Thursday, December 5, 2013
থামাও আগুন, বন্ধ করো গুলি- আর কত প্রাণহানি

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব মৃত্যু ও ধ্বংসাত্মক ঘটনা চালানো হচ্ছে সংবিধান রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে। সরকারি দল সংবিধানের বাইরে এক পাও নড়বে না বলে প্রধান বিরোধী দলকে বাদ দিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর বিরোধী দল সেই নির্বাচন ঠেকাতে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে। দেশের সাধারণ মানুষ কেন তাদের এই দ্বৈরথের শিকার হয়ে বেঘোরে প্রাণ হারাবে? কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এই কাণ্ড চলতে পারে না।
বিরোধী দলের নেতারা জনগণকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে বলেছেন। নিরীহ মানুষের ওপর হামলা না চালাতে দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তার পরও বাস্তবতা হলো, হামলা-নাশকতা চলছেই। গতকালও গাইবান্ধায় ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে চারজন মারা গেছেন।
সরকারের দাবি, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তাদের এই দাবিই যদি সত্য হয়, তাহলে নিরীহ মানুষ কেন বোমার ঘায়ে, আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে? বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী এ ধরনের নাশকতা ঘটালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব তাদের পাকড়াও করে বিচারে সোপর্দ করা। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, সেটা সবার দাবি। কিন্তু বিরোধী দলের মিছিলে বা সমাবেশে গুলি করে মানুষ মারা তাদের কাজ হতে পারে না।
প্রথমেই সরকারকে স্বীকার করতে হবে যে, সমস্যাটি রাজনৈতিক। রাজনৈতিকভাবেই এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। শক্তি প্রয়োগ করে বিরোধী দলের কণ্ঠ স্তব্ধ করলে তার পরিণাম হবে আরও ভয়াবহ। অন্যদিকে বিরোধী দলের দাবি যতই যৌক্তিক হোক না কেন, আগুন জ্বালিয়ে বা গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ মেরে যে আন্দোলন তারা করছে, তাতে জনসমর্থন পাওয়া যাবে না। হরতাল-অবরোধের মতো আন্দোলনে সরকারের তেমন ক্ষতি হয় না, বরং দেশের সাধারণ মানুষের জীবনই হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত।
তাই, বিরোধী দলের এমন কর্মসূচি নেওয়া উচিত, যাতে জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত না হয়। এ প্রসঙ্গে থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলন আদর্শ হতে পারে। সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই।
সর্বোপরি, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলকে সংযম ও সহিষ্ণুতার পথেই এগোতে হবে। গায়ের জোরে একতরফা নির্বাচন যেমন কাম্য নয়, তেমনি আন্দোলনের নামে গাড়ি পোড়ানো এবং রেললাইন উপড়ে ফেলারও যুক্তি নেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শিশুখাদ্য, রোগীর পথ্য- অবরোধ থেকে মুক্ত থাকুক by মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী

বাংলাদেশে পাস্তুরিত দুধ উৎপাদনের সূচনা মিল্ক ভিটার হাতেই। মিল্ক ভিটার ভোক্তা শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রোগী, চিকিৎসকসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। প্রতিদিন দুই হাজার প্রাথমিক সমবায় সমিতির এক লাখ খামারি গড়ে কমবেশি দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার দুধ মিল্ক ভিটায় সরবরাহ করেন। এ দুধ প্রক্রিয়াজাত হয়ে প্যাকেটজাত তরল দুধ, ঘি, মাখন, দই, আইসক্রিম হিসেবে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ভোক্তাদের কাছে যায়। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটার নিয়মিত গ্রাহক।
গরুর দুধ উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য, যা শিশু, রোগী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের জীবনধারণের অপরিহার্য উপাদান। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও শিক্ষার্থীদের মেধা গঠনে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণে দুধ আবশ্যকীয়। ফরমালিন ও ভেজালের আতঙ্কে মানুষ যেখানে ফলমূল খাওয়া বন্ধ বা কমিয়ে দিয়েছে, সেখানে বিশুদ্ধ দুধই একমাত্র অবলম্বন। দুধেই রয়েছে শিশুদের দৈহিক ও মানসিক বিকাশ, প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের ক্ষয়পূরণ এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা। বিশুদ্ধ দুধ সরবরাহের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিল্ক ভিটার ওপর সবার আছে ব্যাপক আস্থা। শুধু দুধ উৎপাদন নয়, পাশাপাশি মিল্ক ভিটা ঋণের মাধ্যমে গাভি সরবরাহ, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রতিষেধক ও ওষুধ সরবরাহ এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশে শ্বেত বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
জনগণের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা সাম্প্রতিক অবরোধ ও হরতালে এখন স্থবির। শিশু, শিক্ষার্থী এবং রোগীদের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না দুধ। রোগীদের দুর্ভোগ, শিশুদের কান্না এবং শিক্ষার্থীদের বেদনা কি সংশ্লিষ্ট অবরোধকারীদের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে না? অথচ দুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পাওয়া মৌলিক মানবিক অধিকার। অবরোধের কারণে খামারিরা দুধ সরবরাহ করতে না পেরে অবলীলায় নদী-নালা, খালে-বিলে দুধ ফেলে দিচ্ছেন। শুধু চট্টগ্রামের পটিয়ায় দৈনিক চার-পাঁচ হাজার লিটার দুধ ফেলে দিচ্ছেন খামারিরা। সড়কপথে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে মিল্ক ভিটার দুধ সংগ্রহ ও বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অবরোধে শুধু খামারিদের ক্ষতি নয়, দুধ পরিবহনে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরি, দুধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত পরিবেশক এবং তাঁদের কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও বন্ধ। এভাবে মিল্ক ভিটার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পর্যায়ের সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও শ্রেণীর জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে আছে। এমনকি গোখাদ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। গোখাদ্যের সংকটে পড়ে খামারিরা অসহায় এবং তাঁদের পালিত অবলা পশুরাও এখন নিরুপায়। এখন সারা দেশে পরীক্ষার মৌসুম। এ সময় শিক্ষার্থীদের দুধ পানের প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু দুধ না খেয়ে শিক্ষার্থীরা ছুটছে পরীক্ষার হলে। এ পুষ্টিহীনতা অনিবার্যভাবে বয়ে আনবে মেধাহীনতা।
হরতাল-অবরোধে বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দৈনিক মিল্ক ভিটার আর্থিক ক্ষতি ৫০ লাখ টাকা, সমবায়ী কৃষকদের ক্ষতি ৩০ লাখ টাকা, সমিতির কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধজনিত ক্ষতি চার লাখ টাকা, দুধ পরিবহনকারী শ্রমিকদের মজুরি বন্ধজনিত ক্ষতি ৪.৫ লাখ টাকা, পরিবেশকদের আর্থিক ক্ষতি ৪.২৬ লাখ টাকা, খুচরা বিক্রেতাদের আর্থিক ক্ষতি ১০.৭০ লাখ টাকা, ভ্যানচালক-শ্রমিকদের মজুরি বন্ধজনিত ক্ষতি ২.৫ লাখ টাকা। এভাবে প্রতিদিন সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা।
তরল দুধের এ সংকটে অপরিহার্যভাবে গুঁড়া দুধের আমদানি ও ব্যবহার বেড়ে যাবে। গুঁড়া দুধে ভেজাল, তেজস্ক্রিয়তা ও মেলামিনের ঝুঁকি থাকে। দেশের জনসংখ্যার মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্তি মাত্র ৬০-৭০ মিলিলিটার অথচ ন্যূনতম চাহিদা ২৫০ মিলিলিটার। অব্যাহত অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত সমবায়ীরা গাভি পালন এবং দুধ উৎপাদন থেকে সরে দাঁড়ালে হারিয়ে যাবে সম্ভাবনাময় এ শিল্প। অথচ কৃষিজমি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য দুগ্ধ শিল্প বিকাশের বিকল্প নেই, যা পরিবেশবান্ধব শিল্প। যেখানে ইটভাটার লেলিহান শিখায় গ্রামগঞ্জে পরিবেশ বিপন্ন, সেখানে একমাত্র দুগ্ধ শিল্পের মাধ্যমে জাতির স্বাস্থ্যরক্ষা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশের নিশ্চয়তা সম্ভব। ১৯৯০ সাল থেকে মিল্ক ভিটা এযাবৎ ১০০ কোটি ৪২ লাখ লিটার কাঁচা তরল দুধ সমবায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে মূল্য বাবদ তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছে দুই হাজার ২৫২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। একই সঙ্গে সম্পূরক দুগ্ধ মূল্য (প্রণোদনা) দিয়েছে ৭৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
মিল্ক ভিটার সামনে অনেক স্বপ্ন, অনেক প্রত্যাশা। কিন্তু আছে পর্বতপ্রমাণ প্রতিকূলতা। সে প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে কোমলমতি শিশু, কিশোর, শিক্ষার্থী ও রোগীদের জীবন, মেধা ও স্বাস্থ্যরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মানবিকতার চেতনা নিয়ে এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি এ ক্রান্তিলগ্নে।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মিল্ক ভিটা।
mmunirc@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খোলা হাওয়া- আতঙ্কতন্ত্র by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনীতি- একতরফা সংবিধান সংশোধনের ফল by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এ তোমার, এ আমার পাপ by বিমল সরকার

আশির দশকে এরশাদের অধীন অনুষ্ঠিত চতুর্থ সংসদ নির্বাচন এবং নব্বইয়ের দশকে বেগম খালেদা জিয়ার আমলে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের দুঃসহ সব স্মৃতি বোধকরি দেশবাসীর মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। ভুলে যায়নি কেউ ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির ঘোষিত নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির কথাও (যা অনুষ্ঠিত হয় ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮)। আর দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সাম্প্রতিক একের পর এক যা ঘটে চলেছে তা তো এখনও হিসাব-নিকাশের বিষয় হয়েই রয়েছে। তিন প্রধান দলের নেতারা ক্ষমতায় থেকে সংসদ নির্বাচন নিয়ে যা যা বলেছেন বা বলছেন কিংবা করেছেন বা করছেন, বিরোধী দলে থেকে তারা সবাই মোটামুটি একই বয়ান শুনিয়েছেন বা শোনাচ্ছেন। কম-বেশি সবাই সংবিধানের পাঠ শেখান। স্বাধীনতার পর কয়েকটি বছর যেতে না যেতেই, বিশেষ করে আশির দশকের শেষার্ধ থেকে উচ্চাভিলাষী রাজনীতিকরা সংবিধানের এ ধরনের ‘পাঠ’ আমাদের জাতীয় নির্বাচনের ‘সিলেবাসে’ অন্তর্ভুক্ত করেন। একেকটি সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওই ‘পাঠদানের’ জন্য তারা সদলবলে উঠেপড়ে লেগে যান। জানি না কথিত ওই সিলেবাসের পাঠদান কবে নাগাদ শেষ করতে পারবেন আমাদের রাজনীতিকরা। আর ‘গুরুদক্ষিণা’ হিসেবে তাদের উদ্দেশে আরও কী পরিমাণ রক্তইবা উৎসর্গ করতে হবে গোটা জাতিকে (!)।
পরিশেষে জাতির সংকটকালে রবীন্দ্রনাথের শরণাপন্ন হতে চাই- ‘কার নিন্দা করো তুমি, কারে দাও শাপ/এ তোমার এ আমার পাপ।’
বিমল সরকার : কলেজ শিক্ষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপির নির্বাচন বর্জনে কার লাভ, কার ক্ষতি by বদিউর রহমান

যাক, যে কারণেই তিনি তার কথার বরখেলাপ করে তফসিল ঘোষণা করুন না কেন, কপালের লিখন বা দুর্দশা আমাদের মেনে নিতেই হচ্ছে। দেশ রসাতলে যাক, ১৮ কেন ১৮০০ বা ১৮০০০ মরলে, আগুনে পুড়লেও দুই নেত্রীর কী বা যায় আসে। তাদের তো ক্ষমতা চাই, কেবল ক্ষমতা। তবে দোহাই হবে- একজনের সাংবিধানিক ধারা উপহার দেয়ার, আরেকজনের দেশ রক্ষার। তাদের জয়-পুতুল কিংবা তারেক-কোকো তো ককটেলের আগুনে পুড়ে মরছে না। তারা দু’জনও স্বজন হারিয়েছেন, তাদেরও কষ্ট আছে; কিন্তু বার্ন ইউনিটে পুড়ে মরা দেখা কেমন, তা যদি জয়-পুতুল-তারেক-কোকোকে দিয়ে তারা বাস্তবে দেখতেন, তাহলে এই অপরাজনীতি থেকে তারা সরে আসতেন কি-না আল্লাহ মালুম।
থাকগে, তফসিল যেহেতু ঘোষিত হয়েছে, নির্বাচন হবে বলা যায়। বাজাদ (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) কিংবা সম্মিলিতভাবে অন্য বিরোধী সব দল যদি আন্দোলনের মাধ্যমে, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে, নৃশংস হত্যার মাধ্যমে, দেশ অচল করার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে সরাতে না পারে, অথবা কোনো প্রকার সমঝোতার মাধ্যমে যদি সমস্যার সমাধান না করতে পারে, তাহলে হয়তো একতরফা নির্বাচনই হবে। বাজাদ এবং অন্য বিপক্ষ দলগুলোর একমাত্র লক্ষ্য এখন শেখ হাসিনাকে বাদ দেয়া। তার অধীনে নির্বাচন নয়। শেখ হাসিনারও সাংবিধানিক জেদ তার অধীনে নির্বাচন হতে হবে। জেদাজেদি যা-ই চলুক, নির্বাচন নিয়ে এখন আমার মতে তিনটি অবস্থা বিদ্যমান। এক. বাজাদসহ নির্বাচন হওয়া; দুই. বাজাদ বাদে নির্বাচন হওয়া; তিন. নির্বাচন না হয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির দখলে শাসনভার চলে যাওয়া। দেখা যাক কোন অবস্থায় কার লাভ-ক্ষতি কতটুকু।
প্রথমে আমরা ধরে নেই, চমকপ্রদভাবে একটা সমঝোতা হয়ে গেল, বাজাদ নির্বাচনে অংশ নিল। শেখ হাসিনার অধীনেই হোক বা অন্য কারও নেতৃত্বেই হোক, একটা সফল নির্বাচন হয়ে গেল। বিভিন্ন জরিপ কিংবা পাঁচ সিটির মেয়র নির্বাচনের ফলাফল, প্রচুর উন্নয়ন সত্ত্বেও আলীর প্রতি জনগণের নেতিবাচক মনোভাব, শেয়ার কেলেংকারি, হলমার্ক-ডেসটিনি-বিসমিল্লাহ-পদ্মা মিলে নেতিবাচক জনপ্রিয়তায় বাজাদ জয়ী হয়ে গেল। এতে লাভ বেশি কার- আলীর না বাজাদের? সহজ-সরল উত্তর হবে, বাজাদের। বাজাদ বড় গলায় বলতে পারবে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াও তারা বিজয়ী হয়েছে, তাদের জনপ্রিয়তা আর কাকে বলে, আরও কত কী! কিন্তু আমি বলব, এক্ষেত্রে প্রকৃত জয়টি হবে আলীর (আওয়ামী লীগের)। আলী তখন বিরোধী দলে গিয়েও বুক ফুলিয়ে বলবে, তাদের অধীনে তাদের দ্বারাই নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। বাজাদ জামায়াত-শিবিরের সহযোগিতায় অযথা দেশে এতদিন নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে, জীবন ও সম্পদের হানি ঘটিয়েছে- এসবের জন্য তাদের বিচার হওয়া দরকার। বাজাদ সরকার তখন আরেক মুশকিলে পড়বে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে। তখন জামায়াত থেকে চোখ-ফেরানো ছাড়া তাদের গত্যন্তর থাকবে না। বিচারের ধারাবাহিকতা না রাখলে বা রায় কার্যকর না করলে অল্প সময়ের মধ্যে বাজাদের বিরুদ্ধে আলীর আন্দোলন চাঙ্গা হবে এবং বাজাদ সরকার বড় বেকায়দায় পড়বে। অপরদিকে জামায়াত-শিবির থেকে মুখ ফেরালে বাজাদ আলী, জামায়াত সবার চাপে আরও চ্যাপটা হয়ে যাবে। বাজাদের ১৮ দলীয় শরিক এবং অন্য সমর্থকদের যথা- কামাল, বদরুদ্দোজা, অলি, রব, কাদের গংদের চাওয়া-পাওয়ার সম্মান দিতেও বাজাদ হিমশিম খাবে। কত বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় যাবে বাজাদ তাও এক বিবেচ্য। সংবিধান সংশোধনের মতো গরিষ্ঠতা না পেলে আলীর সংশোধিত পঞ্চদশ সংশোধনের ‘উপকারিতা’ই তাদের ভোগ করতে হবে। আরও কত যে ঝামেলা থাকবে বাজাদের! আলীকে সামাল দেয়া হবে এক মহাঝামেলা। কিন্তু সবচেয়ে বড় গলা থাকবে আলীর, তারা কথা রেখেছে- সফল নির্বাচন করে দিতে পেরেছে, নয় কি?
এবার মনে করি সমঝোতা হবে না, বাজাদ নির্বাচনে এলো না, কিন্তু আলী একা নির্বাচন সেরে ফেলল। এ নির্বাচন অবশ্যই ১৫ ফেব্র“য়ারির ’৯৬ মার্কা হবে না। কেননা এতে জাপা, জেপি, ইনু-মেননরা তো অন্তত আছেন। সংখ্যা বাড়ানোর জন্য দীলিপ বড়–য়াকে বাদ দেব কেন? যদিও অতি সম্প্রতি জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যায় না। সেক্ষেত্রে এরশাদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ইনু, মেনন মাঠে কম বড় নন, ভোটে না হোক, কণ্ঠে তো অন্তত। এর মাঝে যদি আরও কাউকে ভেড়ানো যায় তা তো আরও ভালো। বিএনএফ যদি একটা ফ্যাক্টর হয় এবং বাজাদের অনেকে যদি এদিক-সেদিক করে নির্বাচনে শামিল হয়ে যায় অথবা তাদের শামিল করানো যায়, তাহলে তো একটি ভালো গ্রহণযোগ্যতা এসে যাবে, নাকি? নির্বাচনমুখী বাজাদের অনেক নেতাকর্মী কি সাত বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আবারও আরও পাঁচ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে ধৈর্যশীল হবে? আমার তো অন্তত মনে হয় না। হাল-সময়ের হরতাল-অবরোধে বাজাদের বড় নেতাদের কি আমরা মাঠে দেখছি? খালেদা জিয়ার নির্দেশে কি কোনো কাজ হচ্ছে? এটা কিসের আলামত? অবশ্যই বাজাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচন চান, দলের বর্তমান জনপ্রিয়তায়, হোক না তা আলী-বিরাগে নেতিবাচক, তারা কেন ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেবে না? অতএব বাজাদ স্বীকৃতভাবে নির্বাচনে না এলেও তাদের অনেক নেতা ভিন্নভাবে নির্বাচনে আসবে। ফলে বাজাদে আবার ভাঙন ধরবে, দল বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে আবারও লাভবান হবে আলী। শেখ হাসিনা কিন্তু সংস্কারপন্থীদের র্যাটস (জঅঞঝ) থেকে শেষ মুহূর্তে হলেও স্টার (ঝঞঅজ) করে দিয়েছেন। বেঁচে থাকলে রাজ্জাকও (জ) এ সুবিধায় আসতেন, বেঁচে না থেকেও তিনি এখন স্টারভুক্তই হলেন। খালেদা জিয়া কিন্তু এখনও তাদের অর্থাৎ তার দলের সংস্কারপন্থীদের পুরো পুনর্বাসন করেননি। জিয়ার বাজাদ ভেঙে বদরুদ্দোজার বিকল্প ধারা, কর্নেল অলির এলডিপি, জাহানারাদের বিএনএফ, ব্যানাহুদার সমর্থক- কত ভাগ যে হয়ে গেল! এবার নির্বাচনে না এলে হয়তো আরও ভাঙন হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, একবার নির্বাচন হয়ে গেলে আলী ক্ষমতায় এসে এরশাদকে বিরোধী দলে বসিয়ে সরকারের নৈতিক অধিকার পেয়ে আরও শক্ত হয়ে যাবে। তখন কি আর বাজাদের আন্দোলনের বড় কোনো নৈতিক অধিকার বা ইস্যু থাকবে? এখন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও বাজাদ ফলপ্রসূ কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি, বরং বলা চলে, আলীর বাজাদের হাতে তুলে দেয়া বড় বড় ইস্যুকেও যেখানে বাজাদ কাজে লাগাতে পারেনি, তখন আর কি পারবে? আমার তো মনে হয় না। আলী এ মেয়াদে অনেক ভালো কাজ করেছে, উন্নয়ন করেছে, আলী তখন উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় মনোযোগী হবে এবং পূর্বতন ভুল না করার জন্য সচেষ্ট হবে। ফলে আলীর পরবর্তী সরকার শিগগিরই জনসমর্থন পেতে কার্যকরভাবে সফল হয়ে যাবে। শেখ হাসিনা তখন সত্যি সত্যি লৌহমানবী হওয়ার ভূমিকায় যাবেন। তখন বর্তমান আন্দোলনের সহিংসতা, মৃত্যুর দায় সবই যাবে বাজাদ নেতাদের ওপর। কী কী মামলা যে হবে তখন, তা সহজেই ধারণা করা যায়। তখন নিশ্চয়ই সামান্য হাতুড়ি দিয়ে নয়াপল্টনের বাজাদ কার্যালয় ভাঙার ছেলেমানুষি করবে না পুলিশ, যা হবে বেশ ভারিই হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের রায় যথারীতি দ্রুত বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। বাজাদের আন্দোলনের শক্তি জামায়াত-শিবির শেষের খাতায়। তাহলে বাজাদ আর আন্দোলন করবে কাকে নিয়ে? ছাত্রদল তো এখনই নেই, তখন তাদের পাবে কোথায়? অতএব, ৫+২+৫=১২ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে বাজাদ কোথায় যে যাবে বোঝা মুশকিল। মনে রাখা দরকার, বাজাদ কিন্তু আলী নয় যে, ২১ বছর পরও বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হারিয়ে আবার মাথা তুলে দাঁড়াবে? খালেদা না থাকলে বা অসুস্থ হয়ে গেলে তারেক আর একা কতটা কী করবেন? সিনিয়র নেতাদের মাথার উপরে চেপে বসা তারেককে তখন তারা আর মানবেন? অতএব আলীর এ অবস্থায়ও লাভ, বরং নিশ্চিত বড় লাভ। বাজাদ নির্বাচনে না এলেই বরং আলী মহাখুশি হবে। এমনটি ভাবা বোধহয় এখন সহজ বিষয়। এমন সুযোগ আলীকে না দেয়ার জন্য বাজাদের নির্বাচনে আসাই উত্তম হবে।
সর্বশেষ অবস্থা যদি এমন হয়, হাসিনা-খালেদার জেদ ও অনড় অবস্থানের কারণে দেশজুড়ে জীবনহানি এবং সহিংসতা এমন পর্যায়ে গেল যে জরুরি অবস্থা জারি করতে হল, তাহলেও লাভ আলীর। আলী আরও সময় ক্ষমতায় থাকল। আর তা না হয়ে যদি তৃতীয় শক্তি শাসনক্ষমতা দখল করে নেয়, তাহলেও লাভ আলীরই। কারণ আলীকে বাজাদের কাছে হারতেও হল না। পরাজয়ও মেনে নিতে হল না। তৃতীয় শক্তি দু’-চার বছর যা-ই থাকে, আলী চুপ থাকল। তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক জনঅসন্তোষ ধীরে ধীরে কমে গেল। পরবর্তী সময়ে একটা গ্রহণযোগ্য অবস্থায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আবার নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে আলী ফের পহেলেছে শুরু করে মাঠে নামবে। এ ফাঁকে তারা তাদের ক্ষয়িষ্ণু জনপ্রিয়তা আবার ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হবে। তাদের অপকর্ম মানুষ অনেকাংশে ভুলে যাবে। তবে বাজাদ পড়ে যাবে আরও ফাঁকে। অতএব এতেও লাভ আলীর। আমার বিবেচনায় তিন অবস্থায়ই আলী লাভবান হচ্ছে। অতএব, নিজের ক্ষতি না করে নির্বাচনে আসাই বাজাদের জন্য লাভজনক।
বদিউর রহমান : সাবেক সচিব, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আজ তার উপস্থিতি বড় প্রয়োজন ছিল by সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী

সাংবাদিকতা পেশায় তিনি তার স্বকীয়তা প্রমাণ করলেন ও পুরো মহাদেশের সাংবাদিক জগতে বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করলেন। ব্যাংককের তদানীন্তন সান্ধ্য পত্রিকা ‘ব্যাংকক পোস্ট’ তাকে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দিল। তিনি অচিরেই ‘ব্যাংকক পোস্ট’কে একটি নিয়মিত দৈনিকে পরিণত করলেন। অচিরেই সেই পত্রিকা এ অঞ্চলের সর্বাধিক পঠিত কাগজ হিসেবে সমাদৃত হল। বড় ভাইকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একে একে সিঙ্গাপুরের ‘নিউ নেশন’, হংকংয়ের ‘হংকং স্ট্যান্ডার্ড’ ও তখন ম্যানিলায় অবস্থিত প্রেস ফাউন্ডেশন অব এশিয়ার কর্ণধার হিসেবে কাজ করলেন। এ ফাউন্ডেশনের প্রধান কাজ ছিল এই মহাদেশের তরুণ সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আধুনিক সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলা।
আশির দশকের গোড়ার দিকে তিনি ইউনেস্কোর আঞ্চলিক যোগাযোগ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিতে কুয়ালালামপুরে গেলেন। সেখানে একাধারে কাজ করলেন এক যুগ। অবসর নিয়ে ঢাকায় ফিরে এলেন ১৯৯০-এর শেষের দিকে। উদ্দেশ্য, ঢাকা থেকে একটা উচ্চমানের ইংরেজি পত্রিকা বের করা। ইচ্ছা করলে ইউনেস্কোর পেনশন নিয়ে তিনি এ অঞ্চলের যে কোনো শহরে অবসর জীবনযাপন করতে পারতেন। ব্যাংকক, হংকং, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে তখন সাংবাদিকতার জগতে কাজ করার সুযোগ ছিল অনেক বেশি। কিন্তু তিনি ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক, যার দৃঢ় সংকল্প ছিল মৃত্যুর আগে দেশের জন্য কিছু করার। ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে তার সর্বশেষ সৃষ্টি ‘ডেইলি স্টার’ প্রকাশিত হল দেশের সাংবাদিকতার জগতে এক অনন্য ‘তারকা’ হিসেবে। অচিরেই তা পাঠক সমাজে সমাদৃত হল। তার নিজস্ব কলাম ‘মাই ওয়ার্ল্ড’ ও প্রতিদিনের সম্পাদকীয়ই এই পত্রিকাটির প্রধান আকর্ষণ ছিল। কিন্তু এত খাটাখাটি সইল না। ১৯৯৩ সালের ১৭ অক্টোবর বড় ভাই মৃত্যুবরণ করেন।
বড় ভাই ছিলেন একজন নির্ভীক সাংবাদিক। তিনি তার পেশাগত নৈতিকতা পালন করতেন অত্যন্ত কঠোরভাবে। অনেক বিশ্বনেতা তাকে একান্তে যেসব ‘অফ দ্য রেকর্ড’ কথা বলতেন, তা তিনি কখনও প্রকাশ করতেন না। দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীরা তাকে অনেক কিছুই বলেছেন সম্পূর্ণ তার বিশ্বাসযোগ্যতার কারণে। তার উপদেশ নিয়েছেন। আমরা ভীষণ পীড়াপীড়ি করলেও তিনি এসব ব্যাপারে মুখ খুলতেন না।
ঢাকায় যে বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন, সেটা ছিল তদানীন্তন ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিবের নিজস্ব বাড়ি। তিনি নিচতলায় থাকতেন ও বড় ভাই থাকতেন দোতলায়। তদানীন্তন সরকারের কোনো ভুল পদক্ষেপের জন্য কড়া সমালোচনা করতেন বড় ভাই। তদানীন্তন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বার্ষিক কর্মসম্পাদন রিপোর্ট লিখতেন তার কাগজে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে। একবার তদানীন্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেড দিলেন ‘বি-মাইনাস’। মন্ত্রী সাহেব কিছুটা দুঃখিত হলেন। আমি মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে কিছুটা বিব্রত হই। কিন্তু বড় ভাইয়ের এক কথা- ‘আমার একমাত্র দায়বদ্ধতা আমার পাঠকের কাছে, আর কারও কাছে নয়।’
একইভাবে তদানীন্তন বিরোধী দলের মহাসচিব তার কড়া সম্পাদকীয় পড়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন। বড় ভাই তার কলামে লিখলেন ‘কাউকে খুশি করার জন্য তিনি সম্পাদকীয় লেখেন না।’ সোজা কথায়, তার লেখা ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, বাস্তবধর্মী ও পেশাগত। সেখানে আপসের কোনো সুযোগ ছিল না।
আজ দেশ এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে চলছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। গ্রেফতার, হরতাল ও অবরোধ এক অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। আজ সারা দেশে একজন সর্বগ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ লোক পাওয়া যাচ্ছে না, যার লেখা সবাই পড়বে, যার উপদেশ সবাই মানবে। এ ধরনের জাতীয় সংকটকালে বড় ভাই সব সময় বলতেন, ‘আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে এলে দেশের যে কোনো সমস্যার সমাধান নিশ্চয়ই খুঁজে পাব।’
বড় ভাই, আজ আপনার খুব প্রয়োজন বোধ করছি। আপনার জন্মদিনে আপনার চির শান্তি কামনা করি।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র সচিব
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কমিশন, না পলিটিক্যাল কসমেটিক্স? by পলাশ কুমার রায়

তথ্য কমিশন : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে চিন্তা, বিবেক ও বাকস্বাধীনতা নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। জনগণ প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক ও জনগণের জন্য তথ্য অধিকার নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক; তাই সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও সরকারি এবং বিদেশী অর্থায়নে সৃষ্ট ও পরিচালিত বেসরকারি সংস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ২০ নম্বর আইন) পাস করে। এই আইনের ১০ ধারা অনুযায়ী আইন জারির ৬০ দিনের মধ্যে তথ্য সরবরাহের নিমিত্তে প্রত্যেক কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রদান ইউনিটের জন্য একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা। কিন্তু এখনও সব প্রতিষ্ঠানে তথ্য প্রদানকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়নি। তথ্য অধিকার আইন সম্বন্ধে না জানার কারণে অধিকাংশ মানুষ তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তথ্য কমিশন বাংলাদেশের জনসাধারণকে তথ্যপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা সম্পর্কে অবহিত করার লক্ষ্যে আরও ব্যাপকভাবে গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন : ২০০৪ সালে পাস হওয়া দুদকের মূল আইনের ২৪ ধারায় বলা আছে, দায়িত্ব পালনে দুদকের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু ১০ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন সংশোধনী বিল-২০১৩ পাস করা হয়। সংশোধিত আইনের ৩২(২) ও ৩২(ক) ধারায় প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত ও মামলা দায়েরে সরকারের পূর্ব অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মকর্তা কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত হলে সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো আদালত সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিতে পারবেন না। কোন আদালতে এই মামলার বিচার হবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দেবে। ১১৫ বছরের পুরনো ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা দুদক আইনে ঢুকিয়ে দুদককে নখ-দন্তহীন বিড়ালে পরিণত করা হল। বর্তমান সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দুদককে কার্যকর করার প্রতিশ্র“তি দিলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্তাব্যক্তিদের খুশি রাখতে সেই অঙ্গীকার থেকে সরে এসে দুর্নীতিবাজ সরকারি আমলাদের পক্ষাবলম্বন করল বৈকি! যদিও আগের আইনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে দুদকের একক ক্ষমতা ছিল।
আইন কমিশন : দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন, উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতির প্রবর্তন ও বিভিন্ন আদালতে বহুসংখ্যক মামলা দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকার পরিপ্রেক্ষিতে এবং মৌলিক মানবাধিকার পরিস্থিতির আইনগত দিকসমূহ পুনঃনিরীক্ষণ ও আইন শিক্ষার মানোন্নয়নসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করার লক্ষ্যে অচল আইনসমূহ বাতিল, প্রচলিত অন্য আইনসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আইনগুলোর যুগোপযোগী সংস্কার অথবা ক্ষেত্রমতো নতুন আইন প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করার জন্য একটি স্থায়ী আইন কমিশন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় সরকার ১৯৯৬ সালে আইন কমিশন প্রতিষ্ঠা করে। আইন কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কমিশন ১২৫টি আইন সংক্রান্ত সুপারিশ সরকারকে প্রদান করেছে। কমিশনের ওইসব প্রস্তাব সরকার খুব বেশি আমলে নেয়নি। এ বছরের ২৩ জুলাই সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছেন। কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য আইন বিভাগের প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাহ আলম স্যারের কাছে বিনীত অনুরোধ এই যে, ২০০১ সালে মিথ্যা মামলা (প্রতিরোধ ও প্রতিকার) শীর্ষক প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর করা হোক। এই আইনটি কার্যকর হলে নিু আদালত থেকে হাজার হাজার মিথ্যা ও কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে মিথ্যা মামলা করার প্রবণতা দূর হয়ে যাবে। নিরীহ বিচারপ্রার্থীরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে। আইন কমিশন কি জনসাধারণের বৃহত্তর স্বার্থে এই উদ্যোগটি গ্রহণে তৎপর হবে না?
এভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা কমিশনগুলো সরকারের আজ্ঞাবাহী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং জনসাধারণ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যাশিত পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তা ছাড়া অনাকাক্সিক্ষত যে কোনো দুর্ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে সরকার প্রায়শই দি কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট ১৯৫৬ অনুযায়ী কমিশন গঠন করে থাকে। অভিযোগ আছে, কমিশন গঠিত হওয়ার পর সেই কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশে নাটকীয়ভাবে গোপনীয়তা রক্ষা করার কারণে জনগণ ওই কমিশনের চূড়ান্ত অবস্থান সম্বন্ধে জানতে পারেন না। জনসাধারণকে বোকা ভেবে এই কর্মযজ্ঞ সুদীর্ঘকাল থেকেই চলে আসছে। সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা গঠিত এসব কমিশন জনসাধারণের কতটা উপকারে আসে? জনসাধারণের করের টাকায় ওইসব কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হয় না বলে প্রায়শই অভিযোগ শোনা যায়। তাহলে ঢাকঢোল পিটিয়ে ওইসব কমিশন রাখার প্রয়োজন কী? সরকার ওইসব কমিশনকে আইন দ্বারা ক্ষমতায়িত করে জনসাধারণের কল্যাণে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেবে এমনটাই প্রত্যাশা। আর কমিশনগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের শুধু আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই নয়, বরং সামাজিক ও মানবীয় মূল্যবোধ ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও জনসাধারণের ন্যায়সঙ্গত এবং যৌক্তিক প্রয়োজনে অকৃপণভাবে এগিয়ে আসার মানসিকতা ধারণ করতে হবে।
পলাশ কুমার রায় : আইনজীবী; আহ্বায়ক সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন (সুপ্রা)
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজন স্বাধীন নাগরিকের সাহস ও বলিষ্ঠতা প্রকাশ পেয়েছে তার কথায় by মইনুল হোসেন

আমাদের এখনকার রাজনৈতিক নেতারা জনগণকে তাদের প্রভু হিসেবে দেখার পরিবর্তে অসহায় মানুষ হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন। অথচ তারা রাজকীয় জীবনযাপন করেন জনগণের টাকায়। নির্বাচনে কে বিজয়ী হবে আর কে পরাজিত হবে, সেটা বর্তমান সংকটের আসল কারণ নয়। আসল ব্যাপার হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা, যার মাধ্যমে তারা নিজেরা প্রভূত সম্পদশালী হতে পেরেছেন। এ এমন এক ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থায় দুর্নীতিবাজদের খুঁজে পাওয়া কঠিন এবং তাদের বিচার করা আরও দুঃসাধ্য। একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাতে নিরপরাধ লোকদের অমানবিক যন্ত্রণা ও বেদনা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। আমাদের দলীয় রাজনীতি যে পেশিশক্তি ও পুলিশি শক্তির ওপর ভিত্তিশীল, এটা তো সবারই জানা।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি দমন করার জন্য কেবল সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা ছাড়া অন্য সব রাষ্ট্রীয় শক্তি বিশেষ করে সীমান্ত রক্ষীদের সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার যখন জোরালো গলায় তার জনপ্রিয়তা দাবি করছে, তখন কেন স্বীকৃত একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে না, এ প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। জাতিসংঘের মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বারবার আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু ২০ বছর আগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যে অপরিবর্তনীয় পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চালু করেছে, সেই রাজনীতিতে সংলাপ কখনও জায়গা করে নিতে পারেনি। দেশের ভেতরে বিরোধী দলকে একতরফা নির্বাচন ও সহিংস সংঘাতের রাজনীতির বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ দেখা যাচ্ছে। সুশীল সমাজের সদস্যরাও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু সবই অরণ্যে রোদন।
গত রোববার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নেভি পিল্লাই রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষের রাজনীতিকদের ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করার তাগিদ দিয়েছিলেন। একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব দলকে হিংসাÍক পথ ছেড়ে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছিল, যাতে সব ক’টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। কেবল তখনই তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংহ ঢাকা এসেছেন। তার এ সফরকে পরিচিতিমূলক বলা হয়েছে। এর অব্যবহিত পর ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে তারা আসছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সম্ভাবনা আছে কি-না সেটা মূল্যায়ন করার জন্য।
সরকারের আসল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গ্র“প। এই উপদেষ্টাদের ভেতরে আবার সবচেয়ে প্রভাবশালী হচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত আমলারা। উপদেষ্টা নামে অথবা অন্য কোনো নামে তাদের অত্যন্ত সক্রিয় দেখতে পাওয়া যাবে সরকারের পক্ষে নির্বাচন তদারকির কাজে। বলা হচ্ছে, এই আমলা-উপদেষ্টারাই নির্বাচনে নিশ্চিত বিজয় লাভের বিষয়টি নিñিদ্র করার পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। কোনো কিছুই তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা থেকে পিছু হটাতে পারবে না।
প্রতিবাদকারীদের যখন বলা হচ্ছে নিরীহ লোকদের হত্যা করা, আগুনে পুড়িয়ে মারা গণতান্ত্রিক রাজনীতি নয়, তখন সে কথা তাদের কানে ঢুকছে না। তারা আমাদের চেয়ে বেশি জানেন এবং সেই জানাটা হচ্ছে, ‘গণতন্ত্র’ দুটি দলের কারোরই বিবেচনার বিষয় নয়। বস্তুত সরকার ও বিরোধী পক্ষ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে তাদের নিজ নিজ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধে লিপ্ত।
কিন্তু রাজনীতি যখন এতটা নিষ্ঠুর এবং জনকল্যাণের সঙ্গে সম্পর্কহীন, তখন আমাদের কাছে জরুরি হচ্ছে জনগণকে রক্ষা করা, দেশকে বাঁচানো।
একসময় ছিল যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্তফা দিলে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ব্যাপারে সমাধান সহজ হতো। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তার কাছে প্রধানমন্ত্রিত্বই সবকিছু নয়। চরম হিংসাত্মক আন্দোলনের মুখে এখন প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিতে রাজি হলেও যে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে সে বিষয়েও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। যদিও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করবেন এমনটি আশা করতে ভরসা পাচ্ছি না আমরা।
যখন দুই নেত্রী একমত হতে পারবেন না, তখন বোধহয় সর্বোত্তম পন্থা হবে বাংলাদেশের একটা দীর্ঘমেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থায় থাকা, যেমনটি সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম সুপারিশ করেছিলেন এবং কিছুদিন আগে তার এই সুপারিশ এখানকার সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
দলীয় রাজনীতির জন্য নয়, সার্বভৌম জনগণের জন্য যা সর্বোত্তম হবে, এই মুহূর্তে সেটাকেই বিবেচনায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন : আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আতঙ্কতন্ত্র
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবরোধ থেকে মুক্ত থাকুক
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মিল্ক ভিটা।
mmunirc@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অবরোধবাসীর দিনমান
মামুনুর রশীদ: নাট্যব্যক্তিত্ব।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাইল্যান্ডে বিরোধীদের জয়
ইংলাক সিনাওয়াত্রা
পুলিশের সদরদফতর এমনকি প্রধানমন্ত্রীর গর্ভনমেন্ট হাউস দখল করলেও সরকারের বৈধতায় কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না
সুথেপের বিজয় ভাষণ
আমরা বিজয় উল্লাস করতে পারি সানন্দে কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে আমরা যেন লক্ষ্যচ্যুত না হই।
থাই ছাত্রসমাজের প্রতিক্রিয়া
দ্য নেটওয়ার্ক অব স্টুডেন্টস অ্যান্ড পিপল ফর থাইল্যান্ডস রিফর্ম’র (এনএসপিটিআর) সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। এনএসপিটিআর নেতা উথাই ইয়োদম্যানি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে আমরা বিজয় ঘোষণা করেছি ঠিকই কিন্তু তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবেই।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1398)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
December
(526)
-
▼
Dec 05
(13)
- থামাও আগুন, বন্ধ করো গুলি- আর কত প্রাণহানি
- শিশুখাদ্য, রোগীর পথ্য- অবরোধ থেকে মুক্ত থাকুক by ম...
- খোলা হাওয়া- আতঙ্কতন্ত্র by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
- রাজনীতি- একতরফা সংবিধান সংশোধনের ফল by মুহাম্মদ জা...
- এ তোমার, এ আমার পাপ by বিমল সরকার
- বিএনপির নির্বাচন বর্জনে কার লাভ, কার ক্ষতি by বদিউ...
- আজ তার উপস্থিতি বড় প্রয়োজন ছিল by সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী
- কমিশন, না পলিটিক্যাল কসমেটিক্স? by পলাশ কুমার রায়
- একজন স্বাধীন নাগরিকের সাহস ও বলিষ্ঠতা প্রকাশ পেয়েছ...
- আতঙ্কতন্ত্র
- অবরোধ থেকে মুক্ত থাকুক
- অবরোধবাসীর দিনমান
- থাইল্যান্ডে বিরোধীদের জয়
-
▼
Dec 05
(13)
-
▼
December
(526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

