Sunday, May 27, 2018

হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা মৃৎশিল্প

বাজারে প্লাস্টিক সামগ্রীর ভিড়ে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা মৃৎশিল্প। দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় ও মৃৎশিল্পীদের সংসারে এখন হাহাকার। মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় বদলে যাচ্ছে কুমারপাড়ায় লেগে আছে অভাব অনটন। কুমারপাড়ার চাকা আজ আর তেমন একটা ঘোরে না বললেই চলে। বাংলাদেশের কুমার সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে এ শিল্প টিকিয়ে রেখেছে। কুমার সম্প্রদায়ের হাঁড়ি-পাতিল ও কলসসহ যে কোন মৃৎশিল্প তৈরিতে প্রধান উপকরণ হচ্ছে এঁটেল মাটি, জ্বালানি কাঠ, শুকনো ঘাস ও খড়। এক সময় মাটির তৈরি জিনিসের বহুমাত্রিক ব্যবহার ছিল তখন এ শিল্পের সব মহলেই কদর ছিল।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এ শিল্পের মালামাল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও সরবরাহ করা হতো। সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে কুমাররা মাটি দিয়ে তৈরি পাতিলবোঝাই ভার নিয়ে দলে দলে ছুটে চলত প্রতিটি গ্রামের হাটে-বাজারে ও মহল্লায়। পাতিল, গামলা, কুপিবাতি, থালা, দুধের পাত্র, ভাঁপা পিঠা তৈরির কাজে খাঁজ, গরুর খাবার পাত্র, কুলকি, ধান-চাল রাখার বড় পাত্র, কড়াই, মাটির ব্যাংক, শিশুদের জন্য রকমারি নকশার পুতুল, খেলনা ও মাটির তৈরি পশুপাখি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত এবং পণ্যের বিনিময়ে ধান সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় ধানবোঝাই ভার নিয়ে ফিরে আসত বাড়ি। ওইসব ধান বিক্রি করে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনত। যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় কুমার পরিবারগুলোর নেই কোনো আধুনিক মেশিন ও সরজ্ঞাম। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই পূর্ব পুরুষের এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। কুমার পাড়ার গৌরাঙ্গচন্দ্র পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভাব অনটনের মধ্যে ও হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার বাপ-দাদার পেশা বুকে আঁকড়ে ধরে আছে। মাটির হাঁড়ি-পাতিল, ঢাকনা হাট-বাজারে ভ্যান নৌকা ভাড়া দিয়ে হাটে আনলেও তা তেমন বিক্রি হয় না। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে মাটির জিনিস তৈরি করে রোদে শুকিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে ব্যবহারযোগ্য করে সেগুলো জেলা-উপজেলার হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়। আমরা সরকারের কাছে থেকে স্বল্প শর্তে ঋণ সহায়তা পেলে হয়ত এ পেশা চালিয়ে যেতে পারবো।

ডিজে পার্টির আড়ালে অনৈতিক ব্যবসা

অভিজাত আবাসিক এলাকা। বিলাস বহুল ভবন। বাসাবাড়ি হিসেবেই জানেন আশপাশের লোকজন। যদিও দু-একটা সাইনবোর্ড জানিয়ে দেয় এরমধ্যেই আছে কয়েক অফিস। এসব ভবনের অনেক ফ্ল্যাটে প্রায় রাতে আয়োজন করা হয় ডিজে পার্টির। আয়োজকরা মূলত বিপথগামী ব্যবসায়ী। ডিজে পার্টির নামে করেন নানা অনৈতিক বাণিজ্য। ফুর্তি করার জন্য টিকিট কিনে পার্টিতে যোগ দেন তরুণ থেকে শুরু করে একশ্রেণির মধ্য বয়সী পুরুষ।
রাজধানীর গুলশান-বনানীতে রয়েছে এরকম অর্ধশত ফ্ল্যাট। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এসব ফ্ল্যাটের সামনে থাকে অফিস। সাজানা-গোছানো কক্ষ, চেয়ার টেবিল সোফা। দেয়ালে টানানো থাকে নানা শৈল্পিক চিত্র। প্রতিটি কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আশপাশের লোকজন ভাবতেই পারেন না অফিসের নামে কী হচ্ছে ভেতরে। এরকম একটি ভবন নিকেতনের ই ব্লকের আট নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাড়ি। মাহমুদা হাউজ নামের কালো ফটকের এই বাড়ির বর্ণিল আলোর আড়ালে ছিল গাঢ় অন্ধকার। সম্প্রতি এই বাড়িতে অভিযান চালায় সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট। গ্রেপ্তার করা হয় আসিফ হাসান তুষারসহ কয়েক জনকে। ওই ভবনে ফুজি হোটেল নামে একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। ওই হোটেলে প্রায় রাতেই আয়োজন করা হতো ডিজে পার্টির। ৪৯৯৯ টাকা মূল্যে টিকেট কিনে যেতে হতো পার্টিতে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ঢাকায় শতাধিক তরুণী রয়েছে যারা ওই পার্টিতে যোগ দিতেন। অর্থের বিনিময়ে রাতব্যাপী অন্যকে আনন্দ দিয়ে পরদিন ফিরতেন বাসায়। তাদের পার্টিতে নিয়মিত অংশ নিতেন কম বয়সী এক ডিজে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রী ওই ডিজে অর্থের বিনিময়ে সঙ্গী হন অনেকের। গত ৩০শে মার্চের একটি পার্টির বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে, ফায়ার ওয়ার্ক, র‌্যাম্প ড্যান্স, লাইভ ড্যান্স, ইন্টারটেইনমেন্ট ও ডিজে প্রোগামের প্রচার করা হয়েছিল। এতে সামান্তা খান নামে এক ডিজের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়াও রয়েছেন বিভিন্ন মিউজিক ভিডিও, শর্ট ফিল্মের নায়িকা। একই কর্ম করেন তারাও।
ঢাকার শেষপ্রান্তে রূপনগরের বিরুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে এরকম আরও একটি রিসোর্ট। তুরাগ রিক্রিয়েশন নামের ওই রিসোর্টটি ভাড়া নিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল একটি চক্র। প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে জড়ো হতো তরুণ-তরুণীরা। রাতব্যাপী গান, নাচ ও মাদকে বুঁদ হয়ে থাকতো তারা। এসব বিষয়ে একটি মামলা হলে তা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। জেলা উত্তর ডিবি’র এসআই জাকিরের দায়ের করা ওই মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায়ই রিসোর্টটি ভাড়া নিতো একটি চক্র। স্যুটিংয়ের নামে ভাড়া নিয়ে তারা চালাতো নানা অপকর্ম।
ভবনের নিচতলায় রাতব্যাপী অনুষ্ঠিত হতো নাচ-গান। ইংরেজি-পপ গান বাজাতেন ডিস্ক জকিরা। নাচের তালে তালে চলতো মাদকের আড্ডা। দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া নিয়ে অন্যরকম ফূর্তিতে মেতে উঠতেন বেপরোয়া তরুণ-তরুণী। এসব পার্টিতে নিয়মিত অংশ নিতেন সুমি, সানজিদা, রুমাসহ অর্ধশত তরুণী। বাবু ও আনোয়ার নামে দুজন করতো পার্টির আয়োজন। এই রিসোর্টের পার্টিকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে আদালতে। যদিও আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম বাবুকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
রিসোর্টের মালিক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি রিসোর্টটি ভাড়া দিতেন। তবে কোনো অনৈতিক কাজের অনুমতি তিনি দেননি। বিষয়টি তার জানা ছিল না। একটি চক্র তার বিষয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন হাবিবুর রহমান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউটন কুমার দত্ত, বিপিএম, পিপিএম বলেন, তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। পালিয়ে থাকা জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
শুধু এই রিসোর্ট না। উত্তরা, ধানমন্ডি ও টঙ্গী এলাকায় প্রায় রাতেই ডিজে পার্টির নামে বেপরোয়াভাবে চলছে যৌন-বাণিজ্য। সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, তরুণদের বিপদগামী করছে এসব চক্র। তারা ডিজে পার্টির নামে কমবয়সী মেয়েদের দিয়ে যৌনকর্ম করাচ্ছে। বিভিন্ন বাসা-অফিস ভাড়া নিয়ে চক্রটি এসব অপকর্ম করছে বলে জানান তিনি।

বাইশ ঘণ্টা না খেয়ে রোজা রাখেন কারা?

রমজান মাসে বিশ্বজুড়েই মুসলিমরা রোজা পালন করে থাকেন। তবে রোজা পালনের সময় একেক দেশে দিনের দৈর্ঘ্য একেক রকম হয়। কিন্তু তাই বলে ২০-২২ ঘণ্টা না খেয়ে রোজা পালন? এ বছর সেটাই করতে হচ্ছে উত্তর মেরুর কাছাকাছি দেশ আইসল্যান্ডের মুসলিমদের। আইসল্যান্ডের মুসলিমদের বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় থাকতে হয় কোনো ধরনের খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ ছাড়াই। এখানকার মুসলিমদেরই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে না খেয়ে রোজা পালন করতে হয়। পাঁচ বছর আগে পাকিস্তান থেকে আইসল্যান্ডে এসেছিলেন সুলেমান। ‘আমাকে প্রায় ২২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয় কারণ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী আপনাকে সেহরি থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস করতে হবে। এটাই বোঝার জন্য সবচেয়ে সহজ, কারণ আপনি এটা বিশ্বাস করেন। এটা আমার বিশ্বাস যা আমাকে পরিচালিত করে। এটি অত্যন্ত সহজ। এটাই স্বাভাবিক যে এটা আপনার দিনের কাজের অংশ, আপনার রুটিন।’ সুলেমানের স্ত্রীও কাজ করেন বাইরে তবে তিনি এখন গর্ভবতী। নিজেদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছেন এই দম্পতি। সে কারণে তিনি রোজা পালন থেকে বিরত রয়েছেন। সুলেমানের স্ত্রী বলছেন, ‘যদিও আমি রোজা পালন করছি না, কিন্তু সময়মতো আমি ঘুম থেকে উঠে পড়ি। বিশেষ করে নামাজের জন্য অবশ্যই। এরপর আমার স্বামীকে রান্না ও অন্য কাজে সহায়তা করি। এর মাধ্যমে রোজার যে স্পিরিট- সেটিকে আমিও উপলব্ধি করি’। ধারণা করা হয় আইসল্যান্ডে প্রায় এক হাজার মুসলিম আছে, যদিও সবাই যে রোজা পালন করেন তা নয়। কিন্তু বছরের এ সময়টাতেই দেশটিতে দিন হয় অনেক দীর্ঘ।
সূর্য অস্ত যায় রাত প্রায় এগারটায়, আবার উদয় হয় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অর্থাৎ রাত চারটার দিকে। অনেক মুসলিম রাতে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের জন্য সময় পান মাত্র দু’ঘণ্টার মতো। স্থানীয় একটি ছোট মুসলিম সম্প্রদায়ের ইমাম হিসেবে কাজ করেন মনসুর। ‘রোজার সময় আমরা যখন কোরান তেলাওয়াত করি তখন আল্লাহ নিজেই বলেন যে তিনি সবকিছু তোমার জন্য সহজ করে দিতে চান। আমরা কিছু ঘটনা শুনেছি- যেখানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে অনেকে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। একটি কাবাবের দোকান চালান ইয়ামান।
গ্রাহকের জন্য খাবার তৈরিতে সার্বক্ষণিক কাজ করেন তিনি, কিন্তু খাবার গ্রহণ বা স্বাদ দেখা থেকে বিরত রাখেন নিজেকে। ‘আপনি যখন খাবার নিয়ে কাজ করবেন কিন্তু নিজে কিছু খাবেন না, তখন কিন্তু ক্ষুধাটা বেশ তীব্রই হয়। কিন্তু এতে আমার সমস্যা হয় না। আপনি যদি কিছু বিশ্বাস করেন তাহলে সেটা আপনাকে করতে হবে’। আইসল্যান্ড ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের সামনে অনেক খাবার রাখা হয় ইফতারের জন্য। আর আজান হলেই সবাই ইফতার গ্রহণ করেন এবং এরপরই নামাজ। আর এভাবে রোজার মাস যখন শেষ পর্যায়ে আসবে, তখন রোজার সময় দাঁড়াবে ২২ ঘণ্টার মতো।

দুই মেয়াদে নির্বাচন প্রসঙ্গ আছে ১৬তম সংশোধনীর রায়েও

আগামী সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে  কোনো ধরনের নির্বাচনী সংস্কারে যেতে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার কোনো প্রস্তুতি  নেই। অথচ নির্বাচন কমিশনের প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহারই শুধু নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দেয়ার মূল রায়দানকারী সাবেক প্রধান  বিচারপতি এবং আইন কমিশনের বর্তমান  চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হকেরও নির্বাচন সংস্কারে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ রয়েছে। বিচারপতি এস কে সিনহা তার রায়ে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের  নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ যে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে শর্তসাপেক্ষে দুই মেয়াদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন করার কথা বলেছিলেন, তার পুনরুল্লেখ করেন। তার রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিউ দরখাস্তে যেসব বিষয়ে নির্দিষ্টভাবে এক্সপাঞ্জ চাওয়া হয়েছে, তার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ নেই।
বিচারপতি সিনহা লিখেছিলেন, দুই মেয়াদে (২০১৪ সালের দশম এবং আসন্ন একাদশ সংসদ) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে শুধু একটি বাধা অপসারণ করতে হবে। আর তা হলো কোনো অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে প্রধান উপদেষ্টা করা যাবে না।    
সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ষোড়শ সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের বিরুদ্ধে দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ বহু ঢাকঢোল পিটিয়ে দায়ের করা হলেও  সে বিষয়ে শিগগিরই শুনানির কোনো সম্ভাবনা নেই। ওই রায় ও তার পর্যবেক্ষণকে নির্বাহী বিভাগ কীভাবে  দেখে, সেটা মূল্যায়ন করে স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থার দাবিদার নির্বাচন কমিশন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। প্রত্যেকটি সাংবিধানিক সংস্থা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বাধ্য। কিন্তু হুদা কমিশন নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা আমলে নিতে সরকারের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নিয়ে স্পিকটি নট হিসেবে থাকতেই পণ করেছে বলে প্রতীয়মান হয়। পাঁচ নির্বাচন কমিশনার বহু ঘটা করে সমালোচকদের মতে তথাকথিত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়ার পরের  ১৫ মাসে আজ পর্যন্ত ভুলেও কেউ নির্বাচন সংস্কারে মুখ খুলেননি। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বলছেন এটা লক্ষণীয়  যে, বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে সরকারের খারাপ সম্পর্ক রয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন শুধু তারই পর্যবেক্ষণের বিষয় মুখ লুকিয়ে রাখছে, বিষয়টি  তেমন নয়। তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের  বিভিন্ন রায়ে নির্বাচন সম্পর্কে দেয়া পর্যবেক্ষণ আমলে নিতেই অনিচ্ছুক। তারা কথায় কথায় কমিটি করতে অভ্যস্ত। এইচ টি ইমামের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল এমপিদের প্রচারণায় অংশগ্রহণের বিষয়ে অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে না করতেই নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়। আর গতকালই তারা তা বিবেচনা করতে পূর্ণাঙ্গ কমিশনের  বৈঠকও ডেকে ফেলেছেন। ইসি সূত্রগুলোর মতে তাদের এই মনোভাবের কারণ সংক্রান্ত বক্তব্য হলো, আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। তাদের কথা তো শুনতেই হয়। কিন্তু এই যুক্তি বিরোধীদলীয় কোনো ইচ্ছা বাস্তবায়নে দেখা যায় না। তবে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই কোনো দলের চেয়ে বড় পক্ষ। তার কথার মর্যাদা সব দলের সম্মিলিত মতামতের ওপর প্রাধান্য পাওয়ার কথা।   
এর আগে তারা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীল সমাজ ও মিডিয়া প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপে মিলিত হয়েছিল। কিন্তু সেই আলোচনার ভিত্তিতে সমপ্রতি তারা দামি কাগজে রঙিন প্রতিবেদন ছাপানোর ব্যবস্থা করলেও তার বাস্তবায়নে আদৌ  কোনো উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা যায়নি। অথচ পর্যবেক্ষকরা সকৌতুকে লক্ষ্য করছেন যে, আওয়ামী লীগের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে তারা গুরুত্বের সঙ্গে নির্বাচনী সংস্কারে উঠেপড়ে লেগেছেন। সংসদ সদস্যরা যাতে গাজীপুরের নির্বাচনে প্রচারাভিযানে অংশ নিতে পারে, সেই লক্ষ্যে তারা মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন।  
প্রধান নির্বাচন কমিশনার গত জানুয়ারিতে বলেছিলেন, আগামী অক্টোবরে তারা সাধারণ নির্বাচন বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করবেন। এখন বোঝা যাচ্ছে, তারা ব্যালট  পেপার ছাপানো কিংবা অমোচনীয় কালি সংগ্রহের দিকেই নির্দেশ করেছেন। কোনো ধরনের আইন বা বিদ্যমান ব্যবস্থার সংস্কারে তারা যাবেন না।  
অনেকের মতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলতে তারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আরপিও-র বাংলা তরজমা, এমপিদের নির্বাচনী প্রচারণায় নামাতে আচরণবিধি সংশোধন করা বুঝে থাকেন। আরপিও’র কিছু বিষয় সংশোধনে তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ শিথিল মনোভাব দেখানোর পরে তারাও নীরব থাকছেন। রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে আলোচনায় তারা বলেছিল ডিলিমিটেশন আইন সংশোধন করা হবে। জনসংখ্যার অনুপাত এবং প্রশাসনিক ইউনিটের অখণ্ডতা বজায় রাখার কথা বলা আছে আইনে। এটা অসঙ্গতি। কারণ দুটো একসঙ্গে রাখা যায় না। কিন্তু সরকারি দলের অনীহা থাকার কারণে ইসি এখানেও চুপ আছে। 
বিএনপি তার লিখিত প্রস্তাবে আরপিও সংস্কার করে আইনশৃঙ্খলার সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে আনা সহ প্রায় দুশ’ প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। এর কোনো একটিও বাস্তবে রূপ নেবে কিনা তা নিয়ে বিএনপি দ্বিধান্বিত।  আরপিও নিয়ে কিছু করার কোনো প্রস্তুতি ইসির  নেই। জিজ্ঞেস করলে কর্মকর্তারা বলেন, কাজ চলছে। আসলে চলছে না।
নির্বাচনী তফসিল করার পরে জনসভা করার অনুমতি চাইলে ডিএমপি কমিশনারকে তিন দিনের মধ্যে বলতে হবে, মুখ ফুটে কমিশনাররা কিছু না বললে ধরে নিতে হবে জনসভার অনুমতি মিলেছে। ইদানীং এবিষয়েও ইসি চুপ আছে। কারণ তারা বুঝে গেছে, এটা হবে না।
সিনহার পর্যবেক্ষণ:  বিচারপতি এস কে সিনহা তার রায়ে লিখেছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে যোগ দেয়নি। সে কারণে সংসদ দুই মাসের  বেশি স্থায়ী হয়নি। বিরাট বিক্ষোভের পরে সরকার সংবিধান সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছিল। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু এই ব্যবস্থার যে অনিরাময়যোগ্য কিছু অন্তর্গত দুর্বলতা রয়েছে, তা শনাক্ত করতে বেশি বিলম্ব ঘটেনি। ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ, ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। এবং ৬১, ৯৯, ১২৩, ১৪৭ এবং ১৫২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। তৃতীয় তফসিলে ফরম ১ ক যুক্ত করা হয়। সংশোধিত বিধানের আওতায়, একটি নির্দলীয় সরকার প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা ভোগ করবে। কিন্তু তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে কাজ করবে।  এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী শপথ না নেয়া পর্যন্ত মেয়াদে এই সরকার কোনো নীতিনির্ধারণী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত  নেয়া ছাড়াই দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। কি উপায়ে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করা হবে, সেটা সংবিধানের ৫৮গ অনুচ্ছেদে বলা আছে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বাছাই নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলো। এরকম একটি মেয়াদে সেনাবাহিনীর প্রধান একটি ক্যু-এর ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন এবং তার পরিণামে তাকে অপসারিত হতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এই ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলো। এবং আপিল বিভাগেও তা এলো। আবদুল মান্নান বনাম বাংলাদেশ (৬৪ ডিএলআর) মামলায় সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে ওই সংশোধনীকে সংবিধান বহির্ভূত বলে রায় দেয়া হলো। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায়ে এটা স্থির হলো যে, আগামী দুটি সাধারণ নির্বাচন ত্রয়োদশ সংশোধনীর আওতায় হতে পারে; তবে শর্ত হলো ৫৮ গ অনুচ্ছেদের ৩ ও ৪ ধারার আওতায় প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ সাবেক প্রধান বিচারপতি বা আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতির মধ্য থেকে  নেয়া যাবে না।
বিচারপতি এস কে সিনহা আপিল বিভাগ কেন ওই নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে তার পর্যবেক্ষণ  দেন। তিনি লিখেছেন, আপিল বিভাগ ওই পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন এটা বিবেচনায় নিয়ে যে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে তাহলে রাজনীতিকীকরণ হতে পারে। আর  সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা হবে নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা। তার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ জোরদার করতে হবে যাতে সংসদীয় নির্বাচন সর্বদাই অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে। আপিল বিভাগ লক্ষ্য করেছেন যে, প্রতিটি নির্বাচনে যে দল হেরে যায়, তারাই নির্বাচনে নিরপেক্ষতার বিষয়ে অভিযোগ তুলে থাকে এবং বিরোধী দল সংসদে সহযোগিতা করে না। শেষ পর্যন্ত  দেখা গেল, ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিলো না।
এরপর বিচারপতি সিনহা লিখেছেন, এই আপিল বিভাগ মত দিচ্ছে যে, সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সব রকম ক্ষমতা প্রদান করে তাকে শক্তিশালী করবে। নির্বাচন কমিশনে  কোনো শূন্যতা তৈরি হলে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই তা আপনাআপনি পূরণ হয়ে যাবে। কিন্তু  কোনো সরকারই এবিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বিচারপতি সিনহা অবাধ নির্বাচনে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উল্লেখ করে বলেছেন, এটা প্রত্যাশিত যে, একটি দেশ যেখানে সাংবিধানিক গণতন্ত্র থাকবে, সেখানে নিচে উল্লিখিত বিষয়গুলো বিদ্যমান থাকবে। আর তা হলো: ক. নির্বাচনের শুদ্ধতা, খ. শাসনে সাধুতা, গ. ব্যক্তির মর্যাদার পবিত্রতা, ঘ.আইনের শাসনের পূতঃপবিত্রতা, ঙ. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, চ. আমলাতন্ত্রের দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতা, ছ. বিচারবিভাগ, আমলাতন্ত্র, নির্বাচন কমিশন, সংসদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা, জ. এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সততা ও শ্রদ্ধাভাজন হওয়া।
বিচারপতি খায়রুলের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ত্রয়োদশ সংশোধনী রায়ের অথর জাজ। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ে এসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফরমস মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শাহ’র বরাতে লিখেছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যতো ধরনের ক্ষমতার দরকার তার সবটারই এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। সংবিধানে যে ‘নির্বাচন’ শব্দটি রয়েছে এর আওতায় একটি নির্বাচন করার আগে ও পরের প্রতিটি স্তর ও ধাপ অন্তর্ভুক্ত  আছে বলেই গণ্য হবে। সংসদ যদি কখনও কোনো ‘‘বৈধ’’ আইন তৈরি করে তবে তার বিধানাবলী তাকে মানতে হবে। তবে সংবিধান নির্বাচন কমিশনের জন্য এমনই রেসিডুয়ারি ক্ষমতা সংরক্ষিত করেছে যার আওতায় তার পক্ষে অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে সবরকম পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব।       
বিচারপতি খায়রুল এরপর মন্তব্য করেছেন, ‘‘ওই মতামত থেকে এটাই পরিষ্কার যে, সর্বাগ্রে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা হস্তক্ষেপ  থেকে তার নিজকে মুক্ত রাখতে হবে। এমন ব্যক্তিদের দিয়ে ইসি গঠন করতে হবে যারা জনগণের চোখে নিরপেক্ষ বলে গণ্য হবেন।’’
বিচারপতি খায়রুল হক ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার  পূর্ণাঙ্গ রায়ে দুই মেয়াদে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন করার জায়গা থেকে সরে এসে নতুন করে এখতিয়ারবহির্ভূত রায় পুনর্লিখন করেছেন বলে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন সুপারসিডেড হয়ে পদত্যাগকারী বিচারপতি এম এ ওয়াহ্‌হাব মিয়া। বিচারপতি ওয়াহ্‌হাব মিয়া মনে করেন, বিচারপতি খায়রুল যেভাবে দুই মেয়াদে কেয়ারটেকারের অধীনে নির্বাচন করার রায় পাল্টেছেন তা এখতিয়ারবহির্ভূত। বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাও বিচারপতি ওয়াহ্‌হাব মিয়াকে সমর্থন করেছেন।
উল্লেখ্য, খুলনা সিটি নির্বাচনের পরে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এবং ইসি পুনর্গঠনের আওয়াজ তুলেছে।

ছকিনার হাতে ভাজা মুড়ি by রিপন আনসারী

সেই বৌ কাল থেকেই মুড়ি ভাজি, এখনো অবিরাম চলছে তো চলছেই। প্রথম প্রথম খুবই কষ্ট হতো, এখন আগুনের তাপ গতরে সইয়ে গেছে। ভুষিভাঙ্গা ধানের হাতে ভাজা বিশেষ মুড়ি তৈরির নারী কারিগর ছকিনা বেগম এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের নবগ্রাম, ধলাই, উপাজানি ও সরুপাই গ্রামের সাগর মিয়া, তাহের আলী, আকবর, আনোয়ারসহ আরো বেশ কয়েকটি বাড়িতে চলছে হাতে ভাজা মুড়ি তৈরির ধুম। পুরুষদের পাশাপাশি বাড়ির গৃহিণীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে মুড়ি তৈরির কাজে। রমজান মাস শুরু হওয়ায় তাদের এই ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। ওই সব অঞ্চলের গৃহিণীদের হাতে ভাজা স্বাদে ভরপুর ও সুগন্ধ মুড়ির কদর সারা বছরের চাইতে রমজানে অনেক বেশি।
সরজমিন মানিকগঞ্জ-হরিরামপুর সড়ক সংলগ্ন নবগ্রাম ইউনিয়নের ধলাই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, তাহের আলীর বাড়িজুড়ে হাতে ভাজা গরম মুড়ির অন্যরকম গন্ধ। বাড়ির মাটির চুলোতে মুড়ি ভাজতে দেখা যায় তাহের আলীর স্ত্রী ছকিনা বেগমকে। এখন তার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এই বয়সেও ক্লান্তিহীনভাবে তৈরি করেন সু-স্বাদু মুড়ি। তার হাতের যাদুতে ভুষিভাঙ্গা মুড়ির সুনাম রয়েছে জেলা জুড়েই। শুধু মানিকগঞ্জ জেলাতেই নয় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি দেশের বাইরেও যাচ্ছে ছকিনার বেগমের হাতে ভাজা মুড়ি।
ছকিনা বেগম বলেন, সেই ছোট্ট বয়সে স্বামীর সংসারে যেদিন পা রেখেছি সেদিন থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি মুড়ি তৈরিতে। প্রায় ৪৫ বছরের অধিক সময় ধরেই মিশে আছি মুড়ি ভাজার কাজে। আমাদের মুড়ির কদর আছে সবখানেই। সারা বছর মুড়ি ভাজি কিন্তু রমজান মাসে চাহিদা অনকে বেশি। তাই প্রতিদিনই আজানের সময় ঘুম থেকে উঠতে হয়। উঠেই বসে পড়ি চুলার পাড়ে। প্রায় বিকাল পর্যন্ত মুড়ি ভাজতে হয়। সারা দিন আগুনের পাড়ে বসে মুড়ি ভাজতে প্রথম প্রথম কষ্ট হতো কিন্তু এখন আর আগুনের তাপ গতরে লাগে না।
ছকিনা বেগমের স্বামী তাহের আলী বলেন, প্রায় ৪৫ বছর ধরে আমার বাড়িতে মুড়ি ভাজি। কিন্তু এখন আর আগের মতো সুখ নেই। স্বচ্ছলতা নেই সংসারে। পুঁজি না থাকায় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া দামে ধান কিনতে হয়। শুধু তাই নয় কষ্ট করে ভেজে অল্প দামে মুড়িও দিতে হয় তাদের। মোট কথা লাভের অংশ পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলে। সরকার যদি আমাদের অল্প সুদে লোন দিতো তাহলে রবিশাল থেকে নিজেরা ধান কিনে মুড়ি ভাজতে পাড়তাম। লাভও বেশি হতো। মহাজনরা বাজারে নিয়ে এক কেজি মুড়ি বিক্রি করে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে তারা নিচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া তারা ১ হাজার টাকা মণে ধান আনে বরিশাল থেকে। আর আমাদের তাদের কাছ থেকে কিনতে হয় ১৪৫০ টাকা মণ। ওরা ধান ও মুড়ি দুটোতেই লাভ করে। আমাদের শুধু কষ্ট আর কষ্ট। তারপর পূর্ব এই পেশাটিকে আমরা এখনো ধরে রেখেছি।
তাহের আলীর বাড়ির পাশে সাগর মিয়া। প্রায় ৩০ বছর ধরে হাতে মুড়ি তৈরি করে আসছেন। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে নিয়ে মুড়ি ভাজতে।
সাগর মিয়া জানালেন, প্রতি মণ ধানের দাম পড়ে ১৪৫০ টাকা। তাও আবার সেই ধান বরিশাল থেকে আনতে হয়। আগে আমরা নিজেরাই আনতাম। কিন্তু এখন পুঁজি না থাকায় মহাজনদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। এক মণ ধানে মুড়ি হয় ২২ থেকে ২৪ কেজি। ভোর থেকে শুরু করে সারাদিনই মুড়ি ভাজতে হয়।
তিনি জানান, বাজারে আমাদের তৈরি হাতে ভাজা এই মুড়ির চাহিদা প্রচুর। সারা বছরের চাইতে রমজান মাসে চাহিদা দিগুন থাকে। তবে, খাটা খাটুনি বেশি, লাভ কম আর পুঁজির অভাবে আগ্রহ কমে যাচ্ছে। আগে আমাদের চার গ্রামে শতাধিক পরিবার থেকে কমে এখন মুড়ি তৈরি করছি আমরা মাত্র কিছু পরিবার। সরকারি সহায়তা পেলে নিজেরা ধান কিনে মুড়ি তৈরি করতে পারলে লাভ বেশি হতো।
এলাকার ইউপি সদস্য মো. রশিদ মিয়া জানান, এক সময় এই গ্রামগুলো মুড়ির গ্রাম হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রত্যেকটি বাড়িতে মুড়ি তৈরি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আধুনিক মেশিন দিয়ে রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে মুড়ি উৎপাদন করায় এ অঞ্চলের মানুষের হাতে ভাজা মুড়ি তৈরিতে আগ্রহ হারিয়ে গেছে। স্থানীয় নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাকিব হোসেন ফরহাদ জানালেন, আগে চার গ্রামে ১০০ পরিবারের মুড়ি ভাজার কাজ করতো। এখন কমে হয়েছে ২০ থেকে ২৫ পরিবার। এদের সরকারিভাবে সহযোগিতা দেয়া হলে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি আবারো ফিরে আসতো এই পেশার লোকবল।

যেসব কারণে আল্লাহর সালাম পৌঁছত খাদিজা (সা. আ)’র কাছে

আজ হতে ১৪৪২ চন্দ্র-বছর আগে এই দিনে (১০ই রমজান, হিজরতের তিন বছর আগে) ইন্তিকাল করেছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র প্রথম স্ত্রী উম্মুল মু'মিনিন হযরত খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (সালামুল্লাহি আলাইহা)।
মানবজাতির মধ্যে চার শ্রেষ্ঠ নারীর মধ্যে অন্যতম হলেন এই মহীয়সী নারী। অন্য তিনজন হলেন নিজ কন্যা হযরত ফাতিমা জাহরা (সা.) যিনি সব যুগের নারী জাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ, হযরত মরিয়ম (সা.), ফেরাউনের স্ত্রী তথা মুসা (আ.)'র মাতৃতুল্য লালনকারী হযরত আসিয়া (সা.)।
উম্মুল মু'মিনিন হযরত খাদিজা (সা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মুসলমান। (যদিও পুরুষদের মধ্যে প্রায় একই সময়ে আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী-আ. দশ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে তাঁকেও প্রথম মুসলমান ধরা হয়।) বিশ্বনবী (সা.)'র পেছনে সর্বপ্রথম যে দুই জন জামায়াতে নামাজ আদায় করেছেন তারা হলেন উম্মুল মু'মিনিন হযরত খাদিজা (সা.)ও বালক আলী(আ.)। খাদিজা (সা.) মহান আল্লাহর এতটা নৈকট্য লাভ করেছিলেন যে যখন হযরত জিবরাইল (আ.) ওহী নিয়ে বিশ্বনবী (সা.)'র কাছে নাজেল হতেন তখন তিনি প্রথমে মহান আল্লাহর সালাম পৌঁছে দিতেন এই মহীয়সী নারীর কাছে।
মহানবী (সা.)'র সঙ্গে বিবাহিত জীবনের ২৫ বছর কাটিয়েছেন মহীয়সী নারী হযরত খাদিজা(সা.)। তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন বিশ্বনবী (সা.) অন্য কোনো স্ত্রী গ্রহণ করেননি।
রাসূল (সা.)-কে বিয়ের আগেও হযরত খাদিজা(সা.) ছিলেন একত্ববাদী ও হযরত ইব্রাহিম (আ.)'র ধর্মের অনুসারী এবং আরব জাতির মধ্যে সবচেয়ে ধনী মহিলা। হাজার হাজার উট তাঁর মালিকানাধীন বাণিজ্য-সম্ভার দেশ থেকে দেশে বহন করত বলে ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে। বিশ্বনবী (সা.)'র সঙ্গে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল ৪০ বছর (এ সময় তাঁর বয়স আরো কম ছিল বলে কেউ কেউ মনে করেন)।
বিশ্বনবী (সা.)'র সঙ্গে বিয়ের ১৫ বছর পর যখন মহান আল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর স্বামীকে নবুওত দান করেন তখন থেকেই উম্মুল মু'মিনিন হযরত খাদিজা (সা.) নিজের সব সম্পদ বিশ্বজনীন ধর্ম ইসলামের প্রচার-প্রসার ও নির্যাতিত নও-মুসলিমদের ভরণ-পোষণের কাজে ব্যয় করতে থাকেন এবং ইসলামের পেছনেই ব্যয় হয়ে যায় তাঁর সমস্ত সম্পদ। ফলে তাঁর ইন্তিকালের পর ইয়াতিম কন্যা ফাতিমা (সা.) একটি মুদ্রা পরিমাণ সম্পদও উত্তরাধিকারসূত্রে (মায়ের কাছ থেকে) লাভ করেননি।
বিশ্বনবী (সা)-কে বিয়ে করার কারণে মক্কার কাফির সম্প্রদায়ের মহিলারা বিবি খাদিজাকে বয়কট করেছিল। ফাতিমা (সা)'র জন্মের প্রাক্কালে কাফির সম্প্রদায়ের অভিজাত মহিলারা তাঁর সেবার জন্য কোনো নারীকে পাঠায়নি। কিন্তু মহান আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ ও কুদরতের ছায়ায় তিনি ফাতিমা (সা.)-কে প্রসবের সময় দেখতে পান যে তাঁর সেবা করার জন্য বেহেশত থেকে এসেছেন ইসহাকের (আ) মা বিবি সারা, ঈসার (আ) মা বিবি মারইয়াম, ফিরআউনের স্ত্রী আছিয়া এবং হযরত মূসার বোন উম্মে কুলসুম। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মু’মিনিন হযরত খাদিজা (সা. আ) বলেছেন, ‘ফাতিমার জন্মগ্রহণের সময় সাহায্য করার জন্য আমি কুরাইশ নারীদের ডেকে পাঠিয়েছিলাম। তারা এ বলে প্রত্যাখ্যান করল যে, আমি মুহাম্মাদকে বিয়ে করেছি। আমি কিছুক্ষণের জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ দেখলাম চারজন উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় দীর্ঘকায়া বিশিষ্ট নারী আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। আমাকে আতংকিত দেখে তাঁরা বললেন : হে খাদীজা! ভয় পাবেন না। আমি হলাম ইসহাকের মা সারা (হযরত ইব্রাহিম আ.'র স্ত্রী), আর অপর তিনজন হলেন ঈসার মা মারইয়াম, ফিরআউনের স্ত্রী আছিয়া এবং মূসার বোন উম্মে কুলসুম। আল্লাহ আমাদের পাঠিয়েছেন আপনাকে সাহায্য করতে। এ বলে সেই জ্যোতির্ময় নারীরা আমার চারপাশ ঘিরে বসলেন। আমার মেয়ে ফাতিমা জন্মগ্রহণ করা পর্যন্ত তাঁরা আমার সেবা করলেন।’ কন্যা ফাতিমা (সা. আ.) যখন হযরত খাদিজা (সা. আ)’র গর্ভে ছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে মা খাদিজা কথা বলেছেন বলে বর্ণনা রয়েছে।
ইসলামের শৈশবে এর শত্রু কাফির-মুশরিকরা যখন মুসলমানদের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ আরোপ করে তখন শো'বে আবু তালিব উপত্যকায় দিনের পর দিন অনাহারে থাকতে হয়েছিল উম্মুল মু'মিনিন হযরত খাদিজা (সা.)-কে।
ইসলাম প্রচারের প্রথম দিনগুলোতে যখন রাসূল (সা.)-কে নানাভাবে অপমান ও ঠাট্টা-বিদ্রূপের শিকার হতে হত এবং তাঁর মাথায় ছাই বা পশুর নাড়ীভুঁড়ি চাপানো থেকে শুরু করে দাঁত-মুবারক পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছিল শত্রুরা তখন সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী হিসেবে পাশে ছিলেন জীবন-সঙ্গী উম্মুল মু'মিনিন হযরত খাদিজা (সা.)।
উম্মুল মু'মিনিন খাদিজা (সা.)'র পবিত্র স্মৃতি যখনই স্মরণে আসত বিশ্বনবী (সা.)'র পবিত্র দু চোখ বেয়ে ঝরে পড়ত অশ্রুধারা। অন্য কোনো স্ত্রীই হযরত খাদিজা (সা.)'র সমকক্ষ নন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। বিশ্বনবী (সা.) খাদিজা (সা.) বান্ধবীদেরকেও শ্রদ্ধা করতেন।
একবার বিশ্বনবী (সা.)’র কোনো এক স্ত্রী নিজেকে হযরত খাদিজা (সা.)’র চেয়ে উত্তম বলে দাবি করলে আল্লাহর রাসূল তাকে তিরস্কার করে বলেন: ‘আল্লাহর কসম, মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়ে কোনো উত্তম স্ত্রী দান করেননি। তিনি আমার প্রতি তখনই ঈমান এনেছিলেন যখন অন্যরা আমাকে বিদ্রূপ করত, তিনি আমাকে তখনই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যখন অন্যরা আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তিনি তার সম্পদ ব্যয় করেছেন আমার জন্য এবং তাঁর মাধ্যমেই আমি সেইসব সন্তানের অধিকারী হয়েছি যা অন্য কোনো স্ত্রীর মাধ্যমে আমার জন্য নির্ধারিত হয়নি।' (বুখারি শরিফ)
বলা হয়ে থাকে বিশ্বনবী (সা.)'র চারিত্রিক সুষমা ও মহানুভবতা, আলী (আ.)'র তরবারি এবং খাদিজা (সা.)'র অঢেল সম্পদ ছাড়া ইসলাম কখনও এতটা বিকশিত হতে পারত না।
যে বছর হযরত খাদিজা (সা.) ইন্তিকাল করেন সেই বছর ইন্তিকাল করেন রাসূল (সা.)'র প্রিয় চাচা ও অভিভাবক হযরত আবু তালিব(রা.)। তাই এ বছরটিকে ইসলামের ইতিহাসে 'আমুল হোজন' বা 'দুঃখের বছর' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ইউজিসি’র ‘ম্যানেজ’ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন! শিক্ষার্থী ভর্তিতে সতর্কতা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করে গত ২৩শে মে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিতে। প্রতিবছর এইচএসসি পরীক্ষার পর এ বিজ্ঞপ্তি দিলেও এবার রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে চুনোপুঁটিদের অভিযুক্ত করায় বির্তকের মুখে পড়েছে মঞ্জুরি কমিশন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরাও প্রশ্ন তুলেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়ার কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে শোকজ এবং ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠকে। কিন্তু সম্প্রতি দেয়া ইউজিসি’র গণবিজ্ঞপ্তিতে এ ১২টি মধ্যে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলে তাদের ভবিষ্যৎ কি তার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এটা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি’র মধ্যে।
সূত্র জানিয়েছে, এ গণবিজ্ঞপ্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর সে তালিকা চলে যায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। এরপর ইউজিসি’র চেয়ারম্যানের টেবিলের এক সপ্তাহ আটকে থাকার পর অনেক প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়। অভিযুক্ত না হওয়ার পরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নতুন করে ঢুকানো হয়। যাদের বিরুদ্ধে আউটার ক্যাম্পাস চালানোর কোনো অভিযোগ নেই। অথচ রাজধানীতে প্রকাশ্যে আউটার ক্যাম্পাস চালিয়ে সনদ বাণিজ্য করার অভিযোগ থাকলেও এদের নাম তালিকায় আসেনি। এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছিল অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে গণহারে সর্তক করে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার। কিন্তু ইউজিসি তা না করে নামসর্বস্ব কিছু বিশ্ববিদ্যালয়কে সতর্ক করলে রাঘববোয়ালদের ছাড় দিয়েছে। এটাকে ম্যানেজ বিজ্ঞপ্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অনেকেই। বিজ্ঞপ্তির ব্যাপারে ইউজিসি’র চেয়ারম্যানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট শাখার উপ-পরিচালক জেসমিন পারভীন বলেন, এ ব্যাপারে কথা বলার এখতিয়ার কেবল চেয়ারম্যান স্যারের।
গত ২৩শে মে ইউজিসি’র গণবিজ্ঞপ্তিতে ১৪ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মালিকানা দ্বন্দ্ব, অনুমোদন না নিয়ে ক্যাম্পাস চালানো এবং সরকার বন্ধ করার পর কোর্টের আদেশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা, ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার নামে ক্যাম্পাসে ভর্তিও ব্যাপারে সতর্কতা দেয়া হয়। তবে অনুমোদনহীন ক্যাম্পাস নিয়ে ঘাপলা পাকিয়েছে ইউজিসি। সেখানে বলা হয়, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চট্টগ্রামের ক্যাম্পাসের বাইরে ধানমন্ডির ৬৩ সেন্ট্রাল রোডে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদিত ক্যাম্পাস আছে বলে জানানো হয়। কিন্তু গত ১৫ই মে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ক্যাম্পাস বন্ধ করা হয়েছে ইউজিসিকে জানানো পরও তাদের নামে সর্তকতা জারি করেছে। দি পিপল্‌স ইউনিভার্সিটি রাজধানীর আসাদ এভিনিউর বাইরে উত্তরার আবদুল্লাহপুরে বিশ্ববিদ্যালয়টির অননুমোদিত একটি ক্যাম্পাস ২০১৫ সালে বন্ধ করার পরও এখন এ ক্যাম্পাসের নামে সর্তকতা জারি করে আসছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার অনুমোদিত ক্যাম্পাস বনানীর ১৪ নং রোডের ৭৬-৭৭ নং বাড়ি। পাশেই ১৭ নং রোডের ৭২ নং বাড়িতে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির বিভাগ ও ল্যাব চালুর অনুমতি রয়েছে ২০১৬ সাল থেকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকে এ অনুমতি চিঠি আলাদাভাবে দেয়ার পরও একটি বিভাগের ভবনকে অনুমোদনহীন ক্যাম্পাস বলে বিজ্ঞপ্তিতে চালিয়ে দিয়েছে ইউজিসি। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়ার অ্যাসিসন্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার জুয়েল ইসলাম বলেন, অনুমোদিত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান না হওয়া ওই বাড়ি ভাড়া করা হয়। সেখানে কোন ধরনের ভর্তি তো দূরের কথা শিক্ষক ও আমাদের কোনো স্টাফ অবস্থান করেন না। এটাকে আউটার ক্যাম্পাস কীভাবে বললো ইউজিসি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকে এ বাড়ি ভাড়ার বিষয়টি অবগত করে ২০১৬ সালে অনুমতি নেয়া হয়েছে। তারপরও প্রতিবছর কোনো কারণ ছাড়াই এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, রাজধানীর শুক্রবাদ এলাকায় মার্কেট দখল করে এবং ডজনখানেক ভাড়াবাড়িতে কার্যক্রম চালাচ্ছে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি। তারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার দাবি করলেও বেশির ভাগ কার্যক্রম ভাড়াবাড়িতেই চলছে। শুধু তাই নয়, স্থায়ী ক্যাম্পাসে প্রোগ্রাম চালানোর কথা বলে অনুমতি নিয়ে তা ভাড়াবাড়িতে ভর্তি নেয়া হচ্ছে। আর উত্তরাতে রয়েছে আরেকটি ক্যাম্পাস। যেখানে ছাত্র ভর্তি করানো হয়। শুধু এটিই নয়, আরও বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় একই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশনে গেলেই ছাত্রদের ক্ষেপিয়ে রাস্তায় নামিয়ে নিজেদের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভয়ও দেখানো হয়। রাজধানীর বসুন্ধরা শপিংমল সংলগ্ন সিটি ক্যাম্পাস চালাচ্ছে সিটি ইউনিভার্সিটি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস সাভারে হলেও এখানে ভর্তি থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম চলে। এ ক্যাম্পাসের অনুমোদন না থাকায় সরজমিন পরিদর্শনে আসেন সাবেক একজন শিক্ষাসচিব। ভর্তি থেকে শুরু করে সব কার্যক্রম পরিচালনায় হওয়ায় এটা বন্ধ করার জন্য বলা হয় ইউজিসিকে। তিন বছরের বেশি সময় পরও তা বন্ধ হয়নি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতার। রাজধানীর বনানীতে মূল ক্যাম্পাস হলেও ফার্মগেট ও নিউমার্কেট এলাকায় আরেকটি ক্যাম্পাস চালাচ্ছে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়। দুই জায়গায় চলে ভর্তি কার্যক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এটির মালিক হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের একজন রয়েছেন এর পিছনে। ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ধানমন্ডির ৩ নম্বর রোডের ১৫/২ নম্বর বাড়িতে পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তারা রাজধানীর আরও ডজনখানেক ঠিকানায় ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব ক্যাম্পাসের কোনোটিই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদিত নয়। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি (এআইইউবি) একইভাবে ৫টির বেশি অবৈধ ক্যাম্পাস চালাচ্ছে রাজধানীতে। ৩ বছর আগে অনুমোদন পাওয়া সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির মহাখালীর একটি ঠিকানায় ক্যাম্পাস অনুমোদন দেয়া হলেও কাওরান বাজারের ৭১ নং বাড়িতে অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। যারা পাশেই মাছের আড়ৎ। স্বাভাবিকভাবে এ রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। সেখানে দিব্যি শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক একজন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান একজন মন্ত্রী জড়িত। শান্তা মারিয়াম ইউনিভার্সিটি রাজধানীর উত্তরায় অনুমোদন ছাড়াই একাধিক ক্যাম্পাস চালাচ্ছে। একই ধরনের অনিয়ম করছে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি। আরও বেশ কয়েকটি ভালো ও মধ্যম মানের দাবিদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য ক্যাম্পাস রয়েছে যা ইউজিসি’র অনুমোদন নেই। কিন্তু ইউজিসি’র নজরে নেই এসব ক্যাম্পাস। সমপ্রতি ইউজিসি প্রকাশিত বৈধ ও অবৈধ ক্যাম্পাস সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের সংগঠনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন বলেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়ার উচিত। এ বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসিকে একাধিকবার আমরা বলেছি। কিন্তু বরাবরই তারা দ্বিমুখী আচরণ করেন।
এ ব্যাপাারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, যারা আইন মানবে তাদের ব্যাপারে আমরা কঠোর হবো। তার আগে তাদের কাছ থেকে ব্যাখা চাওয়া হবে যে, কেন তারা (কর্তৃপক্ষ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আইনের বিধান কেন প্রতিপালন করেনি। কেউ অন্যায় না করলেও তাকে কেন সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি।

অন্যরকম ভালবাসা

মানুষ বলে টাকা দিয়ে ভালবাসা কেনা যায় না। কিন্তু ঠিক এর উল্টোটা করেছেন এক চীনা যুবক। তিনি টাকা দিয়ে অর্থা ডলার দিয়ে বানিয়েছেন ফুলের তোড়ার মতো বিশাল এক তোড়া। ভালবাসার প্রতীক ‘লাভ’ গড়নের একটি তোড়া বানাতে তার লেগেছে ৫২৩০০ মার্কিন ডলার।
তারপর বান্ধবী বা প্রেমিকার হাতে তুলে দিয়েছেন সেই ভালবাসার তোড়া। এ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। বলা হচ্ছে তিনি কি নিয়ম লঙ্ঘন করলেন? তিনি যে তোড়াটি বানিয়েছেন চীনে তার অর্থমূল্য ৩ লাখ ৩৪ হাজার ইউয়েনের সমান। এ ছবি ধারণ করেছেন ফটো সাংবাদিকরা।
তাতে দেখা যাচ্ছে চীনের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় মেগাসিটির ওই যুবতী দাঁড়িয়েছেন ‘হার্ট’ আকৃতির ওই তোড়ার সামনে। একটি হোটেলে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ওই তোড়াটি সামনে নিয়ে দাঁড়ানো তিনি। এমন রিপোর্ট করেছে চংকিং মর্নিং পোস্ট। তবে রিপোর্টে ওই যুবতী বা যুবকের কোনো নাম পরিচয় প্রকাশ করা হয় নি। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে ১৬ই মে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন বলেছেন, স্থানীয় একটি ফুলের দোকানের শ্রমিকরা ওই তোড়াটি বানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমন আরেকজন বলেছেন, ওই যুবক প্রকৃতপক্ষেই তার প্রেমিকাকে ভালবাসেন। ওই যুবকের পরিবার ধনাঢ্য।

ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ঢাকা by দীপাঞ্জন রয় চৌধুরী

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গত এক দশকের যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাস তা এটাই সাক্ষ্য দেয় যে, প্রতিবেশী দেশটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভুটান। যখন ইউপিএ এবং এনডিএ শাসকগোষ্ঠী  একই রকম আগ্রহ নিয়ে বাংলাদেশ নীতি গ্রহণ করেছে, তখন শেখ হাসিনার মতো প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ভারতের প্রচেষ্টাকে পূর্ণতা দিয়েছে। শেখ হাসিনা যেহেতু ক্ষমতায় ১০ বছর আছেন এবং আরেকটি নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন মধ্যম আয়ের দেশের হিসেবে উদীয়মান ঢাকাকে দিল্লির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া দেশটি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনের সারিতে আছে। এক সময় বাংলাদেশের ভারতনীতি কেমন হবে তা নির্ধারণ করেছে কট্টরপন্থি জামায়াতে ইসলামী। সেই সময়ের একটি বিরোধপূর্ণ সময় থেকে বর্তমানে ঢাকা হলো ভারতের ‘লাইন অব ক্রেডিট’ বা ঋণ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দেশ। অনেক বছর বিরোধী দল বিএনপির ভারত বিরোধিতার পরে স্থল ও নৌ-খাতে দু’দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী থেকে আরো শক্তিশালী হয়েছে। এটা হয়েছে সন্ত্রাস বিরোধিতা থেকে মৌলবাদ নির্মূল করায়। প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব থেকে কানেকটিভিটি পর্যায়ে। বিশেষত গত চার বছর অনুকরণীয়। কারণ, উপ-আঞ্চলিক সংযুক্তির উদ্যোগে একটি মূল উপাদান হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করে সার্ককে অকার্যকর করা হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে যখন ক্ষোভ বেড়ে ওঠে তখন ২০১৬ সালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এ সময়ে ভারতের সঙ্গে সংহতি প্রকাশে কোনো সময় নষ্ট করে নি বাংলাদেশ ও ভুটান। যদিও জোর দিয়ে এ কথা যথেষ্ট বলা হয় নি যে, ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ বা পূর্বাঞ্চলীয় নীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া অ্যান্ড নেপাল’ (বিবিআইএন) ও ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (বিমসটেক) উভয় উদ্যোগে ঢাকার সমর্থন নিয়েছে ভারত। এ দুটি নীতিই দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক নীতির পরিপূরক। ক্রমবর্ধমান সংযুক্তি বা কানেকটিভিটি বিষয়ক লিঙ্কের সুবিধা নেয়া উচিত ভারতের সরকারি খাতের। একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতেও একই রকম ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তা হবে উভয় দেশের জন্য বিজয়ী-বিজয়ী অবস্থা। নৌ কানেকটিভিটি হতে পারে আরেকটি খাত, যা আরো বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকায় আসন্ন নির্বাচন সামনে। সেক্ষেত্রে যদি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হয় তা হবে ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে হাসিনার অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করা। আর এর প্রেক্ষিতে শান্তিনিকেতনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কম করে হলেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বিষয়ক চুক্তি সম্পন্ন করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তিস্তা ইস্যুতে তিনি একরোখা হয়ে আছেন। যুক্তি দিচ্ছেন, ওই চুক্তি করা হলে তার রাজ্যে পর্যাপ্ত পানি থাকবে না। এ ইস্যুতে বৃহত্তর জাতীয় ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থে এ চুক্তিতে রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি। পাশাপাশি, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের জন্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য মিয়ানমারের সহায়তা চাওয়া উচিত ভারতের। যাতে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরতে পারেন।
(অনলাইন দ্য ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে মডেল হত্যা

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে মঙ্গোলিয়ান মডেল আলতানতুয়া শারিবু হত্যাকাণ্ড। ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক সরকারের সিনিয়র কর্মকর্তারা জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়। সরকারের একটি বড় রকমের দুর্নীতির খবর তিনি জানতে পেরেছিলেন, এ জন্য আলতানতুয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। জেল থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শক্তিশালী নেতা ও সাবেক উপ- প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মুক্তি পাওয়ার পর এই মামলাটি নতুন করে চালু করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু মালয়েশিয়ার একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা দুদিন আগে জানান দেন, এ মামলায় কেউ কোনো আবেদন করেন নি নতুন করে। ফলে মামলাটি উন্মোচিত করা হচ্ছে না নতুন করে। এমন প্রেক্ষাপটে কেপোং আসনের এমপি লিম পিপ ইং পুলিশের কাছে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০০৬ সালে মঙ্গোলিয়ান ওই মডেলকে হত্যা করা হয়। এর নেপথ্য কারণ অবশ্যই পুলিশকে খুঁজে দেখতে হবে। তাই তিনি ওই মামলাটি নতুন করে উন্মোচনের আহ্বান জানিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এতে তিনি দাবি করেছেন, কি কারণে আলতানতুয়াকে হত্যা করা হয়েছে তার রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থ হয়েছে হাইকোর্ট ও ফেডারেল কোর্ট। এমন কি ঘাতকের পরিচয়ও তারা উদ্ধার করতে পারে নি। সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তা সিরুল আজহার উমর ও আজিলাহ হাদরিকে এই হত্যায় অভিযুক্ত করে ২০০৯ সালে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। কিন্তু ২০১৩ সালে সেই রায়কে পুরো উল্টে দেয় আপিল কোর্ট। এমপি লিম শনিবার যে রিপোর্ট দাখিল করেছেন তাতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সিরুল স্বেচ্ছায় সত্য স্বীকার করতে রাজি হয়েছেন। তার বক্তব্য রেকর্ড করা উচিত। এ হত্যায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই অভিযোগ গঠন করা উচিত। তাদেরকে কখনোই হত্যার দায় থেকে দূরে রাখা যাবে না। এ আবেদন জানিয়ে শনিবার সকালে মালয়েশিয়ার জিনজাং পুলিশ স্টেশনে রিপোর্ট দাখিল করেছেন এমপি লিম। এর আগে মালয়েশিয়া পুলিশের আইজি মোহাম্মদ ফুজি হারুন বলেছিলেন, পুলিশ মামলাটি নতুন করে উন্মোচিত করবে না। কারণ তা করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এক্ষেত্রে পুলিশের কাছে কোনো রিপোর্ট করা হয় নি। উল্লেখ্য, আলতানতুয়া (২৮) কে প্রথমে গুলি করা হয়। পরে শাহ আলম এলাকার পুনচাক আলমে সুবাং ডাম এলাকায় একটি বনের ভেতর নিয়ে বিস্ফোরক বেঁধে তার দেহকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়া হয় ২০০৬ সালে। আলোচিত দু’পুুলিশ সদস্য ছাড়াও মালয়েশিয়ার সাবেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল রাজাক বাগিন্দাকেও অভিযুক্ত করা হয় এ মামলায়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দৃঢ় কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় আদালত ২০০৮ সালের ৩১ শে অক্টোবর মুক্তি দেয়। এক পর্যায়ে সিরুল পালিয়ে চলে যান অস্ট্রেলিয়া। তাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন করে আলতানতুয়া হত্যা মামলা চালু করার কথা বলেছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

ফের আসছে চিকুনগুনিয়া: দুই রোগী শনাক্ত by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

আবারো চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর ইতিমধ্যে ঢাকার ওয়ারীর দুই বাসিন্দা আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম । চিকুনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্তরা হলেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার ৮নম্বর র‌্যাংকিং স্ট্রিটের মিসেস লিপি ইসলাম। বয়স ৩৪ বছর। তিনি চলতি মাসে চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হয়ে ১৫ তারিখে সালাউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। একদিন পর ছাত্রপত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। তার আইজিএম (পজিটিভ) চিকুনগুনিয়া। অপরজন একই এলাকার বেবী হেলেন। বয়স ৯ বছর। ২৩ নম্বর কেএম দাশ লেনে তাদের বাসা। ৯ই মে সালাউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হয় হেলেন।
১৬ই মে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে বেবী হেলেন। গত বছর ডেঙ্গুর পাশাপাশি ঢাকাসহ সারা দেশে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে চিকুনগুনিয়া নামক ভাইরাসবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। কোনো কোনো ঘরে চার-পাঁচ জনেরও এই জ্বর হয়েছিল। এটি মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া রোগ। এডিস ঈজিপ্টাই অথবা এডিস অ্যালবুপিক্টাস মশার কামড়ের মাধমে ছড়ায়।
গত বছর থেকে রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক। এ দুই রোগের জন্য দায়ী এডিস মশার লার্ভা এ বছরও পাওয়া গেছে দুই সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বাসাবাড়িতে। সিটি করপোরেশন মশা নিধনে ক্রাশ প্রোগ্রাম নিলেও বাসিন্দাদের অসচেতনতায় বাড়ির ভেতরে, আনাচে-কানাচে বেড়ে উঠছে চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশা। সমপ্রতি ধানমণ্ডি, কলাবাগান ও পরীবাগ এলাকার ১৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে ১১টিতেই এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আরো কয়েকটি এলাকায়ও পাওয়া গেছে এডিস মশার লার্ভা বলে সূত্র জানিয়েছে।
৮ই এপ্রিল থেকে এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সহায়তায় ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে একটি করে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট কমিটি ধানমণ্ডি, কলাবাগান, পরীবাগ ও এলিফ্যান্ট রোডের ১৮টি বাসা পরিদর্শন করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন পাঠায়, তাতেই এডিস মশা পাওয়ার এ চিত্র উঠে আসে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৮ই এপ্রিল ধানমণ্ডি এলাকার সাতটি বাড়ি পরিদর্শন করে কমিটি। এর মধ্যে তিনটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। ২২শে এপ্রিল কলাবাগানের ছয়টি বাড়ি পরিদর্শন করে চারটি বাড়িতে লার্ভা পায়। ৬ই মে পরীবাগের পাঁচটি বাড়ি পরিদর্শন করে চারটিতেই লার্ভা পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব বাড়ির পানির ড্রাম, ফুলের টব, ঘরের আশপাশে পড়ে থাকা মাটির ভাঙা হাঁড়ি-পাতিল, পরিত্যক্ত কলসি, বালতি, বোতল, কনটেইনার, টায়ার, পলিথিন ব্যাগ, ছোট-বড় গর্ত, নালা ও পুকুরে জমে থাকা পানিতে মশার লার্ভা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা দুই সিটি করপোরেশনের ৯৩টি ওয়ার্ডের ১০০টি জায়গায় জানুয়ারি মাসে জরিপ চালায়। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৯টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪১টি জায়গায় জরিপ হয়। জরিপ শেষে ১৯টি এলাকাকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তারে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো হলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বনানী, গাবতলী, মগবাজার, মালিবাগের একাংশ, মিরপুর-১, মহাখালী ডিওএইচএস, নাখালপাড়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া, টোলারবাগ ও উত্তরা-৯ নম্বর সেক্টর। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানমণ্ডি-১, এলিফ্যান্ট রোড, গুলবাগ, কলাবাগান, মেরাদিয়া, মিন্টো রোড, বেইলি রোড ও শান্তিনগর।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আর সব ভাইরাসজনিত জ্বরের মতোই এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। প্রচুর পানি, শরবত, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি পান করতে হবে। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল। চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাক্সিন এখন পর্যন্ত নেই। চিকিৎসকরা জানান, এডিস মশাই এ রোগের বাহক। এ মশা দিনে কামড়ায়, বিশেষ করে বিকালে। দিনের বেলা ঘুমোনোর অভ্যাস থাকলে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। তাছাড়া মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করতে হবে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকা খোলা পানির আধারগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, এবার চিকুনগুনিয়া বেশি হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যাদের একবার এই জ্বর হয় তাদের পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই জ্বরে মৃত্যু নাই বললেই চলে। তবে যাদের অন্যান্য অসুখ আছে, তাদের জন্য ভয় আছে। তবে ডেঙ্গু থাকবে। এই জ্বরের ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাথাব্যথা, সর্দি, বমিবমিভাব, হাত ও পায়ের গিটে এবং আগুলের গিটে ব্যথা হতে পারে। এ ভাইরাস মশা থেকে মানুষের শরীরে আসে।
আবার আক্রান্ত মানুষকে কামড় দিলে মশাও আক্রান্ত হয় এবং বাহক হিসেবে আবার মানবদেহে প্রবেশ করে।
এদিকে, আইইডিসিআর ওয়েব সাইটের তথ্য মতে, চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাস জনিত জ্বর যা মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। এ রোগটি ডেঙ্গু, জিকা এর মতই এডিস প্রজাতির মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগটি প্রথম ১৯৫২ সালে আফ্রিকাতে দেখা যায়। পরবর্তীতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন-ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার এবং ইন্দোনেশিয়াতে এর বিস্তার দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রথম ২০০৮ সালে রাজশাহী ও চাঁপাই নবাবগঞ্জে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঢাকার দোহার উপজেলায় এই রোগ দেখা যায়। তবে, এর পরে বিচ্ছিন্ন দু-একটি রোগী ছাড়া এ রোগের বড় ধরনের কোনো বিস্তার আর বাংলাদেশে লক্ষ্য করা যায়নি। বর্ষার পর পর যখন মশার উপদ্রব বেশি হয় তখন এ রোগের বিস্তার বেশি দেখা যায়। লক্ষণ- হঠাত জ্বর আসার সঙ্গে প্রচণ্ড গিটে গিটে ব্যথা, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, চাড়ড়ায় লালচে দানা, মাংসপেশী ব্যথা। এ ছাড়াও চিকুনগুনিয়া ভাইরাস আক্রান্ত রক্তদাতার রক্ত গ্রহণ করলে এবং ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার সময় অসাবধানতাবশত এ রোগ ছড়াতে পারে। এদিকে এ বছর ডেঙ্গুতে এই পর্যন্ত ৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন একজন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন একজন।

যেভাবে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র হাসানকে খুন করে এরশাদ

অপমানের প্রতিশোধ নিতে পারিবারিক বিশ্বস্ত গাড়িচালকই খুন করে হাসানকে। হাসানের কটুকথা আর চড় থাপ্পড়ের প্রতিশোধের ক্ষোভেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা। পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই একাই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায় গাড়িচালক এরশাদ। গতকাল বিকালে মৌলভীবাজার পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাটি তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পিবিআই) মো. শাহাদাত হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন  মামলার তদন্তকারী (পিবিআই) কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক শিবিরুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (পিবিআই) আতিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় স্কুলছাত্র আব্দুল্লাহ হাসান (১৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত তাদের ব্যক্তিগত গাড়িচালক এরশাদ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার প্রায় পৌনে চার মাস পর সূত্রবিহীন চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মৌলভীবাজারের কর্মকর্তারা। জানা যায় হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন মাস আগে হাসান তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি চালক এরশাদকে চড় মারে। আব্দুল্লাহ হাসান সিলেটের মোগলাবাজার থানাধীন মনির আহমদ একাডেমিতে ৮ম শ্রেণিতে পড়াশুনা করত। এরশাদ তাকে ওই স্কুল থেকে আনানেয়া করত। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে বড়লেখা হতে আব্দুল্লাহ হাসানকে মনির আহমদ একাডেমিতে নিয়ে যাওয়ার পথে গোলাপগঞ্জ থানাধীন চন্দরপুর পেট্রোল পাম্পের পাশের দোকান থেকে কেক ও ড্রিংকস কেনার জন্য গাড়ি থামায়। তখন গাড়ি দাঁড় করাতে গিয়ে এরশাদ হাসানের ডান পায়ের উপর গাড়ির চাকা উঠিয়ে দিলে তার পা ছিলে যায়। এ নিয়ে হাসান গাড়ি চালক এরশাদের সঙ্গে কথাকাটির একপর্যায়ে থাপ্পড় মারে। এ নিয়ে হাসানের উপর এরশাদের প্রচণ্ড রাগ হয় এবং তাকে হত্যার প্রতিজ্ঞা নেয়। পরে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য হাসান গাড়ি চালকের নিকট কয়েকবার ক্ষমাও চায়। কিন্তু এরশাদ ক্ষমা করেনি। ঘটনার প্রায় তিন মাস পর সুযোগ বুঝে তাকে হত্যা করে এ অপমানের প্রতিশোধ নেয় এরশাদ।
যেভাবে হাসানকে খুন করে এরশাদ: ঘটনার কিছুদিন পূর্বে তার পিতা মাতার অসুস্থতার অজুহাতে এরশাদ হাসানদের বাড়িতে থাকা তার পরিবারকে ঢাকার পাঠিয়ে দেয়। ঘটনার দিন ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ বাজারে গিয়ে এরশাদ হাসানকে অনুসরণ করতে থাকে। হাসান তখন মোহাম্মদ নগর বাজারে ছিল। সন্ধ্যার পর এরশাদ জ্যাকেটের ভিতর খাসিয়া দা’ কোমরে গুঁজে মান্নার দোকানে বসে থাকে। পরবর্তীতে সে হাসানের পিছু নেয়। রাত অনুমান সাড়ে নয়টায় বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসানের বন্ধু জাবের, তারেক, জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে সে বিদায় নেয়। হাসান বাড়ির দিকে যেতে থাকলে এরশাদ হাসানকে বলে ভাতিজা তোমার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে। চলো আমরা একটু সামনে যাই। মোবাইলের আলোতে তারা দুইজন আরব আলীর টিলায় ওঠে। তখন এরশাদ বলে ভাতিজা তোমার কি মনে আছে সিলেটে যাওয়ার সময় তুমি আমাকে চড় থাপ্পড় মেরেছিলে? হাসান বলে, চাচা তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না। এরশাদ তখন রাগান্বিত হয়ে বলে যে, আমি তোমাদের ড্রাইভার বলে কি পচে গেছি? হাসান ভয় পেয়ে টিলা হতে চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালে এরশাদ তাকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে এরশাদ তার নিজের কাছে থাকা দা দিয়ে এলোপাথাড়ি ৪-৫টি কোপ মারে। কোপের তোড়ে সে টিলার ঢালুতে জাপানি লতায় পেঁচিয়ে নিচে পড়ে গুঙ্গাতে থাকে। ওখানেই সে মারা যায়। তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে ওখান থেকে এরশাদ চলে যায়। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর সে চাকরি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে ছদ্ম বেশ ধারণ করে।

মৌলভীবাজার চা বাগানে বিশেষায়িত কারিগরি স্কুল হচ্ছে by নূর মোহাম্মদ

মৌলভীবাজারের চা বাগান এলাকায় বিশেষায়িত কারিগরি স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত এবং কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি করে বিশেষায়িত মাধ্যমিক বিদ্যালয়/কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে বিদ্যালয় দু’টি স্থাপনে জায়গা নির্ধারণ করে পরিদর্শন প্রতিবেদন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন।
এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নির্বাচিত ভূমিতে হাইস্কুল স্থাপনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দিয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের উপ-সচিব সুবোধ চন্দ্র ঢালী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এখন কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের কাছে মতামত চাওয়া হবে। তাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে এটি নিয়ে পর্যালোচনা সভা করা হবে। তিনি আরও বলেন, চা বাগান অঞ্চলে বিশেষায়িত কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করলে সেখানে চা বাগান উপযোগী কি ধরনের কারিগরি রিলেটেড ট্রেড সাবজেক্ট চালু করা যায় সেটি সিন্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকরা সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। যুগের পর যুগ তাদের সন্তানরা মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। চা বাগানে কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে সরকারি-বেসরকারি কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়নি।
এ অঞ্চল থেকে প্রায় ৭-৯ কিলোমিটারের মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থাকলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুপযোগী। দূরবর্তী বিদ্যালয়ে পড়াশুনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হয়। ফলে প্রতি বছর প্রাথমিক স্তর শেষ করেও কয়েকশ শিশু মোট ঝরে পড়ার হারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের অভাবে এসব শিশুরা মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে ছিটকে পড়ছে। এসব বিবেচনায় শ্রমিকের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে চা বাগান এলাকায় বিশেষায়িত হাইস্কুল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আল-আমীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী সমপ্রতি মৌলভীবাজার জেলা সফরকালে চা বাগানে শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে চা শ্রমিকরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলেন। পাশাপাশি তাদের নানা বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন ওই সভায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে কুলাউড়া উপজেলাধীন তিলকপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন কালিঘাট চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমিতে কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এ দু’টি বিদ্যালয়ে সরজমিন গিয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক।
মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, ইতিমধ্যে কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলে চা বাগানে অবস্থিত দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিতে নতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কারিগরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করলে ওই স্কুল দুটিকে ভিত্তি করে বেশি সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা পরবর্তী শিক্ষা স্তর অব্যাহত রাখতে পারবে। বিদ্যালয় দুটির সার্বিক তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮শে ডিসেম্বর কুলাউড়ার তিলকপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শ্রীমঙ্গলের কালিঘাট চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করেন জেলার অতিরিক্ত প্রশাসক (রাজস্ব)। পরিদর্শন প্রতিবেদন বলা হয়, কালিঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং তিলকপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটি চা বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত। দুটি বিদ্যালয়ের কাছাকাছি অন্তত ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয় থেকে ৬ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে কয়েকটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যেগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুপযোগী। দূরবর্তী বিদ্যালয়ে পড়াশুনার ক্ষেত্রে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে প্রতি বছর প্রাথমিক স্তর শেষ করেও স্কুলের অভাবে শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শিক্ষায়  ভর্তি হতে না পেরে ঝরে পড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমতাবস্থায় বিদ্যালয় দুটির শ্রেণিকক্ষ উন্নয়নসহ উক্ত স্থানে বা তার আশপাশে বিশেষায়িত মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন করা হলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ঝরে পড়া কমবে। একই সঙ্গে এসব শিশুরা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। যারা বাংলাদেশের উন্নয়নের পথের নেতৃত্ব দেবে।

এ আমার দেশের সম্মান -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। দুই নেত্রী একান্তে কথা বলেছেন প্রায় আধঘণ্টা। এ সময় তাদের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে তা কেবল তারাই বলতে পারেন। তবে শেষ সময়ে সফরসূচিতে যুক্ত হওয়া ওই বৈঠকে কি আলোচনা হয়- সেদিকেই তাকিয়েছিল গোটা বাংলাদেশ। কারণ মমতা ব্যানার্জির বাগড়ায় ২০১১ সাল থেকে ঝুলে আছে বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি। কলকাতার হোটেল তাজে সন্ধ্যার ওই বৈঠকটি সেরেই প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীরা ঢাকার বিমানে ওঠেন। ফলে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি বৈঠকে স্থান পেয়েছে কি-না এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকার কোনো সূত্রই তা নিশ্চিত করেনি। তিস্তার বিষয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা? বৈঠক শেষে এ নিয়ে মমতার কাছে জানতে চেয়েছিলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। কিন্তু মমতা তা এড়িয়ে যান। তিনি ইঙ্গিত করেন আগের দিনে শান্তি নিকেতনে দুই প্রধানমন্ত্রী হাসিনা-মোদির বৈঠকের প্রতি।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় ও শেষদিনে শনিবার রাজ্যের আসানসোলে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেয়া হয়েছে। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা ‘সমগ্র বাঙালি জাতিকে উৎসর্গ’ করার ঘোষণা দেন। বলেন- “এই সম্মান শুধু আমার নয়, এ সম্মান বাংলাদেশের জনগণের।” পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ওই সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত যাননি। সেখানে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হাসিনা-মমতা বৈঠক: সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শনিবার কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক হয়। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে আপত্তি জানানোর পর কলকাতায় এটিই শেখ হাসিনা এবং মমতার প্রথম একান্ত বৈঠক। মমতা আগেই বলেছিলেন, হাসিনাদির সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ভালো। শেখ হাসিনাও মমতাকে খুবই ভালোবাসেন। মমতার জন্য নিয়মিত উপহারও পাঠান তিনি। এবারও তিনি মমতাকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ। গতকালের বৈঠককে মমতা সৌজন্যমূলক আখ্যা দিলেও দুই নেত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। মমতা মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক বিশ্ববঙ্গের অংশ। কোনো সীমান্ত বা রাজনীতি এখানে কাজ করবে না। এদিনের আলোচনায় অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে নবান্ন সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক দৃঢ় করার ব্যাপারেও দুই নেত্রীর মধ্যে কথা হয়েছে। বৈঠক শেষে মমতা বলেছেন, তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও তাদের মধ্যে কথা হয়েছে। তবে মমতা মনে করেন, সম্পর্ক ঠিক রাখার দায়িত্ব দুই দেশেরই। সেই সঙ্গে মমতা জানিয়েছেন, দুই দেশের সরকার মত দিলে তিনি রাজ্যে বঙ্গবন্ধু ভবন তৈরি করবেন। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিতে ভারত সরকার আগ্রহী হলেও যুক্তরাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতার খাতিরে তারা মমতাকে বারে বারে বোঝানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাধ্যবাধকতার কথাও তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু মমতা তার আগেকার অবস্থানেই অনড় রয়েছেন। তিনি মনে করেন, তিস্ত্তাতে এখন পর্যাপ্ত পানি নেই।
ডি লিট সম্মান পেয়ে অভিভূত হাসিনা: পশ্চিমবঙ্গের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কবির জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডি লিট উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছে। এই সম্মান পেয়ে তিনি যে অভিভূত, একই সঙ্গে গর্বিত, সেটি তার ভাষণেই উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা। আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনে শেখ হাসিনার হাতে এই সম্মাননা তুলে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী। এদিনের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠিও অসুস্থতার কারণে সমাবর্তনে উপস্থিত হতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সাধন চক্রবর্তী সমাবর্তনে স্বাগত ভাষণ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই উপাধি দেয়া হয়েছে। সম্মাননা গ্রহণ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, কাজী নজরুল ইসলামের নামে তৈরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননা গ্রহণের জন্যই ছুটে এসেছি। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাগ হয়েছে, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল কখনো ভাগ হবে না। তিনি বলেছেন, নজরুল এখানে জন্মেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি। তিনি বলেছেন, কবি নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। আমরা সেই চেতনা নিয়ে বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি। মানব কল্যাণে নজরুল যে যুগ যুগ ধরে প্রেরণা জুগিয়ে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের দুঃসময়ে পাশে থাকার জন্য ভারতের মানুষের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনে তিনি চেষ্টা করে চলেছেন। আর এ ব্যাপারে সব সময় তিনি ভারতকে পাশে পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই উপমহাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত দেখতে চাই। আর তাই মানবতার কথা বেশি করে ভাবি। এই প্রসঙ্গেই তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। কবি নজরুলের নামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি এবং কবির গ্রাম চুরুলিয়ার সংস্কারের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গত শুক্রবার শেখ হাসিনা দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে রাজ্যে এসেছেন। শুক্রবার শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন এবং বিশ্বভারতীর সমাবর্তনে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এদিন বিকেলে জোড়াসাঁকোতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্মগৃহসহ ঠাকুরবাড়ি ঘুরে দেখেন। দেখেন রবীন্দ্র মিউজিয়ামও। সেখানে বাংলাদেশের গ্যালারি রূপায়নের কাজ দ্রুততার সঙ্গে করার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। মিউজিয়ামে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া পদ্মার বোটের অনুকৃতিটিও তিনি ভালো করে দেখেন। পরে মন্তব্য বইতে তার মতামত লিপিবদ্ধ করেন। শনিবার তিনি এলগিন রোডে নেতাজির বাড়িতে গিয়ে এই বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শেখ হাসিনার নেতাজি ভবন পরিদর্শন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কলকাতায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বসতবাড়িতে অবস্থিত নেতাজি মিউজিয়াম পরিদর্শন করেন। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহেনা। নেতাজি ভবনে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান নেতাজি পরিবারের বৌমা সাবেক সাংসদ কৃষ্ণা বসু ও তার পুত্র সুগত বসু। প্রধানমন্ত্রী নেতাজি মিউজিয়ামটি ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় নেতাজির প্রতি তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজানো হয়েছে, ১৯৭২ সালে নেতাজির জন্মদিনে তার উদ্দেশ্যে নিবেদিত বঙ্গবন্ধুর বার্তা। এই নেতাজি ভবনেই শেখ হাসিনাকে উপহার হিসেবে দেয়া হয় দেশের স্বাধীনতার লড়াইয়ের দিনে মান্দালয় জেলে কারারুদ্ধ নেতাজির গানের খাতার প্রথম পাতাটি। এই পাতাটিতে লেখা ছিল ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সেই গানের খাতা আজও নেতাজি মিউজিয়ামে যত্নে রাখা রয়েছে। এই পাতাটি ১৯৭২ সালে ফ্রেমে বাঁধিয়ে বঙ্গবন্ধুকেও উপহার দিয়েছিলেন নেতাজির ভ্রাতুষ্পুত্র শিশির কুমার বসু। এবার দেয়া হলো তার কন্যাকে। কৃষ্ণা বসু ও সুগত বসু পুরো মিউজিয়ামটি শেখ হাসিনাকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, নেতাজির ভ্রাতুষ্পুত্র শিশির কুমার বসুকে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, যুবা বয়সে কলকাতায় ছাত্র থাকা অবস্থায় কীভাবে নেতাজির ডাকে হলওয়েল মনুমেন্ট বিরোধী আন্দোলনেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। আর মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোয় এলগিন রোডের বাড়িটিও ফের হয়ে উঠেছিল ইতিহাসের রঙ্গভূমি। এই বাড়ি থেকে নানা কাজ ছাড়াও যশোরে নেতাজি ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন চিকিৎসক শিশির বসু। রেহেনা আগেও নেতাজি ভবন পরিদর্শন করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রথম নেতাজি ভবন পরিদর্শন করলেন।
বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের সুবিধা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান: এদিকে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগের সুবিধা দিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দু’দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের প্রথম দিনে শুক্রবার কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক ঘরোয়া বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সেই বৈঠকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের বিনিয়োগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, উভয় দেশের স্বার্থে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতে বিনিয়োগে, বিশেষ করে যৌথ উদ্যোগের সুবিধা দেয়া দরকার।
বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নদী খননে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ আশা করে বলেন, এতে আঞ্চলিক যোগাযোগ আরো জোরদার হবে। এই বৈঠকে শেখ হাসিনা ছিলেন বেশ খোশ মেজাজে। বৈঠকে উপস্থিত ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবদুল মতলুব আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এক শিল্পকর্তা ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’, এই গানটির দুটি পঙ্‌ক্তি বলেছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী হেসে বলেন, আর তিস্তাকে বাদ দিলেন? এই রসিকতার অবশ্য অন্য কোনো মানে খোঁজা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন মতলুব। এদিন রাতে রাজভবনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠির দেয়া ভোজসভায় যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

৭১.৯ ভাগ ভারতীয় মনে করেন মোদি ফের ক্ষমতায় আসবেন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারো ক্ষমতায় আসবেন। এমনটা মনে করেন শতকরা ৭১.৯ ভাগ ভারতীয়। এক জরিপে এমনটা বলা হয়েছে। ওই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৭১.৯ ভাগ ভারতীয় বলেছেন, যদি এখনই জাতীয় নির্বাচন হয় তাহলে তারা ভোট দেবেন নরেন্দ্র মোদিকে। এর অর্থ হলো ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে মোদি ক্ষমতায় ফিরছেন। টাইমস গ্রুপের ৯টি মিডিয়া ৯টি ভাষায় ভারতজুড়ে ২৩ থেকে ২৫শে মে অনলাইনে এই জরিপ চালায়। এতে অংশ নেন ৮ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৬ জন মানুষ। এ রিপোর্ট করেছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। ভারতে আগামী লোকসভা নির্বাচন এক বছরেরও কম সময়ে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ৭৩.৩ ভাগ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, নির্বাচন যখনই হবে তখন মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের জয়ী হওয়ার সম্ভাব্যতা সবচেয়ে বেশি। এখনই যদি লোকসভা নির্বাচন হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী পদে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাছাই হবেন নরেন্দ্র মোদি। জরিপে অংশ নেয়া শতকরা ১৬.১ ভাগ মানুষ বলেছেন তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি অথবা কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বাদে অন্য প্রার্থীদের ভোট দেবেন। এক্ষেত্রে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীকে শতকরা ১১.৯৩ ভাগ মানুষ ভোট দেয়ার কথা বলেছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। মোদি সরকারের গত চার বছরকে মূল্যায়ন করার প্রশ্নে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই বলেছেন, তার সরকারের রেকর্ড ভালো অথবা খুবই ভালো। এর মধ্যে খুবই ভালো হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন শতকরা ৪৭.৪ ভাগ অংশগ্রহণকারী। ভালো বলে সমর্থন দিয়েছেন শতকরা ২০.৬ ভাগ মানুষ। গড়পড়তায় ভালো এমন মত দিয়েছেন শতকরা ১১.৩৮ ভাগ মানুষ।
অন্যদিকে তার সরকারকে দুর্বল বলে মত দিয়েছেন শতকরা ২০.৫৫ ভাগ মানুষ। জরিপে মোদি সরকারের সবচেয়ে সফলতা ও ব্যর্থতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সফলতা দেখেছেন শতকরা ৩৩.৪২ ভাগ মানুষ। তারা বলেছেন, তাদের প্রথম পছন্দ হলো জিএসটি বাস্তবায়ন। এর পরে রয়েছে ডিমনিটাইজেশন। এ ক্ষেত্রে সমর্থন রয়েছে শতকরা ২১.৯ ভাগ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক সমর্থন করেছেন শতকরা ১৯.৮৯ ভাগ মানুষ। জন ধন যোজনা কর্মসূচি সমর্থন করেছেন শতকরা ৯.৭ ভাগ মানুষ। সংখ্যালঘু প্রশ্নে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ শতকরা ৫৯.৪১ ভাগ বলেছেন, এনডিএ সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অনিরাপদ মনে করেন না। তবে শতকরা ৩০.০১ ভাগ মনে করেন সংখ্যালঘুরা ভারতে অনিরাপদ। আর শতকরা ১০.৫৮ ভাগ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, এ প্রশ্নে তারা এখনো মন স্থির করেন নি।

ঈদের আগেই স্বজনদের ফেরত চায় ওরা

ওদের কারও ছেলে, কারও স্বামী, কারও ভাই, কারও বাবা গুমের শিকার হয়েছেন। চার বছর ধরে তাদের অন্তহীন অপেক্ষা। নিখোঁজ হওয়া বাবা ফিরবেন- এমন আশায় ভোর হয় সন্তানের। বৃদ্ধ মা আর বাবার প্রতিটি সকাল আসে প্রিয় সন্তানের শূন্যতা নিয়ে। ঈদ যায়, ঈদ আসে। কিন্তু হারানো সন্তান আর ফেরে না। গতকাল ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হয়েছিল এমন কয়েকটি পরিবার। আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের ফেরত চেয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে তারা। নিখোঁজ হওয়া বিএনপি কর্মী সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসী বলেন, এখানে আজ আমার মায়ের আসার কথা ছিলকিন্তু তিনি কাঁদতে কাঁদতে কুঁজো হয়ে গেছেন। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রিয় মানুষকে কাছে পেতে চাই। তাদের সঙ্গে ঈদ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী আপনি তো আপনার স্বজনকে নিয়েই ঈদ করেন। তবে আমাদের কেন ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত করবেন? শিশুকন্যা লামিয়া আক্তার মীম বলেন, আমি আমার বাবাকে ফেরত চাই। বাবা আমাকে স্কুলে নিয়ে যাবে। ঈদের জামা কিনে দেবে। অন্যদের মতো বাবার হাত ধরে আমিও হাঁটতে চাই। আফরোজা ইসলাম আখি বলেন, হয় নিখোঁজ হওয়া সবাইকে ফিরিয়ে দিন, না হয় আমাদের সবাইকে মেরে ফেলুন। এভাবে তিলে তিলে মৃত্যু না দিয়ে একসঙ্গে মরে যেতে চাই। এত কষ্ট আর সহ্য হয় না। এ সময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রতি বছরই এই জায়গায় এসে মায়েদের কান্নার সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও কাঁদতে হয়। আমাদের কারও কান্না প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়ে না। কারণ, নিখোঁজ হওয়া স্বজনদের কারো সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কোনো আত্মীয়তা নেই। এখানে ছাত্রলীগের তপুর মা সালেহা বেগম রয়েছেন। তিনি প্রায়ই বলেন, আমরা তো আওয়ামী লীগ করি, আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগে ভোট দেয় এবং আমার ছেলে রামপুরা থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিল। তাকে কেন গুম করা হলো? এর জবাব কী প্রধানমন্ত্রী জানেন? তিনি আরো জানান, বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহচর হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার মতিনের ছেলে সেও যুবলীগ করতো। সেও নিখোঁজ। এ সময় মান্না বলেন, রমজান মাস নাকি সংযমের মাস। এই মাসেই মানুষ হত্যায় নতুন করে মেতে উঠেছে সরকার। আর সবকিছুর মূল আগামী একাদশ নির্বাচন। বিনা চ্যালেঞ্জে আবার ক্ষমতায় যাবার জন্য এসব টালবাহানা করছে। কিন্তু দেশবাসী আর ছাড় দেবে না।
যেকোনো মূল্যে এই সরকারকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালাসহ নিখোঁজ হওয়া পরিবারের সদস্য সাইফুল রহমান সজীবের বাবা শফিকুর রহমান, আবদুল কাদের মাসুমের মা আয়েশা আলী, তরিকুল ইসলাম তারার স্ত্রী শামসুন্নাহার বেবী, মো. নুর আলমের স্ত্রী রিনা আলম, মাহবুব রহমান সুজনের ভাই জাহিদ খান, কাজী ফরহাদের ভাই আমান, ছাত্রলীগ রামপুরা থানার সভাপতি এসএম মোয়াজ্জেম হোসেন তপুর মা আলহাজ সালেহা বেগম, ড্রাইভার কাওসারের শিশুকন্যা লামিয়া আক্তার মীম, মাহবুবুর রহমান রিপনের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান শিপন, আমিনুল ইসলাম জাকিরের ভাই আলমগীর হোসেন আলিক, আদনান চৌধুরীর মা কানিজ ফাতেমা, নিখোঁজ পিন্টুর ভাই মো. ইসলাম রেজা এবং নিখোঁজ আসাদুজ্জামান রানা, জাহিদুল করিম তানভীর ও আলামীনের পরিবারের সদস্যরা।

চুক্তি রক্ষায় অংশীদারদের সময় বেঁধে দিয়েছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পরেও পারমাণবিক চুক্তি বহাল রাখা হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইউরোপীয় অংশীদার দেশগুলোকে ৩১শে মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ইরান। অংশীদাররা যদি চুক্তি বহাল রাখতে চায় তাহলে এই সময়ের মধ্যেই তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে। যাতে ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রতিরোধের সক্ষমতা প্রদান করা হবে। অন্যথায় দ্রুতই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু করবে ইরান। শুক্রবার ভিয়েনায় পারমাণবিক চুক্তির অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন ইরানের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
খবরে বলা হয়, পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসে চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, বৃটেন ও জার্মানি। বৈঠক শেষে ইরানের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা চলছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের যে ক্ষতি হবে তা পুষিয়ে দিতে অংশীদাররা কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, ইরানের তেল রপ্তানি, ব্যাংক লেনদেন ও বৈদেশিক বিনিয়োগ খাতে সৃষ্ট সংকটের ‘কার্যকর সমাধান’  প্রয়োজন। ইরানের আর্থিক নিরাপত্তা খুবই জরুরি। পরবর্তী পর্যায় হলো, এই আর্থিক নিরাপত্তা ‘প্যাকেজের’ নিশ্চয়তা পাওয়া। আগামী কয়েক সপ্তাহ অংশীদার দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলবে। এর পরই ইরান চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চুক্তি রক্ষার বিষয়ে রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় দেশগুলো আন্তরিক। তারা বুঝতে পেরেছে যে, ইরানের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা করা হবে তার ওপর চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইইউ কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে আমরা ইরানের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার পরিবেশ তৈরি করতে পারি। এতে আমাদের স্বার্থ রক্ষা হবে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে আরো বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট সংকট নিরসনে কয়েকটি বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। তবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যাতে আরো সময় লাগতে পারে। চুক্তি বহাল রাখার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। তিনি বলেন, আমাদের সফল হওয়ার সকল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সদিচ্ছাও আছে। অবশ্যই এই জেসিপিওএ একটি অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক চুক্তি। এটা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিষয় না। এটা গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিষয়।

দল গোছাচ্ছে বিএনপি: মে’র মধ্যেই থানা ওয়ার্ড কমিটি গঠনের নির্দেশনা by কাফি কামাল

খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ের আন্দোলনকে সামনে রেখে দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি গঠনে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা। ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ প্রতিটি অঙ্গ সংগঠনকে মে মাসের মধ্যেই থানা-ওয়ার্ড কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ৩১শে মে’র মধ্যে এসব কমিটি অনুমতির জন্য কেন্দ্রের কাছে পাঠাতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ৭১ সদস্য ও প্রতিটি থানায় ১২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি হবে। তবে মহানগর কমিটির পরিধি সীমিত থাকবে ২০০ সদস্যের মধ্যে। এছাড়া মহানগর বিএনপির দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পদত্যাগপত্রের ফরমও পাঠানো হয়েছে। যারা মহানগরে থাকবেন তারা থানা কমিটিতে থাকতে পারবেন না। সবখানেই একনেতা একপদ নীতি কার্যকর করতে হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে নির্দেশনা পাওয়ার পর দল গোছানোর লক্ষ্যে জোরালোভাবে কাজও শুরু করেছেন দায়িত্বশীল নেতারা। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের একাধিক নেতা বিএনপির এ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় প্রথম থেকেই আইনি লড়াইকে গুরুত্ব দিয়েছে বিএনপি। মামলার রায় হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হলেও তার মুক্তির জন্য দীর্ঘ সাড়ে তিনমাস ধরে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি প্রদান, অনশন, অবস্থানসহ নানা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। কিন্তু দলটির এসব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও সরকার ও প্রশাসনের তরফে আসছে নানামুখী বাধা। প্রশাসনের বাধার কারণে একাধিক কর্মসূচি পালন করতে পারেনি বিএনপি। তবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তৃণমূলে। চিত্র উঠে এসেছে সারা দেশে দলটির সিনিয়র নেতাদের সাংগঠনিক সফরে। অন্যদিকে নিয়ম অনুযায়ী এ বছরের শেষদিকে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। মাঝখানে মাত্র কয়েক মাস সময় বাকি থাকলেও একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক কোনো লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না সরকারের আচরণে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের কঠোর মনোভাবে সিনিয়র নেতারাও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে রাজপথের কর্মসূচিতে যাওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন দলীয় ফোরামে। আর কঠোর আন্দোলনের প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটির নীতিনির্ধারক ফোরাম। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, একমাত্র আইন-আদালত করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তার একমাত্র পথ হলো রাজপথ। কোনো আন্দোলন ছাড়া জনগণের কোনো দাবি আদায় করা সম্ভবপর হয়নি। যে পথে দাবি আদায় করা যাবে সেই পথ তাদের বেছে নিতে হবে। তাই রমজান মাসের পরে তাদের কঠোর কর্মসূচির পথ বেছে নিতে হবে। সেই প্রস্তুতি রয়েছে দলটির। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু এভাবে তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এখন ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলকে আন্দোলন করতে হবে।
এদিকে দলের ৭৮ সাংগঠনিক জেলার কমিটি পুনর্গঠনের একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে সবমিলিয়ে ৫১ সাংগঠনিক জেলা কমিটি পুনর্গঠন করতে পেরেছে দলটি। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে খসড়া কমিটি প্রস্তুত রয়েছে ১৫টির। অন্য কমিটিগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবরও নেয়া শুরু হয়েছে। এদিকে ২০১৭ বছরের ১৮ই এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর-দক্ষিণ দুইভাগে ভাগ করে নতুন কমিটি অনুমোদন দেয় বিএনপি। সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই কমিটির আওতায় রয়েছে ৪৯টি থানা কমিটি ও ৯০টি ওয়ার্ড কমিটি। যার সবগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময়েও সে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও সক্রিয় করতে পারেনি মহানগর উত্তর-দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ নেতারা। দীর্ঘ এ সময়ে সংগঠন গোছানোর দিকে কার্যত কোনো দৃষ্টিই ছিল না তাদের। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল মামলাজনিত কারণে বেশিরভাগ সময় থাকেন আড়ালে-আবডালে। সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারও এ ব্যাপারে তৎপর ছিলেন না। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এম এ কাইয়ুম ইতালীয় নাগরিক হত্যা মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই অবস্থান করছেন মালয়েশিয়ায়। কমিটি গঠনের আগে থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করলেও তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও প্রভাবের কারণে ঢাকা মহানগর উত্তরের নেতৃত্ব পেয়েছিলেন তিনি। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন সাবেক কমিশনার আহসান উল্লাহ হাসান। কিন্তু বিগত এক বছরে দলের সকল কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ দলের নীতিনির্ধারক মহল। অন্যদিকে ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দল ও ২০১৭ সালের ১৬ই জানুয়ারি রাতে যুবদলের কমিটি গঠন হলেও এখন পর্যন্ত দুইটি সংগঠনই তাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি। অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর অবস্থাও একই। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ায় দলীয় কর্মসূচিগুলোতে গা-ছাড়া ভাব দেখাচ্ছেন বিএনপির জেলা, মহানগরসহ অন্যান্য সাংগঠনিক কমিটির নেতারা। নেতাকর্মীরা জানান, দলের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় একদিকে নেতাদের মধ্যে থেকে হারিয়ে গেছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রতিযোগিতার মনোভাব, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। বিএনপিসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল সংগঠনই জোড়াতালির কমিটি দিয়েই পরিচালনা করছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। কিছু কিছু অঙ্গ সংগঠনের জেলা কমিটিগুলোর বয়স পেরিয়ে গেছে এক থেকে দেড় দশকের বেশি। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিগত বছরগুলোতে বারবার হোঁচট খেয়েছে বিএনপির নানা আন্দোলন-কর্মসূচি। এমন পরিস্থিতিতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দাবি আদায়ের আন্দোলন সফল করতে এবার সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়েছে বিএনপি। তারই প্রেক্ষিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আর নির্দেশনা পেয়ে রাতদিন কাজ করছেন ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ মহানগরসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠন ও সাংগঠনিক ইউনিট। দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, সরকারের হামলা-মামলা আর নির্যাতনের কারণে এতদিন তারা সংগঠনকে গোছাতে না পারলেও এখন আন্দোলনের স্বার্থে যেভাবেই হোক তারা তৃণমূলের সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি গঠন করতে চাইছেন। দলের ত্যাগী আর সক্রিয় নেতাদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠনের জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। মে মাসের মধ্যে তাদেরকে এসব কমিটি জমা দেয়ার জন্যও তিনি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
সাংগঠনিক পুনর্গঠনের ব্যাপারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রায় প্রতিটি থানা কমিটি প্রস্তুত করা হলেও রাজনৈতিক কারণে তা ঘোষণা দেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এখন কেন্দ্রের নির্দেশনার কারণে খুব তাড়াতাড়ি তা সম্ভব হবে। জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তারা সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কাজ করছেন। যথাযথ সময়েই কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হবে। এদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে স্বল্পসময়ের মধ্যে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনাকে ভিন্নভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট নেতাদের কেউ কেউ। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বশীল নেতারা নানা অনিয়মের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে পছন্দের লোকজনকে দিয়ে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের রূপনগর ও পল্লবী থানা বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটিতে মৌসুমী নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ করছেন স্থানীয় নেতারা। তারা জানান, বিগত দিনে এই থানায় আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ভূমিকা রেখেছেন তাদেরকে সাইডলাইনে বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে পল্লবী থানার বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর কাজী আলি ইমাম আসাদ বলেন, বিগত দিনের রাজনৈতিক মূল্যায়ন হলে সেভাবেই কমিটি হবে, তা না হলে নিজেদের লোক ভারী করার জন্য পকেট কমিটি হবে। আর পকেট কমিটি হলে দলও তার খেসারত দেবে। এদিকে মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল হকের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক থানা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। তাদের অভিযোগ, মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুমের আস্থাকে পুঁজি করে বিভিন্ন থানা কমিটি গঠনে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছেন শামসুল হক। যা একদিকে এমএ কাইয়ুমকে বিতর্কিত ও অন্যদিকে কমিটি গঠনকে করছে বাধাগ্রস্ত।

পারুল শুধু মাদক সম্রাজ্ঞী নয়, পতিতা রানিও

লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার চর রুহুতি এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের স্ত্রী পারুল বেগম শুধু মাদক সম্রাজ্ঞী নয়, পতিতা রানিও। তার রয়েছে বিশাল পতিতা রাজ্য। যার পেছনে আলাদা আলাদাভাবে কাজ করে শ’ শ’ নারী ও শিশু কিশোর।
চট্টগ্রাম মহানগরীর সবচেয়ে বড় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত সদরঘাট থানার বরিশাল কলোনিতে গত ১৩ বছর ধরে এ সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছে পারুল বেগম (৪৩)। আর জহুরা বেগম (৫৬) ছিল তার অন্যতম সহযোগী।
পারুল জহুরা বেগমকে মা বলে ডাকে। সেই ঘুরে ঘুরে মাদক ও পতিতার খদ্দের জোগাড় করত। এমন তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সৈয়দ আবদুর রউফ। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চালানো অভিযানে ৬৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ পারুল বেগম ও জহুরা বেগম ধরা পড়ে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, জহুরা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার মানিক মিয়ার বাড়ির আবুল হোসেনের স্ত্রী। জিজ্ঞাসাবাদে জহুরা ও পারুলের প্রদত্ত তথ্যে তাদের এই বিশাল অপরাধজগতের কথা জানা গেছে। বরিশাল কলোনির মাদক সম্রাট মোটা হাবিব ও ফারুকের মতো পারুলেরও রয়েছে বড় ধরনের মাদকের হাট।
পারুল জানিয়েছে, সে ভারত থেকে সরাসরি কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল ও কক্সাবাজার থেকে ইয়াবা এনে বরিশাল কলোনিতে জমা করত। সেখান থেকে মাদক কারবারীরা এসে ইয়াবা ও ফেনসিডিল নিয়ে যেত। মাদকসেবীরা এসে তা সেবনও করত।
এ কাজে ৪০ জনেরও বেশি নারী জড়িত। প্রায় ৩০-৩২ জন শিশুকেও মাদক বহন ও বিক্রয় কাজে ব্যবহার করত। যাদের বয়স ১২-১৪ বছরের মধ্যে। এসব শিশু ভাসমান ও টোকাই শ্রেণির। এছাড়া মাদক বিক্রয়ের পাশাপাশি মাদক সেবনকারীদের চাহিদা পূরণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বস্তির উঠতি কিশোরী মেয়ে ও এমনকি অভিজাত শ্রেণির অনেক তরুণীকে পতিতাবৃত্তি কাজে ব্যবহার করত। এ কাজে পারদর্শী বেশি পারুলের ডাক মা জহুরা বেগম।
পারুল জানায়, সে নিজেও পতিতাবৃত্তি করেছে এক সময়। জহুরা বেগমও পতিতা ব্যবসা করত। বয়স বেশি, এখন নিজেদের চাহিদা কম। তাই বস্তি ও ভাসমান কিশোরীদের দিয়ে পতিতা ও মাদক ব্যবসা করে। এ কাজে শতাধিক কিশোরী ও ৪০-৪২ জনের মতো শিশু-কিশোর রয়েছে। এদের মধ্যে নারীরা পারুলকে ডাকে আপা। পুরুষরা ডাকে ভাবি।
নগরীর সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদে পারুল যে তথ্য দিয়েছে তা উঠতি যুবসমাজ, শিশু-কিশোর এমনকি চট্টগ্রামের সার্বিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ যেন অপরাধ জগতের বিশাল ইন্ডাস্ট্রি।
পারুল আরও দম্ভ প্রকাশ করে জানায়, খেতে না পাওয়া নারী, শিশু-কিশোরীকে নাকি সে কাজে লাগিয়েছে। গতর খেটে নাকি তারা পেটের ভাত জোগাড় করছে। অপরাধ জগতের রানি হতে পেরে সে একরকম গর্ববোধ করছে।
ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, পারুলের দেয়া তথ্যমতে তার অপরাধজগতের বাকি সদস্যদের ধরার জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। আশা করি, খুব শিগগিরই পারুলের অপরাধজগত গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১টা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত নগরীর সদরঘাট থানার আইস ফ্যাক্টরি মোড়ে বরিশাল কলোনিতে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের পুলিশ উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন, সদরঘাট থানার ওসিসহ প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নেন। আর এই অভিযান হচ্ছে বরিশাল কলোনিতে চালানো তৃতীয় অভিযান।
১৪ই মে বরিশাল কলোনির মাদক সম্রাট হাবিবুর রহমান প্রকাশ মোটা হাবিব ও তার সহযোগী মোশাররফ র‌্যাবের অভিযানে গোলাগুলিতে নিহত হয়। এরপর গত ২৩শে মে দ্বিতীয় অভিযানে বরিশাল কলোনির গিরাখ্যাত মাদক বিক্রির শতাধিক স্পট গুঁড়িয়ে সাফ করে দেয়া হয়। এরপরও থেমে নেই মাদক বিক্রি।
১৯৮০ সালের শুরুর দিকে গড়ে ওঠা বরিশাল কলোনি ক্রমেই মাদকের রাজ্য হিসেবে পরিচিতি পেলেও এমন সাঁড়াশি অভিযান কোনো সময় চালানো হয়নি। পুলিশ যতবারই এই কলোনিতে অভিযান চালিয়েছে, ততবারই মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের হামলা শিকার হয়েছে।

ভারতের কাছে পাওনাগুলো নিয়ে কথা বলুন: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন- প্রধানমন্ত্রী ভারতের পশ্চিম বঙ্গে সফরে  গেছেন খুব ভালো কথা। কিন্তু ভারতের কাছে বাংলাদেশের যে পাওনাগুলো রয়েছে সে বিষয়ে কথা বলুন। গতকাল রাজধানীর গুলশানের ইম্যানুয়েলস ব্যাংকুয়েট হলে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আয়োজনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা আলমগীর বলেন, ভারতের পশ্চিম বঙ্গ সফরে গেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ করেছেন সেটা অত্যন্ত ভালো কথা। কিন্তু জনগণের প্রশ্ন- ভারতের কাছে আমাদের যে পাওনাগুলো রয়েছে, সমস্যাগুলো রয়েছে সে সমস্যাগুলো সম্পর্কে তিনি কথা বলছেন কিনা? সরকার গঠন করার পর আওয়ামী লীগ বলেছিল তিস্তা নদীর চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার। অথচ তাদের ক্ষমতার দীর্ঘ ৯ বছর হয়ে গেলেও আমরা তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা তো দূরের কথা একফোঁটা পানির বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়নি। শুধু তিস্তা নয়, অভিন্ন ১৫৮ টি নদীর পানির হিস্যার বিষয়ে কোনো চুক্তি এখনো হয়নি। অথচ দেখা যাচ্ছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তি হচ্ছে। আবার ভারত সীমান্তে আমাদের মানুষদের হত্যা করছে। সেই চুক্তি বাদ দিয়ে তাদের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তি হচ্ছে। বিভিন্ন বন্দর হচ্ছে! আমরা অবশ্যই একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সংযোগ স্থাপনের পক্ষে। তবে তাদের থেকে আমারা কি পাচ্ছি সেটা জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমরা বার বার বলেছি এসব বিষয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে ও প্রতারণা করে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা সকল প্রটোকলসহ নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার আইন পাশ করেছে সরকার। কিন্তু তারা যদি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয় তাহলে এই বিধি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তাই আমরা এর বিরোধিতা করছি। এ সময় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বার বার গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। আজ তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেই সরকার মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে কারাগারে রেখেছে। এই সরকার বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে। তবে খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। জনগণ মেনে নেবে না। এজন্য আগামী নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। বিএনপি তাঁর নেতৃত্বেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বরকত উল্লাহ বুলু, নিতাই রায় চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম, আহসান হাবিব লিঙ্কন, নবাব আলী আব্বাস খান, সেলিম মাস্টার, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টি মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ) চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকিব, মুসলিম লীগ সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, লেবার পার্টি (একাংশের) মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, বিজেপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।