Saturday, March 6, 2010

ইসলাম নারীর অধিকার সমুন্নত করেছে by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

ইসলাম নারীর অধিকার সমুন্নত রাখতে দিকনির্দেশক ও পথপ্রদর্শক। আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে ইসলাম নারীদের বেশ কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের সমপর্যায়ের অধিকার দিয়ে সম্মানিত করেছে। ইসলামধর্মের মাধ্যমেই মানুষ প্রথম জেনেছে, যেকোনো মৌলিক অধিকার অর্জন মেয়েদের জন্মগত অধিকার। ইসলামই নারীকে সঠিক ও যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। প্রাক-ইসলামি যুগে নারীর যখন কোনো সামাজিক অধিকার ছিল না, যখন পুরুষেরা তাকে শুধু ভোগের জন্য ব্যবহার করত, যখন কন্যাশিশু জন্মগ্রহণকে অপমানজনক মনে করে তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো, তখন বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নারী ও পুরুষের সমমর্যাদার কথা বললেন। তিনি আল্লাহর বাণী ঘোষণা করলেন, ‘আর যে সত্কাজ করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী হোক, যদি সে মুমিন হয়, তাহলে এমন লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের বিন্দু পরিমাণ হকও বিনষ্ট করা হবে না।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১২৪)
মুসলিম পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে ইসলাম নারীকে দিয়েছে অত্যন্ত সম্মানজনক মর্যাদা। ইসলামের শান্তিময় বিধান নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদার অধিকারী করেছে। ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো রকম তারতম্য নেই। ইসলাম কখনো নারীকে চার দেয়ালে আবদ্ধ করেনি। নারীকে প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বা কর্মস্থলে যেতে হবে বলেই ইসলাম তার সম্মান ও নিরাপত্তার জন্য পর্দার ব্যবস্থা অত্যাবশ্যকীয় করেছে। উম্মুল মুমিনীন তাঁদের কাছে আগত মহিলাদের ধর্মীয়, ব্যক্তিগত, পারিবারিক প্রভৃতি বিষয়ে নৈতিক শিক্ষাদান করতেন। নবী করিম (সা.) স্বয়ং নারীদের শিক্ষা গ্রহণের গুরুত্বের প্রতি বিশেষভাবে সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নারীদের উদ্দেশে শিক্ষামূলক ভাষণ দিয়ে উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ।’ (ইবনে মাজা)
আল্লাহ প্রদত্ত মানব মর্যাদা সম্পর্কে জানতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। নারীদের শিক্ষা, চিন্তা-চেতনা, পাত্র নির্বাচন ও কর্মের স্বাধীনতাসহ সম্মতি প্রদানের অধিকার সর্বপ্রথম ইসলামই দিয়েছে। ইসলাম বিবাহের সময় অবিবাহিতা মেয়েদের, তালাকপ্রাপ্তা এবং বিধবাদের মত প্রকাশের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছে। নারীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিজেদের নৈতিক চরিত্রকে সমুন্নত রাখবেন এবং সত্ ও ধার্মিক ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে নির্বাচন করবেন বিভিন্ন আয়াতে এমনই নির্দেশিত। সমাজে মাতা, গৃহকর্ত্রী ও ব্যবসা-কর্মে নিয়োজিত নারীদের যথার্থ অবস্থান নিশ্চিত করে রাসূলুল্লাহ (সা.) নারীর অধিকার সমুন্নত করে গেছেন। ইহকালীন ও পারলৌকিক জীবনে সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও মুক্তির জন্য যাবতীয় বৈষম্য, অজ্ঞতা ও অহংকার পরিত্যাগ করে সত্কর্মের দ্বারা পারস্পরিক সম্পর্কের মাপকাঠি নির্ধারণ করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।
ইসলামে পিতামাতা, নিকটাত্মীয় ও স্বামীর সম্পত্তিতে রয়েছে নারীর সম্মানজনক অধিকার। যেকোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে যে অর্থসম্পদ মহিলারা উপার্জন করবেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে যে ধন-সম্পদের অধিকারী হবেন এতে ইসলাম নারীকে দিয়েছে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা। তবে এ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেলাকের (পিতা, ভাই, স্বামী) পরামর্শ গ্রহণের জন্য ইসলাম তাগিদ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘পিতামাতা ও আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষের অংশ আছে এবং পিতামাতা, আত্মীয়স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীরও অংশ আছে, তা অল্পই হোক বা বেশি হোক, এক নির্ধারিত অংশ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত-৭)
স্বভাবতই নারীরা এক নিবিড় পারিবারিক বন্ধন ছেড়ে স্বামীর গৃহে যায়। সেখানে গিয়ে যাতে মেয়েটি কোনো রকম নিরাপত্তাহীনতা অনুভব না করে, সে জন্য তার প্রতি স্বামীর সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন এবং যাতে পুরুষ এবং নারী তাদের প্রাপ্ত অধিকার এবং হকের বিনিময়ে সচেতনতা অবলম্বন করতে পারেন তাই স্বামী-স্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান ও সমানাধিকার সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে, ‘নারীদেরও (পুরুষদের ওপর) তদ্রূপ অধিকার আছে, যদ্রূপ নারীদের ওপর পুরুষদের অধিকার আছে বিধান অনুযায়ী।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২২৮)
ইসলাম নারীকে সর্বক্ষেত্রেই অধিকার দিয়েছে বেশি আর পুরুষকে দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েছে বেশি। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে আল্লাহ তাআলা পোশাকের সঙ্গে তুলনা করেছেন। পোশাকের সঙ্গে শরীরের সম্পর্ক যত নিবিড়, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ততটাই নিবিড় হওয়া চাই। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরাও তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ’।(সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৭) নবী করিম (সা.) স্বামীকেই অধিক ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু হতে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন, ‘তোমরা নিজ পত্নীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ এবং তাঁরই আদেশমতো তাদের তোমাদের জন্য বৈধ করে নিয়েছ। মুমিন স্বামী ঈমানদার স্ত্রীর প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণকারী হবে না। কারণ, স্ত্রীর কোনো ব্যবহারে মনে কষ্ট এলেও পুনরায় তার দ্বারাই এমন ব্যবহার পাবে, যাতে সন্তুষ্টি লাভ হবে।’ (মুসলিম)
ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়েরই ন্যায্য অধিকার ও সমমর্যাদা স্বীকৃত। যেমন—বাক্স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও সমালোচনার অধিকার। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ পরস্পরের সহযোগী, প্রতিযোগী নয়। পরিবারে নারী-পুরুষ উভয়ই সংসারধর্ম পালন করবে এবং পারস্পরিক উন্নতির সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। স্বামী যেহেতু বাইরে চাকরি বা ব্যবসায় ব্যস্ত, সেহেতু ঘরে সন্তানদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া ও চরিত্র গঠন করার মতো বিরাট দায়িত্ব স্ত্রীকেই পালন করতে হয়। ঘরের এ মূল দায়িত্বকে উপেক্ষা না করে কোনো নারী যদি সময়-সুযোগ, মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক কোনো চাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্য করে, তবে তা অতি উত্তম। স্বামীর সংসারে কর্ত্রী হিসেবে নারীর দায়িত্ব নির্ধারণ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনবর্গের এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারিণী।’ (বুখারি ও মুসলিম)
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতে নারীরা স্ব স্ব যোগ্যতা ও মেধার গুণে নিজেরাই কর্মসংস্থান করে নিচ্ছেন, কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো নারীদের প্রতি রূঢ় আচরণ করা যেন মানুষের মজ্জাগত। নারী সহকর্মীকে প্রায়ই আপন করে নেওয়ার মনমানসিকতা হারিয়ে তাদের মানবিক প্রাপ্যটুকু ক্ষুণ্ন করা হয়, যা দেশ-জাতি বা নতুন প্রজন্মের উন্নতিতে বাধা দিচ্ছে। ইসলামের মহান শিক্ষা ও আদর্শ নারীকে বিভিন্ন বিষয়ে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে তার অধিকারকে যে উঁচু মর্যাদায় উন্নীত করেছে, তা অন্য কোনো ধর্ম, আদর্শ বা মতবাদে সম্ভব নয়। অথচ সবার মধ্যে যে জিনিসটা এখনো রয়েছে তা হলো নারীদের সঠিকভাবে মর্যাদা না দেওয়া বা উপেক্ষা করা। নারীদের এমনভাবে কোণঠাসা করে না রেখে তাদের উপযুক্ত শিক্ষাদীক্ষায় অবারিত সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এ জন্য আমাদের ধর্মীয় গোঁড়ামির দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। ইসলাম প্রদত্ত নারী জাতির ন্যায্যপ্রাপ্য সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায়সংগত অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়কেই আন্তরিক হতে হবে। ইসলামে নারীদের যেসব অধিকার দেওয়া হয়েছে তা কড়ায়-গণ্ডায় আদায় হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নজরদারি বৃদ্ধিতে আলেম সমাজেরও এগিয়ে আসা উচিত।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।
dr.munimkhan@yahoo.com

মিল্ক ভিটার সুনাম-দুর্নাম

মিল্ক ভিটা ছিল স্বাধীনতার পরের দেশ গঠনের প্রেরণার ফসল। সমবায় আন্দোলনের সফল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের অধিকারী হয়েছিল। ১৫ লাখ সমবায়ীর এ প্রতিষ্ঠান ‘মিল্ক ভিটা’ নামটিকে কেবল ব্র্যান্ডেই পরিণত করেনি, সিরাজগঞ্জের পিছিয়ে থাকা গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্যও ঘুচিয়েছিল। এটি এখনো দেশের প্রধানতম দুধ ও দুধজাত পণ্যের জোগানদাতা। কিন্তু আর সব ক্ষেত্রের মতো এখানেও পড়েছে দুর্নীতির থাবা, সুনামের জায়গা নিচ্ছে দুর্নাম।
বৃহস্পতিবারের প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ছিল ‘মিল্ক ভিটাকে চুষে খাচ্ছে দুর্নীতিবাজেরা’। এর ব্যবস্থাপনা কমিটি চালাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক। অর্থকরী প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির পান্ডারা যুক্ত হলে যা হয়, ধীরে ধীরে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হচ্ছে লাভজনক ও দরিদ্রবান্ধব এ প্রতিষ্ঠানটি।
দুর্নীতির এ গল্পের শুরু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় থেকে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত হন ৬১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় নতুন অস্থায়ী কমিটি গঠন করে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দুই নেতা হয়ে যান প্রতিষ্ঠানটির সর্বেসর্বা। তাঁদের প্রথম কাজ হয় ৭৫ লাখ টাকার ঘুষের বিনিময়ে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে বিধি ভেঙে মহাব্যবস্থাপক পদে পুনর্বহাল হন এক আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ। ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি শফিকুর রহমান নিজেকে প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন বলে প্রচার করে প্রতাপের সঙ্গে দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বড় দুর্নীতির জন্য দুর্নীতির জালটাও বড় হতে হয়। পাট খাতের গর্ব আদমজী পাটকলসহ সরকারি পাটশিল্পকে চুষে ছোবড়া বানিয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তা আর রাজনৈতিক নেতারা। মিল্ক ভিটাকে সাফল্যের শিখরে তুলেছিলেন সমবায়ের সাধারণ সদস্যরা। কিন্তু আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধির মোহে একে আদমজীর পরিণতির দিকে টানছে। মিল্ক ভিটাকে বাঁচাতে হলে সবার আগে সমবায় মন্ত্রণালয়কে পক্ষপাতহীনভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে উদ্যোগী হতে হবে। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের শাস্তি বহাল রাখতে হবে এবং নতুন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা আগের মতো সমবায় সমিতির ১৫ লাখ সদস্যের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে করতে হবে; তাঁরাই এর সাফল্য এনেছিলেন। রাজনৈতিক নেতাদের খবরদারি সেখানে বাঞ্ছনীয় নয়।

পাকিস্তানের ব্যয়ের হিসাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ

পাকিস্তানে মার্কিন সহায়তা হিসাবে দেওয়া অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য সেখানে একটি অডিট অফিস স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন। প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ইসলামাবাদ মার্কিন করদাতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিচ্ছে, এমন অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
পাকিস্তানের প্রতি অবিশ্বাসের সাম্প্রতিক নিদর্শন হিসেবে দেশটির দাবি করা ৪০ লাখ ডলার যুদ্ধব্যয়ের হিসাব প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামাবাদের তিক্ততা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি করা এই অর্থের পরিমাণ ১৪০ কোটি ডলারের কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ডের (সিএসএফ) প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের জন্য সিএসএফ গঠন করা হয়। এই তহবিলের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী পাকিস্তান। এমনকি দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনার ব্যয়ও এই তহবিল থেকে তুলে নিচ্ছে তারা।
সম্প্রতি মার্কিন অডিটর (হিসাব নিরীক্ষক) ও কংগ্রেস সদস্যরা পাকিস্তানের দাখিল করা খরচের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব হিসাব সতর্কভাবে পরীক্ষা করে দেখার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

উত্তর কোরিয়ার দূতকে ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ পরমাণু আলোচক কিম কি-গুয়ানকে ভিসা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিম দুটি দেশের মধ্যে অচলাবস্থা কাটাতে ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি সেমিনারে আমন্ত্রিত এই পরমাণু আলোচক নিউইয়র্কে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
কিমের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ‘ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ’ উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভিসা দিতে চাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে ভিসাটি কবে অনুমোদন করব, তা এখনো ঠিক করিনি।’
উত্তর কোরিয়া-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফেন বসওর্থ গত বছরের ডিসেম্বরে পিয়ংইয়ং সফর করেন। তাঁর সফরের উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিস্ট দেশটিতে পরমাণু কর্মসূচির অবসানের লক্ষ্যে ছয় জাতি আলোচনা পুনরায় শুরু করা।
তবে উত্তর কোরিয়া প্রথমে চায় ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত সংঘটিত কোরিয় যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির জন্য একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে।

ইন্দোনেশিয়ায় উঠে আসছে গ্রামীণ মধ্যবিত্তরা

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাম তেল উত্পাদনের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় ওরাংওটাংয়ের বসতি ধ্বংস করা হচ্ছে। পরিবেশবিদেরা অনেক আগে থেকেই দেশটির এই বনভূমি উজাড় হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন। কাঠ সংগ্রহের জন্য বনভূমি উজাড় করার মাধ্যমে দেশটির ধনী ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা লাভবান হয়েছে। কিন্তু সেখানে বনের গাছ কেটে পাম-বাগান করার ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়ার গ্রামীণ মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের উত্থানের পেছনে রয়েছে এই পাম তেল উত্পাদন।
ইন্দোনেশিয়ায় ৭০ লাখ হেক্টর জমিতে বিস্তৃত পাম-বাগানের অর্ধেকের বেশি অংশের মালিক ক্ষুদ্র ভূমিমালিকেরা। এসব চাষি পাম তেল উত্পাদনের মাধ্যমে তাঁদের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ও অর্থনীতিবিদ জন ম্যাককার্থির গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ম্যাককার্থি ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল খাতের একজন বিশেষজ্ঞ।
ম্যাককার্থি জানান, গবেষণার কাজ করতে তিনি সুমাত্রা এলাকায় যান। সেখানে একটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেন, ১৩ জন শিক্ষকের নয়জনেরই পাম-বাগান রয়েছে। তাঁরা পাম তেল উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত। ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামে তিনি জরিপ চালান এবং সেখান থেকে যে চিত্র বেরিয়ে আসে, তা দেখে তিনি বিস্মিত হন। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের উত্থানের একটি চিত্র পেয়েছি আমরা।’
জরিপ থেকে জানা গেছে, গ্রামবাসীর মধ্যে যিনি চার হেক্টর জমির মালিক, পাম তেল উত্পাদন থেকে তাঁর বছরে গড় আয় ১২ হাজার ডলার। আর দুই হেক্টর জমি রয়েছে এমন গ্রামবাসীর গড় বার্ষিক আয় কমবেশি দুই হাজার ডলার। এই আয় তাঁদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট। যেসব গ্রাম পাম তেলের উত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত নয়, সেখানকার বাসিন্দারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।
তবে এই পাম তেলের উত্পাদনের সঙ্গে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতি জড়িয়ে রয়েছে। আইন ভঙ্গ করে বাগান করা হচ্ছে। এই খাতে দুর্নীতি বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সম্প্রদায় ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ায় পাম তেল খাত নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা সউইট ওয়াচ। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আকমান্দ সুরাম্বো বলেন, ‘পাম তেলের উত্পাদন ইন্দোনেশিয়ার জন্য খুব একটা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু পরিবর্তন আনতে হবে উত্পাদনব্যবস্থায়।’ তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ায় এই খাতের যথাযথ প্রসারের জন্য আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাম তেল উত্পাদন করতে হবে। এই তেলের উত্পাদনব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে হবে।

ইরাকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রাক্ ভোট গ্রহণ

ইরাকে আগামী রোববারের পার্লামেন্ট নির্বাচনের মূল ভোট গ্রহণের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রাক্ ভোট গ্রহণের সময় দুটি হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়। ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
ইরাকের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ জানায়, গতকাল সকাল থেকেই হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে উপস্থিত হন। নির্দিষ্ট সময়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ইরাকের প্রায় আট লাখ সরকারি কর্মীর জন্য এ প্রাক্ ভোট গ্রহণ আয়োজন করা হয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রথম আত্মঘাতী হামলাটি চালানো হয় রাজধানী বাগদাদের পশ্চিমাঞ্চলে মনসুর শহরতলীর একটি ভোটকেন্দ্রে। এতে কমপক্ষে তিনজন সেনাসদস্য নিহত ও ১৫ জন আহত হন। দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় মধ্য বাগদাদে। ওই হামলায় আরও চার সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়।
তবে গতকালের ভোট গ্রহণের দিনেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই লাখ কর্মীকে মোতায়েন রাখা হয়। ভোট গ্রহণ উপলক্ষে বাগদাদসহ সমস্ত ইরাকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সারা দেশে চলাফেরার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দুপুরে বাগদাদের একটি কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর এক হাসপাতালের সেবিকা নিদাল বলেন, ‘আশা করছি, যে প্রার্থীকে ভোট দিলাম, তিনি জিতবেন।’ অবশ্য কাকে ভোট দিয়েছেন তা বলেননি নিদাল।
ইরাকের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনে পার্লামেন্টের ৩২৫টি আসনে ছয় হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ শুক্রবার প্রবাসী ইরাকিদের ভোট গ্রহণ করা হবে। রোববার মূল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী পদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নূরি আল-মালিকিসহ ছয়জনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকেরা। অন্য পাঁচ প্রার্থী হলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আদেল আবদেল মাহদি, অর্থমন্ত্রী বাকের জাবের সোলাঘ, ব্রিটেনে শিক্ষা নেওয়া চিকিত্সক আয়াদ আলাওয়ি, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী আহমেদ ছালাবি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাওয়াদ আল-বোলানি।
এবারের নির্বাচনকে ইরাকের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী এ বছরের জুনের মধ্যে ইরাকে মার্কিন সেনাসংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। ২০১১ সালের মধ্যে সেখান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার কথা রয়েছে।

নারীদের জন্য নতুন সংস্থা করতে চান জাতিসংঘের মহাসচিব

নারীদের কল্যাণে শুধু তাঁদেরই জন্য জাতিসংঘে একটি পৃথক সংস্থা গড়ার ব্যাপারে প্রস্তাব পাস করতে সাধারণ পরিষদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব বান কি মুন। সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী নারীদের সমান অধিকার ও সুযোগ দেওয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন তিনি। আসন্ন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গত বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বান কি মুন এ কথা বলেন। খবর জি নিউজ ও এএফপির।
নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ১৯৯৫ সালের বেইজিং ঘোষণার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বুধবার ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। এতে ১২টিরও বেশি দেশের মন্ত্রী এবং দুই হাজারের বেশি নারী কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ৮ মার্চের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বেইজিং ঘোষণার ১৫ বছর পূর্তি হবে। নারীর অধিকার আদায়ে সবচেয়ে সমন্বিত এই বেইজিং ঘোষণায় সব ক্ষেত্রে নারীর উন্নয়নের জন্য সমসুযোগ তৈরি করতে সরকারগুলোকে বাধ্য থাকার কথা বলা হয়েছে।
এর আগে গত বছর জাতিসংঘ ঘোষণা করেছিল যে চারটি সংস্থাকে একত্র করে একটি সংস্থা গঠন করা হবে, যাতে তা নারীদের কল্যাণ ও সমতা আনার ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘আশা করি জাতিসংঘ-ব্যবস্থায় জেন্ডার-সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন আনতে একটি গতিশীল স্বতন্ত্র সত্তা গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে আরও সংগতিপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নারীর কণ্ঠকে আরও জোরালোভাবে প্রকাশ করা যাবে।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, আর দেরি না করে প্রস্তাব পাস করে এই নতুন স্বতন্ত্র সংস্থাটি গঠন করা হোক।’
জাতিসংঘের মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন, বেইজিং ঘোষণার পর তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ঘোষণার পর নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের সংখ্যা বাড়ায় জেন্ডার-সমতা, পুনরুত্পাদনশীল স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সম্পদের অধিকার আদায়ে তা সহায়তা করছে।
পূর্ব তিমুরের কথা উল্লেখ করে বান কি মুন বলেন, বর্তমানে সে দেশে সরকারি কাজে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। পূর্ব তিমুর পার্লামেন্টের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নারী। রুয়ান্ডার পার্লামেন্টের অর্ধেকের বেশি সদস্য নারী। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পার্লামেন্টে নারীর উপস্থিতি কম। বিশ্বে পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে মাত্র ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ সদস্য নারী। বেইজিং ঘোষণায় এ হার ২০ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
এই উন্নতি সত্ত্বেও বান কি মুন বলেন, সর্বত্র নারীদের প্রতি অবিচার ও বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে। ৭০ শতাংশ নারীর জীবনে নির্যাতন ও সহিংসতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠজনেরাই তাঁদের ওপর হামলা চালান।

পেশোয়ারে পৃথক হামলায় ৩৭ তালেবান নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নগর পেশোয়ারে গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জন তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ সময় একজন সেনাসদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়। পৃথক বিমান হামলায় আরও সাতজন তালেবান জঙ্গি নিহত হয়েছে। এএফপি।
স্থানীয় কর্মকর্তা মাকসুদ আহমেদ বলেন, ভোরের দিকে শতাধিক তালেবান জঙ্গি উপজাতি-অধ্যুষিত মোহমান্দ জেলার চামারকান্দ শহরের একটি নিরাপত্তা-চৌকিতে হামলা চালায়। এতে এক সেনাসদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়। এ সময় সেনারা মর্টার ও দূরপাল্লার স্বয়ংক্রিয় কামান দিয়ে পাল্টা হামলা চালালে ৩০ জন তালেবান নিহত হয়। অন্য জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে সংঘর্ষ ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ওরাকজাই জেলায় সন্দেহভাজন তালেবান ঘাঁটিতে বিমান হামলায় সাতজন তালেবান নিহত হয়েছে। জেলার পার্বত্য শহর দাবোরিতে এ বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় কর্মকর্তা ফজলে কাদির জানান, হামলায় দুটি গুপ্তগুহা ধ্বংস হয়েছে। এতে সাতজন তালেবান নিহত হয়েছে।

তিব্বত ও তাইওয়ান প্রশ্নে হস্তক্ষেপ না করতে ফের হুঁশিয়ারি চীনের

তিব্বত ও তাইওয়ান প্রশ্নে হস্তক্ষেপ না করতে বিদেশি শক্তিগুলোকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। এ দুটি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানুয়ারিতে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি-সংক্রান্ত ৬৪০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ অনুমোদন করে ওয়াশিংটন। এর এক মাস পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ দুটি ঘটনা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ না করে চীন সরকারের একজন শীর্ষস্থানীয়কর্মকর্তা লি ঝাওজিং বলেন, পশ্চিমা নেতাদের উচিত, দালাই লামার সঙ্গে সাক্ষাতের চেয়ে ভালো কিছু করা।
চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (এনপিসি) মুখপাত্র ঝাওজিং গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পশ্চিমা নেতারা তাঁদের কাজ নিয়ে অনেক বেশি ব্যস্ত। তারপরও তাঁরা দালাই লামার সঙ্গে দেখা করার সময় পান। তিনি বলেন, দালাই লামা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন, বরং তিনি একজন ‘রাজনৈতিক ভিক্ষু’। কয়েকজন বিদেশি রাজনীতিক দালাই লামাকে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। কিন্তু সত্য হলো, তিনি একজন নির্বাসিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
চীনা শাসনের অধীনে তিব্বতের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য দীর্ঘদিন থেকে মধ্যস্থতা করে আসছেন দালাই লামা। কিন্তু চীন এ বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তিব্বতের নির্বাসিত এই আধ্যাত্মিক নেতা ১৯৫৯ সালে ভারতে পালিয়ে যান এবং তখন থেকে সেখানেই নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন।
ঝাওজিং বলেন, দালাই লামা তিব্বতের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি-সংক্রান্ত বিষয়ে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির এফ-১৬ রণতরীর জন্য যোগাযোগসামগ্রী বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে ওবামার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কারের প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে চিকিত্সক ও সেবিকাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। গত কয়েক সপ্তাহজুড়ে সংস্কার নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলার পর ওবামা এ আহ্বান জানালেন।
ওবামা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার প্রস্তাব অনুমোদন করার জন্য চূড়ান্ত ভোট দেওয়ার ব্যাপারে মার্কিন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে কংগ্রেসের। এ বিষয়ে আমরা অনেক তর্ক করেছি। শুধু গত বছর নয়, কয়েক দশক ধরে এ নিয়ে বিতর্ক চলেছে। এখন কংগ্রেসের উচিত, তাদের কাজটি শেষ করা এবংপ্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়া।’
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে এ প্রস্তাব নিয়ে একটি সম্মেলন করেও দুই দলের মধ্যকার মতপার্থক্য ঘোচাতে ব্যর্থ হন ওবামা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবে স্বাস্থ্যবিমার বাইরে থাকা নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে ৯৫ হাজার কোটি ডলারের মহাপরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। ওবামা দাবি করেন, বর্তমান প্রস্তাবটিতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের সবচেয়ে ভালো পরামর্শগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বাতিল করে দেওয়ার জন্য বিরোধীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
ওবামা বলেন, ‘রাজনীতির মাঠে বাধা তৈরি হবে, শুধু এই অজুহাতে আমরা পিছিয়ে যেতে পারি না। আমি জানি না, রাজনীতিতে এর কী প্রভাব পড়বে। তবে আমি জানি, কাজটি সঠিক।

ভারতের উত্তর প্রদেশে মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ৬৩ জনের প্রাণহানি

ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড় জেলার একটি মন্দিরে মানুষের হুড়োহুড়িতে পায়ের চাপায় পিষ্ট হয়ে অন্তত ৬৩ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার ও কাপড় নেওয়ার সময় লোকজনের ভিড়ের চাপে নির্মাণাধীন একটি দরজা ভেঙে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৩৭টি শিশু ও ২৬ জন নারী রয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি অনলাইন।
প্রতাপগড়ে দুর্ঘটনা ঘটা মন্দিরটির নাম হিন্দু রাম জানকী। এটি উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষেৗ শহরের প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বা এলাহাবাদ শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গতকাল দুপুরে সেখানে ছিল সর্বসাধারণ জনগণের জন্য খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা। মন্দিরের মালিক স্বামী কৃপালুজি মহারাজ নিজে উপস্থিত থেকে সেই ভোজের বন্দোবস্ত করেছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবে সেখানে উপস্থিত হয় তাঁর ১০ হাজার অনুসারী। বিনা পয়সায় খাওয়া ও নিজ চোখে সাধুবাবাকে দেখার সুযোগ নষ্ট করতে চায়নি তারা।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে সহকারী পুলিশ সুপার এস পি পাঠক টেলিফোনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, দুর্ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ গণনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি শিশু ও ২৬ জন নারী রয়েছে। তিনি জানান, খাবার নেওয়ার সময় রাম জানকী মন্দিরের নির্মাণাধীন একটি দরজা হঠাত্ ভেঙে পড়লে ভক্তরা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করে। লোকজনের পায়ের চাপা ও ধাক্কায় নিহত হয় ৬৩ জন। আহত হয় অনেকে।
আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। সে ক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। উদ্ধার করেন ৬৩ জনের লাশ।
স্বামী কৃপালুজি মহারাজের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, মহারাজের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অধীনে অনেক বিদ্যালয়, মন্দির, হাসপাতাল এবং পাঁচটি বড় ধরনের আশ্রম রয়েছে। একটি আশ্রম যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
অল্প জায়গায় বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত হওয়ায় ভারতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিয়মিত পদপিষ্ট হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এসব স্থানে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তামূলকব্যবস্থা থাকে খুবই কম। এর ফলাফল প্রায়ই হয় ভয়াবহ।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ২০০৮ সালের অক্টোবরে। ওই সময় যোধপুরের বিখ্যাত মেহরানগড় দুর্গের ভেতরের একটি মন্দিরে পদপিষ্ট হয়ে ২২০ জন নিহত হয়। তখন সেখানে নয় দিনব্যাপী হিন্দু উত্সব নবরাত্রি চলছিল। পাহাড়ের ওপরের মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নিতে তখন ২৫ হাজারের বেশি লোক ওপরে ওঠে। ওই সময় সরু পথ-সংলগ্ন একটি দেয়াল বিধ্বস্ত হয়ে কয়েকজন মারা যায়। লোকজন এতে আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করলে পদপিষ্ট ও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ২২০ জনের মৃত্যু হয়।

রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আজ শুরু

রাজশাহী মহানগরের কালেক্টরেট মাঠে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আজ থেকে শুরু হচ্ছে।
এ মেলায় ঢাকার সাতটি প্রতিষ্ঠান প্যাভিলিয়ন নিয়েছে। এ ছাড়া থাকছে ৯৬টি ছোট ছোট স্টল।
রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এ মেলার আয়োজনের উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় চার ব্যক্তি নয় লাখ ২৫ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে এটি পরিচালনা করবেন।
মেলা কমিটির চেয়ারম্যান হাসেন আলী বলেন, দেশি-বিদেশি পণ্যের বিপুল সমাহার ঘটানো এবং স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের উত্সাহিত করার লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে তিন বছরের ওপরের দর্শনার্থীদের জন্য মেলার প্রবেশমূল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকার দনিয়ায় ব্যাংক এশিয়ার শাখা চালু

ঢাকার দনিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংক এশিয়ার ৪২তম শাখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফানউদ্দিন আহমেদ এ নতুন শাখার উদ্বোধন করেন। এ সময় ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খোরশেদ আলম ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইর্তেজা রেজা চৌধুরী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এলসিডি মনিটর তৈরি করবে ওয়ালটন

ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল পণ্য উত্পাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান আরবি গ্রুপ এবার এলসিডি ও এলইডি টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও কম্পিউটার মনিটর তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে দেশেই এসব পণ্য উত্পাদন শুরু হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।
রাজধানীর পল্টন এলাকায় ওয়ালটনের মিডিয়া অফিসে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (বিপণন) এমদাদুল হক সরকার, পরিচালক (আন্তর্জাতিক বিপণন) মিজানুর রহমান ও পরিচালক (জনসংযোগ) হুমায়ুন কবীরসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এলসিডি ও এলইডি টেলিভিশন, এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও কম্পিউটার মনিটর তৈরির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও ওয়ালটন মাইক্রোটেক করপোরেশন নামে আরবি গ্রুপের দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
এ জন্য থাইল্যান্ড ও তাইওয়ান থেকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আমদানির কাজ শুরু হয়েছে। চালু হওয়ার পর কারখানা দুটি থেকে প্রতিবছর দেড় লাখ এসি, তিন লাখের বেশি এলসিডি ও এলইডি টিভি এবং তিন লাখের মতো কম্পিউটার মনিটর উত্পাদন করা হবে।
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ওয়ালটন দেশে উত্পাদিত এলসিডি ও এলইডি টিভি সাধারণ রঙিন টেলিভিশনের দামে বিক্রি করবে। এ ছাড়া এক টনের এসি ২৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। মনিটরের দামও প্রচলিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হবে।

ডি-৮ বৈঠক প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী- সদস্যরা নিজস্ব বাজার বাড়াবে

ডি-৮ জোটভুক্ত রাষ্ট্রের সদস্যরা অভ্যন্তরীণ বাজার বাড়ানোর বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের রাজধানী তেহরানে শিল্পবিষয়ক প্রথম ডি-৮ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক সম্পর্ক সহজীকরণ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠক শেষে দেশে ফিরে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব দেওয়ান জাকির হোসাইন ও অতিরিক্ত সচিব এ বি এম খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ডি-৮ জোটের সদস্য দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, মিসর ও নাইজেরিয়া।
মন্ত্রী জানান, বৈঠকে শিল্প-উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ, নিজেদের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা জোরদার, মন্দা মোকাবিলায় টেকসই ও পরীক্ষিত উদ্যোগ গ্রহণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বাজারসুবিধা কাজে লাগানোর ওপর বৈঠকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ডি-৮ জোটভুক্ত আটটি সদস্য রাষ্ট্রের ৯৩ কোটি লোকের বাজার রয়েছে। ২০০৬ সালে এই দেশগুলোর মধ্যে মোট আন্তবাণিজ্যের পরিমাণ ছিল সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। বর্তমানে তা ছয় হাজার ৮০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্যের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অংশীদারি ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, বৈঠকে সব সদস্য রাষ্ট্র অটোমোবাইল, বিদ্যুত্, পরিবেশ সুরক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, পেট্রোকেমিক্যাল, বস্ত্র, এসএমই, মান অ্যান্ড স্বত্বাধিকার, খাদ্য, সিমেন্ট, ইলেকট্রনিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। এ বিষয়ে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের জন্য ডি-৮ ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় একটি সমন্বিত তহবিল গঠনের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এসএমই ঋণ নীতিমালার অগ্রাধিকার ক্ষুদ্র উদ্যোগ



ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) ঋণ বিতরণের নীতিমালা তৈরি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের প্রাধিকার দেওয়া, অঞ্চলভিত্তিক শিল্প উত্পাদনকে উত্সাহ জোগানো, স্বল্পতম সময়ে ঋণ আবেদন নিষ্পত্তি করাসহ আরও কিছু কর্মসূচি থাকছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিমালায়।
এ মাসের শেষে এ নীতিমালা ঘোষণা করা হতে পারে। বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নীতি অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ ও সম্প্রসারণে বেশ কয়েক ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব একটি তহবিল এবং বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে পাওয়া অপর একটি তহবিল থেকে এ খাতে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, চলতি ২০১০ সালে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমই খাতে ২৩ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তিন হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ৬০০ কোটি টাকা, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১৭ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা, বিদেশি ব্যাংকগুলো ৭০৭ কোটি টাকা এবং অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এক হাজার ৩০৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর আগে শুধু কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতো। এ বছর থেকে এসএমই খাতেও ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা শুরু হলো।
২০০৯ সালে এসএমই খাতে নতুন ঋণ বিতরণ করা হয় সাত হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছিল ৪৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে এসএমই খাতে রয়েছে ২০ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা বলেন, এসএমইতে ঋণ দিতে গিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ছো্ট উদ্যোগকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। একইভাবে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে অনেক সমস্যা হয়।
অন্যদিকে ঋণ আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করে বিতরণ করতে অনেক ব্যাংক দীর্ঘ সময় নেয়। এতে উদ্যোক্তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায় এসব বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে বলে জানা যায়।
নীতিমালায় কোন এলাকায় কী ধরনের শিল্প কেন্দ্রীভূত হয়েছে বা তার জন্য বিখ্যাত হয়েছে, তার একটা তালিকা সংযুক্ত করা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, অঞ্চলভিত্তিক পৃথক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঋণ বিতরণের কৌশল নির্ধারণ করবে। তাতে ঋণ বিতরণ ও শিল্প স্থাপন সহজ হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ অনুসারে প্রত্যেক ব্যাংক শাখায় এসএমইর জন্য পৃথক সেবাকেন্দ্র চালু হয়েছে। আবার বিশেষায়িত এসএমই শাখাও খোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও পৃথক এসএমই বিভাগ চালু করেছে।

পিসিএলের নিলামে ওরা

দ্বিতীয় পিসিএল টি টুয়েন্টি বসুন্ধরা কাপের নিলামে গতকাল বৃহস্পতিবার তোলা হয়েছিল ২৪ জন ক্রিকেটারকে। সাকিব আল হাসানকে নেওয়ার জন্য এ বিভাগের পাঁচ দলই সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা হাঁকলে লটারির মাধ্যমে তাঁকে পেয়েছে টপ স্পোর্টস। তামিম ইকবালকে পেতে আগ্রহী চারটি দল চার লাখ টাকা দাম হাঁকে, লটারিতে তাঁকে পেয়েছে চিটাগং টাইগারস। একই দামে লটারিতে মুশফিকুর রহিম পাইরেটসে, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ চিটাগং টাইগারসে ও নাঈম ইসলাম মোহামেডানে। মোহাম্মদ আশরাফুলকে তিন লাখ টাকায় কিনেছে চট্টগ্রাম মোহামেডান।
মাশরাফি বিন মর্তুজার দাম উঠেছে ৫০ হাজার টাকা (এ বিভাগে এটাই সর্বনিম্ন)। কিনেছে ঢাকা স্পোর্টস। ‘বি’ বিভাগে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকায় ইমরুল কায়েস ব্রাদার্সে, আফতাব-অলক পাইরেটসে এবং শাহরিয়ার নাফিস টপ স্পোর্টসে। এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় আবদুর রাজ্জাক এবং ৫০ হাজার টাকায় জুনায়েদ ব্রাদার্সে। ৩০ হাজার টাকায় রকিবুল টপ স্পোর্টসে, এনামুল জুনিয়র ব্রাদার্সে, ডলার মাহমুদ মোহামেডানে, নাজমুল-সৈয়দ রাসেল ঢাকা স্পোর্টসে। শফিউল ইসলাম ও রুবেল হোসেনকে কেউ নেয়নি।
‘এ’ গ্রুপ: গতবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাদার্স, মোহামেডান, চিটাগং স্পোর্টস, টপ স্পোর্টস। ‘বি’ গ্রুপ: ঢাকা স্পোর্টস, পাইরেটস অব চিটাগং, বিমান বাংলাদেশ বেঙ্গল টাইগার্স।

জিম্বাবুয়ে ২৫৪/৫

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি জিতে দারুণ আত্মবিশ্বাসী জিম্বাবুয়ে। এর প্রতিফলন কালও দেখা গেল তাদের ব্যাটিংয়ে। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে কাল গায়ানার ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে টস জেতা জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান করেছে। সিবান্দা ৯৫ এবং টাইবু ৫৬ রান করেছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় ১৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্রিস গেইল ৩২ ও আড্রিয়ান বারাথ ১৮ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার গোল উত্সব

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হকি শেখাল শিরোপাপ্রত্যাশী অস্ট্রেলিয়া। দিল্লির ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামে কাল তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে (১২-০) হারাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। লুক ডোয়েরনার দিয়েছেন ৪ গোল। জেমি ডোইয়ার ৩টি ও গ্লেন টার্নার ২টি করে গোল করেছেন। ডেসমন্ড এবট, ফার্গাস কাভানাগ ও ম্যাথু বুটুরিনি করেছেন ১টি করে গোল।
এর আগে বিশ্বকাপ হকিতে বৃহত্তম জয়টি ছিল পাকিস্তানের। মুম্বাইয়ে ১৯৮২ বিশ্বকাপে তারা ১২-৩ গোলে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে।
কাল দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।

ভারত-পাকিস্তানের হার

পাকিস্তানের পথ ধরে ভারতও হারল বিশ্বকাপ হকিতে। ইংল্যান্ডের কাছে ৫-২ গোলে হেরেছে পাকিস্তান। পরের ম্যাচে স্বাগতিক ভারত স্পেনের কাছে হেরেছে একই ব্যবধানে। আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে হকি শেখাল শিরোপাপ্রত্যাশী অস্ট্রেলিয়া। দিল্লির ধ্যানচাঁদ স্টেডিয়ামে কাল তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে (১২-০) হারাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

মুরালির দুসরায় হাওয়ার্ডের ড্রাইভ

মুত্তিয়া মুরালিধরন বলেছিলেন, জন হাওয়ার্ডের জন্য এটা হবে চ্যালেঞ্জ। ৭০ বছর বয়সী আইসিসির ভাবী সভাপতি মনে হচ্ছে চ্যালেঞ্জটা নিতে প্রস্তুত। এশিয়াকে আস্থায় আনার কাজ দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার অনেক আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছেন হাওয়ার্ড। এবং সবার আগে মনে হচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী বোর্ড ভারতকেই বাগে আনতে চান এই ঝানু রাজনীতিবিদ!
টাকার জোরে বিসিসিআই ক্রিকেট বিশ্বের ওপর মাতব্বরি করে, ছড়ি ঘোরায়—ভারতের ক্রিকেট বোর্ডকে এমন একটা সমালোচনা প্রায়ই শুনতে হয়। কিন্তু হাওয়ার্ড বলছেন, এমন সমালোচনা অন্যায়, ‘জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত। ক্রিকেট উন্মাদনার দেশ। এগুলো তো ইতিবাচক দিক। ক্রিকেটে ভারতের অবস্থানকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা ঠিক নয়। আমি সব সময় ভারত আর উপমহাদেশের ওই লাখ লাখ লোকের কথা ভাবি, যারা ক্রিকেট খেলে, ক্রিকেট যাদের কাছে গভীর ভালোবাসার নাম।’
ম্যালকম গ্রের পর দ্বিতীয় অস্ট্রেলীয় হিসেবে ২০১২ সাল থেকে আইসিসি-প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগে এ বছর জুন থেকে সহসভাপতির দায়িত্ব নেবেন, দু বছর আগেই নির্বাচিত হয়ে থাকা ভারতের শারদ পাওয়ার হবেন সভাপতি। হাওয়ার্ডের মনোনয়ন অবশ্য এখনো আইসিসির নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করেনি। কেউ বিরোধিতা করবে বলেও মনে হয় না। কারণ এশিয়ান-ব্লকের চার সদস্যের মধ্যে শ্রীলঙ্কার সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক তিক্ত-মধুর। ২০০৪ সালে মুরালিধরনকে ‘চাকার’ বলায় যে সমস্যার শুরু। হাওয়ার্ড অবশ্য পরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। আর পরশু শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়ে দিয়েছে, হাওয়ার্ডের মনোনয়নের বিরোধিতা তারা করবে না।
আরেক শক্তিশালী সদস্য ভারতের সঙ্গে হাওয়ার্ডের সম্পর্ক এমনিতেই ভালো। কূটনৈতিক প্রজ্ঞা খাটিয়ে সেটি আরও ঝালিয়ে নিচ্ছেন ক্রিকেটপ্রেমী এই সাবেক রাজনীতিবিদ। ক্রিকেট প্রশাসনে এর আগে কখনোই যুক্ত হননি, তিনি কীভাবে ক্রিকেট বিশ্ব সামলাবেন—এমন সমালোচনার জবাবও অস্ট্রেলিয়ার এবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দিয়ে রেখেছেন হাওয়ার্ড, ‘ক্রিকেট প্রশাসনে আমি যুক্ত ছিলাম না ঠিকই, কিন্তু মনে রাখবেন, এর চেয়েও কঠিন কাজ আমি সামলেছি।

ইনজি-আনোয়ারকে পাশে চান ওয়াকার

ঐক্য—পাকিস্তান দল নিয়ে কথা উঠলে সবার আগে আসে এই শব্দটিই। অনৈক্য পাকিস্তান দলের চিরন্তন রোগ! নতুন কোচ ওয়াকার ইউনুস এই রোগটাকেই সমূলে উত্পাটন করতে চান। অনৈক্য তাড়িয়ে দলে একতার সুর বাজানোর সঙ্গে আরেকটা জিনিসও করতে চান সাবেক ফাস্ট বোলার—খেলোয়াড়দের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।
অস্ট্রেলিয়া থেকে পাকিস্তানের যে দলটি একেবারে বিধ্বস্ত হয়ে এসেছে, সেই দলটিই বিশ্বের যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে, ওয়াকার বলেছেন সেটাই। এর জন্য কী প্রয়োজন? ওয়াকারের উপলব্ধি, ‘আসলে বিশ্বাস, ঐক্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই কাজ। আমাদের প্রতিভা আছে এবং আমার বিশ্বাস যথাযথ চেষ্টা করলে আমরা আরও অনেক ভালো করতে পারি। সম্প্রতি আমাদের খেলোয়াড়েরা সামর্থ্য অনুযায়ী সাফল্য পাচ্ছে না।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে বোলিং কোচ হিসেবে ছিলেন ওয়াকার। চোখের সামনে একের পর এক পরাজয় দেখেছেন। সবকিছু দেখে তাঁর মনে হয়েছে দলে কোথাও কোনো সমস্যা অবশ্যই আছে, না হলে এমনটা হতে পারে না। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় যেভাবে আমরা হেরেছি, এ থেকেই বুঝে নিতে হবে কোথাও সমস্যা অবশ্যই আছে। তবে আমার বিশ্বাস আমরা উন্নতি করতে পারব।’
ওয়াকার আরও একটা ব্যাপার অনুধাবন করতে পেরেছেন। এ অবস্থা থেকে পাকিস্তানের উত্তরণের জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। দলকে সাহায্য করতে সাবেক খেলোয়াড়দের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বোলিং-ফিল্ডিংটা মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। আপাতত পাকিস্তানের বড় সমস্যা ব্যাটিং। এ জায়গাটায় উন্নতি করতে সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান ইনজামাম-উল হকের সাহায্য চান ওয়াকার। সাঈদ আনোয়ারকেও পাশে চান নতুন দায়িত্ব পাওয়া পাকিস্তান কোচ।