Friday, December 19, 2014

‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৩,০০০ সন্ত্রাসীকে ফাঁসিতে ঝোলান’

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ গত বুধবার এক টুইট-বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে সব সন্ত্রাসীদের ফাঁসিতে ঝোলানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ওই বার্তায় তিনি লিখেছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৩ হাজারের বেশি সন্ত্রাসীকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত। এদিকে সেনাপ্রধানের এ টুইট-বার্তার একদিন পর গতকাল লস্কর-ই-তৈয়্যবার কমান্ডার জাকির-উর রহমান লাখভি জামিনে মুক্তি পান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। পেশোয়ারে সেনা পরিচালিত স্কুলে হামলার ঘটনায় ১৩২ স্কুলশিশুসহ ১৪৫ জন নিহতের ঘটনায় শোকাহত ও ক্ষুব্ধ রাহিল শরীফ টুইটারে দেয়া ঘোষণায় বলেন, যথেষ্ট হয়েছে। যারা সন্ত্রাসীদের পক্ষে কথা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এখন কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। অপর এক টুইট-বার্তায় জেনারেল রাহিল শরীফ তেহরিক-ই-তালেবানের সদস্যদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লিখেছেন, টিটিপি’কে বার্তা। তোমরা আমাদের সন্তানকে হত্যা করেছো। এখন তোমরা এর মারাত্মক পরিণতি দেখবে এবং মূল্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকো। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রয়াত ছোট্ট ফেরেশতার মতো শিশুদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটার প্রতিশোধ নেবে। এটা আমার প্রতিজ্ঞা। তালেবানের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাহিল শরীফ। তার নেতৃত্বেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী এবং তাদের পূর্বেকার নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে।

বোকো হারামের হামলায় নিহত ৩২, অপহৃত ১৮৫

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো প্রদেশের গুমসুরি শহরতলি থেকে কট্টরপন্থী সংগঠন বোকো হারামের সদস্যরা শিশু ও নারীসহ ৩২ জনকে হত্যা ও কমপক্ষে ১৮৫ জনকে অপহরণ করেছে। তবে ১৯১ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে কয়েকটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। গত রোববার বোকো হারামের সশস্ত্র সদস্যরা গুমসুরি শহরতলিতে এ হামলা চালায়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। একটি গাড়িবহরে বোকো হারামের বন্দুকধারীরা শহরতলিতে প্রবেশ করে ও বাড়িঘরের ভেতর পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে। শহরতলির অধিকাংশ স্থানই ধ্বসংস্তূপে পরিণত হয়েছে। এদিকে গুমসুরিতে হামলা ও গণঅপহরণের দায় এখন পর্যন্ত স্বীকার করেনি বোকো হারাম। আক্রান্ত অঞ্চলে নিরস্ত্র, বেসামরিক মানুষকে নিরাপত্তা দিতে দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন দেশটির সামরিক বাহিনী। গত রোববারের এ হামলার পর সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত বুধবার বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশটির এক সামরিক আদালত ৫৪ সেনাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। এদিকে এ ঘটনা গত এপ্রিলে চিবোক এলাকা থেকে ২ শতাধিক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন। চিবোকে স্কুলছাত্রী অপহরণের পর প্রেসিডেন্টের সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের প্রতিজ্ঞা সত্ত্বেও সহিংসতা থামেনি। বরং, তা আরও বেড়েছে। এ বছর বেশ কয়েকটি অপহরণের ঘটনা ঘটিয়েছে কট্টরপন্থী সংগঠনটি। নাইজেরিয়ার বিভিন্ন স্থানে বোকো হারামের হামলায় গত ৫ বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩,০০০ মানুষ এবং দেড় লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তালেবানবিরোধী অভিযান অনৈসলামিক: লাল মসজিদের খতিব

পাকিস্তানের তালেবানের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানকে ‘অনৈসলামিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামাবাদের বহুল আলোচিত লাল মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আজিজ। তিনি বলেছেন, তালেবানের ওপর বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতেই পেশোয়ারে স্কুলে ১৩৩ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দাবি করেছে, উপজাতি অধ্যুষিত উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে তাদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে চলমান সেনা অভিযানের প্রতিশোধ নিতে এ হামলা চালানো হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে লাল মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান করেন আবদুল আজিজ। সেখানে তিনি বলেন, তিনি পেশোয়ারের ওই স্কুলে যারা হতাহত হয়েছে তাদের পরিবারের প্রতি ‘সমবেদনা’ প্রকাশ করেন। তবে, তিনি মনে করেন তালেবানের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় রাখতে হবে।
আবদুল আজিজ বলেন, ‘ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা যদি এমন ধরনের কাজ করেন তাহলে এর ফল পেতেই হবে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে এই অভিযান অনৈসলামিক। আপনি হয়তো এর সঙ্গে একমত হবেন না। হয়তো ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আলেমদের ডেকে আনবেন। কিন্তু এই অভিযান যে অনৈসলামিক, তা আমি তাঁদের প্রমাণ করে দেব।’ গত জুন থেকে উত্তর ওয়াজিরিস্তান এবং খাইবার অঞ্চলে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় টিটিপির ঘাঁটি ও অন্য জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে ১৭ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। পেশোয়ার হামলার পরপরই সেনাবাহিনী তালেবান উৎখাতে তাদের তৎপরতা দ্বিগুণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। কিন্তু আজিজ সেনাবাহিনীর এই অভিযানের নিন্দা জানান।
২০০৭ সালে ইসলামাবাদের লাল মসজিদে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এক অভিযান চালায় তৎকালীন পারভেজ মোশাররফ সরকার। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়। ওই অভিযানে আবদুল আজিজের ভাই আবদুল রশিদ গাজী নিহত হন। আবদুল আজিজ বোরকা পরে পালানোর সময় সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান। ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে তিনি মুক্তি পান।

পোর্ট্রেট by ধ্রুব এষ

কারওয়ান বাজারের দিকে গিয়েছিল মামুন। বিশেষ দরকারে। সবজির আড়তের একখানে দেখল জনসভা টাইপ ভিড় জমে আছে। ঘটনা কী? মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়েছে নাকি খুনখারাবির মতো কিছু ঘটেছে? বিচিত্র কিছু না। এলাকা ভয়ংকর। আরও ভয়ংকর কিছু ঘটাও সম্ভব। কথা হলো, ভিড় টানে মানুষকে। মামুন ভিড়ের অন্তর্গত হলো এবং বিচিত্র দৃশ্য দেখল। ছবি আঁকছেন একজন আর্টিস্ট। পোর্টে৶ট। সম্ভবত মধ্যবয়স্ক ডাবঅলা লোকটার। বিক্রিবাট্টা রেখে তার ডাবের গাড়ির সামনে দণ্ডবৎ হয়ে আছে লোকটা। ভিড় করে তা-ই দেখছে মানুষজন। বিস্ময়ের সঙ্গে দেখছে। দেখতে দেখতে এটা-ওটা মন্তব্যও করছে।
‘চউখ দুইটা পুরা মিলছে!’
‘নাকও মিলছে! যত্খ্যান চ্যাপটা তত্খ্যানই হইছে।’
‘ও মিয়া, হাসো না এটটু। হাসিমুখের ছবি না সোন্দর?’
‘হাসব কি, হের তো দাঁত নাই দুইটা।’
সমবেত হা! হা! হো! হো! হি! হি!
এমন অবস্থার মধ্যে ছবি আঁকা কঠিন। তবে এই আর্টিস্ট সাহেব মনে হয় অভ্যস্ত। এত ক্যাওসে তার কোনো রকম সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। নিবিষ্ট মনে আঁকছেন।
ছবি তুলছে অনেকে মুঠোফোনের ক্যামেরায়। মামুনের ফোনসেটটা সস্তা। ক্যামেরা, ইন্টারনেটের কায়কারবার নেই। থাকলে সেও কি ছবি তুলত?
হাঁচি দিল মডেল। ডাবঅলা।
‘আরে! আরে! আরে! হাঁচি দেয় ক্যান? হাঁচি বন্ধ।’
হা। হা! হা!
হো! হো! হো!
মডেলও বিব্রত হয়ে হাসল।
মামুন এতক্ষণে তার সাবজেক্টের একটু কাছাকাছি হতে পারল। আর্টিস্ট সাহেবের। ব্রাউন পেপারে বাঁধাই ড্রয়িং খাতা, চাংহুয়া সিক্স-বি লেখা নীল উড পেনসিল, কাঁধে ঝোলা, সবুজ পাঞ্জাবি, খাকি রঙের প্যান্ট, চোখে চশমা। বয়স কত হবে আর্টিস্ট সাহেবের? পঞ্চাশ, বায়ান্ন? বিখ্যাত কোনো আর্টিস্ট? দিশু বলতে পারত এখন এখানে থাকলে। দুনিয়ার সব কবি, আর্টিস্ট, নাটকের লোকজন দিশুর বন্ধু। দিশু ক্রিটিক। বই এবং শিল্প সমালোচনা লেখে। কবিতা, পেইন্টিং, নাটক, সিনেমার।
আর্টিস্ট সাহেবের কাজ প্রায় শেষ। মন্তব্য চলছে।
‘পুর্রা মিলছে!’
‘হানড্রেড পারসেন্ট!’
জনগণের বিবেচনা আছে। যা বলছে ঠিক। পোর্টে৶ট হানড্রেড পারসেন্ট মিলেছে। মামুনও দেখল। জলজিয়ন্ত মনে হচ্ছে একদম।
আঁকা শেষ। আর্টিস্ট সাহেব খাতা-পেনসিল ঝোলায় রেখে উঠে দাঁড়ালেন। চশমা খুলে পাঞ্জাবির হাতায় চশমার কাচ মুছলেন। মাঝারি হাইটের মানুষটা। বিমর্ষ চেহারা। বিমর্ষ চোখে একবার জমায়েত দেখে মাথা নিচু করে হাঁটা ধরলেন। জমায়েতও ফাঁকা হয়ে গেল লহমায়। দেড়-দুই মিনিটের মাথায় মামুন খেয়াল করল, সে ফলো করছে আর্টিস্ট সাহেবকে। কেন?
আর্টিস্ট সাহেব ফিলিপস বিল্ডিংয়ের দিকে হাঁটছেন। বিমর্ষ, নিমগ্ন। এবং দ্রুত।
মামুন লম্বা। বকের ঠ্যাঙে হেঁটেও পারল না। মেইন রোডে পৌঁছে আর্টিস্ট সাহেব একটা বাসে উঠে পড়লেন। মাত্র সিগন্যাল ছেড়েছে। মামুনের নাকের ডগা দিয়ে আর্টিস্ট সাহেবকে নিয়ে চলে গেল ‘নিরিবিলি’। বাসের নাম ‘নিরিবিলি’! বাসের নাম ‘ইলিশ’ও আছে। চিন্তা করা যায়! বায়ান্ন সিটের ‘ইলিশ’।
ডাবঅলা লোকটার নাম জলফু। জলফু মাতবর। বয়স ছেচল্লিশ। চার দিন পর জানতে পারল মামুন। নিউজস্ট্যান্ডে আটকানো পত্রিকায় দেখে। ছবি দিয়ে নিউজ করেছে, কারওয়ান বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খুন। চেনা একজন মানুষ খুন হয়ে গেছে, এ রকম মনে হলো মামুনের। আর্টিস্ট সাহেবের কথা মনে পড়ল। আর্টিস্ট সাহেব কি নিউজটা দেখেছেন?
মাস তিনেক পর হবে, মামুন আবার আর্টিস্ট সাহেবকে দেখল। বাস থেকে। মগবাজারে জ্যামে আটকে ছিল বাস। ফুটপাতে কিছু মানুষের জটলা। জানালার পাশে সিট বলে মামুন জটলার কারণও দেখল। সেই পাঞ্জাবি, সেই খাকি প্যান্ট, সেই ঝোলা। আর্টিস্ট সাহেব ফুটপাতে বসে এক পানবিড়িঅলার পোর্টে৶ট আঁকছেন। সেই নীল উড পেনসিল এবং সেই ব্রাউন পেপারে বাঁধাই খাতায়। বাস থেকে নেমে পড়ল মামুন। কথা বলবে আর্টিস্ট সাহেবের সঙ্গে।
কথা হলো জলজিয়ন্ত পানবিড়িঅলার মুখ আঁকা হওয়ার পর।
‘ভাই সাহেব?’
‘জি?’
‘আমি মামুন। আমি আগে একদিন আপনাকে দেখেছি। কারওয়ান বাজারে। আপনি এক ডাবঅলার একটা অসাধারণ পোর্টে৶ট করেছিলেন।’
‘অ।’
‘সেই ডাবঅলা খুন হয়ে গেছে, জানেন?’
‘অ।’
‘পত্রিকায় নিউজ হয়েছিল।’
‘অ, আমি পত্রিকা পড়ি না।’
মামুনকে আর সুযোগ দিলেন না বিমর্ষ আর্টিস্ট সাহেব। চশমা খুলে পাঞ্জাবির হাতায় চশমার কাচ মুছে রোড ক্রস করে চলে গেলেন। ডিভাইডারে দাঁড়িয়ে একবার ফিরে তাকালেন অপ্রত্যাশিতভাবে। মামুনকে দেখলেন?
দিশুর কবি-বন্ধু শিহাব নূর কড়া জর্দা দিয়ে পান খায়। তার সঙ্গে দেখা হতে পারে সন্ধ্যায়। পানবিড়িঅলার কাছ থেকে শিহাব নূরের জন্য দুই খিলি পান নিল মামুন। এটা-সেটা কিছু কথাও বলল। পানবিড়ির বাক্সে লেখা আছে, ‘সমেজ বেপারির মাতৃ পানভান্ডার’। মামুন বলল, ‘বেপারি ভাই?’
‘কিতা? বলেন?’
‘দ্যাশ কোথায় আপনার?’
‘ওই তো, কটার কোনো।’
‘কটার কোনো!’
‘জি অয়। থানা, মনু। জিলা কুলাউড়া।’
কটার কোনোর সমেজ বেপারি খুন হলো এর ১৩ দিন পর। তার বউটার আহাজারিসহ নিউজ ছাপা হলো পত্রিকায়। রোজ এ রকম কত খুন হচ্ছে। এই ঘটনা নিয়ে কোনো কথা হলো না, তবে আজিজ মার্কেটের সিঁড়িতে বসে মামুন আর্টিস্ট সাহেবের বর্ণনা দিল দিশুকে। সমেজ বেপারি হত্যাকাণ্ডের পরদিন সন্ধ্যায়। দিশু বলল, ‘পোর্টে৶ট আঁকে? মাসুক ভাই?’
‘মাসুক ভাই কে? মাসুক হেলাল? না। মাসুক হেলালকে আমি দেখেছি।’
তাহলে কে?
দিশু কিছু দিশা দিতে পারল না। মাসুক হেলাল ছাড়া এ রকম আর কাউকে চেনে না সে।
বিনা পয়সায় দিশু একটা উপদেশ খয়রাত করল মামুনকে, ‘মোবাইলে ক্যামেরা থাকা এ জন্য ভালো। ছবি তুলে রাখতে পারতি।’
‘ক্যামেরাঅলা মোবাইল কি তোর বাপ কিনে দেবে?’
পত্রিকায় খুনের নিউজ ছাপা হয় না এমন একটা দিনও কি যায়? আরও অনেক খুনের নিউজ পড়ল মামুন। স্কুলছাত্রী, কবি, ছাত্রনেতা, দরজি, মহল্লার মাস্তান, কত রকম মানুষ খুন হয় প্রতিদিন। গত সাত মাসেই দুই হাজার ছয় শ উনসত্তর জন মানুষ খুন হয়েছে দেশে। প্রতিদিন গড়ে তেরো জন করে। সিনসিটি হয়ে যাচ্ছে দেশ।
ভুলে গিয়েছিল কিংবা সেই আর্টিস্ট সাহেবকে আর দেখবে বলে ভাবেনি মামুন। দেখল। বছর খানেক পর। জারুল ফুল ফুটেছে পার্কে। সেই ফুল বা আর কিছু দেখতে পার্কে ঢুকেছিল সে। সেখানে আর্টিস্ট সাহেবকে দেখল। একটা জারুলগাছের নিচে বসে এক চা-উলি মেয়ের পোর্টে৶ট করছেন।
গোটা দশেক মানুষ অত্যন্ত কৌতূহল নিয়ে ব্যাপারটা দেখছে।
আর্টিস্ট সাহেবের কি পাঞ্জাবি একটাই? প্যান্ট একটাই? সেই একই রকম আছেন দেখতেও। বিমর্ষ। আঁকা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন। চশমা খুলে পাঞ্জাবির হাতায় চশমার কাচ মুছলেন। মানুষজন হাঁটা দিল যে যার ফিকিরে। চা-উলি মেয়েটা বলল, ‘চা দিমু, মামা? রং চা?’
‘চা খাবেন?’
মামুন আর্টিস্ট সাহেবকে বলল।
প্রস্তাব নাকচ হলো, ‘না।’
‘এক কাপ দে...আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন?’
‘হ্যাঁ, আপনি মামুন সাহেব।’
‘ধন্যবাদ। আপনি কি জানেন মগবাজারের সমেজ বেপারি খুন হয়ে গেছে?’
‘সমেজ বেপারি? কে?’
‘মগবাজারের পানবিড়িঅলা। কারওয়ান বাজারের ডাবঅলার মতো এরও একটা পোর্টে৶ট করেছিলেন আপনি। বছর খানেক আগে।’
‘অ। কত মানুষ রোজ খুন হয়ে যায়।’
‘আপনি কে?’
‘মানে?’
‘মানে, কিছু মনে করবেন না। আর্টিস্টদের আমি খুব একটা চিনি-টিনি না। এ জন্য আপনাকে চিনতে পারছি না।’
‘আমি তেমন বিখ্যাত কেউ না।’
‘এত অদ্ভুত পোর্টে৶ট করেন আপনি। আপনার ফোন নম্বরটা কি...?’
‘না। স্যরি। অর্ডার দেবেন? অর্ডারের কাজ আমি করি না।’
‘অর্ডার না, মানে...।’
স্যরি।’
‘অ। আমার কার্ডটা কি রাখবেন কাইন্ডলি?’
‘কেন?’
কেন, কিছু বলল না মামুন। কার্ড বের করল হিপপকেট থেকে।
দিশু প্রিন্ট করিয়ে দিয়েছে কার্ডটা। মাগনা। সেল নম্বর আর মামুনের নাম লেখা শুধু।
আর্টিস্ট সাহেব দয়া করে কার্ডটা নিয়ে বললেন, ‘ঠিক আছে, দেখা হবে।’ বলে মাথা নিচু করে হাঁটা দিলেন। মামুন বলল, ‘শোনেন।’
চা-উলি মেয়েটা বলল, ‘চা নেন, মামা।’
‘ও, হ্যাঁ।’
চা নিল মামুন। চায়ে এক চুমুক দিয়ে তাকিয়ে আর আর্টিস্ট সাহেবকে দেখল না। কোন দিকে চলে গেলেন মানুষটা?
‘চায়ে চিনি ঠিক আছে, মামা?’
হেসে ফেলল মামুন। রেডিমেড চা, তার আবার চিনি কম-বেশি।
‘হাসেন ক্যান, মামা?’
‘এমনি হাসি। তোর নাম কিরে?’
‘নিলুফার।’
নিলুফারের বয়স তেরো-চৌদ্দ হবে। পরীবাগ বস্তিতে থাকে। বাপ পঙ্গু। মা চলে গেছে আরেক বিয়ে করে। নিলুফার কখনো বিয়ে করবে না। সারা জীবন দেখে রাখবে পঙ্গু বাপকে। বলল। কিন্তু তা হলো না আর। কিছুদিন পর তাদের বস্তির ঘরেই নির্মম, নৃশংসভাবে খুন হলো নিলুফার। ঘটনার সময় তার বাপ ঘরে ছিল না। পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিল। রাত আটটায় বস্তিতে ফিরে দেখে গলা কাটা লাশ হয়ে গেছে মেয়ে। নিউজস্ট্যান্ডের পত্রিকায় মামুন নিলুফারের ছবি দেখল এবং বক্স নিউজটা পড়ল।
এই শীতকালের এক রাতে। ঘুম ধরে গেছে, ঘুমিয়ে পড়বে, এই সময় ফোন বাজল মামুনের। আননোন নাম্বার। মামুন ধরল, ‘হ্যালো?’
‘মামুন সাহেব?’
‘বলছি। আপনি কে বলছেন, প্লিজ?’
‘আমি...।’ কী বলল বোঝা গেল না। নেটওয়ার্কে সমস্যা। মামুন পরের কথাটুকু শুনল, ‘আপনি কি কাল বাসায় থাকবেন? দুপুরের পর, বিকেলের দিকে?’
‘থাকব।’
‘দেখা হচ্ছে তাহলে।’
পরদিন বাসায় থাকতে পারল না মামুন। শীতকালের টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে সুনামগঞ্জ চলে গেল দিশুদের সঙ্গে। আট দিন পর ব্যাপক কুয়াশা, হাওর, পাখির উড়াল আর জোছনা মাথায় নিয়ে ফিরল।
রাতে জার্নি করে ফিরেছে। ফিরে আর ঘুম ধরেনি সকালে। ধরল দুপুরে। কতক্ষণ ঘুমাল? এক-দেড় ঘণ্টা? আরও ঘুমাত। ঘুম ভাঙল দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দে। উঠে বিরক্ত হয়ে দরজা খুলল মামুন। বিস্ময়ে বিরক্তি থাকল না। আর্টিস্ট সাহেব! সেই খাকি প্যান্ট, সবুজ পাঞ্জাবি ইত্যাদি।
আর্টিস্ট সাহেব বললেন, ‘মামুন সাহেব?’
‘জি! জি, জি!’
‘নয় দিন আগে আমি আপনাকে ফোন করেছিলাম। রাতে। পরদিন আমার আসার কথা ছিল। এসেছিলাম।’
ইনিই তবে...? মামুন বিব্রত হয়ে বলল, ‘স্যরি। আমি হঠাৎ বাইরে চলে গিয়েছিলাম। আপনি ভেতরে এসে বসুন, প্লিজ।’
‘ধন্যবাদ।’
সোফা-চেয়ার নেই মামুনের ঘরে। ফ্লোরমেটে বসার ব্যবস্থা।
ঝোলা রেখে বসে আর্টিস্ট সাহেব বললেন, ‘জানতাম না তো। এই কয়দিন ধরে রোজ এই সময় একবার করে আপনার খোঁজ নিয়ে গেছি। দু-এক দিন দুই-তিনবারও।’
‘স্যরি। আমি স্যরি। আপনি একটা ফোন করলে পারতেন।’
‘তা পারতাম। কিন্তু বয়স হয়ে গেছে। আপনাকে ফোন করার পরদিনই ফোন থেকে সব নম্বর ডিলিট করে ফেলেছি। ভুল করে। কী যে মুশকিলে পড়েছি! খুব চেনা কেউ কল করলেও প্রথমে ধরতে পারি না। দুই-চার কথা বলার পর ধরতে পারি কে। আপনার কার্ডটাও কোথায় যে রেখেছি। কিছুতে পেলাম না।’
ক্লান্ত মনে হলো আর্টিস্ট সাহেবকে। এত কথা বলে ক্লান্ত। মামুন বলল, ‘স্যরি। আরেকটা কার্ড আমি আপনাকে দিচ্ছি।’
‘তার আর দরকার হবে না।’
‘জি?’
‘ফোন টাওয়ারের রেডিয়েশনে অনেক পাখি মরে যাচ্ছে, জানেন?’
কী কথা থেকে কী কথা!
মামুন বলল, ‘অ। কফি খাবেন?’
‘চিনি ছাড়া।’
মামুন কফি বানাতে উঠল।
আর্টিস্ট সাহেব ঝিম মেরে থাকলেন।
ধোঁয়া ওড়া কফি সহযোগে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হলো আবার। আর্টিস্ট সাহেব ঝোলা থেকে তাঁর ড্রয়িং খাতাটা বের করলেন। কফি তাঁকে চাঙা করতে পারেনি। বিমর্ষ থাকলেন। ক্লান্ত গলায় বললেন, ‘এই খাতায় সাতচল্লিশজন মানুষের পোর্টে৶ট আছে।’
‘এরা সবাই খুন হয়ে গেছে?’ মামুন বলল।
আর্টিস্ট সাহেব বললেন, ‘জি।’
মামুন বলল, ‘কেন?’
‘আপনি জানেন। আর একটা পোর্টে৶ট আমি আঁকব। তাহলে এই খাতা শেষ হয়ে যাবে।’
‘এ রকম আরও খাতা আছে আপনার?’
‘জি।’
‘এই খাতার শেষ পোর্টে৶টটা কি আমার হতে যাচ্ছে?’
‘জি।’
‘আমি খুন হয়ে যাব?’
‘আপনি জানেন।’
‘জানি। কিন্তু এই ঘটনা কী করে ঘটে?’
‘বলতে পারব না। হঠাৎ এটা আমি আবিষ্কার করি। আট-নয়টা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর। ধরতে পারি আমি কোনো মানুষের পোর্টে৶ট আঁকলেই মরে যায় সেই মানুষটা। অপঘাতে মরে, খুন হয়ে যায়।’
‘বিরত হলেন না কেন?’
‘বিরত হব? বিরত হব কেন? কী আশ্চর্য! এটা কি বিশেষ একটা ক্ষমতা না? এই ক্ষমতা পৃথিবীর আর কোনো মানুষের আছে?’
‘কিন্তু এটা অনিষ্টকর। আপনার অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে কিছু মানুষ খুন হয়ে যাচ্ছে! আপনি দায় এড়াতে পারবেন না।’
‘দায় কিসের? খুনের? আমি কি একটা খুনও করেছি? প্রমাণ করা যাবে?’
‘না, প্রমাণ করা যাবে না।’
‘তাহলে?... আপনি এটা কী করে ধরলেন? আর কেউ না, একমাত্র আপনি।’
‘এ জন্য আপনি আমার পোর্টে৶টটা করতে চান?’
‘জি।’
‘আপনি আসলে কে?’
বিমর্ষ মানুষটা এই প্রথম অল্প হাসলেন, ‘আমি? বলতে পারেন, এনজেল অব ডেথ।’
‘অ।’
‘আমি কি এখন আপনার পোর্টে৶টটা ধরব?’
মামুন বলল, ‘ধরেন।’
ব্রাউন পেপারের মলাট। আর্টিস্ট সাহেব ড্রয়িং খাতাটা খুললেন। ঝোলা থেকে পেনসিল, ইরেজার নিলেন। শেষ পাতায় আঁকবেন মামুনের পোর্টে৶টটা। চশমা খুলে চোখ হাফসাইট করে একবার দেখলেন মামুনকে।
মামুন বলল, ‘আমি কীভাবে মরব?’
‘খুন। কেন?’
‘আপনি নিশ্চিত আর কিছু ঘটবে না?’
‘নিশ্চিত। প্লিজ!’
আর্টিস্ট সাহেব কতক্ষণ ধরে মামুনের পোর্টে৶টটা আঁকলেন? আধঘণ্টা? পৌনে এক ঘণ্টা? বিকেল ফুরিয়ে গেল এর মধ্যে। সন্ধ্যার রং ধরল আকাশে। মামুন এখন আর্টিস্ট সাহেবের খাতায়। জলজিয়ন্ত।
মামুন বলল, ‘শেষ?’
‘হুঁ।’
‘কফি?’
‘কষ্ট করবেন?’
‘কষ্ট কিছু না। লাইট জ্বালিয়ে দেব?’
‘না, থাক।’
‘কফি বানাই তবে।’
‘না, থাক।’
‘কেন? কী হয়েছে?’
সন্ধ্যার আবছা অন্ধকার ঘরে।
আর্টিস্ট সাহেবকে আরও বিমর্ষ দেখাল। কী হয়েছে? আর্টিস্ট সাহেব মামুনের পোর্টে৶টটা দেখছেন। মামুনের? ...না! ...এই ঘটনা কী করে ঘটল? এ সম্ভব? কী করে? কীভাবে? আরও বিমর্ষ এবং ফ্যাকাশে দেখাল আর্টিস্ট সাহেবকে। কেন নয়? এতক্ষণ ধরে, এত যত্ন করে আঁকা পোর্টে৶টটা... এটা মামুনের পোর্টে৶ট হয়নি... হয়েছে তাঁর...তাঁর সেলফ পোর্টে৶ট! জলজিয়ন্ত বিমর্ষ আত্মপ্রতিকৃতি।
মামুন কফি বানাতে যায়নি, দাঁড়িয়ে আছে, আবার বলল, ‘স্যরি, কী হয়েছে? পোর্টে৶ট মেলেনি?’
আর্টিস্ট সাহেব বিড়বিড় করে কিছু বললেন। কী বললেন, বোঝা গেল না।

‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি দেশ পরিচালনার নৈতিকতা হারিয়েছে’ -আসম আবদুর রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরের নেতৃত্ব সম্পর্কে শুধু যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুত নোংরা গালাগাল করছেন তা সাধারণ সভ্যতা বহির্ভুত। যে দুই বড় দল এ ধরণের অপরাজনৈতিক সংস্কৃতির বিস্তার করতে পারে তাদের দেশ পরিচালনার কোন নৈতিক অধিকার নেই। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে এগিয়ে নেয়ার জন্য পুরনো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান ঘটাতে হবে। সরকারের অবৈধ নির্বাচন-দুর্নীতি-কুশাসনের বিপরীতে জনগণের রায়-জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন আওয়ামী-বিএনপি জোটের বিকল্প তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা। শুক্রবার দলটির কার্যকরি সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি আসম আবদুর রব। সভায় আরও কয়েকটি প্রস্তাব গৃহিত হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, বিএনপি কর্তৃক তত্বাবধায়ক সরকারকে দলীয়করণ করার চেষ্টা এবং আওয়ামী লীগ কর্তৃক পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে নির্বাচনের নামে ভোটারবিহীন ও সিলেকটেড এমপি নির্বাচনের প্রহসন চালিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে রাখা হয়েছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ব্যবহার করে দখল করে রাখতে চাইছে। ঢাকায় বিরোধী দল যাতে সভা, সমাবেশ ও মিছিল, মিটিং করতে না পারে তার ব্যবস্থা করেছে। সারাদেশে হত্যা, খুন, লুটপাট, চাঁদাবাজী, দখলবাজীর মাধ্যমে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে জনগণ অতীত কর্মকান্ডের জন্য বিএনপিকেও বিশ্বাস করে না। এ প্রশ্নেও তৃতীয় শক্তির কোন বিকল্প নেই।
সভার অপর এক প্রস্তাবে পাকিস্তানের পেশোয়ারে জঙ্গীবাদীদের হামলায় ১৩২জন শিক্ষার্থীর জীবননাশ ও ১৪২জনকে আহত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে বর্বরতম কান্ড হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সভায় বলা হয়, মৌলবাদী শাখা-প্রশাখা উপমহাদেশের সব দেশেই রয়েছে বলে গোয়েন্দারা দাবি করছেন। তাই এখন থেকে বাংলাদেশেও এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে।
সুন্দরবনে তেলের ট্যাংকার ডুবে তেল ছড়িয়ে পড়া বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ বনকে ধ্বংস করার কোন ষড়যন্ত্র আছে কি-না তা খতিয়ে দেখার জন্য জাতীয় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয় সভায়।
আ স ম আবদুর রব এর সভাপতিত্বে এ সভায় বক্তব্য রাখেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, এম এ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো: সিরাজ মিয়া,শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সোহরাব হোসেন, ডা: জবিউল হোসেন, জিয়া খোন্দকার, আশীষ কুমার সরকার,কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, আহসান উদ্দিন চৌধুরী সুইট, আবদুর রাজ্জাক রাজা, আবদুল জলিল চেয়ারম্যান, আমিন উদ্দিন বি এস সি, আবদুল মান্নান মাষ্টার, নুরুল ইসলাম মাষ্টার,সুলতান আহমেদ চেয়ারম্যান, লোকমান হাকিম, আতাউল্যাহ বিশ্বাস কচি, সাইফুর রহমান মিঠু, আবদুল লতিফ খান প্রমুখ।

স্থুলতাকে ‘অক্ষমতা’ বিবেচনার রায় ইইউ আদালতের

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে চাকরিক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের এখন থেকে স্থূল কর্মচারীদের ‘অক্ষম’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে এবং তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে। এমন রায় দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আদালত। স্থূল ব্যক্তিরা যাতে সমাজে বা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার না হন, সেটা বিবেচনায় এনেই এ রায় দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। নিয়োগের সময় ভিন্ন ধর্মমত, বিশ্বাস, অক্ষমতা, বয়স ও যৌন পরিচয়ের ক্ষেত্রে যেমন বৈষম্য নিষিদ্ধ, সেই একইভাবে কোন নারী বা পুরুষ যদি মোটা হন, শুধু সে কারণে তাকে নিয়োগ না দেয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা এখন থেকে নিষিদ্ধ করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে একটি নতুন মাইলফলক সূচিত করলো। ‘দ্য ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস’ এ রায় প্রদান করে। স্থ’ূলতার কারণে কর্মস্থলে বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের জন্য বড় আসন, পার্কিংয়ের বিশেষ স্থান ও সুবিধা দিতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বৃটেনে স্থূল কর্মীদের এখন থেকে অক্ষম হিসেবে বিবেচনা করে তাদের বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। যেহেতু, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বেশ কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমানতালে স্থ’ূল ব্যক্তিরা কাজ করতে পারেন না, তাদের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। ডেনমার্কের এক বাসিন্দা কার্স্টেন ক্যালটফ্ট মামলার শুনানির প্রেক্ষিতে এ রায় প্রদান করে আদালত। কার্স্টেন অভিযোগ এনেছিলেন, যে শিশুদের দেখাশোনার কাজ করতেন তিনি। কিন্তু, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। এর কারণ তিনি ঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। কারণ, কার্স্টেনের ওজন ১৫৮ কেজি। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, কোন সহকর্মীর সাহায্যে জুতোর ফিতে বাঁধতে হতো তাকে। এ ধরনের আরও কিছু কাজে তার অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। শেষ পর্যন্ত মামলায় জিতেছেন কার্স্টেন। একই সঙ্গে স্থ’ূলকায় ব্যক্তিদের জন্য তিনি আশীর্বাদ বয়ে আনলেন।

কুকুর নিয়ে অফিসে চড়াও মন্ত্রীর স্বামী

টেবিলে উঠে সরকারি ফাইলপত্র কামড়ে-আঁচড়ে ছিঁড়ছে তাগড়াই চেহারার ল্যাব্রাডর। মাঝেমধ্যে দাঁত খিঁচিয়ে তেড়ে যাচ্ছে চেয়ারে কুঁকড়ে বসে থাকা অফিসারের দিকে। জাঁদরেল পোষ্যর গলার চেন হাতে ধরে তখন তাঁকে হুমকি দিয়ে চলেছেন বিহারের এক মন্ত্রীর স্বামী! এমনই কাণ্ড না কি ঘটেছে পূর্ণিয়ার ভবানীপুরে। পুলিশের কাছে এ নিয়ে নালিশ ঠুকেছেন ভূমি-বিষয়ক দফতরের ব্লক সার্কেল অফিসার অনিল কুমার। থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন রাজ্যের তফসিল জাতি-উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী বিমা ভারতীর স্বামী অবধেশ কুমার ও তাঁর ল্যাব্রাডর কৃষ্ণার বিরুদ্ধে! মন্ত্রীর স্বামীর পাশাপাশি ওই পোষ্যের বিরুদ্ধেও সরকারি কর্মীর কাজে বাধা, নিগ্রহ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা নিয়ে গল্পে মেতেছে গোটা রাজ্য। কী ভাবে ফ্যাসাদে পড়েছিলেন অনিলবাবু? ওই সরকারি অফিসারের   কথায়, “২০-২৫ জন লোক নিয়ে আচমকা আমার অফিসে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়েছিলেন অবধেশ। সঙ্গে একটা কুকুরও ছিল।” তাঁর অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ‘কাট-মানি’ চেয়েছিলেন অবধেশ। মাসে মাসে তোলাও চান।    মানতে রাজি হননি অনিলবাবু। এর পরই তাঁর অফিসের তিন কর্মীকে মারধর করে অবধেশের শাগরেদরা। তাঁর দিকে ল্যাব্রাডর লেলিয়ে দেওয়া হয়। এক লাফে সেটি টেবিলে উঠে পড়ে। কামড়ে ছিঁড়তে থাকে সরকারি কাগজপত্র। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ‘ঘেউঘেউ’   করে অনিলবাবুদের দিকে তেড়েও যায়। হামলার অভিযোগ মানতে রাজি হননি অবধেশবাবু। তাঁর দাবি, ওই অফিসারের বিরুদ্ধে জমি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ শুনেছিলেন। তাই তাঁর সঙ্গে কথা বলতে যান। অবধেশবাবুর বক্তব্য, “ নাগরিক হিসেবেই সরকারি দফতরে গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিসারের সঙ্গে দেখাই হয়নি।” একই কথা    বলছেন মন্ত্রীও। তাঁর কথায়, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় আমার স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।” অনিলবাবুর পাল্টা জবাব, “সব মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। আমার অফিসের কর্মীরাও ঘটনার সময়  হাজির  ছিলেন। ওঁদের খুব মারধর করা হয়।” এলাকার লোকজন অবশ্য জানিয়েছেন, মন্ত্রীর স্বামী হিসেবে অবধেশবাবুর যথেষ্ট প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। তাঁর নামে এর আগেও পুলিশের খাতায় টুকটাক ঝামেলার অভিযোগ লেখা হয়। কিন্তু উপরওয়ালাদের ভয়ে পুলিশ তাঁকে সহজে ঘাঁটাতে চায় না। এ বারের ঘটনায় পুলিশকর্তারা বিব্রত। এক দিকে মন্ত্রীর স্বামী, অন্য দিকে সরকারি অফিসার তাই তাঁরা ‘শ্যাম রাখেন না কুল’! স্থানীয় থানার ওসি এস এন পাণ্ডে বলছেন, “অভিযোগ পেয়েছি। কী ঘটেছিল তা দেখা হচ্ছে। এখন এর বেশি কিছু বলব না।” এ নিয়ে মুখে কুলুপ দিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপারও। কিন্তু অনিলবাবু জানিয়েছেন, এ সবের শেষ না দেখে তিনি ছাড়বেন না। মনিব-সহ ল্যাব্রাডর শেষে থানার লক-আপে ঢুকবে কি না, তা দেখতে উৎসুক পূর্ণিয়ার বাসিন্দারা!
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

দ্বৈত জীবনে আটক বাংলাদেশের সমকামী সমাজ

বাংলাদেশে সমকামী এবং উভকামী নারী-পুরুষের ওপর চালানো একটি জরিপে বলা হচ্ছে যে দেশের মধ্যে তারা ভীতিকর পরিবেশে দ্বৈত জীবন যাপন করছেন। সমকামীদের সংগঠন বয়েজ অফ বাংলাদেশ (বিওবি) এবং তাদের একটি ম্যাগাজিন রূপবানের উদ্যোগে সারাদেশে প্রায় ৬০০ সমকামী ও উভকামী পুরুষ ও নারীর ওপর চালানো নজিরবিহীন এই জরিপটির ফলাফল বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রকাশ করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের সবার বয়স ছিল ১৮ বছরের ওপর। বাংলাদেশের হিজড়া সম্প্রদায়কে এই জরিপে অন্তভূক্ত করা হয়নি। জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, সমকামীরা পরিবার ও সমাজের কাছে তাদের যৌনতার পরিচয় প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, নিজেদের এই পরিচয় প্রকাশ হলে পরিবার থেকে তাদেরকে ত্যাজ্য করা হতে পারে এবং সমাজে তারা নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। এই জরিপের উদ্যোক্তারা জানান, এই জরিপের ৬৬% উত্তরদাতা জানান যে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে তারা সমলিঙ্গ বিয়ে চান। অন্যদিকে, ৩৩% উত্তরদাতা জানান, সামাজিক অনুশাসন ও ভ্রুকুটির কারণে তারা ভিন্ন লিঙ্গের মধ্যে বিয়েতেও রাজি। জরিপে বলা হয়েছে ৫৯% উত্তরাদাতা জানিয়েছেন তারা সমাজজীবনে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ৫২% জানিয়েছেন বৈষ্যম্য ও হেনস্তার মুখে তারা দেশ ত্যাগ করতে ইচ্ছুক। বাংলাদেশে সমকামী এবং উভকামী মানুষের প্রকৃত সংখ্যা কত তা এখনো অজানা। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ডিন সাবিনা ফাইয রশীদ বলছেন, বাংলাদেশে গে এবং লেসবিয়ান জনগোষ্ঠীর প্রতি সমাজের মূল অংশের দৃষ্টিভঙ্গি আগের চেয়ে কিছুটা বদলেছে। তিনি বলেন, এখন মানুষ অনেক খোলামেলাভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

‘যেন ভৌতিক সিনেমা দেখছিলাম সেদিন’

পেশোয়ারের স্কুেলর হত্যাযজ্ঞ থেকে
বেঁচে যাওয়া আমিরের অভিজ্ঞতা
‘ক্লাসে ছয়-সাত বছর ধরে আমার পাশেই বসেছে ও। আর ওর মৃত্যু হলো কিনা আমারই কোলে। এই ঘটনা কীভাবে ভুলি?’—এই প্রশ্ন আমির আমিনের। গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের পেশোয়ারে আর্মি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড ডিগ্রি কলেজে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছে আমিরের বন্ধু আইমল খান। আমির জানায়, সেদিন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর তারা দুই বন্ধু অন্যদের সঙ্গে কলেজের করিডরে বসে ছিল। এ সময় চার অস্ত্রধারীকে দৌড়াতে দেখতে পায়। প্রাণ বাঁচাতে ল্যাবরেটরিতে গিয়ে আশ্রয় নেয় তারা। তবে বিপদ পিছু ছাড়েনি। জঙ্গিরা ল্যাবে ঢুকেই গুলি চালাতে থাকে নির্বিচারে। আমির যখন এই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিল চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল, তখনো চোখের সামনে ভাসছে ভয়াবহ সেই দৃশ্য। কণ্ঠ ধরে আসছিল তার। আমির বলছিল, ‘এক ঘণ্টারও বেশি সময় চুপ মেরে শুয়ে ছিলাম। ভয় হচ্ছিল সন্ত্রাসীরা হয়তো ফিরে আসবে।’
আট ঘণ্টা পর তাণ্ডব থেমে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমিরকে উদ্ধার করেন। তালেবান জঙ্গির গুলিতে মারাত্মক আহত হয়েছে সে। প্রাণটা বেঁচেছে কারণ, সন্ত্রাসীরা ভেবেছিল সে মারা গেছে। হামলায় আমিরের ভাই ইসহাক আমিনও গুরুতর আহত হয়। সামরিক হাসপাতালে সে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। ল্যাবরেটরিতে চার শিক্ষক ও ছয়জন ছাত্র ছিল। ‘সবাইকে গুলি করা হয়। কেবল আমিই বেঁচে আছি।’ নজিরবিহীন সেই তাণ্ডবের ঘটনা স্মরণ করে আমির বলছিল, ‘সেদিনের ঘটনা ছিল যেন এক ভৌতিক সিনেমা। কিন্তু তা ছিল একেবারে সত্যি ঘটনা।’ সূত্র: ডন

ইসরায়েলি দখলদারি অবসানে সময় বেঁধে দিল ফিলিস্তিনিরা

মধ্যপ্রাচ্যে এক বছরের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব দিয়েছে জর্ডান। বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতের পর ফিলিস্তিনের পক্ষে তারা এ প্রস্তাবটি তোলে। এ ছাড়া প্রস্তাবটিতে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করেতে বলা হয়েছে। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও এএফপির। ফিলিস্তিন জাতিসংঘের শুধু পর্যবেক্ষক সদস্য হওয়ায় ফিলিস্তিনিদের পক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে জর্ডান। কেবল একটি সদস্য দেশই নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তুলতে পারে। দীর্ঘ আলোচনার পরই জর্ডান প্রস্তাবটি তোলে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি কূটনীতিক রিয়াদ মানসুর গত বুধবার বলেন, আরব-সমর্থিত প্রস্তাবটি মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যদের সঙ্গে আলোচনার দরজা বন্ধ করে দেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ সবার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব, যদি তারা তা করতে আগ্রহী থাকে।...অর্থবহ কিছু অর্জনের জন্য যারাই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’ প্রস্তাবটিতে এক বছরের মধ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে এমন একটি শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা ‘দুটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের স্বপ্নকে পূরণ করবে’। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিও একটি প্রস্তাব তৈরি করছে, যাতে দুই বছরের মধ্যে শান্তি আলোচনা শেষ করার কথা বলা আছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিয়াস।
ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। এ রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম। এসব এলাকা ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় দখল করে নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। খসড়া প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়টি হতে হবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৬৭ সালের সীমানা, নিরাপত্তা সমঝোতা এবং ‘জেরুজালেম হবে দুই রাষ্ট্রের অংশীদারমূলক রাজধানী, যা উভয় পক্ষের বৈধ আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে এবং প্রার্থনা করার স্বাধীনতার সুরক্ষা দেবে’। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘উভয় পক্ষকে বসতি সম্প্রসারণসহ সব ধরনের একতরফা ও অবৈধ পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, যা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাব্যতা নষ্ট করে দিতে পারে।’ ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটির ওপরে কবে ভোটাভুটি হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। জর্ডান বলেছে, তারা এখনই ভোটাভুটির চেষ্টা করবে না। তার অর্থ, এ নিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রস্তাবের ওপরে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলবে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটি আটকে দিতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করবে কি না, তাও জানা যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। লন্ডন সফরকালে বুধবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কোনো প্রস্তাব উত্থাপনের ব্যাপারে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তবে সবাইকে একটা সুচিন্তিত পথে এগোতে হবে। পথটা সমস্যার সমাধান করবে; অবস্থা আরও শোচনীয় করবে না।
হলোকাস্ট থেকে ‘কিছুই শেখেনি’ ইউরোপ: ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইউরোপ সুর নরম করায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ আদালত বুধবার গাজার নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামপন্থী সংগঠন হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর তিনি বলেন, ইউরোপীয়রা হলোকাস্ট থেকে কিছুই শেখেনি। নেতানিয়াহুর উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘লুক্সেমবুর্গে অবস্থিত ইউরোপীয় আদালত হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিল। অথচ হামাস অগণিত যুদ্ধাপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, যে ইউরোপের মাটিতে ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করা হয়েছে, সেই ইউরোপের অনেকেই কিছুই শেখেনি।’ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রশ্নে ইউরোপের অবস্থান
রাষ্ট্রের স্বীকৃতি: ইউরোপের যেসব দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সুইডেন, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, সাইপ্রাস ও বুলগেরিয়া
পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস: ফিলিস্তিনকে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ইউরোপের যেসব দেশের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে স্পেন (২২ নভেম্বর ২০১৪), আয়ারল্যান্ড (২২ অক্টোবর, ২০১৪), যুক্তরাজ্য (২৩ অক্টোবর, ২০১৪), ফ্রান্স (২ ডিসেম্বর ২০১৪) এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্ট (১৭ ডিসেম্বর ২০১৪)

ছোট খবর

ইসলামাবাদ
শীর্ষ নেতার জামিন
পাকিস্তানের নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বাহর শীর্ষ নেতা জাকিউর রেহমান লাখভিকে জামিন দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফআইএ) পক্ষে সরকারি আইনজীবী আদালতে লাখভির জামিনের বিরোধিতা করলেও বৃহস্পতিবার ৫ লাখ রুপির ব্যক্তিগত বন্ড জমার শর্তে জামিন দেয়া হয় তাকে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। মুম্বাইয়ে ২০০৮ সালে ভয়াবহ বোমা হামলার জন্য সন্দেহভাজন যে সাত আসামিকে চিহ্নিত করা হয়, লাখভি তাদের মধ্যে অন্যতম। এএফপি
আবুজা
৫৪ সেনার মৃত্যুদণ্ড
নাইজেরিয়ার একটি সামরিক আদালত বুধবার বিদ্রোহের দায়ে ৫৪ সৈন্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকার করায় তাদের এ সাজা দেয়া হল। মানবাধিকারবিষয়ক বিশিষ্ট আইনজীবী ফেমি ফালানা বলেন, একটি সামরিক আদালতে বিচারে তারা ৫৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেয়। ১৫ অক্টোবর এ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তা পরিচালিত হয়। এএফপি
দামেস্ক
গণকবরের সন্ধান
সিরিয়ার ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। গণকবরটি থেকে ২৩০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সিরিয়ার আইএস অধিকৃত দেইর ইজ্জর প্রদেশে এই গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গ্রীষ্মকালে শাইতাত গোত্রের লোকদের ওপর আইএসের হামলায় ৯০০ জনেরও বেশি নিহত হয়। গণকবরে পাওয়া ওই লাশগুলো শাইতাতের লোকদেরই বলে ধারণা করা হচ্ছে। এএফপি
সিডনি
হুঁশ জাগানো ঘটনা
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট সিডনির ক্যাফেতে জিম্মি ট্রাজেডিকে হুশ জাগানো ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে এমনটা ঘটেছে। আমি বুঝাতে যাচ্ছি যে এটা একটি নিষ্ঠুর ঘটনা। ঘটনার শেষ মুহূর্তগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসছে। বন্দুকধারী ও দুই জিম্মি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে জিম্মি নাটকের অবসান ঘটে। এএফপি

ওবামার ঘোষণাকে স্বাগত জানাল লাতিন আমেরিকা

কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন লাতিন আমেরিকার নেতারা। এ ছাড়া দেশে ওবামার উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ। খবর এএফপি ও রয়টার্সের। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের ১০০ মাইলেরও কম দূরে কিউবায় ১৯৫৯ সালে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর দুই বছর পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। গত বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক ভাষণে ওবামা কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। প্রায় একই সময়ে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টের নীতি পরিবর্তনের ঘোষণাকে স্বাগত জানান। লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনাকারী বলে পরিচিত ভেনেজুয়েলার বামপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো সবার আগে ওবামার ঘোষণাকে স্বাগত জানান। মাদুরো বলেন, ‘ওবামার এই ঐতিহাসিক ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই।’ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা কির্চনার বলেন, তাঁদের প্রজন্মের ‘সামাজিক ন্যায়বিচারের যোদ্ধারা’ ভেবেছিলেন,
তাঁরা কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিষয়টি দেখে যেতে পারবেন না। ওবামার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁরা বলেন, এখন হয়তো সেই সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হতে পারে। আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস-এ (ওএএস) ১৯৬২ সাল থেকে কিউবার সদস্যপদ নেই। ওএএসের মহাসচিব হোসে মিগুয়েল ইনসালজা বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামার উদ্যোগে শুধু কিউবাই নয়, লাতিন আমেরিকার সব দেশের সঙ্গেই ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর একটি পরিস্থিতি দূর হবে। আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিউবায় কাস্ত্রোর শাসনের কারণে আমাদের নীতিতে দেশটি একঘরে ছিল। কিউবা প্রশ্নে মার্কিন নীতি পরিবর্তনে প্রেসিডেন্ট ওবামার ঘোষণাকে আমি সমর্থন করি।’ রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপে ৪০ শতাংশের বেশি মার্কিন কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন। ২০ শতাংশ মার্কিন সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বিপক্ষে মত দেন। আর সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের কোনো উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ৩৯ শতাংশ। জরিপে মোট ৩১ হাজার মানুষের মতামত নেওয়া হয়। চলতি বছরের ১০ জুলাই থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। পোপ ফ্রান্সিস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, স্পেনসহ অনেকেই এই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। ওবামা গত বুধবার তাঁর ঘোষণায় বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘৫০ বছরের মধ্যে কিউবার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন’।
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক
সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস, হিলারি ক্লিনটন ও বিভিন্ন দেশ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪
সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা ওবামার। স্বাগত রাউলের ২০০৬
ফিদেল কাস্ত্রোর স্থলাভিষিক্ত হন ভাই রাউল ২০০১
নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেন জর্জ ডব্লিউ বুশ ১৯৮০
সোয়া লাখ কিউবান যুক্তরােষ্ট্র চলে যান ১৯৬২
ক্ষেপণাস্ত্রসংকট: কেনেডির বাণিজ্য অবরোধ জানুয়ারি ১৯৬১
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ১৯৬০
মার্কিন মালিকানাধীন ব্যবসা জাতীয়করণ ১৯৫৯
বিপ্লবের মাধ্যমে বাতিস্তাকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন কাস্ত্রো সূত্র: এএফপি

ছাত্রদের বাঁচাতে জীবন দিলেন তিন শিক্ষিকা

তারা তিনজনই জানতেন চেষ্টা নিষ্ফল। তবু বুক দিয়ে সন্তানসম ছাত্রদের আগলানোর চেষ্টা করে গেছেন বন্দুকের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত। পেশোয়ারের সেনা স্কুলের তিন শিক্ষিকা। তাহিরা কাজি, আফসা আহমেদ এবং হিফসা খুশ। তাহিরা প্রিন্সিপালের দায়িত্বে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের বাঁচানোর চেষ্টা কারার অপরাধে তিনজনকে শুধু গুলি নয়, পেট্রল ঢেলে পুড়িয়েও মেরেছে জঙ্গিরা। তারপর ওই দৃশ্য দেখতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে। প্রিয় শিক্ষিকা আফসাকে বাঁচাতে না পারার আফসোস এখনও কুরে কুরে খাচ্ছে ১৫ বছরের ইরফানুল্লাকে। আফসা জঙ্গিদের বলেন, ওদের মারার আগে আমাকে মারতে হবে। ওই কথা শুনে জঙ্গিরা আফসার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেইসঙ্গে গুলিও চালায়। জ্বলন্ত অবস্থাতেও আফসা শিক্ষার্থীদের বলেন, পেছনের দিক দিয়ে দৌড়ে পালাও তোমরা। এপি।

স্নায়ুযুদ্ধের শত্রুর সঙ্গে আবার বন্ধুত্ব আমেরিকার

স্নায়ুযুদ্ধের শত্রুতা ভুলে আবার বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কিউবা-আমেরিকা সম্পর্কে আরেকটি নতুন যুগের সূচনা হল। দীর্ঘদিনের শত্রু দেশ কিউবার সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বুধবার মধ্যরাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া ঘোষণায় ওবামা বলেন, আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার জনগণের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বদলে ফেলবে। এই পরিবর্তনের ফলে কিউবার জনগণের মধ্যে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে এবং আরও অনেক সুযোগ তৈরি হবে। কিউবাকে একঘরে করার যে কৌশল নেয়া হয়েছিল তা ছিল অনমনীয় ও অকার্যকর।
তিনি বলেছেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর আবার ওয়াশিংটন তা স্থাপন করবে। ১৯৬১ সালে হাভানায় বন্ধ করে দেয়া দূতাবাস আগামী মাসে পুনরায় খোলার চিন্তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, কিউবার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ সেকেলে ছিল এবং এই পরিবর্তন ৫০ বছরে কিউবার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির খুব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
ওবামা জানান, দু’দেশের মধ্যে মুদ্রার বিনিময়ও চালু এবং মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য কিউবায় পণ্য রফতানির সুযোগ সহজ হবে।
এদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট তার দেশের ওপর থেকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার একই সময়ে ওয়াশিংটনে ওবামার ভাষণের সময় কিউবায় জাতীয় টেলিভিশন ভাষণে রাউল কাস্ত্রো বলেন, কিউবা অনেকদিন ধরে যে চেষ্টা করছিল, এই পরিবর্তন তার সামান্য কিছু, আমরা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে প্রধান সমস্যাগুলো মিটে গেছে। পাঁচ দশক ধরে চলা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তার দেশের মানবিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সময় এসেছে এখন। ভাষণে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সার্বভৌম, গণতন্ত্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রাজি কিউবা। আমাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সভ্য পদ্ধতিতে একসঙ্গে বসবাস করার উপায় আমাদের শিখতে হবে। আর এ নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।’
এর আগে ক্যাস্ত্রো ও ওবামা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ব্যাপারে একমত হন। মঙ্গলবার দুই প্রেসিডেন্ট ৪৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে ফোনালাপ করেন। ১৯৫৯ সালে কিউবা বিপ্লবের পর দু’দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এই প্রথম সরাসরি কথা বললেন। ভ্যাটিকান সিটিতে কানাডার প্রতিনিধি ও পোপ ফ্রান্সিসের ১৮ মাসের গোপন আলোচনার ভিত্তিতে নতুন করে এ বন্ধুত্বে সূচনা হয়। পোপ এ সম্পর্ককে ঐতিহাসিক ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের অনুমোদন পেলেই তুলে নেয়া সম্ভব। রিপাবলিকানরা যথারীতি এর বিরোধিতা জানিয়েছে। ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনের একজন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেব বুশ এই ঘোষণার পর একে বারাক ওবামার ‘ভুল পররাষ্ট্রনীতির প্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা আসার কিছু আগেই পাঁচ বছর আগে কিউবায় আটক হওয়া মার্কিন একজন ঠিকাদার অ্যালান গ্রস দেশে ফিরে এসেছেন।এছাড়া ২০ বছর ধরে কারা ভোগ করছিলেন আমেরিকার এমন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তাকেও মুক্তি দিয়েছে হাভানা।
এর বিপরীতে ওয়াশিংটন তিনজন হাই-প্রোফাইল কিউবান বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যারা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। বিবিসি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সভ্য পদ্ধতিতে একসঙ্গে বসবাস করার উপায় আমাদের শিখতে হবে
পাঁচ দশক ধরে চলা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে
রাউল ক্যাস্ত্রো
এই পরিবর্তনে কিউবার জনগণের মধ্যে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হবে
দু’দেশের মধ্যে মুদ্রার বিনিময় এবং মার্কিন ব্যবসায়ীদের জন্য কিউবায় পণ্য রফতানির সুযোগ সহজ হবে
বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্কের শত বর্ষের টানাপোড়েন

শতাব্দীকালের টানাপোড়েন ভুলে বন্ধুত্বের নতুন অক্ষে প্রবেশ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবা। অর্ধশতাব্দী পর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের এই নতুন ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধকালের শত্রু সমাজতান্ত্রিক কিউবার সঙ্গে মিত্রতা বিশ্ব ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শতাধিক বছরের ইতিহাস এখানে তুলে ধরা হল
১৮৯৮
যুক্তরাষ্ট্র স্পেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিউবা তখন স্পানিশ উপনিবেশ। যুদ্ধে স্পেনের পরাজয়ের পর কিউবার দখল নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
১৯০২
কিউবা স্বাধীন হয়। কিন্তু শর্ত থাকে, যুক্তরাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। প্রেসিডেন্ট হন টমাস এস্ত্রাদা।
১৯০৬
জোসে মিগুয়েল গোমেজের নেতৃত্বে বিদ্রোহের জেরে এস্ত্রাদা পদত্যাগ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় কিউবা দখল করে নেয়। তিন বছর পর গোমেজ প্রেসিডেন্ট হন।
১৯১২
বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে কৃষ্ণাঙ্গদের বিক্ষোভ দমনে মার্কিন বাহিনী কিউবায় ফিরে আসে।
১৯৩৪
কিউবার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তার হস্তক্ষেপের অধিকার উঠিয়ে নেয়।
১৯৫৩
যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত প্রেসিডেন্ট ফুলগেনিকো বাতিস্তার বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থান করেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো।
১৯৫৮
বাতিস্তার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা উঠিয়ে নেয়।
১৯৫৯
নয় হাজার গেরিলা যোদ্ধা নিয়ে হাভানায় অপারেশন চালান ক্যাস্ত্রো। বাতিস্তা পালিয়ে পালিয়ে যান এবং ক্যাস্ত্রো প্রধানমন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৬০
ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়য়করণ করেন ক্যাস্ত্রো। ওয়াশিংটন হাভানার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
১৯৬১
নির্বাসিত কিউবানরা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় পিগস উপসাগরে অভিযান চালায়। ক্যাস্ত্রো কিউবাকে কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ঘোষণা করে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে জোট করেন।
১৯৬২
কিউবায় সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে ক্যাস্ত্রো রাজি হলে সোভিয়েত-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয় ও পারমাণবিক যুদ্ধের আশংকা তৈরি হয়।
১৯৬৩
দু’বছরে সিআইএ ক্যাস্ত্রোকে হত্যার চেষ্টা করে অন্তত পাঁচটি অভিযান চালায়।
১৯৭৭
পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্কে সামান্য উন্নতি হয়।
১৯৮০
ক্যাস্ত্রো নির্বাসনের সুযোগ দিলে দেশটির ১ লাখ ২৫ হাজার নাগরিক কিউবা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়।
১৯৯৬
মার্কিন কংগ্রেস কিউবার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হেলমস বার্তন আইন পাস করে।
১৯৯৮
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবানদের স্বজনের কাছে অর্থ পাঠানোর নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনে ওয়াশিংটন।
২০০০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ কিউবার ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করেন।
২০০১
হারিকেন মিশেলে আঞাত হানার পর কিউবান সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য সহায়তা পাঠায়। ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কিউবায় খাদ্য রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র।
২০০২
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার কিউবা সফর করেন। ক্যাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন নেতার সফর। এদিকে কিউবায় জৈব অস্ত্র বৃদ্ধির অভিযোগে দেশটিকে ‘শয়তানের অক্ষ’ তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র।
২০০৩
জর্জ ডব্লিউ বুশ কিউবার সমাজতান্ত্রিক শাসন উৎখাতের ঘোষণা দেন।
২০০৪
কিউবায় ডলার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একমাত্র স্থানীয় মুদ্রা পেসোকে বাধ্যতামূলক করা হয়।
২০০৬
ফিদেল ক্যাস্ত্রো অসুস্থ হয়ে অস্ত্রোপচারের জন্য ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ প্রথম সরাসরি কিউবা রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। কয়েকমাস পর রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জিফ ফ্লেক ১০ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে কিউবা সফর করেন, যা ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর প্রথম।
২০০৮
ব্রাজিল সম্মেলনে রাউল ক্যাস্ত্রো কিউবার ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
২০০৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবার পারিবারিক ভ্রমণ ও রেমিটেন্সের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।
২০১১
ইউএসএইড কর্মী মার্কিন নাগরিক অ্যালন গ্রসকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয় কিউবা। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়।
২০১২
গ্রস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে আসতে রাজি হয় কিউবা।
২০১৩
ওবামা কিউবার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ঘোষণা দেন।
জুন ২০১৩- নভেম্বর ২০১৪
যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে সিরিজ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে পোপ ফ্রান্সিস ব্যক্তিগতভাবে ওবামা ও ক্যাস্ত্রোর কাছে চিঠি লিখে আলোচনার আহ্বান জানান। নভেম্বরে ভ্যাটিকানে মার্কিন ও কিউবান প্রতিনিধির মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ ডিসেম্বর ২০১৪
ওয়াশিংটন ঘোষণা করে, গ্রস মুক্তি পেয়েছেন এবং তিনি দেশে ফিরছেন। বারাক ওবামা কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক নীতি বদলিয়ে কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেন।
একই সঙ্গে পাঁচ দশকের অর্থনৈতিক অবরোধও উঠিয়ে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। একই সময়ে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো ঘোষণা দিয়েছেন ওয়াশিংটন-হাভানা নতুন যুগে প্রবেশ করছে।

স্কুল হামলায় দায়ী আইএসআই

পেশোয়ারের অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থান আর্মি পাবলিক স্কুলে জঙ্গি হামলায় ১৩০ জনের বেশি শিশু নিহত হওয়ার পেছনে স্বয়ং পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী নিজেই দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির গোয়েন্দা বাহিনী আইএসআই প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এসব জঙ্গিদের ব্যবহার করতে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতো বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই ভ্রান্তনীতিই নিজেদের জন্য কার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের পোষা সাপ নিজের শরীরেই ছোবল দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তার বিশ্লেষণে এমন কথাই বলেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতের ভারতীয় দূতাবাসে জঙ্গি হামলার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কাবুল ও দিল্লি দূতাবাসকে বলা হয়েছিল এ ঘটনায় পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই তৈয়বাহ দায়ী। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে ভারতের নবনির্বাচিত মোদি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার এ ঘটনায় পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে।
২০০৮ সালে লস্কর-ই তৈয়বাহই ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে হামলা চালিয়েছিল। এতে অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়। মার্কিন নথিপত্র ও আদালত কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, হামলাকারীরা করাচি থেকে নৌকায় করে ভারতে গিয়েছিল। এ ঘটনায়ও জঙ্গিদের সঙ্গে আইএসআইয়ের সুক্ষ্ম যোগাযোগ রক্ষা হয়েছিল। ভারতের প্রকাশ্যে এ ধরনের অভিযোগ অবশ্য পাকিস্তান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, আফগান তালেবান ও হক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইএসআই যোগাযোগ রক্ষা করে। গত এপ্রিলে আফগানিস্তানে ন্যাটো ফোর্সের কমান্ডার জোসেফ ডানফোর্ড বলেন, হক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইএসআইয়ের যোগাযোগ রক্ষার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া পাক গোয়েন্দারা কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে লড়াইরত বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপকেও উস্কানি দিয়ে থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মঙ্গলবার পেশোয়ারে হামলার জন্য আইএসআইয়ের জঙ্গি কানেকশনই দায়ী। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পর তালেবানরা পাকিস্তানে পালিয়ে গেলে দেশটির নীতিনির্ধারকরা তাদের জায়গা দিয়েছিল।
ভারতের বিরুদ্ধে কৌশলগত যুদ্ধ ও আফগানিস্তানে ভারতীয় প্রভাব খর্ব করতে পাক গোয়েন্দারা তাদের মদদ দেয়ার মতো বিপজ্জনক নীতি নিয়েছিল। ২০০১ সালেই তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান সফর করে বলেছিলেন, প্রতিবেশীকে শায়েস্তা করতে সাপকে নিজের পিঠে জায়গা দেয়া খুব খারাপ হবে। এই সময়ে এসে টিটিপি বোধ হয় সেই সুযোগটাই নিল।

৩৪তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮২২

অবশেষে সাড়ে ৮ মাস পর ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় সর্বমোট ৯ হাজার ৮২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। আগামী ২৬ জানুয়ারি উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। এবার উত্তীর্ণদের মধ্যে সাধারণ ক্যাডারে দুই হাজার ৯৬ জন এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারে এক হাজার ৭৮০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সরকারি ক্যাডার সার্ভিসে চাকরির এ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে দুপুর ২টার পর সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে (www.bpsc.gov.bd) এ ফল পাওয়া যাচ্ছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা ডায়ানা ইসলাম সীমা জানান, আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ২৪ জনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। তাদের আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে পিএসসির আগারগাঁও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তিনি আরও জানান, পিএসসির ওয়েবসাইট ছাড়াও টেলিটক অপারেটর থেকে মোবাইল ফোনে এসএমএস করেও ফল জানা যাচ্ছে। মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইঈঝ লিখে স্পেস দিয়ে ৩৪ লিখে আবার স্পেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। ২৪ থেকে ৩১ মার্চ ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থী ছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ জন। এরপর ৪ থেকে ২৫ মে অনুষ্ঠিত হয় বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা। এর আগে বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ৫২ পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ৭ ফেব্র“য়ারি এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২৪ মে অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এতে অংশ নিয়েছিল এক লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী। কোটা জটিলতার কারণে দুই দফায় প্রকাশ করা হয় ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল।

তারেকের বিরুদ্ধে চার স্থানে মামলা গ্রেফতারি পরোয়ানা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজাকার, খুনি ও পাক বন্ধু বলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নাটোরে মামলা হয়েছে। এসব মামলার একটিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং দুটিতে সমন জারি হয়েছে। এছাড়া তারেকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। কয়েকটি স্থানে পোড়ানো হয়েছে তারেক জিয়ার কুশপুতুল।
কোর্ট রিপোর্টার জানান, বৃহস্পতিবার ঢাকার সিএমএম আদালতে অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান দুলালের রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা নালিশি মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বিচারক। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়েরের আগে রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন এবং এ মামলা দায়েরে কোনো অনুমোদন না থাকায় শুধু মানহানির অভিযোগ আমলে নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম ইউনুস খান এ আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০০৮ সালে গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের নির্বাচিত ভোটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তারেক রহমান একের পর এক রাষ্ট্রদ্রোহী ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও শান্তিপূর্ণ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছেন। সর্বশেষ ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব লন্ডনের আট্রিয়াম হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় ভাষণ দেয়ার সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার এবং শখের বন্দি বলে আখ্যায়িত করেন। মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর ও তার পরিবারের ভূমিকা নেই বলে বক্তব্য দেন।
বাদী অভিযোগ করেন, জাতির জনককে নিয়ে আসামির এরূপ অশালীন, রুচি বিবর্জিত মন্তব্য ইতিহাস তথা সার্বোভৌম রাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে অস্থির করার গভীর চক্রান্ত।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেছেন নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে মামলাটি করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগ ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে কোতোয়ালি থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ২৭ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
কুমিল্লা ব্যুরো জানায়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় কুমিল্লার আদালতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কুমিল্লার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলি আদালতে মামলাটি করেন অ্যাডভোকেট সুবীর নন্দী বাবু।
আদালত মামলা গ্রহণ করে ১ মার্চের মধ্যে আসামিকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধুকে রাজাকার বলে কটাক্ষ করায় নাটোরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার একশ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২ ফেব্রুয়ারি তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্রলীগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলী মোল্লা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।
উকিল নোটিশ : সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় তারেক রহমানের নামে উকিল নোটিশ পঠানো হয়েছে। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক রানা আহম্মেদের পক্ষে জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মোর্শেদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে এ নোটিশ পাঠান।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঢাবিতে প্রতিবাদ : বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি এ ধরনের বক্তব্যের জন্য তারেক রহমানের শাস্তি দাবি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল তারেকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি তারেক জিয়া চিকিৎসার নামে লন্ডনে বসে জাতির জনক ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী শক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র মুক্তিযুদ্ধের আর্দশ ও দর্শনকে মুছে ফেলার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে টিএসসিসংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারেক রহমানের কুশপুতুলে ঝাড়– প্রদর্শন করে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
সিরাজগঞ্জে প্রতিবাদ : সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তারেক রহমানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ যৌথ প্রতিবাদ মিছিল করে। এ সময় তারেকের কুশপুতুল দাহ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ : নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধু নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ভাংচুর চালিয়েছে আওয়ামী লীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপির কার্যালয়ের সামনেই তারেক রহমানের কুশপুতুল দাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে এই হামলা চালানো হয়।
নেত্রকোনায় প্রতিবাদ : নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তারেক রহমানের কটূক্তির প্রতিবাদে আওয়ামী প্রজন্মলীগ জেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে তারেক রহমানের কুশপুতুল দাহ করা হয়।

জিএসপির বন্ধ দরজা খুলছে না সহসা

বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু চলে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) প্রাপ্তির বিষয়ে সুখবরটি দিতে পারেননি বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা। বরং তার বক্তব্য থেকে ধারণা মিলছে, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক প্রবেশে বন্ধ হওয়া দরজা সহসাই খুলছে না।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন মজিনা। এ সময় তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে জিএসপি প্রাপ্তি প্রসঙ্গে মজিনা বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, জিএসপির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার দেশের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি দাবি করেন, এ মুহূর্তে আমেরিকার বাজারে বিশ্বের কোনো দেশই জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে না। তাই বাংলাদেশেরও এখন জিএসপি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুনরায় মার্কিন বাজারে জিএসপি সুবিধা দেয়া হবে। আর এ সিদ্ধান্ত নেবে মার্কিন কংগ্রেস। তবে কবে নাগাদ কংগ্রেস এ সিদ্ধান্ত নেবে তা জানেন না বলে মন্তব্য করেন মজিনা।
ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ ও ড্যান মজিনা। এ সময় বাণিজ্য সচিব মো. হেদায়েত আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
মজিনা সাংবাদিকদের বলেন, আমি রাষ্ট্রদূত হিসেবে এদেশে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছি। এখন চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। এ সময় আমি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ দেশের সব জেলা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে দেখেছি। আমি বিস্মিত বাংলাদেশের ক্রমোন্নতি দেখে। সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটে চলেছে। মজিনা দাবি করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। এ সম্পর্ক উষ্ণ ও আন্তরিক। এদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রও ভূমিকা রাখছে।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ড্যান মজিনা বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর এ শিল্পে যে অন্ধকার ভর করেছিল তা এখন কেটে গেছে। কারণ ওই দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশের উন্নয়ন হয়েছে, এখনও হচ্ছে। শ্রম আইন সংশোধন হয়েছে এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
পোশাক শিল্প ছাড়াও অন্যান্য খাতের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, অচিরেই চামড়া শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ দেশের চামড়াজাত পণ্য বিশ্বে দারুণভাবে সমাদৃত হচ্ছে। আমি আশা করি আগামী ৫ বছরেই এ খাতটি তৈরি পোশাকের মতো শীর্ষ রফতানিকারকের পর্যায়ে চলে যাবে। এর বাইরে ওষুধ শিল্পেও ব্যাপক উত্তরণ ঘটেছে বাংলাদেশের। বিশ্বের বহু দেশে এখন ওষুধ রফতানি হচ্ছে। দাম ও মানের কারণে এ শিল্পেরও বিপ্লব ঘটেছে। এছাড়া আইটি খাতেও রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ উপযোগী দেশ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই এখানে বিনিয়োগে আগ্রহী। আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রও। এ দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। কারণ সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আলোচনা ছিল না। এটি ছিল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী ও আবেগঘন সাক্ষাৎ। তিনি বলেন, ভালো-মন্দ থাকতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখনও আমাদের জন্য শীর্ষ রফতানিকারক দেশ। জিএসপি সুবিধা না থাকলেও কিভাবে বাণিজ্য আরও বাড়ানো যায় সে বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে। রফতানি বাড়ানোর বিষয়ে লেদার, ফার্মাসিউটিক্যালস ও আইটি খাতের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

সুইস ব্যাংকের টাকা বাংলাদেশে উপার্জিত নয়

সুইস ব্যাংকে জব্দ হওয়া ৫১ হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করেননি বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে দাবি করেছেন বিতর্কিত ধনকুবের মুসা বিন শমসের। তিনি বলেন, এ টাকার সব বিদেশে রোজগার করা হয়েছে। বাংলাদেশের কেউ এত টাকা কোনো দিন উপার্জন করেনি, আগামী ৫০ বছরে করতেও পারবে না। বৃহস্পতিবার দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে মুসা বিন শমসেরকে ৪ ডিসেম্বর তলবি নোটিশ দেয় দুদক। নোটিশে তাকে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় দুদকে আসতে বলা হয়। কিন্তু মুসা নির্ধারিত সময়ের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে দুদকে হাজির হন। তখনও দুদক কর্মকর্তারা অফিসে পৌঁছেননি। সকাল ৯টার দিকে আকস্মিকভাবেই আটটি ভিন্নরকম গাড়ি এসে থামে দুদক কার্যালয়ের সামনে। গাড়ি থেকে প্রথমে নেমে আসেন স্যুট-টাই পরা চার সুন্দরী তরুণী। পেছনে কালো সানগ্লাস চোখে সুঠামদেহী অন্তত ৩০ নিরাপত্তা রক্ষী। অফ-হোয়াইট কালারের প্রাইভেট কার থেকে নামেন মুসা। নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরা স্কট করে তাকে নিয়ে আসেন দুদকের রিসিপশনে। হতচকিত হয়ে পড়েন দুদকের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরিচয় দিয়েই বসার জায়গা খোঁজেন তিনি। তখনও অফিসের বাইরে অবস্থান করা অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী দুদক কর্মচারীদের ফোনে নির্দেশ দেন বসার ব্যবস্থা করতে। মুসা তখনই জানতে চান, মিডিয়া কোথায়?
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত দুদক কার্যালয়ের দোতলার এক কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় মুসা বিন শমসেরের দুই নারী সহকারী ও একজন আইনজীবী সঙ্গে ছিলেন। মুসার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী নূরে আলম যুগান্তরকে বলেন, স্যার (মুসা) সব সময়ই এরকম সিকিউরিটি নিয়ে চলাফেরা করেন। কখন, কোথায় যাবেন, আমাদের কিছু বলা হয় না। তার ১৫ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় সবাই সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুসা বিন শমসের বলেন, আমার বিষয়ে যা বলা হয়, আমি ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছি। কেউ কোনো দিন এত টাকা এ দেশে আয় করতে পারেনি, পারবেও না। আমি এই টাকা বিদেশে উপার্জন করেছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। দুদক আমাকে ডেকেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমি আন্তরিক বিধায় এসেছি। অনুসন্ধানের প্রয়োজনে আমি সব সময়ই সহযোগিতা করব। অর্থ পাচারের অনুসন্ধান সম্পর্কে তিনি বলেন, সব গল্পেরই একটি ইতিহাস থাকে। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সত্য বেরিয়ে আসে। আমি দুদকের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আশা করি দুদক সন্তুষ্ট। আমিও সন্তুষ্ট।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মুসা বলেন, আপনারা বাবা-মাকে জিজ্ঞেস করুন, আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে দেশের জন্য আমি কি করেছি। কি পরিমাণ জনশক্তির বাজার সৃষ্টি করেছি। সেটি না করলে দেশ আজ সোমালিয়ার মতো দুর্ভিক্ষপীড়িত হতো।
সুইস ব্যাংকে জব্দ থাকা অর্থ ছাড় করাতে পারলে তিনি পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন, সরকারি দুস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণে কিছু করা এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের কল্যাণে ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মুসা। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে বিনিয়োগ শুধু আমার নয়, আমার বাবারও স্বপ্ন ছিল।
১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে শামসু মিয়া ওরফে মুসা বিন শমসেরের জন্ম। পিতা শমসের আলী মোল্লা। ‘ড্যাটকো’ নামক জনশক্তি রফতানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রফতানি করেন তিনি। পরে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা, জ্বালানি তেল ও আন্তর্জাতিক নিলাম কারবারে সম্পৃক্ত হন। সিরীয় বংশোদ্ভূত সৌদি নাগরিক আকরাম ওয়াজেহ তার ব্যবসায়িক গুরু। বিশ্বের ৩০ দেশে মুসার ব্যবসা রয়েছে। উপাধি প্রিয় এ ব্যবসায়ী ‘প্রিন্স মুসা’, ‘বিজনেস টাইকুন’সহ দুই ডজন উপাধিতে সম্বোধিত হন।
জুনে ‘বিজনেস এশিয়া’র ঈদসংখ্যায় মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ৩ নভেম্বর সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে তার জীবনযাত্রা, আর্থিক সামর্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে প্রশস্তি গাওয়া হয়।

সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার সরকার পেশাদার এবং সুপ্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ জন্য আমরা বাজেটে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি এবং সশস্ত্র বাহিনী গোল ২০৩০ প্রণয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং আর্মড ফোর্স ওয়ার (এএফডব্লিউ) কোর্স-২০১৪ এর গ্রাজুয়েশন সেরিমনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এনডিসির কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরও বক্তব্য রাখেন। অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কূটনৈতিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী তার প্রচেষ্টা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান অব্যাহত বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সৃষ্ট সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব সময় তাদের পাশে রয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা জনগণের পাশে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্য অর্জনে চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাংক এমবিটি-২০০০, সেলফপ্রোপেলডগান, রাডার, সেনাবাহিনীর জন্য এপিসি এবং সামরিক বিমান বাহিনীর জন্য আধুনিক হেলিকপ্টারসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনীর জন্য সাবমেরিন ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে এই সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় হেলিকপ্টার, মেরিন পেট্রোল এয়ারক্রাফট, মডার্ন ফ্রিগেট ও জাহাজ কেনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সশস্ত্র বাহিনীর সর্বশেষ প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অখণ্ডতা ও প্রতিশ্র“তি নিয়ে সব সময় কাজ করে যাচ্ছে এবং যে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক ও অন্য কোনো দুর্যোগের সময়ে জনগণের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
তিনি জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব আগামীতে দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও জোরদারে এসব দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অধিক সম্ভাবনাময় ও কানেকটেক্ট ওয়ার্ল্ডে বসবাস করছি। এ জন্য আমরা অধিক ঝুঁকিতে রয়েছি। উন্নয়নশীল দেশগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রণীত নীতির মধ্যে চলছে। ফলে উন্নত দেশগুলো এসব দেশ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় আমাদের অবশ্যই অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও শক্তিশালীকরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অনেক নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করেছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করাই ছিল এর লক্ষ্য। শেখ হাসিনা এ লক্ষ্য বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গত ৫ বছর ১১ মাসে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ইস্যু, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বহুমুখী সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী এনডিসি এবং এএফডব্লিউ কোর্স সম্পন্নকারী গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গ্রাজুয়েটরা সামাজিক, রাজনৈতিক, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একটি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রত্যাশা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছে, জানতে পেরে তিনি খুশি হয়েছেন।
তিনি গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের শাসনের সমস্যা এবং এই সমস্যার বিভিন্ন সমাধান সম্পর্কে পড়াশোনা করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ এখন একটি বৈশ্বিক বহুমুখী বিশ্বে বসবাস করছে। সব মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে। এতে কখনও কখনও কিছু সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ জন্য আমরা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কিছু আইন প্রণয়নও করেছি। তবে প্রযুক্তির কার্যকর সফল ব্যবহারকেও আমরা উৎসাহিত করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল গণতন্ত্র এবং প্রতারণামুক্ত একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সরকার ব্যবস্থায় এই মূল নীতি নিশ্চিত করতে আমাদের সাহসী বীর সন্তানরা জীবন উৎসর্গ করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ১৯৯৬ সালের আগে সশস্ত্র বাহিনীর সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের উচ্চ প্রশিক্ষণের জন্য এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। তিনি বলেন, আমরা ১৯৯৬-২০০১ সালে দায়িত্ব পালনকালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই প্রতিষ্ঠানটি একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউশনে রূপ নেয়। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ দেশী ও বিদেশী অপারেশনাল ও স্ট্র্যাটেজিক এবং সামরিক থেকে বেসামরিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জানতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তারা শান্তির সংস্কৃতি, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার উন্নয়নে অবদান রাখছে।
শেখ হাসিনা কলেজের শিক্ষার মান বজায় রেখে আরও উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, এই কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কর্মকর্তারা তাদের জ্ঞানের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায় সূচনায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ বছর এনডিসি কোর্সে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ জন অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ২৮ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে ৪ জন কমোডর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে তিনজন গ্র“প ক্যাপ্টেন, প্রশাসন ও সিভিল সার্ভিসের অন্যান্য ক্যাডার থেকে ১১ জন যুগ্মসচিব, ফরেন সার্ভিস থেকে একজন মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ থেকে একজন উপ-মহাপরিদর্শক কোর্সে অংশ নেন। পাশাপাশি ১১টি দেশ থেকে ২৮ জন বিদেশী এই কোর্সে অংশ নেন।
এ বছরের এএফডব্লিউ কোর্সে মোট ৩৫ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ৬ লে. কর্নেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে ২ জন ক্যাপ্টেন ও ৩ জন কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনী থেকে একজন গ্র“প ক্যাপ্টেন ও তিনজন উইং কমান্ডার অংশ নেন।

চট্টগ্রাম আদালতে ৯০ মামলার নথি গায়েব

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার মামলা নং ২১৮/১২। চট্টগ্রাম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ১ম আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই মামলার ১১টি আদেশ নথিতে লেখা হয়নি। একই আদালতে এ রকম ৯০৪টি মামলায় ১ হাজার ৪০০ আদেশ লেখা হয়নি। খোঁজ মিলছে না বিচারাধীন ৯০টি মামলার নথিও। ওইসব মামলার মধ্যে রয়েছে হত্যা, চেক প্রতারণা, মাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলাও। মো. সাইদুল ইসলাম সিহাব বেঞ্চ সহকারীর দায়িত্ব পালনকালে এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার নথি না থাকায় এবং ধার্য তারিখ ডায়েরিতে না লেখার কারণে মামলাগুলো পরিচালনায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
৫ জুন চট্টগ্রাম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক হিসেবে যোগদান করেন মাকসুদুর রহমান। যোগদানের পর এসব অনিয়ম তার কাছে ধরা পড়ে এবং চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ ওবায়দুস সোবহানের দফতরে তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ দেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। মামলার নথি না পাওয়ার ঘটনায় আদালতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেঞ্চ সহকারী শিহাবকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। শোকজের মাত্র ৪ কার্য দিবসের পর ১ ডিসেম্বর থেকে আদালত শীতকালীন অবকাশে বন্ধ হয়ে যায়। অর্থের বিনিময়ে মামলার নথি সরিয়ে ফেলা হয়েছে কিনা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন আদালতসংশ্লিষ্টরা। আদালতের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেঞ্চ সহকারী শিহাব কর্তব্যকাজে চরম অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। প্রায় বিলম্বে অফিসে আসায় একাধিকবার বিচারকের ভর্ৎসনার শিকার হন। ছুটি ছাড়া অফিসে না আসায় একাধিকবার তাকে শোকজও করা হয়েছে। ১ম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে অতিরিক্ত পিপি হুমায়ন কবির জানান, নতুন ব্যক্তিকে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বেঞ্চ সহকারী হিসেবে শিহাব নিজে না বুঝলেও পুরাতনদের কাছ থেকে সহায়তাও নেননি। মামলার ফাইল রাখা হতো এলোমেলোভাবে, মামলার ধার্য তারিখ খাতায় লেখা হতো না, হয়নি বহু মামলার আদেশ লেখাও। এ কারণে আদালতে মামলার বিচার কার্যক্রমে সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতকে আইনজীবীরা বহুবার জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বেঞ্চ সহকারীকে অন্য আদালতে বদলি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলার আদেশ না লেখাসংক্রান্ত চট্টগ্রাম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ১ম আদালতের একটি নোটের সারসংক্ষেপে দেখা গেছে, অনেকগুলো মামলায় ডায়েরিতে তারিখ প্রদান করা এবং মামলার আগামী ধার্য তারিখ ডায়েরিতে অগ্রবর্তী করা হয়নি। এমনকি অনেকগুলো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ হলেও কোনো প্রদর্শনী চিহ্নিত করা হয়নি। অনেকগুলো মামলার চার্জ গঠন করা হলেও চার্জ ফ্রেম করা হয়নি। এসব অভিযোগও রয়েছে শিহাবের বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত বেঞ্চ সহকারী শিহাব বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়, আদালত ২৬ নভেম্বর শোকজ করলে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এলোমেলো অবস্থায় থাকা সব ফাইল ঠিক করে দিয়েছি। আর নথি গায়েবের অভিযোগ থাকলে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ১ম আদালত আমাকে বদলির জন্য কর্ম অবমুক্তি দিতেন না। কয়েকজন কলিগ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। হঠাৎ করে বদলি করার কারণে সামান্য কিছু মামলার আদেশ লেখা হয়নি। শোকজ করার পর ওইসব মামলার আদেশ লিখে দিয়েছি।
কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম শিহাব ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর বেঞ্চ সহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। শুরু থেকে চট্টগ্রাম যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ১ম আদালতে দায়িত্ব পালন করেন। ৩০ অক্টোবর এক আদেশে তাকে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৫ম আদালতে বদলি করা হলে ২ নভেম্বর যোগদান করেন।

এবার ব্যর্থ হলে ঢাকার নেতাদের বাড়ি ঘেরাও

বিএনপির বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন কনভেশনে আগত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক ভিপি, জিএস ও ছাত্রদলের সাবেক নেতারা। তাদের অভিযোগের তীর ছিল ঢাকা মহানগরের দিকে। বিগত আন্দোলনে মহানগর পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় এর তীব্র সমালোচনা করেছেন তারা। অনেকে বলেন, আন্দোলনে তৃণমূলের নেতারা মাঠে থাকলেও ঢাকাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা আত্মগোপনে থেকে নিজেদের সম্পদ রক্ষা করছেন। এবার ব্যর্থ হলে ঢাকা মহানগর নেতাদের বাড়ি ঘেরাও করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেন তারা। চাকসু সাবেক এজিএস মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, ঢাকা নেতাদের এমনভাবে মাঠে নামতে হবে যেন আগামী ৫ জানুয়ারির পর দেশ খালেদা জিয়ার কথায় চলে। টাঙ্গাইল জেলার নেতা ফরহাদ ইকবাল বলেন, ঢাকার নেতাদের বলতে হবে তারা রাজপথে থাকবেন কিনা? তৃণমূলে আমরা প্রস্তুত। এবার ঢাকার নেতাদের সংগঠিত হতে হবে।
ঢাকা মহানগরকে শক্তিশালী করতে সংগ্রাম কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার নেতা মোতাহার হোসেন। খুলনার সফিকুল আলম তুহিন বলেন, খালেদা জিয়া গুলশানে বাসভবনে অবরুদ্ধ আর তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসনে থাকবেন- এটা আমরা দেখতে চাই না। যশোরের সাবেরুল হক সাবু বলেন, এখানে আপস নয়, লড়াই করতে হবে। ৫ জানুয়ারির আন্দোলন ঘিরে ঢাকার নেতারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি।
ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি ও সাবেক সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান বলেন, ৫ জানুয়ারিতে হেরে যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা দায়ী নয়, আমরাই এর জন্য দায়ী। ২৪ বছর ধরে রাজনীতি করছি, সামনের কাতারে থাকার চেষ্টা করেছি। দুঃখ হয়, গত তিন বছরেও ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। অথচ প্রায় ৫০ জনের মতো লোক প্রতিনিয়ত ম্যাডামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, গুটিকয়েক নেতা দলকে কুক্ষিগত করে রাখবে এটি হবে না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ৫ জানুয়ারির আন্দোলনে ঢাকার নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন। এবার ব্যর্থ হওয়া যাবে না। এবার গাফলতি করলে প্রথমে তাদের বাড়ি ঘেরাও করা হবে।
সাবেক সংসদ সদস্য আসিফা আশরাফী পাপিয়া কনভেনশনের আয়োজকদের কাছে জানতে চান- আন্দোলনের ডাক দিলে মাঠে থাকবেন কিনা? পুলিশের লাঠির বাড়ি খেয়ে স্কয়ার, ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে লাশ হতে পারবেন কিনা? ৯০ দশকের মতো রাজপথে থাকতে পারবেন কিনা? বরিশালের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুল হক নান্নু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক দিন ধরে গুলশানে যাই না। কারণ সেখানে ব্যবসায়ীদের মর্যাদা বেশি। আর তারেক রহমানকে যারা গালি দেয় তাদের মূল্যায়ন করা হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি শহিদুল হক মিলন বলেন, তৃণমূলে গিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। ঢাকা থেকে কমিটি গঠন করে চাপিয়ে দিলে আন্দোলন সফল হবে না।
তৃণমূল নেতাদের এসব বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নেতারা বিব্রত হয়েছেন। তারা বারবার বক্তাদের নিজেদের সমালোচনা না করে সরকারবিরোধী আন্দোলন কী করে সফল করা যাবে সেই বক্তব্য রাখার অনুরোধ করেন। কিন্তু তা না শুনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
আত্মপক্ষ সমর্থন করে ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, সেসময় মহানগরের দায়িত্বে যারা ছিলেন ব্যর্থতা তাদের। আমরাও এ ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারি না। মহানগরের পক্ষ থেকে ব্যর্থতার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।

খালেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার বিচারক বদল

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায়কে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে। এই বিচারক খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারের দায়িত্বে ছিলেন।
বিচারক বাসুদেব রায় ১৯ মার্চ এ দুটি মামলায় খালেদা ও তারেক রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। আর বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চতুর্থ দিনের মতো অল্প সময়ের জন্য সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। অভিযোগ গঠনের পর থেকেই এই বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আসছেন খালেদার আইনজীবীরা।
ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশংকায় ২৩ নভেম্বর এই বিচারক পরিবর্তনের জন্য হাইকোর্টে একটি আবেদনও দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে আবেদনটি বিচারাধীন রয়েছে। আর এ অবস্থার মধ্যেই বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিচারক বাসুদেব রায়ের স্থলে আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মতামত) আবু আহমেদ জমাদারকে নিয়োগের গেজেট জারি করা হয়েছে।
এর আগে বিচারক বাসুদেব রায়ের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন খালেদার আইনজীবীরা। তার নিয়োগ এবং অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আপিল বিভাগে গেলে সেখানেও খালেদা জিয়া হেরে যান। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন বিচারক বাসুদেব রায়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুদক ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুদক আরও একটি মামলা করে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাড়াও মামলা দুটির আসামিরা হচ্ছেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। এদের মধ্যে খালেদা জিয়া দুটি মামলারই আসামি। তারেক, কামাল, শরফুদ্দিন, মমিনুর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি। আর জিয়াউল, মনিরুল, হারিছ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি। পলাতক আছেন হারিছ চৌধুরী, কামালউদ্দিন ও মনিরুল। এরা মামলার শুরু থেকে পলাতক। বাকিরা জামিনে আছেন।

সুন্দরবনে ট্যাংকারডুবির দায় নৌ মন্ত্রণালয়ের

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবি এবং এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির জন্য নৌ মন্ত্রণালয়কে দায়ী করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তারা বলেছে, মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। মন্ত্রণালয় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে বলে সংসদীয় কমিটি আশংকা প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে অবিলম্বে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধেরও সুপারিশ করেছে কমিটি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সদস্যরা এসব কথা বলেন। বৈঠকে জানানো হয়, ২০১১ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটি সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করে। তারা তখন সুন্দরবনের বিকল্প হিসেবে মংলা-ঘসিয়াখালী-মোরেলগঞ্জ চ্যানেল পুনঃখনন করে এ পথে নৌ চলাচলের নির্দেশনা দেয়।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এ সুপারিশের আলোকে তখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ২০১৪ সালের মধ্যে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করা হবে। মংলা-ঘসিয়াখালী-মোরেলগঞ্জ চ্যানেল পুনঃখনন করে এ পথে নৌ চলাচলের বিকল্প পথ তৈরি করা হবে। কিন্তু গত তিন বছরেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় গতকাল কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
কমিটির সদস্যদের মতে, কিছুদিনের মধ্যে ২০১৪ সাল শেষ হবে। কিন্তু মন্ত্রণালয় কথা দিয়ে কথা রাখেনি। কেন তারা কথা রাখেনি তা জানতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। সম্ভব হলে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গেও তারা বৈঠকে বসবেন।
বৈঠকে কমিটির একজন সদস্য বলেন, নৌমন্ত্রী বিভিন্ন সময় এমনভাবে কথা বলেন যা শুনে মনে হয় না আসলে তিনি কি- মন্ত্রী না একজন শ্রমিক নেতা। তার কথায় ও কাজে আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। এত বড় একটি দুর্ঘটনার পরও মন্ত্রী ছিলেন নির্বিকার। তিনি তখন তার নির্বাচনী এলাকায় হোসাফ পাওয়ারের টাকায় কেনা কম্পিউটার বিতরণ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
কমিটির অন্য সদস্যরাও নৌমন্ত্রীর ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে দুর্ঘটনাকবলিত জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারটি চলাচলের জন্য কোনো প্রকার ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে কিনা তা সংসদীয় কমিটিকে জানাতে বলা হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন অয়েল ট্যাংকার চলাচল বন্ধের সুপারিশ করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এত বড় দুর্ঘটনার পরও যদি নৌমন্ত্রণালয়ের টনক না নড়ে তাহলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।
কমিটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির কারণে সুন্দরবন এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি কি কি প্রভাব পড়বে বা পড়েছে সে বিষয়ে একটি সমীক্ষা রিপোর্ট যত দ্রুত সম্ভব তৈরি করার জন্য পরিবেশ ও বন বিভাগকে নির্দেশনা দেয়। এ সময় কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, দুর্ঘটনার পর নৌমন্ত্রণালয় গাফিলতি না দেখালে তেল এত বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত না। তারা তেল অপসারণ কার্যক্রমে নৌমন্ত্রণালয়ের গাফিলতি রয়েছে বলেও দাবি করেন।
বৈঠকে জানানো হয়, সুন্দরবনের মধ্যে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতে সুন্দরবনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য দীর্ঘদিনের জন্য নষ্ট হতে পারে। ডুবে যাওয়া ট্যাংকারের ৩ লাখ ৫৭ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েলের মধ্যে ১৭ ডিসেম্বর তারিখ পর্যন্ত অনুন্নত পদ্ধতিতে মাত্র ৬০ হাজার লিটার সংগ্রহ করা হয়েছে। সুন্দরবনের ৩০০ বর্গকিলোমিটার অঞ্চল পর্যন্ত তেল ছড়িয়ে পড়েছে। তেল সংগ্রহের জন্য নৌমন্ত্রণালয়ের ভূমিকা মুখ্য হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তারা সে ভূমিকা রাখেনি। এজন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে শ্যালা নদী ও আশপাশের নদীতে অক্সিজেনের মাত্রা বর্তমানে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। যা স্বাভাবিক মাত্রা ৫-এর চাইতে বেশি। এসব নদীর পানিতে গ্রিজ অয়েলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় সুন্দরবন এলাকায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় বের করার জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মো. নূরুল করিমকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, ট্যাংকারটি ডুবে যাওয়ার পর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করেনি। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের এ ধরনের দুর্ঘটনার পর তেল অপসারণের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের বিপর্যয় নিয়ে কমিটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ শেষে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশ করেছে।
ডুবে যাওয়া ট্যাংকারটির বৈধ কাগজপত্র ছিল না- দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের পর্যবেক্ষণে জানতে পেরেছি কেবল ডুবে যাওয়া ট্যাংকারই নয়, এমন বহু তেলবাহী ট্যাংকারের বৈধ কাগজপত্র নেই। ত্র“টিপূর্ণ এসব নৌযান চলাচল যত দ্রুতসম্ভব বন্ধ করতে আমরা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে বলেছি। তারা এটি না করলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ট্যাংকারটি ডুবের যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি এর চারপাশে বুম বা ভাসমান বেরিকেড তৈরি করা যেত তাহলে তেল এত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত না। তিনি বলেন, ভাসমান তেল অপসারণের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে একটি বিশেষ জাহাজ ছিল। কিন্তু সুন্দরবনের দুর্ঘটনায় এ জাহাজটিকে ঘটনাস্থলে আনা হয়নি। পরে কমিটি জানতে পেরেছে জাহাজটিকে ঘটনাস্থলে আনতে হলে সমুদ্রপথে আনতে হবে। কিন্তু এ জাহাজটিরও সমুদ্রপথে চলাচলের ছাড়পত্র নেই।
কমিটির সদস্য পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ, মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, টিপু সুলতান, মজিবুর রহমান চৌধুরী এবং মেরিনা রহমান বৈঠকে অংশ নেন। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নৌচলাচল দুঃখজনক-পরিবেশমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ সত্ত্বেও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচলে নৌমন্ত্রণালয় অনুমতি দেয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল করছে। নৌযান চলাচলের জন্য দুটি নৌরুট করার কথা ছিল। কিন্তু তা এখনও করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এটা দুঃখজনক। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। নৌদুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, পাশাপাশি তাদের ছবিও রাস্তার মোড়ে মোড়ে টাঙিয়ে দেয়া উচিত।
পরিবেশদূষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সন্দুরবনে তেলের দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। বিদেশিদের সহায়তা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন প্রয়োজন। এজন্য কাজ করছে ইআরডি। তারপরও সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তদন্ত রিপোর্ট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। কী ঘটেছে, ক্ষতির পরিমাণ কত, তা নির্ধারণের জন্য আমাদের গবেষণার প্রয়োজন।
তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনে খুব বেশি ক্ষতি হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের ঘটনা নগণ্য। নৌপথের নির্দেশনার বিষয়ে সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রশাসন চলা আর ঘোড়ার গাড়ি চলা একই কথা।

বয়স হয়েছে সাহস কমেনি, প্রাণ দিতে প্রস্তুত আছি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে একটা গুলি চালানো হলে জনগণ এর জবাব দেবে। বন্দুক-গুলি, বোমা, টিয়ার শেল- সবকিছুকে উপেক্ষা করে এবার আন্দোলনে নামতে হবে। বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ছাত্র কনভেনশনে আন্দোলনে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এ বিজয়ের মাস শেষে যেকোনো সময় আমি আন্দোলনের ডাক দেব। তোমরা প্রস্তুত হও। ছাত্র-জনতাকে আমি বলছি, এ জালেম সরকারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সবাই রাস্তায় নামুন। স্লোগান, হাততালি আর গালাগালি বাদ দিয়ে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এবার ঢাকার রাজপথ খালি যাবে না। নেতাকর্মীদের সাহস দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বয়স হয়েছে, কিন্ত সাহস আছে। গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিতেও রাজি আছি। তোমাদের সঙ্গে আমিও রাজপথে নামব। সব রাজনৈতিক দলকে যার যার অবস্থান থেকে এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমানকে নিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের জবাবে খালেদা বলেন, অন্যকে উপদেশ দেয়ার আগে আপনার ভাষা সংযত করুন। নিজের জিহ্বা ঠিক করেন, নিজের মুখটা সামাল দেন। যে ভাষায় কথা বলছেন, আপনি দেশের স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী হলেও এসব কথা আপনার মুখে শোভা পায় না। সংযত হয়ে কথা বলুন, তাহলে জনগণ কিছুটা হলেও শান্তি পাবে। ছাত্রলীগের গুণ্ডাদের সামলান। তিনি বলেন, আমরা যা বলি, সত্য বলি। তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বলি। আমাদের ছেলেপেলেদের এমন শিক্ষা দেইনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের গালি দিতে দিতে বিদেশীদেরও বাদ দেয়া হয় না। বিদেশীদেরও যা খুশি তা-ই বলা হয়।’
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের অবস্থা খারাপ হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ পিছিয়ে যাবে। শেখ হাসিনা থাকলে দেশের গণতন্ত্র এমনকি বাংলাদেশ থাকবে না।
আবারও নির্দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে খালেদা বলেন, এখনও সময় আছে, গুম-খুন-হত্যা-গুলি বন্ধ করুন। যদি ভালো কাজ করে থাকেন, জনপ্রিয়তা থাকলে নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করুন। জনপ্রিয়তা প্রমাণের একমাত্র উপায় হচ্ছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন।
৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের উদ্যোগে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা দেশ থেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের নির্বাচিত ও সাবেক নেতারা অংশ নিয়েছেন। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা নেতাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ জন বক্তব্য রাখেন। এদিকে সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এরপরই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ডাকসুর তৎকালীন ভিপি ও কনভেনশনের সভাপতি আমানউল্লাহ আমান। সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্বে ‘স্বৈরাচারী’ আওয়ামী লীগ সরকারকে হটানোর শপথ নেয়ার কথা জানিয়ে আমান সবাইকে এ সংগ্রামে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। কনভেনশন পরিচালনা করেন ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন।
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, নজরুল ইসলাম খান ও মির্জা আব্বাস এবং সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুল ইসলাম বাবুল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শিরিন সুলতানা, হাবিব উন নবী খান সোহেল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, খন্দকার লুৎফুর রহমান, সাইফুদ্দিন মনি, কামরুজ্জামান রতন, কাদির কামাল, শামসুজ্জামান সামু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোতাহার হোসেন, আশরাফ উদ্দিন খান, আজিজুল বারী হেলাল, আলী হায়দার বাবুল, শফিউল বারী বাবু, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, হেলেন জেরিন খান, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, শফিকুল ইসলাম মিলন, মীর সরাফত আলী সপু, মাহবুবুর রহমান শামীম, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সাইফুল আলম নীরব, হাবিবুর রশিদ হাবিব, হাসান মামুন, ভিপি সাইফুল ইসলাম, বদরুল আলম নাসিম, মাহবুবুল হক নান্নু, শামসুল আলম তোফা, মুন্সি ফজলুল বাছেত আঞ্জু, হারুন অর রশিদ আজাদ, আল আমিন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, গাজী রায়হান উদ্দীন টুকু, ইলিয়াস আহমেদ, রহমত ইলাহী, গোলাম কাদির কামাল, ইফতেখার হোসেন, বিলকিস জাহান শিরিন, ফরহাদ ইকবাল, নেওয়াজ হালিম আরলি, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ।
খালেদা জিয়া বলেন, আমরা শান্তি চাই, দেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে চাই। আওয়ামী লীগ সংবিধানকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছে, যাতে নির্বাচন করলে অন্য কেউ ক্ষমতায় আসতে না পারে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে না বলেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এমনকি অনেক রাজনৈতিক দলও এতে অংশ নেয়নি। তাদের আহ্বানে দেশের মানুষ ওই নির্বাচন বর্জন করেছে। নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে কোনো মানুষ ছিল না। ছিল কুকুর।
বর্তমান সংসদকে অবৈধ দাবি করে তিনি বলেন, এ অবৈধ সংসদে যে আইন করা হচ্ছে সেগুলোও অবৈধ।
পুলিশকে গুলি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের তো মা-বাবা, ভাই-বোন ও সন্তান আছে। কাদের গুলি করবেন? গুলি চালাবেন না।’ শেখ হাসিনার বাবার দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘আমি বলব না, একটা গুলি চালালে পাল্টা গুলি চলবে। আমি বলব, একটা গুলিও চালাবেন না। র‌্যাব বাতিল করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বাহিনীর সদস্যরা পেশাদার খুনি হয়ে গেছে। কর্নেল জিয়াকে গ্রেফতার করলে সব গুম-খুনের তথ্য বের হয়ে আসবে। জিয়া হয়তো বলবেন, তিনি নির্দেশ পালন করেছেন। আমরা সেটাই শুনতে চাই, কে নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি কিছু সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এটা সঠিক নয়। সময় শেষ হয়ে এলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। বিরোধীদলীয় নেতা ছিলাম। আমি দেশের নাগরিক। আমার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তারা বৈঠক করলে সমস্যা কোথায়? আপনি বিডিআরের খুনিদের সঙ্গে চা খেতে পারেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বলে, প্রশাসনের সবাই নাকি বিএনপির লোক। সবাই আমাদের লোক হলে তোমাদের সমর্থন-ই তো নেই। তোমরা চুরি করে ক্ষমতায় এসেছ।’ সম্প্রতি এক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির গন্ধ পেলেই ওএসডি বা চাকরিচ্যুত করা হয়। সিভিল প্রশাসন ও পুলিশে ভালো ভালো অফিসারদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতেও একই অবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর ১৫ মামলা এবং তার দলের নেতাকর্মীদের ৮ হাজার মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে দাবি করে বিএনপি প্রধান বলেন, মিগ-২৯সহ অনেক মামলা আছে, যেগুলোতে শেখ হাসিনার সাজা হতো। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় এসে ওইসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমার এবং আমার দলের নেতাকর্মীদের মামলা চললে, শেখ হাসিনার মামলাও পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।
গত কয়েক বছরে টাকা পাচারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের লোকজন জড়িত দাবি করে তিনি বলেন, ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালে সুইস ব্যাংকে প্রচুর টাকা পাচার হয়েছে। সুন্দরবনের ঘটনা পরিকল্পিত দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে এটি করা হয়েছে। যার ট্যাংকার দুর্ঘটনাকবলে পড়েছে, তাকে ধরা হয়নি। হয়তো সে আওয়ামী ঘরানার কেউ হবে। চাল আমদানির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কমিশন পেতে আমদানি করা হচ্ছে। লুটপাট তাদের মূল উদ্দেশ্য। এভাবে লুট করে দেশকে শেষ করে ফেলছে তারা। সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে খালেদা বলেন, দেশে কোনো বিনিয়োগ নেই। গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে দেশী ও বিদেশীরা বিনিয়োগ করছে না। শিক্ষাঙ্গনও এ সরকার ধ্বংস করে ফেলছে। নকল করে পাসের হার বাড়ানো হচ্ছে, কিন্ত শিক্ষার মান বাড়ছে না। এর আগে সকালে কনভেনশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘অশিক্ষিত জানোয়ার’ বলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারেকের সত্য ভাষণে সরকারের গায়ে ‘জ্বালা’ ধরেছে মন্তব্য করে সরকার প্রধানকে ‘সংযত হয়ে’ কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে কমছে না তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে কমলেও এর সুফল পাচ্ছেন না দেশের ভোক্তারা। যদিও এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে পাঁচ দফা বাড়ানো হয়েছিল এই তেলের দাম। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাজারে তেলের দাম বেশি হওয়ায় পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এসব ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে বিদ্যুৎ, পানিসহ সেবা খাতের বিলও। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ তো রয়েছেই। এতে ভোক্তাদের যেমন দুর্ভোগ কমছে না, তেমনিভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় পণ্য মূল্যের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো জরুরি বলে অভিমত দিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গত ৫ বছরে চার দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিল। অথচ বিশ্ববাজারে সেই অপরিশোধিত তেলের দাম কমতে কমতে সর্বনিুের রেকর্ড গড়লেও গত ৬ মাসে সরকার এক টাকাও কমায়নি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫৬ দশমিক ৬৭ ডলারে। যা গত ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম নেমে গিয়েছিল ৬০ ডলারে। এরপর ২০১১ সালের এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ বেড়ে হয় ১২৫ মার্কিন ডলার। ধারবাহিক উত্থান-পতনের পর চলতি বছরের জুন থেকে টানা দরপতন শুরু হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত জুন থেকে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৪৮ শতাংশ কমেছে। খোদ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমায় গত অক্টোবর থেকে বিপিসি লাভের ধারায় ফিরেছে। এ কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া ভর্তুকিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তার মতে এভাবে ৬-৭ মাস চলতে থাকলে বিপিসি অতীতের সব দায় দেনা-পরিশোধ করে লাভ করতে পারবে। তবে তেলের দাম কমানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য জ্বালানি তেলের দাম কমানো নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করছে। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, ইতিমধ্যে ভারতসহ অনেক দেশে তেলের দাম অনেক কমানো হলেও আমাদের সরকার নিশ্চুপ। গত মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম আড়াই টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে ভারত। সর্বশেষ ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। সেবার পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি বাড়ানো হয়েছিল ৭ টাকা করে। ওই সময় সরকার প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, বিশ্ববাজারে দাম কমলে স্থানীয় পর্যায়েও দাম সমন্বয় করা হবে। কিন্তু সরকার তার সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যে হারে কমেছে তাতে সরকারের এই মুহূর্তে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪ টাকা কমানো উচিত। তিনি বলেন, তেলের দাম না কমিয়ে সরকার ইতিমধ্যে তার প্রতিশ্র“তি ও অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। তার মতে মূলত তেল চুরি, দুর্নীতি আর লুটপাটের জন্যই সরকার ইচ্ছা করেই তেলের দাম কমাচ্ছে না। তিনি পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলেন, গত জুন মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করলেও বিপিসি বলছে তারা অক্টোবর থেকে কম দামের তেল পেতে শুরু করেছে। তার মতে, এ ৫ মাসের তেল ক্রয় নিয়ে শত শত কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।
জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, এর আগে সরকার যুক্তি দেখিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেল আমদানিকারক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিপিসির লোকসান বাড়ছে। ফলে কয়েক দফায় তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তখন প্রতিটি পেট্রলপাম্পে একটি তালিকা ঝুলিয়ে রাখা হতো। সরকার কোন কোন খাতে কত টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে, তাতে উল্লেখ ছিল ওই তালিকায়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার ধারা বন্ধ হয়েছে বেশ আগেই। ইতিমধ্যে সরকার তেলের জন্য ভুর্তকি দেয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু ৬ মাসে তেলের দাম কমেছে ৪৮ শতাংশের উপরে। আন্তর্জাতিক বাজারে এখন জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রয়েছে। তারপরও সরকার তেলের দাম না কমানোর রহস্যজনক। তিনি অবিলম্বে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম সমন্বয় করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দেশের বাজারে যখন তেলের দাম বাড়ানো হয়, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ১ ব্যারেল তেলের দাম ছিল ১২২ ডলার। ওই সময় সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বৃহস্পতিবার প্রতি ব্যারেল তেলের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। অথচ দাম কমানো নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের মধ্যে কোনো ধরনের টু শব্দ নেই। উল্টো দেশের স্থানীয় বাজারে (গ্রাম পর্যায়ে) ডিজেল ও কেরোসিনের দাম সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি বিক্রি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লাবলু বলেন, জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে সরকার বিদ্যুতের দামও বাড়িয়েছে একাধিকবার। এখনও একই খোঁড়া যুক্তি অর্থাৎ তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, সরকারের এ যুক্তি কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম ক্রমেই কমছে। অথচ একই কারণ দেখিয়ে সরকার বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে গিয়ে কার্যত বোঝাটা পড়ছে ভোক্তাদের ওপরই। তিনি বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে অবিলম্বে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে বিশ্লেষকরা বলছেন সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে তেলের উৎপাদন বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে ওপেকভুক্ত দেশগুলোতে ১৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রেও তেল উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে জাপান, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের অর্থনীতির ধীর প্রবৃদ্ধি। ফলে আইইএ বলছে, বিশ্বে তেলের চাহিদা কমবে। অর্থাৎ চাহিদা এবং সরবরাহ দুই দিকের চাপে দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) চলতি বছরের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে। বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তেলের রফতানি কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারের তুলনায় আমাদের খুচরা বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম। কারণ সরকারকে প্রতিবছর এই খাতে অনেক টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে দাম কমানোর যৌক্তিকতা নেই। বর্তমানে দেশে কেরোসিন ৬৮, পেট্রল ৯৬ ও অকটেন ৯৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, চলতি বছরের জুন থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকলেও আর্থিক সংকট ও গোডাউনের অভাবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ মাস কম দামে তেল ক্রয় করতে পারেননি। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে যে পরিমাণ তেল ক্রয় শুরু হয়েছে তা অক্টোবরের শেষদিক থেকে কম দামে বিক্রি করতে পারছেন। এতে লিটারপ্রতি ডিজেলে ২-৩ টাকা লাভ থাকছে বিপিসির। ৪ মাস কম দামে তেল ক্রয় করতে না পারায় কি পরিমাণ অর্থ গচ্চা গেছে এই প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বছরে গড়ে দেড়শ’ থেকে ২শ’ জাহাজ তেল আমদানি করতে হয় বিপিসিকে। প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জাহাজ তেল আমদানি হয়। এই হিসাবে চার মাসে কম মূল্যে ১০০ জাহাজ তেল আনতে পারেনি। এর পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ মে. টন। বর্তমানে দেশে বছরে তেলের চাহিদা ৫৮ লাখ মে. টন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকার পরও বেশি দামে তেল ক্রয় করায় বিপিসিকে ওই সময়ে কমপক্ষে ২২শ’ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে ৪-৫টি দেশের সঙ্গে তেল ক্রয়ের চুক্তি আছে। এর মধ্যে কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া অন্যতম। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর গিয়ে আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেছে বিপিসি। গড়ে ৩ মাস ৬ মাস ও এক বছরের জন্য চুক্তি হয়ে থাকে। ওই চুক্তিতে নির্দিষ্ট করে কোনো মূল্য বেঁধে দেয়া হয় না। তেল জাহাজে তোলার সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও প্রিমিয়াম মিলিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে জাহাজীকরণের আগের দুই দিন ও পরের দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের গড়ের সঙ্গে প্রিমিয়াম যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হয়। কাজেই চুক্তির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেলে বিপিসিকে বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল ক্রয় করতে হচ্ছে এ কথা সঠিক নয়।
বিপিসি বলছে গত অর্থবছর বিপিসির ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা। একই সময়ে সরকারকে ৪ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে। এ হিসাবে জ্বালানি তেল কেনাবেচায় প্রকৃতপক্ষে ২ হাজার ৪৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু রাজস্ব পরিশোধের চাপ থাকায় তেলের দাম কমাতে পারছে না তারা।
বিপিসির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যখন বেশি ছিল (জুনের আগে) তখন তাদের প্রতি লিটার তেলের আমদানি দাম পড়ত ৬৫ টাকা। আর স্থানীয় বাজারে সেই তেল বাজারে বিক্রি হতো ৬৮ টাকায়। কিন্তু প্রতি লিটারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ৭-৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। আর তাতেই ডিজেল বিক্রিতে লোকসানে পড়ে বিপিসি। বর্তমানে প্রতি লিটার ফার্নেস বিক্রি করে ২ টাকা মুনাফা করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া পেট্রল, অকটেন ও জেট ফুয়েল বিক্রি করে অনেক আগে থেকেই মুনাফা করছে। বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বছরে দেশে আমদানি করা ৫৭ লাখ টন জ্বালানি তেলের মধ্যে ৩৩ লাখ টনই ডিজেল। যা মোট আমদানির ৬৫ শতাংশ। ডিজেলের পর বেশি আমদানি হয় ফার্নেস অয়েল। এর পরিমাণ ১০-১২ লাখ টন। অন্যদিকে প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল কিনতে বিপিসির ব্যয় হয় ৫০ টাকা। তা বিক্রি থেকে আয় হয় ৬০ টাকা। এ হিসাবে আমদানি করা ফার্নেস অয়েল থেকে গত অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা মুনাফা করে বিপিসি।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বাজেটে জ্বালানি তেল আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য বাড়ানো হয়েছে। বেসরকারি খাতের একাধিক কোম্পানি বর্তমানে ভ্যাটমুক্ত সুবিধায় তেল আমদানি করছে। ট্যারিফ-ভ্যাট মওকুফ হলে বিপিসিও দাম কমাতে পারবে। কিন্তু ভ্যাট মওকুফ করার পরিবর্তে বিপিসি থেকে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। ট্যারিফ মূল্য বাড়ানোর ফলে চলতি অর্থবছর রাজস্ব আহরণ ১ হাজার কোটি টাকা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ২ টাকা কমালে, ফার্নেস ভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় কমবে ইউনিট প্রতি প্রায় ৫০ পয়সা। তাতে পিডিবি বছরে ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবে। সব মিলে বর্তমানে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিডিবির নিজস্ব ক্ষমতা ৭৯১ মেগাওয়াট, ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার বা আইপিপির ২৯৭ মেগাওয়াট এবং ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর এ ক্ষমতা ৯১৭ মেগাওয়াট।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার ফলে আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও কমবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের অবস্থান ভালো হবে। এমন আভাস দিয়ে সম্প্রতি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করছে। এ তেলের মূল্য কমায় আগামী ২০১৫ সালের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চমক আসতে পারে। কমবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্য কমার ফলে পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। শিল্প খাতে জ্বালানি তেলের ব্যবহারে ব্যয় কমবে। উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পাবে।