Thursday, July 13, 2017

বই না পড়ে থাকা যায়! by মুনির হাসান

অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের সঙ্গে কথা হলে টের পাই স্যার কেমন পড়েন। শুধু যে বই বা রিপোর্ট পড়েন তা নয়, দিনে একাধিক খবরের কাগজ পড়েন। প্রতিদিনই ডেইলি স্টার-এরক্রসওয়ার্ড আর প্রথম আলোর সুডোকু মিলিয়ে ফেলেন, সকালে। কখনো বাসায়, কখনো গাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে। পড়ার এই অভ্যাস তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। সেই মধ্য পঞ্চাশে এসএসসি পরীক্ষার পর প্রতিদিনই তিনি সদ্য চালু হওয়া পাবলিক লাইব্রেরিতে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার) সকালে চলে যেতেন, দুপুরে বাসায় খেয়ে এসে আবার লাইব্রেরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত চলত তাঁর বইপড়া। ছোটবেলা থেকে যেকোনো বিষয়ের বই পড়তেন, কোনো বাছবিচার ছিল না। সেই সময়ে পাঠ্যবইয়ের বাইরে ‘আউট বই’ পড়ার ব্যাপারে অনেক পরিবারে আপত্তি থাকলেও স্যারের বাবা তাঁকে অনেক বই এনে দিতেন। দুনিয়ার আজব কাহিনি দিয়ে স্যারের আউট বই পড়া শুরু। ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় পড়ে ফেলেছেন ‘দস্যু মোহন’ সিরিজের এক শ বই। বুয়েটে পড়ার সময় প্রতিদিন ক্লাস থেকে চলে যেতেন ব্রিটিশ কাউন্সিলে, কোনো কোনো দিন ইউএসআইএস লাইব্রেরিতে। নিউমার্কেটে সন্ধ্যায় গিয়ে নলেজ হোমে পড়ে ফেলতেন কোনো না কোনো বই! সব সময় বই পড়ার জগতে থাকার এই অভ্যাস স্যারের এখনো রয়েছে। স্যারের আপ্তবাক্য: ‘পড়ার সময় এখনই। বিষয় নিয়ে ভাবার দরকার নেই। শুধু পড়তে থাকো।’
এ শুধু জামিলুর রেজা স্যারের গল্প নয়। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিলগেটসের কথা ভাবুন। কেমন করে তিনি জানলেন সফটওয়্যারেরই রয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ? উত্তর দিচ্ছেন, আমি পড়েছি। কেবল পড়েছি। এবং এখনো পড়ছি। বিল গেটস কেবল পড়েন না। তাঁর ভালো লাগার বইগুলো সম্পর্কে তাঁর পাঠক-অনুসারীকে জানিয়ে দেন। তাঁর নিজের লেখালেখির ব্লগ গেটসনোটের বড় অংশই কিন্তু বই, বই আর বই। পড়ো, পড়ো এবং পড়ো।
তো, কেবল ভবিষ্যৎ জানা, জ্ঞানের আকর কিংবা সম্পদশালী হওয়ার জন্য নয়। নির্মল আনন্দ পাওয়া বা বিনোদিত হওয়ার এমন আশ্চর্য মাধ্যম আর কীই বা আছে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ব্যায়াম যেমন শরীর ভালো রাখার জন্য দরকার, তেমনি বই পড়াটা হলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অতি দরকারি। গবেষকেরা বই পড়ার গোটা বিশেক সুফল তুলে ধরেন। এর মধ্যে কয়েকটা তো খুবই দরকারি।
বই পড়ার সময় আমাদের চোখ আর মন যে কেবল কাজ করে, তা নয়; বরং কল্পনাশক্তিরও একটি চর্চা হয়। মস্তিষ্ক থাকে সচল। ফলে বই পড়া হয়ে পড়ে মানসিক উদ্দীপনার একটি নিয়ামক। গবেষণা বলছে, মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটা বড় উপায় হচ্ছে বইয়ের মধ্যে ডুবে যাওয়া। ঔপন্যাসিক আদ্রে জিদ যেমন বলতেন, বই দিয়ে নিজের একটা জগৎ গড়ে তুললে দরকারমতো সেখানে ডুব দেওয়া যায়। জ্ঞান কিংবা শব্দভান্ডারের বৃদ্ধি, নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানা, এসব সুফলের কথা তো আমরা সবাই জানি। তবে বই পড়লে সবচেয়ে বেশি বাড়ে বিশ্লেষণী শক্তি। বেড়ে যায় সমস্যা সমাধানের দক্ষতা। বেড়ে যায় স্বপ্ন দেখার শক্তিও।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে অন্যতম আলোচিত উদ্যোক্তা টেসলা ও স্পেসএক্স কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের কথাই ধরা যাক। এলনের বয়স যখন নয়, তখন তিনি এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (বিশ্বকোষ) সম্পূর্ণ পড়ে ফেলেছিলেন। সে সময় তিনি বিজ্ঞান কল্পকাহিনি পড়তেন দিনে গড়ে ১০ ঘণ্টা!!! কাজে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো এত্ত এত্ত স্বপ্ন আর সেটি পূরণের শক্তি কোথা থেকে আসে? তিনি নিজে বলেন, আমি পড়ি। যখনই সুযোগ পায় তখনই পড়ি।
যত পড়া হয় তত লেখার দক্ষতা বাড়ে, নিজেকে মেলে ধরার ক্ষমতা বিকশিত হয়। বই পড়তে হয় মনোযোগ দিয়ে, কখনো কখনো কল্পনাকে ছেড়ে দিলে ফোকাস হওয়ার এক আশ্চর্য ক্ষমতা তৈরি হয় নিজের মধ্যে।
এই যে পড়ার এক জাদুকরি সুফল, সেটি কেমন করে পাওয়া যাবে? সহজ উত্তর: পড়ো, পড়ো, পড়ো।
অনেকেই বলেন, পড়ার সময় পাই না। কাজের মধ্যে ডুবে থাকি, তাই পড়তে পারি না।
আসলে এটি একটি অজুহাত। ১৬-১৮ ঘণ্টা কাজের জগতে ডুবে থাকেন এমন মানুষেরা কিন্তু পড়তে থাকেন ফাঁক পেলে। কারণ পড়াটা হয়ে পড়েছে তাঁদের প্রাত্যহিকতার অংশ।
আপনি যদি ভালো পড়ুয়া হতে চান, তাহলে ‘পড়া’কে আপনার জীবনের অংশ করে ফেলতে হবে। ঢাকাবাসীর একটা বড় অংশ কেটে যায় রাস্তায়, যানজটে। সেই সময়টা বই পড়ায় দিয়ে দিন (বুক, ফেসবুক নয়!)। এখন অনেক বই আপনি পড়তে পারবেন আপনার স্মার্টফোনে। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ল্যাসিক এখন পাবলিক ডোমেইনে এবং এগুলোর ই-বুক পাওয়া যায় বিনা মূল্যে। ইন্টারনেট থেকে সহজে সেগুলো সংগ্রহ করা যায়। বাসায় যখন থাকবেন, তখনো কিছু কিছু পড়তে হবে। প্রতিদিন পড়ার অভ্যাস জিইয়ে রাখার একটা ভালো বুদ্ধি হলো প্রতিদিন কমপক্ষে একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকা পড়া।
সব সময় একটা বই হাতের কাছেই রাখতে পারেন। বিল গেটসের মতো অনেকেই একসঙ্গে দু-তিনটি বই পড়তে পারেন। অনেকেই একটার পর একটা পড়েন। নতুন করে বইয়ের প্রেমে পড়তে চাইলে অবশ্য সমান্তরালে কয়েকটা বই পড়া ভালো।
বই পড়াটাকে আপনি আপনার অভ্যাসে পরিণত করার আরেকটা উপায় হলো পড়া বই নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা। একসময় এ দেশে অনেক পাঠচক্র সচল ছিল। এখন সেটি নেই বললেই চলে। বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা পারিবারিক আড্ডায় নতুন পড়া বই নিয়ে আলাপ করতে পারেন। যে বই পড়ছেন সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখাও যেতে পারে। আপনার দেখাদেখি অনেকেই আপনার সঙ্গে এই আলোচনায় যুক্ত হয়ে যাবেন।
চেষ্টা করলেই বই পড়াকে আপনি আপনার প্রাত্যহিকতার একটি অংশ করে ফেলতে পারবেন। বিভিন্ন গবেষণা বলে, বই পড়ার অভ্যাস করতে সারাক্ষণ একটা বই সঙ্গে রাখতে পারেন। প্রথম দিকে দিনে দুইটা সময় বের করে রাখেন। ১০ মিনিট হলেও ওই সময় কেবল পড়ুন। সময় নিয়ে একটা তালিকা করে ফেলতে হবে যে বইগুলো আপনি পড়তে চান। এই তালিকা কখনো ফুরাবে না। কারণ, নতুন নতুন বই এই তালিকায় যুক্ত করবেন আপনি। ছোট সন্তানদের বই পড়ে শোনান। একদম নিয়মিত। সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন ওদের গল্প পড়ে শোনাবেন। ওদের মধ্যে যেমন পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে, তেমনি আপনি হয়ে উঠবেন একজন ভালো পড়ুয়া। হালকা মেজাজের, কৌতুক কিংবা মজার বইও পড়ুন। সম্ভব হলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আজ কী পড়লেন, তার একটা সারাংশ লিখে ফেলুন নোটখাতায় কিংবা ফেসবুকের পাতায়।
বিশ্বাস করুন, ঠিক ঠিক তিন মাস যদি এ নিয়ম মেনে চলেন, তাহলেই আপনি হয়ে যাবেন একজন সর্বভুক পড়ুয়া। আপনার বই পড়ার জগৎ আনন্দময় হোক।

গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সহিংসতা চলছেই, পর্যটন মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব আজ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছেন। আজ (বৃহস্পতিবার) তিনি নেপালি কবি ভানুভক্তের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শিলিগুড়ির কাছে পানিঘাটায় গেলে সেখানে নিগ্রহ ও হামলার মুখে পড়েন।
গৌতম বাবুর অভিযোগ, পানিঘাটায় ঢুকতেই মোর্চা সমর্থকরা কুকরি নিয়ে হামলা চালায় এবং তার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভকারীরা ইটবৃষ্টি শুরু করলে কোনোক্রমে তিনি ব্যাঙডুবির সেনা ছাউনিতে আশ্রয় নেন। পর্যটনমন্ত্রী এলাকা ছাড়ার পর পুলিশের একটি গাড়িতেও বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালায়।
মোর্চা সমর্থকদের প্রবল বাধার মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত সরকারিভাবে পালিত হওয়া কবি ভানুভক্তের জন্মজয়ন্তী পালন অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত যেতে পারেননি গৌতম দেব। মন্ত্রীর যাত্রা পথে পাথরের বড়ো বড়ো বোল্ডার ফেলে পানিঘাটার রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখে মোর্চা কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় প্রায় ৬০টি গাড়ির কনভয়ে ব্যাপক পুলিশ বাহিনী থাকা সত্ত্বেও অবরোধ সরিয়ে এগোতে পারেননি মন্ত্রী। অবশেষে পানিঘাটা বাজার থেকে দু’কিলোমিটার আগে ৫ নম্বর মোড়ে রাস্তার উপর চেয়ার পেতে কবির ছবিতে ফুলের মালা দিয়ে মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠান পালন করেন।
এদিকে, মোর্চা সমর্থকরা তিস্তা বাজারে সিকিমগামী ১০টি গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এছাড়া কালিম্পঙে তামাং বোর্ডের চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দার্জিলিঙের ধত্রেয় বনবাংলো ও কালিম্পঙের তিস্তা বন বাংলোতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়।
গতকাল বুধবার রাতে সুকনা গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর দুর্বৃত্তরা পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরফলে কার্যালয়ের বেশকিছু আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ওই ঘটনার সঙ্গে তারা জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন মোর্চা নেতা সুরেন প্রধান। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পক্ষ থেকে দার্জিলিংয়ে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে সেখানে একমাসেরও বেশি সময় ধরে গণ আন্দোলন ও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ে খুব শিগগিরি শান্তি আসবে বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু এদিন রাত থেকেই সেখানে সহিংসতা শুরু হয়েছে।

আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা প্রকাশ করতে আমি ভীত নই -গার্ডিয়ানকে ফরহাদ মজহার

অবশেষে মুখ খুলেছেন কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহার। তার ‘অপহরণ’ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বৃটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে। বলেছেন, কিভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। ফরহাদ মজহার বলেছেন, এখনও তিনি প্রচণ্ড রকম মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত। সুস্থ হতে তার অনেকটা সময় লাগবে। তার ভাষায়, তবে আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা প্রকাশ করতে আমি মোটেও ভীত নই। জোরপূর্বক নিখোঁজের পর যেসব মানুষ জীবিত ফিরে আসেন তারা পরে রহস্যজনক কারণে নীরবতা অবলম্বন করেন। যখন আমি কাজে ফিরবো তখন এ ইস্যুতে কাজ শুরু করবো। জোর করে এমন গুমের সংস্কৃতি আমাদেরকে বন্ধ করতে হবে।
বুধবার হাসপাতালের বিছানা থেকে ফরহাদ মজহার এ সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারটি নেন গার্ডিয়ানের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক করেসপন্ডেন্ট মাইকেল সাফি। গার্ডিয়ান ফরহাদ মজহারের পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের একজন সমালোচক হিসেবে। গার্ডিয়ান লিখেছে, অপহরণের পর ঢাকায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে দেয়া এটিই তার প্রথম সাক্ষাৎকার। তিনি এর আগে দেশের বা বিদেশি কোনো মিডিয়াকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, অপহরণকারীরা খুব কর্কশ ভাষা ব্যবহার করেছে। আমার মোবাইল ফোন নিয়ে গিয়েছিল। আমার চোখ বেঁধে ফেলেছিল। তারপর তাদের হাঁটু দিয়ে আমাকে মিনিবাসের ফ্লোরের ওপর চেপে ধরে রেখেছিল।
বুধবার ফরহাদ মজহার বলেছেন, গত সপ্তাহে সকাল প্রায় ৫টার দিকে তার বাসার কাছের রাস্তা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। তারা কারা তা তিনি নিশ্চিত নন। তার ভাষায়, ওইদিন সকালে আমার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। তাই আমি ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হই। অকস্মাৎ তিনজন মানুষ আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। তারা আমাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে একটি সাদা মিনিবাসে তুলে নেয়। তিনি বলেন, এ সময় তিনি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করতে সক্ষম হন এবং স্ত্রীকে ফোন করেন। ফরহাদ মজহার বলেন, (আমার স্ত্রীকে দেয়া) ওই ফোনকলটি ছিল একটি শর্ট কল। আমি তাকে শুধু বলতে পেরেছি, তারা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। তারা আমাকে হত্যা করবে। বিষয়টি অপহরণকারীরা টের পাওয়ার আগে আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি সামান্য সময়।
তিনি বলেছেন, অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে ফেলে এবং তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়। তিনি যদি তার স্ত্রীকে আবার ফোন করেন, তিনি কোথায় আছেন পুলিশ তা ট্র্যাক করতে পারবে এটা মনে করে তিনি তাদের মুক্তিপণ দেয়ার প্রস্তাব করেন। ‘এরপরই তারা আমাকে ফোনটি দিয়ে দেয়। এ নিয়ে আমি কয়েক বার আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি’।
‘বাসটি কয়েক ঘণ্টা চলতে থাকে। এ সময়ে তারা আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে। মাঝে মাঝেই আমার প্রতি আজেবাজে ভাষা ছুড়ে দিতে থাকে। তারা আমাকে থাপ্পড় দেয়। প্রায় ১০ বা ১২ ঘণ্টা পরে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে। এ সময় তারা আমার চোখের বাঁধন খুলে দেয়। একটি নির্জন স্থানে নামিয়ে দেয় আমাকে। তখন কিছুটা অন্ধকার হয়ে এসেছে। এরপর তারা আমাকে একটি বাসের টিকিট ধরিয়ে দেয়। আমাকে বলে ওই বাসে করে খুলনা থেকে ঢাকায় ফিরে যেতে। তখন আমি কিছুটা পথ হেঁটে আসি। খুলনায় একটি মার্কেটে পৌঁছি। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে বাসটিতে ওঠার আগে সেখান থেকে কিছু খাবার কিনি। আমাকে যখন জিম্মি রাখা হয়েছিল তখন আমি আমার স্ত্রীকে বেশ কয়েকবার ফোন করেছি। মাইক্রোবাসটি ঢাকা ছাড়ার পর আমার এসব মোবাইল কলের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ আমার অবস্থান নির্ণয় করতে পারতো। এভাবেই আমাকে পরে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আমি বিস্মিত, মাইক্রোবাসটি খুলনায় পৌঁছানোর আগে কেন পুলিশ মাইক্রোবাসটি ইন্টারসেপ্ট করতে পারলো না।
ফরহাদ মজহার আরো বলেছেন, তাকে অপহরণের জন্য প্রকৃতপক্ষে কারা দায়ী সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। তার ভাষায়, আমার অপহরণকারীরা ছিল সাদা পোশাকে (প্লেন ক্লোথ)। তারা কারা ছিল বা কোন গ্রুপের ছিল তা আমি জানি না। ফরহাদ মজহার বলেছেন, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে সোচ্চার থাকবেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন নেতাকর্মী ও বিরোধী দলীয় নেতাদের অপহরণের যে ধারা চলছে তারই সর্বশেষ শিকার তিনি।
ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের খবর যখন রহস্যময় হয়ে ওঠে তখন পুলিশ ঘোষণা করে, তিনি ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর খুলনার কাছে একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গত এক সপ্তাহ পুলিশি প্রহরায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঢাকাভিত্তিক মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা অধিকার-এর হিসাব মতে, গত তিন বছরে বাংলাদেশে গুম হয়েছেন প্রায় ২২৩ জন মানুষ। তার মধ্যে ১৮ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাকিদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সে বিষয়ে কেউ মুখ খোলেনি। ৩১ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এদের পরিবারসহ অন্য গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো ২০১৪ সালের জুলাই থেকে নীরবতা বজায় রাখছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান খান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো এ নিয়ে কথা বলতে শঙ্কিত। কারণ, তাদের ভয় পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই পরিণতি ভোগ করতে পারেন।
ঢাকার পুলিশ ফরহাদ মজহারের মামলাটি তদন্ত করছে। তবে কর্মকর্তারা স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন, ফরহাদ মহজারের দেয়া তথ্য নিয়ে তারা সন্দিহান। একজন কর্মকর্তা বুধবার ডেইলি স্টারকে বলেছেন, তিনি যে মাইক্রোবাসে করে খুলনা গিয়েছিলেন এমন কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি।
গত সপ্তাহে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার গোপনে আটক করে রেখেছে কয়েকশ’ মানুষকে। এর বেশির ভাগই মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, যারা ক্ষমতাসীন সরকারের বিরোধিতা করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, অল্প কিছু মামলার তদন্ত করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের লোকজন অবৈধ এসব আটকের জন্য দায়ী এমন অভিযোগ আমলে নেয় না পুলিশ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেছেন, তারা যাদেরকে আটক করেন তা বৈধভাবে, আইন অনুযায়ী। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ প্রচারণা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এএফপিকে বলেছেন, তারা বাংলাদেশে একটি নেতিবাচক প্রচারণা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে, বাস্তবতার সঙ্গে যার কোনো মিল নেই।

‘লাভগুরু’র প্রেমে পরীমনি

‘লাভগুরু’র প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন দেশের সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনি। এত দিন বিষয়টি অপ্রকাশিত থাকলেও প্রেমিকের জন্মদিনে তা প্রকাশ করলেন এই নায়িকা। দুজনে তাঁদের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসও পরিবর্তন করেন।
একটি এফএম রেডিওতে ‘লাভগুরু’ নামের একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে নিজেকে লাভগুরু হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সাংবাদিক তামিম হাসান। এক বছর ধরে চুপিচুপি প্রেম করলেও এবার নায়িকার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ্যে চলে আসে। সিনেমায় আসার পর থেকে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের স্থিরচিত্র পোস্ট করে পরীমনি বেশ আলোচনায় ছিলেন। আংটিবদলের ছবি এবং প্রেম-বিয়েকেন্দ্রিক অনেক খবরই প্রকাশ পেয়েছে গণমাধ্যমে। কিন্তু কোনোটির ব্যাপারেই পরীমনি মুখ খোলেননি। এবার তিনি ফেসবুকে নিজের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করলেন।
পরীমনির শেষ জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তাঁর প্রেমের বিষয়টি আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে প্রেমিকের জন্মদিনে নিজেই সম্পর্কের কথা প্রকাশ করলেন তিনি। তবে বিয়ে, সংসারের বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি এই নায়িকা। ফেসবুকের রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে লিখলেন, ইন আ রিলেশনশিপ উইথ...। পরীমনি তাঁর রিলেশনশিপ তথ্য বদলে ফেলার পাশাপাশি ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাসও লিখেন। ‘আজ বৃষ্টি রাতের এক বছর...’ এমন স্ট্যাটাসে ধারণা করা হচ্ছে, পরীমনি ও তামিমের প্রেমের বয়স (১২ জুলাই দিবাগত রাত) এক বছর পার করেছে।
এদিকে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে পরীমনির ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, পরীমনির প্রেমিক তামিমের সঙ্গে একাধিক মডেল ও টিভি অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়।

কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করুন

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভাগ্য নির্ধারণের বিষয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য নয়াদিল্লির প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি। এছাড়া কাশ্মীরের জনগণের ওপর চলমান নিপীড়নের নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর এ সংস্থা। আইভরি কোস্টের রাজধানী আবিদজানে অনুষ্ঠিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৪৪তম বৈঠকে পাস হওয়া প্রস্তাবে এ আহ্বান জানানো হয়। মঙ্গলবার দু’দিনব্যাপী এ বৈঠক শেষ হয়েছে। ৫৬টি সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাবটি পাস করেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অব্যাহত হত্যাকাণ্ড ও রক্তপাত বন্ধে নির্ধারিত ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতিও আহ্বান জানানো হয় ওই প্রস্তাবে। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে বলা হয়, কাশ্মীরে একটি গণভোটের আয়োজন করতে হবে যাতে ওই এলাকার জনগণ ভারতের সঙ্গে থাকবে নাকি পাকিস্তানে যোগ দেবে অথবা স্বাধীন হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। ভারত প্রথমে সেই প্রস্তাব মেনে নিলেও পরে সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে থাকে। মঙ্গলবার ওআইসির প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরাজমান দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দু হল কাশ্মীর ইস্যু এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়নই হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি আসার পূর্বশর্ত।

অন্ধকার ঘরে টানা ২০ বছর!

ভারতের মুম্বাইয়ে এক নারীকে পরিবারের সদস্যরা অন্ধকার প্রকোষ্ঠে টান ২০ বছর আটকে রাখার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। এনডিটিভি জানায়, ২০ বছর আগে বিয়ে হয় উত্তর গোয়ার ক্যান্ডলিম গ্রামের এক নারীর। স্বামীর সঙ্গে মুম্বাইয়ে যাওয়ার পর জানতে পারেন তার আরেকজন স্ত্রী রয়েছে। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি ওই নারী। এরপর মানসিক ভারসাম্য হারান। পরে ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। কিন্তু বাবার বাড়িতে ফিরে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। তার অস্বাভাবিক আচরণে বিরক্ত হয়ে পরিবারের লোকজন তাকে ঘরে আটকে রাখেন। সেভাবেই কেটে গেছে ২০ বছর। টানা ২০ বছর ওই অন্ধকার ঘরেই আটকে ছিলেন তিনি। আর একটি জানালা দিয়ে বাড়ির লোকজন তাকে খাবার-দাবার দিত। গোয়া পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, নারী পুলিশ সদস্যের একটি দল তাকে উদ্ধারের সময় তিনি উলঙ্গ অবস্থায় ছিলেন। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

লস্কর-এ-তৈয়বার হিন্দু সদস্য গ্রেফতার

জঙ্গি সংগঠন লস্কর-এ-তৈয়বার এক হিন্দু সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাশ্মীরের পুলিশ। সন্দীপ শর্মা নামের ওই ব্যক্তি সংগঠনটিতে আদিল নামে যুক্ত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বেশ কিছু প্রাণঘাতী হামলা, ব্যাংক লুট, নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্র ছিনতাই ও জঙ্গিদের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয়ার মতো বেশ কিছু ঘটনায় সন্দীপ জড়িত বলে পুলিশ দাবি করেছে। খবর বিবিসির। লস্কর-এ-তৈয়বার মতো সংগঠনে কোনো হিন্দু ব্যক্তির যুক্ত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বিস্মিত। পুলিশের হাতে গ্রেফতার সন্দীপকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। ব্যাপক তদন্ত অভিযানে পুলিশ জানতে পেরেছে, সন্দীপ শর্মা উত্তর প্রদেশের মুজফফরনগরের বাসিন্দা। সে ২০১২ সালে কাশ্মীরে আসে। কাশ্মীর রেঞ্জের পুলিশ মহানির্দেশক মুনির খান বলেছেন, ‘সন্দীপ গ্রাষ্মীকালে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করত আর শীতে পাঞ্জাবের পাতিয়ালায় চলে যেত। পাঞ্জাবে কাজ করার সময়েই কুলগাম জেলার বাসিন্দা শাহিদ আহমেদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। তারপরে সে দক্ষিণ কাশ্মীরে এসে প্রথমে এটিএম মেশিন থেকে টাকা লুট এবং অন্যান্য অপরাধে শামিল হয়।’ মুনির খান জানান, লস্কর-এ-তৈয়বার কমান্ডার বশির আহমদ ওয়ানি বা বশির লস্করির গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটিই কিছুদিন আগে দক্ষিণ কাশ্মীরে এক থানার ওসিসহ ৫ পুলিশ কর্মীকে হত্যা করে। পরে গোষ্ঠীটির প্রধান বশির লস্করি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। পুলিশের দাবি, যে বাড়িতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বশির লস্করি নিহত হয়, সন্দীপ শর্মা সেখানেই থাকত। সংঘর্ষের ঠিক আগে সন্দীপসহ ওই বাড়ির অন্যান্য লোকজনকে পুলিশ নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায়। যাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। যে বাড়িতে লস্কর-এ-তৈয়বার জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়েছিল, সে বাড়িতে তারা কী করছিল? এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি সন্দীপ। তখনই সন্দেহ হয় পুলিশের।

ট্রাম্প-জামাতাকে টাকা না দেয়ায় কাতার অবরোধ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সিনিয়র হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার কাতারের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ীদের একজনের কাছ থেকে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ পেতে ব্যর্থ হওয়ার পরপরই দেশটির বিরুদ্ধে শ্বশুরকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাপ দেয়া শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কুশনারের রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত বিভিন্ন লেনদেন এবং ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক ইস্যুজনিত জটিলতার মধ্য দিয়ে অন্তত এটুকু বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যেই অসংখ্য স্বার্থের সংঘাত রয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, রিয়েল এস্টেট ব্যবসার প্রথম দিকে ২০০৭ সালে কুশনার ব্যবসার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কের ৬৬৬ ফিফথ অ্যাভিনিউয়ে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। ওই সময় এত বেশি অর্থের বিনিময়ে একটি ভবন কেনা সেটাই প্রথম। বর্তমানে ভবনটির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি অফিস স্পেস খালি আছে। নিউইয়র্ক টাইমসের দেয়া তথ্য অনুসারে, গত কয়েক বছর ধরে ভবনটি থেকে যে আয় হয় তা এর জন্য নেয়া ঋণ শোধ করার জন্য যথেষ্ট নয়। এ কারণে কুশনার এই মাল্টিমিলিয়ন-ডলার ঘাটতি বিভিন্নভাবে চাপা দিতে বা পুষিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০১৫ সালে একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জোরেসোরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, অন্যদিকে জ্যারেড কুশনার তার বাবার সঙ্গে মিলে ডকবতে থাকা প্রপার্টিটাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছিলেন। একটা সময় বাপ-ছেলে মিলে কাতারি ধনকুবের, রাজপরিবারের সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম আল-থানিকে (এইচবিজে) সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। দ্য ইন্টারসেপ্ট জানায়, আলোচনার পর এইচবিজে শতকোটি ডলারের এই প্রকল্পে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে রাজি হন।
কিন্তু শর্ত রাখেন, প্রকল্পের বাকি অর্থ কুশনারকে নিজে নিজে জোগাড় করতে হবে। বাকি অর্থের ব্যবস্থা করতে কুশনারের এই রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান চীনের আনব্যাং ইনস্যুরেন্স কোম্পানির শরণাপন্ন হলে কোম্পানিটি চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ৪০ কোটি ডলারের নির্মাণ ঋণ দিতে রাজি হয়। কিন্তু নবগঠিত ট্রাম্প প্রশাসনের মাঝে স্বার্থের সংঘাত দেখে কয়েক সপ্তাহ পরই সরে পড়ে। আনব্যাংয়ের সমর্থন হারানোর কারণে কুশনার কোম্পানি এইচবিজের দেয়া শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়। ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানায়, কাতারের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র অনুসারে ওই বিলিওনিয়ার ঋণচুক্তিটি বাতিল করে দেন। তবে অন্য আরেকটি শর্ত বলেছে, তিনি চুক্তিটি আপাতত স্থগিত রাখেন। যেটাই ঠিক হোক, এর অল্প কিছু সময় পরই গত ৫ জুন জঙ্গিবাদে মদদ ও অর্থায়নের দায়ে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানালেও ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সম্পর্কচ্ছেদের কৃতিত্ব নেন। টুইটারে গর্বভরে বলেন, সৌদি আরবে সৌদি বাদশাহসহ বাকি ৫০ মুসলিম দেশের সঙ্গে আলোচনার সুফল এই অবরোধ। প্রেসিডেন্টের এ অবস্থান টিলারসনকে হতবাক করলেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর পেছনে জ্যারেড কুশনারেরই হাত রয়েছে। টিলারসনের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র থেকে দ্য আমেরিকান কনজার্ভেটিভকে জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত যে ট্রাম্পের কাতার সম্পর্কিত মন্তব্যের বেশ কিছু অংশ যুক্তরাষ্ট্রে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এবং কুশনারের কাছের বন্ধু ইউসুফ আল ওতাইবা নিজে লিখেছেন। ‘ওতাইবা জ্যারেডকে বুঝিয়েছেন আর জ্যারেড ট্রাম্পকে। কি একটা অবস্থা,’ বলেন ওই সূত্র। তবে ওই সূত্রের বক্তব্য যদি পুরোপুরি সত্যিও হয়, তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় কুশনার সত্যিই কাতারের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে কথা বলতে রাজি করাতে চেয়েছিলেন কিনা। অবশ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে মন্তব্য চাওয়া হলে জবাব দেননি ট্রাম্প জামাতা।

৩ মাস পর কবর থেকে তোলা হল লাশ

অস্বাভাবিক মৃত্যুর তিন মাস পর গৃহবধূ ইফফেত আরার (২৬) লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার লাশ তোলে পুলিশ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়। নিহতের স্বজনরা জানান, দেড় বছর আগে উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের রায়াপুর গ্রামের ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এরশাদের সঙ্গে ইফফেতের বিয়ে হয়। কয়েক দফায় সাত লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হয়। এরপর আরও যৌতুকের জন্য ইফফেতকে চাপ দিয়ে আসছিলেন তার স্বামী। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১০ এপ্রিল রাতে এরশাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ইফফেতকে পিটিয়ে আহত করেন। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তার ভাই মনিরুজ্জামানকে খবর দেয়া হয়। ওই দিন রাতেই ইফফেতকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ এপ্রিল ভোরে ইফফেত মারা যান। কিন্তু পুলিশকে না জানিয়ে লাশ দাফন করা হয়। এদিকে, এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর গত ১৯ জুন তার ভাই মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এরশাদ আলী, তার ভাই জাহিদ হোসেনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ জাহিদ হোসেন নামের এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মনিরুজ্জামান বলেন, বোনকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে, তারা আগে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, তার বোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। চাকরিতে যোগদানের আগেই হত্যার শিকার হয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগমারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৌরভ কুমার চন্দ্র বলেন, রোববার আদালত থেকে লাশ উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলমগীর হোসেনের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

তারেকের শাশুড়ির দুর্নীতির মামলা বাতিল

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব-সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের মামলা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুকে সম্পদের হিসাব চেয়ে নতুন করে নোটিশ দিতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সম্পদের হিসাব-সংক্রান্ত দুদকের মামলা ও সম্পদের হিসাব চেয়ে পাঠানো নোটিশ বাতিল চেয়ে সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লিভ টু আপিল করেন ইকবাল মান্দ বানু। সেই লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আদালত আজ ওই আদেশ দেন। জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৯ মে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তারেক রহমানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে চার কোটি ২৩ লাখ ৮,৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ সর্বমোট চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩,৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক রহমান, স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সূত্র আরো জানায়, ওই চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ দশমিক ৩৭ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদের মধ্যে জোবাইদা রহমানের নামে ৩৫ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া যায়। তারেক রহমানের দাবি অনুসারে, ওই এফডিআরের অর্থ তার শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু মেয়ে জোবাইদা রহমানকে দান করেছেন। দুদকের তদন্তে ওই দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং জোবাইদা রহমান ও ইকবাল মান্দ বানুর মাধ্যমে তারেক রহমানের অবৈধ আয়কে বৈধ করার অপচেষ্টায় সহায়তা করেছে মর্মে প্রমাণিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ আদালতে মামলাটির চার্জশিট দাখিল করা হয়।

কালো তালিকায় ১৬ হাজার মিল মালিক

বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চাল সরবরাহ না করে মজুদ করে রাখার দায়ে ১৬ হাজার মিল মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করেছে সরকার। এসব মিল মালিকদের থেকে আগামী তিন বছর চাল না কেনার সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য দেন মন্ত্রী। চালের দাম বৃদ্ধিসহ বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে খাদ্য মন্ত্রী বলেন, বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির জন্য কতিপয় অসাধু মিল মালিক দায়ী। এ ধরনের ১৬ হাজার মিল মালিককে চিহ্নিত করে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আগামী তিন বছর তাদের কাছ থেকে চাল কিনবে না সরকার। মন্ত্রী বলেন, চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি অনুযায়ী ২০ হাজার মেট্রিক টনের প্রথম চালান চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছে। চলতি মাসের ২৪ তারিখ আরও এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল এসে পৌঁছুবে বলে তিনি জানান। এছাড়া আগস্টে সাড়ে চার লাখ মেট্রিক টন চাল আনা হবে বলে জানান মন্ত্রী। খাদ্য মন্ত্রী জানান, আগামী আগস্টের মধ্যে সরকারের খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আট থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন।

মধুপুরে এক ইউনিয়নে বিএনপি’র ভোট বর্জন

এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা এবং জোর করে ভোট নেয়ার অভিযোগে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নে বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ মো. ছালাম ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় তিনি এ ভোট বর্জন করেছেন বলে মোবাইলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন। শাহ মো. আব্দুস ছালাম অভিযোগ করেন, কুড়াগাছা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের আঙ্গারিয়া কেন্দ্রে তার এজেন্টের তালিকা গ্রহণই করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মোমিনপুর ও সাইনামারী কেন্দ্রে গ্রহণ করার পরপরই সব এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন সরকার দলীয় প্রার্থীর কর্মীরা। কিছুক্ষণ ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশে রেখে ১০টা থেকে জোর করে ব্যালটে সিল মারা হয়। বাধা দিতে গেলে কর্মী ও ভোটারদের মারতে আসেন তারা। এসব কারণে ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তাই তিনি দলের সঙ্গে বসে কথা বলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মধুপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণ

গাজীপুরে মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ ও নিহতের ঘটনায় গাজীপুরে জেলা প্রশাসনের গঠন করা তদন্ত কমিটি রিপোর্ট পেশ করেছে। বৃহস্পতিবার গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহম্মদ হুমায়ূন কবীর তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য ৭টি কারণ চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি এর মধ্যে ৫টি কারিগরি ও ২টি প্রশাসনিক কারণ। কারণগুলো হচ্ছে- প্রেসার গেজটি নষ্ট হয়ে যাওয়া, ডেলিভারি লাইন বন্ধ থাকা, লিভারটিতে স্লট কাটা না থাকায় বয়লারের কম্পনে ডেড ওয়েট উচ্চচাপের দিকে সরে গিয়ে ওভার প্রেসার সিচুয়েশন তৈরি করা হয়েছিল। অপারেটর কর্তৃক প্রেসকার রিলিজ করতে ব্যর্থ হওয়া ও বয়লার মেইনটেন্যান্স কর্তৃপক্ষের বয়লার অপারেটরদের উপযুক্ত তদারকির অভাব। জেলা প্রশাসক জানান, তদন্ত কমিটি ২৮ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে এর সঙ্গে ৯১ পৃষ্ঠা সংযুক্তি দেয়া হয়েছে। তদন্তে ২৯ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তিনি জানান, ওই কারখানায় ৫ টন ও ১০ টনের ২টি বয়লার ছিল। এর মধ্যে ৫ টনের বয়লারটি বিস্ফোরিত হয় এবং ১০ টনের বয়লারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৩ জুলাই বয়লারটির বিস্ফোরন হলে ওই দিনই গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত ও ৭০ জন আহত হন।

ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম শেখকে (২০) ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ১১টায় উপজেলার উত্তরপাড় গ্রামের হেলাল মার্কেট থেকে আসলাম শেখকে গ্রেফতার করা হয়। কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কামরুল ফারুক বলেন, আসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। বুধবার দিবাগত রাতে হেলাল মার্কেটের পাশে ইয়াবা বিক্রির সময় ৭টি ইয়াবাসহ আসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় মাদক আইনে একটি মামলা দিয়ে আসলামকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আসলাম শেখ উপজেলার উত্তরপাড় গ্রামের মিলু শেখের ছেলে। আসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে কি না তা জানার জন্য কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান মুন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের মোবাইলে বার বার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবী বা বিক্রেতার ছাত্রলীগে স্থান নেই। আসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাফাতদের বিচার শুরু

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক শফিউল আজম অভিযোগ গঠন করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেন। এসময় আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষী গ্রহণের জন্য আগামী ২৪ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। এর আগে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এর আগে, ৯ জুলাই এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওই দিন শুনানির জন্য কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় পাঁচ আসামিকে। ওই দিন আসামিপক্ষ আদালতের কাছে সময়ের আবেদন জানায়। পরে বৃহস্পতিবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত। গত ৮ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে সাফাতসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এ্যানি। জন্মদিনের পার্টিতে দাওয়াত দিয়ে হোটেলে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ৬ মে বনানী থানায় ওই পাঁচজনকে অসামি করে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রী। গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে তাদের আটকে রেখে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়। মামলার পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামির সবাইকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বর্তমানে তারা সবাই কারাগারে আছেন।

ঢাকায় লংকান প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা



ঢাকায় পৌঁছেছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পরে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে ১০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। কোথাও কোথাও শোভা পাচ্ছে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে বর্ণিল পতাকা ও অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে নানা বর্ণের ফেস্টুন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তার এ সফর।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বুধবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষা এবং জনপথ প্রতিমন্ত্রী, কৃষি প্রতিমন্ত্রী, অর্থ ও গণযোগাযোগ উপমন্ত্রী, বন্দর ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল থাকবেন। উল্লেখ্য, সিরিসেনা দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২০১৩ সালের ৮ থেকে ১১ এপ্রিল এবং ২০১৪ সালের ২২ থেকে ২৩ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। বিকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন। সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ১৪ জুলাই দু’দেশের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকে দু’দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, মৎস্য, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য ও প্রচার, ভিসা সংক্রান্ত বিষয়াবলী গুরুত্ব পাবে বলে তিনি জানান। সফরকালে যেসব চুক্তি এবং এমওইউ সই হবে; তার মধ্যে আছে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষা, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট ধারীদের ভিসা অব্যাহতি, দু’দেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রভৃতি। এছাড়াও দু’দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতা, দু’দেশের ফরেন সার্ভিস ইন্সটিটিউটের মধ্যে এবং বাংলাদেশের বিস ও শ্রীলংকার লক্ষণ কাদিরগামা ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিসের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। এদিকে দু’দেশের মধ্যে রেডিও, ফিল্ম ও টিভির সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) ও শ্রীলংকার স্ট্যান্ডার্ড ইন্সটিটিউশনের (এসএলএসআই) মধ্যে সহযোগিতা, দু’দেশের সংবাদ সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা, দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলংকা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ১৪ জুলাই বিকালে শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। তার সম্মানে রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ১৫ জুলাই শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এমসিসিআই এবং বিডার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ-শ্রীলংকা বিজনেস সংলাপে অংশগ্রহণ করবেন। এর পরপরই তিনি শ্রীলংকার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে ৩ জুলাই বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ১৯৭২ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর আগে ২০১১ সালের এপ্রিলে শ্রীলংকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে বাংলাদেশ সফর করেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলংকা সফর করেন।

শাহজালালে ল্যাপটপ ভেঙে ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার

সিঙ্গাপুর থেকে আসা হুমায়ুন কবির নামে এক যাত্রীর ল্যাপটপ ভেঙে ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা। বুধবার রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে এসব স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এরপর হুমায়ুন কবিরকে আটক করা হয়। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার ভবের বাজারের হাতিনাকান্দায়। শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মইনুল খান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক গোয়েন্দা দল বিমানের ফ্লাইট বিজি-০৮৫ অবতরণের পূর্বে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে। রাত সাড়ে ৯টায় সিঙ্গাপুর থেকে ফ্লাইটটি অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নজরদারিতে রাখা হয়। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর তাকে চ্যালেঞ্জ করে সব ব্যাগেজ পরীক্ষা করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে রক্ষিত ল্যাপটপের স্ক্যানিং ইমেজে সন্দেহজনক কিছু দেখা যায়। এরপর ল্যাপটপ ভেঙে ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ওই যাত্রীর কাছ থেকে আরও ৯৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয়েছে। স্বর্ণের বারগুলো ল্যাপটপের মাদারবোর্ডের ভেতরে স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিল। এ বিষয়ে শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত ওই যাত্রীকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করা হচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তাদের বড় রদবদলে ক্ষুব্ধ কমিশনাররা

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৫ জন আঞ্চলিক কর্মকর্তা, ১৮ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ৩৩ জনের বদলির বিষয়টি জানতেন না নির্বাচন কমিশনাররা। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ইসি সচিবালয় বদলির আদেশ জারি করেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নির্বাচন কমিশনাররা। বুধবার এ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করেছেন চার কমিশনার। এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনারের কাছে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইসি সচিব ও অতিরিক্ত সচিব। আজ (বৃহস্পতিবার) আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে। মঙ্গলবার বদলি প্রক্রিয়ার বিষয়টি জানতে চেয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে একটি চিঠি (ইউনোট) দিয়েছেন। সোমবার বদলির এ আদেশ জারি করা হয়। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। একাধিক কমিশনারের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, মাঠ প্রশাসনে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার বদলি ও চলতি দায়িত্ব দেয়ার ঘটনাটি তাদের নজরেই আনা হয়নি। এর আগেও কমিশনারদের অবহিত না করে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিষয়গুলো তাদের জন্য অবমাননাকর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কমিশনার বুধবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, এটিকে ইস্যু করে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করল। এভাবে কমিশনের কার্যক্রম চলতে পারে না। এতে কমিশন বিতর্কিত হয়ে পড়তে পারে। যোগাযোগ করা হলে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বুধবার যুগান্তরকে বলেন, বদলি আদেশ জারির বিষয়টি আগে জানতাম না। কোন প্রক্রিয়ায় রদবদল হল তা জানতে চিঠি দিয়েছি। এটি কমিশনের একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বদলির বিষয়ে আমি জানি না। নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, প্রশাসনিক কমিটিতে আমি নেই। বিষয়টিও সেনসেটিভ। এ বিষয়ে মন্তব্য করব না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার সম্মতি নিয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বদলির আদেশ অনুমোদন করেছেন। এটি কমিশন সচিবালয়ের রুটিন কাজ। বড় ধরনের বদলির বিষয়টি চার কমিশনারের নজরে আনলে বিতর্ক হতো না। তারা বলেন, আগেও বিভিন্ন বিষয়ে চার কমিশনারকে না জানিয়ে ইসি সচিবালয় থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চোখের আইরিশ ও আঙ্গুলের ছাপ ছাড়াই স্মার্টকার্ড দেয়ার প্রস্তাব তৈরি করেছিল ইসি সচিবালয়। ওই ঘটনায়ও ক্ষুব্ধ হন কমিশনাররা। মাহবুব তালুকদার ইউনোটে উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখতে পেলাম দেশব্যাপী নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ অফিসারদের বদলি ও পদোন্নতি (চলতি দায়িত্ব) প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে অফিসারদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা পত্রিকায় ওঠে এসেছে। এতে কমিশনের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করি। বিষয়টি আমাকে কিছুটা বিস্মিত করেছে। এ নিয়ে বুধবার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের কক্ষে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন চার কমিশনার। দুপুরে মাহবুব তালুকদারের সঙ্গে বৈঠক করেন নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান। সেখানে বদলির যৌক্তিকতা ও কমিশন সচিবালয়ের কার্যপরিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ইউনোট (আনঅফিসিয়াল নোট) আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না।

১০ হাজার টাকা ‘চুক্তিতে’ বাসায় আসেন তরুণী

এক রাতের জন্য ১০ হাজার টাকা ‘মৌখিক চুক্তিতে’ বাহাউদ্দিন ইভানের বনানীর বাসায় আসেন তরুণী। কোনো প্রকার জোরপূর্বক নয় বরং দু’জনের সম্মতিতেই ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা স্বীকার করেছেন ইভান। বুধবার ঢাকার হাকিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জন্মদিনের কথা বলে বনানীতে নিজ বাসায় ডেকে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ইভান এ তথ্য দেন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক ও ওই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ইভান বলেন, খুব বেশি দিনের সম্পর্ক নয় ওই তরুণীর সঙ্গে। ঘটনার আগে দু-এক বার ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে ইভানের। ঘটনার ওই রাতে তরুণীকে জোর করে কোনো কিছু করেননি ইভান। এক রাতের জন্য বাসায় এসে থাকতে ওই তরুণীকে ১০ হাজার টাকায় কন্ট্রাক্ট (মৌখিকভাবে) করা হয়। আর সে অনুসারেই ওই তরুণী ঘটনার রাতে ইভানের বাসায় আসেন। গভীর রাতে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয় দু’জনের সম্মতিতেই। ৪ দিনের রিমান্ড শেষে এদিন ইভানকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। জবানবন্দিতে ইভান জানান, মৌখিক কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে ওই তরুণী ইভানের বাসায় এলেও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর গভীর রাতে তরুণী তার এক বন্ধুকে বাসায় আসতে বলেন। এ বিষয়টি ইভানের পছন্দ হয়নি। এতে ইভানের পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে যেতে পারে। ফলে ইভান ওই তরুণীকে ফোন করে তার বন্ধুকে বাসায় ডাকতে বারণ করেন। কিন্তু তরুণী তা শোনেননি। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তরুণী অবাধ্য হলে সম্মানের ভয়ে ওই তরুণীকে বাসা থেকে বের করে দেন ইভান। ঘটনার সময় তরুণীকে কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা মারধর করা হয়নি বলেও আদালতকে জানান ইভান। একই সঙ্গে ধর্ষণের (সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন) পর তা ভিডিও ধারণের বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি। আদালত সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্তকাজ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ৯ জুলাই আসামি বাহাউদ্দিন ইভানের ডিএনএ প্রফাইলিং সংরক্ষণ এবং তরুণীর ইউরিন ও ব্লাড পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এর আগে ৭ জুলাই ইভানকে এ মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
৬ জুলাই বিকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় খালার বাড়ি থেকে ইভানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। আর ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষিতা তরুণী বাদী হয়ে ৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থানায় এ মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, বাহাউদ্দিন ইভানের (২৮) সঙ্গে ১১ মাস ধরে ফেসবুকে বন্ধুত্ব হয় ধর্ষিতা তরুণীর। এ বন্ধুত্বের সূত্র ধরে দু’জনের ঘোরাঘুরি ও দেখা-সাক্ষাৎও হয়। আর এ বন্ধুত্ব থেকেই ৪ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। ৪ জুলাই ইভান (আসামি) ফোন করে জানায় তার জন্মদিনের কথা। ওই জন্মদিনে সে তাদের সম্পর্কের কথা পরিবারকে জানাবে ও তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেবে। এরপর ৪ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইভানের বাসায় যান ওই তরুণী। বাসায় মা-বাবা কোথায় জানতে চাইলে ইভান বলেন, তারা (মা-বাবা) অসুস্থ, ঘুমিয়ে আছেন। তাদের বিরক্ত করা উচিত হবে না। সকালে পরিচয় করিয়ে দেবে। বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কোনো আলামত না দেখে তরুণী ভয় পান। চলে আসতে চাইলে ইভান তাতে বাধা দেন। ইভান ওই তরুণীকে রাতের খাবার ও নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ান। নেশা করতে রাজি না হলে ইভান ওই তরুণীকে বলেন, একদিন খেলে কিছু হবে না। এরপর রাত ১টার দিকে ইভানের ঘরে ওই তরুণীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। ওই তরুণী চিৎকার শুরু করলে ওই তরুণীর ব্যাগ রেখে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ইভান। ২৫ জুলাই এ মামলার পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

খালেদার দুর্নীতির দুই মামলার পরবর্তী শুনানি ২০ জুলাই

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন আর রশীদকে বৃহস্পতিবার জেরা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী। তার জেরা শেষ না হওয়ায় পরবর্তী জেরার জন্য নতুন দিন ধার্য করেন আদালত। অপরদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষের সমর্থনের জন্যও একই দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালত সূত্র জানায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন আদালত। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজির না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় অপর মামলাটি দায়ের করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলায় আসামিদের বিচার শুরু হয়। গত বছরের ১ ডিসেম্বর নিজেকে ‘সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ’ দাবি করে এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন খালেদা জিয়া।

দেশে ফিরতে দিন গুনছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ

দেশে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ। তবে আইনি বাধার কারণে এখনই ফিরতে পারছেন না তিনি। ভারতে অবৈধ প্রবেশের দায়ে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’ এ করা মামলায় বর্তমানে শর্তসাপেক্ষে সেখানেই জামিনে আছেন তিনি। দেশটির মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই রায় ঘোষণা হতে পারে। কোনো সাজা না হলে রায়ের পরপরই তিনি দেশে ফিরে আসবেন। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি মেঘালয় রাজ্য ছাড়তে পারবেন না এবং সপ্তাহে ১ দিন শিলং পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ও ধার্য তারিখে আদালতে হাজিরা দেয়ার শর্তে জামিন পান সালাহ উদ্দিন। আদালতের অনুমতি নিয়ে কয়েক মাস আগে দিল্লিতে চিকিৎসা করাতে যান তিনি। সেখানে তার কিডনি ও ঘাড়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। নিয়মিত চেকআপের জন্য এখনও তাকে মাঝে মাঝে দিল্লি যেতে হয়। সালাহ উদ্দিন এখন শিলংয়ে সানরাইজ গেস্ট হাউসে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে একজন সহকারী আছেন। তিনিই তার দেখভাল করেন। এছাড়া তার ভাতিজারা কয়েক মাস পরপর সেখানে যান। ফেরা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বুধবার বিকালে টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, আমি তো ইচ্ছা করে এখানে থাকছি না। আদালতের নির্দেশেই আমাকে এখানে থাকতে হচ্ছে। মামলার রায় ঘোষণার পর আমি একদিনও এখানে থাকতে চাই না। রায়ের পরপরই আমি দেশে ফিরে যাব। এ বিএনপি নেতা বলেন, ‘শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও এখনও পুরোপুরি সুস্থ হইনি। কিছুদিন আগে দিল্লিতে অপারেশন হয়েছে। নিয়মিত চেকআপের জন্য আমাকে শিলংয়ের বাইরে যেতে হয়।’ মামলার অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত মামলার কাজ অনেক দূর এগিয়ে এনেছেন। আশা করি দ্রুত রায় হবে। দেশবাসী এবং নেতাকর্মীদের দোয়ায় মামলার রায় আমার পক্ষে আসবে বলে আশা করছি। দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) সাক্ষ্য গ্রহণও শেষ। এখন চলছে জেরা ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন। এরপরই রায় দেবেন আদালত। সূত্র আরও জানায়, প্রয়োজন ছাড়া সালাহ উদ্দিন গেস্ট হাউস থেকে বের হন না। বিভিন্ন খবরের কাগজ, টিভি, অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেখে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির খবর রাখেন।
দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরাও সালাহ উদ্দিনের খোঁজখবর রাখছেন। এ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ জানান, তিনি (সালাহ উদ্দিন) এখনও পুরোপুরি সুস্থ হননি। এখনও চিকিৎসার মধ্যে আছেন। তিনি আরও বলেন, সন্তানের পড়ালেখার কারণে নিয়মিত শিলংয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ছেলেমেয়েরা যখন ছুটি পায়, তখন তাদের নিয়ে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করি। তবে এবার ঈদ সালাহ উদ্দিনের সঙ্গেই কাটিয়েছেন হাসিনা আহমেদ। ২০১৫ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন ওই সময়ে দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এরপর থেকে পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাকে বাসা থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। নিখোঁজের ৬২ দিন পর ২০১৫ সালের ১১ মে শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকায় খোঁজ মেলে সালাহ উদ্দিনের। উদভ্রান্তের মতো ঘোরাফেরার সময় সেখানকার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখানকার পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রীকে ফোন করে। খবর পেয়েই শিলংয়ে ছুটে যান স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। চিকিৎসা চলা অবস্থায়ই তার বিরুদ্ধে করা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। সিটি পুলিশ মেঘালয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ চার্জশিট দেয়। এতে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। চার্জশিট হওয়ার আগেই মামলা চালানোর জন্য শিলংয়ের বিশিষ্ট আইনজীবী এসপি মোহান্তকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি সালাহ উদ্দিনের পক্ষে আইনগত দিকগুলো দেখছেন।

সিসি ক্যামেরায় নজরদারি তবুও আর্থিক লেনদেন

‘থানায় জিডি কিংবা মামলা করতে এসে টাকা লেনদেন করবেন না। টাকার বিষয়ে আলোচনা করা যাবে না। আপনি সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত- মো. ওমর ফারুক, অফিসার ইনচার্জ, মতিঝিল থানা।’ এ বিজ্ঞপ্তিটির কয়েকটি কপি মতিঝিল থানার ডিউটি অফিসার এবং সার্ভিস ডেলিভারি অফিসারের কক্ষে সাঁটানো আছে। কিন্তু এরপরও ওই রুমগুলোয় আর্থিক লেনদেন হচ্ছে। জিডি করে কেউ টাকা দিতে না চাইলে অনেকটা জোর করেই তাদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। বুধবার সরেজমিন মতিঝিল থানায় গিয়ে এ চিত্র চোখে পড়ে। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত মতিঝিল থানায় পাঁচটি জিডি হয়। প্রত্যেকটির বিপরীতে নেয়া হয় টাকা। বেলা ১১টার দিকে যুগান্তরে এ প্রতিবেদক থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে গিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় দেখা যায়, ওয়্যারলেস অপারেটর ইকবাল হোসেন পাঞ্জাবি পরা দাড়িওয়ালা এক যুবকের জিডি লিখে দিচ্ছেন। জিডির নম্বর দেয়ার আগেই যুবকের কাছে টাকা দাবি করেন ইকবাল। এ সময় যুবক বলেন, ‘৪০০ টাকা দিলে চলবে স্যার?’ তখন ইকবালের জবাব, ‘আগে যা বলেছি তা-ই দিতে হবে। এক টাকা কম দিলেও চলবে না।’ পরে ওই যুবক ৫০০ টাকার একটি নোট ইকবালের হাতে দিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে ওই যুবকের পিছু নিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদক পরিচয় জানতে চান। তখন যুবক জানান, তার নাম মো. সারোয়ার। গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। তিনি পেশায় কৃষক। ভারতীয় ভিসা করাতে মতিঝিলে এসেছেন। আগের পাসপোর্টটি হারিয়ে গেছে। তাই থানায় জিডি করতে এসেছিলেন। তার জিডি নম্বর ৮৩২। তিনি বলেন, ‘জিডি করার আগেই পুলিশ সদস্য ইকবাল আমার কাছে ৫০০ টাকা দাবি করেন। জিডি শেষে তাকে ১০০ টাকা কম দিতে চেয়েছিলাম। এজন্য টাকা ভাঙতি করেও এনেছিলাম। কিন্তু তিনি কম নিতে রাজি হননি।
তাই বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা দিয়েছি।’ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ফের ডিউটি অফিসারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন নিজেই একটি জিডি লিখছেন। এ সময় ওয়্যারলেস অপারেটর ইকবাল হোসেন তাকে বলেন, ‘দেন, আপনার জিডি আমি লেখে দিই।’ বেলাল হোসেন আপত্তি না জানালে পুলিশ সদস্য ইকবাল জিডি লেখা শুরু করেন। জিডি লেখা শেষে ইকবাল একটি কপি টেবিলের ওপর রেখে বেলাল হোসেনকে বলেন, ‘এটি আপনার কপি।’ বেলাল কপিটি হাতে নেয়ার সময় ইকবাল টাকা দাবি করেন। বেলাল হোসেন ১০০ টাকা দিলে ইকবাল তা নিতে রাজি হননি। বেলালকে এ সময় ইকবাল বলেন, ‘আপনারা ব্যবসায়ী মানুষ। ১০০ টাকা কীভাবে দেন?’ জবাবে বেলাল বলেন, ‘ঈদের পর থেকে ব্যবসার অবস্থা ভালো না। পকেটে মাত্র ২০০ টাকা আছে। ১০০ টাকার বেশি আপনাকে দিতে পারব না।’ ইকবাল কোনো মতেই ১০০ টাকা নিতে রাজি নন। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে দর কষাকষির একপর্যায়ে ইকবাল বারবার যুগান্তরের প্রতিবেদকের দিকে তাকাচ্ছিলেন। পরে প্রতিবেদক ডিউটি অফিসারের কক্ষ ত্যাগ করে সার্ভিস ডেলিভারি অফিসারের কক্ষে অবস্থান নেন। বেলাল হোসেন থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর তার সঙ্গে কথা হয় যুগান্তরের প্রতিবেদকের। বেলাল বলেন, ‘পুলিশ সদস্য ইকবাল নিজ ইচ্ছায় জিডি লিখে দেন। জিডি লেখার আগে কোনো টাকা দাবি করেননি। পরে টাকা চাইলে তার ১৫ মিনিটের পারিশ্রমিক বাবদ ১০০ টাকা দিই। কিন্তু তিনি ওই টাকায় সন্তুষ্ট নন। দীর্ঘক্ষণ দরকষাকষির পর তার (ইকবাল) ফাইলের নিচে ১০০ টাকা গুঁজে দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে টেবিল থেকে আমার জিডির কপিটি নিয়ে চলে আসি।’ বেলাল হোসেন বলেন, একদিকে টাকা দিতে নিষেধাজ্ঞা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো হয়েছে। অন্যদিকে জোর করে টাকা নিচ্ছে। তাও আবার সিসি ক্যামেরা চালু থাকা অবস্থায়। এটা কোন ধরনের নীতি? তার মতে, থানায় থাকা সিসি ক্যামেরাগুলো ওসির রুম থেকে মনিটরিং না করে পুলিশ সদর দফতর থেকে মনিটরিং করা উচিত। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সার্ভিস ডেলিভারি অফিসারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সবুজবাগের বাসিন্দা আলমগীর তার জিডির কপিটি নিয়ে সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার নিশাত জাহানের সামনে থেকে উঠে বাইরের দিকে রওনা দিচ্ছেন। এ সময় নিশাত জাহান বলেন, ‘খরচাপাতি দিয়ে যান।’ উত্তরে আলমগীর বলেন, ‘আমাকে রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এক স্যার পাঠিয়েছেন। পাঠানোর আগে তিনি বলেছেন, জিডি করতে কোনো টাকা লাগবে না।’ এরপর পুলিশ সদস্য নিশাত জাহান বলেন, ‘যে স্যারই পাঠিয়ে থাকুক না কেন, টাকা লাগবে।’ পরে আলমগীর তার পকেট থেকে ১০০ টাকা বের করে দেন। কিন্তু সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার ১০০ টাকা নিতে রাজি হননি। একপর্যায়ে আলমগীর বলেন, ‘আমরা গরিব লোক। আমার কাছে আর কোনো টাকা নেই। এখান থেকে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যেতে হবে হেঁটে।’ পরে সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার নিশাত জাহান ১০০ টাকা নিয়ে তার ভ্যানিটি ব্যাগের সামনের চেইন খুলে ভেতরে রেখে দেন। এরপর বেরিয়ে যান আলমগীর। ১২টা ২০ মিনিটের দিকে থানা থেকে জিডি করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আলমগীরের সঙ্গে কথা হয়। আলমগীর জানান, তার স্থায়ী ঠিকানা ময়মনসিংহ সদরের বিদ্যাগঞ্জ এলাকায়। মঙ্গলবার ফকিরাপুল পানির ট্যাংকি এলাকায় তার রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাগজপত্র হারিয়ে যায়। এজন্য জিডি করেছেন।
তার জিডি নম্বর ৮৩৭। তিনি বলেন, ‘জিডি করতে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার আমার কাছে ২০০ টাকা দাবি করেন। ২০০ টাকা না থাকায় শেষ পর্যন্ত ১০০ টাকা দিয়েছি।’ ‘জিডি করতে কত টাকা করে নেন’- জানতে চাইলে দায়িত্বরত সার্ভিস ডেলিভারি অফিসার নিশাত জাহান বিব্রত বোধ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটা কেমন হয়ে গেল না ভাই? আপনি তো একটি জায়গায় আছেন। এ রকম প্রশ্ন করা কি ঠিক?’ ‘আপনি তো টাকা নিচ্ছেন। যদি না নিতেন, তাহলে প্রশ্নটা করতাম না’, যুগান্তর প্রতিবেদকের এ মন্তব্যের পর নিশাত জাহান বলেন, ‘যে যে রকম দেয় সেরকমই নিই।’ একই ধরনের জবাব দিয়ে ওয়্যারলেস অপারেটর ইকবাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘মামলা বা জিডির ক্ষেত্রে টাকা নেয়ার কোনো নিয়ম নেই।’এ বিষয়ে মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক, পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানী এবং পরিদর্শক (অপারেশন) মনির হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তাদের থানায় পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, ওসি ওমর ফারুক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। বুধবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানী যুগান্তরকে বলেন, ‘এমন তো হওয়ার কথা নয়। ওই সময় আমরা (ওসি ও দুই পরিদর্শক) থানায় ছিলাম না। এ সুযোগে হয়তো টাকা-পয়সা নিয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চকরিয়ায় ২ ডাকাত দলের গোলাগুলিতে যুবক নিহত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় দুই ডাকাত দলের গোলাগুলিতে বেলাল উদ্দিন (৩৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে চকরিয়া লামা সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বেলাল চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজরা ইউনিয়নের পূর্ব ডুমখালী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী প্রকাশ জাফরের ছেলে। এদিকে নিহতের পরিবার জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে ওই এলাকার রিজার্ভ পাড়া থেকে বেলালকে তুলে নিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, দুই ডাকাত দলের গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ চকরিয়া লামা সড়কের কুমারি ব্রিজ এলাকায় যায়। পাশের জঙ্গলে দুই ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে বেলালকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরো জানান, বেলালের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, পুলিশ এসল্ট, মারামারি, বন মামলা ও চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে ১১টি মামলা রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শ্রাবণে রোগবালাই : প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

শ্রাবণ মাসে আকাশজুড়ে থাকে কালো মেঘের ভেলা। ধীরে ধীরে গুমট পরিবেশে হঠাৎ বজ্রের ঝলকানি ও বিকট শব্দে কেপে ওঠে প্রকৃতি। এরপর আকাশের ঠিকরে ছিটিয়ে দেয়া বৃষ্টি যেন পরিবেশ শান্ত করে দেয়। আর কাঁদা মাটির গন্ধের নেশা যেন এনে দেয় শরীর ও মনে প্রশান্তির ছোয়া। আর ঝুম বৃষ্টিতে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়ার উৎসব চলে ঘরে ঘরে। তারপরও বর্ষায় সমস্যারও কিন্তু কমতি নেই। বৃষ্টির সঙ্গে পানি জমা আর কাঁদা রাস্তায় আছাড় খাওয়া যেমন থাকে, তেমন বিভিন্ন রোগ-বালাইও দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কমে যায়। ফলে বিভিন্ন রোগ যেমন: ঠাণ্ডা লাগা, চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গু, সর্দি-কাশি, পানিবাহিত ইনফেকশান, ম্যালেরিয়া, চর্মরোগ ও নানাবিধ সংক্রমণ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে হজমের সমস্যা এবং মশার কামড় ঘটিত নানাবিধ রোগ তো রয়েছেই। তাই বর্ষায় রোগ-বালাই থেকে বাঁচার কিছু সাধারণ উপায় তুলে ধরা হল:
* শ্রাবণে মশার উপদ্রব বাড়ে। এক্ষেত্রে মশাদের কাবু করতে কাজে লাগাতে পারেন নিমপাতাকে। শুকনো করা নিমপাতা একসঙ্গে করে জ্বালিয়ে দিন। দেখবেন অল্প সময়ের মধ্যেই একটা মশাকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
* বর্ষায় পায়ে এবং শরীরে ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই বছরের এই সময় বেশি করে পায়ের খেয়াল রাখতে হবে। নোংড়া পানি ঠেলে বাড়ি এলে গরম পানিতে অল্প করে ডেটল ফেলে ভালো করে পা ধুতে হবে। সেই সঙ্গে নখের মাঝে যাতে ময়লা জমে না থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষে করে ডায়াবেটিক রোগীরা বেশি করে এই সময় পায়ের দিকে নজর নিন।
* শ্রাবণের ঝুম বৃষ্টিতে আদা, হলুদ এবং গ্রিন-টি বেশি করে খেতে হবে। কারণ এই তিনটি খাবারই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটিয়ে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
* বর্ষাকালে শরীরকে ভেতর এবং বাইরে থেকে চাঙ্গা রাখতে সপ্তাহে একবার নিমতেল সারা শরীরে লাগিয়ে কম করে ২০ মিনিট ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর হলকা গরম পানিতে গোসল করুন। এমনটা করলে স্কিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমবে। অন্যদিকে সারা শরীরে রক্ত চলাচল বেড়ে যাবে এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার আশংকা কমে যাবে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় অভিযোগ: সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিপুল অর্থের মালিক

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভায় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে একহাত নিলেন সংগঠনটির অন্য নেতারা। তাদের অভিযোগ, এই দু’জন এককভাবে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। এ সময় সভাস্থলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাদের আরও অভিযোগ, ছাত্রলীগের কোনো কোনো নেতা বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। কোনো কোনো নেতা বিবাহিত। এমনকি অতীতে ছাত্রলীগবিরোধী অবস্থানে ছিলেন- এমন নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তবে ২৬ জুলাই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সভা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, ৪টি এজেন্ডা নিয়ে বুধবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভা চলে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। সভা সূত্র জানায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সিনিয়র নেতারা সংগঠন পরিচালনায় বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরেন। অধিকাংশ সময়েই জুনিয়র নেতারা অনেক সভায় চুপ থেকেছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অসন্তুষ্ট হতে পারেন এবং এতে আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন- এমন আশঙ্কা থেকেই তারা চুপ থেকেছেন বলে জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।
সাধারণ সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা জানান, সভায় সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সায়েম খান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলি না। বিবাহিতদের কমিটিতে রাখা যাবে না, সেটাও নেত্রী শেখ হাসিনাকে বলে দিতে হয়। যেহেতু গঠনতন্ত্র আছে, তা সম্পূর্ণভাবে ফলো করতে হবে। আর ফলো করা না হলে বলতে হবে- গঠনতন্ত্র অবৈধ। কারণ ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই যখন কাউন্সিল হয় তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হিসেবে আমি দুই বছর রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখেছি। দুই বছরকে ধরেই আমি সবকিছু সাজিয়েছি। আগামী ২৬ তারিখের (জুলাই) পর কমিটি যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকে, তাহলে আমাদের কোনো রূপরেখা থাকবে না। আমাদের নির্দিষ্ট করে দেয়া হোক।’
সভায় তিনি (সায়েম খান) আরও বলেন, ‘সম্মেলনের কথা এলে নির্বাচনের প্রশ্ন কেন বারবার? আর যদি আগামী নির্বাচন এই ছাত্রলীগ করে- সেটাও নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যেহেতু জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা আসছে তাহলে সেটা তার সামনেই স্পষ্ট হবে। তিনি যেই বার্তা দিয়েছেন তা সংবাদ সম্মেলন করে জানাতে হবে।
যদি জননেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের দেখা করার সুযোগ না থাকে, তাহলে আমরা খোলা চিঠি লিখতে পারি। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শুধু ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা লোটা যাবে না।’
এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘দুই বছর ছাত্রলীগের মেয়াদের মেনে নিয়েছি। দুই বছর পরে ছাত্রলীগের নামে টাকা ওঠে। অর্থবিত্ত যা আসে ছাত্রলীগের নামে আসে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি যারা হয়, তাদের কাছে ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের ভাগ্যের আমানত থাকে। সেই আমানতের খেসারত ২৬ তারিখের পরে হতে দেব না। ছাত্রলীগের নামে যত টাকা আসে, তার ভাগ করতে হবে। ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারি যারা হয়, তাদের কেউ আগে এমন কোনো মহীয়ান লোক ছিল না যে, তাদেরকে মানুষ এমনিতে টাকা দিয়ে দেবে। মানুষ ছাত্রলীগ সভাপতি সেক্রেটারিকে দেয়। সংগঠন পরিচালনার জন্য দেয়। সংগঠনের পেছনে ব্যয় করতে হবে।’
এ সময় তিনি ছাত্রলীগ সভাপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি ৫৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া দেন কীভাবে? তখন সোহাগ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টাকা দেন।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টাকা দিলে সেই টাকার ভাগ তো আমারও আছে। তাহলে আমার ভাগও দিতে হবে। আমিতো বাসায় থাকতে পারি না।’ তখন সোহাগ পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংগঠন কীভাবে চলে?’ তখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ হয়ে অনেকেই সায়েমের কাছে জানতে চান, ‘টাকার হিসেব দেন।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল টাওয়ারের ভাগ বাটোয়ারা হইছে না?’ তখন সোহাগ বলেন, ‘কোন রাসেল টাওয়ার?’ সায়েম খান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসেল টাওয়ার।’ তখন সোহাগ বলেন, ‘আমিতো ভাগ পাই নাই।’ সায়েম খান বলেন, ‘আমিতো শুনছি।’ এ সময় সাধারণ সম্পাদক জাকির বলেন, ‘আপনি প্রমাণ দেন।’ জবাবে সায়েম খান বলেন, ‘আপনারা যদি ভাগ না পান তাহলে আমি কালকে গিয়ে ধরি, দেখবেন প্রমাণ বের হয়ে যাবে।’ এ সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ নিয়ে বেশ কয়েকজন জুনিয়র নেতা সভাস্থলে হট্টগোল তৈরি করেন। এ সময় সোহাগ বলেন, ‘আপনি যা তা বলতে পারেন না।’ সায়েম খান জবাবে বলেন, ‘যা তা বলি নাই। আমাকে জবাব দেন বাসা ভাড়া দেন কীভাবে?’ এ সময় জাকির বলেন, ‘আপনি আমাদের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস জানেন? তখন তাকে বলা হয়, ‘আপনি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগেতো হলেই থাকতেন।’ উত্তরে জাকির বলেন, ‘যা তা বলবেন না।’ সায়েম খান বলেন, ‘যা তা বলি নাই।’ এ সময় জাকির বলেন, ‘শুধু জনপ্রিয়তার জন্য কথা বললেই হয় না।’ সায়েম খান বলেন, ‘আমি জনপ্রিয়তার জন্য কিছু বলি নাই।’ তখন সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমার বাসা ভাড়া কোথা থেকে আসে, সেই হিসাব আপনাকে দেব?’ সায়েম বলেন, ‘অবশ্যই দেবেন।’ এ সময় সোহাগ দুই তিনবার বলেন, ‘আমার বাপ টাকা দেয়।’ এ সময় সোহাগের পক্ষ থেকে অনেকেই বলেন, ‘শুধু বাসা ভাড়া নিয়ে এভাবে কথা বলছেন কেন?’ তখন সায়েম বলেন, ‘এটা একটা উদাহরণ মাত্র। তাদের লাইফস্টাইলের একটা ধারণা দিলাম।’
এ সময় সাধারণ সম্পাদক জাকির বলেন, ‘কোথা থেকে টাকা আসে বলেন?’ সায়েম বলেন, ‘অনেক জায়গা থেকে টাকা আসে। ছাত্রলীগের নামে অনেকেই টাকা দেয়।’ জাকির বলেন, ‘কে কে টাকা দেয়?’ এ সময় সভাস্থলে ব্যাপক হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে জাকির বলেন, ‘মাসে দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা আমাদের নেত্রী দেয়।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘এই টাকার হিসাব এতদিন দেন নাই কেন? আমি এই টাকার এক টাকাও তো পাই না।’ তখন সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে আবার বলেন, ‘আমার বাপের টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া দেই।’
এরপর জাকির বলেন, ‘আমাদের কি আপনারা নেতা বানাইছেন? আমরা সারা দেশের নেতাকর্মীদের ভোটে নির্বাচিত হইছি। আমরা যদি ব্যর্থ হই, এখান থেকে আমরা বিদায় নেব। আমরা দায়িত্ব পালন করতে চাই না। আপনি যেহেতু জয়েন্ট সেক্রেটারি আমার পোস্ট আপনাকে দিতে চাই। আপনি আমাদের পার্সোনাল বিষয় নিয়ে কথা বলেন!’ সায়েম বলেন, ‘পার্সোনাল কেন? সংগঠনের জন্য যা টাকা আসে তার ভাগ চাইছি।’ তখন সোহাগকে উদ্দেশ করে সায়েম খান বলেন, ‘এভাবে করলে আমাকে বহিষ্কার করে দেন। কোনো সমস্যা নাই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারির কেবল ভবিষ্যৎ আছে, আর নেতাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই?’
এ সময় সভাস্থলজুড়ে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। একপক্ষ আরেক পক্ষের দিকে তেড়ে যায়। সভাস্থলজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ সময় সোহাগ-জাকিরের সমর্থকদের পক্ষ থেকে দাবি তোলেন- বক্তব্য প্রত্যাহার করে সায়েম খানকে বক্তব্য দিতে হবে। এ সময় জাকির বলেন, ‘ঈদ পারপাসে কে কে টাকা দিয়েছে, তার তালিকা আমরা চাই।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘তমার মালিক (তমা কন্সট্রাকশন) টাকা দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিল্ডিং যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদের টাকা দেয়।’ তখন সোহাগ বলেন, ‘আমরা তো সেই টাকা পাই নাই।’ তখন সায়েম বলেন, ‘তাহলে ছাত্রলীগের নামে কারা টাকা নেয়?’
তখন সোহাগ বলেন, ‘চব্বিশ ভোটে কিন্তু আমি নির্বাচিত সভাপতি। অতএব কথা বললে ওইভাবে বলবেন। আপনি কিন্তু নির্বাচিত না।’ তখন সায়েম খান বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার অনুমোদিত।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের ফান্ড সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। আমি যদি সংগঠনবিরোধী কিছু করে থাকি আমাকে বহিষ্কার করা হোক।’
এ সময় আবার হট্টগোল সৃষ্টি হয়। সায়েম খানকে কটূক্তি করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের একান্ত অনুসারীরা নানা কটূক্তি করেন। এ সময় সিনিয়র কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, তাকে কিছু বলতে হলে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলবে। এভাবে জুনিয়রদের অপমানজনক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলাটা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এভাবেই অনানুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য শেষ করেন সায়েম খান।
বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিবাহিতদের প্রমাণ সাপেক্ষে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সহসভাপতি মেহেদী হাসান রনি বলেন, যারা অপকর্ম করে তার দায় কেন সংগঠনকে নিতে হয়? দল কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না? এ সময় সহসভাপতি আদিত্য নন্দী ছাত্রলীগ সভাপতিকে টিপ্পনি দিয়ে তার নামের শেষে ‘দ্য গ্রেট’ যুক্ত করে বক্তব্য দেন। সহসভাপতি মাকসুদ রানা মিঠু বলেন, ‘নেত্রীর সঙ্গে একটা ছবি তোলারও সুযোগ কেন দেয়া হয়নি? কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কথা বললে তিনি তো ফিরিয়ে দেবার কথা নয়।’ ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান মোল্লার বিরুদ্ধে মাদারীপুর ছাত্রলীগ কিভাবে মিথ্যাচার করে- এ বিষয়েও জানতে চান তিনি। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের ছাত্রদল ও শিবির সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। সিনিয়র নেতারা কথা বলার সময় যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ নিয়ে হট্টগোল তৈরি করে তাদের অতীত রেকর্ড নিয়েও কথা বলেন তিনি।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য : উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ যুগান্তরকে বলেন, ‘সাধারণ সভায় টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এখানে সবাই মন খুলে কথা বলেছে। তারা এই সভাকে স্বাগত জানিয়েছে। বিবাহিত ও সরকারি চাকরিজীবীরা পদে থাকতে পারবে না- এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পাঁচটি এজেন্ডা ছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বৈঠক শুরু হয়। বিকাল পাঁচটার দিকে শেষ হয়। আমরা সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে আর্থিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। এরপরও যদি কেউ এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে মাথা পেত নেব। কিন্তু অযথা যাতে কেউ অভিযোগ না করে।’

মারাত্মক অপুষ্টিতে মারা গেছে সীতাকুণ্ডের ৯ শিশু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ত্রিপুরা পল্লীতে ৯ শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞ দল। বৃহস্পতিবার সকালে ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেক্সাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানানো হয়। সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণের পর চূড়ান্তভাবে শিশুদের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ দল। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেক্সাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতাল থেকে পরে বিশেষজ্ঞ দলটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের দেখতে যান। প্রসঙ্গত, রোববার থেকে বুধবার পর্যন্ত তিনদিনে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বারআউলিয়া পাহাড়ে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীতে এ ৯ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এদের সবার বয়স ২ বছর থেকে ১০ বছরের মধ্যে। শিশুদের মৃত্যুতে ক্ষু-নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। ৪৬ জন শিশুকে বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাদের মধ্যে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১২ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংকাজনক। চারজন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বুধবার জেলা সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল সোনাইছড়ির ক্ষুদ্র-নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠী পল্লীতে ছুটে যান। সেখানে তারা আক্রান্ত কয়েকজন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর,শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানা ও পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, খিঁচুনি ও বমির লক্ষণ দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পর তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

১৯ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্যসহ আটক ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১৯ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্যসহ এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুন্দরপুর ইউনিয়নের শিবিরের হাটমোড় থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবক হলেন সদর উপজেলার সূর্য নারায়ণপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে মিঠুন (২৫)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব-৫ এর ক্যাম্প কমান্ডার (এএসপি) এনামুল করিম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে শিবিরের হাটমোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিঠুনকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১৯ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

দুই কনস্টেবলের পরিকল্পনাতেই সাভারে দুই তরুণী ধর্ষণ!

‘পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) দুই কনস্টেবলের পরিকল্পনাতেই দুই তরুণীকে সাভারের লিজেন্ড কলেজ ভবনে ডেকে আনা হয়েছিল। ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই তরুণীকে সারা রাত আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়।’ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ও ডিবি পুলিশের সোর্স লিটন আলী মণ্ডল এ দাবি করেছেন। পুলিশের একটি অসমর্থিত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যে দুই কনস্টেবলের বিরুদ্ধে লিটন অভিযোগের তীর ছুড়েছেন তারা হলেন- বিশেষ শাখার কনস্টেবল মো. রেজাউল ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কনস্টেবল আফজাল হোসেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাভার মডেল থানা হাজতে লিটন আলী মণ্ডলের কথোপকথন থেকে এসব তথ্য পাওয়া যায়। তবে অভিযুক্ত রেজাউল ও আফজালের মুঠোফোনে কল করা হলে তারা দাবি করেন, তারা এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। চিৎকার ও চেঁচামেচি শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জানা যায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছেন গোয়েন্দা পুলিশের আরও এক কর্মকর্তা। তাদের পরিকল্পনাতেই ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই তরুণীকে সারা রাত আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক (অপারশেন) শহীদ সোহরাওয়ার্দী বুধবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের জড়িত থাকার কথা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। এদিকে লিটন আলী মণ্ডলের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম আসামির রিমান্ড মঞ্জুরের ওই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার থানার পরিদর্শক শহীদ সোহরাওয়ার্দী আসামিকে আদালতে হাজির করেন। সোহরাওয়ার্দী যুগান্তরকে বলেন, ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে লিটনকে আদালতে পাঠালেও আদালত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লিটনের দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে লিটন। এ ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছে সে।

৮৫ বছরের বৃদ্ধের কান্ড!

১১ জুলাই ২০১৭ সকাল সাড়ে এগারটা। রামপুরা থানায় ফোন আসল ১৯৯/এ, উলন রোডস্থ ৪ তলার বাসার নীচ তলায় পরপর ৫/৬ টি গুলির ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য রামপুরা থানার ওসি, তদন্ত ও টহল টিমসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। জানতে পারেন, উক্ত বাসার মালিক হাজী এসএম আব্দুর রহমান (৮৫) তাহার লাইসেন্সকৃত রিভালবার থেকে ৫/৬ রাউন্ড ফায়ার করেছেন। তার পরিচয় তিনি এয়ার ফোর্সের অবসর প্রাপ্ত সদস্য।
ফায়ার করা একটি গুলি বাসার নীচ তলার পশ্চিম পাশে তারই ভাড়াটিয়া দ্বীপ দিপ্তি লন্ড্রী এন্ড সেলুনের মালিক নারায়ণ চন্দ্র দাস (৪৭) এর ডান কাঁধের পিছনের চামড়ায় লেগে সামান্য জখম করে।
তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশ, তার স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনসহ তাকে বিভিন্ন কৌশলে বাইরে  আসার জন্য অনুরোধ করলে তিনি দরজা বরাবর আরও ১ রাউন্ড গুলি করেন। যা দরজা ভেদ করে তার স্ত্রীর গলার পাশ দিয়ে লেগে সামান্য জখম হয়।এরপর পুলিশসহ অন্যান্যরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে। পরবর্তী সময়ে ডিএমপি’র মতিঝিল বিভাগের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।
আত্মীয়রা বলেন, তার তিন কন্যার মধ্যে রত্না ও ছবি আমেরিকাতে এবং রুবি ইংলান্ডে বসবাস করে। ২ ছেলের মধ্যে ১ জন শাহীন বাংলাদেশে লাইট ফ্রিজের ব্যবসা করে এবং মাসুদ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী।
তার স্ত্রী বাসার ৩য় তলায় থাকেন এবং তিনি অনুমান ১ মাস যাবৎ একাকী নিচ তলার একটি কক্ষে থাকেন। সম্প্রতি তার আচরণে পরিবর্তন হয়েছে। সে তার স্ত্রী সন্তানকে সহ্য করতে পারছিলেন না। সে যা ইচ্ছা তাই করত। গত কিছু দিন পূর্বে সে বাসায় উকিল ডেকে উক্ত বাড়িটি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু তার স্ত্রী দলিলে সই না করায় সে তাহার স্ত্রীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
খবর নিয়ে আরো জানা গেল, তিনি দোকানদার নারায়ণ এর কাছ থেকে প্রতিদিন এক হাজার টাকা নিয়ে নিজের ইচ্ছা মত খাওয়া দাওয়া করত। ডায়াবেটিক রোগ থাকা সত্ত্বেও তার খাওয়ার কোন লিমিট ছিলনা। ঘটনার দিন সকাল বেলা সে নারায়ন এর কাছে ফোন করে এক হাজার টাকা চায়। নারায়ণ জানায় যে, দোকান খোলার পর টাকা দিবে। চাহিবা মাত্র টাকা না পেয়ে সে নিজের কক্ষের মধ্যে ঢুকে তার লাইসেন্স করা রিভলবার দিয়ে রুমের ভিতরেই এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে।
তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুলিশ উদ্ধার অভিযান থেকে বিরত থাকে এবং তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। এভাবেই কেটে গেল একটা দিন।অতঃপর পরের দিন ১২ জুলাই, ১৭ বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটায় তিনি হাতে ধারালো দা নিয়ে দরজায় কোপাতে শুরু করেন এবং চিৎকার করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে ধারালো দা হাতে চেয়ারে বসে থাকলে পুলিশ রুমের পশ্চিম পাশের ফ্লাইউড আচমকা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরে তার হাত থেকে দা কেড়ে নেয় এবং তার সাথে থাকা রিভলবার টি হেফাজতে নেয়।
তার রিভলবার টি চেক করে দেখা যায় যে, রিভলবারে থাকা সবকয়টি  গুলিই ফায়ার করা হয়ে গিয়েছে। তার সাথে থাকা ব্যাগের ভিতর ৩৩ টি রিভলবারের গুলির খোসা পাওয়া যায়। উক্ত মোঃ আব্দুর রহমান কে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহতদেরও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে রামপুরা থানা পুলিশ।
আঁচমকা ৮৫ বছরের বৃদ্ধের এমন কর্মকান্ডের ব্যাখ্যা মেলেনি এখন পর্যন্ত।
সুত্রঃ ডিএমপি নিউজ

শিবগঞ্জ অন্ধকার ২৪ ঘণ্টা, আরও দু'দিন পর মিলবে আলো

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। এতে পুরো পৌর এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে। এ অবস্থা বিরাজ করবে কমপক্ষে আরও ৩৪ ঘণ্টা। তারপরই মিলতে পারে আলো। বুধবার সকাল ৭টায় শিবগঞ্জের ৫ এম ভি এ পাওয়ার ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে গেলে পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় টেকনিশিয়ানরা উক্ত পাওয়ার ট্রান্সফর্মারটি মেরামত করলে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পর আবারো বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে পৌর শহরের প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহক অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে। এতে অচল হয়ে পড়ে হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উৎপাদন শিল্পসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে কর্মচঞ্চলতা হারায়। এছাড়া অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নেমে আসে দুর্ভোগ। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের শিবগঞ্জ আবাসিক প্রকৌশলী আজমল হক বলেন, বিদ্যুৎ লাইন চালুর জন্য আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছি। বিকল হয়ে যাওয়া পাওয়ার ট্রান্সফর্মারটির তেল শোধন করার কাজ চলছে। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে। যদি সম্ভব না হয় তাহলে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে পাওয়ার ট্রান্সফর্মারটি ত্রুটিমুক্ত করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যাবে। শিবগঞ্জ আবাসিক প্রকৌশলী দফতর সূত্রে জানা গেছে, এর আগে প্রথম ৫ এম ভি এ পাওয়ার ট্রান্সফর্মার নষ্ট হয়ে মেরামতের অপেক্ষায় পড়েছিল। তার কিছুদিন পর দ্বিতীয় পাওয়ার ট্রান্সফর্মারটিও নষ্ট হয়ে যায়। সেটি মেরামত কাজ শুরু করে শেষ না হতেই তৃতীয় পাওয়ার ট্রান্সফর্মারটিও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

মধুপুরের ৮ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ চলছে

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়নে কঠোর নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একটানা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সকালে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল। তারা লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে নেয়া হয়েছে স্তরে স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা।
সহস্রাধিক ফোর্সকে তিনটি নিয়ন্ত্রণ সেক্টরে সাজানো হয়েছে। এই তিন সেক্টরের দায়িত্বে আছেন তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। প্রতিটি ইউনিয়নে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন, এক প্লাটুন বিজিবি, একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুরো উপজেলার নির্বাচনে সার্বিক দায়িত্বে আছেন একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ১৬টি মোবাইল টিম কাজ করবে ৮টি ইউনিয়নের সব ভোট কেন্দ্রে। সুতরাং সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কার কারণ নেই। যে কোনও মূল্যে কার্যকর ও সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের পরিবেশ বাজায় রাখা হবে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট প্রদানের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে।

৮ নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

আট নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে দেশের ১৩ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওইসব জেলায় কোটিরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশের ভেতরে ভারি বৃষ্টিপাতের পানি। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতির সুখবর নেই। বরং দেশের উত্তরাঞ্চলের পানি নেমে আসায় মধ্যাঞ্চল এবং নিন্ম-মধ্যাঞ্চলের নদনদী টইটম্বুর হয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকার চরাঞ্চলে ইতিমধ্যে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারাদিন ও রাতের ভারি বৃষ্টিতে সারা দেশে জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এ কারণে ওইসব এলাকায় শিক্ষার্থীরা সকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারেনি। এতে প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়াও বিঘ্নিত হয়। আবহাওয়া অধিদফতরের (বিএমডি) কর্মকর্তা আফতাব হোসেন বুধবার রাতে যুগান্তরকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কেবল রাজধানীতেই ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে রাজশাহীতে ১১৫ মিলিমিটার। বুধবার ঢাকায় তেমন বৃষ্টি হয়নি। সকাল ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টায় মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে রাজধানীতে। এই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, রাতের বৃষ্টিই ভুগিয়েছে রাজধানীবাসীকে। দেশের নদনদীতে পানির প্রধান উৎস তিনটি নদী অববাহিকা। এগুলো হল, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, সুরমা-কুশিয়ারা বা মেঘনা এবং গঙ্গা-পদ্মা। এর মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারায় বিপদসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে গত দু’সপ্তাহ ধরে বন্যা চলছে। অপরদিকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায় পানির প্রবাহ বেড়েছে। এ কারণে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব জেলার লাখ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে ঠেকাল ক্ষুদে সহপাঠিরা

ক্ষুদে সহপাঠিদের সাহসী ভূমিকায় বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়েছে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক ছাত্রীর। মুন্সিগঞ্জের লোহজং উপজেলার তেউটিয়া ইউনিয়নের বড় নওপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। উত্তর দিঘলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আর শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পায় একই বিদ্যালয়ের  তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী দূর্গা রাজবংশী (১১)।  তার পিতার নাম রামপ্রসাদ রাজবংশী। বুধবার রাতে দূর্গার বিয়ের পিড়িতে বসার কথা ছিলো। আর এই সংবাদটি পেয়েই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় সহপাঠিরা। দুর্গার বিয়ে ঠেকাতে হবে যেকোনো মূল্যে।  তাই তারা বিষয়টি জানান শিক্ষকদের। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, আমরা জানতে পারি আমাদের এক ছাত্রীর বিয়ে ঠিক হয়েছে। এই বাল্য বিয়ে ঠেকাতে আমরা ১২ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে  দুর্গাদের বাড়িতে যাই। এরপর দুর্গার বাবাকে বিয়ে বন্ধ করতে বলি। এদিকে  বাল্য বিয়ের বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনকে জানান। তিনি তৎক্ষণাৎ বাল্য বিয়েটি বন্ধ করতে একজন অফিসারসহ থানা পুলিশ পাঠান ছাত্রীটির বাড়িতে। লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনিচুর রহমান জানান, বড় নওপাড়া গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে দিচ্ছিল গাজীপুর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ছাত্রীটির বাড়িতে গিয়ে বাল্য বিয়েটি বন্ধ করে দেই।

ত্রাণের জন্য হাহাকার

বন্যায় দেশের ১৩ জেলার ৪৫টি উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, ধরলা, ঘাঘটসহ ৮ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধাসহ বন্যার্ত ৯ জেলায় খাবার, সুপেয় পানি ও ওষুধের জন্য হাহাকার চলছে। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় ৩ থেকে ৫ দিনেও কেউ সরকারি ত্রাণের দেখা পাননি। যেখানে পৌঁছেছে, সেখানেও চাহিদার তুলনায় পরিমাণ অপ্রতুল। সামান্য পরিমাণে ত্রাণের চাল পেলেও তা চারদিক পানিতে ডুবে যাওয়ায় রান্না করার মতো শুকনো স্থান নেই। ফলে অনেকেরই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে। ক্ষুধার জ্বালায় অস্থির দুর্গত মানুষ ত্রাণের নৌকা দেখলেই পানি ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পরিমাণ অল্প হওয়ায় সবার হাতে পৌঁছায় না খাদ্যসামগ্রী। ফলে অনেকেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসছেন শূন্য হাতে। এ অবস্থায় সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ত্রাণের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্বজনপ্রীতি করছেন বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বিপুলসংখ্যক গৃহহীন মানুষ বেড়িবাঁধসহ বিভিন্ন উঁচু জায়গায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। সঙ্গে আনা গবাদি পশুর সঙ্গে রাত যাপন করছেন। পশুপাখির সঙ্গে ভাগ করে খাচ্ছেন ত্রাণসামগ্রী ও পানি। সব মিলে বানভাসি মানুষ ভালো নেই। তারা জানেন না কবে নাগাদ আগের জীবনে ফিরবে। তাদের কাছে আশ্রয় কেন্দ্রের দিনগুলো যেমন, তেমনই রাতও পাথরের মতো ভারি মনে হচ্ছে। একটি রাত যেন কয়েক দিনের মতো লম্বা সময় নিয়ে পার হচ্ছে। এদিকে বন্যায় দুই জেলায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে পানিতে ডুবে এক কিশোরসহ দুইজন মারা যায়। বানের পানিতে ভেসে আসে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ। এ ছাড়া জামালপুরে সাপের কামড়ে মারা গেছেন এক যুবক। পাঁচ জেলায় ৩৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। জামালপুরে বানভাসি মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ডাকাত আতঙ্ক। সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা সাড়ে ৬ লাখ।
৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষের জন্য ৪ হাজার টন চাল, এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯টি আইটেম সমৃদ্ধ শুকনো খাবারের সাড়ে ১৮ হাজার প্যাকেটও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে বিতরণের কোনো মিল নেই। যে কারণে দুর্গত মানুষ চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ পাচ্ছেন না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই জানান, চাহিদা অনুযায়ী তারা ত্রাণ পাচ্ছেন না। ফলে দুর্গত মানুষকে তারা তেমন কিছু দিতে পারছেন না। আশ্রয় কেন্দ্র, বাঁধ বা স্থানীয় স্কুলে আশ্রয় নেয়া মানুষ খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করছেন। তবে ত্রাণের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ রয়েছে। ত্রাণ না পেয়ে বন্যার্তরা ফিরে যাচ্ছেন- এমন অভিযোগ নাকচ করে ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি সত্য নয়। পত্রপত্রিকায় যা প্রকাশিত হচ্ছে, তা সঠিক নয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটি পরিবারে বাবা ত্রাণ নিয়ে তার ছেলেকে পাঠাচ্ছেন। তালিকা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা তাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। কারণ একই পরিবারের সবাইকে তো ত্রাণ দেয়া যাবে না। সরকারি এ বরাদ্দের পুরোটা এখনও বিতরণ করা হয়নি। সিলেট, মৌলভীবাজার, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট- এ ছয় জেলায় আড়াই হাজার টন চাল বরাদ্দ করা হলেও বুধবার পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০ টন। ছয় জেলার নগদ অর্থের ৬৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার সবই বিতরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে এমন তথ্য।
যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদপুর : সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুরের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও এখনও অনেক স্থানে তা পৌঁছেনি। শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাচিল পূর্বপাড়া গ্রামে বন্যায় ভাঙনকবলিত ৫ শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুর মাঝে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। বন্যাদুর্গত অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীমুন রাজীব ও কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ক্ষুধার্ত নারী, পুরুষ ও শিশুদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের সাধ্যমতো সাহায্য করা হচ্ছে। এদিকে কাজীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ২ হাজার ১০০ হেক্টর পাটক্ষেত বন্যায় তলিয়ে গেছে। বুধবার সকালে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনটি যমুনায় বিলীন হয়ে যায়। কাজীপুরের বাহুকা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম ও ঢেকুরিয়া গ্রামের গৃহিণী চম্পা খাতুন জানান, বাড়িতে পানি ওঠায় পচা পানিতে হাত-পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন তারা।
জামালাপুর, বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী : বন্যায় জেলার ৬ উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের সংকট তীব্র। বন্যার কারণে জেলার ১৪৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্যার্তদের অভিযোগ, তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি গবাদি পশুর খাবার জোগাতে না পেরে অনেকে কমমূল্যে তাদের গরু-ছাগল বিক্রি করে দিচ্ছেন। ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের আকন্দপাড়া গ্রামের আবদুল করিম (৫০) বলেন, ‘বানের পানিতে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় রান্না করার কোনো উপায় নেই। দু’দিন ধরে খাবার নেই। একই ইউনিয়নের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আকবর আলী বলেন, ‘আমার জমাজমি সব নদীয়ে ভাইঙ্গা নিয়ে গেছেগা। গত ক’দিনের বন্যায় কাজ না পেয়ে ৫ দিন থেকে ভাত কি জিনিস দেহি না।’ পাথর্শী ইউনিয়নের, পাথর্শী পশ্চিমপাড়া গ্রামের পানা মিয়া (৫৮) বলেন, ‘আমরা এহন পর্যন্ত কোনো খাবার পাইনি। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা কোনো ত্রাণ আমাদের দেয় না। সরকার আমাদের যা দেয়, তা সবই চেয়ারম্যান-মেম্বাররা খাইয়া ফেলে।’ মেলান্দহ উপজেলার চরমাহমুদপুর গ্রামের নারায়ণ চক্রবর্তী (৪৬) বলেন, ‘আমরা কাজ করে খাই। বন্যার কারণে আজ ৮ দিন ধরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পাচ্ছি না। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণের গন্ধও পাইনি। শুধু আমি একলা না আমাদের ইউনিয়নের কোনো মানুষ কবার পাবোনা ত্রাণ কিরহম জিনিস।’ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বরাদ্দ কম থাকায় তারা সবার মাঝে ত্রাণ পৌঁছাতে পারছেন না। ত্রাণ স্বল্পতার অভিযোগ শুনে প্রথমেই নাকচ করে দেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। তিনি কোথায় ত্রাণ নেই, সুনির্দিষ্ট করে জানতে চান। তিনি বলেন, ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় ৪০ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। সিলেট : সিলেটে বানভাসি মানুষ পাচ্ছে না পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ। অভিযোগ উঠেছে, নিজেদের পছন্দ মতো তালিকা করছেন সরকারি দলের নেতাকর্মীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাম উঠছে না অন্য দলের সমর্থকদের। অনেক এলাকায় এখনও পৌঁছায়নি সরকারি ত্রাণ। তালিকায় থাকা সত্ত্বেও প্রথম দফা বন্যায় সরকারের বিশেষ বরাদ্দ ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না অনেকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস থাকলেও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বুধবার দুপুরে সুড়িকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেসরকারিভাবে ত্রাণ দেয়ার সময় হুমড়ি খেয়ে পড়েন এ গ্রামের মানুষ। ত্রাণ নিতে আসা নাজিম উদ্দিন জানান, তার ঘরে পানি। খেয়ে-না খেয়ে আছেন, কিন্তু সরকারি কোনো ত্রাণ পাচ্ছেন না। তিনি জানান, সরকারি ত্রাণের তালিকা করছেন সরকারি দলের একজন। তাকে অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ধানের শীষে যারা ভোট দেয় তারা ত্রাণ পাবে না। এ নিয়ে গ্রামের পঞ্চায়েতে বিচার দিয়েও লাভ হয়নি। এদিকে বন্যার শুরুতে উপজেলা পরিষদে ৪৬০ জনকে ভিজিএফের ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও ৩৫ জন পাননি ৩০ কেজি চাল। এ নিয়ে কারও কাছে অভিযোগ করলে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। ১০ জুলাই আবারও সেই ভিজিএফের চাল নিতে আসেন ৪৬০ জন। সে সময়ই যুগান্তরকে এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন।
মৌলভীবাজার ও বড়লেখা : মৌলভীবাজারে ৩ দফা বন্যায় বোরো ধান ও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় ৩ লাখ ১০ হাজার ৮০ জন লোক মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বুধবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলায় সরকারিভাবে নগদ ৪১ লাখ টাকা ও ৯২৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, ত্রাণসামগ্রী চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল এবং জেলার কোনো কোনো এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিতরণে অনিয়ম করছেন। বিগত নির্বাচনে যারা তাদেরকে ভোট দিয়েছেন কেবল তাদেরকেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করছেন। এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী বলেন, বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে বড়লেখায় জলাবদ্ধতার কারণে ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, চিলমারী, রৌমারী ও নাগেশ্বরী : নাগেশ্বরীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে দুধকুমোর, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, শংকোষ ও ফুলকুমোরের। ৬টি বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। চিলমারীতে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি। এ ছাড়া চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। রৌমারীতে লক্ষাধিক পানিবন্দি মানুষের মাঝে খাবারের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। রৌমারী ও রাজিবপুরে ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। নদীভাঙনে বাস্তুহারা হয়েছে ৭০টি পরিবার। ত্রাণের অপ্রতুলতার বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বঙ্গবাসী যুগান্তরকে বলেন, এই উপজেলায় ৮/৯ হাজার মানুষ পানিবন্দি। অথচ চাল পাওয়া গেছে ৩০ টন এবং নগদ অর্থ পাওয়া গেছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। চাহিদার তুলনায় একদম কম। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সীমা নেই। একই কথা বললেন উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল গনি। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে মাত্র ২ টন চাল দেয়া হয়েছে কোনো নগদ অর্থ মেলেনি। অথচ শত শত মানুষ ত্রাণের জন্য আহাজারি করছে। তাদের জন্য শুকনা খাবার দরকার। কিন্তু তা মিলছে না। সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে ৬ হাজার পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাত্র ৮ মে. টন চাল পাওয়া গেছে, যা দিয়ে ৮০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। চাল বিতরণকালে বুধবার সরেজমিন সেখানে গেলে শিতাইঝাড় গ্রামের মঞ্জু ও নূরজাহান জানান, গলা পানি ভেঙে পরিষদে এসে স্লিপ না পাওয়ায় ত্রাণ পাননি তারা। জনপ্রতিনিধিদের এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান যুগান্তরকে বলেন, ত্রাণের কোনো অভাব নেই। এ পর্যন্ত বন্যার্তদের মাঝে সাড়ে ৩০০ টন চাল এবং ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা নগদ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০০০ শুকনা খাবারও বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেয়া হবে।
গাইবান্ধা : সব নদ-নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৪ উপজেলার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বেশিরভাগ বানভাসির কাছে এখনও ত্রাণ পৌঁছায়নি। ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের কাবিলপুর সাদেক আলীর বাজারে বুধবার ত্রাণ বিতরণ করেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ ও জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহাতাব উদ্দিন বলেন, অনেকেই ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে খালি হাতে ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, তার ইউনিয়নে ১ হাজার ৩৬৫ পরিবার পানিবন্দি। তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। ২ মে. টন চাল দিয়ে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয়নি। ওই ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ কাজে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আমিনুল হক বলেন, অধিকাংশ বাড়িতে পানি ওঠায় রান্না করার পরিস্থিতি নেই। তাদের জন্য শুকনো খাবারের দরকার।
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে নদীর পানি কমলেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হলেও গত তিন দিনেও অনেকেই ত্রাণ পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন এলাকার বৃদ্ধ আসাকাল আলী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আজ তিন দিন ধরে বাড়িতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে আছি। কেউ আমাদের এক মুঠো চাল পর্যন্ত দেয়নি। এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দেখতে এলেও কিছুই দেয়নি।’ দক্ষিণ বালাপাড়া গ্রামের গৃহিণী চুমকি বেগম বলেন, ত্রাণ না পেয়ে ২ ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। এ ব্যাপারে আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ইতিমধ্যে দুইশ’ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করেছি। আর ৪-৫ হাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ মে. টন ত্রাণের চাল বিতরণে কাজ চলছে।
বগুড়া : বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বন্যার্তদের দুর্ভোগ দেখা যায়। অন্তত হাজার পরিবার বিভিন্ন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। কুতুবপুরের রওশন বেগম এক সপ্তাহ আগে ৯ সদস্যের পরিবার ও গবাদিপশু নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। পাটখড়ি দিয়ে তৈরি ঘরে পশুর সঙ্গে গাদাগাদি করে থাকছেন। তারা একবার মাত্র ২০ কেজি চাল পেয়েছেন। তারা নিজেদের চেয়ে সবদিকে পানি থাকায় গবাদিপশুর খাবার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
কাউনিয়া (রংপুর) : কাউনিয়া উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গত এলাকায় এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় বলেন, বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

স্বাগতম সিরিসেনা প্রস্তুত ঢাকা

শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে ১০টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। কোথাও কোথাও শোভা পাচ্ছে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়েছে বর্ণিল পতাকা ও অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে নানা বর্ণের ফেস্টুন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তার এ সফর। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বুধবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী, উচ্চশিক্ষা এবং জনপথ প্রতিমন্ত্রী, কৃষি প্রতিমন্ত্রী, অর্থ ও গণযোগাযোগ উপমন্ত্রী, বন্দর ও নৌপরিবহন উপমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল থাকবেন। উল্লেখ্য, সিরিসেনা দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২০১৩ সালের ৮ থেকে ১১ এপ্রিল এবং ২০১৪ সালের ২২ থেকে ২৩ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতিকে ২১ গান স্যালুটসহ আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। বিকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করবেন।
সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী শ্রীলংকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ১৪ জুলাই দু’দেশের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকে দু’দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, মৎস্য, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য ও প্রচার, ভিসা সংক্রান্ত বিষয়াবলী গুরুত্ব পাবে বলে তিনি জানান। সফরকালে যেসব চুক্তি এবং এমওইউ সই হবে; তার মধ্যে আছে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা, উচ্চশিক্ষা, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট ধারীদের ভিসা অব্যাহতি, দু’দেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রভৃতি। এছাড়াও দু’দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতা, দু’দেশের ফরেন সার্ভিস ইন্সটিটিউটের মধ্যে এবং বাংলাদেশের বিস ও শ্রীলংকার লক্ষণ কাদিরগামা ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিসের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। এদিকে দু’দেশের মধ্যে রেডিও, ফিল্ম ও টিভির সম্প্রচারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) ও শ্রীলংকার স্ট্যান্ডার্ড ইন্সটিটিউশনের (এসএলএসআই) মধ্যে সহযোগিতা, দু’দেশের সংবাদ সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা, দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলংকা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ১৪ জুলাই বিকালে শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। তার সম্মানে রাষ্ট্রপতির দেয়া নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ১৫ জুলাই শ্রীলংকার রাষ্ট্রপতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এমসিসিআই এবং বিডার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশ-শ্রীলংকা বিজনেস সংলাপে অংশগ্রহণ করবেন। এর পরপরই তিনি শ্রীলংকার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সফরের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে ৩ জুলাই বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ১৯৭২ সালে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এর আগে ২০১১ সালের এপ্রিলে শ্রীলংকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে বাংলাদেশ সফর করেন। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলংকা সফর করেন।