Monday, September 3, 2018

ফিলিস্তিনিদের সাহায্য বন্ধ করেছেন ট্রাম্প: ‌আরব দেশগুলোর রহস্যজনক নীরবতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ফিলিস্তিনিদেরকে টার্গেট করেছেন। ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের সাহায্যের জন্য গঠিত জাতিসংঘের একটি সংস্থায় অর্থ দেয়া বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা।
২০১৬ সালে আমেরিকা জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সিকে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছিল। চলতি বছরেও একই পরিমাণ অর্থ দেয়ার কথা থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সংস্থাকে আর সহায়তা না দেয়ার ঘোষণা দিলেন। ৫০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি বিভিন্ন দেশে শরণার্থী জীবনযাপন করছে। তাদের সহায়তার দায়িত্ব রয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটির ওপর।
ফিলিস্তিন শরণার্থীদের অর্থ-সহায়তা বন্ধে মার্কিন সরকারের এ পদক্ষেপ মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিতর্কিত 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামক পরিকল্পনা বাস্তবায়নেরই প্রক্রিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফিলিস্তিন সংকট সমাধানের জন্য ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিলেও এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দখলদার ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা, ইসরাইলের প্রতি ফিলিস্তিনিদের স্বীকৃতি আদায় করা, ইহুদি বসতি নির্মাণকে বৈধতা দেয়া এবং ফিলিস্তিনিদেরকে মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে বাধা দেয়া।
মার্কিন সরকার ফিলিস্তিন শরণার্থীদের অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণ, বিভিন্ন দল ও সংগঠনের ওপর এমনভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যাতে তারা 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' নামক পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য হয়। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জোহরি বলেছেন, "আমেরিকা অনেক পরিকল্পিতভাবে জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সিকে দেয়া অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছ এবং এভাবে তারা যত দ্রুত সম্ভব ট্রাম্পের 'শতাব্দির সেরা চুক্তি' পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। মার্কিন সরকার দাবি করেছে, তাদের নতুন জরিপে দেখা গেছে শরণার্থী সংখ্যা পাঁচ লাখ। আর এ কারণেই  অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
মার্কিন সরকারের এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। ব্রিটেন ও জার্মানির কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, তারা ফিলিস্তিন শরণার্থীদের সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখবে। জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইমান আল সাফেদি ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ভুল বলে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থেনিও গুতেরেসও বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে ২১কোটি ৭০ লাখ ডলার বাজেট ঘাটতির সম্মুখীন এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়ায় ফিলিস্তিনিরা তীব্র সংকটে পড়বে।
এদিকে দখলদার ইসরাইল মার্কিন সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি এবং রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।
হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জোহরি

চান্দিনায় জুয়ার টাকার জন্য বউ বন্ধক

সিনেমা-নাটকে ‘বউ বন্ধক’ নিয়ে অনেক চলচ্চিত্র থাকলেও বাস্তব জীবনে বউ বন্ধকের ঘটনা বিরল। কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্রের ‘বউ বন্ধক’ নামে সিনেমাটির বাস্তব রূপ দিয়েছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এক জুয়াড়ি। উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের নাওতলা গ্রামের মৃত শিরু মিয়ার ছেলে আল আমিন (২২) নামে এক যুবক জুয়া খেলায় সর্বস্ব হারায়। অবশেষে ৪ হাজার টাকা ধার নেয় সঙ্গের আরেক জুয়াড়ি তার চাচা কামাল উদ্দিন জিল্লুরের (২৭) কাছে থেকে। ওই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে নিজের বউকে বন্ধক দেয় পাওনাদার কামালের কাছে।
সূত্র জানায়, কামাল ও আল আমিনসহ বেশ কয়েকজন যুবক একসঙ্গে প্রতিদিন এলাকায় জুয়া খেলে। গত সোমবার আল আমিন জুয়ায় হেরে কামালের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা ধার নেয়। পরদিন মঙ্গলবার আবারও জুয়ার আসরে বসার পর কামাল আল আমিনের কাছ থেকে আগের পাওনা টাকা চায়।
কিন্তু আল আমিন ওই টাকা দিতে পারছিল না। এসময় কামাল টাকার পরিবর্তে তার (আল-আমিনের) বউকে চেয়ে বলে, ‘টাকা দিতে না পারলে তোর বউকে দুই দিনের জন্য আমার কাছে বন্ধক দে। একপর্যায়ে আল আমিন রাজি হয়।
ভুক্তভোগী আল আমিনের স্ত্রী, জানান, বুধবার আমার চাচা শ্বশুর কামাল বিকালবেলা আমার বাড়িতে এসে বলে আমি রাতে আসব, তুমি রেডি থেকো। পরে আমি তাকে বললাম কেন আসবে। তখন সে বলে, তোমার স্বামী কিছু বলে নাই। আমি বল্লাম, না আমাকে কিছু বলে নাই। পরে আমি আমার স্বামী আল আমিনের কাছে জানতে চাইলে সে আমাকে কামালের সঙ্গে রাতযাপনের জন্য নির্দেশ দিয়ে বলে, ‘আজ রাতে কামাল আসবে। তার সঙ্গে দুই রাত কাটাতে হবে।’ এ নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। বিকালে আল আমিন বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে তার স্ত্রী বাড়ির অন্যান্য লোকজনকে বিষয়টি জানায়। আগের কথামতো বুধবার রাত ১০টায় কামাল আল আমিনের ঘরে প্রবেশ করলে আশপাশের লোকজন এসে কামালকে আমার রান্না ঘর থেকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরদিন বৃহস্পতিবার বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কানে গেলে শুক্রবার রাতে মাধাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অহিদ উল্লাহের সভাপতিত্বে সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়া, ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল হালিম, সাবেক মেম্বার আব্দুল মমিনের উপস্থিত সালিশে বউ বন্ধকদাতা আল আমিন ও বন্ধক গ্রহিতা কামালকে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের জুতা পেটা করা হয়। এ ব্যাপারে ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল হালিম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তবে সালিশ-দরবারে শুরু থেকে ছিলাম না মাঝামাঝি অবস্থায় সালিশে হাজির হয়েছি। সালিশের রায় অনুসারে তাদের জুতাপেটা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মাধাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. অহিদ উল্লাহ জানান, এ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এলাকার সম্মানহানিও বটে।

জামিন পেলেও উদ্বেগ কাটেনি তাদের by মরিয়ম চম্পা

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আটক হওয়া শিক্ষার্থীরা জামিনে মুক্ত থাকলেও উদ্বেগ- উৎকণ্ঠা কাটেনি তাদের। অনেকেই অন্তরালে সময় কাটাচ্ছেন। কারো কারো পরিবার আবার বাসার বাইরে বের হওয়াতো দূরের কথা মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করতে দিচ্ছেন না তাদের সন্তানদের। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, জামিন পাওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন।
বাসার বাইরে খুব একটা বের হন না। এমনকি পরিচিতদের বাইরে অন্য কারো সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন না। এই মামলার কারণে তারা পড়ালেখা ও ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ক্লাসে অনিয়মিত হওয়ায় সামনে ফাইনাল পরীক্ষায় তাদের সীমিত প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে বসতে হবে। সকলের ভেতরে একটাই আতঙ্ক কাজ করছে। পরবর্তীতে যদি তারা কোনো আন্দোলনে   অংশ নেয় তাহলে তাদের আবার পুলিশ টার্গেট করে ধরবে কি না। নিরাপদ সড়কের দাবিতে করা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান বলেন, আমরা জামিনে মুক্ত থাকলেও আতঙ্কের মধ্যে আছি। আবার কখন গ্রেপ্তার করবে এই ভয় কাজ করে। সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হচ্ছে যে কোনো সময় আমাদের ওপর হামলা হতে পারে। বাসার বাইরে যাওয়ার মতো অবস্থা আমাদের নেই। অনেকটা অঘোষিত গৃহবন্দি হয়ে আছি।
প্রথম দিকে আমরা নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করতে গেলে উল্টো আমাদের নামে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে মোট ১০ জনের নামে মামলা হয়েছিল। রাতুল সরকার ও আমার নামে ২টি করে বাকিদের নামে ১টি করে মামলা হয়েছে। আমার নামে আইসিটি আইনে ৫৭ ধারায় মিথ্যা মামলা ও ভিসির বাসায় ভাঙচুরের নির্দেশনাসহ মোট দুটি মামলা হয়েছে। জসিম উদ্দিন ও মশিউরের নামে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ায় মামলা হয়েছে। ফারুক হোসেন ও তরিকুলের নামে পুলিশের মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার মামলা হয়েছে। বাকিদের অধিকাংশের নামে ভিসির বাসায় ভাঙচুরের মামলা হয়েছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা মশিউর রহমান বলেন, ৪টা মামলার ভেতরে মোট ৩টা মামলা কমনভাবে আমাদের সবার নামে করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি আইনে করা হয়েছে দুজনের নামে। এর মধ্যে রাশেদ ভাইয়ের নামে ভিডিও এডিট করে ৫৭ ধারায় মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমাদের সবগুলো মামলাই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি যে ভিসি স্যারের বাসায় ভাঙচুরের বিষয়ে যদি আমাদের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারে তাহলে আমরা আন্দোলনের মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াবো। কোনোদিন আমরা সরকারের মুখোমুখি হবো না। আন্দোলন-অধিকারের কথাও বলবো না। তারা কিন্তু সেটা প্রমাণ করতে পারেনি। পুলিশকে সব খুলে বলা সত্ত্বেও অন্যায়ভাবে আমাদের নামে মামলা দেয়া হয়। পরবর্তীতে আমরা ঈদের আগে ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া স্যারসহ একাধিক আইনজীবীর সহায়তায় জামিন পাই। কিন্তু আমাদের মামলা তুলে নেয়া হয়নি। রাশেদ, লুমাসহ সকলের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমাদের অধিকাংশেরই ক্লাস পরীক্ষা চললেও আমরা কেউ ডিপার্টমেন্টে যেতে পারছি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে যে আমরা নিরাপদ থাকবো এবং আমাদের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করবে না এরকম নিশ্চয়তা কিন্তু সরকার আমাদের এখনো দেয়নি। সরকারের দায়িত্বশীল কোনো মন্ত্রী যদি বলতো আপনারা নিরাপদ। ছাত্রলীগ আপনাদের ওপর কোনো হামলা করবে না। এরকম নিশ্চয়তা পেলে আমরা ক্লাস করতে পারতাম। পরীক্ষা দিতে পারতাম। এমনকি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা বাসা থেকে বের হতে পারি না। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা তো কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে আন্দোলন করিনি। দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে আন্দোলন করেছি। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ এই আন্দোলনের পক্ষে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পি এম সুহেল বলেন, আমরা সকলেই শঙ্কায় আছি। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় আছি। কারণ আমাদের নামে করা মামলা শেষ হয়নি। পরবর্তীতে এই মামলায় মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে আমাদের আবার শাস্তি দিবে কিনা। এগুলো নিয়ে আমাদের ভেতর এক ধরনের ভয় কাজ করছে। আমার নামে ভিসি স্যারের বাসায় হামলার নির্দেশে ১টি মামলা করা হয়েছে। আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর কোর্টে আমাদের হাজিরা আছে।   
আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, যারা জামিনে মুক্ত আছেন তাদের কোথাও কোনো আইনগত বাধা বা বিধি নিষেধ নেই। মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এজন্য তাদের বাসার বাইরে বের হওয়া কিংবা ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তারা কোনো কারণে হয়তো ভয় পাচ্ছেন। তাদের ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে মোট ১১০ জনের জামিন হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ব্যাপক ধরপাকড় পেরেশানিতে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে পড়া প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশির ভাগ্য অনিশ্চিত! গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে দেশটিতে অবৈধদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৫০০ অবৈধ শ্রমিক এরইমধ্যে আটক হয়েছেন। গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাংলাদেশিরা কাজকর্ম ছেড়ে বাসায় বসে আছেন। কিন্তু তাতেও রেহাই মিলছে না। পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করছে। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছে কুয়ালামপুরের বরাতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এমনটাই বলছে। মালয়েশিয়া প্রবাসী সিলেটের এক শিক্ষার্থী রাতে মানবজমিনকে বলেন- গ্রেপ্তার আতঙ্ক এখন দেশজুড়ে। কিন্তু সব দেশের তরফে তাদের কমিউনিটিতে যোগাযোগ করা হলেও বাংলাদেশ হাইকমিশন এখনো নীরব।
বৈধতার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশিরা হাইকমিশন ও অভিবাসন অফিসে গিয়ে পদে পদে হয়রানি হয়েছেন জানিয়ে ওই প্রবাসী শিক্ষার্থী বলেন, তার পরিবারের অনেকে দেশটিতে রয়েছেন। তিনি যার মাধ্যমে সেখানে গেছেন তারাও এখন কাগজপত্র নিয়ে জটিলতায় রয়েছেন। অভিযান শুরু হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন- এখনো মিশনের কারো সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি। জরুরি যোগাযোগে মিশনের হটলাইন চালুর নিয়ম থাকলেও তা এখনো খোলা হয়নি বলে হতাশা ব্যক্ত করেন ওই প্রবাসী। এদিকে কুয়ালালামপুরের ডেটলাইনে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে কঠোর এবং বাচ-বিচারহীন অভিযান শুরু হয়েছে। তাতে অবৈধদের রেহাই নেই। তাদের সামনে দুটি পথ খোলা। যত দ্রুত সম্ভব বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, না হয় জেল-জরিমানা দিয়ে দেশে ফেরা।
কেবল বাংলাদেশি নয়, আতঙ্কে আছেন অন্য বিদেশিরাও। এক রিপোর্টে জানা গেছে, মালয়েশিয়াতে প্রায় ২০ লাখ বিদেশি কাজ করেন। ২০১৭ সালের জন-জরিপ মতে সেখানে বিদেশি শ্রমিকদের মধ্যে বেশির ভাগ ইন্দোনেশিয়ার। দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ শীর্ষে। ওই তালিকায় ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও রয়েছে মিয়ানমার, পাকিস্তান, কম্বোডিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, লাউস, ভারত ও নেপাল। বিদেশি শ্রমিকদের বেশির ভাগেরই নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। অনলাইন দ্য ডেইলি স্টার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনকে উদ্ধৃত করে তাতে প্রকাশিত রিপোর্টে বলছে- বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করছে। এর মধ্যে অর্ধেকরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। অভিবাসন ও অধিকার বিষয়ক কর্মীদের উদ্ধৃত করে স্টারের রিপোর্টে জানানো হয়েছে- বৈধ কাগজপত্র না থাকা বাংলাদেশিদের সময় কাটছে আতঙ্কে। শনিবারও তাদের বেশির ভাগই ছিলেন বাসার ভেতরে। বের হন নি। অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
অন্যান্য রিপোর্ট মতে, অবৈধ অভিবাসন বিরোধী ‘মেগা থ্রি পয়েন্ট জিরো’ অপারেশন গত শনিবার শেষ হয়েছে। এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বিশেষ এক সিদ্ধান্তের অধীনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে শ্রমিক নেয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার ঘোষণা দেন। ২০১৪ সালে শুরু হওয়া ওই মেগা কর্মসূচির কথা হলো, অবৈধ শ্রমিকরা স্বেচ্ছামূলকভাবে ১শ’ রিঙ্গিত দিয়ে একটি বিশেষ পাস পাবে। এরপর সে ৩শ’ রিঙ্গিত জমা দিলে তাকে দেশে ফেরত পাঠাবে। আরব নিউজ ১লা সেপ্টেম্বরের এক রিপোর্টে বলেছে, ২০১৪ থেকে ৮ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশি ওই কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত হয়েছিল। এরমধ্যে চলতি বছরেই নিবন্ধিত হয়েছে ১৪৮৭৭৪ জন।
ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও হতাশার বর্ণনা: কুয়ালালামপুরে গত ৩ বছর ধরে আছেন  মোহাম্মদ সোহাগ। তার কথায়, আমি আমার থাকার কাগজপত্র ঠিক করতে গত ১০ মাসে ১৩শ’ ডলার ব্যয় করেছি। এই সময়ের মধ্যে আমি ইমিগ্রেশন অফিসে ২০ বার গিয়েছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।
যদি পুলিশ আমার কাছে আসে, তাহলে কী ঘটবে সেটা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন।  সোহাগ এবং অপর বাংলাদেশি সহকর্মী মাহফুজ আহমেদ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ভীত।  সে কারণে তারা কাজ শেষে বাইরে বের না হয়ে তারা তাদের কর্মস্থলের পাটাতনে রাতযাপন করছেন। গত ২৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন বাংলাদেশি অভিবাসী ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগ থেকে বাংলাদেশিরা ব্যাপকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তারা যথাসময়ে কোনো সেবা দিতে পারছে না। সোহাগের চাকরিদাতা আল মামুন। তিনি বলেন, সব সময় আমি আমার কর্মীদের নিয়ে অভিবাসন দপ্তরে যাই। কিন্তু গত ১০ মাস ধরে তারা আমাদের কাগজপত্র বিবেচনাধীন রেখেছে। আমি এখন আমার কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট কখন পাবো, সেই কল  পেতে অপেক্ষা করছি। আরব নিউজ প্রতিবেদন আরো জানায়, মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ মেগা ৩.০ অপারেশনের শুরু  থেকেই একটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মালয়েশিয়ার অভিবাসন দপ্তরের মহাপরিচালক দাতুক মুস্তাফার আলী বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অ্যামনেস্টি  ডেডলাইনটি প্রসারিত করা হবে না।
আমরা শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া অবৈধ অভিবাসী বিরোধী আমাদের অপারেশন আরো  জোরদার করবো। আমরা তাদেরকে এই  প্রোগ্রামের আওতায় সাইন আপ করার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছি। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্টস (বায়রা)-এর সাবেক মহাসচিব  আলী হায়দার আরব নিউজ ডটকমকে বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসন সবসময় শ্রমিকদের আইনি মাইগ্রেশন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। আমরা এই ধরনের অবৈধ মাইগ্রেশনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, দরিদ্র শ্রমিকদের যারা মালয়েশিয়ায় ভিসা বৈধ করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের পথে কাঁটা হয়ে আছে ‘অবৈধ সিন্ডিকেট’। অন্যদিকে মুস্তাফার বলেন,  ‘আধুনিক কালের ক্রীতদাস’ হিসেবে যারা শ্রমিকদের গণ্য করছে, তারাই চলতি অভিযানের মূল টার্গেট হবে। তিনি বলেন, এ বছরের জানুয়ারি  থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৯ হাজার ২০০  অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার ৬৩  জন অনথিভুক্ত অভিবাসী এবং ৭৯৯ জন নিয়োগকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সূত্র আরব নিউজকে জানায়, ওই  গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশি হতে পারে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শহিদুল ইসলাম অবশ্য আরব নিউজকে জানান, মালয়েশিয়া সরকারের চলতি অপারেশন সম্পর্কে তার  কোনো ধারণা নেই। ‘এটা স্পষ্ট যে কর্তৃপক্ষ অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবেন।
তারা (মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ) সারা বছর এই ধরনের অপারেশন পরিচালনা করে। বাংলাদেশ মিশন প্রধান নিশ্চিত করেছেন যে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন।
চলমান অভিযানের নেপথ্যে: মালয়েশিয়ার অনলাইন দ্য স্টার বলছে- মালয়েশিয়ায় ৩+১ সাধারণ ক্ষমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে অপারেশন মেগা ৩.০। এর অধীনে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৪ হাজার বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। অভিবাসন বিষয়ক মহাপরিচাক মুস্তাফার আলী বলেছেন, সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে ঘেরাও করে এ অভিযান পরিচালনা করছেন অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা। ২০১৪ থেকে গত ২৮শে আগস্ট পর্যন্ত ৮ লাখেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন এবং তারা হয় বৈধতা পেয়েছেন না হয় নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। মুস্তাফার আলীর ভাষ্যমতে, একটি গ্লোভ কারখানায় কর্মরত  দেড় হাজারের বেশি বিদেশি শ্রমিকের কাগজপত্র যাচাই করে দেখা হয়েছে। অভিযানটি নির্বিঘ্নেই চলছিল, তখন কয়েকজন বিদেশি শ্রমিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
এ সময় অভিবাসন বিভাগের একজন নারী কর্মকর্তা আহত হন। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে নিয়ে হলেও অভিবাসন বিভাগের কর্মীরা দিনরাত আইন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। অভিবাসন বিভাগের প্রধান বলেন- বিদেশি শ্রমিকরা যথাযথ কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি বলে তাদের কাজের অনুমতি বিলম্বিত হচ্ছে। তার ভাষায় ‘যদি চাকরিদাতারা তাদের শ্রমিকদের দ্রুততার সঙ্গে নিতে চান তাহলে তাদের সব ডকুমেন্ট যথাযথভাবে পূরণ করে তা জমা দেয়া হয়েছে এটা তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে’। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা এক রিপোর্টে বলেছে, সেপাংয়ে বান্দার বারু সালাক টিঙ্গি এলাকায় থাকা গ্লোভ কারখানায় অভিযানকালে আহত ওই বাংলাদেশি পালানোর চেষ্টা করছিলেন। অবশ্য তিনি পালাতে পারেননি। পালাতে গিয়ে তিনি পড়ে যান এবং আহত হন। সেখানে একজন অবৈধ নারী শ্রমিককে ধরতে গিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তা নূর এরা এলিনা জাহারুদ্দিন (২৪)। অবশ্য স্থানীয় অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো এই ধরপাকড় বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
হাইকমিশনার যা বললেন- বৈধতার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে মালয়েশিয়াজুড়ে যে পুলিশি অভিযান চলছে তাতে ৫০০ অবৈধ অভিবাসী আটক হয়েছেন মর্মে খবর বেরিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যে বেশ কয়েক জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। কুয়ালালামপুরে অধিকার বিষয়ক সংস্থা নর্থ সাউথ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক আদ্রিয়ান পেরেইরা বলেছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বহু সংখ্যক বাংলাদেশি থাকতে পারেন। গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ায় সাধারণ ক্ষমার  মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশটির পুলিশ অবৈধদের ধরতে ওই অভিযানে নামে। কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে কোনো বাংলাদেশি আটকের তথ্য হাইকমিশন পায়নি। তার দাবি, প্রায় শতাধিক ব্যক্তি আটক হয়েছেন এমন রিপোর্ট তিনিও পেয়েছেন, তবে সেখানে কোন দেশের কতজন রয়েছেন তা আলাদা করে প্রকাশ করা হয়নি। নাগরিকত্ব নিশ্চিতকরণের বিষয়টি খানিকটা জটিল উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন- অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার জন্য সাধারণ ক্ষমার আওতায় দফায় দফায় সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার।
প্রায় আড়াই বছর ধরে চলা ওই সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়েছেন ৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি। তারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন। অনেক বাংলাদেশি বৈধ হয়েছেন। অনেকে দেশে ফিরে গেছেন। সুযোগটি বন্ধ করে দেয়ার পরও বাংলাদেশ সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন- বৈধতার পূর্ব নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর পুলিশি অভিযান চালাবে-এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে যারা আটক হয়েছে তাদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি আছেন কি-না তা জানতে কাল অফিস খোলার পর থেকেই হাইকমিশন যোগাযোগ শুরু করবে বলে জানান তিনি। হাইকমিশনার এ নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হতে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সাক্ষী ভাতা আইনে আছে বাস্তবে নেই

অপরাধ প্রমাণে সাক্ষীই মূল। ফলে কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সাক্ষীরা যাতে আদালতে আসতে পারেন সেজন্য রয়েছে সাক্ষী ভাতাও। কিন্তু এ ভাতা পান পুলিশ সাক্ষী। পান না সাধারণ সাক্ষীরা। বরং পুলিশ সাধারণ সাক্ষীদের কাছ থেকে উল্টো হাতিয়ে নেন খরচের টাকা। অবস্থা এমন যে সাক্ষী হয়েই যেন বড় অপরাধ করেছেন সাধারণ সাক্ষীরা।
আইনজীবীদের মতে, শুধুমাত্র পুলিশের অসদাচরণের কারণে সাক্ষীরা মূল অপরাধীর চেয়েও বড় অপরাধী মনে করে মানসিক সমস্যায় ভুগেন। ফলে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। এতে সৃষ্টি হচ্ছে মামলার জট। উপযুক্ত সাক্ষীর অভাবে অপরাধীরা খালাস যেমন পাচ্ছেন তেমনি নিরপরাধীরাও কষ্ট পাচ্ছেন।
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর আটটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৬ হাজার ৪১৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৪৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলার ১৩টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৫ হাজার ৩৯৩টি মামলা বিচারাধীন আছে। গত জুলাই পর্যন্ত এসব মামলায় ১০ হাজার ৫০৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এ সাক্ষীদের মধ্যে যারা পুলিশে কর্মরত তাদের কেউ কেউ নিজের বিভাগ থেকে যাতায়াত ভাতা পেয়েছেন। তবে সাধারণ সাক্ষীসহ বেশিরভাগই কোনো ধরনের যাতায়াত ভাতা পাননি।
চট্টগ্রাম কোর্ট থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ সাক্ষী থাকলে নিজ বিভাগ থেকে যাতায়াত খরচ দেয়া হয়। তবে অবসরে গেলে নিজ জেলা থেকে আদালতে আসা-যাওয়ার খরচ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে টাকা খরচ করে সাক্ষ্য দিতে আসা অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। যেমনটি সাধারণ সাক্ষীদের ক্ষেত্রেও সে ধরনের কোনো ভাতা দেয়া হয় না।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাক্ষীদের ভাতা দেয়ার জন্য আইন আছে। সাক্ষীর যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক খরচের বিল আদালত থেকে অনুমোদন করে সাক্ষীকে দেয়া সংশ্লিষ্ট মামলার সরকারি কৌঁসুলির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
কিন্তু সাক্ষীরা যাতায়াত খরচ পাওয়া তো দূরের কথা উপযুক্ত সম্মানও পান না। তারা আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসলে আইনজীবী একদিকে যেতে বলে তো, পুলিশ আরেক দিকে যেতে বলে। তার উপর পুলিশ সাক্ষীদের কাছ থেকে উল্টো খরচের টাকা হাতিয়ে নেয়। অবস্থা এমন যে সাক্ষী হয়ে যেন বড় অপরাধ করেছেন তারা।
প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, উপযুক্ত সম্মান দিতে না পারলে মানুষ সাক্ষ্য দিতে আদালতে আসতে চাইবে কেন। আর সাক্ষ্য না দিলে মামলাও নিষ্পত্তি হবে না, মামলার জট সৃষ্টি হবে। এমনকি উপযুক্ত সাক্ষ্যর অভাবে অপরাধীরাও খালাস পাবে। নিরপরাধীরাও কষ্ট পাবে।
তিনি বলেন, এক সময় আদালতে সাক্ষীদের বসার নির্দিষ্ট জায়গা ছিল। সেখানে ক্যান্টিন ছিল, তারা দূর-দূরান্ত থেকে আসার পর বসে বিশ্রাম নিতে পারতেন। প্রত্যেক আদালতে সাক্ষী বসার নির্দিষ্ট বেঞ্চ ছিল। আগের সেই অবস্থা এখন আর নেই।
তিনি জানান, সাক্ষ্য না দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ও ৪৮৫(ক) ধারায় যথাক্রমে অনধিক সাতদিন জেল এবং ২৫০ টাকা জরিমানার বিধান (১৯৭৮ সালে সর্বশেষ সংশোধিত) আছে। এ কারণে আদালত সাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন। আর তাতে লাভ পুলিশের। তবে আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুপস্থিত সাক্ষীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিধানগুলো কার্যকর করার আগে তাদের ন্যায্য যাতায়াত ভাতা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। সাক্ষী ভাতা নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি সাক্ষী হাজিরা কমপক্ষে দ্বিগুণ বাড়বে।
চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী আবু রায়হান বলেন, ফৌজদারি মামলার বিচার নিষ্পত্তি বিলম্বের ক্ষেত্রে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান অন্তরায় হচ্ছে সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে হাজির করতে না পারা। এর ফলে অসংখ্য জঘন্যতম অপরাধের বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। এটাই বাস্তবতা যে সাক্ষীদের নিজ খরচে আদালতে আসতে হয়। সরকারের যা বরাদ্দ আছে তা নানা জটিলতার কারণে সাক্ষীদের হাতে পৌঁছে না।
তিনি বলেন, নিজ খরচে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরে এসে সাক্ষ্য দিতে হয় সাক্ষীদের। গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে শহরে এসে হোটেলে অবস্থান করে নিজ খরচে সাক্ষ্য দেয়া অনেক কষ্টকর ও ব্যয়সাধ্য। ফৌজদারি মামলায় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক সাক্ষী থাকেন। কোনো কোনো মামলায় একবার সাক্ষ্য দেয়ার পর আদালত পুনরায় সাক্ষী তলব করেন। আবার পুলিশ সাক্ষীদের একটা অংশ অবসরজনিত কারণে নিজ জেলায় চলে যান। ফলে দূরের জেলা থেকে কর্মস্থলের জেলায় সাক্ষী দিতে তাদের অনেক টাকার দরকার হয়। এসব কারণে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে অনীহা দেখান।
সূত্র জানায়, ১৮৯৮ সালে প্রণয়ন করা ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ৫৪৪ ধারায় বাদী এবং সাক্ষীদের খরচ দেয়ার কথা উল্লেখ আছে। তবে এই আইনে বলা হয়েছে সরকারের প্রণয়ন করা কোনো বিধি সাপেক্ষে এই খরচ দেয়া যাবে। কিন্তু আইনটি প্রণয়নের একশ’ বছর পরও কোনো বিধি প্রণয়ন করেনি দেশের কোনো সরকার।
তবে ১৯৮২ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ও একই বছরের ৬ই অক্টোবর তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সংস্থাপন বিভাগ দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সাক্ষীদের দৈনিক খাবার বাবদ ২০ টাকা, রাত্রি অবস্থানের জন্য হোটেল খরচ বাবদ ১০ টাকা, ৫ মাইলের মধ্যে আসা-যাওয়ার গাড়ি ভাড়া ৫ টাকা, ১০ মাইলের মধ্যে সাড়ে ৭ টাকা, ২০ মাইলের মধ্যে সাড়ে ১২ টাকা ও ২০ মাইলের অধিকের জন্য ১৫ টাকা গাড়ি ভাড়া বাবদ খরচ দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলো।
গত বছরের মে মাসে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বাজেটে সাক্ষীদের খরচ বরাদ্দ দিতে সরকারের কাছে একটি চিঠিও লিখেছিলেন। কিন্তু সেটা আর আলোর মুখ দেখেনি বলে জানান আইনজীবীরা। এতে মামলাজট পরিস্থিতিরও তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

ইয়ুথ ক্যাম্পেইন ‘প্ল্যান বি’ উদ্বোধন, দেশে ন্যায়বিচার নেই

বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, হয়ে যাওয়া ছাত্র আন্দোলন দেশকে দেখিয়ে দিয়েছে। রাজনীতিবিদদের দেখিয়ে দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে। দেশে ন্যায়বিচার নেই। তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ছাত্ররা ন্যায়বিচার চেয়েছে। তা সারা  দেশে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অডিটরিয়ামে বিকল্প ধারার সহযোগী সংগঠন প্রজন্ম বাংলাদেশের নতুন কর্মসূচি ‘প্ল্যান বি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বয়সের দোহাই দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সমালোচনা করে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বি. চৌধুরী বলেন, কোন বয়সে আমরা মাকে মা ডাকবো? বাবাকে বাবা ডাকবো? মাতৃভূমি দেশকে ভালোবাসবো? এই প্রশ্ন কেন আসবে। কম বয়সী ছাত্ররা কী দেশকে ভালোবাসবে না? ন্যায়বিচার চাইতে পারবে না? তোমরা তোমাদের মতো করে দেশকে ভালোবাস। দেশের আমজনতা পাশে থাকবে। ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতেই।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, আমি বাংলাদেশের কোনো আন্দোলনে অনুপস্থিত ছিলাম না। কিন্তু কিছুদিন আগে আজারবাইজান গিয়েছিলাম। ১২ দিন ছিলাম। এরই মধ্যে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ছাত্ররা চোখ খুলে দিয়েছে। তাহলে তাদেরকে পেটানোর সময় কী চোখ বন্ধ ছিল? তারা তো বলেছিল, আমরা ন্যায়বিচার চাই। শান্তি চাই। নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।
তিনি আরো বলেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র নেতৃত্ব সৃষ্টির পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রজন্ম মানে শুধু বয়স নয়। দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন চিন্তা, দর্শন, দিকদর্শন। কোটা ও নিরাপদ সড়ক নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। সবাই বলেছে চোখ খুলে দিয়েছে। তার মানে কী সবার চোখ বন্ধ ছিল? এখন কী আবার খোলা চোখ বন্ধ হয়ে গেছে। কুষ্টিয়াতে একটি বাস মা-মেয়েকে ধাক্কা দিয়েছে। চালক জানে না কখন থামতে বা চলতে হবে। রাষ্ট্রের অবস্থাও তাই। নতুন প্রজন্ম এদের বিরুদ্ধে।
অনুষ্ঠানে প্রজন্ম বাংলাদেশের অহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি প্ল্যান বি তুলে ধরেন বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী। তিনি মাসব্যাপী ইউথ ক্যাম্পেইন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রার পর এক দলের পর অপর দল ক্ষমতায় এসেছে। জোটের পর ক্ষমতায় এসেছে মহাজোট। এই নিয়ে আমজনতা ৪বার বেল তলায় গেছে। এখন পঞ্চমবারের মতো জনগণকে বেলতলায় নেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ। কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। গণতন্ত্র বনাম উন্নয়ন নামে এক অদ্ভুত বিতর্কে জড়ানো হয়েছে। আমরা দুটোই চাই। ২ দলের হানাহানি ও সে ঝুঁকি থেকে বের হয়ে আমাদের ভারসাম্যের সরকার দরকার। যার একজনের লাগাম অন্যজন টেনে ধরবে।
বিশাল জনগোষ্ঠী এখন রাজনীতিকে পছন্দ করে না। তাদেরকে বুঝাতে হবে। মাঠে নামতে হবে।
অহিংস ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আখ্যা দিয়ে প্ল্যান বি ঘোষণা করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম রক্ত দিতে চায় না। ঘাম ও মেধা দিতে চায়। আগামী ১০, ১১ ও ১২ই সেপ্টেম্বর অহিংস কর্মসূচি শুরু হবে। ২৮শে সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী আফতাব নগরে মাসব্যাপী সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একই ক্যাম্পেইন চলবে। একই সঙ্গে চলবে রক্তদান কর্মসূচি। পর্যায়ক্রমে ঢাকা, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং তিতুমীরসহ বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পেইন নিয়ে যেতে চাই। যাতে সহিংসতার অপবাদ দিতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনে দু’হাত বেঁধে এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।

তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া যাবে না -সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইলেকশন হবে। জনগণ যদি সঙ্গে থাকে তাহলে কেউ ইলেকশন বানচাল করতে পারবে না। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইভিএম নিয়ে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না।
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা   নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আর কোনো আলোচনা হবে না। নতুন রাজনৈতিক জোটকে স্বাগত জানিয়ে সরকার প্রধান বলেছেন, বিকল্প জোট হিসেবে তারা নির্বাচনে আসতে পারে। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সম্প্রতি নেপালে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা আসন্ন নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আদৌ হবে কি না গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের এমন সংশয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, তিনি (কামাল হোসেন) আদৌ নির্বাচন চান কিনা? কামাল হোসেন ও গংয়েরা নির্বাচন চান কিনা?
নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা চাপিয়ে দেয়া যাবে না। কারণ এটা প্র্যাকটিসের ব্যাপার। আমাদের পরীক্ষামূলক দেখতে হবে। তিনি বলেন, ইভিএমে ভোট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই হয়। ইভিএমটা নিয়ে আসার জন্য আমিই কিন্তু সবসময় পক্ষে ছিলাম। এখনও পক্ষে আছি। আমরা চাচ্ছি, কিছু কিছু জায়গায় শুরু হোক, সীমিত আকারে এটা দেখুক। প্রযুক্তির কোনো সিস্টেম লস হয় কি না, সেটা দেখা যাক। সেটা হলে সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা হবে। এমন না যে এটাই শেষ কথা। আমরা সীমিত আকারে শুরু করি প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারচুপি করতে পারবে না বলে বিএনপি ইভিএমে আপত্তি জানাচ্ছে। কারণ তাদের জন্মটাই কারচুপির মাধ্যমে। তারা আবার কারচুপির কথা বলে। ইভিএম হলে সেই কারচুপিটা করতে পারবে না। একের বেশি ভোট দিতে পারবে না, সিল মারতে পারবে না- সেজন্য তারা আপত্তি জানাচ্ছে। এটা স্পষ্ট।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে সুবিধা হলো, যেই মানুষটা যাচ্ছে, একটা টিপ দিয়ে ভোট দিয়ে আসছে এবং সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্টটা পেয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি আমলে ভোট কারচুপির কথাও বলেন শেখ হাসিনা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভোটে যে কারচুপির রাজনীতি, সেটা তো জিয়াউর রহমানই প্রথম এনেছেন এদেশে। কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, সেটাকে বৈধ করতে চেয়েছেন তিনি। আজকে বিএনপি যখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে। তারা তাদের জন্মস্থানটা খোঁজ করুক। কোথায়, কীভাবে হয়েছে দেখুক। তাদের জন্মের সূত্রটা, লগ্নটা মনে করুক। শুভ না অশুভ লগ্ন নিয়ে তারা জন্ম নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোট গঠনের বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ওই জোটকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি জোটের শরিকদের সম্পর্কে সরস মন্তব্য করেন তিনি। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি কি আদৌ নির্বাচন চান?
বাংলাদেশের একটি শ্রেণি তো বসেই থাকে। তারা মনে করে যে কোনো অসাংবিধানিক শক্তি যদি ক্ষমতা দখল করতে পারে তাহলে তারা একটা পতাকা পেতে পারে, তাদের গুরুত্ব বাড়ে। ড. কামাল তো বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি আবার নিজেকে সংবিধান প্রণেতা বলে দাবি করেন। সেই তিনিই আবার সংবিধান মানতে চান না। তারপরও আমরা সাধুবাদ জানাই যে তারা কয়েকজন মিলে একটি জোট গঠন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেতো দুটি পার্টি রয়েছে একটি আওয়ামী লীগ আরেকটি এন্টি আওয়ামী লীগ। তো আওয়ামী বিরোধীদের তো একটি জায়গায় লাগবে যাওয়ার। ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনার পকেটে সব সময় টিটি থাকে। যদি কোনোদিন উনি গরম বক্তব্য দেন যে আজ থেকে সব কাজ বন্ধ। তাহলে ধরে নিই যে উনার প্লেন রেডি। বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাহেব তিনি আমাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বিটিভিতে এক সময় তিনি আপনার ডাক্তার নামে প্রোগ্রাম করতেন। সেটা করে তিনি খুব ভালো জনপ্রিয়তা পান। ৭৫ সালের পর তিনি বিএনপি করতে যান। কিন্তু খালেদা জিয়াও তো তাকে সম্মান দেননি। বঙ্গভবনের অন্দরমহল থেকে তাকে বের করে রেললাইনের উপর দিয়ে তাকে দৌড়িয়েছেন। উনার ভাগ্যে সেটাই জুটলো।
বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকল্পধারা করেছিলেন। কিন্তু এখন সেই বিকল্প স্বকল্প হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আ স ম আবদুর রব সাহেব একসময় ছাত্রলীগ করতেন। তারপর ছাত্রলীগ ছেড়ে চলে গেলেন। আমরা ছাত্ররা বলতাম, দুঃসময়ে নীরব, সুসময়ে সরব, আ স ম আবদুর রব। তিনি সব সময় অসময়ে নীরব আর সুসময়ে সরব। কাদের সিদ্দিকী আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ১৯৯৬ সালের সংসদে কে কি তার মাথায় ঢুকালো আমরা জানি না তিনি রিজাইন দিয়ে স্বতন্ত্র ইলেকশন করে আসলেন। আওয়ামী লীগ এমপিরা তাকে ভোট দেবেন, বিএনপির এমপিরা তাকে ভোট দেবেন। আর তিনি হবেন প্রধানমন্ত্রী। এই মাকাল ফলটা তাকে কে দেখালো আমরা জানি না। সে আশা নিয়ে তিনি পদত্যাগ করে ইলেকশন করতে গিয়ে নৌকা মার্কা ছাড়া জিতে আসতে পারলেন না। এ সময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কেও সরস মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সম্পর্কে তিনি বলেন, মান্না এক সময় আমাদের দলে (আওয়ামী লীগ) ছিলেন। তিনি বেশ ভালো লেখেন। যখন আওয়ামী লীগে এলেন, আমি বললাম, যখন অন্য দল করতেন তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশি বেশি লিখতেন। তো এখন আমাদের পক্ষেও কিছু লেখেন। উনি পক্ষেই লিখতে পারেন না। পক্ষে লিখতে বললেই মান্না জুড়ে দেয় কান্না।
তিনি বলেন, আদৌ নির্বাচন হবে কিনা যারা বলেন তারা কোনো কিছু হলে উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। এটাই তো বাস্তবতা। যেমন আমার বাবাকে হত্যা করেছে। যিনি এই দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেলেন তাকে যারা খুন করতে পারে তো সেদেশে কিনা হতে পারে! আমি তো মৃত্যু মুখে আছি সব সময়। তাদের একমাত্র টার্গেট তো আমি। আমার কোনো আকাক্সক্ষা নেই। আমি যে দেশের উন্নতিটা করতে পারি, তার জন্য আমরা টানা দু’বার ক্ষমতায়। আজকের উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান। মানুষ তার সুফল ভোগ করছে। মানুষ যদি এই সুফলটা অব্যাহত থাকুক চায়, একটা শান্তিপূর্ণ পরিবশে যদি চায়, আর উন্নতি যদি চায়... আমার মানুষের ওপর এতটুকু বিশ্বাস আছে, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়ী করবে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য সরকারের কিছুই করার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটির নির্বাচনে আসা না আসা তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। একটা সরকার থেকে আরেকটা সরকারের যে ট্রানজিট পিরিয়ড সেসময় যাতে কোনো ফাঁক না থাকে সেজন্যই নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর খালেদা জিয়াকে তো আমি গ্রেপ্তার করিনি। তাদের নেত্রী বন্দি হয়ে আছে তাহলে তারা আন্দোলন করুক। তারা আন্দোলনের ডাক দিচ্ছে, হুঙ্কার দিচ্ছে খুব ভালো কথা। এখন বলছে নির্বাচন করবে না। তারা কী করবে না করবে এটা তাদের সিদ্ধান্ত। কে নির্বাচন করবে কে করবে না এখানে বাধা দেয়ার কিছু নেই বা দাওয়াত দেয়ারও কিছু নেই। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাওয়ার পর আমি গেলাম, আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঢুকতে দিল না। আমি সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওদের সঙ্গে আর আলোচনা নয়। আমি অন্তত ওদের সঙ্গে বসবো না। আর কোনো আলোচনা হবে না। প্রশ্নই ওঠে না। আপনারা যে যাই বলেনÑ ক্ষমতায় থাকি বা না থাকি। আমার কিছুই আসে যায় না।
তিনি (খালেদা জিয়া) যদি মুক্তি চান, কোর্টের মাধ্যমে আসতে হবে। দ্রুত চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। মামলা আমাদের সরকারের দেয়া নয়। ওনারই পছন্দের ইয়াজউদ্দিন, ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সাহেবের আমলে দেয়া। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপির তো অনেক হোমরা-চোমরা আইনজীবী আছেন। তবু তাদের নেত্রী বন্দি হয়ে আছেন। তারা আন্দোলন করুক। বিএনপি যদি নির্বাচন না করে, করবে না। নির্বাচন হবে, নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই। বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশে সব রকমের সরকার ব্যবস্থার অনুশীলন দেখেছি। কোনোটিই কাজে লাগে না। আর একবার কেউ ক্ষমতায় বসলে ক্ষমতা কেউ ছাড়তে চায় না। কেয়ারটেকার, মার্শাল ল’ সবই তো দেখা হয়েছে। কোনোটিই কাজ করে না। খালেদা জিয়ার আমলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা স্মরণ করে  শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ই ফেব্রুয়ারির ভোটের কথা যদি কারও মনে থাকে, তারা কী করেছিল। ঘোষণা দিয়েছিল দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী। ১৫ দিনও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। জনগণ চাইলে তো থাকতে পারত। বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। ভারতে নির্বাচনের সময় পার্লামেন্ট বহাল থাকে। আগামী মে মাসে ভারতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার দুই মাস আগে তাদের নির্বাচন করতে হবে। সেখানে তো পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হয় না।
গণমাধ্যমে বিএনপিকে প্রাধান্য দেয়া হয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে দুর্নীতি, ঘুষ নেয়ার অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির সৌভাগ্য, মিডিয়া তাদের সাহায্য করে। আমি তো তিন-চার নম্বরে। মিডিয়ায় তারা প্রাধান্য পায়। আজও দেখলাম আমি তিন-চার সিরিয়ালে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যদি এ দেশের উন্নয়ন চায় তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। যদি আবার আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে এ দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখবো এবং ২০২১ সালে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। আর আমরা যদি ক্ষমতায় না আসতে পারি তাহলে যারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন তারা আবার ক্ষমতায় আসবে। তারা আবার দেশের সম্পদ লুটপাট করবে এটাই বোধ হয় ভালো।
মিথ্যা ছবি দিয়ে মিয়ানমারের বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তারা ছবিটা নিয়ে যেটা করল, এটা আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, আমাদের এখানেও কিন্তু এ রকম হয়েছে। প্রশ্নটা হলো এরা শিখল কার কাছ থেকে? স্মরণ করাতে চাই, জামায়াত-বিএনপি মিলে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল। রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার যা করেছে, তা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। নিজেরাই নিজেদের সম্মানটা নষ্ট করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে নিজেরাই নিজেদের অবস্থান খারাপ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কখনো চায়নি প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো সংঘাতপূর্ণ অবস্থা তৈরি হোক।
রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে আমরা সব সময় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। মিয়ানমার কখনো আপত্তি করে না। বলে নিয়ে যাবে। এটা ঠিক, বাস্তবতা হলো তারা বলে, কিন্তু করে না। বিমসটেক সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনাÑ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সম্মেলনে সাধারণত দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো আনা হয় না। তবে রিট্রিট সেশনে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে আমাদের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। তারা বলেছেন, তারা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। এটুকু বিষয়ে তার সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। সংবাদ সম্মেলনে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ১০০ বছরে কোন পর্যায়ে যাবে সেই পরিকল্পনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল থেকে কী করবো, তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি।

সৌর বিদ্যুতে আলোকিত মনপুরা by নুরে আলম জিকু

মনপুরা। দ্বীপ জেলা ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন উপজেলা। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে মেঘনা নদীর মোহনায় ১৪৪ বর্গ মাইল এলাকায় নিয়ে এই দ্বীপের অবস্থান। এর চারপাশে ছোট বড় প্রায় ১০টি চরে লক্ষাধিক মানুষের বাস। এসব চরের টিনের চালা ও কুঁড়েঘর এখানকার মানুষের একমাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন। একটা সময় রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এই উপজেলার মানুষ ছিল অন্ধকারে। সূর্যের আলো নেভার সঙ্গে সঙ্গে এই দ্বীপটি ঢেকে যেত অন্ধকারে। বিগত ৫ বছর আগেও আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে ছিল এই অঞ্চলের মানুষ। এইসব চরাঞ্চলে এখন আলোকিত হয়ে উঠেছে সৌর বিদ্যুতের আলোয়। এর ফলে চর কলাতলী, চর জহিরউদ্দিন (মাঝের চর), চর তাজাম্মুল, চরজামশেদ, চরপাতিলা, চর পিয়াল, চরনিজাম, লালচর, বালুয়ারচর, চর গোয়ালিয়া, সাকুচিয়া দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়েছে। এখানে সম্প্রতি সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, দোকানপাট ও বাসগৃহে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার রয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাসা বাড়ির ছাদে দেখা মিলে ছোট বড় নানান ধরনের সোলার প্যানেল জেলেদের নৌকাতেও সৌর বিদ্যুতের আলো দেখা মিলে। শুধুমাত্র কুপি ও হারিকেনের আলোতে যেখানে একসময় অন্ধকার দূর হতো, এখন সেখানে চলে কম্পিউটার ও টেলিভিশন। সূর্যের আলো নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোকিত হচ্ছে চর কলাতলী, চর জহিরউদ্দিন, চর গোয়ালিয়া, সাকুচিয়াসহ দুর্গম চরাঞ্চলের গ্রামের ঘরবাড়ি গুলো। প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও বিদ্যুতের আলো না পৌঁছালেও এখন রাতের বেলা বিদ্যুতের আলো জ্বলে। এ আলোয় এখন নতুন দিগন্তের সূচনা। পাল্টে যাচ্ছে মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের জীবনযাত্রা। বাড়ছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা। উপজেলায় প্রায় ৭০% পরিবার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সোলার স্থাপন করা হয়েছে। এসব সোলারের আলো স্বয়ংক্রিয় ভাবে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে এবং সূর্যোদয়ের সময় লাইটের আলো বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বাজারে চুরি ডাকাতি ও অনেক কমে গেছে।
জানা যায়, মনপুরা উপজেলায় পিডিবির একটি পাওয়ার প্লান্ট থাকলেও তার ব্যবহার শহরকেন্দ্রিক খুবই সীমিত সময়ের জন্য। প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ২টার মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এরপর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। নেমে আসে অন্ধকার। এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে সৌর বিদ্যুতের কদর বেড়েছে। এ ছাড়া সাকুচিয়ার বাণিজ্যিকভাবে সৌর বিদ্যুৎ ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট সম্পন্ন সোলার মিনি গ্রিড থেকে ২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এবং আরেকটি ৫ মেগাওয়াট সম্পন্ন সৌর প্লান্টের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভূঁইয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা হারুন মোল্লা জানান, গত ৫ বছর ধরে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তার কোনো জ্বালানি কিনতে হয় না। রাতে আলোর ব্যাপারে পরিবারের কোনো চিন্তা করতে হয় না। ছেলে মেয়েরা সোলারের আলোতে রাতে পড়াশোনা করে আসছেন। ঘরে সোলার থাকায় ইচ্ছেমতো লাইট, ফ্যান, টেলিভিশন ও মোবাইল চার্জ দিতে পারছেন। মাসিক বিদ্যুৎ বিলের কোনে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না। দিনের আলো নিভে গেলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সোলারের আলোয় আলোকিত হচ্ছে ঘর-বাড়ি। ছেলে মেয়েরা পড়ার টেবিলে বসছে। পিছিয়ে পড়া এসব গ্রাম বিভিন্ন ধরনের বিপদ-আপদ থেকেও এখন অনেকটা মুক্ত। চরফয়েজউদ্দিন ফকিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিরিনা আক্তার জানান, এলাকায় বাজারে বিদ্যুৎ থাকলেও এখানকার বাসা বাড়িতে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ নেই। আলোর জন্য এক মাত্র সৌর বিদ্যুতের এই এলাকার একমাত্র ভরসা। আমার রাতে সৌর বিদ্যুতের আলোয় পড়াশোনা করছি। যখন তখন বিদ্যুৎ যাওয়ার ভয় নেই। নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করা যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, আগে বাজারে জেনারেটরের আলোতে দোকান চালাতাম। রাত ১০টার পরে জেনারেটর বন্ধ হয়ে যেত। এতে বেশি সময় দোকান খোলা রাখতে পারতাম না। এখন দোকানে কারেন্ট ও সোলার দুটোই আছে। ইচ্ছে মতো যখন যেটা লাগে সেটাই ব্যবহার করছি। সৌলার ব্যবহারের ফলে সরকারি বিদ্যুৎ তেমন ব্যবহার করা হয় না। এতে মাসিক বিদ্যুৎ বিল অনেক কম আসে। দোকানের পাশাপাশি বাড়িতেও ৭ বাতি জ্বালানোর মতো সোলার আছে। জাকিরের মতো উপজেলার সর্বত্র অলিগলির ছোটখাটো দোকানপাটেও সোলারের কদর রয়েছে। সূর্যের আলো থেকে সোলার প্যানেল ব্যাটারি চার্জে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। বাড়ির যেকোনো খোলা জায়গা বা উঁচু স্থানে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়। বিশেষ প্রক্রিয়ায় সূর্যের আলো বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়ে ব্যাটারিতে সঞ্চয় হতে থাকে এবং চার্জ নিয়ন্ত্রণ দ্বারা ব্যাটারির মধ্যে বিদ্যুতের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রতিটি সৌর বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন করতে ৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। রহিমা আফরোজ, গ্রামীণ শক্তি, শ্রীজনী বাংলাদেশ ও হিলফুল ফুজলসহ বিভিন্ন কোম্পানি এসব সোলার এককালীন কিছু টাকা ও পরে মাসিক কিস্তিতে বিক্রি করে থাকেন।

ভাসমান সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

চারদিকে থৈ থৈ পানি। বর্ষা মৌসুমে এখানকার নিচু এলাকা প্রতি বছরই প্লাবিত হয়। বাড়ির আশেপাশে সবখানেই পানি জমে আছে কিন্তু এতেই হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই চাষিরা। অনাবাদি জমিতে আগাছা ও কচুরিপনার স্তূপ সাজিয়ে তার ওপর ভাসমান সবজি চাষ করছেন তারা। এ পদ্ধতিতে চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন অনেকে। সার-কীটনাশক ছাড়া চাষ করা এ ধরনের সবজির চাহিদাও রয়েছে বাজারে প্রচুর।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে কচুরি ও আগাছার ধাপ টেনে এই ভাসমান সবজির চাষ করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে এ ধরনের পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা হলেও তেমন গুরুত্ব পাইনি কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় কৃষি অফিস এ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করছে। ফলে চাষিরা উৎসাহী হয়ে বাণিজ্যিকভাবে এটি চাষের প্রতি জোর দিয়েছেন। এতে কৃষি কাজে এক নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। চিতলমারীর রুইয়েরকূল, বেন্নাবাড়ি, কোদালিয়া বিলে ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বন্যাবাড়ি, মিত্রডাঙ্গা, জোয়ারিয়া, পাথরঘাটা, চাপরাইল, রুপাহাটের বিভিন্ন বিলসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা এখন ভাসমান বেডে সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। রাত-দিন ক্ষেতের পরিচর্যায় সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় কৃষি অফিসের সূত্রে জানা গেছে, এখানকার প্রায় ৮০ হেক্টর অনাবাদি জমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে ঢেঁড়স, পুঁইশাক, লালশাক, বরবটি, শসা, করলা, লাউ, কুমড়া, কচু ও হলুদসহ বিভিন্ন রকমের শাক সবজি ও মসলার চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে পানির ওপর ভাসমান ক্ষেত তৈরি ও চাষাবাদ করার জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, নেটসহ প্রয়োজনীয় কাজে শ্রমিকের মূল্যসহ সার্বিক ভাবে পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে স্থানীয় কৃষি অফিস। এতে এ সকল চাষিরা উদ্বুদ্ধ হয়ে আগ্রহের সঙ্গে ভাসমান সবজি চাষে বেশির ভাগ সময় পার করছেন। ভাসমান সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষক বরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, রবিন দাস, হরেন্দ্রনাথ বসু, জোয়ারিয়া গ্রামের নরোত্তম বালা, অনিমেষ চন্দ্র সরকারসহ অনেকে জানান, এটি একটি বিল এলাকা। এখানকার অধিকাংশ জমি বর্ষা মৌসুমে পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে চাষাবাদের তেমন কোনো জমি নেই। এ সময়টায় চাষিদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। উপজেলার বেশিরভাগ নিচু জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এখন অনেকেই ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। সার-কীটনাশক ছাড়াই এটি চাষ করা হয়। সবজির স্বাদ ও গুণগতমান বজায় থাকে। ফলে বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আগামীতে আরো নানা ধরনের পরিকল্পনার কথা জানালেন এসব চাষিরা। উপজেলা কৃষি অফিসার জামাল উদ্দিন জানান, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষের উপর নানা ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এখানকার চাষিদের সবজি চাষে বেশ সাড়া মিলেছে। আগামীতে এ পদ্ধতি আরো ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে চাষিদের মাঝে। এর জন্য সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা পাবে কৃষি অফিস থেকে।

শেষকৃত্যের মঞ্চে যাজকের যৌন নিপীড়নের শিকার গ্রান্ডে

বিশ্বখ্যাত গায়িকা আরিয়ানা গ্রান্ডে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। মার্কিন প্রখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ গায়িকা ও গীতিকার অ্যারেথা ফ্রাঙ্কলিনের শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন তিনি। তখনই শোকসভা পরিচালনাকারী ধর্মযাজক চার্লস এইচ এলিস প্রকাশ্যে মঞ্চেই গ্রান্ডের বুকে হাত দেন। তখন ওই অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল টিভিতে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ওই ধর্মযাজক ক্ষমা চেয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, অনুষ্ঠানের ছবিতে দেখা যায় গ্রান্ডের পাশে দাঁড়িয়ে তার কোমরের ওপরে হাত রাখেন চার্লস এলিস। এ সময় তার আঙ্গুল ছিল গ্রান্ডের বুকের একপাশে। তবে এপিকে তিনি বলেন, ‘কোনো নারীর বুক স্পর্শ করাটা কখনই আমার উদ্দেশ্য ছিল না। হয়তো আমি সীমা লঙ্ঘন করেছি। আমি হয়তো একটু বেশিই বন্ধুভাবাপন্ন ছিলাম। কিন্তু ফের বলছি, আমি ক্ষমা চাই।’ তিনি আরও বলেন, তিনি অ্যারেথা ফ্রাঙ্কলিনের শোকসভায় উপস্থিত সকল পুরুষ ও নারী শিল্পীকে আলিঙ্গন করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব ছবি পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, গ্রান্ডের শরীরে যেভাবে স্পর্শ করছিলেন ওই যাজক তা স্পষ্টতই যথাযথ ছিল না। অনেকেই মনে করেন, গ্রান্ডে তখন ভীষণ অস্বস্তি বোধ করছিলেন। এই ঘটনা এমন সময় ঘটলো যখন অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গ্রান্ডের সমালোচনা করে বলছিলেন, তার পোশাক ওই শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্য যথাযথ ছিল না। একটু ছোটই ছিল। এই বিষয়টি তুলে ধরে অনেকে বলেন, যিনি নির্যাতনের শিকার হলেন তাকেই সমালোচনা করা হচ্ছে। তার পোশাককে সমালোচনা করা হচ্ছে। অথচ সরাসরি টিভিতে যেই লোকটি এ ধরনের কাজ করলো তাকে নিয়ে তেমন কিছু বলা হচ্ছে না। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, যেই লোক সরাসরি সম্প্রচারকৃত টিভি অনুষ্ঠানে এ ধরনের কাজ করতে পারেন, তিনি দরজার ভেতর কী করতে পারেন ভেবে গা-শিউরে উঠছে। তবে ঘটনার ফুটেজ যতই ছড়িয়েছে, ততই ‘রেসপেক্ট অ্যারিয়ানা’ নামে হ্যাশট্যাগ টুইটারে ট্রেন্ডিং হয়েছে। ভাইরাল হয়েছে নারীর স্বাধীনতা নিয়ে এই ২৫ বছর বয়সী গায়িকার পুরনো একটি টুইটও।

কাতারকে দ্বীপে পরিণত করার পরিকল্পনা সৌদি আরবের

প্রতিবেশী কাতারকে দ্বীপে পরিণত করতে চায় সৌদি আরব। দেশটির এক কর্মকর্তা শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, খাল খননের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায় সৌদি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সৌদ আল-কাহতানি টুইটারে লিখেছেন, ‘সালওয়া আইল্যান্ড প্রকল্প বাস্তবায়নের বিস্তারিত জানতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এই ঐতিহাসিক প্রকল্প এই অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠনই পালটে দেবে।’
খবরে বলা হয়, এই প্রকল্পের ফলে কাতার উপত্যকা সৌদি মূল ভূখ- থেকে পৃথক হয়ে যাবে।
সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন, মিশর প্রায় ১৪ মাস আগে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। তখন থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। কাতারকে দ্বীপে রূপান্তর করার পরিকল্পনা তারই সর্বশেষ নিদর্শন।
এপ্রিলে সর্বপ্রথম সৌদি আরবের সরকারপন্থী সাবক ওয়েবসাইটে খবর প্রকাশিত হয় যে, সৌদি সরকার কাতার-সীমান্তজুড়ে ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২০০ মিটার প্রস্থের একটি খাল খনন করতে চায়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। খালের অংশবিশেষ ব্যবহৃত হবে পারমাণবিক বৈর্জ্য নিষ্কাশন কেন্দ্র হিসেবে। ৫টি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প বাস্তবায়নের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষিত হবে।

ক্রমশ ডুবে যাচ্ছে ব্যাংকক

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু শহরটি নিজেই রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিতে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রায় এক কোটি মানুষের এ শহরটির একটি বৃহৎ অংশ আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই পানির নিচে ডুবে যাবে।
এ বছরের শেষে পোল্যান্ডে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তার পূর্বে মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে একটি প্রস্তুতিমূলক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে নানা পরিবেশগত বিপর্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছে পৃথিবী। সামপ্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে ঝড়, বন্যা, ভারি বর্ষণ, খরা ও জলোচ্ছ্বাস। এছাড়াও অনেক শহর ও জনপদ আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝুঁকিতে রয়েছে ব্যাংককও। শহরটি প্রত্যেক বছরই এক থেকে দুই সেন্টিমিটার করে পানির নিচে ডুবে যাচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে সেখানে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। থাইল্যান্ডের নিকটবর্তী সাগরের পানি প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তলিয়ে যাচ্ছে দেশটির উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলো। ইতিমধ্যে ব্যাংককের একটা বিশাল অংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। ২০১১ সালের বন্যায় শহরটির এক পঞ্চমাংশ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। সেসময় দেশটিতে প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এভাবেই বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে ব্যাংকক ও এর বাসিন্দাদের জন্য এক ভয়াবহ সংকট অপেক্ষা করছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমান এখন ইউক্রেনে। ৬ ইঞ্জিনবিশিষ্ট ওই বিমানের নাম এএন-২২৫ মৃয়া। এর মালিক আন্তোনোভ এয়ারলাইন্স। এই বিমান বহন করতে পারে যুদ্ধে ব্যবহারের ১০টি ট্যাঙ্ক। এর যে পাখা তা দুটি ফুটবল মাঠের সমান। বিমানটি গ্রিস যাওয়ার পথে বৃটেনের রয়েল এয়ারফোর্সের একটি ঘাঁটিতে অবতরণ করে। শুভেচ্ছা হিসেবে তা সেখানে অবতরণ করে। এরপর উড়ে যায় গ্রিসে। এর মালিক সংস্থা এখন এটিকে কার্গো হিসেবে ব্যবহার করছে। বলা হচ্ছে, এতে ২৫০ টন পর্যন্ত পণ্য বহন করা হবে। বিমানটি বৃটেনে অবতরণ করার মতো রানওয়ে নেই। তাই তা যাতে যাওয়ার পথে বৃটেনে শুভেচ্ছা সফরে অবতরণ করতে পারে সে জন্য আন্তোনোভ এয়ারলাইন্স সম্প্রতি বৃটেনের স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে একটি নতুন ঘাঁটি নির্মাণ করে। ইউক্রেনে নির্মিত আকাশের এই দানবের দৈর্ঘ্য ২৭৫ ফুট বা ৮৪ মিটার। পাখার বিস্তার ২৮৮ ফুট বা ৮৮ মিটার, যা একটি ফুটবল মাঠের দ্বিগুন। অক্সফোর্ডশায়ারের রয়েল এয়ার ফোর্স ঘাঁটি থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ভারি ও বড় এই বিমানটি এ সপ্তাহে আরএএফ ব্রিজ নর্টনে অবতরণ করেছিল। এতে আছে ৩২টি চাকা। প্রকৃতপক্ষে এটি সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির জন্য সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। একবারে এটি যুদ্ধে ব্যবহৃত ১০টি ট্যাংক বা দুই লাখ ৫০ হাজার কিলোগ্রাম ওজনের পণ্য বহন করতে পারে।