Thursday, October 17, 2024

লেবাননের যোদ্ধাদের ‘বিপজ্জনক’ নৌশক্তিতে আতঙ্কিত ইসরায়েল

লেবাননে স্থল অভিযানের পর থেকে ব্যাপক হোচটের মুখোমুখি পড়েঠে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে তারা নিজেদের সৈন্যও হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর নৌশক্তি নিয়ে নতুন আশঙ্কার খবর দিয়েছেন ইসরায়েলের নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর নৌশক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। তাদের হাতে ইসরায়েলে হামলা চালানো সম্ভব নেভাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশক ধরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হিজবুল্লাহর নৌ সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করছে। সেখানে দেখা গেছে, হিজবুল্লাহর নৌ সেনাদের কাছে রাশিয়ার তৈরি পারসনিক ইয়াখন্ট ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

রাশিয়ার তৈরি এ ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘পশ্চিমি নৌবহরের দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইসরায়েলের দাবি, সিরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছিল। পরে তা হিজবুল্লাহর হাতে গিয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ একটি গেপান নৌ ইউনিট তৈরি করেছে। তবে আইডিএফ তাদের সক্ষমতার কিছু অংশ ধ্বংস করেছে। এরপরও তাদের অত্যাধুনিক সক্ষমতা রয়ে গেছে। তাদের কাছে উপকূলে অভিযান ও জাহাজে হামলা চালানোর মতো অস্ত্র রয়েছে। এছাড়া হিজবুল্লাহর উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার রয়েছে।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, আইডিএফ লেবাননের জনসীমার কাছে সতর্ক রয়েছে। ফলে সেখানে তাদের চমকে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

এর আগে ২০০৬ সালে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় তারা নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস হানিতে সি-৮০২ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকে তারা নৌশক্তির আধুনিকায়ন করেছে।

আইডিএফের ধারণা, ইরান এ যুদ্ধের আগে পরে হিজবুল্লাহকে বিভিন্ন প্রকারের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, হুতিদের ব্যবহৃত নৌ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখে পশ্চিমা অনেক গোয়েন্দা সংস্থা অবাক হয়েছে। এটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ক্ষমতা রয়েছে। যা ব্যাপক উচ্চতা থেকে তীক্ষ্ণ কোনে জাহাজের ওপর নেমে আসে। ফলে নেভায় আয়রন ডোম দিয়ে এর মোকাবিলা করা নতুন চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, আমরা জানতাম চীনের কাছে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে ইরানিরাও তাদের ক্ষেপণাস্ত্রকে উন্নত করেছে। পরে তা হুতিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এক বছর আগে বেশ কয়েকটি জহাজে এ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট্র হয়েছিল। পরে তা উন্নত করা হয়েছে। এটি যত তীক্ষ্ণ কোনে নেমে আসে তত আটকানো কঠিন হয়ে যায়। 

ইসরায়েলি নৌবাহিনীর মহড়া। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি নৌবাহিনীর মহড়া। ছবি : সংগৃহীত

‘মেগা বাঁধ’ ঘিরে চীন-দিল্লি উত্তেজনা by রিতু শর্মা

ইয়ারলুং সাংপো নদীতে ৬০ হাজার মেগাওয়াটের বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘মটুও মেগা-ড্যাম’ নির্মাণ করে চীন ভারতের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। এই ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে ব্রহ্মপুত্র নদী নামে পরিচিত। গালওয়ান সংঘর্ষের পরবর্তী সময়ে নয়াদিল্লি উদ্বিগ্ন যে বাঁধটি বেইজিংকে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে। এটি চীন, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশগুলোর আনুমানিক ১.৮ বিলিয়ন মানুষকে পানি সরবরাহ করে।

মেগা ড্যামটি সাংপোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চীন যে সিরিজ বাঁধ তৈরি করেছে এটি তার সম্প্রসারিত অংশ। চীনের ‘মাদার অব অল ড্যামস’-এর কারণে   নদী প্রবাহ বাধা পেতে পারে এবং বর্ষাকালে কৃত্রিম বন্যা দেখা দিতে পারে। গোটা পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন ভারত, এজন্য অরুণাচলের সিয়াং জেলার সিয়াং নদীতে ১১ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে। বাঁধের নকশায় বর্ষাকালে ৯ বিলিয়ন কিউবিক মিটারের বেশি পানির একটি ‘বাফার স্টোরেজ’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি একটি রিজার্ভ হিসেবে কাজ করবে, যখন পানির প্রবাহ হ্রাস পাবে বা চীন হঠাৎ পানি ছেড়ে দিলে অরুণাচল ও আসামের নিম্নধারার অঞ্চলগুলোর জন্য বাফার হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তাবিত বাঁধের লক্ষ্য হলো একটি নদী প্রধান রাজ্য হিসাবে ভারতের পানিবন্টন অধিকারকে শক্তিশালী করা।

ভারতের আশঙ্কা অমূলক নয়। ২০২১ সালে চীন পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই তিন সপ্তাহের জন্য মেকং নদীর পানি প্রবাহ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। বিদ্যুৎ লাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নদী প্রবাহকে দৃশ্যতভাবে হ্রাস করা হয়েছিল। এটি কম্বোডিয়া, লাওস, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নদীর পাশে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করেছিল। ২০১৯ সালে মেকং নদীর উপরিভাগে অবস্থিত চীনের বাঁধগুলো রেকর্ড পরিমাণ পানি ধরে রেখেছে, এমনকি আর্দ্র মৌসুমে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হলেও এই বাঁধ পানি ধরে রেখে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। ফলস্বরূপ, নিম্নধারার দেশগুলো আর্দ্র মৌসুমে খরার সম্মুখীন হয়েছে।

২০১৯ সাল থেকে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম সবচেয়ে গুরুতর এবং দীর্ঘায়িত খরার সম্মুখীন হয়েছে। এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা ফসল হারিয়েছে, মাছের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এবং জলাশয়ের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এখন ইয়ারলুং সাংপো বিশ্বের বৃহত্তম ট্রান্সন্যাশনাল নদী ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে একটি। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কিংহাই-তিব্বত মালভূমিতে এর উৎস। হিমালয় হয়ে দক্ষিণ তিব্বতজুড়ে ২৯০০ কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে এই নদী প্রবাহিত হয়। এটি আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের (যা চীন দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে) মধ্য দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে, সেখানে এটি ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।

সিয়াং ব্রহ্মপুত্রের একটি উপনদী। ২০১৭ সালে সিয়াং-এর পানি কালো হয়ে গিয়েছিল এবং পানীয়ের অনুপযোগী হয়ে উঠেছিল। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে মানুষের জীবন-জীবিকার ক্ষতি করেছিল। এর জন্য ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে চীনকে দায়ী করেছেন। তা সত্ত্বেও চীন এই অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে চীন নিচের দিকে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। রিপাবলিক অব কোরিয়ার দক্ষিণ পার্লি পলিসি ইনিশিয়েটিভের উপদেষ্টা নীরজ সিং মানহাস ইউরো এশিয়ান টাইমসকে বলেছেন, চীন ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে পানিকে ব্যবহার করতে পারে। সম্ভাব্যভাবে সেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বা বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পানির স্তরকে হেরফের করে ভারত ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে চীন।

নীরজ সিং মানহাসের মতে, প্রধান নদীগুলোর পানি নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে নিম্নধারার দেশগুলোর সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে চীন নিজের ভূমিকা খাটাতে পারে। ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান মোতাবেক এর বেশিরভাগ পানি চীন থেকে প্রবাহিত নদী থেকে উদ্ভূত, যার জেরে ভারত অসুবিধার সম্মুখীন। ভারত তার কৃষি ও পানি সুরক্ষার জন্য উজানের প্রবাহের উপর নির্ভরশীল, আর তাই চীনের কাছ থেকে হুমকির সম্মুখীন হতে পারে ভারত। মানহাস সিয়াং-এ বাঁধ নির্মাণের জন্য ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে কৌশল হিসেবে দেখেন মানহাস। তিনি মনে করেন, পানির অধিকার নিশ্চিত করতে এবং চীনের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন আপার সিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করবে ভারত।

কেন্দ্রীয় সরকারের থিঙ্ক ট্যাংক নীতি আয়োগ দ্বারা ২০১৭ সালে বাঁধ নির্মাণের প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিলো-এটি ১০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসহ দেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে। এনএইচপিসি সিয়াং নদীর তীরে তিনটি স্থান নির্বাচন করেছে। উগেং, ডিত্তে ডিমে ও পারং-এই এলাকায় বাঁধটি সম্ভব কিনা তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বাঁধের সম্ভাব্য ব্যয় এবং এই এলাকায় এটি নির্মাণ করা যাবে কিনা তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। সমীক্ষার সময় শিলা পৃষ্ঠের শক্তি পরীক্ষা করার জন্য ২০০ মিটার গভীর গর্ত খনন করা হয়েছে। তবে বাঁধটি স্থানীয় জনগণের যথেষ্ট বিরোধিতার সম্মুখীন হচ্ছে।

হিমালয়ে পানি যুদ্ধ

ইয়ারলুং সাংপো তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ এবং আসামে প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার অঞ্চলজুড়ে প্রবাহিত এবং তারপর বাংলাদেশের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে মেশে। এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ নদী, যা গড়ে ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় বয়ে চলেছে। গত কয়েক বছর ধরে চীন জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদীটিকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে গ্রেট বেন্ড নামে পরিচিত নদীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রস্তাবিত মেগা বাঁধটি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বাঁধের স্থানটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যের বিতর্কিত সীমান্তের কাছে হিমালয়ের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে নদীটি ইউটার্ন নেয়। এখানে ভারতের দিকে গতিপথ পরিবর্তন করার আগে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে নদীর উচ্চতা ২৭০০মিটার নেমে গেছে। চীন দাবি করছে, ২০৩০ সালের আগে কার্বন নিঃসরণ সর্বোচ্চ এবং ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্য করার লক্ষ্য নিয়ে তিব্বতের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি ও পানির ঘাটতি পরিচালনা করার জন্য এই প্রকল্পটি তৈরি করা হচ্ছে।

কিন্তু বাঁধ নির্মাণও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। ২০১৬ সালে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে তিব্বতে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র উপনদী জিয়াবুকু নদীর প্রবাহে বাধা দেয় চীন। লালহো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নদীর গতিপথ বাধা পায়। এটি এমন এক সময়ে ঘটেছিলো, যখন ভারত উরি হামলার পর পাকিস্তানের সাথে সিন্ধু পানিবন্টন চুক্তির পর্যালোচনার কথা ভাবছিল।

একটি গবেষণাপত্রে মানহাস ও ড. রাহুল এম. লাড দাবি করেছেন, এই প্রবণতাটি আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদের সম্ভাব্য ‘অস্ত্রীকরণ’কে নির্দেশ করে, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় যেখানে বাংলাদেশের লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে, সেখানেও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

ভারতের সঙ্গে ডোকলাম অচলাবস্থার পর পূর্বের চুক্তি সত্ত্বেও চীন হঠাৎ ব্রহ্মপুত্র নদের জন্য জলবিদ্যুৎ সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করে দিয়েছে। বিপরীতে চীনের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন তথ্য পাচ্ছে বাংলাদেশ। চীনের এই আচরণ দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে ভারতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে পানি সম্পদকে ব্যবহারের অভিপ্রায়কে প্রতিফলিত করে।

লেখক: রিতু শর্মা। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ে লিখেছেন। তিনি জার্মানির এরফুর্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কনফ্লিক্ট স্টাডিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অব পিস-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সূত্র: ইউরেশিয়ান টাইমস

mzamin

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি: নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত অমিত শাহ

কানাডার মাটিতে খলিস্তানপন্থী হরদীপ সিং নিজ্জারের মৃত্যু নিয়ে বিতর্কের পারদ ক্রমেই বাড়ছে। প্রভাব পড়েছে ভারত-কানাডা দুই দেশেরই কূটনীতিতেও। কানাডা পুলিশ সোমবার দাবি করেছিল, ভারতের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা কানাডায় খলিস্তানপন্থীদের দমনে অপরাধীদের সাহায্য নিচ্ছে। নাম না নিয়ে বিষ্ণোই গোষ্ঠীর কথা বোঝাতে চায় তারা।

জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার কমিউনিটিকে বিশেষ করে খলিস্তানপন্থী কার্যকলাপকে টার্গেট করার জন্য এই গোষ্ঠীর মদদ নিচ্ছে ভারত। এরপরই মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করে, এই উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মধ্যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের আরও দাবি, কানাডার জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল! মার্কিন সংবাদপত্রটির দাবি, ভারতীয় কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পাওয়া সব প্রমাণ ডোভালের কাছে তুলে দেন কানাডার উপদেষ্টা। হরদীপ সিং নিজ্জার খুনে ভারত যে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সাহায্য নিয়েছে, ওই বৈঠকে সেই কথাও জানায় কানাডা। তবে এই গোপন বৈঠক প্রসঙ্গে দিল্লির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, ওই বৈঠকে কানাডার তরফে ভারতকে জানানো হয়-আমাদের দেশে হিংসা ছড়ানো বন্ধ করুন। ৬ জন ভারতীয় কূটনীতিকের বিরুদ্ধে শিখদের খুন বা হুমকি দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে বলেও ওই বৈঠকে দাবি করেন কানাডার প্রতিনিধিরা। যদিও সেই অভিযোগ মানতে চাননি ডোভাল।
২০২০ সাল নিজ্জারকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে ঘোষণা করে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কানাডাকে পাঠানো একটি নথিতে জানানো হয়, ১৯৯৬ সালে সে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে কানাডায় পৌঁছায়। সেই সময় ট্রাক চালক হিসেবে কাজ করতেন। পাকিস্তানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। তারপর বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েন। গত বছর কানাডার একটি গুরুদ্বারের সামনে তাকে হত্যা করা হয়। কানাডা প্রশাসন দায় চাপায় ভারতের উপর। তাদের বক্তব্য, এই হত্যার সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু কূটনৈতিক রক্ষাকবচ থাকায় কোনও আইনি পদক্ষেপ নেয়া যায়নি তার বিরুদ্ধে।

আগের সব অভিযোগ নয়াদিল্লি খারিজ করলেও ওয়াশিংটন পোস্টের ‘দাবি’ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বিদেশ মন্ত্রক বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন প্রাক্তন প্রধান দ্য ওয়্যারকে বলেন, অমিত শাহের অফিসিয়াল ডোমেনে কানাডিয়ানরা যে ধরনের ক্রিয়াকলাপের পরামর্শ দিচ্ছেন তাতে তিনি জড়িত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ এই প্রথম নয়। এক দশক আগে, সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন অমিত শাহের বিরুদ্ধে সোহরাবুদ্দিন, তার স্ত্রী কাউসার বি ও সহযোগী তুলসীরাম প্রজাপতিকে ভুয়া পুলিশ এনকাউন্টারে হত্যার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করেছিল। নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ট্রায়াল কোর্ট দ্রুত তাকে অব্যাহতি দেয় এবং সিবিআই আপিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্র: দ্য ওয়্যার

mzamin

১৯৭১ এর আগে আসামে অনুপ্রবেশকারীদের বৈধতা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

নাগিরকত্ব আইনে ৬-এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। এর মাধ্যমে ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে আসামে প্রবেশ করা বাংলাদেশিসহ অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতা দিয়েছে দেশটির উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের চার বিচারক এ ধারার বৈধতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। শুধুমাত্র বিচারপতি জেবি পাদ্রিওয়ালা ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের ৬-এ ধারা অসাংবিধানকি বলে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতে ৬-এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এই রায়ের ফলে, এই আইনের মাধ্যমে যারা নাগরিকত্ব পাবেন তাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশ থেকে আসাম রাজ্যে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছে বলে দাবি করা হয়। ফলত ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পর্যন্ত যারা আসামে প্রবেশ করেছেন তারা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।

বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মনে করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সীমান্তবর্তী অন্য রাজ্যগুলো যেমন পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় আসাম অনুপ্রবেশ সমস্যায় বেশি ভুক্তভোগী হয়েছিল। তাই তাদের সঙ্গে আসামকে এক করে ভাবলে চলবে না। বেঞ্চের মতে, আসামে ৪০ লাখ অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছিল। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছিল ৫৭ লাখ অনুপ্রবেশকারী। কিন্তু আসামের ওপর অনুপ্রবেশের প্রভাব অনেক বড় ছিল। কারণ পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে আসামের জমির পরিমাণ অনেক কম। এই যুক্তির ভিত্তিতে নাগিরকত্ব আইনে ৬-এ ধারার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সরকার এবং অল আসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএসইউ)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘আসাম অ্যাকর্ড’। সেই সময় আসামে বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আন্দোলন করে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। অনুপ্রবেশকারী শরণার্থীদের ফলে আসামের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্র প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেই সময় সময়সীমা বেঁধে নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং স্বাক্ষরিত হয়েছিল আসাম অ্যাকর্ড। পরবর্তীতে এই মর্মে নাগরিকত্ব আইন সংশোধিত হয়।

mzamin


নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতের পদক্ষেপ ‘বিশাল ভুল’: জাস্টিন ট্রুডো

ভারতীয় বংশোদ্ভূত হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডে ভারতের পদক্ষেপ ‘বিশাল ভুল বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, কানাডার মাটিতে একজন শিখ নেতার মৃত্যুর পেছনে ভারত সরকারের যে ইন্ধন ছিল তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারবে না দিল্লি। কানাডার মাটিতে গত বছর খালিস্তানপন্থী শিখ নেতা নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আবারও সরাসরি কূটনৈতিক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে দিল্লি এবং অটোয়া। কানাডার প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টার কথা প্রকাশ করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, কানাডার মাটিতে ভারতের ইন্ধনে ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্য করে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য সহিংস কর্মকাণ্ডে দিল্লির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের দুই দিন পর এমন মন্তব্য করলেন ট্রুডো। গত সোমবার নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কানাডার রয়্যাল পুলিশ। ওই প্রতিবেদনে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দিল্লির ছয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে অটোয়া। এতে ভারতও তার দেশ থেকে ছয় কানাডিয়ান রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে। কার্যত এক বছর আগের হত্যাকাণ্ড নিয়ে উভয় দেশই ফের উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে।

ভারত এই অভিযোগগুলিকে ‘অপমানজনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে ট্রুডো কানাডার বৃহৎ শিখ সম্প্রদায়ের কাছ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেতেই তাদের নিয়ে মেতে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি। কানাডার রাজনীতিতে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্তের পর বুধবার ট্রুডো ২০২৩ সালের জুনে হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যার তদন্তে ভারতের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, গোয়েন্দাদের তথ্যমতে ‘অবিশ্বাস্যভাবে’ স্পষ্ট যে- নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকার জড়িত রয়েছে। ট্রুডো আরও বলেছেন, কানাডা নিজের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে দেখছে। গোয়েন্দারা এখনও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। নিজ্জার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতের অভিযোগে এ পর্যন্ত চার জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে কানাডার পুলিশ।

হরদীপ সিং নিজ্জারকে গত বছর বৃটিশ কলম্বিয়ার সারেতে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি খালিস্তান আন্দোলনের একজন সোচ্চার সমর্থক ছিলেন। এই আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য লড়াই করে আসছে। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে খালিস্তানপন্থীদের আন্দোলন বেশ সক্রিয়। এ বিষয়টি কখনই ভালো চোখে দেখে না ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। 

mzamin

নাইজেরিয়ায় ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ৯৪

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ট্যাংকারটির বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের মুখপাত্র লাওয়ান শিসু অ্যাডাম এএফপিকে বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর জিগাওয়া রাজ্যে একটি জ্বালানি ট্যাংকার উল্টে যায়। এ সময় অনেকে ট্যাংকারটি থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৯৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এ সময় আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্যাংকারটি উল্টে যাওয়ায় অনেকে রাস্তায় জ্বালানি সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় সেখানে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আগুনে অন্তত ৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এমনকি বুধবার ভোর পর্যন্ত এ আগুন পুরোপুরি নিভানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত মাসে নাইজেরিয়ায় একটি ট্যাংকারের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সনময় অন্তত ৪৮ জন নিহত হন। আফ্রিকার এ দেশটির বেশিরভাগ প্রধান সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ। বেপরোয়া গাড়ি চালনা, রাস্তার বেহাল দশা ও অতিরিক্ত যানবাহনকে এ দুর্ঘটনার জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করে থাকেন।

নাইজেরিয়ায় ট্যাংকার বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত
নাইজেরিয়ায় ট্যাংকার বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত



লেবানন থেকে ইসরায়েলে ৯০টি রকেট নিক্ষেপ

লেবানন থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অন্তত ৯০টি রকেট ছোঁড়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এসব রকেট ছোড়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি হামলায় গতকাল লেবাননে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ১২৪ জন।

আইডিএফ জানিয়েছে, লেবানন থেকে নিক্ষেপ করা রকেটগুলোর মধ্যে একটি ইসরায়েলের উত্তরের শহর হাইফায় আঘাত হানে। তবে, এ হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ কয়েকটি রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে।

এর আগে, সোমবার লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে প্রায় ১১৫টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা সীমান্ত উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সমর্থনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়ছে হিজবুল্লাহ। এর পর থেকে লেবানন ও ইসরায়েল সীমান্তে পাল্টাপাল্টি রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েল গত মাস থেকে লেবাননে বোমা হামলা জোরদার করেছে এবং এ মাসের শুরুতে সেখানে স্থল অভিযান শুরু করে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, এ স্থল অভিযানের পর থেকে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তবে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হিজবুল্লাহর দ্বারা ইসরায়েলি সেনাঘাঁটিতে হামলার প্রতিক্রিয়ায়, সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, আমরা বৈরুতসহ লেবাননের সব জায়গায় হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যাব। এ হামলা হবে নির্দয় এবং তা অব্যাহত থাকবে।

লেবানন সরকারের জরুরি কমিটি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল ১৪৬টি আক্রমণ চালিয়েছে। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হামলা চালিয়েছে লেবাননে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এ সংঘাত ক্রমশই তীব্রতর হয়ে উঠছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

উত্তর ইসরায়েলের একটি এলাকায় লেবানন থেকে আসা রকেটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও গাড়ি। ছবি: এএফপি
উত্তর ইসরায়েলের একটি এলাকায় লেবানন থেকে আসা রকেটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও গাড়ি। ছবি: এএফপি



৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বার্তা

অবশেষে ইসরাইলকে কড়া বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদেরকে ৩০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে। বলেছে, এ সময়ের মধ্যে গাজায় মানবিক ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। না হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক সহায়তা কর্তন করবে। সরাসরি চিঠির মাধ্যমে রোববার তাদেরকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজার উত্তরাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে নতুন করে যে ভয়াবহ ও নৃশংসতা চালাচ্ছে ইসরাইল, তারপর এমন বার্তা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। তাদের এই হামলায় বিপুল সংখ্যক নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। গাজায় মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে গাজার উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানবিক সহায়তা চলতো তা এখন পুরোপুরি বন্ধ করেছে ইসরাইল অথবা প্রায় বন্ধ হয়েছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো চিঠি পর্যালোচনা করছে ইসরাইল। তাদের কর্মকর্তারা বলেছে, তারা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্বেগ তুলে ধরেছে সে বিষয়ে তারা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা করছে। এর আগে ইসরাইল দাবি করে, গাজার উত্তরে হামাস সদস্যদের টার্গেট করে তারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেয়নি। সীমান্ত অতিক্রম করে গাজায় প্রবেশে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সংস্থা ‘কোগাট’ দায়বদ্ধ।

সোমবার তারা বলেছে, ইরেজ ক্রসিং দিয়ে গাজার উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ত্রাণবাহী ৩০টি লরি। গাজায় দুই সপ্তাহ ধরে ত্রাণ পাঠানো বন্ধ রাখার পর এই সরবরাহ দেয়া হয়। জাতিসংঘ এ সময় অভিযোগ করে গাজার উত্তরাঞ্চলে কোনো খাদ্য সরবরাহ দেয়া যায়নি। সেখানে চার লাখ ফিলিস্তিনির জন্য তাদের অত্যাবশ্যক সরবরাহ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছিল। জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অব্যাহতভাবে জরুরি অবস্থার মধ্যে আছে গাজা। দখলীকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান অ্যান্টনি রেনার্ড বলেন, গাজার উত্তরাঞ্চলের মানুষগুলো শুধুমাত্র সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো ছাড়া তাদের খাদ্য পাওয়ার কার্যত আর কোনো উৎস নেই। ইসরাইলের কাছে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বিমান, গাইডেড বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলার ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এসব অস্ত্র দিয়ে তারা গত এক বছর ধরে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। এমন অবস্থায় ইসরাইলি সরকারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো চিঠির খবর প্রথম প্রকাশ করে অনলাইন অ্যাক্সিওস। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন।

এতে বলা হয়েছে, গাজায় যে অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আমরা আপনাদের লিখছি। আপনাদের সরকারকে এ মাসেই জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে পরিস্থিতি অন্য হবে। এতে আরও বলা হয়, ইসরাইলের নির্দেশে গাজার সংকীর্ণ উপকূলীয় এলাকা আল মাওয়াসিতে জোর করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ১৭ লাখ মানুষকে। সেখানে অতিমাত্রায় গাদাগাদি করে অবস্থানের কারণে প্রাণঘাতী সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি আছে এসব মানুষের। মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো রিপোর্টে বলেছে, এসব মানুষের বেঁচে থাকার সরবরাহ পূরণ করা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র তার চিঠিতে বলেছে, ইসরাইলি সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে আছে বাণিজ্যিক আমদানি বন্ধ করে দেয়া। সেপ্টেম্বরে উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় অস্বীকার করা হয়েছে অথবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ মানবিক সহায়তা। ক্রমাগত (গাজাবাসীর ওপর) চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বোঝা। অত্যধিক দ্বৈত-ব্যবহারে বিধিনিষেধ। মানবিক কর্মী এবং শিপমেন্টে নতুন যাচাইকরণ। কঠিন দায়বদ্ধতা। প্রভৃতি। আইনহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে লুটপাট বৃদ্ধি পেয়েছে।

এসব মিলে গাজার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতিতে ভূমিকা রাখছে। এতে আরও বলা হয়, ত্রাণ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে ৩০ দিনের মধ্যে ইসরাইলকে অবশ্যই ধারাবাহিক দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। এখনই এটা শুরু করতে হবে। ব্যর্থ হলে মার্কিন নীতিতে প্রভাব ফেলবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের কথা তুলে ধরা হয়। এ আইনে ওইসব দেশকে সামরিক সহায়তা দেয়া নিষিদ্ধ করতে পারে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তায় বাধা সৃষ্টি করে। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, শীতের আগেই পুরো গাজায় সব রকম মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে ইসরাইলকে। এর মধ্যে আছে গাজার মোট চারটি ক্রসিং দিয়ে দিনে সর্বনিম্ন ৩৫০ লরি সহায়তা পৌঁছতে দেয়া। একই সঙ্গে পঞ্চম একটি নতুন ক্রসিং দিয়েও তা প্রবেশ করতে দিতে হবে। আল মাওয়াসিতে আশ্রয় নেয়া লোকদের পুরো এলাকায় চলাচল করতে দিতে হবে। গাজার উত্তরাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয় এতে। ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, চিঠিটি প্রাইভেট কূটনৈতিক যোগাযোগ। এটা আমরা প্রকাশ করতে চাইনি। 

mzamin

ফাইল গায়েব হয়ে যাচ্ছে সংসদ থেকে by কাজী সোহাগ

আর্থিক ও সংসদ সচিবালয়ের নেয়া পুরনো অনেক সিদ্ধান্তের ফাইল গায়েব করা হচ্ছে। এরইমধ্যে শতাধিক ফাইল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব ফাইলের বেশির ভাগই আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আরও ফাইল গায়েব করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মানবজমিন-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে। ইতিমধ্যে যেসব ফাইল গায়েব হয়েছে তাতে শতাধিক কোটি টাকার হিসাব রয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এসব ফাইল গায়েবের সঙ্গে সম্পৃক্ত। চতুর্থ শ্রেণির অনেক কর্মচারীকে টাকার বিনিময়ে ফাইল গায়েবের মিশনে নামানো হয়েছে। ৫ই আগস্টের পর অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস করছেন না। তারা বাইরে থেকে টাকা দিয়ে কর্মচারীদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ফাইল গায়েব করছেন। তবে এসবই হচ্ছে খুবই গোপনে। সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানান, স্পিকারের দপ্তর, সংসদ সচিবের দপ্তর ও কমন শাখার অনেক ফাইলের হদিস নেই। আবার কমিটি শাখার অনেক ফাইল রাতারাতি গায়েব হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ফাইলে কমিটির নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত রয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাবিত হয়ে নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর ফাইল সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ আরও অন্তত ১০টি স্থায়ী কমিটির ফাইল সংসদ সচিবালয় থেকে গায়েব হয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের হাতে যেন এসব ফাইল না যায় সে চেষ্টার অংশ হিসেবে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে এসব কিছুই হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদে ৪৮টি সংসদীয় কমিটি ছিল। এসব কমিটির বেশির ভাগই কোনো মিটিং করেনি। অথচ মিটিংয়ের নামে অর্থ বরাদ্দ ও কমিটি সদস্যদের নামে মিটিংয়ে হাজিরার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ধরনের বেশ কিছু ফাইল গায়েব করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অথচ এসব ফাইল ৫ই আগস্টের পরেও দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন তারা। সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এরইমধ্যে সংসদ সচিবালয়ের অনেক কর্মকর্তার নামে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা হয়েছে। তাদের নামে আরও মামলার শঙ্কা রয়েছে। ১২ই অক্টোবর ভারতে পালানোর সময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব একেএমজি কিবরিয়া মজুমদারকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তের পুটিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ধরনের শঙ্কা থেকে আরও কয়েক কর্মকর্তা আত্মগোপনে রয়েছেন। তারাও বিভিন্ন উপায়ে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। এ ধরনের বেশির ভাগ কর্মকর্তার বাসা ছিল সংসদ ভবনের ভেতরে। ওইসব বাসা এখন খালি। লুট হওয়ার পর তারা এসব বাসায় আর ফেরেননি। যারা নিজেদের অপরাধী মনে করেন না তারা তাদের বরাদ্দকৃত বাসা মেরামত ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে বাসায় উঠেছেন।

সংসদ সচিবালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী মানবজমিনকে জানান, প্রায় প্রতিদিনই সংসদ সচিবালয় থেকে ফাইল গায়েব হয়ে যাচ্ছে। ভেতরে পুরো বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছে। ৫ই আগস্টের দোহায় দিয়ে এসব ফাইল টাকার বিনিময়ে গায়েব করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা বাইরে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছেন। পরে ভেতরে এসে নির্দিষ্ট ফাইলটি সরিয়ে রাখছেন। মূলত ওইসব ফাইল নিয়ম ও আইন মেনে তৈরি করা ছিল না। এসব ফাইলের বেশির ভাগই হচ্ছে আর্থিক সংশ্লিষ্ট। এসব নজরদারি করার মতো অবস্থা সংসদ সচিবালয়ের নেই। কারণ সচিবালয়ের ভেতরে চেইন অব কমান্ড বলে কিছু নেই। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কেউ কেউ অফিস করছেন আবার কেউ কেউ অফিসে হাজিরা দিয়েই চলে যাচ্ছেন। এ সবের কারণ সম্পর্কে সংসদ সচিবালয়ের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, সংসদ সচিবালয়ের ভেতরে অফিস বা কাজ করার কোনো ধরনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। চেয়ার, টেবিল নেই। টেলিফোন, কম্পিউটার নেই। নেই ইন্টারনেট সংযোগ। বিদ্যুতের সমস্যার কারণে অনেক জায়গায় লাইটও নেই। বেশির ভাগ এসি লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপাতত সংসদ সচিবালয়ের ভেতরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ছাড়া কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। ভবনের মূল গেটে সেনা সদস্যর পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসের স্টাফরা রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সংসদ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, ফাইল গায়েব করা হলে চিরস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি হবে। যারা এখন সংসদ সচিবালয়ের দায়িত্বে আছেন তাদের উচিত হবে অভ্যন্ত্ররীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করা। এসব বিষয় জানতে ১৭ই সেপ্টেম্বর নিয়োগ পাওয়া সংসদ সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্যাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সংসদ ভবন বা জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্স ঢাকার শেরে বাংলা নগরে ২১৫ একর জায়গার ওপর অবস্থিত। ৯ তলা বিশিষ্ট ভবনটির মূল স্থপতি লুই আই কান। তিনি প্রখ্যাত মার্কিন স্থপতি। বাংলাদেশের সংসদ ভবন উপমহাদেশের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। এর স্থাপত্যশৈলী দ্বারা প্রকৃতির বিভিন্ন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জাতীয় সংসদ ভবন চত্বর ও ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে হাজারো মানুষ। এ সময় তারা স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপদের কক্ষসহ ৯ তলা ভবনের প্রায় সব কক্ষ তছনছ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫ই আগস্ট সংসদ ভবনের গেটে প্রথমে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রবেশে বাধা দিলেও লোকসমাগম বাড়লে আর তাদের আটকানো যায়নি। সংসদ ভবন চত্বরের দক্ষিণ প্লাজা, খেজুরবাগান মাঠ, টানেলে ঢুকে পড়ে অসংখ্য মানুষ। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ওইদিন বিকাল থেকে রাতভর একদল মানুষ সংসদ ভবনের প্রায় সব কক্ষেই লুটপাট চালায়।

mzamin

ঘুমের মধ্যেও দুই ব্যক্তির মধ্যে বার্তা বিনিময় সম্ভব, দাবি ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকদের

আধুনিক প্রযুক্তির কেরামতি অনেক অসাধ‌্য সাধন করে দেখিয়েছে। এই প্রথম স্বপ্নের জগতে বিচরণ করতে করতে দুজন মানুষ আক্ষরিক অর্থেই নিজেদের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন। আর বিশেষভাবে তৈরি কিছু যন্ত্র যেমন সেন্সর, ওয়াইফাই, সার্ভার প্রভৃতি প্রমাণস্বরূপ তা ‘ধরে রেখেছে’। ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক স্টার্টআপ REMspace-এর গবেষকরা সফলভাবে একটি পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন যেখানে  দেখা গেছে দুই ব্যক্তি  স্বপ্নের মাধ্যমে বার্তা বিনিময়ে  সক্ষম। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এই স্টার্টআপ সংস্থাই উদ্যোগ নিয়ে দুজনকে বাছাই করেছিল, তাদের স্বপ্ন-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে। নির্বাচিতদের মধ্যে ‘কমন ফ্যাক্টর’ ছিল একটাই। তাঁরা ‘স্বপ্ন-সচেতন’। অর্থাৎ ঘুমের গভীরে স্বপ্ন দেখতে দেখতেও এরা সচেতন থাকেন। এই সত্য সম্পর্কে অবহিত থাকেন যে, স্বপ্ন দেখছেন। স্বপ্নের পরিভাষায় একে ‘লুসিড ড্রিমিং’ বলা হয়। ঘুমের আরইএম (র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট) ধাপে এই ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, এই সময় মানব-মস্তিষ্ক সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। ফলে স্বপ্নগুলিও স্পষ্ট এবং প্রাঞ্জল হয়। REMspace পরীক্ষায় একটি ডিভাইস জড়িত ছিল যা অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের তরঙ্গ এবং অন্যান্য জৈবিক ডেটা ট্র্যাক করে। এটি একটি 'সার্ভার'ও অন্তর্ভুক্ত করে যা শনাক্ত করে কখন অংশগ্রহণকারীরা সুস্পষ্ট স্বপ্নে প্রবেশ করে। সংস্থাটি অবশ্য তাদের পরীক্ষায় কী সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছিল তা প্রকাশ করেনি। পরীক্ষাটি ফিল্ম ইনসেপশনের একটি দৃশ্য থেকে আলাদা কিছু দেখায়নি। একবার সার্ভার শনাক্ত করেছে যে একজন অংশগ্রহণকারী একটি সুস্পষ্ট স্বপ্নে প্রবেশ করেছে, এটি একটি বিশেষ ভাষা থেকে একটি শব্দ বলেছে এবং ইয়ারবাডের মাধ্যমে এটি তার কাছে প্রেরণ করেছে।

অংশগ্রহণকারী তারপর তার স্বপ্নে শব্দ পুনরাবৃত্তি, প্রতিক্রিয়া তারপর ক্যাপচার এবং সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়। আট মিনিট পরে, দ্বিতীয় অংশগ্রহণকারী একটি উজ্জ্বল স্বপ্নে প্রবেশ করেছিল। সার্ভার প্রথম অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে সংরক্ষিত বার্তাটি তাকে পাঠিয়েছিল, যা তিনি ঘুম থেকে উঠার পরে পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। পরীক্ষাপর্ব শেষ হলে দু’জনকেই ঘুম থেকে তোলা হয়। জিজ্ঞাসা করা হয়, ঘুমের মধ্যে প্রেরিত বার্তা সম্পর্কে। দুজনেই জানান, তাঁরা স্বপ্নের মধ্যে ‘জিলাক’ শব্দটি শুনেছেন। ‘আরইএমস্পেস’ জানিয়েছে, তারা তাদের পরীক্ষার বিষয়বস্তু অন্যান্য বিজ্ঞানীদেরও পাঠিয়েছেন। সার্বিক অনুমোদন পেলে তাঁদের গবেষণা ‘স্লিপ-সায়েন্স’-এর ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ধাপ হিসাবে গণ্য করা হবে।

mzamin

ঢাবি ক্যাম্পাসে বিপ্লবের গ্রাফিতি ঘুরে দেখলেন প্রধান উপদেষ্টা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা বর্ণিল ও বিচিত্র গ্রাফিতি ঘুরে দেখেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার পরপরই জুলাই-অগাস্ট মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগরের দেয়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের আঁকা সেরা গ্রাফিতি নিয়ে একটি আর্টবুক প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ‘দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামে একটি আর্টবুক প্রকাশ করা হয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে তরুণ চিত্রশিল্পীদের আঁকা-লেখায় ঢাকা সারা দুনিয়ার গ্রাফিতি’র রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পায়। দেয়ালগুলো পরিণত হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভের বিশাল ক্যানভাসে। সরকারকে নানা শক্তিশালী বার্তা দিতে তারা বিভিন্ন সৃজনশীল ও হৃদয়গ্রাহী সেøাগান ও কবিতা লিখেছে। এসব বার্তা যেন বিপ্লবের চেতনা ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাক্সক্ষার শিল্পিত প্রতিফলন। ছাত্ররা দেশবাসীর সমর্থন আদায়ে শিল্পকর্মের মাধ্যমে মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। ছাত্রদের মনের মাধুরী মিশিয়ে দেয়ালে-দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা স্বপ্ন-বাসনার এসব নান্দনিক ও নজর-কাড়া চারুকলা গোটা ঢাকা শহরের চেহারা পাল্টে দেয়। এরমধ্যে অনেক গ্রাফিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। প্রশংসা কুড়ায় সর্বস্তরের মানুষের। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলকে এই আর্টবুক উপহার দিয়েছেন।
mzamin

হারিছ চৌধুরীর লাশ উত্তোলন: ডিএনএ পরীক্ষার পর সিলেটে দাফন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাভার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম রাসেল ইসলাম নূরের উপস্থিতিতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর জালালাবাদ এলাকায় অবস্থিত জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যীন ঢাকা মাদ্রাসার কবরস্থান থেকে তার মরদেহটি তোলা হয়। এ সময় হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাসেল ইসলাম নূর বলেন, তার  মেয়ের করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর পরিচয় নিশ্চিতের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরে পরিচয় নিশ্চিত হলে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানিয়ে দাফন করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ৫ই  সেপ্টেম্বর বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন  চৌধুরীর রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মাহবুবুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নিশ্চিতের জন্য কবর থেকে লাশ তুলে ডিএনএ টেস্টের নির্দেশ দেন।

ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী ১/১১-এর পর থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর পুনঃতদন্ত দাবি করে বলেন, ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় আমার বাবাকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি একজন বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মিথ্যা চার্জশিট দিয়ে তার সঙ্গে চরম অন্যায় করা হয়েছে। তাই মামলাটির পুনঃতদন্ত করে তাকে নির্দোষ প্রমাণিত করার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আমার বাবার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই লেখা হয়েছে। এখানে যাকে প্রফেসর মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা হয়েছিল তিনিই হারিছ চৌধুরী। বাবার মৃত্যুর পর আমি ভয়ে ছিলাম। আমি পরিবারের সহায়তা পাইনি। কারণ ১৫ বছর আমার পরিবারের ওপর অনেক অত্যাচার চলেছে। বাবাকে দাফন করার জায়গা খুঁজতে থাকলে পরিবারের পক্ষ থেকে অনেকেই বলেছিলেন, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামে দাফনের জন্য। কিন্তু আমি রাজি হইনি। পরে বাধ্য হয়ে আমার বড় মামা নানুর জন্য এই মাদ্রাসায় জমি নিয়েছিলেন করোনার সময় ২০২১ সালের ৩রা  সেপ্টেম্বর। বাবাকে এখানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে বাবার মৃত্যু সনদ চেয়ে আবেদন করা হলেও স্বৈরাচার সরকার আমাদের কথা শুনেনি। আপনারা এবার সত্যটা তুলে ধরুন।

সামিরা তানজিম চৌধুরী আরও বলেন, বিগত  স্বৈরাচার সরকার বাবাকে গ্রামে নিয়ে দাফন করতে  দেয়নি। তারা মানতে চাননি মাহমুদুর রহমানই আমার বাবা হারিছ চৌধুরী। এমনকি বাবার মৃত্যু সনদও  দেয়নি। অনেকেই বলছেন, হারিছ চৌধুরী মারা যাননি। পালিয়ে আছেন, গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। যাচ্ছে তাই কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাবার মৃত্যু নিয়ে তো ধূম্রজাল থাকতে পারে না। একটা ভালো মানুষকে ‘ক্রিমিনাল’ সাজানো হয়েছে। সত্যি লুকিয়ে রাখা যায় না। এখন এটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। আদালতের নির্দেশে হারিছ  চৌধুরীর দেহাবশেষ কবর  থেকে উত্তোলন করে তার পরিচয় প্রমাণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করানো, পরিচয়ের ইতিবাচক ফলাফল, মৃত্যুর সনদ পাওয়া, ইন্টারপোলের রেড  নোটিশ থেকে বাবার নাম মুছে ফেলা এবং তাকে নিজ জেলায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যথাযথ সম্মানের সঙ্গে দাফন করার আশা প্রকাশ করেন তার মেয়ে।

সামিরার ফুপা নাজমুল আরিফ খান বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষা হয়ে গেলে আশা করছি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হবে। উনার ইচ্ছা অনুযায়ী সিলেটে তাকে কবরস্থ করা হবে।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও জানাজা পড়ানো মাওলানা আশিকুর রহমান কাসিমি বলেন, ২০২১ সালের ৩রা  সেপ্টেম্বর মাহমুদুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে মাদ্রাসায় দাফন করা হয়। ওইদিন বাদ আসর আমি তার জানাজার নামাজে ইমামতি করি। দাফনের সময়ও আমি উপস্থিত ছিলাম। আমরা অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান হিসেবে তার মরদেহ দাফন করি। আমাদেরকে দেয়া  ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, জন্মসনদ এবং পাসপোর্টে মাহমুদুর রহমান লেখা ছিল। এর এক বছর পর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় খবরে জানতে পারি মাহমুদুর রহমানই হারিছ চৌধুরী। এ ঘটনার পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এখানে এসে আমাদের অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হারিছ চৌধুরীর মৃত্যর বিষয়টি প্রকাশ পায়। রিপোর্টে করোনায় মারা যাওয়া হারিছ চৌধুরীকে অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান পরিচয়ে দাফন করা হয় বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ রিপোর্ট প্রকাশের পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। 

mzamin

বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মনে করে না এই সরকার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক মনে করে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট দল হিসেবে ক্ষমতায় ছিল। মানুষের ভোটাধিকার হরণ ও গুম-খুন করে এবং গণহত্যা করে তারা ক্ষমতায় ছিল। কাজেই কারা তাকে জাতির পিতা বললো, তারা কোন দিবসকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করলো, নতুন বাংলাদেশে সেটার ধারাবাহিকতা থাকবে না। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গঠন করতে চাচ্ছি। ফলে ইতিহাসের প্রতি আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে হবে। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, আপনারা যদি আওয়ামী লীগের করা সব কিছু মনে করেন জাতীয় জাতীয়...। ভোটবিহীন সরকারেরই কোনো বৈধতা নেই। সেই সময়ে অনেক কিছু করা হয়েছে। সবক’টি পুনর্গঠন ও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মনে করে কিনা এই সরকার, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অবশ্যই না।’
তাহলে তো আমাদের কোনো জাতির পিতা থাকবে না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের এই ভূখণ্ডের লড়াইয়ের ইতিহাসে বহু মানুষের অবদান রয়েছে। আমাদের ইতিহাস কিন্তু কেবল ’৫২তেই শুরু হয়নি, আমাদের বৃটিশবিরোধী লড়াই আছে, ’৪৭ ও ’৭১-এর লড়াই আছে, ’৯০ ও ’২৪ আছে। আমাদের অনেক ফাউন্ডিং ফাদার রয়েছে। তাদের লড়াইয়ের ফলে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।’ তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেসব জাতীয় দিবস বাতিল করা হচ্ছে, সেগুলো চাপিয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ফ্যাসিস্ট আচরণ ছিল সেটা। সরকার মনে করেছে, সেগুলো গুরুত্বহীন, তাই বাতিল করা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে দিবস আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

mzamin

নিজ্জার হত্যাকাণ্ড: কানাডার বিচার ব্যবস্থায় পূর্ণ আস্থাশীল যুক্তরাজ্য

কানাডার বিচার ব্যবস্থায় পূর্ণ আস্থা রয়েছে যুক্তরাজ্যের। এমনটাই জানিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার এক বিবৃতিতে বৃটিশ সরকার জানিয়েছে, কানাডার স্বাধীন তদন্তে বর্ণিত গুরুতর অগ্রগতি সম্পর্কে নিজেদের কানাডিয়ান অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যুক্তরাজ্য। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডে কানাডা যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে মূলত তার ওপর পূর্ণ আস্থার কথা জানিয়ে এই বিবৃতি দিয়েছে বৃটিশ সরকার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কানাডার মাটিতে শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার ভারতের হাই কমিশনার এবং অন্যান্য কূটনীতিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এছাড়া কানাডায় ভারতীয় ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ্য করার জন্য দিল্লিকেও দায়ি করেছে অটোয়া। যদিও ভারত বরাবরের মতো এবারও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারাও তাদের দেশ থেকে প্রতিশোধমূলকভাবে কানাডার ছয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। কানাডার আইনি প্রক্রিয়ার সাথে ভারতের সহযোগিতা করা দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের ‘সঠিক পরবর্তী পদক্ষেপ’ হবে বলে মনে করে যুক্তরাজ্য।

উল্লেখ্য, ভারতীয় নাগরিক নিজ্জার ১৯৯৭ সালে অভিবাসী হিসেবে কানাডায় পাড়ি জমান। পরে ২০১৫ সালে কানাডার নাগরিকত্ব পান তিনি। ভারতের বহুল আলোচিত পৃথক স্বাধীন শিখ রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন করে আসা খালিস্তানপন্থীদের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছিল। গত বছরের জুনে কানাডার ভ্যানকুভারে একটি শিখ মন্দিরের পাশের গাড়ি পার্কিংয়ের স্থানে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন নিজ্জার। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে কানাডায় ইতোমধ্যে চার ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে বলে তদন্তের পর দাবি করেছে কানাডার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ নিয়ে প্রকাশ্যে ভারতের সরকারি কর্মকর্তাদের নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

mzamin

ফেনীতে গুলিবিদ্ধ সাহেদুল হারিয়েছে চোখ, অর্থ সংকটে বন্ধ চিকিৎসা

ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে বাম চোখ হারিয়েছে তরুণ সাহেদুল ইসলাম। মাথা, মুখ ও বুক সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত তিন শতাধিক ছররা গুলি লেগেছিল। ৫ই আগস্টের পর বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিলেও বের করা হয়নি একটি গুলিও। সমপ্রতি চিকিৎসক সাহেদুলকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে বললে সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে তার পরিবার। আহত সাহেদুল ইসলাম ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভার দক্ষিণ যশপুর মির্জাপাড়ার নুর আলমের ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সাহেদুল সবার ছোট। বাবা নুর আলম হৃদরোগ ও অ্যাজমা আক্রান্ত হয়ে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে অসুস্থ অবস্থায় বেকার জীবনযাপন করছেন। বড় ভাই তৌহিদুল ইসলামের আয়ে কোনোরকম সংসার চলছে সাহেদুলের। আহত সাহেদুলের বোন ফাহিমা আক্তার বলেন, গত ৫ই আগস্ট ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পৌর শহরে আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার সঙ্গে অংশ নেয় সাহেদুল ইসলাম। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে গেলে ছুটোছুটির সময় মাটিতে পড়ে যায় সাহেদুল। মাটি থেকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সময় চোখ, মুখ, মাথা ও বুক সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কয়েক শতাধিক ছররা গুলি লাগে। এরপর দ্রুত তাকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেয়া হয় সাহেদুলের। সাহেদুলের বোন ফাহিমা আক্তার আরও বলেন, পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে অপারেশনে বাম চোখ নষ্ট হওয়ার কথা জানালেও চিকিৎসকরা গুলি বের করতে পারেননি। তার বাম চোখে এখনো দু’টি গুলি রয়েছে। এ ছাড়া মাথায় ১৯৪টি, দুই হাতে শতাধিক, বুকে তিন-চারটা সহ তিন শতাধিক গুলি রয়ে গেছে। সিএমএইচ থেকে এক সপ্তাহের ছুটি দেয়ায় সাহেদুলকে বাড়ি নিয়ে এসেছি। এরপর পূজা ও নানা কারণে বিগত ১৫ দিনেও সাহেদুলকে পুনরায় সিএমএইচে নেয়া হয়নি।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বাবা নুর আলম বলেন, দেশে চিকিৎসা অনুযায়ী তার শরীর থেকে গুলি বের করতে গেলে ব্রেন এমনকি জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তার সুচিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত থাইল্যান্ড নেয়া প্রয়োজন। সরকারিভাবে জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ টাকা সহায়তা পেলেও ইতিমধ্যে ধারদেনা করে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসা চালানো হয়েছে। বাকি চিকিৎসা কীভাবে চলবে এনিয়ে আমরা দিশাহারা। এখন চিকিৎসা করানোর জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের বাইরে নিয়ে ছেলের উন্নত চিকিৎসা করানো যেত।

mzamin

আর্জেন্টিনায় ‘প্রত্যাবর্তনে’ হ্যাটট্রিক মেসির আগামী বিশ্বকাপে খেলার ইঙ্গিত

ঘরের মাঠে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচের স্মৃতিতে ধুলো জমছিল! আর্জেন্টিনার মাটিতে দীর্ঘ ৩৩৪ দিন পর খেলতে নামলেন ফুটবলের জাদুকর। আর ফেরাটা রাঙালেন দারুণভাবে। নিজে করলেন রেকর্ড ছোঁয়া হ্যাটট্রিক, সহায়তা করলেন আরও দুটি গোলে। আর্জেন্টিনাকে বড় ব্যবধানে জেতানোর পর আগামী বিশ্বকাপ খেলার ইঙ্গিত দিলেন মেসি। গতকাল সকালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বলিভিয়াকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকায় পাওয়া চোট কাটিয়ে ফেরার পর আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল এটি। দেশের মাঠে প্রথম। এই ম্যাচে পাঁচটি গোলে ছিল মেসির সরাসরি অবদান। দেশের হয়ে প্রায় দুইশ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার একই ম্যাচে একাধিক গোল করার সঙ্গে একাধিক অ্যাসিস্ট করলেন তিনি। একই দিনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের তালিকায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে স্পর্শ করেন মেসি। দুজনেরই এখন হ্যাটট্রিক ১০টি। ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিক আর দলের জয় ছাপিয়ে গ্যালারিতে থাকা তার ছবি, পোস্টার, তাকে নিয়ে নানা লেখা, ব্যানার মেসিকে দারুণভাবে স্পর্শ করেছে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন,  ‘এখানে খেলতে পারা ও আর্জেন্টাইন সমর্থকদের অনুরাগের ছোঁয়া পাওয়ার অনুভূতি দারুণ। যেভাবে তারা আমার নাম ধরে চিৎকার করে, আমাকে তা আবেগময় করে তোলে ও তাড়না জোগায়। সমর্থকদের সঙ্গে এই সংযোগ আমরা সবাই উপভোগ করি ও দেশের মাঠে খেলতে আমরা ভালোবাসি।’

২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকেই ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসিকে দেখা যাবে কিনা এই প্রশ্নের কৌতূহলী পুরো বিশ্ব। এতদিন স্পষ্ট করে কিছু না বললেই এদিন বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিতই দিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো তারিখ বা সীমা ঠিক করিনি আমি। আপাতত সবকিছু উপভোগ করছি। আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে আমি বেশি আবেগময় এবং লোকের ভালোবাসা লুফে নিচ্ছি, কারণ ভালো করেই জানি, আমার শেষ কিছু ম্যাচ হতে পারে এগুলো।’ ৩৭ বছর বয়স হলেও এখনও তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে থাকলে নিজেকে বাচ্চা মনে হয় মেসির। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক বলেন, ‘এই সময়ে থাকতে পারা ও মুহূর্তগুলি উপভোগ করতে পারা দারুণ আনন্দময়। তরুণ সতীর্থদের সঙ্গে থেকে এই বয়সেও নিজেকে বাচ্চা মনে হয় আমার। অনেক সময় হাস্যকর অনেক কিছু করে ফেলি, কারণ এতটাই স্বস্তিময় আবহে আছি। যতক্ষণ পর্যন্ত এরকম অনুভূতি থাকবে এবং দলে অবদান রাখতে পারব, উপভোগ করে যেতে চাই (জাতীয় দলে খেলা)।’ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই মেসির বিদায়ের গুঞ্জন শুরু হয়। তবে তখন থেকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলে আসছেন, যতদিন সম্ভব মেসি যেন জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যায়। স্কালোনি বলেন, ‘তার কাছে আমার কেবল একটিই চাওয়া, যতদিন সম্ভব যেন সে খেলে যায়। ফুটবল মাঠে তাকে দেখতে পারাটাই দারুণ আনন্দের। আমাদেরকে মুগ্ধ করা কখনোই থামায় না সে।’

mzamin

জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন ওমর আব্দুল্লাহ

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আব্দুল্লাহ। বিশেষ মর্যাদা হারানোর পর প্রথমবারের মতো সরকার পেলো অঞ্চলটির জনগণ। লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার কাছে আব্দুল্লাহ ও তার দলের আরও আট সংসদ সদস্যও শপথবাক্য পাঠ করেছেন আজ। এ নিয়ে দ্বিতীয়বার জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ওমর আব্দুল্লাহ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, এবারের বিধানসভার নির্বাচনের আগে আব্দুল্লাহর সঙ্গে কংগ্রেসের জোট ছিল, তবে নির্বাচনের আগে জোট থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে আবদুল্লাহকে একটি মন্ত্রী পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তবে তা তিনি গ্রহণ করেননি। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ ২০০৯ সাল থেকে দলের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।

জম্মু-কাশ্মীরের প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি প্রধান তারিক হামিদ কাররা সংবাদসংস্থাকে বলেন, 'এই মুহূর্তে কংগ্রেস কাশ্মীর সরকারে থাকছে না। কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার কংগ্রেস কাশ্মীরের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  জনসমক্ষে তা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

২০০৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসার পর কাশ্মীরের তরুণতম মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন ওমর আবদুল্লাহ। পরবর্তীতে তিনি বিরোধী দলনেতা ছিলেন দীর্ঘদিন। শের-ই-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইন্ডিয়া জোটের শীর্ষ দল কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সমাজতান্ত্রিক অংশ থেকে অখিলেশ যাদব, ডিএমকে- এর কে কানিমোঝি সহ আরও অনেকে। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারার অবলুপ্তির পর তা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়। এবার সেখানকার মসনদে বসলেন ওমর। 

mzamin

লুকিয়ে থাকা শিল্পীদের প্রকাশ্যে আসার আহ্বান ওমর সানীর

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শোবিজের অনেক শিল্পীই রয়েছেন আত্মগোপনে। সেসব শিল্পীদের এবার প্রকাশ্যে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় সিনেমার শিল্পীদের আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। যেখানে ওমর সানী বলেন, তোমাদের যে অপরাধ, মনে হয় না এর জন্য ফাঁসি হবে। তাই উচিত প্রকাশ্যে আসা। শুরুতেই ওমর সানী বলেন, যারা আমার ফিল্ম আর্টিস্ট এবং যারা সংগীতের আর্টিস্ট, তাদের নিয়ে আজকে কথা বলবো। সরকার পতনের পর যারা পালিয়ে আছো, লুকিয়ে আছো- তাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো বলছি। তোমাদের পালিয়ে থাকার তো দরকার নাই। তোমরা দল করেছো, দলের সঙ্গে জড়িত ছিলে। মাঝেমধ্যে কিছু পকপক করেছো, এই যা। মার্ডার তো করো নাই, মার্ডার করছো? হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করছো? জানি না। আমার মনে হয় পালিয়ে থাকার চেয়ে প্রকাশ্যে এসে কথা বলা উচিত। কিছু মানুষ গালি দিবে,

সেটা সহ্য করতে হবে। কিছু মানুষ বিদ্রূপ করবে, কিন্তু তোমাদের ভুলগুলো, দোষগুলো স্বীকার করতে হবে। পালিয়ে থাকার চেয়ে প্রকাশ্যে এসে দোষ স্বীকার করার আহ্বান জানিয়ে এই নায়ক বলেন, পালিয়ে না থেকে আমার মনে হয় প্রকাশ্যে এসো তোমরা বলো যে, আমরা অমুকটা করেছি, যা ঠিক হয়নি। অপরাধ করে থাকলে বিচার হবে, বড়জোর কিছুদিন রিমান্ডে থাকতে পারো। আমার তো মনে হয় না তোমাদের যে অপরাধ, তার জন্য ফাঁসি হবে। যারা কাপুরুষ, তারা পালিয়ে থাকে। তোমরা শিল্পীরা কেন পালিয়ে থাকবা!

mzamin

সফল হচ্ছে সাকিবের দেশে ফেরার ‘মিশন’ by ইশতিয়াক পারভেজ

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ছিল সংশয়। আবার এলেও খুনের মামলার কারণে ফিরে যেতে পারবেন কিনা তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা-কল্পনা। আপাতত তার দেশে ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দল ঘোষণা করেছে। তার মানে তিনি এই টেস্ট সিরিজ খেলে টেস্ট ফরম্যাটকে বিদায় বলতে চেয়েছিলেন সেই স্বপ্নপূরণ হওয়ার পথ খুলে গেল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- সাকিব কি শুধু দেশের মাটিতে  টেস্ট বিদায় নিতেই ফিরছেন নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণও? সাকিব টেস্ট খেলতে চান না এটা প্রায় ওপেন-সিক্রেট বিষয়। কিন্তু তাকে পাকিস্তান ও ভারতে টেস্ট  খেলতে মরিয়া দেখা গেছে। কারণ তিনি হয়তো জানতে পেরেছেন- না খেলে দেশের মানুষের তার প্রতি যে রাগ তা প্রশমন করা সম্ভব নয়। জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হয়। সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। অন্দোলনের সময় ছাত্রদের যখন প্রাণ যাচ্ছিলো গুলিতে, তখন ছিলেন একেবারেই নীরব। সেই সময় তার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকাতে ফুঁসে ওঠে দেশের মানুষ। তবে সরকার পতনের পর রঙ বদলাতে শুরু করেন। ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের আগে অবসরের ঘোষণা দেন। আর শেষ ইচ্ছা হিসেবে দেশের মাটিতে খেলে বিদায় নিতে চান। শুরুতে বিসিবি ও সরকার এতে তেমন সায় না দিলে সাকিব নিজের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট দেন। এতে তার আসার সুযোগ তৈরি হলেও তার আসার প্রতিরোধে চলছে এখনো আন্দোলন। তবে সাকিব দেশে ফিরতে মরিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার সুযোগ হলে তার বিপিএল খেলার পথ উন্মুক্ত হবে। সেইসঙ্গে তিনি আবারো দেশের বিজ্ঞাপনসহ নানা ব্যবসায়িক কাজে অংশ নিতে পারবেন এবং তার বিরুদ্ধে খুনের মামলাটাও খারিজ হবে। মূলত সাকিবের দেশে ফিরতে চাওয়ার কারণগুলো নিয়ে বেশ জমজমাট আলোচনা হচ্ছে। কেন সাকিব দেশে টেস্ট খেলেই অবসর নিতে চান তার অন্তরালের কারণ নিয়েও চলছে সামাজিক  যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা। শুধু যে সাকিব ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তাই নয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনাও কম ঘটাননি।

২০২৩ বিশ্বকাপে দল যখন একের পর এক ম্যাচে হারছিল তখন তিনি দেশে এসে কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে চলে আসেন নিজের ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করতে। কিন্তু পরে দেখা যায় তিনি দেশে এসেছেন একটি বিজ্ঞাপনের কাজে অংশ নিতে। টুর্নামেন্ট ও সিরিজের মাঝে এমন বিজ্ঞাপনের কাজ ও শোরুম উদ্বোধন করা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। অন্যদিকে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততায় আইসিসি তাকে দুই বছর নিষিদ্ধও করেছিল। মাঠে অশোভন আচরণ, দর্শক পেটানোর মতো ঘটনা ঘটিয়ে নিষিদ্ধ হন বেশ কয়েকবার। আর তার টেস্ট খেলার প্রতি অনীহার কথা সবারই জানা। আর এই সব কারণেই সাকিব কেন দেশের মাটিতে বিদায় নিতে চান তা নিয়ে প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রিকেট সংগঠক মনে করেন এখানে সাকিব চাতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন বলেই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘দেখেন- সাকিব শুধু টেস্ট খেলতে দেশে ফিরছে এটা ভাবা খুব কঠিন। আমার কাছে মনে হয় এর পিছনে তার বড় কোনো মিশন রয়েছে। তিনি যদি খেলতে পারেন হতে পারে তার যে দেশে ব্যবসা- বাণিজ্য রয়েছে সেটি করার পথটা ফের খুলে যাবে। বিপিএল খেলে অর্থ আয় করবেন। এছাড়াও নানা বিজ্ঞাপনও তিনি করতে পারবেন। তিনি যে ক্ষমা চেয়েছেন এতে আমরা অবাক হইনি। তিনি রঙ বদলাতে পারেন এমনকি নিজের প্রয়োজনে অন্যকোনো রাজনৈতিক দলে যুক্ত হলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছ থেকে পাওয়া সবুজ সংকেত নিয়েই সাকিবকে দলে রেখেছে বিসিবি। যে কারণে উদ্দেশ্য যাই হোক আপাতত সাকিবের দেশে ফেরার মিশনটা সফল হচ্ছে। অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত ভারত সফরের দল থেকে এই সিরিজে পরিবর্তন আছে কেবল একটি। জায়গা হারিয়েছে পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ। তার জায়গায় নেয়া হয়নি কাউকে। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খুব ভালো না হলেও দলে তেমন পরিবর্তন আনেননি নির্বাচকরা। সবশেষ ৯ ইনিংসে ফিফটি না করা ওপেনার জাকির হাসান টিকে গেছেন দলে। ভারতে খেলার সুযোগ না পেলেও জায়গা ধরে রেখেছেন কিপার-ব্যাটসম্যান জাকের আলী। বাদ পড়েছেন শুধু ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে খরুচে বোলিং করে উইকেটশূন্য থাকা পেসার খালেদ। স্কোয়াডে এরপরও পেসার আছেন তিনজন-তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা। চোটের কারণে ভারতে টেস্ট সিরিজে না থাকা পেসার শরিফুল ইসলাম এই মিরপুর টেস্টেও। মিরপুর টেস্ট শুরু আগামী সোমবার। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে ফিল সিমন্সের প্রথম ম্যাচ হবে এটিই।

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের স্কোয়াড: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), জাকির হাসান, মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহীম, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, নাহিদ রানা, জাকের আলী অনিক, হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ।

mzamin

মন্ত্রীসহ ২২৫ জনের রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল করলো মালদ্বীপ সরকার

ব্যয় কমাতে মন্ত্রীসহ ২২৫ জনের বেশি ব্যক্তির রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল করেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহম্মদ মুইজ্জু। মঙ্গলবার প্রেসডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

এতে বলা হয়, গত বছর ক্ষমতায় আসার পর সরকারি বিভিন্ন পদে যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন মুইজ্জু। কেননা ভারত মহাসাগরীয় এই দেশটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে লড়াই করে যাচ্ছে।

মুইজ্জুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাবলিক ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্টের এই রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত। বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন মন্ত্রীও রয়েছেন। এছাড়া ৪৩ জন উপমন্ত্রী ও ১৭৮ জন রাজনৈতিক ব্যাক্তির নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তবে এই অপসারণের পেছনে অন্য কারণ আছে কি-না সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনা কারণ জানা যায়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তির অপসারণের ফলে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৭০ ডলার সাশ্রয় করতে পারবে মালদ্বীপ। আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বেলআউট নেয়ার পরিকল্পনা নেই মালদ্বীপের। গত সেপ্টেম্বরে এই ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি। মূলত আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যয় সংকোচনের নীতি গ্রহণ করেছে মোহাম্মদ মুইজ্জু প্রশাসন।

আকারে ছোট হলেও সম্প্রতি ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হয়ে উঠেছে মালদ্বীপ। সাদা বালুর সৈকতের এই দেশটির অর্থনীতিতে পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। ১,১৯২টি প্রবাল দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই দেশ। চীন ও ভারত মালদ্বীপের দুটি বৃহত্তম ঋণদাতা দেশ।

গত বছর মুইজ্জুর জয়ের পর থেকে চীন আরও বেশি তহবিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বেইজিংয়ের এই প্রতিশ্রুতিকে মুইজ্জু ‘নিঃস্বার্থ সহায়তা’ বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট চীন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের একটি সমান্তরাল রেখা মেনে চলার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। যদিও তার নির্বাচনী ইশতেহারে ভারত বিরোধীতা ছিল মূল এজেন্ডার অন্যতম। তবে নিজ দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে উভয় দেশের সঙ্গেই মালদ্বীপের সখ্যতা প্রয়োজন।

mzamin

এক্সিম ও পদ্মা ব্যাংক একীভূত হচ্ছে না

আগের সরকারের শেষ সময়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূতকরণের আলোচনা চলছিল। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাপক দুর্বল হয়ে পড়া পদ্মা ব্যাংককে বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে এক্সিম ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা দুর্বল অবস্থায় থাকা পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। ব্যাংক দু’টির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আগের সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু কেউই আর একীভূত হতে চাচ্ছে না। বিশেষ করে, বিভিন্ন কারণে তারল্য সংকটে পড়া এক্সিম ব্যাংক এখন পদ্মা ব্যাংকের দায় নিজেদের ঘাড়ে নিতে নারাজ। আবার পদ্মা ব্যাংকও বলছে, একীভূত নয়- ঘুরে দাঁড়াতে চায় তারা।
এসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই অনেকটা জোর করে একীভূতকরণের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছিল। এক্ষেত্রে কোনো মতামতও চাওয়া হয়নি।
এদিকে দুর্দশায় পড়া পদ্মা ব্যাংককে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করতে চলতি বছরের ১৮ই মার্চ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মূলত এটা হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে। সরকার পরিবর্তনের পর দু’টি ব্যাংকই এখন আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চাচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকে পদ্মা ব্যাংক আমানত সংগ্রহ কার্যত বন্ধ আছে। নতুন ঋণ দিচ্ছে না। পুরনো ঋণ তদারকি এবং শাখা পর্যায়ে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে।
এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার এক মাস পরেই পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রিয়াজ খান পদত্যাগ করে চলে যান। সমপ্রতি তিনি বেসরকারি আরেকটি ব্যাংকে যোগ দিয়েছেন। তারল্য জোগান দেয়ার কারণে পদ্মা ব্যাংকের পর্ষদে বসতেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সোনালী ব্যাংক থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। একইভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত আরও তিন ব্যাংক জনতা, অগ্রণী ও রূপালীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ শূন্য হওয়ায় পদ্মা ব্যাংক থেকেও তারা পরিচালক পদ হারিয়েছেন। একসঙ্গে চার পরিচালক হারিয়েছে পদ্মা ব্যাংক। এখন ব্যাংকটি পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকও করতে পারছে না।
ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সরকার পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। তিনি সবমহলেই বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর তার নানা অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে। এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে সমস্যায় ব্যাংকটিতে এখন তৈরি হয়েছে তারল্য সংকট।
জানা গেছে, জুলাই মাসের শেষদিকে নামে-বেনামে এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা তুলে নেন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করার দায়ে যাত্রাবাড়ী থানায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। সেই মামলায় তাকে আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নতুন গভর্নর হিসেবে আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেয়ার পর ১১ ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকও রয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদদের সদস্যরা ব্যাংকের নানা সমস্যা তুলে ধরেন গভর্নরের কাছে। চান তারল্য সহায়তা। ইতিমধ্যে অর্থ সহায়তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ বিষয়ে পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. তালহা বলেন, আমরাও এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একত্রিত হতে চাই না। আমার বিশ্বাস, একটু সহায়তা পেলে নিজেরাই ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।
অপরদিকে পদ্মা ব্যাংককে সঙ্গে নিতে চাচ্ছে না এক্সিম ব্যাংকও। এটার সঙ্গে পদ্মা ব্যাংককে একীভূত করা হবে না বলেও জানিয়েছেন ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম স্বপন। গত সোমবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নজরুল ইসলাম স্বপন বলেন, আমাদের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মানুষ এক্সিম ব্যাংকে প্রচুর আমানত রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও আমরা তারল্য সহায়তা চেয়েছি। ইতিমধ্যে এক হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা পেয়েছি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা বলেন, ব্যাংক দু’টি একীভূত হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আমাদের ব্যাংকিং টাস্কফোর্স। তারা ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা করে দেখবে এবং কোন সমস্যার কী সমাধান তার সুপারিশ করবেন। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।