Thursday, December 4, 2025

তুরস্কের কিজিলেলমা ইতিহাস, প্রমাণ করল আকাশে হামলার ক্ষমতা

বিশ্বে মনুষ্যবিহীন প্রথম যুদ্ধবিমান ‘বায়রাক্টর কিজিলেলমা’ তৈরি করেছে তুরস্ক। এটি আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে মাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা সংস্থা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিমানের ইতিহাস রচনা করেছে তারা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি সাবাহ। এতে বলা হয়, তুরস্কের প্রথম মানববিহীন যুদ্ধবিমান বায়রাক্টর কিজিলেলমা নতুন এক মাইলফলক অর্জন করেছে। এটি দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকে (বিভিআর) একটি জেটচালিত লক্ষ্যবিমানকে আকাশ থেকে আকাশে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে আঘাত করেছে। এ ঘটনা বিশ্বের জন্য প্রথম বলে রবিবার জানিয়েছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার।

বায়কার তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এনসোশ্যালে জানিয়েছে, বিশ্বে প্রথমবারের মতো একটি মানববিহীন যুদ্ধবিমান দৃষ্টিসীমার বাইরে থেকে আকাশে একটি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছে। বায়কারের বিবৃতি অনুযায়ী, কিজিলেলমা দেশীয়ভাবে তৈরি গোকদোয়ান আকাশ থেকে আকাশে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উচ্চগতির লক্ষ্যবস্তু জেটকে নিখুঁতভাবে আঘাত করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ডানার নিচে বহন করা অবস্থায় নিক্ষেপ করা হয়, যখন লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত ও অনুসরণ করে আসেলসানের দেশীয়ভাবে তৈরি মুরাদ এইএসএ রাডার। এটি ছিল তুর্কি বিমান চলাচলের ইতিহাসে প্রথমবার যখন একটি জাতীয় বিমান, দেশীয় রাডারের নির্দেশনায় দেশীয়ভাবে তৈরি আকাশ থেকে আকাশে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আকাশের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করল। এই সফল হামলা কিজিলেলমাকে বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র প্রমাণিত আকাশ-থেকে-আকাশ যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন মানববিহীন প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি ছিল কিজিলেলমার এই মাসে করা বহু পরীক্ষার আরেকটি ধাপ। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে একটি এফ-১৬কে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে লক করার ঘটনাও ছিল।

কৃষ্ণ সাগরের উপকূলবর্তী সিনোপ প্রদেশে পরিচালিত এই নতুন পরীক্ষা রবিবার রিপোর্ট করা হয়। তাতে বলা হয়েছে পরীক্ষায় মেরজিফোন এয়ারবেসের পাঁচটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কিজিলেলমার সঙ্গে যৌথভাবে (মানবচালিত-মনুষ্যবিহীন) ফরমেশন ফ্লাইট পরিচালনা করে ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধের ধারণাকে তুলে ধরে। একটি বায়রাক্টর আকিঞ্জি মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) আকাশ থেকে পুরো ঘটনাটি ধারণ করে বলে জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি। তুরস্কের বিখ্যাত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়কারের প্রধান ফ্ল্যাগশিপ বিমান হল বায়রাক্টর কিজিলেলমা ড্রোনের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। কিজিলেলমার নিজে রাডারে ধরা না পড়ে কম রাডার দৃশ্যমানতা এবং উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি শত্রু বিমানকে অনেক দূর থেকে শনাক্ত করতে পারে। এটি মুরাত এইএসএ রাডার, টয়গুন টার্গেটিং সিস্টেমসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং দেশীয়ভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ বহন করতে পারে। পূর্বের পরীক্ষায় এটি টোলুন এবং টেবার-৮২ বোমায় সরাসরি আঘাত করেছে। সর্বশেষ আকাশ থেকে আকাশে হামলা কিজিলেলমার আকাশ-থেকে-মাটি ও আকাশ-থেকে-আকাশ- দুই ধরনের মিশনে পূর্ণ সক্ষমতাকে প্রমাণ করে এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা কৌশলে এর ভূমিকাকে আরও বিস্তৃত করে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; বরং তুরস্কের স্বয়ংক্রিয় আকাশযুদ্ধ ক্ষমতার দিকে বড় পদক্ষেপ।
বায়কারের চেয়ারম্যান ও সিটিও সেলচুক বায়রাক্টর এক ভিডিওতে বলেন, আমরা বিমান চলাচলের ইতিহাসে নতুন এক যুগের দরজা খুলেছি। তিনি আরও বলেন, বিশ্বে প্রথমবার একটি মানববিহীন যুদ্ধবিমান রাডার নির্দেশনায় আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। আল্লাহর রহমতে তুরস্ক এই সাফল্যে বিশ্বের প্রথম দেশ।

mzamin

ইসরায়েল কি এবার সত্যিই জাতিসংঘের সদস্যপদ হারাতে পারে

মিডল ইস্ট মনিটরঃ জাতিসংঘ সনদের ৫ ও ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ বিশ্ব সংস্থায় ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করার আইনি ভিত্তি দেয়। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো এটিকে বাস্তবে অসম্ভব করে তুলছে। তবু গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং নানা দেশের ওপর হামলার অভিযোগে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংগঠন এ দাবি তুলছে। প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পর এখন ইসরায়েল সদস্যপদ হারাতে পারে কি না, জোরেশোরে উঠেছে সেই প্রশ্ন। জবাব জানা যাক, মিডল ইস্ট মনিটরে লেখা মোহাম্মদ ইউসেফের মতামত থেকে।

২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর চিলির বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠন জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের দাবি তুলে একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে। তারা জাতিসংঘ সনদের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের অনেক প্রস্তাবনা ধারাবাহিক এবং পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘন করছে। গাজায় চলমান গণহত্যা ও মানবিক সংকটের পটভূমিতে এ দাবি তুলেছে তারা।

জাতিসংঘ সনদের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘের যেকোনো সদস্যরাষ্ট্র যদি ধারাবাহিকভাবে সনদের মূলনীতি লঙ্ঘন করে, তবে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ পরিষদ সেই রাষ্ট্রকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কার করতে পারে।’

তবে এ ধরনের দাবি এবারই প্রথম নয়। গত সেপ্টেম্বরে কাতারে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর পাকিস্তানও জাতিসংঘে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করার দাবি তোলে। পাকিস্তান বলেছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি–নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। পাকিস্তানের জাতিসংঘ দূত সতর্ক করেন, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক।

একইভাবে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ বহুবার ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করেছে এবং বিশ্ব সংস্থাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

জাতিসংঘ সনদের দুটি অনুচ্ছেদে সদস্যরাষ্ট্রের পদ স্থগিত বা বহিষ্কার করার বিধান রয়েছে। ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বহিষ্কার, আর ৫ নম্বরে সদস্যপদ স্থগিত করা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জাতিসংঘ গঠনের পর থেকে সনদের ৫ ও ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীন কোনো দেশের সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করা হয়নি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী নীতির কারণে সাধারণ পরিষদের ক্রেডেনশিয়াল কমিটি দেশটির প্রতিনিধিদলের পরিচয়পত্র বাতিলের সুপারিশ করলে তারা সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে পারেনি।

ইতিহাসে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের কয়েকটি চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ ও ভেটো হুমকির কারণে সব কটিই ব্যর্থ হয়। প্রথম বড় প্রচেষ্টা ছিল ১৯৭৫ সালে, যখন আলজেরিয়া ও সিরিয়া ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত করতে যৌথ উদ্যোগ নেয়। এ জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর হুমকিতে উদ্যোগটি থেমে যায়। পরে ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন করতে বিকল্প পথ খোঁজা হয়। ফলস্বরূপ ১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব ৩৩৭৯ পাস করে। প্রস্তাবটিতে জায়নিজমকে (ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে জাতীয়তাবাদী ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন) ‘বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্যের একটি রূপ’ ঘোষণা করা হয়।

৩৪টি মুসলিম দেশ ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন (ইউএসএসআর) মিলে আরেকটি প্রচেষ্টা চালায়। তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ক্রেডেনশিয়াল কমিটিকে চিঠি পাঠিয়ে ইসরায়েলকে বহিষ্কারের দাবি করে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। উপরন্তু ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবনাগুলোকে ইসরায়েলের অবমাননা করা ও চ্যালেঞ্জ জানানোর বিষয়ও আমরা আবার তুলে ধরতে চাই।’

এসব দেশ আরও বলেছে, ইসরায়েল জাতিসংঘ সনদের প্রতি অমর্যাদা দেখাচ্ছে এবং দায়িত্ব এড়িয়ে চলছে। তাই এটি ‘শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র’ নয়, যা জাতিসংঘ সদস্যপদের জন্য প্রয়োজন। তবে ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনের কারণে প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পায়নি তারা।

২০১৮ সালে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট ‘নেশন-স্টেট বিল’ পাস করে। বিলের ১(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়, ‘ইসরায়েলের ভূমি ইহুদি জনগণের ঐতিহাসিক মাতৃভূমি।’ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ আইনকে ‘অবৈধ, বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দেন। পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের তহবিল বন্ধের হুমকি দিলে এ উদ্যোগও থেমে যায়।

এসব ইতিহাস থেকে বোঝা যায়, ইসরায়েলকে জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কারের দাবি আইনি ভিত্তি রাখে। কিন্তু রাজনৈতিক চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা এটিকে বাধাগ্রস্ত করছে। কোনো বাস্তব প্রস্তাব কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন—নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ও পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (পি–ফাইভ) কারও ভেটো না দেওয়া। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং কিছু পি–ফাইভ দেশের ইসরায়েলকে সমর্থনের বিবেচনায় এ ধরনের প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবু আইনি প্রক্রিয়ার উপস্থিতি ও গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে বৈশ্বিক ক্ষোভ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ দাবির প্রতীকী ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। এখনই বহিষ্কার করা সম্ভব না হলেও এ দাবিকে এগিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলকে বিচ্ছিন্ন করার, তার সুনামহানিতে চাপ সৃষ্টি ও ধাপে ধাপে বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশলের অংশ হতে পারে।

জাতিসংঘ সনদের ৫ ও ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রের সদস্যপদ স্থগিত বা বহিষ্কার করা কঠিন। কারণ, এটি নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে যেতে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর মুখোমুখি হতে হয়। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে রক্ষা করতে ৫১ বার ভেটো ব্যবহার করেছে। তাই সাধারণ পরিষদের কাঠামোর মধ্যে কাজ করার সুযোগ তুলনামূলক বেশি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বহু দেশের ফিলিস্তিনের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান ও সমর্থনের কারণে।

২০২৪ সালের মে মাসে সাধারণ পরিষদ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে প্রস্তাব পাস করে। ভোটের ফলাফল ছিল—পক্ষে ১৪৩, বিপক্ষে ৯, অনুপস্থিত ২৫। একইভাবে ওই বছর সেপ্টেম্বরে সাধারণ পরিষদ ইসরায়েলকে তার অবৈধ দখল অবিলম্বে শেষ করতে বলে একটি প্রস্তাব পাস করে। ভোটের ফলাফল ছিল—পক্ষে ১২৪, বিপক্ষে ১৪, অনুপস্থিত ৪৩। আবার গত ১২ সেপ্টেম্বর (ফিলিস্তিন–ইসরায়েল সংকটে) দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান প্রস্তাব সমর্থনকারী ‘নিউইয়র্ক ঘোষণা’ ১৪২টি রাষ্ট্র অনুমোদন করে। বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ১০টি এবং অনুপস্থিত থাকে ১২টি দেশ।

দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ইসরায়েলের প্রতিনিধিদলের পরিচয়পত্রও বাতিলের সুপারিশ করে সাধারণ পরিষদের ক্রেডেনশিয়াল কমিটিতে চিঠি পাঠিয়ে তা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে বাতিল করা যেতে পারে। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জন্য বিশ্বব্যাপী সমর্থন বৃদ্ধির কারণে এ প্রক্রিয়ার সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

আরেকটি উপায় হলো ‘ইউনাইটিং ফর পিস’ প্রস্তাবের ব্যবহার। ১৯৫০ সালের ৩ নভেম্বর (কোরিয়া যুদ্ধের সময়) এটি গৃহীত হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিষদ ভেটোর কারণে যদি অচল হয়ে যায়, তখন সাধারণ পরিষদকে ক্ষমতাবান করার উদ্দেশ্য ছিল। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ পরিষদ বিশেষ জরুরি অধিবেশন ডেকে শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, এমনকি সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে।

ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করে নিজেকে রাষ্ট্র ঘোষণা করার পর থেকে ইসরায়েলকে বারবার যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নিধন ও জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য বড় হুমকি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত এক লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ১৯ লাখের বেশি গাজাবাসী এবং পশ্চিম তীরের হাজার হাজার মানুষকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।

গত এক বছরের কম সময়ে ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, কাতার, ইরান, তিউনিসিয়া ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডসহ সাতটি দেশ ও অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে। পশ্চিম তীর এবং সিরিয়ায় দখলদারি ও অবৈধ ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। আইন করে পশ্চিম তীর দখল করার ঘোষণা এবং অনির্দিষ্টকালীন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এখনো উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক চাপ বা যৌথ নিষেধাজ্ঞা নেই। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, অর্থাৎ রাষ্ট্র এবং এনজিওগুলোর সম্ভব সব উপায়ে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা উচিত। ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত বা তাকে বহিষ্কার করার দাবি শুধু কথার কথাই নয়, এটি জাতিসংঘ সনদের ৫ ও ৬ নম্বর অনুচ্ছেদের স্পষ্ট ভাষার ওপর ভিত্তি করেও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

ইসরায়েলের বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ বৈধ সংগ্রামের এ সংকটময় সময়ে জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কার, সদস্যপদ স্থগিত বা সাধারণ পরিষদে তাদের প্রতিনিধিদলের পরিচয়পত্র বাতিলের দাবি শুধু ন্যায়সংগত নয়, চলমান গণহত্যা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার জন্যও অপরিহার্য। জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো তাদের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতিকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দেওয়া—ইসরায়েলকে রাজনৈতিক, আইনি, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা এবং জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা।

* অনুবাদ: মো. আবু হুরাইরাহ্‌

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-28%2Fz3e22dv2%2Fnetanyahu-01.webp?rect=0%2C0%2C1365%2C910&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif

পাকিস্তানের রাজনীতিতে ঘূর্ণি হাওয়া: সামরিক-বেসামরিক দ্বন্দ্বের আভাস, সরকার বলছে গুজব

পাকিস্তানের রাজনীতিতে ঘূর্ণিহাওয়া। মুহূর্তে মুহূর্তে নানা রকম খবর আসছে সেখান থেকে। বলা হচ্ছে, জেলে মারা গেছেন ইমরান খান। তার বোনদেরকে সাক্ষাতের সুযোগ না দেয়ায় এমন খবর ছড়ায়। সরকার একে ডাহা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অবশ্য পরে ইমরান খানের বোন তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে তীব্র বিরোধের ইঙ্গিত মিলছে। পাকিস্তানে দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আছে সেনাবাহিনী। অনেকে বলেন, বেসামরিক প্রশাসন চলে উর্দিধারীদের আঙ্গুলের ইশারায়। সামরিক-বেসামরিক বিরোধের খবরকেও গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

অনলাইন জিও নিউজ বলছে, ফেডারেল সরকার নাগরিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে সম্ভাব্য বিরোধ নিয়ে সমালোচনামূলক গুজবকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘বিভ্রান্তিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রধান সচিব এবং ক্যাবিনেটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড. তৌকির শাহ দ্য নিউজকে বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে এবং কিছু রাজনৈতিক মহলে ছড়ানো গুজবের কোনো সত্যতা নেই। এসব গুজবে সরকার ও ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের মধ্যে উত্তেজনার কথা বলা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট করেন যে, সেনা প্রধান ও প্রধান প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর নোটিফিকেশন বিলম্বের কোনো কারণ নেই।

ড. শাহ বলেন, বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে কোনো ফাটল নেই। তিনি আরও যোগ করেন, দুই পক্ষের কার্যকর সম্পর্ক মসৃণ এবং সম্পূর্ণ সমন্বিত রয়েছে। ড. শাহ আরও পরিষ্কার করেন যে, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের নেতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরকে উচ্চ সম্মানের স্থানে রাখেন এবং তার পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা এবং রাষ্ট্রের সেবায় অবদানের জন্য বারবার প্রশংসা করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নওয়াজ শরিফ ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এটা প্রমাণ করে যে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সামরিক নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন। ড. শাহ বলেন, যে কোনো গুজব যেটি সম্পর্কের টানাপোড়েন বা নোটিফিকেশনের বিলম্বের সঙ্গে যুক্ত, তা শুধুই কল্পকাহিনী ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা। তিনি বলেন, এ ধরনের কল্পনামূলক বর্ণনা শুধুমাত্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, যখন স্থিতিশীলতা ও ঐক্য প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উভয় পক্ষ- নির্বাচিত সরকার ও সামরিক নেতৃত্ব একটি অনন্য ও সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখে, যা জাতীয় অগ্রাধিকার ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুরোপুরি সমন্বিত এবং অন্য কোনো মন্তব্য ভিত্তিহীন।

mzamin

ইমরান খানকে কি ভুট্টোর পরিণতি বরণ করতে হচ্ছে by শশী থারুর

একসময়ের ক্যারিশমেটিক ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খান পাকিস্তানে সংস্কার ও পুনর্জাগরণের আশার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁকে নিয়ে এখন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তিনি রাওয়ালপুরির আদিয়ালা কারাগারে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গেছেন।

২০২৩ সাল থেকে ইমরান এই কারাগারেই বন্দী। তাঁর ছেলে কাসিম খান এখন বাবার ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ এবং মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন। ইমরান খানের বয়স ৭২ বছর।

ইমরানের মৃত্যু যদি সত্য হয়, তবে এটি হবে এমন এক জীবনের করুণ পরিসমাপ্তি, যেখানে ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি, রাষ্ট্রক্ষমতা এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নিপীড়ন।

লাহোরে ১৯৫২ সালে এক সম্ভ্রান্ত পশতুন পরিবারে জন্ম নেওয়া ইমরান খান ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি পড়েছেন আইচিসন কলেজ, রয়্যাল গ্রামার স্কুল, উস্টার এবং অক্সফোর্ডের কেবল কলেজে।

খেলোয়াড় হিসেবে ইমরানের উত্থান শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে। আর তাঁর চূড়ান্ত সাফল্য আসে ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে। অধিনায়ক হিসেবে তিনি কৌশলগত দীক্ষা, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব এবং ভেতরে ভাঙন ধরা দলকে একত্র করার সক্ষমতার জন্য প্রশংসিত ছিলেন।

ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পর ইমরান খান মানবসেবায় মনোনিবেশ করেন। তিনি তাঁর মায়ের স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা করেন শওকত খানুম মেমোরিয়াল ক্যানসার হাসপাতাল। এটি ছিল পাকিস্তানের প্রথম এমন প্রতিষ্ঠান, যেখানে হাজারো মানুষ বিনা মূল্যে চিকিৎসা পেয়েছে। এই হাসপাতাল গড়ে ওঠে মূলত সাধারণ মানুষের অনুদানে। এটি ইমরানের জনপ্রিয়তা ও মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগের প্রমাণ দেয়।

এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ মোড়

কিন্তু ইমরানের জীবনের দ্বিতীয়ার্ধ পুরোপুরি রাজনীতিতে নিমজ্জিত ছিল। ১৯৯৬ সালে তিনি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দল গঠন করেন। শুরুতে দলটি রাজনীতির প্রান্তেই ছিল। কিন্তু ২০১০-এর দশকে এসে হঠাৎ করেই এর ব্যাপক উত্থান ঘটে। দুর্নীতিবিরোধিতা, জাতীয় মর্যাদা এবং ইসলামি কল্যাণরাষ্ট্র—এই তিনটি তাঁর মূল স্লোগান ছিল।

রাজতন্ত্রসুলভ রাজনীতি ও সামরিক হস্তক্ষেপে বিরক্ত এক নতুন প্রজন্মের মধ্যে এসব কথা গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৮ সালে ইমরান প্রধানমন্ত্রী হন এবং ‘নয়া পাকিস্তান’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তাঁর শাসনামল ছিল অর্থনৈতিক সংকট, কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সর্বদা উপস্থিত ছায়ার সঙ্গে এক কঠিন লড়াইয়ে পরিপূর্ণ। এই ‘ডিপ স্টেট’ শেষ পর্যন্ত তাঁর পথচলাকেই থামিয়ে দেয়।

আমি ইমরান খানকে তাঁর জীবনের তিনটি ভিন্ন পর্যায়ে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা নিউইয়র্কে, জাতিসংঘে কাজ করার সময়। তাঁর বোন (যিনি জাতিসংঘের কর্মকর্তা ছিলেন) নিজের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে ইমরান খানও উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট তারকা। আমি তাঁর উষ্ণতা, সহজ ভঙ্গি এবং মানুষকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতায় মুগ্ধ হয়েছিলাম। তিনি কোনো দূরত্ব রাখা নায়ক নন, বরং ছিলেন কৌতূহলী ও বন্ধুবৎসল এক মানুষ।

বছর কয়েক পরে ইমরান যখন অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার হিসেবে ভারতে আসতেন, তখন আরও কয়েকবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। আমরা একই সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতাম, এমনকি ভারতীয় টিভি চ্যানেলের বিভিন্ন আলোচনাতেও মুখোমুখি হতাম।

ক্রিকেট, রাজনীতি বা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক—সব বিষয়ে তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী, তর্কপ্রবণ এবং চ্যালেঞ্জ জানাতে আগ্রহী। আমাদের দুই দেশের উত্তেজনার মাঝেও তিনি ভারতে যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর ক্রীড়া-উত্তরাধিকার আর ব্যক্তিগত ভদ্রতা তাঁকে মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।

এক ঘণ্টার কথোপকথন

ইমরান খানের সঙ্গে আমার সবচেয়ে স্মরণীয় সাক্ষাৎ হয় ২০১৭ সালে। তখন আমি ভারতীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে ইসলামাবাদে এশীয় সংসদ সদস্যদের এক সম্মেলনে গিয়েছিলাম। তখন ইমরান খান ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান সরকার নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে আমাকে হোটেলের বাইরে যেতে দেয়নি। এতে তিনি দমে যাননি। উল্টো তিনি নিজেই আমার কাছে আসার প্রস্তাব দেন।

তিনি ছয়-সাতজন সহযোগী নিয়ে আমার হোটেলে আসেন। আমি তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাই। আমার সঙ্গে তখন ছিলেন বিজেপির দুই সহকর্মী—স্বপন দাশগুপ্ত ও মীনাক্ষী লেখী, যাতে কেউ এই বৈঠক নিয়ে কোনো অনৈতিকতার অভিযোগ তুলতে না পারে।

এরপর প্রায় এক ঘণ্টা আমরা কথা বলি। আশ্চর্যের বিষয়, সেই আলোচনা রাজনীতি নিয়ে ছিল না; ছিল ইতিহাস নিয়ে। ইমরান তখন আমার লেখা বই অ্যান এরা অব ডার্কনেস পড়া শেষ করেছেন। তিনি আমাকে জানালেন, বইটি তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন। তিনি বইয়ের বিভিন্ন অংশ থেকে উদ্ধৃতি দেন, নানা তথ্য নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং অবিভক্ত ভারতের সময়কার ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ওপর নিজের ভাবনাও ভাগ করে নেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, আমি যেন পাকিস্তানে তাঁর অতিথি হয়ে এসে এই বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলি। বিষয়টি আর বাস্তবায়িত হয়নি। তবু ওই সাক্ষাৎ আমার মনে গভীর ছাপ ফেলে।

আমি দেখলাম, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও ইমরান একজন চিন্তাশীল মানুষ। উপমহাদেশের যৌথ ইতিহাস বিষয়ে তিনি গভীর আগ্রহ ও আবেগ পোষণ করেন।

বিরুদ্ধতায় ভরা নেতৃত্ব

সেনাবাহিনীর সক্রিয় সমর্থনে ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল একধরনের বিরোধাভাসের উদাহরণ। তিনি ভারতের সঙ্গে শান্তি চেয়েছিলেন, কিন্তু সেনাবাহিনীর কৌশলগত চিন্তার কারণে সে পথে এগোনো তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তিনি অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মূল্যস্ফীতি ও ঋণের ভার সামলাতে পারেননি। তিনি দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। অথচ তাঁকেও নানা দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে।

২০২২ সাল থেকে তাঁর পতন শুরু হয়। সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পাকিস্তানের ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে তিনি মুখোমুখি সংঘর্ষে যান। এর ফলেই অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তার এবং একঘরে করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি কারাগারে চলে যান এবং একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। অনেকের কাছে এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়েছে।

গত কয়েক বছর পাকিস্তানে দমন-পীড়ন আরও বেড়েছে। ইমরান খানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে কঠোর অবস্থায় রাখা হয়েছে। দল থেকে তাঁকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

অনেক পাকিস্তানির কাছে তিনি তখন প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন। তাঁর বোনেরা যখন আদিয়ালা কারাগারের বাইরে প্রতিবাদ করছিলেন, তখন নাকি পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এটি দেখায়, রাষ্ট্র তাঁর প্রভাব মুছে ফেলতে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল।

ইমরানের মৃত্যুর গুজব এখনো স্পষ্ট নয়। নানা মহল থেকে বলা হচ্ছে, সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোর ভেতরের কোনো অংশ তাঁকে হত্যা করেছে। কিন্তু সরকারিভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এই নীরবতাই অনেক কিছু বলে দেয়।

যদি এটি সত্য হয়, তাহলে কারাগারে তাঁর মৃত্যু পাকিস্তানের অন্ধকার ও যন্ত্রণাদায়ক রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি ভয়াবহ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটি মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়ালে কী ভয়ংকর পরিণতি হতে পারে।

ভাঙা স্বপ্ন

ইমরান খানের উত্তরাধিকার জটিল। তিনি একাধারে জাতীয় নায়ক, বৈশ্বিক আইকন, সংস্কারক নেতা এবং একজন রাষ্ট্রনায়ক। তিনি লাখো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন, অনেককেই হতাশ করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাথা নত করেননি। তাঁর জীবন উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাক্ষ্য দেয়—কি খেলায়, কি ব্যক্তিজীবনে, কি রাষ্ট্রে, কি রাজনীতিতে।

ইমরানের মৃত্যু যদি সত্যি হয়ে থাকে, তা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, বরং সবার জন্যই এক বড় ট্র্যাজেডি। বিশেষ করে যাঁরা অস্থির সময়ে নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন, তাঁদের জন্য তাঁর মৃত্যু গভীর বেদনার বিষয় হবে।

ইমরানের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দেয় আরেক পাকিস্তানি নেতার কথা। তিনি জুলফিকার আলী ভুট্টো। তিনিও ভেবেছিলেন, তিনি শক্তিশালী সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বে উঠতে পারবেন। কিন্তু সেই ভুল ধারণার মূল্য তাঁকে প্রাণ দিয়ে দিতে হয়েছিল।

আমার কাছে ইমরান খান সব সময় সেই মানুষটিই হয়ে থাকবেন, যিনি ইসলামাবাদে আমার হোটেলে এসেছিলেন—রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে নয়, ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে। চিন্তা, আবেগ ও বিশ্বাসে দৃঢ় একজন মানুষ। তিনি যে ‘ডিপ স্টেট’-এর সহায়তায় ক্ষমতায় উঠতে চেয়েছিলেন, পরে সেটাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিকে জয় করতে পারেননি। আর সেখানেই তাঁর স্বপ্ন ভেঙে যায়।

* শশী থারুর, ভারতের কেরালা রাজ্যের তিরুঅনন্তপুরম থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য।
- এনডিটিভি থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান ইমরান খান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান ইমরান খান। ফাইল ছবি: এএফপি

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর তফসিল চায় এনসিপি

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি সংকট উত্তরণের পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা নির্বাচন কমিশনকে বলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর তফসিল ঘোষণা করলে তখন কাজটা অনেক সহজ হবে। গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া অসুস্থ। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংকটগুলো উত্তরণ করে সুন্দরভাবে তফসিল দেওয়ার জন্য তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছেন।

এ সময় এনসিপি তফসিল পেছাতে চায় কি না, জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘না। আমরা কেন তফসিল পেছাতে চাইব? আমরা বলতেছি যে সংকটগুলো সমাধান করে তফসিলটা দেওয়ার জন্য।’

এ প্রশ্নের উত্তরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তফসিল দেওয়ার সময় যাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে এবং প্রতিটা দলেরই যাতে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করার একটা পরিবেশ থাকে, তাদের দলের ভেতরে এবং সার্বিক রাজনৈতিক সে পরিবেশটা যাতে থাকে। সেই সময়টায় যদি তফসিল দেওয়া হয়, তাহলে এটা নির্বাচন কমিশন ও সব রাজনৈতিক দলের জন্য উপকারী হয়।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তফসিল দেওয়ার সময়টাতে রাজনৈতিক পরিবেশ বিবেচনায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। সেটা রেখে তারা যেকোনো দিন দিতে পারে।

আগামী সপ্তাহেই নির্বাচন কমিশন তফসিল দিতে চাইছে, এ ক্ষেত্রে এনসিপি পরিবেশ স্থিতিশীল মনে করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পাঠানো এবং নিয়ে আসা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার বলে কমিশন দ্রুত তফসিলটা দিতে চাইছে। তবে এ ক্ষেত্রে এনসিপি রাজনৈতিক সংকটকে বিবেচনায় রাখার জন্য বলেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব কটি পলিটিক্যাল পার্টি কিন্তু এ বিষয়ে অ্যাগ্রিড। এটা নিয়ে কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করি যে ইনশা আল্লাহ ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু একটি ইলেকশনের দিকে দেশ এগোচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নির্বাচনের শিডিউলে প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘না, এটা প্রভাব পড়বে না।...আমরা মনে করি যে বাংলাদেশে উনি (খালেদা জিয়া) দীর্ঘ সময় লড়াই করেছিলেন। তো গণতন্ত্রের এই জায়গাটায় সরকারও সম্মান প্রদর্শন করছে। আমরাও সম্মান প্রদর্শন করছি। বেগম জিয়ার প্রতি সবার আবেগ–অনুভূতি আছে। এটা বিএনপিকেন্দ্রিক নয়।’

নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তাবনাটি বাতিলের চেষ্টা হচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রতিটি দলকে তাদের নিজের দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ প্রস্তাবনাটি বাতিল করতে একটি দলের পক্ষ থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। সেই দলের জোটসঙ্গী আরেকটি দলের পক্ষ থেকে আদালতে এ নিয়ে রিটও হয়েছে। আদালতকে ব্যবহার করে এই সংস্কার প্রস্তাবনাটি বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীর দেওয়া তথ্য কমিশনকে যাচাই–বাছাই করতে বলেছে এনসিপি।

ডিসি–এসপি বদলি, রাজনৈতিক প্রভাব আছে

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন যে ডিসি–এসপি বদলি হচ্ছে, সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব আছে বলে মনে করছে এনসিপি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা নিতে বলেছে তারা।

গণভোটে একটি প্রশ্নের চারটি ভাগ বিভিন্ন দলকে সন্তুষ্ট করার জন্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এটা আরও সুস্পষ্টভাবে করা উচিত ছিল। যদি এই আদেশের ভিত্তিতেই গণভোট হয়, তাহলে এটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা প্রয়োজন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম মুসা। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের কাছ থেকে এনসিপির দলীয় নিবন্ধন সনদ ও প্রতীকের ছবি নেন তাঁরা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ৩ ডিসেম্বর
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে বের হয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ৩ ডিসেম্বর। ছবি: প্রথম আলো

পাক-আফগান সীমান্তে বোমা বিস্ফোরণ, পাকিস্তানের ৩ পুলিশ নিহত

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সড়কপথে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলা আরও দুজন পুলিশ আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।

এতে বলা হয়, দেরা ইসমাইল খান এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা আলী হামজা জানান, প্রাথমিকভাবে এটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেউ এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি হামলার জন্য তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দায়ী করেছেন। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসলামাবাদ দাবি করছে-টিটিপি আফগান ভূখণ্ডে নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে। তবে কাবুল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ নাকচ করে আসছে। গত অক্টোবর সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়।

তালেবান শাসন প্রতিষ্ঠার পর এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ। এরপর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে থাকলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়ে গেছে। কাবুল অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বোমা হামলা ও জঙ্গি তৎপরতার জন্য টিটিপি’কে দায়ী করছে। ইসলামাবাদের একটি আদালত চত্বরে আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ চারজন আফগান নাগরিককে আটক করে। পেশাওয়ারে একটি আধাসামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরে হামলারও দায় টিটিপি-এর একটি অংশ স্বীকার করেছে।

mzamin