Saturday, May 11, 2013

ড. ইউনূসের নিবন্ধ- সাভার ট্র্যাজেডি, পোশাকশিল্প ও বাংলাদেশ

১.০- সাভার ট্র্যাজেডি জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতার প্রতীক। রানা প্লাজার ফাটল ফেটে ভবন ধসে দেখিয়ে দিলো আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যে বিশাল ফাটল ধরেছে সেটা আমলে না নিলে জাতিও এরকম ধসের ভেতর হারিয়ে যাবে।

রেশমা বাস্তবতা, গল্প নয়: জিওসি by জাহাঙ্গীর সুমন ও ওমর ফারুক

রেশমাকে উদ্ধার বিশ্ব মানবতার জন্য একটি অলৌকিক ঘটনা। আমরা একে অন্যের জন্য কেমন নিবেদিত প্রাণ, এটা তার একটি উদাহরণ। শনিবার বিকেল ৫টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমিইচ) সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে

প্রয়োজন উচ্চশিক্ষায় আরও মনোযোগী হওয়া by ড. ইকবাল হোসেন

প্রকাশিত হলো এসএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষার ফলাফল। অভিনন্দন কৃতকার্য সকল শিক্ষার্থীকে। পাশাপাশি পরবর্তী বছরের শুভ কামনা থাকবে বাকিদের জন্য। প্রথমেই ফলাফলের   দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক।

পাকিস্তানে কোয়ালিশন সরকার কী অনিবার্য? by আহমেদ সুমন

আজ ১১ মে ২০১৩, অনুষ্ঠিত হচ্ছে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। জাতীয় পরিষদের ৩৪২ আসনের মধ্যে ২৭২টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অবশিষ্ট ৭০টি আসন নারী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর জন্য সংরক্ষিত।

ঘূর্ণিঝড় মহাসেন: সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’-এ (যা আবহাওয়াবিদদের কাছে ০১বি নামে পরিচিত) পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের নির্বাচন: শরিফ-ইমরান এগিয়ে

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের আংশিক ভোট গণনায় এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজ শরিফ ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ কাম্য নয় by মুহাম্মদ খায়রুল বাশার

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশ বা সমাজ অর্থই হচ্ছে বহুদলীয় সমাজ। আর বহু দল মানেই বহু মত তথা ভিন্ন ভিন্ন মতের অস্তিত্ব। সংবাদপত্র তথা সংবাদমাধ্যম বা মিডিয়া বহু মতের অস্তিত্ব প্রকাশের অধিকার বিশ্বাস করে।

হিটলারের এসএসআর বাহিনী by মিনা ফারাহ

হিটলারের টার্গেট ইহুদি। আমাদের টার্গেট বিরোধী দল আর গরিব শ্রেণী। নিরীহ বাংলাদেশ যে জার্মানি নয় ৪২ বছর ধরেই শাসকেরা তা মানতে রাজি নন। ’৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ আবারো টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড। হিটলারের ছিল গ্যাস চেম্বার, আমাদের বেলায় ১৬ কোটি মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারছে রাজনীতির দাবানল।

ওভাবে অভিযান না চালালে কি চলত না? পিতাকে পুত্র by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
বড় ব্যথিত অশান্ত মন নিয়ে আজ ক’দিন কোনো কিছু করতে পারছি না। কোনো কিছুতে উৎসাহ পাচ্ছি না। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট তোমার হত্যার পর যেদিকে তাকাতাম সেদিকেই তোমাকে দেখতে পেতাম। তোমার স্মৃতি চার দিক থেকে ঘিরে রাখত। ধানমন্ডির নৃশংসতা স্বচে দেখিনি, কিন্তু অনুভব করেছি।

‘ধর্মে অশিক্ষিত’ শাহবাগি তত্ত্বগুরু যখন ‘মুফতি’ by আহমদ বাসির

ধর্মদ্রোহী শাহবাগি ব্লগার চক্রের অন্যতম তত্ত্বগুরু মুনতাসীর মামুনের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন-হাদিসের সম্পূর্ণ বিকৃত ব্যাখ্যা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ মার্চ দৈনিক জনকণ্ঠ-এর উপসম্পাদকীয় কলামে ‘ধর্ম ও রাষ্ট্র কাউকে ইজারা দেয়া হয়নি’ শিরোনামের লেখাটি নিয়ে এ অভিযোগ ওঠে।

৬ মে’র গণহত্যা এবং বাংলাদেশের মিডিয়া by মুহাম্মদ আমিনুল হক

গত ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির পর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশ করে। ৬ এপ্রিলের মতো এ সমাবেশে লাখ লাখ তৌহিদি জনতা ভিড় করে। নানান দলের নানান মতের মানুষ জমায়েত হয়েছিল সেখানে। সবাই সেখানে গিয়েছিল আল্লাহ ও নবীপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে।

নাস্তিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে by মোহাম্মদ রাহিদুল হাসান

ধর্ম মানব জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা। একথা নিশ্চিতভাবে জানি, ধর্মে বিশ্বাস না করা লোকের সংখ্যা বর্তমান দুনিয়ায় নেহাত্ কম নয়। যাদের আমরা নাস্তিক বলে জানি। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় কোথায় যে, এখনও ধর্মে বিশ্বাস করা লোকের সংখ্যা এই পৃথিবীতে নাস্তিকদের তুলনায় কয়েক লাখ গুণ বেশি।

বাংলাদেশে গণহত্যা ও সরকারের দায়ভার by ফিরোজ মাহবুব কামাল

হেফাজতে ইসলামের মুসল্লিদের রক্তের স্রোতে মতিঝিলের পিচঢালা কালো রাস্তা লালে লাল হয়ে গেছে। গত ৫ মে দিবাগত রাতে হেফাজতে ইসলামের লক্ষাধিক কর্মী যখন খোলা রাস্তায় বসে শান্তিপূর্ণভাবে বসে ছিল, কেউবা জিকর করছিল, কেউবা ঘুমিয়েছিল—তখন রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাত্ রাস্তায় বিদ্যুতের বাতি বন্ধ করে দেয়া হয়।

কেন এ হরতাল-আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন

হেফাজতে ইসলাম রবিবারের হরতাল প্রত্যাহার করে নেওয়ায় স্বস্তি ফিরে এলেও একই দিনে জামায়াতের ডাকা হরতালে আবারও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে জামায়াতের হরতাল ডাকার বৈধতা ও যৌক্তিকতা নিয়েও। এর আগে ১৮ দলের পক্ষ থেকে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল ডাকা হয়েছিল।

প্রতিবাদী গণনারী সমাবেশ ‘...সমতা আসে না আজো' by জোবাইদা নাসরীন

প্রতিবাদী গণনারী মহাসমাবেশ হওয়ার কথা ছিল ২৭ এপ্রিল। দুই দফা পেছানোর পর আজ এ দেশের নারীরা প্রতিবাদের ময়দানে হাজির হবে। তারা দেশের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের ভাষাকে আরও উচ্চকিত করবে। সাভারে লাশের স্তূপ ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল জীবনকে।

হেফাজতে বাংলাদেশ চাই by সোহরাব হাসান

১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। নিহত হওয়ার আগমুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, ‘খোদা, পাকিস্তানকে হেফাজত করো।’

ঝড় উঠেছে বৈরী বাতাস by এম আবদুল হাফিজ

আমাদের অতীত কখনও সংকটমুক্ত বা সমস্যা-বিবর্জিত ছিল না। একটি রক্তস্নাত স্বাধীনতা যুদ্ধ আমাদের অস্তিত্বে এনেছিল বিশ্বের অন্যতম হতদরিদ্র দেশ হিসেবে। যেদিকেই তাকাই আমাদের জন্য প্রীত হওয়ার মতো ইতিবাচক কিছুই নেই। আছে শুধু রোগ-শোক, ক্ষুধা, জরা, মন্বন্তর এবং একটি মারাত্মক বৈরী জলবায়ুর অশনিসংকেত।

প্রথম রাউন্ডের সাফল্য সরকারকে যেন অসতর্ক না করে by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

হাসিনা সরকার এক অসমসাহসী যুদ্ধে নেমেছে। এক সঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ করার রেকর্ড বঙ্গবন্ধু সরকারেরও নেই। এক ফ্রন্টে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, দ্বিতীয় ফ্রন্টে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের অভ্যুত্থানের মোকাবেলা, তৃতীয় ফ্রন্টে বিএনপি-জামায়াতের দেশময় ধ্বংসাত্মক তৎপরতা, চতুর্থ ফ্রন্টে নিরপেক্ষতার মুখোশধারী এলিট শ্রেণীর একটি প্রভাবশালী অংশের দ্বারা সরকারকে ডিসক্রেডিট করার জন্য সেমিনার-গোলটেবিল অনুষ্ঠানের নামে 'সফিসটিকেটেড' প্রচার অভিযান।

সনদবিহীন মুক্তিযোদ্ধা by সুমন আহমেদ

গত ৭ এপ্রিল ২০১৩ প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায় ‘একজন সনদহীন মুক্তিযোদ্ধার কথা’ লেখাটি প্রকাশিত হয়। কায়কোবাদ স্যারের লেখা পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে সরকারি সা’দত কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোলায়মান কবীরের তত্ত্বাবধানে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছি। এ রকম একজন সনদবিহীন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকারের ভিডিও ধারণ করি। তাঁর নাম এস এম মাসুদ সরকার। বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কল্লা গ্রামে। ১৯৭১ সালে তিনি ঢাকা আর্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাকতেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে। প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি টাঙ্গাইলে ফিরে আসেন। ময়মনসিংহের দক্ষিণাঞ্চলে তৎপর আফসার বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং নিয়মিত যোদ্ধা হিসেবে রণাঙ্গনে লড়াই করেন। মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক মুখপত্র সাপ্তাহিক জাগ্রত বাংলার উদ্যোক্তা ও প্রধান সহকারী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। যুদ্ধ চলাকালে জাগ্রত বাংলার ১২টি সংখ্যা বের হয়। পত্রিকার প্রথম সংখ্যাটি হাতে লেখা। সবুজ জমিনে গোলাকার লাল বৃত্ত, যার মাঝখানে বাংলাদেশের সোনালি মানচিত্র। পতাকার সঙ্গে বাংলার সংগ্রামী জনগণের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য জাগ্রত বাংলা প্রথমে তিন রঙা প্রচ্ছদে প্রকাশ করা হয়। এই প্রচ্ছদের ডিজাইন করেন এস এম মাসুদ সরকার। রাতভর ফুলস্কেপের প্রথম পাতায় এই প্রচ্ছদ আঁকতে থাকেন। সম্পাদক বাঙালি এবং ভালুকা অঞ্চলের ‘আজাদনগর’ নামক ছদ্মনামের জায়গা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। হানাদার শোষকদের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনের জন্য তিনি প্রচুর কার্টুন আঁকেন, যা পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় প্রকাশ পায়। দুই মাস ধরে হাতে লেখা এ পত্রিকার কয়েক হাজার কপি বিক্রি হয়। পরে সাইক্লোস্টাইল মেশিনের সাহায্যে ছাপার ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিল, হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ষষ্ঠ ও অন্যান্য খণ্ডে জাগ্রত বাংলার পঞ্চম থেকে নবম সংখ্যা পর্যন্ত প্রকাশিত বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে। এ ছাড়া এস এ কালাম সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধে জাগ্রত বাংলা প্রথম থেকে চতুর্থ সংখ্যা পর্যন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশনার বিষয়বস্তু ও প্রেক্ষাপট প্রকাশিত হয়েছে।
যুদ্ধকালে তিনি টাঙ্গাইল মুক্তিযুদ্ধের প্রধান কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম ও কাদেরিয়া বাহিনীর বেসামরিক প্রধান আনোয়ারুল আলম শহীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। উল্লেখ্য, কাদেরিয়া বাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র রণাঙ্গন-এর প্রচ্ছদও করেন এস এম মাসুদ সরকার। মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকায় ফিরে গেলে সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর হাতে লেখা সনদ পেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পরে মুক্তিযোদ্ধাদের মূল গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি।
এই সাহসী যোদ্ধা যেমন কলম-কালি-তুলি নিয়ে দিনরাত খেটেছেন, প্রত্যক্ষ সমরেও অংশগ্রহণ করেছেন বীরদর্পে। তিনি আজ বয়সের ভারে ক্লান্ত। অভিমানে, দুঃখে, বুকভরা কান্না চেপে দিনাতিপাত করছেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে হলেও জাতির কাছ থেকে উপযুক্ত স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাবেন বলেই বিশ্বাস করেন। শিগগিরই তিনি তাঁর প্রাপ্য স্বীকৃতি ও সম্মান পাবেন বলে আশা করি।
সুমন আহমেদ, প্রাক্তন শিক্ষার্থী
সরকারি সা’দত কলেজ, টাঙ্গাইল।

‘...সমতা আসে নাআজো’ by জোবাইদা নাসরীন

প্রতিবাদী গণনারী মহাসমাবেশ হওয়ার কথা ছিল ২৭ এপ্রিল। দুই দফা পেছানোর পর আজ এ দেশের নারীরা প্রতিবাদের ময়দানে হাজির হবে। তারা দেশের প্রতিরোধ ও প্রতিবাদের ভাষাকে আরও উচ্চকিত করবে। সাভারে লাশের স্তূপ ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল জীবনকে। জীবনহীন দুর্ভাগা মানুষের সঙ্গে তাজা জীবনের সঙ্গ এবং হিসাব-নিকাশ এখনো চলছে। হূদয় মুচড়ে যাওয়া সেই ক্ষতের ঘা থেকেই প্রথম দফায় তারিখ পেছানো। যাদের প্রতিবাদী কণ্ঠ হতে পারত কিংবা হবে এই মহাসমাবেশের মূল শক্তি, তাদের অনেকের জীবন ছিন্নভিন্ন হয়েছে কংক্রিটের আঘাতে, শিল্পমালিকদের অতিমাত্রার অবহেলায়। সাভারের এই বিপর্যয় সমমজুরির এবং নারীর নিরাপত্তার মতো অতি পুরোনো কিন্তু অতি জরুরি প্রশ্নটিকে একেবারেই সামনে নিয়ে এসেছে। আর মানুষ হিসেবে মর্যাদা নিয়ে বাঁচার জায়গাটিকেই বারবার চেনানোর চেষ্টা করছে এ দেশের নারীরা।
দুই.
কেন এই মহাসমাবেশ? কেন নারীর সমন্বিত প্রতিবাদ? মূল চেতনার জায়গাটি হেফাজতের দুটি নারীবিদ্বেষী দফাকে কেন্দ্র করে হলেও এ সমাবেশ অনেকগুলো অমীমাংসিত প্রশ্নের ফয়সালা চায়। ১৯৭১ সালের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম নেওয়ার পর ধর্মনিরপেক্ষতাকে একটি মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে হাজির করলেও এ দেশে সাম্প্রদায়িক উঁকিঝুঁকি, হামলা এবং বাতাবরণ চলেছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। আর সাম্প্রদায়িক, জাতিগত এবং সব বৈষম্য ও নিপীড়নের প্রথম শিকার হয় নারী। কারণ, এগুলোর সঙ্গেই হাত ধরাধরি করে পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতা তার সব কর্তৃত্ব জারি রাখতে চায়। এসব বাস্তবতা পাশ কাটিয়ে নয় বরং লড়াইয়ের ময়দান হিসেবেই এ সমাবেশ অসাম্প্রদায়িক এবং সমতার বাংলাদেশ গড়ার দেনদরবার করতে আগ্রহী।
এ সমাবেশ আরও বলছে নারীনীতি বাস্তবায়নের কথা। সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা। সিডও সনদ বাস্তবায়নের কথা। বলছে নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়ার কথা। বলছে এ দেশের নারী আন্দোলন এবং নারীর ঈর্ষণীয় সংগ্রামের কথা।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনটি সামনে চলে এসেছে। হেফাজতের ১৩ দফার মধ্যে নারীর জন্য নির্দিষ্ট ছিল কয়েকটি দফা।
সেই ৬ এপ্রিল হেফাজতের সমাবেশ কভার করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে আমাদের সাবেক ছাত্রী এবং ইটিভির প্রতিবেদক নাদিয়া শারমিন। পুরুষের সমাবেশে নারী প্রতিবেদক কেন? মাথায় কাপড় নেই কেন? শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি তার প্রতি পুরুষতান্ত্রিক আচরণ। তাঁকে ফেলে দিয়ে, দুমড়েমুচড়ে, থেঁতলে ভয়াবহভাবে আক্রান্ত করা হয়েছে।
 নারীর প্রতি এ ধরনের অশ্রদ্ধাশীল আচরণ একদিকে সংবিধানবিরোধী, অন্যদিকে মানবতাবিরোধী। যেখানে সংবিধানে ২৮(১) ধারায় স্পষ্টভাবে আছে ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না’ এবং ২৮(২) ধারায় আছে, ‘রাষ্ট্রের ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’, সেখানে একজন নারীর সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে স্বীকৃত। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদেও নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্বীকার করা হয়েছে এবং এর ৩৯(২) অনুচ্ছেদে নাগরিকের ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।
নারী-পুরুষের প্রকাশ্য বিচরণ ইসলামসহ কোনো ধর্মেই নিষিদ্ধ নয়। নারীর সঙ্গে ধর্মের বিরোধ ঘটানো কিংবা নারীর বিপরীতে ধর্মীয় পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যাকে দাঁড় করানোর চেষ্টার মধ্য দিয়ে পুরুষতন্ত্রকে জোরদার করার মনস্কতা এ দেশে চলমান লৈঙ্গিক রাজনীতির একটি বড়সড় কূটচাল। তাই ধর্মের সঙ্গে নারীর সম্পর্ক কিংবা সম্পর্কহীনতা এত সহজে ফয়সালা হয়ে যাওয়ার বিষয় নয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালুতে জমিলারা লড়ছে মজিদের ভণ্ডামির বিরুদ্ধে। সুলতানার স্বপ্নের একজন হয়েই এ দেশের নারীরা লড়াই করে যায়, কারণ সে জানে নারীর হারাবার কিছুই নেই, কারণ সে লড়তে জানে, লড়াকু সন্তান জন্ম দিতে জানে, লাশের স্তূপ থেকে ওঠে প্রতিবাদের নয়া শামিয়ানা বুনতে জানে, আর জানে বলেই নারীকে ভয় পায় হেফাজত, আর তাই নারীকে নিয়ে তুলতে হয় তাকে বন্দী করার নয়া দাবি।
তিন.
পুরুষতন্ত্র, পুঁজিবাদ, ধর্মীয় গোঁড়ামি, বর্ণবাদ, জাতিগত বৈষম্য—সবকিছুর বিরুদ্ধেই লড়তে হচ্ছে নারীকে। মাঝখানে হেফাজতের দুই দফার ইনিংস দেখেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় হেফাজতের অবস্থান, তাণ্ডবলীলার সঙ্গে তারা কর্তৃত্ব দেখিয়েছে বিভিন্ন জায়গায় নারীদের মাথায় কাপড় দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদানের মধ্য দিয়ে। একজন নারী মাথায় কাপড় দেবে কি দেবে না, এটা তার একান্তই নিজস্ব বিষয়।
এ দেশে একজন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদের সন্তান হিসেবে আমরা পরিচয় দিতে অহংকার বোধ করি, তেমন অহংকার বোধ করি বীরাঙ্গনার সন্তান হিসেবে। কারণ, তাঁরাও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সবাই মুক্তির অপেক্ষায় থাকা একটি বড় এবং কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতার গর্বিত মানুষ। তাই এ দেশের ইতিহাসে আমরা যেমন দেখতে চাই না কোনো লৈঙ্গিক ভেদ, চাই না হেফাজতনামার মাধ্যমে নারীকে ঘরে বন্দী রাখার তরিকা।
আর তাই তো কানে বাজে
‘পুষ্টিহীনতা, জুলুমে জখমে দিয়েছি তো কোটি প্রাণ—
তবুও আসে না মমতার দিন, সমতা আসে না আজো।’
l জোবাইদা নাসরীন: শিক্ষক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
zobaidanasreen@gmail.com

চোখ বন্ধ রাখলে প্রলয় বন্ধ হবেনা by তোফায়েল আহমেদ

বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নিয়ে আমরা অনেকেই ভীষণ ভাবিত। বিদেশে আমাদের এ নিম্নস্তরের ভাবমূর্তি কখনোই অভাবিতপূর্ব ছিল, তা নয়। সাম্প্রতিক কালের ‘সাভার ট্র্যাজেডি’ পূর্ব থেকে বিরাজিত নেতিবাচকতায় তীব্রতার নতুনমাত্রা যুক্ত করেছে মাত্র। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নিম্ন বেতন, মানবেতর জীবনযাপন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু, হত্যা-গুম, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, অনিশ্চিত জীবিকা, যৌন হয়রানি—এসব চিত্র দেশ-বিদেশে কারও অজানা নয়।
অপরদিকে তৈরি পোশাকশিল্পের অর্থে রাজনৈতিক পদ-পদবির প্রতিযোগিতা, দেশে-বিদেশে বিলাসী জীবন, অর্থসম্পদ স্থানান্তর, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, ব্যাংকের দায়দেনা—এসব অজানা নয়। তাই বিদেশে বড় বড় ক্রয় কোম্পানি, শ্রমিক সংঘ, মানবাধিকারকর্মী এসব বিষয়ে বহু পূর্ব থেকেই সোচ্চার। এসবে আমরা যতটুকু কান দেওয়ার, তা দেইনি। কোনো দুর্ঘটনা হলেই কয়দিন সোচ্চার হয়ে পুনরায় নির্লিপ্ত থাকছি। এমতাবস্থায়  এ দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির প্রশ্নটি অবান্তর। তবু চেষ্টার বিরাম নেই। কিন্তু আমরা ভুলে যাই গলাবাজি, ডিনার আর লাঞ্চ পার্টি বা ভাড়া করা সাংবাদিক, লবিস্ট, বুদ্ধিজীবী দিয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়া যায় না।
আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টায় প্রাণান্ত। শোনা যায়, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকি নিজের দেশের চেয়ে পরের দেশেই বেশি সময় কাটান। কিন্তু তার এ বহুল বিদেশ ভ্রমণ দেশের ভাবমূর্তিতে কয়টি সোনালী-রূপালী পালক যুক্ত করল বা প্রজাপতির রং ছড়াল, তার মূল্যায়ন কে করবে?
ইংরেজি ‘ইমেজ’-এর বাংলা প্রতিশব্দ বা অনুবাদ হিসেবে ভাবমূর্তি খুব জুতসই মনে হয় না। এখানে ‘মূর্তি’র মধ্যে একদিকে পৌত্তলিকতার গন্ধ, অপরদিকে সেই ভাবের মূর্তি ধ্বংস হলে মৌলবাদী জঙ্গিপনার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
ইংরেজি ইমেজ শব্দটি যে অর্থ বহন করে তা হচ্ছে, একজন ব্যক্তি মানুষ, একটি পরিবার, সমাজ-সভ্যতা ও রাষ্ট্রের দর্শন, মনোভঙ্গি, দৃষ্টিভঙ্গি; যা সত্যিকার কর্মে ও প্রয়োগে প্রতিফলিত, তারই একটি সামগ্রিক যোগফল—অন্যের মানসভূমিতে যার ছায়াপাত ঘটে বা রেখাপাত করে, তাতেই তার একটি ইমেজ গড়ে ওঠে। আমাদের সঙ্গে যাদের দীর্ঘদিনের মিথস্ক্রিয়া তাদের কাছে আমাদের একটি ইমেজ ইতিমধ্যে পাকাপোক্তভাবে গড়ে উঠেছে। রাতারাতি তার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে সাভারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও তার পূর্বের ধারাবাহিক অন্যান্য দুর্ঘটনার জন্য আন্তরিক অনুশোচনা ও সংশোধনের ততধিক আন্তরিকতাই পারে ইমেজের ওপর ফেলতে কিছু ইতিবাচক প্রভাব।
সাভারের এত বিপুল প্রাণহানি, আহত, পঙ্গু হওয়া এবং আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতির বিচারে বিশ্বে এটি একটি রেকর্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্য-দুর্গতির এটিই কি শেষ ঘটনা? একই দুর্ঘটনার ১৫তম দিনে আবারও পোশাক কারখানায় আগুন ও নিহতের ঘটনা ঘটে গেল। এ-ই যখন আমাদের ‘ভাব’, তাহলে মূর্তি আর কীই-বা হতে পারে? যার যা ভাব তার সে রকমই মূর্তি। আমাদের ভাবমূর্তি পাষাণ-হূদয় অতি মুনাফালোভী এবং শ্রমিকের জীবন, ঘাম, শ্রম, মান-সম্মান সম্পর্কে সাংঘাতিক নির্লিপ্ততার জ্বলন্ত উদাহরণ।
তৈরি পোশাকশিল্প একটি আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন সম্পর্কজালে জড়িত। এটি একটি রপ্তানিনির্ভর শিল্প। তাই বিশ্বমান, বিশ্বব্যাপী চর্চিত শ্রম অধিকার ও নৈতিকতা মেনেই এ শিল্পের বিকাশ হবে। এর ব্যতিক্রম নেই। কিন্তু জাতীয়ভাবে একটি মারাত্মক স্বার্থপরতা বা স্বার্থান্ধ শ্রেণী মানসিকতাকে আমরা উতরাতে পারিনি। সেটি হচ্ছে আমরা পোশাক খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত এবং এ শিল্পের বিপর্যয় রক্ষার নামে ধারাবাহিকভাবে মালিকের মুনাফাকে যত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি, শ্রমিকের শোষণ-বঞ্চনাকে ততধিক বা তার ন্যায্য গুরুত্ব দিইনি। এমনকি বিপর্যয়ের পর শিল্পচিন্তার সঙ্গে শ্রমিকের প্রতি ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি এখনো দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরেই রয়ে গেল।
এ শিল্পের টিকে থাকা এবং উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি অবশ্যই কাম্য। কিন্তু শুধু মালিকের মুনাফা, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, নির্বাহীগণের মোটা বেতনের জন্য নয়, ৪০ লাখ নারী-পুরুষ শ্রমিকের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের দাবিদার। এটি নৈতিকতার প্রশ্ন তো বটেই, শিল্পের সুরক্ষার জন্যও প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও পণ্যের গুণ-মানের সঙ্গে শ্রমিক সন্তুষ্টির তুলনামূলক পরিমাপ করেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বিকাশের চিন্তা করতে হবে। শ্রমিক সন্তুষ্টির প্রশ্নটি আর দ্বিতীয় স্থানে রাখার অবকাশ নেই। কারণ, এটি শ্রমঘন ও শ্রমিকপ্রধান শিল্প। পুঁজি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প হলে এ চিন্তা কম করলেও চলত। এখন এ বিপর্যয়ের পর আর অন্য বিকল্প নেই।
ভ্যাটিকান থেকে পোপের আহ্বান এখনো বোধ হয় আমাদের পাষাণ-হূদয় নিরেট মুনাফালোভীদের কর্ণকুহরে পৌঁছালেও মর্ম স্পর্শ করেনি। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার খ্রিষ্টধর্ম বিশ্বাসীদের মর্মে তা দারুণভাবে আঘাত করেছে। তাদের অনেকেই এখন দোকানে গিয়ে পোশাক ক্রয়ের সময় এ পোশাক কোথাকার তৈরি, সেটি দেখেই কিনছে। হয়তো পোশাক ক্রেতাদের বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অনেকেই তাদের অর্ডার সাময়িকভাবে বাতিল করবে না। কিন্তু পশ্চিমের সাধারণ ক্রেতারা ভোক্তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ এ দেশি পণ্যের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
এ রকম একটি সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বনাম ও সুনামধন্যদের সৎ কর্মের ইমেজ কাজে লাগিয়ে আমাদের আন্তরিকতার সব ধরনের প্রমাণ দিতে হবে। অবশ্যই তা করতে হবে উদারভাবে এবং ক্ষিপ্রতার সঙ্গে। নতুন ‘আম-ছালা’র গল্প নতুনভাবে এ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এ শিল্প ধ্বংস না হলেও সংকুচিত হবে।
গত ২০ বছরের পোশাক খাতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, উদীয়মান অনেক দেশ পিছিয়ে পড়েছে। আবার নতুন অনেক দেশ এ মানচিত্রে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে এখন নিশ্চিতভাবে মিয়ানমারকে ব্যবহার করার প্রস্তুতি চলছে। হয়তো আমাদের অনেক পোশাকশিল্পের মালিক সেখানে বিনিয়োগ করবেন।
এখনো অনেকে হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে অফিস এবং যৌথভাবে শিল্পেও বিনিয়োগ করছেন। তাঁরা এখন সে সক্ষমতা অর্জন করেছেন। আমাদের পরিচিত পরিমণ্ডলে এমন অনেকে আছেন, যাঁরা আমেরিকা, কানাডাসহ পশ্চিমের কোনো দেশে নিজের কেনা বাড়িতে বসে স্কাইপে বাংলাদেশে কারখানা চালান। এখানে অনেকের ভৌত বিনিয়োগ খুবই সীমিত। কিন্তু মুনাফার বহুমুখীকরণ হয়েছে। ভবন ব্যবহার করেন ভাড়ায়, মেশিনারি ব্যাংকের কাছে বন্ধক, কাঁচামালও অনুরূপভাবে ব্যাংকঋণে, শ্রমিক অস্থায়ী ও সস্তায়। অর্ডার পাওয়া, অর্ডার সাপ্লাই হয়ে ওঠে মুখ্য। ব্রোকারের মতো উদ্বৃত্তটা বিদেশে সঞ্চয় করছেন। দেশে সত্যিকারের বিনিয়োগ তাঁরা করছেন না।
কজন মালিক ২০ বছরে নিজস্ব প্রাঙ্গণে শিল্প চালাচ্ছেন? বেশি দূর খোঁড়াখুঁড়ি এ দুঃসময়ে করতে চাই না। শুধু এ মুহূর্তে সরকারকে অনুরোধ করব, শ্রমিকবান্ধব অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ভেবে দেখুন।
অতি মুনাফালোভী ও প্রবঞ্চক-প্রতারক মানসিকতা আমাদের যে পর্যায়ে নিম্নগামী করেছে, তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এককভাবে সরকার-বিজিএমইএ-বিকেএমইএর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন, বিশ্বাসযোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ নাগরিক উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে সম্পূরক ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষত অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্যার ফজলে হাসান আবেদ ছাড়াও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এনাম মেডিকেলের প্রধান ডা. এনামুর রহমান, প্রবীণ ও ত্যাগী পোশাক সেক্টরের শ্রমিক নেতাগণ উদ্যোগী ভূমিকা নিতে পারেন। পোশাক ক্রেতার অর্থে ‘শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন এবং এর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বাস অর্জনকারী ব্যক্তিদের ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টির এ প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য অতি দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে আসা উচিত।
আদর্শ ও বাস্তবতার দ্বন্দ্ব চিরন্তন। বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও মনোজগৎ এখন বহুধা বিভক্ত। বিভক্তির এ সময়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সরকারের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকতে পারে। পোশাকশ্রমিক, পোশাকশিল্প এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতির ইতিবাচকতার স্বার্থে তিনি যে হাত প্রসারিত করেছেন বা বাড়িয়ে দিয়েছেন, সেটির মর্যাদা দিলে জাতি সামগ্রিকভাবে লাভবান শুধু নয়, জাতি হিসেবে আমাদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
চোখ বন্ধ রাখলে প্রলয় বন্ধ থাকবে না। তাই চোখ খুলে বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন। যেখানে যাঁরাই এগিয়ে আসছেন, তাঁদের সবার সাহায্য-সহানুুভূতি, বুদ্ধি পরামর্শ গ্রহণ করে এ সংকটের উত্তরণে আন্তরিক হোন।
জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে এগিয়ে আসার জন্য অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। 
 ড. তোফায়েল আহমেদ: স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সদস্য, স্থানীয় সরকারকমিশন।

হেফাজতে বাংলাদেশ চাই by সোহরাব হাসান

১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। নিহত হওয়ার আগমুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, ‘খোদা, পাকিস্তানকে হেফাজত করো।’
এ ঘটনার ২০ বছরের মাথায় পাকিস্তান ভেঙে যায় এবং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।    হেফাজত শব্দটির অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ, তত্ত্বাবধায়ন, তদারকি ইত্যাদি। যে শাসকবর্গের হাতে পাকিস্তান রক্ষার দায়িত্ব ছিল, সেই শাসকবর্গ সেটি করতে পারেনি বলেই পাকিস্তান ভেঙে গিয়েছিল। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ‘পোকায় খাওয়া’ খণ্ডিত পাকিস্তান এখন জাতিগত বিদ্বেষ, রক্তপাত ও জঙ্গি হানায় বিধ্বস্ত ও বিপন্ন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সারা বিশ্বের চোখে সেই ব্যর্থ রাষ্ট্রটি নির্বাচনের ব্যাপারে ঐকমত্যে আসতে পারলেও, আমাদের ‘সফল রাষ্ট্রের’ অতিশয় সফল রাজনৈতিক নেতৃত্ব দুই দশক ধরে নির্বাচন নিয়ে কানামাছি খেলা খেলছেন। দেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে, তার সবটা না হলেও একটা বড় কারণ—নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা।
পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর যে ভূত এ দেশের মানুষের ওপর চেপে বসেছিল, আমরা তা ঝেড়ে ফেলতে পারিনি। স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক, জাতিবিদ্বেষী, হিংসাশ্রয়ী ও স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে।
দুই
বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক দল আছে। এদের মধ্যে কোনোটি নিজেকে খাঁটি বামপন্থী বলে দাবি করে, কোনোটি মধ্যপন্থী পরিচয় দিতে ভালোবাসে। আবার কেউ স্বাধীনতা রক্ষার অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় আছে। যদিও এসব দলের আদর্শ, নীতি ও কর্মসূচিতে বৃহত্তর জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থ প্রাধান্য পায়। স্বাধীনতার পর দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে এক করার, সবার পক্ষে কথা বলার, সবার হয়ে কাজ করার মতো কোনো দল আসেনি। সবাই নিজ নিজ স্বার্থে চলেছে, এখনো চলছে। যারা বাঙালিদের স্বার্থের কথা বলেছে, তারা পাহাড়িদের কথা ভুলে গেছে। যারা মুসলমানের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছে, তারা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের স্বার্থের কথা মনে রাখেনি। যারা জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব করবে বলে বুলন্দ আওয়াজ তুলেছিল, তাদের চিন্তায়-কর্মেই জনগণের জায়গা ছিল না। ছিল ‘রুশ-ভারত ভূত’ খেদাও কিংবা ‘মার্কিন-চীন দৈত্য’ তাড়ানোর মতলবি স্লোগান। আর সাধারণ মানুষের অবোধগম্য এসব অচেনা স্লোগান দিতে দিতে তারা একসময় জনগণ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই অতিবিপ্লবীদের কেউ ধর্মে আশ্রয় নিলেন, কেউ নকল জাতীয়তাবাদে মুক্তি খুঁজলেন, কেউ বা বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে হাত মেলালেন।
ফলে বাংলাদেশে গরিব-দুঃখী মানুষের পক্ষে কথা বলার রাজনীতিটাই হারিয়ে গেল।  আমাদের বামপন্থীরা মানুষের কাছে যান না। মানুষের ভাষা বোঝেন না। নিজেদেরও বোঝাতে পারেন না। এসব কারণেই রাজনীতি এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ক্রমশ ডানে ঝুঁকে পড়া বুর্জোয়া দলগুলো। স্বাভাবিকভাবে তারা নিজেদের স্বার্থ দেখবে। তাদের নীতিতে, কর্মসূচিতে গরিব মানুষের স্থান নেই। সেই শূন্যতা পূরণ করছে বা করতে চাইছে ধর্মাশ্রয়ী রাজনৈতিক দল ও হেফাজতে ইসলামের মতো অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনগুলো। আমাদের জনদরদি দল কিংবা বিদেশি সাহায্যপুষ্ট এনজিওগুলো যখন উন্নতির অভিনব গল্প শোনাচ্ছে, তখন দেখতে পেলাম, দেশে প্রায় অর্ধলক্ষ কওমি মাদ্রাসায় অন্তত ৫০ লাখ শিক্ষার্থী আছে (প্রতি মাদ্রাসায় ১০০ জন হলে), যাদের সঙ্গে কথিত আধুনিক রাষ্ট্র, রাজনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নেই। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে যাঁরা দেশের ও সমাজের উন্নতি করতে চান, তাঁরা হয় বোকার স্বর্গে আছেন অথবা দেশবাসীকে বোকা বানাতে চাইছেন।
গত ৬ এপ্রিল ও ৫ মে গরিব এসব মাদ্রাসাছাত্রকে, যাঁরা শাপলা চত্বরে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরাও কেউ তাদের হেফাজত করবেন না। জামায়াতে ইসলামীর মতো এই হেফাজতের নেতাদের ছেলেমেয়েরা কেউ কওমি মাদ্রাসায় পড়ে না। তাঁদের কেউ শাপলা চত্বরের সমাবেশেও আসেনি। এই সমাবেশে এসেছিল বা আনা হয়েছিল সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও দরিদ্র ছেলেদের, যাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা মা-বাবা করতে পারেন না বলে লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দেন, কওমি মাদ্রাসায় পড়তে পাঠান। আর যাঁরা তাদের শাপলা চত্বরে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁরা ক্ষমতা নিয়ে দর-কষাকষি করেন। পত্রিকার খবর অনুযায়ী, তাঁদের কাউকে কাউকে নাকি মন্ত্রী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ৫ মে সন্ধ্যা ছয়টার পরও শাপলা চত্বরে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের অবস্থান নেওয়ার সেটাই ছিল আসল মাজেজা।
বাংলাদেশের ছোট-বড় সব দলই জনগণের কল্যাণ ও দেশের স্বার্থরক্ষার কথা বলে রাজনীতি করে। আবার অন্য দলের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র হত্যা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলে। ক্ষমতায় থাকতে তারা এক ভাষায় কথা বলে, বিরোধী দলে গেলে অন্য ভাষায়। তারা কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না, এমনকি অন্যের কথা শোনার প্রয়োজন বোধ করে না। তারা সবাই নিজের হেফাজত করতে সচেষ্ট।
স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও যদি রাজনীতিতে স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তি থাকে, বুঝতে হবে আমরা খুব বেশি এগোইনি। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি কীভাবে দল ও রাজনীতি করে? তাদের তো নাগরিকত্ব থাকারই কথা নয়। আসলে তারা এই স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে চায় না, চায় রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে। এতে কথিত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিই লাভবান হয়।
আসলে কোনো রাজনৈতিক দলই গোটা দেশকে ধারণ করতে পারছে না। তারা কেউ আওয়ামী লীগকে ধারণ করে, কেউ বিএনপিকে, কেউ বা জাতীয় পার্টি বা জামায়াতকে। সবাই গোষ্ঠীগত স্বার্থে মগ্ন। ব্যক্তিস্বার্থে মশগুল। ৪২ বছর ধরেই আমরা নীতি-আদর্শের চেয়ে ক্ষমতাকেই বড় করে দেখছি।
তিন
হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ৫ ও ৬ মে সারা দেশে টানটান উত্তেজনা চলছিল। সবার মনেই আতঙ্ক ছিল, শেষ পর্যন্ত এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকবে কি না? থাকেনি। ৫ মে দুপুরেই শুরু হয় ভয়াবহ সংঘর্ষ, যার জের ধরে কয়েক ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকল পুরানা পল্টন, তোপখানা মোড়, বায়তুল মোকাররম, বিজয়নগর ও ফকিরাপুল এলাকা। একদিকে আগুন জ্বলছে, অন্যদিকে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে। এটি কীভাবে সম্ভব হলো? মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশ হলেও বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে কেন বিপুলসংখ্যক কর্মী জড়ো হলেন? কারা তাদের নামিয়েছিলেন?
অনেকে বলতে চাইছেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা হেফাজতের ভেতরে ঢুকে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। এই দুটি শক্তিকে কি আলাদা করার কোনো উপায় আছে, যেখানে ১৮ দলের অন্তত চারটি দল হেফাজতের আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত? সরকারের নীতিনির্ধারকেরা সব দায় বিএনপি ও জামায়াতের ওপর চাপিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। কিন্তু হেফাজতের কর্মসূচিতে জামায়াত-শিবিরের এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কিংবা নাশকতা রোধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।
অনেকে শাপলা চত্বরের সমাবেশ সরিয়ে দিতে যৌথ অভিযানের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু এর বিকল্প কী ছিল? কম শক্তি প্রয়োগে এ রকম সফল অভিযানের নজির খুব বেশি নেই। যাঁরা শাপলা চত্বরে অভিযানের বিরোধিতা করছেন, তাঁরাই আবার পিলখানায় সেনা অভিযান না চালানোর কঠোর সমালোচনা করতেন। আসলে দলীয় দৃষ্টির বাইরে কেউ কিছু ভাবতে পারছেন না। তবে শাপলা চত্বরের অভিযানে যৌথ বাহিনী সফল হলেও সরকারবিরোধীদের প্রচারণা বন্ধে শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের অতিকথন মন্ত্রীরাও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ।
হেফাজতে ইসলামের নেতারা ইসলামের হেফাজতের কথা বলে কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের শাপলা চত্বরে নিয়ে এসে নিজেরা পালিয়ে গেছেন। তাদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মানবতা ও ধর্ম—দুটিই চরমভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে। মহাজোট সরকারের দায়িত্ব ছিল জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া, তারাও সেই নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের দাবি, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু সেটি ত্বকী হত্যার আসামি, কিংবা মৃত্যুদণ্ড মওকুফ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সম্ভব কি না, সে প্রশ্নের উত্তর নেই। বিএনপি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী বলে দাবি করে। কিন্তু তাদের আমলে কীভাবে ভিন্ন দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ১০ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে? কীভাবে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, তার ব্যাখ্যা নেই।
আমরা এমন একটি রাজনৈতিক দল চাই, যে দলটি সব ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশের সব মানুষকে হেফাজত করবে। কারও নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার হরণ করবে না। ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ে কারও প্রতি বৈষম্য দেখাবে না। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করবে। যে দলটি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হবে, এবং ব্যক্তি, দল ও গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দেবে।
হেফাজতে ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্ম নয়, কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠী নয়, যে দলটি বাংলাদেশের সব মানুষের অধিকার ও স্বার্থ দেখবে, আমরা সেই দলের অপেক্ষায় আছি।
l সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
    sohrab03@dhaka.net

পোশাক কারখানায় আগুনেরঘটনা

গত বুধবার রাতে মিরপুরের তুং হাই সোয়েটার কারখানায় আগুনে পুড়ে কারখানার মালিকসহ আটজনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সাভার ট্র্যাজেডিতে দেশের মানুষ যখন শোকে মুহ্যমান, তখনই ঘটল এ দুর্ঘটনা। ধারণা করা হচ্ছে, শর্টসার্কিট থেকে ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় তলায় প্রচুর সোয়েটার ও কাপড় মজুত ছিল। এ সময় কারখানার মালিক ও বিজিএমইএর পরিচালক মাহবুবুর রহমান কয়েকজন বন্ু্লকে নিয়ে দশম তলায় নিজের কক্ষে অবস্থান করছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে তাঁরা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছাদে যাওয়ার চাবি না থাকায় ফিরে এসে তাঁরা নিচে নামতে গিয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে শ্বাস রোধ হয়ে মারা যান।
এ আগুন লাগার ঘটনা তৈরি পোশাকসহ সব কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থার মারাত্মক ঘাটতির কথাই আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তুং হাইয়ের অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা তাজরীনের মতো নাজুক না হলেও নিচতলায় কাপড় রাখা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা যতই উন্নত হোক না কেন, সবাই প্রশিক্ষিত না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে না। আগুনের সময় নিচে নামা ঝুঁকিপূর্ণ—এ কথা জানা থাকলে হয়তো তাঁরা নিশ্চয়ই নিচে নামতেন না এবং প্রাণে বেঁচে যেতেন।
‘সাধারণভাবে ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে মালিকেরা খুব একটা মাথা ঘামান না’—অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মকর্তার এ অভিযোগ সত্য হলে সেটি খুবই চিন্তার বিষয়। মালিক-শ্রমিক-কর্মচারীনির্বিশেষে অগ্নিনির্বাপণের প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি। অনেক কারখানায়ই অগ্নিনির্বাপণকর্মীদের সার্বক্ষণিক রাখা হয় না। সামান্য টাকা সাশ্রয়ের জন্য মালিকেরা কেন এভাবে দুর্ঘটনাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানান? কেনই বা নিজেদের ও শ্রমিকদের বারবার মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন?
এখন থেকে সব কারখানায় নিরাপত্তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ হতে হবে। অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থাসহ সব ধরনের নিরাপত্তারক্ষী রাখতে হবে ২৪ ঘণ্টার জন্যই। কারখানাকে কেবল মুনাফা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে না দেখে অন্তত নিজেদের নিরাপত্তার জন্যও মালিকেরা আরেকটু সজাগ ও সতর্ক হতে পারেন।

ভালো ফলের নতুন রেকর্ড

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিবছর নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। এবারের মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষাগুলোতেও একই বিষয় লক্ষ করা গেল। মোট পাসের হার আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে এবার হয়েছে ৮৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১২ হাজার ১২৯ জন বেড়ে এবার হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৮১। মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ পর্যন্ত স্মরণকালের সেরা ফল করার জন্য উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী, তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আমাদের উষ্ণ অভিনন্দন।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল ভালো হওয়ার কারণগুলোর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শিক্ষকেরা বলেছেন, এই পরীক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণীতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বা জেএসসি পরীক্ষায় পাস করে এসেছে। ওই পরীক্ষার প্রস্তুতির ফলে তাদের সার্বিক পড়াশোনা এগিয়ে ছিল। এ ছাড়া ওই পরীক্ষা একটি বাছাই প্রক্রিয়া হিসেবেও কাজ করেছে। এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে ভালো ফল করার ফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার দুটোই বেড়েছে। মেয়ে শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতো এবারও ভালো করেছে। বরিশাল বোর্ডে মেয়েদের পাসের হার ছেলেদের চেয়ে বেশি। জিপিএ-৫ পাওয়া ও শতভাগ উত্তীর্ণ হওয়ায় এগিয়ে রয়েছে শহরাঞ্চলের নামকরা বিদ্যালয়গুলো। এটি শুভ লক্ষণ নয়। গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েরা একসময় ভালো ফল করে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোতে প্রকৌশলবিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেত। এখন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে শহর-গ্রামের যে ব্যবধান লক্ষণীয় হয়ে উঠছে, তাতে গ্রামাঞ্চলের ছেলেমেয়েদের সেই সুযোগ কি এখন হারিয়ে যাচ্ছে? এ বছর ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এগুলোর অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়গুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
পরীক্ষায় পাসের হার ও ভালো ফলের হার বৃদ্ধি অবশ্যই উৎসাহব্যঞ্জক। বিশেষত মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীরই পরীক্ষায় পাস করা উচিত বলে আমরা মনে করি। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মানও নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি চালু হাওয়ার পর থেকে কয়েক বছর ধরে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ক্রমাগত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমন অভিযোগও রয়েছে যে পরীক্ষার উত্তরপত্র ‘উদারভাবে’ মূল্যায়নের ফলে বছরের পর বছর পাসের হার ও ভালো ফলের এমন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। এটা সত্য হলে শিক্ষা উন্নয়নের সূচক বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ার কথা নয়।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি করা, যারা একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে। শিক্ষার উন্নত গুণগত মান সে কারণেই জরুরি।

সবচেয়ে বেশি ধনকুবের থাকেন নিউইয়র্কে

শতকোটি বা এর বেশি অর্থের মালিক—বিশ্বের এমন ধনকুবের সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে। গবেষণা সংস্থা ওয়েলথইনসাইট বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ধনকুবেরের বসবাস করা ১০টি শহরের একটি তালিকা করেছে। গত বৃহস্পতিবার তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। তালিকায় দেখা গেছে, তালিকার শীর্ষে থাকা নিউইয়র্কে ৭০ জন বিলিয়নিয়ার বসবাস করেন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে মস্কো (৬৪), লন্ডন (৫৪), হংকং (৪০) ও বেইজিং (২৯)। তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে মুম্বাই শহর। সেখানে বাস করেন ২৬ জন ধনকুবের। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইস্তাম্বুল (২৪), সাংহাই (২৩), প্যারিস (২২) ও লস অ্যাঞ্জেলেস (১৯)। গবেষণা সংস্থাটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মিলিয়নিয়ারদের বসবাস করা ২০টি শহরেরও তালিকা করেছে।

ইসরায়েল হামলা চালালে পাল্টা জবাব: সিরিয়া

ইসরায়েল নতুন করে কোনো হামলা চালালে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে সিরিয়া। অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক নয়; রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মুকদাদ বলেন, ‘ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের কোনো নেতৃত্বের কাছ থেকে আর কোনো নির্দেশনা নেওয়া লাগবে না। আর আমাদের পাল্টা সেই জবাব হবে খুবই শক্ত এবং ইসরায়েলের জন্য তা হবে বেদনাদায়ক।’ ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানায়, গতকাল শুক্রবার সকালে এবং গত রোববার সিরিয়ার কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। মূলত প্রতিবেশী লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লার উদ্দেশে পাঠানোর জন্য অস্ত্রবোঝাই জাহাজ ছিল এ হামলার লক্ষ্যবস্তু। তবে সিরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুকদাদ এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বৃহস্পতিবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষ ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যেসব সমস্যা বিরাজ করছে তার সামরিক নয়, রাজনৈতিক সমাধান দরকার। এই অঞ্চলে ‘পুরোনো ব্যবস্থা’ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমন মন্তব্য করে হেগেল বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে যাবে; পাশাপাশি তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ‘সীমাবদ্ধতা’র বিষয়টিও মাথায় রাখবেন। পেন্টাগনের প্রধান হেগেল অবশ্য স্পষ্ট করেই বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরান বা সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। এদিকে লেবাননের বৈরুতে হিজবুল্লার প্রধান হাসান নসরুল্লাহ বলেছেন, সিরিয়া তার মিত্রগোষ্ঠীকে ‘খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অস্ত্র’ দেবে। হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাদের ‘প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ জন্য গোলান মালভূমির সম্মুখভাগ খুলে দেবে দামেস্ক। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধের সময় সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান দখল করে নেয় এবং এটাকে নিজ দেশের অন্তর্ভুক্ত করে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর পাশাপাশি হিজবুল্লাহর যোদ্ধারাও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সিরীয় সরকার ক্রমাগত হিজবুল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এবং লেবাননের পত্রিকা আল-আকবর প্রেসিডেন্ট আসাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সিরিয়ার প্রতি আনুগত্যের জন্য হিজবুল্লাহকে তারা ‘সবকিছুই দেবে’।

এএনসিকে ভোট দেবেন না ডেসমন্ড টুটু

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসকে (এএনসি) ভোট দেবেন না শান্তিতে নোবেলজয়ী ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু। ১৯ বছর আগে নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে দলটি ওই দেশের ক্ষমতায় আসে। গতকাল শুক্রবার দ্য মেইল ও দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ডেসমন্ড টুটু বলেন, এএনসিকে তিনি ভোট দেবেন না। কারণ হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক দারিদ্র্য, বৈষম্য ও তাঁদের জীবনযাত্রার মানের অবনতির কথা উল্লেখ করেন। ৮১ বছর বয়সী টুটু নিবন্ধে লেখেন, ‘অনেক বছর ধরেই আমি এএনসিকে ভোট দিচ্ছি। কিন্তু এখন যা হচ্ছে, তাতে দলটিকে আমার পক্ষে আর ভোট দেওয়া সম্ভব হবে না।’ অবশ্য তিনি বলেন, ‘নিপীড়ন-নির্যাতন থেকে মুক্তির সংগ্রামে এএনসি আমাদের খুব ভালোভাবেই নেতৃত্ব দিয়েছে।’ ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে এএনসি ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় নির্বাচনে জয়ী হয়। একই সঙ্গে ওই বছর ১০ মে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। সম্প্রতি আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু দলটির বিরুদ্ধে ক্রমশ সমালোচনা মুখর হয়ে উঠছে। ২০০৯ সালেএকবার এএনসির মধ্যে বিভাজন দেখা দিলে এ নোবেল জয়ী ভোট দিবেন না বলেহুমকি দিয়েছিলেন। শুক্রবার সতর্ককরে দিয়েবলেন, দক্ষিণআফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। তাঁর বয়স এখন ৯৪ বছর।তিনি এখন খুব নাজুক অবস্থায়আছেন।

ভারতের আইনমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর পদত্যাগ

ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পবন কুমার বানসাল ও আইনমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার গতকাল শুক্রবার পদত্যাগ করেছেন। ভাগনের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দলের ভেতরে ও বাইরে প্রচণ্ড চাপের মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন রেলমন্ত্রী। এর পরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন আইনমন্ত্রী। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি আইনমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। একের পর এক দুর্নীতির ঘটনায় বিপর্যস্ত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার এই দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের ফলে আরেকটি বড়সড় ধাক্কা খেল। বানসাল ও অশ্বিনী কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের কঠোর অবস্থানের ফলে ভারতীয় পার্লামেন্টে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি চলতি সপ্তাহের বাজেট অধিবেশন দুই দিন কমিয়ে আনতেও বাধ্য হয় ইউপিএ সরকার। বানসাল ও অশ্বিনী কুমারের এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অচলায়তনের অবসান ঘটল। কয়লাখনি কেলেঙ্কারি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের একটি খসড়া প্রতিবেদন আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রোষানলে পড়েছিলেন আইনমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার। এর পর থেকে বিরোধীদেরও সমালোচনায় পড়েন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট বলেন, একজন মন্ত্রী একটি প্রতিবেদনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কিন্তু সিবিআইয়ের তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। রেলওয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে উচ্চ পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে বানসালের ভাগনে বিজয় সিংলা বড় অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে বিজয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। সিবিআই সূত্র বলেছে, ভাগনের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে বানসালের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য শিগগিরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সূত্রটি বলছে, সিবিআই বানসালের ব্যাপারে ‘বড় ধরনের সন্দেহ’ নিয়েই এগোচ্ছে। রেলওয়ের দুর্নীতি ও ভাগনের ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় কয়েক মাস ধরে তদন্ত করছে সিবিআই। সিবিআই জানিয়েছে, বিজয়কে ঘুষ দেওয়া রেলওয়ে কর্মকর্তা মহেশ কুমার জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, দিল্লিতে রেলমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ঘুষবিনিময় নিয়ে বিজয়ের সঙ্গে তাঁর বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়। তিনি বলেন, বিজয় প্রায়ই তাঁর মামার রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের কক্ষ ব্যবহার করতেন। এ ব্যাপারে বানসালের ব্যক্তিগত সহকারীকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কাছে বিজয়কে কেন সরকারি দপ্তর ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ভাগনের ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বানসাল পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। গত অক্টোবরে রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বানসাল।

৫৯৭ পরিবারের দখলে পার্লামেন্ট!

পাকিস্তানের বিদায়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রায় ৪৪ শতাংশ আসন পূর্ববর্তী পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সদস্যদের আত্মীয়স্বজনের দখলে ছিল। মাসিক হেরাল্ড-এর এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে প্রথম এক ব্যক্তি এক ভোট নিয়ম চালু হয়। মূলত সেই থেকেই পার্লামেন্টে রাজনৈতিক পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এই গবেষণার হিসাবে নেওয়া হয়। পত্রিকাটির গবেষণায় দেখা গেছে, গত নয়টি সাধারণ নির্বাচনে সিনেট, জাতীয় পরিষদ ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের সাত হাজার ৬০০ আসনের মধ্যে প্রায় তিন হাজার ৩০০ আসন ৫৯৭টি পরিবারের দখলে ছিল। এসব পরিবারের মধ্যে ৩৭৯টিই পাঞ্জাবভিত্তিক। বাকিগুলোর মধ্যে ১১০টি সিন্ধু, ৫৬টি খাইবার পাখতুনখাওয়া, ৪৫টি বেলুচিস্তান ও কেন্দ্র শাসিত উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের (ফাতা) সাতটি পরিবার রয়েছে। বিদায়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে প্রতিনিধিত্ব ছিল ৩৬৫টি রাজনৈতিক পরিবারের। গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত পার্লামেন্টগুলোতে এসব রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিনিধিত্বের হার খুব কমই পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭৭ সালে সর্বনিম্ন ৩৭ শতাংশ এবং ১৯৯৩ সালে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ আসন রাজনৈতিক পরিবারগুলোর দখলে ছিল। অতীতে পাকিস্তানের চারটি প্রদেশের মধ্যে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ আসন এসব রাজনৈতিক পরিবারগুলোর দখলে ছিল। এর পরই রয়েছে বেলুচিস্তান (৪৪ শতাংশ), সিন্ধু (৪১ শতাংশ), খাইবার পাখতুনখাওয়া (২৮ শতাংশ) ও কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় এলাকার (১৮ শতাংশ) অবস্থান। গবেষণার ক্ষেত্রে সেই সব পরিবারকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যেসব পরিবারের অন্তত দুজন সদস্য ১৯৭০ সাল থেকে সিনেট কিংবা জাতীয় পরিষদ অথবা প্রাদেশিক পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর মধ্যে এমনও অনেক পরিবার রয়েছে, যেসব পরিবারের দুজনের বেশি সদস্য পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছেন। যেমন—সাবেক প্রেসিডেন্ট ফারুক লেঘারির পরিবারের ১৪ জন সদস্য এ পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও ১৯৯০ সালে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী গুলাম মুস্তাফা জাতোইয়ের পরিবারও পিছিয়ে নেই। তাঁর পরিবারের ১১ জন সদস্য পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ফল নিয়ে আগাম কিছু বলাকঠিন

পাকিস্তানে আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন ভিন্ন। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকার মেয়াদ শেষে নির্বাচিত কোনো দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে—শুধু এ কারণে নয়, কয়েক দশক ধরে প্রধান দুই দলের সঙ্গে সেনাবাহিনী শাসনব্যবস্থায় যে প্রভাব বিস্তার করত, এবার সেটা অনেকটা কমে এসেছে। এবারের নির্বাচনে পাঁচটি নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ইমরান খান: সাবেক ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। সমাবেশের মঞ্চে ওঠার সময় লিফট থেকে পড়ে আহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ব্যাপক আলোড়ন সষ্টি করেন। এমনকি এক দিনে সাতটি সমাবেশও করেন তিনি। সরকারি কর্মকর্তারাও বলছেন, দেশের জনমত জরিপ সংস্থার তথ্য অনুসারে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বেশ কিছু আসনে জয়ী হবে। নতুন ভোটার: বর্তমানে পাকিস্তানে ভোটারের সংখ্যা সাড়ে আট কোটির মতো। এর মধ্যে গত নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে তিন কোটি ৭০ লাখ ভুয়া ভোটার বাদ দিয়েছে এবং নতুন করে তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তালেবানের হুমকি: পাকিস্তানে নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তালেবানের হামলার ঘটনা বাড়ছে। এসব ঘটনায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। নির্বাচনের দিন তারা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। শক্তিশালী বিচার বিভাগ: অতীতে পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি বিচারকদের অনুগত থাকার একটা ঝোঁক ছিল। তবে এখন আর সেই অবস্থা নেই। বিচার বিভাগ সরাসরি রাজনীতিবিদ এমনকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও শক্ত অবস্থান নিয়েছে। শক্তিশালী গণমাধ্যম: পাকিস্তানে যেকোনো সময়ের চেয়ে গণমাধ্যম এখন অনেক শক্তিশালী। কোনো কিছু আড়াল করা এখন খুবই কঠিন।

লোয়ার দিরে নারীদের ভোট দিতে দেবে না তিন দল

পাকিস্তানের লোয়ার দির এলাকার পিকে-৯৪ প্রাদেশিক আসনে আজ শনিবার সাধারণ নির্বাচনে নারীদের ভোট দিতে বাধা দেবে প্রতিদ্বন্দ্বী তিনটি দল। এ ব্যাপারে তারা একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তিতেও পৌঁছেছে। সরকারের কয়েকটি সূত্র গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডনকে জানায়, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি), আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) ও জামায়াত-ই-ইসলামির (জেআই) প্রার্থীরা লোয়ার দিরের ওই আসনে নারীদের ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে অনানুষ্ঠানিক চুক্তিটি করেছে। এ আসনের প্রধান তিন প্রার্থী হলেন পিপিপির আলমজেব খান, জামায়াত-ই-ইসলামির মুজাফ্ফর সায়িদ ও এএনপির আইয়ুব খান। সূত্রগুলো আরও নিশ্চিত করেছে, নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে প্রার্থীরা গোপনে তাঁদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ওই চুক্তি করেন। লোয়ার দিরের তালাশ এলাকার বান্দাগাই গ্রামে ওই চুক্তি করা হয়। তবে এ নিয়ে লিখিত কোনো নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

সারা দেশে আসামি ১০০০০০, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন আল্লামা শফী by মহিউদ্দীন জুয়েল

প্রধান আমীর আল্লামা শফী একেবারেই নিশ্চুপ। দলের বাইরের কারও সঙ্গে তেমন কোন কথা বলছেন না। একা একাই সময় পার করছেন। থাকছেন হাটহাজারী মাদরাসার ভেতরে। হরতাল কিংবা অবরোধ। অথবা ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি। কোনটিই আপাতত আর দিচ্ছেন না তিনি।

মৃত্যুঞ্জয়ী রেশমা by নূরুজ্জামান ও হাফিজউদ্দিন

মৃত্যুকে জয় করে ফিরে এলেন রেশমা। মৃত্যুঞ্জয়ী রেশমা শুধু দেশ নয়, গোটা বিশ্বে এখন সংবাদ শিরোনাম। সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধসের ঘটনার ১৭ দিন পর উদ্ধার হয়েছে গার্মেন্ট কর্মী রেশমা। অলৌকিক! অবিশ্বাস্য ঘটনা। ক্ষণিকের জন্য হাজারো লাশের শোক ভুলিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কে এই রেশমা by জাহাঙ্গীর সুমন ও ওমর ফারুক

তিন বছর আগে কাজের সন্ধানে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসেন রেশমা। জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেছেন তিনি। স্বামী রাজ্জাকের সঙ্গে একসাথে সাভার বাজার রোডের নুর মোহাম্মদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকার তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডে রেশমা by আদিত্য আরাফাত

৪১৫ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার হয়ে ধ্বংসস্তূপে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়লেন দিনাজপুরের রেশমা আক্তার! অনলাইন ঘেঁটে জানা গেছে, এর আগে পৃথিবীর ইতিহাসে ধ্বংসস্তূপে সর্বোচ্চ বেঁচে থাকার রেকর্ড ছিল পাকিস্তান ও হাইতিতে।

রায়ের প্রতিক্রিয়া- যে কারণে মাঠে নামেনি জামায়াত-শিবির by নুর মোহাম্মদ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের পর তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি দলটি। লোক দেখানো কয়েকটি ঝটিকা মিছিল করে শেষ করে দিয়েছে তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। হঠাৎ করে জামায়াতের এমন নীরব ভূমিকায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা কল্পনা চলছে।

হেফাজত কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে দিতেই অভিযান: প্রেস নোট

নৈরাজ্য প্রতিরোধ, গণতন্ত্র রক্ষা, আইনের শাসন সুরক্ষা, গণনিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে উচ্ছৃঙ্খল ও উন্মত্ত ধ্বংসযজ্ঞে লিপ্ত হেফাজত কর্মীদের শাপলা চত্বর থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেবার জন্য এই অভিযান অপরিহার্য হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ধসের শঙ্কা নিয়ে ঢাবির কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর হলবাস by মাহমুদুল হাসান

হলের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ফাটল, ঘন ঘন প্লাস্টার খসে পড়া আর মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হলেই যেকোনো সময় ধসে পরতে পারে হলের পুরো কাঠামো— এভাবেই আতঙ্কের মধ্যে হলবাস করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

ঢাকায় গণহত্যা নীরব মিডিয়া

রানা প্লাজায় ভবন ধসে ৯০০ মানুষের মৃত্যুও যেন যথেষ্ট ছিল না, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় নতুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ৬ই মে ভোর রাতের দিকে ঢাকায় যা ঘটেছে তা দৃশ্যত গণহত্যার (ম্যাসাকার) নামান্তর।