঙ্গীকারও এখন আর আওয়ামী লীগ মানছে না। খালেদা জিয়া বলেন, এ ধরনের একটি সরকারের দেশ পরিচালনার কোনো অধিকার থাকতে পারে না।
সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় গাজীপুরে সমাবেশ করতে দেয়নি বলে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাবেশ স্থলে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে একটি পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দেয় তারা। আর প্রশাসন সেই বেআইনি সমাবেশ আহ্বানকারীদের নিরস্ত না করে ১৪৪ ধারা জারি করে। আমাদের সমাবেশ বন্ধ করে দেয়। গাজীপুরে আমাদের নেতা-কর্মীরা মিছিল করতে চাইলে পুলিশ তাঁদের ওপর আক্রমণ করে। অথচ পুলিশি ছত্রছায়ায় ক্ষমতাসীনদের সমর্থক সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।’
খালেদা জিয়ার বক্তব্যে আদালতে হাজিরা দেওয়ার প্রসঙ্গ আসে। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় অস্থায়ী আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ ও আমার গাড়িবহরের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছত্রছায়ায় সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র হামলাকারীদের নাম-পরিচয় ও ছবিসহ সংবাদমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। সেই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার দূরে থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি। অথচ আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে।’
বক্তব্যে খালেদা জিয়া দাবি করেন, তাঁর দল শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করছে। এক বছর ধরে বিএনপি সর্বোচ্চ সংযম বজায় রেখে সংঘাত এড়িয়ে চলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাকে নাকি তারা মাইনাস করে দেবে। আমি মনে করি, চূড়ান্ত বিচারে মাইনাস করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। অতীতে যাঁরা মাইনাস করতে চেয়েছেন, তারাই মাইনাস হয়ে গেছেন। আর রাজনীতি থেকে আমাকে মাইনাস করার সিদ্ধান্ত একমাত্র দেশবাসী নিতে পারেন। অন্য কেউ নন।’
খালেদা জিয়া সম্প্রচার নীতিমালা ও বিচারপতিদের অভিশংসন আইনের সমালোচনা করেন। খালেদা জিয়ার মতে, মাঠে-ময়দানে এমনকি হলরুমে পর্যন্ত রাজনৈতিক সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও বাধা দিচ্ছে। বিএনপি, ২০ দল ও অন্যান্য বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালাতে প্রকাশ্য উসকানি ও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। আগামীতে আরও সরকার আসবে। এখন আপনারা যেসব অপকর্ম করছেন, যেমন আচরণ করছেন, তার প্রতিফল আগামীতে ভয়ঙ্কর হতে পারে। কাজেই বুঝেশুনে কথা বলবেন ও কাজ করবেন।’
ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের সন্ত্রাস ও অত্যাচারে আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক সদস্য নিজ দলীয় সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে নিহত হয়েছে।’
খালেদা জিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, অপহরণ, সাংবাদিক নির্যাতন, চাঁদাবাজি, সংঘর্ষ, টেন্ডার ডাকাতির ঘটনাসহ মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। এখন আতঙ্কের জনপদের নাম বাংলাদেশ।
র‌্যাব ও পুলিশের কেউ কেউ আওয়ামী গুন্ডাবাহিনী কিংবা কর্মীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না। তাদের একটি অংশ এখন ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করছে বলেও মত দেন খালেদা জিয়া। তিনি র‌্যাবের বিলুপ্তি করার দাবি জানান।
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র লাগাতার আন্দোলন শুরু করারও হুমকি দেন খালেদা জিয়া। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু, শেয়ার মার্কেট, হল-মার্ক, ডেসটিনি ইত্যাদির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন, অস্ত্র ক্রয় কেলেঙ্কারি ও রেলের কালো বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ আনেন খালেদা। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননার মেডেলের স্বর্ণ পর্যন্ত তারা চুরি করেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশে আজ যে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সে অবস্থার অবসান ঘটানো না গেলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। খালেদা জিয়া বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম কেবল বিএনপি বা ২০ দলের নয়। সকল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক মানুষের। দেশ রক্ষায় জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে আজ একমত হতে হবে। এক প্ল্যাটফরমে এসে কিংবা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি।’

‘জনগণ ছাড়া আমাকে কেউ মাইনাস করতে পারবে না’ -খালেদা জিয়া

দেশের চলমান পরিস্থিতি চরম শ্বাসরুদ্ধকর আখ্যায়িত করে সঙ্কট সমাধানে দেশবাসীর উদ্দেশে ৭ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ২০ দলীয় জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। জনগণ ছাড়া তাকে কেউ মাইনাস করতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি  বলেছেন, আমাকে নাকি তারা মাইনাস করে দেবে। আমি মনে করি, চূড়ান্ত বিচারে মাইনাস করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। অতীতে যারা মাইনাস করতে চেয়েছেন, তারাই মাইনাস হয়ে গেছেন। আর রাজনীতি থেকে আমাকে মাইনাস করার সিদ্ধান্ত একমাত্র দেশবাসী নিতে পারেন। অন্য কেউ নন। যারা হুমকি দিচ্ছে তারা তাদের ফ্যাসিবাদী চেহারাই সকলের সামনে তুলে ধরছে। দেশবাসীই যথাসময়ে তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে। সন্ধ্যায় গুলশানের  চেয়ারপারসনের  রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন,
সাতদফা  প্রস্তাবগুলো হলো-
১.    জাতীয় সংসদের নির্বাচন অবশ্যই একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে হবে। যাতে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সকল পক্ষের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সুযোগের সমতা নিশ্চিত হয়।
২.    নির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ, দক্ষ, যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে।
    যাতে, জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যায়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায় থেকে পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করা যায়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তব্যে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা যায়। সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী আইন ও বিধিমালার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়। এবং ভোটার তালিকার ত্রুুটি-বিচ্যুতি দূর করা সম্ভব হয়।
৩.    নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর সম্মতিক্রমে গঠিত নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
৪.     নির্বাচনের উপযোগী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারিখ ঘোষণার পরপরই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হবে।
৫.     নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরুর আগেই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতদূষ্ট ও বিতর্কিত হিসাবে চিহ্নিত সদস্যদের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে প্রত্যাহার এবং কর্তব্যপালন থেকে বিরত রাখতে হবে।
৬.    সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহার করতে হবে।
৭.    বর্তমান সরকারের আমলে বন্ধ করে দেয়া সকল সংবাদপত্র ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল খুলে দিতে হবে। মাহমুদুর রহমানসহ আটক সকল সাংবাদিককে মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন খালেদা জিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বছরের ছেলের গুলিতে মা নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে দুই বছর বয়সী ছেলের গুলিতে তার মা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ওয়ালমার্টের একটি  দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এএফপি জানায়, শিশুটি নিছক দুর্ঘটনাবশত তার মাকে গুলি করেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। নিহত নারীর নাম ভেরনিকা জে রুটলেজ। ২৯ বছর বয়সী ওই নারী তার একাধিক সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। দুই বছর বয়সী  শিশুটি তার মায়ের ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্রটি পায়। কোন কিছু না বুঝে সে আগ্নেয়াস্ত্রের ট্রিগার টিপে দেয়। এতে তার মা গুলিবিদ্ধ হয় নিহত হন।

টেকনাফে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা

টেকনাফে এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করেছে এবং ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। তবে কি কারণে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।  
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ ভোরে প্রথম প্রহরে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের চান্দলী পাড়ায় একটি পরিত্যক্ত লাশ দেখে লোকজন পুলিশে খবর দেয়। স্থানীয় মেম্বার ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পারে সে ঐ এলাকার মৃত দলিলুর রহমানের পুত্র আজগর আলী (৪৭)।
সুরতহাল রিপোর্টকালে তার গলা কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। টেকনাফ থানার সেকেন্ড অফিসার শাহজাহান ভোর ৪টায় লাশ উদ্ধার করে মডেল থানায় নিয়ে আসেন ।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কি কারণে এই নৃশংস ঘটনার সুত্রপাত তা জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা কবির, ইসমাঈল,বশরসহ লোকজন বলেন ইয়াবা বিক্রি অথবা পারিবারিক কলহের কারণে এই ন্যাক্কার জনক ঘটনার সুত্রপাত বলে মনে করেন।
এই ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার এসআই শাহজাহান লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন, খুনিদের চিহ্নীত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

গাজীপুরে আগুন, আটক ২৭, আহত ১০

জামায়াতের ডাকা হরতাল চলাকালে আজ সকালে গাজীপুর রেল ক্রসিংয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে রেললাইন অবরোধ করার চেষ্টা চালায় জামায়াত, শিবির-কর্মীরা। এ সময় পুলিশের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। এছাড়া নগরের ভোগড়া বাইপাসও  চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে দুই যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আগুনে বাস দুইটির অধিকাংশই পুড়ে গেলেও কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভান। এদিকে হরতালে নাশকতা চালানোর অভিযোগে গাজীপুরে গত ১২ ঘণ্টায় ২৫ জন জামায়াত, শিবির-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এরমধ্যে, জয়দেবপুর থানা এলাকা থেকে ১৩ জন, টঙ্গী থানায় ৯ জন ও শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। মিছিলে পুলিশের হামলা ও গ্রেফতারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর শিবির সভাপতি সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তিনি অবিলম্বে আটক নেতা কর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, হরতাল সমর্থনে সকালে সড়কের আগুন জ্বালিয়ে নগরের টঙ্গী চেরাগ আলী মার্কেট ও কলেজ গেটে জামায়াত- শিবির মিছিল বের করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ধাওয়া করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। ঘটনার সময় আহত হয়েছে শিবিরের ১০ কর্মী। কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় দুই শিবির-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

হরতালের মধ্যেও চুয়াডাঙ্গায় পরিবহন ধর্মঘট চলছে

হরতালের মধ্যেও চারদফা দাবি আদায়ে চুয়াডাঙ্গায় চলছে খুলনা বিভাগ পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। বুধবার ভোর ৬টা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। হরতালের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি পরিবহন ধর্মঘটের করণে চুয়াডাঙ্গার অভ্যন্তরীণ রুটে সকল প্রকার বাস-ট্রাক টেম্পু চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রশাসনের সঙ্গে তাদের বৈঠকের কথা থাকলেও এখনও বসা হয়নি। উল্লেখ্য, পরিবহন শ্রমিকদের ৩ বছরের পরিবর্তে ৭ বছরের সশ্রম কারাদ-ের বিধান, লাইসেন্স’র নামে বিআরটিএ’র হয়রানি, ফেরিঘাটে সিরিয়ালের নামে শ্রমিক হয়রানি ও হাইওয়ে স্কেলের নামে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধসহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১০ জেলায় ৪৮ ঘন্টার এ ধর্মঘট আহবান করে খুলনা বিভাগ পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ।

খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলন আজ

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আজ জরুরি সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করবেন। গতরাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, দ্রুত নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি সর্বশেষ আহ্বান জানিয়ে নতুন বছরে আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরতে পারেন খালেদা জিয়া।

৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে, রাজধানীতে লরিতে আগুন

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতাল। হরতালের সমর্থনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল বের করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ভোরে রাজধানীর গে-ারিয়া এলাকায় একটি লরিতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে হরতালের প্রথম তিন ঘণ্টায় তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ভোর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। রাজধানীর সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি খুব একটা দেখা যায়নি। তবে অল্প সংখ্য গণপরিবহন, অটোরিকশা ও রিকশা চলছে। তবে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উল্লেখ্য, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকে দলটি।

সিরাজগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় পুলিশসহ নিহত ৩

সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ২ পুলিশসহ আরও ৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন- সিরাজগঞ্জ পুলিশ লাইনে কতব্যরত পুলিশ কনস্টেবল বগুড়ার আব্দুল বাছেত ও ভাড়া করা পিকআপের চালক ঢাকার মিরপুরের মফিজুল ইসলাম। অপর যাত্রীর পরিচয় মেলেনি। আহতদের মধ্যে পুলিশের উপ-পরিদর্শক জিন্নাহ, কনস্টেবল মনিরুল ইসলামসহ অন্যদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম জানান, আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মুলিবাড়ি এলাকায় বিকল অবস্থায় ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী খালেক এন্টার প্রাইজের একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল। ওই বাসটিকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য মহাসড়কের কর্তব্যরত একটি ভাড়া করা পিকআপভ্যানে থাকা পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় দ্রুতগামী একটি ট্রাক পিছন থেকে পিকআপ ও বাসটিকে স্বজোরে ধাক্কা দিয়ে সেটিও মহাসড়কের পাশের গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ধারনা করা হচ্ছে অজ্ঞাত নিহত ব্যক্তি ট্রাকে ছিল। আহতদের মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল মনিরুল ইসলামের অবস্থা আশংকাজনক। দূর্ঘটনায় বাস, পিকআপভ্যান ও ট্রাকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশের হাতে শিবির কর্মীর কামড়

হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিল করার সময় বাধা দেয়ায় পুলিশের হাত কামড়ে দিয়েছে এক শিবির কর্মী। কামড়ের শিকার পুলিশ সদস্য হলেন-  গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক কনস্টেবল জয়নাল আবদিন। আজ সকালে বরিশাল নগরীর স্টেডিয়াম গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাতটার দিকে নগরীর স্টেডিয়াম গেটে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করছিলেন। এসময় কনেস্টবল জয়নাল তাদের বাধা দেন। বাধা উপেক্ষা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মিছিল বের করেন। তাঁদের হাতে থাকা ব্যানার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি এক  শিবিরকর্মীকে জাপটে ধরেন। এ সময় ওই শিবির–কর্মী তার হাতে কাময় বসিয়ে পালিয়ে যান। এতে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন।

হ্যাপির মামলায় ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপির দায়ের করা মামলায় জব্দকৃত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আলামতে কোন জৈব পদার্থ আছে কি-না থাকলে তার ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হয় গতকাল। আজ শুনানি  শেষে ওই আবেদন মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ ঢাকার সিএমএম আদালতে এই আবেদন করেন। গত ১৩ই ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানায় প্রতারণা করে শারিরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ এনে রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপি।

খালেদার নিরাপত্তায় চকবাজার থানায় জিডি

২০ দলীয় জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আইনজীবী এডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া। আজ দুপুরে এ জিডি দায়ের করেন তিনি। জিডি গ্রহণ করেছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক। এড. জাকির হোসেন মানবজমিনকে বলেন, গত ২৪শে ডিসেম্বর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসার বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরা দেয়াকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় জড়ো হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এছাড়া আগামী ৭ই জানুয়ারি ওই আদালতে খালেদা জিয়ার পরবর্তী হাজিরার দিন ধার্য রয়েছে। এতে আমরা তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা চেয়ে চকবাজার একটি জিডি করেছি। জিডি গ্রহণ করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক জানিয়েছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জিডির নাম্বার দেবেন এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ঢাকা বারের সভাপতি মহসিন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার পানশালা রাতভর বন্ধ থাকবে


ঢাকা শহরের বার বা পানশালাগুলো আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। থার্টি ফার্স্ট নাইট এবং ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরকে সামনে রেখে এ নির্দেশনা জারী করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পুলিশ বলছে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির যেকোনো ধরনের আশঙ্কা রোধ করতে তারা বদ্ধপরিকর। নির্দেশনায় কিছু বিশেষ এলাকায় যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ এবং উন্মুক্ত স্থানে যে কোন আয়োজন না করতে বলা হয়েছে। র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ এক ব্রিফিং এ নগরবাসীকে চার দেয়ালের মধ্যেই থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে বলেছেন। থার্টি ফার্স্ট নাইট বিষয়ে পুলিশের নানা নির্দেশনার বিষয়ে বিবিসির সাথে কথা বলেছেন ডিএমপির মুখপাত্র মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময় কিছু লোক মাতাল হয়ে অপরাধমূলক কাজ করে বা রেকলেস ড্রাইভিং করে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্যই এ ব্যবস্থা”।
কিন্তু ঢাকার বার বা পানশালাগুলো তো বৈধভাবে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে।
সেগুলোকে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বলার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফাইভ স্টার হোটেলের বিষয়ে তো বলছিনা। খুচরো গুলোর বিষয়ে কিছু অবজারভেশন আছে আমাদের”।
উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, “উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠানের নামে এক শ্রেণীর যুবক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায়না”।
রাত আটটায় বিভিন্ন এলাকা প্রবেশে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বনানী বা গুলশানে যারা বসবার করেন তারা যেতে পারবে। অন্য ক্ষেত্রে মানুষের জরুরী প্রয়োজনের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে”।
সারাবিশ্বে তো থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করা হয় বিভিন্ন আয়োজনে। এখানে আতশবাজি বা উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। উদযাপন বন্ধ বা কড়াকড়ি আরোপ কি যৌক্তিক ?
জবাবে মিস্টার রহমান বলেন, “আমরা সব সময় চাই শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান হোক। কোন বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সেজন্য আমরা সজাগ। কিছু বিষয় আছে যেহেতু আমাদের কালচারের সাথে যায়না সেজন্য কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছে”।

পুলিশে ‘বডি ওউন ক্যামেরা’

পুলিশ বাহিনীতে প্রথম বারের মতো সংযোজন করা হয়েছে ‘বডি ওউন ক্যামেরা’। আজই থার্টি ফার্স্ট নাইটে এ ক্যামেরা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। বেল্টের মাধ্যমে মাথা ও শরীরে বেঁধে এই ক্যামেরা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় দৃশ্য বা চিত্র ধারণ করবে পুলিশ। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকার শাহবাগে এই ‘বডি ওউন ক্যামেরা’র আনুষ্ঠানিক সংযোজন করেন মহানগর (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগসূত্র বা সমন্বয় আরও জোরদার করতেই এ ক্যামেরা সংযোজন করা হয়েছে। তিনি জানান ট্রাফিক বিভাগ প্রথম পর্যায়ে ১৫টি ক্যামেরা ব্যবহার করবে। পরে অপরাধ বিভাগ ও থানায় এ ধরনের ক্যামেরা দেয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এইচডি ফরম্যাটে ১৬ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরায় একটানা আট ঘণ্টা দৃশ্য ও শব্দ ধারণ করা যাবে। ঝড়-বৃষ্টিতেও এগুলো সচল থাকবে। অন্ধকারে ভিডিও না হলেও অডিও রেকর্ড করা যাবে। কাজ শেষে মেমোরি কার্ড থেকে ডাউনলোড করে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা যাবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এক হাজার ক্যামেরা আনা হবে।

বর্ষবরণের প্রস্তুতি: সিডনির আকাশে দেখা মিলবে মোহনীয় চেহারা

আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা। এরপরই নতুন বছরের সূচনা। এ উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। কেউই উৎসবের সবটুকু আনন্দ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে রাজি নন। সমুদ্র সৈকত সহ আকর্ষনীয় স্থানগুলোতে তাই আগেভাগেই নিজের ও সঙ্গীদের ভালো আসন নিশ্চিত করতে চলে গেছেন অনেকে। তারা যার যার মতো পছন্দমতো স্থানটি দখলে নিয়েছেন। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কারো তর সইছে না আর। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিভিন্ন পার্ক, সমুদ্র সৈকত ও অন্য আকর্ষণীয় জায়গাগুলো ইতিমধ্যেই মুখরিত হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালের প্রথম মুহূর্তটি উদযাপন করতে লাখো পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়েছেন সেখানে। সিডনির মিসেস ম্যাকোয়ারিজ পয়েন্ট, টারপেয়ান প্রেসিন্ট, সিডনি অপেরা হাউস, ম্যারি বুথের মতো স্থানগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতা পূরণ হয়ে যাওয়ায় এখনই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে প্রবেশ পথ। এ খবর দিয়েছে দ্য অস্ট্রেলিয়ান। সিডনির বিখ্যাত পোতাশ্রয়ের চারপাশে আজ রাতে আনুমানিক ১৬ লাখ মানুষ নতুন বছর উদযাপনে জড়ো হবেন। রাত নয়টা থেকে শুরু হবে আতসবাজি। মধ্যরাতে হবে আরেক দফা। এবার সিডনির মধ্যরাতের আকাশে আলোর মোহনীয় রূপ সৃষ্টিতে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হবে বিভিন্ন ড্রোন বিমান।

‘বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্বেও বর্তমান সরকার দেশে বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমান বাহিনীর বহরে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি আর আধুনিক বিমান। আর এ কারনে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কর্তব্যনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা কার্যক্রমের অধীনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী  প্রতিবছর  প্রায় চার হাজার উড্ডয়ন ঘণ্টা সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করে যাচ্ছে। আজ বুধবার দুপুরে যশোর বিমান বাহিনী একাডেমিতে আয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শীতকালীন গ্রাজুয়েশন কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পরিবহন বিমানের কন্টিনজেন্ট বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাহিনীর নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সামরিক প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপ সফলতার সঙ্গে শেষ করে আজ আপনারা কমিশন পেতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত আনন্দের। অত্যন্ত গর্বের। আমি কমিশন প্রাপ্ত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও কক্সবাজার বিমান ঘাঁটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংযোজন করা হয়েছে বিমান বাহিনীর জন্য প্রথমবারের মতো সারফেস টু এয়ার মিসাইল সিস্টেম। সমুদ্রসীমার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন পর্যবেক্ষণের জন্য কক্সবাজারে স্থাপন করা হয়েছে নতুন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এয়ার ডিফেন্স রাডার।
বিমান বাহিনী উন্নয়নে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিক্যাল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিন বাহিনীর পদমর্যাদা বৃদ্ধি করাসহ সুযোগ-সুবিধার বৃদ্ধির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তিন বাহিনীর সদস্যদের পদমর্যাদা বৃদ্ধি করেছি। চাকরির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিমান বাহিনীতে নতুন নতুন ইউনিট স্থাপনের ফলে জনবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদোন্নতির পথ সুগম হচ্ছে। এর আগে বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে প্রধানমন্ত্রী বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেন। এসময় বিমান বাহিনীর প্রধানসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী মোটর শোভাযাত্রাসহকারে বিমান বাহিনীর একটি জীপে করে ঘাঁটির প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করেন। এসময় বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত ও বিমান বাহিনীর নিজস্ব সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন করেন এবং প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জণকারী নবীন অফিসারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

ঢাকার পানশালা রাতভর বন্ধ থাকবে

ঢাকা শহরের বার বা পানশালাগুলো আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। থার্টি ফার্স্ট নাইট এবং ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরকে সামনে রেখে এ নির্দেশনা জারী করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পুলিশ বলছে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির যেকোনো ধরনের আশঙ্কা রোধ করতে তারা বদ্ধপরিকর। নির্দেশনায় কিছু বিশেষ এলাকায় যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ এবং উন্মুক্ত স্থানে যে কোন আয়োজন না করতে বলা হয়েছে। র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ এক ব্রিফিং এ নগরবাসীকে চার দেয়ালের মধ্যেই থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করতে বলেছেন। থার্টি ফার্স্ট নাইট বিষয়ে পুলিশের নানা নির্দেশনার বিষয়ে বিবিসির সাথে কথা বলেছেন ডিএমপির মুখপাত্র মাসুদুর রহমান। তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময় কিছু লোক মাতাল হয়ে অপরাধমূলক কাজ করে বা রেকলেস ড্রাইভিং করে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে সেজন্যই এ ব্যবস্থা”। কিন্তু ঢাকার বার বা পানশালাগুলো তো বৈধভাবে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। সেগুলোকে ব্যবসা বন্ধ রাখতে বলার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফাইভ স্টার হোটেলের বিষয়ে তো বলছিনা। খুচরো গুলোর বিষয়ে কিছু অবজারভেশন আছে আমাদের”। উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, “উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠানের নামে এক শ্রেণীর যুবক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে যা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায়না”। রাত আটটায় বিভিন্ন এলাকা প্রবেশে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় বনানী বা গুলশানে যারা বসবার করেন তারা যেতে পারবে। অন্য ক্ষেত্রে মানুষের জরুরী প্রয়োজনের বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে”। সারাবিশ্বে তো থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করা হয় বিভিন্ন আয়োজনে। এখানে আতশবাজি বা উন্মুক্ত স্থানে আয়োজন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। উদযাপন বন্ধ বা কড়াকড়ি আরোপ কি যৌক্তিক ? জবাবে মিস্টার রহমান বলেন, “আমরা সব সময় চাই শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান হোক। কোন বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সেজন্য আমরা সজাগ। কিছু বিষয় আছে যেহেতু আমাদের কালচারের সাথে যায়না সেজন্য কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছে”।

পরীক্ষা না দিয়েও জিপিএ–৫, দিয়েও অনুপস্থিতিজনিত ফেল! by আবদুর রব সুজন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার এক নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. সাজ্জাদ ইসলাম প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষাÿনা দিয়েও জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। আর একই বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষার্থী মিম মানতাসা পরীক্ষা দিয়েও অনুপস্থিতিজনিত ফেল করেছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, হাতীবান্ধা এক নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবার ৯৯ জন শিক্ষার্থীর পিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। এলাকার বাইরে অবস্থান করাসহ বিভিন্ন কারণে নয়জন পরীক্ষা দেয়নি। তবে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলে দেখা যায় এই নয়জনের মধ্যে হাতীবান্ধার পূর্ব সিন্দুরনা গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে সাজ্জাদ ইসলাম (রোল নং- ২৪৩৫) জিপিএ-৫ পায়। আর পরীক্ষা দেওয়ার পরও একটি পরীক্ষায় অনুপস্থিত দেখানোর কারণে ফেল করেছে একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী মিম মানতাসা (রোল নং- ২৪৯৫)।
এলাকার কয়েকজেনর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাজ্জাদ ইসলাম পিএসসির মডেল টেস্ট পরীক্ষা দেয়নি। চূড়ান্ত পরীক্ষার ৩-৪ মাস আগে ঢাকায় কাজ করতে চলে যায় সে।
এ ব্যাপারে সাজ্জাদের বাবা হাচেন আলীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বিপরীত দিক থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষা দিয়েও ফেল করা মানতাসার বাবা মাহাবুবর রহমান এবং মা মাহাবুবা বেগমের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ‘একবুক আশা নিয়ে মানতাসাকে প্রতিটি পরীক্ষার দিন স্থানীয় লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১ নম্বর কক্ষেÿরেখে এসেছি। অথচ বাংলা পরীক্ষায় তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে ফেল করিয়ে দেওয়া হলো। মেয়েকে কী সান্ত্বনা দেব, ভেবে পাচ্ছি না। আমরা এ জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’
হাতীবান্ধা এক নম্বর সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুন্নবী, সহকারী শিক্ষক শাহআলম ও শাপলা খাতুন জানান, সাজ্জাদ পরীক্ষা না দিয়েও জিপিএ-৫ পেল আর মানতাসা পরীক্ষা দিয়েও ফেল করল। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর ও দুঃখজনক। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করবে।’
এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্বাস আলী ভূইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তবে লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নবেজ উদ্দিন সরকার বলেন, ঘটনাটি জানতে পারামাত্রই গতকাল বিকেলে হাতীবান্ধা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, কেন তাঁর বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার দায়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তিন দিনের মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে যাচাইবাছাই না করে এরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রণয়ন করে সরকারি কাজে জটিলতা তথা জনমনে বিভ্রা‌ন্তি সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১১ সালে একই উপজেলার ভেলাগুড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলেও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় পাস করেছিল সুবর্ণা রানী শীল। এ ব্যাপারে প্রথম আলোয় ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি ‘পরীক্ষা না দিয়েও জেএসসি পাস!’
শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের হস্তক্ষেপের কারণে তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

আন্দোলনের আগে সংলাপের প্রস্তাব দিতে পারেন খালেদা জিয়া

রাজপথের কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার আগে আজ বুধবার আবারও সরকারকে সংলাপে বসার আহ্বান জানাতে পারেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজকের সংবাদ সম্মেলনে তাঁর পক্ষ থেকে সংলাপ ও চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও থাকতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন খালেদা জিয়া। বিএনপি বলছে, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেবেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারি সামনে রেখে বিএনপি একটি স্বল্পমেয়াদি কার্যকর আন্দোলনে যেতে চায়। তার আগে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই মূলত আজকের এই সংবাদ সম্মেলন। এতে বিএনপির চেয়ারপারসন আগামী ৩ ও ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে দুটি সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি ৫ জানুয়ারি সরকারের প্রতি নিজেদের অনাস্থা জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত, তাতে শেষ মুহূর্তে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র জানায়, বিএনপি ধরেই নিয়েছে তারা রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না। সে ক্ষেত্রে হরতাল ও অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে। এর আগে খালেদা জিয়া ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি পালনে বাধা না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে পারেন।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে গুম-খুন, দুর্নীতি, দলীয়করণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, বিরোধীদের সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়গুলো আবারও তুলে ধরবেন। পাশাপাশি বৃহত্তর স্বার্থে ‘জাতীয় ঐক্য’-এর আহ্বান জানাতে পারেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও খালেদা জিয়া তাঁর দলের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বান জানাতে পারেন।

‘২০১৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক’ -আইন ও সালিশ কেন্দ্র

(ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে বাংলাদেশের ২০১৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরছে আসক। আসক বলছে, ২০১৪ সালেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত ছিল। ২০১৩ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে ৭২ জন। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১২৮-এ দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালে গুম ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে ৮৮ জন। এর মধ্যে ১২ জন মুক্তি পেয়েছে। ২৩ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। দুজন কারাগারে এবং বাকিদের কোনো খোঁজ মেলেনি। ২০১৪ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে মারা গিয়েছে ১৩ জন। গ্রেপ্তারের আগে মারা গিয়েছে দুজন। আত্মহত্যা করেছে একজন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৬৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছে ১৪৭ জন। আহত ৮ হাজার ৩৭৩ জন। বছরটিতে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় বাধা পাওয়ার অভিযোগ এসেছে। এ সময় দুজন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৩৯ জন। এ বছর হিন্দু সম্প্রদায়ের ৭৬১টি বাড়ি-ঘরে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। ১৯৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আগুন ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ২৪৭টি মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। ২০১৪ সালে সীমান্তহত্যা, নির্যাতনসহ ২৭৩টি ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিতে ১৬ জন ও নির্যাতনে ১৬ জন নিহত হয়। বছরটিতে নারী নির্যাতন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ৭০৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ২০১৪ সালে অভিবাসী শ্রমিক ও মানব পাচারও বেড়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহিংস রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে আসক।  ছবি: প্রথম আলো) ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি  উদ্বেগজনক  ছিল বলে মন্তব্য করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আজ বেলা ১১টা থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশের ২০১৪ সালের মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল।

সাগরেই বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি -নিশ্চিত করেছে এয়ারএশিয়া : ৩ মৃতদেহ উদ্ধার : আরোহী ছিল ১৬২

(সুরাবায়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ নিখোঁজ উড়োজাহাজটির স্বজনেরা ধ্বংসাবশেষের খোঁজ পাওয়ার খবর শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন l ছবি: রয়টার্স) শেষ পর্যন্ত এয়ারএশিয়া ইন্দোনেশিয়ার উধাও বিমানের পরিণতি জানা গেল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে বিধ্বস্তই হয়েছে এটি। ঘটনার তৃতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার সাগর থেকে বিমানটির তিন যাত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংখ্যাটি ৪০ উল্লেখ করা হয়েছিল। খবর বিবিসি ও এএফপির। ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী জানায়, নিখোঁজ ফ্লাইট কিউজেড৮৫০১-এর অনুসন্ধান অভিযান চলার মধ্যে বোর্নিও দ্বীপের কাছে জাভা সাগরে ভাসমান কিছু ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ওই লাশগুলো পাওয়া গেছে। উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও মৃতদেহের খোঁজ মেলার পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সংস্থার প্রধান বামবাং সোয়েলিসতিয়ো রাজধানী জাকার্তায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। টিভিতে তাঁর বক্তব্য প্রচারের সময় সাগরে ভাসমান ধ্বংসাবশেষ এবং একটি লাশের ছবি দেখানো হয়। এ দৃশ্য দেখে সুরাবায়া বিমানবন্দরে চরম উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষমাণ নিখোঁজ আরোহীদের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সংবাদ সম্মেলনের পর ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর মুখপাত্র মানাহান সিমোরাঙ্গকির জানান, উদ্ধারকারী একটি যুদ্ধজাহাজে ৪০টির বেশি মৃতদেহ তোলা হয়েছে। এ সংখ্যা বাড়ছে। উদ্ধারকর্মীরা বাকি লাশগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বামবাং সোয়েলিসতিয়ো পরে নিশ্চিত করেছেন, সংখ্যাটি ৪০ নয়, ৩। এয়ারএশিয়া কর্তৃপক্ষ গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, জাভা সাগরে ভাসমান যে ধ্বংসাবশেষ মিলেছে, তা তাদেরই নিখোঁজ বিমানের। আর যে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা ওই বিমানেরই যাত্রী। এ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টনি ফার্নান্দেজ এক টুইট বার্তায় লেখেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের জন্য আমার হৃদয় দুঃখভারাক্রান্ত।’ এর আগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সংস্থার প্রধান বামবাং সোয়েলিসতিয়ো বলেন, তিনি ‘৯৫ ভাগ নিশ্চিত’, সাগরে যেসব ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে, তা নিখোঁজ বিমানেরই। পানির নিচে একটি ছায়াও শনাক্ত করা হয়েছে। এটি দেখতে নিখোঁজ বিমানের আকৃতির মতোই। সোয়েলিসতিয়ো জানান, ধ্বংসস্তূপের সন্ধান মেলার স্থানে অভিযানে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বিমানের বড় অংশগুলো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পাঠানো হচ্ছে আরও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ জাহাজ। সোমবারই সোয়েলিসতিয়ো বলেছিলেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থার কর্মকর্তা জোকো মুরজাতমোজো বলেন, বোর্নিও দ্বীপের কালিমান্তান প্রদেশের অদূরে সাগরে বিমানের দরজার মতো দেখতে অংশ পাওয়া গেছে। গত রোববার ১৬২ জন আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ওড়ার ঘণ্টা খানেক পর নিখোঁজ হয় এয়ারবাস এ৩২০-২০০ উড়োজাহাজটি। তল্লাশির আওতা বাড়িয়ে গতকাল জল ও স্থলের ১৩টি জোনে অনুসন্ধান চালানো হয়।

সামরিক আদালত গঠন অসাংবিধানিক হবে -পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি ইফতেখার চৌধুরী

পাকিস্তানে জঙ্গিদের সামরিক আদালতে বিচারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক আলোচিত প্রধান বিচারপতি ইফতেখার মোহাম্মদ চৌধুরী। তিনি ওই আদালত গঠন ‘অসাংবিধানিক’ হবে বলে অভিমত দিয়েছেন। খবর এএফপি ও ডনের। সন্ত্রাসবাদে যুক্তদের সামরিক আদালতে বিচারের অতিসাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি মানবাধিকারকর্মীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পেশোয়ারের স্কুলে তালেবানের রক্তক্ষয়ী হামলার পর সর্বদলীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বিচারপতি ইফতেখার গতকাল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, সামরিক আদালত অবৈধ এবং অসাংবিধানিক। পাকিস্তানের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো একটি স্বাধীন বিচার বিভাগের নিশ্চয়তা দিয়েছে। স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকাকালে সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের মৌলিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে এমন কোনো সংশোধনী আনা এবং আইন তৈরি করা যাবে না। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট সামরিক আদালত স্থাপনকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছিল। তবে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রস্তাবিত বিশেষ আদালতকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়ার জন্য সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের কয়েকজন সদস্যও সামরিক আদালত স্থাপনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা মিয়া রাজা রব্বানি গতকাল সিনেটে দেওয়া বক্তৃতায় অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘১৯৭৭ এবং ১৯৯৮ সালে এ ধরনের আদালত গঠন হলেও তা অবৈধ ঘোষিত হয়েছিল। সামরিক আদালত স্থাপন করলেই সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হবে না—এ মন্তব্য করে সিনেটর বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার করার ফলেই সন্ত্রাসীদের উত্থান হয়েছে। তবে সামরিক আদালত নিয়ে এসব বিরোধিতার মুখে গতকাল প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, বিশেষ আদালত জাতীয় কর্মপরিকল্পনার অংশ। বিশেষ সমস্যার জন্যই বিশেষ সমাধান হিসেবে এটি গঠন করা হবে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

খুদে ক্যামেরা নিয়ে রাজপথে পুলিশ

(ছবি-১ ক্ষুদে ক্যামেরা মাথায় বেঁধেও চলবে পুলিশী তত্পরতা। শাহবাগ মোড় থেকে ছবিটি তোলা। ছবি : কমল জোহা খান  ছবি-২ রাজপথে এভাবেই ক্ষুদে ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন পুলিশ সদস্যরা। ছবিটি মঙ্গলবার নগরীর বাংলা মোটর এলাকা থেকে তোলা। ছবি: হাসান রাজা) ঢাকার রাজপথে এখন থেকে খুদে অথচ অত্যাধুনিক ক্যামেরা শরীরে বেঁধে নামছেন পুলিশের সদস্যরা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। আজ দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে এই ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’র কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় এ কথা জানান মহানগর (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমেদ। ডিএমপি কমিশনার জানান, এই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে পথচারীর রাস্তা পারাপার, গাড়ির মালিকের সঙ্গে ট্রাফি সঙ্গে সমন্বয় আরও বাড়বে। এ ছাড়া পুলিশের কর্মকাণ্ডের নানা বিষয় ভিডিও-অডিও রেকর্ড থাকবে। বেনজীর আহমেদ জানান, ট্রাফিক বিভাগের মাধ্যম প্রথম পর্যায়ে ১৫টি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পরে অপরাধ বিভাগ ও থানায় এ ধরনের ক্যামেরা দেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চীনে তৈরি জিও-পিআরও মডেলের প্রতিটি ক্যামেরার দাম ২০ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ এইচডি ফরম্যাটে ১৬ মেগাপিক্সেলের এই ক্যামেরায় একটানা আট ঘণ্টা দৃশ্য ও শব্দ ধারণ করা যাবে। ঝড়-বৃষ্টিতেও এগুলো সচল থাকবে। তবে কৃত্রিম আলো ছাড়া রাতের অন্ধকারে ভিডিও না হলেও অডিও রেকর্ড করা যাবে। এই ক্যামেরায় রাসত্মার সব ধরণের চিত্র ও সার্জেন্টের কথোপকথন রেকর্ড থাকবে। এই রেকর্ড সার্জেন্ট নিজের ইচ্ছায় মুছে ফেলতে পারবে না। কাজ শেষে মেমোরি কার্ড থেকে ডাউনলোড করে ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ গত বছর থেকে এ ধরনের ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করে। মাথায় বেল্টের মাধ্যমে মাথা ও শরীরে বেঁধে এই ক্যামেরায় চিত্র ধারণ করা যায়। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এক হাজার ক্যামেরা আনা হবে। ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে জানান, ঢাকা মহানগরের চারটি ট্রাফিক বিভাগে ১৫টি ক্যামেরা বিতরণ করা হয়েছে। আজ থার্টি ফার্স্ট নাইটে ক্যামেরাগুলো নিয়ে পুলিশের সদস্যরা নগরের বিভিন্ন সড়কে থাকবেন।

টিকিট কেটেও বেঁচে গেলেন তাঁরা ১০ জন

একই পরিবারের ১০ জন তাঁরা। ইংরেজি নববর্ষ উদ্যাপনে সিঙ্গাপুর যেতে এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড-৮৫০১-এর টিকিট কিনেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ওঠা হয়নি ওই ফ্লাইটে। এভাবেই ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছে ইন্দোনেশীয় ওই পরিবারটি। খবর এএফপির। ফ্লাইট কিউজেড-৮৫০১ গত রোববার ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৬২ আরোহী নিয়ে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। ১০ জনের একজন ৩৬ বছর বয়সের ক্রিস্টিনাওয়াতি। তিনি জানান, নিজের পরিবার, মা এবং ছোট ভাইয়ের পরিবার মিলে তাঁরা ১০ জন সিঙ্গাপুরে যাচ্ছিলেন। তাঁরা অবশ্য এয়ারএশিয়ার সকাল সাড়ে সাতটার টিকিট কিনেছিলেন। তবে এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ তা পরিবর্তন করে দুই ঘণ্টা পরের ফ্লাইট কিউজেড-৮৫০১ যাওয়ার ব্যবস্থা করে। বিষয়টি জানাতে তারা ই-মেইল পাঠানোর পাশাপাশি ফোনও করে। কিন্তু ই-মেইলটি ক্রিস্টিনাওয়াতিদের নজরে আসেনি, তাঁরা কেউ ফোনও ধরতে পারেননি। ক্রিস্টিনাওয়াতি বলেন, ‘আমরা সাড়ে সাতটার ফ্লাইট ধরতে সেভাবেই বিমানবন্দরে পৌঁছাই। তখন আমাদের জানানো হয়, ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন করে পাঁচটায় দেওয়া হয়েছিল, যেটি দুই ঘণ্টা আগেই ছেড়ে গেছে। নতুন টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এমন সময় কিউজেড-৮৫০১ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাই।’

এক মাস পেছাল ৩৫তম বিসিএসের নির্বাচনী পরীক্ষা

এক মাস পিছিয়েছে ৩৫তম বিসিএসের নির্বাচনী (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা। নতুন তারিখ অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ মার্চ। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টায় দেশের মোট ৭টি বিভাগীয় শহরে একযোগে ওই পরীক্ষা শুরু হবে। প্রথমবারের মতো এবার নির্বাচনী পরীক্ষা হবে ২ ঘণ্টায় ২০০ নম্বরের মধ্যে। সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আইম নেছারউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিসিএসের প্রিলিমিনারি টেস্ট পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত ৬ ফেব্র“য়ারির পরিবর্তে ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর কেন্দ্রে। পরীক্ষার সময়সূচি, হল ও আসন ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনাবলী সংবাদ মাধ্যম ও কমিশনের সাইট (www.bpsc.gov.bd) এই ঠিকানায় পাওয়া যাবে। এবার বিসিএসের ইতিহাসে সর্বাধিক রেকর্ডসংখ্যক ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। এর আগে ৩৪তম বিসিএসের এ রেকর্ড ছিল। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ওই বিসিএসে মোট প্রার্থী ছিলেন ২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৫ জন। সে হিসাবে এবার বিসিএসে ২২ হাজার ৫৩২ জন বেশি আবেদন করেছেন।
৩০ সেপ্টেম্বর এক মাসের সময় দিয়ে ৩৫তম বিসিএসে আবেদন নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনলাইনে ৩০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদন নেয়া হয়। তবে এরপরও পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা মোবাইল এসএমসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা নেয়া হয়েছে। এর আগে পিএসসি জানিয়েছে, আবেদনকারীদের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রে এক লাখ ৫৫ হাজার ২৪৪ জন, রাজশাহী কেন্দ্রে ২১ হাজার ৮৭৩ জন, চট্টগ্রামে ২০ হাজার ৪৬৯ জন, খুলনা কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৭৮ জন, বরিশালে পাঁচ হাজার ৭২৯ জন, সিলেটে নয় হাজার ৮৫৮ জন এবং রংপুর কেন্দ্রের অধীনে ১৬ হাজার ৮৫৬ জন প্রার্থী পরীক্ষা দেবেন।
২৩ সেপ্টেম্বর এ বিসিএসের সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী, মোট ১ হাজার ৮০৩টি পদে এবার নিয়োগ করার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের পদ ৪৫৫, প্রফেশনাল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের মোট পদ ৪৮৪, সাধারণ শিক্ষা (সরকারি কলেজের প্রভাষক) ৮২৯ ও সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজের জন্য ৩৫টি পদ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তি মতে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নেয়ার কথা। প্রথমবারের মতো সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী নেয়া হবে। সে অনুযায়ী প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে ২০০ নম্বরে। আগে হতো ১০০ নম্বরে। প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন, তবে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা হবে।

ধূমপানের পথ ধরে...

((বাঁ থেকে) আহমেদ হেলাল, আখতারুজ্জামান সেলিম, ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল, ফারজানা রাবিন ও জিল্লুর রহমান খান) প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে ২০ ডিসেম্বর বিকেল চারটায় পরামর্শ সহায়তা-৫৫-এর আসরটি অনুষ্ঠিত হয় ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে। এ আয়োজনে মাদকাসক্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মনোরোগ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মাদকাসক্তি নিরাময়ের জন্য তাঁদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন। পরামর্শ সহায়তা অনুষ্ঠানের আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো আহমেদ হেলাল সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মাদকের চিকিৎসার জন্য অভিভাবকদেরও পরামর্শ সহায়তার প্রয়োজন হয়। কারণ, মাদকের চিকিৎসা অন্য অসুখের মতো না। রোগীর সঙ্গে কীভাবে আচার-আচরণ করতে হবে, কীভাবে চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলতে হবে এসব বিষয় অভিভাবকদের জানতে হয়। তা না হলে তারা রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবেন না। প্রতিমাসে প্রথম আলো ট্রাস্ট মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে পরামর্শ সহায়তা হয়। এতে মাদকাসক্ত রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকেন। মনোরোগ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মাদকাসক্তি নিরাময়ের জন্য তাঁদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন। এখানে নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। সবার জন্য উন্মুক্ত।
প্রশ্ন: আমার সন্তান দুই বছর ধরে ইয়াবা খায়। ইয়াবা খেলে কী ক্ষতি হতে পারে?
সমাধান: ইয়াবার আনন্দ-উত্তেজনা সাময়িকভাবে জীবনের যন্ত্রণা ভুলিয়ে দেয়। তারা বাস করে এক স্বপ্নের জগতে। ইয়াবা ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। খাবারের ইচ্ছা থাকে না। শরীরের মাংসপেশি শুকাতে থাকে। এ জন্য অনেকে মনে করে এটা খেলে স্লিম হওয়া যায়। ইয়াবা নিলে ঘুম থাকে না। অনেকে ক্লান্তিহীন আনন্দ উপভোগ করতে চায়। তবে এই আনন্দ খুব সাময়িক। ট্যাবলেটটি ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। কিন্তু ইয়াবাসেবীরা এটা বুঝতে পারে না। কারণ, ইয়াবা গ্রহণের সময় সাময়িক উত্তেজনা পাওয়া যায়। প্রথমে কম ডোজেই আনন্দ পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে ডোজের মাত্রা বাড়াতে থাকে। কিছু সময় আনন্দের পর বাড়তে থাকে ক্ষতিকর বিভিন্ন উপসর্গ। রাত কাটে নির্ঘুম। এর ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ায় কখনো কখনো একটানা সাত থেকে ১০ দিনও জেগে থাকতে বাধ্য হয় অনেকে। শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। মেজাজ খিটখিটে হয়। অনবরত গলা-মুখ শুকিয়ে আসে। প্রচণ্ড ঘাম আর অসহ্য গরম অনুভব হয়। ভীষণভাবে বাড়তে থাকে দেহের তাপমাত্রা, রক্তচাপ, নাড়ি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি। অনেকেই উচ্চ রক্তচাপের রোগী হয়ে পড়েন। মস্তিষ্কের ভেতরের ছোট রক্তনালিগুলো ক্ষয় হতে থাকে। এগুলো ছিঁড়ে অনেকের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ জন্য অনেকে মৃত্যুঝঁুকিতে পড়ে যায়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়। মানসিক নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। অহেতুক রাগারাগি, ভাঙচুরের প্রবণতা বাড়ে। পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ে।
সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা পিছিয়ে পড়তে থাকায় আসক্তরা বিষণ্নতায় ভোগে। কারও কারও মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। দৃষ্টিবিভ্রম, স্মৃতিবিভ্রম আর অস্বাভাবিক সন্দেহ প্রবণতা তৈরি হয়। এসব উপসর্গ থেকে একসময় সিজোফ্রেনিয়ার মতো জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়। কখনো কখনো শারীরিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ভীষণ মৃত্যুঝঁুকি দেখা দেয়। অনেকে সিরিঞ্জের মাধ্যমে ইয়াবা নেয়। এরা হেপাটাইটিস (বি, সি)ও এইডসের মতো গুরুতর রক্তবাহিত রোগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ইয়াবা আসক্ত ব্যক্তিরা শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন: আমার সন্তানকে একটি নিরাময় কেন্দ্রে রেখেছি। এখানে কোনো চিকিৎসা হয় বলে মনে হয় না। এ বিষয়ে কী করতে পারি?
সমাধান: দেশে সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনের রিহ্যাব (নিরাময় কেন্দ্র) আছে। অনেক রোগী ও অভিভাবক রিহ্যাব সম্পর্কে অভিযোগ করেন। তবে এটা ঠিক, সব ক্ষেত্রে অভিযোগ অমূলক নয়। হঠাৎ করে উত্তেজনার বশে যেখানে সেখানে রোগীকে ভর্তি করা ঠিক হবে না। কোনো রিহ্যাবে ভর্তি করার আগে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। খোঁজ নিতে হবে রিহ্যাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন কি না। মাদকাসক্তের সঙ্গে প্রায় অধিকাংশ রোগীর মানসিক সমস্যা থাকে। সে ক্ষেত্রে রিহ্যাবে মানসিক চিকিৎসক আছেন কি না, সেটাও দেখতে হবে। রিহ্যাবের পরিবেশ, থাকা-খাওয়া, চিকিৎসাপদ্ধতি সব বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। অনেক নিরাময় কেন্দ্রে সঠিক চিকিৎসা হয় না। মাদক চিকিৎসার একটা ধারাবাহিক পদ্ধতি আছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া এ পদ্ধতি সবার পক্ষে অনুসরণ করা সম্ভব নয়। কোনো কোনো রিহ্যাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব থাকে। মানসিক রোগের চিকিৎসক থাকেন না। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কম। অনেকে রিহ্যাবের ব্যবসায়িক মনোভাব বেশি থাকে। তাই অনেক দিন নিরাময় কেন্দ্রে থাকার পরও রোগীরা ভালো হয় না। আপনার সন্তানকে কোথায় ভর্তি করবেন—এ বিষয়টি খুব জরুরি। আবেগের বশে যেখানে-সেখানে হঠাৎ করে ভর্তি করবেন না। রিহ্যাব সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে যাচাই-বাছাই করুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনার সন্তানকে কোথায় ভর্তি করবেন।
প্রশ্ন: মাদক গ্রহণের প্রধান কারণ কি সিগারেট?
সমাধান: অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই ধূমপানের পথ ধরে নেশায় জড়িয়েছে। একজন ধূমপায়ীর সাধারণত একাধিক ধূমপায়ী বন্ধু থাকে। তাদের মধ্যে দু-একজন মাদকাসক্ত থাকতে পারে। এই দু-একজনের প্রভাবে অন্য ধূমপায়ী বন্ধুরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধূমপান থেকে নেশায় আসক্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ধূমপান না করলে তার হয়তো ধূমপায়ী বন্ধু হতো না বা খুব কম হতো। মাদক গ্রহণের আশঙ্কাও প্রায় থাকত না। একবার যখন কেউ কোনো মাদক গ্রহণ করে, তখন সে একটার পর একটা বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রহণ করতে থাকে। মাদক গ্রহণের প্রবণতা দিন দিন বেড়ে যায়। আর মাদক গ্রহণ করতে করতে একসময় নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে আসে। তাই দেখা যায়, ধূমপান থেকেই মাদকের শুরু এবং তারপর একটার পর একটা মাদক গ্রহণ ও জীবনের বিপর্যয়। একসময় মৃত্যুই হয়ে ওঠে জীবনের অবশ্যম্ভাবী নিয়তি।
প্রশ্ন: আমার সন্তান মাদক ছেড়েছে। কিন্তু ধূমপান করে। এটা তার জন্য কতটা ক্ষতিকর?
সমাধান: ধূমপানের অনেক ক্ষতিকর দিক আছে। ধূমপান করলে বিভিন্ন সমস্যাসহ যক্ষ্মা, ক্যানসারের মতো জটিল রোগ হতে পারে। তা ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধূমপান থেকে মানুষ নেশায় আসক্ত হয়। আপনার সন্তান মাদক ছেড়েছে। মাদক ছাড়লেই সে আর মাদক নেবে না এটা একেবারেই বলা যায় ন। একজন মাদকাসক্ত রোগী মাদক ছাড়ার পর বারবার মাদক গ্রহণ করতে পারে। আপনার সন্তানের মাদক গ্রহণ করার দুই দিক থেকে ঝঁুকি রয়েছে। এক. সে মাদক নিয়ে ভালো হয়েছে। এখন যদি ঠিকমতো ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন না করে তাহলে যেকোনো সময় মাদকাসক্ত হতে পারে। দুই. সিগারেটের কারণে তার মাদক গ্রহণের প্রবণতা দ্রুত হতে পারে। যারা সিগারেট খায় সাধারণত তাদের মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। আপনার সন্তানকে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপন করতে হবে। এখনই ধূমপান ছাড়তে হবে।
প্রশ্ন: বিদেশ থেকে ইয়াবা আসছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী?
সমাধান: আমরা প্রায় শুনি বা জানি বিদেশ থেকে প্রচুর ইয়াবা আসছে। দেশের যুবসমাজের একটা অংশ ইয়াবা খেয়ে ধ্বংস হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। আমাদের সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। পরিবারে ছোটবেলা থেকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিলে সন্তানেরা এসব খারাপ কাজে যুক্ত হবে না। আমাদের সবাইকে একযোগে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। বিভিন্ন সময়ে এসবের সঙ্গে এমন মানুষের সম্পৃক্ততা দেখি যা বিস্মিত করে। যে-ই হোক না কেন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই তাকে ধরতে হবে। আইনের আওতায় আনতে হবে। সাজা দিতে হবে। তাহলে এ অভিশাপ থেকে দেশের তরুণ সমাজসহ সবাই মুক্তি পাবে।
প্রশ্ন: আমরা রিহ্যাবে থেকে ভালো হয়ে বাইরে এলে আমাদের সামনে কেউ ধূমপান করলে বা মাদক নিলে আমাদের ইচ্ছা করে ধূমপান করতে বা মাদক নিতে। এ অবস্থায় কী করতে পারি?
সমাধান: রিহ্যাবে চিকিৎসা করে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা ভালো হয়। একসময় তারা বাড়িতে চলে আসে। রিহ্যাব থেকে চলে আসার সময় কতগুলো নির্দেশ দেওয়া হয়। যেমন, নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। মাদকাসক্ত বন্ধুদের সঙ্গে মেশা যাবে না। মাদক পাওয়া যায় এমন জায়গায় যাওয়া যাবে না। মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। নিজের কাছে টাকাপয়সা রাখা যাবে না। সৃষ্টিশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। কখনো মাদক নিতে ইচ্ছা করলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আপনি যদি রিহ্যাব থেকে ভালো হয়ে বাইরে আসেন, তাহলে আপনি যারা ধূমপান করে তাদের কাছ থেকে সরে যাবেন। যারা মাদক নেয় তাদের কাছে থাকবেন না। নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলে এবং ফলোআপে থাকলে আপনার এসব সমস্যা হওয়ার কথা নয়। রিহ্যাবের নির্দেশ মেনে চলুন বা রিহ্যাবের নির্দেশের বিষয় যা লেখা হলো সেগুলো মেনে চলুন। তাহলে আপনার সমস্যা হবে না।
প্রশ্ন: আমার সন্তান ভয় পায়। তার মনে হয় পেছন থেকে তাকে কেউ তাড়া করছে। তাকে ধরতে আসছে। কী করণীয়?
সমাধান: আপনার সন্তানের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। তার আর কী কী সমস্যা আছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। তবে আপনার কথায় মনে হচ্ছে তার মানসিক সমস্যা আছে। তাকে দ্রুত একজন মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনলে ১০ টাকায় টিকিট করে দেখাতে পারবেন।
এ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মাদকমুক্ত কয়েকজন তরুণ। তাঁরা এখন ভালো আছেন। ভালো থাকাকে সব সময় ধরে রাখার জন্য তাঁরা সেলফ হেল্প করেন। তাঁরা তাঁদের সেলফ হেল্প পদ্ধতির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন:
সেলফ হেল্প পদ্ধতির অভিজ্ঞতা: আমাদের দেশের মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা সেলফ হেল্প গ্রুপ নারকোটিকস অ্যানোনিমাস সংক্ষেপে এনএ। এর মাধ্যমে সেবা নেয়। এখানে সাধারণত দুই ধরনের সভা হয়। একটি উন্মুক্ত। অন্যটি শুধু মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের জন্য। নারকোটিকস অ্যানোনিমাসে মূলত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা হয়। কোনো অসুস্থ ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ করার জন্য এ ধাপগুলো মেনে চলে। ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে আসক্তিজনিত সমস্যাকে স্বীকার করা। সাহায্য প্রার্থনা করা। নিজেকে মূল্যায়ন করা। প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত তথ্যসহ সব বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা। মাদক গ্রহণকালীন যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। অন্য মাদকাসক্ত, যারা সুস্থ হতে চায়, তাদের সহযোগিতা করার মাধ্যমে নিজে সুস্থ থাকা। যারা এ কাজে সম্পৃক্ত হতে চায়, তাদের সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা থাকতে হয়। এ জন্য এনএ কে অনেকে আধ্যাত্মিক কাজ বলে থাকে।
এখানে তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো সততা, স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছা। তা ছাড়া এ পদ্ধতির মূলে কাজ করে একে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব। এ পদ্ধতিতে কোনো পেশাজীবী, চিকিৎসক, আবাসিক বন্দোবস্ত বা ক্লিনিকের ব্যবস্থা নেই। যারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক থেকে সুস্থ আছে, তারা নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে অসুস্থ মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করেন। কোনো কোনো গ্রুপ বা দল আছে বর্ষপূর্তিসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করে থাকে।
মাদকাসক্তি একটি অসুস্থতা। অপ্রত্যাশিতভাবে বিভিন্ন কারণে যে কেউ মাদকাসক্ত হতে পারেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যসহ সবাইকে এ অসুস্থতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য গুরুত্বের সঙ্গে বুঝতে হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের একার পক্ষে এ অসুস্থতা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন। সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পুনরায় সুস্থ জীবনধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাই পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ঘৃণা বা অবহেলা না করে, এদের সুস্থ হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন যাঁরা:
আখতারুজ্জামান সেলিম, আবাসিক চিকিৎসক, কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র, ঢাকা
ব্রাদার রোনাল্ড ড্রাহোজাল: নির্বাহী পরিচালক, আপন
আহমেদ হেলাল, সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা
ফারজানা রাবিন, সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ঢাকা
জিল্লুর রহমান খান, সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা
সঞ্চালনায়: ফেরদৌস ফয়সাল, গ্রন্থনা: আশফাকুজ্জামান

নোয়াখালীতে শিক্ষক হত্যায় বিএনপি ও জামায়াত দায়ী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নোয়াখালীতে নারী স্কুলশিক্ষকের হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকায় অপর এক নারী শিক্ষক অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের দায়ী করে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার সরকার এ ধরনের ঘটনা আর সহ্য করবে না। প্রয়োজনে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াতের এ ধরনের অপরাধের নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। নোয়াখালীতে স্কুলশিক্ষকের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএনপি-জামায়াতই দায়ী। তিনি বলেন, আমরা এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর সহ্য করব না। মঙ্গলবার সকালে গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী একই অনুষ্ঠান থেকে সারা দেশে পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোয়াখালী ও ঢাকায় যারা এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই অপরাধীদের খুঁজে বের করব এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধ বন্ধে অপরাধীদের বিচার করব ইনশাআল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনগণ যে মুহূর্তে শান্তিতে বসবাস করছে, ঠিক সে সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। তিনি বলেন, সোমবার বিএনপি-জামায়াতের হরতাল ডাকার কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে, আমার জানা নেই। তিনি হরতাল আহ্বানকারী বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে বলেন, তারা একজন স্কুলশিক্ষককে হত্যা করে এবং অপর একজন স্কুলশিক্ষককে পুড়িয়ে কি পেয়েছে।
শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে সারা বছর বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় একজন স্কুলছাত্রী তার চোখ হারিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিরোধে আন্দোলনের নামে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি সম্পর্কে বলেন, মেয়েরা এখন ছেলেদের চেয়ে ভালো করছে। প্রধানমন্ত্রী বিপুলসংখ্যক বই প্রকাশ ও বিতরণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে যথাসময়ে এসব বই প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য পাঠ্যবই বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আমিনা তসলিম করবির হাতে এক সেট বই তুলে দিয়ে বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য শিক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রথমবারের মতো মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের বিতরণ ও উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনা সব শিক্ষার্থীর জন্য উপযোগী মিডি ভারসনে পূর্ণাঙ্গ অডিও ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া গ্রন্থের একটি পূর্ণাঙ্গ টেক্স উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং প্রেস সেক্রেটারি একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

থার্টিফার্স্ট ও হরতালে নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা

থার্টিফার্স্ট নাইট ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা থাকবে রাজধানী ঢাকা। ঢাকার বাইরেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুলশান, বনানী, ধানমণ্ডিতে থার্টিফার্স্ট নাইটে রাত ৮টার পর বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ও যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এই প্রথমবারের মতো বডি অন ক্যামেরা প্রযুক্তিসহ মাঠে নামানো হয়েছে পোশাকে ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যদের। মাঠে টহল ও তল্লাশি রয়েছে র‌্যাবের। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জওয়ানদের। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ডিএমপি, বিজিবি ও র‌্যাব সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, হরতাল ও থার্টিফার্স্ট নাইটকে ঘিরে জেলায় জেলায় পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশের টলহ ও তল্লাশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি জালাল আহমেদ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, হরতাল কর্মসূচিকে ঘিরে অপতৎপরতা, নাশকতা ও জনশৃংখলা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো তৎপরতা রোধে পুলিশ সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে জামায়াত অধ্যুষিত জেলাগুলোতে বাড়তি সতর্কতামূলত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কোনো মহল যাতে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্দেশনা। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ সুপারদের নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে থার্টিফার্স্টের নিরাপত্তা নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির সদ্যবিদায়ী কমিশনার ও বর্তমানে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ জানান, থার্টিফার্স্ট নাইটে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃংলার স্বার্থে রাস্তার মোড়, ফ্লাইওভারে কোনো জমায়েত বা জনসমাবেশ করা যাবে না। একইসঙ্গে অনুষ্ঠান করা যাবে না উন্মুক্ত স্থানে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান, বনানী ও বারিধারার নাগরিকদের এদিন রাত ৮টার আগে বাসায় ফেরার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। একইভাবে ওই এলাকায় বসবাসকারী নাগরিক নন, তারা রাত ৮টার পর ওই এলাকায় যাবেন না। হাতিরঝিল এলাকায় রাত ৮টার পরে কেউ ঢুকবেন না। কোথাও আতশবাজি ফোটানো যাবে না, ওভারস্পিডে গাড়ি চালানো যাবে না। গির্জা ও চার্চে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তিনি আরও বলেন, পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। ভ্রাম্যমাণ টহল দলও নিয়োজিত থাকবে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এই প্রথমবারের মতো বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে এটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এ বছর এখানে (ঢাকায়) ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বাণিজ্যিক বারগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল জলিল, ব্যারিস্টার মাহবুব হোসেন, মিলি বিশ্বাস, মারুফ হাসান, ইব্রাহিম ফাতেমি।

এদিকে ডিএমপির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহনযোগে প্রবেশের জন্য শুধু কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) ব্যবহার করা যাবে। রাত ৮টা থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১নং রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি ক্রসিং, আমতলী ক্রসিং, শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, গ্রুপ-ফোর, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং এলাকাগুলোতে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে বের হওয়ার জন্য এসব ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে। একইভাবে বুধবার রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে পুরনো হাইকোর্ট-দোয়েল চত্বর-শহীদ মিনার-জগন্নাথ হলের দক্ষিণ গেট-পলাশী মোড় রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্যান্য সব ক্রসিং বন্ধ থাকবে। একই সময়ে রাজধানীর আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব ধরনের লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা গেল। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিজিবি মোতায়েন : হরতালের নিরাপত্তা ও নাশকতার আশংকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের। বিজিবির সদর দফতরের কর্মকর্তা মহসিন রেজা জানান, প্রয়োজন ও চাহিদার আলোকে পর্যাপ্তসংখ্যক বিজিবি সদস্য নামানো হচ্ছে। ঢাকায় ১০ প্লাটুনের বেশি বিজিবি নামানো হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বিজিবি সদস্য নামানো হবে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে জেলা প্রশাসকদের চাহিদার আলোকে বিজিবি নামানো হয়। প্রয়োজনে আরও বিজিবি সদস্য নামার জন্য প্রস্তুত আছে।

আজহারের ফাঁসির আদেশ

রংপুর অঞ্চলের আল বদর কমান্ডার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে এ সাজা দেয়া হয়। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল-১। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার আগে বলেন, কোনো ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে রায় দেয়া হচ্ছে না। এখানে ১৯৭১-এর অপরাধীদের বিচার হচ্ছে। আজহারুলের বিরুদ্ধে গঠন করা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। একটিতে ২৫ বছর এবং অপরটিতে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় মানবতাবিরোধী এ জামায়াত নেতাকে। যে অভিযোগের জন্য তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয় সেগুলো হল : ২ নম্বর অভিযোগ ধাপপাড়া গণহত্যা, ৩ নম্বর অভিযোগ হচ্ছে ঝাড়ুয়ারবিল গণহত্যা এবং ৪ নম্বর রংপুর কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপক-পত্নীকে হত্যার অভিযোগ। এ ছাড়া ৫ নম্বর অভিযোগে এক নারীকে ধর্ষণ ও পাকিস্তানি সেনাদের ধর্ষণে সহায়তার দায়ে ২৫ বছর ও ৬ নম্বর অভিযোগে নির্যাতনের দায়ে ৫ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে জামায়াতের এ শীর্ষ নেতাকে। আর প্রমাণিত না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। রায় ঘোষণা উপলক্ষে সকাল ৯টার আগেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় হাজির করা হয় এটিএম আজহারুলকে। এ জন্য সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। দোয়েল চত্বর থেকে ট্রাইব্যুনালের দিকের সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বাইরে প্রস্তুত রাখা হয় পুলিশের সাঁজোয়া যান। নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয় পুরো প্রেস ক্লাব এলাকা পর্যন্ত। এরই মধ্যে রায় ঘোষণার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে যান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ। বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করে সেখানে দু-এক মিনিট থেকেই তিনি আবার বেরিয়ে যান।
সম্পাদকীয় লিখে, বিবৃতি দিয়ে, সহিংসতা করে রায় পরিবর্তন করা যাবে না : বেলা ১১টার কিছু আগে জামায়াতের এ নেতাকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে বিচারপতিরা এজলাসে ওঠেন। এজলাসে ওঠার পর রায় ঘোষণার আগে ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু মন্তব্য করেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইদানীং রায় হওয়ার পরে বিভিন্ন রকমের প্রতিক্রিয়া দেখছি। দেশী দু-একটা ও বিদেশী কয়েকটা মিডিয়া এমনভাবে সংবাদ উপস্থাপন করছে যে, এখানে ধর্মীয় নেতাদের রায় দেয়া হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। আমরা একাত্তরের অপরাধীদের বিচার করছি। তিনি কোন পর্যায়ের ইসলামিক বা ধর্মীয় নেতা, আজকে তার অবস্থান, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়। সম্পাদকীয় লিখে, বিবৃতি দিয়ে, সহিংসতা করে রায় পরিবর্তন সম্ভব নয়।’
বিচারপতি বলেন, ‘ফৌজদারি মামলায় সব পক্ষকে খুশি করে রায় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিচারকরা আইন, সংবিধান, ঘটনা বা সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে রায় দেই। আমাদের সাক্ষ্য বিশ্লেষণে ভুল হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ আছে। আমরা এটা আশা করি, আইনের শাসনে বিশ্বাসী মানুষ রায় পছন্দ না হলে আপিলে যাবেন। রায়ের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মসূচি দেবেন না। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা উচিত নয়, যাতে রায় দেয়ার ক্ষেত্রে বিচারকরা চাপ অনুভব করেন।’
রায় প্রদান : বেলা ১১টা ১৭ মিনিট থেকে রায় ঘোষণা শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। ১৫৬ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ আদালতে পড়ে শোনানো হয়। সংক্ষিপ্ত রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক, এরপর দ্বিতীয় অংশ পড়েন বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং সর্বশেষ আদেশের অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। রায় ঘোষণা শেষ হয় ১২টা ৪৫ মিনিটে।
রায়ে এক নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেয়া হয় এটিএম আজহারকে। এ অভিযোগটি ছিল একাত্তরের ২৪ মার্চ থেকে ২৭ মার্চের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাসানী (ন্যাপ) নেতা ও রংপুর শহরের বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী এওয়াই মাহফুজ আলীসহ ১১ জনকে অপহরণ, আটক শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যাসংক্রান্ত। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অভিযোগের প্রতিটিতে দেয়া হয় মৃত্যুদণ্ড।
এর মধ্যে দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, আজহারের নেতৃত্বে একাত্তরের ১৬ এপ্রিল তার নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপাড়ায় ১৫ জন নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে এটিএম আজহারুল ইসলাম নিজেও এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। ওই ঘটনায় শহীদদের মধ্যে ১৪ জনের নাম-পরিচিতি শনাক্ত করা গেছে।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, এটিএম আজহারের নেতৃত্বে ১৭ এপ্রিল তার নিজ এলাকা রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ারবিল এলাকায় এক হাজার ২২৫ জন নিরীহ লোক ধরে নিয়ে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় এক হাজার ২২৫ জন শহীদ হন, যাদের মধ্যে ৩৬৫ জনের নাম-পরিচিতি পাওয়া গেছে। শিশু থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধ, কেউ ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাদ যাননি। গণহত্যার শিকারদের মধ্যে ২০০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যা প্রমাণ করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ওই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল।
চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, এটিএম আজহারের নির্দেশে ১৭ এপ্রিল রংপুর কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপক-পত্নীকে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে অপহরণ করে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। সেদিন কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক কালাচান রায় ও তার স্ত্রী মঞ্জুশ্রী রায়, সুনীল বরণ চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ অধিকারী ও চিত্তরঞ্জন রায়কে হত্যা করা হয়।
পাঁচ নম্বর অভিযোগটি ছিল ধর্ষণসংক্রান্ত। এ অপরাধে আজহার পেয়েছেন ২৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ। পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, এটিএম আজহারুল ইসলামের পরিকল্পনায় ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা বয়সী নারীদের ধরে এনে রংপুর টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সে সময় নারীদের ধরে এনে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর অফিসারদের ভোগের জন্য তুলে দেয়া হতো। রংপুর টাউন হলে তাদের আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হতো। একই সঙ্গে মহিলাসহ নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুরুতর জখম, হত্যা ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর রংপুর টাউন হলের পেছনে ইন্দারায় অনেক মা-বোনের মরদেহ পাওয়া যায়।
ষষ্ঠ অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের নভেম্বরের মাঝামাঝি রংপুর শহরের গুপ্তপাড়ায় একজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একই বছরের ১ ডিসেম্বর রংপুর শহরের বেতপট্টি থেকে একজনকে অপহরণ করে রংপুর কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসে নিয়ে আটক রেখে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন ও গুরুতর জখম করেন আজহার। নির্যাতনের এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আরও ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়, আসামির একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে অন্য দণ্ডগুলো তার সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে। এ ছাড়া এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামির উচ্চ আদালতে আপিল করারও সুযোগ রয়েছে। রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। অন্যদিকে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার কথা জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
ফরমায়েশি রায় : সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা শেষ হওয়ার আগেই মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে আসামির কাঠগড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম বলতে থাকেন, ‘ফরমায়েশি রায়, ফরমায়েশি রায়। সম্পূর্ণ মিথ্যা রায়। আমি নির্দোষ। আল্লাহর আদালতের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ।’ রায় শেষে বিচারকরা এজলাস ত্যাগের সময় এটিএম আজহার বিচারকদের উদ্দেশে বলতে থকেন, ‘আল্লাহ হু আকবার, আল্লাহ হু আকবার। আল্লাহ আপনাদের বিচার করবে।’
২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এটিএম আজহারের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু হয়। ওই বছর ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন গতবছর ১৮ জুলাই আজহারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। একই বছরের ১২ নভেম্বর ছয়টি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আজহারের বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটির বিচার কার্যক্রম শেষে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন। এ রায়টি ছিল ট্রাইব্যুনালের পঞ্চদশ রায়। ট্রাইব্যুনালের এসব রায়ে এ পর্যন্ত ১৬ জন দণ্ডিত হয়েছেন। এর মধ্যে আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরু হয়।

হিটলারের পরমাণু বাংকার আবিষ্কার

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছিল হিটলারের নাৎসি বাহিনী। সম্প্রতি অস্ট্রিয়ায় এমন একটি ভূতল পরমাণু বাংকার আবিষ্কৃত হয়েছে। সেইন্ট জর্জেন শহরের কাছে ৭৫ একর জায়গা নিয়ে ওই পরমাণু বাংকার নির্মাণ করা হয়েছিল। খবর ডেইলি মেইলের। গত সপ্তাহে শনাক্ত করা ওই বাংকারের মাটিতে উচ্চমাত্রার রেডিয়েশনের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষক, বিজ্ঞানী ও ইতিহাসবিদের সমন্বয়ে বাংকার খনন শুরু করা হয়েছে। বিজ্ঞানী দলের প্রধান আন্ড্রেস সুলজার বলেন, ‘নাৎসিদের সম্ভবত এটাই ছিল সবচেয়ে বড় গোপন অস্ত্র উৎপাদন কারখানা। ধারণা করা হচ্ছে, নাৎসিদের ব্যবহৃত বি-৮ বার্গক্রিস্টাল ও এমই-২৬২ যুদ্ধবিমান তৈরির সঙ্গে এই বাংকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

সেনা আদালত বৈধ নয়

পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিচারের জন্য সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় সিনেটররা। একইসঙ্গে তারা সামরিক আদালতের অপব্যবহার যাতে না হয় তার নিশ্চয়তা দাবি করেছেন। গত কয়েকদিন আগে সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সর্বদলীয় সিদ্ধান্তের পর নতুন করে বিরোধীদলগুলোর পক্ষ থেকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হল। পাকিস্তান পিপলস পার্টি বা পিপিপি সিনেটর রাজা রব্বানি এ নিয়ে সবচেয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার কোনো বৈধতা সংসদের নেই। সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৭ ও ’৯৮ সালে সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল কিন্তু পরে আদালত তাকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।
ওই সময় সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। তিনি বলেন, সে সময় সামরিক আদালত প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়েছিলেন; এজন্য ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। রাজা রব্বানি আরও বলেন, বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকার থাকার পরও সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস হবে এবং জনমনে এ ধারণা তৈরি হবে যে, বেসামরিক প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে; তাদের সরিয়ে দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের সমাধান সম্ভব নয় বরং এ জন্য বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা দরকার।
মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট বা এমকিউএমের সিনেটর ব্যারিস্টার ফারুক নাসিমও সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, সামরিক আদালত গঠন করা হলেও তা যেন রাজনৈতিক দলগুলোকে দমনে ব্যবহার না করা হয়।
এদিকে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান বা কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামরিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। নওয়াজ বলেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের বিশেষ সমস্যা সমাধানে এ বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বিশেষ সামরিক আদালতে বিচারের আগে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলো খতিয়ে দেখবে বলেও জানান তিনি।
শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যায় জড়িত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের বিচার সামরিক আদালতে হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তাতে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে নওয়াজ শরিফ বলেন, সরকার ও জনগণের যৌথ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ দূর করা হবে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে জাতীয় ঐকমত্যের কারণেই একক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বৈঠকে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফসহ শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছেন। ডন।

২০১৪: এশিয়ার আলোচিত মুখগুলো

নরেন্দ্র মোদি, আশরাফ গনি, কিম ​ইয়ো –জং
ঘটনাবহুল আরেকটি বছর পার করছে এশিয়া। পৃথিবীর বৃহত্তম এই মহাদেশের বেশকিছু নাম এ বছর নানা কারণে খবরের শিরোনাম হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিবিসির বাছাই করা ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে তুলে ধরা হলো। জোকো উইদোদো, ইন্দোনেশিয়ার ব্যতিক্রমী নেতা: গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। সামরিক বাহিনী বা অভিজাত রাজনীতিক নন, এমন ব্যক্তি হিসেবে তিনিই প্রথম ইন্দোনেশিয়ার নেতা হলেন। পাশাপাশি দুর্নীতিতে জর্জরিত দেশটিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবেও উইদোদোর খ্যাতি রয়েছে। ক্ষমতায় বসেই উইদোদো যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে একটি হচ্ছে জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানো। উইদোদোর নেতৃত্বের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে একে। কিম ইয়ো-জং, উঠতি নেতা: উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন গত সেপ্টেম্বরের দিকে হঠাৎ করেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। এতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তিনি অসুস্থ এবং ক্ষমতার ওপরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। তখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়, কে হচ্ছেন দেশটির পরবর্তী নেতা।
অক্টোবরে আবার জনসমক্ষে দেখা যায় জং-উনকে। তবে কয়েক সপ্তাহ পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাঁর বোন কিম ইয়ো-জংকে প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নরেন্দ্র মোদি, আলোড়ন সৃষ্টিকারী: গত মে মাসের লোকসভা নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হন বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় সফল অর্থনৈতিক সংস্কারকের তকমা পাওয়া এই হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেতা সংকটে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই প্রধানমন্ত্রী হন। এখন পর্যন্ত অর্থনীতি ঠিক পথেই রয়েছে। তবে অবকাঠামোর নাজুক অবস্থা, ক্রমবর্ধমান ভর্তুকি ও লাগামছাড়া দুর্নীতি ও হিন্দু কট্টরবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করার মতো বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে মোদিকে। আশরাফ গনি, কাঁধে কঠিন দায়িত্ব: ম্যারাথন দৌড়ের মতো লম্বা একটা নির্বাচন। পদে পদে বিরোধ। এমন এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন আশরাফ গনি। প্রেসিডেন্ট গনি শান্তি ও স্থিতিশীলতার কঠিন দায়িত্ব এখন কীভাবে সামলাবেন, সেটাই দেখার বিষয়। এর বাইরেও যে নামগুলো তালিকায় এসেছে, তার মধ্যে আছেন যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া কৈলাস সত্যার্থী ও মালালা ইউসুফজাই, ভারতের অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন, চীনা ব্যবসা-বাণিজ্যের ‘রাজা’ হিসেবে পরিচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা প্রমুখ।

উত্তর ভারতে হাড় হিম ঠান্ডা

মাঝ-পৌষেই মাঘের শীত বাঘের গায়। গোটা উত্তর ভারত ঠান্ডায় জবুথবু। হাড় হিম ঠান্ডায় হিহি কাঁপুনি এবং সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে প্রাণহানির খবর এই মুহূর্তে উত্তর ভারতের দিবা-রাত্রির কাব্য। গতকাল রোববার দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই শীতে সর্বনিম্ন। দিল্লির লাগোয়া হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির প্রায় কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রিতে গুরগাঁওয়ের মানুষ হতবাক। পাঞ্জাবের অমৃতসর, রাজস্থানের বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চল, হরিয়ানার হিসার অথবা লক্ষ্ণৌসহ উত্তর প্রদেশের সমগ্র পশ্চিম প্রান্ত গুরগাঁওয়ের সঙ্গে যেন পাল্লা দিচ্ছে। তবে শীত যাঁদের তেমন কাবু করে না, তাঁরা ভিড় বাড়াচ্ছেন সিমলা-মুসৌরিতে। পাহাড়ে তুষারপাতের সাক্ষী হওয়া কিংবা কাশ্মীরের উপত্যকায় ডাল লেকের জমে বরফ হয়ে যাওয়া দেখতে পাওয়া সমতলের মানুষদের কাছে অভিনব অভিজ্ঞতা।
এই শৈত্যপ্রবাহের মূল্যও দিতে হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই গোটা উত্তর ভারতের চরাচর ঢেকে যাচ্ছে ঘন কুয়াশার চাদরে।
সেই কুয়াশা ভেদ করে যান চলাচল প্রাণ বাজি রেখে চলার মতোই। দিল্লি-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই দিন আগে এই কুয়াশার বলি হয়েছে একসঙ্গে ৪৮টি যাত্রীবাহী গাড়ি। একের পর এক গাড়ির সংঘর্ষে মৃত্যু হয় একাধিক মানুষের। ঠান্ডা ও কুয়াশার বলি উত্তর ভারতে এই মুহূর্তের নৈমিত্তিক ঘটনা। কুয়াশার জন্য প্রতিদিন শতাধিক বিমান বিলম্বে ওঠা-নামা করছে। ফুটপাতবাসীদের ছাদের তলায় নিয়ে আসার যে উদ্যোগ ফি বছর রাজধানীতে দেখা যায়, এবারেও তা নিয়ে তোড়জোড় রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম নৈশ আবাসে ‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’ রব। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে কম্বল বিলির প্রতিযোগিতা চলছে। প্রতিবছর মাঘ মাসে যা করা হয়, এবার পৌষেই পড়েছে সেই প্রয়োজনীয়তা। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ফারাক যত কমবে, শীত হয়ে উঠবে ততই অসহনীয়। সে জন্য গোটা মাঘ মাস এখনো পড়ে রয়েছে। এই শীত রাজধানীর জনজীবনকে প্রতিবছরই নাড়িয়ে দেয়। এবারেও তার বিরাম নেই। প্রতিদিনই বিমানের গাদা গাদা ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। এমন দিন একটাও নেই, যেদিন দূরপাল্লার ট্রেন আট-দশ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ছে বা পৌঁছাচ্ছে না। ট্রেন বা বিমানের সফরসূচি আগাম জানানোই হয়ে উঠছে অসম্ভব ব্যাপার। যাত্রীদের ভোগান্তির একশেষ।

হিটলারের স্মৃতি ঘেরা বাড়ি নিয়ে বিড়ম্বনা

অস্ট্রিয়ার যে বাড়িতে অ্যাডলফ হিটলারের জন্ম হয়েছিল, সেটি নিয়ে মহা ঝামেলায় পড়েছে দেশটির সরকার। না পারছে ফেলতে, না পারছে রাখতে। অস্ট্রিয়া সরকারের আশঙ্কা, ব্রাউনাউ অ্যাম ইন শহরের বাড়িটাকে নব্য-নাৎসিরা তীর্থস্থান বানিয়ে ফেলতে পারে। শহরের অনেকেনই এই কলঙ্ক বহন করতে চান না। আবার ঐতিহ্যের একটি উপাদান বলে একে নষ্টও করা যায় না। উত্তর অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ অ্যাম ইন শহরে ১৮৮৯ সালে জন্মেছিলেন হিটলার।
সেখানকার সপ্তদশ শতকে তৈরি হওয়া এক বাড়িতে জন্ম তাঁর। হিটলারের মা-বাবা অবশ্য ওই শহরের আদি বাসিন্দা নন। জন্মের পর হিটলার মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাড়িটিতে ছিলেন। এরপর ব্রাউনাউয়ের আরেক বাড়িতে উঠে যায় তাঁদের পরিবার। এলাকার মানুষ বলেন, হিটলারের নিন্দিত নাৎসিবাদের সমর্থকদের অনেককেই আকর্ষণ করে বাড়িটি। নব্য-নাৎসিদের তীর্থক্ষেত্র হওয়া ঠেকাতে অস্ট্রিয়ার সরকার বাড়িটি ১৯৭২ সাল থেকে ভাড়া নিয়ে আছে। এখন এটি তালাবদ্ধ। শহরের সহকারী মেয়র গুয়েন্টার পয়েন্টনার বলেছেন, বাড়িটির ভাড়ার চুক্তি বাতিলের চিন্তা করছে সরকার। সূত্র বিবিসি

যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে এয়ারএশিয়ার নিখোঁজ উড়োজাহাজটির
তল্লাশিতে ব্যস্ত দেশটির সামরিক বাহিনীর একজন সদস্য।
প্রশ্ন: খারাপ আবহাওয়ার জন্য উড়োজাহাজটির কী পরিণতি হতে পারে?
বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কমবেশি এক ঘণ্টার মাথায় দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট উড়োজাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উধাও হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে উড়োজাহাজটি খারাপ আবহাওয়া এড়াতে জাকার্তার এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কাছে আরও বেশি উচ্চতায় ওড়ার অনুমতি চেয়েছিল। ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি যে এলাকায় ছিল, সেটি প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়ার এলাকা হিসেবে পরিচিত। জাকার্তাভিত্তিক বিমান চলাচলবিষয়ক পরামর্শক গ্যারি সোয়েজাটমানের মতে, খারাপ আবহাওয়াই উড়োজাহাজটি উধাও হওয়ার মূল কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি, তার ভিত্তিতে বলা যায়, পাইলটরা আগের নির্ধারিত গন্তব্যপথ থেকে সরে বাঁয়ে মোড় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি ঘন মেঘ এড়াতে আরও বেশি উচ্চতায় ওড়ার অনুমতিও চেয়েছিলেন। বাঁয়ে মোড় নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমতি ছাড়াই উড়োজাহাজটি বেশি উচ্চতায় ওড়া শুরু করেছিল, এখন এমন ইঙ্গিত মিলেছে। সেটা সত্য হলে সমস্যাটা ধারণার চেয়েও বেশি গুরুতর ছিল। তাই উড়োজাহাজটি রক্ষার জন্য পাইলটরা অনুমতির জন্য অপেক্ষা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’
প্রশ্ন: এভাবে উড়োজাহাজ নিখোঁজ হওয়ার নজির আরও কি আছে?
মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৩৭০ কুয়ালালামপুর থেকে ২৩৯ আরোহী নিয়ে চীনের বেইজিংয়ে যাওয়ার পথে গত ৮ মার্চ নিখোঁজ হয়। এখন পর্যন্ত নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে উড়োজাহাজটির সন্ধান মেলেনি। ২০০৯ সালের জুন মাসে ২২৮ আরোহী নিয়ে এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইট ৪৪৭ আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। দিনের পর দিন তল্লাশি চালিয়েও ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে কয়েক বছর পর ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করা গিয়েছিল। তদন্তকারীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন যে, কারিগরি এবং মানবসৃষ্ট—উভয় সমস্যার কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে অ্যাডাম এয়ারের ফ্লাইট ৫৭৪ ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ রুটে ১০২ আরোহী নিয়ে চলার সময় রাডারের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। কয়েক দিন তল্লাশি চালানোর পর ধ্বংসাবশেষের সন্ধান মিলেছিল। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।
প্রশ্ন: নিখোঁজ হওয়ার আগে ফ্লাইট কিউজেড-৮৫০১ কি ধীরে উড়ছিল?
প্রাথমিক তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে, উড়োজাহাজটি ঘটনার সময় যে গতিতে ওড়ার কথা ছিল, উড়ছিল তার চেয়ে অনেক ধীরে। উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ে লেখালেখি করা ব্লগার ডেভিড সেনসিওত্তি দিএভিয়েশনডটকম-এ লিখেছেন, প্রচণ্ড বাতাসের কারণে পাইলট গতি কমিয়ে থাকতে পারেন। আর বিশ্লেষক সোয়েজাটমান জানিয়েছেন, এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ফাঁস হওয়া যে ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটিতে দেখা যাচ্ছে, উড়োজাহাজটি ‘অত্যন্ত কম’ গতিতে উড়ছিল। তিনি বলেন, ‘নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেলে উড়োজাহাজটি আকাশ থেকে পড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।’
প্রশ্ন: আমরা কি সন্ত্রাসবাদ বা ছিনতাইয়ের প্রচেষ্টার আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারি?
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যেকোনো কিছুই ঘটে থাকতে পারে। কোনো আশঙ্কাকেই এখনই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেটরসের সদস্য অ্যান্টনি ব্রিকহাউস বলেন, ‘একজন তদন্তকারী হিসেবে আমি সব সম্ভাব্যতাকেই বিবেচনায় রাখার প্রশিক্ষণ পেয়েছি। তবে এই মুহূর্তে আমি অপরাধমূলক কিছুর সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না।’
প্রশ্ন: উদ্ধারকারীদের কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে?
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থার (এনএসআরএ) প্রধান বামবাং সোয়েলিসটোয়ো গতকাল সোমবার বলেছেন, অনুসন্ধানের স্থানে সাগরের গভীরতা ১৩০ থেকে ১৬০ ফুট। বিশ্লেষক সোয়েজাটমান বলেন, তল্লাশি এলাকায় সাগরের গভীরতা কম হলেও সেখানে কাদা ও কঠিন শিলা থাকাটা স্বাভাবিক। এ ধরনের উপাদান উড়োজাহাজটির ইএলটি থেকে ছাড়া সংকেত পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।