Tuesday, August 7, 2012
পিস্টনের উল্লাস by জাহিদা উর্মি
পিস্টনের উল্লাস by জাহিদা উর্মি
বারান্দার এক কোনায় দেয়ালে ঠেকনা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে মিথিলার আজকাল নেশা হয়ে গেছে। অন্য কোন বিশেষ কারণ নেই। এখানটায় বসে সিগারেট খাওয়া আর যত সব আউলাঝাউলা চিন্তা করা তার নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া শীতের শুরুর বিকেলটা কেমন যেন একাকিত্বে ভরা।
এখন যৌবন আর তাই একাকিত্বের বোধ বেশি বেশি টের পায় মিথিলা। একা একা থাকা মিথিলার ভাল লাগে। নিজে নিজেই কবিতা আওড়ায়, ‘আমি আমারই রক্তে করি আমার অহঙ্কার বপন, আর সেই থেকে অঙ্কুরিত হয় আমার মাধুর্যের সাধন।’ আবার নিজেই হাসে। এ যেন এক পাগলামির খেলা। মিথিলা চিন্তা করে, আচ্ছা আমি কি আমার বাবা-মার ভালবাসার ফসল? নাকি অন্য কিছু?
মনে হয় একবার মাকে জিজ্ঞাসা করে, পর মুহূর্তেই ভাবে-ওই সরল মহিলাটা এর উত্তর জানে না, নিশ্চিত। কি লাভ? এত বোধ থাকলে কি আর সে এমন লোকের সংসার করে! যৌবনে মহিলা সুন্দরী ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। এখন তার ছিটেফোঁটা বোঝা যায়। এখন শুধু শরীরের সব খাঁজ মাংসে পরিপূর্ণ। মিথিলার মনে হয় বাবার যে আচরণ মিথিলার সঙ্গে তাতে মনে হয় না মিথিলা তাদের ভালবাসার ফসল। অনিলা বড় বোন, সে হলে হতে পারে কিন্তু তাতেও সন্দেহ আছে মিথিলার। কারণ অনিলাই একমাত্র রোজগার করে সেটাই কারণ কিনা! শাকিলা মেজ, হয়ত অভ্যাসের সন্তান সে। ভাইটা এত ছোট যে, মাঝেমধ্যে লজ্জা লাগে। মনে হয় বাবা-মার হঠাৎ ভীমরতির সে।
মিথিলার ইচ্ছা হয়, একসঙ্গে এক প্যাকেট সিগারেট শেষ করে এক বসাতে। কপাল! সবই কপাল। পয়সার অভাব। বড় বোন অনিলা হাতখরচ দিলেই তার চলে, নইলে তার আর কি ক্ষমতা। বাবার কাছে একসঙ্গে ৫০০ টাকা চাইবার মতো সাহস কিংবা মনোবৃত্তি হয় না। আগাগোড়াই বাবার সঙ্গে একটা অনির্দিষ্ট লাইন টেনে রেখেছে মিথিলা। যা আবদার মা আর বড় বোনটার কাছে করে, তাও খুব সামান্য। এই যুগেও মিথিলার কোন মুঠোফোন নেই। অনিলার চলনবলন কেমন বদলে গেছে বুঝতে পারে মিথিলা। তিন বছর আগে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বিশ হাজার টাকার চাকরি নেয়। তিন বছরে বেতন বেড়ে এখন হয়েছে পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা। কর্মজীবনে খুব ভাল গতিতে এগোচ্ছে বোনটা। রাত করে বাসায় ফেরে। বাড়িতে টাকা দেয়া ছাড়া কোন খবর রাখে না, কিংবা রাখতেও ওর মন চায় না। শাকিলা এইচএসসি পরীক্ষার পর চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে ভেগে গিয়ে বিয়ে করে। একটা বাচ্চা পয়দার পর বিয়েটা ভেঙ্গে যায়। বাচ্চাটা বোনাসসহ ফেরত আসে নির্ধারিত আশ্রয়ে। সারাদিন বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘোরাফেরা ছাড়া অন্য কোন কাজ নেই। একটা বাচ্চা যে ওর পেট থেকে বের হয়েছে সে সেটা ভুলে গেছে বলেই মিথিলার মনে হয়। বাচ্চাটা বড় হচ্ছে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া কোন পশু-পাখির বাচ্চার মতো। মা যখন একটু করুণা করে কিংবা মিথিলা যদি কখনও একটু আদর করে কাছে নেয়, সেটুকুই এই মাসুমের পাওয়া। মা তার মোটা শরীর নিয়ে সংসারের নানান ঝামেলার পর তার শেষ বয়সের ছেলের যতেœর পর একটু দয়াধর্ম করে শাকিলার ছেলের ওপর। মিথিলার মনে হয়, পৃথিবীটাকে সার্ফ এক্সেল দিয়ে একবার ধুয়ে দেয়া উচিত। অথবা এত রং-বেরঙের মসলা মাখিয়ে ওদের মনের মাঝে কিছুটা উৎকৃষ্টমানের স্বাদ জন্মানো যায় যদি। হায়রে রঙের দুনিয়া! যে বারান্দায় মিথিলা রোজ বসে থাকে সেখান থেকে কোন সুন্দর দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হয় না। গলির মধ্যে পাঁচতলার তিন তলায় থাকে। আশপাশের বখাটে রোমিও আর চারপাশের বিল্ডিংয়ে শুকাতে দেয়া নানান রঙের কাপড় ঝোলানো থাকে। মাঝে মধ্যে অশ্রাব্য গালিগালাজ শোনা যায়, তাও পুরা বাড়িটায় এই কোনাটুকুই মিথিলার নিজের মনে হয়। অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হবার পর মাত্র দশ দিন ক্লাস করেছে মিথিলা। প্রায়ই মনের মধ্যে কষ্ট হয়-এতটা সময় পার হলো অথচ আজ অবধি কেউ তাকে প্রেম নিবেদন করল না; যা করেছে তা প্রেম নয়, অন্য কিছু। মিথিলা দেখতে মোটেও ভাল নয়, কিন্তু শরীরের গঠন খুবই সুন্দর। আর তাই পুরুষদের কাছ থেকে প্রেম ছাড়া বাকি সব কিছুর নিবেদন পেয়েছে। ঘেন্না লাগে মিথিলার পৃথিবীটার ওপর। আর বাবা-মার ওপর! কেন জন্ম দিয়েছিল মিথিলাকে? বড় দুই বোন দেখতে সুন্দর।
অনিলার সঙ্গে বাবার খুব ভাব, কিন্তু অনিলা বাবাকে মন থেকে কতটা পছন্দ করে সেটা সে বোঝে না। অনিলা উপার্জনের বেশিরভাগ টাকাই বাবার হাতে তুলে দেয়। মিথিলার বিবেক অনুযায়ী তার বাবার এখন অনিলার বিয়ের কথা চিন্তা করা উচিত। কিন্তু বাবা ঘুণাক্ষরেও সে কথা মুখে আনে না। শাকিলা কিছু করে না, কিন্তু তার সব খরচ চলে যায়। প্রত্যেকটা শখও মোটামুটি পূরণ হয়। বারান্দায় বসলেই পরিবারটার অসমতা দারুণভাবে পোড়ায় মিথিলাকে। তখন সিগারেটের তৃষ্ণা বেড়ে যায়। ছোট ভাইটা স্বাভাবিক নয়। সব কিছু অন্য, বাচ্চাদের মতো হলেও কোথায় যেন একটা গরমিল আছে। কিন্তু এখনও সে নিশ্চিত নয়। এ সব বিষয় পরিবারের কার সঙ্গে আলাপ করবে? অনিলা ছাড়া তেমন কারও সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে না সে। অনিলার সময়ের অভাব। মিথিলা দীর্ঘশ্বাসটাকে নিজের ভেতরেই কবর দেয়। সন্ধ্যায় ঘরে ঢুকে দেখে ঘরের বাইরের ছেঁড়া শোফাটায় শাকিলার ছেলেটা এক পা ঝুলিয়ে ঘুমাচ্ছে। মা আর বাবা দরজা বন্ধ করে তাদের ছেলেটাকে নিয়ে ঘুম দিয়েছে। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে মিথিলার চোখে পানি এসে গেল। বাচ্চাটার সর্দি লেগেছে। নাক দিয়ে সর্দি গড়িয়ে নাকেই শুকিয়ে গেছে। বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিজ বিছানায় শুইয়ে দিল। মন চাচ্ছে শাকিলা বাসায় এলে ওর গালে কষে একটা চড় লাগাবে। বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে মিথিলা ভাবে-এই মাসুম বাচ্চাটার কি দোষ? শাকিলা কেন ছেলেটার প্রতি নজর দেয় না? যদি বাচ্চাটার জন্য ওর কোন অনুভূতি না থাকে তা হলে জন্ম কেন দিয়েছিল? নাকি ওর চামার স্বামীর প্রতিশোধ বাচ্চাটার ওপর তুলছে? অথচ বাচ্চাটার কোন দোষ মিথিলা খুঁজে পায় না। বাচ্চাটা যে এই বাড়িতে থাকে ওকে দেখেই মনে পড়ে সবার- সাড়াশব্দহীন লক্ষ্মী একটা বাচ্চা।
মিথিলাদের বাসার সামনের বিল্ডিংটা বেশ সুন্দর, ভাড়াও বেশি। ওর বসার জায়গার সামনের ফ্ল্যাটটা এতদিন খালি ছিল। আজ বারান্দায় বসার পর মনে হলো কোন লোক উঠছে ফ্ল্যাটটাতে, মালপত্র আসছে। মালপত্র দেখেই বোঝা যায় ভাল অবস্থা এবং রুচিসম্পন্ন। ভালই লাগল, সঙ্গে একটু কষ্টও হলো- সিগারেটের সুখটানের ব্যাঘাত হতে পারে। পরক্ষণেই ভাবল, কার বাপের কি! আমি কি ভয় পাই? মা, অনিলা, শাকিলা সবাই জানে। শুধু জানে না বাবা। জানবে কোথা থেকে, দুনিয়াতে নিজেকে ছাড়া আর কিছু কি ভাবার অবকাশ তার আছে? এত অভাবের সংসারেও তো সে কেমন সুখী সুখী মুখ নিয়ে বসে থাকে। তার মেজাজ বা মুখের ভাবের তখনই ব্যাঘাত ঘটে যখন সে বাজার থেকে ফিরে আসে। বাজার থেকে ফিরেই ভাবটা এমন করে যেন সব বাজার মা একাই খায়, কিংবা সবাই কেন খাওয়া শিখল! ঘণ্টাখানেক মনে কচ কচ করার পর তার মুখের সুখবোধ ফিরে আসে- মা যখন দুপুর ১২টায় এক কাপ চায়ের সঙ্গে পিঁয়াজ-মরিচ দিয়ে আটার চাপড়ি বানিয়ে দেয়।
আজ রাতে এক হাত দেখে নেবে শাকিলাকে- ভাবতে ভাবতেই বাচ্চাটার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘুমিয়ে পড়ে মিথিলা।
মিথিলার ঘুম ভাঙল অনিলা ঘরে ঢোকার পর। ব্যাগটা ড্রেসিং টেবিলে রাখার পর ধুপ করে বসে পড়ল যখন বিছানার ওপর। জিজ্ঞাসা করল, ‘কিরে অসময়ে ঘুমাচ্ছিস কেন? শরীর খারাপ?’ অনিলাই একমাত্র মানুষ যে জানতে চায় মিথিলার কি হয়েছে। মিথিলা উত্তর না দিয়ে বলল, ‘আদা চা বানাতে যাচ্ছি, তুই খাবি?’ ‘আমি খাব। অনিলা বলল, ‘তা হলে মাকে চা দিতে মানা কর। তুই আদা চা করে আন।’
মিথিলা দুই কাপ চা বানিয়ে এনে বোনের সঙ্গে বসল। শাকিলার বাচ্চাটা তখনও ঘুম থেকে উঠে মোচড়ামুচড়ি করছে। মিথিলা বলল, ‘তোর কি মনে হয় না শাকিলা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে? রাত এত হলো, বাসায় আসার নাম নেই’। বাচ্চাটাকে কুকুর-বিড়ালের বাচ্চার মতো পয়দা করে ছেড়ে দিয়েছে। কোন খোঁজখবর রাখে না বাচ্চাটার। অনিলা বলল, ‘হুম, জন্ম যখন দিয়েছে তখন ওর বাচ্চাটা বড় না হওয়া পর্যন্ত, বুঝতে না শেখা পর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে।’ মিথিলার মাথার মধ্যে চড়াৎ করে উঠল, কলিজাটা কাঁপছে। মিথিলা অনিলাকে আবারও জিজ্ঞাসা করল, ‘যতদিন বুঝতে না শেখে, তুই কি এটাই বলেছিস?’ ‘হুম! এটাই বলেছি, তুই এত ইমো খাচ্ছিস কেন?’
মিথিলার বোধের আকাশে আজ আর একটা কাঁটা বিঁধল। মিথিলা বলল, ‘নারে প্যারা খাচ্ছি না, এমনি বললাম। বাচ্চাটা সারাদিন পায়ে পায়ে কুকুর-বিড়ালের মতো ঘোরে। তোর কি মনে হয় না, শাকিলা যদি মায়ের দায়িত্বটা ঠিকমতো করতে না পারে তো ওকে এতিমখানায় দিয়ে আসা ভাল? অযথা সমাজের কাছে নিজেদের বড়-মহান দেখাবার জন্য ছোট্ট জানটাকে কেন আমরা হাতিয়ার বানিয়েছি। আসলেই বল তো, এই পরিবারে মহান হবার কি দরকার আছে?’ আবার অনিলা রাগের সুরে বলল, ‘মিথিলা চুপ কর, সময়ের আগে বড় হবার দরকার নেই। তুই ছাড়াও এই সংসারে বড় অনেকেই আছে, যারা ভালমন্দ বোঝে। মিথিলা বলল, ‘হাঁ ঠিক ভালমন্দ মাই ফুট। তুই ক্লাসে যাস না কেন? আমার ক্লাসে যেতে ভাল লাগে না। আমি ক্লাসে যাব না। অনিলা বলল, তোর ক্লাসে যাবার জন্য ভাল লাগার না লাগার কি হলো? লেখাপড়া তো করতেই হবে নইলে জীবনে কিছু করতে পারবি না। আমি আর পড়ালেখা করব না। আমার পড়ার পেছনে আর টাকা খরচ করবি না তুই। আর কি কিছু? তোর মতো কিছু?
মিথিলা এবার অনিলার কাঁধে একটা হাত রাখল, বলল, ‘তুই তো পড়েছিস আপু, শাকিলা পড়েনি। কিন্তু তোর আর শাকিলার মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে? শুধু তোরা আলাদা আলাদা ব্যানারে একই কাজ করছিস। একটু ভিন্নভাবে।’
মনে হচ্ছিল অনিলার চোখ ফেটে পানি বের হয়ে আসবে। চোখের পানির যে এত প্রেসার থাকে অনিলা আগে কোনদিন জানত না। আজ ছোট বোনটা কি ঠাণ্ডাভাবে চরম সত্য কথাটা বলে গেল দাড়ি-কমা ছাড়া! অদ্ভুত এক ভাল লাগায় অনিলা মিথিলার মুখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকল। তারপর মুচকি হেসে বলল, ‘কিরে, মাথা এত গরম কেন? টাকাপয়সা লাগবে নাকি?’ মিথিলা এবার বলল, ‘তুই আমার অহঙ্কার কোনটা তা তো জানিস। কোন্ অধিকারে তুই আমার অহঙ্কারের জায়গাটা নষ্ট করলি?’ আবার অনিলা মিথিলার হাতটা বুকে চেপে ধরে বলল, ‘তুই যে অনেক ছোট আর তাই বুঝিস না। আমার স্বপ্ন আছে, ইচ্ছা জাগে। কিন্তু কি করব বল, এতগুলো জীবন, এতগুলো মুখের আহারের জন্যই স্বার্থপর হতে পারি না।’ মিথিলা এক ঝটকায় হাত সরিয়ে নিয়ে বলল, ‘এসব মুখের জন্য খাবার যোগাড়ের দায়িত্ব তোর না। জন্ম তো তুই দিসনি। তুই তো একটু আগেই শাকিলার ছেলের বেলায় বললিÑ ‘জন্ম যখন দিয়েছে তখন বুঝতে শেখার আগ পর্যন্ত দায়দায়িত্ব আছে।’ অনিলা বলল, ‘জন্ম কি শুধু পেট থেকেই দেয়, না পাগল একজন মানুষের বোধের আড়ালে অনেক কিছুর জন্ম হয়? যেমন আমার ছোট ভাইবোনগুলোর জন্ম আমার বোধেই জন্ম আর তাই আমি এখন কোন কিছু ভালমন্দের বিচার করি না।’ টস টস করে অনিলার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
মিথিলা চেয়ে দেখছে। একই মায়ের পেটের বোন এমন আকাশ-পাতাল হয় কেমন করে? অনিলা কাঁদছে বলেই কি ওকে আজ বেশি সুন্দর লাগছে? হিংসা হচ্ছে না কেন মিথিলার? মিথিলা ভাবছে। অনিলা চোখ মুছে বলল, ‘আমাদের হাবলুটা কোথায়রে?’ মিথিলা আবার মুখ শক্ত করে বলল, ‘আর কোথায় হবে, বাবা-মার ঘরে। বুড়ো বয়সের ভীমরতি আর মেয়ের কামাই খেয়ে লোকটা সুখেই আছে। কিন্তু সুখবোধ আর কয়দিন ধরে রাখবে, প্রকৃতি তাকে খুব জলদি এই সুখবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে।’ অনিলা গোঙানির মতো করে চিৎকার দিয়ে বলল, ‘কি বলতে চাস তুই? তুই কি মৃদুলের দিকে দেখিস না আপু? তুই কি বুঝতে পারিস না ও আর দশজন বাচ্চার মতো নরমাল না?’ অনিলা আবার সব বাঁধ ভেঙ্গে হু হু করে কাঁদতে শুরু করল। ‘বুঝি মিথিলা আমার কষ্টের দরজা-জানালা খুলে বসলে কি এর সমাধান হবে? একদিন আমি চলে যাব। আর কি করতে পারি এই পরিবারটার জন্য?’ মিথিলা বোনকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘তুই তো সব করছিস। তোকেইবা কেন দোষ দেব? আমার জেদ হয় ওই লোকটার ওপর, যে কিনা জন্ম দেয়া ছাড়া আর কিছুই করছে না।’ অনিলা বলল, ‘আমার অংশগ্রহণ এই সংসারে মাত্র তিন বছর। তার আগে বাবাই সব দেখেছেন। সে যেভাবেই হোক না কেন।’ মিথিলা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপু তুই বলত, কতটা শ্রদ্ধা তোর তার ওপর আছে?’ ‘বাদ দে না এসব।’
‘শাকিলা কেন রাত করছে, দেখ তো একটা ফোন করে।’ মিথিলা বলল, ‘না ওকে আমি ফোন করব না; ও এখন বাচ্চা না বরং বাচ্চার মা। যা কিনা ও ভুলে গেছে।’
‘আপু মৃদুলকে বেশিদিন লুকিয়ে রাখা যাবে না। তুই কি জানিস, কোন অস্ত্রোপচার করে ওকে স্বাভাবিক ছেলেতে রূপান্তরিত করা যায় কিনা।’ অনিলা বলল, ‘যায়। টাকা লাগবে অনেক, আর লোকজানাজানি হবেই। সেটা একটা চিন্তার ব্যাপার না। আমি ডাক্তার বন্ধুদের কাছ থেকে খবর নেব।
এর মধ্যেই মা বলে গেল খাবার দেয়া হয়েছে। সবাই খেতে বসলাম। এর মধ্যেই শাকিলা এলো। মা খেতে ডাকল। সে বলল, ‘খেয়ে এসেছি, খাব না।’ বলেই রুমে চলে গেল। শাকিলা আর ওর ছেলে এক ঘরে থাকে। মৃদুল মা-বাবার সঙ্গে। অনিলা-মিথিলা এক রুমে। খাওয়া শেষ করে মিথিলা শাকিলার ঘরে ঢুকল। সে আজ শাকিলার বিডিনিউজ নিয়ে ছাড়বে। ঘরে ঢুকে যা দেখল, শাকিলা কাপড় না বদলেই ঘুমিয়ে পড়েছে। জেদে নিজের ঘরে ফিরে একটা সিগারেট ধরালো। পাশের বাসার ছেলেটা দারুণ গিটার বাজায়। মিথিলার খুব ভাল লাগে। সে বসে বসে গিটার শুনছে আর সিগারেট খাচ্ছে। এরই মধ্যে অনিলাও পাশে বসল। বলল, ‘দে আমায় একটা জ্বালিয়ে দে।’ অনিলা বলল, ‘বাহ! ছেলেটা তো দারুণ বাজায়।’ তারপর চুপচাপ দুই বোন। কোন কথা নেই শুধু সিগারেটের ধোঁয়া উড়ছে। মিথিলা বলল, ‘বাবা-মার ভুলের সন্তান আমি। সেটা জেনেই আমি তোকে বলছি, তুই ভালবাসার সন্তান তাদের। নিজের জীবনটা নষ্ট করিস না এভাবে। নিজের কথা কিছু নিজেই ভেবে নে।’ অনিলা বলল, ‘খুব বেশি পেকেছ। এখন ঘরে চলো ঘুমাবে।’
মিথিলা জোরে হেসে উঠে বলল, ‘পেকেছি তো বটেই; মানুষের তাকানো দেখলে সেটা বুঝতে পারি। আমি আমারই রক্তের মধ্যে বপন করি আমার অহঙ্কার, আর সেই থেকে ধেয়ে আসে জোয়ার ঘৃণার।’ অনিলা বলল, ‘কি ওসব বকিস তুই আজকাল? চল ঘুমাবি’। ‘তুই যা আমি আসছি।’ অনিলা চলেই যাচ্ছিল। মিথিলা বলল, ‘দাঁড়া।’ ‘অনিলা ঘুরে দাঁড়াল। মিথিলা আবার বলল, ‘তোর ইচ্ছা করে না ঘর বাঁধতে?’
অনিলা মিথিলার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, ‘হ্যাঁ করে, অনেক করে। কিন্তু আমি যে ঘরটায় বাধা পড়ে গেছি।’ বলেই ভেজা চোখে গট গট করে ঘরে ঢুকে গেল।
মিথিলা বারান্দায় বসে রইল। কেমন যেন রহস্যময়ী পৃথিবীটাকে লাগছে। চাঁদ মিটিমিটি হাসির সঙ্গে চিকন খোঁচা দিচ্ছে। যদিও ঘোলাটে মেঘ চাঁদের স্বচ্ছ আলোকে গ্রাস করে ফেলেছে। আরেকটা সিগারেট ধরালো মিথিলা। আহা! কি অদ্ভুত সুন্দর গিটারের আওয়াজটা। নেশা লাগছে আজকের এই রাত, গিটার, রহস্যময়ী চাঁদ আর নিজ বাস্তবতা।
বেট লাগিয়ে বলতে পারি, পৃথিবীর কোন আর নেশা নেই যা আজকের মতো নেশা আমায় ধরাতে পারে। আজ হঠাৎ গিটার বাদকের সঙ্গে কথা বলতে খুব ইচ্ছা হচ্ছে। প্রায়ই দেখা যায় বারান্দায়। দেখতে তেমন সুন্দর না কিন্তু চোখের মধ্যে যেন কি আছে। বেশিক্ষণ তাকানো যায় না। মিথিলা এমনিতেই অসামাজিকতায় অভ্যস্ত নয়, তাও এক-আধবার চোখাচখি হয়েছিল। আরও একটা সিগারেট ধরালো, আবার মনটা বিস্বাদে তিতা হয়ে গেল, আর ক্রোধে মগজটা গরম। কারণটা মিথিলা জানে। ওই ছেলেটাকে নিয়ে চিন্তা করাটাই ওর বিরক্তি লাগছে। কিন্তু মেজাজ আবার শাকিলার ওপর বিগড়ালো। ওকে চড়টা মারতে পারলে হয়ত আজ শান্তি পেত। ঘুমও আসছে না। যদি একটা মোবাইল থাকত তা হলে হয়ত কোন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটান যেত কিংবা গিটারবাদকের সঙ্গে।
যত সময় যাচ্ছে জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, অস্থিরতা বাড়ছে।
অনিলা সকালে ঘুম থেকে ওঠে অফিসের জন্য। মিথিলা ঘুমাচ্ছে। একটা কাগজ-কলম নিয়ে ছোট্ট একটা নোট লেখল মিথিলার জন্য। “কালের ছোবল উজাড় করে যখন স্বপ্নের আকাশ, জীবনকে বেঁধে দেয় সীমাবদ্ধতায়, বপন করে মৃত্যুঞ্জয়ী ভাললাগা, যার অসীমতা ছুঁতে পারে না চিরসত্য মৃত্যু।” কাগজটা মিথিলার মাথার কাছে রাখে। আরও লিখল জীবনে সব স্বপ্ন সবার জন্য নয়, কিছু স্বপ্ন শুধুই স্বপ্নে ভাল লাগে। তবে আমারও স্বপ্ন পূরণের সাধ জাগেরে মিথু। আচ্ছা শোন, আজ তোর জন্য একটা মোবাইল আনব। তুই সারাদিন একা বড় মন খারাপ করে থাকিস। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বললে তোর ভাল লাগবে, আপু।
নোটটা রেখে মিথিলার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মিথিলা নোটটা দেখল কিন্তু পরে পড়বে ভেবে রেখে দিল। প্রথমেই নাইটস্যুট পরেই বারান্দায় গেল। মিথিলার নাইটস্যুট হলো ঢিলা পায়জামা আর টি-শার্ট। বারান্দায় দাঁড়িয়েই দেখে ছেলেটিকে। খুব সম্ভবত ওর নাম অর্ঘ্য। মিথিলাকে দেখে ছেলেটি ঘরে ঢুকে গেল। একটু পরে ওর বোন এলো। সে আজ নিজে থেকেই জিজ্ঞাসা করল, ‘এই, তুমি এত পাশে থাক, কথা বল না কেন?’ মেয়েটির নাম অর্পিতা। মিথিলা বেশ লজ্জা পেল। ঠিক বুঝতে পারছিল না কি উত্তর দেবে। বলল, ‘না, বলতাম। কিন্তু ভাল কাজটা তো তুমি আগে করে নিলে।’ ‘যাক, আমি মিথিলা’ বলতেই মেয়েটি বলল- ‘তোমার কিছুই বলতে হবে না। তোমাদের সম্পর্কে সব জানি।’ ‘আমরা তো নতুন এসেছি। আমাদের এখানে একবার বেড়াতে আসা তোমার উচিত ছিল। আমরা একই বয়সী।’ আবার মিথিলা কিছু বলার সুযোগ পেল। বলল, ‘তুমি খুব মিষ্টি করে আর আপন করে কথা বলতে পার। আমি পারি না। তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারলে আমারও ভাল লাগবে। আসব একদিন।’ অর্পিতা বলল, না, একদিন না। আজই আমি আসব তোমায় নিতে আর তোমার বাবা-মার সঙ্গে আদাব-সালাম করে আসব।’ মেয়েটি অসম্ভব শার্প আর ভদ্র। মিথিলা নিজের ঘর নিয়ে মোটেও তৃপ্ত নয়। বুকটা ধড়াস করে উঠল। কি যে যন্ত্রণায় ফাঁসলাম! মানাও করা যাবে না। ঠিক হলো অর্পিতা এগারো-বারোটায় আসবে। আজ দুপুরে ওদের ওখানেই মিথিলা খাবে।
মিথিলা বোনের চিরকুটটা বের করল, পড়ল। মাথায় তেমন কিছুই ঢুকল না। শুধু জানল, আজ ওর জন্য মোবাইল আসবে। খুব খুশি লাগল। অনেকদিন পর আজ মিথিলা খুশি হলো। এই খুশি শুধুই মোবাইলের জন্য নয়, সেটাও বুঝল। মিথিলার তেমন কোন কাপড়-চোপড় নেই। সে জিন্স আর টি-শার্টই পরে। আজ একটা কালো জিন্সের সঙ্গে ফিরোজা টি-শার্ট পরল। যদিও মিথিলা শ্যামলা কিন্তু কখনই রং বেছে পরে না। মিথিলার বিশ্বাস, সব রঙের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে, আর সেটা মানুষের গায়ের রয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না। মানাক বা না মানাক; বোল্ডলি মিথিলা সব রং পরে।
বেল বাজতেই মিথিলা দরজা খুলে অর্পিতাকে স্বাগত জানাল। নিজের রুমে নিয়ে বসাল। অর্পিতা বলল, ‘বাহ! তোমার রুমটা চমৎকার, ছিমছাম। বাড়তি কিছু নেই, আমার এমনটা খুব ভাল লাগে।’ মিথিলার ঘরে একটা বিছানা আর ড্রেসিং টেবিল ছাড়া আর কিছু নেই। আবার অর্পিতা বলল, ‘চল, তোমার বাবা-মার সঙ্গে পরিচিত হই।’
ওকে নিয়ে বাবার ঘরে গেলাম। বাবা কাগজ পড়ছিল। ওকে দেখে হেসে নাম জিজ্ঞাসা করল। তারপর এ-কথা সে-কথা। বাবা অনর্গল ইংরেজীতে ওর সঙ্গে কথা বলছে দেখে মিথিলা এই প্রথম বাবার দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম। এই প্রথম বাবা আমায় মুগ্ধ করে দিল। অনেক কথার মাঝে উঠে এলো বাবা যে আগে পেন্টিং করতেন সে কথা। অর্পিতা বলল, ‘আমাদের ঘরে আপনার একটি পেন্টিং আছে। ওটা আমি আমার বাবার কাছে আবদার করে কিনেছিলাম। ওই পেন্টিংটায় একটা মেয়ে হাঁটু গেড়ে দুই হাঁটুর মাঝে মুখ লুকিয়ে বসে আছে, আর তার বাম দিকের চোখ থেকে পানি নয় রক্ত বের হচ্ছে। আমি পেন্টিংটার কিছুই বুঝিনি; তবে আমার খুব ভাল লেগেছিল।’ মিথিলার বাবা বলল, ‘ওটাই আমার জীবনের শেষ পেন্টিং ছিল। ইচ্ছা ছিল নিজে রাখব কিন্তু পারিনি। অল্প কিছু টাকায় গুলশানের এক দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিলাম। আর পেন্টিংটা মিথিলা যখন ওর মায়ের পেটে তখন আঁকা। এরপর ছেড়ে দিয়েছি।’ মা চা আর সমুচা আনল অর্পিতার জন্য। অর্পিতা খুব আগ্রহ নিয়ে খেল, কিন্তু স্রেফ একটাই। তারপর বলল, ‘চাচা আজ মিথিলাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে এসেছি। আমরা একসঙ্গে দুপুরে খাব। তারপর গল্প করে বিকালে একটু ঘুরে ও চলে আসবে।’ মিথিলার বাবা বলল, ‘বেশ তো যাও। এটাই তো জীবনের সবচাইতে সুন্দর সময়। মড় ধহফ বহলড়ু ুড়ঁৎংবষভ’. আবার মিথিলা বাবার মুখটা ভালমতো দেখল। কথায় যেন বাবাকে সে চিনতে পারেনি!
অর্পিতাদের বাসাটা ছবির মতো। ওর বাবা দেশে কম থাকেন। মা-ও খুব স্মার্ট। খুব সুন্দর করে কথা বলেন। অনেকক্ষণ ড্রইংরুমে বসে কথা বলল ওরা। আবার অর্পিতা মিথিলাকে ওর ঘরে নিয়ে গেল। ঘরে ঢুকেই পেন্টিংটা মিথিলার চোখে পড়ল। একদম জীবন্ত। অথচ জীবনেও সে জানত না, তার বাবা একজন শিল্পী। তাঁর শিল্পকর্ম অন্য বাসায় এসে দেখল। রাগ হলো মনে মনে বড় বোন আর মার ওপর। ওরা কেন কোনদিন মিথিলাকে এ কথা জানায়নি!
অনেকক্ষণ পর অর্পিতার ভাই এলো। অর্পিতা পরিচয় করিয়ে দেবার চেষ্টা করার আগেই সে বলল, ‘আমি চিনি ওকে।’ অর্পিতা বলল, ‘তোরা গল্প কর, আমি একটু আসছি।’ কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর অর্ঘ্য বলল, ‘তুমি এত সিগারেট খাও কেন?’
মিথিলা চুপ। অর্ঘ্য আবার বলল, ‘তোমার ভাল লাগে, তাই, না? তোমার কোন বন্ধু নেই, ওই সিগারেটই তোমার বন্ধু।’ মিথিলা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কি করেন?’ অর্ঘ্য বলল, ‘প্রথমে তো আপনি নয়, আমায় কেউ আপনি বললে আমার ভাল লাগে না। আমি গইঅ করছি।’
অর্পিতা এলো। তিনজন মিলে অনেক গল্প হলো। আবার খাবার খাওয়ার পালা। সেটাও শেষ হলো। এর মধ্যেই অর্ঘ্যর এক বন্ধু এলো। দেখেই বোঝা যায়, ভীষণ রকমের বড়লোক হবে! ওর গাড়িতে করেই বিকালে বের হলাম ঘুরতে। ক্লাব জেলেত-এ আইসক্রিম খেলাম। ছেলেটা বিল দেবে কিন্তু অর্ঘ্য কিছুতেই সেটা দিতে দিল না। যখন ফিরে আসছি অর্ঘ্য, অর্পিতা ওর মায়ের পছন্দের আইসক্রিম নিচ্ছিল, ছেলেটা বলল, ‘ুড়ঁ যধাব াবৎু ংবীু ভরমঁৎব, সধু ও যধাব ুড়ঁৎ পবষষ হড়.?’ আমি বললাম, ‘আমার সেলফোন নেই; তবে আজ আপু নিয়ে আসবে।’
‘ওহ! গুড। নম্বরটা দিও।’
এরই মাঝে ওরা দু’জন চলে এলো। গাড়িতে অর্পিতাও আমার নম্বর জিজ্ঞাসা করেছিল। আমি বললাম, ‘কাল দেব। আজ এখন পর্যন্ত আমার কোন নম্বর নেই।’
বাসায় ফেরার পর মিথিলা বলল, ‘এখন যে যেতে হবে।’ অর্ঘ্য বলল, ‘তুমি আবার আসবে।’ মিথিলা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল।’
বাসায় ফিরে বাবার ঘরে গেলাম। বাবাকে বললাম, ‘তোমার পেন্টিংটা খুব সুন্দর আর জীবন্ত। তুমি কি আমায় এঁকেছিলে?’ বাবা কথার উত্তর না দিয়ে বলল, ’কেমন ওরা?’ মিথিলা বলল, ‘খুব ভাল।’
মিথিলা নিজ ঘরে গিয়ে চিন্তা করছিলÑ আজ সারাদিন খুব ভাল কাটল, শুধু সাজিদ নামের ওই ছেলেটির কুদৃষ্টি ছাড়া। যদিও মিথিলার ফিগারটা আসলেই মানুষকে বেশি আকর্ষণ করে। কিন্তু তাতে তো আর মিথিলার করার কিছু নেই। যাক, এখন অনিলার জন্য অপেক্ষা।
আজ অনিলা তাড়াতাড়ি চলে এলো। হাতে একটা নকিয়া প্যাকেট ধরিয়ে দিল। অনিলাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল মিথিলা। ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। একটু পরে দেখে, অনিলা স্যুটকেস গোছাচ্ছে। মিথিলা বলল, ‘কিরে, কোথায় যাবি?’ অনিলা হাসতে হাসতে বলল, ‘ওই যে তুই বললি না ঘর বাঁধতে মন চায় কিনা! তো ঘর বাঁধতে যাচ্ছি।’
আপু মশকরা ছাড়। বল না, কোথায় যাচ্ছিস?’
অনিলা বলল, ‘অফিস থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছি চার-পাঁচ দিনের জন্য।’ মিথিলা তারপর গড়গড় করে আজকের সব ঘটনা বলল।
অনিলা বলল, ‘তা হলে তো আজ তোর দিনটা অনেকদিন পর ভাল কেটেছে! বন্ধুত্বটা রাখিস। ওরা যখন ভাল মানুষ। অসুবিধা কোথায়?’ ‘হুম! কিন্তু আপু, আমি প্রথম কলটা অর্পিতাকে করতে চাই। কি করে নম্বরটা দেব?’ ‘পাগল! রাত মোটে আটটা। গিয়ে দিয়ে আয় না।’ ‘হুম, ঠিক বলেছ। কিন্তু উপরে উঠব, না ওদের দারোয়ানের হাতে দিয়ে অর্পিতাকে দিতে বলব?’
মিথিলা তাই করল। মিথিলার ফোন রিং বাজল কিন্তু অর্পিতা নয় অর্ঘ্য বলল, ‘এটা আমার নম্বর। সেভ করে রেখ। আমি অর্পিতাকে দিচ্ছি।’ অর্পিতা ফোন ধরেই এত খুশি হলো যেন ফোনটা এই নতুন হাতে পেয়েছে। কিছুক্ষণ কথা বলার পর ফোনটা রেখে অনিলার কোলে মাথা রেখে শুয়ে অভিমানের সুরে বললÑ ‘আপু তুইও তো কোনদিন বলিসনি বাবা পেন্টিং করত? জানিস, আজ বাবা কি সুন্দর করে অর্পিতার সঙ্গে ইংলিশে কথা বলেছে।’ অনিলা বলল, ‘মিথিলা, আমাদের বাবা সেই যুগের মাস্টার্স করা। তুই বাবাকে কি মনে করিস? বাবা এক সময় অনেক ভাল চাকরিও করত। সেখানে বাবার ওপর ষড়যন্ত্র করে চুরির দায় দেয়। বাবা তার সর্বস্ব বিক্রি করে। আমরা ঢাকা শহরে চলে আসি। এখানে বাবা ছোট একটা চাকরি পায়; সেটা দিয়েই আমাদের পড়ালেখা, সংসার চালায়। তারপর বাবার জন্মগত শারীরিক একটা ত্রুটি আচ্ছে । বাবার একটা কিডনি। সেখানেও সমস্যা। ডাক্তার কাজের চাপ কমাতে বলে, টেনশন করতে মানা করে। এভাবে আমরা আস্তে আস্তে নিচের দিকে গড়িয়ে যাই। চাচারা কিছু সাহায্য দিত আমার চাকরির আগ পর্যন্ত। তারপর শাকিলার ঘটনার পর সব বন্ধ। কেউ খবরও রাখে না।
সেই রাতের সমাচার শেষ হলো। পরদিন সকালে অনিলা চট্টগ্রাম যাবে, সে ঘুমাতে চলে গেল। মিথিলা বারান্দায় গিয়ে সিগারেট ধরাতেই ফোন বাজল। অর্ঘ্য বলল, ‘কম করো সিগারেট খাওয়া।’ মিথিলা হাসল। বলল, ‘তুমি কেন এত অস্থির হচ্ছ?’ তারপর অনেক গল্প হলো। মিথিলা বুঝতে পারল, অর্ঘ্য তাকে পছন্দ করা শুরু করেছে। সারারাত কথা হলো। অনেক কথা; যার কোনটার অর্থ আছে কোনটার নেই। কথা শেষ করার আগে অর্ঘ্য বলল, ‘জান, আমার কি মনে হয়, মনে হয় ইস্ এই মেয়েটিকে যদি আমি সুখী দেখতে পেতাম! তোমার অনেক কষ্ট, সেটা বুঝি। কিন্তু কিসের সেটা নিশ্চিত নই। তবে তুমি অনেক সুখী হবে।’ আবার হেসে বলল অর্ঘ্য, ‘আমাকে তোমার কেমন লাগে, মিথিলা?’ মিথিলা চুপ। কোন শব্দ নেই। অর্ঘ্য আবার জিজ্ঞাসা করল। মিথিলা বলল, ‘তোমার গিটার বাজানো আমার খুব ভাল লাগে।’ অর্ঘ্য বলল, ‘সরল উত্তরটার অপেক্ষায় রইলাম। যাও ঘুমাতে। আর একটিও সিগারেট খাবে না।’ মিথিলা সুবোধ বালিকার মতো ঘরে চলে গেল।
যতক্ষণ বিছানায় ছিল ছটফট করছিল। এই জীবনের প্রথম তাকে কেউ সত্যিকারের ভালবাসার প্রস্তাব দিল। কি করবে মিথিলা ?
অনিলা ঘুম থেকে উঠে বলল, ‘কিরে রাতে ঘুমাসনি?’
মিথিলা বলল, ‘না, ঘুম আসেনি।’ ‘কেন রে, কি হলো তোর?’ মিথিলা অনিলার গলা জড়িয়ে বলল, ‘এই প্রথম কেউ আমায় প্রেম নিবেদন করেছে।’ অনিলা বলল, ‘ওয়াও’! গুড। তা কে সে? ‘অর্ঘ্য।’ ‘হুম্ম, ছেলেটা তো ভাল। ফ্যামিলিও ভাল। তো বাধা কোথায়?’ মিথিলা বলল, ‘কোথাও না। ওর আগেই আমি ওর প্রেমে পড়েছি। আমি বলিনি, ও বলেছে।’ অনিলা তাড়াহুড়া করে বলল, ‘ঙক, গুড! আমায় বেরোতে হবে। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রওনা দেব। পাঁচ-ছয় দিন লাগবে। খেয়াল রাখিস সবার। আর তুই সুখী হ, এই দোয়া করি।’ মিথিলা বলল, ‘মনে হচ্ছে আর ফিরবে না। সারাজীবনের জন্য যাচ্ছ। যত ঢং শিখেছ না তুমি আপু। যাক, সাবধানে যেও।’ অনিলা বাবার হাতে মাসের মাঝখানেই বেশ কিছু টাকা দিয়ে বলল-‘ওষুধ ঠিকমতো খেয়ো।’
অনিলা চলে গেল। মিথিলা অর্ঘ্যকে ফোন দিল। অর্ঘ্য ফোন কেটে দিয়ে কলব্যাক করল। মিথিলা বলল, ‘আজ বিকেলে বাইরে যাব? হুম্ম, তুমি রেডি থেকো, তিনটায়। কারণ পাঁচটায় বেটা সাজিদকে নিতে হবে, আগেই প্রোগ্রাম করা ছিল।’ মিথিলা বলল, ‘তা হলে অর্পিতাকেও নিতে পারি।’ অর্ঘ্য বলল, ‘না তার দরকার নেই। দুই ঘণ্টাÑ তুমি আর আমি শুধু।’
ওরা তিনটায় বেরুলো। অনেক কথা, গল্প, ভাল লাগা না লাগা; অনেক কিছুই কথা হলো। কিন্তু কেউ কমিটমেন্ট কিছুই করল না। ওটাই স্বাভাবিক। প্রথম দিনে কিসের কি? জানাশোনা আগে দরকার। অর্ঘ্য বলল, ‘আমরা দশ দিনের জন্য টক যাচ্ছি পরশু। আমি ওখান থেকেই কল দেব তোমায়।’ অর্ঘ্য এবার ঘড়িটা দেখল, ‘শালা টাইমটা এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো। চলো সাজিদকে নিয়ে নিই, ওয়েসটিনে অপেক্ষা করছে।’ ওকে উঠিয়ে এমনি এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করল। বাসায় ফেরার সময় সাজিদ সঙ্গে এলো। সবাই আবার একটু অর্পিতাদের বাসায় বসে চা খেতে খেতে আড্ডা দিল। মিথিলা চলে আসার সময় সাজিদ মিথিলার ফোন নম্বর নিলো। বাসায় এসে মাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘অনিলা কল দিয়েছিল কিনা।’ ‘চারটার দিকে দিয়েছিল।’ মিথিলা কল করার চেষ্টা করল, হলো না। মিথিলা নতুন সম্পর্ক নিয়ে বেশ মউজে আছে। দু’দিন পার হলো, অনিলার কোন খবর নেই। সবাই ভাবল, হয়ত নেটওয়ার্ক প্রবলেম। বাবার মুখটা খুব চিন্তিত- বিষণœ। শরীরটাও খারাপ করেছে। অর্ঘ্যরাও টক চলে গেলো।
একদিন রাতে বাবার ভীষণ জ্বর। পেটে কোমরে পিঠে ব্যথা। বাবাকে হাসপাতালে নিতে হলো। শমরিতায় ওখানকার ডাক্তার সব দেখে বলল, অপারেশন করতে হবে কিডনি ম্যাচ করিয়ে। বিশাল টাকার অঙ্ক। মিথিলা পাগলের মতো ফোনে চেষ্টা করল অনিলাকে। ওর ফোন বন্ধ। অর্ঘ্য ওর ওখানকার নম্বর দিয়ে যায়নি। শাকিলা কোথা থেকে যেন বিশ হাজার টাকা আনল। সে রাতেই কিডনি ম্যাচ করানো হলো- মিথিলা-শাকিলা দু’জনেরটাই ম্যাচ করেছে।
কিন্তু টাকা? মিথিলা সাজিদকে কল দিল। সে এলো। টাকা সে দেবে। শর্ত একটাই- তার পিএ হয়ে থাকতে হবে। মাস মাহিনা পাবে। কিন্তু কোন কিছুতেই না বলতে পারবে না। মিথিলা বলল, ‘চলো, সব শর্তে আমি রাজি। ডাক্তারকে অপারেশনে প্রস্তুত করতে বলেই আমি তোমার সঙ্গে এক ঘণ্টা থাকব। তারপর টাকা সঙ্গে নিয়ে আসব। এর পর ১৫ দিন আমায় সময় দিতে হবে।’
সাজিদ লাফ দিয়ে উঠল। ‘তুমি কি চালাকি করার চেষ্টা করছ?’ ‘না, আমি আমার বাবাকে আমার কিডনি দেব। আর যদি তুমি ১৫ দিনের আগেই চাও তো আমি চলে আসব।’ সাজিদ বলল, ‘চল, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে যাই।’ সব ঠিক করে মিথিলা গাড়িতে উঠল। শাকিলা বাবাকে কিডনি দেবে না। কারণ তার ভবিষ্যত আছে। আর অনিলার অফিস থেকে মিথিলা খবর পেয়েছেÑঅনিলা এক অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে সেখানে বিয়ে করে চলে গেছে। কিন্তু বলল না কেন? অথৈ চিন্তায় মিথিলা নিজের বিসর্জনের কথা ভুলেই গিয়েছিল। সাজিদ যখন তার শরীরে হাত রাখল তখন খেয়াল হলো। বাবার পেন্টিংটার কথা বড় মনে পড়ছে।
সাজিদ কড়ায়গণ্ডায় সব বুঝে নিল। সব শেষে মিথিলা ফ্রেশ হবার জন্য ওয়াশরুমে গেল। মিথিলার ফোনটা বিছানার ওপরেই ছিল। এরই মাঝে অর্ঘ্য কল করেছিল। সাজিদ কলটা ধরেছিল। অর্ঘ্য অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তুই মিথিলার ফোন ধরলি যে, তাও এই সময়? মিথিলা কোথায়?’ ‘আমার বাথরুমে।’ ‘মানে?’ সাজিদ অর্ঘ্যকে বলেছিল, ‘দোস্ত! একটা মেয়েকে নিয়ে আমাদের বন্ধুত্বে কোন ফারাক আসবে না।’ অর্ঘ্য বলল, ‘ফোনটা রাখ। আর ওকে বলে দিবি, আমার সঙ্গে জীবনেও যেন কথা বলার চেষ্টা না করে।’ মিথিলার বাথরুম থেকে বের হবার পর টাকা সঙ্গে নিয়েই সাজিদ বের হলো। গাড়িতে ওঠার পর সাজিদ মিথিলাকে বলল, ‘অর্ঘ্য কল করেছিল।’ মিথিলা বলল, ‘আমায় দিলে না কেন?’ সাজিদ হেসে বলল, ‘অর্ঘ্য বলেছে-তুমি যেন আর ওর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা না কর।’ মিথিলা সব বুঝে গেল। অর্ঘ্য রাগ হবে, অভিমান করবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একবার তো জানতে চাইতে পারত, কেন আমি এ সময়ে সাজিদের সঙ্গে। মিথিলার একবিন্দুও কষ্ট হচ্ছে না। মিথিলা মনে মনে আবার সেই পুরনো নিজের কবিতাটাকে নতুন করে বলতে শুরু করল “আমি আমারই রক্তে করি আমার অহঙ্কার বপন, আর সেই থেকে হয় মোর স্বপ্নের দহন”। হাসপাতালে পৌঁছে গেল। মা-শাকিলা সবাই খুব ভাল মতোই বুঝল, আমি কোথায় ছিলাম, কেন ছিলাম। কিভাবে টাকা যোগাড় করলাম। মা শুধু আমার কাছে এসে বলল, পৃথিবীতে মা সন্তানের জন্ম দেয়, আজ তুই সন্তান হয়ে তোর বাবা, মা, ছোট ভাইটাকে নতুন করে জন্ম দিলি! তোর ঋণ শোধ করার মতো স্পর্ধা আমার কেন আমার পেট থেকে বের হওয়া অন্য কোন সন্তানেরই নেই। বলেই মা আমায় বুকে চেপে ধরল। তারপর শাকিলার দিকে তাকিয়ে বলল-সব সন্তান তো আর এক হয় না। মার রাগ হলো। শাকিলার তো একবার বিয়ে হয়ে গেছে। ওর কিডনি দিতে সমস্যা কি ছিল। শাকিলা লজ্জা পেল কিন্তু অনুশোচনা মনে হয় না
মনে হয় একবার মাকে জিজ্ঞাসা করে, পর মুহূর্তেই ভাবে-ওই সরল মহিলাটা এর উত্তর জানে না, নিশ্চিত। কি লাভ? এত বোধ থাকলে কি আর সে এমন লোকের সংসার করে! যৌবনে মহিলা সুন্দরী ছিল, তাতে সন্দেহ নেই। এখন তার ছিটেফোঁটা বোঝা যায়। এখন শুধু শরীরের সব খাঁজ মাংসে পরিপূর্ণ। মিথিলার মনে হয় বাবার যে আচরণ মিথিলার সঙ্গে তাতে মনে হয় না মিথিলা তাদের ভালবাসার ফসল। অনিলা বড় বোন, সে হলে হতে পারে কিন্তু তাতেও সন্দেহ আছে মিথিলার। কারণ অনিলাই একমাত্র রোজগার করে সেটাই কারণ কিনা! শাকিলা মেজ, হয়ত অভ্যাসের সন্তান সে। ভাইটা এত ছোট যে, মাঝেমধ্যে লজ্জা লাগে। মনে হয় বাবা-মার হঠাৎ ভীমরতির সে।
মিথিলার ইচ্ছা হয়, একসঙ্গে এক প্যাকেট সিগারেট শেষ করে এক বসাতে। কপাল! সবই কপাল। পয়সার অভাব। বড় বোন অনিলা হাতখরচ দিলেই তার চলে, নইলে তার আর কি ক্ষমতা। বাবার কাছে একসঙ্গে ৫০০ টাকা চাইবার মতো সাহস কিংবা মনোবৃত্তি হয় না। আগাগোড়াই বাবার সঙ্গে একটা অনির্দিষ্ট লাইন টেনে রেখেছে মিথিলা। যা আবদার মা আর বড় বোনটার কাছে করে, তাও খুব সামান্য। এই যুগেও মিথিলার কোন মুঠোফোন নেই। অনিলার চলনবলন কেমন বদলে গেছে বুঝতে পারে মিথিলা। তিন বছর আগে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বিশ হাজার টাকার চাকরি নেয়। তিন বছরে বেতন বেড়ে এখন হয়েছে পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা। কর্মজীবনে খুব ভাল গতিতে এগোচ্ছে বোনটা। রাত করে বাসায় ফেরে। বাড়িতে টাকা দেয়া ছাড়া কোন খবর রাখে না, কিংবা রাখতেও ওর মন চায় না। শাকিলা এইচএসসি পরীক্ষার পর চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে ভেগে গিয়ে বিয়ে করে। একটা বাচ্চা পয়দার পর বিয়েটা ভেঙ্গে যায়। বাচ্চাটা বোনাসসহ ফেরত আসে নির্ধারিত আশ্রয়ে। সারাদিন বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘোরাফেরা ছাড়া অন্য কোন কাজ নেই। একটা বাচ্চা যে ওর পেট থেকে বের হয়েছে সে সেটা ভুলে গেছে বলেই মিথিলার মনে হয়। বাচ্চাটা বড় হচ্ছে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া কোন পশু-পাখির বাচ্চার মতো। মা যখন একটু করুণা করে কিংবা মিথিলা যদি কখনও একটু আদর করে কাছে নেয়, সেটুকুই এই মাসুমের পাওয়া। মা তার মোটা শরীর নিয়ে সংসারের নানান ঝামেলার পর তার শেষ বয়সের ছেলের যতেœর পর একটু দয়াধর্ম করে শাকিলার ছেলের ওপর। মিথিলার মনে হয়, পৃথিবীটাকে সার্ফ এক্সেল দিয়ে একবার ধুয়ে দেয়া উচিত। অথবা এত রং-বেরঙের মসলা মাখিয়ে ওদের মনের মাঝে কিছুটা উৎকৃষ্টমানের স্বাদ জন্মানো যায় যদি। হায়রে রঙের দুনিয়া! যে বারান্দায় মিথিলা রোজ বসে থাকে সেখান থেকে কোন সুন্দর দৃশ্য দৃষ্টিগোচর হয় না। গলির মধ্যে পাঁচতলার তিন তলায় থাকে। আশপাশের বখাটে রোমিও আর চারপাশের বিল্ডিংয়ে শুকাতে দেয়া নানান রঙের কাপড় ঝোলানো থাকে। মাঝে মধ্যে অশ্রাব্য গালিগালাজ শোনা যায়, তাও পুরা বাড়িটায় এই কোনাটুকুই মিথিলার নিজের মনে হয়। অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হবার পর মাত্র দশ দিন ক্লাস করেছে মিথিলা। প্রায়ই মনের মধ্যে কষ্ট হয়-এতটা সময় পার হলো অথচ আজ অবধি কেউ তাকে প্রেম নিবেদন করল না; যা করেছে তা প্রেম নয়, অন্য কিছু। মিথিলা দেখতে মোটেও ভাল নয়, কিন্তু শরীরের গঠন খুবই সুন্দর। আর তাই পুরুষদের কাছ থেকে প্রেম ছাড়া বাকি সব কিছুর নিবেদন পেয়েছে। ঘেন্না লাগে মিথিলার পৃথিবীটার ওপর। আর বাবা-মার ওপর! কেন জন্ম দিয়েছিল মিথিলাকে? বড় দুই বোন দেখতে সুন্দর।
অনিলার সঙ্গে বাবার খুব ভাব, কিন্তু অনিলা বাবাকে মন থেকে কতটা পছন্দ করে সেটা সে বোঝে না। অনিলা উপার্জনের বেশিরভাগ টাকাই বাবার হাতে তুলে দেয়। মিথিলার বিবেক অনুযায়ী তার বাবার এখন অনিলার বিয়ের কথা চিন্তা করা উচিত। কিন্তু বাবা ঘুণাক্ষরেও সে কথা মুখে আনে না। শাকিলা কিছু করে না, কিন্তু তার সব খরচ চলে যায়। প্রত্যেকটা শখও মোটামুটি পূরণ হয়। বারান্দায় বসলেই পরিবারটার অসমতা দারুণভাবে পোড়ায় মিথিলাকে। তখন সিগারেটের তৃষ্ণা বেড়ে যায়। ছোট ভাইটা স্বাভাবিক নয়। সব কিছু অন্য, বাচ্চাদের মতো হলেও কোথায় যেন একটা গরমিল আছে। কিন্তু এখনও সে নিশ্চিত নয়। এ সব বিষয় পরিবারের কার সঙ্গে আলাপ করবে? অনিলা ছাড়া তেমন কারও সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে না সে। অনিলার সময়ের অভাব। মিথিলা দীর্ঘশ্বাসটাকে নিজের ভেতরেই কবর দেয়। সন্ধ্যায় ঘরে ঢুকে দেখে ঘরের বাইরের ছেঁড়া শোফাটায় শাকিলার ছেলেটা এক পা ঝুলিয়ে ঘুমাচ্ছে। মা আর বাবা দরজা বন্ধ করে তাদের ছেলেটাকে নিয়ে ঘুম দিয়েছে। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে মিথিলার চোখে পানি এসে গেল। বাচ্চাটার সর্দি লেগেছে। নাক দিয়ে সর্দি গড়িয়ে নাকেই শুকিয়ে গেছে। বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিজ বিছানায় শুইয়ে দিল। মন চাচ্ছে শাকিলা বাসায় এলে ওর গালে কষে একটা চড় লাগাবে। বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে মিথিলা ভাবে-এই মাসুম বাচ্চাটার কি দোষ? শাকিলা কেন ছেলেটার প্রতি নজর দেয় না? যদি বাচ্চাটার জন্য ওর কোন অনুভূতি না থাকে তা হলে জন্ম কেন দিয়েছিল? নাকি ওর চামার স্বামীর প্রতিশোধ বাচ্চাটার ওপর তুলছে? অথচ বাচ্চাটার কোন দোষ মিথিলা খুঁজে পায় না। বাচ্চাটা যে এই বাড়িতে থাকে ওকে দেখেই মনে পড়ে সবার- সাড়াশব্দহীন লক্ষ্মী একটা বাচ্চা।
মিথিলাদের বাসার সামনের বিল্ডিংটা বেশ সুন্দর, ভাড়াও বেশি। ওর বসার জায়গার সামনের ফ্ল্যাটটা এতদিন খালি ছিল। আজ বারান্দায় বসার পর মনে হলো কোন লোক উঠছে ফ্ল্যাটটাতে, মালপত্র আসছে। মালপত্র দেখেই বোঝা যায় ভাল অবস্থা এবং রুচিসম্পন্ন। ভালই লাগল, সঙ্গে একটু কষ্টও হলো- সিগারেটের সুখটানের ব্যাঘাত হতে পারে। পরক্ষণেই ভাবল, কার বাপের কি! আমি কি ভয় পাই? মা, অনিলা, শাকিলা সবাই জানে। শুধু জানে না বাবা। জানবে কোথা থেকে, দুনিয়াতে নিজেকে ছাড়া আর কিছু কি ভাবার অবকাশ তার আছে? এত অভাবের সংসারেও তো সে কেমন সুখী সুখী মুখ নিয়ে বসে থাকে। তার মেজাজ বা মুখের ভাবের তখনই ব্যাঘাত ঘটে যখন সে বাজার থেকে ফিরে আসে। বাজার থেকে ফিরেই ভাবটা এমন করে যেন সব বাজার মা একাই খায়, কিংবা সবাই কেন খাওয়া শিখল! ঘণ্টাখানেক মনে কচ কচ করার পর তার মুখের সুখবোধ ফিরে আসে- মা যখন দুপুর ১২টায় এক কাপ চায়ের সঙ্গে পিঁয়াজ-মরিচ দিয়ে আটার চাপড়ি বানিয়ে দেয়।
আজ রাতে এক হাত দেখে নেবে শাকিলাকে- ভাবতে ভাবতেই বাচ্চাটার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘুমিয়ে পড়ে মিথিলা।
মিথিলার ঘুম ভাঙল অনিলা ঘরে ঢোকার পর। ব্যাগটা ড্রেসিং টেবিলে রাখার পর ধুপ করে বসে পড়ল যখন বিছানার ওপর। জিজ্ঞাসা করল, ‘কিরে অসময়ে ঘুমাচ্ছিস কেন? শরীর খারাপ?’ অনিলাই একমাত্র মানুষ যে জানতে চায় মিথিলার কি হয়েছে। মিথিলা উত্তর না দিয়ে বলল, ‘আদা চা বানাতে যাচ্ছি, তুই খাবি?’ ‘আমি খাব। অনিলা বলল, ‘তা হলে মাকে চা দিতে মানা কর। তুই আদা চা করে আন।’
মিথিলা দুই কাপ চা বানিয়ে এনে বোনের সঙ্গে বসল। শাকিলার বাচ্চাটা তখনও ঘুম থেকে উঠে মোচড়ামুচড়ি করছে। মিথিলা বলল, ‘তোর কি মনে হয় না শাকিলা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে? রাত এত হলো, বাসায় আসার নাম নেই’। বাচ্চাটাকে কুকুর-বিড়ালের বাচ্চার মতো পয়দা করে ছেড়ে দিয়েছে। কোন খোঁজখবর রাখে না বাচ্চাটার। অনিলা বলল, ‘হুম, জন্ম যখন দিয়েছে তখন ওর বাচ্চাটা বড় না হওয়া পর্যন্ত, বুঝতে না শেখা পর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে।’ মিথিলার মাথার মধ্যে চড়াৎ করে উঠল, কলিজাটা কাঁপছে। মিথিলা অনিলাকে আবারও জিজ্ঞাসা করল, ‘যতদিন বুঝতে না শেখে, তুই কি এটাই বলেছিস?’ ‘হুম! এটাই বলেছি, তুই এত ইমো খাচ্ছিস কেন?’
মিথিলার বোধের আকাশে আজ আর একটা কাঁটা বিঁধল। মিথিলা বলল, ‘নারে প্যারা খাচ্ছি না, এমনি বললাম। বাচ্চাটা সারাদিন পায়ে পায়ে কুকুর-বিড়ালের মতো ঘোরে। তোর কি মনে হয় না, শাকিলা যদি মায়ের দায়িত্বটা ঠিকমতো করতে না পারে তো ওকে এতিমখানায় দিয়ে আসা ভাল? অযথা সমাজের কাছে নিজেদের বড়-মহান দেখাবার জন্য ছোট্ট জানটাকে কেন আমরা হাতিয়ার বানিয়েছি। আসলেই বল তো, এই পরিবারে মহান হবার কি দরকার আছে?’ আবার অনিলা রাগের সুরে বলল, ‘মিথিলা চুপ কর, সময়ের আগে বড় হবার দরকার নেই। তুই ছাড়াও এই সংসারে বড় অনেকেই আছে, যারা ভালমন্দ বোঝে। মিথিলা বলল, ‘হাঁ ঠিক ভালমন্দ মাই ফুট। তুই ক্লাসে যাস না কেন? আমার ক্লাসে যেতে ভাল লাগে না। আমি ক্লাসে যাব না। অনিলা বলল, তোর ক্লাসে যাবার জন্য ভাল লাগার না লাগার কি হলো? লেখাপড়া তো করতেই হবে নইলে জীবনে কিছু করতে পারবি না। আমি আর পড়ালেখা করব না। আমার পড়ার পেছনে আর টাকা খরচ করবি না তুই। আর কি কিছু? তোর মতো কিছু?
মিথিলা এবার অনিলার কাঁধে একটা হাত রাখল, বলল, ‘তুই তো পড়েছিস আপু, শাকিলা পড়েনি। কিন্তু তোর আর শাকিলার মধ্যে কি কোন পার্থক্য আছে? শুধু তোরা আলাদা আলাদা ব্যানারে একই কাজ করছিস। একটু ভিন্নভাবে।’
মনে হচ্ছিল অনিলার চোখ ফেটে পানি বের হয়ে আসবে। চোখের পানির যে এত প্রেসার থাকে অনিলা আগে কোনদিন জানত না। আজ ছোট বোনটা কি ঠাণ্ডাভাবে চরম সত্য কথাটা বলে গেল দাড়ি-কমা ছাড়া! অদ্ভুত এক ভাল লাগায় অনিলা মিথিলার মুখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকল। তারপর মুচকি হেসে বলল, ‘কিরে, মাথা এত গরম কেন? টাকাপয়সা লাগবে নাকি?’ মিথিলা এবার বলল, ‘তুই আমার অহঙ্কার কোনটা তা তো জানিস। কোন্ অধিকারে তুই আমার অহঙ্কারের জায়গাটা নষ্ট করলি?’ আবার অনিলা মিথিলার হাতটা বুকে চেপে ধরে বলল, ‘তুই যে অনেক ছোট আর তাই বুঝিস না। আমার স্বপ্ন আছে, ইচ্ছা জাগে। কিন্তু কি করব বল, এতগুলো জীবন, এতগুলো মুখের আহারের জন্যই স্বার্থপর হতে পারি না।’ মিথিলা এক ঝটকায় হাত সরিয়ে নিয়ে বলল, ‘এসব মুখের জন্য খাবার যোগাড়ের দায়িত্ব তোর না। জন্ম তো তুই দিসনি। তুই তো একটু আগেই শাকিলার ছেলের বেলায় বললিÑ ‘জন্ম যখন দিয়েছে তখন বুঝতে শেখার আগ পর্যন্ত দায়দায়িত্ব আছে।’ অনিলা বলল, ‘জন্ম কি শুধু পেট থেকেই দেয়, না পাগল একজন মানুষের বোধের আড়ালে অনেক কিছুর জন্ম হয়? যেমন আমার ছোট ভাইবোনগুলোর জন্ম আমার বোধেই জন্ম আর তাই আমি এখন কোন কিছু ভালমন্দের বিচার করি না।’ টস টস করে অনিলার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
মিথিলা চেয়ে দেখছে। একই মায়ের পেটের বোন এমন আকাশ-পাতাল হয় কেমন করে? অনিলা কাঁদছে বলেই কি ওকে আজ বেশি সুন্দর লাগছে? হিংসা হচ্ছে না কেন মিথিলার? মিথিলা ভাবছে। অনিলা চোখ মুছে বলল, ‘আমাদের হাবলুটা কোথায়রে?’ মিথিলা আবার মুখ শক্ত করে বলল, ‘আর কোথায় হবে, বাবা-মার ঘরে। বুড়ো বয়সের ভীমরতি আর মেয়ের কামাই খেয়ে লোকটা সুখেই আছে। কিন্তু সুখবোধ আর কয়দিন ধরে রাখবে, প্রকৃতি তাকে খুব জলদি এই সুখবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন করবে।’ অনিলা গোঙানির মতো করে চিৎকার দিয়ে বলল, ‘কি বলতে চাস তুই? তুই কি মৃদুলের দিকে দেখিস না আপু? তুই কি বুঝতে পারিস না ও আর দশজন বাচ্চার মতো নরমাল না?’ অনিলা আবার সব বাঁধ ভেঙ্গে হু হু করে কাঁদতে শুরু করল। ‘বুঝি মিথিলা আমার কষ্টের দরজা-জানালা খুলে বসলে কি এর সমাধান হবে? একদিন আমি চলে যাব। আর কি করতে পারি এই পরিবারটার জন্য?’ মিথিলা বোনকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘তুই তো সব করছিস। তোকেইবা কেন দোষ দেব? আমার জেদ হয় ওই লোকটার ওপর, যে কিনা জন্ম দেয়া ছাড়া আর কিছুই করছে না।’ অনিলা বলল, ‘আমার অংশগ্রহণ এই সংসারে মাত্র তিন বছর। তার আগে বাবাই সব দেখেছেন। সে যেভাবেই হোক না কেন।’ মিথিলা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপু তুই বলত, কতটা শ্রদ্ধা তোর তার ওপর আছে?’ ‘বাদ দে না এসব।’
‘শাকিলা কেন রাত করছে, দেখ তো একটা ফোন করে।’ মিথিলা বলল, ‘না ওকে আমি ফোন করব না; ও এখন বাচ্চা না বরং বাচ্চার মা। যা কিনা ও ভুলে গেছে।’
‘আপু মৃদুলকে বেশিদিন লুকিয়ে রাখা যাবে না। তুই কি জানিস, কোন অস্ত্রোপচার করে ওকে স্বাভাবিক ছেলেতে রূপান্তরিত করা যায় কিনা।’ অনিলা বলল, ‘যায়। টাকা লাগবে অনেক, আর লোকজানাজানি হবেই। সেটা একটা চিন্তার ব্যাপার না। আমি ডাক্তার বন্ধুদের কাছ থেকে খবর নেব।
এর মধ্যেই মা বলে গেল খাবার দেয়া হয়েছে। সবাই খেতে বসলাম। এর মধ্যেই শাকিলা এলো। মা খেতে ডাকল। সে বলল, ‘খেয়ে এসেছি, খাব না।’ বলেই রুমে চলে গেল। শাকিলা আর ওর ছেলে এক ঘরে থাকে। মৃদুল মা-বাবার সঙ্গে। অনিলা-মিথিলা এক রুমে। খাওয়া শেষ করে মিথিলা শাকিলার ঘরে ঢুকল। সে আজ শাকিলার বিডিনিউজ নিয়ে ছাড়বে। ঘরে ঢুকে যা দেখল, শাকিলা কাপড় না বদলেই ঘুমিয়ে পড়েছে। জেদে নিজের ঘরে ফিরে একটা সিগারেট ধরালো। পাশের বাসার ছেলেটা দারুণ গিটার বাজায়। মিথিলার খুব ভাল লাগে। সে বসে বসে গিটার শুনছে আর সিগারেট খাচ্ছে। এরই মধ্যে অনিলাও পাশে বসল। বলল, ‘দে আমায় একটা জ্বালিয়ে দে।’ অনিলা বলল, ‘বাহ! ছেলেটা তো দারুণ বাজায়।’ তারপর চুপচাপ দুই বোন। কোন কথা নেই শুধু সিগারেটের ধোঁয়া উড়ছে। মিথিলা বলল, ‘বাবা-মার ভুলের সন্তান আমি। সেটা জেনেই আমি তোকে বলছি, তুই ভালবাসার সন্তান তাদের। নিজের জীবনটা নষ্ট করিস না এভাবে। নিজের কথা কিছু নিজেই ভেবে নে।’ অনিলা বলল, ‘খুব বেশি পেকেছ। এখন ঘরে চলো ঘুমাবে।’
মিথিলা জোরে হেসে উঠে বলল, ‘পেকেছি তো বটেই; মানুষের তাকানো দেখলে সেটা বুঝতে পারি। আমি আমারই রক্তের মধ্যে বপন করি আমার অহঙ্কার, আর সেই থেকে ধেয়ে আসে জোয়ার ঘৃণার।’ অনিলা বলল, ‘কি ওসব বকিস তুই আজকাল? চল ঘুমাবি’। ‘তুই যা আমি আসছি।’ অনিলা চলেই যাচ্ছিল। মিথিলা বলল, ‘দাঁড়া।’ ‘অনিলা ঘুরে দাঁড়াল। মিথিলা আবার বলল, ‘তোর ইচ্ছা করে না ঘর বাঁধতে?’
অনিলা মিথিলার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, ‘হ্যাঁ করে, অনেক করে। কিন্তু আমি যে ঘরটায় বাধা পড়ে গেছি।’ বলেই ভেজা চোখে গট গট করে ঘরে ঢুকে গেল।
মিথিলা বারান্দায় বসে রইল। কেমন যেন রহস্যময়ী পৃথিবীটাকে লাগছে। চাঁদ মিটিমিটি হাসির সঙ্গে চিকন খোঁচা দিচ্ছে। যদিও ঘোলাটে মেঘ চাঁদের স্বচ্ছ আলোকে গ্রাস করে ফেলেছে। আরেকটা সিগারেট ধরালো মিথিলা। আহা! কি অদ্ভুত সুন্দর গিটারের আওয়াজটা। নেশা লাগছে আজকের এই রাত, গিটার, রহস্যময়ী চাঁদ আর নিজ বাস্তবতা।
বেট লাগিয়ে বলতে পারি, পৃথিবীর কোন আর নেশা নেই যা আজকের মতো নেশা আমায় ধরাতে পারে। আজ হঠাৎ গিটার বাদকের সঙ্গে কথা বলতে খুব ইচ্ছা হচ্ছে। প্রায়ই দেখা যায় বারান্দায়। দেখতে তেমন সুন্দর না কিন্তু চোখের মধ্যে যেন কি আছে। বেশিক্ষণ তাকানো যায় না। মিথিলা এমনিতেই অসামাজিকতায় অভ্যস্ত নয়, তাও এক-আধবার চোখাচখি হয়েছিল। আরও একটা সিগারেট ধরালো, আবার মনটা বিস্বাদে তিতা হয়ে গেল, আর ক্রোধে মগজটা গরম। কারণটা মিথিলা জানে। ওই ছেলেটাকে নিয়ে চিন্তা করাটাই ওর বিরক্তি লাগছে। কিন্তু মেজাজ আবার শাকিলার ওপর বিগড়ালো। ওকে চড়টা মারতে পারলে হয়ত আজ শান্তি পেত। ঘুমও আসছে না। যদি একটা মোবাইল থাকত তা হলে হয়ত কোন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটান যেত কিংবা গিটারবাদকের সঙ্গে।
যত সময় যাচ্ছে জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, অস্থিরতা বাড়ছে।
অনিলা সকালে ঘুম থেকে ওঠে অফিসের জন্য। মিথিলা ঘুমাচ্ছে। একটা কাগজ-কলম নিয়ে ছোট্ট একটা নোট লেখল মিথিলার জন্য। “কালের ছোবল উজাড় করে যখন স্বপ্নের আকাশ, জীবনকে বেঁধে দেয় সীমাবদ্ধতায়, বপন করে মৃত্যুঞ্জয়ী ভাললাগা, যার অসীমতা ছুঁতে পারে না চিরসত্য মৃত্যু।” কাগজটা মিথিলার মাথার কাছে রাখে। আরও লিখল জীবনে সব স্বপ্ন সবার জন্য নয়, কিছু স্বপ্ন শুধুই স্বপ্নে ভাল লাগে। তবে আমারও স্বপ্ন পূরণের সাধ জাগেরে মিথু। আচ্ছা শোন, আজ তোর জন্য একটা মোবাইল আনব। তুই সারাদিন একা বড় মন খারাপ করে থাকিস। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বললে তোর ভাল লাগবে, আপু।
নোটটা রেখে মিথিলার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মিথিলা নোটটা দেখল কিন্তু পরে পড়বে ভেবে রেখে দিল। প্রথমেই নাইটস্যুট পরেই বারান্দায় গেল। মিথিলার নাইটস্যুট হলো ঢিলা পায়জামা আর টি-শার্ট। বারান্দায় দাঁড়িয়েই দেখে ছেলেটিকে। খুব সম্ভবত ওর নাম অর্ঘ্য। মিথিলাকে দেখে ছেলেটি ঘরে ঢুকে গেল। একটু পরে ওর বোন এলো। সে আজ নিজে থেকেই জিজ্ঞাসা করল, ‘এই, তুমি এত পাশে থাক, কথা বল না কেন?’ মেয়েটির নাম অর্পিতা। মিথিলা বেশ লজ্জা পেল। ঠিক বুঝতে পারছিল না কি উত্তর দেবে। বলল, ‘না, বলতাম। কিন্তু ভাল কাজটা তো তুমি আগে করে নিলে।’ ‘যাক, আমি মিথিলা’ বলতেই মেয়েটি বলল- ‘তোমার কিছুই বলতে হবে না। তোমাদের সম্পর্কে সব জানি।’ ‘আমরা তো নতুন এসেছি। আমাদের এখানে একবার বেড়াতে আসা তোমার উচিত ছিল। আমরা একই বয়সী।’ আবার মিথিলা কিছু বলার সুযোগ পেল। বলল, ‘তুমি খুব মিষ্টি করে আর আপন করে কথা বলতে পার। আমি পারি না। তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারলে আমারও ভাল লাগবে। আসব একদিন।’ অর্পিতা বলল, না, একদিন না। আজই আমি আসব তোমায় নিতে আর তোমার বাবা-মার সঙ্গে আদাব-সালাম করে আসব।’ মেয়েটি অসম্ভব শার্প আর ভদ্র। মিথিলা নিজের ঘর নিয়ে মোটেও তৃপ্ত নয়। বুকটা ধড়াস করে উঠল। কি যে যন্ত্রণায় ফাঁসলাম! মানাও করা যাবে না। ঠিক হলো অর্পিতা এগারো-বারোটায় আসবে। আজ দুপুরে ওদের ওখানেই মিথিলা খাবে।
মিথিলা বোনের চিরকুটটা বের করল, পড়ল। মাথায় তেমন কিছুই ঢুকল না। শুধু জানল, আজ ওর জন্য মোবাইল আসবে। খুব খুশি লাগল। অনেকদিন পর আজ মিথিলা খুশি হলো। এই খুশি শুধুই মোবাইলের জন্য নয়, সেটাও বুঝল। মিথিলার তেমন কোন কাপড়-চোপড় নেই। সে জিন্স আর টি-শার্টই পরে। আজ একটা কালো জিন্সের সঙ্গে ফিরোজা টি-শার্ট পরল। যদিও মিথিলা শ্যামলা কিন্তু কখনই রং বেছে পরে না। মিথিলার বিশ্বাস, সব রঙের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে, আর সেটা মানুষের গায়ের রয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না। মানাক বা না মানাক; বোল্ডলি মিথিলা সব রং পরে।
বেল বাজতেই মিথিলা দরজা খুলে অর্পিতাকে স্বাগত জানাল। নিজের রুমে নিয়ে বসাল। অর্পিতা বলল, ‘বাহ! তোমার রুমটা চমৎকার, ছিমছাম। বাড়তি কিছু নেই, আমার এমনটা খুব ভাল লাগে।’ মিথিলার ঘরে একটা বিছানা আর ড্রেসিং টেবিল ছাড়া আর কিছু নেই। আবার অর্পিতা বলল, ‘চল, তোমার বাবা-মার সঙ্গে পরিচিত হই।’
ওকে নিয়ে বাবার ঘরে গেলাম। বাবা কাগজ পড়ছিল। ওকে দেখে হেসে নাম জিজ্ঞাসা করল। তারপর এ-কথা সে-কথা। বাবা অনর্গল ইংরেজীতে ওর সঙ্গে কথা বলছে দেখে মিথিলা এই প্রথম বাবার দিকে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলাম। এই প্রথম বাবা আমায় মুগ্ধ করে দিল। অনেক কথার মাঝে উঠে এলো বাবা যে আগে পেন্টিং করতেন সে কথা। অর্পিতা বলল, ‘আমাদের ঘরে আপনার একটি পেন্টিং আছে। ওটা আমি আমার বাবার কাছে আবদার করে কিনেছিলাম। ওই পেন্টিংটায় একটা মেয়ে হাঁটু গেড়ে দুই হাঁটুর মাঝে মুখ লুকিয়ে বসে আছে, আর তার বাম দিকের চোখ থেকে পানি নয় রক্ত বের হচ্ছে। আমি পেন্টিংটার কিছুই বুঝিনি; তবে আমার খুব ভাল লেগেছিল।’ মিথিলার বাবা বলল, ‘ওটাই আমার জীবনের শেষ পেন্টিং ছিল। ইচ্ছা ছিল নিজে রাখব কিন্তু পারিনি। অল্প কিছু টাকায় গুলশানের এক দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিলাম। আর পেন্টিংটা মিথিলা যখন ওর মায়ের পেটে তখন আঁকা। এরপর ছেড়ে দিয়েছি।’ মা চা আর সমুচা আনল অর্পিতার জন্য। অর্পিতা খুব আগ্রহ নিয়ে খেল, কিন্তু স্রেফ একটাই। তারপর বলল, ‘চাচা আজ মিথিলাকে আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে এসেছি। আমরা একসঙ্গে দুপুরে খাব। তারপর গল্প করে বিকালে একটু ঘুরে ও চলে আসবে।’ মিথিলার বাবা বলল, ‘বেশ তো যাও। এটাই তো জীবনের সবচাইতে সুন্দর সময়। মড় ধহফ বহলড়ু ুড়ঁৎংবষভ’. আবার মিথিলা বাবার মুখটা ভালমতো দেখল। কথায় যেন বাবাকে সে চিনতে পারেনি!
অর্পিতাদের বাসাটা ছবির মতো। ওর বাবা দেশে কম থাকেন। মা-ও খুব স্মার্ট। খুব সুন্দর করে কথা বলেন। অনেকক্ষণ ড্রইংরুমে বসে কথা বলল ওরা। আবার অর্পিতা মিথিলাকে ওর ঘরে নিয়ে গেল। ঘরে ঢুকেই পেন্টিংটা মিথিলার চোখে পড়ল। একদম জীবন্ত। অথচ জীবনেও সে জানত না, তার বাবা একজন শিল্পী। তাঁর শিল্পকর্ম অন্য বাসায় এসে দেখল। রাগ হলো মনে মনে বড় বোন আর মার ওপর। ওরা কেন কোনদিন মিথিলাকে এ কথা জানায়নি!
অনেকক্ষণ পর অর্পিতার ভাই এলো। অর্পিতা পরিচয় করিয়ে দেবার চেষ্টা করার আগেই সে বলল, ‘আমি চিনি ওকে।’ অর্পিতা বলল, ‘তোরা গল্প কর, আমি একটু আসছি।’ কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর অর্ঘ্য বলল, ‘তুমি এত সিগারেট খাও কেন?’
মিথিলা চুপ। অর্ঘ্য আবার বলল, ‘তোমার ভাল লাগে, তাই, না? তোমার কোন বন্ধু নেই, ওই সিগারেটই তোমার বন্ধু।’ মিথিলা জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনি কি করেন?’ অর্ঘ্য বলল, ‘প্রথমে তো আপনি নয়, আমায় কেউ আপনি বললে আমার ভাল লাগে না। আমি গইঅ করছি।’
অর্পিতা এলো। তিনজন মিলে অনেক গল্প হলো। আবার খাবার খাওয়ার পালা। সেটাও শেষ হলো। এর মধ্যেই অর্ঘ্যর এক বন্ধু এলো। দেখেই বোঝা যায়, ভীষণ রকমের বড়লোক হবে! ওর গাড়িতে করেই বিকালে বের হলাম ঘুরতে। ক্লাব জেলেত-এ আইসক্রিম খেলাম। ছেলেটা বিল দেবে কিন্তু অর্ঘ্য কিছুতেই সেটা দিতে দিল না। যখন ফিরে আসছি অর্ঘ্য, অর্পিতা ওর মায়ের পছন্দের আইসক্রিম নিচ্ছিল, ছেলেটা বলল, ‘ুড়ঁ যধাব াবৎু ংবীু ভরমঁৎব, সধু ও যধাব ুড়ঁৎ পবষষ হড়.?’ আমি বললাম, ‘আমার সেলফোন নেই; তবে আজ আপু নিয়ে আসবে।’
‘ওহ! গুড। নম্বরটা দিও।’
এরই মাঝে ওরা দু’জন চলে এলো। গাড়িতে অর্পিতাও আমার নম্বর জিজ্ঞাসা করেছিল। আমি বললাম, ‘কাল দেব। আজ এখন পর্যন্ত আমার কোন নম্বর নেই।’
বাসায় ফেরার পর মিথিলা বলল, ‘এখন যে যেতে হবে।’ অর্ঘ্য বলল, ‘তুমি আবার আসবে।’ মিথিলা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল।’
বাসায় ফিরে বাবার ঘরে গেলাম। বাবাকে বললাম, ‘তোমার পেন্টিংটা খুব সুন্দর আর জীবন্ত। তুমি কি আমায় এঁকেছিলে?’ বাবা কথার উত্তর না দিয়ে বলল, ’কেমন ওরা?’ মিথিলা বলল, ‘খুব ভাল।’
মিথিলা নিজ ঘরে গিয়ে চিন্তা করছিলÑ আজ সারাদিন খুব ভাল কাটল, শুধু সাজিদ নামের ওই ছেলেটির কুদৃষ্টি ছাড়া। যদিও মিথিলার ফিগারটা আসলেই মানুষকে বেশি আকর্ষণ করে। কিন্তু তাতে তো আর মিথিলার করার কিছু নেই। যাক, এখন অনিলার জন্য অপেক্ষা।
আজ অনিলা তাড়াতাড়ি চলে এলো। হাতে একটা নকিয়া প্যাকেট ধরিয়ে দিল। অনিলাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল মিথিলা। ফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। একটু পরে দেখে, অনিলা স্যুটকেস গোছাচ্ছে। মিথিলা বলল, ‘কিরে, কোথায় যাবি?’ অনিলা হাসতে হাসতে বলল, ‘ওই যে তুই বললি না ঘর বাঁধতে মন চায় কিনা! তো ঘর বাঁধতে যাচ্ছি।’
আপু মশকরা ছাড়। বল না, কোথায় যাচ্ছিস?’
অনিলা বলল, ‘অফিস থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছি চার-পাঁচ দিনের জন্য।’ মিথিলা তারপর গড়গড় করে আজকের সব ঘটনা বলল।
অনিলা বলল, ‘তা হলে তো আজ তোর দিনটা অনেকদিন পর ভাল কেটেছে! বন্ধুত্বটা রাখিস। ওরা যখন ভাল মানুষ। অসুবিধা কোথায়?’ ‘হুম! কিন্তু আপু, আমি প্রথম কলটা অর্পিতাকে করতে চাই। কি করে নম্বরটা দেব?’ ‘পাগল! রাত মোটে আটটা। গিয়ে দিয়ে আয় না।’ ‘হুম, ঠিক বলেছ। কিন্তু উপরে উঠব, না ওদের দারোয়ানের হাতে দিয়ে অর্পিতাকে দিতে বলব?’
মিথিলা তাই করল। মিথিলার ফোন রিং বাজল কিন্তু অর্পিতা নয় অর্ঘ্য বলল, ‘এটা আমার নম্বর। সেভ করে রেখ। আমি অর্পিতাকে দিচ্ছি।’ অর্পিতা ফোন ধরেই এত খুশি হলো যেন ফোনটা এই নতুন হাতে পেয়েছে। কিছুক্ষণ কথা বলার পর ফোনটা রেখে অনিলার কোলে মাথা রেখে শুয়ে অভিমানের সুরে বললÑ ‘আপু তুইও তো কোনদিন বলিসনি বাবা পেন্টিং করত? জানিস, আজ বাবা কি সুন্দর করে অর্পিতার সঙ্গে ইংলিশে কথা বলেছে।’ অনিলা বলল, ‘মিথিলা, আমাদের বাবা সেই যুগের মাস্টার্স করা। তুই বাবাকে কি মনে করিস? বাবা এক সময় অনেক ভাল চাকরিও করত। সেখানে বাবার ওপর ষড়যন্ত্র করে চুরির দায় দেয়। বাবা তার সর্বস্ব বিক্রি করে। আমরা ঢাকা শহরে চলে আসি। এখানে বাবা ছোট একটা চাকরি পায়; সেটা দিয়েই আমাদের পড়ালেখা, সংসার চালায়। তারপর বাবার জন্মগত শারীরিক একটা ত্রুটি আচ্ছে । বাবার একটা কিডনি। সেখানেও সমস্যা। ডাক্তার কাজের চাপ কমাতে বলে, টেনশন করতে মানা করে। এভাবে আমরা আস্তে আস্তে নিচের দিকে গড়িয়ে যাই। চাচারা কিছু সাহায্য দিত আমার চাকরির আগ পর্যন্ত। তারপর শাকিলার ঘটনার পর সব বন্ধ। কেউ খবরও রাখে না।
সেই রাতের সমাচার শেষ হলো। পরদিন সকালে অনিলা চট্টগ্রাম যাবে, সে ঘুমাতে চলে গেল। মিথিলা বারান্দায় গিয়ে সিগারেট ধরাতেই ফোন বাজল। অর্ঘ্য বলল, ‘কম করো সিগারেট খাওয়া।’ মিথিলা হাসল। বলল, ‘তুমি কেন এত অস্থির হচ্ছ?’ তারপর অনেক গল্প হলো। মিথিলা বুঝতে পারল, অর্ঘ্য তাকে পছন্দ করা শুরু করেছে। সারারাত কথা হলো। অনেক কথা; যার কোনটার অর্থ আছে কোনটার নেই। কথা শেষ করার আগে অর্ঘ্য বলল, ‘জান, আমার কি মনে হয়, মনে হয় ইস্ এই মেয়েটিকে যদি আমি সুখী দেখতে পেতাম! তোমার অনেক কষ্ট, সেটা বুঝি। কিন্তু কিসের সেটা নিশ্চিত নই। তবে তুমি অনেক সুখী হবে।’ আবার হেসে বলল অর্ঘ্য, ‘আমাকে তোমার কেমন লাগে, মিথিলা?’ মিথিলা চুপ। কোন শব্দ নেই। অর্ঘ্য আবার জিজ্ঞাসা করল। মিথিলা বলল, ‘তোমার গিটার বাজানো আমার খুব ভাল লাগে।’ অর্ঘ্য বলল, ‘সরল উত্তরটার অপেক্ষায় রইলাম। যাও ঘুমাতে। আর একটিও সিগারেট খাবে না।’ মিথিলা সুবোধ বালিকার মতো ঘরে চলে গেল।
যতক্ষণ বিছানায় ছিল ছটফট করছিল। এই জীবনের প্রথম তাকে কেউ সত্যিকারের ভালবাসার প্রস্তাব দিল। কি করবে মিথিলা ?
অনিলা ঘুম থেকে উঠে বলল, ‘কিরে রাতে ঘুমাসনি?’
মিথিলা বলল, ‘না, ঘুম আসেনি।’ ‘কেন রে, কি হলো তোর?’ মিথিলা অনিলার গলা জড়িয়ে বলল, ‘এই প্রথম কেউ আমায় প্রেম নিবেদন করেছে।’ অনিলা বলল, ‘ওয়াও’! গুড। তা কে সে? ‘অর্ঘ্য।’ ‘হুম্ম, ছেলেটা তো ভাল। ফ্যামিলিও ভাল। তো বাধা কোথায়?’ মিথিলা বলল, ‘কোথাও না। ওর আগেই আমি ওর প্রেমে পড়েছি। আমি বলিনি, ও বলেছে।’ অনিলা তাড়াহুড়া করে বলল, ‘ঙক, গুড! আমায় বেরোতে হবে। সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম রওনা দেব। পাঁচ-ছয় দিন লাগবে। খেয়াল রাখিস সবার। আর তুই সুখী হ, এই দোয়া করি।’ মিথিলা বলল, ‘মনে হচ্ছে আর ফিরবে না। সারাজীবনের জন্য যাচ্ছ। যত ঢং শিখেছ না তুমি আপু। যাক, সাবধানে যেও।’ অনিলা বাবার হাতে মাসের মাঝখানেই বেশ কিছু টাকা দিয়ে বলল-‘ওষুধ ঠিকমতো খেয়ো।’
অনিলা চলে গেল। মিথিলা অর্ঘ্যকে ফোন দিল। অর্ঘ্য ফোন কেটে দিয়ে কলব্যাক করল। মিথিলা বলল, ‘আজ বিকেলে বাইরে যাব? হুম্ম, তুমি রেডি থেকো, তিনটায়। কারণ পাঁচটায় বেটা সাজিদকে নিতে হবে, আগেই প্রোগ্রাম করা ছিল।’ মিথিলা বলল, ‘তা হলে অর্পিতাকেও নিতে পারি।’ অর্ঘ্য বলল, ‘না তার দরকার নেই। দুই ঘণ্টাÑ তুমি আর আমি শুধু।’
ওরা তিনটায় বেরুলো। অনেক কথা, গল্প, ভাল লাগা না লাগা; অনেক কিছুই কথা হলো। কিন্তু কেউ কমিটমেন্ট কিছুই করল না। ওটাই স্বাভাবিক। প্রথম দিনে কিসের কি? জানাশোনা আগে দরকার। অর্ঘ্য বলল, ‘আমরা দশ দিনের জন্য টক যাচ্ছি পরশু। আমি ওখান থেকেই কল দেব তোমায়।’ অর্ঘ্য এবার ঘড়িটা দেখল, ‘শালা টাইমটা এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো। চলো সাজিদকে নিয়ে নিই, ওয়েসটিনে অপেক্ষা করছে।’ ওকে উঠিয়ে এমনি এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করল। বাসায় ফেরার সময় সাজিদ সঙ্গে এলো। সবাই আবার একটু অর্পিতাদের বাসায় বসে চা খেতে খেতে আড্ডা দিল। মিথিলা চলে আসার সময় সাজিদ মিথিলার ফোন নম্বর নিলো। বাসায় এসে মাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘অনিলা কল দিয়েছিল কিনা।’ ‘চারটার দিকে দিয়েছিল।’ মিথিলা কল করার চেষ্টা করল, হলো না। মিথিলা নতুন সম্পর্ক নিয়ে বেশ মউজে আছে। দু’দিন পার হলো, অনিলার কোন খবর নেই। সবাই ভাবল, হয়ত নেটওয়ার্ক প্রবলেম। বাবার মুখটা খুব চিন্তিত- বিষণœ। শরীরটাও খারাপ করেছে। অর্ঘ্যরাও টক চলে গেলো।
একদিন রাতে বাবার ভীষণ জ্বর। পেটে কোমরে পিঠে ব্যথা। বাবাকে হাসপাতালে নিতে হলো। শমরিতায় ওখানকার ডাক্তার সব দেখে বলল, অপারেশন করতে হবে কিডনি ম্যাচ করিয়ে। বিশাল টাকার অঙ্ক। মিথিলা পাগলের মতো ফোনে চেষ্টা করল অনিলাকে। ওর ফোন বন্ধ। অর্ঘ্য ওর ওখানকার নম্বর দিয়ে যায়নি। শাকিলা কোথা থেকে যেন বিশ হাজার টাকা আনল। সে রাতেই কিডনি ম্যাচ করানো হলো- মিথিলা-শাকিলা দু’জনেরটাই ম্যাচ করেছে।
কিন্তু টাকা? মিথিলা সাজিদকে কল দিল। সে এলো। টাকা সে দেবে। শর্ত একটাই- তার পিএ হয়ে থাকতে হবে। মাস মাহিনা পাবে। কিন্তু কোন কিছুতেই না বলতে পারবে না। মিথিলা বলল, ‘চলো, সব শর্তে আমি রাজি। ডাক্তারকে অপারেশনে প্রস্তুত করতে বলেই আমি তোমার সঙ্গে এক ঘণ্টা থাকব। তারপর টাকা সঙ্গে নিয়ে আসব। এর পর ১৫ দিন আমায় সময় দিতে হবে।’
সাজিদ লাফ দিয়ে উঠল। ‘তুমি কি চালাকি করার চেষ্টা করছ?’ ‘না, আমি আমার বাবাকে আমার কিডনি দেব। আর যদি তুমি ১৫ দিনের আগেই চাও তো আমি চলে আসব।’ সাজিদ বলল, ‘চল, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে যাই।’ সব ঠিক করে মিথিলা গাড়িতে উঠল। শাকিলা বাবাকে কিডনি দেবে না। কারণ তার ভবিষ্যত আছে। আর অনিলার অফিস থেকে মিথিলা খবর পেয়েছেÑঅনিলা এক অস্ট্রেলিয়ানের সঙ্গে সেখানে বিয়ে করে চলে গেছে। কিন্তু বলল না কেন? অথৈ চিন্তায় মিথিলা নিজের বিসর্জনের কথা ভুলেই গিয়েছিল। সাজিদ যখন তার শরীরে হাত রাখল তখন খেয়াল হলো। বাবার পেন্টিংটার কথা বড় মনে পড়ছে।
সাজিদ কড়ায়গণ্ডায় সব বুঝে নিল। সব শেষে মিথিলা ফ্রেশ হবার জন্য ওয়াশরুমে গেল। মিথিলার ফোনটা বিছানার ওপরেই ছিল। এরই মাঝে অর্ঘ্য কল করেছিল। সাজিদ কলটা ধরেছিল। অর্ঘ্য অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তুই মিথিলার ফোন ধরলি যে, তাও এই সময়? মিথিলা কোথায়?’ ‘আমার বাথরুমে।’ ‘মানে?’ সাজিদ অর্ঘ্যকে বলেছিল, ‘দোস্ত! একটা মেয়েকে নিয়ে আমাদের বন্ধুত্বে কোন ফারাক আসবে না।’ অর্ঘ্য বলল, ‘ফোনটা রাখ। আর ওকে বলে দিবি, আমার সঙ্গে জীবনেও যেন কথা বলার চেষ্টা না করে।’ মিথিলার বাথরুম থেকে বের হবার পর টাকা সঙ্গে নিয়েই সাজিদ বের হলো। গাড়িতে ওঠার পর সাজিদ মিথিলাকে বলল, ‘অর্ঘ্য কল করেছিল।’ মিথিলা বলল, ‘আমায় দিলে না কেন?’ সাজিদ হেসে বলল, ‘অর্ঘ্য বলেছে-তুমি যেন আর ওর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা না কর।’ মিথিলা সব বুঝে গেল। অর্ঘ্য রাগ হবে, অভিমান করবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একবার তো জানতে চাইতে পারত, কেন আমি এ সময়ে সাজিদের সঙ্গে। মিথিলার একবিন্দুও কষ্ট হচ্ছে না। মিথিলা মনে মনে আবার সেই পুরনো নিজের কবিতাটাকে নতুন করে বলতে শুরু করল “আমি আমারই রক্তে করি আমার অহঙ্কার বপন, আর সেই থেকে হয় মোর স্বপ্নের দহন”। হাসপাতালে পৌঁছে গেল। মা-শাকিলা সবাই খুব ভাল মতোই বুঝল, আমি কোথায় ছিলাম, কেন ছিলাম। কিভাবে টাকা যোগাড় করলাম। মা শুধু আমার কাছে এসে বলল, পৃথিবীতে মা সন্তানের জন্ম দেয়, আজ তুই সন্তান হয়ে তোর বাবা, মা, ছোট ভাইটাকে নতুন করে জন্ম দিলি! তোর ঋণ শোধ করার মতো স্পর্ধা আমার কেন আমার পেট থেকে বের হওয়া অন্য কোন সন্তানেরই নেই। বলেই মা আমায় বুকে চেপে ধরল। তারপর শাকিলার দিকে তাকিয়ে বলল-সব সন্তান তো আর এক হয় না। মার রাগ হলো। শাকিলার তো একবার বিয়ে হয়ে গেছে। ওর কিডনি দিতে সমস্যা কি ছিল। শাকিলা লজ্জা পেল কিন্তু অনুশোচনা মনে হয় না
About: Unknown
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1424)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
-
▼
2012
(33842)
-
▼
August
(2983)
-
▼
Aug 07
(119)
- সারিকা ঈদ করবেন দুবাইতে
- বিধি বাম জেনিফার লোপেজের
- দ্য সানের প্রতিবেদন-ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি ...
- বাজার আবার অস্থির
- বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের শর্ত
- পবিত্র কোরআনের আলো.-মুনাফিকদের জন্য আক্ষেপ এবং রাস...
- সহজ-সরল-আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় খুঁজছি! by কন...
- পিস্টনের উল্লাস by জাহিদা উর্মি
- ঈদ শপিংয়ের সাত সতেরো by রুবা রহমান
- ভাল ঘুমের জন্য ১০টি টিপস
- জন্মনিরোধ ওষুধ ও দাঁতের চিকিৎসা
- বয়স্কদের এ্যাজমার আধুনিক চিকিৎসা by ডা. গোবিন্দ চ...
- প্যালপিটেশন- মানসিক রোগ নয়ত? by ডা. মোঃ দেলোয়ার হ...
- রফতানি বন্ধ, নাগালে ইলিশ
- জামায়াতের আসল চেহারা
- মাটির টানে ফিরে চলা by ড. হারুন রশীদ
- আইন বড় না নোবেল পুরস্কার? by রাহাত খান
- রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ...
- জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে by গোলাম আকবর ...
- দ্ধাপরাধের বিচার ॥ সরকারের শৈথিল্য না নীতি? by মু...
- চালচিত্র-রাজনীতির আকাশজুড়ে অস্থিরতার ধূলিঝড় by শুভ...
- ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস-নিয়মানুবর্তিতাই যার মূল ওষু...
- নান্দাইলে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ১, বৃদ্ধ ও গৃহবধ...
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সিটিআর দাখিলের সীমা ১০ লাখ টাকা
- যুদ্ধবিরোধী অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে শেষ হলো স্বপ্ন...
- গানে নাটকে আলোচনায় পালিত হলো বাইশে শ্রাবণ
- ইসলামী আরবী ভার্সিটি আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদ...
- শেখ হাসিনার উন্নয়ন মডেল জাতিসংঘের আলোচনায় স্থান পা...
- বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত কাজে পুরুষের সমান মজুরি অর...
- সবচেয়ে ভালোবাসো মাতৃভাষাকে by আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
- কল্পকথার গল্প-আমাদের নাকি কিছু হবে না! by আলী হাবিব
- কালান্তরের কড়চা-প্রধানমন্ত্রীর একটি অসতর্ক উক্তি এ...
- সিয়াম অর্থ আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া by সৈয়দ গোলাম ম...
- ওমরাহ পালনের জন্য কাল সৌদি আরব যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
- আলীমের নির্দেশে পাকি সেনা ও রাজাকাররা অসংখ্য বাঙাল...
- জাতীয় নির্বাচনের দেড় বছরের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে ...
- দ্রুত বিচার আদালত পাঁচের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদে...
- রাতভর অপেক্ষার পর সোনার হরিণ প্রাপ্তি, প্রাণ খুলে ...
- আসাদের পতন আসন্ন! প্রধানমন্ত্রী হিজাবের পক্ষত্যাগ-...
- অন্তর্বর্তী না নির্দলীয়- ঈদের পরে জমবে রাজনীতি
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ॥ ভয়াবহ সেশনজট-০...
- ম্যান্ডেলাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ ব...
- বিরোধপূর্ণ দ্বীপে সেনা পাঠাতে পারে জাপান
- পালার কাজে হূদেরাগের ঝুঁকি বেশি
- আন্তর্জাতিক অস্ত্র বিক্রি চুক্তি- মতপার্থক্য দূর ক...
- শ্রাবণেও বৃষ্টিহীন বেড়া বিপাকে মৎস্যচাষিরা by বর...
- এলপি গ্যাস সিলিন্ডার- সিরাজগঞ্জে দ্বিগুণ দামে বিক্...
- পাট পচাতে রিবন রেটিং পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ
- অদম্য মেধাবী- প্রতিশ্রুতি পূরণে আরেক ধাপ এগিয়ে
- ৪৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার ৬
- ‘ছিটমহল বিনিময় ও তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী ব...
- শিক্ষা ঐতিহ্য রক্ষা কমিটি- নটর ডেম কলেজকে ধ্বংস কর...
- আবুল হোসেন দেশপ্রেমিক নন, বেহায়া: বিএনপি
- ধর্ম- রমজানে কোরআন তিলাওয়াত শ্রেষ্ঠ ইবাদত by মুহ...
- রোহিঙ্গা- পূর্ব সীমান্তে এখনো দুঃসংবাদ by ফারুক ...
- কালের পুরাণ- উল্টো রথে নির্বাচন কমিশন by সোহরাব ...
- অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক- ছিনতাইকারী ভ...
- বার কাউন্সিল আমলে নিতে পারে- আসামিদের পক্ষে ১৫ হাজ...
- চারদিক- বর্ষামঙ্গল, বরিষ ধরা-মাঝে... by মাহবুব আলম
- ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক- যৌথতার কোনো বিকল্প নেই by ...
- নারীর সুস্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে পুষ্টির ভূ...
- পদ্মা সেতু-প্রয়োজন দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য...
- শীলা কাঁদলেন
- বইয়ের পোকা
- ধাঁধা দুনিয়া
- সত্যিকারের সবজান্তা- লেখক
- লেখক হওয়ার পালা আপনার!
- স্কুলের পশ্চিমা নামকরণ নিষিদ্ধ হচ্ছে নেপালে
- মিয়ানমারে নতুন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, নিহত ৩
- যুক্তরাজ্যে ১০ লাখ লোক জানেই না তারা কিডনি রোগে ভুগছে
- আসামে সহিংসতার সঙ্গে ‘বাইরের শক্তি’ জড়িত থাকতে পার...
- নেলসন ম্যান্ডেলার গ্রামের বাড়িতে হিলারি
- আখাউড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫
- বড়ালে বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার
- যানজটে নাকাল রংপুর নগরবাসী
- চালক শরিফুল হত্যা মামলা- তিন তরুণ গ্রেপ্তার অটোরিক...
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ
- অভয়নগরে ভিজিএফের চাল তীব্র দুর্গন্ধ ও পোকায় ভরা
- ঈদের হরেক পাঞ্জাবি
- ধর্ম- রোজা মানুষের অহংকার জ্বালিয়ে দেয় by মুহাম্...
- মুঠোফোন সরবরাহকারীকে চিহ্নিত করুন- কারাগারে থেকে খ...
- তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন- কর্মকর্তাদের কত ...
- চারদিক- বীজ থেকে মহীরুহ by ড. নীরু শামসুন্নাহার
- চিকিৎসা-বিজ্ঞান- হুমায়ূন আহমেদের ক্যানসার কেমোথেরা...
- একের ভেতর অনেক কিছু- স্মার্টফোন by রাকিব মোজাহিদ
- ঈদে মিষ্টিমুখ
- পছন্দের পোলাও
- ছোটদের ঈদ by তৌহিদা শিরোপা
- বীর মুক্তিযোদ্ধা- তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না
- সাক্ষ্যে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ- স্বরাষ্ট্রমন্ত...
- গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সুলতানা কামালের সাক্ষ্য ১০ সে...
- জবানবন্দিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষীআলীমের পক্ষে...
- গাড়ি পোড়ানো মামলা-১৮ দলীয় জোট নেতাদের বিচার কাজ স্...
- চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন-উচ্ছেদ নোটিশের ১০ মাস পরও উ...
- লাল গ্রহে নামল কিউরিসিটি by চৌধুরী আফতাবুল ইসলাম
- আমানত শাহ্ লুঙ্গি অলিম্পিক আপডেট-আবার দুনিয়া কাঁপল...
- পথেঘাটে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ফরম মেলে এক টাকায় by ও...
- চাকরির তিন বছরে এক বছরই বিদেশে-ঢাকা ওয়াসার এমডির ভ...
- খাদ্যে বিষ ও ভেজালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড by...
- সাইবার হামলা এড়াতে অফলাইনে যাচ্ছে ইরান
- যুক্তরাষ্ট্রে গুরুদুয়ারায় হামলা ছয় পুণ্যার্থীসহ নি...
- মন্ত্রীর যানজট দর্শন
- সহজিয়া কড়চা- বিজয়ী বিজিত কভু, বিজিত বিজয়ী by সৈয়...
- ড. ইউনূসের প্রবাসী আয়ের তথ্য দিতে এনবিআরকে নির্দেশ
- কিংবদন্তি তো হয়েই গেছেন বোল্ট! by উৎপল শুভ্র
- অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে নতুন কোম্পানি গঠন করে প্লেস...
- আদালত অবমাননা আইন-রায় চ্যালেঞ্জ করবে পাকিস্তান সরকার
- বরখাস্তের পর সিরীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ ত্যাগ-অস্ত্...
- মায়ের সূচক ১৩৬-শূন্যে নামিয়ে আনার প্রত্যাশা
- ভোগান্তির নাম সড়ক-ঈদে স্বচ্ছন্দে বাড়ি ফেরা নিয়ে সংশয়
- পবিত্র কোরআনের আলো-নবী শোয়ায়েবের কওম ভূমিকম্পে ধ্ব...
- বিশেষ সাক্ষাৎকার : এম কে আনোয়ার-প্রধানমন্ত্রী কখন ...
- চরাচর-শত বছরের পথপরিক্রমায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর b...
- কথা সামান্যই-রাষ্ট্র ও সরকারের অঙ্গীকার এবং জনগণ b...
- গার্মেন্ট খাতে বিশৃঙ্খলা by সৈয়দ আরিফ নিয়াজি
- কালান্তরের কড়চা-বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে একটি...
- মোবাইলে নারীর মিষ্টি কথায় বিভোর হবেন না
- ভুলে যাই সে এখন আমার কেউ নাঃ ন্যান্সি
- ‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনের কাভারে প্রথম ভারতীয় শেরলিন
-
▼
Aug 07
(119)
-
▼
August
(2983)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
Recent Comments
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
Cox's Bazar Us Categories
প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক
মানবজমিন
আলোচনা
কালের কণ্ঠ
উপ-সম্পাদকীয়
যুগান্তর
প্রথম পাতা
মতামত
জাতীয়
সমকাল
নয়া দিগন্ত
রাজনীতি
জনকণ্ঠ
সুশীল কথন
ভারত
অর্থনীতি
শেষের পাতা
বিনোদন
ক্রিকেট খেলা
দেশে দেশে
যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্য
স্পেশাল প্রতিবেদন
নির্বাচন
প্রথম আলো
খেলা
খোলা কলম
আইন আদালত ও বিচার
ফুটবল খেলা
আমার দেশ
ইসরায়েল
বাংলানিউজ
মুক্তধারা
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
Lead
ফিলিস্তিন
রাজধানী
অপরাধ
আন্দোলন
এক্সক্লুসিভ
আইন ও মানবাধিকার
নারী
শিক্ষা
বিএনপি
সারা বিশ্ব
ইরান
ক্রিকেট
সাহিত্য
পাকিস্তান
মুক্তমঞ্চ
আওয়ামী লীগ
বাংলা ট্রিবিউন
শিশু
দুর্নীতি
সারা দেশ
বিশাল বাংলা
চট্টগ্রাম
ব্রেকিং নিউজ
সাউথ এশিয়ান মনিটর
সিলেট
ক্রীড়া
পার্সটুডে
অর্থ
কালবেলা
খালেদা জিয়া
অর্থ ও বাণিজ্য
শিল্প বাণিজ্য
চীন
বিবিসি বাংলা
কাশ্মীর
চতুরঙ্গ
খবরাখবর
প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব
নতুন বার্তা
হত্যা
ধর্ম
স্মরণ
গল্প
যুক্তরাজ্য
শিক্ষাঙ্গন
শেখ হাসিনা
ফুটবল
বার্তা২৪ ডটনেট
রস+আলো
সাক্ষাৎকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
মুসলিম
জাতিসংঘ
রাশিয়া
মুক্তিযুদ্ধ
মিডিয়া
হরতাল-অবরোধ
খেলা ধুলা
ছাত্রলীগ
প্রতিবেদন
ইতিহাস
ইউরোপ
সোহরাব হাসান
জামায়াতে ইসলামী
অমানবিক
সৌদি আরব
আলোকিত চট্টগ্রাম
পশ্চিমবঙ্গ
আইন
চাষাবাদ- কৃষি ও কৃষক
ফিচার
ভ্রমণ
মিজানুর রহমান খান
ওয়েছ খছরু
খোলা চোখে
বাংলাদেশ-ভারত
ইসলাম ও সমাজ
সিরিয়া
যৌন নির্যাতন
নারায়ণগঞ্জ
নারী ধর্ষণ
জাতীয় সংসদ
আনন্দ
খেলাধুলা
ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ
বিজ্ঞান ও গবেষণা
মাদক
আফ্রিকা
সন্ত্রাস
আনিসুল হক
যৌন আবেদনময়ী
প্রবাস
মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
ছুটির দিনে
সৈয়দ আবুল মকসুদ
সংখ্যালঘু
নকশা
বিজ্ঞান প্রজন্ম ও কম্পিউটার
গোল্লাছুট
তুরস্ক
আফগানিস্তান
বইপত্র
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্য আলো
প্রতারণা
ছবি
টাইমস্ আই বেঙ্গলী
প্রকৃতি
ব্যবসা বাণিজ্য
অপহরণ
দুর্ঘটনা
সাহিত্যালোচনা
ইউক্রেন
গার্মেন্টস শিল্প শ্রমিক
জাতীয় পার্টি
রাজশাহী
স্টেডিয়াম
দীন ইসলাম
মানবাধিকার
তরুণ প্রজন্ম
ফূটবল খেলা
রোহিঙ্গা
মিজানুর রহমান
মশিউল আলম
আইন ও বিচার
আলী যাকের
হিন্দু
রুদ্র মিজান
মানবকণ্ঠ
খুলনা
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
আব্দুল কাইয়ুম
মালয়েশিয়া
তারেক শামসুর রেহমান
আসিফ নজরুল
নেপাল
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
সাজেদুল হক
ফারুক ওয়াসিফ
কাফি কামাল
মৌলভীবাজার
স্বাস্থ্য
হাসান ফেরদৌস
আনন্দ কণ্ঠ
তৃতীয় পাতা
যাপিত জীবন
সড়ক দুর্ঘটনা
ক্রিখেট খেলা
জ্যোতির্বিজ্ঞান
ফুটবল খলা
বদরুদ্দীন উমর
মরিয়ম চম্পা
আলী রীয়াজ
রংপুর
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
নতুনের জানালা
বৃষ্টি ও বন্যা
মোস্তফা কামাল
শিল্প ও সাহিত্য
এ এম এম শওকত আলী
কক্সবাজার
বন্ধুসভা
সংবিধান ও রাষ্ট্র
ঢাকা
বগুড়া
মিয়ানমার
ঈদ বিশেষ সংখ্যা
বাংলাদেশ
অবৈধ-অনিয়ম-কারচুপি
এ কে এম জাকারিয়া
গবেষণা
নির্বাচনী কূটনীতি
বদিউল আলম মজুমদার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
মিসর
এম আবদুল হাফিজ
পরিবেশ
শোক
সংস্কৃতি
খবর
বাংলাদেশে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
অজয় দাশগুপ্ত
প্রজন্ম ডট কম
শুভ্র দেব
আবুল কাশেম
আমদানি ও রপ্তানি
ফ্রান্স
কিশোরগঞ্জ
আবদুল মান্নান
রঙের মেলা
ঐতিহ্য
জাপান
কুমিল্লা
মুক্তমত
রাজনৈতিক আলোচনা
শরিফুল হাসান
শিল্প
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
মাহমুদুর রহমান
ময়মনসিংহ
লেবানন
সংবাদ২৪.নেট
পার্বত্য চট্টগ্রাম
সীমান্ত সন্ত্রাস
আহমদ রফিক
ইফতেখার মাহমুদ
কাজের খবর
ইরাক
স্বপ্ন নিয়ে
টাঙ্গাইল
জীবনযাপন
HotTopic
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর
যশোর
অমর সাহা
আনোয়ার হোসেন
আলী ইমাম মজুমদার
গাজীপুর
রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন
আবুল মোমেন
থাইল্যান্ড
মুফতি এনায়েতুল্লাহ
শ্রীলঙ্কা
চিকিৎসা
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
মেহেদী হাসান
রসালোচনা
কামরুজ্জামান মিলু
পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
বরগুনা
কলকাতা
কাজী সোহাগ
স্মৃতিচারণ
আনু মুহাম্মদ
কুলদীপ নায়ার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সারাবেলা
অস্ট্রেলিয়া
তথ্য প্রযুক্তি
মারুফ কিবরিয়া
ব্রাজিল
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
অন্য দিগন্ত
মহিউদ্দীন জুয়েল
মানসুরা হোসাইন
মুনতাসীর মামুন
শিরোনাম
শেখ রোকন
আবু সাঈদ খান
জেল থেকে জেলে
ফেসবুক
মহিউদ্দিন আহমদ
সংবাদ
কবিতা
বিশ্বজিৎ চৌধুরী
আলী হাবিব
প্রকৃতি ও পরিবেশ
শিল্প ও বাণিজ্য
শেষ পাতা
আবু আহমেদ
এম সাখাওয়াত হোসেন
নুরুজ্জামান লাবু
নূর মোহাম্মদ
সুভাষ সাহা
আতাউস সামাদ
আলোচনা মতামত
মসজিদ
অর্থনীতি ও বানিজ্য
এবিএম মূসা
আতাউর রহমান
কামাল আহমেদ
পিয়াস সরকার
আসাম
রংবেরং
রাহীদ এজাজ
শ্রদ্ধাঞ্জলি
আশরাফুল ইসলাম
ইয়েমেন
ফেনী
বরিশাল
রণজিৎ বিশ্বাস
রোকনুজ্জামান পিয়াস
Exclusive
অরুণ কর্মকার
প্রকৃতি ও বিজ্ঞান
মোস্তফা হোসেইন
একরামুল হক
আশীষ-উর-রহমান
একরামুল হক শামীম
ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ
তুহিন ওয়াদুদ
অপরাজিতা
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর কোরিয়া
কালি ও কলম
জলবায়ু ও পরিবেশ
জাগোনিউজ২৪.কম
মইনুল ইসলাম
মানিকগঞ্জ
মুহম্মদ জাফর ইকবাল
মোশতাক আহমেদ
আশরাফুল হক রাজীব
ফরহাদ মাহমুদ
প্রণব বল
শংকর কুমার দে
সেলিম জাহিদ
আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ
কামরুল হাসান
পার্থ প্রতীম ভট্টাচার্য্য
রাজীব আহমেদ
শিল্পী
সাময়িকী ফ্যাশন
দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু
বিদ্যুৎ
মোরসালিন মিজান
রবার্ট ফিস্ক
অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য
ঈদ
কাজী সুমন
ঝিলিমিলি
মুস্তাফা জামান আব্বাসী
কুষ্টিয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টি
মনজুরুল হক
মহসীন হাবিব
মাহবুব মোর্শেদ
রফিকুল ইসলাম
শিলালিপি
শুভ রহমান
চৌধুরী মুমতাজ আহমদ
ছিটমহল
নিবন্ধ
jugantor
নোবেল পুরস্কার
পাঠকের মতামত
পাবনা
মোশাররফ বাবলু
তানভীর সোহেল
মামুন রশীদ
আনন্দ প্রতিদিন
উৎপল রায়
এনামুল হক
কাজল ঘোষ
নদী দূষণ
নাটোর
নিত্যপণ্য
ফাহিমা আক্তার সুমি
বাংলা নববর্ষ
উচ্চশিক্ষা
চারু শিল্প
ভেনেজুয়েলা
শওকত হোসেন
নজরুল ইসলাম
নিউজিল্যান্ড
বিজ্ঞান
পার্থ সারথি দাস
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গোলাম মর্তুজা
ফরহাদ মজহার
শারমিন নাহার
principalsanaullah
আদিবাসী
কালের খেয়া
দিল্লি
ফখরুল ইসলাম
বাংলাদেশ প্রতিদিন
মুখোমুখি প্রতিদিন
মোহীত উল আলম
রাহাত খান
অমিতোষ পাল
গল্পালোচনা
পানি আগ্রাসন
প্রযুক্তি
বিশ্বজিৎ পাল বাবু
মাহবুব তালুকদার
আব্দুল কুদ্দুস
কানাডা
জনস্বাস্থ্য
বিদেশ
WikiOpinion
তোফায়েল আহমেদ
তৌহিদা শিরোপা
কাতার
আলোকিত বাংলাদেশ
কাদের সিদ্দিকী
ড. আবু এন এম ওয়াহিদ
ফারুক মঈনউদ্দীন
মোছাব্বের হোসেন
উৎপল শুভ্র
দিনাজপুর
নোমান মোহাম্মদ
সুদীপ অধিকারী
অরূপ দত্ত
পাভেল পার্থ
ফরিদপুর
ফিরোজ মান্না
মাসুদ পারভেজ
রোজিনা ইসলাম
শরিফুজ্জামান
হামিদ-উজ-জামান মামুন
আকমল হোসেন
আজিজুর রহমান
আলম শাইন
ঝড় ও দুর্যোগ
তারেক মাহমুদ
দীপংকর চন্দ
পাভেল হায়দার চৌধুরী
ফখরে আলম
মাসুদ রানা
শহিদুল ইসলাম
আবুল হাসনাত
আসিফ আহমেদ
ইশতিয়াক পারভেজ
জিয়া চৌধুরী
শিশির মোড়ল
হারুন হাবীব
হুমায়ূন আহমেদ
অমিত বসু
আল আমিন
ওমর ফারুক
ফজলুল বারী
ফারুক চৌধুরী
মাসুদ মিলাদ
শর্মিলা সিনড্রেলা
শাহাদুজ্জামান
হায়দার আকবর খান রনো
জাবেদ রহিম বিজন
জাহাঙ্গীর আলম
ট্রানজিট
নন্দন
যতীন সরকার
যুবলীগ
আরিফুজ্জামান তুহিন
কাজী আনিছ
খাবার
গাজীউল হাসান খান
তারেক রহমান
বাংলার দিগন্ত
মোহাম্মদ কায়কোবাদ
লাতিন আমেরিকা
শেখ হাফিজুর রহমান
শৈলী
সাতকানিয়া
সুদান
কাজী হাফিজ
জার্মানি
জোবাইদা নাসরীন
নিয়ামত হোসেন
মাহফুজুর রহমান মানিক
লুৎফর রহমান রনো
ইমরান আলী
এস এম আজাদ
জাহাঙ্গীর শাহ
মাহমুদুর রহমান মান্না
মুশফিকুর রহমান
সাতক্ষীরা
ইকতেদার আহমেদ
উৎসব
ঝিনাইদহ
মাসুদা ভাট্টি
মোকারম হোসেন
শেখ সাবিহা আলম
সিরাজগঞ্জ
সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ
হারুন আল রশীদ
WikiEducation
উজ্জ্বল মেহেদী
কনকচাঁপা
ড. মাহফুজ পারভেজ
পরিতোষ পাল
মিঠুন চৌধুরী
শাহদীন মালিক
হায়দার আলী
আহমেদ জামাল
ইমদাদুল হক মিলন
নওগাঁ
পোশাকশিল্প
বাতায়ন
ব্যবসা
আবু সালেহ আকন
এমাজউদ্দীন আহমদ
টিপু সুলতান
ড. মাহবুব উল্লাহ্
ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী
শোকাবহ ১৫ ও ২১ আগস্ট
WikiInternational
এবনে গোলাম সামাদ
পারভেজ খান
ফজলুল আলম
ফরিদা আখতার
বিভাষ বাড়ৈ
মাহমুদুজ্জামান বাবু
মুনির হাসান
মোশতাক আহমদ
সুনামগঞ্জ
আপেল মাহমুদ
আরব আমিরাত বা দুবাই
জহির উদ্দিন বাবর
নোয়াখালী
রিপন আনসারী
শরীফুল ইসলাম
সুব্রত আচার্য্য
উপন্যাস
কাল স্রোত
ক্রীড়া দিগন্ত
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ
গাজীউল হক
জাহীদ রেজা নূর
শাহনেওয়াজ বিপ্লব
সাইদুজ্জামান
সাময়িকী
অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
অনন্যা আশরাফ
অনিকা ফারজানা
আদিত্য আরাফাত
ইফতেখার আহমেদ টিপু
কামাল লোহানী
ড. সা'দত হুসাইন
তামান্না ইসলাম অলি
দক্ষিণ কোরিয়া
ফারজানা লাবনী
ফারুক যোশী
মনজুর আহমেদ
রিয়েল-টাইম নিউজ
লিবিয়া
আসজাদুল কিবরিয়া
জলবায়ু
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী
রশিদ মামুন
লক্ষ্মীপুর
সম্পাদকীয়
সাইফুদ্দীন চৌধুরী
সুমন বর্মণ
BBC
ইমরান রহমান
ইলিরা দেওয়ান
এম শাহজাহান
কাক ছোট গল্প
ছিনতাই
নওশাদ জামিল
নুরুন্নবী চৌধুরী
প্রতীক ওমর
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
বিকাশ দত্ত
মনিরুজ্জামান
মহিউদ্দিন আহমেদ
উইঘুর মুসলিম
দৈনিক ইত্তেফাক
পিটার কাস্টার্স
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রিয় চট্রগ্রাম
বাজেট
বাণিজ্য
মোবাশ্বির আলম মজুমদার
সঞ্জয় সাহা পিয়াল
হবিগঞ্জ
খুন
টাকা আনা পাই
মাহবুবুর রহমান
শুভজ্যোতি ঘোষ
হাছান কুতুবী
Hot Topic
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
অমর একুশে বিশেষ সংখ্যা ২০১২
আবিষ্কার
ড. কামাল
দৈনিক ইনকিলাব
ফিলিপাইন
ভুটান
সাভার
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
নিয়ন আলোয়
শফিক রহমান
শামীমুল হক
শেয়ারবাজার
আইন আদালত
ইতালি
গ্রিনল্যান্ড
নারী নির্যাতন
পটুয়াখালী
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ
মণিপুর
মাগুরা
মেক্সিকো
অনিম আরাফাত
ইসলাম
কিরণ শেখ
জাভেদ ইকবাল
দুদক
মহাকাশচারী
রাঙ্গামাটি
Art Mag
আরিফুল ইসলাম
প্রতিবাদ
প্রবাসী বাঙালি
বান্দরবান
মালদ্বীপ
শফিকুল ইসলাম
শিক্ষানীতি
সংবিধান
ডিডাব্লিউ
শরিফ রুবেল
কূটনীতি
গাইবান্ধা
জোহরান মামদানি
ঝালকাঠি
নরসিংদী
নাইজেরিয়া
বায়ুদূষণ
শাহনাজ পারভীন
স্বাধীনতা
WikiCity
WikiPolitics
বৌদ্ধ
মতিউর রহমান চৌধুরী
যৌন অপরাধ
WikiInterview
আকবর হোসেন
কিশোর আলো
জলবায়ু পরিবর্তন
দৈনিক সংগ্রাম
Exclusive Articles
WikiEconomy
WikiLaw
ইসলামী ছাত্রশিবির
ঘূর্ণিঝড়-হারিকেন
বাগেরহাট
ভূমিকম্প
রাজনৈতিক
সমিতির খবর
সানজানা চৌধুরী
সায়েদুল ইসলাম
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
আমাদের সময় ডট কম
কুতুবদিয়া স্পেশাল
খাগড়াছড়ি
চুয়াডাঙ্গা
ধর্মঘট
আইন ও আদালত
ইহুদি
কাদির কল্লোল
তাইওয়ান
দুর্গোৎসব ও পূজা
দৈনিক আমার সংবাদ
নববর্ষ বিশেষ সংখ্যা 2013.
নূরে আলম সিদ্দিকী
প্রতিক্রিয়া
বিডিআর বিদ্রোহ
ব্যাংক
মুন্সীগঞ্জ
শিশুসাহিত্য
খ্রিষ্টধর্ম
গদ্যকার্টুন
প্রতিদিনের সংবাদ
ভোরের কাগজ
রুমিন ফারহানা
Hit
আর্জেন্টিনা
পিরোজপুর
বন্যা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সরল গরল
স্পেন
Asia
গণমাধ্যম
ডেনমার্ক
পরামর্শ
প্রকৃত্
ভাষা
ভোলা
MERIT
Soikot
WikiWoman
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
উন্নয়ন
জর্ডান
জ্বালানি
পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ফ্যাশন
রঞ্জন বসু
সাংসদ
হরতাল
WikiCrime
উইকিলিকস
ক্রিকেট ও রাজনীতি
গণতন্ত্র
গোপালগঞ্জ
চাঁদপুর
চিত্রকর্ম
ছাত্ররাজনীতি
জঙ্গিবাদ
জন্মদিন
তেল-গ্যাস
দক্ষিণ ধুরুং
দূর পরবাস
নাকিবুল আহসান নিশাদ
নারী অধিকার
নোবেল শান্তি পুরস্কার
পঞ্চগড়
পরীক্ষা
বিজয় দিবস
মেঘালয়
রাঙামাটি
সুশাসনের জন্য নাগরিক
হামলা
আন্দালিব রাশদী
ঈদুল আজহা
এনটিভি
কক্সবাজার নিউজ ডটকম
কুতুবদিয়া নিউজ
চট্টগ্রাম বন্দর
ছাত্র রাজনীতি
ঠাকুরগাঁও
ডিজিটাল বাংলাদেশ
তথ্য অধিকার
দ্বিজেন শর্মা
নির্যাতন
নড়াইল
প্রবাসী শ্রমিক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
মৃত্যু
শারদীয় দুর্গোত্সব
শিশুমৃত্যু
শিশুহত্যা
সালমান রাফি শেখ
সুবীর ভৌমিক
সুশাসন
স্মৃতি
Africa
My Art
অধিকার
আন্তর্জাতিক নারী দিবস
একুশে টেলিভিশন
কলম্বিয়া
কুয়েত
চিঠিপত্র
চুক্তি
তিউনিসিয়া
দুর্যোগ
নির্বাচন ও রাজনীতি
নেত্রকোণা
পরিবহন
পর্যটন কেন্দ্র
প্রশাসন
ফ্রান্সিস বুলাতসিঙ্ঘালা
বিশ্বকাপ ফুটবল
বেলজিয়াম
বড়ঘোপ
ভি এস নাইপল
ভৈরব
মরক্কো
মাওবাদী
মামলা
যানজট
লেমশীখালী
সংসদ
সন্ত্রাসী
সমাজ
সামাজ
সুন্দরবন
সৈয়দ দিদার বখত
সোমালিয়া
হংকং
Middle East
Principal Sanaullah
Special Day
অগ্নিসংযোগ
অমৃতবাজার পত্রিকা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আইন ও অধিকার
আগুন ও মৃত্যু
আজকের কাগজ
আল মাহমুদ
আহসান কবির
এম.এ মান্নান
এল সালভাদোর
কমল জোহা খান
কিউবা
খাদ্যসমস্যা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
জঙ্গি
জর্দান
তথ্য অধিকার আইন
দ্য ডেইলি স্টার বাংলা
পানামা
পূর্বপশ্চিম
প্রাণি ও উদ্ভিদ
বঙ্গবন্ধু হত্যা বিচার
বন্য প্রাণী
বেলুচিস্তান
ভিয়েতনাম
ভোরের ঈদ ১৯
ভয়েস অফ আমেরিকা
যায়যায়দিন
লালমনিরহাট
শিক্ষা অধিকার
শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা
শিশুশিক্ষা
শ্রমিক
সন্ত্রাসবাদ
সুইডেন
সুজন সুপান্থ
NEWS
Palestine
fd
অরণ্যে রোদন
অরুণাচল
অর্থনৈতিক
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক
আহমেদ মুনির
ইকরাম সেহগাল
উত্তর ধুরুং
উমর মনজুর শাহ
একুশে ফেব্রুয়ারি
ঐতিহাসিক
কিশোরকণ্ঠ
কুড়িগ্রাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
কোরবান
ঘূর্ণিঝড়
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
জাইমা রহমান
জাদুঘর
জামালপুর
জীবন
জেসমিন আখতার
জ্বালানি তেল
টেলিভিশন
তথ্যপ্র্রযুক্তি
তুষার আবদুল্লাহ
দেশপ্রেম
দৈনিক কক্সবাজার
নাগরিক সংবাদ
নারীঅধিকার
নিরাপত্তা
নির্বাচিত
নেদারল্যান্ডস
পাহাড়
পয়লা বৈশাখ
বঙ্গবন্ধু
বন্দর
বিশ্ব অর্থনীতি
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
মহান বিজয় দিবস
মা
মাদারীপুর
মানবতা
মানববন্ধন
মিজোরাম
মিডিয়া ভাবনা
মে দিবস
শরীয়তপুর
শিক্ষা দিবস
শিক্ষা-প্রশাসন
শুভ বড়দিন
শেরপুর
সজীব ওয়াজেদ জয়
সময়চিত্র
সরেজমিন প্রতিবেদন
সাতকানিয়া পৌরসভা
সিঙ্গাপুর
সুইজ়ারল্যান্ড
সুশান্ত মজুমদার
স্মরণ সভা
স্মর্রণ
হাসান আজিজুল হক
America
Burma
Child
China
Hot Video
Huw Cordey
Latin America
Marwan Barghouti
Tom Geoghegan
Tom Heap
Washington
kolkata24x7
অ্যান্টার্কটিকা
আহমদ ছফা
উখিয়া
উত্সব
উদ্যোগ
এসিড-সন্ত্রাস
ওমান
ওয়াসি আহমেদ
কর্মসূচি
কেনিয়া
ঘড়ি
চট্টগ্রাম বন্দর
চাকরি
চারদিক
চীন ও জাপান
জনসংখ্যা
জাকির তালুকদার
জাহাজ
জাহিদ হোসাইন খান
জায়গা
জায়মা জারনাজ রহমান
জীবনী
জেলহত্যা দিবস
জ্বালানী সম্পদ
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ড. সাজিদ হক
ডিজিটাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
তিব্বত
ত্রিপুরা
নগরজীবন
নরওয়ে
নিবন্ধন
নীলফামারী
পবিত্র আশুরা
পবিত্র ঈদুল ফিতর
পরিকল্পনা
পানিসম্পদ
পুলিশ
পেরু
প্যারিস
প্রান্তকথা
প্রিয়.কম
প্রেক্ষিত
বর্নাঢ্য র্যালী
বলিভিয়া
বাংলাভিশন
বাজারসুবিধা
বাস্তবসম্মত
বিচার
বিশ্ব খাদ্য দিবস
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস
বিশ্ব নদী দিবস
বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক ব্যবস্থা
ব্রিটিশ
ভাষাসৈনিক
মাহমুদ আহমাদ
মুস্তাফিজ মামুন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী
যুদ্ধ ও শান্তি
যুদ্ধাপরাধ
যুদ্ধাপরাধের বিচার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রাজবাড়ী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
লবন চাষ
লামিনে ইয়ামাল
শহীদের স্মৃতি
শান্তি
শিল্প ও পরিবেশ
শিশুশ্রম
সন্ত্রাস ও রাজনীতি
সহজিয়া কড়চা
সিগন্যাল
সেলিনা হোসেন
স্বাধীন
স্বাস্থ্যনীতি
স্মরণ মুক্তিযুদ্ধ
স্মৃতিঘর
হাসপাতাল
Afghanistan
Bangladesh
Brazil
CNN
California
Comments
Croatia
Delhi
Denise Winterman
Dome of the Rock
God Mag
Google
Hugh Schofield
India
Indonesia
Jane O'Brien
Japan
Jeremy Bowen
Jerusalem
Jon Kelly
Kareem Khadder
Kate Dailey
Kim Ghattas
Lead News
Libya
Mahfuz Anam
Michal Zippori
New York
Nigeria
Pakistan
Paris
Paul Colsey
Qamrul Islam
Rosie Goldsmith
Rupert Wingfield-Hayes
Sanjoy Majumder
Source
South Sudan
The Daily Star
The Telegraph
Thomas Fessy
Tours
Vietventures
Wall Street
World's Last Chance
Young
a excellent photo in Kutubdia Island
bdnews24
google search
image
অদিতি ফাল্গুনী
অমানবিকতা
অযোগ্যদে
অসারপনা
আইনকানুন
আজারবাইজান
আদিবাসী দিবস
আনোয়ারা সৈয়দ হক
আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস
আফসার আমেদ
আবদুল লতিফ মাসুম
আবু আজাদ
আশান উজ জামান
আহমদ ফাহমি
ইথিওপিয়া
ইভ টিজিং
ইমরান খান
ইমাম খাইর
ইসলাম ও জীবন
ঈদের খুশি ও আনন্দ
ঈদের বেতন
উজবেকিস্তান
উপনির্বাচ
উপনির্বাচন
উর্দুভাষী
এ পি জে আবদুল কালাম
একুশে ফেব্রুয়ারি:
ঐতিহাস
ওবামা
কক্সবাজার নিউজ
কমিল্লা
কম্বোডিয়া
কলকাতার চিঠি
কাকন রেজা
কাজাখস্তান
কাটরা
কানাই কুণ্ডূ
কালের পুরাণ
কুতুবদিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
কৈয়ারবিল
ক্রসফায়ার
ক্ষত
ক্ষমাপ্রার্থনা
ক্ষুদ্রঋণ
কয়লানীতি
খায়ের মাহমুদ
খোন্দকার শওকত হোসেন
গাম্বিয়া
গোধূলি
গোড়ার
গৌড়
গ্রামীণ অর্থনীতি
গ্রেপ্তার
ঘূর্ণিঝড় সম্পাদকীয়
ঘোড়া
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন
চরমোনাই পীর
চলতি পথে
চাঁদ
চাদ
চিনি
চিরকুট
চিলি
চেয়ারম্যান
ছাত্র-রাজনীতি
ছাড়পত্র
ছুটিদন
জজ হত্যা দিবস
জনদুর্ভোগ
জনস্বাস্থ্যের
জবাবদিহি
জম্মদিন
জলদস্যু
জাতিগত সহিংসতা
জারদারি
জি. মুনীর
জীবনযুদ্ধ
জীবিকা
জুমকন্যার
জ্বালানি রাজনীতি
জ্বালানি সম্পদ
জ্বালানিসম্পদ
জয়পুরহাট
ঝুঁকি
ঝুঁকি হ্রাস দিবস
টিপাইমুখ
টিপাইমুখ বাঁধ
টিপাইমুখে বাঁধ
টিভি চ্যানেল
টোঙ্গা
ঢাকা টাইমস
তানজির আহমেদ রাসেল
তুর্কমেনিস্তান
তেঁতুল
তেলকূপ দুর্ঘটনা
তেলিরকাটা
দক্ষিণ মগডেইল
দারিদ্র্য বিমোচন
দায়গুলো
দায়িত্ব
দুই দু’গুণে পাঁচ
দুর্গ
দূর পরবাসে
দেবনারায়ণ চক্রবর্তী
দৈনিক আজাদী
নগরদর্পণ
নদীকৃত্য দিবস
নববধূ
নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন
নারীর ক্ষমতায়ন
নাসরীন জাহান
নাসিমা আনিস
নাসির উদ্দিনের স্বাভাবিক মৃত্যু
নিকারাগুয়া
নিজাম কুতুবী
নিপীড়ন
নিরাপতা
নির্বাসনে
নিষেধাজ্ঞা’
নূরে আলম জিকু
নেতা ইমরান খান
নেতৃত্বে
নোযাখালী
পণ্যবাজার
পদক
পবিত্র হজ
পররাষ্ট্রনীতি
পরিস্থিতি
পর্তুগাল
পাঠকের মন্তব্
পাপুয়া নিউগিনি
পাপড়ি রহমান
পাসপোর্ট
পাহাড়ধস
পিলখানা হত্যা
পোল্যান্ড
পোশাক
প্রশ্নবিদ্ধ
প্রস্তাবিত
প্রাণীজী
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ
প্রয়াণ
ফাঁসি
ফিনল্যান্ড
ফেরি ও পন্টুন
বঙ্গবন্ধু হত্যা
বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন
বঞ্চনা
বনসম্পদ
বরিশাল ছাত্রলীগ
বর্ণবৈষম্যবিলোপ দিবস
বাঁকখালী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
বাংলাদেশের পতাকা
বার্লিন দেয়াল
বাল্যবিয়ে
বাস্তবা
বাস্তবায়
বিচার বিভাগ
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
বিজ্ঞানচিন্তা
বিজ্ঞাপন
বিজয়
বিদ্যুত
বিদ্যুৎ-সংকট
বিদ্যুৎকেন্দ্রে
বিপ্রদাশ বড়ুয়া
বিলবোর্ড দুর্ঘটনা
বিলেতের স্ন্যাপশট
বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিসিবি
বুলবন ওসমান
বুড়িগঙ্গা
বৃক্ষরোপণ
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
বৈষম্য
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ
ব্রুনাই
বড়পুকুরিয়া
ভাজিরালংকর্ন
ভালোবাসা
ভাষণ
ভেজাল
ভোজ্যতেল
মংলা থেকে
মঈনুল হাসান
মঙ্গোলিয়া
মঞ্জু সরকার
মনযূরুল হক
মনি হায়দার
মন্ত্রিসভা
মাওবাদী সহিংসতা
মাতৃভাষা ও পরভাষা
মানচিত্র নিউজ
মানব
মানসিক স্বাস্থ্য দিব্স
মানসিকতা
মালি
মাল্টা
মাহবুব রেজা
মাহামুদা খাতুন
মিথিলেশ ভট্টাচার্য
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
মুরগি জমা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মূল্যস্ফীতি
মৃত্যু ও কিছু ভাবনা
মোহাম্মদ কামরুজ্জামান
মোহাম্মদ মোশাররফ হুসাইন
ম্যাডোনা
ম্যান্ডেলা দিবস
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল
যুদ্ধাপরাধ-বিচার
রক্ত
রদ্ধাঞ্জলি
রবাণিজ্যে
রাগবি
রাজনৈতিক সংস্কৃতি
রাজপথ
রাষ্ট্রীয়
রাস্তার
রিয়াল মাদ্রিদ
রুবেল হোসেনের
রেলওয়ের
রোমাঞ্চিত
রোমানিয়া
র্বিজ্ঞান
শক্তিশালী
শঙ্কা
শরীরের
শশী থারুর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
শাকিরা
শাহ্নাজ মুন্নী
শায়খ আহমাদুল্লাহ
শিক্ষক খুন
শিক্ষক-রাজনীতি
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস
শিক্ষাচিত্রে
শিক্ষাবিদের
শিবের গীত
শুঁটকি উৎপাদন
শেরাটনীয়
শোনা
শ্রদ্ধাঞ্জল
শ্রমবাজার
শ্রমশক্তি
ষড়যন্ত্র
সংকট
সংঘাত
সংশোধন
সঙ্গী
সততা
সন্দেশ
সমন্বয়সাধন
সমাজ ও নারী
সমুদ্রস্নান
সময়
সময় নিউজ টিভি
সময়ের প্রতিবিম্ব
সরকার
সাংবাদ
সাইক্লোন শেল্টার
সাইপ্রাস
সাজিদ গ্রেফতার
সাদাসিধে কথা
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম
সামন্ততন্ত্র
সামরিক শাসন
সামাজি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
সাহসী
সিডনি
সিয়াম
সুপ্রভাত
সূর্যে
সেচসুবিধা
সোনার বাংলা
স্কাইপি
স্বকৃত নোমান
স্বচ্ছতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
স্বাধীনত
স্বাধীনতাযুদ্ধ
স্বামী
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
স্বীকৃতি
স্মৃত-নিদর্শন
স্মৃতিসৌধ
স্মৃতিসৌধে
স্লোভাকিয়া
হত্যা ও হরতাল
হাইতি
হামিদ মীর
হুগজিল্ট
No comments:
Post a Comment