Saturday, February 10, 2018

ঢাকায় কবরের জায়গা মিলছে না by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

মোশাররফ মিয়ার বড় ইচ্ছা ছিল ঢাকার যেকোনো কবরস্থানে স্থায়ীভাবে তার মৃত মাকে কবর দেবেন। অন্তত দিনে না হোক সপ্তাহে তার মায়ের কবর দেখাশোনা করবেন। কিন্তু তার সেই ইচ্ছা পূরণ হলো না। মা জেবুন্নেসাকে শেষ পর্যন্ত গাজীপুরের গ্রামেই সমাহিত করতে হলো। এই কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি কেঁদে ফেলেন। দু’বছর আগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাময়িক সময়ের জন্য কবর দেয়ার কথা বলেছিল কবরস্থান কর্তৃপক্ষ।
এতে আমাদের পরিবারের কেউ রাজি হননি। রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ৭০ বছরের পুরনো স্থায়ী (সংরক্ষিত) একটি কবরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে পরপর সমাহিত করা হয়েছে। প্রথমে স্বামী মরহুম মো. আফাজ উদ্দিন, পরে স্ত্রী এবং সর্বশেষ চলতি বছরের ২৯শে জানুয়ারি মেয়েকে কবরটিতে দাফন করা হয়। এ প্রসঙ্গে আজিমপুর কবরস্থানের মোহরার মো. নুরুল হুদা বলেন, তাদের পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী তারা তিন সদস্যকে এখানে সংরক্ষিত জায়গায় কবর দিয়েছেন। ১৯৯৩ সালের পর থেকে স্থায়ী কবরের কোনো সুযোগ নেই। তবে সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিত কবরে কাউকে সমাহিত করতে হলে ১৫ হাজার ৫শ’ টাকা ফি দিতে হবে। আর সাধারণ সাময়িক ছোট-বড় যেকোনো কবরের জন্য নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা। প্রতি দু’বছর পরপর তা ভেঙে ফেলা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো জানান, এখন গড়ে প্রতিদিন ৩০টি লাশ আসে। ৫ বছর আগে ২০ থেকে ২৫টি লাশ আসতো। শুধু জেবুন্নেসা নন, ঢাকায় জায়গার অভাবে অনেকে এখন লাশ গ্রামে নিয়ে যান। আবার ঢাকায় এরকম বহু কবর রয়েছে যেখানে একের অধিক ব্যক্তির জায়গা হয়েছে। ঢাকা শহরে মরদেহ সৎকারের জায়গা সীমিত হয়ে গেছে। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলাম ধর্ম কবরের উপরে কবর দেয়াকে
স্বীকৃতি দেয়। ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে দেখা গেল, অসংখ্য কবর একটি আরেকটির গায়ে লাগানো। কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। প্রচুর কবরের উপরে দেখা যায় একের অধিক সাইনবোর্ড লাগানো। অর্থাৎ একের অধিক মানুষের জায়গা হয়েছে একেকটি কবরে। কখনো কখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবার থেকে, ভিন্ন এলাকা থেকে তারা এসেছেন।
ঢাকায় ৮টি সরকারি কবরস্থান রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ঢাকা উত্তরের ৬টি কবরস্থানে স্থায়ী ভাবে আর কোনো কবরের জায়গা দেয়া হচ্ছে না। আজিমপুরের কবরস্থানটিতে ৩০ হাজারের মতো কবরের জায়গা আছে। এর মধ্যে স্থায়ী আছে প্রায় ৭ হাজার। ঢাকার বনানী কবরস্থানে রয়েছে ২২ হাজার কবরের জায়গা। ঢাকার রায়েরবাজারে প্রায় ৮১ একর জায়গার ওপর নতুন একটি কবরস্থান হয়েছে। যেখানে ৯০ হাজার কবর ধরবে। জুরাইনে ১৭ একর জায়গায় ২০ হাজার কবরের জায়গা আছে। ২০০৫ সাল থেকে দক্ষিণের জুরাইনে স্থায়ীভাবে কবর দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে যারা কবরের জায়গা আগে সংরক্ষিত করেছেন তারা স্থায়ীভাবে কবর দিচ্ছেন বলে জুরাইন কবরস্থানের দায়িত্বরত কর্মকর্তা হাফেজ মাওলানা মো. শোয়াইব হোসেন জানিয়েছেন। অনেকে আবার স্থায়ী কবরে পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়-স্বজনকে কবর দিচ্ছেন। তিনি আরো জানান, এখানে গড়ে ৮ থেকে ১০টা লাশ আসে। মাওলানা মো. শোয়াইব বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে কবরের উপর কবর দেয়া জায়েজ আছে। দেড় থেকে দু’বছর পর কবর ভাঙা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যক্তিগত আবাসিক ভূমি উন্নয়ন আইনে ঢাকা শহরে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক শূন্য চার একর জমি রাখার কথা বলা হয়েছে ধর্মীয় উপাসনায়, মরদেহ সৎকার ও কমিউনিটির অন্যান্য সামাজিক সুবিধার জন্য। যেকোনো নতুন আবাসিক এলাকা তৈরির ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করেই এর পরিকল্পনা পাস করানোর নিয়ম। এটা হয়েছে ২০০৪ সালে। ১৯৫৯ সালে ঢাকার জন্য একটা মাস্টার প্ল্যান হয়েছিলো। এরপর ১৯৯৫ এবং ২০১৫ সালে আবারো প্ল্যান করা হয়। নগরবিদরা বলছেন, ঢাকার জনসংখ্যা এখন দেড় কোটির উপরে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নূরুল ইসলাম নাজেম মানবজমনিকে বলেন, আমাদের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কবর, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টারসহ সামাজিক যেসব সুবিধার দরকার তাতে পরিকল্পনার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, কবরস্থান কাছাকাছি থাকলে ভালো হয়। বড় বড় কবরস্থান না করে কমিউনিটি বেইজ করা উত্তম বলে তিনি মনে করেন। বলেন, কবর বৃহৎ স্বার্থে ভেঙে ফেলা যাবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলে ভাঙাভাঙির বিষয়টি আসবে না।

সেলিব্রেটিদের প্রথম যৌন সম্পর্ক-১

কেট মস, সিন কনারি, জর্জ হ্যামিলটন, জনি ডেপ, অ্যানজেলিনা জোলি, এলিজাবেথ টেলর (লিজ টেলর) পশ্চিমা বিনোদন জগতের একগুচ্ছ নাম। তারা কেউ অভিনেত্রী, অভিনেতা আবার কেউ বা মডেল। তাদের রূপের ঝলকে কোটি কোটি হৃদয়ে ঝড় ওঠে। এর মধ্যে বেশির ভাগই সেক্স সিম্বল হিসেবে তোলপাড় করে দিয়েছেন বিশ্বকে। তবে তারা অল্প বয়সেই হারিয়েছেন কুমারিত্ব অথবা কুমারত্ব। স্বেচ্ছায় অথবা শক্তি অথবা কৌশলের কাছে পরাজিত হয়ে তারা বাধ্য হয়েছেন যৌন সম্পর্ক স্থাপনে।
পশ্চিমা দুনিয়ায় ঝড় তোলা মডেল কেট মসতো মাত্র ১৪ বছর বয়সেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি তা। বলেছেন বাহামায় পারিবারিক ছুটি কাটাতে গিয়ে তিনি হারান কুমারিত্ব। তিনি ‘লাভ’ ম্যাগাজিনকে বলেছেন, বাসায় ফেরার পথে বিমানবন্দরেই এক মডেল স্কাউট তাকে থামান। সেখানেই আমাকে হারাতে হয় আমার কুমারিত্ব। অন্যদিকে বন্ড অভিনেতা সিন কনারি মাত্র ৮ বছর বয়সে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তার বয়স এখন ৮৭ বছর। তিনি ‘ফর ওমেন’ ম্যাগাজিনের কাছে স্বীকার করেছেন, তখন আমার বয়স মাত্র আট বছর। এ সময়েই আমি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করি। তবে কার সঙ্গে, কিভাবে সেই সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তা এখন আর মনে করতে পারি না। সব সময়েই আমি যুবতীদের ভালবাসি। বিশেষ করে যাদের স্বর্ণালী চুল। চকচকে চেহরা। তবে বিদেশীদেরকেই আমার বেশি পছন্দ। বৃটিশ বা আমেরিকান নারীদের চেয়ে তারা বেশি আকর্ষণীয়। এ সময়ে হলিউডের বহুল আলোচিত, আকর্ষণীয় অভিনেত্রী অ্যানজেলিনা জোলি। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী, আকর্ষণীয় হিসেবে তিনি একাধিক নির্বাচিত হয়েছেন পাঠকের ভোটে। এখন তিনি অভিনয় ও মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, মাত্র ১৪ বছর বয়সেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। অ্যানজেলিনা জোলি বলেন, আমার বয়স তখন ১৪ বছর। তখনই আমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক শুরু করি। এই যৌন সম্পর্ক ও আবেগ আমার কাছে যথেষ্ঠ ছিল না। কারণ, তখন আমি আর ছোট্ট মেয়েটি নই। আমার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে একান্তে মিলিত হওয়ার মুহূর্তে আমি একটি ছুরি নিতাম হাতে এবং তার শরীর কেটে দিতাম। সে কেটে দিতো আমার শরীরের পিছন দিকটায়। আমাদের শরীর তখন রক্তে ভেসে যেতো। সাক্ষাতকারে অ্যানজেলিনা জোলি এসব কথা বলেছেন। তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায়ই তিনি যৌন সম্পর্কে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি বলেছেন, যখনই ছেলেদের কাছে পেতেন তখনই পোশাক ছুড়ে ফেলে দিয়ে শুরু করতেন উদ্দামতা। অভিনেতা জর্ক। তিনি লেডি কিলার বা নারী শিকারী হিসেবেই বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন ১৯৫১ সালে তার বয়স যখন মাত্র ১২ বছর তখনই প্রথমবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন তিনি। এক্ষেত্রে বিস্ময়কর হলো, এমন একজন নারীর সঙ্গে তিনি এ সম্পর্ক গড়েছিলেন যার সঙ্গে তার সম্পর্ক অন্য রকম হওয়ার কথা ছিল। ওই নারী ছিলেন গায়িকা জুন হাওয়ার্ড। জর্জ সাক্ষাতকারে এ নিয়ে বলেছেন, জুন ছিলেন একজন আবেগঘন সিংহের মতো। সে এক অন্য অভিজ্ঞতা। জর্জ বলেন, একদিন বৃষ্টির দিন। আমরা নিউ ইয়র্কের এপার্টমেন্টে। সেখানে তখন দিন। আমি শুয়ে আছি একটি বিছানার ওপর। এ সময় খোলামেলা পোশাকে জুন হাওয়ার্ড আমার কাছে এলেন। আমার সঙ্গে শুয়ে পড়লেন। অন্যরকম দাবি তুললেন। ‘দ্য পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান’ ছবির অভিনেতা জনি ডেপ। তিনি স্বীকার করেছেন মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি সরাসরি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। আর সেটা ঘটেছিল একটি গাড়ির পিছনের সিটে। ওই সময় তিনি ছিলেন ‘ফ্লেম’ নামের একটি ব্যান্ডের গিটারিস্ট। আর তার যৌন লালসার শিকার মেয়েটি ছিলেন তারই এক ভক্ত। এ ছাড়া তিনি চুটিয়ে প্রেম করেছেন কেট মসের সঙ্গে।

নির্বাচন-উৎসব এবং সুস্থ-অসুস্থ রাজনীতি by সাইফুল ইসলাম

বারো মাসে তেরো পার্বণের দেশে আরো একটি জমজমাট উৎসব সম্ভবত নির্বাচন। ভগবানগোলা, চণ্ডিমণ্ডপ, পঞ্চায়েতের আমলেও এ দেশের মানুষ আড্ডায় মশগুল হয়ে গ্রামের বিচার-শালিস বা শাসন করতো। সম্ভবত তারই ধারাবাহিকতায় এখনো নির্বাচন এলেই তাদের মধ্যে জেগে ওঠে দেশ শাসনের আকাঙ্খা। তাই মেতে ওঠে নির্বাচনী উৎসবে।
তবে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন-উৎসব জমেনি। কারণ দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছিল দুই মেরুতে। একপক্ষ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন করবে বলে ঘোষনা দিল। অন্য পক্ষ সেই নির্বাচন ঠেকাবে বলে মাঠে নামল। ফলে ভণ্ডুল হয়ে গেল জনগণের নির্বাচন-উৎসব। তারপরেও নির্বাচনের নাম শুনলেই ‘ঢাক গুড় গুড়’ তালে পা নাচায় এদেশের মানুষ। যেমন তালে তালে পা নাচিয়ে চলেছে বর্তমানে।
জনসমর্থন বিএনপির খারাপ নয়, কিন্তু মাঠে নেই দলটির নেতারা। জনগণ তাদেরই ভোট দেবে- এমন আশা করে যেন 'গাছে কাঠাল গোফে তেল' দিয়ে ঘুমুচ্ছে তারা। ভাব দেখে মনে হয়না যে, যথা সময়ে তারা উঠে দাঁড়াতে পারবে।
এদিকে, সরকারি দল আওয়ামী লীগ তার নেতা নির্বাচনের কৌশল হিসেবে ‘অভূতপূর্ব’ এক নির্বাচনের আয়োজন করে চলেছে সারাদেশে। এ কৌশলে তারা ওয়ার্ড কমিটি, ইউনিয়ন/পৌর কমিটি, এমনকী থানা কমিটি, জেলা কমিটির নেতা নির্বাচন করে চলেছে। এই নির্বাচনের ডামাডোলে নির্বাচনী একটা পরিবেশ তৈরি হচ্ছে সারা দেশে।
আওয়ামী লীগের পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমর্থকদের নিয়েই করা হচ্ছে ওই ভোটের ভোটার তালিকা। তবে, এর মধ্যে ঢুকে পড়ছেন অন্যরাও। যেমন, সিরাজগঞ্জের জাসদ নেতা সোহরাব হোসেন খোকার নাম উঠে গিয়েছিল কামারখন্দ থানা আওয়ামী লীগের ভোটার তালিকায়। কারণ, ১৪ দলের নেতা হিসেবে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন নৌকা মার্কায়। পরে অবশ্য বিভিন্ন জনের আপত্তিতে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু যারা আপত্তি করছেন না বা চেষ্টা করছেন নিজেদের নাম আওয়ামী ভোটার তালিকায় তোলার; তারা সহজেই ওই তালিকায় উঠে পড়ছেন। বিএনপি, জামায়াতের লোকজন এভাবেই 'আওয়ামী লীগ' হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে কখনো কখনো বিক্ষোভ, টুকটাক মারপিটের ঘটনাও ঘটছে।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এ নির্বাচন হচ্ছে। পরে নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদক কমিটির অন্য সম্পাদক ও সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। ফলে আওয়ামী সংশ্লিষ্টরাও জড়িয়ে পড়ছেন নির্বাচনী তৎপরতায়। পোষ্টার, লিফলেট, ডিজিটাল সাইনে ছেয়ে যাচ্ছে এলাকা। দল বেধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে ভোটের প্রচারণা। গুজব ছড়িয়ে পড়ছে ভোট কেনাবেচার। নির্দিষ্ট দিনে হচ্ছে ভোট। গণনা শেষে বিজয়ী প্রার্থীকে পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে জয়ের মালা। আতশবাজী ফুটিয়ে উৎসব করা হচ্ছে। এ ভাবেই আওয়ামী লীগ নিজেরা নিজেরাই নির্বাচনী উৎসব করছে।
এদিকে অনেক প্রার্থী নেতা নির্বাচিত হতে খরচও করছেন দু’হাত খুলে। সিরাজগঞ্জের আওয়ামী লীগ কর্মী লিটন জানালেন, পৌর কমিটির একটি ওয়ার্ডের এক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খরচ করেছেন ৩৫ লাখ টাকা। তিনি হিসাব কষে দেখালেন কী ভাবে কোথায় কোথায় এ খরচ হয়েছে। এসব নির্বাচনী খরচ আসছে কোথা থেকে? এমন প্রশ্নের উত্তরে লিটন জানালেন, বড় বড় নেতারা কেউ কেউ এ খরচ দিচ্ছেন তাদের গ্রুপ শক্তিশালী করার জন্য। আবার অনেকে নিজেরাও খরচ করছেন নেতা হওয়ার জন্য। খরচ করে কী লাভ? লাভ আছে- জানালেন লিটন। তিনি বললেন, তাদের ধারণা, নেতা হতে পারলেই কাজের ভাগ, ভিজিএফ, বিভিন্ন রিলিফের স্লিপ তাদের মাধ্যমে বিতরণ হবে। এ থেকে ‘টু-পাইস’ কামাই হতে পারে। না হলেও খরচের টাকা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করে নেবেন তারা।
না প্রকাশ করতে না চাওয়া বিএনপি ও ১৪ দলের (আওয়ামী লীগ নয়) দুই নেতা জানালেন, তারাও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছেন এসব নির্বাচনে। গোপনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচনের জন্য, যাতে আওয়ামী লীগের ওই নেতা তাদের কথা শোনে, অন্তত সামাজিকভাবে অসন্মান না করে।
এক আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করলেন, এভাবেই আওয়ামী লীগ অন্য রাজনৈতিক দলকে নিজের মধ্যে হজম করে ফেলছে, সারাদেশে একক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু আরেক নেতা এতে দ্বিমত পোষণ করে বললেন, এতে রাজনৈতিক দলটি আর রাজনৈতিক দল থাকছে না, হয়ে পড়ছে সামাজিক সংগঠন। চর্চা হচ্ছে যেন-তেন সুস্থ-অসুস্থ রাজনীতির।
আসলে দল বড় হলেই শক্তিশালী হয়- এটা ঠিক নয়। বড় দল যদি রাজনীতি চর্চা না করে, তবে সে দল মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।
লেখক: সাংবাদিক

স্কটিশ যুবতীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যৌনতার অভিযোগ

সুজি কেইনস। ৩৯ বছর বয়সী যুবতী। তার বিরুদ্ধে যৌনতার অমার্জিত সব অভিযোগ। তার কমপিউটারে রয়েছে শিশু পর্নোগ্রাফিক ছবি। রগরগে যৌনতার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, তিনি  গোল্ডেন ল্যাব্রাডোর নামের একটি কুকুরের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেছেন, এ ক্ষেত্রে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, কুকুরের সঙ্গে আমার কোনোই শারীরিক সম্পর্ক হয় নি। কিন্তু এমনটাই বলা হচ্ছে অভিযোগে। এটা মিথ্যা কথা। স্কটল্যান্ডের এই যুবতীকে নিয়ে বৃটেনে তীব্র আলোচনা, সমালোচনা। তিনি বসবাস করেন স্কটল্যান্ডের ওয়েস্ট লোথিয়ানে। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আজ শনিবার লিভিংস্টোন শেরিফ কোর্টে রায় হওয়ার কথা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে  পর্নোগ্রাফিক জিনিসপত্র রাখার দু’দফা অভিযোগ আনা হয়। তিনি সেই অভিযোগ মেনে নিয়েছেন। স্বীকার করেছেন তার কাছে শিশুদের খোলামেলা ছবি ছিল। এ ছাড়া তার কাছে ‘ক্লাস এ’ ক্যাটেগরির ছবির সংগ্রহ ছিল। এগুলো সবই গুরুত্বর পর্যায়ের।  একজন নারী একটি কুকুরের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত এমন বীভৎস দৃশ্যের ছবি নিজের কাছে রাখার অভিযোগও তিনি স্বীকার করেছেন। তাকে জেল দেয়ার পরিবর্তে সামাজিক সংশোধনের অধীনে রাখা হয়। তাকে জানিয়ে দেয়া হয়, তিন বছর পর্যন্ত যৌন অপরাধী হিসেবে তার নাম নিবন্ধিত থাকবে।

অনলাইন ব্যবহারে শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে: ইউনিসেফ

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন এক লক্ষ ৭৫ হাজার শিশু নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। এর অর্থ প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন শিশু প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলছে, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিশু যেমন প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট জগতে আসছে, একই সাথে ইন্টারনেট ব্যবহার তাদের জন্য নানাবিধ ঝুঁকি তৈরি করছে। এসবের মধ্যে রয়েছে- ক্ষতিকারক বিষয়ের দিকে আসক্তি তৈরি হওয়া, যৌন হয়রানির শিকার কিংবা নিজের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হয়ে যাবার ঝুঁকি। ইউনিসেফ বলছে, প্রতিদিন এতো বিপুল সংখ্যক শিশু যখন অনলাইন জগতের সাথে পরিচিত হচ্ছে তখন তারা নানা ধরনের বিপদের মুখোমুখিও হচ্ছে।
শিশুদের এসব ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন দেশের সরকার নানা ধরনের নীতি প্রণয়ন করেছে- একথা উল্লেখ করে ইউনিসেফ বলছে আরো অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে। পৃথিবীজুড়ে প্রতি তিনজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন শিশু। ইউনিসেফ মনে করে অনলাইনের ক্ষতিকারক বিষয়বস্তুর হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করা দায়িত্ব সকলের উপরই বর্তায়। এক্ষেত্রে সরকার, পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া প্রযুক্তি শিল্পের ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তাদেরও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে ইউনিসেফ উল্লেখ করেছে। শিশুরা নিজেদের নিরাপদ রেখে কিভাবে অনলাইন ব্যবহার করতে পারে সেটি শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন।
সূত্র: বিবিসি