Saturday, August 29, 2009

ভাসমান সুপারমার্কেট Èত্রিবেণী'

চেইন শপ, মেগা শপ, সুপার মল, সুপারমার্কেট আরও কত কি! প্যারিস, সাংহাই, ব্যাংকক, নিউইয়র্কের মতো শহরগুলোর আধুনিকতা আর উন্নয়নের সাক্ষ্য দিচ্ছে এসব বিপণিকেন্দ্র। ক্যাপসুল লিফট, চলন্ত সঁিড়ি, ফুড জোন, জিম ওয়ার্ল্ড, এন্টারটেইনমেন্ট আর্থ, সাইবার ক্যাফে, স্পোর্টস জোন, চপার ল্যান্ডিং আরও কত কি সুবিধা এসব অতি আধুনিক বিপণিকেন্দ্রগুলোয়।
এতটা চাকচিক্য না থাকলেও ভারতের কেরালা রাজ্যের Èত্রিবেণী' বিপণিকেন্দ্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্তত স্থানীয় লোকজনের কাছে। নামজাদা কোনো শহরের চেৌহদ্দিতে নয়, ত্রিবেণীর অবস্থান খরস্রোতা নদীতে। নদীপথেই ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করে বেড়ায় এটি। এতে রয়েছে কমপক্ষে দুই হাজার রকমের পণ্য। কেরালার কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন দ্বীপে ত্রিবেণী পণ্য বিক্রি করে। এর রয়েছে আটজন কর্মী। কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের লাখো মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছে ভাসমান এই বিপণিকেন্দ্র। কী নেই এতে! চাল থেকে শুরু করে প্রসাধনসামগ্রী∏সবই আছে এখানে।
ত্রিবেণী যাত্রা শুরু করে গত ৭ জুন। কনজিউমারফেড (কেরালা স্টেট কনজিউমার কো-অপারেটিভ ফেডারেশন) নামের একটি প্রতিষ্ঠান এটি চালু করেছে।
প্রতিদিন সকাল আটটায় খোলে। বিকিকিনি চলে অনেক রাত পর্যন্ত। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে প্রায়ই হিমশিম খেতে হয়। নারী ক্রেতাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দঁাড়িয়েছে।
কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা এর আগে ডিঙ্গিতে করে অনেকখানি পথ পাড়ি দিয়ে মূল ভূখণ্ডের বিপণিকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে কেনাকাটা করত। এখন ত্রিবেণী তাদের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এখন আর তাদের মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হয় না। তাদের বাড়ির পাশেই নদীতে প্রতিদিন হাজারো পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হয় ত্রিবেণী। এ কারণে গ্রামবাসীর অর্থ ও সময় দুই-ই বঁেচে যায়।
যশোদা নামের এক নারী ক্রেতা বলেন, Èপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র নিয়ে প্রতিদিন বিশালাকার এ নেৌকাটি আমাদের ঘাটে নোঙর করে। এটি একটি বিশাল ব্যাপার।' তিনি বলেন, Èযেখানে আমাদের বাজারে যেতে হয়, সেখানে উল্টো বাজারই আমাদের কাছে ছুটে আসছে। ত্রিবেণী আমাদের কাছ থেকে খুব একটা দামও রাখে না।'
ত্রিবেণীতে রয়েছে একটি কম্পিউটার জোন। যেখানে শিশুদের গেমস খেলার সুযোগ রয়েছে। ত্রিবেণীর ম্যানেজার এ কে অনুপ কম্পিউটারেই তঁার হিসাব-নিকাশ করেন। পণ্য ফুরিয়ে গেলে তা সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় অফিসে তিনি কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্দেশিকা পাঠান।
ভাসমান সুপারমার্কেটটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজি আর নায়ার বলেন, Èযদি আমরা ত্রিবেণী তৈরি না করতাম, তাহলে কুট্টানাদ দ্বীপপুঞ্জের প্রতিটি দ্বীপে খুচরা দোকান খুলতে হতো আমাদের।' তিনি বলেন, Èভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ভেনেজুয়েলায় আগে থেকেই ছোট ছোট নেৌকায় করে ফল-সবজি বিক্রি হয়ে আসছে। কিন্তু ত্রিবেণীই হয়তো বিশ্বের প্রথম নেৌসুপারমার্কেট। এ স্বীকৃতি পেতে আমরা গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড কতর্ৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।'
রিজি আর নায়ার বলেন, Èভাসমান সুপারমার্কেটের ধারণাটি খুব সহজে বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ব্যাপারটি ব্যবসায়িকভাবে সফল নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা চালাতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলাম। ত্রিবেণী তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছে।'
এ কে অনুপ জানান, Èত্রিবেণীর কল্যাণে এখন তঁাদের প্রতিদিন ৩০ হাজার রুপি কেনাবেচা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসই এখানে আছে। ক্রেতাদের ফরমায়েশ পেলে ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজের মতো পণ্যও ভবিষ্যতে সরবরাহ করব।' বিবিসি অবলম্বনে মো. মনিরুল ইসলাম।

অক্টোবরে দুই কোরিয়ার নাগরিকদের পুনর্মিলনী

অর্ধশতাব্দী ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা পরিবারগুলোর সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত পুনর্মিলনী আয়োজনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে চাপ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে অক্টোবরে আসন্ন Èকোরিয়ান থ্যাংকসগিভিং ডে'তে আগামী পুনর্মিলনী আয়োজনের ব্যাপারে রাজি হয়েছে দুই পক্ষ। দুই কোরিয়ার মধ্যে এক বছরের বেশি শীতল সম্পর্ক বজায় থাকার পর সম্পর্কোন্নয়নের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার উত্তর কোরিয়ার মাউন্ট কুমগাং অবকাশযাপন কেন্দ্রে তিন দিনের এক বৈঠক শুরু হয়।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা যুদ্ধের কারণে কয়েক হাজার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ২০০০ সালে ঐতিহাসিক আন্তকোরীয় সম্মেলনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ওই সব পরিবারের মধ্যে পুনর্মিলনী শুরু হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার কোরীয় তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া স্বজনদের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করার সুযোগ পেয়েছে। এ ছাড়া কয়েক হাজার পরিবার ভিডিওর মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ পায়। সর্বশেষ ২০০৭ সালের অক্টোবর মাসে দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর মধ্যে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। তবে লি মিউং-বাকের সরকার দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। এএফপি।
জাপান থেকে প্রকাশিত পিয়ংইয়ংপন্থী পত্রিকা চোশোন সিনবো জানায়, উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-ইল দুই দেশের সম্পর্কের অচলাবস্থা দূর করতে বদ্ধপরিকর। বৈঠক শুরুর দিন দুই কোরিয়ার রেডক্রস কর্মকর্তারা ৩ অক্টোবর পুনর্মিলনী আয়োজনের ব্যাপারে এক ধরনের মতৈক্যে পঁেৌছেছেন। এ ছাড়া দুই পক্ষ থেকে ১০০ জন করে নাগরিককে তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারেও একমত হয়েছেন তঁারা।
দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র চুন হায়ে-সুং বলেন, Èবৃহস্পতিবারের বৈঠকে পুনর্মিলনীর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, একবার দেখা করার সুযোগ দিয়ে এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং নিয়মিত পুনর্মিলনীর আয়োজন করা উচিত।' মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কোরীয় যুদ্ধে বন্দী এবং স্নায়ুযুদ্ধ চলার সময় সম্ভাব্য আটক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকদের বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং।

মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন

আর্তমানবতার বন্ধু নোবেলজয়ী মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী ছিল গতকাল বুধবার। মানবতাবাদী এ মহীয়সী নারী ১৯১০ সালের ২৭ আগস্ট তত্কালীন যুগোস্লাভিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম স্কোপজে জন্মগ্রহণ করেন।
এ উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এক অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানটি যেৌথভাবে উদ্বোধন করেন মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লাল থাংহোলা এবং পশ্চিমবঙ্গের সাবেক রাজ্যপাল বিচারপতি শ্যামল সেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বোন প্রীতম কাউর। এদিকে গতকাল সকালে মাদার হাউসে অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি ফোরামের উদ্যোগে এক সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করা হয়।
মাদার তেরেসার আসল নাম ছিল অ্যাগনেস গোনক্সা বোজাকসহিউ। অ্যাগনেস ১৯২৮ সালে চলে আসেন কলকাতায়।
১৯৭৯ সালে মাদার তেরেসা শানি্ততে নোবেল পুরস্কার পান। ১৯৮০ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান Èভারতরত্ন' পান। ১৯৯৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি কলকাতায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএসসির অকর্মণ্য জাহাজে কর্মরত ২১ বিদেশি নাবিক

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) প্রায় এক বছর ধরে অলস বসে থাকা ১৩টি জাহাজে মোট ২১ জন বিদেশি নাবিক কাজ করছেন। এঁদের ১৯ জন পাকিস্তানি এবং দুজন মিয়ানমারের নাগরিক। তঁাদের বেতন-ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এসব জাহাজের মধ্যে ছয়টি বসেই আছে।
তবে বিএসসির কর্মকর্তারা জানান, উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন দেশি নাবিক না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বিদেশি নাবিক নিতে হচ্ছে। তঁাদের মতে, নানা কারণে বিশ্বের অনেক দেশ পাকিস্তানি নাবিকদের নিষদ্ধি করেছে। তাই বাইরে বাংলাদেশি নাবিকদের চাহিদা আছে। তঁারা সেখানে ভালো বেতনও পাচ্ছেন। এ কারণে বিএসসির জাহাজের জন্য পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাবিকদের তুলনামূলক কম বেতনে পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী মোস্তফা চেৌধুরী বলেন, Èনাবিক নিয়োগে আমরা বাংলাদেশিদের প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কিন্তু উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশের নাবিক পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে পাকিস্তান ও মিয়ানমারের নাবিক নিয়েছি।'
বিএসসি সূত্রে জানা যায়, গত ২০ বছরে নতুন কোনো জাহাজ না কেনায় বিএসসির বহরের ১৩টি জাহাজই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে। সাধারণ জাহাজের গড় অর্থনৈতিক আয়ু যেখানে সর্বোচ্চ ২৫ বছর ধরা হয়, সেখানে বিএসসিতে ২৯ বছরের পুরোনো জাহাজও চলছে। ফলে এসব জাহাজ ঘন ঘন মেরামত করতে হচ্ছে এবং তুলনামূলক বেশি জ্বালানি খরচ হচ্ছে।
বর্তমানে বিএসসির ১৩টি জাহাজের মধ্যে দুটি বিদেশ থেকে আমদানি করা অশোধিত তেল বহির্নোঙরের বড় জাহাজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসার কাজ করে। বাকি ১১টির মধ্যে ছয়টি চট্টগ্রামে অলস বসে আছে এক বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত। দুটি জাহাজ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়ায় এবং আরও দুটি বিএসসির নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যটি বড় ধরনের মেরামতের জন্য অপেক্ষা করছে।
অলস বসে থাকা জাহাজগুলোর জন্য কেন বিদেশি নাবিক রাখা হলো জানতে চাইলে বিএসসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকেৌশল) মো. সাঈদ উল্লাহ বলেন, Èযেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দুর্ঘটনার কারণে এসব জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যাতে অন্তত ক্ষতিপূরণটা পেতে পারি, সে জন্য আমরা নূ্যনতম লোকবল নিয়োগ দিয়ে রেখেছি।' তিনি বলেন, Èজাহাজগুলোর জন্য যে পরিমাণ লোকবল দরকার, তার চেয়ে ১৫ জন প্রকেৌশলী ও ১২ জন কর্মকর্তা কম আছে। কম বেতনে পাকিস্তান ও মিয়ানমারের যেসব নাবিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের আমরা ধরে রেখেছি।'
বিএসসির অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, Èযেখানে বাংলাদেশি একজন চিফ অফিসার মাসে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার বেতনে বিদেশি জাহাজে চাকরি করছেন, সেখানে আমরা পাকিস্তানিদের দিচ্ছি সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার ডলার। মিয়ানমারের নাবিকদের বেতন আরও কম।' মাসিক সর্বনম্নি বেতন হিসাব করা হলেও ২২ জন বিদেশি নাবিককে প্রতি মাসে বেতন দিতে হয় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এই টাকা নাবিকেরা নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেন। তঁাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি নাবিক নিয়োগ দেওয়া গেলে পুরো টাকাটাই দেশে থেকে যেত বলে সংশি্লষ্ট একজন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের অধীন চট্টগ্রামের শিপিং মাস্টার শেখ আলী আম্বিয়া বলেন, বাংলাদেশি নাবিকদের মধ্যে ক্রুরা বেকার থাকলেও অফিসারদের কেউ বেকার আছেন বলে মনে হয় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় পঁাচ হাজার নেৌ কর্মকর্তা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানিতে কাজ করছেন। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি নেৌ কর্মকর্তাদের সুনাম ও ভালো চাহিদা থাকায় তঁারা মোটা বেতনে বিদেশি কোম্পানিতে কাজ করতে বেশি আগ্রহী।'
সূত্রমতে, বাংলাদেশি অন্তত দুই হাজার ক্রু চাকরির অপেক্ষায় বেকার বসে আছেন বলে জানা যায়।

হঠাত্ আলোচনায় বটগাছ

Èস্বপ্নের মৃতু্য নেই'∏যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ১৯৮০ সালে এক ভাষণে কথাটি বলেছিলেন। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ১৯৭২ সালেও এ দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নের স্মারক হিসেবে রোপণ করেছিলেন একটি বটগাছের চারা। সেই চারাটি এখন ডালপালা ছড়িয়ে মহীরুহ হয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের বড় বটগাছটি তঁারই রোপণ করা। অন্তত এটাই প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কেনেডির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে কলাভবনের সামনে মঞ্চ তৈরি করা হয়। সেখানে তখন মানুষের ভিড়ে উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা শেষে কেনেডি এবং তঁার প্রথম স্ত্রী জোন কেনেডি কলাভবনের সামনে একটি বটগাছের চারা রোপণ করেন। এই খবর পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি অবজারভার ও দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান এ এইচ আহমেদ কামাল বলেন, Èএডওয়ার্ড কেনেডি তঁার আত্মজীবনী লিখছিলেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি উলে্লখ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমি গত বছর জানুয়ারি মাসে বটগাছটির ছবি তুলে তঁাকে পাঠিয়েছিলাম।'
অধ্যাপক কামাল বলেন, তিনি সেই ছবির একটি ক্যাপশন হিসেবে লিখেছেন, Èতুমি যে গাছটি লাগিয়েছিলে, সেটি অনেক বড় ও শক্তিশালী হয়েছে, কিন্তু এ দেশের গণতন্ত্র এখনো শক্তিশালী হয়নি।'
ইতিহাস বলে, স্বাধীনতাযুদ্ধের আগেও কলাভবনের সামনে একটি বটগাছ ছিল। সেটি রোপণ করা হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। এই বটতলায় ছাত্ররা সভা-সমাবেশ করতেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আন্দোলন যাতে আরও ব্যাপক না হয়, সেই চিন্তা থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই বটগাছটি কেটে ফেলে। এরই স্মারক হিসেবে স্বাধীনতার পর সিনেটর কেনেডি বিশ্ববিদ্যালয়ে এলে এখানে নতুন করে একটি বটগাছের চারা রোপণ করেন।
তবে বটগাছটি কার লাগানো, তা শনাক্তকারী কোনো চিহ্ন বা সাইনবোর্ড কোথাও নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, গাছটি কেনেডির লাগানো∏এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত। তাই কোনো চিহ্ন কোথাও দেওয়া হয়নি। তবে এখন একটি সাইনবোর্ড লাগানোর ব্যাপারে কতর্ৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে।
সেলিমের দাবি: বটগাছটি এখন যেখানে আছে, কেনেডি ঠিক সেখানে গাছটি রোপণ করেননি। ডাকসুর সাবেক ভিপি ও সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দাবি করেছেন, কলাভবনের সামনে কেনেডি একটি গাছ লাগিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটি ছিল বর্তমান গাছটি থেকে একটু দূরে ডান পাশে। বর্তমান গাছটি তিনি ও ডাকসুর কয়েকজন নেতা ১৯৭২ সালের শেষের দিকে রোপণ করেছিলেন। কোনো অনুষ্ঠান করে গাছটি রোপণ করা হয়নি। তঁারা কেনেডির রোপণ করা গাছটিকেই স্থানান্তর করেছেন কি না, সে সম্পর্কে সুনির্দষ্টি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
কেনেডির মৃতু্যতে শোক: ইউএনবি জানায়, মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির মৃতু্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শানি্ততে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। কেনেডির কন্যা কারা কেনেডি এলেনের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সিনেটর কেনেডি ছিলেন একজন মহান ও পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব এবং ন্যায়নীতির ক্ষেত্রে অতুলনীয়। তিনি বলেন, Èসিনেটর কেনেডির মৃতু্যতে আমি গভীরভাবে শোকাহত।' ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের সময় কেনেডির সঙ্গে তঁার প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, কেনেডির সঙ্গে দেখা করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ছিল তঁার অকুণ্ঠ সমর্থন।
বাসস জানায়, কেনেডির মৃতু্যতে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এডওয়ার্ড কেনেডির স্মরণে একটি শোকবই খুলেছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই শোকবই সবার জন্য খোলা থাকবে।

ডিসিসি চিঠি দেবে স্পিকারকে কার্যালয় স্থাপন করে সংসদীয় কমিটির তদন্ত নজিরবিহীন

ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন বলেছেন, সংসদীয় কমিটির চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নজিরবিহীন। এতে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) এবং জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে, যা গণতনে্ত্রর জন্য ভালো নয়। মেয়র এ ব্যাপারে অচিরেই স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার কথা উলে্লখ করে বলেন, Èএটি জনগণের প্রতিনিধি দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান। স্পিকার বিষয়টি গুরুত্ব দেবেন বলে আশা করি।'
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) দুর্নীতি-অনিয়ম তদনে্তর জন্য নগর ভবনে একটি কার্যালয় স্থাপন করার কথা জানিয়ে ডিসিসিকে চিঠি দেয়। মেয়র সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমে এ ধরনের নজির নেই উলে্লখ করে নগর ভবনে কার্যালয় স্থাপন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। এরপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাংসদ রহমত উল্লাহ ডিসিসির মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম তদনে্ত অসহযোগিতার অভিযোগ করেন।
স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাদেক হোসেন তঁার ও ডিসিসির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কার্যালয় স্থাপন করে ওই প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বা অনিয়ম তদন্ত করার কোনো নজির সংসদীয় কমিটির কার্যক্রমের ইতিহাসে নেই। মেয়র বলেন, Èএখানে অসহযোগিতার বিষয় নয়, আমরা বলছি নজির নেই। সংসদীয় কমিটি যদি নজির দেখাতে পারে, তাহলে অবশ্যই সেটি করা হবে।'
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মেয়রও দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন, কিন্তু সেখানকার কোনো কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত কমিটি হয় না। ঢাকার ব্যাপারে একের পর এক তদন্ত কমিটি হচ্ছে। এ কারণেই এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ডিসিসি হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত একটি বড় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গেও কাজ করতে হয়। তাই এভাবে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হলে ভবিষ্যতে যঁারা কাজ করবেন, তঁাদের জন্যও তা মঙ্গল বয়ে আনবে না।
মেয়র সংসদীয় কমিটির প্রধানের বক্তব্য উলে্লখ করে বলেন, Èসংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান তদনে্তর আগেই বলেছেন, মেয়র নিজে দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তদনে্তর আগে চেয়ারম্যানের এমন মন্তব্যে মনে হয়, এই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। এতে পক্ষপাতিত্ব হবে এবং সততা থাকবে না।'
এ ছাড়া মেয়র সরকারের অন্য যেকোনো সংস্থাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে ডিসিসির কোনো দূরত্ব সৃষ্টি হয়নি। ডিসিসি যে কাজ করে, তা পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। তাই যে বিষয়ে অনিয়ম বা দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে, তা চাইলেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সংসদীয় কমিটি নিতে পারে।

যানজট নিরসনে ভ্রাম্যমাণ আদালত গাড়ি রাখার জায়গা তালাবদ্ধ করে রাস্তায় গাড়ি পার্কিং, জরিমানা

রাজধানীর পান্থপথের হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল ও মেডালিয়ান ফার্নিচার দোকানের সামনের রাস্তায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বেশ কয়েকটি গাড়ি অবৈধভাবে পার্ক করে রাখা ছিল। কিছু গাড়ি একেবারে রাস্তার মোড়ে রাখা। ঠিকভাবে পারাপার হতে পারছিল না যানবাহন। ফলে সেখানে যানজট লেগেই থাকে।
ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেট জসিম উদ্দিন খঁোজ নিয়ে দেখেন, দুটি ভবনেই গাড়ি রাখার জায়গা আছে। কিন্তু তা তালাবদ্ধ করে রাখা। আদালত পার্কিংয়ের জায়গা তালাবদ্ধ করে রাখার দায়ে ওই দুটি ভবনের মালিককে তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে বেশ কিছু গাড়ির মালিককেও জরিমানা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আলোকে জানান, জরিমানা করার পর পুনরায় ওই ভবন দুটিতে গিয়ে দেখেন আবারও পার্কিংয়ের জায়গা তালাবদ্ধ। তবে এবার আর জরিমানা না করে ভবন মালিককে সুযোগ দিয়ে তালা খোলার ব্যবস্থা করেন।
জসিম উদ্দিন বলেন, তঁার সঙ্গে মাত্র চারজন পুলিশ দেওয়া হয়েছে। বেশি পুলিশ পেলে আরও বড় অভিযান চালানো যেত।
পান্থপথ এলাকায় গতকাল অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের দায়ে ২৫টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। জরিমানা আদায় হয় ১৫ হাজার ৩০০ টাকা।
রাজধানীতে যানজট কমিয়ে আনতে গতকাল নয়জন ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালায় ঢাকার জেলা প্রশাসন। গুলিস্তান, মতিঝিল, মগবাজার, পান্থপথ, নিউমার্কেট, শাহবাগ ও ফার্মগেট এলাকায় এসব অভিযান চলে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দুজন ম্যাজিস্ট্রেটও রাজধানীতে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে যানবাহনের চালক-মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় দুটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত মোটর যান আইনের ১৩৮, ১৩৯, ১৫২ ও ১৫৭ ধারায় যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো বন্ধে কাজ করছেন। এই ধারাগুলোতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রবিহীন গাড়ি চালানো, অবৈধ গাড়ি পার্কিং, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো ও গাড়ি থেকে কালো ধঁোয়া বের হলে কী শাসি্ত হবে তা উলে্লখ রয়েছে। তবে এসব ধারায় প্রথমবার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাসি্ত ১০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে।
মতিঝিল শাপলা চত্বরকে ঘিরে ওঠা বাস টার্মিনাল ও রিকশাস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে একটি আদালত যানবাহন মালিকদের নয় হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করেন। ওই সময় ফুটপাত থেকে হকারও উচ্ছেদ করা হয়। মালিবাগ-মেৌচাক-মগবাজার এলাকায় মামলা হয় ১০টি এবং জরিমানা আদায় করা হয় চার হাজার ২০০ টাকা।
পান্থপথের রতনস ডেন্টালের সামনে ঢাকা মেট্রো-১১-৬৩৩৯ নম্বরের একটি গাড়ি ফুটপাত দখল করে পার্কিং করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত গাড়ির মালিককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ক্রিকেট নির্বাচকদের জন্য নতুন শর্ত

আগামী ৩১ আগস্ট শেষ হয়ে যাচ্ছে রফিকুল আলমের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচক কমিটির মেয়াদ। পরবর্তী নির্বাচক কমিটিতে নতুন কেউ আসুক বা এই নির্বাচক কমিটিই থেকে যাক দায়িত্বে, সেটা কোনো ব্যাপার নয়; তাদের চাকরির শর্তাবলিতে আসছে পরিবর্তন। জাতীয় দল নির্বাচক কমিটির কাজের পরিধি ও পদ্ধতি বদলানোর সদ্ধিান্ত নিয়েছে বোর্ড।
বিসিবিতে এখন নির্বাচকদের নির্বাচক কমিটি নামেও একটা কমিটি আছে। কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন ব্যক্তিগত সফরে দেশের বাইরে থাকলেও অন্য চার সদস্য আমিনুল হক, দেওয়ান শফিউল আরেফিন, জালাল ইউনুস ও গাজী আশরাফ হোসেন কাল বিকেলে নির্বাচকদের চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন। সভা শেষে মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস বলেছেন, Èনির্বাচকদের কর্মপদ্ধতি ও পরিধি নতুন করে নির্ধারণ করবে বোর্ড। এই নির্বাচক কমিটি দায়িত্বে থাকুক কিংবা নতুন নির্বাচক কমিটি আসুক, তাদের নতুন এসব শর্ত মেনেই কাজ করতে হবে। চুক্তি করার আগে নির্বাচকদের এ ব্যাপারে ধারণা দেওয়া হবে।'
ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে নির্বাচক কমিটির সদস্যরা নিয়মিতই মাঠে যান। তঁাদের এ কাজে আরও শৃঙ্খলা আনতে নতুন চুক্তিতে প্রিমিয়ার লিগ, জাতীয় লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য ম্যাচে নির্বাচকদের পালা করে মাঠা থাকার বাধ্যবাধকতা দেবে নির্বাচকদের নির্বাচক কমিটি। প্রত্যেক নির্বাচককে এখন থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটের নির্দষ্টিসংখ্যক ম্যাচ মাঠে থেকে দেখতে হবে। এ ছাড়া বয়সভিত্তিক পর্যায়ের খেলোয়াড় বাছাইয়ে স্বচ্ছতা আনতে দুই জুনিয়র নির্বাচকের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচকদের কাজের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন জালাল ইউনুস।
নির্বাচকদের নির্বাচক কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন দেশে ফিরলে আরেকটি সভায় বসে এসব সদ্ধিান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন নির্বাচক কমিটির ব্যাপারেও সদ্ধিান্ত হবে তখন। Èআমরা এটা ঝুলিয়ে রাখব না। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের দল নতুন নির্বাচক কমিটিই করবে। আর যদি এই নির্বাচক কমিটিই থেকে যায় তাহলেও তাদের নতুন করে চুক্তিতে সই করতে হবে'∏

প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ জিতল আফগানিস্তান

দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতনে্ত্রর পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে আফগানিস্তান। তবে তার আগেই তাদের ক্রিকেট এগিয়ে গেল এক ধাপ। চার মাস আগে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি এবার ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচে প্রথম জয়ের দেখা পেল নেদারল্যান্ডসকে ১ উইকেটে হারিয়ে।
নেদারল্যান্ডসের আমস্টিলভিনে আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের চার দিনের ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক দল ১৮১ রানে অলআউট হয়েছিল। জবাবে প্রথম ইনিংসে ১০৭ রানেই ফুরিয়ে যায় আফগানিস্তান। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে নেদারল্যান্ডসকে ১৩২ রানে বঁেধে ফেলে লিডটাকে ২০৭ রানের বেশি করতে দেয়নি তারা।
পরশু ম্যাচের তৃতীয় দিনে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৬৮ রান। হাতে ছিল ৮ উইকেট। শেষ পর্যন্ত দারুণ নাটকীয়তায় মোড় নেওয়া ম্যাচটি জিতেছে তারা ৯ নম্বরে খেলতে নামা সলিমুল্লাহ শেনওয়ারির অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংসটিতে।

চার দিনের ম্যাচ কমবে কেন?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ খারাপ করলেই ঘরোয়া ক্রিকেট ঢেলে সাজানোর কথা ওঠে। তবে সেই ঢেলে সাজানোর নমুনা যদি হয় প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাচ কমিয়ে দেওয়া আর দেশের ক্রিকেটকে টি-টোয়েন্টির জোয়ারে ভাসানো, সেটা কতটা গঠনমূলক? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এমনই এক উদ্ভট সদ্ধিানে্তর প্রবল বিরোধিতা করে সাবেক ক্রিকেটাররা বলেছেন, কাঠমো পরিবর্তনের নামে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ম্যাচ কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মঙ্গল আনবে না দেশের ক্রিকেটে।
টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান গাজী আশরাফ হোসেন বলেছেন, জাতীয় লিগের কাঠামো পরিবর্তনের একটা কারণ আর্থিক সাশ্রয়। জিম্বাবুয়ে সফরে থাকায় বোর্ডের সর্বশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন না বলে কাল আর এর বেশি কিছু বলতে চাইলেন না তিনি। তবে টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান জোয়ার্দার জানিয়েছেন, লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতেই কাঠামোতে এই পরিবর্তন। তঁাদের মনে হয়েছে আগের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতি শেষ পর্যন্ত সব দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখত না। খারাপ পারফরম্যান্স করা দলগুলো মাঝপথেই সব উত্সাহ হারিয়ে ফেলত।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখার নতুন ফর্মুলায় ছয়টি দল প্রথমে লিগ পদ্ধতিতে সবার সঙ্গে খেলবে। এরপর শীর্ষ চারের মধ্যে আবার লিগ এবং সেই লিগের শীর্ষ দুই দলের মধ্যে হবে পঁাচ দিনের ফাইনাল। ওয়ানডেতেও একই পদ্ধতি। আসন্ন জাতীয় লিগের আরেকটি বিশেষত্ব∏এবার হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে খেলা হবে না। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুটি ও ফতুল্লা স্টেডিয়ামে একটি ম্যাচ হবে। বাকি ম্যাচগুলো খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া ও চট্টগ্রামে। চার দিন আর এক দিনের ম্যাচের সঙ্গে Èযুগের দাবি' মেটাতে জাতীয় লিগের এবারের সংস্করণে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও যোগ করা হয়েছে।
চার দিনের ম্যাচের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ এসেছিল ক্রিকেটার কল্যাণ সমিতি (কোয়াব) থেকে। কিন্তু কোয়াব সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালের দাবি, তঁাদের কথাকে আমল দেয়নি বোর্ড, Èআমরা বোর্ডকে বলেছি যদি তঁারা ঘরোয়া পর্যায়ে আরেকটি দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট লিগ আয়োজন করতে পারেন, তাহলে জাতীয় লিগে ম্যাচ কমানোর সদ্ধিান্ত মানা যায়। কিন্তু সেটা না করেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের খেলা কমিয়ে দেওয়া কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। জবাবে বোর্ড থেকে আমাদের তঁাদের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।'
আগের পদ্ধতিতে পুরো লিগে মোট ৩০টি চার দিনের ম্যাচ হলেও এবার সেটা কমে ২২টিতে দঁাড়াচ্ছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান ম্যাচ কমানোর এ সদ্ধিান্ত মানতে পারছেন না, Èঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ কমানোর কী উদ্দেশ্য সেটা বুঝতে পারলাম না। এটা কি স্থায়ীভাবে হলো, না শুধু এবারের জন্য? আমি মনে করি বেশি ম্যাচ খেলার কোনো বিকল্প নেই।' আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এবার এমনিতেও অনেক ম্যাচ মিস করবেন। এর সঙ্গে চার দিনের ম্যাচের সংখ্যায় কাটছঁাট হলে তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হবে বলে মনে করেন রকিবুল। তঁার বিকল্প পরামর্শ, Èদেশের সেরা খেলোয়াড়দের যত বেশি সম্ভব ম্যাচ খেলতে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ততা থাকলে প্রয়োজনে তিন মাস ধরে খেলা হবে, তবু ম্যাচ কমানো যাবে না।'
জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ আশাবাদী, জাতীয় লিগের নতুন ফরম্যাট থেকে হয়তো ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে। কিন্তু ম্যাচ কমানোর সদ্ধিান্ত মানতে পারছেন না তিনিও, Èযেকোনো ফরম্যাটেরই ভালো-খারাপ দিক থাকতে পারে। নতুন ফরম্যাটটাও নিশ্চয়ই ভালো কিছু ভেবেই করা হয়েছে। কিন্তু এর সবচেয়ে খারাপ দিক হলো এতে ম্যাচ কমে যাচ্ছে। ফরম্যাট যাই হোক, ম্যাচ কমিয়ে দেওয়াটা কোনোভাবেই মানা যায় না। নতুন ফরম্যাট আসতে পারে। কিন্তু তাতে হয় ম্যাচ বাড়বে, নয়তো আগেরটাই ঠিক থাকবে। কমার তো প্রশ্নই ওঠে না।'
আইসিএল থেকে ফিরে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অপেক্ষায় থাকা হাবিবুল বাশারের কাছেও মনে হচ্ছে জাতীয় লিগে চার দিনের ম্যাচ কমানোর সদ্ধিান্তটা ভুল, Èদীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেই আমাদের বেশি সমস্যা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিনোদনের ক্রিকেট হতে পারে, কিন্তু সেটা খেলে খেলার মান বাড়বে না। টেস্ট মেৌলিক ক্রিকেট। টেস্ট বা দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে আপনি যদি ভালো খেলতে পারেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতেও ভালো করবেন।'
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ আর চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি লিগ মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আছে দুটি। এর সঙ্গে আরও একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলানোর কী কারণ, রকিবুল-ফারুকরা বুঝতে পারছেন না সেটাও। Èটি-টোয়েন্টি ক্রিকেট সময়ের দাবি হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনটা ২০ ওভারের টুর্নামেন্ট বেশি হয়ে যাচ্ছে। এর চেয়ে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেই আমাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত'∏বলেছেন ফারুক। আর রকিবুল হাসানের মত, Èটি-টোয়েন্টি টেকনিক্যালি গ্রহণযোগ্য নয়। এটা বেশি খেললে ক্ষতি। বলতে পারেন টি-টোয়েন্টির তো বিশ্বকাপও হয়। হঁ্যা, তা হয়, তবে সেটা আমাদের আলাদাভাবেই খেলতে হবে।'

বিপদে পড়ে গেছে নিউজিল্যান্ড

ম্যাড়মেড়ে প্রথম দিনের পর কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন ছিল অনেক প্রাণবন্ত। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হয়েছে বেশ কয়েকবার। তবে শেষ পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি নিউজিল্যান্ডের ভাগ্যের। শ্রীলঙ্কাকে ৪১৬ রানে থামিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দ্বিতীয় দিন শেষেই পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে তাদের। ফলোঅন এড়াতে এখনো প্রয়োজন ৫৮ রান, হাতে আছে ৫ উইকেট।
তিলকারত্নে দিলশানকে দিয়ে বোলিংয়ের সূচনা করে চমক দেখিয়েছিলেন সাঙ্গাকারা। তবে চমক সীমাবদ্ধ ছিল মাত্র এক ওভারেই। দিলশানের জায়গায় বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই টিম ম্যাকিন্টসকে এলবিডব্লু করে দেন আট মাস পর টেস্ট খেলতে নামা ধাম্মিকা প্রসাদ। গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন শ্রীলঙ্কার অন্যতম দ্রুততম পেসার। গত কিছুদিনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন থিলান তুষারা। দুর্দান্ত এক আউট সুইঙ্গারে ড্যানিয়েল ফ্লিনকে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানানোর পর দারুণ খেলতে থাকা মার্টিন গাপটিলকে স্কয়ার লেগে ক্যাচ বানিয়েছেন বাউন্সারে। কিউইদের সেরা দুই তরুণ ব্যাটসম্যান রস টেলর ও জেসি রাইডার এর পর খেলছিলেন আস্থা নিয়েই। দুই মারমুখী ব্যাটসম্যান পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন অনেক সতর্কতার সঙ্গে। তঁাদের ৮৫ রানের জুটিটি ভেঙেছে রাইডারের দৃষ্টিকটু আউটে। রঙ্গনা হেরাথের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের একটি বলে সিলি মিডঅনে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয়েছে এই বঁাহাতির ৭৩ বলের ইনিংস। নাইটওয়াচম্যান জিতান প্যাটেলের আউট নিউজিল্যান্ডকে ঠেলে দেয় আরও বিপদে। কিউইদের আশা হয়ে উইকেটে ছিলেন রস টেলর (৭০)।
এর আগে শ্রীলঙ্কার ইনিংস ৪০০ পেরিয়েছে থিলান সামারাবীরার সেৌজন্যে। ক্যারিয়ারের ১১তম ও এই বছরে চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি পেয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ব্যাটসম্যান। সে সঙ্গে চলতি বছর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে পেরিয়েছেন এক হাজার রানের মাইলফলক। ১০৫৮ রান নিয়ে তিনি আছেন কেবল ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের পেছনে (১০৭১)। সামারাবীরা পারলেও অল্পের জন্য একটি মাইলফলক মিস করেছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। আর মাত্র ৮টি রান করতে পারলেই এক মাঠে ১০ সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যান হতেন তিনি। তবে এক মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটিকে নিয়ে গেছেন আরও ধরাছঁোয়ার বাইরে, এই মাঠে ২২ টেস্টে তঁার রান এখন ২৩৭১। জয়াবর্ধনের সঙ্গে ১৮০ রানের জুটির পর কাপুগেদারার সঙ্গে ৭২ রানের জুটি হয় সামারাবীরার। তবে ২৭ রানের ব্যবধানে শেষ ৫ উইকেট হারালে শ্রীলঙ্কা থেমে যায় ৪১৬ রানেই। ৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৪ উইকেট নিয়েছেন জিতান প্যাটেল।