Sunday, November 25, 2018

রক্তাক্ত কাশ্মির: ৭২ ঘণ্টায় ১২ গেরিলা ও ১ সেনা নিহত, ইন্টারনেট বন্ধ

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় গেরিলা ও সেনাবাহিনীর এক জওয়ান নিহত হয়েছে। শ্রীনগরভিত্তিক সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া ছয় সন্ত্রাসী ও এক সেনা সদস্য নিহত হওয়াসহ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। 
আজ (রোববার) ভোরে দক্ষিণ কাশ্মিরের সোপিয়ান জেলার কাপরান এলাকায় যৌথবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওই ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সোপিয়ানে মোবাইল ইন্টারনেট পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে।
সোপিয়ানে নিহত সেনা সদস্য নাজির আহমেদ (ফাইল ফটো)
সোপিয়ানের বাটাগান্দ এলাকায় অজ্ঞাত গেরিলাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর ৩৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ ও পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ সমন্বিত যৌথবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান চালায়।
অভিযানে সেনাবাহিনী
এদিকে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাটাগান্দ এলাকায় প্রতিবাদী তরুণরা সড়কে নেমে পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে বাধাপ্রদান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। মারমুখী জনতাকে সামাল দিতে যৌথবাহিনী এসময় কাঁদানে গ্যাসের শেল ও পেলেটগান ব্যবহার করে।
 
২৩ নভেম্বর নিহত হন হিজবুত কমান্ডার আজাদ মালিক
গত শুক্রবার অনন্তনাগ জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ছয় গেরিলা নিহত হয়েছিল। এ নিয়ে গত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ গেরিলা নিহত হল।

নির্বাচন ব্যর্থ ও প্রশ্নবিদ্ধ হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায় -এম সাখাওয়াত হোসেন

আধুনিক যুগে জনগণের প্রতিনিধি নির্ধারণের গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হচ্ছে নির্বাচন। দেশের সাধারণ মানুষের শক্তি হচ্ছে গণতন্ত্র। জনগণের এ অধিকার সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের। মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতই নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একাদশতম জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু দেশের জনগণ ও ভোটারদের মধ্যে এ নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন জড়ো হচ্ছে। এর মধ্যে সব থেকে বড় প্রশ্নটি হচ্ছে এ নির্বাচন কি বিশ্বাসযোগ্য হবে? নাকি কিছু সুপরিচিত বোদ্ধার মতে ২০১৪ সালের মতো ‘ব্যর্থ’ নির্বাচন হতে চলেছে? এছাড়াও আরো কিছু প্রশ্ন আসছে সাধারণ মানুষের মনে। এ নির্বাচন কি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে? নির্বাচনে কি ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে? ভোটাররা কি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন? ‘ইলেকটোরাল পলিটিক্স অ্যান্ড পিপলস রাইস টু ভোট’ শীর্ষক এক নিবন্ধে এসব কথা লিখেছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এম সাখাওয়াত হোসেন পিএইচডি।
বর্তমানে তিনি সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স অব নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সম্মানিত ফেলো।
এম সাখাওয়াত হোসেন ওই নিবন্ধে আরো লিখেছেন, যদি কোনো দেশের নির্বাচন ব্যর্থ ও প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে সেদেশে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে যায়। যেসব দেশে গণতন্ত্র এখনো শিকড় গাড়েনি সেসব দেশে কোনো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে কিনা বুঝতে কিছু ত্রুটি পর্যবেক্ষণ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে, ১. ভোটারদের হুমকি প্রদান। ২. ব্যালট বাক্স ছিনতাই। ৩. নির্দিষ্ট প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিজ ক্ষমতা ব্যবহার। ৪. ভোট ক্রয়।  ৫. জোরপূর্বক কেন্দ্র দখল। ৬. একাধিক ভোট প্রদান। ৭. আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর পক্ষপাতমূলক ব্যবহার। ৮. সংখ্যালঘু নির্যাতন। ৯. ব্যালট পেপার ফুরিয়ে যাওয়া। ১০. নির্দিষ্ট প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভুল গণনা ও ১২. নির্বাচনী আইন প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা।
বাংলাদেশের জন্য আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর সঙ্গে গণতন্ত্র ও ইতিবাচক নির্বাচনী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে। এতে নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়বে। নির্বাচন কমিশনকে একাই ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হবে। আগামী নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। কিছু দল নিজ আদর্শ বিসর্জন দিয়ে জোট গঠন করায় নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি নতুন ও অ¯পষ্ট অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
উইন্সটন চার্চিল বলেছেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অবশ্যই ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনকালীন একজন ভোটার যাতে তার প্রতিনিধি নির্বাচনে মুক্তভাবে ভোট দিতে পারেন সেরকম পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের উপর নির্ভর করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের সংজ্ঞা একেক রকম হতে পারে। নির্বাচন অবাধ হতে পারে কিন্তু তারপরেও সেখানে কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের অর্থ হচ্ছে নির্বাচনের ফলে ভোটারদের ইচ্ছা সত্যিকার অর্থে প্রতিফলিত হবে। ভোটার, সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনটিকে কিভাবে দেখছে তার উপরে একটি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে। যদিও বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ ও ভোটাররা ফলাফল মেনে নিলেও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
এম সাখাওয়াত হোসেন আরো লিখেছেন, আমরা জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ একটি সদস্য দেশ। আমরা জাতিসংঘ ও অন্যান্য কনভেনশনেরও একটি অংশ। আমাদের অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রকৃত বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। এমন নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এক্ষেত্রে ভোটারদের স্বাধীনতা একটি বড় বিষয়। ভোট দেয়ার অধিকারকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে এবং ভোটারদের পছন্দকে সত্যিকার অর্থে প্রয়োগ করতে দিতে হবে। এটা হলো সরকার ও নির্বাচনকালী প্রশাসন উভয়ের পবিত্র দায়িত্ব। ১১তম জাতীয় সংসদ সির্বাচন হতে যাচ্ছে অপ্রত্যাশিত অনেকগুলো কারণে এক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে। কারণ, সংবিধানের ১২৩ ধারা সংশোধন করা হয়েছে। তাই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে পরিপক্ব আচরণ দেখাতে হবে। জাতি একটি সুন্দর নির্বাচন চায় এবং ভোটারদের ইচ্ছার প্রকৃত প্রতিফলন দেখতে চায়। সাধারণ মানুষ আশা করে, আগামী নির্বাচন হবে বিশ্বাসযোগ্য, সবার অংশগ্রহণমুলক এবং ভোটাররা ভীতিহীন পরিবেশে তাদের নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে অবাধে ভোট দিতে পারবেন। পবিত্র দায়িত্ব পালনে নির্বাচনী প্রশাসনকে হতে হবে মুক্ত। আমরা আশা করি, রাজনীতির মাঠে থাকা সব রাজনৈতিক দল অনুধাবন করবে যে, বাংলাদেশের অন্যান্য খাতের সব ইতিবাচক সূকচকের সঙ্গে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, যদি যদি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা যায়। সর্বোপরি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলেন, যে কোনো দেশের টেকসই অগ্রগতির মাধ্যম হলো গণতন্ত্র। হতে পারে সে দেশটি উন্নয়নশীল বা উন্নত দেশ।

প্রশ্নবিদ্ধ ইসি সংশয় বাড়ছে by মারুফ কিবরিয়া

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মাঠে গড়াতে আর ৩৫ দিন বাকি। ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলগুলো কাটাচ্ছে দিন-রাত ব্যস্ত সময়। মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রচারণা সবকিছু এখন তাদের ভাবনাজুড়ে। একই সঙ্গে দুই প্রধান জোট একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে। গত সপ্তাহে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধারে বেশকিছু অভিযোগ দায়ের করে বিরোধী বৃহৎ জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অন্যদিকে এসব অভিযোগের নামে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। দুই জোটের পাল্টাপাল্টি এ অবস্থানের কারণে স্বাভাবিকভাবে সবার দৃষ্টি রেফারির ভূমিকায় থাকা নির্বাচন কমিশনের দিকে।
বিশিষ্টজনরা বলছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে বিরোধী দলগুলো যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিগ্রহের শিকার হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।
তারা এও বলছেন, এই নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল তা না থাকায় তাদের প্রতি সেই আস্থা জন্মেনি।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে বিগত বছরগুলোতে নির্বাচন কমিশন একাধিকবার ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হলেও সেই কমিশনের হাত ধরেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপি, ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তারসহ নানা ‘দৃশ্যমান’ অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছিলেন, নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ হয়েছে। সে অনুযায়ী এই ইসিকে নিয়ে এবারও সংশয় জেগেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেছে তারা। এর মধ্যে গ্রেপ্তার বন্ধে হস্তক্ষেপ নিতে দলগুলো একাধিকবার চিঠিও দিয়েছে।
তবে তাতে কোনো প্রতিকার পায়নি। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সম্প্রতি যে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সেটি হলো ভোটগ্রহণের সময় পর্যবেক্ষকদের ওপর নানা রকম বিধি-নিষেধ আরোপ করা। ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার নির্দেশ দেয়ার বিষয়টি ‘সঠিক নয়’ বলেই উল্লেখ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। অন্যদিকে প্রশাসনের রদবদল চেয়ে বৃহস্পতিবার ইসিকে চিঠি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু সিইসির সঙ্গে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্তাদের মতবিনিময় শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া তাদের বদলি করা হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেয়া হয়। এর আগেও দুই দফা ঐক্যফ্রন্ট প্রশাসনের রদবদলের দাবি জানিয়েছিল। তখন ইসি বলেছিল, ঢালাওভাবে প্রস্তাব দিলে ইসি তা গ্রহণ করবে না।
কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্টভাবে তা জানালে ইসি খতিয়ে দেখবে। এরপর গত বৃহস্পতিবার প্রশাসন ও পুলিশের ৯২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করে ঐক্যফ্রন্ট। অন্যদিকে নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই সামনে আসছে ততই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ইসির ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেই মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। একটি বেসরকারি টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। যতই রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করবে ততই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। যদি বিরোধী দলগুলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নিগ্রহের শিকার হতে হয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি। এজন্য নির্বাচন কমিশন কতটুকু তার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেÑ সেটা নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে।
দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক দুটো। প্রথমত রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আর দ্বিতীয়ত হলো কোনো সংঘাত- অবরোধ নেই।
কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ যেটা সেটা হলো নির্বাচনে সমপক্ষতা নিশ্চিত হবে কিনা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া মানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আরেকটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন। এটাও বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এগুলো মোকাবিলা করে নির্বাচন কমিশন সমপক্ষতা নিশ্চিত করতে পারবে কিনা। অবশ্য কমিশনের নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা এবং দৃঢ়তা থাকা উচিত। পর্যবেক্ষকদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টিকে ‘অযৌক্তিক’ মনে করে সুজন সম্পাদক বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকার কথা বলার বিষয়টি অযৌক্তিক।
তবে পর্যবেক্ষকদের নির্বাচনকে যেন কোনোভাবে প্রভাবিত না করে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দ্বারা নির্বাচনী কাজ যেন কিছুতেই ব্যাহত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবে তারা ছবি তুলতে পারবে নাÑ এটা ঠিক নয়। কারণ তাদের ইভিডেন্স (প্রমাণ) দরকার। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন মূল্যায়ন করবে বলে আশা করি। গত বৃহস্পতিবার রাতেও রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে যশোর বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার হয়েছে। নির্বাচনকালীন এমন ঘটনায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, শুধু এটা নয়, গ্রেপ্তারও চলছে।
এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের কার্যকরী ভূমিকাই জরুরি। তারা কি ভূমিকা পালন করে সেটা দেখার বিষয়। ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ে যেতে বাকি থাকা এই সময়ের মধ্যে কতটা সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভবÑ এমন প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, এটা বোঝা যাবে আগামী কয়েকদিন পর। তবে এ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে তারা যে নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে সেই আস্থাটা জন্মাচ্ছে না। যেহেতু এখনো পাঁচ সপ্তাহ বাকি, দেখা যাক আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহে তারা কী পদক্ষেপ নেয়। জনগণ নিঃসন্দেহে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। এবং সাহায্য সহযোগিতাও করবে। এখন এটা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা আর নিরপেক্ষতার উপরে।
আমার ধারণা আগামী তিন সপ্তাহে ব্যাপারটা আরো স্পষ্ট হবে আসলে কোন্দিকে যাচ্ছে। পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ভোটগ্রহণের দিন কার্যক্রমে বিধি-নিষেধ আরোপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো এক ধরনের উদ্ভট সিদ্ধান্ত। তবে আশা করি, যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে পর্যবেক্ষকদের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত পাল্টাবে। বিরোধী দলগুলোর মামলা ও গ্রেপ্তার, ইসির কাছে প্রশাসনের রদবদল এবং বৃহস্পতিবার বুড়িগঙ্গায় বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গে শাহদীন মালিক বলেন, এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের (নির্বাচন কমিশন) প্রতি আস্থা এখনো সৃষ্টি হয়নি। আগামী তিন সপ্তাহে যদি তারা বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেন তাহলে আস্থা তৈরি হবে।

অনুমতি ছাড়া কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না ম্যাজিস্ট্রেটরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ না করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ে সিইসি এ নির্দেশনা দেন। সিইসি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আপনারা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করবেন। কিন্তু প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করবেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে কাজ করবেন এসব ম্যাজিস্ট্রেট।
শনিবার থেকে তিন দিনব্যাপী তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট জানান, দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে সিইসিসহ পাঁচ কমিশনার ও ইসি সচিব বক্তব্য রাখেন। তারা আচরণ বিধি প্রতিপালনে নানান করণীয় দিক তুলে ধরেন। ওই প্রশিক্ষণে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান আইনের প্রয়োগ করতে হবে।
মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাজে সহযোগিতা করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবেন। কবিতা খানম বলেন, আপনাদের কাছে প্রার্থীর পরিচয় শুধুই একজন প্রার্র্থী। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র আপনাদের রক্ষা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী পোস্টারে দলের প্রধানদের ছবি থাকবে। কিন্তু যেহেতু বিএনপির দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দণ্ডিত, পোস্টারে তাদের ছবি থাকতে পারবে কী না সে বিষয়ে পরে আপনাদের জানানো হবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচন ভবনের বেজমেন্ট-২’তে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত ব্রিফিং শুরু হয়। ব্রিফিংয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বক্তব্য দেয়ার পরপরই সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলে নির্বাচন কমিশন। অথচ এর আগে, ইসির জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশাদুল হক শনিবারের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু নিয়ম ভঙ্গ করেই ব্রিফিং শুরুর কিছু পরেই সাংবাদিকদের বের করে দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অনান্য কমিশনাররা। শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য পর্যন্ত ব্রিফিংয়ে থাকার সুযোগ চান সাংবাদিকরা। কিন্তু ইসি কোনো কথা না শুনে সাংবাদিকদের বেরিয়ে যেতে বলেন। এ সময় ইসির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণও করেন।
বিগত কয়েকদিন অনুষ্ঠিত রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, স্থানীয় পর্যবেক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সভাসহ সংবাদকর্মীদের ভিডিও ফুটেজ ধারণ, ছবি নেয়া, সিইসি, কমিশনার বা সচিবের বক্তব্য ধারণ করতে পারতেন সংবাদকর্মীরা। তবে, গতকাল শনিবার প্রথমবারের মতো রীতি ভেঙে অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়। ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিং শেষে অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ব্রিফিং থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বের করে দেয়ার বিষয়টি সঠিক হয়নি স্বীকার করে সিইসি বলেন, আজকের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের অন্তত অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে থাকতে দিলে ভালো হতো। আগামীকালও একই ধরনের বৈঠক আছে। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের থাকতে দেয়া হবে। ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া অন্তত তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নির্বাচনী আইন বিষয়েই মূলত তাদের ধারণা দেয়া হয়েছে। তবে, অনুষ্ঠান থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তারা।
বলেন, ব্রিফিংয়ে এমন আপত্তিকর বা বিব্রতকর কিছু বলা হয়নি, যা সাংবাদিকরা শুনলে কমিশনের সমস্যা হতো। সাংবাদিকরা অন্তত প্রথম পর্বে অংশ নিতে পারতেন। গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক। ব্রিফিংয়ে অংশ নেন ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও শেরপুরসহ কয়েকটি  জেলার ২২৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জেনুইন নির্বাচন না হলে বিপর্যয়: ‘ভোট করবে, জামিন নেবে, নাকি জেলে যাবে’

নির্বাচন ও ভোটাধিকার বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা প্রায় এক বাক্যেই বললেন, দেশবাসী একটি প্রকৃত নির্বাচন দেখতে চায়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যেটি হতে হবে ‘জেনুইন ডেমোক্রেটিক ইলেকশন।’ গোটা দুনিয়া বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সহিংসতামুক্ত, অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখতে মুখিয়ে আছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, জনমতের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটবে- এমন নির্বাচন সবাই চায়। যেখানে ভোট কারচুপি হবে না। রেফারি হিসেবে নির্বাচন কমিশন হবে পুরোপুরি নিরপেক্ষ। কমিশনের ভেতরে থেকে কেউ সিস্টেমেটিক ম্যানুপুলেশন বা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারবে না।
সবার জন্য নিশ্চিত হবে সমান সুযোগ। কমিশন কারও আজ্ঞাবহ হবে না বরং মেরুদণ্ড সোজা করে অর্পিত সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। প্রয়োজনে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলও আনবে। কমিশন সেটি করতে ব্যর্থ হলে তারাই দায়ী থাকবে।
তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, মানুষ যদি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা হারায় তবে জাতিগতভাবে বিপর্যয় নেমে আসবে। হানাহানির আশঙ্কাও করেন কেউ কেউ। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ নিয়েও কথা হয়। অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন,  কোর্টে এখনও হাজারেরও বেশি লোক জামিন নিতে অপেক্ষায় আছে।
এখন মানুষ নির্বাচন করবে, নাকি বেইল নেবে, নাকি জেলে যাবে? ‘নির্বাচনের রাজনীতি ও জনগণের ভোটাধিকার’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজক ছিল সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্ট্যাডিজ। রাজধানীর ইস্কাটনস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজ মিলনায়তনের ওই আয়োজনে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন- আইনজ্ঞ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সামরিক ও বেসামরিক সাবেক কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, গবেষক, বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টার প্রাণবন্ত ওই আলোচনায় ছিল যুক্তি, পাল্টা-যুক্তি। সরকার, বিরোধী পক্ষ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের ত্রিমুখ বিতর্ক। সেখানে ঘুরে-ফিরে আসে বহুল আলোচিত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গ। ওই নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনরাও যে স্বস্তিতে ছিলেন না, সেটি স্বীকার করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে ২০১৪ সালের ওই নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ না নেয়ার সমালোচনাও হয়।
তবে সবাই এটা আশা করেন ৫ই জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি আর ঘটবে না। আনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রফেসর ড. এম আতাউর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। মুখ্য আলোচক ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম. হাফিজ উদ্দিন খান, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেটট শ ম রেজাউল করিম, বিএনপির সাবেক এমপি জহির  উদ্দিন স্বপন, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর আবুল কাশেম ফজলুল হক, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক পিএসও ও বিজিবির সাবেক ডিজি লে. জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নেতা আবদুল হক, গবেষক ড. এনামুল হক, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ গ্রুপ ফেমার প্রেসিডেন্ট মনিরা খান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইকারাস ইউএসএ ইনকরপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মাহমুদ রেজা চৌধুরী এবং সেন্টার ফর গভর্নমেন্ট স্টাডিজের ভাইস চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ। চ্যানেল আই-এর তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক সাংবাদিক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন মোটা দাগে কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করেন। বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য হবে, নাকি ২০১৪ সালের মতোই ‘ত্রুটিযুক্ত এবং ব্যর্থ’ হবে, এটাই এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হলেও সেটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। প্রাক্তন ওই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন মাঝে মধ্যে এমন সব কথা বলছে যা তারা নিজেদের বিতর্কিত করে ফেলছে। মনে রাখতে হবে বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে এই নির্বাচনের দিকে। সরকারের অধীনে এর আগে নির্বাচন হলেও এবারই প্রথম দলীয় সরকারের অধীনে সব দল অংশ নিচ্ছে। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনকে ফ্রি ও ফেয়ার করা ইসির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে সরকারই সব রকম সহযেগিতা করতে হবে। অবশ্য বিদায়ী বক্তব্যে ড. সাখাওয়াত দেশে ‘প্রকৃত নির্বাচন’ই হবে আশা করে বলেন, এর ব্যত্যয় ঘটলে জাতীয়ভাবে ‘বিপর্যয়’ হবে।
আলোচনায় অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ৩০শে ডিসেম্বরের ভোট হবে কি না? তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। অবশ্য তিনি এজন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন এবং এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দায়ী করেন। বলেন, তারা যেভাবে ভোট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, তাতে আমাদের মধ্যে আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। তাদের বক্তব্যকে তো আমরা ফেলনা মনে করি না। সরকার বা তার দল প্রকৃত নির্বাচনই চায় দাবি করে হানিফ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি স্বাধীন। যারা কমিশনে আছেন তারা যদি কারও আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করেন তবে সে দায় তাদের, সরকার কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের নয়।
সেমিনারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। মিন্টু বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী সহিংতার জন্য ঢালাওভাবে বিএনপিকে দায়ী করা হয়। অথচ তার অভিজ্ঞতা হচ্ছে তিনি সে সময় ঘরের বাইরেই বের হননি। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২২টি মামলা দেয়া হয়েছে। ওই সহিংসতার নেপথ্যে কারণ খুঁজতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি। মিন্টু অভিযোগ করেন, বর্তমানে যে অবস্থা চলছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব।
সরকার ও ইসির কঠোর সমালোচনা ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলামের: গোলটেবিল আলোচনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশ নেয়া সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করেন। এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকা প্রবীণ ওই আইনজীবী বলেন, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রশাসন রাজনৈতিক দলের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের এখানে আইনের শাসন অনুপস্থিত। এক্সিকিউটিভ পাওয়ার পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং এর কোনো একাউন্টিবিলিটি বা দায়বদ্ধতা নেই। নির্বাচনের এই সময়েও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কোর্টে এখনও গেলে আপনারা পাবেন হাজারেরও বেশি লোক জামিন নিতে অপেক্ষায় আছে।
এখন মানুষ নির্বাচন করবে, নাকি বেইল নেবে, নাকি জেলে যাবে? এখন মানুষকে ঘরছাড়া করে ফেলা হচ্ছে। ‘হয়রানিমূলক’ মামলা ও ধরপাকড়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তফসিল ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপেও ‘গায়েবি’ মামলা বন্ধের দাবি ওঠে ছিল। দলীয় ব্যক্তিদের নির্বাচনের দায়িত্ব না দেয়ার দাবির পাশাপাশি ভোটগ্রহণে ইভিএমের ব্যবহার নিয়েও আপত্তি করছে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু এটি সরকার ও ইসি আমলে নেয়নি। এই দুই প্রসঙ্গেও কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। তার ভাষায়- ‘পত্রিকায় দেখেছি সিইসি কালকে নাকি পুলিশকে বলেছে, আপনার সম্ভাব্য প্রিজাইডিং অফিসারদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য তাদের বাড়িতে বাড়িতে কেন যাচ্ছেন, যা করবেন চুপচাপ করবেন।
তাহলে কারা প্রিজাইডিং অফিসার হবে এবং হবে না সেটাও ওখানে সিদ্ধান্ত হচ্ছে? তিনি বলেন, ‘ইভিএম কি জিনিস আমি তো বুঝি না। ইভিএম কোম্পানিটা কোথাকার সেটাও জানি না। এটা কি এমআরআই মেশিনের মতো কোনো মেশিন নাকি? আমি এর সম্পর্কে কিছুই জানি না। ইভিএমের ডেমো করা হচ্ছে, এটা বিরাট প্রমোশন, আমি কোম্পানিটার নাম জানতে চাই।’ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর-উল ইসলাম কয়েক দশক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি এই নির্বাচনকে দেখছেন ‘মুক্তির পথ’ হিসেবে। সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সাধারণ মানুষ কোনো রকম পুলিশি হয়রানিতে পড়বে না, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি কি না? নিলে কেন তারা কোনো জামিন পাচ্ছে না, সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টে বেইল নিতে আসছে।
পরিস্থিতি এখন এ রকম। ইতিহাস বলে, নির্বাচন হচ্ছে মুক্তির পথ। এই নির্বাচন জনগণকে উপভোগ করতে দিতে হবে।’ আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম বলেন, নির্বাচন ঘিরে যা ঘটছে তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া আছে। যেমন সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ আসছে জামিনের জন্য। তাদের বেশিরভাগই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং অনেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান। কিন্তু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি বাদ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আসতে হচ্ছে জামিনের জন্য। যেসব মামলা হচ্ছে, সেগুলো কী ধরনের মামলা তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। কোন দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর কোন দলের নেতাকর্মীরা আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন, এটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ইভিএম নিয়ে আপত্তি: অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম. হাফিজ উদ্দিন বলেন, ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের হঠাৎ সিদ্ধান্ত, বিপুল ব্যয় এবং অনমনীয় অবস্থান প্রশ্নের উদ্রেক করে। নির্বাচন কমিশন যদি প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ড করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়। যেটা নির্বাচন কমিশনের বলার কথা, সেটা আগেই সরকার কিংবা সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক বলে দিচ্ছেন।
এগুলো মানুষের মনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা ভয়াবহ সংকটে আছি। সংকটের কারণেই অনেক দিন পর সবগুলো দল নির্বাচনে অংশ নিলেও সেই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যেহেতু দলীয় সরকার এবং সংসদ বহাল রয়েছে, সে কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমতল ক্ষেত্র তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। আরও সন্দেহ ভোটগ্রহণ ঠিকমতো হলেও ভোট গণনা সঠিকভাবে হবে কি না। তিনি বলেন, এত সন্দেহের সৃষ্টি হতো না যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এত বিভেদ, অনাস্থা, অবিশ্বাসের সম্পর্ক না থাকত। তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ ম রেজাউল করিম প্রতি পাঁচ বছর পর শুধু নির্বাচন নিয়ে না ভেবে রাজনীতিতে স্থায়ী গুণগত পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবার তাগিদ দেন। বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন তার নিজের নির্বাচনী এলাকায় যাওয়া ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও নির্বাচনের নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়াটা রাজনীতিবিদদেরই ব্যর্থতা। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, যে রাজনীতিবিদরা তাদের সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে লেখাপড়া করান এবং বিদেশের নাগরিক হতে উদ্বুদ্ধ করেন তাদের এদেশে এমপি-মন্ত্রী হওয়া কতটা নৈতিক এবং উচিত তা বিবেচনা করা জরুরি। যারা বিদেশের নাগরিকত্বকে প্রাধান্য দেন, যতই দেশ নিয়ে কথা বলুক, তারা দেশের উন্নয়ন করতে পারেন না।
কারণ, তাদের সত্যিকারের টান দেশের জন্য নেই। মনিরা খান বলেন, বিগত সময়ে যত নির্বাচন কমিশন হয়েছে তার মধ্যে দু-একটা ছাড়া বাকি সবকটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে করা যায় না উল্লেখ করে বলেন, তিন স্তরে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে হয়। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে পর্যবেক্ষণ ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ইভিএম কেনার জন্য চার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে, অথচ চারশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকায় ২০টি ইউলুপ নির্মাণ করা হলে যানজট অধিকাংশই নিরসন সম্ভব। মানুষ আজ যানজটে অতিষ্ঠ।

অফিসার্স ক্লাবে প্রশাসন-পুলিশের গোপন বৈঠকের খবর দিলেন রিজভী

প্রশাসন ও পুলিশের ‘দলবাজ’ কর্মকর্তাদের আবারো নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে প্রত্যাহারের দাবি করে সমপ্রতি তাদের এক গোপন বৈঠকের খবর দিয়েছে বিএনপি। গতকাল সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রশাসন ও পুলিশের বিতর্কিত ও দলবাজ কর্মকর্তারা জনসমর্থনহীন আওয়ামী লীগকে ফের ক্ষমতায় বসানোর জন্য নানা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। প্রতিনিয়ত তারা গোপন বৈঠক করছে। গত ২০শে নভেম্বর রাতে ঢাকার বেইলী রোডে অফিসার্স ক্লাবের চারতলায় পেছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং হয়। এ মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, পানিসম্পদ সচিব (প্রধানমন্ত্রীর অফিসের প্রাক্তন ডিজি) কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব মহিবুল হক, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও মহানগরী রিটার্নিং অফিসার আলী আজম, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ কাজী নিশাত রসুল (বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে) ছাড়াও র‌্যাব, পুলিশ, ডিএমপি, কাউন্টার টেরোরিজমের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
২০শে নভেম্বরের ‘দলবাজ’ কর্মকর্তাদের বৈঠকের খবর দিয়ে রিজভী আহমেদ আরো বলেন, আমাদের কাছে বিভিন্ন সূত্রে এই খবর এসেছে। রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টার ওই বৈঠকে সারা দেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেটআপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়।
সেখানে ডিআইজি হাবিব জানান, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে এবং ৬০-৬৫টিতে কনটেস্ট হবে, বাকি আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উতরানো যাবে না। সারা দেশে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা (প্রধানমন্ত্রী) প্রথম তালিকায় যে ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন সেই কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে।
রিজভী আহমেদ জানান, বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে। যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবে না। ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম-খুন করে এমন অবস্থা তৈরি করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। রিজভী বলেন, সেটির আলামত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে যশোর জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু বকর আবুকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেয়ার মধ্যদিয়ে। বৈঠকে আরো বলা হয়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে যায় তাহলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তাণ্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে। যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে।
আর যদি ধানের শীষের অনুকূলে ভোটের হাওয়া ঠেকানো না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে। বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠাণ্ডা করা হবে। বৈঠকে বলা হয়, এরপর থেকে এ ধরনের সভা খুব বেশি করা যাবে না, তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে। এ ছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ৮ জন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারি আদেশ জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
কিন্তু গোপনে ঐসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারা দেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষ্যে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। রিজভী বলেন, এখানে সব ধরনের অফিসারদের গমনাগমন ঘটে থাকে, তাই বিরোধী পক্ষের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে অফিসার্স ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সভাটি বসে। রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীনরা আসন্ন ভোট নিয়ে কি ভয়ঙ্কর পরিকল্পনায় মেতে উঠেছে। উপরোক্ত দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে সরকারের এজেন্ডা নির্বাচন কমিশন কখনো প্রকাশ্যে কখনো নীরবে-নিভৃতে বাস্তবায়ন করছে-এই অভিযোগ এখন সর্বত্র ভূরিভূরি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিরসন করতে সক্ষম হয়নি। রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার পরও আওয়ামী প্রশাসনিক দাপটের ছবিটা মোটেও বদলায়নি- এটাও তার একটি প্রমাণ। কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার তাদেরকে স্বপদে বহাল রাখতে তৎপর। বিএনপি যাদের তালিকা দিয়েছে ওই দলবাজ কর্মকর্তাদের সরাতে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে কাজ করছে বলেই এই অভিযোগগুলো থেকে ছিটকে আসা কাদা তারা ঠেকাতে পারেনি। রিজভী আহমেদ বলেন, আমরা আবারো বলতে চাই- বিতর্কিত নির্বাচনীকর্মকর্তাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদেরকে প্রত্যাহার করতে হবে।
সমপ্রতি গ্রেপ্তার হওয়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রথম শ্রেণির ডিভিশন বাতিল করে দেয়ার ঘটনার নিন্দা জানান রিজভী আহমেদ। বলেন, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী একজন সাবেক এমপি। তাকে আটক করার পর প্রথমে ডিভিশন দেয়া হলেও গতকাল (শুক্রবার) তা বাতিল করে সাধারণ কয়েদিদের ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে যন্ত্রণা দিতেই কারাগারে তার ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে বলে আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই।
রিজভী বলেন, গত ২১শে নভেম্বর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গোয়েন্দা পুলিশ রমনা ছাত্রদলের নেতা মাসুদ রানাকে তুলে নেয়ার পর এখন তা অস্বীকার করছে। তার পরিবারের সদস্যদের মতো আমরাও উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে তাকে জনসমক্ষে হাজির করার দাবি জানাচ্ছি। রিজভী বলেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই আইনি প্রক্রিয়ার নামে বারবার হয়রানি করা হচ্ছে। হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করার পরও সেই আদেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে সরকার পক্ষ। উদ্দেশ্য টুকুকে আটকে রাখা, যাতে সে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারে।
কিশোরগঞ্জে মনোনয়নপ্রত্যাশী শরীফুল আলমসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার চিত্র তুলে ধরেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। রিজভী বলেন, কয়েকদিন আগে ভৈরবে বিএনপির শান্তিপূর্ণ একটি উঠোন বৈঠক চলাকালে পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ছাত্রলীগ-যুুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় উল্টো পুলিশ বাদী হয়ে গত ১৯শে নভেম্বর ৪৮ জনকে জ্ঞাত ও ৩৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। একই ঘটনায় শুক্রবার রাতে ভৈরবে যুবলীগের পৌর সভাপতি বাদী হয়ে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৯৮ জনকে জ্ঞাত ও ১০০ জন নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামি করে আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। বিএনপি নেতা জামাল ডাক্তার ও আলমগীর মেম্বারসহ ইতিমধ্যেই পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কয়েকদিন থেকেই পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে। রিজভী বলেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী শরিফুল আলমসহ নেতাকর্মীরা এখন এলাকাছাড়া। আমরা এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, হাবিবুর রহমান হাবিব, কেন্দ্রীয় নেতা মুনির হোসেন, শরীফুল আলম, আবদুল আউয়াল খান, হারুনুর রশীদ ও আশরাফউদ্দিন বকুল উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গোপন বৈঠকের অভিযোগের ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক বিবিসিকে বলেন, তাদের ব্যাচমেটদের মেলামেশাকে রাজনৈতিক রং দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ব্যাচমেটরা মাঝেমধ্যে একসঙ্গে বসি, ভবিষ্যতেও বসবো। এটাকে পলিটিসাইজ করার কিছু নেই। গোপন বৈঠকের খবর সঠিক নয় দাবি করে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেছেন, তাকে হেয় করতে প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। আমি কোন ধরনের বৈঠকে অংশ নেইনি। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান বৈঠকে অংশ নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, অফিসার্স ক্লাবে মিটিং করার তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট।

দুই জোটেই শেষ মুহূর্তের দরকষাকষি

চলছে শেষ মুহূর্তের দরকষাকষি। কোন দল কতোটি আসন পাচ্ছে তার হিসাব কষছে সবাই। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দল ও জোটের সিদ্ধান্ত জানতে উদগ্রীব। শেষ মুহূর্তের হিসাব মেলাচ্ছে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো এখন ব্যস্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে নিজেদের প্রার্থী দেয়ার চেষ্টায়। আওয়ামী লীগের নেতারা মহাজোটের শরিক দল ও জোটের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করছেন আসন বণ্টন নিয়ে। শরিক দলের নেতারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে এ বিষয়ে কথা বলছেন। প্রাথমিকভাবে কিছু আসনে সমঝোতা হলেও শরিক দলগুলোর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা হবে আজ-কালের মধ্যে।
ক্ষমতাসীন জোটের হয়ে নির্বাচন করতে চাওয়া জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের দরকষাকষি চললেও গতকাল পর্যন্ত নেতারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে পারেন নি।
সূত্র জানিয়েছে, সর্বোচ্চ আসন দাবি করলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে শেষ পর্যন্ত সেটিই মেনে নেবে বর্তমান সংসদে একই সঙ্গে সরকারি ও বিরোধী অবস্থানে জাতীয় পার্টি। এদিকে ১৪ দলের বাইরে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গেও আসন নিয়ে আলোচনা করছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল ও ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে আসন নিয়ে আলোচনা করছে বিএনপি। এ পর্যন্ত কিছু কিছু আসনে সমঝোতা হলেও কিছু জটিলতা সামনে রেখে তা সুরাহার চেষ্টা করছেন নেতারা। আজ-কালের মধ্যে এ জোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে বলে নেতারা জানিয়েছেন। 
প্রতিদ্বন্দ্বী দেখে যোগ্য প্রার্থী দেবে বিএনপি  জোট: প্রার্থী চূড়ান্তকরণে নানামুখী হিসাবনিকাশ কষছে বিএনপি। প্রতিদ্বন্দ্বী দেখে যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিতে চায় দলটি। নিজ দলের প্রার্থী মনোনয়নের পাশাপাশি ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে নানা বিষয়। দলের মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শেষে এখন চলছে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের তোড়জোড়। বিশেষ করে ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের কোন কোন আসনে সমর্থন দেয়া হবে সেটা নিয়ে সিরিজ বৈঠক করেছেন দলটির নীতিনির্ধারক ফোরাম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেশকিছু আসনে জোট প্রার্থীর কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৈরি হয়েছে জটিলতা। জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের প্রত্যাশিত আসনগুলো অধিকাংশ বিএনপি অধ্যুষিত এলাকায় হওয়ায় ও সেখানে দলের যোগ্য প্রার্থী থাকায় দলটি পড়েছে দোটানায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান প্রতিপক্ষ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেখে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করতে চায় বিএনপি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো তালিকা দিয়েছে সেটা বিশ্লেষণের জন্য ছোট্ট একটি টিমকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তারা ৮০টির মতো আসনে শরিকদের দেয়া প্রার্থীর ব্যাপারে বিবেচনার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
এর মধ্যে এমন কিছু আসন রয়েছে যেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে বিএনপির। ফলে বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সে সংখ্যাটি নেমে এসেছে ৪০-এ। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সংখ্যাটি কিছুটা বাড়তে পারে। বিএনপি সূত্র জানায়, জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী ৫১টি আসনের প্রার্থী তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি আসনের জন্য তারা দেন-দরবার করছে। তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৫টি আসন দেয়ার ব্যাপারে রাজি হয়েছে। আসন নিয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় তারা অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছেন। তবে জামায়াতের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে শেষ পর্যন্ত কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে এলডিপির ৩৫ জনের মধ্যে ১২ জন প্রার্থীর পক্ষে দরকষাকষি করছে। তবে সবচেয়ে কম আসন চাওয়া কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, বীরপ্রতীকের আসন নিয়েও রয়েছে জটিলতা।
বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমান, মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মণ্ডলকে একটি করে আসন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেতার মনোনয়নে। এর মধ্যে ঢাকা-২ ও ৩ আসনেই রয়েছেন দলের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও আমান উল্লাহ আমান। ফলে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা মহানগরের আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। আবার গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ, বীরবিক্রমের মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের এই আসনে অলিকে প্রাধান্য দিয়ে সুব্রত চৌধুরীর জন্য বিকল্প চিন্তা করা হচ্ছে। জেএসডি প্রাথমিকভাবে ১৩২ জনের তালিকা তৈরি করলেও ১০-১২টি আসন নিয়ে দরকষাকষি করছেন।  নাগরিক ঐক্য ৩৫ জনের মনোনয়নের তালিকা প্রস্তুত করলেও তাদের দেন-দরবার ৭ আসন নিয়ে। তবে দলটিকে ৩টি আসনে সমর্থন দেয়ার সম্ভাবনা জোরালো। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর প্রত্যাশিত আসনগুলো নিয়েও জটিলতা রয়েছে। তবে দুইটি আসনে তার মনোনীত প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হতে পারে। মনোনয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, এবার একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে নির্বাচন হচ্ছে। এখানে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে টিকে থাকতে হবে। ভোটের মাঠ ছেড়ে দেয়া যাবে না। তাই যারা নিজ নিজ এলাকায় বিরূপ পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে ভোটের মাঠে থাকতে পারবেন, ভোটারদের সঙ্গে থাকতে পারবেন, তাদেরই মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে।
কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে একটি খসড়া প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছিলেন। সেই তালিকা ধরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের আসন বণ্টনের পাশাপাশি নতুন যোগ্য প্রার্থীদের বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি ও মনোনয়ন বিষয়ে সমন্বয়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, আসন বণ্টনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আসন বণ্টনের দায়িত্ব ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির। মনোনয়নপ্রাপ্তরা নির্বাচনের সময় কারাগারে থাকলে সেখান থেকেই তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন। তবে বিকল্প প্রার্থীও হাতে রাখা হচ্ছে।
ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন নিয়ে আজ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক হতে পারে। এ বৈঠকে শরিক দলগুলোর আসনের একটা খসড়া তালিকা তৈরি করা হতে পারে।
১৪ দলীয় জোটের শরিক ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক: আসন বণ্টন নিয়ে গতকাল আওয়ামী লীগ নেতারা ১৪ দলের শরিক ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা মানবজমিনকে জানান, শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু  অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেন। দশম সংসদে ওয়ার্কার্স পার্টির আসনগুলোসহ এবার ১০টি আসনের জোরালো দাবি ছিল দলটির।
শনিবারের বৈঠকে ৫টি আসনে  ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া মেহেরপুর-২, নাটোর-১ ও যশোরের একটি আসন নিয়ে দরকষাকষি হচ্ছে। আজ রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে সুরাহা হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন ওয়ার্কার্স পার্টির শীর্ষ নেতারা। ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এবারের নির্বাচনে ১০টি আসনে প্রার্থিতার জন্য আমরা দাবি জানিয়েছিলাম। ৫টি আসনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, নড়াইল-২ আসনে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ হাফিজুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কিন্তু এবার এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করতে চান ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা। তাই আগামী নির্বাচনে এই আসনটি আমাদেরকে ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো তিনটি আসনের বিষয়ে সুরাহার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে আবারো বসবো আমরা।
দশম সংসদে জাতীয় পার্টির (জেপি) দু’জন সদস্য রয়েছেন।
এর মধ্যে পিরোজপুর-২ আসনে দলটির চেয়ারম্যান ও পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে রুহুল আমিন। জেপির শীর্ষ নেতারা জানান, এবার ওই দুটি আসনে দুজনের প্রার্থীতা বহাল রেখে আরো কিছু আসনে প্রার্থিতার দাবি রয়েছে তাদের। দলটির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, ওই দু’জনের পাশাপাশি আরো কয়েকটি আসনে প্রার্থিতার দাবি রয়েছে আমাদের। এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জেতার মতো অন্তত ৩০ জন প্রার্থী আমাদের রয়েছে। তবে, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে জোরালো কোনো দাবি নেই। আলোচনার মাধ্যমে আরো কয়েকজনের প্রার্থিতার বিষয়টি সুরাহা হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে ১৪ দলীয় জোটের সকল প্রার্থীর তালিকা দেখে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ও জেতার মতো প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আমরা আশা করছি।
মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও এম এ আউয়ালের ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (আইডিএ) এবার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও তাদের প্রার্থিতার দাবি তিনটি আসনে। জোটের কো-চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র এম এ আউয়াল দশম সংসদে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এখন এই জোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী ও মহাসচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলামের প্রার্থিতার বিষয়ে তারা চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে। এমএ আউয়াল মানবজমিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের বৈঠকের পর সবকিছু চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, আমাদের জোটের দুই শীর্ষ নেতার দুটি ও মহাসচিবের প্রার্থিতার বিষয়ে আমাদের দাবি থাকবে। তবে, এ বিষয়ে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) ইচ্ছাই চূড়ান্ত। তিনি যা ভালো মনে করবেন আমরা সেটি মেনে নেব।    
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটে আব্দুল লতিফ নেজামীর ইসলামী ঐক্যজোটের অন্তর্ভুক্তি বা আসন সমঝোতার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শোনা গেলেও গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী। একই সঙ্গে মহাজোটে অন্তর্ভুক্ত না হলেও বেশকিছু আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী দেয়া হবে বলে জানান তিনি।
গতকাল সন্ধ্যায় মানবজমিনকে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। আসন সমঝোতা বা বণ্টন নিয়ে তাদের কাছে আমাদের কোনো দাবিও নেই। তবে, আমাদের দলের নিবন্ধন টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমরা নির্বাচনে যাব। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের ৬০ জন প্রার্থী বাছাই করেছি। এর মধ্যে ২০/২২ জনকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়ে গেছে। বাকিদের মধ্যে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন তাদের সবাইকে আমরা নির্বাচনের সুযোগ দেব। আব্দুল লতিফ নেজামী বলেন, এর আগে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করিনি। এবার যদি নির্বাচনে অংশ না নিই তাহলে আমাদের দলের নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে। তাই আমরা নির্বাচনে যাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
দশম সংসদে জাসদের (ইনু) সদস্য রয়েছেন মোট ৬ জন। এর মধ্যে একজন সংরক্ষিত আসনে। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থিতার সংখ্যা আরো বাড়াতে চেয়েছিলেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তবে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এবারো তাদের ওই আসনগুলোর প্রার্থিতা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে। যদিও গতকাল বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের হাতে ১৫ জনের একটি প্রার্থী তালিকা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান জাসদের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার। তিনি বলেন, আমরা আমাদের দলের ১৫ জনের একটি প্রার্থী তালিকা তুলে ধরেছি। এখন কয়টি আসন আমাদের দেয়া হবে, এটি যখন হবে তখন দেখা যাবে।
দশম সংসদে সংরক্ষিত আসনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ/মোজাফফর) আমেনা আহমেদ সংসদ সদস্য রয়েছেন। দলটির নেতারা জানান, সামনের নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা তাদের নেই। যদিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলটির পক্ষ থেকে কয়েকজন প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছে পুলিশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু আছে বলে দাবি করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে, আমাদের কথা মানছে। কমিশনের নির্দেশনার বাইরে বিনা কারণে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার-হয়রানি করছে না। গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাচনে করণীয় বিষয়ে ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ করে আসছে সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
এই জোটের পক্ষ থেকে ‘দলবাজ’ পুলিশ কর্মকর্তাদের তালিকা ইসিতে জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকাও সিইসি বরাবর জমা দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এ জোট। নিখোঁজের তিন দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে মনোনয়ন প্রত্যাশী এক বিএনপি নেতার লাশ বুড়িগঙ্গা নদীতে পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় বিএনপির অভিযোগের তীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ইসির নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গায়েবি মামলা দায়ের ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে খোদ একজন নির্বাচন কমিশনারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গত বৃহস্পতিবার। গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা ও আইন অনুযায়ী যেভাবে এগোনোর কথা সবকিছু ঠিকভাবেই এগোচ্ছে। পুলিশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। কিছু দিন আগেও আমরা পুুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছি। নির্দেশনা ছাড়া পুলিশ কাজ করবে না, এমন কথাই দিয়েছে। সে কথা মতো তারা এখনও আমাদের নির্দেশে কাজ করছে। কমিশনের নির্দেশনা মানলেও সরকারের নির্দেশ পুলিশ পালন করছে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, সরকারের দিক থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের নির্দেশই মাঠে যায়, পুলিশ সে অনুযায়ীই কাজ করে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এ নির্বাচন পরিচালনার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের জেলা-উপজেলা ও নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী দায়িত্ব দেয়া হয়ে থাকে। রিটার্নিং অফিসাররা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রিজাইডিং অফিসারদের মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব দেবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ফিল্ড লেভেলে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করবেন। এ রকম নানা বিষয় ও আইনের বিভিন্ন বিধিবিধান সম্পর্কে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক। ব্রিফিংয়ে অংশ নেন ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও শেরপুরসহ কয়েকটি জেলার ২২৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।